আঞ্চলিক দলের প্রভাবে রাঙামাটিতে চ্যালেঞ্জের মুখে আওয়ামীলীগ


ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

॥ নিজস্ব প্রতিনিধি ॥

রাঙামাটিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পাহাড়িদের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর প্রভাবের কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ। সুবিধা করতে পারছে না বিএনপিও। রাঙামটির ৫০টি ইউপি নির্বাচনে পাহাড়িদের তিন আঞ্চলিক সংগঠন জনসংহসি সমিতি (জেএসএস), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও জেএসএস (এমএন লারমা) স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার শুরু করেছে।এতে নির্বাচনের আগ থেকে বেকায়দায় পড়েছে প্রধান দুইদল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি।

এদিকে জেএসএস ও আওয়ামীলীগ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে নির্বাচনে কারচুপি, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও দখলবাজি চলবে। তিন আঞ্চলিক সংগঠন বেশিরভাগ ইউপির আসনে বিজয় নিতে আঁটঘাট বেঁধে নেমেছে। আওয়ামীলীগও আসন নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় রাঙামাটির ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে নির্বাচনী আমেজের বদলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের শক্তিশালী প্রভাবের কারণে রাঙামাটিতে ৭টি ইউপিতে প্রার্থী শুন্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের। বিএনপির প্রার্থী নেই ২৬টি ইউপিতে। তৃতীয় ধাপে রাঙামাটির ৫০ ইউপির নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও আওয়ামীলীগ অভিযোগ তুলে তাদের দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন সংগ্রহে বাধা দান ও হুমকি দিচ্ছে আঞ্চলিক সংগঠনগুলো। এ অবস্থায় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে রাঙামাটির ইউপি নির্বাচন পিছিয়ে শেষ ধাপে নিয়ে আসে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তাতেও রাঙামাটির ইউপি নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসেনি। পাল্টাপাল্টি অভিযোগে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে রাঙামাটির ৪৮ ইউপিতে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এসেও স্বস্তি পাচ্ছেন না না সাধারণ ভোটাররা। কোথাও তেমন প্রচার প্রচারনা বা নির্বাচনী উৎসব আমেজ নেই। উল্টো নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি জনপদগুলোতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে মানুষ।

নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু থেকে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগ অভিযোগ তোলে কয়েকটি আঞ্চলিক সংগঠন আওয়ামীলীগ প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকদের প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। এসব সংগঠন অবৈধ অস্ত্রের প্রভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। নির্বিঘ্নে প্রচারণা করতে পারছে না ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা। বেশ কয়েকজন প্রার্থী এলাকা ছাড়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। এক সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা আওয়ামীলীগ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সেনা মোতায়েনের দাবি তোলে। অন্যথায় নির্বাচন বর্জনের হুমকি দেয় স্থানীয় আওয়ামীলীগ।

এ পরিস্থিতিতে রাঙামাটির নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষণে রাঙামাটি সফর করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজি রকিব উদ্দিন আহমেদ। ঐ দিন তিনি নির্বাচন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় ঘোষণা দেন নির্বাচনে কোন প্রকার প্রভাব চলবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম আরো জোরদারের পাশাপাশি যে কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান সিইসি।

খবর নিয়ে জানা গেছে, রাঙামাটির অধিকাংশ ইউপিতে প্রচার প্রচারণা চালাতে পারছে না ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা। বেশ কয়েকজন প্রার্থী এলাকাছাড়া হয়ে আছেন। বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীদের সমর্থকদের এলাকা ছাড়া করেছে সন্ত্রাসীরা। জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতারা জেলার বাঙ্গালী অধ্যুষিত এলাকায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বেশিরভাগ এলাকায় ঢুকতে পারছেনা সিনিয়র নেতারা। ফলে ঐসব ইউপিতে অনিশ্চয়তায় আছেন দলীয় প্রার্থীরা।

এদিকে গত ২০ মে রাঙামাটিতে পিসিপির কেন্দ্রীয় সম্মেলণে সন্তু লারমা অভিযোগ করেন আওয়ামীলীগ সারা দেশের ন্যায় রাঙামাটিতেও কারচুপি করে ইউপি নির্বাচনের ফল ছিনিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। কোন প্রকার কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারী দেন সন্তু লারমা।

জেএসএস এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজিব চাকমা জানান, আপত দৃষ্টিতে নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আছে দেখা গেলেও কারচুপির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আশঙ্কা করেন প্রশাসন ব্যবহার করে অনিয়ম ও কারচুপির মাধ্যমে ভোট নিজেদের পক্ষে নেয়ার ষড়যন্ত্র করছে সরকারী দল।

নির্বাচনে আঞ্চলিক দলের প্রভাব ও সন্ত্রাসের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলে, পার্বত্য এলাকায় স্বাভাবিকভাবে জেএএস এর দীর্ঘদিন থেকে অবস্থান রয়েছে। জেএসএস সাংগঠনিকভাবে চেষ্টা করবে নিজেদের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে। স্থানীয় আওয়মীলীগের চুক্তি বিরোধী মনোভাব ও জেএসএস এর জনসমর্থনের কারণে নির্বাচনে সুবিধা করতে পারছে না আওয়ামীলীগ।

জেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ শাহ আলম জানান, রাঙামাটির নির্বাচন পরিস্থিতি ভালো না। বিএনপির প্রার্থীরা সরকারীদল ও আঞ্চলিক দলের চাপের মুখে প্রচার প্রচারণা করতে পারছে না। নির্বাচনে প্রশাসন নিরেপক্ষ থাকবে কি না এমন আশঙ্কা করেন তিনি।

বিএনপির প্রার্থীদের সরকারীদল বেশি বাধা দিচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন জেলার কাউখালী, লংগদু, কাপ্তাই ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় বিএনপির প্রার্থীদের উপর আওয়ামীলীগ হামলা ও নির্বাচনী কাজে বাধা দিচ্ছে। সাধারণ ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যেতে ভয়ে আছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান জানান, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো আছে। ইতোমধ্যে হেলিসট কেন্দ্রে নির্বাচনের মালামাল ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পৌঁছে গেছে। সুষ্ট নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। যেখানে যেখানে অভিযোগ পাওয়া গেছে সেখানে সেখানে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *