পেকুয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক-১


পেকুয়া প্রতিনিধি:

 

কক্সবাজারের পেকুয়ায় দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্রসহ আব্দুর রহিম (২৪) নামের এক লবণ চাষীকে আটক করেছে থানা পুলিশ। ওই সময় সদর ইউনিয়নের সিরাদিয়া এলাকার লিটন হেলালী নামের একজনকেও আটক করে থানায় এনে পরে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। আব্দু রহিমের পরিবারের দাবি জমি বিরোধের জের ধরে লিটনের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষরা তাকে অস্ত্র দিয়ে পুলিশে দিয়েছে।

রবিবার (২৪ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে পেকুয়া থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) শিমুল বড়ুয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ধারিয়াখালী এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করে। সে ওই এলাকার বদিউল আলমের পুত্র।

স্থানীয়রা জানান, কামাল উদ্দিন ও জসিম উদ্দিনের মালিকানাধীন লবণ মাঠে কাজ করছিলেন আব্দুর রহিম। এসময় লবণ মাঠ দখলের জের ধরে লিটনের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে ওই এলাকায় অবস্থান নেয়।

আটক আব্দুর রহিমের ভাই আব্দুর মান্নান বলেন, আমার ভাই আব্দুর রহিম একজন লবণ চাষী। দুপুরে সে আবুল কালাম ও মো. জসিম উদ্দিনের মালিকানাধীন জমিতে লবণ চাষের কাজ করছিলেন। এ জমি বিরোধের জের ধরে সদর ইউনিয়নের গোঁয়াখালী মাতবর পাড়া এলাকার মো. শফির নির্দেশে বহু মামলার আসামী লিটন হেলালী, রুবেল, রাশেদ, জুয়েল, আজমগীরসহ আরো কয়েকজন অস্ত্রসহ জমি জবর দখলের চেষ্টা চালায়। দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে লিটন হেলালীসহ আরো কয়েকজন অস্ত্রটি আমার ভাই আবদুর রহিম যেখানে কাজ করছিলেন সেখানে গিয়ে জোর করে তার কোমরে বেধে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে আমার ভাইকে লিটন গং তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ওই পুলিশ লিটনকেও আটক করে। পরে প্রভাবশালী কয়েকজনের তদবিরে পুলিশ লিটনকে থানা থেকে ছেড়ে দিলেও আমার ভাইকে থানায় আটকিয়ে রেখে অস্ত্র মামলা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমার ভাই নিরহ ও নির্দোষ। তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

জমির মালিক আবুল কালাম ও মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের ভোগদখলীয় জমি জবর দখলের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন সদর ইউনিয়নের মাতবর পাড়ার প্রবাসী মো. শফি। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার ১টার দিকে লিটন হেলালীসহ আরো কয়েকজন অস্ত্রসহ জমি জবর দখলের চেষ্টা চালায়। ওই সময় আবদুর রহিম আমাদের লবণ চাষের কামলা হিসাবে কাজ করছিলেন। স্থানীয়রা থানা প্রশাসনকে খবর দিলে লিটনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী অস্ত্রটি তার কোমরে বেধে দেয়। ইতোমধ্যে লিটনের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে। অস্ত্রটি লিটনের। তাকে ছেড়ে দিয়ে নিরহ লবণ চাষীকে অস্ত্র মামলা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে অভিযুক্ত আশরাফ রুবেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি ওই জমির প্রকৃত মালিক শফির কাছ থেকে বর্গা নিয়েছি। এ জমির পরিষ্কার কাগজ আছে শফির কাছে।  ওই যুবককে অস্ত্র দিয়ে পুলিশকে দিয়েছি বিষয়টি ভিত্তিহীন। পুলিশই অস্ত্রসহ তাকে আটক করে।

থানার উপপরিদর্শক শিমুল বড়ুয়া বলেন, আব্দুর রহিমকে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। লিটনের একটি ওয়ারেন্ট ছিল তাই থানায় নিয়ে এসেছিলাম। পরে জামিননামা সম্পাদন করায় তাকে ছেঁড়ে দেওয়া হয়েছে। আটকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।

এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) জহিরুল ইসলাম খাঁন জানান, আমি খবর পেয়ে পুলিশ টিম পাঠিয়ে অস্ত্রসহ এক যুবককে আটক করা হয়। সংশ্লিস্ট আইনে মামলা করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *