অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ছাড়া রাঙামাটিতে অবাধ ও নিরপেক্ষ ইউপি নির্বাচন সম্ভব নয়- আওয়ামী লীগ


Rangamati Pic-13-05-16-1 (1)
স্টাফ রিপোর্টার :
পার্বত্য এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ছাড়া রাঙামাটিতে কখনও সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ ইউপি নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগ। আসন্ন ইউপি নির্বাচন আঞ্চলিক দলগুলোর দখলে রয়েছেও বলে অভিযোগ করেছে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য মাহবুবুর রহমান।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনমুখী আঞ্চলিকদলগুলো মরিয়া প্রতিটি ইউনিয়নে নিজেদের প্রার্থীকে জেতাতে। তাছাড়া এলাকা দখল, আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তারের মহোৎসবে মেতেছে আঞ্চলিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউপিডিএফ। এসব কারণে বিগত সময় তৃতীয় ধাপে রাঙামাটি ইউপি নির্বাচনে স্থাগিত করা হয়। কিন্তু তারপরও আঞ্চরিকদলগুলোর অবৈধ অস্ত্রবাজি বন্ধ হয়নি।

শুক্রবার সকাল ১১টায় রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আওয়ামীলীগ নেতা মাহবুবুর রহমান ।

এসময় রাঙামাটি জেলা আওয়ামলীগের সহ-সভাপতি মো. রুহুল আমিন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধরাণ সম্পাদক মুছা মাতাব্বর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন, আওয়ামীলীগ নেতা অভয় প্রকাশ চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে রাাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধরাণ সম্পাদক মুছা মাতাব্বর বলেন, সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্রের হুমকিতে রাঙামাটি ১০টি উপজেলার ৪৯টি ইউপির মধ্যে ৪৬টিতে নৌকা প্রতীকে প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয়েছে। কিন্তু ৩টি ইউনিয়ন জুরাছড়ি উপজেলার ২নং বনযোগী ছড়া ইউনিয়ন, সদর উপজেলার কুতুকছড়ি ইউনিয়ন, নানিয়ারচর উপজেলার ঘিরাছড়ি ইউনিয়ন ও কাউখালী উপজেলার ফটিকছড়ি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের কোন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেয়া সম্ভব হয়নি। কারণ অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানিতে পার্বত্য এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক।

এখানকার সাধারণ মানুষ অবৈধ অস্ত্রধারীদের কাছে খুব অসহায়। নির্বাচনে সাধারণ মানুষ কেউ অবাধে ভোট দিতে পারবেনা। স্থানীয় রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ছাড়া অন্যরা মনোনয়নপত্র পর্যন্ত জমা দিতে পারছেন না। পার্বত্য এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ছাড়া রাঙামাটিতে কখনও সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ ইউপি নির্বাচন সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, ইউপি নির্বাচনের আগে পার্বত্য এলাকা হতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বারবার চিরুণী অভিযানের দাবি জানিয়ে আসছি আমরা। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

প্রসঙ্গত, ১৫ মার্চ ঘোষিত তফসিলে রাঙামাটির ১০ উপজেলার ৪৯টি ইউনিয়নের পরিষদের ভোট ২৩ এপ্রিল হওয়ার কথা থাকলেও ওই এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বর্তমানে সেখানে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই উল্লেখ করে এসব ইউপির নির্বাচন পিছিয়ে ষষ্ঠ ধাপে অন্তর্ভূক্ত কওে ছিল। পরিবর্তিত তফসিল অনুযায়ী এসব ইউপিতে ভোট হবে আগামী ৪জুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *