শান্তিচুক্তি অনুযায়ী পাহাড়ে সরকারের কোনো খাস ভূমি নেই- বান্দরবানে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি সহায়ক কমিটি গঠন সভায় অভিমত

bandarban-pic-1-10

নিজস্ব প্রতিবেদক

বান্দরবানে হেডম্যান কার্বারীদের নিয়ে ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে জেলা পরিষদের চেয়াম্যান ক্য শৈ হ্লা’র সভাপতিত্বে সভায় পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনকে সহায়তার জন্য ভূমি বিরোধ চিহ্নিতকরণ বিষয়ে হেডম্যানদের নিয়ে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি সহায়ক কমিটি গঠন করা হয়।


নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আবসার, জেলা পরিষদের সদস্য ক্যসা প্রু মারমা, থোয়াইচা হ্লা মারমা, হেডম্যান এসোসিয়েসনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক টি মং প্রুসহ ১০৯টি মৌজার মৌজার হেডম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বান্দরবান ৩১৬ নং বেতছড়া মৌজার হেমডম্যান হ্লাথোইহ্রী বলেন, আমার মৌজায় ১৯৮৩-৮৪ সালে বন বিভাগ ৩ হাজার একর ভূমির আবেদন করলে ইউএনও বিনা খাজনায় ১৯৮৮ সালে বন্দোবস্তকরণ করেন। কিন্তু বন বিভাগ ১৯৮১ সাল থেকে বনায়ন শুরু করেন। এই জায়গার সাথে চৌহদ্দিরও কোন মিল নাই তাই এই জায়গা বাতিলের জন্য পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনে পাঠানোর সুপারিশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, শান্তিচুক্তি অনুযায়ী পাহাড়ে সরকারের খাস ভূমি নেই। কিন্তু পাহাড়ীরা কখনো না কখনো এইসব জায়গায় জুম চাষ করেছে। তাই এই ভূমির মালিক মৌজাবাসী।

৩৬৮ মৌজার হেডম্যান রুমার মুরংগো বাজারে খাস জমিতে স্থাপিত পুলিশ ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সীমানা বর্ধিত করে সেগুন গাছসহ ভূমি দখলের অভিযোগ করেন।

এছাড়া রুমা ও পলি মৌজায় বন বিভাগের প্রায় ৬ হাজার একর বন্দোবস্তি ভূমি বাতিলের জন্য পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

সভায় হেডম্যান,কারবারিরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় সম্প্রতিক সময়ে ভূমি দখলসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন, পাহাড়ের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠিরা দিন দিন ভূমি হারাচ্ছে, দ্রুত এসব বন্ধ না হলে সমস্যায় পড়বে।

নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি, বাইশারী লামাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ভূমি দখলদার চক্র নানাভাবে পাহাড়িদের ভূমি দখল করে নিচ্ছে। ইতোমধ্যে বাইশারী থেকে বেশ কয়েকটি পাড়া উচ্ছেদ হয়ে গেছে এবং লামার ফাসিয়াখালী এলাকায় ঢাকার একটি চক্র শত শত একর জায়গা দখল করেছে বলে হেডম্যানরা জানান।

সভায় হেডম্যানরা ভূমি দখলসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন ও ভূমি কমিশনের মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধানের আবেদন জানান এবং  রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে ভূমি কমিশনের দুটি ইউনিট অফিস স্থাপনেরও দাবী জানান হেডম্যানরা।

সভা শেষে হেডম্যান হ্লাথোয়াই হ্লী মারমাকে আহ্বায়ক ও উনিহ্লা মারমাকে সদস্য সচিব করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি সহায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।