বিতর্কিত ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন বাতিলের দাবীতে ৪৮ ঘণ্টা হরতাল ডেকেছে বাঙালী সংগঠনগুলো

হরতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিতর্কিত ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন-২০০১ সংশোধনী- ২০১৬ অবিলম্বে বাতিল এবং বান্দরবানের বাঙালী নেতা আতিকুর রহমানের মুক্তির দাবীতে ৪৮ ঘণ্টা হরতাল ডেকেছে ৫ বাঙালী সংগঠন। ১৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা এবং ১৬ অক্টোবর রবিবার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত মোট ৪৮ ঘন্টা হরতাল হরতাল ডেকেছে সংগঠন ৫ টি।

রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে-

‘পার্বত্য জনগণের আন্দোলনকে উপেক্ষা করে সরকার পার্বত্য চট্রগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন- ২০০১ ও তার সংশোধনী আইন-২০১৬ তড়িঘড়ি করে জাতীয় সংসদে পাস করার প্রতিবাদে এবং বান্দরবানের বাঙ্গালী নেতা আতিকুর রহমানের মুক্তির দাবিতে আগামী ১৩ অক্টোবর ও ১৬ অক্টোবর হরতাল ডেকেছে পাঁচ বাঙ্গালী সংগঠন ।

৯ অক্টোবর সকাল ১০টায় সংগঠনগুলোর ঢাকার অস্থায়ী কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয় । এতে সভাপতিত্ব করেন পাঁচ বাঙ্গালী সংগঠনের আহবায়ক, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ্ব আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া ।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য সমধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কামাল, পার্বত্য গণ পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, পার্বত্য গণ পরিষদের মহাসচিব এডভোকেট মোহাম্মদ আলম খান, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহম্মেদ রাজু, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাব্বির আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার জাহান খান,পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফছার হোসেন রনি, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মুন্না তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম খান।

সরকার গত ৬ অক্টোবর জাতীয় সংসদে পার্বত্য চট্রগ্রাম ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন-২০১৬ পাস করায় পাঁচ বাঙ্গালী সংগঠন নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, এই বিতর্কিত আইন পার্বত্য চট্রগ্রামে বাঙ্গালী এবং উপজাতীদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ইতোমধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের সমুহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে । তাই এই বিতর্কিত আইন শীঘ্রই বাতিল এবং বান্দরবানের পাঁচ সংগঠনের শীর্ষ নেতা, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সভাপতি আতিকুর রহমান মুক্তির দাবিতে তারা নিন্মোক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করে:

ক) ৯ অক্টোবর থেকে তিন পার্বত্য জেলায় বিক্ষোভ মিছিল, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ এবং সর্বত্র কালো পতাকা উত্তোলন।
খ) ১৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা এবং ১৬ অক্টোবর রবিবার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত মোট ৪৮ ঘন্টা হরতাল’ ।

কক্সবাজারে যানজটের মধ্য দিয়ে পালিত হল জামায়াতের হরতাল

01

নিজস্ব প্রতিনিধি:

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় বহাল রাখার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারা দেশের ন্যায় কক্সবাজারেও হরতাল ডাকা হলেও তা পালিত হয়নি। অন্যান্য দিনের মত মানুষের জীবন-যাত্রা ছিল স্বাভাবিক। দেখা যায়নি কোথাও কোন মিছিল-মিটিং।

এই হরতালের মধ্যেও প্রধান সড়কে যানযট দেখা গেছে। তবে হরতালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ছিল কঠোর অবস্থানে। বৃহস্পতিবার হরতালের দিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এ দৃশ্য দেখা যায়।

হরতাল দেখে অনেকে বলেছেন, হরতালে পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলেও আতঙ্কে রয়েছে লোকজন। যানযটে আটকা পড়া সাইফুল ইসলাম জানান, হরতাল চলছে তা বুঝা যাচ্ছে না। এই ধরনের হরতাল হওয়াই প্রয়োজন। তবে আতঙ্ক কাজ করে কখন কি ঘটে।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আসলাম হোসেন খান জানান, জামায়াতের ডাকা হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালনের লক্ষে শহরের বিভিন্ন পয়েণ্টে পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। এছাড়া হরতালকে কেন্দ্র করে কোথাও কোন ধরনের অঘটনের ঘটনা ঘটেনি।

বান্দরবানে হরতাল পালন করেনি জামায়াত

  স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান:
চট্টগ্রামের নগর জামায়াতের আমির শামসুল ইসলামসহ ২১ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানো প্রতিবাদে জামায়াতের ডাকা হরতাল পালন করেনি বান্দরবানের জামায়ত। নিরুত্তাপ হরতালে মাঠে নামেননি জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।

বুধবার সকাল থেকে বান্দরবান শহর থেকে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দূরপাল¬ার কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি। কেরানীহাট, রাঙ্গামাটিসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে বাস বন্ধ রয়েছে। তবে জেলা শহরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। সকল মার্কেটের দোকানপাট ছিল খোলা, অফিস-আদালত ও ব্যাংক-বীমায় কাজকর্ম স্বাভাবিক নিয়মে চলেছে।

এদিকে হরতালের সমর্থনে বান্দরবানে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা কোনো মিছিল-মিটিং করেননি। সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের মাঠে নামতে দেখা যায়নি। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বান্দরবানে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়।

কক্সবাজারে জামায়াতের ডাকা হরতাল চলছে

576764_453679358033897_994571389_n

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার:
জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতাল চলছে কক্সবাজারে। কক্সবাজারসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আজ বুধবার সকাল ৬টা থেকে হরতাল শুরু হয়।

হরতালের কারণে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে যায়নি দুর পাল্লার কোন যানবাহন। অফিস-আদালত ও স্কুল-কলেজসহ সরকারী সব প্রতিষ্ঠানে সকালের দিকে উপস্থিতি কম হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে উপস্থিতি বাড়তে থাকে। হরতালের আওতামুক্ত রয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা।

এদিকে সকাল ৮টায় কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা এলাকা থেকে শিবিরকর্মীরা একটি মিছিল বের করলেও জেলার কোথাও পিকেটিং কিংবা সভা সমাবেশ হয়নি এখনো। ঘটেনি কোন অপ্রীতিকর ঘটনাও। তবে শহরের অভ্যন্তরে ছোট যানবাহন চলাচল করছে।  যে কোন ধরণের নাশকতা এড়াতে শহরের পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলা সদরসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি র‌্যাব ও বিজিবির টহলও দেখা গেছে শহরে।

চট্টগ্রাম মহানগর আমীরসহ ২১ নেতাকর্মী গ্রেফতারের প্রতিবাদে আগামীকাল তিন পার্বত্য জেলায় জামায়াতে ইসলামীর সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

1006241_445746502188557_739347754_n

জেলা প্রতিনিধি, রাঙামাটি:
জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরের আমীর ও সাতকানিয়ার সাবেক এমপি আ,ন,ম অধ্যাপক শামশুল ইসলাসহ ২১ নেতাকর্র্মী গ্রেফতারের দাবীতে আগামীকাল তিন পার্বত্য জেলায় সকাল সন্ধ্যা হরতাল আহব্বান করেছে দলটি।

জেলা জামায়াত অফিস সূত্রে জানাযায়, গত সোমবার কেন্দ্রীয় নেতা ও চট্টগ্রাম মহানগরের আমীর আ,ন,ম অধ্যাপক শামশুল ইসলামসহ ২১ নেতাকর্মী গ্রেফতারের প্রতিবাদে আগামীকাল বুধবার তিন পার্বত্য জেলায় সকাল সন্ধ্যা হরতাল আহব্বান করে সংগঠনটি।

জামায়াতের রাঙামাটি জেলার আমীর অধ্যাপক আবদুল আলীম মুঠো ফোনে জানান, চট্টগ্রাম মহানগরের আমীর শামশুল ইসলামসহ ২১নেতাকর্মী গ্রেফতারের প্রতিবাদে তিন পার্বত্য জেলায় জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনগুলো একসাথে কাল-সকাল সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন করবে।

রাঙামাটি পৌর জামায়াতের সহ সেক্রেটারী এডভোকেট হারুন অর রশীদ জানান, সরকার অন্যায়ভাবে অধ্যাপক শামশুল ইসলাম আলমসহ ২১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আগামীকাল রাঙামাটিখাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সকাল সন্ধ্যা হরতাল চলবে। তবে জামায়াত একটি আদর্শিক সংগঠন হিসেবে শান্তিপূর্ণ হরতালের প্রতিশ্রুতি দিতে পারি। তাই এ হরতাল পালনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করছি।

পুলিশ সুপার আমেনা বেগম জানান, জামায়াতের গতকাল হরতালের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যদি কেউ অশান্তি সৃষ্টি করে তা হলে পুলিশ প্রশাসন ছাড় দেবে না।

টেকনাফে হরতাল ও অবরোধ চলছে : জ্বালানী তৈল ও কাঁচা বাজারে প্রভাব

মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, টেকনাফ : টেকনাফে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের দেশব্যাপী টানা ৪৮ ঘণ্টা হরতালের দ্বিতীয় দিন শান্তিপূর্ণ ও ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে।  হরতালের পাশাপাশি ১৮ দলীয় জোটের পূর্বঘোষিত অনির্দিষ্টকালের অবরোধও চলছে।

১ জানুয়ারি থেকে লাগাতার এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে বিরোধী এই জোট। অবরোধ ও হরতালের সমর্থনে এবং বিপক্ষে কোন ধরনের মিছিল মিটিং বা সমাবেশ দেখা যায়নি। কোথাও বিরোধী দলের পিকেটিংও নেই। দূর পাল্লার সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে আঞ্চলিক সড়কে অটো রিক্সা (সিএনজি), চাঁদের গাড়ী (জীপ), রিক্সাসহ ছোট যানবাহন চলাচল স্বভাবিক রয়েছে।

কোথাও কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। হরতাল ও অবরোধের ফলে জ্বালানী তৈল ও কাঁচা বাজারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। জ্বালানী তৈলের দাম ডিজেল প্রতি লিটার ৬৯.৫০ টাকা থেকে ৭৫ টাকা ও অকটেন ১০২ টাকা থেকে ১২০ টাকা বৃদ্ধি করেছে ফিলিং স্টেশনগুলো। এর ফলে ছোট যানবাহনগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা ভাড়া বেশি আদায় করছে যাত্রী সাধারণের কাছ থেকে। এ নিয়ে কোন কোন সময়ে যাত্রী ও গাড়ীর হেলপারদের সহিত ভাড়া নিয়ে তর্ক বিতর্ক ও বাক বিতন্ডার সৃষ্টি হচ্ছে।

অপরদিকে কাঁচা বাজারেও প্রতি কেজিতে তরকারীর দাম ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। পাশাপাশি চাউলের বাজারে একই দশা। বস্তা প্রতি ১০০ টাকা থেকে ক্ষেত্র বিশেষে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। যাতায়াত ও পরিবহন ভাড়ার অজুহাত দেখিয়ে এসব জিনিসের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর ফলে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত ভোগান্তি ও কষ্টে এবং অসহায়ভাবে দিনাতিপাত করছে।

সরকার ও বিরোধীদলকে এই ধ্বংসাত্মক ও একগুঁয়েমির পথ পরিহার করে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের আহবান জানান সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ এবং সচেতনমহল।

উল্লেখ্য, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বাতিল করে নির্দিলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এবং নেতাকর্মীদের হত্যার প্রতিবাদে এসব কর্মসূচি পালন করছে বিরোধী ১৮ দলীয় জোট।

আলীকদমে ১৮ দলীয় জোটের হরতাল পালিত

 

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় ১৮ দলীয় জোটের ডাকা তিন দিনের হরতাল শেষ হয়েছে। হরতালে দুরপাল্লার গাড়ি চলাচল করেনি। তবে দোকাপাট সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা ছিল। সোমবার সারাদিন মঙ্গল ও বুধবার একটার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাটারীচালিত টমটম চলাচল করে। হরতালে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা হরতালের সমর্থনে রাস্তায় পিকেটিং করে। উপজেলার চৌমুহুনী, চৈক্ষ্যং রাস্তার মাথা ও রেপারপাড়িতে হরতালকারীরা পিকেটিং করেছে। আলীকদম-ফাঁসিয়াখালী সড়কে বিভিন্ন স্থানে হরতাল সমর্থকরা ব্যারিকেড দেয়।

বিএনপির আহবায়ক মাশুক আহমদ, যুবদল আহ্বায়ক আবুল কালাম ও ছাত্রদল সভাপতি ইলিয়াছের নেতৃত্বে হরতালকারীরা রাস্তায় অবস্থান নেয়। হরতাল চলাকালে বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। দূরপাল্লা কোনো বাস চলাচল বন্ধ ছিল। দুপুর ২ টার পর উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কে যানবাহন চলাচলে শিথিল করে দেয়া হয়।

রাঙামাটিতে হরতালে গাড়ি না চালানোর অপরাধে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে এক সিএনজি চালক ও তার ভাইকে

hortal

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি:
হরতালের সময় সিএনজি অটোরিক্সা রাস্তায় না নামানোর অপরাধে রাঙামাটির কাউখালীতে এক সিএনজি চালক ও তার আপন ছোট ভাইকে বেদম প্রহার করেছে সরকারদলীয় অটোরিক্সা চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। গুরুত্বর আহত ভাইদ্বয় হলো আহাদ (২৫) ও তার ছোট ভাই বেলাল (১৮)। আহতদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।

আহতদের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, ১৮ দলীয় জোটের ডাকা টানা ৬০ ঘন্টার হরতালের কারনে ভাংচুরের ভয়ে নিজের মালিকানাধীন সিএনজি অটোরিক্সাটি রাস্তায় বের করেননি ড্রাইভার আহাদ। আর এই কারনে ক্ষিপ্ত হয়ে সিএনজি চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু’র নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে লোহার রড ও কাঠের বাটাম দিয়ে বেদম মারধর করতে থাকে সিএনজি চালক আহাদকে। এসময় তাকে বাচাঁতে তার ভাই বেলাল এগিয়ে আসলে তাকেও বেদম মারধর করে সরকার সমর্থক হরতাল বিরোধীরা। এই সময় চালক সমিতির নেতা মারধরের পাশাপাশি বলতে থাকে, লীগ কেন করিস না, হরতালে গাড়ি রাস্তায় বের করলি না কেন।

লোহার রড ও কাঠের লাটির আঘাতে আহাদ-বেলাল দুই ভাই মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাদের সঙ্গে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকাসহ একটি মোবাইল সেট নিয়ে গেছে বলেও দাবি করেছে আহতদ্বয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দুইভাইকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এদিকে কাউখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন খোকন দাবি করেন, আজকের হরতালে সারাদেশের ন্যায় কাউখালীর সাধারণ মানুষও সমর্থন দিয়ে ১৮ দলীয় জোটের আন্দোলনকে শক্তিশালী করছে। এই কারনে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষের উপর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে গুরুত্বর আহত করছে। রোববারের ঘটনায় কাউখালী থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল কান্তি বড়ুয়া সরকার সমর্থক সিএনজি চালক সমিতির নেতাদের হাতে হরতাল সমর্থক চালকের মার খাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, আমি ঘটনাটি সম্পর্কে জেনেছি। এই ঘটনায় কেউ মামলা নিয়ে আসলে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আলীকদমে হরতাল পালিত

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় গতকাল রবিবার টানটান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে ১৮ দলীয় জোটের তিন দিনের ডাকা প্রথম দিনের হরতাল শেষ হয়েছে। তবে দোকাপাট সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা ছিল। প্রথম দিনের হরতালে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। বিএনপি ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা হরতালের সমর্থনে খন্ড খন্ড মিছিল বের করে। উপজেলার পানবাজার এলাকায় হরতালকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করেছে। আলীকদম-ফাঁসিয়াখালী সড়কে বিভিন্ন স্থানে হরতাল সমর্থকরা ব্যারিকেড দেয়।

বিএনপির আহবায়ক মাশুক আহমদের নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে বিএনপি ও অংগ-সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের তৎপর ছিল। দুপুরের দিকে হরতালের সমর্থনে ছাত্র শিবিরের একটি মিছিল বের হলে ছাত্রলীগ হরতাল বিরোধী একটি মিছিল বের করে। ছাত্রলীগের মিছিলটি আলীকদম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মোড়ে পৌঁছলে চৌমুহনীতে অবস্থান নেয়া হরতাল সমর্থনকারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। হরতাল সমর্থকরা ছাত্রলীগের মিছিলের দিকে এগুতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়।

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ বালিকা বিদ্যালয়ের মোড়ে ছাত্রলীগের মিছিলটিও থামিয়ে দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোতাকব্বীর আহমেদ ও আলীকদম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হোসাইন পুলিশ ফোর্স নিয়ে আসলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

তবে হরতাল চলাকালে বড় ধরণেল অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। দূরপাল্লা কোনো বাস চলাচল বন্ধ ছিল। দুপুর ২ টার পর উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কে যানবাহন চলাচলে শিথিল করে দেয়া হয়।  হরতালের সমর্থনে চৌমুহনী মোড় ও রেফাড় পাড়া বাজারে পৃথক পৃথক পথ সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির আহবায়ক মাশুক আহমদ, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম, ভাইস চেয়ারম্যান শিরিনা আক্তার, মো. রিটন,বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমূখ।

দীঘিনালায় ১৮ দলীয় জোটের হরতাল চলছে

1380051_211501575698273_640022539_n

মোঃ আল আমিন, দীঘিনালা:

নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের আহবানে ডাকা ৬০ ঘন্টার হরতেলের সমর্থনে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় চলছে এই হরতাল। হরতালের সমর্থনে উপজেলার প্রধান সড়ক জামতলী বাজার ও বেতছড়ি বাজার এলাকায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে শুরু করে। হরতালের সমর্থনে বিএনপির এছাড়া জামায়াত ইসলামী ও শিবিরের সমর্থকে রাস্তায় দেখা যায় তাছাড়া ছাত্র দলে নেতা-কর্মী সমর্থকরা ছিল চোখে পড়ার মতো।

এদিকে হরতালের কারনে উপজেলা শহরের বেশী ভাগ দোকান বন্ধ রয়েছে. তাছাড়া কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি, এছাড়া উপজেলার গুরুতপৃর্ন স্থানে মোতায়ন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। এদিকে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এই উপজেলায়।