পানছড়িতে প্রতিপক্ষের গুলিতে জেএসএস(এমএন) কর্মী রনি ত্রিপুরা নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে প্রতি পক্ষের গুলিতে জেএসএস (এমএন লারমা সমর্থিত) কর্মী রণি ত্রিপুরা(৩৫) নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার(৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পানছড়ি বাজারের শুকতারা বোর্ডিং-এ এঘটনা ঘটে। নিহতের কোমড়ে গুলিবিদ্ধ হয়। নিহত রণি ত্রিপুরা পানছড়ির মরাটিলা এলাকার মৃত মণিন্দ্র লাল ত্রিপুরার ছেলে।

পানছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাজারে রণি ত্রিপুরা নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়। পরে পুলিশ আহত রণিকে উদ্ধার করে প্রথমে পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেসে পরে  খাগড়াছড়ি নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

জেএসএস (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা নিহত রণি ত্রিপুরাকে নিজেদের কর্মী দাবি করে এ হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রসীত নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফকে দায়ী করেন। তবে দায় অস্বীকার করেছেন ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের কেন্দ্রীয় প্রচার শাখার প্রধান নিরন চাকমা ।

রক্তের ঝর্ণা বইছে পার্বত্য জনপদে ॥ উপদলীয় সংঘাতে ১৪ মাসে নিহত ৪৯ জন

তোফাজ্জল হোসেন কামাল :
সবুজ পাহাড় আবার রক্তে লাল হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পাহাড়ে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত শুরু হয়েছিল, তার সর্বশেষটা ঘটেছে ৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে। সেদিন দূর্বৃত্তদের গুলীতে উপজেলার রাইখালীর কারিগর পাড়ায় দু’জন নিহত হয়েছেন। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে একই জেলার লংগদুতে। এ নিয়ে গত ১৪ মাসে পাহাড়ের সন্ত্রাসপ্রবণ জেলা রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে ৪৯ জনের অকাল মৃত্যু ঘটেছে।

প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর পরই বিবদমান গ্রুফগুলো ঘটনার জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করে আসছে। সর্বশেষ কাপ্তাইয়ের ঘটনার জন্যও পাহাড়ের আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করেছে। তবে জেএসএস অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

জানা গেছে, রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নে কারিগড় পাড়ায় দুর্বৃত্তদের গুলীতে সোমবার বিকেলে নিহত দুজনের মধ্যে একজন জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কর্মী। অন্যজন স্থানীয় বাঙালি বাসিন্দা। তবে কাপ্তাইর রাইখালী ইউনিয়েনর কারিগর পাড়ায় নিহত দুইজনকে আওয়ামী লীগের কর্মী বল দাবি করা হয়েছে। সোমবার রাতে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক রফিক আহম্মদ তালুকদার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করা হয়। এ সময় জেএসএস (সন্তু লারমা) গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুলী করে তাদেরকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এর আগে ২৯ জানুয়ারির ঘটনার জন্য ইউপিডিএফ জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা)কে দায়ী করেছিল। তবে এমএন লারমা তা অস্বীকার করে। এর আগে ১৯ জানুয়ারি খাগড়াছড়ির জেলা সদরে পেরাছড়া গ্রামে রনীক ত্রিপুরা নামে ইউপিডিএফের কর্মী নিহত হন।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি শুক্রবার রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) এক কর্মী নিহত হন।

আঞ্চলিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ), জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের মধ্যে এই সংঘাত চলে আসছে। এক একটি হত্যাকাণ্ডের পর দলগুলো পরস্পরের ওপর দায় চাপায়।

জানতে চাইলে পার্বত্য নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, ‘পার্বত্য নাগরিক কমিটির উদ্যোগে পাহাড়ে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে যাচ্ছি। সংঘাত চলমান থাকায় আমরা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছি।’

জানা যায়, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তির পর জেএসএস ভেঙে পর্যায়ক্রমে কয়েকটি দল গঠিত হয়। এরপর ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে অশান্ত হয়ে পড়ে পাহাড়। ২০১৫ সালে আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। এরপর সংঘাত প্রায় আড়াই বছর বন্ধ ছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে ১৫ নভেম্বর ইউপিডিএফ ভেঙে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নামে অপর একটি দল গঠিত হওয়ার ২০ দিনের মাথায় পুনরায় সংঘাত শুরু হয়।

তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত কিছুটা কমে আসে। নির্বাচনে ইউপিডিএফ খাগড়াছড়িতে ও জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) রাঙামাটিতে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এই দুই দলের মধ্যে একটা অলিখিত ঐক্যও হয় বলে সে সময় গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়।

আর এই দুই দল ভেঙে গঠিত জেএসএস এমএন লারমা এবং ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেয়। দুই জেলায় তারা ইউপিডিএফ এবং জেএসএস প্রার্থীর সরাসরি বিপক্ষে কাজ করে। এই দ্বন্ধ থেকে নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে পানছড়িতে হামলায় দুজন নিহত হন। তাঁদের একজন ইউপিডিএফ সমর্থক।

এ নিয়ে দল দুটির ওপর প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আঞ্চলিক দল দুটি ক্ষুব্ধ হয়। নির্বাচনের পর রাঙামাটিতে কারচুপির অভিযোগ এনে জেএসএস প্রার্থী এবং দশম সংসদের সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন।

১ জানুয়ারির ওই সংবাদ সম্মেলনে জেএসএস (এমএন লারমা) ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্র দখল এবং জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ করা হয়। এ সব কারণে নির্বাচন শেষ হতে না হতেই আবারও সহিংসতা শুরু হয় বলে বিভিন্ন মহল ধারণা করছে। ৪ জানুয়ারি বাঘাইছড়িতে এমএন লারমার কর্মী বসু চাকমা হত্যার ঘটনায় জেএসএসকে দায়ী করে দলটি।

অভিযোগ অস্বীকার করে জেএসএস কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গুনেন্দু বিকাশ চাকমা বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ভোট কেড়ে নিয়েছে এমএন লারমা। বাঘাইছড়ি উপজেলার তুলাবান ও পাবলাখালী গ্রামে ভোটারদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ মানুষ ক্ষেপে গিয়ে হয়তো বসু চাকমাকে হত্যা করেছে। এঘটনায় জেএসএস দায়ী নয়।

তবে সংঘাতের জন্য আঞ্চলিক দলগুলো প্রশাসন এবং সরকারকে দায়ী করছে। ইউপিডিএফের মুখপাত্র মাইকেল চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শাসকগোষ্ঠীরা ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত জিইয়ে রেখেছে। সরকার চাইলে যেকোনো সময় সংঘাত বন্ধ করতে পারে।

জানতে চাইলে রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির বলেন, ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে হচ্ছে। হত্যাকা-গুলো নিয়ে তদন্ত চলছে। সংঘাত কমিয়ে আনতে পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।

কাপ্তাই’র রাইখালিতে যে দু’জন প্রাণ হারিয়েছেন, তারা পাহাড়ে স্থানীয় বিববদমান রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘাতের বলি। নিহত দু’জনের মধ্যে একজন জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কর্মী। অন্যজন স্থানীয় বাঙালি বাসিন্দা।

গত সোমবার বিকেলের এ ঘটনার জন্য পাহাড়ের আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করেছে। তবে জেএসএস অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ নিয়ে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় বিবদমান এসব গোষ্ঠীর সংঘাতে গত ১৪ মাসে ৪৯ জন নিহত হলেন।

সর্বশেষ গত ২৯ জানুয়ারি রাঙামাটির লংগদু উপজেলার লংগদু সদর ইউনিয়নের ভুইয়োছড়া গ্রামে ইউপিডিএফের কর্মী পবিত্র চাকমা নিহত হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বেলা তিনটার দিকে রাইখালীর কারিগড় পাড়ার ফরেস্ট অফিস এলাকায় একটি চা-দোকানে বসে জেএসএসের (এমএন লারমা) কর্মী মংসানু মারমা কয়েক বন্ধুর সঙ্গে গল্প করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে ৮ থেকে ১০ জন দুর্বৃত্তের দল তাঁদের ঘেরাও করে। পরে পালানোর চেষ্টা করলে এলোপাতাড়ি ব্রাশফায়ার করা হয়।

মংসানু মারমা (৪০) ও ট্রাকচালকের সহকারী মো. জাহিদুল ইসলাম (৩২) গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহত জাহিদুলের বাড়ি নোয়াখালীতে। তিনি রাইখালি ইউনিয়নের নারানগিরি গ্রামে থাকতেন। ঘটনার পর কারিগড় পাড়ার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।

রাইখালী এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘ সময় ধরে কাপ্তাই উপজেলায় জনসংহতি সমিতির ( জেএসএস) আধিপত্য ছিল। গত একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কিছু নেতা-কর্মী রাইখালী এলাকায় এসে দলীয় কর্মকান্ড শুরু করেন। তাঁরা সেখান থেকে রাজস্থলীর বাঙালহালিয়া বাজারেও দলীয় কাজ করতেন।

ঘটনার দিন সকালে সাংগঠনিক কাজে জনসংহতি সতিমির (এমএন লারমা) কর্মী মংসানু মারমা কারিগড়পাড়ায় যান। মংসানু মারমার বাড়ি একই ইউনিয়নের নারানগিরিমুখ গ্রামে। ঘটনাস্থল থেকে তাঁর বাড়ি চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার।

জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে কাপ্তাইয়ে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যরা এ হামলা চালিয়েছে। ঘটনায় আমাদের একজন সক্রিয় কর্মী ও একজন সাধারণ বাঙালি নিহত হয়েছেন।’

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ও প্রকৃত অপরাধীকে আইনে আওতায় এনে শাস্তিও দাবি করেন তিনি।
এ অভিযোগের বিষয়ে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) তথ্য ও প্রচার বিভাগের সদস্য দীপায়ন খীসা বলেন, এ ঘটনায় জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সম্পৃক্ততার প্রশ্নই আসে না এটা তাদের বিরোধের ফসল।

সূত্র: দৈনিক সংগ্রাম

লংগদুতে ইউপিডিএফ কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা

 

লংগদু প্রতিনিধি / নিজস্ব প্রতিনিধি, রাঙামাটি:

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট্র’র (ইউপিডিএফ) এরিয়া কমান্ডার পবিত্র চাকমাকে (৪৬) গুলি করে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ভূইয়াছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- উপজেলার ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত ভূইয়াছড়া এলাকায় কমান্ডার পবিত্র তার এক সঙ্গীকে নিয়ে একটি ঘরে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এসময় একদল অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত ওই ঘরে ঢুকে ব্রাশ ফায়ার করলে ঘটনাস্থলে পবিত্র নিহত হয়। এসময় তার সঙ্গী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সূত্রটি আরও জানায়- চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যে অন্তর্কোন্দলের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

তবে স্থানীয় ইউপিডিএফ এ ঘটনার জন্য তাদের প্রতিপক্ষ জেএসএস সংস্কারকে দায়ী করেছে। তবে স্থানীয় জেএসএস এ ঘটনা অস্বীকার করে বলেন- এটি ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকা। ইউপিডিএফ নিজেদের অন্তর্কোন্দলের কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ রঞ্জন কুমার সামন্ত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, লংগদু সদর ইউনিয়নের ভূইয়াছড়া এলাকায় পবিত্র চাকমা নামে একজনকে গুলি করে হত্যার খবর পেয়েছি।

চকরিয়ায় অপহৃত শিশুর লাশ উদ্ধার

 

চকরিয়া প্রতিনিধি ও বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার:

চকরিয়ায় অপহৃত আড়াই বছরের শিশু আল ওয়াসীর লাশ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার(২২ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় মাতামুহুরী ব্রীজের নিচে তাঁর লাশ পাওয়া যায়।

এর আগে সোমবার(২১ জানুয়ারি) বিকেলে চিরিঙ্গা সবুজবাগ এলাকা থেকে খেলার সময় তাকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় মুন্নী আক্তার নামে এক মহিলাকে আটক করেছে পুলিশ।  আটককৃত মুন্নী আক্তার  চকরিয়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাটাখালী এলাকার খোন্দকার পাড়ার খলিলুর রহমানের মেয়ে।

নিহত শিশু মো.ওয়াসিয়া চকরিয়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকার সাহাবউদ্দিন ও রুনা আক্তার দম্পতির ছেলে।

নিহত শিশুর স্বজনরা জানান, সোমবার বিকালে শিশু ওয়াসীয়া ও তার চার বছর বয়সি বোন বাড়ির উঠানে খেলা করছিলো। এ সময় বোরকা ও নেকাব পরিহিত এক মহিলা ওয়াসীয়ার হাতে একটি চিপস দিয়ে তাকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায়। ছেলেকে কোথাও না পেয়ে রাতে চকরিয়া থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত অভিযোগে মুন্নি আক্তার নামের এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। তিনি আরও বলেন, সকাল ১০টার দিকে মাতামুহুরী ব্রীজের নিচে একটি শিশু পড়ে থাকতে দেখে খবর পেয়ে পুলিশসহ আমরা গিয়ে ওয়াসীয়ার লাশ উদ্ধার করি।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, শিশু ওয়াসীয়াকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পর সারারাত পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। কিন্তু সকালে মাতামুহুরী নদীর ব্রীজের কাছ থেকে ওই শিশুর বস্তাবন্দী লাশ পাওয়া যায়। এঘটনায় জড়িত অভিযোগে মুন্নী আক্তার নামে একজন আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কী কারণে শিশু ওয়াসীয়াকে হত্যা করা হয়েছে তা জানতে কয়েকটি বিষয়কে সামনে রেখে মাঠে কাজ করছে পুলিশ। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ইয়াবা কারবারীর ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

বিশেষ প্রতিনিধি কক্সবাজার:

উখিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমে ছুরিকাঘাতে এক যুবক নিহত হওয়ার খবর পাওয়াগেছে।পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ইয়াবা কারবারীর ছুরিকাঘাতে তুমব্রু ভাজাঁবনিয়া গ্রামের জমির হোছেনের ছেলে ফরিদ আলম (৩০) ওই যুবক ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছে।

সোমবার(২১ জানুয়ারি) সকাল ১০ টার দিকে তুমব্রু উত্তর পাড়া জাগির হোছেনের দোকানের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। উখিয়া হাসপাতাল থেকে ঘাতক তুমব্রু উত্তরপাড়া গ্রামের জাফর আলমের ছেলে আবুল কালাম (৩২) কে আটক করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ।

ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমন চৌধুরী জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আবুল কালাম তার কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করলে ফরিদ আলম ঘটনাস্থলে মারা যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন ঘটনার কথা স্বীকার করে তিনি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংবাদিকদের জানান।

রামগড়ে আ’লীগ নেত্রী ফাতেমাকে গণধর্ষণের পর হত্যার লোমহর্ষক ঘটনার স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রামগড়:

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়ন মহিলা আ’লীগের সভানেত্রী ও  গ্রাম প্রতিরক্ষাবাহিনীর সদস্যা  ফাতেমা বেগমকে(৫০) গণধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা করার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে জাহাঙ্গীর আলম(৪৫) নামে এক ব্যক্তি।

বৃহস্পতিবার(১০ জানুয়ারি) রাতে রামগড় থানা পুলিশ তাকে মাটিরাঙ্গা থেকে গ্রেফতার করে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করার পর পরদিন শুক্রবার বিকালে খাগড়াছড়ির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: মোরশেদুল আলমের আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ শুক্রবার(১১ জানুয়ারি) নজরুল ইসলাম প্রকাশ নাজিম(২৮) নামে আরেক আসামিকে গ্রেফতার করেছে। গত ২৪ ডিসেম্বর রামগড়ের মাহবুবনগর এলাকা থেকে ফাতেমা বেগমের (৫০) অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি স্বামী পরিত্যক্তা ও দুই সন্তানের জননী। এ ব্যাপারে ২৫ ডিসেম্বর রামগড় থানায় ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি মামলা(নম্বর-৫) রুজু করা হয়।

পু্লিশ জানায়, গোপনসূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধমে বৃহস্পতিবার রাতে মাটিরাঙ্গার কাজীপাড়া থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করে পুলিশ। তিনি মাটিরাঙ্গার তবলছড়ি ইউনিয়নের বড়বিল মুসলিমপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক এবং পেশায় বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন কাজের শ্রমিক। খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদ্য পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) এস্এম সালাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল তাকে গ্রেফতার করে।

পুলিশের ঐ অভিযানে অংশ নেয়া রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হান্নান মো: তারেক জানান, আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, নজরুল ইসলাম  প্রকাশ নাজিম নামে এক পিকআপ ড্রাইভারের মাধ্যমে গত ১৮ ডিসেম্বর রাত ৮ টার দিকে জালিয়াপাড়া রামগড় সড়কের মাহবুবনগর নামক স্থানে  ফাতেমা বেগমকে ডেকে আনা হয়। তারা ফাতেমাকে রাস্তার অদূরে একটি সেগুন বাগানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনা প্রকাশ করে দেয়ার ভয়ে জাহাঙ্গীর ও নজরুল দুজন মিলে তাকে হত্যা করে। জবানবন্দিতে জাহাঙ্গীর আরও উল্লেখ করেন, তিনি ফাতেমার দুই পা ও হাত চেপে ধরেন এবং নজরুল তার গলা টিপে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সেগুন গাছের ঝরেপড়া শুকনো পাতা দিয়ে  ফাতেমার মরদেহ ঢেকে রেখে তারা পালিয়ে যান।

ওসি আব্দুল হান্নান মো: তারেক আরও জানান, জাহাঙ্গীরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার গুইমারার জালিয়াপাড়া এলাকা থেকে নজরুল ইসলাম নাজিমকে পুলিশ গ্রেফতার করে। নজরুল জালিয়াপাড়ার রেজাউলের ছেলে। তিনি দুই শিশু পুত্রের পিতা।

ওসি আরও জানান, জাহাঙ্গীর রামগড় জালিয়াপাড়া ৩৩ কেভিএ বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন কাজের শ্রমিক আর নজরুল পিকআপের মালিক ও  ড্রাইভার। তাঁর পিকআপ করেই বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনের মালামাল পরিবহন করা হত। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান ওসি।

প্রসঙ্গত: উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের মাহবুব নগর এলাকায় স্থানীয় শিশুরা বিকালে ক্রিকেট খেলার সময় বলটি বাগান থেকে কুড়িয়ে আনতে গেলে দুর্গন্ধ পায়। পরে তারা বল খোঁজার এক পর্যায়ে সেগুন গাছের ঝরে পড়া শুকনো পাতায় ঢাকা গলিত লাশ দেখতে পেয়ে অভিভাবকদের জানায়। পরে খবর পেয়ে  রামগড় থানার পুলিশ এসে লাশটি  উদ্ধার করে। নিহত ফাতেমার ছেলে শাহজাহান এটি তাঁর নিখোঁজ মায়ের লাশ বলে শনাক্ত করে ।

চাকমারা মানুষ মারলে এই দেশে বিচার অয় না, বিচার অয় চাকমাদেরকে কেউ গালি দিলে- পাকুয়াখালী গণহত্যা থেকে একমাত্র জীবিত বেঁচে আসা ইউনুস মিয়া

Yunus

বাংলাদেশের পার্বত্যচট্টগ্রামে শান্তিবাহিনী ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর চুক্তি সাক্ষরের পূর্ব পর্যন্ত অজস্র হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। এগুলোর মধ্যে কোন কোন হত্যাকান্ডের নৃসংশতা ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যাগুলোকেও হারমানায়। পাকুয়াখালী ট্রাজেডি এই নৃসংশ গণহত্যাগুলোরই একটি। ১৯৯৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে ঘটে বর্বরতম এই ঘটনা। এই দিন পাকুয়াখালীতে শান্তিবাহিনী ঘটিয়েছিল পার্বত্য ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকান্ড। ৩৫ জন নিরীহ বাঙালি কাঠুরিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করে বিকৃত করেছিল তাদের প্রতিটি লাশ। সেদিন ঘটনাস্থল থেকে সৃষ্টিকর্তার অসীম করুণায় পালিয়ে আসতে পেরেছিল মুহাম্মদ ইউনুছ মিয়া নামের এক ভাগ্যবান। সেদিনের সেই মৃত্যুকূপ থেকে ফিরে আসা ইউনুছ মিয়ার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- সৈয়দ ইবনে রহমত।

প্রঃ কি করছিলেন?
উঃ গায়ে জ্বর, শুইয়া আছিলাম।

প্রঃ কতদিন যাবৎ জ্বর? ওষুধপত্র খাচ্ছেন না?
উঃ দুইদিন ধইরা জ্বর। ভাই, ওষুধপাতি খাইয়া কি অইব। জ্বরের লাগি ওষুধ খাইলেই কি আর না খাইলেই কি। এই বাড়ে-এই কমে, ওষুধ খাওন লাগব না, দুই দিন পরে এমনেই সাইরা যাইব।

প্রঃ আপনার কাছে আসার উদ্দেশ্য হলো পাকুয়াখালী হত্যাকান্ড সম্পর্কে কিছু কথা জানা।
উঃ এইসব কইয়া লাভ কি? কতই তো কইলাম। আর্মি, পুলিশ, সিআইডির অফিসার, সাংবাদিক, আরো কতজনের লগে কইছি। কই, কিছুইতো অইল না। এইসব কইয়া আর মনের জ্বালাটা বাড়াইয়া লাভ কি?

প্রঃ আপনারা তো জানতেন যে, পাহাড়ে শান্তিবাহিনী আছে, তারা বাঙালির দেখা মাত্রই গুলি করে। তারপরও পাহাড়ে যাওয়ার সাহস পেলেন কিভাবে?
উঃ ভাই, শখ কইরা কেউ কী আর মরণের সামনে যায়? পেটের দায়ে যাওন লাগে। পাহাড়ে যাওন ছাড়া আর তো বাঁচনের পথ নাই। সামান্য জমি-জমা যা আছে এইডাও তো কোন বছর চাষ কইরা ঘরে তোলা যায় না। কাপ্তাই বান্ধের পানি আইসা ডুবাইয়া দেয়। তাই বাধ্য অইয়াই পাহাড়ে যাওন লাগে। আর পাকুয়াখালীর ঘটনার সময়তো কোন ভয় আছিল না। তখন শান্তিবাহিনীর লগে আমাদের চুক্তি আছিল। আমরা তাদেরকে ১ ফুট (এক ঘনফুট) গাছের বিনিময়ে ৪০/৫০ টাকা কইরা চান্দা দিতাম।

প্রঃ শান্তিবাহিনীর সাথে কখন থেকে টাকার বিনিময়ে গাছ কাটার চুক্তি হয়েছিল?
উঃ পাকুয়াখালীর ঘটনার ৫/৬ বছর আগে একদিন বড় মাহিল্যার তক্তা নজরুল (লম্বা এবং হালকা পাতলা গড়নের কারণে তাকে লোকজন তক্তা নজরুল নামে চিনত) আমাদের কইল, পাহাড়ে গাছ কাটতে গেলে শান্তিবাহিনীরা আর বাঙালিরে গুলি করব না। কিন্তু তাদেরকে চান্দা দিতে অইব। তারপর থাইক্যা শুরু অইল গাছ কাটা। আগের থাইক্যাই চাকমাদের লগে নজরুল ভাইয়ের বালা সম্পর্ক আছিল। চাকমাদের বাড়ীতে মাঝে মধ্যে হে যাইত, আবার চাকমারাও হের বাড়ীতে আসা যাওয়া করত। এদের মধ্যে কেউ কেউ শান্তিবাহিনীও আছিল। তারাই তক্তা নজরুলরে দিয়া চান্দার মাধ্যমে গাছ কাটার খবর দিছিল।

প্রঃ চাঁদা দিয়া যখন গাছ কাটতেন, তখন আপনাদের সাথে শান্তিবাহিনী কেমন আচরণ করত?
উঃ এমনিতে তারা কোন খারাপ আচরণ করত না। তবে তাদের আইন কানুন আছিল খুব কড়া। যেই দিন যা কইতো, তাই করতে অইতো। কেউ কথা না হুনলে মাইর-ধোর করতো, পাহাড়ে যাওন বন্ধ কইরা দিত।

প্রঃ আপনারা যেখানে গাছ কাটতে যেতেন, সেখানকার চাকমাদের সাথে আপনাদের সম্পর্ক কেমন ছিল?
উঃ আমরা যেখানে গাছ কাটতে যাইতাম সেখানে অনেক চাকমা বসবাস করত। এদের কেউ কেউ শান্তিবাহিনীও আছিল। তবে বেশির ভাগই ছিল আমাদের মতই সাধারণ মানুষ। তারাও আমাদের সাথে গাছ কাটত। স্থানীয় এইসব চাকমাদের লগে আমাদের বালা সম্পর্ক আছিল। তারা আমাদের ঈদ-পরবের সময় বেড়াইতে আইত। আমরাও বিজুর (চাকমাদের বাৎসরিক উৎসব) সময় তাদের বাড়ীতে বেড়াইতে যাইতাম। অনেক সময় পাহাড়ে কোন গন্ডগোলের ভাব থাকলে তারা আমাদেরকে আগেই জানাইয়া দিত।

প্রঃ শান্তিবাহিনীর সাথে স্থানীয় চাকমাদের সম্পর্ক কেমন ছিল?
উঃ শান্তিবাহিনীরা স্থানীয় চাকমাদের উপরেও অত্যাচার করতো, ওদের কাছ থাইকয়াও চান্দা নিত। সামান্য ভুল-ত্রুটি অইলে বা তাদের কথামতো না চললে মাইর-ধোর করতো। কতজনরে তো গুলি কইরা মাইরাও ফালাইছে। শান্তিবাহিনীর খাওন-খোরাক অনেক সময় বাজার থাইক্যা কিইন্যা পাহাড়ে গিয়া দিয় আইতে অইতো। তাই স্থানীয় চাকমারা কৌশলে শান্তিবাহিনীর কালেক্টরদেরকে বিপদে ফালাইয়া তাড়ানোর চেষ্টা করতো। কোন কোন সময় মদ-টদ খাওয়াইয়া মাইয়া সংক্রান্ত ঝামেলায় ফালাইতো, আবার কোন কোন সময় টাকা-পয়সার হিসাবে গোলমাল লাগাইয়া শান্তিবাহিনীর বড় অফিসারের কাছে নালিশ করতো। এমনও সময় গেছে যখন এক মাসের মধ্যে তিন-চারজন কালেক্টর বদল হইছে।

প্রঃ দুই মাসের চাঁদা বাকি পড়ায় শান্তিবাহিনী ব্যবসায়ীদেরকে একটা মিটিংয়ে ডেকেছিল। কিন্তু ব্যবসায়ীরা না যাওয়ায় তারা ক্ষেপে গিয়ে এই হত্যাকান্ড চালিয়ে ছিল বলে অনেকে মনে করে। আপনারও কি তাই মনে হয়?
উঃ এইডা একটা ফালতু কথা। ব্যবসায়ীরা পাহাড়েও যায় না। পাহাড়ে গিয়া কখনো চান্দা দেয় না। পাহাড়ে যাই আমরা। কাঠ বলেন, বাঁশ বলেন, তার চান্দা প্রত্যেক দিন সন্ধ্যার সময় দিয়াই আনতে হইত। কোন দিনের চান্দাই বাকি থাকত না।

প্রঃ ব্যবসায়ীদের কথা বলছি-
উঃ ব্যবসায়ীরা তাদের মাল (কাঠ, বাঁশ) নেওনের সময় রাস্তায় রাস্তায় চান্দা দেয়। চান্দা ছাড়া ১ ফুট গাছ নেওনের ক্ষেমতাও ব্যবসায়ীদে নাই। চান্দা বাকী রাইখ্যা শান্তিবাহিনী গাছ নিতে দিছে এই কথা জীবনেও শুনি নাই। ব্যবসা করতে চাইলে তাদেরকে চান্দা দেওনই লাগবো। আর হেগোর লাইগ্যা আমাদের মতন গরীব মানুষেরে মারব ক্যান্?

প্রঃ এতগুলো মানুষকে নির্মমভাবে মেরে ফেলার পিছনে কি কারণ আছে বলে আপনার মনে হয়?
উঃ জানি না ভাই। কি জন্য যে মারল, হেইডাই তো কইতে পারি না। ওরা ভাই বিশ্বাসঘাতক, মীরজাফর, তক্তা নজরুলরে পর্যন্ত মাইরা ফালাইল। যে নিজে না খাইয়াও হেগোরে খাওয়াইছে, কত বিপদ থাইক্যা উদ্ধার করছে।

প্রঃ ঘটনার দিন পাহাড়ে গিয়ে সন্দেহজনক কিছু দেখেছিলেন?
উঃ ঐদিন আমার পোলাগো মোসলমানির (খৎনা করার) কথা আছিল। তাছাড়া শরীরটাও বেশি বালা আছিলনা। কিন্তু আলাল ভাই (স্ত্রীর বড় ভাই) কইল, পাহাড়ে যাওনের লাগি। একরকম জোরের মধ্যেই আমি আলাল ভাইয়ের লগে রওনা হইলাম। অফিস ছড়া দিয়া পাহাড়ে ঢুকলাম। কেচিং (একটা জায়গার নাম) থাইক্যা সামান্য উপরে একটা দোকান। দোকানে দেখলাম তিনজন শান্তিবাহিনী অস্ত্র নিয়া বইসা আছে। এইডাতে অবশ্য সন্দেহ করি নাই। এই রকমতো মাঝে মধ্যেই দেখতাম। আলাল ভাইয়ের সাথে গ্যানো চাকমার ছোটখাট ব্যবসা আছিল। আলাল ভাই তার জন্য কিছু টাকা নিয়া গেছিল। টাকা দেওনের লাগি আলাল ভাই যখন গ্যানো চাকমার সাথে কথা কইতেছিল তখন কালু চাকমা এবং তার সাথের কয়েকজন আইসা কইল, মিটিং আছে, ভিতরে যাইতে অইব। তখন আলাল ভাই কইল, গ্যানো বদ্দা, তোমার টাকা মিটিং থাইক্যা আসার সময় দিব। কিন্তু গ্যানো চাকমা, টাকাটা তখনই লইতে চাইছিল। কালু চাকমা আলাল ভাইরে কইল, যাওনের সময় দিয়া যাওনের লাইগ্যা।

প্রঃ প্রথম কখন বুঝতে পারলেন যে, কোন দুর্ঘটনার সম্ভাবনা আছে?
উঃ কালু চাকমার সাথে কিছুদূর যাইতেই দেখি রাস্তার দুই পাশে চার জন করে মোট আট জন এসএম জি নিয়া বইসা আছে। আমরা কাছে যাওন মাত্রই আমাদেরকে ঘিরে ফালাইল। এই অবস্থা দেইখ্যাই আমার প্রথম মনে অইল যে, আজকে আমাদেরকে মাইরা ফালাইব। পকেট থাইক্যা টাকা পয়সা সব রাইখ্যা কালু চাকমা আর তার লগের একজন আমাদের হাত পিছ-মোড়া কইরা গাছের লতা দিয়া বানল। বান্ধার সময় কইল মিটিংয়ের জায়গা নিয়া বান ছাইড়া দিব। তখন আমি কইলাম ছাইড়াই যখন দিবা, তখন অত শক্ত কইরা বান্ধনের দরকার কী, আমরাতো পালাইতেছি না। আমিও হাত এমন ভাবে রাখলাম যাতে বান বেশি শক্ত না হয়।

প্রঃ আপনাদের বেঁধে যেখানে নিয়ে গেল সেখানে গিয়ে কি দেখলেন?
উঃ ১৫/২০ মিনিট হাইট্টা ভিতরে যাওনের পর দেখলাম একাটা মেড়া গাছের লগে তক্তা নজরুলসহ ৪ জন বান্ধা। সামনেই অন্যান্য গাছের লগে আরো মানুষ বান্ধা। গুনে দেখলাম আমিসহ ২৯ জন। এলএমজি ও এসএমজি হাতে পাহাড়া দিতেছে ১৯ জন শান্তিবাহিনী। আর লাঠি, দা, কুইচ্যা মারা শিক হাতে আরো ১২ জন চাকমা আছে, এদের মধ্যে কয়েকজনরে আমি চিনি। তারা হল- লাম্পায়া চাকমা, ছিক্কা কারবারী, বলি চাকমা, শান্তিময় চাকমা, বাবুল চাকমা, গুলুক্যা চাকমা, তরুন চাকমা(কালেক্টর), কবির চাকমা, বাশি চাকমা, বিমল চাকমা এবং সমিতি রঞ্জন চাকমা। এক সময় শান্তিবাহিনীর একজন একটা খাতা ও কলম নিয়া আমাদের সবার নাম লিখল এবং কার কাছ থাইক্যা রাস্তায় কত টাকা এবং কি কি জিনিস পত্র রাখা হইছে তা লিখল।

প্রঃ বাঁধা অবস্থা থেকে আপনি পালালেন কিভাবে?
উঃ কিছুক্ষণ পর কালাপাকুইজ্যার ৫ জনরে গাছের থাইক্যা দড়ি খুইল্লা আরো সামনের দিকে লইয়া গেল। তাদের সাথে গেল ২ জন অস্ত্রধারী আর ৩ জন গেল দা, লাঠি, কুইচ্যা মারার শিক নিয়া। ১০/১২ মিনিট পর নজরুল ভাইসহ আরো ৫ জনরে নিয়া গেল। কিছুদূর যাওয়ার পর দেখলাম নজরুল ভাই আর যাইতে চাইতেছে না। তখন একজন তারে ঘাড়ে ধাক্কা দিয়া নিয়া গেল। তখনই বুঝলাম যে, লোকজনেরে সামনে নিয়া মাইরা ফালাইতেছে। কারণ নজরুল ভাইরে ঘাড়ে ধরা দূরের কথা. তার লগে গরম অইয়াও চাকমাদেরকে কথা কইতে কোন দিন দেহি নাই। তখন আমি একজনরে কইলাম, দাদা আমি একটু পেশাব করব। উনি এবং আরেক জন আমাকে একটু দূরে নিয়া গেল। পেশাবের ছল কইরা কিছুক্ষণ বইসা থাইক্যা মনে মনে ঠিক করছিলাম খাড়াইয়াই দৌড় দিমু। কিন্তু যখন খাড়াইলাম, তখন ঠাস কইরা বাঁকা একটা বাঁশের লগে মাথাটা বাড়ি লাগল। তখন আমার সাথের শান্তিবাহিনী দুইজন সর্তক হইয়া গেল। আমি মাথা হাতাইতে হাতাইতে আবার আগের জায়গায় আইলাম। আমারে আবার অন্যদের লগে বানল। তখন খুব লুকাইয়া লুকাইয়া আমি আমার হাতের বান খুইলা ফালাইলাম এবং কেউ যাতে বুঝতে না পারে সেই জন্য হাতের নিচে চাইপ্যা রাখলাম। তারপর আল্লাহর নাম লইয়া দিলাম এক দৌড়।

কিন্তু সামনেই দেখি এলএমজি নিয়া একজন খাড়াইয়া রইছে। আমারে কইল, দৌড় দিবিনা, ব্রাশ কইরা দিমু, তখন আমি ডান পাশের ছড়ার দিকে লাফ দিলাম। লাফ দেয়ার সাথে সাথে ব্রাশ ফায়ারের শব্দ শুনলাম, আর শব্দ শুনতে শুনতেই গড়ায়ে পড়লাম নিচের দিকে। কিছুদূর যাওয়ার পর একটা গাছের গুড়ির দিকে গর্তমতো জাগা পাইলাম। সেইখানে বইসা মাথার উপরে জঙ্গল টাইন্যা ধইরা রাখলাম। ভয়ে তখন আমার বুকের মধ্যে এমন জোরে আওয়াজ অইতেছিল যে, মনে হইছিল এই শব্দ না জানি শান্তিবাহিনী শুইনা ফালায়। রাত হওয়ার পর ছড়া দিয়াই বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। ছড়ার মধ্যে কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও গলা পানি, আবার কোথাও সাঁতার। ঘন জঙ্গলে ভরা ছড়া দিয়ে চলবার মত কোন পথ নাই। তার উপর আবার নিশি অন্ধকার। ছড়ার মধ্যে ঠান্ডা পানি, বেতের কাঁটা, বিষাক্ত সাপ, হিংস্র প্রাণীর ভয়ও ছিল। কিন্তু তখন এক শান্তিবাহিনী ছাড়া আর কিছুকেই ভয় হচ্ছিল না। সারা রাত হেঁটে হেঁটে অবশেষে ভোরের দিকে পাহাড় থেকে বের হই।

প্রঃ ১১ তারিখ সেনাবাহিনীর লাশ উদ্ধারের কথা কিছু বলুন।
উঃ বাড়িতে আসার পর আর্মিরা যহন জানল যে আমাকেও শান্তিবাহিনী ধরে নিয়া গেছিল। তহন তারা আমাকে সাথে নিয়া গেল পথ দেখানোর জন্য। আমি তাদের পাহাড়ে নিয়া গেলাম। তক্তা নজরুলরে যেইখানে ঘাড়ে ধাক্কা দিছিল, সেইখান থাইকা আরেকটু সামনে গিয়া দেখলাম, বাম দিকে প্রায় এক-দেড়’শ গজ পাহাড়ের নিচে একটা বেড়া। নিচে নাইমা সেই বেড়া পার হইলাম। কিন্তু তারপর আর রাস্তার কোন চিহ্ন নাই। একটু দূরে দেখলাম, একটা কাঁচা বাঁশের কঞ্চি আধা ভাঙ্গা অবস্থায় ঝুইলা রইছে। কঞ্চিটা সরানোর পর একটা ছোট পথ পাইলাম। এই পথ দিয়া সামনে গিয়া দেখি সরাফদ্দি ভাইয়ের টুপিটা একটা কঞ্চির লগে বাইজ্যা রইছে। এরপর সেন্ডেল, মদের টেংকি, বেশ কয়ডা লাঠিও দেখলাম। তারপর দেখলাম আলাল ভাইয়ের লাশ। আরেকটু সামনে গিয়া দেখি বিশাল জায়গা জুইড়া লাশ আর লাশ। কেউরে চিনা যায় না। বন্দুকের সামনে যে চাকুটা (বেয়নেট) থাকে এইডা দিয়া খোঁচাইয়া খোঁচাইয়া মারছে। লাঠি দিয়া পিটাইয়া, দা দিয়া কুবাইয়া, কুইচ্যা মারার শিক দিয়া পারাইয়া, চোখ তুইলা, আরো কতভাবে যে কষ্ট দিয়া মারছে তা কইয়া শেষ করুন যাইব না। ঐকথা মনে অইলে আইজো শরীরের পশম খাড়াইয়া যায়। ঐখানে লাশ পাওয়া যায় ২৮ জনের।

Pakuakhali-4

Pakuakhali-2

Pakuakhali-

pakuakhali-00

ছবি: পাকুয়াখালিতে নিহত কয়েকজন কাঠুরিয়ার লাশ

প্রঃ মানুষ মারা গিয়েছিল ৩৫ জন,  আপনি বলছেন লাশ পাওয়া যায় ২৮ জনের। বাকিদের সম্পর্কে আপনার ধারণা কি?
উঃ ঘটনার দিন আমি যাদেরকে বান্ধা অবস্থায় দেখছিলাম তাদের মধ্যে আমার পরিচিত আলী, দুলু দুই ভাইসহ ৪ জনের লাশ ঐখানে ছিল না। আর এমন তিনজনের লাশ পাইছি যারা ঐ দিন ঐখানে বান্ধা ছিল না। আমার মনে হয়, আমি পালানোর পরে আরো সাত জনরে শান্তিবাহিনীরা ধইরা নিয়া গেছিল। সাত জনরে মনে হয় অন্য কোন খানে নিয়া মারছে, আমরা তাদের লাশ খুইজ্জা বাইর করতে পারি নাই। আর বালা কইরা খুজবার মতো পরিস্থিতি তখন ছিল না।

প্রঃ শান্তিবাহিনী এতগুলো মানুষকে একসাথে হত্যা করল, অথচ তাদের কোন বিচার হল না। আপনারা কি সরকারের কাছে এর বিচার চান নাই?
উঃ আমরাতো বিচারের দাবী করছিই, আমি নিজে বাদী অইয়া মামলাও করছিলাম। তখন সরকারের মন্ত্রীরাও কইছিল বিচার করব। তদন্তও করছিল। হুনছি তদন্তের রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা দিছে। কিন্তু সেই রিপোর্ট সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। দেখতে দেখতে আজ ১৪ বছর পার অইয়া গেল। কই, কিছুই তো অইল না। শুধু এইডাই না, শান্তিবাহিনী তো আরো অনেক বাঙালিরে মারছে। কোনডারই তো বিচা অয় নাই। চাকমারা মানুষ মারলে তো এই দেশে বিচার অয় না। বিচার অয় চাকমাদেরকে কেউ গালি দিলে, তার। আর অহন তো চুক্তি কইরা শান্তিবাহিনীরাই সরকার (সাবেক শান্তিবাহিনীর প্রধান সন্তু লারমা চুক্তির পর থেকে পার্বত্যচট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন) অইছে। তাইলে আর বিচার করব কেডা?

তারপরেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার দাবী, আপনার বাবাকেও মাইরা ফালাইছিল। বাবা হারানোর ব্যথা আপনি বুঝেন। আর আপনি সেই হত্যাকারীদের বিচার করেছেন। এই জন্য আপনাকেই বলি- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পাকুয়াখালীতে যেসব সন্তান তাদের বাবাকে হারিয়েছে তারাও তাদের বাবা হত্যার বিচার চায়, যারা সেখানে ভাই হারিয়েছে তারা তাদের ভাই হত্যার বিচার চায়, যেসব মা-বাবা তাদের সন্তান হারিয়েছে তারা সন্তান হত্যাকারীর বিচার চায়, যেসব মহিলা স্বামী হারিয়েছে তারা স্বামী হত্যার বিচার চায়। কিন্তু তারা তো আর প্রধানমন্ত্রী হইয়া আত্বীয়-স্বজনদের হত্যাকারীর বিচার করতে পারব না। তাই এই হত্যাকান্ডের বিচার আপনাকেই করতে হইব।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশে আদিবাসী বিষয়ে আরো পড়ুন:

পার্বত্য চট্টগ্রাম জাতীয় দৃষ্টির মধ্যে রাখতে হবে

একটি স্থায়ী পার্বত্যনীতি সময়ের দাবী

বাংলাদেশে আদিবাসী বিতর্ক

আদিবাসী বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনের ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রয়োগ

পার্বত্য চট্টগ্রাম কি বাংলাদেশ নয়, বাঙালীরা কি মানুষ নন- ১

পার্বত্য চট্টগ্রাম কি বাংলাদেশ নয়, বাঙালীরা কি মানুষ নন- ২

পার্বত্য চট্টগ্রাম কি বাংলাদেশ নয়, বাঙালীরা কি মানুষ নন- ৩

চাকমা রাজপরিবারের গোপন ইতিহাস

পার্বত্য চট্টগ্রাম, খ্রিস্টান মিশনারি ও বৌদ্ধ ধর্মের ভবিষ্যৎ-৩

বাংলাদেশে তথাকথিত ‘আদিবাসী’ প্রচারণা রাষ্ট্রীয় স্বার্থ প্রশ্নসাপেক্ষ

পেকুয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

pic nihota delowar member pekua 03-02-2016 (2) (1)

পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় সাবেক এক ইউপি সদস্যেকে দাওয়াত দিয়ে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন (৭০) রাজাখালী ৮ নং ওয়ার্ড়ের সাবেক ইউপি সদস্য ও একই ইউনিয়নের নতুন ঘোনা গ্রামের মৃত আশকর আলীর পুত্র। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মগনামা ইউনিয়নের শরৎঘোনা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। বুধবার সকাল ৮টার দিকে পেকুয়া সরকারি হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নিহত ইউপি সদস্যের স্ত্রী হাসপাতালে অঝোর নয়নে কাঁদছেন। তার কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। এ সময় নিহত ইউপি সদস্যের মাথার সামনে গুলির আঘাত ও পিঠে ৭টি ধারালো কুপের চিহ্ন দেখা গেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছেন, গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মগনামা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড়ের ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা মো. জাকের হোছাইন কিছু লোক পাঠিয়ে রাজাখালী ইউনিয়নের নতুন ঘোনা গ্রামের বাড়ী থেকে সাবেক ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে দাওয়াতের কথা বলে শরৎঘোনায় ডেকে নিয়ে যায়। এরপর শরৎ ঘোনা দুবাই প্রবাসী আবদুল খালেকের বাড়ীর পার্শ্বের লবণ মাঠে নিয়ে দেলোয়ার হোসেনকে প্রথমে মাথায় গুলি ও পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ী কুপিয়ে হত্যা করে।

নিহতের পরিবার আরো অভিযোগ করেছেন, মগনামা শরৎঘোনা গ্রামের ইউপি সদস্য জাকের হোসেনের প্রত্যক্ষ ইন্দন ও সহায়তায় তার সহযোগী একই গ্রামের মনছুর, গিয়াস উদ্দিন মনিয়া, আবুল কালাম, নবী হোসেন, সিরাজুল ইসলামসহ একদল অস্ত্রধারী লোক দেলোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে শরৎ ঘোনা এলাকার ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা জাকের হোছাইন মেম্বার ও মনছুর আত্মগোপনে রযেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ঘটনার ব্যাপারে জানার ওই ইউপি সদস্যের মোবাইলে বুধবার বেশ কয়েকবার ফোন করা হলে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তার নির্বাচনী এলাকার মগনামা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের স্থানীয় লোকজন দাবি করেছেন, ইউপি সদস্য জাকের হোছাইন ও তার লোকজন দেলোয়ারকে হত্যা করেনি।

এদিকে গত কয়েক মাস ধরে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন রাজাখালীর একটি চোর সিন্ডিকেট মগনামার বিভিন্ন এলাকায় লবণ চাষীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছে। এদের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন নিহত দেলায়ার বলে অভিয়োগ করেছেন স্থানীয়রা। গতকয়েক মাস আগে ভাই ভাই বঙ্গবন্ধু সংগঠন নামের একটি সংগঠন অবির্ভাব হয়। ওই সংগঠনের নাম ভাংগিয়ে কমন্ডার মোহাম্মদ তুফান মোবাইলে বিকাশ নাম্বরের টাকা পাটানোর জন্য একটি কার্ড লবণ চাষীদের বরাবরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। চাঁদা না দিলে প্রতিরাতে লবণ মাঠের পলিথিন লুট করে নিয়ে যায় ওই চোর সিন্ডিকেট। রাজাখালী ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হোছাইন শহিদ সাইফুল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদকে জানান, তুফান নামে ব্যাক্তি পরিচালনায় কোন ধরনের ভাই ভাই বঙ্গবন্ধু সংগঠন রাজাখালীতে নেই।

নিহতের ছেলে ও বান্দরবান ফায়ার ষ্টেশনের কর্মচারী কবির হোসেন অভিযোগ করেছেন, তার নিরীহ পিতাকে শরৎঘোনা এলাকায় পিকনিকে দাওয়াত খাওয়ার নামে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারসহ বিচার দাবি করেছেন। এদিকে খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মাসুদ আলম সকাল ১১টা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

পেকুয়া থানার ওসি জিয়া মো. মোস্তাফিজ ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো নিহতের পরিবার থেকে থানায় এজাহার দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অভিযান চালিয়ে ৮জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার ক্লু উদ্ঘাটনের জন্য প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রকৃত দোষীদের আইনের কাঠগড়ায় আনা হবে।

কক্সবাজারে যুবককে হত্যা আটক- ৩

হত্যা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নে মোহাম্মদ ফারুক (৩৫) নামে এক রিক্সা চালকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার গভীর রাতে পোকখালী হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকায় রিক্সা ছিনতাই কালে এই ঘটনা ঘটে। নিহত রিক্সা চালক পশ্চিম পোকখালী এলাকার মৃত ওবাইদুল হকের পুত্র।

ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মিনহাজ মাহমুদ জানান, রাত ১২ টার দিকে ৩ যুবক ইসলামাপুর এলাকায় একটি রিক্সা বিক্রি করতে গেলে স্থানীয়রা সন্দেহ করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ওই ৩ যুবক জানায়, পোকখালী হাইস্কুলের সামনে ফারুক নামের এক রিক্সা চালকের গতিরোধ ছুরিকাঘাত করে হত্যার পর রিক্সা ছিনিয়ে নেয়। পুলিশ তাদের দেয়া তথ্য মতে স্কুলের উত্তর পাশের একটি ডোবা থেকে ফারুকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের চাচাতো ভাই সাদ্দাম এসে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেন।

মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে আটক ৩ জনের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

মাটিরাঙ্গার আবদুর রহিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

12.01.2016_Matiranga Murderer Arrest NEWS Pic

সিনিয়র রিপোর্টার:

পার্বত্য খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার বেলছড়ির মোটরসাইকেল চালক মো. আবদুর রহিমের চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের ১৬ মাস পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি রিপন মিয়া প্রকাশ রিপনকে গ্রেফতার করেছে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ। গত রোববার রাত আড়াইটার দিকে নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তাকে আটক করা হয়। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অপর আসামি মো. সমির মিয়া পলাতক রয়েছে।

গ্রেফতারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে মো. রিপন মিয়া হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে। এ সময় তার দেয়া তথ্যমতে ফেনী মডেল থানাধীন রাণীর হাট এলাকা থেকে আবদুর রহিমকে হত্যার পরে নিয়ে যাওযা তার মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয়ের অপরাধে পশ্চিম পাঠানবাড়ি এলাকার আবুল কায়ের এর ছেলে মো. নুরুল করিমকে গ্রেফতার করে। মো. নুরুল করিম হত্যাকান্ডে জড়িতদের মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছেন বলেও তারা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় আবদুর রহিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মাটিরাঙ্গা থানার এসআই সুরেজিত বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাত আড়াইটার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল চালক আবদুর রহিম হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত প্রধান আসামি মো. রিপন মিয়া প্রকাশ রিপনকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন বেলছড়ি ইউনিয়নের হাজীপাড়া কবরস্থান এলাকার গভীর জঙ্গলে আবদুর রহিমকে হাত-পা বেঁধে, মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে এবং গলায় নাইলন রশি পেচিয়ে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করে তার মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন বেলা দশটার দিকে মো. আবদুর রহিমের লাশ উদ্ধার করেছে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ। এদিন নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মাটিরাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।