চাকমারা মানুষ মারলে এই দেশে বিচার অয় না, বিচার অয় চাকমাদেরকে কেউ গালি দিলে- পাকুয়াখালী গণহত্যা থেকে একমাত্র জীবিত বেঁচে আসা ইউনুস মিয়া

Yunus

বাংলাদেশের পার্বত্যচট্টগ্রামে শান্তিবাহিনী ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর চুক্তি সাক্ষরের পূর্ব পর্যন্ত অজস্র হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। এগুলোর মধ্যে কোন কোন হত্যাকান্ডের নৃসংশতা ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যাগুলোকেও হারমানায়। পাকুয়াখালী ট্রাজেডি এই নৃসংশ গণহত্যাগুলোরই একটি। ১৯৯৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে ঘটে বর্বরতম এই ঘটনা। এই দিন পাকুয়াখালীতে শান্তিবাহিনী ঘটিয়েছিল পার্বত্য ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকান্ড। ৩৫ জন নিরীহ বাঙালি কাঠুরিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করে বিকৃত করেছিল তাদের প্রতিটি লাশ। সেদিন ঘটনাস্থল থেকে সৃষ্টিকর্তার অসীম করুণায় পালিয়ে আসতে পেরেছিল মুহাম্মদ ইউনুছ মিয়া নামের এক ভাগ্যবান। সেদিনের সেই মৃত্যুকূপ থেকে ফিরে আসা ইউনুছ মিয়ার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- সৈয়দ ইবনে রহমত।

প্রঃ কি করছিলেন?
উঃ গায়ে জ্বর, শুইয়া আছিলাম।

প্রঃ কতদিন যাবৎ জ্বর? ওষুধপত্র খাচ্ছেন না?
উঃ দুইদিন ধইরা জ্বর। ভাই, ওষুধপাতি খাইয়া কি অইব। জ্বরের লাগি ওষুধ খাইলেই কি আর না খাইলেই কি। এই বাড়ে-এই কমে, ওষুধ খাওন লাগব না, দুই দিন পরে এমনেই সাইরা যাইব।

প্রঃ আপনার কাছে আসার উদ্দেশ্য হলো পাকুয়াখালী হত্যাকান্ড সম্পর্কে কিছু কথা জানা।
উঃ এইসব কইয়া লাভ কি? কতই তো কইলাম। আর্মি, পুলিশ, সিআইডির অফিসার, সাংবাদিক, আরো কতজনের লগে কইছি। কই, কিছুইতো অইল না। এইসব কইয়া আর মনের জ্বালাটা বাড়াইয়া লাভ কি?

প্রঃ আপনারা তো জানতেন যে, পাহাড়ে শান্তিবাহিনী আছে, তারা বাঙালির দেখা মাত্রই গুলি করে। তারপরও পাহাড়ে যাওয়ার সাহস পেলেন কিভাবে?
উঃ ভাই, শখ কইরা কেউ কী আর মরণের সামনে যায়? পেটের দায়ে যাওন লাগে। পাহাড়ে যাওন ছাড়া আর তো বাঁচনের পথ নাই। সামান্য জমি-জমা যা আছে এইডাও তো কোন বছর চাষ কইরা ঘরে তোলা যায় না। কাপ্তাই বান্ধের পানি আইসা ডুবাইয়া দেয়। তাই বাধ্য অইয়াই পাহাড়ে যাওন লাগে। আর পাকুয়াখালীর ঘটনার সময়তো কোন ভয় আছিল না। তখন শান্তিবাহিনীর লগে আমাদের চুক্তি আছিল। আমরা তাদেরকে ১ ফুট (এক ঘনফুট) গাছের বিনিময়ে ৪০/৫০ টাকা কইরা চান্দা দিতাম।

প্রঃ শান্তিবাহিনীর সাথে কখন থেকে টাকার বিনিময়ে গাছ কাটার চুক্তি হয়েছিল?
উঃ পাকুয়াখালীর ঘটনার ৫/৬ বছর আগে একদিন বড় মাহিল্যার তক্তা নজরুল (লম্বা এবং হালকা পাতলা গড়নের কারণে তাকে লোকজন তক্তা নজরুল নামে চিনত) আমাদের কইল, পাহাড়ে গাছ কাটতে গেলে শান্তিবাহিনীরা আর বাঙালিরে গুলি করব না। কিন্তু তাদেরকে চান্দা দিতে অইব। তারপর থাইক্যা শুরু অইল গাছ কাটা। আগের থাইক্যাই চাকমাদের লগে নজরুল ভাইয়ের বালা সম্পর্ক আছিল। চাকমাদের বাড়ীতে মাঝে মধ্যে হে যাইত, আবার চাকমারাও হের বাড়ীতে আসা যাওয়া করত। এদের মধ্যে কেউ কেউ শান্তিবাহিনীও আছিল। তারাই তক্তা নজরুলরে দিয়া চান্দার মাধ্যমে গাছ কাটার খবর দিছিল।

প্রঃ চাঁদা দিয়া যখন গাছ কাটতেন, তখন আপনাদের সাথে শান্তিবাহিনী কেমন আচরণ করত?
উঃ এমনিতে তারা কোন খারাপ আচরণ করত না। তবে তাদের আইন কানুন আছিল খুব কড়া। যেই দিন যা কইতো, তাই করতে অইতো। কেউ কথা না হুনলে মাইর-ধোর করতো, পাহাড়ে যাওন বন্ধ কইরা দিত।

প্রঃ আপনারা যেখানে গাছ কাটতে যেতেন, সেখানকার চাকমাদের সাথে আপনাদের সম্পর্ক কেমন ছিল?
উঃ আমরা যেখানে গাছ কাটতে যাইতাম সেখানে অনেক চাকমা বসবাস করত। এদের কেউ কেউ শান্তিবাহিনীও আছিল। তবে বেশির ভাগই ছিল আমাদের মতই সাধারণ মানুষ। তারাও আমাদের সাথে গাছ কাটত। স্থানীয় এইসব চাকমাদের লগে আমাদের বালা সম্পর্ক আছিল। তারা আমাদের ঈদ-পরবের সময় বেড়াইতে আইত। আমরাও বিজুর (চাকমাদের বাৎসরিক উৎসব) সময় তাদের বাড়ীতে বেড়াইতে যাইতাম। অনেক সময় পাহাড়ে কোন গন্ডগোলের ভাব থাকলে তারা আমাদেরকে আগেই জানাইয়া দিত।

প্রঃ শান্তিবাহিনীর সাথে স্থানীয় চাকমাদের সম্পর্ক কেমন ছিল?
উঃ শান্তিবাহিনীরা স্থানীয় চাকমাদের উপরেও অত্যাচার করতো, ওদের কাছ থাইকয়াও চান্দা নিত। সামান্য ভুল-ত্রুটি অইলে বা তাদের কথামতো না চললে মাইর-ধোর করতো। কতজনরে তো গুলি কইরা মাইরাও ফালাইছে। শান্তিবাহিনীর খাওন-খোরাক অনেক সময় বাজার থাইক্যা কিইন্যা পাহাড়ে গিয়া দিয় আইতে অইতো। তাই স্থানীয় চাকমারা কৌশলে শান্তিবাহিনীর কালেক্টরদেরকে বিপদে ফালাইয়া তাড়ানোর চেষ্টা করতো। কোন কোন সময় মদ-টদ খাওয়াইয়া মাইয়া সংক্রান্ত ঝামেলায় ফালাইতো, আবার কোন কোন সময় টাকা-পয়সার হিসাবে গোলমাল লাগাইয়া শান্তিবাহিনীর বড় অফিসারের কাছে নালিশ করতো। এমনও সময় গেছে যখন এক মাসের মধ্যে তিন-চারজন কালেক্টর বদল হইছে।

প্রঃ দুই মাসের চাঁদা বাকি পড়ায় শান্তিবাহিনী ব্যবসায়ীদেরকে একটা মিটিংয়ে ডেকেছিল। কিন্তু ব্যবসায়ীরা না যাওয়ায় তারা ক্ষেপে গিয়ে এই হত্যাকান্ড চালিয়ে ছিল বলে অনেকে মনে করে। আপনারও কি তাই মনে হয়?
উঃ এইডা একটা ফালতু কথা। ব্যবসায়ীরা পাহাড়েও যায় না। পাহাড়ে গিয়া কখনো চান্দা দেয় না। পাহাড়ে যাই আমরা। কাঠ বলেন, বাঁশ বলেন, তার চান্দা প্রত্যেক দিন সন্ধ্যার সময় দিয়াই আনতে হইত। কোন দিনের চান্দাই বাকি থাকত না।

প্রঃ ব্যবসায়ীদের কথা বলছি-
উঃ ব্যবসায়ীরা তাদের মাল (কাঠ, বাঁশ) নেওনের সময় রাস্তায় রাস্তায় চান্দা দেয়। চান্দা ছাড়া ১ ফুট গাছ নেওনের ক্ষেমতাও ব্যবসায়ীদে নাই। চান্দা বাকী রাইখ্যা শান্তিবাহিনী গাছ নিতে দিছে এই কথা জীবনেও শুনি নাই। ব্যবসা করতে চাইলে তাদেরকে চান্দা দেওনই লাগবো। আর হেগোর লাইগ্যা আমাদের মতন গরীব মানুষেরে মারব ক্যান্?

প্রঃ এতগুলো মানুষকে নির্মমভাবে মেরে ফেলার পিছনে কি কারণ আছে বলে আপনার মনে হয়?
উঃ জানি না ভাই। কি জন্য যে মারল, হেইডাই তো কইতে পারি না। ওরা ভাই বিশ্বাসঘাতক, মীরজাফর, তক্তা নজরুলরে পর্যন্ত মাইরা ফালাইল। যে নিজে না খাইয়াও হেগোরে খাওয়াইছে, কত বিপদ থাইক্যা উদ্ধার করছে।

প্রঃ ঘটনার দিন পাহাড়ে গিয়ে সন্দেহজনক কিছু দেখেছিলেন?
উঃ ঐদিন আমার পোলাগো মোসলমানির (খৎনা করার) কথা আছিল। তাছাড়া শরীরটাও বেশি বালা আছিলনা। কিন্তু আলাল ভাই (স্ত্রীর বড় ভাই) কইল, পাহাড়ে যাওনের লাগি। একরকম জোরের মধ্যেই আমি আলাল ভাইয়ের লগে রওনা হইলাম। অফিস ছড়া দিয়া পাহাড়ে ঢুকলাম। কেচিং (একটা জায়গার নাম) থাইক্যা সামান্য উপরে একটা দোকান। দোকানে দেখলাম তিনজন শান্তিবাহিনী অস্ত্র নিয়া বইসা আছে। এইডাতে অবশ্য সন্দেহ করি নাই। এই রকমতো মাঝে মধ্যেই দেখতাম। আলাল ভাইয়ের সাথে গ্যানো চাকমার ছোটখাট ব্যবসা আছিল। আলাল ভাই তার জন্য কিছু টাকা নিয়া গেছিল। টাকা দেওনের লাগি আলাল ভাই যখন গ্যানো চাকমার সাথে কথা কইতেছিল তখন কালু চাকমা এবং তার সাথের কয়েকজন আইসা কইল, মিটিং আছে, ভিতরে যাইতে অইব। তখন আলাল ভাই কইল, গ্যানো বদ্দা, তোমার টাকা মিটিং থাইক্যা আসার সময় দিব। কিন্তু গ্যানো চাকমা, টাকাটা তখনই লইতে চাইছিল। কালু চাকমা আলাল ভাইরে কইল, যাওনের সময় দিয়া যাওনের লাইগ্যা।

প্রঃ প্রথম কখন বুঝতে পারলেন যে, কোন দুর্ঘটনার সম্ভাবনা আছে?
উঃ কালু চাকমার সাথে কিছুদূর যাইতেই দেখি রাস্তার দুই পাশে চার জন করে মোট আট জন এসএম জি নিয়া বইসা আছে। আমরা কাছে যাওন মাত্রই আমাদেরকে ঘিরে ফালাইল। এই অবস্থা দেইখ্যাই আমার প্রথম মনে অইল যে, আজকে আমাদেরকে মাইরা ফালাইব। পকেট থাইক্যা টাকা পয়সা সব রাইখ্যা কালু চাকমা আর তার লগের একজন আমাদের হাত পিছ-মোড়া কইরা গাছের লতা দিয়া বানল। বান্ধার সময় কইল মিটিংয়ের জায়গা নিয়া বান ছাইড়া দিব। তখন আমি কইলাম ছাইড়াই যখন দিবা, তখন অত শক্ত কইরা বান্ধনের দরকার কী, আমরাতো পালাইতেছি না। আমিও হাত এমন ভাবে রাখলাম যাতে বান বেশি শক্ত না হয়।

প্রঃ আপনাদের বেঁধে যেখানে নিয়ে গেল সেখানে গিয়ে কি দেখলেন?
উঃ ১৫/২০ মিনিট হাইট্টা ভিতরে যাওনের পর দেখলাম একাটা মেড়া গাছের লগে তক্তা নজরুলসহ ৪ জন বান্ধা। সামনেই অন্যান্য গাছের লগে আরো মানুষ বান্ধা। গুনে দেখলাম আমিসহ ২৯ জন। এলএমজি ও এসএমজি হাতে পাহাড়া দিতেছে ১৯ জন শান্তিবাহিনী। আর লাঠি, দা, কুইচ্যা মারা শিক হাতে আরো ১২ জন চাকমা আছে, এদের মধ্যে কয়েকজনরে আমি চিনি। তারা হল- লাম্পায়া চাকমা, ছিক্কা কারবারী, বলি চাকমা, শান্তিময় চাকমা, বাবুল চাকমা, গুলুক্যা চাকমা, তরুন চাকমা(কালেক্টর), কবির চাকমা, বাশি চাকমা, বিমল চাকমা এবং সমিতি রঞ্জন চাকমা। এক সময় শান্তিবাহিনীর একজন একটা খাতা ও কলম নিয়া আমাদের সবার নাম লিখল এবং কার কাছ থাইক্যা রাস্তায় কত টাকা এবং কি কি জিনিস পত্র রাখা হইছে তা লিখল।

প্রঃ বাঁধা অবস্থা থেকে আপনি পালালেন কিভাবে?
উঃ কিছুক্ষণ পর কালাপাকুইজ্যার ৫ জনরে গাছের থাইক্যা দড়ি খুইল্লা আরো সামনের দিকে লইয়া গেল। তাদের সাথে গেল ২ জন অস্ত্রধারী আর ৩ জন গেল দা, লাঠি, কুইচ্যা মারার শিক নিয়া। ১০/১২ মিনিট পর নজরুল ভাইসহ আরো ৫ জনরে নিয়া গেল। কিছুদূর যাওয়ার পর দেখলাম নজরুল ভাই আর যাইতে চাইতেছে না। তখন একজন তারে ঘাড়ে ধাক্কা দিয়া নিয়া গেল। তখনই বুঝলাম যে, লোকজনেরে সামনে নিয়া মাইরা ফালাইতেছে। কারণ নজরুল ভাইরে ঘাড়ে ধরা দূরের কথা. তার লগে গরম অইয়াও চাকমাদেরকে কথা কইতে কোন দিন দেহি নাই। তখন আমি একজনরে কইলাম, দাদা আমি একটু পেশাব করব। উনি এবং আরেক জন আমাকে একটু দূরে নিয়া গেল। পেশাবের ছল কইরা কিছুক্ষণ বইসা থাইক্যা মনে মনে ঠিক করছিলাম খাড়াইয়াই দৌড় দিমু। কিন্তু যখন খাড়াইলাম, তখন ঠাস কইরা বাঁকা একটা বাঁশের লগে মাথাটা বাড়ি লাগল। তখন আমার সাথের শান্তিবাহিনী দুইজন সর্তক হইয়া গেল। আমি মাথা হাতাইতে হাতাইতে আবার আগের জায়গায় আইলাম। আমারে আবার অন্যদের লগে বানল। তখন খুব লুকাইয়া লুকাইয়া আমি আমার হাতের বান খুইলা ফালাইলাম এবং কেউ যাতে বুঝতে না পারে সেই জন্য হাতের নিচে চাইপ্যা রাখলাম। তারপর আল্লাহর নাম লইয়া দিলাম এক দৌড়।

কিন্তু সামনেই দেখি এলএমজি নিয়া একজন খাড়াইয়া রইছে। আমারে কইল, দৌড় দিবিনা, ব্রাশ কইরা দিমু, তখন আমি ডান পাশের ছড়ার দিকে লাফ দিলাম। লাফ দেয়ার সাথে সাথে ব্রাশ ফায়ারের শব্দ শুনলাম, আর শব্দ শুনতে শুনতেই গড়ায়ে পড়লাম নিচের দিকে। কিছুদূর যাওয়ার পর একটা গাছের গুড়ির দিকে গর্তমতো জাগা পাইলাম। সেইখানে বইসা মাথার উপরে জঙ্গল টাইন্যা ধইরা রাখলাম। ভয়ে তখন আমার বুকের মধ্যে এমন জোরে আওয়াজ অইতেছিল যে, মনে হইছিল এই শব্দ না জানি শান্তিবাহিনী শুইনা ফালায়। রাত হওয়ার পর ছড়া দিয়াই বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। ছড়ার মধ্যে কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও গলা পানি, আবার কোথাও সাঁতার। ঘন জঙ্গলে ভরা ছড়া দিয়ে চলবার মত কোন পথ নাই। তার উপর আবার নিশি অন্ধকার। ছড়ার মধ্যে ঠান্ডা পানি, বেতের কাঁটা, বিষাক্ত সাপ, হিংস্র প্রাণীর ভয়ও ছিল। কিন্তু তখন এক শান্তিবাহিনী ছাড়া আর কিছুকেই ভয় হচ্ছিল না। সারা রাত হেঁটে হেঁটে অবশেষে ভোরের দিকে পাহাড় থেকে বের হই।

প্রঃ ১১ তারিখ সেনাবাহিনীর লাশ উদ্ধারের কথা কিছু বলুন।
উঃ বাড়িতে আসার পর আর্মিরা যহন জানল যে আমাকেও শান্তিবাহিনী ধরে নিয়া গেছিল। তহন তারা আমাকে সাথে নিয়া গেল পথ দেখানোর জন্য। আমি তাদের পাহাড়ে নিয়া গেলাম। তক্তা নজরুলরে যেইখানে ঘাড়ে ধাক্কা দিছিল, সেইখান থাইকা আরেকটু সামনে গিয়া দেখলাম, বাম দিকে প্রায় এক-দেড়’শ গজ পাহাড়ের নিচে একটা বেড়া। নিচে নাইমা সেই বেড়া পার হইলাম। কিন্তু তারপর আর রাস্তার কোন চিহ্ন নাই। একটু দূরে দেখলাম, একটা কাঁচা বাঁশের কঞ্চি আধা ভাঙ্গা অবস্থায় ঝুইলা রইছে। কঞ্চিটা সরানোর পর একটা ছোট পথ পাইলাম। এই পথ দিয়া সামনে গিয়া দেখি সরাফদ্দি ভাইয়ের টুপিটা একটা কঞ্চির লগে বাইজ্যা রইছে। এরপর সেন্ডেল, মদের টেংকি, বেশ কয়ডা লাঠিও দেখলাম। তারপর দেখলাম আলাল ভাইয়ের লাশ। আরেকটু সামনে গিয়া দেখি বিশাল জায়গা জুইড়া লাশ আর লাশ। কেউরে চিনা যায় না। বন্দুকের সামনে যে চাকুটা (বেয়নেট) থাকে এইডা দিয়া খোঁচাইয়া খোঁচাইয়া মারছে। লাঠি দিয়া পিটাইয়া, দা দিয়া কুবাইয়া, কুইচ্যা মারার শিক দিয়া পারাইয়া, চোখ তুইলা, আরো কতভাবে যে কষ্ট দিয়া মারছে তা কইয়া শেষ করুন যাইব না। ঐকথা মনে অইলে আইজো শরীরের পশম খাড়াইয়া যায়। ঐখানে লাশ পাওয়া যায় ২৮ জনের।

Pakuakhali-4

Pakuakhali-2

Pakuakhali-

pakuakhali-00

ছবি: পাকুয়াখালিতে নিহত কয়েকজন কাঠুরিয়ার লাশ

প্রঃ মানুষ মারা গিয়েছিল ৩৫ জন,  আপনি বলছেন লাশ পাওয়া যায় ২৮ জনের। বাকিদের সম্পর্কে আপনার ধারণা কি?
উঃ ঘটনার দিন আমি যাদেরকে বান্ধা অবস্থায় দেখছিলাম তাদের মধ্যে আমার পরিচিত আলী, দুলু দুই ভাইসহ ৪ জনের লাশ ঐখানে ছিল না। আর এমন তিনজনের লাশ পাইছি যারা ঐ দিন ঐখানে বান্ধা ছিল না। আমার মনে হয়, আমি পালানোর পরে আরো সাত জনরে শান্তিবাহিনীরা ধইরা নিয়া গেছিল। সাত জনরে মনে হয় অন্য কোন খানে নিয়া মারছে, আমরা তাদের লাশ খুইজ্জা বাইর করতে পারি নাই। আর বালা কইরা খুজবার মতো পরিস্থিতি তখন ছিল না।

প্রঃ শান্তিবাহিনী এতগুলো মানুষকে একসাথে হত্যা করল, অথচ তাদের কোন বিচার হল না। আপনারা কি সরকারের কাছে এর বিচার চান নাই?
উঃ আমরাতো বিচারের দাবী করছিই, আমি নিজে বাদী অইয়া মামলাও করছিলাম। তখন সরকারের মন্ত্রীরাও কইছিল বিচার করব। তদন্তও করছিল। হুনছি তদন্তের রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা দিছে। কিন্তু সেই রিপোর্ট সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। দেখতে দেখতে আজ ১৪ বছর পার অইয়া গেল। কই, কিছুই তো অইল না। শুধু এইডাই না, শান্তিবাহিনী তো আরো অনেক বাঙালিরে মারছে। কোনডারই তো বিচা অয় নাই। চাকমারা মানুষ মারলে তো এই দেশে বিচার অয় না। বিচার অয় চাকমাদেরকে কেউ গালি দিলে, তার। আর অহন তো চুক্তি কইরা শান্তিবাহিনীরাই সরকার (সাবেক শান্তিবাহিনীর প্রধান সন্তু লারমা চুক্তির পর থেকে পার্বত্যচট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন) অইছে। তাইলে আর বিচার করব কেডা?

তারপরেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার দাবী, আপনার বাবাকেও মাইরা ফালাইছিল। বাবা হারানোর ব্যথা আপনি বুঝেন। আর আপনি সেই হত্যাকারীদের বিচার করেছেন। এই জন্য আপনাকেই বলি- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পাকুয়াখালীতে যেসব সন্তান তাদের বাবাকে হারিয়েছে তারাও তাদের বাবা হত্যার বিচার চায়, যারা সেখানে ভাই হারিয়েছে তারা তাদের ভাই হত্যার বিচার চায়, যেসব মা-বাবা তাদের সন্তান হারিয়েছে তারা সন্তান হত্যাকারীর বিচার চায়, যেসব মহিলা স্বামী হারিয়েছে তারা স্বামী হত্যার বিচার চায়। কিন্তু তারা তো আর প্রধানমন্ত্রী হইয়া আত্বীয়-স্বজনদের হত্যাকারীর বিচার করতে পারব না। তাই এই হত্যাকান্ডের বিচার আপনাকেই করতে হইব।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশে আদিবাসী বিষয়ে আরো পড়ুন:

পার্বত্য চট্টগ্রাম জাতীয় দৃষ্টির মধ্যে রাখতে হবে

একটি স্থায়ী পার্বত্যনীতি সময়ের দাবী

বাংলাদেশে আদিবাসী বিতর্ক

আদিবাসী বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনের ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রয়োগ

পার্বত্য চট্টগ্রাম কি বাংলাদেশ নয়, বাঙালীরা কি মানুষ নন- ১

পার্বত্য চট্টগ্রাম কি বাংলাদেশ নয়, বাঙালীরা কি মানুষ নন- ২

পার্বত্য চট্টগ্রাম কি বাংলাদেশ নয়, বাঙালীরা কি মানুষ নন- ৩

চাকমা রাজপরিবারের গোপন ইতিহাস

পার্বত্য চট্টগ্রাম, খ্রিস্টান মিশনারি ও বৌদ্ধ ধর্মের ভবিষ্যৎ-৩

বাংলাদেশে তথাকথিত ‘আদিবাসী’ প্রচারণা রাষ্ট্রীয় স্বার্থ প্রশ্নসাপেক্ষ

পেকুয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

pic nihota delowar member pekua 03-02-2016 (2) (1)

পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় সাবেক এক ইউপি সদস্যেকে দাওয়াত দিয়ে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন (৭০) রাজাখালী ৮ নং ওয়ার্ড়ের সাবেক ইউপি সদস্য ও একই ইউনিয়নের নতুন ঘোনা গ্রামের মৃত আশকর আলীর পুত্র। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মগনামা ইউনিয়নের শরৎঘোনা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। বুধবার সকাল ৮টার দিকে পেকুয়া সরকারি হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নিহত ইউপি সদস্যের স্ত্রী হাসপাতালে অঝোর নয়নে কাঁদছেন। তার কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। এ সময় নিহত ইউপি সদস্যের মাথার সামনে গুলির আঘাত ও পিঠে ৭টি ধারালো কুপের চিহ্ন দেখা গেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছেন, গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মগনামা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড়ের ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা মো. জাকের হোছাইন কিছু লোক পাঠিয়ে রাজাখালী ইউনিয়নের নতুন ঘোনা গ্রামের বাড়ী থেকে সাবেক ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে দাওয়াতের কথা বলে শরৎঘোনায় ডেকে নিয়ে যায়। এরপর শরৎ ঘোনা দুবাই প্রবাসী আবদুল খালেকের বাড়ীর পার্শ্বের লবণ মাঠে নিয়ে দেলোয়ার হোসেনকে প্রথমে মাথায় গুলি ও পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ী কুপিয়ে হত্যা করে।

নিহতের পরিবার আরো অভিযোগ করেছেন, মগনামা শরৎঘোনা গ্রামের ইউপি সদস্য জাকের হোসেনের প্রত্যক্ষ ইন্দন ও সহায়তায় তার সহযোগী একই গ্রামের মনছুর, গিয়াস উদ্দিন মনিয়া, আবুল কালাম, নবী হোসেন, সিরাজুল ইসলামসহ একদল অস্ত্রধারী লোক দেলোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে শরৎ ঘোনা এলাকার ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা জাকের হোছাইন মেম্বার ও মনছুর আত্মগোপনে রযেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ঘটনার ব্যাপারে জানার ওই ইউপি সদস্যের মোবাইলে বুধবার বেশ কয়েকবার ফোন করা হলে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তার নির্বাচনী এলাকার মগনামা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের স্থানীয় লোকজন দাবি করেছেন, ইউপি সদস্য জাকের হোছাইন ও তার লোকজন দেলোয়ারকে হত্যা করেনি।

এদিকে গত কয়েক মাস ধরে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন রাজাখালীর একটি চোর সিন্ডিকেট মগনামার বিভিন্ন এলাকায় লবণ চাষীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছে। এদের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন নিহত দেলায়ার বলে অভিয়োগ করেছেন স্থানীয়রা। গতকয়েক মাস আগে ভাই ভাই বঙ্গবন্ধু সংগঠন নামের একটি সংগঠন অবির্ভাব হয়। ওই সংগঠনের নাম ভাংগিয়ে কমন্ডার মোহাম্মদ তুফান মোবাইলে বিকাশ নাম্বরের টাকা পাটানোর জন্য একটি কার্ড লবণ চাষীদের বরাবরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। চাঁদা না দিলে প্রতিরাতে লবণ মাঠের পলিথিন লুট করে নিয়ে যায় ওই চোর সিন্ডিকেট। রাজাখালী ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হোছাইন শহিদ সাইফুল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদকে জানান, তুফান নামে ব্যাক্তি পরিচালনায় কোন ধরনের ভাই ভাই বঙ্গবন্ধু সংগঠন রাজাখালীতে নেই।

নিহতের ছেলে ও বান্দরবান ফায়ার ষ্টেশনের কর্মচারী কবির হোসেন অভিযোগ করেছেন, তার নিরীহ পিতাকে শরৎঘোনা এলাকায় পিকনিকে দাওয়াত খাওয়ার নামে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারসহ বিচার দাবি করেছেন। এদিকে খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মাসুদ আলম সকাল ১১টা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

পেকুয়া থানার ওসি জিয়া মো. মোস্তাফিজ ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো নিহতের পরিবার থেকে থানায় এজাহার দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অভিযান চালিয়ে ৮জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার ক্লু উদ্ঘাটনের জন্য প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রকৃত দোষীদের আইনের কাঠগড়ায় আনা হবে।

কক্সবাজারে যুবককে হত্যা আটক- ৩

হত্যা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নে মোহাম্মদ ফারুক (৩৫) নামে এক রিক্সা চালকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার গভীর রাতে পোকখালী হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকায় রিক্সা ছিনতাই কালে এই ঘটনা ঘটে। নিহত রিক্সা চালক পশ্চিম পোকখালী এলাকার মৃত ওবাইদুল হকের পুত্র।

ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মিনহাজ মাহমুদ জানান, রাত ১২ টার দিকে ৩ যুবক ইসলামাপুর এলাকায় একটি রিক্সা বিক্রি করতে গেলে স্থানীয়রা সন্দেহ করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ওই ৩ যুবক জানায়, পোকখালী হাইস্কুলের সামনে ফারুক নামের এক রিক্সা চালকের গতিরোধ ছুরিকাঘাত করে হত্যার পর রিক্সা ছিনিয়ে নেয়। পুলিশ তাদের দেয়া তথ্য মতে স্কুলের উত্তর পাশের একটি ডোবা থেকে ফারুকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের চাচাতো ভাই সাদ্দাম এসে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেন।

মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে আটক ৩ জনের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

মাটিরাঙ্গার আবদুর রহিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

12.01.2016_Matiranga Murderer Arrest NEWS Pic

সিনিয়র রিপোর্টার:

পার্বত্য খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার বেলছড়ির মোটরসাইকেল চালক মো. আবদুর রহিমের চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের ১৬ মাস পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি রিপন মিয়া প্রকাশ রিপনকে গ্রেফতার করেছে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ। গত রোববার রাত আড়াইটার দিকে নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তাকে আটক করা হয়। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অপর আসামি মো. সমির মিয়া পলাতক রয়েছে।

গ্রেফতারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে মো. রিপন মিয়া হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে। এ সময় তার দেয়া তথ্যমতে ফেনী মডেল থানাধীন রাণীর হাট এলাকা থেকে আবদুর রহিমকে হত্যার পরে নিয়ে যাওযা তার মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয়ের অপরাধে পশ্চিম পাঠানবাড়ি এলাকার আবুল কায়ের এর ছেলে মো. নুরুল করিমকে গ্রেফতার করে। মো. নুরুল করিম হত্যাকান্ডে জড়িতদের মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছেন বলেও তারা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় আবদুর রহিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মাটিরাঙ্গা থানার এসআই সুরেজিত বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাত আড়াইটার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল চালক আবদুর রহিম হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত প্রধান আসামি মো. রিপন মিয়া প্রকাশ রিপনকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন বেলছড়ি ইউনিয়নের হাজীপাড়া কবরস্থান এলাকার গভীর জঙ্গলে আবদুর রহিমকে হাত-পা বেঁধে, মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে এবং গলায় নাইলন রশি পেচিয়ে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করে তার মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন বেলা দশটার দিকে মো. আবদুর রহিমের লাশ উদ্ধার করেছে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ। এদিন নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মাটিরাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীঘিনালায় তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা

ধর্ষণ

দিঘীনালা প্রতিনিধি:

দীঘিনালায় এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। নিহত তরুণীর নাম ফেরদৌসী আক্তার। তার বয়স ২৬ বছর।

তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। তার বাড়ি উপজেলার সুধীর মেম্বার পাড়া গ্রামে। লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে উপজেলার লারমা স্কোয়ারে বাজারের পাশে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পরে সেখান থেকে পুলিশ বিবস্ত্র অবস্থায় নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের বাবা আবদুল কাদের জানান, গত রাতে মেয়েকে ঘরে না পেয়ে অনেক খোঁজাখুজি করি। পরে সকালে খবর পাই লারমা স্কোয়ারের পাশে বাজারে একটি লাশ পড়ে আছে। পরে মেয়েকে চিনতে পারি।

দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো.মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

ধর্ষণের অভিযোগে রোয়াংছড়িতে বাঙালীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা (ভিডিওসহ)

      বব            

স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান:

গত ৭ জুন রোয়াংছড়ি-বেঙছড়ি সড়কে মারমা এনজিওকর্মীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ মুসলেম মিয়া (৩৫) নামে এক কাঠুরিয়াকে তঞ্চগ্যা সম্প্রদায়ের ইন্ধনে মারমা সম্প্রদায়ের শতশত নারী-পুরুষ নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।

 

মুসলিম মিয়াকে হত্যার আগে ধর্ষক হিসেবে দেবাং প্রকাশ বিজয় তঞ্চঙ্গ্যা (৩২)কে পুলিশ আটক করে। দেবাং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে স্বীকার করে সে ধর্ষণের সাথে জড়িত ছিল। মুসলেম মিয়া হত্যার পর সে আবার কৌশলে পুলিশের কাছে অস্বীকার করে। দেবাং সু কৌশলে জনপ্রতিনিধিদের তথ্য দেয় তার সাথে আরো দু’জন রোহিঙ্গা কাঠুরিয়া ধর্ষনের কাজে জড়িত ছিল।

দেবাংকে থানায় আনার পরে আইন শৃংখলা অবনতি ঘটতে পারে তার জন্য সেনাবাহিনী থানার আশেপাশে অবস্থান নেয়। কিন্তু স্থানীয় মারমা ও তঞ্চগ্যা সম্প্রদায়ের লোকজন একজন কাঠুরিয়াকে বেঙছড়ি এলাকা থেকে দীর্ঘ ৬ কিলোমিটার পথ ধরে পিটিয়ে পিটিয়ে রোয়াংছড়িতে আনে। রোয়াংছড়ি খালে পৌঁছলে পুলিশ প্রশাসনের টনক নড়ে। তখন থানার ওসি আবদুস সাত্তার কয়েকজন পুলিশ নিয়ে কাঠুরিয়াকে উদ্ধারের আইওয়াশ চেষ্টা চালায়। পুলিশের দাবী, শতশত নারী-পুরুষের বাঁধার মুখে নাকি পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে পারেনি।

এ ব্যাপরে ওসি আবদুস সাত্তার জানান, ঘটনা শোনার পর পর তাকে উদ্ধারে রোয়াংছড়ি নদীর পাড়ে যাই। অনেক চেষ্টা করে মুসলিম উদ্দিনকে মুমর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করি। তাকে উদ্দার করতে গিয়ে ক্ষুদ্ধ নারী-পুরুষের হামলায় কয়েকজন পুলিশ আহত হয়। সেনাবাহিনীর ভুমিকা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সেনাবাহিনী নদীর পাড়ে সিড়ির কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। তারা আমাদের কোন সহায়তা করেনি।

মুসলেম মিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করার একটি ভিডিও গত রবিবার সকালে পার্বত্যনিউজের হাতে আসে। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর সোমবার পার্বত্যনিউজে ভিডিওটি প্রকাশিত হলে সামাজিক গণমাধ্যমে আলোচনা সমালোচনার ঝড় ওঠে। তিন পার্বত্য জেলার বাঙালীরা এই ভিডিও দেখে পুলিশের দূর্বল ভূমিকার সমালোচনা করতে থাকে। কারণ ভিডিওটিতে দেখা গেছে, পুলিশ মুসলেম মিয়াকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে গেলে পাহাড়ীরা তাদের গলাধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। এবং পুলিশও সরে আসে। একটি জীবন বাঁচাতে এসময় লাঠিচার্জ কিম্বা ফাঁকা গুলিবর্ষণের সাহায্য নিলে মুসলেম মিয়াকে বাঁচানো যেত। 

এদিকে ভিডিওটিতে যে নির্মমভাবে মুসলেম মিয়াকে পিটিয়ে হত্যা করতে দেখা গেছে তা দেখে মানুষ শিউরে উঠছে। হত্যার আগে তাকে নগ্ন করে তার দুই হাত বেঁধে ফেলা হয়। তারপর তাড়িয়ে তাড়িয়ে দীর্ঘপথে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এ সময় উপজাতি মহিলাদের সবচেয়ে বেশী আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা গেছে। সাধারণত মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর বৌদ্ধদের হামলার যে চিত্র এতদিন ইউটিউবে দেখা গেছে এই ভিডিটিও তার অনুরূপ নৃসংশ বলে সামাজিক গণমাধ্যমে মন্তব্য করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, দেবাং আগে থেকেই ধর্ষণ, ডাকাতির মত ঘটনার ঘটিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা না থাকায় তাকে আটক করা হয়নি। তিনি জানান, রোয়াংছড়ি থানায় এব্যাপরে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে মুসলেম মিয়াকে হত্যার ঘটনায় ফুঁসে উঠছে জেলার বাঙালী জনসাধারণ। তারা ইতোমধ্যেই এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল সমাবেশ করেছে।

উল্লেখ্য, বান্দরবান শহরের সবচেয়ে কাছের উপজেলা রোয়াংছড়ি। সড়ক পথে মাত্র ২০ কিলোমিটার দুরে রোয়াংছড়ি উপজেলা। শন্তুু লারমা বাহিনী (শান্তি বাহিনী) থাকা সময়ে বান্দরবান জেলাকে নিয়ন্ত্রন করত রোয়াংছড়ি থেকে। এলাকা ছিল সন্ত্রাসীদের অভারণ্য। যার কারণে রোয়াংছড়িতে বাঙালীদের বসবাস গড়ে উঠেনি। রোয়াংছড়িতে কিছু ভাসমান ব্যবসায়ী আর দিন মজুররা অস্থায়ী ভাবে বসবাস করে। ফলে এমন একটা উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে কোনো বাঙালীর পক্ষে উপজাতি মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যার অভিযোগ মানতে রাজি নয় বাঙালী সম্প্রদায়।

খাগড়াছড়িতে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

25-300x260

জেলা প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি:
খাগড়াছড়ি জেলা শহরের শহীদ কাদের সড়কস্থ য়ংড় বৌদ্ধ বিহার সম্মুখে অবস্থিত খোকন দত্তের (খোকন ড্রাইভার) মালিকানাধীন তিনতলা ভবনের কক্ষ থেকে আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে খাগড়াছড়ি সদর থানা পুলিশ। রুমের ভেতর থেকে পঁচা দূর্গন্ধ পেয়ে আজ শুক্রবার বিকেলে পার্শ্ববর্তী রুমের সদস্যরা বিষয়টি বাড়ির মালিক পক্ষকে জানালে মালিক পক্ষ সদর থানা পুলিশকে খবর দেয় । খবর পেয়ে সন্ধ্যায় পুলিশ এসে তালা ভেঙ্গে রুম থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ লাশটি উদ্ধারের পর সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।  এদিকে ভবনের মালিক পক্ষের কেউই নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে না পারলেও স্থানীয়দের ধারণা নিহত যুবকের নাম মো: আরিফুল ইসলাম সাগর, তিনি কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা। বাড়ীর মালিক পক্ষীয় সূত্রে জানা যায়, তিনতলা ভবনের উপরের তলায় কর্ণারের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিল নিহত যুবক ও তার অপর এক রুমমেট মো. তাহের।

জানা যায়, নিহত যুবক জেলা শহরের নারিকেল বাগানস্থ একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কর্মরত ছিল এবং তার রুমমেট তাহের ওয়ার্কশপের মালামাল সাপ্লাইয়ের ব্যবসায় জড়িত ছিল। গত ৮/১০ দিন থেকে তারা রুমে আসছেনা এবং কক্ষের বাইরে তালা ঝুঁলানো ছিল বলে জানায় পার্শ্ববর্তীরা।

সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়,  নিহতের মাথার বাম পার্শ্বে সিমেন্টের রোলার দ্বারা আঘাতের দাগ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে খুনী/খুনীরা মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাকে বালিশ চাপায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বাইরে তালা ঝুঁলিয়ে হত্যাকারী পালিয়ে গেছে।

খবর পেয়ে খাগড়াছড়ির সহকারী পুলিশ সুপার জয়নুল আবেদীন, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমসহ জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসংখ্য কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

সীমান্তে বিএসএফ’র হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা দায়ের

icc

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক পরিচালিত ধারাবাহিক গণহত্যার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা করেছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত এক বিট্রিশ আইনজীবী। মুফাস্সিল ইসলাম নামের এই ব্রিটিশ মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী আন্তর্জাতিক অনলাইন ব্লগার’স নেটওয়ার্ক পিপলস ভয়েজ ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের চেয়ারম্যান। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশের নিরীহ নাগরিকদের উপর পরিচালিত হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে দাযের করা এ মামলায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও ভারতের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়াও সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ পরিচালিত গণহত্যা পরিকল্পনায় সহযোগিতা ও অনুমোদন দেয়ায় বাংলাদেশ বাংলাদেশ সরকারকেও এ মামলায় প্রতিপক্ষ করা হয়েছে বলে পার্বত্যনিউজকে জানিয়েছেন প্রবাসী মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী ও এ মামলায় মুফাস্সিল ইসলামের সহযোগী আইনজীবী উম্মে হাবিবা। বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা ও ব্রিটেনে বসবাসকারী উম্মে হাবিবা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফ পরিচালিত হত্যাকাণ্ড বন্ধে বিদেশে জনমত গঠনের কাজ করে আসছেন। 

উম্মে হাবিবা জানিয়েছেন, ২১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তারা এই মামলা দায়ের করেছেন এবং একই দিনে উক্ত আদালতের প্রসিকিউটর অফিসের ইনফরমেশন এন্ড এভিডেন্স ইউনিটের প্রধান এম. পি. ডিলন একপত্রে তাদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে মর্মে অবহিত করেছেন, যার আইসিসি রেফারেন্স নম্বর- OPT-CP- 320/13. 

এদিকে সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে আইনজীবী মুফাস্সিল ইসলামের দায়ের করা এ মামলা প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। মুফাস্সিল ইসলাম ডাবলিন ইউনির্ভাসিটিতে আইন বিষয়ে ডক্টরেট করছেন।