পাহাড় ধসে রাঙামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রামে নিহত ৮৬ : সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যহত

স্টাফ রিপোর্টার: 

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে ৮৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাঙামাটিতে ২ সেনা কর্মকর্তাসহ ৫৪ জন, বান্দরবানে ৯ জন এবং চট্টগ্রামে ২৩ জন মারা গেছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ এখনও মাটির নিচে অনেকে চাপা পড়ে আছেন। সোমবার মধ্য রাতে থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট:

রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে মৃত ৪৫

রাঙামাটি শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় প্রবল বর্ষণের ফলে পাহাড় ধসে কমপক্ষে ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাঙামাটি সদরে দুই সেনা কর্মকর্তা ও দুই সেনা সদস্যসহ ২০ জন, কাপ্তাইয়ে ১১ জন ও কাউখালীতে ২১ জন, বিলাইছড়িতে ২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাঙামাটি সদর হাসপাতালে আহত ৫৬ জন ভর্তি রয়েছেন।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. শহীদ তালুকদার জানান, চার সেনা সদস্যসহ সদর হাসপাতালে ২০টি মৃতদেহ আছে। এই সংখ্যা বাড়তে পারে।

সকালে শহরের যুব উন্নয়ন, ভেদভেদী, শিমুলতলি, রাঙাপানিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাহাড় ধসের খবর আসতে থাকে। দুপুর ১টা পর্যন্ত রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে ১১ জনের মৃতদেহ এসেছে। এরা সবাই বিভিন্নস্থানে বাড়ীর উপর পাহাড়ধসের ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

নিহতরা হলেন- রুমা আক্তার,নুরিয়া আক্তার,হাজেরা বেগম,সোনালি চাকমা,অমিত চাকমা, আইয়ুশ মল্লিক,লিটন মল্লিক, চুমকি দাশ এবং আরো তিনজনের নাম তাৎক্ষনিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে কাপ্তাই উপজেলায় ১১ জন, কাউখালী উপজেলায় ২১ জন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত কারো নাম জানা যায়নি ।

সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি শহর থেকে ২ কি. মি দুরে শহরের প্রবেশমুখে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের পাহাড় ধ্বসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে আছে এমন খবরের ভিত্তিতে রাঙামাটি সদর জোনের সেনাবাহিনীর ১৬ সদস্যের একটি দল উদ্ধার কাজ চালাতে যায়। দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। এসময় অকষ্মাৎ নতুন করে পাহাড় ধস শুরু হলে সেনা সদস্যরা ৩০ ফুট নিচে পড়ে মাটি চাপা পড়ে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

 রাঙামাটি সেনাবাহিনীর আঞ্চলিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সকালে রাঙামাটি মানিকছড়ি সেনা ক্যাম্পের সামনে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়ক যান চলাচল স্বাভাবিক করতে গিয়ে ক্যাম্পের পাহাড় ধসে চার সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম জানিয়েছেন, রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের ঘটনায় কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এখনও তাদের উদ্ধার কাজ চলছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

নিহত সেনা কর্মকর্তাগণ হলেন, মেজর মাহফুজ (৪৪ লং কোর্স), ক্যাপ্টেন তানভির (৬৪ লং কোর্স)। এবং আহত অপর দুই সেনা সদস্য হলেন কর্পোরাল আজিজ ও সৈনিক শাহীন। মেজর মাহফুজের ৫ বছরের একটি সন্তান রয়েছে এবং ক্যাপ্টেন তানভির সালমান নববিবাহিত।

এ ঘটনায় আরো ১০-১২ জন সেনা সদস্য আহত ও ১ জন নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ সৈনিকের নাম আজিজ। আশঙ্কাজনক পাঁচ সেনা সদস্য হচ্ছেন সৈনিক আজমল, মামুন, ফিরোজ, মোজাম্মেল ও সেলিম। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার সিএমএইচে নেয়া হয়েছে। বাকিরা মানিকছড়ি রিজিয়ন সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালি ইউনিয়নের কারিগরপাড়া এলাকায় মাটিচাপা পড়ে উনু চিং মারমা এবং নিকি মারমা মারমা নামের দুইজন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন রাইখালি ইউপি চেয়ারম্যান ছায়ামং মারমা।

কাপ্তাই উপজেলার নতুন বাজার এলাকায় গাছ চাপা পড়ে আবুল হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন এবং ইকবাল নামের এক ব্যক্তি কর্ণফুলি নদীতে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন।

এদিকে প্রবল বর্ষণে রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন স্থানে মাটিচাপা পড়েছে অসংখ্য মানুষ। ফায়ার সার্ভিসের রাঙামাটি টিমকে সহযোগিতা করতে চট্টগ্রামের হাটহাজারি থেকেও বাড়তি ইউনিট আসছে বলে জানিয়েছেন ফায়ারসার্ভিস কর্মকর্তারা। রাঙামাটি শহরে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

রাঙামাটির কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মুহম্মদ রশীদ জানিয়েছেন, এটা একটা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। মৃতের সংখ্যা আরো অনেক বাড়বে। অনেক স্থানেই এখনো মানুষ মাটি চাপা পড়ে আছে।

বান্দরবানে পাহাড় ধ্বসে শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু

আমাদের বান্দরবান প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় মোরা’র ক্ষত শুকাতে না শুকাতে নিম্নচাপে টানা তিন দিনের বর্ষণে ও পাহাড়ী ঢলে বান্দরবানে পাহাড় ধ্বসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের তিন শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়েছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বান্দরবানের সাথে সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

দমকল বাহিনী ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাতে প্রবল বর্ষণে ৩টার দিকে কালাঘাটার কবরস্থানের পাশে, জেলেপাড়া ও লেমুঝিরি আগাপাড়া পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে। এসময় ঘুমন্ত অবস্থায় তিন শিশুসহ ৬জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ৪জন। আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কালাঘাটার কবরস্থানের পাশে পাহাড় ধ্বসে রেবা ত্রিপুরা (১৮) নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী মাটি চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। জেলে পাড়ায় মা-মেয়ে কামুরন নাহার ও সুফিয়া বেগম মাটি চাপায় নিখোঁজ রয়েছেন এবং লেমুঝিরি আগাপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের তিন শিশু শুভ বড়ুয়া (৮), মিঠু বড়ুয়া (৬), লতা বড়ুয়া (৫) নিহত হয়েছেন। আহতরা হলেন পসান ত্রিপুরা (২২), বীর বাহাদুর ত্রিপুরা (১৬) ও দুজাকিন ত্রিপুরাসহ (২৬) আরও দু’জন।

এছাড়া মঙ্গলবার সকালে কুহালং ইউনিয়নের পূর্ব ধোপাছড়ি এলাকার সম্বুনিয়া পাড়ায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের ঘুমন্ত অবস্থায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, মংকাউ খেয়াং (৫৫) মেম্রউ খেয়াং (১৩) ও ক্যসা খিয়াং (৭) বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এসময় চাইহ্লাউ (৩৫) ও সানু খেয়াং (১৮) নামে দু’জন আহত হয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. তারেক জানান, পাহাড় ধ্বসে এ পর্যন্ত ৪জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গভীর মাটির নিচে মা ও মেয়ের লাশ পড়ে থাকায় এবং প্রবল বর্ষণের কারণে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এ দু’জনের লাশ উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কুহালং ইউনিয়নের পূর্ব ধোপাছড়ি এলাকার সম্বুনিয়া পাড়ায় পাহাড় ধ্বসে ঘটনা তার জানা নেই।

জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। এছাড়া জেলা সদর ও ছয় উপজেলায় পাহাড় ধ্বসে প্রায় একশ’র উপরে পাহাড় ধ্বসে ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পাহাড় ধসে একটি শিশুসহ ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন একজন।

টানা বর্ষণে বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

রাঙামাটিতে সোমবার থেকে শুরু হওয়া বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ে। ধসে পড়া মাটির নিচে এখনও অনেকে চাপা পড়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে বৃষ্টি কারণে উদ্ধার কাজ চালাতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়ক যান চলাচল স্বাভাবিক করতে গিয়ে ক্যাম্পের পাহাড় ধসে চার সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। তারা হলেন, মেজর মাহফুজ, ক্যাপ্টেন তানভীর, করপোরাল আজিজ, সৈনিক শাহীন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি সেনাবাহিনীর আঞ্চলিক মুখপাত্র। এছাড়া আহত ৫ সেনা সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। তারা হচ্ছেন, এরা হচ্ছেন, সৈনিক আজমল, মামুন, ফিরোজ, মোজাম্মেল ও সেলিম।

এদিকে, টানা বর্ষণে বান্দরবানের কালাঘাটা এলাকায় তিনটি স্থানে পাহাড় ধসে পড়েছে। এতে তিন শিশুসহ ৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২ জন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। সোমবার রাত ৩টার দিকে প্রবল বর্ষণের সময় কালাঘাটা এলাকার কবরস্থানের পাশে, জেলেপাড়া ও লেমুঝিরি আগাপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

পাহাড় ধসের কারণে বিভিন্ন স্থানে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যহত

টানা বর্ষণ ও ভয়াবহ পাহাড় ধসে তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যহত হয়েছে।নানান স্থানে নতুন করে পাহাড় ধসের ও সড়ক বন্ধের সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় বেসামরিক ব্যক্তিবর্গকে যথাসাধ্য সাহায্য করছে। অতিবৃষ্টিপাত উদ্ধার কার্যক্রম ব্যহত করছে। বিশেষ করে খারাপ মোবাইল নেটওয়ার্কের কারণে সর্বত্র যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে পাহাড় ধসের কারণে নানান স্থানে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়ক ভূমিধ্বসে বন্ধ রয়েছে। বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ সড়ক চালুর চেষ্টা করছে, কিন্তু বৃষ্টির কারণে ব্যহত হচ্ছে।

খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসের ঘটনা বা হতাহতের কোনো খবর না পাওয়া গেলেও তবে গুইমারাতে রাস্তা বন্ধের কারণে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম-গুইমারা সড়ক গাড়িটানা পয়েন্টে (মানিকছড়ি ক্যাম্প থেকে ৭ কিমি দূরে) বন্ধ রয়েছে। ৩টি গাছ হাই-টেনশন তার আছড়ে পড়ে রাস্তার উপরে পড়ে রয়েছে। পিডিবি ও স্থানীয় প্রশাসন কার্যক্রম শুরু করেছে।

বান্দরবানে বান্দরবান-রুমা সড়ক পাহাড় ধসে কাটা পাহাড় এলাকায় (Y-জংশনের কাছে) বন্ধ রয়েছে।বান্দরবান-রুয়াংছড়ি সড়কে রামজাদি মন্দিরের কাছে ব্রিজ ডুবে যাওয়ায় চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে তিন পার্বত্য জেলার বেশির ভাগ স্থানে গত ৪৮-৭২ ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অনেকাংশে অচল হয়ে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পেতে ও উদ্ধার তৎপরতা চালাতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সাংবাদিকরা খবর পাঠাতেও নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে অব্যহত পাহাড় ধসে মৃতের ঘটনায় শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

 

চালক-পথচারী ও যাত্রী সচেতনতায় হ্রাস পাবে সড়ক দূর্ঘটনা

সড়ক দুর্ঘটনা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

কক্সবাজারসহ সারা দেশের রাস্তাগুলোতে প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা। এ যেন নিত্য-নৈমত্তিক ব্যাপার। এই অব্যাহত সড়ক দূর্ঘটনার ফলে বহু মূল্যবান জীবনহানী হচ্ছে। বহুলোক পঙ্গু হয়ে যাচ্ছেন সারা জীবনের জন্য। এছাড়া মারাত্মকভাবে ক্ষতি হচ্ছে দেশের অর্থনীতির।

এই সমস্যা যেন কোন ভাবেই সমাধান হওয়ার নয়। সড়ক দূর্ঘটনার ফরে বেরিয়ে আসে কারো না কারো ভুলের কারনেই অঘটন ঘটেছে। হয় চালকের অবহেলা নয়ত পথচারীর ভুল অথবা যাত্রীর অজ্ঞতাই এই দূর্ঘটনার কারন। এসব ছাড়াও নানা অব্যবস্থাপনার কারনে ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা। এ অব্যাহত সড়ক দূর্ঘটনা হ্রাস পাবে চালক, পথচারী ও যাত্রীদের সচেতনতায়। এমনটাই বলছেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষসহ (বিআরটিএ) সংশ্লিষ্ট মহল।

তাদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, চালকের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো ও ওভারটেকিং’ই হচ্ছে সড়ক দূর্ঘটনার প্রধান কারন। পাশাপাশি পথচারীদের অসচেতনতা ও যাত্রীদের অজ্ঞতার ফলেও ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা।

সড়ক দূর্ঘটনা হ্রাসে চালকদের সচেতনতার ব্যপারে তাদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, জীবন ও সম্পদ বাঁচিয়ে সাবধানে গাড়ী চালাতে ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকায়, রাস্তার বাঁকে, সরু ব্রীজে ওভারটেকিং করা যাবে না। গাড়ি চালনাকালে এয়ার ফোন ও মোবাইল ফোনে কথা বলা যাবে না। গতিসীমা লংঘন করে অতিক্রম করে গাড়ি চালানো যাবে না। যান্ত্রিক ক্রটিযুক্ত ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামানো যাবেনা। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ীর বৈধ কাগজপত্র ছাড়া গাড়ী রাস্তায় নামানো যাবে না। যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং করা যাবে না। ট্রাফিক আইন, রোড সাইন ও ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশ মেনে চলতে হবে।

যাত্রীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া তথ্যে জানা যায়, কোন যাত্রী চলন্ত গাড়ীতে চালক হেডফোন বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে তাকে বাধা দেওয়া উচিত। সড়ক দূর্ঘটনায় ঘটার সাথে সাথে স্থানীয় পুলিশকে সংবাদ দিতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। সময় বাাঁচাতে গিয়ে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে গাড়িতে উঠানো যাবেনা। চলন্ত গাড়িতে উঠানামা করা যাবেনা। চালকের মনযোগ বিঘœ ঘটে এমন কিছু করা উচিত নয়। মালবাহী মোটরযানে যাত্রী হয়ে উঠা যাবেনা। ইজিবাইক, নছিমন, করিমন, ভটভটিতে যাত্রী হয়ে উঠা যাবেনা।

পথচারীদের প্রতি আহবান করেন, দৌড়ে রাস্তা পার হওয়া যাবে না। রাস্তা পারাপারের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যেখানে ফুটপাত নেই, সেখানে রাস্তার ডানপাশ দিয়ে সাবধানে চলাচল করতে হবে। যানজট নিরসনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। জেব্রা ক্রসিং, ওভারব্রীজ ও আন্ডারপাস দিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হবে। ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে হবে। রক্ষিত-অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় ডানে-বামে দেখে রাস্তা পারাপার হতে হবে।

কক্সবাজার (বিআরটি) এর সহকারী পরিচালক পারকন চৌধুরী জানান, সড়ক দূর্ঘটনার অন্যতম কারনের মধ্যে রয়েছে চালকের অদক্ষতা ও অজ্ঞতা। তাই পরিক্ষার মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে চালকদের। লাইসেন্স বিহীন চালকরা রাস্তায় গাড়ি চালানো অবৈধ। এছাড়া সড়ক দূর্ঘটনা প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করতে নানা ধরনের সেমিনারসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

লামায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত- ১

সড়ক দুর্ঘটনা

লামা প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১ যাত্রী নিহত ও ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় চকরিয়া-লামা সড়কের লাইনঝিরি কওমী মাদ্রাসা পয়েন্টে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, চকরিয়া থেকে যাত্রীবাহী জীপ নং- রংপুর-ট-৬৯১৬ গাড়িটি লামা আসার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পাশে উল্টে যায়। এ সময় গাড়িতে থাকা যাত্রী, চকরিয়ার হারবাং এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমানের ছেলে মো. সরোয়ার (১৮) ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান। এছাড়া গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে আরো ৬ যাত্রী আহত হন।

আহতদের মধ্যে লামা পৌরসভার চম্পাতলী গ্রামের মৃত ছিদ্দিক আহামদের স্ত্রী আঙ্গুরা বেগমকে (৪৫) উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বাকি ৫ জনের নাম ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাদের উদ্ধার করে চকরিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাগেছে। দুর্ঘটনার সাথে সাথে চালক ও সহকারী পালিয়ে যায়।

এ ব্যপারে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল হোসেন জানান, বেপরোয়া গতিতে চালানোর ফলে গাড়িটি উল্টে যায়।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদ মাহমুদ জানান, গাড়ির চালকরা যাত্রী পরিবহনে সচেতন নয়, এবং যাত্রীর সাথে অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই ও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না গাড়ীর ছাদে-পিঠে যাত্রী পরিবহনের কারনে মূলত দুর্ঘটনায় পতিত হন সাধারণ মানুষ।

ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন না হওয়ায় এ সড়কে প্রাণহানির ঘটনা নৈমিত্তিক রুপ নিয়েছে বলে ভুক্তভোগি যাত্রী সাধারণ অভিযোগ করেছেন।

খাগড়াছড়ির জালিয়াপাড়া-মহালছড়ি সড়ক : সংস্কারের অভাবে ৮ বছরেও চালু হয়নি

23.10.2013_Jaliapara-Mahalchari ROAD News Pic-02

স্টাফ রিপোর্টার :

দীর্ঘদিনেও প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি ও রামগড় উপজেলার জালিয়াপাড়া আন্ত: সড়কে আট বছর ধরে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে ৩৩ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দেওয়ার কারনে পণ্য পরিবহন ও যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া আর নষ্ট হচ্ছে মুল্যবান সময়ও।

একসময় এ সড়ক দিয়ে ফেনী-ঢাকা ও চট্রগ্রাম সড়কে যাত্রীবাহী বাস যাতায়াত করলেও রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর যাবত সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। অবহেলিত এ সড়কটি মেরামতের অভাবে ২২ কিলোমিটার সড়কের প্রায় পুরোটাতেই খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ স্থানে কার্পেটিং ও ইট উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে পুকুরসম গর্তের। দিনের পর দিন এভাবে গর্তের সৃষ্টি হয়ে সড়কটির এখন নিজের অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। তাছাড়া সড়কের বেইলি ব্রীজগুলোর অবস্থা আরো নাজুক। এছাড়াও সড়কের পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের গায়ের বনজঙ্গল সড়কে নেমে দিন দিন সড়কটি প্রায় ঢেকে যাচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় মহালছড়ি উপজেলার প্রায় ৮০হাজার মানুষসহ ব্যবসায়ীরা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বঞ্চিত হচ্ছে সবধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে। যাত্রী ছাড়াও ব্যবসায়ীদেরকে অতিরিক্ত দীর্ঘ ৩৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মালামাল আনা-নেওয়া করতে হচ্ছে। এতে করে দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে তাদের। এছাড়াও উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও বৃহত্তর কাপ্তাই লেকের মাছ দেশের বিভিন্ন জেলাগুলোতে সরবরাহ করতে দ্বিগুণ টাকা খরচ হচ্ছে। রাস্তার দুরত্বের কারণে কৃষিপণ্য ও মাছের মতো দ্রুত পচনশীল পণ্য সরবরাহে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। তাই ভূক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষ সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সিন্দুকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুইনুপ্রু চৌধুরী জানান, এ সড়কের অভিভাবক কে এটা এখন প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে সকলের কাছে। সড়কটি সংস্কার করে সচল করার জন্য বারবার বিভিন্ন মহলে ধর্না দিয়েও কোন কাজে আসেনি। যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় প্রায় ৮০ হাজার মানুষ তাদের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও দাবী করেন তিনি।

খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ইসমাইল হোসেন জানান, এই সড়কের দায়-দায়িত্ব সেনাবাহিনীর ১৯ ইসিবির। ১৯ ইসিবি ব্যাটালিয়ানটি দীঘিনালার দুর্গম এলাকায় হওয়ায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে সিন্দুকছড়ি জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো: নাজিম খাঁন জানান, ইতিপূর্বে আমরা নিজস্ব অর্থয়ানে জালিয়াপাড়া থেকে সিন্দুকছড়ি পর্যন্ত সড়কটি কয়েকবার মেরামত করেছি। আমার জানামতে সড়কটির উন্নয়নের জন্য ১৯ ইসিবি সড়ক ও জনপথ বিভাগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পত্র পাঠিয়েছে। আশা করছি শীঘ্রই সড়কটির মেরামতের কাজ শুরু হবে।

টেকনাফে টমটম উল্টে আহত-৭

মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, টেকনাফ:
টেকনাফে টমটম ও রিক্সার সংষর্ষে ৭ জন আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ২২ অক্টোবর বিকালে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদারবিল এলাকায়। সূত্রে জানা যায়- কচুবনিয়া থেকে টেকনাফ মূখী একটি টমটম যাওয়ার পথে অপরদিকে একটি রিক্সার সাথে সংঘর্ষের হয়। এসময় টমটমটি উল্টে গিয়ে মহিলাও শিশুসহ ৭ জনের শরীরে বিভিন্ন অংশে আঘাত পায়। আহতদের মধ্যে ২জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

আহতরা হচ্ছে- ডেইল পাড়া এলাকার ছেনুয়ারা বেগম (৩০), মোঃ ইউনুছ (৩৮), পারভীন আক্তার (২৮), মুন্নী(৩০)। আহতরা বর্তমানে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন রয়েছে।