পৃথক তিপ্রাল্যান্ডের সমর্থনে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:(আপডেইট)

ভারতের ত্রিপুরায় পৃথক তিপ্রাল্যান্ড নামে রাজ্য প্রতিষ্ঠার লক্ষে চলমান আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন করা হয়েছে। ’বাংলাদেশ ত্রিপুরার্স’-এর  ব্যানারে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সামনে বেলা ১১টার দিকে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

 

মানববন্ধনে খাগড়াছড়িতে বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণি পেশার ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর শতাধিক লোক অংশগ্রহণ করে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট শুভ্রদেব ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের ছাত্র নয়ন ত্রিপুরা, পানছড়ি প্রতিনিধি মনিন্দ্রলাল ত্রিপুরা ও রনবিকাশ ত্রিপুরা।

এসময় বক্তারা বলেন, বিশ্বে জাতিসত্ত্বার ইতিহাসে ত্রিপুরা জাতির রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য ছিলো ত্রিপুরাদের নিজস্ব রাষ্ট্র এবং তা শাসন করেছে সাড়ে তিন হাজার বছর। ত্রিপুরাদের রয়েছে স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা ও সমৃদ্ধশালী ইতিহাস ।

ভারতের ত্রিপুরায় চলমান ত্রিপুরার এডিসি এলাকাকে নিয়ে স্বাধীন তিপ্রাল্যান্ড রাজ্য গঠনের দাবীকে ন্যায় সঙ্গত উল্লেখ করে বক্তারা আরো বলেন, ত্রিপুরার রাজনৈতিক দল আইপিএফটি’র এনসি দেববর্মা গোষ্ঠী তিপ্রাল্যান্ড করার যে আন্দোলন করছে তা গণতান্ত্রিক আন্দোলন। তাই বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত ত্রিপুরাদের সাথে বাংলাদেশে বসবাসকারী ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীরাও এ আন্দোলনকে সমর্থন জানান।

স্বতন্ত্র স্বাধীন তিপ্রাল্যান্ড গঠন বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য জানতে পার্বত্যনিউজ প্রতিনিধি আয়োজকদের সাথে আলাদা কথা বলতে চাইলে তারা আলাদা কোনো কথা বলতে রাজি হয় নি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত খাগড়াছড়ির এডেভোকেট শুভ্রদেব ত্রিপুরা বলেন, মূল ত্রিপুরা ল্যাণ্ডের আয়তন ১০৪৯২ বর্গ কি.মি.। এর মধ্যে জেনারেল ল্যান্ড ৩৩৬৯.৩৫ বর্গ কি.মি.। এখানে বাঙালীসহ সবাই বাস করে। বাকি ৭১৩২.৬৫ বর্গ কি.মি. এলাকা ত্রিপুরা ট্রাইবাল অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের(টিটিএডিসি) মাধ্যমে শাসিত হয়।

এটি একটি স্বশাসিত এলাকা। এখানে ট্রাইবাল ছাড়া অন্য কেউ বসবাস করতে পারবে না এমন সংরক্ষণ আইন রয়েছে। এই এলাকা অনুন্নত হওয়ায় ভারতের সংবিধান অনুযায়ী তিপ্রাল্যান্ড নামে পৃথক একটি রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য এসি দেববর্মার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন আন্দোলন চলে আসছে। বাংলাদেশের ত্রিপুরারা সেই আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছে মাত্র।

ত্রিপুরাদের কোন সংগঠন এই সংহতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি সাধারণ ত্রিপুরারা করেছে। কোনো সংগঠনের ব্যানারে নয়।

মানববন্ধনের বক্তৃতায় ও ফেস্টুনে স্বাধীন তিপ্রাল্যান্ডের কথা কেন বলা হয়েছে সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টা সঠিক বলতে পারবো না। আয়োজকরা আমাকে সংহতি জানাতে বলায় আমি সংহতি প্রকাশ করেছি। ব্যানার, ফেস্টুনে কি লেখা ছিল তা দেখিনি।

তিনি আরো বলেন, সম্ভবত ‘পৃথক’ বোঝাতে ভুল করে ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ শব্দ ব্যবহার করে থাকতে পারে। এরপরও বিস্তারিত জানতে চাইলে অনুষ্ঠানের আয়োজকদের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন।

মানববন্ধনের সঞ্চালক তন্ময় ত্রিপুরার মোবাইলে যোগাযোগ করলে সংযোগ পাওয়া যায়নি। তকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খাগড়াছড়ির একটি আঞ্চলিক সংগঠন গোপনে এই মানববন্ধন আয়োজনে মদত দিয়েছে।

বিজয় দিবস উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছে পানছড়ি

15P

উপজেলা প্রতিনিধি,পানছড়ি, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলায় বিজয় দিবস উদযাপনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যেগে উপজেলা পরিষদ মাঠ ও প্রধান ফটককে বিভিন্ন রঙ-বেরঙের ফেষ্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। উপজেলা পরিষদের প্রবেশ মুখে বিশালাকার গেইট দিয়ে প্রবেশ করা মাত্রই বিভিন্ন রঙের ছোট ছোট পতাকায় বেষ্ঠিত সাজানো মাঠ দেখতে যেন এক নয়নাভিরাম দৃশ্য।

এই প্রথমবারের মত পানছড়িতে বর্ণিল সাজে উদযাপিত হতে যাচ্ছে মহান বিজয় দিবস। তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেগম আফসানা বিলকিছ, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: বাবুল হোসেন, উপজেলা রিসোর্স অফিসার মো: খলিলুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা উষা মগ প্রমুখ।

জানা যায়, বিজয় দিবসের বিভিন্ন প্রতিযোগীতার মধ্যে চিত্রাংকন, কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতা রবিবার সকাল এগারটা থেকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পানছড়ি বাজার মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিপুল সংখ্যক প্রতিযোগীদের এসব প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফসানা বিলকিস উপস্থিত থেকে চিত্রাংকন, কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। ১৬ ডিসেম্বর সোমবার সকাল থেকেই শুরু হবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি।