পাহাড়ে শিক্ষার আলো ছড়াতে কাজ করছে সেনাবাহিনী- ব্রি. জে. মো. কামরুজ্জামান

11.02.2016_GokulPara ARMy NEWS Pic (1)

সিনিয়র রিপোর্টার:

গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুজ্জামান এনডিসি, পিএসসি-জি বলেছেন, শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন এ মূলমন্ত্রের ভিত্তিতে অপারেশন উত্তোরণের আওতায় পাহাড়ে শিক্ষার আলো ছড়াতে কাজ করছে সেনাবাহিনী। পাহাড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ী জনপদে স্কুল বিহীন গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠাসহ শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রেখে চলেছে সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে মাটিরাঙ্গার দুর্গম পাহাড়ী জনপদ গকুলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ের শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণ কাজ পরিদর্শন ও অনুদান বিতরণকালে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. জিল্লুর রহমান পিএসসি-জি, মেজর মোহাম্মদ সাফায়েত মাহমুদ, মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান ও মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

সেনাবাহিনী পাহাড়ের মানুষের কল্যাণ্যে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে ব্রিগ্রে. জেনারেল মো. কামরুজ্জামান এনডিসি, পিএসসি-জি বলেন, দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে সেনাবাহিনী মানুষের পাশে আগেও ছিল আগামী দিনেও থাকবে। আপনারা যে কোন প্রয়োজনে হাত বাড়ালেই আমি আমার হাত প্রসারিত করবো। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈরী পরিবেশ থেকে উত্তোরণ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে শিক্ষার্থীদের স্বশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলেই এখানে আর জাতিগত বিভেদ-বৈষম্য থাকবেনা।

এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গকুলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বীরলাল ত্রিপুরা ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিবেন্দ্র ত্রিপুরার হাতে ১০ বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ ৩০ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করেন।

এর আগে তিনি বিদ্যালয়ে পৌছলে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উত্তরীয় পড়িয়ে স্বাগত জানানো হয়। এর পর স্থানীয়দের পরিবেশনায় সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন অতিথিবৃন্দ।

এরপর তিনি সিসকবাড়ী সেনা ক্যাম্পে দিনব্যাপী ওয়ান স্টপ সার্ভিস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ওয়ান স্টপ সাভিস কার্যক্রমের আওতায় সেখানে হত-দরিদ্র মানুষের মাঝে চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান, গবাদি-পশুর চিকিৎসা ও কৃষি ও মৎস্য চাষ বিষয়ক সেবা প্রদান করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সিসকবাড়ী ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ সাফায়েত মাহমুদ।

এ সময় মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. জিল্লুর রহমান পিএসসি-জি, মেজর মোহাম্মদ সাফায়েত মাহমুদ, মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান ও মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম: শান্তি ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে

সাখাওয়াত হোসেন

এম সাখাওয়াত হোসেন

প্রায় সাত বছর পর পার্বত্য চট্টগ্রামে গিয়েছিলাম কয়েকটা দিন কাটাতে। গিয়েছি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে। খাগড়াছড়ি, কাপ্তাই, রাঙামাটি, বাঙ্গাল হালিয়া-বান্দরবান পাহাড়ি রাস্তা ধরে পৌঁছেছিলাম খাগড়াছড়ি থেকে বান্দরবান।

প্রায় এক যুগ আগে রাঙামাটি থেকে বান্দরবান যেতে হলে চট্টগ্রাম ঘুরে যেতে হতো। কাপ্তাই যেতে হলেও একইভাবে অথবা রাঙামাটি থেকে জলযানে কাপ্তাই পৌঁছাতে হতো। সময়ও লাগত অনেক। এই রাস্তাটি এখন তিনটি জেলাকেই সংযুক্ত করেছে। রাস্তাটির নির্মাণকাজ নব্বইয়ের দশকে শেষ হয়েছিল, কিন্তু তখন পার্বত্য চট্টগ্রামের অশান্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সেটা খুব ব্যবহার করা হতো না। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির পর পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি অনেকটা পাল্টে যায়। ফলে এখন এ রাস্তা কার্যকর বলে বিবেচিত। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার সর্বসাধারণের এখন চট্টগ্রাম ঘুরে নয়, সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে।

১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির পর ২০০৮ এবং ২০০৯–এ নির্বাচন কমিশনের কাজে গিয়েছিলাম এই তিন জেলা সদরে। তারপর আর যাওয়া হয়নি। ১৯৯০-৯২-এ কর্তব্যরত ছিলাম বান্দরবান সেনা রিজিয়নে, কমান্ডার হিসেবে। ওই সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান চলছিল। পার্বত্য চুক্তি অন্তত সে পরিস্থিতির ইতি টেনেছে।

১৯৯৭ সালে যে পার্বত্য চুক্তি বাংলাদেশের সরকার এবং পার্বত্য জনসংহতি সমিতির সঙ্গে সম্পাদিত হয়েছিল, তার প্রচেষ্টা চলেছিল আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে। তবে সে প্রচেষ্টা তেমন ফলপ্রসূ না হলেও চুক্তির ক্ষেত্র তৈরি করেছিল। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ওই সময়ের সরকার এই চুক্তি সম্পাদন করে। অবশ্যই চুক্তি সম্পাদনের কৃতিত্বের দাবিদার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার। ওই সময়ে ওই চুক্তির বিরোধিতা করলেও পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টায় ছিল।

পার্বত্য চুক্তির পর যোগাযোগব্যবস্থার যে উন্নতি হয়েছে, তার সুফল পেতে শুরু করেছে এলাকার ১১টি ছোট-বড় নৃগোষ্ঠী। বর্তমানে প্রতিটি জেলা সদরের সঙ্গে সব উপজেলার সড়ক ও নৌপথে যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে, যা এক দশক আগেও সম্ভব ছিল না।

হালে বান্দরবান জেলা সদরের সঙ্গে সবচেয়ে দুর্গম উপজেলা থানচির সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। থানচি থেকে আলীকদম, লামা উপজেলাও এখন অভ্যন্তরীণ সড়ক দিয়ে যুক্ত হয়েছে। বছর দুই আগেও এই দুই উপজেলা প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিল। বান্দরবান সদর থেকে কক্সবাজার সড়ক হয়ে যেতে হতো এই দুই উপজেলায়। সংক্ষেপে বলতে হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের অভ্যন্তরে যেসব জায়গায় হেলিকপ্টার ছাড়া হাঁটাপথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দিনের পর দিন লেগে যেত, সেসব জায়গায় বর্তমানে কয়েক ঘণ্টায় পৌঁছাতে পেরেছি।

যোগাযোগ অবকাঠামোর সঙ্গে বাজারব্যবস্থার যেমন উন্নতি হয়েছে, তেমনি পার্বত্য চট্টগ্রাম, বিশেষ করে দক্ষিণের জেলা বান্দরবানে পর্যটনের যে দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে, তা অচিন্তনীয় ছিল। নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে যে কয়েকটি জায়গা পর্যটনের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল, আজ সেসব জায়গায় প্রতিদিন শত শত লোকের পদচারণ। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এদের সমাগম। পর্যটনকে কেন্দ্র করে আশপাশের উপজাতীয় গ্রামগুলোতে হস্তশিল্প গড়ে উঠেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনের প্রধান কেন্দ্র। এরই প্রেক্ষাপটে স্থানীয়ভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

একই সঙ্গে শিক্ষার আলো ছড়িয়েছে প্রতিটি জেলা-উপজেলায়। শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখরিত পার্বত্য চট্টগ্রামের রাস্তাঘাটগুলো। চাকমা অধ্যুষিত রাঙামাটি জেলা পুরোনো ও বৃহত্তর জেলা শহর। যোগাযোগের ব্যবস্থা অন্যান্য জায়গার তুলনায় ভালো থাকলেও একটি মাত্র কলেজ ছিল সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলে। তবে এ পর্যন্ত ওই জেলার ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৯৭৯ জন (২০১১) জনসংখ্যার জন্য রয়েছে ২৯১টি সরকারি এবং ১২০টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২২টি জুনিয়র স্কুল, ৬টি সরকারি ও ৪৫টি বেসরকারি উচ্চবিদ্যালয়, ২টি সরকারি ও ১৩টি বেসরকারি কলেজ, ৭টি কারিগরি স্কুল, ১টি মেডিকেল কলেজ এবং হালে প্রতিষ্ঠিত কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন নিয়ে জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফের বিরোধিতা ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। বান্দরবান জেলায় ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৩৩৫ জন (২০১১) জনসংখ্যার জন্য দুটি সরকারি ও দুটি বেসরকারি কলেজ এবং প্রায় হাজার খানেক প্রাথমিক স্কুলের মধ্যে একটি মুরং বা ম্রো আবাসিক হাইস্কুলও রয়েছে। অনুরূপভাবে খাগড়াছড়ি জেলার শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে।

একসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বলতে শুধু রাঙামাটি বা কাপ্তাইকে ধারণায় নেওয়া হতো, এখন তেমন নেই। খাগড়াছড়ি, মংসার্কেল, ত্রিপুরা নৃগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ, রাঙামাটি চাকমা সার্কেল এবং বান্দরবান মারমা সংখ্যাগরিষ্ঠ বোমাং সার্কেল আলাদা আলাদা সত্তায় গড়ে উঠেছে। তৈরি হয়েছে নতুন নতুন স্থানীয় নৃগোষ্ঠী নেতৃত্ব, যাদের বেশির ভাগ সহ-অবস্থানে উন্নয়নের পক্ষে।

এত সব উন্নয়নের ভিত পার্বত্য চুক্তি হলেও সম্ভব হয়েছে বিগত দিনগুলোতে শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীগুলোর প্রচেষ্টায়। অতীতে যেমন ছিল, বর্তমানে সমগ্র দেশের তুলনায় সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। তবে ইউপিডিএফ নামে যে গোষ্ঠীটি পার্বত্য চুক্তির বিরোধী, তাদের তৎপরতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বলপূর্বক চাঁদা তোলার ঘটনা ঘটছে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনজীবন অতিষ্ঠ।

এত উন্নয়নের পরও মনস্তাত্ত্বিকভাবে নৃ-গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে মনঃকষ্ট রয়ে গেছে। তার প্রধান কারণ ভূমি ব্যবস্থাপনা ও স্বত্বাধিকার নিয়ে। এখনো চলছে ভূমি জবরদখলের ঘটনা, যার সঙ্গে শুধু প্রভাবশালী বাংলা ভাষাভাষীরাই নয়, স্থানীয় প্রভাবশালী নৃগোষ্ঠীর নেতারাও রয়েছেন। পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের প্রধান সমস্যাও ভূমি–সংক্রান্ত, যা তিনটি আইনের, যার মধ্যে একটি স্থানীয় প্রচলিত প্রথাগত ডামাডোলে আরও জটিল হয়েছে। এ সংকট সহজে সমাধান হওয়ার নয়। যদিও চুক্তি মোতাবেক যেকোনো অধিগ্রহণের পূর্বানুমতি জেলা পরিষদের, তথাপি জেলা পরিষদ এ বিষয়ে অকার্যকর রয়েছে। সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি অন্তরায় নয়, অন্তরায় ভূমির বিষয়ে দ্বৈত বেসামরিক প্রশাসন। যেসব জায়গায় স্থানীয় জেলা প্রশাসনের কর্তৃত্ব থাকার কথা, সেগুলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বাধা হয়ে রয়েছে।

পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে প্রথম নির্বাচনের পর আর নির্বাচন হয়নি, যার কারণে প্রায় ২৪টি বিষয় হস্তান্তরিত হলেও পরিষদ কার্যকর করতে পারছে না। জেলা পরিষদগুলো নির্বাচিত ও কার্যকর হলে চুক্তি বাস্তবায়নে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। একইভাবে কাউন্সিলের নির্বাচনও এখন হয়নি নানা জটিলতার কারণে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা পরিষদগুলোকে ক্ষমতায়ন করলে অনেক ছোটখাটো সমস্যার সমাধান স্থানীয় পর্যায়েই সম্ভব। সে কারণেই অন্তত এসব পরিষদের নির্বাচনের অন্তরায়গুলো দূর করা আবশ্যক।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের তুলনায় যথেষ্ট স্থিতিশীল। তবে নতুন উপসর্গ ইউপিডিএফের নামে সংঘটিত সশস্ত্র তৎপরতাকে রাজনৈতিক ও স্থানীয়ভাবে মোকাবিলা করতে না পারলে পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পার্বত্য চুক্তির পক্ষগুলো এবং যারা পক্ষের বাইরে রয়েছে সেসব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি যা এখন দৃশ্যমান, সেটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সবার কর্তব্য। ওই অঞ্চলের কৃষ্টি, ঐতিহ্য আর মানুষগুলোর জীবনযাত্রা অক্ষুণ্ন রেখে উন্নয়ন প্রয়োজন। যেকোনো উন্নয়নে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর, বিশেষ করে নৃগোষ্ঠীর মানুষদের সম্পৃক্ততা কাম্য। উসকানিমূলক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড নয়, সম্প্রীতি আর সৌহার্দ্যের মাধ্যমে অনেক জটিল বিষয়ের সুরাহা সম্ভব। আমার চাকরিকাল ১৯৯০-৯২-এর এতগুলো বছর পরও সাধারণ নাগরিক হিসেবে বান্দরবানে সর্বসাধারণের কাছ থেকে যে অভূতপূর্ব উষ্ণতা পেয়েছি, তাতে আমি নিশ্চিত যে আন্তরিক হলে সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা যেমন করা যায়, তেমনি ছোট-বড় সমস্যার সমাধানও সম্ভব।

এম সাখাওয়াত হোসেন: অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও কলাম লেখক৷
hhintlbd@yahoo.com

♦ সূত্র: প্রথম আলো

পানছড়ির শীতার্ত ও শিক্ষার্থীদের পাশে সেনাবাহিনী

Book- Sheet PIC

স্টাফ রিপোর্টার:

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শীতার্ত ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে খাগড়াছড়িস্থ ১৪ই বেঙ্গলের অধিনস্থ পানছড়ি আর্মি সাব জোন। পানছড়ি সাব জোনের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার অহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে বিগত কয়েকদিনে শীতার্তদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে শীতবস্ত্র।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে কোমলমতি শিশুদের লেখাপড়ায় উৎসাহিত করার লক্ষে বিতরণ করছে শিক্ষা উপকরণ। এর মাঝে ছিল বাংলা, চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষা সংবলিত বর্ণমালা, মজার মজার ছড়া, নানান ফলমূল ও পশুপাখির ছবি নিয়ে বই, খাতা, কলম সাথে একটি বাহারী পেন্সিল বক্স। শিক্ষার এসব উপকরণ পেয়ে কোমলমতি শিশুরা খুশীতে হয়েছে আত্মহারা।

উপজেলার যৌথখামার মার্মা পাড়া এলাকার পাড়া কেন্দ্রের শিক্ষক লাম্রাচাং মারমা জানায়, সেনাবাহিনীর বিতরণকৃত শিক্ষা সামগ্রী পেয়ে শিশুরা খুবই খুশী। এ ধরনের উপকরণ পেয়ে শিশুরা লেখাপড়ায় দ্বিগুন উৎসাহিত হয়েছে বলেও তিনি জানালেন।

উল্লেখ্য পানছড়ির গরীব পরিবারের মেধাবী আনোয়ারকেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য বাংলাদেশ সেনাাবাহিনী ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিল।

পাহাড়ে সকল কষ্ট নিরসনে কাজ করছে সেনাবাহিনী- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুজ্জামান

20160127_102053

মানিকছড়ি প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাহাড়ের জনগনের সকল কষ্ট নিরসনে নিরলশভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও করবে বলে মন্তব্য করেছেন, গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুজ্জামান, এনডিসি, পিএসসি-জি

বুধবার সকাল ১০টায় মানিকছড়ি রানী নীহা দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সিন্দুকছড়ি জোনের আয়োজনে অসহায় দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ কালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিতরণ অনুষ্ঠানে ব্যাপক আয়োজনের মধ্যদিয়ে সকাল থেকে জোনের আওতাধীন গুইমারা, রামগড় ও মানিকছড়ির প্রতিটি গ্রাম থেকে সহস্রাধিক অসহায় দুস্থদের বাছাই করে সেনাবাহিনীর নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে নিয়ে আসা হয় মানিকছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে।

কম্বল বিতরণ পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুজ্জামান, এনডিসি, পিএসসি-জি আরো বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। শীতে কষ্ট পাওয়া দরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ সেবামূলক কাজের একটি অংশ। কম্বল বিতরণকালে তিনি সকলের সুস্থতা কামনা করেন ও নিজের জন্য দোয়া চান।

এরপর অত্যন্ত সৃশৃংখলভাবে অপেক্ষমান সহস্রাধিক অসহায় দুস্থদের মাঝে একটি কম্বল ও একটি শীতের টুপি বিতরণ করেন।

এ সময় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, সিন্দুকছড়ি জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল গোলাম ফজরে রাব্বি, মানিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ম্রাগ্য মারমা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার যুথিকা সরকার, মানিকছড়ি থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম, মানিকছড়ি সাব জোন কমান্ডার মেজর ইশতিয়াক, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীসহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ।

দূর্গম সাজেক ভ্যালিতে ‘রুম্ময়’ ও থ্রি স্টার হোটেল হাতছানি দিয়ে ডাকছে রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকদের

সাজেক রিসোর্টে

মো: সানাউল্যাহ , সাজেক থেকে ফিরে:

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালির খাড়া পাহাড়ি রাস্তা ধরে উঠতে উঠতে হঠাৎই ঢালের শুরু। জিপ কিংবা মোটরবাইকে চড়ে সাজেকে পৌঁছাতে পথে পড়বে বুকে হিম ধরানো উঁচু-নিচু সড়ক। ক্ষণে ক্ষণে মনে হতেই পারে রোলার কোস্টারে চড়ছেন। তবু চার পাশের সবুজ পাহাড় ডিঙিয়ে রুইলুই উপত্যকায় (ভ্যালি) পৌঁছে মনে হবে স্বর্গে আসার জন্য এটুকু ঝক্কিতো পোহানো যেতেই পারে।

সাজেক ভ্যালিতে উঠেই আকাশপানে তাকালে মনে হয় কালো মেঘগুলোকে যেন সরিয়ে দিয়ে সাদা মেঘের আনা গোনা শুরু হয়। এমন সাদা মেঘ আকাশে এসে জমে, মনে হয় শিমুল তুলার খন্ড আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে। পায়ের নিচে মেঘের দল। মাথার উপরেও মেঘ। মেঘের এ দৃশ্য সবার মনকে উতাল উদাস করে তোলে, মনের গভীরে সুখময় আনন্দের কোমল পরশ ছুঁয়ে যায়। সমতল থেকে তিন হাজার ফুট ওপরে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের রুইলুই ভ্যালি।

এখানে দাঁড়ালে নিচে ভাসমান মেঘ দেখা যাবে। কখনো মেঘ এসে ভিজিয়ে দেবে শরীর। প্রাকৃতিক
সৌন্দর্যের টানে বহু পর্যটক এখন সাজেক আসছেন। প্রকৃতির সাথে মিতালি করতে এসে পর্যটকরা যাতে আরো স্বাচ্ছন্দ্যে কাটাতে পারে তার জন্য সেনাবাহিনী গত কয়েক বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে গত বছরের নভেম্বর মাসে সেনাবাহিনী পর্যটনের নানা অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু করে। সুদৃশ্য সড়ক, কটেজ, বিশ্রামাগার, সড়কবাতি, ক্লাবঘর, শিব মন্দির, পাবলিক টয়লেট, বিদেশি ঘরের স্টাইলে তৈরি রিসোর্ট “রুম্ময়”ও থ্রি স্টার মানের হোটেলও এ পাহাড়ে তৈরি করা হয়েছে।

আগে পর্যটকরা দিনে এসে রাতযাপনের ব্যবস্থা না থাকায় আবার দিনেই ফিরে যেতে হতো। এখন পরিবার নিয়েও রাতযাপন করা যাবে। নতুন বিবাহিত দম্পতিরা তাদের হানিমুনের জন্য পাহাড়ের ওপর এই স্থানটিও পছন্দ করতে পারেন। লুসাই ও পাংখোয়া উপজাতিদের বাস এখানে। রুইলুই এলাকার বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর পাল্টে গেছে রুইলুই ভ্যালির চেহারা।
এলাকাবাসীদের শিক্ষার উন্নয়নে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানির জন্য উন্নতমানের ট্যাংক তৈরি করা হয়েছে। ফুটপাথে টাইলস বিছানো হয়েছে। ফুটপাথে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে সড়ক বাতি নির্মাণ করা হয়েছে। এলাকার অধিবাসীরা তাদের ধর্মীয় চর্চা করার জন্য সেনাবাহিনী বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরি করে দিয়েছেন। সংস্কৃতি চর্চার জন্য ক্লাবঘরও তৈরি করা হয়েছে। প্রকৃতির সাথে মিল
রেখে এলাকাবাসীদের ঘর তৈরি করা হয়েছে। যারা আগে ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো। এখন তারা ঐ এলাকায় তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পাচ্ছে। এজন্য সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছেন।

খাগড়াছড়ি থেকে দিঘিনালা, কাচালং হয়ে সড়ক পথে তিন থেকে চার ঘন্টার মধ্যে পৌঁছানো যায় সাজেকের রুইলুই ভ্যালিতে। অপর দিকে রাঙামাটি থেকে প্রথমে নৌযানে কাপ্তাই হ্রদ পাড়ি দিয়ে ছয়-সাত ঘন্টায় বাঘাইছড়ি, সেখান থেকে দেড় থেকে দুই ঘন্টার মধ্যে পৌঁছানো যায় রুইলুইয়ে। উপত্যকার প্রথম পাড়া রুইলুইয়ে দিগন্ত বিস্তৃত পাহাড় সারি ও সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের মোহনীয় দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। পথে যেতে রিজার্ভ ফরেস্টের গভীর ঘনবন, সুউচ্চ পাহাড়ী বৃক্ষ আপনার মনে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেবে। এরপর লুসাই জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত কংলাকপাড়া পর্যন্ত যাওয়া যাবে। হেঁটে যেতে সময় লাগবে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘন্টা। পথে পড়বে বিজিবি ও সেনাবাহিনীর ক্যাম্প, হ্যালিপ্যাড, ঘন বনে আচ্ছাদিত নির্জন পাহাড়, কমলালেবু বাগান। উপত্যকা জুড়ে কংলাকের পর আরও বহু পাহাড়ি পাড়া পর্যন্ত হেঁটে যেতে সময় লাগবে দেড় থেকে দুইদিন। তবে দুর্গম হওয়ায় এখনো পর্যটকেরা সে পথে খুব একটা পা মাড়ান না। পাঙ্খো ও লুসাই উপজাতির প্রাকৃতিক জীবনপ্রণালী ও সৌন্দর্যবোধ, সংস্কৃতি মুহুর্তেই মুগ্ধ  করবে যেকোনো পর্যটককে।

সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রুইলুই ভ্যালিতে পর্যটকদের ভিড়। রুইলুই পাড়া থেকে কংলাক পাড়া পর্যন্ত দল বেঁধে ঘুরছিলেন অনেকে।

কথা হয় ঢাকা থেকে আসা মোঃ আমজাদের সাথে। তিনি বলেন, আমরা ৩০ বন্ধু মিলে সাজেকের উইন্ড মিলসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। এতো সুন্দর জায়গা বাংলাদেশের আর কোথাও দেখিনি। ভবিষ্যতে সময়-সুযোগ মিললেই আবার ছুটে আসব এখানে।

খাগড়াছড়ি সদর থেকে প্রতিদিন ছেড়ে যাওয়া শান্তি পরিবহনে সাজেকের মাচালং পর্যন্ত যাওয়া যাবে। সেখান থেকে জিপ, মোটর সাইকেল, সিএনজি ভাড়া করে সাজেক ভ্যালিতে যাওয়া যাবে। রুইলুই মৌজার হেডম্যান লাল থাঙ্গা লুসাই বলেন, সাজেকের সৌন্দর্যের টানে দেশের নানা স্থান থেকে প্রতিদিনই পর্যটকেরা আসছেন। রুইলুই ভ্যালিতে প্রতি দিন শত শত পর্যটক আসছেন। সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের পর আসার হার বাড়ছে।
তবে সকল অবকাঠামো নির্মাণ সমাপ্ত হলে পর্যটকদের পদচারণা আরও বাড়বে বলে তিনি জানান।

মারিশ্যা জোন কমান্ডার লে.কর্নেল মো: রবিউল ইসলাম বলেন, সাজেকের রুইলুই ভ্যালিতে এখন বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসা শুরু করেছেন। পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে এখানে ‘রুম্ময়’ নামে একটি মনোমুগ্ধকর রিসোর্ট ও থ্রি স্টার মানের একটি হোটেল নির্মাণ করা হয়েছে।

নির্মিত রিসোর্ট ও হোটেল দু’টি আগামী ৪ সেপ্টেম্বর সেনাপ্রধান সাজেক সফরকালে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। তবে তারিখটি এখন চুড়ান্ত হয়নি। সেই সাথে হোটেলের রুম ভাড়া, বুকিং সিস্টেম এখনো চুড়ান্ত করা হয়নি।

পাহাড়ে অপহরণ-মুক্তিপণ খেলা!

wadud bhuyan

ওয়াদুদ ভূইয়া

অবশেষে গতকাল ১৭ জুলাই ২০১৪ খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা থেকে অপহৃত চার শ্রমিক উদ্ধার। অপহরণের ১১ দিন পরে অপহরণকারীদের থেকে জেলার ব্যাঙমারা এলাকায় সেতু উন্নয়ন প্রকল্পের অপহৃত চার বাঙ্গালী শ্রমিককে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী।

সিন্ধুকছড়ি জোনের আওতাধীন কংসীমুড়া প্রাক্তন সেনা ক্যাম্প এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার রাত পৌন ৯টার দিকে তাদেরকে উদ্ধার করা হয় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। উদ্ধারকৃতরা হলেন- বুলডোজার চালক রাজু মিয়া, বুলডোজারের হেলপার হাসান মিয়া, মো. ফারুক মিয়া ও লিয়াকত আলী।

এখানে পার্বত্য অঞ্চলের একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসাবে সংশ্লিষ্ট ও দায়িত্বযুক্ত মহলের কাছে আমার বিনীত প্রশ্ন:

. পাহাড়ের এই গরিব মানুষগুলো অপহরণ করলো কারা, করে আসছে কারা? তাদের সাংগঠনিক বা সামাজিক পরিচয় কি বের করা হয়েছে? সরকার/প্রশাসন তা প্রকাশ করেছে? তাদের নামে কি কোন মামলা নেয়া হয়েছে? যদি এসব না করা হয়ে থাকে, তাহলে কেন করা হয়নি? ভাসুরর নাম নিতে বাধা কোথায়? নাকি ভাসুরপোকে মাঝে মাঝে নিজের পো মনে হয়? নাকি নিজের পো’র মত করে লালন পালন করা হয়?

আজ সময় এসেছে পার্বত্যবাসী তা জানতে চায় এবং পার্বত্যবাসী তা সন্দেহের দৃষ্টিপথে ভাবছে! যা বিগত ৪০ বছরও ভাবার বা অনুভবযোগ্য মনে করেনি! কিন্তু আজ কেন করবে তাও দায়িত্ববানদের বিবেচনায় নেয়া দরকার। কারণ সংবাদে বলা হয়েছে অপহৃতদের উদ্ধার করা হয়েছে ঘেরাও দিয়ে, আবার কেউ কেউ বলছে এদের উদ্ধারের পেছনে স্থানীয় সরকারী দলের লালিত এক মেয়রের মাধ্যমে অপহৃতদের প্রকল্প কোম্পানি থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অপহৃতদের মুক্তি দিয়েছে অপহরণকারীরা।

এখন প্রশ্ন হলো কোনটি সত্য? অন্যদিকে কেউ বলছে অপহরণকারীরা ইউপিডিএফ, আবার কেউ বলছে জেএসএস। আমি জানতে পেরেছি অপহরণকারীরা হচ্ছে ‘জেএসএস (সংস্কার)। পাহাড়ে আগে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, চাঁদা আদায়, হত্যাকারী ছিল শুধুমাত্র একটি আঞ্চলিক দল। আর এখন তা দাঁড়িয়েছে তিনগ্রুপে। এখন তিনগ্রুপই অপহরণ, চাঁদা আদায় ও সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে। এই সন্ত্রাসের শিকার পাহাড়ের নিরীহ, নিরস্ত্র পাহাড়ি – বাঙ্গালী সবাই। জেএসএস-এর এক সময়ের ছাত্র সংগঠনের নেতার হাত ধরে, বর্তমানে ইউপিডিএফ শক্ত অবস্থান নিয়েছে। জেএসএস-এর শীর্ষ নেতাদের একসময়কার সহকর্মীরা ওয়ান-ইলেভেনে জাতীয় রাজনৈতিকদলগুলোর সংস্কারপন্থী গ্রুপের অনুকরণে এবং পার্বত্য অঞ্চলের ওই সময়কালের ক্ষমতাসীনদের অনুগ্রহবর্ষণে বা নির্দেশনায় জেএসএস (সংস্কার) নামে পাহাড়ে তৃতীয় আঞ্চলিক শক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।

বর্তমানে এই তিনটি আঞ্চলিক অস্ত্রধারী দল পাহাড়ে, আবার দেশের বাহিরে নিজেদেরকে গ্রুপভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসাবে পরিচয় দিয়েও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘমেয়াদে। এই তিনগ্রুপের নির্যাতনের লক্ষ্যই হলো নিরস্ত্র বাঙ্গালী -পাহাড়ি বিশাল জনগোষ্ঠী। মনে হয় যেন, রাষ্ট্র এই জনগোষ্ঠীর সাথে নাই, বরং অনেকটা সহানুভূতিশীল অস্ত্রধারী ক্ষুদ্র গ্রুপগুলোর পক্ষে।

17.07.2014_Matiranga Labour Recover Pic-03

. অপহৃত চারজনকে উদ্ধার করা হলো, খুবই খুশির খবর। কিন্তু অপহরণকারীদের মধ্যে থেকে একজনও ধরা পড়লো না! অতীতে কি উল্লেখযোগ্য কোন অপহরকারী আটক হয়েছিল? হয়ে থাকলে তাদেরকে কি বিচারের আওতাভুক্ত রাখা হয়েছে? আমার জানামতে তেমন উল্লেখযোগ্য কেউ নেই। তাহলে কি কারনে অপরাধীদেরকে তাদের অপকর্ম সহজতর করে দেয়া হচ্ছে? এতে কি এই অপহরণ, গুম, হত্যা ইত্যাদি দীর্ঘপথে নিয়ে যেতে রাষ্ট্র সহায়ক ভূমিকা রাখছে না? কেউ কেউ মনে করে, রাখছে। নিকট আগামীতে রাষ্ট্রকেই এ আঘাতজনিত ব্যথাহত হতে হবে। এটা আমাদের সবাইকে ভেবে দেখা জরুরি।

. আমাদের জানতে ইচ্ছে করে প্রায় ৫-৬ মাস আগে খাগড়াছড়ি সদরের ভূয়াছড়ি থেকে অপহৃত শিশু শহিদুলকে কেন আজও উদ্ধার করা হলো না? বা উদ্ধারকাজ চলছে কিনা? কিন্তু ওই শিশু অপহরণের পর মহালছড়ি-রাংগামাটি সড়কে অপহৃত রাংগামাটির বিশিষ্ট শিল্পী ও দেশের বড় আমলার মেয়ের পাহাড়ি জামাই হওয়াতে তাকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হল। কিন্তু বাঙ্গালী শিশুটি কি গরিব ঘরের সন্তান বা সরকার দলের কোন মদদপুষ্ট মেয়রের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময় করতে পারেনি বলে শিশুটির ভাগ্যে কি ঘটেছে আজও তার মা-বাবা ও পার্বত্যবাসী জানতে পারছে না? তাহলে এখানে দায়িত্বশীলদের ভূমিকা কই? তাহলে কি শুধু অর্থ ও মুক্তিপনের বিনিময়েই আমাদের মুক্তি হবে,বছরের পর বছর?

. আজ পাহাড়ের সাধারণ নাগরিক তথা নিরস্ত্র পাহাড়ি -বাঙ্গালীরা জানতে চায়, কবে আর কতকাল পরে পাহাড়ে শান্তি স্থাপন হবে। হবে নাগরিকদের বসবাসযোগ্য একটু স্বাধীন ভূমি? আমার দীর্ঘদিন পাহাড়ে কাজ করে একটা বিষয়ে বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না, পাহাড়ের সাধারন নাগরিকরা সত্যিই শান্তিতে বসবাস করতে চায়, সমঝোতা ও সহাবস্থান চায়। চায় শান্তি ও উন্নয়ন এবং এই অস্ত্রহীন পাহাড়ি – বাঙ্গালীরা সত্যিকারভাবেই এই সন্ত্রাসী অস্ত্রধারী চাঁদাবাজদের পতন চায়। এখন দরকার সকল মহলের আন্তরিক ইচ্ছা, যা কিনা সাধারণ মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবে, যা হলে এই চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে রুখে দেয়া খুব কঠিন নয়। এ অবস্থায় পাহাড়বাসীর পক্ষে এ বিষয়ে আমি সকলের শুভ ইচ্ছাময় ভূমিকা কামনা করছি।

লেখক: সাবেক সংসদ সদস্য, ও সাবেক চেয়ারম্যান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড

বিতর্কিত সিএইচটি কমিশনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে

mehadi Hassan palash
 
মেহেদী হাসান পলাশ
 

বহুল বিতর্কিত সিএইচটি কমিশনের তিন পার্বত্য জেলা সফরকে ঘিরে পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়া উত্তাপ ও উত্তেজনার কালো মেঘ এখনো কাটেনি। বরং তা আরো বিস্তৃত হয়ে রাজধানী তথা সারাদেশ এমনকি আন্তর্জাতিক আকাশেও ছায়া ফেলেছে।

 
গত ২-৫ জুলাই সিএইচটি কমিশনের এই সফর অনুষ্ঠিত হয়। কমিশনকে বিতর্কিত, পক্ষপাতদুষ্ট ও রাষ্ট্রবিরোধী সংগঠন আখ্যা দিয়ে এই সফরকালে ঘিরে ৬ বাঙালি সংগঠন তিন পার্বত্য জেলায় অবরোধ ডাকে। অবরোধের মধ্যেই সফর অব্যাহত রেখে ২ জুলাই কমিশনের কো-চেয়ারম্যান সুলতানা কামালের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের টিম খাগড়াছড়ি গমন করে। খাগড়াছড়িতে রাত্রি যাপনের পর ৩ জুলাই প্রবল উত্তেজনা ও প্রশাসনের ডাকা ১৪৪ ধারা জারির মধ্যেই দিঘীনালায় বাবুছড়ায় ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় তারা স্থানীয় স্কুলে আশ্রয় নেয়া ক্ষতিগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবিদার ২১ পরিবারের সাথে কথা বলেন। এ সময় কমিশনের এক সদস্য পাহাড়িদের বলেন, ভয় পাবেন না। আমরা আপনাদের পাশে আছি। শক্ত হয়ে থাকতে হবে। স্থান ত্যাগ করবেন না।
 
এরপর স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কথা বলেন। এসময় বাবুছড়া বিজিবি জোন কর্মকর্তারা তাদের সকল পরিস্থিতি বুঝিয়ে বলেন, ‘যারা উচ্ছেদ হয়েছে বলে দাবি করছেন, বাস্তবিক অর্থে তারা বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপন প্রকল্প শুরু হওয়ায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় ৩-৪ মাস আগে বসতি স্থাপন করেছিলেন।’ বিজিবি সদর দপ্তর স্থাপনের জন্য ২৯.৮১ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক সকল প্রকার সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করে বিজিবিকে অধিগ্রহণকৃত ভূমি হস্তান্তর করেন। হস্তান্তরিত ভূমিতে বিজিবি’র স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় গত ১০ জুন সকাল ১০টায় ভূমি নিয়ে গ্রামবাসীদের সাথে যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে তা নিষ্পত্তি করার জন্য বিজিবি স্থানীয় জনপ্রতিনিদের সাথে মতবিনিময় সভা করে। মতবিনিময়ে আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে বানচাল করার জন্য একটি বিশেষ মহলের প্ররোচনায় বিকেলে একদল মহিলা বিজিবির হেলিপ্যাডে কলাগাছ লাগাতে থাকে। তাদের বাধা দিলে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের মহিলা ও যুবকরা দল বেঁধে এসে বিজিবি সদর দপ্তরে হামলা চালায় এবং বেশ কিছু স্থাপনা ভাঙচুর করে। হামলায় এক পুলিশ সদস্যসহ ৬ বিজিবি সদস্য আহত হয়। এ সময় কমিশন সদস্য ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্লটটি তো ভালোই সাজিয়েছেন কিন্তু বাস্তবে তা টিকবে না। এছাড়াও কমিশনের আরো কেউ কেউ বিজিবিকে অবজ্ঞাসূচক কথা বলেন। সিএইচটি কমিশনের কো-চেয়ারপার্সন এডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, বিজিবি সদর দপ্তরে পাহাড়ি মহিলারা হামলা করতে পারে তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। 
 
এদিকে দিঘীনালা পরিদর্শন শেষে কমিশন সদস্যরা বাঘাইছড়ি উপজেলার দুইটিলা এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় দায়িত্বপালনরত পুলিশ সদস্যরা সেখানে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে জানিয়ে কমিটির সাথে যাওয়া পাহাড়িদের সেখানে প্রবেশ করতে দিতে অস্বীকৃতি জানান। এসময় কমিশন সদস্যরা ১৪৪ ধারা জারির কারণ জানতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা জানান, ফরেস্টের জমিতে অবৈধভাবে মন্দির নির্মাণ করতে গেলে তাদের বারণ করা হয়। তারা তা না শুনলে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। জবাবে কমিশন মন্তব্য করে, বনবিভাগের জায়গায় মসজিদ থাকতে পারলে মন্দির কেন থাকতে পারবে না। কমিশনের সদস্যরা খাগড়াছড়ি অবস্থানকালে দফায় দফায় পাহাড়ি নেতৃবৃন্দের সাথে বিভিন্নস্থানে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করতে থাকেন। কমিশনের এরূপ একতরফা আচরণ ও পক্ষপাতদুষ্ট বক্তব্যের কারণে স্থানীয় বাঙালি নেতৃবৃন্দ শঙ্কিত ও উত্তেজিত হয়ে আধঘণ্টার মধ্যে কমিশনকে খাগড়াছড়ি ছাড়ার আল্টিমেটাম দেন। অবশেষে আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই কমিশন তার পূর্বনির্ধারিত রাঙামাটি সফর বাতিল করে পুলিশ প্রহরায় খাগড়াছড়ি ত্যাগ করে। অবশ্য শহর ত্যাগের পথে বাঙালিরা কমিশনের গাড়িতে বৃষ্টির মতো জুতা নিক্ষেপ করে ঘৃণার প্রকাশ ঘটায়।
 
এদিকে কমিশনের রাঙামাটি কর্মসূচি পরিত্যাগের ঘোষণা জানতে পেরে রাঙামাটির বাঙালি সংগঠনগুলো তাদের অবরোধ তুলে নেয়। এখবর জানতে পেরে কমিশন গোপনে রাঙামাটি প্রবেশ করে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখে। এতে করে রাঙামাটির বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারাও কমিশনকে বাঙালি বিদ্বেষী আখ্যা দিয়ে রাঙামাটি ত্যাগের জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করে শহরে নতুন করে অবরোধ আরোপ করে। পরিস্থিতির চরম অবনতি হওযার আশঙ্কা করে স্থানীয় প্রশাসন কমিশন সদস্যদের রাঙামাটি ত্যাগ করার জন্য অনুরোধ করলে তারা রাজি হন। দুপুরে পুলিশ প্রহরায় তারা রাঙামাটি ত্যাগ করার পথে বিক্ষুব্ধ বাঙালিরা পাহাড়ের উপর থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। অতর্কিত এ হামলায় পুলিশ ও কমিশন সদস্যরা হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। স্থানীয় পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ৪ কমিশন সদস্য এ ঘটনায় আহত হয়। তাদের বহনকারী গাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কমিশনের সদস্যরা প্রশাসনের দেয়া গাড়িতে করে নিরাপত্তা প্রহরায় রাঙামাটি ত্যাগ করেন। এরপর কমিশনের তরফে চট্টগ্রাম শহরে সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করা হয় শান্তিচুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। অবশ্য রাঙামাটির অভিজ্ঞতা থেকে তারা তাদের বান্দরবান সফরসূচি ত্যাগ করে ঢাকায় ফিরে আসেন। এরপর কমিশন সমর্থিত বুদ্ধিজীবী, সুশীল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং গণমাধ্যমে শুরু হয় একতরফা প্রচারণা।
 
বিবাদের কারণ 
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ১২৯ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্তের মধ্যে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা অংশে রয়েছে ৪৭ কিলোমিটার। এই সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে বিজিবির কোনো নজরদারি না থাকায় দুই দেশের সন্ত্রাসী, পাচারকারীসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধীরা অপরাধের স্বর্গরাজ্য হিসেবে ব্যবহার করছে। গহীন পাহাড় ও বন সমৃদ্ধ অত্যন্ত দুর্গম এলাকা হওয়ায় দূর থেকে গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াও সম্ভব হয় না। ফলে রাষ্ট্রীয় ও নাগরিক নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক রক্ষা, সীমান্ত ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস দমন এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ অঞ্চলে নতুন বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল দীর্ঘদিন থেকেই। বিজিবির ভারতীয় কাউন্টারপার্ট বিএসএফের তরফ থেকেও দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে বিজিবি মোতায়েনের অনুরোধ করা হয়েছে। সে কারণে নয়টি নতুন সীমান্ত পর্যবেক্ষণ চৌকি (বিওপি) করতে যাচ্ছে বিজিবি- যারা ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতায় কাজ করবেন। বিজিবি সূত্র মতে, সীমান্তবর্তী নাড়াইছড়ি, টেক্কাছড়া, শিলছড়ি, উত্তর শিলছড়ি, লালতারান, দিপুছড়ি, লক্কাছড়া, উত্তর লক্কাছড়া, ধূপশীল ও আড়ানীছড়া এলাকায় সীমান্ত নিরাপত্তা চৌকিগুলো বসানো হবে। দীঘিনালার বাবুছড়ায় ৪৭ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষায় ১৯৯৫ সালে ব্যাটালিয়ন স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ১৮ মে ৫১, বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন- বিজিবি গঠন করা হয়।
 
মূলত ৫টি কারণে এই নতুন ব্যাটালিয়ন সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রথমত : দীঘিনালা অংশের এই ৪৭ কিমি. সীমান্ত সম্পূর্ণ অরক্ষিত। একটি রাষ্ট্রের সীমানা কখনো অরক্ষিত থাকতে পারে না। তাই এই সীমান্তের সুরক্ষা প্রদানে এই ব্যাটালিয়ন স্থাপন জরুরি, দ্বিতীয়ত : এই ৪৭ কিমি. সীমান্ত অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসীমান্ত অপরাধীরা এই সীমান্ত দিয়ে তাদের নির্ভয়ে তাদের অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। অস্ত্র, মানব, মাদক পাচারসহ সব ধরনের পাচারকাজ এবং অবৈধ যেকোনো ধরনের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ এ ব্যাটালিয়নের কাজ। তৃতীয়ত : উত্তরপূর্ব ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা প্রায়শই তাদের নানাবিধ অপরাধ কাজে এই মুক্ত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের ভেতরে অনুপ্রবেশ করে থাকে। ফলে বিএসএফের তরফ থেকে তা নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েনের অনুরোধ আসতে থাকে। বাংলাদেশ অন্যদেশের অপরাধীদের নিজ সীমান্তে প্রশ্রয় না দিতে বদ্ধ পরিকর। চতুর্থত : বাংলাদেশের বিভিন্ন পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এই দুর্গম সীমান্তে তাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প, আশ্রয়স্থল ও ঘাঁটি নির্মাণ করেছে। তারা অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে এই অঞ্চলে আশ্রয়গ্রহণ করে থাকে। পঞ্চমত : দুর্গম এই সীমান্ত মূল্যবান বনজ ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। এই সম্পদের সুরক্ষা প্রদান এবং ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা করা। বিশেষ করে এখানে কোনো বাঙালি বসতি নেই। কিন্তু নিরীহ পাহাড়ি জনগণের উপর স্থানীয় সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া চাঁদাবাজিসহ নানাপ্রকার নির্যাতন চালায় তা বন্ধ করতে এই ব্যাটালিয়ন স্থাপন জরুরি।
 
এদিকে সরকার যখন খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়ায় বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের মাধ্যমে ৪৭ কিমি. অরক্ষিত সীমান্ত সুরক্ষার মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণসহ চোরাচালান প্রতিরোধ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তখন পার্বত্য চট্টগ্রামের অনিবন্ধিত আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফের মদদে বাবুছড়ায় বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন-বিজিবি সদর দপ্তর স্থাপনের বিরোধিতাসহ বিজিবির নির্মাণাধীন সদর দপ্তরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা দেশের অখ-তার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন পাহাড়ের রাজনীতি সচেতন মহল। নতুন বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপন হলে জনগণের সুবিধা হলেও অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের অসুবিধা হবে। তাই স্থানীয়ভাবে যারা এই ক্যাম্প স্থাপনের বিরোধিতা করছে তারা ঐ সকল অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষক এবং প্রশ্রয়দাতা। সিএইচটি কমিশন তাদেরই অন্যতম।
 
ইন্টারন্যাশনাল সিএইচটি কমিশনের ভূমিকা
সাজেকের সাম্প্রতিক বিদ্রোহের পেছনে ইন্টারন্যাশনাল সিএইচটি কমিশনের ভূমিকা রয়েছে বলে বাঙালিদের অভিযোগ। পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন এবং অন্যান্য বাঙালি সংগঠনগুলোর দাবি ঘটনার একদিন আগে ইন্টারন্যাশনাল সিএইচটি কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বাঘাইছড়ি এলাকার চাকমা নেতাদের সাথে গোপন বৈঠক করে এবং তারপর তারা চলে আসার পরই বাঙালিদের ঘর-বাড়িতে আগুন ধরে যায়।
এরশাদ সরকারের সামরিক সাশনের দুর্বলতার সুযোগে ১৯৮৩ সাল থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ পায়। একের পর এক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বিবৃতি দেয়া শুরু করে। ১৯৮৫ সালে ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) পার্বত্য চট্টগ্রাম সফর করে একটি নেতিবাচক রিপোর্ট প্রদান করে। এরই প্রেক্ষাপটে ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী কোপেনহেগেনের ড্যানিস পার্লামেন্টের সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি আন্তর্জাতিক কমিশনকে স্বাগত জানানোর ঘোষণা দেয়। দশমাস পর আমস্টার্ডামে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপর একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পরিস্থিতি তদন্তে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক কমিশন গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। ১৯৮৯ সালের শেষ নাগাদ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন গঠিত হয়। শুরুতে এই কমিটির কো-চেয়ারম্যান ছিলেন কানাডার আইনের অধ্যাপক স্যার ডগলাস স্যান্ডারস ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সহসভাপতি জার্মানির উইলফ্রিড টেলকেম্পার। এছাড়াও কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার রোজ মুরে, নরওয়ের লীফ ডানফিল্ড, গ্রীনল্যান্ডের হ্যান্স পাভিয়া রোজিং। কমিটি গঠনের লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বের পার্বত্য এলাকার মানবাধিকার ও ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত করা।
 
কিন্তু এ কমিটির গঠন, স্থান ও সদস্যদের তালিকা থেকে শুরুতেই বোঝা যায় বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কথা। বিষয়টি ভারত সরকারও অনুধাবন করতে পারায় কমিটি ১০ দিনের জন্য ত্রিপুরা সফরের অনুমতি চাইলে তাদেরকে ৫ দিনের জন্য অনুমতি দেয়া হয়। কমিটি ১৯৯০ সালের ২১-২৫ নভেম্বর ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশী উপজাতীয় শরণার্থী শিবির এবং একই বছরের ৮-২৯ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা সফর করে সেখানকার উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর সাথে কথা বলে এবং এ সময় তারা দোভাষী হিসেবে চাকমাদের সহায়তা নেয়। ত্রিপুরা সফরকালে ভারত সরকার কমিটির সাথে সার্বক্ষণিক তাদের লোক মারফত পর্যবেক্ষণ করে এবং তাদেকে কোনো টেপ রেকর্ডার ব্যবহার করতে দেয়নি। সফরে প্রাপ্ত তথ্য বলে দাবি করে এ কমিটি ১৯৯১ সালের ২৩ মে লন্ডনের হাউস অব লর্ডসে ‘Life is not ours : land human rights in the Chittagong hill tracts’  শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। পরবর্তীকালে এ কমিটি ১৯৯২, ১৯৯৪, ১৯৯৭ এবং ২০০০ সালে পরপর চারটি ফলোআপ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। রিপোর্টে কমিটি পার্বত্য চট্টগ্রাম, বাঙালি, ইসলাম, সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ সরকার সম্পর্কে নানা মিথ্যা ও রাষ্ট্রবিরোধী তথ্য উপস্থাপন করে। রিপোর্টে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের মানবাধিকার লঙ্ঘন বিশেষ করে সন্ত্রাস, হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ভূমি দখল, গণধর্ষণ প্রভৃতির জন্য বাঙালি বিশেষ করে সেনাবাহিনীকে দায়ী করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগই মিশনারিদের তৎপরতায় নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি ছেড়ে খ্রিস্টান হয়ে গেলেও কমিটি তাদের রিপোর্টে উপজাতীয়দের জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে এবং নাম না জানা ৭ জন মারমার মুসলমান হওয়ার কথা প্রকাশ করে। তাদের মতে, গোটা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মসজিদ নির্মাণ অব্যহত থাকার দাবি করে বলে, মাইক্রোফোনে ভেসে আসা মসজিদের আজানের শব্দে কমিশনের কাজকর্ম অনেক সময় বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। 
 
২০০০ সালের পর থেকে দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকার পর ২০০৮ সালের ৩১ মে-১ জুন ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে দুইদিন ব্যাপী এক সম্মেলনে নতুন করে সিএইচটি কমিশন গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ১২ সদস্যের এই কমিশনের কো-চেয়ারম্যান হন ব্রিটিশ নাগরিক লর্ড এরিক এভাব্যুরি, বাংলাদেশের সুলতানা কামাল ও ডেনমার্কের ড. আইডা নেকোলাইসেন। লর্ড এরিক এবাব্যুরি ১৯৬২-১৯৭০ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি এবং ১৯৭১ সাল থেকে ব্রিটিশ লর্ড সভার সদস্য রয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি এই সভার সভাপতি। তিনি পূর্ব তিমুরকে (স্বাধীন বা আলাদা খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠন) বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনে কাজ করেছেন। পাশাপাশি বর্তমানে লর্ড এরিক এভাব্যুরি বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামের আন্তর্জাতিক প্রচার সেলের প্রধান হিসাবে কাজ করছেন। 
 
পুনর্গঠিত কমিশন ২০০৮ সালের ৬-১৪ আগস্ট এবং ২০০৯ সালের ১৬-২২ ফেব্রুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রাম সফর করেন। সাজেক এলাকাটি এই কমিশনের কাছে সবসময়ই বিশেষ আগ্রহের ছিল। ২০০৮ সালের সফরকালে এ কমিশনের বিতর্কিত কর্মকা- ও বাঙালিদের কথা না শোনার কারণে তারা সুলতানা কামালকে অবরোধ করে। তার সামনে ঝাড়ু ও জুতা মিছিল করে। কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। কমিশনের বিরুদ্ধে বাঙালিদের অন্যতম অভিযোগ কমিশন পার্বত্য চট্টগ্রাম সফর করার পরপরই পাহাড়ে বড় ধরনের হিংসাত্মক ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে।
 
২০১০ সালের ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারি এ কমিশন বাঘাইছড়ি সফর করে ও সেখানে রাত্রিযাপন করে। এর পরদিনই বিপুল সংখ্যক পাহাড়িদের ঘরে আগুন লাগে। এর দায় বাঙালিদের উপর চাপিয়ে পাহাড়িরাও বাঙালিদের ঘরে আগুন লাগায়, তাদের জায়গা-জমি দখল করে। শুরু হয় ব্যাপক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা- যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যায়। সেসময় সাজেকের চেয়ারম্যান লাল থাঙ্গা পাঙ্খো দৈনিক ইনকিলাবের জন্য আমাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, চাকমারা নিজেরাই নিজেদের ঘরে আগুন লাগিয়ে বাঙালিদের দোষ দিচ্ছে। বাঙালিরা অভিযোগ করেছিল সিএইচটি কমিশনের গোপন উসকানিতে পাহাড়িরা এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করেছে।
২০০৮ সালে কমিশন তাদের পার্বত্য সফরকালে বাঙালিদের পাহাড় ছেড়ে সমতলে যাবার জন্য উদ্বুদ্ধ করে এবং এজন্য তাদের প্রয়োজনীয় সকল চাহিদা পূরণের প্রলোভন দেখায়। বাঙালিরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করলে ২০০৯ সালে কমিশন বাংলাদেশ সরকারের কাছে রিপোর্ট দেয় যে, বাঙালিদের পাহাড় থেকে সমতলের সরকারি খাস জমিতে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং এর জন্য যত অর্থের প্রয়োজন ইইউ, ইউএনডিপিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো তা সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
 
২০১০ সালে কমিশন বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি জানায়, বাঙালিদের জোর করে পাহাড় থেকে উচ্ছেদ করতে হবে। তাদের রেশন বন্ধ করে দিতে হবে, গুচ্ছগ্রাম ভেঙে দিতে হবে। এছাড়াও কমিশন তাদের প্রত্যেক রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া অনুদান বাংলাদেশ সরকার পার্বত্য এলাকার উপজাতিদের অধিকার হরণের কাজে ব্যবহার করছে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে। কাজেই যতদিন বাংলাদেশ সরকার তাদের নির্দেশিত সুপারিশ পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস্তবায়ন না করবে ততদিন যেন তারা বাংলাদেশ সরকারকে সবধরনের সহায়তা প্রদান বন্ধ রাখে- এ মর্মেও কমিশন বিদেশি দাতা দেশ ও সংস্থার কাছে আবেদন জানিয়েছে। এভাবে সিএইচটি কমিশন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
 
সিএইচটি কমিশনের সকল রিপোর্টই একতরফা ও পক্ষপাতদুষ্ট। তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম সফরকালে একতরফা উপজাতিদের সাথে কথা বলে। কখনো কখনো বাঙালিদের সাথে কথা বললেও তা তাদের নির্বাচিত বাঙালি। যারা সন্তু লারমার উপকারভোগী। সে কারণে তাদের সেখানো বুলি মতে, তারা কমিশনের সামনে মত প্রকাশ করে, সরকার তাদের সমতলে পুনর্বাসন করতে চাইলে তাদের আপত্তি নেই। সিএইচটি কমিশন পাহাড়ে উপজাতি জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার নিয়ে শতশত পৃষ্ঠা রিপোর্ট করলেও তাতে বাঙালিদের প্রতি বৈষম্য, বঞ্চনা, নির্যাতনের কোনো কথা উঠে আসেনি। 
 
পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো প্রতিনিয়ত যে হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, গুম, অপহরণ, ধর্ষণ বেপরোয়াভাবে চালিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই। তারা শুধু বাংলাদেশ সরকার কতটুকু শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করলো না তা নিয়ে সোচ্চার। কিন্তু সন্তুবাহিনীর সহস্রাধিক সদস্য এখনো অস্ত্র সারেন্ডার না করে হিংসা, হানাহানি ও অপরাধ বিস্তার কার্যক্রমে জড়িত রয়েছে তাদের বেলায় কমিশনের কোনো বক্তব্য নেই। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনী ফিরিয়ে আনা তাদের অগ্রাধিকার তালিকার অন্যতম দাবি। ঐতিহাসিকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রাচীন বাঙলার সমৃদ্ধ হরিকল রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। সে কারণে বাঙালিরাই এ অঞ্চলের প্রাচীন জনগোষ্ঠী। অথচ কমিশন উপজাতিদের তারা আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি রেখে বাকি সকল ক্ষমতা প্রদানসহ পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি ব্যাপক স্বায়ত্বশাসিত প্রদেশ বানাতে সুপারিশ করেছে। এসব কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি সম্প্রদায় সিএইচটি কমিশনের প্রতি বিক্ষুদ্ধ।
 
একটি রাষ্ট্রের সীমান্তে কোথায় নিরাপত্তা ক্যাম্প বসবে এটা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার ভাবনা। এ নিয়ে নাগরিকের চাহিদা বাধা থাকতে পারে না। কারণ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারমূলক বিষয়। সেখানে কারো ব্যক্তিগত জমি বা সম্পদ অধিগৃহীত হলে সে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করতেই পারে, কিন্তু বাধা দিতে পারে না। যে কোনো ধরনের উন্নয়নমূলক কাজেই আমরা এ ধরনের অধিগ্রহণ সারা দেশেই দেখছি। পদ্মা সেতুর কথা উদাহরণস্বরূপ বলা যায়। কিন্তু পাহাড়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে একটি চিহ্নিত পাহাড়ি গ্রুপ সকল প্রকার উন্নয়নেই বাধা সৃষ্টি করে থাকে। সে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই হোক আর নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান হোক। কখনো আর্মি চাই না, কখনো বিজিবি চাই না, কখনো র‌্যাব চাই না বলে, এমনকি অবকাঠামো, পর্যটন, মেডিক্যাল কলেজ, ইঞ্জিয়ারিং ইউনিভার্সিটিসহ সকল ধরনের উন্নয়নের তারা বিরোধিতা করে আসছে। আসলে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। মুখে স্বায়ত্বশাসনের কথা বললেও বাস্তবে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামকে স্বাধীন জুম্মল্যান্ড নামক রাষ্ট্র বানাতে চায়। সে কারণেই তারা গঠন করেছে জুম্ম লিবারেশন আর্মি (জেএলএ), স্বাধীন জুম্মল্যান্ডের পতাকা। আর এই কাজে তাদের গোপনে, প্রকাশ্যে, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে সিএইচটি কমিশনের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় শতাধিক দেশি-বিদেশি এনজিও, দাতা দেশ ও উন্নয়নমূলক সংস্থা। কাজেই বাংলাদেশ সরকারকে অচিরেই নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় সিএইচটি কমিশনের মতো রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত সকল দেশি-বিদেশি এনজিও এবং দাতাসংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে এবং এ কাজে সময় ক্ষেপণের বা শৈথিল্য প্রদর্শনের কোনো অবকাশ নেই।
Email: palash74@gmail.com. (দৈনিক ইনকিলাবের সৌজন্যে)
 
লেখকের পার্বত্যচট্টগ্রাম বিষয়ক আরো কিছু লেখা
 
 
 
 

সাংবাদিকদের সাথে সিন্দুকছড়ি জোন অধিনায়কের মতবিনিময়

DSCF2796

নিজস্ব প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি’র গুইমারা উপজেলায় আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারী সিন্দুকছড়ি জোন অধিনায়ক লে.কর্ণেল রাব্বি আহসানের সাথে গুইমারা সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল জোন সদরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

মত বিনিময় সভায় গুইমারা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি এম, সাইফুর রহমান, সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলমসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
 বুধবার জোনের সদর দপ্তরে মতবিনিময় সভায় এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন জোন অধিনায়ক। এসময় তিনি বলেন, ৪ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারী সিন্দুকছড়ি জোন দায়িত্ব গ্রহণ করার পর এলাকার সন্ত্রাস দমন, অস্ত্র উদ্ধার, বিভিন্ন অবৈধ পাচার বন্ধে কাজ করে যাচ্ছে এবং ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। 

এ সময় জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর আবদুল্লাহ আল মামুন ও ক্যাপ্টেন মাহফুজ সহ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

বর্ণিল আয়োজনে পালিত হলো সেনাবাহিনীর গুইমারাস্থ ২৪ আর্টিলারী’র ৩২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

guimara reg

নিজস্ব প্রতিনিধি :

বর্ণিল আয়োজনে পালিত হলো ২৪আর্টিলারীর ৩২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। বৃহস্পতিবার দুপুরে 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর  গুইমারা রিজিয়ন সদর দপ্তরে জাকজমকপূর্ণ এ অনুষ্ঠান পালিত হয়। এ উপলক্ষ্যে পুরো রিজিয়নে ছিল সাজ সাজ রব। রং বেরং এর পতাকা দিয়ে সাজানো হয় রিজিয়ন সদর দপ্তর।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেক কাটেন ২৪আর্টিলারী ব্রিগেড গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনোয়ারুল ইসলাম। এসময় বিভিন্ন জোন অধিনায়কের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা উপহার গ্রহণ করেন প্রধান অতিথি। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর  খাগড়াছড়ি রিজিয়ন ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল কাজী শামসুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নব সৃজিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি’রগুইমারা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল শাহরিয়ার রাশেদ, ৪ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারী সিন্দুকছড়ি অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল রাব্বি আহসান, ১৬ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারী লক্ষীছড়ি অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন, ২৯ বিজিবি পলাশপুর জোন অধিনায়ক লে: কর্ণেল মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান, ২১বিজিবি অধিনায়ক লে: কর্ণেল মো: সিদ্দিকুর রহমান, ১৬ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ খালিদ বিন ইউসুফ, খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি কংজরী চৌধুরী, জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক ও মাটিরাঙ্গার পৌর মেয়র আবু ইউসুফ চৌধুরী, রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ফরহাদ, মাটিরাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম, লক্ষীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা, ৭নং গুইমারা ইউপি চেয়ারম্যান মেমং মারমা, হাফছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান উশ্যেপ্রু মারমা, এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, হেডম্যান-কার্বারী প্রমুখ।

পরে প্রীতিভোজ ও কেটে দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় আমন্ত্রিত অতিথিদের। সন্ধ্যায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিজিবি’র মর্টার গোলার আঘাতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ২ কর্মকর্তাসহ ৪ সেনাসদস্য নিহত: আহত ৩

08

মেহেদী হাসান পলাশ:

বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়িতে বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিজিবি ও মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিজিপি’র মধ্যে সংঘটিত গোলাগুলিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ২ কমকর্তাসহ ৪ জন নিহত এবং অপর ৩ জন আহত হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। গত ৩০ মে সংঘটিত গোলাগুলিতে বিজিবি’র ছোড়া মর্টার গোলার আঘাতে এ ঘটনা ঘটেছে।

 

সূত্র মতে, গত বুধবার মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিপি’র গুলিতে নিহত বিজিবি নায়েক সুবেদার মিজানুরের লাশ আনতে  ৩০ মে বিজিবি’র চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল আহমদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম মিয়ানমার সীমান্তে যায়। এই টিমে আরো ছিলেন বিজিবি’র কক্সবাজার সেক্টর কমাণ্ডার কর্নেল খন্দকার ফরিদ হাসান , নাইক্ষ্যংছড়ির ৩১ বিজিবি’র সিও লে. কর্নেল শফিকুর রহমানসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ। বিজিপি কর্তৃপক্ষ এসময় বাংলাদেশ টিমকে ৫২ পিলারের সন্নিকটে যাবার আহ্বান জানালে তারা লাশ গ্রহণের নিমিত্তে ৫২ পিলার এলাকায় গমন করে। এসময় মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী সকল আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করে বিজিবি’র উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের উপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করতে শুরু করলে আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও গুলি করতে বাধ্য হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধের মতো ব্যাপক গোলাগুলি চলতে থাকে। দুইপক্ষই মর্টার, রকেট লঞ্চার, মেশিনগানের মতো ভারী অস্ত্র ব্যবহার করতে শুরু করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি স্থানীয় সূত্র পার্বত্যনিউজকে নিশ্চিত করেছে, উভয়পক্ষের এই গোলাগুলির সময় বিজিবি’র ছোড়া একটি মর্টারের গোলা মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর অবস্থানের উপর গিয়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই দুই কর্মকর্তাসহ ৪ জন নিহত হয়। সূত্রটি আরো জানিয়েছে, পোস্টটি মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর হলে সেখানে অবস্থান নিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বাংলাদেশের দিকে গোলাবর্ষণ করছিল। ফলে নিহত ২ কর্মকর্তা ও ২ সদস্যের সকলেই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বলে জানা গেছে। এছাড়াও আহত অপর ৩জনও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্য বলে জানা গেছে। তবে নিহত কর্মকর্তাদের পদবী সম্পর্কে সূত্রটি নিশ্চিত করতে পারেনি। 

সূত্র আরো জানিয়েছে, আহত তিন সেনাসদস্যকে মংডু হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এসময় ঘটনাটি গোপন রাখতে মংডু হাসপাতালের নিরাপত্তা  ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়। তবে আহতদের শারিরীক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া গত রাতে তাদের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

তবে মিয়ানমারের কোন কর্তৃপক্ষ এ খবরের সত্যতা স্বীকার করেনি। কিন্তু বাংলাদেশের একটি শীর্ষ স্থানীয় গোযেন্দা সূত্র পার্বত্যনিউজকে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

 

আরও খবর

নতুন রাষ্ট্র সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং কক্সবাজার নিয়ে

 কি ঘটবে পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন সংশোধন প্রস্তাব কার্যকর হলে?