বিজিবি ভারতের ভূমি ও সড়ক ব্যবহার করে বিওপি নির্মাণ করছে

bgb camp 3

মেহেদী হাসান পলাশ:

ভারতের ভূমি ও সড়ক ব্যবহার করে নতুন বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট(বিওপি) নির্মাণ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি)। বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব সুসম্পর্কের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজিবির দক্ষিণ পূর্ব রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার উত্তরাংশে খাগড়াছড়ি জেলার অন্তর্গত এবং ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত ৬ টি বিওপি নির্মাণে ভারতের ভুমি ও সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিজিবির পুণর্গঠন রূপরেখা-২০০৯ এর আওতায় এ নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। একই রূপরেখার আওতায় বিজিবির দক্ষিণ পূর্ব রিজিওনের আওতায় দুইটি নতুন সেক্টর ও ৫ ব্যাটালিয়ান স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও নতুন করে ১০৪টি বিওপির মধ্যে ৫২টি বিওপি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে করে বাংলাদেশ-ভারত ও বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের ৮১০ কি.মি. সীমান্তের মধ্যে ৪৭৯ কি.মি. অরক্ষিত সীমান্তের ২১৫ কি.মি. সীমান্ত সুরক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। শুরু হয়েছে বিজিবির এয়ার উইং। এর ফলে দূর্গম ও অরক্ষিত সীমান্তের অপরাধ এখন আগের থেকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে বলে বিজিবি সূত্রের দাবী।

জানা গেছে, সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বিজিবি বাংলাদেশের ৪,৪২৭ কিঃ মিঃ সীমানা দিবা-নিশি প্রহরার মাধ্যমে নিশ্চিত করছে নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব। ২০০৯ পিলখানার ভয়াবহ বিপর্যয়ের দুঃসহ স্মৃতি পেরিয়ে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিজিবি। ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসের ২০ তারিখে বিজিবির সদর দপ্তর পিলখানায় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিজিবি’র পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয় বিজিবি’র নব অভিযাত্রা। সে সাথে শুরু হয় এ বাহিনী ঢেলে সাজানোর মহাযজ্ঞ। এর অংশ হিসাবে ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখে শুরু হয় বিজিবি’র ৪ টি রিজিয়ন এর আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ড। এসময় খাগড়াছড়ি, রাংগামাটি, গুইমারা, বান্দরবান ও কক্সবাজার সেক্টর ও এর অধীনস্থ ইউনিটগুলো নিয়ে দক্ষিণ পূর্ব রিজিয়ন সদর দপ্তর চট্টগ্রাম শহরের হালিশহর থেকে কার্যক্রম শুরু করে।

bgb camp 1

দূর্গম পাহাড় ও অনিষ্পন্ন সীমান্তের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব রিজিওনের আওতাধীন ৮১০ কি.মি. সীমান্তের মধ্যে ৪৭৯ কি.মি সীমান্ত অরক্ষিত ছিলো। ফলে অরক্ষিত এই সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র, মানব ও মাদক পাচার, অপহরণ, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হতো। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর স্বর্গরাজ্য ছিলো অরক্ষিত সীমান্ত। এ সকল অপরাধ দমনে বাংলাদেশ ও সীমান্ত সংলগ্ন অন্যান্য দেশগুলোরও দাবী ছিলো বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত সুরক্ষিত করা।

সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিজিবি পূণর্গঠন রূপরেখা-২০০৯ এর আওতায় দক্ষিণ পূর্ব রিজিয়ন, চট্টগ্রাম এর দায়িত্বপূর্ণ পাহাড় ও নদী বেষ্টিত ৮১০ কিঃ মিঃ সীমান্ত এলাকায় অরক্ষিত সীমান্ত সুরক্ষাসহ সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু তদারকির লক্ষ্যে বর্তমান সীমান্ত চৌকির অতিরিক্ত সর্বমোট ১০৪টি নতুন বিওপি নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় সর্বমোট ৫২টি বিওপি’র নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ২৯ টি নতুন বিওপি নির্মাণ করে ২৮১ কিঃ মিঃ অরক্ষিত সীমান্তের মধ্যে আনুমানিক ১৩০ কিঃ মিঃ সীমান্ত সুরক্ষা করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ – মিয়ানমার সীমান্তে ২৩টি নতুন বিওপি নির্মাণ করে ১৯৮   কিঃ মিঃ অরক্ষিত সীমান্তের মধ্যে আনুমানিক ৮৫ কিঃ মিঃ সীমান্ত সুরক্ষা করা হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে সর্বমোট ৪৭৯ কিঃ মিঃ অরক্ষিত সীমান্তের মধ্যে আনুমানিক ২১৫ কিঃ মিঃ সীমান্ত সুরক্ষাসহ বিজিবি’র নজরদারী ও আধিপত্য বিস্তারের আওতায় আনা হয়েছে।

তবে বিজিবির এই নবযাত্রা কুসুমাস্তৃর্ণ ছিলো না। পদে পদে তাকে নানা প্রতিকুলতা ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে এগুতে হয়েছে। সূত্র মতে, পাহাড়ি এলাকায় বিওপি নির্মাণের জন্য সরকার কর্তৃক ৫ একর জমি অধিগ্রহণের নীতিমালা রয়েছে। দক্ষিণ পূর্ব রিজিয়নের বেশির ভাগ এলাকাই পাহাড়ি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই ৫ একর জমিতে বিওপি স্থাপন করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। কারণ পাহাড়ি ঢাল ও ভূমি বিন্যাসের ভিন্নতার কারণে জরুরী স্থাপনা সমূহও নির্মাণ করা সম্ভব হয় না। এছাড়াও পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কারণে সাধারণ জনগণ তাদের জমি অধিগ্রহণের জন্য বিজিবিকে হস্তান্তর করতে ভীত সন্ত্রস্ত থাকে। বিশেষ করে বিজিবির এই অগ্রসর ভূমিকার কারণে যেসমস্ত সীমান্ত অপরাধীদের তৎপরতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে তারা বিজিবি সম্প্রসারণের পথে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে। অস্ত্রের মুখে, হুমকি, ধামকি দিয়ে সাধারণ পাহাড়ীদের বাধ্য করেছে বিজিবিরি প্রতিপক্ষ হতে।

ফলে এখনো খাগড়াছড়ি ও রাংগামাটি জেলার অনেক অবস্থানে বিওপি নির্মাণের জন্য বিজিবি কর্তৃক জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভবপর হয়নি। ভূমি বিরোধের কারণে এখন পর্যন্ত বাঘাইছড়িতে অবস্থিত ৫৪ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের ব্যাটালিয়ন সদর স্থাপন করা সম্ভবপর হয়নি। এছাড়াও আলীকদমে ৫৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন তাদের ব্যাটালিয়ন সদর নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। অথচ দেখা গেছে, দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিওপি স্থাপিত হলে নিকটস্থ পাহাড়ি জনগোষ্ঠী দারুণভাবে উপকৃত হয়।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, খাগড়াছড়িস্থ উত্তর লক্কাছড়া বিওপি সংলগ্ন উপজাতীয় পাড়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপে বেশ কিছু লোক মৃত্যুবরণ করলে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বিওপিতে অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন করা হয়। হেলিকপ্টার যোগে ক্যাম্পে জরুরী ঔষধ ও চিকিৎসক প্রেরণ করা হয়। বিজিবি’র সদস্যরা দিনরাত পরিশ্রম করে রুগীদের শুশ্রষা করে এবং এলাকাবাসীকে এক ভয়াবহ মহামারী থেকে উদ্ধার সম্ভব হয়।

সূত্রে জানা গেছে, বিজিবির দক্ষিণ পূর্ব রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার উত্তরাংশে খাগড়াছড়ি জেলার অন্তর্গত অধিকাংশ অবস্থানই দূর্গম পার্বত্য এলাকায় হওয়ায় অরক্ষিত সীমান্তে কিছু কিছু স্থানে বাংলাদেশের নিজস্ব ভূমি ব্যবহার করে বিওপি নির্মাণ করা অত্যন্ত দুষ্কর। হেলিকপ্টার সহায়তা ব্যতীত সেসকল অবস্থানে নির্মাণ সামগ্রী কিংবা প্রাত্যহিক রশদ সামগ্রী প্রেরণ কষ্টকর।

অরক্ষিত সীমান্ত সুরক্ষাসহ সীমান্তে বিজিবি’র আধিপত্য বিস্তার ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নির্মূলের অংশ হিসেবে বিজিবি কর্তৃক ভারতীয় রাস্তা ব্যবহার করে দূর্গম পার্বত্য সীমান্ত এলাকায় নতুন বিওপি স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়; যা যুগোপযোগী ও আধুনিক চিন্তা চেতনারই বহিঃপ্রকাশ। বিজিবি’র অনুরোধে সরকার কর্তৃক প্রেরিত প্রস্তাবে ভারত সরকার উক্ত পরিকল্পনায় সম্মতি প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় দূর্গম পার্বত্য এলাকার অরক্ষিত সীমান্ত সুরক্ষার জন্য ভারতীয় রাস্তা ব্যবহার করে বিওপি নির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ এবং ভারত দু‘দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে গত ৬-৭ জুন ২০১৫ তারিখ পর্যন্ত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় “নতুন প্রজন্ম নয়া দিশা” নামে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

bgb camp 2

ইতিমধ্যে ৬টি নতুন বিওপি নির্মাণের লক্ষ্যে সকল পর্যায়ে রেকি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। অতিশীঘ্রই উক্ত বিওপি সমূহ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। বিওপিগুলো হচ্ছে, খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলার ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতায় লাক্কাছড়া বিওপি, দিপুছড়ি বিওপি ও ডুপশিল বিওপি এবং রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলাস্থ ৫৪ বিজিবি ব্যাটালিয়েনের আওতায় কাসালং-১ বিওপি, কাসালং-২ বিওপি এবং সাজচিলুই বিওপি।

জানা গেছে, ইতিমধ্যে বিজিবি’র দুটি রেকিদল নির্মাণ সামগ্রী ক্রয়, পরিবহন ও নির্মাণ কাজের প্রস্তুতির নিমিত্তে বাংলাদেশ সীমান্তের বিপরীতে ভারতের অংশে রেকি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।

বিজিবির এই অগ্রসর অবস্থানের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের উত্তর সীমান্তে বিশেষ করে খাগড়াছড়ি সীমান্তের বিপরীতে যে সকল অংশে বিভিন্ন ভারতীয় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ কর্তৃক বিভিন্ন প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অরক্ষিত সীমান্তের সুযোগ নিতো, বর্তমানে ঐ সকল সীমান্ত এলাকায় নতুন নতুন বিওপি নির্মাণের ফলে সীমান্তে নজরদারী বৃদ্ধি পাওয়ায় সকল প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। আশার কথা, সাম্প্রতিক সময়ে বিএসএফ কর্তৃকও কোন প্রকার প্রতিবাদ করা হয়নি।

একইভাবে দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ পার্বত্য এলাকার বান্দরবান জেলার সীমান্ত এলাকার দক্ষিণাংশে রয়েছে অত্যন্ত খাড়া পাহাড়  এবং দূর্গম এলাকা। উঁচু পাহাড়ের গা ঘেঁষেই রয়েছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত। ভুপ্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে বিগত ৪ মাসেরও কম সময়ে উক্ত দূর্গম এলাকায় বিজিবি কর্তৃক নতুন ৬টি বিওপি নির্মাণ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী সময়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রায়ই আরাকান আর্মি এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী দলের আস্তানা কিংবা তাদের অবাধ চলাচলের ব্যাপারে বিজিবি কর্তৃপক্ষের কাছে তারা প্রতিবাদ লিপি প্রেরণ করতো। কিন্তু বর্তমানে উক্ত এলাকার বেশির ভাগ অংশে বিজিবি’র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এখন এ ধরনের পত্রালাপ অনেকাংশেই হ্রাস পেয়েছে। সে সাথে অপেক্ষাকৃত সুরক্ষিত ও সূচিহ্নিত হয়েছে দু’দেশের সীমানা।

এদিকে বর্তমানে নতুনভাবে নির্মিত সকল বিওপিগুলোই হেলি সাপোর্টেড। পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনী সমূহের মধ্যে বিজিবিরই রয়েছে সর্বাধিক ৭৮ টি হেলি সাপোর্টেড ক্যাম্প। বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারগুলো স্বল্পতার মধ্যেও বিজিবির বিওপিগুলোতে হেলি সহায়তা প্রদানে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, হেলির প্রয়োজনীয়তা ও দ্রুত সাপোর্ট নিশ্চিতের বিষয়টি বিবেচনা করে সদর দপ্তর বিজিবি হেলি উইং এর সকল অবকাঠামো সাতকানিয়ায় বিজিবি’র একমাত্র প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বিজিটিসিএন্ডএস সংলগ্ন স্থানে ইতিমধ্যে স্থাপন করেছে। এরই প্রেক্ষিতে গত ৫ জুন ২০১৬ তারিখ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর হেলি উইং এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি। খুব শীঘ্রই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে নতুন হেলিকপ্টার সংযোজিত হবে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে বিজিবি হেলি উইং কাজ শুরু করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।এতে নতুন বিওপি নির্মাণ কার্যক্রমসহ অপারেশনাল দক্ষতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

বিজিবির দক্ষিণ পূর্ব রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ হাবিবুল করিম পার্বত্যনিউজকে জানান, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে আর কোন সীমান্ত অরক্ষিত থাকবে না। বিজিবি’র বর্তমান মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমদ এর সার্বিক দিক নির্দেশনা ও সহায়তার কারণেই সম্ভব হয়েছে।

ভূমি বিরোধের কারণে বিভিন্ন স্থানে বিজিবির বিওপির স্থাপনে প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, আশা করা যায় খুব শীঘ্রই এ সকল সমস্যা দূর করে ব্যাটালিয়নগুলো তাদের কার্যক্রম সঠিকভাবে পালন করতে পারবে।

পার্বত্য এলাকার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি- বিজিবি মহাপরিচালক

Dighinala 12-02-2016 pic (01)

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

আমরা কারো প্রতিপক্ষ নই, সীমান্ত সুরক্ষার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অনেক সন্ত্রাসী গহীন জঙ্গল দিয়ে আনাগোনা করছে, সীমান্ত সুরক্ষা না থাকায়, এক দেশের সন্ত্রাসী অন্য দেশে যাতায়াত করছে। কিন্তু সীমান্তে টহল থাকলে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। সারা দেশের ন্যায় পার্বত্য এলাকার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এক সময় সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার হয়ে থাকলেও বর্তমানে তা পুরো বন্ধ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ (বিজিবিএম, পিবিজিএম, পিএসসি, জি)।

এ সময় তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে মোট সীমান্ত এলাকা ৪৭৯ কিলোমিটার। তার মধ্যে ৩৫ টি বিওপি’র আওতায় ২২৮ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত এলাকা নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পার্বত্য এলাকার অরক্ষিত আরো ১৩২ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষার আওতায় আনা হবে।

গতকাল শুক্রবার দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর সদর দফতর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ (বিজিবিএম, পিবিজিএম, পিএসসি, জি) এসব কথা বলেন। এই উপলক্ষে দুপুরে বাবুছড়া বিজিবি সদর দফতরে পৌছলে ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে প্রথমে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে তিনি ব্যাটালিয়নের রেস্ট হাউজ, সৈনিক ডাইনিং হল, কুক হাউজ, চিত্তবিনোদন কক্ষ উদ্বোধন করেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল হাবিবুল করিম, খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল স ম মাহাবুব আলম, বিজিবি’র খাগড়ছড়ি সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল সাজ্জাদ, দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মহসিন রেজা ও বাবুছড়া ৫১ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল কামাল আহমেদ পিএসসি।

পরে তিনি চট্টগ্রাম ফেরার পথে ৫১ বিজিবি’র আওতায় শীলছড়ি বিওপি পরিদর্শন করেন।

মিজোরামে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার: গন্তব্য পার্বত্য চট্টগ্রাম

m16_17136

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পাচারের সময় ভারতের মিজোরাম রাজ্যের দুটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে আসাম রাইফেলস। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১২টি ম্যাগাজিনসহ পাঁচটি একে-৪৭ ও তিনটি একে-৫৬ রাইফেল। ভারতের সীমান্তরক্ষী আধাসামরিক বাহিনী এই অভিযান চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এসব উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হতে পারে বলে বলে মিজোরাম পুলিশ সন্দেহ করছে। টাইমস অভ ইন্ডিয়া।

মিজোরাম রাজ্যের সেরচিপ জেলার কেতুম ও খলেলুঙ গ্রাম থেকে শুক্রবার ভোরে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মিনচুঙ্গা (৫৫) ও ভেনপুইলালা (৩০) নামে দুই মিজো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। ঊর্ধ্বতন পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন জেলার পুলিশ প্রধান লালরিংডিকা। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রাম দু’টি মিজোরামের রাজধানী আইজল থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে।

13গহ

তিনি আরো জানান, উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে পাঁচটি একে-৪৭, তিনটি একে-৫৬ রাইফেলের পাশাপাশি একে সিরিজ রাইফেলের ১২টি ম্যাগাজিন পাওয়া যায়। আর অস্ত্রগুলো প্রতিবেশী বাংলাদেশে নেওয়া হচ্ছিল বলে তিনি ধারণা করছেন।

গত ছয় মাসের মধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী আসাম রাইফেলসের হাতে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা বলে জানা গেছে। এর আগে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রাজ্যের চাম্পাই জেলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আটটি এম ৪রাইফেল উদ্ধার করে তারা। আসাম রাইফেলস নামে ভারতের এই সীমান্তরক্ষী বাহিনী মিয়ানমারের সঙ্গে থাকা দেশটির এক হাজার ৬৪৩কিলোমিটার সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত।

এর আগে ২০১৪ সালের মার্চে মিজোরাম পুলিশ বাংলাদেশগামী বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেছে। মিজোরামের পুলিশ প্রধান অলোক কুমার ভার্মা এবং উপপ্রধান এ কে পট্টনায়করে মতে, তাদের হিসাব অনুযায়ী দুদিন অর্থাৎ ৭ এবং ৮ মার্চ মিজোরামের আইজল শহরের কাছ থেকেই তারা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেন। পুলিশের তালিকা অনুযায়ী তারা ৪৬টি এ কে ৪৭ বন্দুক, তিনটি লাইট মেশিনগান, সেনাবাহিনীতে ব্রাউনি নামে পরিচিত দুটি রাইফেল , প্রচুর গোলাবারুদ এবং এ কে ৪৭ ও লাইট মেশিনগানের প্রচুর তাজা গুলি তারা উদ্ধার করে।

এদিকে ২০১৪ সালের অগাস্টে দেশটির আরেক সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ চোরাকারবারীদের কাছ থেকে আটটি একে সিরিজের রাইফেল উদ্ধার করে। তখন স্থানীয় তিন চাকমার সঙ্গে দুই বাংলাদেশি চাকমাকেও গ্রেফতার করা হয়। এভাবে মিয়ানমার থেকে মিজোরাম হয়ে এসব অস্ত্রের চালান বাংলাদেশে পার্বত্য এলাকায় পাহাড়িদের মধ্যে বিবাদমান দুটি পক্ষ ইউপিডিএফ ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্যদের কাছে যায় বলে ধারণা করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের চোরাই বাজার থেকে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও অনেক বিদ্রোহী রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর পাশাপাশি বাংলাদেশি ধর্মীয় জঙ্গিরা এসব অস্ত্র পেয়ে থাকে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক অস্ত্র উদ্ধারের খবর :

১. পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিচুক্তি পরবর্তীকালে সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান

২. পার্বত্য চট্টগ্রাম- চাঁদাবাজির অভয়ারণ্য: নিরুপায় জনগণ: অসহায় সরকার

৩. বাঘাইছড়িতে সেনাবাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৫ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

৪. খাগড়াছড়িতে মেশিনগান, এসএমজি, এসএলআরসহ আবারো বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী

৫. বান্দরবানের রুমায় দুইটি বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলিসহ জেএসএস চাঁদাবাজ আটক

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করা হবে- মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ

Bjb satkania pic-24.6

স্টাফ রিপোর্টার:

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে সুরক্ষা ও চোরাচালান রোধে ১১৭ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি স্থলপথে পাকা সড়ক নির্মাণেরও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জত ট্রেনিং সেন্টারে বিজিবির ৮৪তম ব্যাচের সমাপনী কুজকাওয়াজ শেষে বিজিবির মহাপিরচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহম্মেদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

মঙ্গলবার সমাপনী কুচকাওয়াজে অনুষ্ঠানে এসময় বিজিবির চট্টগ্রাম দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহম্মদ আলী, বান্দরবান সেনা বাহিনীর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী, বিজিবির ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের কমান্ড্যান্ট কর্নেল মো. আশরাফুল আলম, কর্নেল একেএম সাইফুল ইসলামসহ সেনাবাহিনী ও বিজিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, মিয়ানমারের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে বিজিবি অত্যন্ত আন্তরিক। বাংলাদেশের সঙ্গে তারা চোরাচালান রোধে ভুমিকা রাখবে বলে দাবি করে তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় ইয়াবা চোরাচালান ঠেকাতে ইতোমধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের দেশে ইয়াবা তৈরির কোনো কারখানা নেই।

তিনি আরও জানান, সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জোরদার করার জন্য সারাদেশে আরও চারটি সেক্টর ও ছয়টি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার নির্মাণ করা হবে। এছাড়া সীমান্তে ৮৫টি নতুন বিওপি স্থাপন করা হচ্ছে। আরো ৬৫টি বিওপি স্থাপানের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার সীমান্তে ৯৩৫ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক ও ২৮৫ কিলোমিটার কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বিজিবির আধুনিকায়নের কথা উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, আধুনিক প্রক্ষিণের মাধ্যমে বিজিবিকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ১৪ হাজার ৯৩৮ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে এবং গত চার বছরে ১৬ হাজার ৯৮৬ নবীন সৈনিক নেয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন বিজিবির মহাপরিচালক। পরে ৮৪ তম ব্যাচের ১১৪৪ জন নবীন সৈনিকদের মধ্যে থেকে পাঁচজনকে শ্রেষ্ঠ সৈনিককে পুরস্কার দেয়া দেন মহাপরিচালক। এবার সর্ববিষয়ে সেরা সৈনিক নির্বাচিত হন এম আরাফাত হোসেন।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত অস্থিরতার নেপথ্যে

images-ববব

সালিম অর্ণব

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সংঘাত ও সাম্প্রতিক উত্তেজনার মূল শিকড়টা খুঁজতে গেলে প্রথমে চোখ বুলাতে হয় ইতিহাসের পাতায়। স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উগ্রবাদী বৌদ্ধ আর স্থানীয় আদিবাসীদের মধ্যে ধর্মান্তরিত হওয়া মুসলিম গোষ্ঠীর সংঘাত চলতে থাকে যুগের পর যুগ।

অন্যদিকে সামরিক শাসনের কষাঘাতে জর্জরিত মিয়ানমারের মানুষ শান্তি বলতে সত্যিকার অর্থে কী বোঝায়, সেটা প্রত্যক্ষ করতে পারেনি দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে। একের পর এক সামরিক জান্তার দুর্বিষহ শোষণ আর গণনিপীড়নে অস্থির জনজীবনে আরেক বিভীষিকার নাম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। বিশ্বজুড়ে গণমানুষের মনে একটি ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে যে, বৌদ্ধমাত্রই শান্তিপ্রিয়, দাঙ্গা-ফ্যাসাদ থেকে দূরে থাকা মুণ্ডিত মস্তকের বিদ্বান ব্যক্তি; যা মিয়ানমারের মৌলবাদী বৌদ্ধদের সঙ্গে একটুও মেলানো যাবে না। বেসামরিক জনতার ওপর সামরিক সরকারের দলনের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মানুষের প্রাণ যেখানে ওষ্ঠাগত, সেখানে যুক্ত হয়েছে মাদকের কালো ছোবল। পক্ষান্তরে আনুষঙ্গিক নানা দুরবস্থায় মিয়ানমারের উগ্রবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সঙ্গে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সীমান্ত উত্তেজনার ওতপ্রোত সম্পর্ক রয়েছে।

বলতে গেলে বিগত এক দশকে মিয়ানমারের কোনো সংবাদপত্রের পাতায় এক দাঙ্গা-ফ্যাসাদ বাদে উল্লেখযোগ্য সংবাদ ছাপা হয়নি, যাতে মানুষ আশাবাদী হতে পারে। অং সাং সু চি নামমাত্র শান্তির বারতা নিয়ে মিডিয়া স্টান্ট হাজির করে নোবেল জিততে পেরেছেন ঠিকই। কিন্তু আমজনতার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরিয়ে দিতে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ— এটা এখন বলা যেতেই পারে।

সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবিরোধ, যার সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আর্থ-রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত রয়েছে। বলতে গেলে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের এ সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে অনেক নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায় নরেন্দ্র মোদির আগমন, দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে রুশ-মার্কিন-চৈনিক ভাবনার বিপ্রতীপে ভারতীয় বিদেশনীতি— সবই অবস্থাবিশেষে গুরুত্বের দাবি রাখে।

দৈনিক সংবাদপত্রগুলো থেকে জানা যায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ২৮ মে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে বিজিবির নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান নিহত হন। এ সময় দখল-সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলায় দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘসময় গুলি বিনিময় হয়। এ গুলি বিনিময়ে হতাহতের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। মিজানের মৃত্যুর পর সাময়িক বিরতি দিয়ে ৩ জুন ওই সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, আবার গোলাগুলির খবর শোনা যায় সংবাদ মাধ্যমগুলোয়। উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে ৫ জুন মিয়ানমারের মংডুতে বিজিবি ও বিজিপির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পতাকা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। এই বিশেষ বৈঠকে তারা সুবেদার মিজানের হত্যার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে। কিন্তু ঠিক তার পরদিনও সীমান্তে গুলিবর্ষণ অব্যাহত ছিল বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে।

হঠাৎ করে অভ্যন্তরীণ সংকটে জর্জরিত মিয়ানমারের অপেক্ষাকৃত দুর্বল সীমান্তরক্ষীদের বিজিবির ওপর চড়াও হওয়াটা কোনো আশার কথা বলে না। এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অনেক প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এ সীমান্তে হঠাৎ করে উত্তেজনা বাড়ল কেন? মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীইবা কোন দুঃসাহসে এবং কার ইন্ধনে কোনো হুঁশিয়ারি ছাড়া গুলি করে হত্যা করল বিজিবি সদস্যকে? অনেক বিশ্লেষক এটাকে নিছক দুর্ঘটনা কিংবা ভুল বোঝাবুঝির ফল হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইবেন, যেটা কোনো অংশেই ঠিক নয়; উপরন্তু এ-জাতীয় বিভ্রান্তিকর চিন্তা ওইসব বিশ্লেষকের রাজনৈতিক সচেতনতা, প্রজ্ঞা ও শিষ্টাচারকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে। একটু খেয়াল করলে সাধারণ্যেই স্পষ্ট হয়, এ গোলাগুলি কোনো ভুল বোঝাবুঝির ফল নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কারো উসকানির ফল। বিশেষ করে এই গুলি ছোড়া যদি ভুল বোঝাবুঝিই হবে, তাহলে দ্বিতীয়বার মিয়ানমারের বিজিপি বাংলাদেশী বিজিবির ওপর গুলি ছুড়ত না।

পররাষ্ট্রনীতির কিছু বিষয় ছাড়াও অর্থনৈতিক দিক থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা করাটা বাংলাদেশের জন্য খুব জরুরি। অন্যদিকে সে বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমারও বেশ ওয়াকিবহাল। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়েই বিমসটেকের সদস্য। পাশাপাশি বিসিআইএম নামক উপআঞ্চলিক জোটেও মিয়ানমার রয়েছে। এর থেকে ধরে নেয়াই যেতে পারে মিয়ানমারের পূর্ণ অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশ তার পূর্বমুখী নীতিতে সাফল্যের মুখ দেখবে না। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের চলমান সীমান্ত উত্তেজনা আর যা-ই হোক, দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বিশেষ টানাপড়েন সৃষ্টি করেছে; যা প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশেরই ক্ষতির কারণ। যেমন— কুনমিং-কক্সবাজার সড়কের ব্যাপারে বাংলাদেশের আগ্রহ থাকলেও সীমান্ত সংঘাতে সৃষ্ট শীতল সম্পর্ক মিয়ানমারের পক্ষে এ সড়কের অনুমতি প্রদানের অন্তরায় হিসেবে কাজ করবে। প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়কের মাধ্যমে কুনমিংয়ের সংযুক্তির কথা থাকলেও তা এখন ঝুলে পড়েছে।

মিয়ানমারের সাম্প্রতিক রাজনীতির পুরোটাই সেনাশাসকদের অধীনে পর্যুদস্ত। নোবেলজয়ী নেত্রী সু চি শুধু মুখে মুখে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বললেও পর্দার আড়ালে কাজ করে সেখানে একটি মৌলবাদী বৌদ্ধরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করেছেন। আর এজন্য সুকৌশলে কিংবা সরাসরি শক্তি প্রয়োগ করে আদিবাসী মুসলিমদের উত্খাত করাটা তাদের জন্য খুব জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে। জেনারেল নে উইনের আমলে আরাকানে জাতিগত আন্দোলন দমনের নামে ১৯৭৮ সালে যে নাগামিন ড্রাগন অপারেশন চালানো হয়েছিল, তার কালো থাবা আরো বেশি করে উসকে দেয় জাতিগত দাঙ্গাকে। তখনকার আরাকান ন্যাশনাল লিবারেশন পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে হত্যা করা হয় হাজার হাজার মুসলিম নারী-পুরুষ, শিশুকে। তাদের আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, নিপীড়ন ও ধর্ষণে বাধ্য হয়ে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আর মিয়ানমারের সামরিক শাসক থেকে শুরু করে গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী নেত্রী সু চি সবাই এটাকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন। তাদের মনে বদ্ধমূল ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয় যে, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যত বেশি অত্যাচার করা হবে, তারা প্রাণভয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে ছুটতে থাকবে, প্রকারান্তরে অনেক পরিষ্কার হয়ে যাবে মৌলবাদী বৌদ্ধরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ।

রোহিঙ্গাদের ক্রমাগত আগমন জনসংখ্যার ভারে বিধ্বস্ত বাংলাদেশের জন্য উটকো সমস্যা হয়ে দেখা দেয়। ধর্মীয় ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রথম প্রথম বাংলাদেশের কিছু মানুষ উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি দেখায়। কিন্তু ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে উপস্থিত হয়। বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কামনা করে এবং তার ফলও লাভ করে বেশ দ্রুত। ১৯৭৯ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি কিছু শরণার্থী রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফেরার পথ করে দেয়। এ সময় বাদ সাধে নাগরিকত্ব আইন। এর মাধ্যমে মিয়ানমার সরকার ১৯৮৩ সালের পর মিয়ানমারে আগত রোহিঙ্গাদের ভাসমান নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করে। বলতে গেলে এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের পক্ষে সম্পত্তি অর্জন, রাজনৈতিক অধিকার ও অবাধ চলাচল একরকম নিষিদ্ধই হয়ে যায়। পাশাপাশি এ আইনও করা হয় যে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অন্য প্রদেশে গিয়ে বাস করতে পারবে না। উচ্চশিক্ষার সুযোগ না থাকার পাশাপাশি দুই সন্তানের বেশি হলে পিতামাতার ওপর নির্যাতন চালায় সামরিক বাহিনী, অনেক ক্ষেত্রে শিশুসন্তানকে হত্যাও করে তারা। রোহিঙ্গাদের বিয়েতে পর্যন্ত আরোপ করা হয় বিশেষ নিয়ন্ত্রণ। ফলে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আবার দলে দলে পাড়ি জমাতে থাকে বাংলাদেশ সীমান্তে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা চাইছে না রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাক। উপরন্তু তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে। সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুটি মিয়ানমারেরই রাজনৈতিক সমস্যা, যার অংশ বাংলাদেশ নয়। কিন্তু তারা রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন, আরাকান রোহিঙ্গা ইসলামিক ফ্রন্ট, আরাকান ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন— এসব সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ সীমান্তে জোরপূর্বক পুশইন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা তত্পর থাকায় মিয়ানমারের মৌলবাদী বৌদ্ধ গোষ্ঠী ও সামরিক জান্তার কাজ অনেক কঠিন হয়ে গেছে। তাই বিশেষ গোষ্ঠীর নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থায়ী উত্তেজনা বজায় রাখার পথ সুগম করতেই বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালিয়েছে মিয়ানমারের লুন্থিন বাহিনী।

গত মার্চে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়ার পর থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বেশ ভালোই ছিল বলা যেতে পারে। বিশেষ করে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোয় তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন ও বিরোধীদলীয় নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠকও করেন। তখন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্ক বৃদ্ধি, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেয়া হয়। বলা বাহুল্য, তখন বাংলাদেশের সহযোগী হতে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছিল মিয়ানমার। তাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রচিন্তাবিদ সবার মনে এখন একটিই প্রশ্ন মাত্র দুটি মাসের ব্যবধানে এমন কী ঘটে গেছে, যা প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে রক্ত ঝরাচ্ছে? আমাদের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলতে চাইছেন নিছক ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটছে হত্যাকাণ্ড। তবে তার বাইরে আরো কিছু কারণ আছে, যেটা কোনো আশার কথা বলছে না।

বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত শান্ত আছে, এমনটি নয়। বিশেষত আদিবাসী রোহিঙ্গাদের জোর করে বাংলাদেশ পাঠানো, নাফ নদী থেকে বাংলাদেশী জেলেদের পাকড়াও করা, নাইক্ষ্যংছড়ির অরণ্যে কাঠুরিয়াদের নির্যাতন দুটি দেশের শীতল সম্পর্কের কথাই মনে করিয়ে দেয়। অন্যদিকে মাদকের ভয়াবহ ছোবলে বিধ্বস্ত মিয়ানমার গ্রাস করতে চাইছে বাংলাদেশকে। সম্প্রতি বাংলাদেশে আসা প্রাণঘাতী ইয়াবা ট্যাবলেটের মূল উৎস মিয়ানমার। মিয়ানমারের চোরাচালানিদের নিয়ে আসা ইয়াবা ও বিভিন্ন ধরনের ড্রাগস আটকে দিতে সদাতত্পর আমাদের সাহসী সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এগুলোর পাশাপাশি অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া পাঠানোর কাজে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারেও বাধা দেয় বিজিবি সদস্যরা। সম্প্রতি কোস্টগার্ডের সহায়তায় নৌকায় সাগর পাড়ি দেয়া বেশ কয়েকটি বহর আটকে দেয় তারা। বলতে গেলে নিছক দুর্ঘটনা তো নয়ই বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সীমান্তে ত্রাস সৃষ্টির জন্য বিজিবির মিজানুর রহমানকে গুলি করে হত্যা করে লুন্থিন বাহিনী। একে তাই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে গ্রহণ না করে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও উপযুক্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। মিয়ানমার বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশলগত দিক থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রক্ষার প্রয়োজনে অনর্থক সংঘাত ও উত্তেজনা কাম্য নয়।

নাইক্ষ্যংছড়িতে গুপ্তচর সন্দেহে ভারতীয় নাগরিক আটক

1402327323.

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

গুপ্তচর সন্দেহে বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয় ( বিজিবি) ।

গত ৮ জুন সন্ধ্যা ৭.০০ টায় সোমবার চাকঢালা সীমান্ত এলাকার আমতলা থেকে আটকের পর উক্ত ব্যাক্তিকে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সোপর্দ করা হয়। স্থানীয় চাকঢালা বিজিবি সদস্যরা গোপন সংবাদে ভিত্তিতে ওই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে ।

চাকঢালা বিওপির কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার আব্দু খালেক ওই ব্যক্তিকে আটকের পর বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় পাসপোর্ট আইনের অবৈধ নাগরিক অনুপ্রবেশ আইনে মামলা দায়ের করে । । মামলা নং ০৪(০৯/০৬/২০১৪ইং) ।

জানা গেছে, জগলু সিং (৫০) নামে এক ব্যাক্তি বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের চাকঢালা এলাকায় ঘুরাঘুরির সময় গোয়েন্দা সংস্থার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাকঢালা বিওপি টহলদল ঐ ব্যাক্তিকে আটক করে। সে নিজের নাম জগলু সিং প্রকাশ আরান্দা সিং ও তাঁর বাবার নাম মিটু সিং নাম উল্লেখ করলেও অন্য কোন তথ্য পাওয়া যায়নি । পুলিশের জিঞ্জাসাবাদে সে ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের নাগরিক বলে জানায়।

বিজিবি আটকের পর ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাবাদপূর্বক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান নাইক্ষ্যংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মো: রফিকুল ইসলাম ।

উল্লেখ যে,সম্প্রতি মায়ানমার সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ও বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি) সাথে সৃষ্ট সমস্যার পর মায়ানমার ও ভারত সীমান্ত এলাকায় গুপ্তচর নিয়োগ করে । গত সপ্তাহে নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা থেকে এক মায়ানমার গুপ্তচরক নাগরিককে বিজিবি আটক করে উখিয়া থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করে ।

দীঘিনালায় জোন সদরদপ্তর স্থাপন নিয়ে বিরোধ মেটাতে পাহাড়ী প্রতিনিধিদের সাথে বিজিবি’র বৈঠক

?????????????????????????????

স্টাফ রিপোর্টার:

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫১ ব্যাটালিয়নের জোন সদর দপ্তর স্থাপন কার্যক্রমকে ঘিরে পাহাড়ীদের সাথে ভূল বুঝাবুঝি অবসানের লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেছে বিজিবি।

 

মঙ্গলবার সকালে বাবুছড়া বিজিবি’র জোন সদরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, হেডম্যান, কার্বারী এবং দীঘিনালা ভূমি রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে প্রতিনিধিরা জানান, বিজিবির অধিগ্রহণকৃত ভূমি খাস। কিন্তু পাহাড়িরা তাদের প্রথাগত অধিকার মতে পাহাড়ের সব জমি তাদের- দাবীতে দখল ছাড়তে রাজি হয়নি। তবে স্থানীয়দের বুঝিয়ে বিষয়টি সুরাহা করার দায়িত্ব নিয়েছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নবকমল চাকমা। তবু কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে মানবিক বিবেচনায় তাদের ক্ষতিপুরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বিজিবি’র পক্ষ থেকে।

গত ১৫ মে বাবুছড়া বিজিবি জোন সদর দপ্তর স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। এরপর থেকেই বিজিবি’র কার্যক্রম স্থগিতের দাবীতে দীঘিনালা ভূমি রক্ষা কমিটির ব্যানারে মানববন্ধন, স্বারকলিপি প্রদানসহ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে পাহাড়ীদের একটি অংশ।

সভায় স্থানীয়দের মতামত তুলে ধরে দেয়া বক্তব্যে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নবকমল চাকমা, দীঘিনালা ভূমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক পরিতোষ চাকমা, সংশ্লিষ্ট মৌজার হেডম্যান প্রান্তর চাকমা। তারা বিজিবি’র সদর দপ্তর স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে জানান, অধিগ্রহনকৃত ভূমি খাস হলেও পাহাড়িরা প্রথাগত অধিকারের দাবীতে ভূমি না ছাড়ার দাবীতে আন্দোলন করছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

বৈঠকে বিজিবি’র জোন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আবুল কালাম আজাদ জানান, দীঘিনালার নাড়াইছড়ি এলাকায় ভারতের সাথে বাংলাদেশের ১২৯ কিঃমিঃ সীমান্ত অরক্ষিত রয়েছে। তা বিজিবি’র নিয়ন্ত্রণে পাহারায় আনতে নতুন ব্যাটালিয়ন সৃষ্টি করেছে সরকার। ৩টি বাটালিয়ন ১২৯ কিঃ মিঃ সীমান্ত চৌকি পাহারা দেবে। এর মধ্যে বাবুছড়া ৫১ ব্যাটালিয়ন সীমান্ত এলাকায় বিওপি করে চৌকি দেবে ৪৭ কিঃ মিঃ সীমান্ত। সে লক্ষেই আইন-কানুন এবং নিয়ম নীতির মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে বিজিবি। কারো ক্ষতি সাধন করা বিজিবি’র কাজ নয়।

তিনি আরো জানান, অধিগ্রহনের জন্য প্রস্তাবিত জায়গার যে অংশ নিয়ে আদালতে রীট আবেদন করেছে সে জায়গা বাদ দিয়ে জেলা প্রশাসন বিজিবিকে জায়গা হস্তান্তর করেছে।

নাইক্ষ্যংছড়িতে নিহত বিজিবি সদস্যের লাশ ফেরত: নিখোঁজ ৪ জন ফিরে এসেছে: সতর্কাবস্থায় বিজিবি সেনাবাহিনী: সীমান্তের পরিস্থিতি এখনো থমথমে

ZZZ

নুরুল আলম সাঈদ, নাইক্ষ্যংছড়ি:

অবশেষে তিন দিন পর বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের দূর্গম পাইনছড়ির ৫২ সীমান্ত পিলার দিয়ে শনিবার বিকাল ৪ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে লেমুছড়ির পাইনছড়ি অস্থায়ী ক্যাম্পের নায়েক মিজানুর রহমানের মরদেহ হস্তান্তর করেছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) । এছাড়া গত শুক্রবার রাত ৮ টায় নিখোঁজ হওয়া ৪ বিজিবি সদস্য ফেরত এসেছে । চার বিজিবি সদস্য হলেন, বিজিবি ৩১ ব্যাটালিয়নের হাবিলদার মোতালেব, ল্যান্স নায়েক বাতেন, সিপাহী জাহাঙ্গীর ও আমিনুল।

 

এদিকে মিয়ানমারের ব্যাপক সমর সজ্জার বিপরীতে বাংলাদেশ  সীমান্তের ভিতর ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা বেষ্টিনী নতুন করে বিন্যাস করা হয়েছে । এছাড়া সীমান্তের ৩ কিলোমিটারের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে বাসিন্দারা সরে এসেছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে । সীমান্ত এলাকায় এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে । নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শফিকুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছে । তিনি শনাক্তকৃত লাশটি নিখোঁজ বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমানের বলে জানান ।

শনিবার বিকেলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের পাইনছড়ি ৫২ নম্বর পিলারে লাশ হস্তান্তর বিষয়ে বিজিবি ও মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) মধ্যে বৈঠক শেষে উক্ত বিজিবি সদস্য নায়েক মিজানের মরদেহ হস্তান্তর করা হয় । বেলা আড়াই দিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সাফায়াৎ মো. শাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘বিজিবি সূত্রে জেনেছি, মিজানুরের লাশ হস্তান্তরের কথামত পাইনছড়ি এলাকা থেকে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে ।

এদিকে ওই সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির জের ধরে বিজিবি অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন এবং সীমান্ত এলাকায় শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি টহল জোরদার করেছে। এছাড়া সীমান্তের বিভিন্ন দুরবর্তী এলাকায় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে । বাংলাদেশের পক্ষে ৫০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের উপ অধিনায়ক মেজর তারেক এর নেতৃত্বে এই মরদেহ গ্রহণ করে । এসময় উপস্থিত ছিলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের উপ -পরিচালক (এডি) মোশারফ হোসেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সাবের মিয়া, বিজিবির নায়েক সুবেদার জাহাঙ্গীরসহ ১৭ সদস্য বিশিষ্ট দল । মায়ানমারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, মায়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)’র ২ ব্যাটালিয়নের থিং খাংসহ ২০ সদস্যদল ।

এদিকে, বিজিবির নিখোঁজ নায়েক মিজানুর রহমানের লাশ ফেরত চেয়ে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিজিবির পক্ষ থেকে বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানো হয়। দীর্ঘ আলোচনা শেষে বিকাল চার টায় মিজানের লাশ ফেরত দেয় । প্রত্যক্ষদর্শী মায়ানমারের বাউন্ডোলা ১নং সেক্টরের সাব ক্যাম্প থেকে ওই মরদেহ নাইক্ষ্যংছড়ির মায়ানমার সীমান্তের তেছড়ি খাল দিয়ে নৌকা করে পাইনছড়ি ক্যাম্পে রাখে । এরপর দোভাষী দীন মোহাম্মদ, ,দৌছড়ি ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার মুজিবুর রহমান ও মৃত শহর আলীর পুত্র সাইফুল ঘটনাটি বিজিবির কর্মকর্তাদের জানায় । পরে বিজিবি কর্মকর্তাগণ সনাক্ত করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ওই মরদেহ গ্রহণ করে । এরপর সন্ধ্যা ৬ টায় ওই মরদেহ লেমুছড়ি বিওপি ক্যাম্পে নিয়ে যায় । নাইক্ষ্যংছড়ি থানার পুলিশ পরিদর্শক শাহিনুর রহমান শাহিন ওই লাশ বিজিবি থেকে গ্রহণ করে ওই স্থানে।

ii

 

অপরদিকে, শুক্রবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে ফের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ফলে বিজিবি সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। মায়ানমার ও তাদের কাউয়ার বিল বিজিবি হেডকোয়ার্টার থেকে ওয়ালিদং বিজিপি ক্যাম্প, টাইগার পোষ্ট ৪ নং সাব ক্যাম্প,বানডোলা ১ সেক্টরের সাব ক্যাম্প, আমতলী, রাইবনিয়া, অংচা বেরে ক্যাম্পে ২০০ জন করে সেনা কমান্ডো ও অতিরক্তি বিজিপি মোতায়েন করে । তারা মর্টারসেল ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছে ।

শনিবার সকাল ১১ টায় বিজিপি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ৩টি মর্টার সেল নিক্ষেপ করে । বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল লুৎফুর করিম বলেন, ভারি অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ বাড়ানোসহ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে বিজিবিও। সীমান্তের বাইশফাঁড়ি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্তরক্ষীর পোশাকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরাও দৌছড়ি, পাইনছড়ি, তুমরু সীমান্তে অবস্থান করছেন। এতে প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলো। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয় লাভে ইতিমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরে গিয়েছেন।

শনিবার সকাল ৯ টা থেকে লেমছড়ি ক্যাম্প ও পাইনছড়ি সীমান্ত এলাকায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহে দুল ইসলাম,বিজিবির কক্সবাজারের সেক্টর কমান্ডার খন্দকার ফরিদ হাসান, ৫০, ১৭ ও নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ৩১ বিজিবির অধিনায়ক লে.কর্ণেল সফিকুর রহমান বিগ্রেড কমান্ডারসহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন । নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহে দুল ইসলাম পাইন ছড়ি,বাহিরমাঠ ,কুলাচি,লেমুছড়ি,তুলাতলীসহ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের এই ঘটনার জন্য আতংকিত না হওয়ার জন্য আহবান জানান । তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই পরিস্থিতি সাবধানে মোকাবেলা করা হচ্ছে বলে জানান ।

উল্লেখ্য গত বুধবার সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি-মিয়ানমার সীমান্তের ৫২ নম্বর পিলারের কাছে ৩১ বিজিবির একটি টহল দলকে লক্ষ্য করে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা গুলিবর্ষণ করেন। পরে এ নিয়ে বিজিবির সঙ্গে তাদের গুলি বিনিময় হয়। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন বিজিবির নায়েক মিজানুর রহমান ।

 

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলিতে আরো ৪ বিজিবি সদস্য নিখোঁজ (ভিডিওসহ)

মর্টার, রকেট লঞ্চারের মতো ভারী অস্ত্র ব্যবহার করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী: নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছে সীমান্তবাসী

মমম

মেহেদী হাসান পলাশ/ নুরুল আলম সাঈদ:

অপহৃত নায়েব সুবেদার মিজানের লাশ ফেরত নিতে আহ্বান জানিয়ে অপেক্ষমান বিজিবির কর্মকর্তা ও জওয়ানদের লক্ষ্য করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী,  কমান্ডো ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিবর্ষণ করে। এসময় বিজিবিও আত্মরক্ষার্থে গুলিবর্ষণ করে। ফলে উভয় পক্ষের পাল্টা গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনায় আরো চারজন বিজিবি সদস্য নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে নিখোঁজের ব্যাপারে বিজিবির কোন কর্মকর্তারা স্বীকার করেননি।

 

গতকাল ৩০ মে দুপুর ২.৩০ ঘটিকায় ৫২ পিলার এলাকায় কোন আলোচনা ছাড়াই এ ঘটনা ঘটে। এই খবর নিশ্চিত করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি। এদিকে গত বুধবার বিজিপির গুলিতে নিহত বিজিবি সদস্য নায়েক মিজানুর রহমানের মরদেহ মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ফেরত দেয়নি। উল্টো বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক গুলি ছুড়েছে মিয়ানমারের পুলিশ বাহিনী বিজিপি  ও তাদের সেনাবাহিনী  এবং স্পেশাল কমান্ডো বাহিনী। তবে এ ঘটনার পর থেকে সীমান্ত টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাইক্ষ্যংছড়ি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে: কর্নেল শফিকুর রহমান।

সীমান্তে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘঠনার কারনে পুরো সীমান্ত এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। মিয়ানমার পক্ষ থেকে মর্টারসেল, রকেট লঞ্চার প্রভৃতি ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে গোলা নিক্ষেপ করার পর ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের ৪জন বিজিবি সদস্য নিখোঁজ রয়েছে । এরা হলেন, হাবিলদার মোতালেব, ল্যান্স নায়েক বাতেন, সিপাহী আমিনূল এবং জাহাঙ্গীর। বিজিবি’র ৬০ জনের টহলদলের সাথে ৫৬ জন ফেরত আসলেও বাকী ৪জন ফেরত আসেনি ।

সীমান্তে রণসজ্জা

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ির দূর্গম পাহাড়ী জনপদ পাইনছড়ি ৫২নং পিলার এলাকায় বিজিবি নিয়মিত টহলদানকালে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ বিনা উস্কানিতে বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ৩ শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করার ঘটনায় মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে ব্যাপক সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়ে রণসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে বলে নিভর্রযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। মিয়ানমার মংডু শহরের বলি বাজার, ফকিরা বাজার, ওয়ালিদং, তুমরু ও ঢেকিবনিয়া সীমান্ত এলাকায় ১নং ও ২ নং সেনাবাহিনীর সেক্টরে তারা অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্ট এলাকায় অঘোষিত কারফিউ চলছে। এমনকি বিজিবি সদস্যরা এ মুহুর্তে ক্যাম্প ছেড়ে কোথাও যাচ্ছে না।

জানা গেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বিজিপি’র বাউন্ডুলা ক্যাম্প এলাকায় তাদের দেশের দুই শতিাধিক কমান্ডো বাহিনী মোতায়েন করেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, মিয়ানমান সেনাবাহিনীর অবস্থান পাহাড়ের উপর এবং বিজিবি’র অবস্থান পাহাড়ের নীচে হওয়ায় কৌশলগতভাবে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। সূত্রটি আরো জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের আশেপাশে বসবাসরত মিয়ানমারের জাতিগোষ্ঠীভূক্ত উপজাতি জনগোষ্ঠীর কারণে বিজিবি’র অবস্থান মিয়ানমারের সেনাসদস্যরা জেনে যাচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার সকালে মিয়ানমার নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু সীমান্তের ওপারে তিন শতাধিক সেনা সদস্য মোতায়েন করলে বাংলাদেশও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ঘন্টা দুয়েক পর তারা সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় একটি ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগ্রেড মোতায়েন করেছে।

বুধবারে পাইনছড়ি সীমান্ত এলাকায় বিজিপির গুলি বর্ষণে ওই ক্যাম্পের নায়েক মিজানুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে বলে সরকারী দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনী তার লাশ মংডু হাসপাতালে হস্তান্তর করেছে বলে জানা গেছে। তবে তারা স্থানীয় গণমাধ্যমে এ লাশের পরিচয় আরএসও সদস্য বলে প্রচার করছে।

বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) তার লাশ শুক্রবার সকালে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির হাতে হস্তান্তর করার কথা জানিয়ে পত্র পাঠালেও এ রিপোর্ট লেখাকালীন সময় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিজিবির কর্মকর্তার লাশ ফেরত দেয়নি মিয়ানমার। এ উদ্ভুট পরিস্থিতিতে উখিয়া-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী লোকজনের মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। যার ফলে উভয় সীমান্ত এলাকা জনমানব শূন্য হয়ে পড়েছে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদ্য স্থাপিত পাইনছড়ি বিওপি ক্যাম্প থেকে গত বুধবার একদল বিজিবি নিয়মিত টহলের উদ্দেশ্যে বের হয়ে দোছড়ি ও তেছড়ি খালের সংযোগস্থলে পৌছঁলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিয়ানমারের ওপার থেকে বিজিপি তাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা দিক-বেদিক ছুটাছুটি করে পালিয়ে গেলেও দায়িত্বরত নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়।

ঘটনাস্থল থেকে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ জাতিসংঘের কনভেনশন আইন অমান্য করে বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো পয়েন্ট এলাকায় অনুপ্রবেশ করে অস্ত্র ও গোলা বারুদসহ তাকে নিয়ে যায়। যে কারণে এখনো পর্যন্ত ওই বিজিবি কর্মকর্তা নিখোঁজ রয়েছে।  স্থানীয়রা জানান, যেহেতু ঘটনাস্থলে রক্তের আলামত দেখা গেছে তাই মনে করা হচ্ছে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

উল্লেখ্য যে, ১৯৯১ সালের শেষের দিকে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী তৎকালীন নাসাকা বাহিনী অর্তকিতভাবে ঘুমধুমের রেজু ফাত্রাঝিরি বিজিবি ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে এক বিজিবি সদস্যকে নিহত করে অস্ত্র ও গোলা বারুদ লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনাকে পুঁজি করে মিয়ানমার থেকে প্রায় আড়াই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ঘটে।

ধারণা করা হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের আবারো বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে মিয়ানমারের বিজিপি সদস্য সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বার বার গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটাচ্ছে। বর্তমানে ওই সময় চলে আসা বৈধ ও অবৈধ প্রায় ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অবস্থান করছে। এছাড়াও বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিনিয়ত সীমান্ত পেরিয়ে অহরহ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে আশ্রয় নিচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে সীমান্ত এলাকা সরজমিন ঘুরে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বাইশপারি ৪১ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায় মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের গুলি বর্ষনের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে আতংক বিরাজ করছে। ঘুমধুম বিজিবির সুবেদার সাহাব উদ্দিন জানান, সীমান্তের উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে লোকজন আতংকগ্রস্ত হয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছে না। যে কারণে সীমান্তের উভয়পাড়ে মানব শুন্য হয়ে পড়েছে। রেজু আমতলী ক্যাম্পের সুবেদার মোঃ সোহরাব হোসেন জানান, বিজিপির গুলি বর্ষনের ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি সদস্যদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কঠোর সর্তক রাখা হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল শুক্রবার পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিহত বিজিবির নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের লাশ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও বিকাল পর্যন্ত ফেরত দেয়নি। কক্সবাজার ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল খন্দকার সাইফুল আলম বলেন, বুধবারে পাইনছড়ি সীমান্ত এলাকায় গুলি বর্ষনের ঘটনার পর থেকে আমার নিয়ন্ত্রনাধীন ১৮ হতে ৪০ নং সীমান্ত পিলার পর্যন্ত সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং তাদেরকে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মিয়ানমার আগে থেকে সীমান্তে অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে। সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত দু’দেশের মধ্যে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে একটি বৈঠক আগামী ৩ জুন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ সাঈদুল ইসলামের নিকট বিজিবির উপর গুলি বর্ষনের ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুক্রবারও পাইনছড়ি সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার বিজিপি সদস্যরা আবারো দফায় দফায় গুলি বর্ষন অব্যাহত রেখেছে। যে কারণে বিজিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকায় যোগাযোগ করতে না পারায় বিস্তারতি জানানো সম্ভব হচ্ছে না। বিজিবি’র চট্টগ্রাম রিজিয়নের কমান্ডার ব্রি. জে. আহমদ হোসেন পার্বত্যনিউজকে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে টেলিফোনে কথা বলা সম্ভব হচ্ছে না। কক্সবাজার বিজিবির সেক্টর কমান্ডর খোন্দকার ফরিদ হাসানের মুঠোফোনে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

দৌছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ বলেন, পাইনছড়ি এলাকায় বিজিপি আবারো শুক্রবারে গুলিবর্ষণ করার ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় পূর্ব নির্ধারিত পতাকা বৈঠক হয়নি। ফলে লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়াও স্থগিত হয়ে যায়। উপরোন্ত সীমান্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নিহত নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের মরদেহ ফিরিয়ে আনতে দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের সঙ্কটকে দায়ী করেছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। লোক মারফত যোগাযোগের ফলে দু’দেশের ভুল বুঝাবুঝিতে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে বলে শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমকে বলেছেন। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনায় মায়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ মায়ো মিন্টথানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে কৈফিয়ত তলব করা হয়।

 

নাইক্ষ্যংছড়িতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গুলির মুখে বিজিবি : বন্দুকযুদ্ধ চলছে

Bandarban

স্টাফ রির্পোটারঃ

বান্দরবান সীমান্তে নিখোঁজ বিজিবির নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের লাশ ফেরত আনতে গিয়ে ফের মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী  বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) গুলির মুখে পড়েছে বিজিবি সদস্যরা। আজ শুক্রবার আড়াইটার দিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি এলাকার পাইনছড়ির ৫০নং সীমান্ত পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটেছে।

 

বিজিবির সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিজিবিকে লক্ষ্য করে বিজিপির গুলি ছোঁড়ার পর থেকে নিখোঁজ নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের লাশ শুক্রবার সকাল ১১টায় ফেরত দেয়ার কথা ছিল মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর। সে অনুযায়ী বিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহম্মদ আলী ও কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল ফরিদসহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শুক্রবার সকাল ১১টায় পাইনছড়ির ৫২ নম্বর পিলারের কাছে একটি কফিন নিয়ে অবস্থান করে। এ সময় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী দূর্গম ৫০নং পিলারে যেতে বলে। সে অনুযায়ী বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে লাশ ফেরত না দিয়ে বিজিবির কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ২.৫০ মিনিট থেকে গুলি ছুঁড়তে থাকে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি ছুঁড়েছে। বাংলাদেশের অস্থায়ী পাইনছড়ি ক্যাম্পের বিপরীতে বিজিপি’র বাউন্ডুলা ক্যাম্পের অবস্থান থেকে এই গুলিবর্ষণ করা হয়।

এদিকে টানা বিকাল ৪.৩০ টা পর্যন্ত গুলি বিনিময়ের পর আধাঘন্টা বিরতি দিয়ে আবার গুলি বর্ষণ শুরু করে মিয়ানমার। এ রিপোর্ট লেখা (৫.৪৫) পর্যন্ত গুলি বিনিময় চলছিল। বাংলাদেশ সীমান্তের ৫০-৫১ পিলার বরাবর এই বাহিরমাঠ এলাকায় এই গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। মিয়ারমার তার দেশের সেনাবাহিনীর পাশাপাশি কমান্ডো ইউনিট সীমান্তে মোতায়েন করেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। 

এর আগে শুক্রবার সকালে বান্দরবান সীমান্তের তুমব্রু, ঘুনধুম, আশারতলি এলাকায় মিয়ানমারের তিন শতাধিক সেনাবাহিনীর সদস্য রণসজ্জায় সজ্জিত হয়ে অবস্থান নেয়। এতে সীমান্তে বসবাসকারী লোকজনদের মধ্যে আতংক-উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। এসময় নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশও পাল্টা ব্যবস্থা নিয়ে ঘন্টা দুয়েক পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রণসজ্জা নেয়ায় দোছড়ি সীমান্তে বিজিবির অতিরিক্ত সৈনিক মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগ্রেড নাইক্ষ্যংছড়িতে মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, বুধবার সকাল ৯টায় নিখোঁজ হওয়ার ৩০ ঘণ্টা পরও পাইনছড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ (আইসি) নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমানসহ এসএমজি একটি অস্ত্র ও ১২০ রাউন্ড গুলির সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ মিজান কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভেলা নগর এলাকার বাসিন্দা।