নাইক্ষ্যংছড়িতে নিহত বিজিবি সদস্যের লাশ ফেরত: নিখোঁজ ৪ জন ফিরে এসেছে: সতর্কাবস্থায় বিজিবি সেনাবাহিনী: সীমান্তের পরিস্থিতি এখনো থমথমে

ZZZ

নুরুল আলম সাঈদ, নাইক্ষ্যংছড়ি:

অবশেষে তিন দিন পর বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের দূর্গম পাইনছড়ির ৫২ সীমান্ত পিলার দিয়ে শনিবার বিকাল ৪ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে লেমুছড়ির পাইনছড়ি অস্থায়ী ক্যাম্পের নায়েক মিজানুর রহমানের মরদেহ হস্তান্তর করেছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) । এছাড়া গত শুক্রবার রাত ৮ টায় নিখোঁজ হওয়া ৪ বিজিবি সদস্য ফেরত এসেছে । চার বিজিবি সদস্য হলেন, বিজিবি ৩১ ব্যাটালিয়নের হাবিলদার মোতালেব, ল্যান্স নায়েক বাতেন, সিপাহী জাহাঙ্গীর ও আমিনুল।

 

এদিকে মিয়ানমারের ব্যাপক সমর সজ্জার বিপরীতে বাংলাদেশ  সীমান্তের ভিতর ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা বেষ্টিনী নতুন করে বিন্যাস করা হয়েছে । এছাড়া সীমান্তের ৩ কিলোমিটারের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে বাসিন্দারা সরে এসেছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে । সীমান্ত এলাকায় এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে । নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শফিকুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছে । তিনি শনাক্তকৃত লাশটি নিখোঁজ বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমানের বলে জানান ।

শনিবার বিকেলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের পাইনছড়ি ৫২ নম্বর পিলারে লাশ হস্তান্তর বিষয়ে বিজিবি ও মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) মধ্যে বৈঠক শেষে উক্ত বিজিবি সদস্য নায়েক মিজানের মরদেহ হস্তান্তর করা হয় । বেলা আড়াই দিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সাফায়াৎ মো. শাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘বিজিবি সূত্রে জেনেছি, মিজানুরের লাশ হস্তান্তরের কথামত পাইনছড়ি এলাকা থেকে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে ।

এদিকে ওই সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির জের ধরে বিজিবি অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন এবং সীমান্ত এলাকায় শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি টহল জোরদার করেছে। এছাড়া সীমান্তের বিভিন্ন দুরবর্তী এলাকায় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে । বাংলাদেশের পক্ষে ৫০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের উপ অধিনায়ক মেজর তারেক এর নেতৃত্বে এই মরদেহ গ্রহণ করে । এসময় উপস্থিত ছিলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের উপ -পরিচালক (এডি) মোশারফ হোসেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সাবের মিয়া, বিজিবির নায়েক সুবেদার জাহাঙ্গীরসহ ১৭ সদস্য বিশিষ্ট দল । মায়ানমারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, মায়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)’র ২ ব্যাটালিয়নের থিং খাংসহ ২০ সদস্যদল ।

এদিকে, বিজিবির নিখোঁজ নায়েক মিজানুর রহমানের লাশ ফেরত চেয়ে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিজিবির পক্ষ থেকে বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানো হয়। দীর্ঘ আলোচনা শেষে বিকাল চার টায় মিজানের লাশ ফেরত দেয় । প্রত্যক্ষদর্শী মায়ানমারের বাউন্ডোলা ১নং সেক্টরের সাব ক্যাম্প থেকে ওই মরদেহ নাইক্ষ্যংছড়ির মায়ানমার সীমান্তের তেছড়ি খাল দিয়ে নৌকা করে পাইনছড়ি ক্যাম্পে রাখে । এরপর দোভাষী দীন মোহাম্মদ, ,দৌছড়ি ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার মুজিবুর রহমান ও মৃত শহর আলীর পুত্র সাইফুল ঘটনাটি বিজিবির কর্মকর্তাদের জানায় । পরে বিজিবি কর্মকর্তাগণ সনাক্ত করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ওই মরদেহ গ্রহণ করে । এরপর সন্ধ্যা ৬ টায় ওই মরদেহ লেমুছড়ি বিওপি ক্যাম্পে নিয়ে যায় । নাইক্ষ্যংছড়ি থানার পুলিশ পরিদর্শক শাহিনুর রহমান শাহিন ওই লাশ বিজিবি থেকে গ্রহণ করে ওই স্থানে।

ii

 

অপরদিকে, শুক্রবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে ফের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ফলে বিজিবি সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। মায়ানমার ও তাদের কাউয়ার বিল বিজিবি হেডকোয়ার্টার থেকে ওয়ালিদং বিজিপি ক্যাম্প, টাইগার পোষ্ট ৪ নং সাব ক্যাম্প,বানডোলা ১ সেক্টরের সাব ক্যাম্প, আমতলী, রাইবনিয়া, অংচা বেরে ক্যাম্পে ২০০ জন করে সেনা কমান্ডো ও অতিরক্তি বিজিপি মোতায়েন করে । তারা মর্টারসেল ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছে ।

শনিবার সকাল ১১ টায় বিজিপি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ৩টি মর্টার সেল নিক্ষেপ করে । বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল লুৎফুর করিম বলেন, ভারি অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ বাড়ানোসহ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে বিজিবিও। সীমান্তের বাইশফাঁড়ি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্তরক্ষীর পোশাকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরাও দৌছড়ি, পাইনছড়ি, তুমরু সীমান্তে অবস্থান করছেন। এতে প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলো। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয় লাভে ইতিমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরে গিয়েছেন।

শনিবার সকাল ৯ টা থেকে লেমছড়ি ক্যাম্প ও পাইনছড়ি সীমান্ত এলাকায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহে দুল ইসলাম,বিজিবির কক্সবাজারের সেক্টর কমান্ডার খন্দকার ফরিদ হাসান, ৫০, ১৭ ও নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ৩১ বিজিবির অধিনায়ক লে.কর্ণেল সফিকুর রহমান বিগ্রেড কমান্ডারসহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন । নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহে দুল ইসলাম পাইন ছড়ি,বাহিরমাঠ ,কুলাচি,লেমুছড়ি,তুলাতলীসহ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের এই ঘটনার জন্য আতংকিত না হওয়ার জন্য আহবান জানান । তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই পরিস্থিতি সাবধানে মোকাবেলা করা হচ্ছে বলে জানান ।

উল্লেখ্য গত বুধবার সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি-মিয়ানমার সীমান্তের ৫২ নম্বর পিলারের কাছে ৩১ বিজিবির একটি টহল দলকে লক্ষ্য করে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা গুলিবর্ষণ করেন। পরে এ নিয়ে বিজিবির সঙ্গে তাদের গুলি বিনিময় হয়। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন বিজিবির নায়েক মিজানুর রহমান ।

 

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলিতে আরো ৪ বিজিবি সদস্য নিখোঁজ (ভিডিওসহ)

মর্টার, রকেট লঞ্চারের মতো ভারী অস্ত্র ব্যবহার করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী: নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছে সীমান্তবাসী

মমম

মেহেদী হাসান পলাশ/ নুরুল আলম সাঈদ:

অপহৃত নায়েব সুবেদার মিজানের লাশ ফেরত নিতে আহ্বান জানিয়ে অপেক্ষমান বিজিবির কর্মকর্তা ও জওয়ানদের লক্ষ্য করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী,  কমান্ডো ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিবর্ষণ করে। এসময় বিজিবিও আত্মরক্ষার্থে গুলিবর্ষণ করে। ফলে উভয় পক্ষের পাল্টা গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনায় আরো চারজন বিজিবি সদস্য নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে নিখোঁজের ব্যাপারে বিজিবির কোন কর্মকর্তারা স্বীকার করেননি।

 

গতকাল ৩০ মে দুপুর ২.৩০ ঘটিকায় ৫২ পিলার এলাকায় কোন আলোচনা ছাড়াই এ ঘটনা ঘটে। এই খবর নিশ্চিত করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি। এদিকে গত বুধবার বিজিপির গুলিতে নিহত বিজিবি সদস্য নায়েক মিজানুর রহমানের মরদেহ মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ফেরত দেয়নি। উল্টো বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক গুলি ছুড়েছে মিয়ানমারের পুলিশ বাহিনী বিজিপি  ও তাদের সেনাবাহিনী  এবং স্পেশাল কমান্ডো বাহিনী। তবে এ ঘটনার পর থেকে সীমান্ত টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাইক্ষ্যংছড়ি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে: কর্নেল শফিকুর রহমান।

সীমান্তে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘঠনার কারনে পুরো সীমান্ত এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। মিয়ানমার পক্ষ থেকে মর্টারসেল, রকেট লঞ্চার প্রভৃতি ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে গোলা নিক্ষেপ করার পর ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের ৪জন বিজিবি সদস্য নিখোঁজ রয়েছে । এরা হলেন, হাবিলদার মোতালেব, ল্যান্স নায়েক বাতেন, সিপাহী আমিনূল এবং জাহাঙ্গীর। বিজিবি’র ৬০ জনের টহলদলের সাথে ৫৬ জন ফেরত আসলেও বাকী ৪জন ফেরত আসেনি ।

সীমান্তে রণসজ্জা

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ির দূর্গম পাহাড়ী জনপদ পাইনছড়ি ৫২নং পিলার এলাকায় বিজিবি নিয়মিত টহলদানকালে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ বিনা উস্কানিতে বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ৩ শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করার ঘটনায় মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে ব্যাপক সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়ে রণসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে বলে নিভর্রযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। মিয়ানমার মংডু শহরের বলি বাজার, ফকিরা বাজার, ওয়ালিদং, তুমরু ও ঢেকিবনিয়া সীমান্ত এলাকায় ১নং ও ২ নং সেনাবাহিনীর সেক্টরে তারা অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্ট এলাকায় অঘোষিত কারফিউ চলছে। এমনকি বিজিবি সদস্যরা এ মুহুর্তে ক্যাম্প ছেড়ে কোথাও যাচ্ছে না।

জানা গেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বিজিপি’র বাউন্ডুলা ক্যাম্প এলাকায় তাদের দেশের দুই শতিাধিক কমান্ডো বাহিনী মোতায়েন করেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, মিয়ানমান সেনাবাহিনীর অবস্থান পাহাড়ের উপর এবং বিজিবি’র অবস্থান পাহাড়ের নীচে হওয়ায় কৌশলগতভাবে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। সূত্রটি আরো জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের আশেপাশে বসবাসরত মিয়ানমারের জাতিগোষ্ঠীভূক্ত উপজাতি জনগোষ্ঠীর কারণে বিজিবি’র অবস্থান মিয়ানমারের সেনাসদস্যরা জেনে যাচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার সকালে মিয়ানমার নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু সীমান্তের ওপারে তিন শতাধিক সেনা সদস্য মোতায়েন করলে বাংলাদেশও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ঘন্টা দুয়েক পর তারা সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় একটি ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগ্রেড মোতায়েন করেছে।

বুধবারে পাইনছড়ি সীমান্ত এলাকায় বিজিপির গুলি বর্ষণে ওই ক্যাম্পের নায়েক মিজানুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে বলে সরকারী দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনী তার লাশ মংডু হাসপাতালে হস্তান্তর করেছে বলে জানা গেছে। তবে তারা স্থানীয় গণমাধ্যমে এ লাশের পরিচয় আরএসও সদস্য বলে প্রচার করছে।

বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) তার লাশ শুক্রবার সকালে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির হাতে হস্তান্তর করার কথা জানিয়ে পত্র পাঠালেও এ রিপোর্ট লেখাকালীন সময় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিজিবির কর্মকর্তার লাশ ফেরত দেয়নি মিয়ানমার। এ উদ্ভুট পরিস্থিতিতে উখিয়া-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী লোকজনের মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। যার ফলে উভয় সীমান্ত এলাকা জনমানব শূন্য হয়ে পড়েছে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদ্য স্থাপিত পাইনছড়ি বিওপি ক্যাম্প থেকে গত বুধবার একদল বিজিবি নিয়মিত টহলের উদ্দেশ্যে বের হয়ে দোছড়ি ও তেছড়ি খালের সংযোগস্থলে পৌছঁলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিয়ানমারের ওপার থেকে বিজিপি তাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা দিক-বেদিক ছুটাছুটি করে পালিয়ে গেলেও দায়িত্বরত নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়।

ঘটনাস্থল থেকে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ জাতিসংঘের কনভেনশন আইন অমান্য করে বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো পয়েন্ট এলাকায় অনুপ্রবেশ করে অস্ত্র ও গোলা বারুদসহ তাকে নিয়ে যায়। যে কারণে এখনো পর্যন্ত ওই বিজিবি কর্মকর্তা নিখোঁজ রয়েছে।  স্থানীয়রা জানান, যেহেতু ঘটনাস্থলে রক্তের আলামত দেখা গেছে তাই মনে করা হচ্ছে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

উল্লেখ্য যে, ১৯৯১ সালের শেষের দিকে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী তৎকালীন নাসাকা বাহিনী অর্তকিতভাবে ঘুমধুমের রেজু ফাত্রাঝিরি বিজিবি ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে এক বিজিবি সদস্যকে নিহত করে অস্ত্র ও গোলা বারুদ লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনাকে পুঁজি করে মিয়ানমার থেকে প্রায় আড়াই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ঘটে।

ধারণা করা হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের আবারো বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে মিয়ানমারের বিজিপি সদস্য সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বার বার গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটাচ্ছে। বর্তমানে ওই সময় চলে আসা বৈধ ও অবৈধ প্রায় ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অবস্থান করছে। এছাড়াও বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিনিয়ত সীমান্ত পেরিয়ে অহরহ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে আশ্রয় নিচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে সীমান্ত এলাকা সরজমিন ঘুরে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বাইশপারি ৪১ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায় মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের গুলি বর্ষনের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে আতংক বিরাজ করছে। ঘুমধুম বিজিবির সুবেদার সাহাব উদ্দিন জানান, সীমান্তের উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে লোকজন আতংকগ্রস্ত হয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছে না। যে কারণে সীমান্তের উভয়পাড়ে মানব শুন্য হয়ে পড়েছে। রেজু আমতলী ক্যাম্পের সুবেদার মোঃ সোহরাব হোসেন জানান, বিজিপির গুলি বর্ষনের ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি সদস্যদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কঠোর সর্তক রাখা হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল শুক্রবার পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিহত বিজিবির নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের লাশ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও বিকাল পর্যন্ত ফেরত দেয়নি। কক্সবাজার ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল খন্দকার সাইফুল আলম বলেন, বুধবারে পাইনছড়ি সীমান্ত এলাকায় গুলি বর্ষনের ঘটনার পর থেকে আমার নিয়ন্ত্রনাধীন ১৮ হতে ৪০ নং সীমান্ত পিলার পর্যন্ত সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং তাদেরকে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মিয়ানমার আগে থেকে সীমান্তে অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে। সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত দু’দেশের মধ্যে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে একটি বৈঠক আগামী ৩ জুন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ সাঈদুল ইসলামের নিকট বিজিবির উপর গুলি বর্ষনের ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুক্রবারও পাইনছড়ি সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার বিজিপি সদস্যরা আবারো দফায় দফায় গুলি বর্ষন অব্যাহত রেখেছে। যে কারণে বিজিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকায় যোগাযোগ করতে না পারায় বিস্তারতি জানানো সম্ভব হচ্ছে না। বিজিবি’র চট্টগ্রাম রিজিয়নের কমান্ডার ব্রি. জে. আহমদ হোসেন পার্বত্যনিউজকে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে টেলিফোনে কথা বলা সম্ভব হচ্ছে না। কক্সবাজার বিজিবির সেক্টর কমান্ডর খোন্দকার ফরিদ হাসানের মুঠোফোনে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

দৌছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ বলেন, পাইনছড়ি এলাকায় বিজিপি আবারো শুক্রবারে গুলিবর্ষণ করার ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় পূর্ব নির্ধারিত পতাকা বৈঠক হয়নি। ফলে লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়াও স্থগিত হয়ে যায়। উপরোন্ত সীমান্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নিহত নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের মরদেহ ফিরিয়ে আনতে দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের সঙ্কটকে দায়ী করেছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। লোক মারফত যোগাযোগের ফলে দু’দেশের ভুল বুঝাবুঝিতে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে বলে শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমকে বলেছেন। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনায় মায়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ মায়ো মিন্টথানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে কৈফিয়ত তলব করা হয়।

 

নাইক্ষ্যংছড়িতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গুলির মুখে বিজিবি : বন্দুকযুদ্ধ চলছে

Bandarban

স্টাফ রির্পোটারঃ

বান্দরবান সীমান্তে নিখোঁজ বিজিবির নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের লাশ ফেরত আনতে গিয়ে ফের মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী  বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) গুলির মুখে পড়েছে বিজিবি সদস্যরা। আজ শুক্রবার আড়াইটার দিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি এলাকার পাইনছড়ির ৫০নং সীমান্ত পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটেছে।

 

বিজিবির সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিজিবিকে লক্ষ্য করে বিজিপির গুলি ছোঁড়ার পর থেকে নিখোঁজ নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের লাশ শুক্রবার সকাল ১১টায় ফেরত দেয়ার কথা ছিল মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর। সে অনুযায়ী বিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহম্মদ আলী ও কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল ফরিদসহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শুক্রবার সকাল ১১টায় পাইনছড়ির ৫২ নম্বর পিলারের কাছে একটি কফিন নিয়ে অবস্থান করে। এ সময় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী দূর্গম ৫০নং পিলারে যেতে বলে। সে অনুযায়ী বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে লাশ ফেরত না দিয়ে বিজিবির কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ২.৫০ মিনিট থেকে গুলি ছুঁড়তে থাকে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি ছুঁড়েছে। বাংলাদেশের অস্থায়ী পাইনছড়ি ক্যাম্পের বিপরীতে বিজিপি’র বাউন্ডুলা ক্যাম্পের অবস্থান থেকে এই গুলিবর্ষণ করা হয়।

এদিকে টানা বিকাল ৪.৩০ টা পর্যন্ত গুলি বিনিময়ের পর আধাঘন্টা বিরতি দিয়ে আবার গুলি বর্ষণ শুরু করে মিয়ানমার। এ রিপোর্ট লেখা (৫.৪৫) পর্যন্ত গুলি বিনিময় চলছিল। বাংলাদেশ সীমান্তের ৫০-৫১ পিলার বরাবর এই বাহিরমাঠ এলাকায় এই গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। মিয়ারমার তার দেশের সেনাবাহিনীর পাশাপাশি কমান্ডো ইউনিট সীমান্তে মোতায়েন করেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। 

এর আগে শুক্রবার সকালে বান্দরবান সীমান্তের তুমব্রু, ঘুনধুম, আশারতলি এলাকায় মিয়ানমারের তিন শতাধিক সেনাবাহিনীর সদস্য রণসজ্জায় সজ্জিত হয়ে অবস্থান নেয়। এতে সীমান্তে বসবাসকারী লোকজনদের মধ্যে আতংক-উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। এসময় নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশও পাল্টা ব্যবস্থা নিয়ে ঘন্টা দুয়েক পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রণসজ্জা নেয়ায় দোছড়ি সীমান্তে বিজিবির অতিরিক্ত সৈনিক মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগ্রেড নাইক্ষ্যংছড়িতে মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, বুধবার সকাল ৯টায় নিখোঁজ হওয়ার ৩০ ঘণ্টা পরও পাইনছড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ (আইসি) নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমানসহ এসএমজি একটি অস্ত্র ও ১২০ রাউন্ড গুলির সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ মিজান কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভেলা নগর এলাকার বাসিন্দা।