কক্সবাজারে যুবকের ১৪ বছর কারাদণ্ড

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

কক্সবাজারে অস্ত্র মামলায় মো. নুরুচ্ছবি (৩২) নামে এক যুবককে ১৪ বছরের কারাণ্ড দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও যুগ্ম দায়রা জজ (প্রথম) আদালতের বিচারক সৈয়দ মোহাম্মদ ফখরুল আবেদীন এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত নুরুচ্ছবি পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের চরিপাড়া এলাকার মো. ইসহাকের ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ৫ টি অস্ত্র ও ৮ রাউন্ড গুলিসহ নুরুচ্ছবিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল। ওই মামলায় দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে ছিলেন দণ্ডপ্রাপ্ত নুরুচ্ছবি। কক্সবাজার জেলা ও যুগ্ম দায়রা জজ (প্রথম) আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) জিয়া উদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাজাভোগ শেষে ৩ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল মিয়ানমার

Capture

টেকনাফ প্রতিনিধি:

মিয়ানমারের কারাগারে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগের পর ৩ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। এরা সবাই সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী যাত্রী। মিয়ানমারে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করায় তাদের আটক করা হয়েছিল।

কারাগারে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগের পর ফেরত আসা বাংলাদেশিরা হচ্ছেন, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার লেদা গ্রামের মো. সুলতান আহমদের ছেলে মো. সালেহ আহমেদ, উখিয়া থানার দরগাহ বিল হাতিমোড়ার মো. কালুর ছেলে আবু কালাম ও বরগুনা জেলার তালতলা থানার সুলাপাড়া গ্রামের সানু গাজীর ছেলে মো. আবদুর রব গাজী।

মিয়ানমানমারের অভ্যন্তরে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-বিজিপি পর্যায়ে মংডুস্থ ১ নং পয়েন্ট অব এন্ট্রি এন্ড এক্সিট এলাকায় বৈঠক শেষে তাদের ফেরত আনা হয়েছে। এই উপলক্ষে রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে ঘন্টা ব্যাপী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের ১০সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ২ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল ছিদ্দিকী।

এ সময় সাথে ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদ ইকবাল, পুলিশের এডিআইও মাজাহারুল হক। আর মিয়ানমারের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জেলা অফিসার সহকারী পরিচালক ইউ মউ মাইন এনউএ।

এদিকে সকাল পৌনে ১২ টায় সদর বিওপির মিলনায়তনে ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল ছিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলনে জানান, মিয়ানমারের সাথে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং আন্তরিক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় মানব ও মাদকপাচারসহ সীমান্তের বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোচনা হয়েছে। তিনি আরো জানান, মিয়ানমারের কারাগারে বর্তমানে কতজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার সংখ্যা সম্পর্কে মিয়ানমার কোন তথ্য সরবরাহ করেনি। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদেরকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ফেরত আসা টেকনাফের লেদা গ্রামের মো. সালেহ আহমদ জানান, নাফনদীতে মাছ শিকারে গিয়ে তৎকালীন নাসাকার হাতে আটক হয়ে দীর্ঘ ৪ বছর ৫ মাস কারাভোগ করেছেন। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবি প্রচেষ্টায় দেশে ফিরতে পারায় সন্তুষ্টি এবং বিজিবিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারমত আরও শতশত বাংলাদেশি নাগরিক মিয়ানমারের কারাগারে মুক্তির প্রহর গুনছে। সে দেশের কারাগারে অমানুষিক যন্ত্রনা ভোগ করছে। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযত যোগাযোগ এবং তৎপরতার অভাবে তারা দেশে ফিরতে পারছেনা বলে দাবি করেন। তাছাড়া ফেরত আসা মালয়েশিয়াগামী যাত্রী আবু কালাম জানান, ২০১১ সালের ৮০ জন মালয়েশিয়াগামী যাত্রী বোঝাই টেকনাফের কাটাবনিয়া ঘাট থেকে রওয়ানা দিয়ে মিয়ানমারের আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিল। ৩৬ মাস মাস কারাভোগের পর তাদের দলের ১১ জন ফেরত আসলেও বাকিদের ব্যাপারে তারা কিছুই জানেনা তিনি।