বাঘাইছড়িতে তিন আগ্নেয়াস্ত্রসহ ইউপিডিএফের পরিচালক আটক

সাজেক প্রতিনিধি:

রাাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ও রুপকারী শাখার ইউপিডিএফের পরিচালক এবং ইউপিডিএফ’র বিচার বিভাগীয় পরিচালক অটল চাকমা(৫৫) ও তার সহকারী শুদ্ধজয় চাকমা(৪২) কে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে মধ্য বঙ্গলতলীর সতিরঞ্জন চাকমার বাড়ী থেকে তাদের আটক করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি এলজি, ১টি দেশীয় বন্দুক, ১০ রাউন্ড কার্তুজ, ১৫টি চাঁদার রশিদ বই, ১ সেট সামরিক পোশাক, ৪টি মোবাইল, ১টি নোট বুক, ১টি রেডি সহ গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়।

নিরাপত্তা বাহিনী সুত্রে জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪ইস্ট বেঙ্গল বাঘাইহাট সেনা জোন থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি টিম অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আটক অটল চাকমা একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। গত ৩ এপ্রিল একই এলাকা থেকে পরিচালক সুগত চাকমাকে আটকের পর ঐ দায়িত্বে আসে অটল চাকমা।

আর আসার পর থেকেই এলাকার ছোট বড় সকল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সে লাগামহীন চাঁদাবাজী করতে থাকে আর অস্ত্র দিয়ে প্রতিনিয়ত লোকজনের মাঝে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল তারা। তাদেরকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এবং তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী সুত্রটি।

আটক ইউপিডিএফ নেতা অটল চাকমা বাঘাইছড়ি উপজেলার কাট্রলী গ্রামের মৃত মনিন্দ্র চাকমার ছেলে এবং তার সহকারী শুদ্ধজয় চাকমা দীঘিনালা উপজেলার সংগলা গ্রামের চিত্তরঞ্জন চাকমার ছেলে বলে জানা যায়।

এবিষয়ে বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আমির হোসেন বলেন, আটককৃতরা উপজেলার শীর্ষ চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইউপিডিএফ’র বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিচালক জুয়েল চাকমা বলেন, ইউপিডিএফ তো কোন নিষিদ্ধ দল নয়। গণতান্ত্রিক একটি দলের সদস্যদের অন্যায় ভাবে আটক করা ঠিক নয়। তাদেরকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে। আমার জানা মতে, তাদের কাছে আটকের সময় কিছুই ছিলনা। আটকের বিষয়ে ইউপিডিএফ’র পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ।

জেএসএস সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজীতে অতিষ্ঠ বান্দরবানবাসী (ভিডিওসহ)

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি পার্বত্য চট্টগ্রাম।‌ পর্যটন ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্রময় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জন্য দেশ ও দেশের বাহিরে এ অঞ্চলের পরিচিতি রয়েছে। অথচ একটি স্বার্থন্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের হীন উদ্দেশ্য সাধনকল্পে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লগ্ন থেকে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে অশান্ত করে তুলেছে পার্বত্য চট্টগ্রামকে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর করা হয় শান্তিচুক্তি। কিন্তু স্বার্থন্বেষী গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে। অস্ত্র ও ভয়ভীতির মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যায়।

তাদের অস্ত্রের হুমকির মুখে সাধারণ উপজাতি সম্প্রদায় ও পাহাড়ি-বাঙালি উভয়ই ভীত-সন্ত্রস্ত। এ স্বার্থন্বেষী গোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(পিসিজেএসএস) ও ইউনাইটড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) নামে আঞ্চলিক দল গঠনের অন্তরালে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় (খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে) ত্রাসের রাজ্য কায়েম করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শান্তিবাহিনী এই দলগুলোর সামরিক শাখা রয়েছে।

শান্তিচুক্তির পর শান্তিবাহিনী বিলুপ্ত হয়েছে বলে প্রচার রয়েছে। এখন স্থানীয় জনগনের কাছে তারা ‘ভেতর পার্টি’ বলে পরিচিত। গভীর জঙ্গলের ভেতরে তাদের সশস্ত্র অবস্থান ও কার্যকলাপ পরিচালিত হয় বলে তারা ‘ভেতর পার্টি’ নামে নিজেদের পরিচয় দিয়ে থাকে।  যার ফলশ্রুতিতে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপকে চাঁদা দিতে হয়।

মুরগি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে গরু ব্যবসায়ী ও কাঠ ব্যবসায়ীকেও। এমনকি পাহাড়ের সাধারণ উপজাতি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সম্প্রদায়কেও তাদের কষ্টার্জিত অর্থ পাহাড়ের এ সন্ত্রাসীদের দিতে হয়। সরকারি, বেসরকারি ও এনজিওর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প হতে চাঁদা দিতে হয় জেএসএস এর সশস্ত্র গ্রুপের চাঁদাবাজদের। সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাদের উপর হত্যা, অপহরণ, মারপিঠ ও ধর্ষণসহ নানা অত্যাচার করা হয়।

JSS Report3

সম্প্রীতির বান্দরবান হিসেবে পরিচিত পার্বত্য জেলাটিকেও অশান্ত করে তুলতে জেএসএস নামক দলটির সশস্ত্র গ্রুপ। বান্দরবানে সাতটি উপজেলায় তাদের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে। ফলে, পাহাড়ের সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীমহলের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। প্রতিনিয়ত একটির পর একটি অভিযোগ আসতে থাকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট। সম্প্রীতির বান্দরবানে শান্তি ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপরতায় সম্প্রতি গ্রেফতার হয়েছে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজকে।

গত ৪ ডিসেম্বর ২০১৬ থানচিতে জেএসএস এর নামে সন্তু লারমার কথা বলে চাঁদাবাজি করার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে তিন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। তারা হল-ম্যান ক্রোই ম্রো, রেং হাই ম্রো ও মাংয়া ম্রো। তার মধ্যে ২জন কারাগারে রয়েছে। আটককৃত সন্ত্রাসীরা জিজ্ঞাসাবাদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে চাঁদাবাজি সম্পর্কে বিস্ময়কর তথ্য দেয় বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে।

তারা জানায়, অনেকের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা আদায় করে তারা জয়সেন, উত্তম চাকমা ও সাইক্লোন চাকমাকে (তারা রাঙামাটি থেকে চাঁদাবাজির জন্য নিয়োগকৃত) দেয়। থানচি বাজারে বিভিন্ন অংকে চাঁদাবাজি করে, যেমন: পাবলিক পরিবহন হতে ১০,০০০(দশ হাজার টাকা, কলা ও কাঠবাহী গাড়ি থেকে ৫,০০০(পাঁচ হাজার টাকা), মটরসাইকেল হতে ২,৫০০(দুই হাজার পাঁচশত টাকা)হারে মাসিক চাঁদা আদায়ের জন্য লিফলেট বিতরণ করে ও চাঁদাবাজি করে। স্থানীয় জেএসএস নেতা, থানচি উপজেলার পরিষদের শীর্ষ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় এ চাঁদাবাজি হয়ে থাকে বলে জানান তারা।

এদিকে গত ৬ ডিসেম্বর ২০১৬ রোয়াংছড়ি উপজেলা থেকে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী আটক করে আরেক কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও চাঁদবাজ পরান/আপন তঞ্চঙ্গাকে। উক্ত সন্ত্রাসী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও বিস্ময়কর তথ্য দেয়। সে জানায়, সমস্ত বান্দরবানে তাদের সশস্ত্র গ্রুপ চাঁদাবাজি ও অপহরণ করে থাকে। রোয়াংছড়িতে একটি চাঁদাবাজির শক্তিশালী নেটওর্য়াক রয়েছে।

পরান তঞ্চঙ্গা, রুপন তঞ্চঙ্গা, প্রীতিসেন তঞ্চঙ্গা, অনীল তঞ্চঙ্গা, অপু তঞ্চঙ্গা, অনুপম তঞ্চঙ্গার নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ রোয়াংছড়ি উপজেলা থেকে বান্দরবান জেলার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীদলের শীর্ষ নেতা এস মং (ছদ্মনাম ও রাঙ্গামাটি হতে আগত) এর প্রত্যক্ষ তত্ত্ববধানে সকল ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ও বাঙালীর নিকট হতে চাঁদা আদায় করে থাকে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে খুন ও অপহরণের মতো ঘটনায় স্বীকার হতে হয় পাহাড়ি সাধারণ জনগোষ্ঠীকে। পরান তঞ্চঙ্গার তথ্য মতে, উক্ত চাঁদাবাজির টাকা পিসিজেএস এর কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতার পিএসের নিকট প্রেরণ করা হয়। যে টাকা থেকে পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, পার্টিকে শক্তিশালী করা, অস্ত্র ক্রয় এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক লবিং, মিডিয়া লবিং এর কাজে ব্যবহার করা হয়।

গত ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬ আলীকদম উপজেলার দশ কিলো এলাকা হতে চাঁদাবাজির অপরাধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে কেতং ত্রিপুরা, ক্যমং ত্রিপুরা ও ছবিরাম ত্রিপুরাকে। আটককৃত সন্ত্রাসীদের একইদিনে প্রেরণ করা হয় জেল হাজতে। কেতং ও ক্যমং ত্রিপুরার নিকট অবৈধ অস্ত্র ও গুলি রয়েছে বলে সূত্রে জানা যায়।

গত ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখ থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সুয়ারাং পাড়ায় চাঁদা আদায়কালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক আটক করা হয় আরও ৩ জন চাঁদাবাজ। তারা হলো, মংত্রচি মার্মা ওরফে রেচিং মার্মা, ম্যানথক ম্রো ও ম্যানপং ম্রোকে।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা থানচি-আলীকদম সড়কের ১০কিলো, ১৫কিলো, ১৬কিলো ও ২৬কিলো এলাকায় চাঁদাবাজি করে। আটক হওয়ার সময় ম্যানপং ম্রো এর নিকট রাইফেলের গুলি পাওয়া যায়।

গত ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬ ম্যাংপাই ম্রো বোথা ম্রো নামক ব্যক্তির কাছ থেকে রাইফেলের গুলি থানচি উপজেলা জেএসএস এর সভাপতি চষা থোয়াই মার্মার(পক্ সে) ভাই এর নিকট পৌঁছে দেয়ার জন্য তার ব্যাগে নিয়ে যায়। ম্যানপং ম্রো বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।

এদিকে গত তিন ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি কর্তৃক রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নের বাগমারা ভিতরপাড়ার কারবারী মং শৈ থুই মার্মা অপহরণ করা হয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বর্ণিত ব্যক্তিকে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি করেও মেলেনি তার সন্ধান। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়পতং ইউনিয়নের বাঘমারা ভিতর পাড়ায় অস্ত্রধারী ৪ সন্ত্রাসী অস্ত্রের মুখে বাঘমারা ভিতরপাড়া কার্বারী (পাড়া প্রধান) মংশৈথুই মারমাকে (৪২) অপহরণ করে নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আশপাশের এলাকাগুলোতে অভিযান চালানো করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী বাথোয়াই মার্মা বলেন, রাত নয়টার দিকে অস্ত্রধারী সন্ত্রসীরা কারবারীকে ডেকে আনতে আমাকে পাঠায়। তারা এসময় নিজেদেরকে শান্তি বাহিনীর (জেএসএস) লোক পরিচয় দেয়।

অপহৃত কারবারী মংশৈথুই’র ছোট বোন মা চ থুই বলেন, অস্ত্রধারী সন্ত্রসীরা আমার ভাইকে হাত ও চোখ বেঁধে পাহাড়ি পথ ধরে জঙ্গলের দিকে মারতে মারতে নিয়ে যায়। কিন্তু আমরা কোন প্রতিবাদ করতে পারিনি। এসময় তারা নিরাপত্তা বাহিনীকে ঘটনা সম্পর্কে না জানাতেও নির্দেশ দেয়। তবে ঘটনার পর আমরা পার্শ্ববর্তী সেনাক্যাম্পে বিষয়টি অবহিত করি।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হ্লাথোয়হ্রী মারমা জানান, ইউপি নির্বাচনের পর থেকে জনসংহতি সমিতির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলে আসছে আওয়ামী লীগের। এ ঘটনার জের ধরে জনসংহতি সমিতির লোকজন পাড়া কারবারিকে অপহরণ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

পরবর্তিতে গত ৫ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে বেথছড়া এলাকায় ওই কারবারীকে অসুস্থ্য অবস্থায় পাওয়া যায়। এতে সন্দেহজনকভাবে অনেকে আটক করা হলেও এখনো প্রকৃত অপহরণকারীদের খুঁজে বের করতে বিভিন্নভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখ আলীকদম উপজেলার রূপসি পাড়া ইউনিয়নের নাইক্ষ্যংমুখ এলাকায় জেএসএস এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজি করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গমন করলে চাঁদাবাজরা বর্ণিত দলকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও পাল্টা গুলি করে। এতে জেএসএস এর একজন সশস্ত্র চাঁদাবাজ পূর্ণরতন চাকমা নিহত হয়। জেএসএস এর নিহত সন্ত্রাসীর পরনে ছিল জেএসএস দলের জলপাই কালার পোশাক।

ািু্বক-280x300

সূত্র জানিয়েছে, লামা থানার অন্তর্গত রূপসীপাড়া আর্মি ক্যাম্প থেকে আনুমানিক ৮ কি.মি. দুরে অবস্থিত নাইক্ষ্যংমুখ পাড়ায় সপ্তাহ খানেক আগে জেএসএস(মূল) দলের সাধন চাকমা ওরফে ওমাং গ্রুপের সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবী করে। সোমবার তাদের চাঁদা নেয়ার নির্ধারিত দিন ছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল সোমবার ঘটনাস্থলের আশেপাশে গোপনে অবস্থান নেয়। এদিকে বিকাল চারটার দিকে জেএসএস সন্ত্রাসীদের ১৫ জনের একটি দল এসএমজি, এলএমজির মতো ভয়ঙ্কর আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চাঁদা আদায় করতে নাইক্ষ্যংমুখ পাড়ায় আগমন করে। এসময় তারা কাছের সেনাবাহিনী অবস্থান টের পেয়ে গুলিবর্ষণ শুরু করে।

সেনাবাহিনীও পাল্টা জবাবে গুলিবর্ষণ শুরু করলে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে পালিয়ে যায়। এসময় ১৫ মিনিটব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে উভয় পক্ষ আনুমানিক ৩০০ রাউন্ড গুলি বিনিময় করে। সেনাবাহিনীর গুলিতে পুর্ণ রতন চাকমা(২৮) নামের এক সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনা স্থলেই নিহত হয়। সে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার হিরারচর গ্রামের রঙ্গু চাকমার পুত্র।

এদিকে গত ১৮ মার্চ পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সংগঠন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সামরিক শাখার থার্ড ইন কমান্ড ও বান্দরবান জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত  ধনবিকাশ চাকমা (৬০) ওরফে উ মংকে তার ‍দুই সহযোগীসহ আটক করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। রোববার (১৯ মার্চ) ভোরে তাদের চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে আটক করা হয়েছে।

17361743_1279388035508316_5742224790216268162_n

সূত্রে জানা গেছে, র‌্যাব-৭ এর ডিএডি মো. শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে একটি টিম রবিবার বিকেলে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানা এলাকায় ডিউটিরত থাকাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, বান্দরবান থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র শাখার একটি দল খুন, গুম, অপহরণ ও চাঁদাবাজির বিপুল পরিমাণ টাকাসহ মাইক্রোবাসে করে চট্টগ্রামের দিকে আসছে।

এ খবরের ভিত্তিতে ডিএডি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হাটহাজারী থানাধীন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নিউ শাহজাহান হোটেলের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি তল্লাশী শুরু করে।এই তল্লাশীকালে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রামের দিক থেকে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস আসতে থাকলে তারা থামানোর সঙ্কেত দেয়। এতে মাইক্রোবাসটি চেকপোস্টের সামনে থামে এবং গাড়ির দরজা খুলে তিন/চারজন যাত্রীবেশী জেএসএস সন্ত্রাসীরা বেরিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।

এসময় র‌্যাব সদস্যরা তাদের চেজ করে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃতরা হলো, ধনবিকাশ চাকমা, পিতা- মৃত বীরেন্দ্র চাকমা, মাতা- মায়াবী চাকমা, বাড়ি- পানখাইয়া পাড়া, খাগড়াছড়ি; প্রেম রঞ্জন চাকমা(৩২), পিতা- সুন্দর মণি চাকমা, বাড়ি- পূনর্বাসন পাড়া, বান্দরবান সদর এবং রুবেল বাবু তঞ্চঙ্গা, পিতা- রাজ্য মোগহন তঞ্চঙ্গা, বাড়ি- বিলাইছড়ি রাঙামাটি।’

সূত্রমতে, আটককালে ধনবিকাশ চাকমার হাতে রক্ষিত কালো রঙের একটি ব্যাগ ও সকলের পোশাকের বিভিন্ন পকেট তল্লাশী করে ১ হাজার টাকা, ৫০০ টাকা ও ১০০ টাকার বেশ কয়েকটি বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। এসব বান্ডিলে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়।

গ্রেফতারকৃতরা র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদের পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সামরিক শাখার সদস্য বলে স্বীকার করে এবং আটককৃত টাকা বান্দরবান থেকে জনসংহতি সমিতির নামে খুন, অপহরণ, গুমের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির মাধ্যমে আয় করা বলে র‌্যাবের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছে।

 গত বান্দরবান সদর উপজেলায় সুয়ালক ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ তিন সন্ত্রাসীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন, রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলার সুভলং ইউনিয়নের রিটু চাকমা (৩৪), বান্দরবান বলিপাড়ার অমল চাকমা ও টংকাবতীর শান্তি চাকমা। এসময় তাদের কাছ থেকে ৮ রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশী পিস্তল ও ৫ রাউন্ড গুলিসহ একটি দুই নলা বন্ধুক উদ্ধার করা হয়।

বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, সুয়ালক ইউনিয়নের ভাগ্যকুল এলাকার সামশুর রহমানের মাছের প্রজেক্টের পাশের ঝিরিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে স্থানীয়দের সহায়তায় মঙ্গলবার রাতে অস্ত্রসহ চাঁদাবাজ তিন সন্ত্রাসীকে আটক করে। অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীরা রাতের অন্ধকারে এলোপাতারী গুলি করে। এসময় পুলিশের গুলিতে রিটু চাকমা আহত হন।

তিনি জানান, এ তিন সন্ত্রাসী দীর্ঘ দিন ধরে ডাকাতি ও চাঁদাবাজি কাজে লিপ্ত রয়েছে। ১ মার্চ থেকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়ে আসছে।

টংকাবতী একাধিক স্থানীয়রা জানান, জেএসএস’র কালেক্টর রিটু চাকমার নেতৃত্বে দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও চাঁদাবাজি চলে আসছে। কেউ তার বিরুদ্ধাচরণ করলে মারধরের স্বীকার হন। পুলিশ সূত্র জানা গেছে, অভিযানে সদর থানার পরির্দশক মো. রফিক উল্লাহসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন।

নীলগিরি, নীলাচল, শৈল প্রপাত, মেঘলা, বগা লেক, চিম্বুক ভ্যালি, তাজিং ডং, কেওকারাডং, বড় পাথর প্রভৃতি পর্যটন কেন্দ্র সম্বলিত বাংলাদেশের অত্যন্ত সৌন্দর্য মণ্ডিত জেলা বান্দরবান উপজাতীয় আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএসের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, খুন, ধর্ষণ, অপহরণে বিপন্ন।

তবে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই সন্ত্রাস নির্মূলে তৎপর রয়েছে। তাদের তৎপরতায় সম্প্রতি বেশ কিছু জেএসএস সন্ত্রাসী আটক হওয়ায় অনেকটাই কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। এই অভিযান চলমান থাকলে বান্দরবানে জেএসএস সন্ত্রাসীদের আস্তানা নির্মূল অনেকাংশেই সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জেলাবাসী।

তাদের মতে, পার্বত্য বান্দরবান জেলায় জেএসএসের সশস্ত্র গ্রুপ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সকলস্তরের পাহাড়ি উপজাতি ও বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচেষ্টা সম্প্রীতি রক্ষা ও পর্যটন বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। কাজেই এখনই সময় জেএসএস এর সন্ত্রাসীদের অপকর্ম ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার।

১০ হাজারের বেশি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পার্বত্য অঞ্চল

অস্থির পাহাড় দিশেহারা মানুষ (২)

ততততত

আবু সালেহ আকন, পার্বত্যাঞ্চল থেকে ফিরে:

জেএসএস ও ইউপিডিএফের ১০ হাজারের বেশি সন্ত্রাসী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তিন পার্বত্য জেলা। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র বলেছে, এরা সবাই নিজ নিজ সংগঠনের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী। একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীতে যেরূপ পদ-পদবি রয়েছে এই সংগঠন দুটোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও তেমনি পদ-পদবি রয়েছে। তাদের বেতন স্কেলও রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের রয়েছে ঝুঁকি ভাতা।

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ যদি নিহত বা আহত হয় তবে তাদের জন্য রয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ। শুধু পাহাড়ি সন্ত্রাসীরাই নয়, প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে আগত কিছু সন্ত্রাসীও জেএসএস ও ইউপিডিএফের হয়ে কাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্য মতে তিন পার্বত্য জেলায় ১০ হাজারের ওপরে সশস্ত্র সন্ত্রাসী রয়েছে। এদের হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। এদের মধ্যে বান্দরবান উপজেলাতেই রয়েছে পাঁচ হাজারের মতো সন্ত্রাসী। এদের মধ্যে কয়েকজন হলো এস মং ওরফে মেজর আশিষ, মনি চিং মার্মা, কে চিং মার্মা, সিলিপ ত্রিপুরা, ধং চং মার্মা, রাজেন্দ্র ত্রিপুরা, চায়নু মার্মা, হাচিং মার্মা, অঙ্গ মার্মা, কৃষ্ট, রাংকুনু ত্রিপুরা, নিমন্দ্র ত্রিপুরা, ছলেমুল ত্রিপুরা, অতিরাম, র‌্যাংকনো, বিক্রম, জন বাহাদুর, মারুং, সুমন দাস, নিমন্ত্র ত্রিপুরা, হামাজন ত্রিপুরা, লেনছন মেন্ডেলা, অংশৈপ্রু, সরেন্দ্র, নকুল, উইলিয়াম, মনিচিং, চাকনাই মুরং, অং কে জ, জেরী ত্রিপুরা।

কিছু বাঙালি নামের সশস্ত্র সন্ত্রাসীও রয়েছে। নামে বাঙালি হলেও তারা প্রতিবেশী মিয়ানমারের নাগরিক বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে অন্যতম হলো মনছুর রহমান, জাকির হোসেন, শাহ আলম ও আব্বাস উদ্দিন।

চাঁদাবাজী

স্থানীয় সূত্র জানায়, কোথাও কোথাও জেএসএস আবার কোথাও ইউপিডিএফের আধিপত্য পুরো পাহাড়ে। তবে জেএসএস আর ইউপিডিএফ যে-ই হোক তাদের কর্মকাণ্ড সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে চরম আতঙ্কের। বাঙালিদের চেয়েও পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকেরা তাদের কাছে বেশি পণবন্দী।

এর কারণ হিসেবে জানা যায়, বাঙালিরা সাধারণত লোকালয়ে বসবাস করে। শহর কিংবা বাজারের আশপাশে দলবদ্ধ হয়ে এদের বসবাস। আর পাহাড়িরা গহিন অরণ্যে বসবাস করে। অনেক সময় দেখা যায় পাহাড়ের চূড়ায় হয়তো একাকী একটি বাড়িতে বসবাস করছে কোনো পাহাড়ি উপজাতি পরিবার। যে কারণে তাদের সন্ত্রাসীরা সহজেই টার্গেট করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এদের মূল কাজ হচ্ছে চাঁদাবাজি। বিভিন্ন সেক্টর থেকে এরা চাঁদা আদায় করে থাকে। নিবন্ধিত কোনো দল না হলেও পাহাড়ের জেলা উপজেলায় এই দু’টি সংগঠনের দলীয় কার্যালয় রয়েছে। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বছর শুধু বান্দরবান থেকেই জেএসএস ৩০ কোটি টাকার চাঁদা তুলেছে। এ বছর তাদের টার্গেট হলো ৫০ কোটি টাকা। এই দিয়েই দলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, রেশন, অবসরকালীন ভাতা, ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি দেয়া হয়। এ ছাড়া পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো চাঁদার এ অর্থ দিয়ে দেশ-বিদেশে বাঙালি বিদ্বেষী প্রচারণা ও তাদের অস্ত্র ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করার কাজ করে থাকে বলে একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি কর বা ভ্যাটের ন্যায় এখানে প্রকাশ্যে চলে চাঁদাবাজি। সামান্য কলার ব্যবসা থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসা-বাণিজ্য, জেলে, খামার, ঠিকাদারি, উন্নয়নমূলক কাজ সব কিছু থেকে আদায় করা হয় চাঁদা। আর তা না দিলে নির্যাতন, নিপীড়ন থেকে শুরু করে অপহরণ, খুন, ধর্ষণ হওয়ার শঙ্কা ভুক্তভোগীদের। প্রাণভয়ে মুখও খুলতে চান না তারা। স্বয়ং পুলিশ প্রশাসনও তাদের কাছে পণবন্দী বলে অভিযোগ।

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম মোল্লা বলেন, গোপনেও কেউ চাঁদা দেয় কি না তা স্বীকার করে না। শুনি চাঁদা নেয়। কিন্তু কারা দেয় তার খোঁজ পাওয়া যায় না। ভুক্তভোগী কয়েকজন বলেন, চাঁদা যে দিচ্ছে তার হদিস পাওয়া যায় না।

সম্প্রতি পাহাড়ে বিভিন্ন পণ্যের ওপর ‘শান্তি চুক্তি’ সমর্থক জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফের আরোপ করা চাঁদার তালিকা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

চাঁদাবাজি

ওই তালিকা অনুযায়ী, গাছে প্রতি ঘনফুট ও বাঁশে প্রতি শ’ হিসেবে চাঁদা আদায় করা হয়। বর্তমানে প্রতি ঘনফুট সেগুন গোল গাছে জেএসএসকে চাঁদা দিতে হয় বছরে ৪০ টাকা, ইউপিডিএফকে দিতে হয় ৫০ টাকা। এভাবে সেগুন রদ্দা, গামারী গোল-রদ্দা, লালি গোল-রদ্দার ওপর আলাদা আলাদা হারে চাঁদা ধার্য করা হয়েছে।

বর্তমানে প্রতি শ’ বাঁশে বছরে জেএসএস-ইউপিডিএফ উভয়েই চাঁদা আদায় করে ৫০০ টাকা করে। এভাবে বাইজ্জা বাঁশের জন্য রয়েছে আলাদা রেট। প্রথম শ্রেণীর মাছ ব্যবসায়ীদের জেএসএসকে বছরে চাঁদা দিতে হয় ৪০ হাজার, ইউপিডিএফকে ৫০ হাজার। এভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর ব্যবসায়ীদের পৃথক হারে গুনতে হয় চাঁদা।

তালিকা থেকে আরো জানা যায়, বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরার জালের ওপর আলাদা আলাদা হারে বাৎসরিক (নয় মাসে বছর) চাঁদা আদায় করা হয়। কেসকি জাল থেকে জেএসএস আদায় করে ছয় হাজার টাকা, ইউপিডিএফ সাত হাজার। এভাবে ধর্ম জাল, টেংরা জাল, কুত্তা জাল, ভাসা জাল, টেইনা জাল, লুই জাল, নাইট জাল, বড়শির ওপর আলাদা হারে চাঁদা আদায় করে তারা। এ ছাড়া সব ধরনের জেলেদের বছরে চাঁদা দিতে হয় জেএসএসকে ৭০০, ইউপিডিএফকে ৫০০।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত উপজাতি বাসিন্দাদেরও দিতে হয় বাৎসরিক চাঁদা। প্রতি উচ্চবিত্ত পরিবারের জন্য জেএসএস- ইউপিডিএফের ধার্যকৃত চাঁদা ৮০০ টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবার প্রতি জেএসএস আদায় করে ৫০০ এবং ইউপিডিএফ ৬০০। নি¤œবিত্ত পরিবার প্রতি জেএসএস ৩০০, ইউপিডিএফ ৪০০ টাকা চাঁদা আদায় করে।

এ চাঁদার আওতায় বাদ পড়েনি কলার কাঁদিও। প্রতি কাঁদি কলার জন্য বর্তমানে জেএসএসকে ছয় টাকা ও ইউপিডিএফকে দিতে হয় ১০ টাকা। এ ছাড়া গরু ও ছাগল বিক্রির ওপর যথাক্রমে জেএসএস ১২ ও ৬ শতাংশ এবং ইউপিডিএফ ২০০ ও ১০০ হারে চাঁদা আদায় করে। দু’টি মুরগি বিক্রি করলে দুই টাকা, চার টাকা চাঁদা দিতে হয়।

বিলাইছড়ির আওয়ামী লীগ নেতা প্রহরকান্তি চাকমা বলেন, চাঁদাবাজি আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে ওই এলাকায় ইউপিডিএফ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। বান্দরবানের কিউচিং মারমা বলেন, দুর্বৃত্তদের চাঁদাবাজিতে পুরো পাহাড়ি অঞ্চল এখন অস্থির। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই এলাকার বনবিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, চাঁদা না দিয়ে এখানে কারো বাস করা সম্ভব নয়। সাজেকের খ্রিষ্টান ধর্মীয় নেতা ময়তে লুসাই বলেন, অনেকবার তার কাছে চাঁদা চেয়েছে। কিন্তু তিনি দেননি। তিনি বলেন, একবার দিলেই ওরা সুযোগ পেয়ে যাবে। তখন বারবার চাইবে।

বাৎসরিক এ চাঁদা আদায় ছাড়াও বিভিন্ন দিবসকে সামনে রেখে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে ইউপিডিএফ-জেএসএসসহ আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে চাঁদাবাজির শীর্ষে রয়েছে শান্তিচুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। এর পরের অবস্থানে রয়েছে চুক্তির সমর্থক পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। এদের অঙ্গ সংগঠন যেমন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইম্যান ফেডারেশন বিভিন্নভাবে পাহাড়ে চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ আছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত মহিলা এমপি ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তি চুক্তি করে পাহাড়ে অনেক উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু কিছু সশস্ত্র গ্রুপ চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ করে পাহাড়কে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। তিনি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

– সূত্র: নয়াদিগন্ত

উপজাতি চাঁদাবাজদের স্বর্গরাজ্য পাহাড়ি জনপদ

চাঁদাবাজি

মমিনুল ইসলাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম থেকে ফিরে:

চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এক দশমাংশের পার্বত্য জনপদ। সরকারি কর বা ভ্যাটের ন্যায় এখানে প্রকাশ্যে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, এমনটিই জানিয়েছে গোয়েন্দা সূত্র। বাঙালি-পাহাড়ি যেই হোক না কেন, কিছু করতে হলেই গুণতে হয় চাঁদা। উপজাতিদের সশস্ত্র গ্রুপগুলো চাঁদাবাজির মাধ্যমে দিনে আদায় করে এক থেকে দেড় কোটি টাকা।

সামান্য কলার ছড়া থেকে শুরু করে, ব্যবসা-বাণিজ্য, জেলে, খামার, ঠিকাদারি, উন্নয়নমূলক কাজ সব কিছু থেকে আদায় করা হয় চাঁদা। আর তা না দিলে নির্যাতন, নিপীড়ন থেকে শুরু করে অপহরণ, খুন, ধর্ষণ হওয়ার শঙ্কা ভুক্তভোগীদের। প্রাণ ভয়ে মুখও খুলতে চান না তারা। স্বয়ং পুলিশ প্রশাসনও তাদের কাছে জিম্মি বলে অভিযোগ।

একটি গোয়েন্দা সূত্র বলছে, পুরো পার্বত্য অঞ্চলে (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) চাঁদা আদায়ে নিয়োজিত রয়েছে জেএসএস’র-ইউপিডিএফ’র পাঁচ হাজার সশস্ত্র প্রশিক্ষিত কর্মী। সরকারের করের ন্যায় বিভিন্ন জিনিসের ওপর মাসিক/বাৎসরিক নির্দিষ্ট হারে চাঁদা আদায় করা হয় এবং রসিদও দেয়া হয়। ক্যাডার পর্যায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত এসব সশস্ত্র সদস্যের বেতন-ভাতাও দেয়া হয় বলে জানিয়েছে সূত্র।

চাঁদাবাজী

সম্প্রতি পাহাড়ে বিভিন্ন পণ্যের ওপর ‘শান্তি চুক্তি’ সমর্থক জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ’র আরোপ করা চাঁদার তালিকা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে সাবেক ও বর্তমান রেটও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ তালিকা মতে, গাছে প্রতি ঘনফুট ও বাঁশে প্রতি শ’ হিসেবে চাঁদা আদায় করা হয়। বর্তমানে প্রতি ঘনফুট সেগুন গোল গাছে জেএসএসকে চাঁদা দিতে হয় বছরে ৪০টাকা, ইউপিডিএফকে দিতে হয় ৫০টাকা। এভাবে সেগুন রদ্দা, গামারী গোল-রদ্দা, লালি গোল-রদ্দার ওপর আলাদা আলাদা হারে চাঁদা ধার্য করা হয়েছে।

বর্তমানে প্রতি শ’ বাঁশে বছরে জেএসএস-ইউপিডিএফ উভয়েই চাঁদা আদায় করে ৪০০ টাকা করে। এভাবে বাইজ্জা বাঁশের জন্য রয়েছে আলাদা রেট। প্রথম শ্রেণীর মাছ ব্যবসায়ীদের জেএসএসকে বছরে চাঁদা দিতে হয় ৪০ হাজার, ইউপিডিএফকে ৫০ হাজার। এভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ব্যবসায়ীদের পৃথক হারে গুণতে হয় চাঁদা।

তালিকা থেকে আরও জানা যায়, বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরার জালের ওপর আলাদা আলাদা হারে বাৎসরিক (নয় মাসে বছর) চাঁদা আদায় করা হয়। কেসকি জাল (১ হাজার বামের ওপর) থেকে জেএসএস আদায় করে ছয় হাজার টাকা, ইউপিডিএফ সাত হাজার। এভাবে ধর্ম জাল, টেংরা জাল, কুত্তা জলা, ভাসা জাল, টেইনা জাল, লুই জাল, নাইট জাল, বড়শির ওপর আলাদা হারে চাঁদা আদায় করে তারা। এছাড়া সব ধরনের জেলেদের বছরে চাঁদা দিতে হয় জেএসএসকে সাতশ, ইউপিডিএফকে পাঁচশ।

চাঁদাবাজী

পার্বত্য চট্রগ্রামে বসবাসরত উপজাতি বাসিন্দাদেরও দিতে হয় বাৎসরিক চাঁদা। প্রতি উচ্চবিত্ত পরিবারের জন্য জেএসএস- ইউপিডিএফ’র ধার্যকৃত চাঁদা আটশ টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবার প্রতি জেএসএস আদায় করে পাঁচশ এবং ইউপিডিএফ ছয়শ’। নি¤œবিত্ত পরিবার প্রতি জেএসএস তিনশ, ইউপিডিএফ চারশ টাকা চাঁদা আদায় করে।

এ চাঁদার আওতায় বাদ পড়েনি কলার ছড়াও। প্রতি ছড়ার জন্য বর্তমানে জেএসএস’কে ছয় টাকা ও ইউপিডিএফ’কে দিতে হয় ১০ টাকা। এছাড়া গরু ও ছাগল বিক্রির ওপর যথাক্রমে জেএসএস ১২ ও ৬ শতাংশ এবং ইউপিডিএফ দুইশ ও একশ হারে চাঁদা আদায় করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো চাঁদার এ অর্থ দিয়ে দেশ-বিদেশে বাঙালি বিদ্বেষী প্রচারণা ও তাদের অস্ত্র ভা-ারকে সমৃদ্ধ করার কাজ করে থাকে।

বাৎসরিক এ চাঁদা আদায় ছাড়াও বিভিন্ন দিবসকে সামনে রেখে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে ইউপিডিএফ-জেএসএস সহ আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে। প্রতি বছর ‘বৈসাবী’ উদযাপন কমিটির নামে ব্যক্তি বিশেষে দুই হাজার টাকা থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্তও চাঁদা আদায় হয়।

ইনকিলাব-এ প্রকাশিত খবরের তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে চাঁদাবাজির শীর্ষে রয়েছে শান্তিচুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। এরপরের অবস্থানে রয়েছে চুক্তির সমর্থক পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ক্যাডাররা। এদের অঙ্গ সংগঠন যেমন- পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইম্যান ফেডারেশন বিভিন্ন অপকৌশলে পাহাড়ে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে।

চাঁদাবাজি

পাহাড়ের নিরীহ বাঙালিরাই মূলত সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির প্রধান টার্গেট। এর পরের অবস্থানে রয়েছে তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসরত ১৩টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। এর মধ্যে প্রায় সকলকে চাঁদা দিতে বাধ্য হতে হলেও চাকমাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির তেমন ঘটনা শোনা যায় না।

স্থানীয়রা জানান, বাঁশ, বেত, কাঠ, ছন সংগ্রহ, বেচাকেনা ও পরিবহন, কৃষি-খামার, ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসা-বাণিজ্য, সড়ক ও নৌপথে মালামাল পরিবহন থেকে শুরু করে ঠিকাদারি, অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সবকিছুর ওপর থেকেই জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এমনকি কলা, আদা, হলুদ, আনারস, লেবু, কমলা, খাদ্যশস্য চাষাবাদ, গবাদিপশু-পাখি বেচাকেনা করতে গিয়েও চাঁদা পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন পার্বত্য এলাকার বাসিন্দারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা জানান, এখানে অস্ত্রধারী জেএসএসের এতটাই প্রভাব ক্ষমতাসীন দলের লোক হয়েও তাদের পক্ষে চাঁদাছাড়া বসবাস করা অসম্ভব। নিরুপায় হয়ে দোকান-পাটও গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। তাদের কাছে পুলিশও জিম্মি বলে অভিযোগ তার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পার্বত্য চট্রগ্রামের উত্তর বন বিভাগের বাঘাইহাট রেঞ্জের এক বন কর্মকর্তা জানান, রাঙামাটিতে সাধারণ সরকার ছাড়াও অন্য একটি ‘সরকার’ কাজ করে। যেটাকে তারা কখনই উপেক্ষা করতে পারেন না। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও অবহিত বলে জানান তিনি।

২২ জুন পার্বত্য চট্রগ্রামের সংরক্ষিত মহিলা এমপি ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তি চুক্তি করে পাহাড়ে অনেক উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু কিছু সশস্ত্র গ্রুপ চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ করে পাহাড়কে অস্থিতীশীল করার পাঁয়তারা করছে। তিনি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বলে জানান।

জেএসএস’র মুখপাত্র ও সহপ্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, ‘জেএসএস’র বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমরা চাঁদাবাজিতে বিশ্বাসী নই। মানুষের সহযোগিতায় দল পরিচালিত হয়।’

অন্যদিকে, ইউপিডিএফ’র মুখপাত্র, প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন। বলেন, ‘এ অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনিও জানান, মানুষের সহযোগিতায় তাদের দল পরিচালিত হয়।

অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান সময়ের দাবী

শুধু তারিখ পিছিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়

মেহেদী হাসান পলাশ

মেহেদী হাসান পলাশ

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন তৃতীয় ধাপের পরিবর্তে ৬ষ্ঠধাপে নেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে জারি করা এ সংক্রান্ত নির্দেশে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারেনি সেহেতু নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাঙামাটি জেলার ১০টি উপজেলার সকল ৪৯ ইউনিয়নের নির্বাচন ৩য় পর্যায়ের পরিবর্তে ৬ষ্ঠ পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত’ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদিও অন্য একটি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির ৩৭টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩৬টিতে, অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি ২৭টিতে নমিনেশন দিতে পেরেছে। কিন্তু খাগড়াছড়ি জেলার নির্বাচন পেছানো হয়নি।

এদিকে ইসির পত্রে রাঙামাটি জেলায় ‘প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী মনোনয়ন দিতে’ না পারার কোনো কারণ না বলা হলেও সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতারা পরিষ্কার করে একাধিকবার বলেছেন, পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের হুমকির কারণে তারা অনেক ইউনিয়নে প্রার্থী দিতে পারছেন না। শুধু তাই নয় নির্বাচন পেছানোর পর সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে এও বলা হয়েছে, “পার্বত্য চট্রগ্রামে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে শুধু ইউপি নির্বাচন কেন ভবিষ্যতে কোন নির্বাচনেই অংশ নেবে না আওয়ামী লীগ”।

cht book 4

এ প্রেক্ষাপটে রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে অবিলম্বে যৌথ অভিযান শুরু করার সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু কবে কখন থেকে এই অভিযান শুরু হবে বা আদৌ হবে কিনা এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অথচ রাঙামাটি ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের অপর দুই জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে শুরু হয়েছে নির্বাচনী ডামাঢোল।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার প্রবল প্রতাপে দেশ পরিচালনা করছে।বাংলাদেশের ইতিহাসে এর চেয়ে দাপুটে সরকার আর কখনো দেশ শাসন করেনি।প্রশাসন, পুলিশসহ সকল ধরনের ব্যুরোক্রাসি, মিডিয়া, সরকার বিরোধী মত, এমনকি বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহকে দলে পিষে অতীতে আর কোনো সরকার এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের দাপটে যেখানে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি, জামায়াত, শিবির যেখানে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারি দল চরম অসহায়! অসহায় প্রধান বিরোধী দলও।

সারা দেশের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে যেখানে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতকর্মীদের মধ্যে তদ্বির, কালো টাকা, প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সংঘাত, সংঘর্ষ, হত্যাকাণ্ড হচ্ছে; সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পূর্ণ আলাদা। কেননা পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইউপিতে প্রধান জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো মনোনয়ন দেয়ার জন্য প্রার্থীই খুঁজে পাচ্ছে না। সরকারি দল আওয়ামী লীগ, রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইউপিতে নমিনেশন দেয়ার মতো আগ্রহী প্রার্থী পাচ্ছে না। এমন নয় যে সেখানে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের সংগঠন নেই। সংগঠন থাকলেও বিএনপি-আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রার্থী হতে আগ্রহী নয়।

chtbook 9

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন পার্বত্য জেলায় সক্রিয় তিনটি আঞ্চলিক সংগঠনের সশস্ত্র শাখার সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা নমিনেশন নিতে আগ্রহী নয়।হুমকির মুখে জীবন বাঁচতে তারা নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে দিয়েছে পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের কাছে।

বিষয়টি স্বীকার করে  রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার জানিয়েছেন, স্থানীয় সশস্ত্র নামধারী সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্রের ভয়ে পাহাড়ে মানুষ জিম্মি। তাদের হুমকির কারণে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদে আমাদের দলের অনেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এমনকি দলীয় বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানরা পর্যন্ত ভয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কারণ নির্বাচন এলে স্থানীয় আঞ্চলিক দলগুলোর অপতৎপরতা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে পাহাড় অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তাদের জোর বেশি থাকে।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির ৪৯টি আসনের মধ্যে ৩০ আসনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিতে পেরেছে আওয়ামী লীগ। বাকি ১৯টি আসনে চেষ্টা করেও কোনো সরকারি দল কোনো প্রার্থী দিতে পারেনি। সাবেক পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার বলেন, নির্বাচনের আগেই স্থানীয় নামধারী সন্ত্রাসী গ্রুপের ভয়ে আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মী প্রার্থী হতে চাইছেন না। যার কারণে রাঙামাটি ৪৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৯টি ইউনিয়ন প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে একই জেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সাকুল্যে ২২টি ইউপিতে নমিনেশন দিতে পেরেছে। অর্ধেকের বেশি আসনে অর্থাৎ ২৭ টি ইউপিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি। রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দীপেন তালুকদার ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি, সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো পার্বত্য নিউজকে বলেন, সন্ত্রাসীদের হুমকি মুখে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বাচন করতে আগ্রহী হচ্ছেন না।

ooooooo

একই অবস্থা পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতেও। এ জেলার ৩৭ টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৩৬টিতে আওয়ামী লীগ নমিনেশন দিতে পারলেও বিএনপি ২৭ টিতে নমিনেশন দিতে পেরেছে। খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুঁইয়া পার্বত্যনিউজকে জানান, পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বাচন করতে ভয় পাচ্ছেন। তাই তারা নমিনেশন নিতে আগ্রহী নয়। বান্দরবানে পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের ভিত অপেক্ষাকৃত দুর্বল হওয়ায় সেখানের পরিস্থিতি অবশ্য ভিন্ন। তবুৃ রুমা ও রোয়াংছড়ির মতো প্রত্যন্ত উপজেলাগুলো এলাকাবাসী ইচ্ছামতো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছে না।

পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা শুধু নির্বাচনে অংশ নিতে জাতীয় দলের নেতাকর্মীদের ভয় দেখাচ্ছে তা ই নয়। তারা সরকারি দলের মন্ত্রী, এমপিদেরও নির্বাচনে অংশ নিতে ভয় দেখাচ্ছে। ইতোমধ্যে সাবেক পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদারকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা। রাঙামাটি জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনসমূহ এই হুমকির বিরুদ্ধে জেলাব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ করছে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে মনোনীত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা তাকেও হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে

পার্বত্য চট্টগ্রামে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগ থাকলের বাস্তবে তা যথেষ্ট কার্যকর নয়।শান্তিচুক্তির পর পাহাড়ীদের একটি গ্রুপ অস্ত্র সমর্পন করলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম এখনও বৃহৎ অবৈধ অস্ত্রাগার।

খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, হুমকি, অপহরণ পার্বত্য চট্টগ্রামের নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা। পাহাড়ে অপহরণ ঘটনায় এখনো মুক্তিপণ না দিয়ে মুক্তির ঘটনা বিরল। পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদা না দিয়ে পাহাড়ী-বাঙালি কারো পক্ষে বাস করা অসম্ভব। অথচ সেই পাহাড়ীরাই সন্ত্রাসীদের মনোনীত প্রার্থিকে ভোট নিয়ে নির্বাচিত করে। এটা ভালোবেসে নয়, স্বতঃস্ফুর্তভাবে অস্ত্রের মুখে জিম্মী হয়ে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকার এখনো নির্ভয়ে ভোটদানের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি। তাছাড়া সন্ত্রাসীদের মনোনীত প্রার্থিকে ভোট না দিলে বিচ্ছিন্ন পাহাড়ী পাড়াগুলোতে বসবাসকারী নিরীহ জনগণের জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকে।

Rangamati pic2

শুধু তাই নয়, সরকার পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে তিন পার্বত্য জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে সরকারি দলের নেতারাই স্বীকার করেছেন।

পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের কার্যক্রমে অতিষ্ঠ হয়ে বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি আওয়ামী লীগে যোগদান করেছিল কয়েকশত শান্তিকামী পাহাড়ী। কিন্তু সরকারী দল তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় পুণরায় তারা পাহাড়ী সংগঠনে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নির্বাচনী প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন পাহাড়ী পাড়াগুলোতে ঘুরে ঘুরে নিরীহ ভোটারদের ভয়, হুমকি প্রদর্শন করে নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীদের ভোট দেয়ার কথা বলছে। তারা এমনও বলছে যে, পুলিশ-সেনাবাহিনী-বিজিবি ভোটের কিছুদিন পাহারা দেবে। কিন্তু ভোটের পর আর তাদের পাওয়া যাবে না। সে সময় তারা থাকবে। তাদের প্রার্থীরা হেরে গেলে ভোটের পর তারা এর প্রতিশোধ নেবে।

গত ১৬ মার্চ রাঙামাটির নানিয়ারচরে পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নির্বাচন করতে চাওয়ায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পঞ্চানন চাকমাকে অপহরণ করে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা। এরপরও এ উপজেলায় একই কারণে আরো কিছু অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একইভাবে দলীয় মনোনয়নের বাইরে প্রার্থি হতে চাওয়ায় বান্দরবানের রুমা উপজেলায় পাহাড়ী সংগঠনের এক নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে তার দলের সদস্যরাই।নির্বাচন যতো এগিয়ে আসবে এ ধরনের ঘটনা ততো বৃদ্ধি পাবে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় সর্বমোট ১১৯টি ইউপির মধ্যে ১১৩টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ৬টি ইউপি নির্বাচন স্থগিত হয়।  ১১৩টি ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩৬টি, বিএনপি ২২টি, জেএসএস(মূল) ১৫টি, ইউপিডিএফ ৩১টি, জেএসএস(সংস্কার) ৫টি, স্বতন্ত্র ৩টি, বাঙালি সংগঠন ১টি আসনে জয়লাভ করে।

result 1

জেলাওয়ারি হিসাবে দেখা যায়, রাঙামাটি জেলায় ৪৯টি ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগ ১১টি, বিএনপি ৬টি, ইউপিডিএফ ১৬টি, জেএসএস(মূল) ১২টি, জেএসএস(সংস্কার) ২টি, স্বতন্ত্র ২টি এবং বাঙালি সংগঠন ১টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করে। এ সময় ১টি আসনে নির্বাচন স্থগিত থাকে।

খাগড়াছড়ির ৩৯টি আসনের মধ্যে ৩৭টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ২টির ফলাফল স্থগিত থাকে। নির্বাচন হওয়া ৩৭টি ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৩টি, বিএনপি ৩টি, ইউপিডিএফ ১৫টি, জেএসএস(সংস্কার) ৩টি আসনে জয়লাভ করলেও জেএসএস (মূল) ও বাঙালি সংগঠনগুলো এ জেলায় কোনো ইউপিতে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়নি।

অন্যদিকে বান্দরবানের ৩১টি ইউপির মধ্যে ২৮টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ ১২টি, বিএনপি ১২টি, জেএসএস (মূল) ৩টি ও স্বতন্ত্র ১টি আসনে জয়লাভ করে। ইউপিডিএফ ও বাঙালি সংগঠন এ জেলায় কোনো আসন পায়নি।

কিন্তু ২০১১ সালের নির্বাচন ও ২০১৬ সালের নির্বাচনের মধ্যে বিস্তর তফাত রয়েছে। ২০১১ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল অরাজনৈতিক আবরণে। কিন্তু ২০১৬ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক আবহে। একেবারে দলীয় মনোনয়নে, দলীয় প্রতীকে। অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে বিবেচনা করলে বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্তু লারমার ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলন চলছে। এ আন্দোলনের অংশ হিসাবে তিন স্থানীয় পাহাড়ী প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনের মধ্যে চলছে অঘোষিত অস্ত্র বিরতি। শুধু তাই নয়, এ তিন পাহাড়ী সংগঠনের ঐক্য প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিন পার্বত্য জেলার পাহাড়ী সংগঠনগুলো যদি সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামে তাহলে সরকারি দল আওয়ামী লীগসহ জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশেষ বেকায়দায় পড়তে হবে।

সাধারণত তিন পার্বত্য জেলার উপজাতি অধ্যুষিত ইউপিগুলোতে পাহাড়ী আঞ্চলিক সংগঠনগুলো জয়লাভ করে। তাছাড়া অনেক সময় একাধিক বাঙালি প্রার্থীর বিপরীতে একক পাহাড়ী প্রার্থী দিয়েও আঞ্চলিক সংগঠনগুলো জয়লাভ করে। প্রত্যন্ত ইউপিগুলোতে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করা পাহাড়ী পাড়া বা গ্রামগুলোর বাসিন্দা বা ভোটাররা সবসময় উপজাতি আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বন্দুকে মুখে বসবাস করে। এসব সন্ত্রাসীরা নিরীহ উপজাতি বাসিন্দাদের উপর যতোই জুলুম, নির্যাতন, অত্যাচার, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস চালাক জীবনের ভয়ে, বন্দুকের মুখে তারা তাদের নির্দেশিত পথেই চলতে বাধ্য হয়, তাদের মনোনীত প্রার্থীকেই ভোট দিতে বাধ্য হয়।

cht book 6

পার্বত্য বিশেষজ্ঞদের মত, শুধুমাত্র নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও ভয়হীন নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। যতক্ষণ না তিন পার্বত্য জেলায় প্রবলভাবে বিরাজমান পাহাড়ী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাসকারী নিরীহ উপজাতীয় বাসিন্দাদের দিকে তাক করা পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের বন্দুকের নলগুলোকে নিষ্ক্রিয় বা ধংস করা না যাবে ততদিন পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে সক্ষম হবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামের অবাধ, নিরোপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে পাহাড়কে অস্ত্রমুক্ত করা  সময়ের দাবী। এ দাবী সরকারী দল আওয়ামী লীগের, এ দাবী বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলের, এ দাবী বাঙালীর, এ দাবী নিরীহ ও সাধারণ পাহাড়ীর, এ দাবী পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্বরত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের।

পার্বত্য চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের কথা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে বলে জানা গেছে। এমনকি জেএসএস সহসভাপতি ও সাংসদ উষাতন তালুকদারও স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের কথা বলেছেন। কাজেই নির্বাচনের আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের দাবী কতিপয় সন্ত্রাসীবাদের দল, মত, জাতি, বর্ণ নির্বিশেষে ১৬ লাখ পার্বত্যবাসীর।

তিন পার্বত্য জেলায় জাতীয রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সরকারের আন্তরিকতা ও প্রশাসন, বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ছাড়া এ কঠিন কাজে জয়লাভ সম্ভব নয়।


 

লেখকের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আরো কিছু লেখা

পার্বত্য পরিস্থিতি পরিকল্পিতভাবে উত্তপ্ত করা হচ্ছে : ফেব্রুয়ারি মাসে পৃথক নয় ঘটনায় অপহরণ গুম খুনের শিকার ১৩ জন

12767749_1276438392372496_498259382_n

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট :

পার্বত্য চট্টগ্রামকে পরিকল্পিতভাবে উত্তপ্ত করার জন্য আঞ্চলিক সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা চক্রান্ত করছে। আর এ কারণেই একের পর এক ঘটানো হচ্ছে অপহরণ, গুম, খুনের ঘটনা। বিচ্ছিন্নতাবাদী এই ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে এ পর্যন্ত পৃথক ৯টি ঘটনায় ১৩ জনকে অপহরণ, গুম ও হত্যা করেছে। এসব একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বলেই মনে করছেন পার্বত্য বিষয়ক গবেষক, বিশ্লেষকরা।

শুধু তাই নয়, একদিকে গুম, খুন এবং অপহরণ করে আতঙ্কময় করা হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামকে, অন্যদিকে ফেসবুক, বিভিন্ন ব্লগসাইটসহ বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে পাহাড়ি-বাঙালি দাঙ্গা সৃষ্টিরও পাঁয়তারা করছে। তাই এ ব্যাপারে সরকার যথাযথ দৃষ্টি না দিলে এবং অপরাধীদের দমন করতে না পারলে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের বিপর্যয়। এমনকি সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে প্রশাসনের।

ড়ড়ড়

সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত পৃথক ৯টি ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে ১৩ জনের অপহরণ, গুম, খুন হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত লাশ পাওয়া গেছে দুজনের, পালিয়ে আসতে পেরেছে একজন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কিংবা মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্তি পেয়েছে পাঁচ জন, খোঁজ নেই বাকি পাঁচ জনের।

সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় গত ৬ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার বড়ডলু মাস্টার পাড়ার বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদীনের পুত্র মো. মোরশেদ (২২) নিখোঁজ রয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দরিদ্র পরিবারের উদীয়মান যুবক মো. মোরশেদ (২২) প্রতিবেশী মো. ওবায়দুল হকের মোটর সাইকেল ভাড়ায় চালিয়ে আসছিল। প্রতিদিনের ন্যায় গত ৬ ফেব্রুয়ারী সকালে গাড়ী নিয়ে যাত্রী পরিবহনে যায়। এর পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে মোরশেদ। ৮ ফেব্রুয়ারি মোরশেদের পিতা মো. জয়নাল আবেদীন মানিকছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী নং ২৮৪ তারিখ- ৮.২.১৬ খ্রি. রজু করেন। নিখোঁজ মোরশেদ ১০০ সিসি প্লাটিনা মোটর সাইকেল চালাত। গাড়ীর চেচিস নং-MD2A18AZ2FWD-38192, ইঞ্জিন নং-DZZWEDO1643 রং কালো। নিখোঁজ মোরশেদের পিতা মো. জয়নাল আবেদীন ও পরিবার পরিজনের ধারণা সন্ত্রাসীরা তাকে অপরণ করে নিয়ে হয়তো গুম করেছে! এতো দিন লুকিয়ে কিংবা আত্মগোপনে থাকার মতো ছেলে নয় মোরশেদ।

রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার গাঁথাছড়া এলাকার বাসিন্দা জনৈক হাশেমের পুত্র আনোয়ার হোসেন (২৮) গত ৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার গাছ কেনার প্রয়োজনে বাঘাইছড়ি উপজেলার দূরছড়ি শিজকমুখ এলাকায় যান। কিন্তু শনিবার ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে মোবাইলে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। রোববারা তার মোবাইল ফোনটি হঠাৎ সচল হয়। সেই ফোন থেকে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা আনোয়ার তাদের জিম্মায় আছে এবং দুই লক্ষ টাকা মুক্তিপণ পেলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানায়। স্থানীয় সূত্রগুলো আনোয়ার অপহরণ হয়নি বলে জানালেও তার পরিবার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এ ব্যাপারে লংগদু থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত আনোয়ারের খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

৮ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি সদরের রাজবন বিহারপুর থেকে নির্মানাধীন ব্রীজের কাজের শ্রমিক আব্বাস, ছোট মানিক ও বড় মানিক নামে তিনজন শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায় একটি উপজাতীয় সংগঠনের সন্ত্রাসীরা। ১৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর রবিবার দিবাগত রাত ১১ টায় মুক্তি পেয়েছে রাঙামাটির তিন নির্মাণ শ্রমিক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আড়াই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেযেছে এই তিন নির্মাণ শ্রমিক। তবে রাঙামাটি সদর থানার ওসি মোহাম্মদ রশিদ  মুক্তিপণের কথা অস্বীকার করে জানান, প্রশাসনের চাপের মুখে অপহরণকারীরা শ্রমিকদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি কাপ্তাইয়ে পিকনিকে বেড়াতে এসে ২ গামেন্টর্স কর্মী অপহরণ হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম ইপিজেট ইয়াং ওয়াং পোষাক কারখানা হতে তিনটি বাস যোগে ১শ’ ১৮জন গামের্ন্টস কর্মী কাপ্তাইয়ে পিকনিকে আসে। পিকনিকে এসে গার্মেন্টর্স কর্মী সুখি চাকমা (১৮) ও কেয়া চাকমা (২০) কাপ্তাইয়ের আপস্ট্রিম জেটিঘাট এলাকায় দুপুর দেড়টার দিকে ঘুরাফেরা করার সময় কয়েকজন পাহাড়ী দুবৃর্ত্ত তাদের ইঞ্জিন চালিত বোটে করে উঠিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করে সাথে থাকা অন্যন্যা গামের্ন্টস কর্মীরা। ঘটনাটি এলাকার প্রশাসন ও সকল গার্মেন্টস কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সকলের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক দেখা দেয়।

Khagrachhari kidnaping

এলজিইডির আওতায় পানছড়ি বাজার থেকে মরাটিলা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ কাজের জন্য স্থানীয় পাহাড়িরা চাঁদা দাবি করে আসছিল। এরই জের ধরে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি  সকালে পানছড়ি উপজেলার তালতলা এলাকা থেকে আল-ফালাহ্ ট্রেডিং কর্পোরেশনের ঠিকাদার সাইফুদ্দিন শাহিন গাজী ও ম্যানেজার মো. রুহুল আমিনকে অপহরণ করা হয়। তাদের মুক্তির জন্য বিভিন্ন সময় ৫০-২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবী করা হয় পহরণকারীদের পক্ষ থেকে। ২২ ফেব্রুয়ারি অহৃতরা মুক্তি পায়। তবে তারা মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পেয়েছে নাকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সে ব্যাপারে ভিন্ন মত পাওয়া গেছে মাঠ পর্যায়ে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি  রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং ওয়ার্ড সভাপতি প্রান্ত দাস পাহাড়ী কর্তৃক অপহরণের শিকার হন। অপহরণকরীরা প্রান্ত দাসকে মারধর করে অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পথিমধ্যে কৌশলে তিনি পালিয়ে চিৎমরম ইউপি সদস্যের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা খবর পেয়ে তাকে চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পার্বত্য খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা থেকে নিখোঁজ হয় মো. আজিজুল হাকিম শান্ত (২৪) নামে ভাড়ায় চালিত এক মোটর সাইকেল চালক। মোটরসাইকেলসহ যুবক নিখোঁজের ঘটনায় শুক্রবার সকালে মাটিরাঙ্গা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে ২১ ফেব্রায়ারি নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন রিছাং ঝর্নার কাছাকাছি দুর্গম পাহাড় থেকে মটরসাইকেল চালক আজিজুল হাকিম শান্ত‘র লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ধন বিকাশ ত্রিপুরা এবং খগেন্দ্র ত্রিপুরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা ইতোমধ্যে শান্ত হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।

বান্দরবানের রুমা সদরে লালুমিয়া খামার এলাকা থেকে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় ২০ ফেব্রুয়ারি এক অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ জানায় প্রয়াত লালুমিয়া খামার এলাকায় একটি গাছে রশি বাধা অবস্থায় ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেলে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে খবর দেয়। রাতে পুলিশের পর্যবেক্ষণে রেখে পরদিন শনিবার বেলা সাড়ে ১০টায় থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শরিফুর রহমান শফিক এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই মোহাম্মদ আলমগীর নেতৃত্বে ঝুলন্ত লাশটি উদ্ধার করা হয়।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে মোটর সাইকেল চালক নিখোঁজের রেশ না কাটতেই আরো এক মাওলানা নিখোঁজ বলে জানা গেছে। রবিবার সন্ধায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন মাওঃ আবুবকর ছিদ্দিক এবং রাত ১০.৩০ মিনিটে তিনি অক্সিজেন গিয়ে পৌছান। অক্সিজেন পৌঁছানোর কিছু সময় পর তিনি ফোন করে জানান তাকে পুলিশে তুলে নিয়ে গেছে। কোথায় আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোথায় আছি বলতে পারি না তবে একটি গর্তের মধ্যে আছি মনে হচ্ছে এই কথা বলার পর ফোন কেটে যায়। ফোন কাটার পর থেকেই অপহৃতের মোবাইলটিবন্ধ রয়েছে। তবে অপহৃতের চাচাত ভাই মানিকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম জানান, চট্টগামের বিভিন্ন থানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন মাওঃ আবু বকর নামে পুলিশ কাঊকে আটক করেনি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার পাশাপাশি ব্যাপকভাবে রাষ্ট্রবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারও চালানো হচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে। হঠাৎ করেই ওয়েবসাইট, ব্লগ ও সামাজিক গণমাধ্যমগুলোতে  পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের বাংলাদেশ, বাঙালি, সেনাবাহিনী ও সরকার বিরোধী, বিদ্বেষমূলক, হিংসাপরায়ণ, সাম্প্রদায়িক ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে পার্বত্যবাসী বিশেষ করে পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাংলাদেশ, বাঙালী ও সরকার বিরোধী মনোভাব সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিজ্ঞমহলের মত।

মূলত: একের পর এক অপহরণ করে ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে পর্যটন মৌসুমে পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন খাত অচল করে দেয়া এর লক্ষ্য। ইতোপূর্বে পাহাড়ী সংগঠনগুলো তাদের ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসাবে পর্যটনখাতকে অচল করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিল। কাজেই চলমান অপহরণ প্রক্রিয়া সন্তু লারমা ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনের অংশ বলেই মনে কারছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞমহল।

এর সর্বশেষ প্রমাণ গত ২১ ফেব্রুয়ারি মাটিরাঙ্গায় অপহৃত এক বাঙালী যুবকের লাশ উদ্ধারের পর দুপুর থেকে একাধিক ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে একটি অস্পষ্ট পুরাতন ছবি, সেনাবাহিনী ও বাঙালিদের জড়িয়ে নাম সর্বস্ব কিছু নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদের লিংক শেয়ার করা হয়। সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক এসব ছবি ও নিউজের লিংকগুলো এক আইডি থেকে অন্য আইডিতে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে একজনের ওয়াল থেকে অন্যজনের ওয়াল, ফেসবুক পেইজ ও গ্রুপে ভাসতে থাকে এসব ছবি ও সংবাদগুলো।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞমহলের মতে, অচিরেই এ প্রবণতা রোধ করতে না পারলে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ী সম্প্রদায়ের আগামী প্রজন্ম গড়ে উঠবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি আনুগত্যহীন ও প্রচণ্ড সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন হয়ে। তাই এ ব্যাপারে সরকার যথাযথ দৃষ্টি না দিলে এবং অপরাধীদের দমন করতে না পারলে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের বিপর্যয়। এমনকি সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে প্রশাসনের।

সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও চাঁদাবাজি বরদাস্ত করা হবেনা- লে. কর্ণেল জিল্লুর রহমান

14.01

সিনিয়র রিপোর্টার:

মাটিরাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ণ হয়েছে উল্লেখ করে মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান পিএসসি-জি বলেছেন, পাহাড়ের শান্তিু-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীসহ অন্যন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। তিনি শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, পাহাড়ে কোন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মককান্ড ও চাঁদাবাজি বরদাস্ত করা হবেনা।

বৃহস্পতিবার সকালে মাটিরাঙ্গা জোন সদরে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান-কার্বারী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সম্মেলন ও মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মতবিনিমিয় সভায় মাটিরাঙ্গা পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শামছুল হক, মেয়র মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র আবু ইউসুফ চৌধুরী, মাটিরাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম তাজু, মাটিরাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ইমরুল কায়েস, মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহাদাত হোসেন টিটো, গুইমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেমং মারমা, মাটিরাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর মো. আলাউদ্দিন লিটন প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ১৭ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারী‘র উপ-অধিনায়ক মেজর গোলাম মোর্শেদ, জোনাল স্টাফ অফিসার মেজর সাইফ, মেজর মো. তওসীফ ইসলাম সাচি, মাটিরাঙ্গা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল হোসেন ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার নবনির্বাচিত কাউন্সিলরসহ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান-কার্বারী, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক প্রতিনিধি ও গণ্যামন্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

খাগড়াছড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ৪৫টি সিলিং, সামরিক পোশাকসহ ৩ উপজাতীয় যুবক আটক

kkc

স্টাফ রিপোর্টার:

খাগড়াছড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ৪৫টি সিল, সামরিক পোশাকসহ ৩ উপজাতীয় যুবক আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে জেলার বিজিতলা চেকপোস্টে নিরাপত্তা তল্লাসীকালে তাদের আটক করা হয়ে।

সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওঁত পেতে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিজিতলা নিরাপত্তা বাহিনীর চেক পোস্টে তল্লাশী করে সন্দেহভাজন তিন উপজাতীয় যুবকের শরীর তল্লাশীকালে তাদের নিকট থেকে সামরিক আগ্নেয়াস্ত্র বহনকারী ৪৫টি সিলিং, আরাকান আর্মির ব্যবহৃত ১ সেট শীতের পোশাক ও একটি মোটর সাইকেল আটক করা হয়।

সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ বা ভারতে এ ধরনের সিলিং ব্যবহার করা হয় না। এগুলো মূলত আরাকান আর্মি বা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন অস্ত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার এসআই আরেফিন পার্বত্যনিউজকে বলেন, আটককৃত যুবকরা হলেন, বিবৃতি চাকমা(৩৪), পিতা উখিল প্রিয় চাকমা, ধনমনি চাকমা(৩৬) পিতা মহারুম চাকমা, কিরণ ত্রিপুরা(২৩), পিতা কৃষ্ণমোহন ত্রিপুরা। আটককৃতদের মধ্যে বিবৃতি চাকমার বাড়ি সদরের চম্পাঘাট এলাকায় এবং বাকি দুইজনের বাড়ি পানছড়ি।

সূত্রমতে, আটক সন্ত্রাসীরা স্থানীয় উপজাতীয় সংগঠনের নিযুক্ত চাঁদা আদায়কারী। এদের মধ্যে বিবৃতি চাকমা পেশায় হোন্ডা চালক হলেও মহালছড়িতে চাঁদা আদায়ের দায়িত্ব, কিরণ ত্রিপুরার চাঁদা আদায় এলাকা পানছড়ি হলেও সম্প্রতি তাকে রাঙামাটির ১৮ মাইল এলাকায় পোস্টিং দেয়া হযেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে বিবৃতি চাকমা জানিয়েছে, রাঙামাটির নানিয়ার চরের ১৮ মাইলে জনি চাকমা নামের এক সন্ত্রাসীর কাছে এই সামরিক সরঞ্জামগুলো সরবরাহ করার জন্য রমেশ চাকমা নামে এক ব্যক্তি তাকে এই সরঞ্জামগুলো দিয়েছে। তিনি আরো জানান, আরো একটি কালো পালসার মটর সাইকেলে ৪৫ টি ম্যাগজিন ও বিপুল পরিমাণ গুলি নিয়ে আসছিলো আরেকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ। যাদের সাথে কথা ছিলো তাদের মটর সাইকেল বিজিতলা নিরাপত্তা চৌকি বিনা বাধায় পার হতে পারলে তারা সংকেত দিলে সেটিও আসবে। কিন্তু তারা আটক হয়ে যাওয়ায় সংকেত না পেয়ে অপর মটরসাইকেলটি পালিয়ে যায়।

আটককৃতদের সদর থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুদ্দীন ভুঁইয়া আটকের সত্যতা পার্বত্যনিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

মাটিরাঙ্গায় ইতালিয়ান পিস্তলসহ জেএসএস সন্ত্রাসী আটক : ৪ পুলিশ আহত(ভিডিওসহ)

Arms Recover 19.10 (1)

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ইতালির তৈরী ৭.৬৫ বোরের পিস্তলসহ এক উপজাতি সন্ত্রাসীকে মাটিরাঙ্গা ও গুইমারা থানা পুলিশ এক যৌথ অভিযানের মাধ্যমে আটক করেছে।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ন‘টার দিকে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার শেখ মো: মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল বাইল্যাছড়ির কামাল কোম্পানীর ব্রিক ফিল্ড থেকে এ সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃত সন্ত্রাসীর নাম কিশোর কুমার ত্রিপুরা (৩০) প্রকাশ বীতেন ত্রিপুরা। সে বাই্ল্যাছড়ির ৩ নং রাবার বাগান এলাকার ধীরেন্দ্র কুমার ত্রিপুরার ছেলে। সে জনসংহতি সমিতি‘র (এমএন লারমা) স্থানীয় নেতা ও চাঁদা আদায়কারী বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

অভিযানকালে সন্ত্রাসী কিশোর ত্রিপুরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করলে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান মাটিরাঙ্গা থানার এস আই মো: কবির হোসেন। এসময় পুলিশের সাথে সন্ত্রাসী কিশোর ত্রিপুরা‘র ধস্তাস্তির ঘটনাও ঘটে। এ সময় পুলিশ তাকে জাপটে ধরে। তবে ধস্তাধস্তিতে পুলিশের এস.আই কবির, এ.এস.আই মহসিন, কনষ্টবল আল মামুন ও ডিএসবি লাইজু আহত হয়। আটককালে পুলিশ তার কাছ থেকে ৫ রাউন্ড গুলিসহ একটি ইতালিয়ান ব্যারেটা পিস্তল, নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার শেখ মো: মিজানুর রহমান বলেন, কিছুদিন যাবত এই সন্ত্রাসী আমাদের অব্যাহত নজরদারীতে ছিল। অবশেষে আজ তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেফতার করা হলো। এটা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের একটা বড় সাফল্য বলেও মনে করেন তিনি। তিনি বলেন আপনারা জানেন, এসকল সন্ত্রাসীরা চাঁদাবজি ও হত্যা থেকে সব অপরাধমুলক কর্মকান্ড করে থাকে। তারা বিভিন্ন ভাবে এখানকার মানুষকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। তিনি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করে সকলের সহযোগিতা নিয়ে সুন্দর আইন-শৃঙ্খলা পরিবেশ উপহার দিতে পারবো। তিনি বলেন স্থানীয় আঞ্চলিক সংগঠনের ব্যানারে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা এখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ সার্বিক উন্নয়ন ব্যহত করার চেষ্টা করছে।

পানছড়িতে পুলিশের অস্ত্র হারানোর ঘটনার সাথে এসব সন্ত্রাসীদের কোন ধরনের যোগসুত্র আছে কিনা স্থানীয় সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবিষয়ে একটি মামলা চলমান রয়েছে তাই তদন্তের স্বার্থে এবিষয়ে বেশী কিছু বলা যাবেনা। তবে অস্ত্রটি উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং অস্ত্রটি উদ্ধারে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সন্ত্রাসীরা আটকের পর খুব অল্প সময়ে জামিনে বেরিয়ে আসে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উপযুক্ত স্বাক্ষীর অভাবেই সন্ত্রাসীরা বেরিয় আসে।

পুলিশের হাতে আটক সন্ত্রাসী কিশোর কুমার ত্রিপুরা (৩০) প্রকাশ বীতেন ত্রিপুরা‘র বিরুদ্ধে গুইমারা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার শেখ মো: মিজানুর রহমান।

এদিকে ইতালির তৈরী ৭.৬৫ বোরের পিস্তলসহ জনসংহতি সমিতি‘র (এমএন লারমা) সন্ত্রাসী কিশোর কুমার ত্রিপুরা (৩০) প্রকাশ বীতেন ত্রিপুরা আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে মাটিরাঙ্গার সাধারণ মানুষ স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলে দেশীয় আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে তার শাস্তি দাবী করেন।

সন্ত্রাসীদের শিকড়সহ কীভাবে উপড়ে ফেলতে হয় তা আওয়ামী লীগের জানা আছে- প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি

রাঙামাটিতে বীরবাহাদুরের সম্বর্ধনা

 

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:
সন্ত্রাসীদের শিকড়সহ কীভাবে উপড়ে ফেলতে হয় তা আওয়ামীলীগের জানা আছে। যারা অস্ত্রের ভাষায় কথা বলে, সন্ত্রাসী করে তাদের শিকড়সহ কিভাবে উপড়ে ফেলতে হয় তা আওয়ামীলীগের জানা আছে বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। পার্বত্যাঞ্চলে গুটি কয়েক মানুষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী, অপহরণ, হত্যা ও গুমের সাথে জড়িত। তাদের নির্মুল করতে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি  বলেন, অস্ত্রের রাজনীতি না করলেও অস্ত্রের নল কিভাবে বাঁকা করতে হয় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ তা ভালো করেই জানে। আর যদি কেউ আমাদের সাথে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে তাদের কিভাবে সমুচিত শিক্ষা দিতে হয় তা জননেত্রী শেখ হাসিনা ভালো করেই জানে এবং সময়মতো সেটার জবাবও দিয়ে দেন।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব সন্ত্রাসীদের নির্মুল করতে যারা এ এলাকায় শান্তি চান, সম্প্রীতি চান, ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করতে চান তারা আমাদের পাশে থাকবেন বলেন। গতকাল রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপিকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, মহিলা সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, আওয়ামীলীগ সিনিয়র সহ-সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য মাহাবুবুর রহমান, আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ আখতার, মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদিক জেবুন্নেছা রহিম, স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ কাজল, ছাত্রলীগ সভাপতি শাহ এমরান রোকন সহ আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর বাহাদুর এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রজেক্টগুলো বাস্তবায়নের জন্য অঙ্গীকার করেছেন তার এক চুলও এদিকওদিক হবে না। ভালো কাজের বিরোধীরা সব সময় বিরোধীতা করতে থাকবে। আমরা আমাদের ভালো কাজগুলো করে যাবো।

তিনি বলেন, আমি মনে করি কোন সংসদ সদস্যের কোন সন্ত্রাসী দল থাকতে পারে না। রাঙ্গামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও চান না এখানে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজী হোক। সন্ত্রাস নির্মুলে আমার সেই ভাই অবশ্যই আমাদেরকে সহযোগিতা করবে এটা আমাদের বিশ্বাস। সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজী কোন দল নেই। আমরা অস্ত্রধারীদের বিশ্বাস করি না, সন্ত্রাসীকে বিশ্বাস করি না, তাদেরকে আশ্রয় ও প্রশ্রয়ও দিই না। যারা অস্ত্রবাজী করে, চাঁদাবাজী করে সন্ত্রাসী করে তারা শুধু আমাদের নয় দেশ ও জনগনের শত্রু। সকল রাজনৈতিক দল, সকল সম্প্রদায় মিলে আমরা পার্বত্য অঞ্চল থেকে সন্ত্রাস দমন করবো। সন্ত্রাসীদের শেকড় শুদ্ধ পার্বত্য অঞ্চল থেকে উপড়ে ফেলে দিবো। আমাদের রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যে কোন বিভেদ নেই। সকলেই আমরা মিলে মিশে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। পার্বত্য অঞ্চলের জনগনের শান্তি জন্য, তাদের জান মাল রক্ষা করার জন্য এ অঞ্চলের সম্প্রীতি রক্ষার জন্য যা করা দরকার তা আমরা করতে প্রস্তুত রয়েছি।

রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, পাহাড়ের যারা অস্ত্রবাজী, চাঁদাবাজী করে তাদের বিরুদ্ধে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ ধীরে ধীরে ঐক্য বদ্ধ হচ্ছে। আর বেশীদিন সময় নেই যারা এসব অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছে তাদেরকে নির্মুল করে দিতে। তিনি বলেন, এই এলাকার জনগনই তাদের নির্মুল করে দেবে।

তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের আওয়ামীলীগ সরকার সব সময় বদ্ধপরিকর। আওয়ামীলীগ থেকে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে গেলেও আওয়ামীলীগ রাঙ্গামাটি জেলার উন্নয়নে এতোটুকু কার্পণ্য করবে না। তিনি বলেন, পাহাড়ের আওয়ামীলীগ যে উন্নয়ন করেছে অতীতের কোন সরকার তা করতে পারেনি। কিন্তু আমাদের আঞ্চলিক দলগুলো সেসব উন্নয়ন কাজে সব সময় বাধা দিয়ে আসছিলো। আমরা তাও উন্নয়ন কাজে পিছ পা হইনি।

এর আগে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপিকে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগ সহ সকল অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

 

আরও খবর

টেকনাফ উপকূল দিয়ে মানব পাচার অব্যাহত

পর্যটন শিল্প ত্বরান্বিত করতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরী- মেনন

বান্দরবানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সুরের মুর্ছনায় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের ২৫ বছর পূর্তি

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলেই পাহাড়ের কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়ন হবে- বীর বাহাদুর