সন্তু লারমার সফরের প্রতিবাদে বান্দরবানে বাঙালী সংগঠনগুলোর কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি

সন্তু লারমা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পার্বত্য জন সংহতি সমিতির সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান  সন্তু লারমার আগমনের প্রতিবাদে রবিবার বান্দরবানে বাঙ্গালী সংগঠনগুলো কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।


সফরসূচিতে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও শুধুমাত্র বোমাং সার্কেল চিফ উচ প্রু চৌধুরীর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্য বান্দরবানে তিন দিনের সফরে আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ওরফে সন্তু লারমা।

সূত্র জানায়, রবিবার বান্দরবান-চন্দ্রঘোনা সড়ক পথ হয়ে বিকালে সন্তুু লারমার বান্দরবান এসে উন্নয়ন বোর্ড রেষ্ট হাউজে রাত্রি যাপন করার কথা রয়েছে। এসময় তার সফরসঙ্গী হিসাবে জেএসএস নেতাদের থাকার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার সকাল ১০ টায় বোমাং সার্কেল চিফ উচ প্রু চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে সন্তুু লারমার। ঐ বৈঠকে জেএসএস’র সতস্ত্র বাহিনীর সাথেও বৈঠক করবেন বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় সড়কপথে রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে বান্দরবান ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার। এসময় বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।

এদিকে পার্বত্য নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী আলকাছ আল মামুন ভুঁইয়া জানান, ‘পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীদের গড ফাদার সন্তু লারমার সফরকে কেন্দ্র করে আমরা কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচির ঘোষণা করেছি।’

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর স্থানীয় সূত্রগুলো, সন্তু লারমার বান্দরবান আগমনের হেতু অনুসন্ধান করছে। শুধু বোমাং সার্কেল চিফের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্য তিনি বান্দরবানে তিনদিনের সফরে আসছেন- একথা স্থানীয় সচেতন নাগরিকরাও মানতে নারাজ।

সচেতন নাগরিকরা জানান, আওয়ামীলীগ নেতা মংপুকে অপহরণের পর থেকে সরকারী দল পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আর্কষণ করলে বান্দরবানে বেকাদায় রয়েছে সন্তুু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। জেএসএস’র শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যা মামলা হওয়ায় গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছে সবাই।

এরপর থেকে বান্দরবানে জেএসএস’র কোন কর্মসূচি কয়েক মাস যাবৎ নেই বললে চলে। এরই মধ্যে জেএসএসের অফিসগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী অপারেশন চালিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য নথিপত্র পরীক্ষার জন্য নিয়ে গেছে। পরীক্ষার পর নিরাপত্তা বাহিনী এগুলো ফেরত দিতে চাইলেও ফেরত নেয়ার জন্য জেএসএসের কোনো নেতাকর্মীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, জেএসএস’র নেতা কর্মীদের চাঙ্গা ও তাদের শহরে প্রতিস্থাপন করতেই সন্তুু লারমা বান্দরবানে সফরে আসছেন। সফরকালীন সময়ে তার বান্দরবানে জেএসএস নেতাদের সাথে বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য বান্দরবান জেএসএসের একাধিক নেতার টেলিফোনে কল করা হলেও কারো সংযোগ পাওয়া যায়নি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন নিয়ে সন্তু লারমা’র সঙ্গে ইউএনডিপি পরিচালকের বৈঠক

Rangamati pic-19-05-14

স্টাফ রিপোর্টার, রাঙামাটি:
ইউএনডিপির চলমান প্রকল্পে পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমার সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক ব্যুরোর পরিচালক ও সহকারী প্রশাসক হাওলিয়াং সু।

সোমবার দুপুরে রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বাংলাদেশে সফররত ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক ব্যুরোর পরিচালক ও সহকারী প্রশাসক হাওলিয়াং সু ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য গৌতম চাকমাসহ ইআরডি ও ইউএনডিপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউএনডিপি’র সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পের যেসব কাজ চলমান আছে তা নিয়ে উভয়ের মধ্যে আলোচনা হয়। প্রকল্পগুলো যথাযথ সময়ে বাস্তবায়ন হয় এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সুফলভোগীরা সুফল পায় সেই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠক শেষে ইউএনডিপির মিশন রাঙামাটির বালুখালী গ্রামে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান। এর আগে ইউএনডিপির প্রকল্প কার্যালয় পরিদর্শন করেন হাওলিয়াং সু ।