চিকিৎসকের উপর হামলার প্রতিবাদে বান্দরবানে ত্রিপুরা সংগঠনের মানববন্ধন

Bandarban pic-1.2

স্টাফ রিপোর্টার:

চট্টগ্রামে ডা. সানাই প্রু ত্রিপুরার উপরে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে বান্দরবানে মানববন্ধন করেছে ত্রিপুরা সম্প্রদায়। সোমবার বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে ত্রিপুরা স্টুডেন্টস কাউন্সিল সংগঠনের ব্যানারে ত্রিপুরা শিক্ষার্থীরা ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা স্টুডেন্টস্ কাউন্সিল সংগঠনের সভাপতি সুখেন্দু ত্রিপুরা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জন ত্রিপুরা, উইলিয়াম ত্রিপুরাসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দায়িত্ব পালনের নামে পুলিশের সদস্যরা একজন চিকিৎসকের উপর নগ্ন হামলা খুবই দুঃখজনক। অবিলম্বে তদন্ত পূর্বক আগামী এক সপ্তাহের ঐ দোষী পুলিশের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর কর্মসুচী দেয়া হবে বলে হুশিয়ারী দেন বক্তারা।

দেশে উন্নয়নের জোয়ার ধরে রাখতে প্রয়োজন সংগঠনের ঐক্যবদ্ধতা- সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি

1

নিজস্ব প্রতিনিধি:

দেশের সবখানে এখন উন্নয়নের জোয়ার বইছে। এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শেখ হাসিনার সাথে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একসাথে কাজ করার আহবান জানান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী ছৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, দেশের এই উন্নয়নের দৃশ্য দেখে বিএনপি জামায়াত এখন ঈর্ষান্বিত। তাই তারা যে কোন মুহূর্তে চক্রান্ত করে দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। ক্ষতি করতে পারে স্বাধীন বাংলাদেশের। সেজন্য দলকে আরো আরো ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে।

রবিবার বেলা ১১টায় কক্সবাজার শহরের পাবলিক লাইব্রেরী (শহীদ দৌলত ময়দান) মাঠে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন বলেন, বিএনপি জামায়াতের পেট্রোল বোমার আঘাতে অগ্নিদগ্ধ দেশকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত দেশের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশের উন্নয়নসহ সর্বোপরি সফলতার সাথে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে শেখ হাসিনা। তাই জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পদকটিও তিনি পেয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, কক্সবাজারের সাথে আমার পরিবারের ৭৫ বছরের সম্পর্ক। এছাড়া কক্সবাজারের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনজর রয়েছে। তাই দেশের সবচেয়ে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প গুলো তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কক্সবাজারেই দিয়েছেন। যে গুলো বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে কক্সবাজারের চেহারা। শুধু মহেশখালীকে ঘিরে সরকারের যেসব উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলছে দেশের অন্য কোন উপজেলায় এতসব উন্নয়ন প্রকল্প নেই। দেশের অর্থনীতির সিংহভাগ এখন কক্সবাজার থেকেই সংগ্রহ করার স্বপ্ন দেখছে সরকার। তাই তিনি ভবিষ্যতেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর আস্তা রাখার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

এদিকে, বেলা ১১ টার দিকে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সয়ম পরে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয় জেলা আওয়ামী লীগের ত্রী-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিলের প্রথম অধিবেশন। এ সময় ৪০ ফুটের স্টেজটিসহ পুরো পাবলিক লাইব্রেরী ও এর আশপাশ এলাকায় লোকজনের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। কোথাও এতটুকু জায়গা ছিল। শুধু পাবালিক লাইব্রেরীর মাঠ নয় আদালত প্রাঙ্গন, লালদীঘির পাড় ও ৬ নাম্বার রাস্তার মাথাসহ পুরো এলাকা ছিল কানায় কানায় পূর্ণ । অন্যদিকে নিরাপত্তার জন্য কঠোর অবস্থানে ছিল প্রশাসন।

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড. একে আহমদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন সিআইপির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈচিং এমপি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জমানা ডাবলো, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুজিত রায় নন্দী ও আমিনুল ইসলাম, কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, টেকনাফ-উখিয়া আসনের সাংসদ আব্দুর রহমান বদি, সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী ও অধ্যাপক এথিন রাখাইন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রনেতা মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, আজিজুল সামাদ আজাদ ডন, শাহাজাদা মহিউদ্দিন, প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া প্রমূখ।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্বাধীন একটি দেশ দিয়েছেন। আর সেই দেশে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির জন্য কঠোরভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের ও ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে নানান পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। দেশের সবক্ষেত্রে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। এভাবেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন একের পর এক সফলতার সাথে বাংলাদেশ উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন বিএনপি জামায়াত ও তাদের দোসররা নানা ধরণের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এরা মুক্তিযুদ্ধের সময়ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিলনা। এদের কাছে দেশের সাধারণ মানুষ কোন অবস্থাতেই নিরাপদ নয়। তাই পাকিস্তান প্রেমী এসব বিএনপি জামায়াত ও তাদের দোসরদের ষড়যন্ত্রকে কঠোরভাবে রুখতে হলে আওয়ামী লীগকে আরো শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে হতে হবে।

এদিকে সম্মেলনের পর বিয়াম ল্যাবরেটরী মিলনায়তনে কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সম্মেলন শেষ করে ঢাকায় ফেরার আগে কক্সবাজার হিলটপ সার্কিট হাউজে বসে সভাপতি হিসেবে এড. সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মুজিবুর রহমানের নাম ঘোষণা করেন।