শান্তিচুক্তি কি সংশোধন হতে যাচ্ছে?

0PuAFnndQSRr

স্টাফ রিপোর্টার:

১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে ৬টি স্থায়ী সেনাক্যাম্প থাকার কথা বলা হলেও রবিবার তিনি বলেছেন, ৪ টি ব্রিগ্রেড ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাকি সব সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হবে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি শান্তিচুক্তি সংশোধন করতে চাইছেন? নাকি শান্তিচুক্তি বিষয়ে এটি সরকারের নতুন অবস্থান? অথবা তার বক্তব্য যারা লিখেছেন তাদের তথ্যগত ভুল?

প্রশ্নটি উঠেছে রবিবার সকালে রাজধানীর বেইলী রোডে অফিসার্স ক্লাবের পার্শ্ববর্তী স্থানে নির্দিষ্ট দুই একর জমির ওপর পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স নির্মাণের ভিত্তিফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে।

সরকারী সংবাদ সংস্থা বাসস পরিবেশিত খবরে দেখা যায়, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কেবলমাত্র ভূমি সংস্কার ব্যতীত পার্বত্য শান্তিচুক্তির অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী চারটি ব্রিগেড ব্যতীত অধিকাংশ সেনা ক্যাম্পও সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার ভূমি সংস্কারের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন একাধিকবার গঠন করলেও কমিশনের কাজ সন্তোষজনকভাবে এগোয়নি। কারণ সেখানে কিছুটা অবিশ্বাস এবং দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ করছিল।
আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

…প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনা ক্যাম্পগুলো অধিকাংশ’ই তুলে নেয়া হয়েছে। যা সামান্য কিছু আছে- চারটি জায়গায় কেবল ৪টি ব্রিগেড থাকবে। বাকীগুলো সব সরিয়ে নেয়া হবে। যেজন্য রামুতে আমরা একটা সেনানিবাস করেছি। ঐ অঞ্চলে তাঁর সরকার শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।”

শান্তিচুক্তি

কিন্তু ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে রাষ্ট্রিয় অতিথি ভবন পদ্মায় স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে ৬ টি স্থায়ী সেনা ক্যাম্প রাখার কথা বলা হয়েছে। শান্তিচুক্তির ঘ খন্ডের ১৭(ক) ধারায় বলা হয়েছে, “ সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে চুক্তি সই ও সম্পাদনের পর এবং জনসংহতি সমিতির সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসার সাথে সাথে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিডিআর) ও স্থায়ী সেনানিবাস (তিন জেলা সদরে তিনটি এবং আলীকদম, রুমা ও দীঘিনালা) ব্যতীত সামরিক বাহিনী, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সকল অস্থায়ী ক্যাম্প পার্বত্য চট্টগ্রাম হইতে পর্যায়ক্রমে স্থায়ী নিবাসে ফেরত নেওয়া হইবে এবং এই লক্ষ্যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হইবে। আইন-শৃঙ্খলা অবনতির ক্ষেত্রে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে এবং এই জাতীয় অন্যান্য কাজে দেশের সকল এলাকার ন্যায় প্রয়োজনীয় যথাযথ আইন ও বিধি অনুসরণে বেসামরিক প্রশাসনের কর্তৃত্বাধীনে সেনাবাহিনীকে নিয়োগ করা যাইবে। এই ক্ষেত্রে প্রয়োজন বা সময় অনুযায়ী সহায়তা লাভের উদ্দেশ্যে আঞ্চলিক পরিষদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করিতে পারিবেন”

প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য বাস্তবায়ন করতে হলে শান্তিচুক্তি সংশোধন করতে হবে বলে পার্বত্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

এ ব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

৩০০ কি.মি. মানববন্ধন নেটওয়ার্ক জেলা উপজেলা সদরে সীমাবদ্ধ

প্রথমবারের মতো তিন পার্বত্য জেলা জুড়ে জেএসএস ও ইউপিডিএফ’র অঘোষিত ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচী পালন

12485993_787861114693615_5916404005061567791_o

স্টাফ রিপোর্টার:

আয়োজক তিন সংগঠন থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবীতে তিন পার্বত্য জেলা জুড়ে ৩০০ কি. মি. ব্যাপী গণ-মানববন্ধন সফল হওয়ার দাবী করা হলেও কিন্তু অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, প্রধানত: জেলা ও উপজেলা সদরেই সীমাবদ্ধ ছিলো এ মানববন্ধন। এর বাইরে বিপুল এলাকায় মানববন্ধনকারীদের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় খাগড়াছড়িতে মানববন্ধনের চেষ্টা করা হলেও পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (পার্বত্য চট্টগ্রাম শাখা) ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক এ মানববন্ধনের ডাক দিলেও এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস(মূল ও সংস্কার) ইউপিডিএফ নেতারা এ মানববন্ধনে অংশ নিয়েছে। এর বাইরেও বিভিন্ন উপজাতীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এ মানববন্ধনে অংশ নেয়। তবে এ মানববন্ধনের উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিলো, প্রথমবারের মতো তিন পার্বত্য জেলা জুড়ে জেএসএস ও ইউপিডিএফ’র অঘোষিত ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচী পালন করা।

খাগড়াছড়ি

18.01

খাগড়াছড়ি থেকে পার্বত্যনিউজের জেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ, দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং সমতল অঞ্চলে আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশনের দাবীতে পাহাড়ি তিনটি সংগঠনের ডাকা মানববন্ধন কর্মসূচীটি খাগড়াছড়িতে পুলিশি বাঁধায় পন্ড হয়ে যায়।

 শহরের চেঙ্গী স্কোয়ার মাইনী ভ্যালী এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সদস্য ইউ কে জেন’র নেতৃত্বে মানববন্ধন কর্মসূচীতে দাঁড়ালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্না প্রশাসনিক অনুমতি না থাকায় তাদের বাধাঁ দিয়ে সরিয়ে দেন। পরে তাৎক্ষনিক জেলা শহরের মহাজন পাড়াস্থ একটি কনভেনশন সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দেলনরতরা।

এতে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি,বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সদস্য খাগড়াছড়ি সরকারি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর বোধিসত্ত্ব দেওয়ান। এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সদস্য ফেসর (অব) ড. সুধীন কুমার চাকমা, মধুমঙ্গল চাকমা, শেফালিকা ত্রিপুরা এসময় উপস্থিতি ছিলেন।

সংগঠনগুলো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে বাঁধা প্রদানের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে, অবিলম্বের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও সমতলের আদিবাসীদের জন্য স্বতন্ত্র ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি প্রদানের দাবী জানান নেতৃবৃন্দরা।

এদিকে মহালছড়ি সদর ও মাইচছড়িতে পুলিশী বাধার কারণে মানববন্ধন পণ্ড হয়ে যায়। এসময় পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।

রাঙামাটি

দতকব

পূর্বঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসাবে রাঙামাটির বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন পালিত হয়েছে বিনা বাধায়। শহরের কল্যাণপুর এলাকায় এ মানববন্ধনের নেতৃত্ব দেন জেএসএস সভাপতি সন্তু লারমা এবং জেলা প্রশাসন অফিস প্রাঙ্গনে মানবন্ধনের আহ্বায়ক ও নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান এবং লংগদুতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় ও তার স্ত্রী য়েন য়েন।

রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (পার্বত্য চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি আহবায়ক গৌতম দেওয়ান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে সদস্য নিরূপা দেওয়ান, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধরাণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা প্রমুখ।

মানববন্ধনে ওই সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ ১৮বছরেও সরকার পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের কোন আগ্রহ প্রকাশ করেনি। ভবিষ্যতে এ চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন এখন পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের মনে। সরকারের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সভা সমাবেশে বলেন ২০০৮সালের আওয়ামীলীগের নির্বাচনীয় সনদ হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা। কিন্তু কবে এ সনদ বাস্তবায় করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোন সুনিদিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তাই পার্বত্যাঞ্চলের মানুষ এখন হতাশ। পাহাড়ের জুম্মজাতিরা এখন আর সরকারের উপর বিশ্বাস রাখেনা।

তারা মনে করে সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন না করলে, আন্দোলনের মধ্যমে সরকারকে চুক্তি বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে আর কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে বলে হুমকি দেন ওই সংগঠনের নেতারা।

বান্দরবান

Bandarban pic-3, 18.1

পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও সমতলে ‘আদিবাসীদের’ জন্য আলাদা ভূমি কমিশনের দাবিতে বান্দরবানে গণ মানববন্ধন করেছে পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র ও নৃ-গোষ্ঠীরা। মানববন্ধনে সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উ নি হ্লা মানববন্ধন সফল করায় সকলকে ধন্যবাদ জানান।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রোয়াংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেএসএস জেলা সাধারণ সম্পাদক ক্যবামং মারমা, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়রম্যান ও জেলা হিলউম্যান্স ফেডারেশনের সভানেত্রী ওয়াইচিং প্রু, অনন্যা নারী কল্যাণ সংস্থার পরিচালক ডনাই প্রু নেলী, পাহাড়ী বম সম্প্রদায়ের নেতা জিরকুম সাহা, এনজিও সংস্থার কর্মী অংচ মং মারমাসহ সংগঠনের নেতৃবিন্দরা।

মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে জেএসএস জেলা সাধারণ সম্পাদক ক্যবামং মারমা বলেন, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের নামে কালক্ষেপন করছে সরকার। পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের বিকল্প কিছু নেই।

মানবন্ধন সফল হওয়ার দাবী তিন আয়োজক সংগঠনের

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ, দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং সমতল অঞ্চলে আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশনের দাবিতে আহুত গণ-মানববন্ধনে তিন পার্বত্য জেলার আপামর জনগণ শান্তিপূর্ণ, সুশৃংখল ও স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে মানববন্ধন সফল হওয়ার দাবী করে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (পার্বত্য চট্টগ্রাম শাখা) ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক গৌতম দেওয়ানের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, খাগড়াছড়ি জেলার জেলা প্রশাসন মানববন্ধন করার অনুমতি দেয়নি। ফলে প্রশাসন খাগড়াছড়ি সদরে মানববন্ধন আয়োজনে বাধা প্রদান করে এবং মানববন্ধনে আসা লোকদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এছাড়া মহালছড়ি উপজেলাধীন মাইসছড়ি ইউনিয়ন ও মহালছড়ি সদরে বাধা প্রদান করে। প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনীর এ ধরণের গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনী কর্তৃক বাধা প্রদান ও মানববন্ধনে আসা লোকজনের উপর নির্যাতন করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। 

তবে বাধার মুখেও খাগড়াছড়ি জেলার অন্যান্য জায়গায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে দাবী করে বিবৃতিতে তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতার জন্য তাদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে বাইশারীতে মানববন্ধন

dd

বাইশারী প্রতিনিধি:

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির যথাযথ, দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং সমতল অঞ্চলে আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশনের দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (পার্বত্য চট্টগ্রাম শাখা) ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক এর উদ্যোগে তিন পার্বত্য জেলার ন্যায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতেও আদিবাসী জনগনের পক্ষ থেকে গণ-মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাইশারী স্কুল সড়কে সোমবার সকাল ১০.৩০ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে জেএসএস নেতৃবৃন্দ ছাড়াও পাহাড়ী-বাঙ্গালী শতাধিক লোক অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন দাবিনামা সম্বলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে এক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিটি বাইশারী বাজার প্রদিক্ষণ শেষে উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

গণ-মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন জেএসএস বাইশারী সভাপতি নিউহ্লামং মার্মা, মুক্তিযোদ্ধা ধংছাই কারবারী, সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হাকিম, মংথোয়াইহ্লা হেডম্যান, মংক্যাহ্লা কারবারী, মংছাঅং চাক, হ্লাথোয়াইঙ্গা চাক, ক্যাচিমং, মংথোয়াই চাক, মাষ্টার মংহ্লাচিং, উমু চাক, হ্লাথোয়াইছা কারবারী, অংছাচিং কারবারী, মংওয়াই মার্মাসহ শত শত পাহাড়ী-বাঙ্গালী লোকজন।

মানববন্ধনত্তোর আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের ১৮ বছর পার হলেও চুক্তির মৌলিক বিষয় সমূহ অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়ে গেছে। তাই বক্তারা বাইশারীর মাটি থেকে সরকারের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন, বর্তমানে বাইশারীতে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় হাজার হাজার একর পাহাড়ী খাস ভূমি বহিরাগত ভূমিদস্যুরা দখল করে রেখেছে। সরকারের কাছে এসব পাহাড়ী খাস ভূমি বহিরাগতদের কাছ থেকে পূনরুদ্ধারের দাবি জানান।

শান্তিচুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবীতে ১৮ জানুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘতম মানববন্ধনের ডাক

 মানববন্ধন

সিনিয়র রিপোর্টার:

পার্বত্য শান্তিচুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ১৮ জানুয়ারি তিন পার্বত্য জেলায় পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসের সবচাইতে দীর্ঘ মানববন্ধন করবে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম-পার্বত্য অঞ্চল শাখা ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা পানছড়ির দুদুকছড়া থেকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুনধুম পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত একযোগে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে দীর্ঘতম ৪০০ কি.মি. ব্যাপী এই মানববন্ধনের রুট নির্ধারণ করা হয়েছে: ঘুনধুম-নাইক্ষ্যংছড়ি- বাইশারী- গয়ালমারা- লাইমঝিরি(লামা)- গজালিয়া-১৬ মাইল(চিম্বুক) ও বান্দরবান সদর হয়ে রাঙামাটির বাঙ্গালহালিয়া- বরইছড়ি- কাপ্তাই- হয়ে রাঙামাটি সদর এবং খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি-ঘিলাছড়ি ইউপি হয়ে মহালছড়ি ইউপি- মাচ্ছ্যছড়া ইউপি- বিজিতলা- খাগড়াছড়ি সদর- পেরাছড়া- ভাইবোনছড়া-লতিবান- পানছড়ি সদর- পুজগাং- হয়ে দুদুকছড়া পর্যন্ত।

সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা এই কর্মসূচির কথা নিশ্চিত করে পার্বত্যনিউজকে বলেন, শান্তিচুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নে রোডম্যাপ ঘোষণা করতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই মুলত এ কর্মসুচির মুল উদ্দ্যেশ্য।

মানববন্ধনের মাধ্যমে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের দাবী কতটা পুরণ হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করা বা তা কিভাবে বাস্তবায়ন হবে তা সরকারের ব্যাপার। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের তৃণমুল জনগনের ট্র্যাডিশনাল লিডার হিসেবে দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম-পার্বত্য অঞ্চল শাখা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি‘র সাথে এ কর্মসূচীতে একাত্ম হয়েছি।

দদদদদদ

পাহাড়ের প্রধান আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত জেএসএস বা ইউপিডিএফ এ কর্মসুচীতে অংশ নেবে কিনা জানতে চাইলে সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা আরো বলেন, শুধুমাত্র ইউপিডিএফ-জেএসএস নয়, এই মানববন্ধনে পার্বত্য চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারণ, বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক-সাংবাদিকসহ সকলে স্ব স্ব অবস্থান থেকে অংশ নেবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের ১৭ বছরের মাথায় পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের দাবীতে এটিই হবে পাহাড়ের সবচেয়ে বড় মানববন্ধন। এমনটাই অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

পার্বত্য চুক্তির শতভাগ বাস্তবায়ন করুন না হয় পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত বললেন জেএসএস নেতৃবৃন্দ

pic-02

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
‘পার্বত্য চুক্তির শতভাগ বাস্তবায়ন করুন না হয় পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত’। পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য জুম্ম জনগনের স্বার্থে জন-সংহতি সমিতি ও জুম্ম জনগনের নেতা সন্তুর লারমা ডাকে অসহযোগ আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যে চলতি মাস থেকে জুম্ম জনগণকে আন্দোলন অব্যাহত রাখার শপথ নিয়ে বলিপাড়া বাজার প্লাটফরম এর জন-সংহতি সমিতির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উপরোক্ত কথা বলেন বক্তারা ।

‘চুক্তি বিরোধী ও জুম্ম স্বার্থপন্থী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করুন’- এই শ্লোগানের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার এক বিক্ষোভ মিছিলে মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জন-সংহতি সমিতি ও পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ বলিপাড়া ইউপি শাখা ত্রিবার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন হয় । সম্মেলনে  থানচি উপজেলায় অবস্থানরত সকল জুম্ম জনগণকে প্রস্তুত থাকার জন্য আহবান জানান বক্তারা।

জন-সংহতি সমিতি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি সভাপতি হ্লাসিংঅং মারমা এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রুমা উপজেলা চেয়ারম্যান ও বান্দরবান জেলা জন-সংহতি সমিতি সহ-সভাপতি অংথোয়াইচিং মারমা প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

থানচি থানা শাখা পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক থুইমংপ্রু মারমা এর সঞ্চালনের বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন থানছি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও জন-সংহতি সমিতি সভাপতি চসাথোয়াই মারমা (পকশৈ), সহ-সভাপতি ম্যানুওয়েল ত্রিপুরা, সাধারণ সম্পাদক মেমংপ্রু মারমা, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জন ত্রিপুরা, বান্দরবান জেলা পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অজিত তংচংগ্যা, যুব সমিতি সভাপতি ও সদর ইউপি মেম্বার ক্রাপ্রুঅং মারমা, জন-সংহতি সমিতি থানছি ইউপি শাখা সভাপতি সম্পদ ম্রো, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ থানছি থানা শাখা সভাপতি নুশৈমং মারমা, বলিপাড়া মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী ও ইউপি সদস্যা ক্রানুচিং মারমা।

সম্মেলন শেষে হ্লাসিংঅং মারমা সভাপতি,অংচনু মারমা সাধারণ সম্পাদক,বাহাইমং মারমা সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট জন-সংহতি সমিতি ও উক্যনু মারমা সভাপতি,সুকিরণ চাক্মা (কিরণ) সাধারণ সম্পাদক, সুকল্প চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১৫ বিশিষ্ট পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ কমিটি গঠন করা হয়।

শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের পর পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- শেখ হাসিনা

pm news

স্টাফ রিপোর্টার:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকদের টেকসই উন্নয়নের জন্য তাঁর সরকারের গৃহীত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের পর পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অথনৈতিক কার্যক্রমে গতি সঞ্চার হয়েছে। এতে এ অঞ্চলের জনগণের জন্য সুযোগ-সুবিধা বয়ে নিয়ে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে বিশ্বাস করে যেখানে ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী নির্বিশেষে সকলেই সমৃদ্ধি অর্জনের সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করে তুলতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যে সরকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শারীরিক প্রতিবন্ধী থেকে সকল সদস্যের উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

আজ প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সমতল ভূমিতে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ছাত্রবৃত্তি বিতরণকালে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী সমতল ভূমিতে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত উন্নয়নে সরকারের সম্ভাব্য সকল সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, সমতল ভূমিতে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকরা বাদ পড়ে যাওয়ায় এর আগে প্রকাশিত গেজেট সংশোধনের জন্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।

সমতল ভূমিতে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে বিশেষ কার্যক্রমের অধীনে এ ছাত্রবৃত্তি প্রদান করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার এবং সিলেট, মৌলভীবাজারের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজু দেশোয়ারা বক্তব্য রাখেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা সংবিধানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকারের কথা নিশ্চিত করা সত্ত্বেও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকেরা উপেক্ষিত হয়ে আসছে। বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর কোন সরকার তাদের অধিকার বাস্তবায়ন করেনি। এমনকি অনেক স্কুল তাদের শিশুদের ভর্তি করেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকরা বাংলাদেশের নাগরিক, তাই তারা সত্যিকার নাগরিক হিসেবে দেশে বসবাস করবে এবং সকল অধিকার ভোগ করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত উন্নয়নের লক্ষ্যে তাঁর সরকার বিশেষ সহযোগিতা কার্যক্রম চালু করে। তবে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসায় সহযোগিতা কার্যক্রম চরম বাধার সম্মুখীন হয়।

২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় সহযোগিতা কার্যক্রম চালু করে। এই কার্যক্রমের আওতায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে অথনৈতিকভাবে উন্নয়নের লক্ষ্যে তাঁর সরকার তৃণমূল পর্যায়ে সুবিধাবঞ্চিত জনগণের অবস্থার উন্নয়নের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে যোগ্য নাগরিক ও দক্ষ পেশাদার হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে শিক্ষাবৃত্তি প্রাপ্তদের নিষ্ঠার সঙ্গে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।

এ বছর ৩৫০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২০ জন শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে চেক গ্রহণ করেছে।

খবর- বাসস।

পার্বত্য চট্টগ্রামে পুনর্বাসিত বাঙালীদের সরিয়ে নিন- ড. মিজানুর রহমান

IMG_5359

স্টাফ রিপোর্টার:

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, `পার্বত্য চট্টগ্রামে জোর করে বাঙালি জনসংখ্যা বাড়িয়ে সেখানকার আদিবাসীদের সংখ্যালঘু করার রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকার যেসব বাঙ্গালিদের পুনর্বাসন করেছে তাদের আবারো সেখান থেকে সরিয়ে নিন।  প্রয়োজনে তাদের অন্য জায়গায় পুনর্বাসন করতে হবে’।

তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জাতিসংঘ ইউনিভার্সাল পিরিউডিক রিভিউর (ইউপিআর) সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নে অগ্রগতির বর্তমান অবস্থা: আদিবাসী প্রেক্ষিত’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

অ্যাকশন এইড এবং কাপেং ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজক। সাবেক তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম এর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত; নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবীর; পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব সালমা আক্তার জাহান; বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং; জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন প্রমূখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন একশন এইড এর প্রেপাগ্রাম, পলিসি এন্ড ক্যাম্পেইন এর পরিচালক আসগর আলী সাবরী। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কাপেং ফাউন্ডেশনের বিনোতাময় ধামাই।

পার্বত্য এলাকায় সেনা বাহিনীর অবস্থানের সমালোচনা করে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনগণই আপনার শক্তি। তারাই আপনাকে নিরাপত্তা দিবে। কোনো বাহিনী আপনার নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তাই জনগণকে আপনি দূরে সরিয়ে দিবেন না।’

অধ্যাপক মিজান বলেন, ‘বাংলাদেশের মত একটি রাষ্ট্রের আচরণ কখনো তার আদিবাসীদের প্রতি এমন হতে পারে না। এখন সময় এসেছে জাতীয় সংসদে আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করা। আদিবাসীদের ভোটেই তারা নির্বাচিত হবেন। আদিবাসীদের নিজ ভুমিতে পরবাসের অবস্থা দুর করতে হবে। জেরুজালেমকে আরবহীন করার যে নীতি গ্রহণ করা হয়েছে তেমনি পার্বত্য চট্রগামের ক্ষেত্রে একই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে’।

তিনি বলেছেন, ‘জাতিসংঘ ইউনিভার্সেল পিরিয়ডিক রিভিউ (ইউপিআর) সুপারিশসমূহে বাংলাদেশ সরকার বলেছিল আদিবাসী শব্দটা ব্যবহার করা যাবে না। কিন্ত আমরা তখন বলে ছিলাম বাংলাদেশে আদিবাসী আছে, এখনো বলছি আছে, ভবিষ্যতেও বলবো আছে। কারণ আদিবাসী ছাড়া বাংলাদেশ পূণাঙ্গ রাষ্ট্র নয়। সরকার জাতির কাছে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার যে প্রতিশ্রতি দিয়েছিল তা পুরণ করতে বাধ্য’।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র ভুল পথে চলতে পারে। তবে আমাদের কাজ হবে সঠিক পথে ফেরাতে চিৎকার করা। রাষ্ট্র আমাদের চিৎকার না শুনলে আরো জোরে চিৎকার করতে হবে। তাহলেই সরকার আমাদের চিৎকার শুনতে পারবে।’

অধ্যাপক মিজান বলেন, ‘পার্বত্য শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন চাই। অন্য কোনো কিছুই দরকার নেই, ভূমি অধিকার বাস্তবায়ন চাই। তাইলেই পরিস্থিতির আমূল ও মৌলিক পরিবর্তন আসবে। এই শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন না করলে এক সময় এদেশ থেকে পাহাড়িরা বিলুপ্তি হয়ে যাবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিজানুর রহমান বলেন,  `জাতির পিতাকে কোন আদিবাসী আজ পর্যন্ত অসম্মান করেনি। কেউ কোনদিন রাজাকার বলেনি। এ থেকে বোঝা যায় আদিবাসীদের আস্থা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উপর আছে। কিন্তু এ আস্থা আর কতদিন থাকবে? সরকারপক্ষ বা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাবো আদিবাসীদের এই আস্থাকে সম্মান দেখাতে। এতে করে পারস্পরিক সম্প্রীতি যেমন বাড়বে তেমনি সরকারই লাভবান হবে’।

তিনি বলেন, `পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিষয়ে সরকার শুধু বিভিন্ন বিভাগ হস্তান্তরের বিষয়গুলো বলে মূল সমস্যাকে এড়িয়ে যায়। কিন্তু আমি মনে করি সেখানকার ভূমি কমিশনকে কার্যকর করতে পারলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে। এছাড়াও তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের আইন শৃ্খংলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ভারও আঞ্চলিক পরিষদের কাছে হস্তান্তরের সুপারিশ করেন’।

আদিবাসীদের যেকোন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তিনি সকলকে মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ পাঠানোর অনুরোধ জানান। সাম্প্রতিক সময়ে নানিয়াচরে আদিবাসী গ্রামে অগ্নিসংযোগের ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শানাক্ত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তিরও দাবি জানান তিনি।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, `২০১৩ সালের ইউপিআর রিভিউ এর সময় তখনকার পররাষ্ট্র মন্ত্রী দীপু মনির নেতৃতে যে দল অধিবেশনে গিয়েছিল সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দেওয়ার আগে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শব্দটির পরিবর্তে আদিবাসী শব্দটি প্রতিবেদনে লেখার জন্য জোর দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

এই সরকারের আমলে পার্বত্য চুক্তির পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়ন হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হলেও এখন পর্যন্ত সেটি বাস্তবায়নের কোন লক্ষণ আমরা দেখছিনা। বাধ্য হয়ে সেই চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী সন্তু লারমাকে অসহযোগ আন্দোলেনের ডাক দিতে হচ্ছে। জানিনা সেই আন্দোলন শান্তিপূর্ন হবে নাকি সহিংসতাপূর্ন হবে। অনতিবিলম্বে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আমি সরকারের প্রতি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য রোডম্যাপ ঘোষনা করার। যাতে করে পাহাড়ী আদিবাসীরা সুস্পষ্ট ধারনা পায় কবে কখন এই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হব ‘।

 সাবেক তথ্য কমিশনার সাদেকা হালিম বলেন, ‘ইউপিআরে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার কিছু ইতিবাচত পদক্ষেপ নিয়েছে। কিছু জায়গায় কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। আমাদেরকে তাই আরো বেশী এই বিষয়ে এডভোকেসি করতে হবে। এক্ষেত্রে আদিবাসী বান্ধব সাংসদ বৃদ্ধি করতে হবে’।

তিনি আরো বলেন, ‘বিজয়ের মাসে যে চুক্তি হয়েছিল এবং চুক্তির ফলে যারা অস্ত্র জমা দিয়েছিল তাদের প্রতি বর্তমান সরকার অন্যায় করতে পারেনা’। তিনি অবিলম্বে বর্তমান সরকারকে আদিবাসীদের অধিকারগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানান।

 নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির বলেন, ‘সরকার ভোটের আগে পাহাড়িদের আদিবাসীর স্বীকৃতি দিবে বলে অঙ্গীকার করেছিল। নির্বাচনে জিতে তা ভুলে গেছে’।

আদিবাসী নারীদের উপর চলমান সহিংসতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী এদেশের নারীদের প্রতি যে মানসিকতা লালন করে তাদের উপর অন্যায়-অত্যাচার চালিয়েছে ঠিক যেন আমরা এখন আদিবাসী নারীদের প্রতি সেই মানসিকতায় পোষন করছি। এ জন্য আমরা দেখি আদিবাসী নারীর প্রতি সহিংসতার কোন ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন দোষী ব্যক্তিকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি’।

সঞ্জীব দ্রং বলেন, ‘ইউপিআর ২য় পর্বে সরকার আদিবাসীদের মানবাধিকার রক্ষায় বেশ কিছু সুপারিশ গ্রহণ করেছিল। সরকার যদি সেগুলো এখনো বাস্তবায়ন না করে তাহলে ২০১৭ সালের অধিবেশনে আবারো তাকে প্রশ্নে সম্মুখীন হতে  হবে। বাংলাদেশে জাতিগত সংখ্যালঘূদের অবস্থা কি। পার্বত্য চুক্তির অবস্থা কি? সরকারকে আবারো ২০১৭ সালে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে নানিয়াচরে যে হামলা হয়েছে তাতে বাংলাদেশ থমকে যাওয়ার কথা। কিন্তু সরকার বা প্রশাসনের এ বিষয়ে কোন মাথাব্যাথা নেই। যা আদিবাসীদের শুধূ হতবাক করে। আদিবাসীদের অধিকার অর্জনের জন্য তিনি বাঙালি-আদিবাসী সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান’।

রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, ‘ইউপিআরে সরকার যে অঙ্গীকার করে সেটি কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে সেটা খুবই বেশী গুরুত্বপূর্ন অর্থ বহন করে। এজন্য দেশের সুশীল সমাজ, সরকারের প্রতনিধি এবং রাজনৈতিক দলগুলোকেও জবাবদিহিতার জায়গায় আনতে হবে’।

তিনি আরো বলেন, ‘১৯৫০ সনের প্রজাস্বত্ত আইনে যেসব আদিবাসীদের নাম আছে তাদের অনেকের নাম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইনে আসেনি। এর ফলে বাদপড়া আদিবাসীদের শিক্ষা গ্রহণে, চাকুরী ক্ষেত্রে অনকে সমস্যা তৈরি হচ্ছে’।

পূর্ণাঙ্গ পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি

পার্বত্য শান্তিচুক্তি

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ ও অবিচল আনুগত্য রাখিয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সকল নাগরিকের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অধিকার সমুন্নত এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং বাংলাদেশের সকল নাগরিকের স্ব-স্ব অধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তরফ হইতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার অধিবাসীদের পক্ষ হইতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি নিম্নে বর্ণিত চারি খন্ড (ক, খ, গ, ঘ) সম্বলিত চুক্তিতে উপনীত হইলেন:

(ক) সাধারণ
১) উভয়পক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলকে উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল হিসাবে বিবেচনা করিয়া এ অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ এবং এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন অর্জন করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করিয়াছেন;
২) উভয়পক্ষ এ চুক্তির আওতায় যথাশিগগির ইহার বিভিন্ন ধারায় বিবৃত ঐক্যমত্য ও পালনীয় দায়িত্ব অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আইন, বিধানাবলী, রীতিসমূহ প্রণয়ন, পরিবর্তন, সংশোধন ও সংযোজন আইন মোতাবেক করা হইবে বলিয়া স্থিরীকৃত করিয়াছেন;
৩) এই চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পরিবীক্ষণ করিবার লক্ষ্যে নিম্নে বর্ণীত সদস্য সমন্বয়ে একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হইবে;
ক) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মনোনীত একজন সদস্য : আহ্বায়ক
খ) এই চুক্তির আওতায় গঠিত টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান : সদস্য
গ) পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি : সদস্য
৪) এই চুক্তি উভয়পক্ষের তরফ হইতে সম্পাদিত ও সহি করার তারিখ হইতে বলবৎ হইবে। বলবৎ হইবার তারিখ হইতে এই চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষ হইতে সম্পাদনীয় সকল পদক্ষেপ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই চুক্তি বলবৎ থাকিবে।

(খ) পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ/পার্বত্য জেলা পরিষদ
উভয়পক্ষ এই চুক্তি বলবৎ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বিদ্যমান পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন, ১৯৮৯ (রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন, ১৯৮৯, বান্দরবন পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন, ১৯৮৯, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন, ১৯৮৯) এবং-এর বিভিন্ন ধারাসমূহের নিম্নে বর্ণীত পরিবর্তন, সংশোধন, সংযোজন ও অবলোপন করার বিষয়ে ও লক্ষ্যে একমত হইয়াছেন:
১) পরিষদের আইনে বিভিন্ন ধারায় ব্যবহৃত ‘উপজাতি’ শব্দটি বলবৎ থাকিবে।
২) ‘পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ’ এর নাম সংশোধন করিয়া তদপরিবর্তে এই পরিষদ ‘পার্বত্য জেলা পরিষদ’ নামে অভিহিত হইবে।
৩) ‘অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা’ বলিতে যিনি উপজাতীয় নহেন এবং যাহার পার্বত্য জেলায় বৈধ জায়গা-জমি আছে এবং যিনি পার্বত্য জেলায় সুনির্দিষ্ট ঠিকানায় সাধারণতঃ বসবাস করেন তাহাকে বুঝাইবে।
৪) (ক) প্রতিটি পার্বত্য জেলা পরিষদে মহিলাদের জন্যে ৩ (তিন) টি আসন থাকিবে। এসব আসনের এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) অ-উপজাতীয়দের জন্যে হইবে।
(খ) ৪ নম্বর ধারার উপ-ধারা ১, ২, ৩ ও ৪ মূল আইন মোতাবেক বলবৎ থাকিবে।
(গ) ৪ নম্বর ধারার উপ-ধারা (৫)-এর দ্বিতীয় পংক্তিতে অবস্থিত ‘ডেপুটি কমিশনার’ এবং ‘ডেপুটি কমিশনারের’ শব্দগুলি পরিবর্তে যথাক্রমে ‘সার্কেল চীফ’ এবং ‘সার্কেল চীফের’ শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।
(ঘ) ৪ নম্বর ধারার নিম্নোক্ত উপ-ধারা সংযোজন করা হইবে ‘কোন ব্যক্তি অ-উপজাতীয় কিনা এবং হইলে তিনি কোন সম্প্রদায়ের সদস্য তাহা সংশ্লিষ্ট মৌজার হেডম্যান/ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/পৌর সভার চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত সার্টিফিকেট দাখিল সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট সার্কেলের চীফ স্থির করিবেন এবং এতদসম্পর্কে সার্কেল চীফের নিকট হইতে প্রাপ্ত সার্টিফিকট ব্যতীত কোন ব্যক্তি অ-উপজাতীয় হিসাবে কোন অ-উপজাতীয় সদস্য পদের জন্যে প্রার্থী হইতে পারিবেন না।
৫) ৭ নম্বর ধারায় বর্ণীত আছে যে, চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য পদে নির্বাচিত ব্যক্তি তাহার কার্যক্রম গ্রহণের পূর্বে চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনারের সম্মুখে শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিবেন। ইহা সংশোধন করিয়া ‘চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার’-এর পরিবর্তে ‘হাই কোর্ট ডিভিশনের কোন বিচারপতি’ কর্তৃক সদস্যরা শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিবেন-অংশটুকু সন্নিবেশ করা হইবে।
৬) ৮ নম্বর ধারার চতুর্থ পংক্তিতে অবস্থিত ‘চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনারের নিকট’ শব্দগুলির পরিবর্তে ‘নির্বাচন বিধি অনুসারে’ শব্দগুলি প্রতিস্থাপন করা হইবে।
৭) ১০ নম্বর ধারার দ্বিতীয় পংক্তিতে অবস্থিত ‘তিন বৎসর’ শব্দগুলির পরিবর্তে ‘পাঁচ বৎসর’ শব্দগুলি প্রতিস্থাপন করা হইবে।
৮) ১৪ নম্বর ধারায় চেয়ারম্যানের পদ কোন কারণে শূন্য হইলে বা তাহার অনুপস্থিতিতে পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত একজন উপজাতীয় সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন এবং অন্যান্য দায়িত্ব পালন করিবেন বলিয়া বিধান থাকিবে।
৯) বিদ্যমান ১৭নং ধারা নিম্নে উল্লেখিত বাক্যগুলি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হইবে: আইনের আওতায় কোন ব্যক্তি ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইতে পারিবেন, যদি তিনি- (১) বাংলাদেশের নাগরিক হন; (২) তাহার বয়স ১৮ বৎসরের কম না হয়; (৩) কোন উপযুক্ত আদালত তাহাকে মানসিকভাবে অসুস্থ ঘোষণা না করিয়া থাকেন; (৪) তিনি পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হন।
১০) ২০ নম্বর ধারার (২) উপ-ধারায় ‘নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ’ শব্দগুলি স্বতন্ত্রভাবে সংযোজন করা হইবে।
১১) ২৫ নম্বর ধারার উপ-ধারা (২) এ পরিষদের সকল সভায় চেয়ারম্যান এবং তাহার অনুপস্থিতিতে অন্যান্য সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত একজন উপজাতীয় সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন বলিয়া বিধান থাকিবে।
১২) যেহেতু খাগড়াছড়ি জেলার সমস্ত অঞ্চল মং সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত নহে, সেহেতু খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার আইনে ২৬ নম্বর ধারায় বর্ণিত ‘খাগড়াছড়ি মং চীফ’-এর পরিবর্তে ‘মং সার্কেলের চীফ এবং চাকমা সার্কেলের চীফ’ শব্দগুলি প্রতিস্থাপন করা হইবে। অনুরূপভাবে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সভায় বোমাং সার্কেলের চীফেরও উপস্থিত থাকার সুযোগ রাখা হইবে। একইভাবে বান্দরবন জেলা পরিষদের সভায় বোমাং সার্কেলের চীফ ইচ্ছা করিলে বা আমন্ত্রিত হইলে পরিষদের সভায় যোগদান করিতে পারিবেন বলিয়া বিধান রাখা হইবে।
১৩) ৩১ নম্বর উপ-ধারা (১) ও উপ-ধারা (২) এ পরিষদে সরকারের উপ-সচিব সমতুল্য একজন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সচিব হিসাবে থাকিবেন এবং এই পদে উপজাতীয় কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হইবে বলিয়া বিধান থাকিবে।
১৪) (ক) ৩২ নম্বর ধারার উপ-ধারা (১) এ পরিষদের কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত পরিষদ সরকারের অনুমোদনক্রমে, বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মকর্তা ও কর্মচারির পদ সৃষ্টি করিতে পারিবে বলিয়া বিধান থাকিবে।
(খ) ৩২ নম্বর ধারার উপ-ধারা (২) সংশোধন করিয়া নিম্নোক্তভাবে প্রণয়ন করা হইবে ঃ ‘পরিষদ প্রবিধান অনুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদে কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবেন এবং তাহাদেরকে বদলি ও সাময়িক বরখাস্ত, বরখাস্ত, অপসারণ বা অন্য কোন প্রকার শাস্তি প্রদান করিতে পারিবে। তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় রাখিতে হইবে’।
(গ) ৩২ নম্বর ধারার উপ-ধারা (৩) এ পরিষদের অন্যান্য পদে সরকার পরিষদের পরামর্শক্রমে বিধি অনুযায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে পারিবে এবং এই সকল কর্মকর্তাকে সরকার অন্যত্র বদলি, সাময়িক বরখাস্ত, বরখাস্ত, অপসারণ অথবা অন্য কোন প্রকার শাস্তি প্রদান করিতে পারিবে বলিয়া বিধান থাকিবে।
১৫) ৩৩ নম্বর ধারার উপ-ধারা (৩) এ বিধি অনুযায়ী হইবে বলিয়া উল্লেখ থাকিবে।
১৬) ৩৬ নম্বর ধারার উপ-ধারা (১) এর তৃতীয় পংক্তিতে অবস্থিত ‘অথবা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন প্রকার’ শব্দগুলি বিলুপ্ত করা হইবে।
১৭) (ক) ৩৭ নম্বর ধারার (১) উপ-ধারার চতুর্থতঃ এর মূল আইন বলবৎ থাকিবে।
(খ) ৩৭ নম্বর ধারার (২) উপ-ধারা (ঘ)-তে বিধি অনুযায়ী হইবে বলিয়া উল্লেখিত হইবে।
১৮) ৩৮ নম্বর ধারার উপ-ধারা (৩) বাতিল করা হইবে এবং উপ-ধারা (৪) সংশোধন করিয়া নিম্নোক্তভাবে এই উপ-ধারা প্রণয়ন করা হইবে ঃ কোন অর্থ-বৎসর শেষ হইবার পূর্বে যে কোন সময় সেই অর্থ-বৎসরের জন্যে, প্রয়োজন হইলে, একটি বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদন করা যাইবে।
১৯) ৪২ নম্বর ধারার নিম্নোক্ত উপ-ধারা সংযোজন করা হইবে: পরিষদ সরকার হইতে প্রাপ্য অর্থে হস্তান্তরিত বিষয়সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে, এবং জাতীয় পর্যায়ে গৃহীত সকল উন্নয়ন কার্যক্রম পরিষদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ/প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন করিবে।
২০) ৪৫ নম্বর ধারার উপ-ধারা (২) এর দ্বিতীয় পংক্তিতে অবস্থিত ‘সরকার’ শব্দটির পরিবর্তে ‘পরিষদ’ শব্দটি প্রতিস্থাপন করা হইবে।
২১) ৫০, ৫১ ও ৫২ নম্বর ধারাগুলি বাতিল করিয়া তদপরিবর্তে নিম্নোক্ত ধারা প্রণয়ন করা হইবে : এই আইনের উদ্দেশ্যের সহিত পরিষদের কার্যকলাপের সামঞ্জস্য সাধনের নিশ্চয়তা বিধানকল্পে সরকার প্রয়োজনে পরিষদকে পরামর্শ প্রদান বা অনুশাসন করিতে পারিবে। সরকার যদি নিশ্চিতভাবে এইরূপ প্রমাণ লাভ করিয়া থাকে যে, পরিষদ বা পরিষদের পক্ষে কৃত বা প্রস্তাবিত কোন কাজ-কর্ম আইনের সহিত সংগতিপূর্ণ নহে অথবা জনস্বার্থের পরিপন্থী তাহা হইলে সরকার লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরিষদের নিকট হইতে তথ্য ও ব্যাখ্যা চাহিতে পারিবে এবং পরামর্শ বা নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
২২) ৫৩ ধারার (৩) উপ-ধারার ‘বাতিল থাকার মেয়াদ শেষ হইলে’ শব্দগুলি বাতিল করিয়া তদপরিবর্তে ‘এই আইন’ শব্দটির পূর্বে ‘পরিষদ বাতিল হইলে নব্বই দিনের মধ্যে’ শব্দগুলি সন্নিবেশ করা হইবে।
২৩) ৬১ নম্বর ধারার তৃতীয় ও চতুর্থ পংক্তিতে অবস্থিত ‘সরকারের’ শব্দটির পরিবর্তে ‘মন্ত্রণালয়ের’ শব্দটি প্রতিস্থাপন করা হইবে।
২৪) (ক) ৬২ নম্বর ধারার উপ-ধারা (১) সংশোধন করিয়া নিম্নোক্তভাবে এই উপ-ধারাটি প্রণয়ন করা হইবে : আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পার্বত্য জেলা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর ও তদনিম্ন স্তরের সকল সদস্য প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং পরিষদ তাহাদের বদলি ও প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তাহাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে। তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলার উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার বজায় রাখিতে হইবে।
(খ) ৬২ নম্বর ধারার উপ-ধারা (৩) এর দ্বিতীয় পংক্তিতে অবস্থিত আপাততঃ বলবৎ অন্য সকল আইনের বিধান সাপেক্ষে শব্দগুলি বাতিল করিয়া তদপরিবর্তে ‘যথা আইন ও বিধি অনুযায়ী’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপন করা হইবে।
২৫) ৬৩ নম্বর ধারার তৃতীয় পংক্তিতে অবস্থিত ‘সহায়তা দান করা’ শব্দগুলি বলবৎ থাকিবে।
২৬) ৬৪ নম্বর ধারা সংশোধন করিয়া নিম্নোক্তভাবে এই ধারাটি প্রণয়ন করা হইবে :
(ক) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পার্বত্য জেলার এলাকাধীন বন্দোবস্তযোগ্য খাসজমিসহ কোন জায়গা-জমি পরিষদের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে ইজারা প্রদানসহ বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয় ও হস্তান্তর করা যাইবে না।
তবে শর্ত থাকে যে, রক্ষিত (Reserved বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকা, রাষ্ট্রীয় শিল্প কারখানা ও সরকারের নামে রেকর্ডকৃত ভূমির ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
(খ) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আওতাধীন কোন প্রকারের জমি, পাহাড় ও বনাঞ্চল পরিষদের সাথে আলোচনা ও ইহার সম্মতি ব্যতিরেকে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর করা যাইবে না।
(গ) পরিষদ হেডম্যান, চেইনম্যান, আমিন, সার্ভেয়ার, কানুনগো ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)দের কার্যাদি তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে।
(ঘ) কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাষা (Fringe Land) জমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জমির মূল মালিকদেরকে বন্দোবস্ত দেয়া হইবে।
২৭) ৬৫ নম্বর ধারা সংশোধন করিয়া নিম্নোক্তভাবে এই ধারা প্রণয়ন করা হইবে। আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, জেলার ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের দায়িত্ব পরিষদের হস্তে ন্যস্ত থাকিবে এবং জেলায় আদায়কৃত উক্ত কর পরিষদের তহবিলে থাকিবে।
২৮) ৬৭ নম্বর ধারা সংশোধন করিয়া নিম্নোক্তভাবে এই ধারা প্রণয়ন করা হইবে : পরিষদে এবং সরকারী কর্তৃপক্ষের কার্যাবলীর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে সরকার বা পরিষদ নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করিবে এবং পরিষদ ও সরকারের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে কাজের সমন্বয় বিধান করা যাইবে।
২৯) ৬৮ নম্বর ধারার উপ-ধারা (১) সংশোধন করিয়া নিম্নোক্তভাবে এই উপ-ধারা প্রণয়ন করা হইবে : এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা পরিষদের সাথে আলোচনাক্রমে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে এবং কোন বিধি প্রণীত হওয়ার পরেও উক্ত বিধি পুনর্বিবেচনার্থে পরিষদ কর্তৃক সরকারের নিকট আবেদন করিবার বিশেষ অধিকার থাকিবে।
৩০) (ক) ৬৯ ধারার উপ-ধারা (১) এর প্রথম ও দ্বিতীয় পংক্তিতে অবস্থিত ‘সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে’ শব্দগুলি বিলুপ্ত এবং তৃতীয় পংক্তিতে অবস্থিত ‘করিতে পারিবে’ এই শব্দগুলির পরে নিম্নোক্ত অংশটুকু সন্নিবেশ করা হইবে ঃ তবে শর্ত থাকে যে, প্রণীত প্রবিধানের কোন অংশ সম্পর্কে সরকার যদি মতভিন্নতা পোষণ করে তাহা হইলে সরকার উক্ত প্রবিধান সংশোধনের জন্য পরামর্শ দিতে বা অনুশাসন করিতে পারিবে।
(খ) ৬৯ নম্বর ধারার উপ-ধারা (২) এর (হ) এ উল্লেখিত ‘পরিষদের কোন কর্মকর্তাকে চেয়ারম্যানের ক্ষমতা অর্পণ’ এই শব্দগুলি বিলুপ্ত করা হইবে।
৩১) ৭০ নম্বর ধারা বিলুপ্ত করা হইবে।
৩২) ৭৯ নম্বর ধারা সংশোধন করিয়া নিম্নোক্তভাবে এই ধারা প্রণয়ন করা হইবে : পার্বত্য জেলায় প্রযোজ্য জাতীয় সংসদ বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ গৃহীত কোন আইন পরিষদের বিবেচনায় উক্ত জেলার জন্য কষ্টকর হইলে বা উপজাতীয়দের জন্যে আপত্তিকর হইলে পরিষদ উহা কষ্টকর বা আপত্তিকর হওয়ার কারণ ব্যক্ত করিয়া আইনটির সংশোধন বা প্রয়োগ শিথিল করিবার জন্যে সরকারের নিকট লিখিত আবেদন পেশ করিতে পারিবে এবং সরকার এই আবেদন অনুযায়ী প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবে।
৩৩) (ক) প্রথম তফসিল বর্ণীত পরিষদের কার্যাবলীর ১ নম্বরে ‘শৃঙ্খলা’ শব্দটির পরে ‘তত্ত্বাবধান’ শব্দটি সন্নিবেশ করা হইবে।
(খ) পরিষদের কার্যাবলীর ৩ নম্বরে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ সংযোজন করা হইবে: (১) বৃত্তিমূলক শিক্ষা, (২) মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা, (৩) মাধ্যমিক শিক্ষা।
(গ) প্রথম তফসিলে পরিষদের কার্যাবলীর ৬(খ) উপ-ধারায় ‘সংরক্ষিত বা’ শব্দগুলি বিলুপ্ত করা হইবে।
৩৪) পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্য ও দায়িত্বাদির মধ্যে নিম্নে উল্লেখিত বিষয়াবলী অন্তর্ভুক্ত হইবে ঃ
ক) ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা;
খ) পুলিশ (স্থানীয়);
গ) উপজাতীয় আইন ও সামাজিক বিচার;
ঘ) যুব কল্যাণ;
ঙ) পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন;
চ) স্থানীয় পর্যটন;
ছ) পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ ব্যতীত ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাষ্ট ও অন্যান্য স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান;
জ) স্থানীয় শিল্প-বাণিজ্যের লাইসেন্স প্রদান;
ঝ) কাপ্তাই হ্রদের জলসম্পদ ব্যতীত অন্যান্য নদী-নালা, খাল-বিলের সুষ্ঠু ব্যবহার ও সেচ ব্যবস্থা;
ঞ) জন্ম-মৃত্যু ও অন্যান্য পরিসংখ্যান সংরক্ষণ;
ট) মহাজনী কারবার;
ঠ) জুম চাষ।
৩৫) দ্বিতীয় তফসীলে বিবৃত পরিষদ আরোপনীয় কর, রেইট, টোল এবং ফিস-এর মধ্যে নিম্নে বর্ণীত ক্ষেত্র ও উৎসাদি অন্তর্ভুক্ত হইবে:
ক) অযান্ত্রিক যানবাহনের রেজিষ্ট্রেশন ফি;
খ) পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের উপর কর;
গ) ভূমি ও দালান-কোঠার উপর হোল্ডিং কর;
ঘ) গৃহপালিত পশু বিক্রয়ের উপর কর;
ঙ) সামাজিক বিচারের ফিস;
চ) সরকারী ও বেসরকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের উপর হোল্ডিং কর;
ছ) বনজ সম্পদের উপর রয়্যালিটির অংশ বিশেষ;
জ) সিনো, যাত্রা, সার্কাস ইত্যাদির উপর সম্পূরক কর;
ঝ) খনিজ সম্পদ অন্বেষণ বা নিষ্কর্ষণের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুজ্ঞা পত্র বা পাট্টাসমূহ সূত্রে প্রাপ্ত রয়্যালটির অংশ বিশেষ;
ঞ) ব্যবসার উপর কর;
ট) লটারীর উপর কর;
ঠ) মৎস্য ধরার উপর কর।

(গ) পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ
১) পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহ অধিকতর শক্তিশালী ও কার্যকর করিবার লক্ষ্যে পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন, ১৯৮৯ ইং (১৯৮৯ সনের ১৯, ২০ ও ২১নং আইন)-এর বিভিন্ন ধারা সংশোধন ও সংযোজন সাপেক্ষে তিন পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদের সমন্বয়ে একটি আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করা হইবে।
২) পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যগণের দ্বারা পরোক্ষভাবে এই পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হইবেন যাহার পদমর্যাদা হইবে একজন প্রতিমন্ত্রীর সমকক্ষ এবং তিনি অবশ্যই উপজাতীয় হইবেন।
৩) চেয়ারম্যানসহ পরিষদ ২২ (বাইশ) জন সদস্য লইয়া গঠন করা হইবে। পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য উপজাতীয়দের মধ্য হইতে নির্বাচিত হইবে। পরিষদ ইহার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবেন। পরিষদের গঠন নিম্নরূপ হইবে :
চেয়ারম্যান – ১ জন
সদস্য উপজাতীয় (পুরুষ)- ১২ জন
সদস্য উপজাতীয় মহিলা)- ­ ২ জন
সদস্য অ-উপজাতীয় (পুরুষ)- ৬ জন
সদস্য অ-উপজাতীয় (মহিলা)- ১ জন
উপজাতীয় পুরুষ সদস্যদের মধ্যে ৫ জন নির্বাচিত হইবেন চাকমা উপজাতি হইতে, ৩ জন মার্মা উপজাতি হইতে, ২ জন ত্রিপুরা উপজাতি হইতে, ১ জন মুরং ও তনচৈঙ্গ্যা উপজাতি হইতে এবং ১ জন লুসাই, বোম, পাংখো, খুমী, চাক ও খিয়াং উপজাতি হইতে।
অ-উপজাতি পুরুষ সদস্যদের মধ্যে হইতে প্রত্যেক জেলা হইতে ২ জন করিয়া নির্বাচিত হইবেন।
উপজাতীয় মহিলা সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে চাকমা উপজাতি হইতে ১ জন এবং অন্যান্য উপজাতি থেকে ১জন নির্বাচিত হইবেন।
৪) পরিষদের মহিলাদের জন্য ৩ (তিন) টি আসন সংরক্ষিত রাখা হইবে। এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) অ-উপজাতীয় হইবে।
৫) পরিষদের সদস্যগণ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যগণের দ্বারা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হইবেন। তিন পার্বত্য জেলার চেয়ারম্যানগণ পদাধিকারবলে পরিষদের সদস্য হইবেন এবং তাহাদের ভোটাধিকার থাকিবে। পরিষদের সদস্য প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্যদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার অনুরূপ হইবে।
৬) পরিষদের মেয়াদ ৫ (পাঁচ) বৎসর হইবে। পরিষদের বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদন, পরিষদ বাতিলকরণ, পরিষদের বিধি প্রণয়ন, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট বিষয় ও পদ্ধতি পার্বত্য জেলা পরিষদের অনুকূলে প্রদত্ত ও প্রযোজ্য বিষয় ও পদ্ধতির অনুরূপ হইবে।
৭) পরিষদে সরকারের যুগ্মসচিব সমতুল্য একজন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা থাকিবেন এবং এই পদে নিযুক্তির জন্য উপজাতীয় প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে।
৮) (ক) যদি পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হয় তাহা হইলে অন্তরবর্তীকালীন সময়ের জন্য পরিষদের অন্যান্য উপজাতীয় সদস্যগণের মধ্য হইতে একজন তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্যগণের দ্বারা পরোক্ষভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হইবেন।
(খ) পরিষদের কোন সদস্যপদ যদি কোন কারণে শূন্য হয় তবে উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে তাহা পূরণ করা হইবে।
৯) (ক) পরিষদ তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে পরিচালিত সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড সমন্বয় সাধন করাসহ তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদের আওতাধীন ও উহাদের উপর অর্পিত বিষয়াদি সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় করিবে। ইহা ছাড়া অর্পিত বিষয়াদির দায়িত্ব পালনে তিন জেলা পরিষদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব কিংবা কোনরূপ অসংগতি পরিলক্ষিত হইলে আঞ্চলিক পরিষদের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলিয়া পরিগণিত হইবে।
(খ) এই পরিষদ পৌরসভাসহ স্থানীয় পরিষদসমূহ তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় করিবে।
(গ) তিন পার্বত্য জেলার সাধারণ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের ব্যাপারে আঞ্চলিক পরিষদ সমন্বয় সাধন ও তত্ত্বাবধান করিতে পারিবে।
(ঘ) পরিষদ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনাসহ এনজিও’দের কার্যাবলী সমন্বয় সাধন করিতে পারিবে।
(ঙ) উপজাতীয় আইন ও সামাজিক বিচার আঞ্চলিক পরিষদের আওতাভুক্ত থাকিবে।
(চ) পরিষদ ভারী শিল্পের লাইসেন্স প্রদান করিতে পারিবে।
১০) পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, পরিষদের সাধারণ ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে অর্পিত দায়িত্ব পালন করিবে। উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার যোগ্য উপজাতীয় প্রার্থীকে অগ্রাধিকার প্রদান করিবেন।
১১) ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও অধ্যাদেশের সাথে ১৯৮৯ সনের স্থানীয় সরকার পরিষদ আইনের যদি কোন অসংগতি পরিলক্ষিত হয় তবে আঞ্চলিক পরিষদের পরামর্শ ও সুপারিশক্রমে সেই অসংগতি আইনের মাধ্যমে দূর করা হইবে।
১২) পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্বাচনের ভিত্তিতে আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার অন্তরবর্তীকালীন আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করিয়া তাহার উপর পরিষদের প্রদেয় দায়িত্ব দিতে পারিবেন।
১৩) সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে আইন প্রণয়ন করিতে গেলে আঞ্চলিক পরিষদের সাথে আলোচনাক্রমে ও ইহার পরামর্শক্রমে আইন প্রণয়ন করিবেন। তিনটি পার্বত্য জেলার উন্নয়ন ও উপজাতীয় জনগণের কল্যাণের পথে বিরূপ ফল হইতে পারে এইরূপ আইনের পরিবর্তন বা নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে পরিষদ সরকারের নিকট আবেদন অথবা সুপারিশমালা পেশ করিতে পারিবেন।
১৪) নিম্নোক্ত উৎস হইতে পরিষদের তহবিল গঠন হইবে:
(ক) জেলা পরিষদের তহবিল হইতে প্রাপ্ত অর্থ;
(খ) পরিষদের উপর ন্যস্ত এবং তৎকর্তৃক পরিচালিত সকল সম্পত্তি হইতে প্রাপ্ত অর্থ বা মুনাফা;
(গ) সরকার বা অন্যান্য কর্তৃৃপক্ষের ঋণ ও অনুদান;
(ঘ) কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;
(ঙ) পরিষদের অর্থ বিনিয়োগ হইতে মুনাফা;
(চ) পরিষদ কর্তৃক প্রাপ্ত যে কোন অর্থ;
(ছ) সরকারের নির্দেশে পরিষদের উপর ন্যস্ত অন্যান্য আয়ের উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।

(ঘ) পুনর্বাসন, সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শন ও অন্যান্য বিষয়াবলী
পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা পুনঃস্থাপন এবং এই লক্ষ্যে পুনর্বাসন, সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শন ও সংশ্লিষ্ট কার্য এবং বিষয়াবলীর ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ নিম্নে বর্ণীত অবস্থানে পৌঁছিয়াছেন এবং কার্যক্রম গ্রহণে একমত হইয়াছেন:
১) ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে অবস্থানরত উপজাতীয় শরণার্থীদের দেশে ফিরাইয়া আনার লক্ষ্যে সরকার ও উপজাতীয় শরণার্থী নেতৃবৃন্দের সাথে ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় ৯ মার্চ ’৯৭ ইং তারিখে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী ২৮ মার্চ ’৯৭ ইং হইতে উপজাতীয় শরণার্থীগণ দেশে প্রত্যাবর্তন শুরু করেন। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকিবে এবং এই লক্ষ্যে জনসংহতি সমিতির পক্ষ হইতে সম্ভাব্য সব রকম সহযোগিতা প্রদান করা হইবে। তিন পার্বত্য জেলার আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের নির্দিষ্টকরণ করিয়া একটি টাস্কফোর্সের মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।
২) সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর ও বাস্তবায়ন এবং উপজাতীয় শরণার্থী ও আভ্যন্তরীণ উপজাতীয় উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের পর সরকার এই চুক্তি অনুযায়ী গঠিতব্য আঞ্চলিক পরিষদের সাথে আলোচনাক্রমে যথাশীঘ্র পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি জরিপ কাজ শুরু এবং যথাযথ যাচাইয়ের মাধ্যমে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতঃ উপজাতীয় জনগণের ভূমি মালিকানা চুড়ান্ত করিয়া তাহাদের ভূমি রেকর্ডভূক্ত ও ভূমির অধিকার নিশ্চিত করিবেন।
৩) সরকার ভূমিহীন বা দুই একরের কম জমির মালিক উপজাতীয় পরিবারের ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করিতে পরিবার প্রতি দুই একর জমি স্থানীয় এলাকায় জমির লভ্যতা সাপেক্ষে বন্দোবস্ত দেওয়া নিশ্চিত করিবেন। যদি প্রয়োজন মত জমি পাওয়া না যায় তাহা হইলে সেই ক্ষেত্রে টিলা জমির (গ্রোভল্যান্ড) ব্যবস্থা করা হইবে।
৪) জায়গা-জমি বিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তিকল্পে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিশন (ল্যান্ড কমিশন) গঠিত হইবে। পুনর্বাসিত শরণার্থীদের জমি-জমা বিষয়ক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা ছাড়াও এ যাবৎ যেইসব জায়গা-জমি ও পাহাড় অবৈধভাবে বন্দোবস্ত ও বেদখল হইয়াছে সেই সমস্ত জমি ও পাহাড়ের মালিকানা স্বত্ব বাতিলকরণের পূর্ণ ক্ষমতা এই কমিশনের থাকিবে। এই কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে কোন আপিল চলিবে না এবং এই কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া বিবেচিত হইবে। ফ্রীঞ্জল্যান্ড (জলে ভাসা জমি)-এর ক্ষেত্রে ইহা প্রযোজ্য হইবে।
৫) এই কমিশন নিম্নোক্ত সদস্যদের লইয়া গঠন করা হইবে :
(ক) অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি;
খ) সার্কেল চীফ (সংশ্লিষ্ট);
গ) আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান/প্রতিনিধি;
ঘ) বিভাগীয় কমিশনার/অতিরিক্ত কমিশনার;
ঙ) জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (সংশ্লিষ্ট)।
৬) (ক) কমিশনের মেয়াদ তিন বছর হইবে। তবে আঞ্চলিক পরিষদের সাথে পরামর্শক্রমে উহার মেয়াদ বৃদ্ধি করা যাইবে।
(খ) কমিশন পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তি করিবেন।
৭) যে উপজাতীয় শরণার্থীরা সরকারের সংস্থা হইতে ঋণ গ্রহণ করিয়াছেন অথচ বিবদমান পরিস্থিতির কারণে ঋণকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করিতে পারেন নাই সেই ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হইবে।
৮) রাবার চাষের ও অন্যান্য জমি বরাদ্ধ ঃ যে সকল অ-উপজাতীয় ও অ-স্থানীয় ব্যক্তিদের রাবার বা অন্যান্য প্লান্টেশনের জন্য জমি বরাদ্দ করা হইয়াছিল তাহাদের মধ্যে যাহারা গত দশ বছরের মধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করেন নাই বা জমি সঠিক ব্যবহার করেন নাই সে সকল জমি বন্দোবস্ত বাতিল করা হইবে।
৯) সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের লক্ষ্যে অধিক সংখ্যক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করিবেন। এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করার লক্ষ্যে নতুন প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করিবেন। এবং সরকার এই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন করিবেন। সরকার এই অঞ্চলের পরিবেশ বিবেচনায় রাখিয়া দেশী ও বিদেশী পর্যটকদের জন্য পর্যটন ব্যবস্থার উন্নয়নে উৎসাহ যোগাইবেন।
১০) কোটা সংরক্ষণ ও বৃত্তি প্রদান: চাকরি ও উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সমপর্যায়ে না পৌঁছা পর্যন্ত সরকার উপজাতীয়দের জন্যে সরকারী চাকরি ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোটা ব্যবস্থা বহাল রাখিবেন। উপরোক্ত লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপজাতীয় ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য সরকার অধিক সংখ্যক বৃত্তি প্রদান করিবেন। বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ ও গবেষণার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় বৃত্তি প্রদান করিবেন।
১১) উপজাতীয় কৃষ্টি ও সাংস্কৃতিক স্বতন্ত্রতা বজায় রাখার জন্য সরকার ও নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ সচেষ্ট থাকিবেন। সরকার উপজাতীয় সংস্কৃতির কর্মকান্ডকে জাতীয় পর্যায়ে বিকশিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা করিবেন।
১২) জনসংহতি সমিতি ইহার সশস্ত্র সদস্যসহ সকল সদস্যের তালিকা এবং ইহার আওতাধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিবরণী এই চুক্তি স্বাক্ষরের ৪৫ দিনের মধ্যে সরকারের নিকট দাখিল করিবেন।
১৩) সরকার ও জনসংহতি সমিতি যৌথভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরের ৪৫ দিনের মধ্যে অস্ত্র জমাদানের জন্য দিন, তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করিবেন। জনসংহতি সমিতির তালিকাভুক্ত সদস্যদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমাদানের জন্য দিন তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করার জন্য তালিকা অনুযায়ী জনসংহতি সমিতির সদস্য ও তাহাদের পরিবারবর্গের স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তনের জন্যে সব রকমের নিরাপত্তা প্রদান করা হইবে।
১৪) নির্ধারিত তারিখে যে সকল সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিবেন সরকার তাহাদের প্রতি ক্ষমা ঘোষণা করিবেন। যাহাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা আছে সরকার ঐ সকল মামলা প্রত্যাহার করিয়া নিবেন।
১৫) নির্দিষ্ট সময় সীমার মধ্যে কেহ অস্ত্র জমা দিতে ব্যর্থ হইলে সরকার তাহার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন।
১৬) জনসংহতি সমিতির সকল সদস্য স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তনের পর তাহাদেরকে এবং জনসংহতি সমিতির কার্যকলাপের সাথে জড়িত স্থায়ী বাসিন্দাদেরকেও সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শন করা হইবে।
(ক) জনসংহতি সমিতির প্রত্যাবর্তনকারী সকল সদস্যকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে পরিবার প্রতি এককালীন ৫০,০০০/- টাকা প্রদান করা হইবে।
(খ) জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্যসহ অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে যাহাদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতারী পরোয়ানা, হুলিয়া জারি অথবা অনুপস্থিতিকালীন সময়ে বিচারে শাস্তি প্রদান করা হইয়াছে, অস্ত্রসমর্পন ও স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তনের পর যথাশীঘ্র সম্ভব তাহাদের বিরুদ্ধে সকল মামলা, গ্রেফতারী পরোয়ানা, হুলিয়া প্রত্যাহার করা হইবে এবং অনুপস্থিতকালীন সময়ে প্রদত্ত সাজা মওকুফ করা হইবে। জনসংহতি সমিতির কোন সদস্য জেলে আটক থাকিলে তাহাকেও মুক্তি দেওয়া হইবে।
(গ) অনুরূপভাবে অস্ত্র সমর্পণ ও স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তনের পর কেবলমাত্র জনসংহতি সমিতির সদস্য ছিলেন কারণে কাহারো বিরুদ্ধে মামলা দায়ের বা শাস্তি প্রদান বা গ্রেফতার করা যাইবে না।
(ঘ) জনসংহতি সমিতির যে সকল সদস্য সরকারের বিভিন্ন ব্যাংক ও সংস্থা হইতে ঋণ গ্রহণ করিয়াছেন কিন্তু বিবদমান পরিস্থিতির জন্য গৃহীত ঋণ সঠিকভাবে ব্যবহার করিতে পারেন নাই তাহাদের উক্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হইবে।
(ঙ) প্রত্যাগত জনসংহতি সমিতির সদস্যদের মধ্যে যাহারা পূর্বে সরকার বা সরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত ছিলেন তাহাদেরকে স্ব-স্ব পদে পুনর্বহাল করা হইবে এবং জনসংহতি সমিতির সদস্য ও তাহাদের পরিবারের সদস্যদের যোগ্যতা অনুসারে চাকরিতে নিয়োগ করা হইবে। এইক্ষেত্রে তাহাদের বয়স শিথিল সংক্রান্ত সরকারী নীতিমালা অনুসরণ করা হইবে।
(চ) জনসংহতি সমিতির সদস্যদের কুটির শিল্প ও ফলের বাগান প্রভৃতি আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজের সহায়তার জন্যে সহজশর্তে ব্যাংক ঋণ গ্রহণের অগ্রাধিকার প্রদান করা হইবে।
(ছ) জনসংহতি সমিতির সদস্যগণের ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনার সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হইবে এবং তাহাদের বৈদেশিক বোর্ড ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হইতে প্রাপ্ত সার্টিফিকেট বৈধ বলিয়া গণ্য করা হইবে।
১৭) (ক) সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে চুক্তি সই ও সম্পাদনের পর এবং জনসংহতি সমিতির সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসার সাথে সাথে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিডিআর) ও স্থায়ী সেনানিবাস (তিন জেলা সদরে তিনটি এবং আলী কদম, রুমা ও দীঘিনালা) ব্যতীত সামরিক বাহিনী, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সকল অস্থায়ী ক্যাম্প পার্বত্য চট্টগ্রাম হইতে পর্যায়ক্রমে স্থায়ী নিবাসে ফেরত নেওয়া হইবে এবং এই লক্ষ্যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হইবে। আইন-শৃঙ্খলা অবনতির ক্ষেত্রে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে এবং এই জাতীয় অন্যান্য কাজে দেশের সকল এলাকার ন্যায় প্রয়োজনীয় যথাযথ আইন ও বিধি অনুসরণে বেসামরিক প্রশাসনের কর্তৃত্বাধীনে সেনাবাহিনীকে নিয়োগ করা যাইবে। এই ক্ষেত্রে প্রয়োজন বা সময় অনুযায়ী সহায়তা লাভের উদ্দেশ্যে আঞ্চলিক পরিষদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করিতে পারিবেন।
(খ) সামরিক ও আধা-সামারিক বাহিনীর ক্যাম্প ও সেনানিবাস কর্তৃক পরিত্যক্ত জায়গা-জমি প্রকৃত মালিকের নিকট অথবা পার্বত্য জেলা পরিষদের নিকট হস্তান্তর করা হইবে।
১৮) পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সরকারী, আধা-সরকারী, পরিষদীয় ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মচারী পদে উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী অধিবাসীদের নিয়োগ করা হইবে। তবে কোন পদে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী অধিবাসীদের মধ্যে যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি না থাকিলে সরকার হইতে প্রেষণে অথবা নির্দিষ্ট সময় মেয়াদে উক্ত পদে নিয়োগ করা যাইবে।
১৯) উপজাতীয়দের মধ্য হইতে একজন মন্ত্রী নিয়োগ করিয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হইবে। এই মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করিবার জন্য নিম্নে বর্ণিত উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হইবে।
(ক) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী
(খ) চেয়ারম্যান/প্রতিনিধি, আঞ্চলিক পরিষদ
(গ) চেয়ারম্যান/প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ
(ঘ) চেয়ারম্যান/প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ
(ঙ) চেয়ারম্যান/প্রতিনিধি, বান্দরবন পার্বত্য জেলা পরিষদ
(চ) সাংসদ, রাঙ্গামাটি
(ছ) সাংসদ, খাগড়াছড়ি
(জ) সাংসদ, বান্দরবন
(ঝ) চাকমা রাজা
(ঞ) বোমাং রাজা
(ট) মং রাজা
(ঠ) তিন পার্বত্য জেলা হইতে সরকার কর্তৃক মনোনীত পার্বত্য এলাকার স্থায়ী অধিবাসী তিনজন অ-উপজাতীয় সদস্য।
এই চুক্তি উপরোক্তভাবে বাংলা ভাষায় প্রণীত এবং ঢাকায় ১৮ই অগ্রহায়ণ ১৪০৪ সাল মোতাবেক ২রা ডিসেম্বর ১৯৯৭ইং তারিখে সম্পাদিত ও সইকৃত।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে               পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসিদের পক্ষে
(আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্)                               (জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা)
আহ্বায়ক                                                            সভাপতি
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি                 পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি।
বাংলাদেশ সরকার।

হঠাৎ আলোচনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম

gen ibrahim

সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক

পাঁচ-ছয় দিন আগে, চিটাগং হিলট্রাক্টস কমিশন নামক একটি সংস্থার পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল রাঙ্গামাটি শহরে গিয়েছিল। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রাঙ্গামাটি শহরের একাধিক বাঙালি সংগঠন সেই কমিশনের গাড়িবহরকে বাধা দেয় এবং মিডিয়ার রিপোর্ট মোতাবেক, গাড়িগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই প্রতিনিধি দলে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তিত্ব হলেন সুলতানা কামাল। আরেকজন ছিলেন প্রখ্যাত রাজনীতিক ও আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের কন্যা স্বনামখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার সারাহ হোসেন।

এ ঘটনার পর পত্র-পত্রিকায় কিছু কিছু লেখালেখি হয়েছে, কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে টকশো অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রত্যেক কলাম লেখক বা সংবাদদাতা বা টকশো আলোচক এ বিষয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন। রমজানুল মোবারকের সীমাবদ্ধতার কারণে আমি টকশোতে যেতে পারিনি। কিন্তু মন্তব্যগুলো শুনে কিছু না বলতে পারলে নিজেকে অপরাধী মনে হবে। ৭ জুলাই রাত ১১টা থেকে ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত যমুনা টিভিতে টকশো ছিল। আলোচক ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (সাবেক নির্বাচন কমিশনার) এম সাখাওয়াত হোসেন, অধ্যাপক মেসবাহ কামাল এবং ব্যারিস্টার সারাহ হোসেন। সেখানে মোবাইল ফোনে চার মিনিট কথা বলেছি। স্বাভাবিকভাবেই সেটা ছিল অসম্পূর্ণ কথা। ব্যারিস্টার সারাহ হোসেন এবং অধ্যাপক মেসবাহ কামালের অনেক মন্তব্য লাখ লাখ মানুষ শুনেছে, কিন্তু আমি উত্তর দেয়ার সুযোগ পাইনি। এ নিয়ে কোনো নালিশ নেই। কিন্তু কিছু কথা বলে রাখা বাঞ্ছনীয়, তাই এ কলাম লেখা।

আমি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে বড় বই লিখেছি, বইটি অথেনটিক এবং প্রামাণিকভাবেই নির্ভুল। কারণ সেটা সরেজমিন অভিজ্ঞতালব্ধ। বইয়ের নাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি প্রক্রিয়া ও পরিবেশ পরিস্থিতির মূল্যায়ন। প্রকাশক মওলা ব্রাদার্স। কিন্তু বই সবার পক্ষে পড়া সম্ভব হয় না। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি একটি কলাম লিখব বহুল প্রচারিত যুগান্তর পত্রিকাতেই। কিন্তু কলামের আকার সংক্ষিপ্ত হতেই হবে। তাই এ কলামের চারগুণ বর্ধিত অংশ পাওয়া যাবে আমার ওয়েবসাইটে। যে কোনো আগ্রহী ব্যক্তি ইচ্ছা করলেই সেটা পড়তে পারবেন। ওয়েবসাইট ঠিকানা ইংরেজিতে এইরূপ: www.generalibrahim.com. আজকের কলামটি সূচনামূলক।

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পাঁচটি জেলার নাম হচ্ছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান। শেষের তিনটি জেলা ভূ-প্রাকৃতিকভাবে পাহাড়ি বা পার্বত্য অঞ্চল। এ পাঁচটি জেলা সম্মিলিতভাবে একটি জেলা ছিল ১৮৬০ সাল পর্যন্ত। ১৮৬০ সালে তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলার পূর্ব অংশকে তথা পাহাড়ি বা পার্বত্য অংশকে তৎকালীন ব্রিটিশ-ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার একটি আলাদা জেলা হিসেবে চিহ্নিত করে। ওই জেলার নাম দেয় পার্বত্য চট্টগ্রাম। ১৯৮৪ সালে ওই একটি পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা ভেঙে তিনটি করা হয়- রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্ব উত্তর-পশ্চিম অংশে, মোটামুটি খাগড়াছড়ি জেলা নিয়ে হচ্ছে মং সার্কেল এবং সেই সার্কেলের চিফ বা প্রধানের পারিবারিক ও প্রশাসনিক সদর দফতর হচ্ছে খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি নামক একটি জায়গায়। পার্বত্য চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় ও পূর্বাংশে মোটামুটি রাঙ্গামাটি জেলা নিয়ে চাকমা সার্কেল এবং সেই সার্কেলের চিফ বা প্রধানের পারিবারিক ও প্রশাসনিক সদর দফতর হচ্ছে রাঙ্গামাটি শহরে। পার্বত্য চট্টগ্রামের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাংশে মোটামুটি বান্দরবান জেলা নিয়ে হচ্ছে বোমাং সার্কেল এবং সেই সার্কেলের চিফ বা প্রধানের পারিবারিক ও প্রশাসনিক সদর দফতর বান্দরবান শহরে। সার্কেল চিফ বা প্রধানদের ঐতিহ্যগতভাবে রাজা বলা হয়। যেমন- চাকমা রাজা, বোমাং রাজা ও মং রাজা। কিন্তু তারা ইংরেজি পরিভাষায় কিং নয়। উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান এ তিনটি আলাদা আলাদা জেলা হলেও, সমগ্র ভূখণ্ডটিকে এককথায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বলে অভিহিত করা হয়।

এখানে বলে রাখা ভালো, ১৯৭১ সালে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ যেখানে জোয়ারের পানির মতো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল, সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় জনগোষ্ঠী ক্ষীণভাবে যুক্ত ছিল এই যুদ্ধে। উপজাতীয় জনগণের পক্ষ থেকে যারাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন অথবা রণাঙ্গনে অংশ নিয়েছেন তারাই সুনামের সঙ্গে কাজটি করেছেন। তারা অবশ্যই স্মরণীয়। তবে বৃহদাংশ কেন মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল তার অনেক কারণ আছে, যা এখানে আলোচনা করছি না। অতি চমকপ্রদ তথ্য হল, পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের পক্ষের শক্তির স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় (অর্থাৎ বর্তমানে বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাগরিক, ১/১১ সরকারের অন্যতম বিশেষ উপদেষ্টা ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়ের সুযোগ্য পিতা)। রাজা ত্রিবিদ রায় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১-এর দুএকদিন আগে-পরে, গোপনে পার্বত্য চট্টগ্রাম ত্যাগ করে পাকিস্তান পৌঁছে যান। দুই বছর আগে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত অথবা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অথবা মন্ত্রী মর্যাদার নাগরিক ছিলেন।

স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর প্রতি অবিচার করা হয়েছিল, আমি দৃঢ়ভাবে তা বিশ্বাস করি। নতুন স্বাধীনতা পাওয়া বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় জনগণ কিছু রাজনৈতিক ও সামাজিক দাবি-দাওয়া নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেন-দরবার করেন। এতে বিশেষ সাফল্য আসেনি। দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে ১৯৭২ সালে গোপনে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল যার নাম পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। ১৯৭৩ সালে এ দলের একটি সশস্ত্র অঙ্গ সংগঠন সৃষ্টি করা হয় যার নাম শান্তিবাহিনী। শান্তিবাহিনীকে সর্বতোভাবে সাহায্য-সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র প্রদান করেছিল প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বর থেকে এই শান্তি বাহিনী ভারতের সাহায্য-সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতের ভূখণ্ডকে আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক-সামরিক যুদ্ধ (ইংরেজি ভাষায় ইনসার্জেন্সি) শুরু করে। তাদের কিছু দাবি-দাওয়া ছিল যেগুলো বিবেচনাযোগ্য বলে আমি মনে করি।

কিন্তু বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর নতুন সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার উদ্যোগ না নিয়ে তারা যুদ্ধ শুরু করে। তারা মনে করেছিল, রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ এখন (১৯৭৫-৭৬ সময়ে) অস্থিতিশীল, অতএব জোরে ধাক্কা দিলে দাবি আদায় সম্ভব। ওই আমলের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম পার্বত্য চট্টগ্রামে বারবার গমন করেন, উপজাতীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপ করেন, গঠনমূলক বহুবিধ প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং বারবার আহ্বান জানান এই মর্মে যে, আসুন, আলাপ-আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করি। দুঃখের বিষয় হল, আলাপ-আলোচনা হয়নি। তখন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করার জন্য এবং সামরিকবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য, সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল দরিদ্র বাঙালি জনগোষ্ঠীকে সেখানে বসতির অনুমতি দেয়া হবে।

পৃথিবীর অন্যান্য অনুরূপ যুদ্ধবহুল জায়গার মতো (অর্থাৎ ইংরেজি পরিভাষায় ইনসার্জেন্সি এবং কাউন্টার ইনসার্জেন্সি যেখানে বিরাজমান সেইরূপ জায়গায়) পার্বত্য চট্টগ্রামে দরিদ্র বাঙালি জনগণকে বসতি স্থাপন করতে দেয়ার কাজটি বিদ্রোহী জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের কাছে, প্রশাসনের কাছে এ বাঙালি জনগোষ্ঠীর ভূমিকা এবং মূল্য অপরিসীম। স্থানের অভাবে ব্যাখ্যা করতে না পারলেও, আমি মন্তব্যটি করে রাখতে চাই যে, বাঙালি জনগণ না থাকলে ইনসার্জেন্সি তথা শান্তিবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত রাষ্ট্রবিরোধী যুদ্ধ অন্য নেতিবাচক দিকে মোড় নেয়ার আশংকা ছিল শতভাগ। অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার বাঙালি শান্তিবাহিনীর আক্রমণে মারা গিয়েছে ১৯৯০ সালের পূর্ব পর্যন্ত। ওই পরিমাণ না হলেও বেশ কিছু উপজাতীয় জনগোষ্ঠীও মারা গিয়েছে। উপজাতীয় জনগণ মারা যাওয়া ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণ দ্বিবিধ। এক কারণ হল, বাঙালির সঙ্গে সংঘর্ষ। আরেকটি কারণ হল শান্তিবাহিনী কর্তৃক আক্রমণ। যেসব উপজাতীয় জনগণ সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতেন বা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন, তাদের শান্তিবাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করত, এমনকি গ্রামের পর গ্রাম ধ্বংস করে দিত।

১৯৮৮ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে, বিশেষত খাগড়াছড়িতে, অতি অল্পভাবে রাঙ্গামাটিতে, প্রায় ২৬ হাজার বাঙালি পরিবার গুচ্ছগ্রামে থাকছে এবং তাদের দৈনন্দিন রেশনের চার ভাগের এক ভাগ সহযোগিতা সরকার থেকে পাচ্ছে। তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তি বহুলাংশে বাস্তবায়িত হওয়ার পরও পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরে আসেনি। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি জনগণ শান্তিচুক্তিকে গ্রহণ করেনি। শান্তিচুক্তিতে এমন কিছু বিধান আছে, যেগুলো তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও শান্তিবাহিনীর নেতারা কৌশলগত উদ্দেশ্যে ছদ্মবেশে সন্নিবেশ করেছে।

শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার চৌদ্দ বছর পরও সেখানে সংঘাত, চাঁদাবাজি, গুম-হত্যা, রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা বন্ধ হয়নি এবং বাঙালিদের ওপর নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং রাষ্ট্রপতি এরশাদের আমলে সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র অনগ্রসর উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর উপকার করার জন্য বেশকিছু বন্দোবস্ত নেয়া হয়েছিল। সেসব বন্দোবস্তের সুবাদে আজ উপজাতীয় জনগোষ্ঠী দারুণভাবে অগ্রসর এবং তার বিপরীতে বাঙালি জনগোষ্ঠী দারুণভাবে অনগ্রসর। বাংলাদেশ সরকারের উপকারী মনোভাবের বদৌলতে উপজাতীয় জনগোষ্ঠী অনেকগুলো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করে, যেগুলো বাঙালিরা ভোগ করে না। ফলে বাঙালিরা অনগ্রসর। বাঙালিরা সেই অনগ্রসরতা কাটিয়ে ওঠার জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা চায়। কিন্তু আন্তর্জাতিক কিছু গোষ্ঠী এবং বাংলাদেশের কিছু বামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষপন্থী ও ভারতপন্থী গোষ্ঠী বাঙালিদের অগ্রসরতা চায় না। ষোলো কোটি বাঙালির দেশ বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই লাখ বাঙালি যে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকের মতো জীবনযাপন করছে এটা সমতল ভূমির মানুষ জানে না, উপলব্ধিও করে না। মাঝেমধ্যে গণ্ডগোল হলে মিডিয়ার কারণে নজরে আসে। এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্য ব্যাপক আলোচনা প্রয়োজন।

এ কলামে স্থানের অভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আগ্রহী সচেতন পাঠকের মনে সৃষ্টি হওয়া অনেক প্রশ্নের আলোচনা করা সম্ভব হয়নি। তাই আগ্রহী পাঠক, সম্ভব হলে আমার ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখবেন। আমি শান্তিচুক্তির পুনর্মূল্যায়ন তথা রিভিশন প্রস্তাব করেছি।

মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীরপ্রতীক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক

পাহাড়ে অপহরণ আতঙ্ক: এখনো উদ্ধার হয়নি লংগদুতে অপহৃত ২ ভাই

Follow Up - Copy

স্টাফ রিপোর্টার, রাঙামাটি:

এখনো উদ্ধার হয়নি রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় অপহৃত দু’ভাই। সোমবার মধ্যরাতে জেলার লংগদু উপজেলার আটারক ছড়া ইউনিয়নের বড় উল্টাছড়ি নামক গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে প্রিয়ময় চাকমা ও তার বড় ভাই সুসময় চাকমাকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায় সশস্ত্র উপজাতি সন্ত্রাসীরা।

 

২দিন পার হয়ে গেলেও কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি অপহৃতদের। কার্বারী (গ্রাম প্রধান) প্রিয়ময় চাকাম ও তার বড় ভাই আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএসের নেতা বলে দাবী করেছে সংগঠনটি। তাই চুক্তি বিরোধী সংগঠন জনসংহতি সমিতির বিদ্রোহী গ্রুপ এমএন লারমা (সংষ্কারপন্থী) এ অপহরণের ঘটনার সাথে জরিত বলে জানিয়েছে, জেএসএসের সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা।

তবে জেএসএসের বিদ্রোহী গ্রুপ এমএন লারমা (সংষ্কারপন্থি) তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত চাকমা অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, জেএসএসের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এতে তাদের সংগঠন কোনো ভাবেই জড়িত নয়।

এ ব্যাপারে রাঙামাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) হাবিবুর রহমান হাবিব জানায়, অপহৃতদের উদ্ধার তৎপরতা চলছে। বিভিন্ন  পাহাড়ি এলাকায় পুলিশের বিশেষ টিম, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও প্রশাসনের বিভিন্ন বাহিনী উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হবে।

অভিযোগ উঠেছে, সারা দেশেরমত তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়িবান্দরবানে উদ্বেগজনক হারে গুম, হত্যা ও অপহরণ ঘটনা ঘটছে। বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। পাহাড়ে বিরাজ করছে অপহরণ আতংক। প্রায় প্রতিদিনই পার্বত্যাঞ্চলের আনাচে কানাচে কোথাও না কোথাও ঘটছে এসব অপরাধমুলক কর্মকান্ড।

একাধিক সূত্রের তথ্য মতে, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য শান্তিচুক্তির পর এ পর্যন্ত কমপক্ষে দুই হাজারের মতো মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছে তিন পার্বত্য জেলায়। খুনের শিকার হয়েছে পাঁচ শতাধিক মানুষ। গুমের ঘটনা ঘটেছে অহরহ। যার কোনো সঠিক তথ্যও নেই।

তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রয়ারি জেলার লংগদু এলাকা থেকে একসঙ্গে ৭০ জেএসএস কর্মী ও সমর্থককে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। পরে সামাজিক সমঝোতার মাধ্যমে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। ওই ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তার আগে ২০১২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে অপহৃত হন রাঙামাটি কৃষক লীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অনিল তঞ্চঙ্গ্যা। অপহরণের পর এ পর্যন্ত তার আর কোনো হদিস মেলেনি। সবার ধারণা অপহরণের পর হত্যা করে তার লাশ গুম করেছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়াও পার্বত্য শান্তিচুক্তির পর জানা অজানা অহরহ অপহরণ ঘটনা ঘটেছে পার্বত্য চট্টগ্রামে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী জেলায় এ বছর মার্চ মাসে ২৭টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তন্মধ্যে মামলা হয়েছে খুনের ঘটনায় পাঁচটি, অপহরণ ঘটনায় একটি ও অস্ত্র আইনে একটি। অন্য মামলাগুলো হয়েছে চুরি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে।

রাঙামাটি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ (ডিএসবি) জানান, রাঙামাটি জেলায় গত ২০১৩ সালে খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২০টি। অপহরণ ঘটনায় মামলা হয়েছে পাঁচটি। এ পাঁচ মামলায় ছয় আসামির মধ্যে গ্রেফতার হয়েছে মাত্র তিনজন। ২০১৪ সালে এ পর্যন্ত জেলায় খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ১১টি। আর অপহরণ ঘটনায় মামলা হয়েছে মাত্র দুইটি। এছাড়া ২০১৩ সালে জেলায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে চারটি। এসব মামলা মূলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে ১৭টি। ২০১৪ সালে এ পর্যন্ত জেলায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে তিনটি। আর মামলা মূলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে দুইটি।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ, পেশিশক্তির লড়াই, মুক্তিপণ ও চাঁদা আদায়, আধিপত্য বিস্তার, এলাকা দখল, সাম্প্রদায়িক সহিংসতাসহ নানা কারণে খুন, অপহরণ ও গুমের ঘটনাগুলো পাহাড়ে বেশি ঘটছে। কিন্তু তুলনামুলকভাবে এসব অপরাধমুলক ঘটনায় থানায় বা আদালতে মামলা হয় খুব কম। নিরাপত্তা সংকট ও সামাজিক সমঝোতা এর কারণ। যা কারণে অপরাধীরা অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে।