image_pdfimage_print

সন্তু লারমা’র হুংকার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা

%e0%a7%9c%e0%a7%9c%e0%a7%9c%e0%a7%9c%e0%a7%9c

শান্তিচুক্তির ১৯ বছর পূর্তিতে ঢাকায় এক আলোচনা সভায় পার্বত্য জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) বেশ কিছু জ্বালাময়ী মন্তব্য করেন।শান্তিচুক্তির ১৯ বছর পূর্তিতে যে আলোচনা সভা হয়েছে ঢাকায়,সেখানে সন্তু লারমা যেসব মন্তব্য করেছেন মূলত তার আলোকেই পার্বত্য সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে এই পোস্টে।সাথে প্রাসঙ্গিক আরো কয়েকজনের মন্তব্যও যোগ হয়েছে।

শান্তিচুক্তি ও অস্ত্র তুলে নেয়ার হুমকি

১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে শেখ হাসিনার উদ‌্যোগেই পরের বছর শান্তিচুক্তি হয়। জনসংহতি সমিতির পক্ষে তাতে সই করেছিলেন সন্তু লারমা। সে সময় যে ‘আবেগ ও অনুভূতির আবেশ’ ছিল ১৯ বছর পর এসে তা ‘নিঃশেষ’ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন এই পাহাড়ি নেতা।

প্রধানমন্ত্রী এসে বললেও আমি বিশ্বাস করতে পারব না যে চুক্তির সবগুলো ধারা বাস্তবায়িত হবে। কারণ গত ১৯ বছরে বিশ্বাসভঙ্গের অনেক ঘটনা ঘটেছে, অনেক প্রতারণা করা হয়েছে। আমরা আমাদের দাবি আদায়ে কাজ করব। সরকার যদি অস্ত্রের ভাষা ব্যবহার করে, অবদমনে তৎপর থাকে, তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামের অবস্থা এভাবে থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।(১)

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করে সশস্ত্র লড়াইয়ের পথ ছেড়ে আসা এই পাহাড়ি নেতা সরকারের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ফের অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন।

চুক্তি কেন বাস্তবায়ন হয় না, তা আমার কাছের দিবালোকের মতো স্পষ্ট। এই সরকারের উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে; সরকারের মধ্যে অগণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ইসলামিক সাম্প্রদায়িকতাবোধ রয়েছে। এর বাইরেও আরও অনেক গণবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি আছে; যে কারণে সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে দ্বিধা করছে।

আমরা শান্তিতে বাঁচতে চাই, আমরা পাহাড়িরা মানুষের মত বাঁচতে চাই। যদি সেটা আমাদের করতে না দেওয়া হয়, যদি সরকার আমাদের বাধ্য করে, যে কোনো ব্যবস্থা নিতে আমরা দ্বিধা করব না।১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বলেছিল, যেহেতু সংসদে আমাদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা নেই, তাই পার্বত্য শান্তি চুক্তি ও চুক্তির আলোকে যে আইনগুলো তা আইনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এখন তো দুই-তৃতীয়াংশের চেয়েও বেশি সংখ্যা গরিষ্ঠতা আছে; তাহলে সরকার এই আইন, এই চুক্তি সংবিধান অন্তর্ভুক্ত করতে এত দ্বিধাগ্রস্ত কেন? (২)

সরকার ওই চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি সম্পূর্ণ এবং ১৫টি ধারা আংশিক বাস্তবায়নের কথা বললেও জনসংহতি সমিতি তাকে ‘অসত্য প্রচার’ বলে আসছে। তাদের ভাষ‌্য, বাস্তবায়িত হয়েছে মাত্র ২৫টি ধারা।

অন্যমিডিয়া

প্রশাসন ও দলীয়করণ

“আজকে আমাদের দেশের সিভিল এবং মিলিটারি ব্যুরোক্রেসি চুক্তি বাস্তবায়নের পক্ষে নেই। আমি আঞ্চলিক চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আছি। এ দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে কী আছে না আছে, আমার জানা হয়ে গেছে। কোথায় এখানে দুর্নীতি, কোথায় এখানে মিথ্যা, কোথায় প্রতারণা- তা নতুন করে জানার আমার আর কোনো দরকার নেই।” (২)

বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয়করণের নগ্ন প্রতিফলন ঘটেছে। সেখানে তো কোনো সরকার আমি দেখি না! যেখানে যাই সেখানে একটা সরকার। রাজা দেবাশীষ রায় একটা সরকার, প্রতিমন্ত্রী নববিক্রম ত্রিপুরা একটা সরকার; বহুমুখী শাসনব্যবস্থা সেখানে। কে কার কথা শুনে কাজ করবে- সেটাই বোঝা যায় না। আইনশৃঙ্খলাসহ সব কর্মকাণ্ড চালায় সেনাবাহিনী। তারপরে আছেন জেলা প্রশাসক, এসপি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। প্রশাসনে একজন কর্মকর্তাও নেই যারা শান্তিচুক্তির প্রতি সংবেদশীলন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারেশন উত্তরণ’ বন্ধের দাবি জানিয়ে সন্তু লারমা বলেন, দেশেতো সেনা শাসন জারি নেই। তাহলে দেশের এক-দশমাংশ ভূখণ্ডে এভাবে সেনা শাসন থাকবে কেন? (১)

‘আদিবাসীরা’ ক্রমান্বয়ে ‘নিশ্চিহ্ন’ হয়ে যাচ্ছে

পাহাড়ে ‘আদিবাসীরা’ ক্রমান্বয়ে ‘নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে’। প্রশাসন ও সরকার নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে জানান দিচ্ছে, ‘হয় দেশ ছেড়ে চলে যাও, নয়তো নতজানু হয়ে থাকো’।(১) আজকে ‘আদিবাসী’ শব্দটাও ব্যবহার করা যাবে না; অথচ এই ‘আদিবাসী’ শব্দ ও বিষয়বস্তু নিয়ে আজকের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিতদের অনেকেই আদিবাসী অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে আমাদের সাথে ছিলেন, জোরালো ভাষায় বক্তব্য দিয়েছিলেন। (২) [কারা প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে আদিবাসী? বাঙালি ও বাংলা ভাষাভাষীরাই বাংলাদেশে আদিবাসী মনে করেন প্রফেসর আবদুর রব।পড়ুন বিস্তরিতঃ আদিবাসী-উপজাতি বিতর্ক ]

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিকল্পিতভাবে ‍সেটেলার বাঙালিদের সংখ্যাগুরু বানানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে। এর মাধ্যমে পরিস্থিতি এক ধরনের এথনিক ক্লিনজিংয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যেটা বিশ্বব্যাপী অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।পার্বত‌্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি বাসিন্দারা সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে দাবি আদায়ের দিকে না গেলে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ ‘উগ্র জাতীয়তাবাদী ও ফ্যাসিবাদী’ ধারায় চলে যেত।”

রাঙামাটিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ করার বিরোধিতায় সন্তু লারমা বলেন, “যারা আমাদের অস্তিত্বকে স্বীকার করে না, তাদের পক্ষ হয়ে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ করা যাচ্ছে। উদ্দেশ্য তাদেরকে নতুনভাবে পুনর্বাসন করা। আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি যে উন্নয়ন, সেটা আমরা চাই না। আমরা চাই, চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন।” (১)

photo-bipf-kf-discussion

ভূমি সমস্যা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা

শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নিষ্ক্রিয় ভূমিকার পেছনে দেশের আমলা ও নীতিনির্ধারকদের নানা ‘ষড়যন্ত্র’কে দায়ী করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান।তিনি বলেন, “সরকার প্রধানকে যারা তথ্য দিচ্ছেন তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, দয়া করে অসত্য, অপূর্ণ, অস্বচ্ছ, মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য প্রদান থেকে নিজেদের বিরত রাখুন।” আলোচনা অনুষ্ঠানে ভূমি সমস্যাকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সব সমস্যার ‘কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে তুলে ধরে মিজানুর রহমান বলেন,

“আমি তো বলি আমার কোনো কিছুই বাস্তবায়ন করার দরকার নেই। শুধু একটি মাত্র বাস্তবায়ন করো- সেটি হচ্ছে সকল ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করো; অন্য সকল সমস্যা আপনা আপনি সমাধান হয়ে যাবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে একটি জাতীয় ও রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে অভিহিত করে এটিকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের দাবি জানান জনসংহতি সমিতির নেতা সন্তু লারমা (২)

নোটঃ

(১) বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, পাহাড় এরকম নাও থাকতে পারে: সন্তু লারমা, ০২ ডিসেম্বে ২০১৬

(২)বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, এই সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদী: সন্তু লারমা, ০১ ডিসেম্বর ২০১৬

প্রাসঙ্গিক বিষয়

২০০৮ সালে বাংলাদেশের কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এসে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন।সেখানে একটি লিখিত প্রতিবেদনও পেশ করা হয়। সেই প্রতিবেদনে ভূমি সমস্যা, বাঙালী সেটেলারদের ভূমি দান, রিফিউজি সমস্যা, সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ইত্যাদি বিষয়গুলো তুলে ধরে হয়েছিল। প্রফেসর অজয় রয় সেখানকার জনসংখ্যার অনুপাতে পরিবর্তনকে সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন;

Press conference of eminent citizens at the National Press Club, February 11, 2008
As per regional council leaders, there are over one lakh hill refugees, but there is none to address the problem, adding that Bangalees are also occupying the religious structures. The present ratio of hill people and Bangalees is now 52:48, but in the next census it will be tilted towards Bangalees. Hill people think the number of voters will also override the number of the hill people in future, which is a threat to them.

On the other hand, the government is also helping the Rohingya Muslims who fled from Myanmar to settle at Naikkhangchhari, Ruma, Lama, and Alikadam in Bandarban. “Does the government then want to form a new CHT with Bangalee and Rohingya Muslims?” Prof Ajoy posed a question.

In the report, the citizens said the number of Jumma people will come down for various initiatives when CHT will be considered extension of the plain Chittagong.

“Colonial attitude of the government, army and Bangalees cannot resist the movement of hill people. We must accept the CHT hill people. So, sooner the Bangalee settlers are removed from the CHT, better is the result,” the report said. (Daily Star, Present CHT situation threat for future, February 11, 2008, last accessed 06.12.2016 http://www.thedailystar.net/news-detail-22929 ).

সূত্র: মূলধারা বাংলাদেশ

শান্তিচুক্তির ১৯বর্ষপূর্তি : বাস্তবায়ন নিয়ে নানা মত : বন্ধ হয়নি সংঘাত-সংঘর্ষ

khagrachari-picture06-01-12-2016

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

আজ ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৯তম বর্ষপূর্তি।প্রায় দুই দশকের সংঘাত বন্ধে ১৯৯৭ সালের এই দিনে সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর পর কেটে গেছে ১৮ বছর। কিন্তু এখনো এ চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কের শেষ হয়নি।


সরকার পক্ষ বলছে, চুক্তির ৭২ টি ধারার মধ্যে ৪৮ টি ধারা সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত্ হয়েছে, ২৫ টি ধারা আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে, বাকি ধারাগুলোও বাস্তবায়নাধীন। কিন্তু সন্তু লারমার মতে, বাস্তবায়িত ধারার সংখ্যা ২৫।

অপর দিকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তিন সশস্ত্র সংগঠনের লড়াইয়ে রক্তাক্ত হচ্ছে পাহাড় । চুক্তির পর গত ১৮বছরে তিন পাহাড়ি সশস্ত্র গ্রুপের ভ্রাতিঘাতি ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘাতে অন্তত সাড়ে ৬ শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক প্রাণ হারিয়েছে।

এছাড়াও এই তিন সংগঠনের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে চাঁদাবাজিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। কখনো ভ্রাঘিাতি আবার কখনো খোদ নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সরাসরি সংঘাতে হতাহতের ঘটনা পাহাড়ে বাড়িয়ে দিয়েছে উদ্বেগ¦ -উৎকন্ঠা।তিন সংগঠনের সহিংসতা মাঝে-মধ্যে পাহাড়ের সম্প্রতির উপরও আঘাত হানছে।

khagrachari-picture2-01-12-2016

চুক্তির স্বাক্ষরের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ সালের ১০ ফ্রেরুয়ারী খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিক তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর হাতে গেরিলা নেতা সন্তু লারমার অস্ত্র সমর্পনের মধ্য দিয়ে জনসংহতি সমিতির সদস্যরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসলেও এখনো পাহাড়ে প্রকৃত শান্তি ফিরে আসেনি।

বরং চুক্তির পর পাহাড়িদের তিনটি সশস্ত্র সংগঠন জেএসএস(সন্তু), জেএসএস(এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফ’র আধিপত্য লাড়াই এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত উভয়ের অন্তত সাড়ে ৬শ শতাধিক নিহত ও সহস্রাধিক আহত হয়েছে।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার হিসাব মতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পর রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলায় গত ১৯ বছরে ৯০০ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে জনসংহতি সমিতির ৩শতাধিক ইউপিডিএফের ৩শজন, সংস্কারের ৪৫জন এবং বাঙ্গালী কমপক্ষে ১৩৫জন।নিহতদের মধ্যে অজ্ঞাতনামা লাশও রয়েছে।

এছাড়া উভয় পক্ষের মধ্যে আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৬৫০ জন অপহরণের শিকার ১১শজন, উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে কমপক্ষে ৮শ ৫০বার। প্রতিপক্ষের দেওয়া আগুনে ৯শটি ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ সময়ে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৪০০ বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

khagrachari-picture03-01-12-2016

সাধারন উপজাতীয়দের মধ্যেও চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে রয়েছে ভিন্নমত। তাদের মতে, চুক্তিতে সাধারন মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। বরং হানাহানি বেড়েছে। মানুষের জানমালের কোন নিরাপত্তা নেই। এছাড়াও এই তিন সংগঠনের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে চাঁদাবাজিও অভিযোগ রয়েছে। ভ্রাতিঘাতি সংঘাতে অসংখ্য মানুষের হতাহতের ঘটনা পাহাড়ে বাড়িয়ে দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা।তিন সংগঠনের সহিংসতা মাঝে-মধ্যে পাহাড়ের সম্প্রতির উপরও আঘাত হানছে।

চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও পাহাড়ি নেতাদের রয়েছে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। সরকার পক্ষ চুক্তি বাস্তবায়নে কথা বললেও পাহাড়িরা নেতারা বলছে, সবই মিথ্যা ও বানোয়াট। অপর দিকে বাঙালি সংগঠনগুলো শুরু থেকে এ চুক্তিকে অসাংবিধানিক আখ্যায়িত করে বাতিলের দাবী জানিয়ে আসছে।

শান্তিচুক্তি দুই পক্ষের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। দুই পক্ষেরই বাস্তবায়ন যোগ্য কিছু ধারা রয়েছে। এতে সরকার পক্ষে যেমন বাস্তবায়ন যোগ্য কিছু ধারা রয়েছে, তেমনি জেএসএসের পক্ষেও বাস্তবায়ন যোগ্য ধারা রয়েছে। এর মধ্যে জেএসএসকে সম্পূর্ণ রূপে অস্ত্র সমর্পন করার কথা থাকলেও এখনো সে শর্তের একটা বড় অংশ বাস্তবায়িত হয়নি। জেএসএস নেতারা সম্পূর্ণ রূপে অস্ত্র সমর্পন করতে পারেনি।

khagrachari-picture1-01-12-2016

শান্তিচুক্তিতে সন্তু লারমা নিজেদের উপজাতি বলে স্বীকার করলেও এখন তারা নিজেদের আদিবাসী দাবী করছেন। সন্তু লারমা নিজেই আদিবাসী দাবীকারী প্রধান সংগঠনের শীর্ষত্ব গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে শান্তিচুক্তির শুরুতেই বাংলাদেশের সংবিধান ও অখণ্ডতার প্রতি নিরঙ্কুশ আনুগত্যের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সন্তু লারমা অনেক অসাংবিধানিক ধারা বাস্তবায়নের জন্য চাপ দিচ্ছেন।

আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, পার্বত্য চুক্তির নব্বই ভাগ এ সরকারের মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে। ইতিমধ্যে ভূমি সমস্যা নিরসনের জন্য কমিশনের আইন সংশোধন করে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, চুক্তির পর পাহাড়ে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। উন্নয়নের দ্বার খুলে গেছে।

তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতির সমিতি (এমএন লারমা) সভাপতি সুধাসিন্দু খীসা পার্বত্যনিউজকে বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নে এখনো অনেক বিষয় রয়ে গেছে। ভূমি কমিশন যদি যথাযথভাবে কাজ করে এবং কাজ করার জন্য যদি আন্তরিক হন তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘ দিনের সমস্যা ঝুলে আছে তা কিছুটা হলেও পরিস্কার হবে। তিনি অনির্বাচিত জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিচালনার দাবী জানিয়ে বলেন, সরকারের ভূমিকায় পাহাড়ে আবিশ্বাসের জম্ম দিয়েছে।

khagrachari-picture04-01-12-2016

পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক আখ্যায়িত করে পার্বত্যনিউজকে বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানকে অস্বীকার করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়,এ অঞ্চলে যুগ যুগ ধরে বসবাসকারী একটি বিশাল জনগোষ্ঠী বাঙালিদের অধিকার হরণ করা হয়েছে। সম্প্রতি অবৈধ চুক্তির ফসল ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন আইন সংশোধন করে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করার পথ সুগম করেছে।

এ দিকে বর্ষপূর্তির দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবার বর্ণাঢ্য কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। ২ ডিসেম্বর(শুক্রবার) সকাল সাড়ে ৮টায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চত্বরে শান্তির পায়রা উড়িয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে।

খাগড়াছড়িতে বসবাসরত জাতিগোষ্ঠীরা নিজস্ব পোশাক পরিচ্ছদ পরিধান করে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করবে। শোভাযাত্রাটি জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ খেতে শুরু হয়ে চেঙ্গী স্কোয়ার, শাপলা চত্বর হয়ে টাউন হল প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হবে। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ ডিসপ্লে’র আয়োজন রয়েছে।

একইদিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম চুক্তি পরবর্তী অস্ত্র সমর্পনস্থল খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন রয়েছে। এতে বাংলাদেশের অন্যতম ব্যান্ড সোলস দর্শকদের মাতাবেন বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী। এছাড়াও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় স্থানীয় ও চট্টগ্রামের শিল্পীরাও অংশগ্রহণ করবেন।

অপরদিকে পার্বত্য চুক্তিকে কালে চুক্তি আখ্যায়িত করে ঐদিন সকাল ১১ টায় পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করবে।

শান্তিচুক্তির ১৯ বছর পূর্তিকে ঘিরে কাউখালীতে জেএসএস’র কোটি টাকার চাঁদাবাজী

%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a6%b9%e0%a6%ac

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তির ১৯ বছর পূর্তিকে ঘিরে কাউখালীতে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও অংগসংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক কোটি টাকা টার্গেট নির্ধারণ করে গত এক মাস যাবৎ ম্যারাথন কর্মসূচীর মাধ্যমে এ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তিচুক্তির ১৯ বছর পূর্তি। প্রতি বছর এ দিনে রাঙ্গামাটিতে ব্যাপক শো’ডাউন করে থাকে সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতি। এ বছরও দিবসটি পালনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও তাদের ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ।

এ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে শুধু কাউখালীতেই টার্গেট করা হয়েছে এক কোটি টাকা। এ টার্গেট পূরণ করতে চাঁদা আদায়ের ম্যারাথন কর্মসূচী হাতে নেয় তারা। এ লক্ষ্যে গত এক মাস যাবৎ কাউখালী ও এর আশেপাশের এলাকাগুলো চষে বেড়াচ্ছেন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও তাদের ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

কোটি টাকা আদায়ে সংগঠনটি যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো টার্গেট করেছে এর মধ্যে রয়েছে গাছ, বাঁশ, সরকারী চাকুরীজীবী, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্রিকফিল্ড। ইতোমধ্যেই উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছ থেকে মাথাপিছু এক হাজার টাকা নির্ধারণ করে তা যথাসময়ে পাঠিয়ে দিতে মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

যথা সময়ে নির্ধারিত টাকা পাঠিয়ে দেয়া না হলে সেসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকিও দেয়া হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন দূর্গম অঞ্চলে কর্মরত স্কুল শিক্ষকরা। জীবনের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বেশীরভাগ শিক্ষকই টাকা পৌঁছে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এসব শিক্ষকদের মতে পানিতে বাস করে কুমিরের সাথে লড়াই করা ঠিক হবেনা। আবার আতঙ্কিত অনেক শিক্ষক কাউখালী সেনা ক্যাম্পে মৌখিক অভিযোগও করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলমপতি, ঘাগড়া, বেতবুনিয়া ও ফটিকছড়ি ইউনিয়নের অসংখ্য শিক্ষক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিষয়টি স্থানীয় সেনা ক্যাম্পকে অবগত করায় দাদারা ক্ষিপ্ত হয়েছেন।

উপজেলার সরকারী অফিসগুলো ঘুরে জানা গেছে, বেশীরভাগ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে পদ ও পদবী হারে টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এসব সরকারী চাকুরীজিবীরা চাঁদা দেয়ার কথা স্বীকার করলেও নির্ধারিত চাঁদার পরিমাণ কত তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

কোটি টাকার লক্ষ পূরণের প্রধান টার্গেট হচ্ছে গাছ ও বাঁশ ব্যবসা। মৌসুমটি গাছ ও বাঁশ ব্যবসার হওয়ায় এসব ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা হবে অন্তত অর্ধ কোটি টাকা। এমন তথ্য পাওয়া গেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে।

এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন ঠিকাদার, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সড়কে চলাচলরত গাড়ীগুলো। তবে যেসব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও সড়কে চলাচলরত গাড়ীগুলো জেএসএস থেকে বছর ব্যাপী টোকেন সংগ্রহ করেছেন তাদের কাছ থেকে চাঁদার পরিমাণ কম রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রধানের বক্তব্য বা নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় জেএসএস’র কেন্দ্রীয় তথ্য ও সহ প্রচার সম্পাদ সজীব চাকমার সাথে। তিনি জানান, সারাদেশে যেভাবে চলছে আমাদের নেতা কর্মীরাও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সেভাবে সহযোগিতা নিচ্ছে। এটাকে কোন ক্রমেই চাঁদাবাজি বলা যাবেনা।

তিনি আরো জানান, সবার সাথে আলোচনা স্বাপেক্ষে কর্মসূচী পালনের জন্য টাকা আদায় করা হচ্ছে। কাউকে জোর করে টাকা নেয়া হচ্ছেনা।

এ বিষয়ে জেএসএস কাউখালী উপজেলা সভাপতি সুবাষ চাকমার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে জেএসএস’র লাগামহীন চাঁদাবাজীর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ কাউখালী উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ তুহিন। তিনি জানান, জেএসএস’র চাঁদাবাজীর পরিধি আগের তুলনায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কোটি টাকা চাঁদার লক্ষ্য পূরণ করতে তারা এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও টার্গেট করে অসহায় শিক্ষকদের হয়রানি করছে। তিনি জেএসএস’র চাঁদাবাজী বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কাউখালী থানার ওসি আব্দুল করিম জানান, বিষয়টি আমি অনেকের মুখে শুনেছি। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ না করলে সেক্ষেত্রে আমাদের করার কিছু থাকে না।

শান্তিচুক্তি অনুযায়ী পাহাড়ে সরকারের কোনো খাস ভূমি নেই- বান্দরবানে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি সহায়ক কমিটি গঠন সভায় অভিমত

bandarban-pic-1-10

নিজস্ব প্রতিবেদক

বান্দরবানে হেডম্যান কার্বারীদের নিয়ে ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে জেলা পরিষদের চেয়াম্যান ক্য শৈ হ্লা’র সভাপতিত্বে সভায় পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনকে সহায়তার জন্য ভূমি বিরোধ চিহ্নিতকরণ বিষয়ে হেডম্যানদের নিয়ে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি সহায়ক কমিটি গঠন করা হয়।


নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আবসার, জেলা পরিষদের সদস্য ক্যসা প্রু মারমা, থোয়াইচা হ্লা মারমা, হেডম্যান এসোসিয়েসনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক টি মং প্রুসহ ১০৯টি মৌজার মৌজার হেডম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বান্দরবান ৩১৬ নং বেতছড়া মৌজার হেমডম্যান হ্লাথোইহ্রী বলেন, আমার মৌজায় ১৯৮৩-৮৪ সালে বন বিভাগ ৩ হাজার একর ভূমির আবেদন করলে ইউএনও বিনা খাজনায় ১৯৮৮ সালে বন্দোবস্তকরণ করেন। কিন্তু বন বিভাগ ১৯৮১ সাল থেকে বনায়ন শুরু করেন। এই জায়গার সাথে চৌহদ্দিরও কোন মিল নাই তাই এই জায়গা বাতিলের জন্য পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনে পাঠানোর সুপারিশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, শান্তিচুক্তি অনুযায়ী পাহাড়ে সরকারের খাস ভূমি নেই। কিন্তু পাহাড়ীরা কখনো না কখনো এইসব জায়গায় জুম চাষ করেছে। তাই এই ভূমির মালিক মৌজাবাসী।

৩৬৮ মৌজার হেডম্যান রুমার মুরংগো বাজারে খাস জমিতে স্থাপিত পুলিশ ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সীমানা বর্ধিত করে সেগুন গাছসহ ভূমি দখলের অভিযোগ করেন।

এছাড়া রুমা ও পলি মৌজায় বন বিভাগের প্রায় ৬ হাজার একর বন্দোবস্তি ভূমি বাতিলের জন্য পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

সভায় হেডম্যান,কারবারিরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় সম্প্রতিক সময়ে ভূমি দখলসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন, পাহাড়ের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠিরা দিন দিন ভূমি হারাচ্ছে, দ্রুত এসব বন্ধ না হলে সমস্যায় পড়বে।

নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি, বাইশারী লামাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ভূমি দখলদার চক্র নানাভাবে পাহাড়িদের ভূমি দখল করে নিচ্ছে। ইতোমধ্যে বাইশারী থেকে বেশ কয়েকটি পাড়া উচ্ছেদ হয়ে গেছে এবং লামার ফাসিয়াখালী এলাকায় ঢাকার একটি চক্র শত শত একর জায়গা দখল করেছে বলে হেডম্যানরা জানান।

সভায় হেডম্যানরা ভূমি দখলসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন ও ভূমি কমিশনের মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধানের আবেদন জানান এবং  রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে ভূমি কমিশনের দুটি ইউনিট অফিস স্থাপনেরও দাবী জানান হেডম্যানরা।

সভা শেষে হেডম্যান হ্লাথোয়াই হ্লী মারমাকে আহ্বায়ক ও উনিহ্লা মারমাকে সদস্য সচিব করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি সহায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জুম্মল্যান্ডের অজানা গল্প এবং সামারি

জেনারেল ইব্রাহীম

সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীর প্রতীক

নোটশিট ও সামারি
দু’টি শব্দ এখানে লিখলাম। একটি শব্দ ‘সারসংক্ষেপ’, ইংরেজিতে সামারি। আরেকটি শব্দ ‘নোটশিট’। এই দু’টি শব্দের সাথে সরকারি চাকরিজীবীরা নিবিড়ভাবে পরিচিত। নোটশিট মানে ছাপানো কাগজ, যেখানে অফিসের কর্মকর্তারা কোনো বিষয়ে বা প্রস্তাবে তাদের মন্তব্য লিখে ওপরের দিকে পাঠান এবং আবার ওপরের দিক থেকে নিচের দিকে পাঠান। সামরিক বাহিনীসহ সরকারি অফিসে এ ধরনের কাগজ এবং এ ধরনের নোট লেখা সুপ্রচলিত। সামরিক বাহিনীতে নোটশিট না বলে অনেক সময় বলা হয় মাইনিউটস (বা মিনিটস) লেখা তথা মিনিট-শিটে লেখা। নোট মানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য। কারণ জ্যেষ্ঠ স্টাফ অফিসার বা অতি জ্যেষ্ঠ দায়িত্বশীলদের হাতে এত সময় থাকে না যে, তারা সব বিষয়ে বিস্তারিত শুনবেন বা পড়বেন। কোন কোন বিষয়ে বিস্তারিত জানা উচিত এবং কোন কোন বিষয়ে সারমর্ম বা সামারি জানলেই চলবে, এই সিদ্ধান্তটি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিত্বকেই নিতে হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রসঙ্গ এবং চলমান সন্ত্রাস ও সন্ত্রাস দমনের চেষ্টা প্রসঙ্গে আমার একটি প্রস্তাব এই কলামের শেষ অনুচ্ছেদে উপস্থাপন করছি; কিন্তু কেন করছি সেটি ব্যাখ্যা করার জন্য ইতিহাস থেকে একটি গল্প তুলে ধরলাম।

খাগড়াছড়িতে ব্রিগেড কমান্ডার হলাম
১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হঠাৎই জানানো হলো, আমাকে রাঙ্গামাটি ব্রিগেড কমান্ডারের দায়িত্ব থেকে খাগড়াছড়ি ব্রিগেড কমান্ডারের দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে। ডিসেম্বরের ২০ তারিখ আমি খাগড়াছড়ি ব্রিগেডের দায়িত্ব নিয়েছিলাম এবং সাত দিন পর ডিসেম্বরের ২৭ তারিখ রাঙ্গামাটি ব্রিগেডের দায়িত্ব অন্যের বরাবরে হস্তান্তর করেছিলাম। ওই সময় বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে শান্তিবাহিনী নামক জঙ্গি দল বা সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী কর্তৃক পরিচালিত কর্মকাণ্ডের উত্তাপ চরমে ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে দু-মুখী চেষ্টা চলছিল। একমুখী চেষ্টা হলো নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা ও সশস্ত্র বিদ্রোহীদের যথাসম্ভব দমন করা। আরেকমুখী চেষ্টা ছিল, শান্তিবাহিনীর সাথে শান্তি স্থাপনের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। আমার আগে যিনি খাগড়াছড়ির ব্রিগেড কমান্ডার ছিলেন তিনি প্রক্রিয়াটি শুরু করে গিয়েছিলেন; কিন্তু আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর সময়েই তিনি বদলি হয়ে যান। অতএব ওই অভিনব গুরুদায়িত্ব আমার ঘাড়ে পড়ে। দায়িত্বটি কী? দায়িত্বটি হলো, শান্তি আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করা, পরিবেশ অব্যাহত রাখা এবং আলোচনায় নেতৃত্ব দেয়া।

বিস্তারিত বর্ণনা আমার লেখা দ্বিতীয় বইয়ে আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে বা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে পদক্ষেপগুলোর বিবরণ ও মূল্যায়ন এই বইয়ে আমি লিপিবদ্ধ করেছি। বইয়ের নাম : ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি প্রক্রিয়া ও পরিবেশ পরিস্থিতির মূল্যায়ন’। বইটির প্রকাশক আহমেদ মাহমুদুল হক; প্রকাশনী সংস্থার নাম মওলা ব্রাদার্স (০২-৭১৭৫২২৭)।

শান্তিবাহিনীর দাবিনামা : জুম্মল্যান্ড
সংক্ষেপে স্মৃতিচারণ করি। ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শান্তিবাহিনীর সাথে চতুর্থ আনুষ্ঠানিক আলোচনা বৈঠক হয়। হাবভাব দেখে বুঝলাম, শান্তিবাহিনী আরেক দফা রক্তারক্তি করবে। উদ্দেশ্য, সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যেন, সরকার তাদের দাবিনামা মেনে নেয়। ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারির কথা বলছি। দাবিনামাটি ছিল পাঁচ দফা। পাঁচ দফার পুরোটাই এখানে লিখব না, স্থানাভাবে। শুধু প্রথম দফা লিখলাম। ‘বর্তমান বাংলাদেশকে দু’টি প্রদেশে ভাগ করা হবে। একটি প্রদেশের নাম হবে বাংলাদেশ; রাজধানী ঢাকা। আরেকটি প্রদেশের নাম হবে জুম্মল্যান্ড; রাজধানী রাঙ্গামাটি। দু’টি প্রদেশ মিলে একটি ফেডারেশন হবে; ফেডারেশনের নাম হবে ফেডারেল রিপাবলিক অব বাংলাদেশ; রাজধানী ঢাকা। সাংবিধানিকভাবে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে বিষয় বণ্টন হবে; শুধু চারটি বিষয় থাকবে কেন্দ্রের হাতে, বাকি সব প্রাদেশিক সরকারের হাতে।’

শান্তিবাহিনীর পাঁচ দফা দাবিনামা ছিল অনেকটাই ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ কর্তৃক পাকিস্তান সরকারের বরাবরে উপস্থাপিত ছয় দফা দাবিনামার অতি-কিঞ্চিৎ সংশোধিত রূপ। পাঁচ দফা দাবিনামা মেনে নেয়া মানে ছিল, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মানচিত্র আবারো অঙ্কন করা। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ বছর যাবৎ শান্তিবাহিনী সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। এই প্রথমবার, ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরে এসে তারা লিখিতভাবে তাদের দাবি উপস্থাপন করেছিল। দাবিগুলো সংবিধানবহির্ভূত হওয়ার কারণে, বাংলাদেশ সরকার তথা সরকারের প্রতিনিধিদল ওই দাবিনামার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছিল, সেহেতু শান্তিবাহিনী উত্তেজিত হয়ে উঠেছিল। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আরেকবার একটি বড় আকারের রক্তাক্ত নাটক তারা মঞ্চস্থ করবে। আমার সামরিক অভিজ্ঞতার আলোকে এবং গোয়েন্দাদের মূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে আমিও উপসংহারে এলাম যে, শান্তি বাহিনী আসলেই আরো একবার বড় রকমের রক্তপাত ঘটাবে।

রক্তারক্তি এবং প্রেসিডেন্টের সফর
এটি ১৯৮৮-এর মার্চের শেষ এবং এপ্রিলের শুরুর কথা। আমি আমার মূল্যায়ন বা ফোরকাস্ট ওপরোস্থ কর্তৃপক্ষ এবং সরকারকে জানালাম। পরিষ্কার বললাম, সেটি ঠেকানোর মতো যথেষ্ট সেনাবাহিনী বা নিরাপত্তা বাহিনী আমাদের মজুদ নেই। ১৯৮৮ সালের এপ্রিল মাসের ২৪ তারিখ, রমজান মাসের আট বা নয় এরকম একটি তারিখ; এশার নামাজের পর শুরু হলো শান্তিবাহিনীর আক্রমণ। ঘটনাক্রমে কিন্তু একান্তই অপরিকল্পিতভাবে, তৎকালীন বাংলাদেশ টেলিভিশনের অন্যতম জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ম. হামিদ ক্যামেরাসহ খাগড়াছড়িতে অবস্থান করছিলেন, পর্যটনমুখী একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম বানানোর জন্য। ২৪ এপ্রিল রাত এবং পরবর্তী দু-তিন দিনের সব সন্ত্রাসী তৎপরতা বিটিভি ক্যামেরাবন্দী করে এবং জাতির সামনে উপস্থাপন করে। শান্তিবাহিনীর আক্রমণে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং বাঙালিদের হতাহত হওয়ার খবর জনগণ পেতেন না। পাহাড়ি-বাঙালি দাঙ্গার কারণে পাহাড়ি মানুষের হতাহতের খবরও জনগণ পেতেন না। পাহাড়ি মানুষ সীমান্তের অপর পারে শরণার্থী হওয়ার খবরও জনগণ পেতেন না। এই প্রথমবার, বিটিভির বদৌলতে বাংলাদেশের আপামর জনগণ শান্তিবাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি নিয়ে কম হোক বেশি হোক, ভালো হোক মন্দ হোক, একটি ধারণা পেলো। শান্তিবাহিনীর পক্ষ থেকে ওইরূপ আগ্রাসী কর্মকাণ্ড পরবর্তী দিনগুলোতেও অব্যাহত ছিল।

ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ সরকার মানসিকভাবে চাপের মধ্যে পড়ে। চাপটি কী? পার্বত্য চট্টগ্রামে এত রক্তারক্তি কেন হচ্ছে? শান্তিবাহিনীর হাতে এত বাঙালি কেন মরছে? সরকার কী করছে? সেনাবাহিনী কী করছে? ইত্যাদি। এই প্রেক্ষাপটে, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পরিস্থিতি সরেজমিন দেখার জন্য এবং মূল্যায়নের জন্য খাগড়াছড়ি সফরে আসেন। ওই দিন পর্যন্ত প্রায় চল্লিশটি বাঙালি গ্রাম শান্তিবাহিনীর গুলি ও আগুন-আক্রমণের শিকার হয়েছিল, শতাধিক বাঙালি নিহত হয়েছিল, শত শত বাঙালি আহত হয়েছিল, শত শত উপজাতীয় মানুষ ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে দিয়েছিল। প্রেসিডেন্টের সফরের তারিখটি ছিল ৫ মে ১৯৮৮। প্রেসিডেন্টের সাথে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতিকুর রহমান এবং চট্টগ্রামের জিওসি মেজর জেনারেল আব্দুস সালামও ছিলেন। এলাকা ঘুরে, রাষ্ট্রপতি তার দলবলসহ খাগড়াছড়ি সেনানিবাসে ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারে আসেন। আমাদের অপারেশনস রুমে বসেন। আংশিকভাবে উত্তেজিত (ইংরেজিতে : এনয়ড), আংশিকভাবে বিমর্ষ রাষ্ট্রপতি জানতে চান শুনতে চান, কী হচ্ছে? কেন হচ্ছে? এই কলামের সম্মানিত পাঠক, এবার আলাপন বা ডায়ালগ অনুসরণ করুন। কথাবার্তা সব না, কিন্তু বেশির ভাগ ইংরেজিতে হয়েছিল। পাঠকের জন্য বাংলায় লিখলাম।

প্রেসিডেন্টকে ব্রিফিং দিতে দুই ঘণ্টা
প্রেসিডেন্ট বললেন, ‘ইবরাহিম, বলো এসব কী হচ্ছে? হোয়াট দ্য হেল ইজ হ্যাপেনিং? হোয়াই সো মেনি পিপল আর বিইং কিলড? হোয়াট দ্য হেল আর ইউ ডুইং?’ মানে : এত লোক মারা যাচ্ছে কেন? তোমরা কী করছ? কী ঘটছে? কর্নেল ইবরাহিম বলল, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি, আপনি এবং আমরা সবাই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া করি যে, অনেক কম মারা গিয়েছে। আরো অনেক বেশি মারা যেতে পারত; কিন্তু আমরা বাঁচাতে পারিনি এটাই বাস্তবতা, আমি দুঃখিত।’ প্রেসিডেন্ট বললেন, ‘পুরো জাতি উদ্বিগ্ন, আমাকে জবাব দিতে হচ্ছে। ইউ হ্যাভ টু এক্সপ্লেইন হোয়াই ইউ ফেইলড?’ আমি বললাম, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি, আমি অবশ্যই ব্যাখ্যা করব; আমাকে সময় দিন।’ প্রেসিডেন্ট : ‘ঠিক আছে তুমি বলো, তোমাকে বিশ মিনিট সময় দিলাম।’ ইবরাহিম : ‘স্যার, আমি বিশ মিনিট সময়ে বলব না। কারণ, আমি বিশ মিনিটে বলে সারতে পারব না। আপনি আমাকে অন্তত দুই ঘণ্টা সময় দিন।’ প্রেসিডেন্ট যুগপৎ আশ্চর্য এবং রাগান্বিত হয়ে আমাকে বললেন, ‘তুমি স্টাফ কলেজের ডিএস (ইন্সট্রাক্টর) ছিলে; তুমি সামারি করা শিখিয়েছ ছেলেদের; আর এখন তুমি বলছ, তুমি বিশ মিনিটে বলতে পারবে না। কেন পারবে না? তুমি আমাকে সামারি বলো।’

আমি আবারো বিনীতভাবে উত্তর দিলাম যে, ‘আমি অবশ্যই সামারি করতে পারি কিন্তু আমি এখন করব না, কারণ সামারিতে সমাধান হবে না।’ প্রেসিডেন্টের সাথে তার সামরিক সচিব উপস্থিত ছিলেন; র‌্যাংক ব্রিগেডিয়ার; আমার থেকে এমনিতেও সিনিয়র এবং আমার সুপরিচিত। প্রেসিডেন্টের হয়ে, প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী তৎকালীন সামরিক সচিব আমাকে বললেন, টঙ্গী খালের ওপরে দ্বিতীয় ব্রিজ উদ্বোধনের অনুষ্ঠান আছে; প্রেসিডেন্টকে ওখানে যেতে হবে। অতএব তোমাকে দুই ঘণ্টা সময় দেয়া যাবে না (পাঠকের জন্য একটু ডাইভারশন। ঢাকা মহানগর থেকে উত্তর দিকে উত্তরা মডেল টাউন এবং টঙ্গী শিল্প শহরের মধ্যে সীমানা হলো টঙ্গী খাল। ওই খালের উপরে পুরনো একটি ব্রিজ ছিল। পুরনো ব্রিজ ট্রাফিক সামলাতে পারে না বিধায় সরকার একটি নতুন ব্রিজ বানিয়েছিল; ওই নতুন ব্রিজটির উদ্বোধনের কথাটিই বলা হচ্ছে)।

আমি মহামান্য প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ করে বললাম : ‘স্যার, আপনিই ঠিক করুন, টঙ্গী খালের ওপর ব্রিজ উদ্বোধন করবেন, নাকি আমার কাছ থেকে ব্রিফিং শুনবেন? ব্রিজ উদ্বোধন অন্য কোনো মাননীয় মন্ত্রী করলেও ব্রিজের ওপর দিয়ে গাড়ি চলতে অসুবিধা হবে না; কিন্তু আজ যদি পার্বত্য পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাখ্যা আপনার বদলে অন্য কোনো মন্ত্রী শোনেন, তাতে কিন্তু আপনার চাহিদা মিটবে না।’ প্রেসিডেন্ট এরশাদ গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘দুই ঘণ্টা সময়ই তোমাকে দিলাম। আমাকে যেহেতু ঢাকা ফেরত যেতে হবে, সময় হিসাব করেই ব্রিফিং শেষ করবে।’

সামারি কেন করিনি?
এরপর আমি ঘড়ির কাঁটা ধরে, ম্যাপের সামনে দাঁড়িয়ে মহামান্য প্রেসিডেন্টকে দুই ঘণ্টাব্যাপী একটি ব্রিফিং দিলাম। স্থান খাগড়াছড়ি সেনানিবাসে অবস্থিত ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারের অপারেশন্স রুম; তারিখ ৫ মে ১৯৮৮; সময় অপরাহ্ণ সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা। ব্রিফিংয়ের মধ্যে ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার ব্যাপ্তি, সমস্যা সমাধানে সরকারের উদ্যোগগুলো, সমস্যা বাড়ানোর জন্য শান্তিবাহিনীর প্রচেষ্টা, শান্তিবাহিনীর প্রতি প্রতিবেশী ভারতের সমর্থনের ব্যাপ্তি, শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ও দুর্বলতা, বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনীর দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা, বাঙালিদের নিরাপত্তাহীনতার কারণগুলো এবং আমার পক্ষ থেকে সুপারিশমালা। দুই ঘণ্টাব্যাপী ব্রিফিং শোনার পর রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উদ্বেগ ও হতাশা মিশ্রিত কণ্ঠে বললেন, ‘আমি তো এত কিছু জানতাম না।’ মহামান্য রাষ্ট্রপতির উদ্বেগ ও হতাশা মিশ্রিত মন্তব্য শুনে, আমি দুষ্টুমি করতে বাধ্যই হয়েছিলাম। সিরিয়াস কণ্ঠে বললাম, ‘স্যার, আপনি এত কিছু জানতেন না; কারণ আপনি সব সময় সামারি শুনেছেন। সামারি শুনলে ওইটিই আপনি জানবেন যেটি সামারি-করনেওয়ালা আপনাকে জানায়। এর বাইরে যা কিছু সব আপনার অগোচরে থেকে যাবে।’ প্রেসিডেন্ট তখন বলেছিলেন, ‘আমি সব কিছু একলা সামলাতে পারব না, সরকারকে পূর্ণাঙ্গভাবে জড়িত হতে হবে।’ অতএব, প্রেসিডেন্টের আদেশে ১৯৮৮ সালের মে মাসের ৮ তারিখ বিকেলবেলা বঙ্গভবনে, সেনাসদরের পক্ষ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান পরিস্থিতির ওপর একটি ব্রিফিং দেয়া হয়। কেবিনেটের সব সদস্য, সরকারের সব সচিব, ঢাকা অঞ্চলের সব জেনারেল এবং ডিআইজি ও ওপরস্থ সব পুলিশ অফিসার সেই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। প্রেসিডেন্ট পূর্ণ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেকে পাঁচ মিনিট করে সূচনা বক্তব্য রেখেছিলেন : মহামান্য প্রেসিডেন্ট, সেনাবাহিনী প্রধান মহোদয় এবং চট্টগ্রামের মাননীয় জিওসি। বাকি এক ঘণ্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিট বক্তব্য উপস্থাপন করেছিলাম আমি। আরো একটি ক্ষুদ্র স্মৃতির উল্লেখ করছি।

বেগম জিয়াকে ব্রিফিং
১৯৯১ সালের শুরুর দিকে বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন, তখন তিনিও পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিস্থিতি বোঝার জন্য সেনাসদরে এসেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্টাফ অফিসাররা আমাকে বারবার বলেছিলেন, ইবরাহিম, সংক্ষেপে বলবে। দেড় ঘণ্টা সময় দেয়া হয়েছিল। আমাদের বক্তব্য এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বসহ বাস্তবে তিন ঘণ্টার বেশি সময় লেগে গিয়েছিল। সেনাবাহিনী প্রধান এরশাদ সাহেব প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও বলেছিলেন, ‘আমি তো এত কিছু জানতাম না।’ বেগম জিয়ার তো আগের থেকে কোনো কিছু জানার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ তিনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। সে জন্যই তার স্টাফ অফিসারদের পরামর্শ অগ্রাহ্য করে বেগম জিয়া দীর্ঘ সময় ব্রিফিং শুনেছেন এবং প্রশ্নোত্তর পর্ব সম্পাদন করেছিলেন। বঙ্গভবনের ব্রিফিং বা বেগম জিয়ার প্রতি (১৯৯১) ব্রিফিংয়ের বিবরণ দেয়া আজকের কলামের উদ্দেশ্য নয়।

দৃষ্টি আকর্ষণ : বর্তমান সরকারপ্রধান
আজকের কলামের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা এই মর্মে যে, দু’টি বিষয়ে তিনি যেন সামারি-নির্ভর হয়ে না চলেন। এখন প্রথম বিষয়টির উল্লেখ করছি। গতকাল ৯ আগস্ট ছিল তথাকথিত ‘আদিবাসী’ দিবস। স্থানের অভাবে, সময়ের অভাবে, শক্তির অভাবে, আদিবাসী শব্দ ব্যবহারের অন্তর্নিহিত বিপদগুলো নিয়ে লিখতে পারছি না বা বলারও সুযোগ পাচ্ছি না। অনুমান করছি, কেউ না কেউ আপনাকে নিশ্চয়ই বলছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিস্থিতি মোটেই শান্তিময় নয়। আট-দশ দিন আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন আইন সংশোধিত হলো। আমার মতে, সংশোধনীর কারণে সমস্যা বাড়বে। যা হোক, বিবেচনা সরকার করবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার এই মুহূর্তের ক্রাক্স বা চুম্বক অংশ হলো একটি প্রশ্ন এবং তার উত্তর। প্রশ্নটি হলো : ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিরা থাকবে কি থাকবে না? যদি থাকে, তাহলে কতসংখ্যক ও কোন কোন শর্তে?’ এই অপ্রিয় প্রশ্নটি আড়াল করেই সব ডামাডোল।

দ্বিতীয় বিষয় : চলমান উগ্রবাদ বা চরমবাদ বা এক্সট্রিমিজম বা মিলিটেন্সি বা টেরোরিজম বা জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাস প্রসঙ্গ (যেই নামেই ডাকি না কেন)। সরকার অনেক পদক্ষেপ নিচ্ছে; সরকার তথা সরকারের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, সরকারের দফতর-অধিদফতর, পুলিশ বাহিনী ও র‌্যাব ইত্যাদি অনেকেই বিভিন্ন প্রকারের পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ঘোষিতভাবে, ওই পদক্ষেপগুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে সন্ত্রাস দমন বা দমনের সহায়তা। আমি আশা করব, এ প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান সামারি-নির্ভর হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত অনুমোদন করবেন না। সরকারপ্রধান যেন বিস্তারিত জানতে আগ্রহী হন, এই অনুরোধ করছি। কারণ, যা কিছু হবে, সব কিছুর দায়দায়িত্ব সরকারপ্রধানের ওপরেই পড়বে। সরকারপ্রধান যেহেতু সরকার চালাচ্ছেন, সেহেতু তিনি অজস্র বিষয়ে অবশ্যই সামারি শুনবেন এবং সিদ্ধান্ত দেবেন; এটিই স্বাভাবিক; কিন্তু সন্ত্রাস দমন বা জঙ্গি দমনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো দেয়ার আগে এক বা একাধিকবার মেহেরবানি করে পূর্ণ বিষয়টি যেন তিনি জানতে চেষ্টা করেন এবং আবারো পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সামারি-নির্ভর যেন তিনি না হন।

লেখক : মেজর জেনারেল (অব.); চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
ইমেইল : mgsmibrahim@gmail.com

শান্তিচুক্তি কি সংশোধন হতে যাচ্ছে?

0PuAFnndQSRr

স্টাফ রিপোর্টার:

১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে ৬টি স্থায়ী সেনাক্যাম্প থাকার কথা বলা হলেও রবিবার তিনি বলেছেন, ৪ টি ব্রিগ্রেড ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাকি সব সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হবে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি শান্তিচুক্তি সংশোধন করতে চাইছেন? নাকি শান্তিচুক্তি বিষয়ে এটি সরকারের নতুন অবস্থান? অথবা তার বক্তব্য যারা লিখেছেন তাদের তথ্যগত ভুল?

প্রশ্নটি উঠেছে রবিবার সকালে রাজধানীর বেইলী রোডে অফিসার্স ক্লাবের পার্শ্ববর্তী স্থানে নির্দিষ্ট দুই একর জমির ওপর পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স নির্মাণের ভিত্তিফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে।

সরকারী সংবাদ সংস্থা বাসস পরিবেশিত খবরে দেখা যায়, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কেবলমাত্র ভূমি সংস্কার ব্যতীত পার্বত্য শান্তিচুক্তির অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী চারটি ব্রিগেড ব্যতীত অধিকাংশ সেনা ক্যাম্পও সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার ভূমি সংস্কারের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন একাধিকবার গঠন করলেও কমিশনের কাজ সন্তোষজনকভাবে এগোয়নি। কারণ সেখানে কিছুটা অবিশ্বাস এবং দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ করছিল।
আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

…প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনা ক্যাম্পগুলো অধিকাংশ’ই তুলে নেয়া হয়েছে। যা সামান্য কিছু আছে- চারটি জায়গায় কেবল ৪টি ব্রিগেড থাকবে। বাকীগুলো সব সরিয়ে নেয়া হবে। যেজন্য রামুতে আমরা একটা সেনানিবাস করেছি। ঐ অঞ্চলে তাঁর সরকার শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।”

শান্তিচুক্তি

কিন্তু ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে রাষ্ট্রিয় অতিথি ভবন পদ্মায় স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে ৬ টি স্থায়ী সেনা ক্যাম্প রাখার কথা বলা হয়েছে। শান্তিচুক্তির ঘ খন্ডের ১৭(ক) ধারায় বলা হয়েছে, “ সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে চুক্তি সই ও সম্পাদনের পর এবং জনসংহতি সমিতির সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসার সাথে সাথে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিডিআর) ও স্থায়ী সেনানিবাস (তিন জেলা সদরে তিনটি এবং আলীকদম, রুমা ও দীঘিনালা) ব্যতীত সামরিক বাহিনী, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সকল অস্থায়ী ক্যাম্প পার্বত্য চট্টগ্রাম হইতে পর্যায়ক্রমে স্থায়ী নিবাসে ফেরত নেওয়া হইবে এবং এই লক্ষ্যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হইবে। আইন-শৃঙ্খলা অবনতির ক্ষেত্রে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে এবং এই জাতীয় অন্যান্য কাজে দেশের সকল এলাকার ন্যায় প্রয়োজনীয় যথাযথ আইন ও বিধি অনুসরণে বেসামরিক প্রশাসনের কর্তৃত্বাধীনে সেনাবাহিনীকে নিয়োগ করা যাইবে। এই ক্ষেত্রে প্রয়োজন বা সময় অনুযায়ী সহায়তা লাভের উদ্দেশ্যে আঞ্চলিক পরিষদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করিতে পারিবেন”

প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য বাস্তবায়ন করতে হলে শান্তিচুক্তি সংশোধন করতে হবে বলে পার্বত্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

এ ব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

৩০০ কি.মি. মানববন্ধন নেটওয়ার্ক জেলা উপজেলা সদরে সীমাবদ্ধ

প্রথমবারের মতো তিন পার্বত্য জেলা জুড়ে জেএসএস ও ইউপিডিএফ’র অঘোষিত ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচী পালন

12485993_787861114693615_5916404005061567791_o

স্টাফ রিপোর্টার:

আয়োজক তিন সংগঠন থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবীতে তিন পার্বত্য জেলা জুড়ে ৩০০ কি. মি. ব্যাপী গণ-মানববন্ধন সফল হওয়ার দাবী করা হলেও কিন্তু অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, প্রধানত: জেলা ও উপজেলা সদরেই সীমাবদ্ধ ছিলো এ মানববন্ধন। এর বাইরে বিপুল এলাকায় মানববন্ধনকারীদের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় খাগড়াছড়িতে মানববন্ধনের চেষ্টা করা হলেও পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (পার্বত্য চট্টগ্রাম শাখা) ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক এ মানববন্ধনের ডাক দিলেও এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস(মূল ও সংস্কার) ইউপিডিএফ নেতারা এ মানববন্ধনে অংশ নিয়েছে। এর বাইরেও বিভিন্ন উপজাতীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এ মানববন্ধনে অংশ নেয়। তবে এ মানববন্ধনের উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিলো, প্রথমবারের মতো তিন পার্বত্য জেলা জুড়ে জেএসএস ও ইউপিডিএফ’র অঘোষিত ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচী পালন করা।

খাগড়াছড়ি

18.01

খাগড়াছড়ি থেকে পার্বত্যনিউজের জেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ, দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং সমতল অঞ্চলে আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশনের দাবীতে পাহাড়ি তিনটি সংগঠনের ডাকা মানববন্ধন কর্মসূচীটি খাগড়াছড়িতে পুলিশি বাঁধায় পন্ড হয়ে যায়।

 শহরের চেঙ্গী স্কোয়ার মাইনী ভ্যালী এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সদস্য ইউ কে জেন’র নেতৃত্বে মানববন্ধন কর্মসূচীতে দাঁড়ালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্না প্রশাসনিক অনুমতি না থাকায় তাদের বাধাঁ দিয়ে সরিয়ে দেন। পরে তাৎক্ষনিক জেলা শহরের মহাজন পাড়াস্থ একটি কনভেনশন সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দেলনরতরা।

এতে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি,বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সদস্য খাগড়াছড়ি সরকারি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর বোধিসত্ত্ব দেওয়ান। এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সদস্য ফেসর (অব) ড. সুধীন কুমার চাকমা, মধুমঙ্গল চাকমা, শেফালিকা ত্রিপুরা এসময় উপস্থিতি ছিলেন।

সংগঠনগুলো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে বাঁধা প্রদানের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে, অবিলম্বের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও সমতলের আদিবাসীদের জন্য স্বতন্ত্র ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি প্রদানের দাবী জানান নেতৃবৃন্দরা।

এদিকে মহালছড়ি সদর ও মাইচছড়িতে পুলিশী বাধার কারণে মানববন্ধন পণ্ড হয়ে যায়। এসময় পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।

রাঙামাটি

দতকব

পূর্বঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসাবে রাঙামাটির বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন পালিত হয়েছে বিনা বাধায়। শহরের কল্যাণপুর এলাকায় এ মানববন্ধনের নেতৃত্ব দেন জেএসএস সভাপতি সন্তু লারমা এবং জেলা প্রশাসন অফিস প্রাঙ্গনে মানবন্ধনের আহ্বায়ক ও নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান এবং লংগদুতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় ও তার স্ত্রী য়েন য়েন।

রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (পার্বত্য চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি আহবায়ক গৌতম দেওয়ান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে সদস্য নিরূপা দেওয়ান, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধরাণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা প্রমুখ।

মানববন্ধনে ওই সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ ১৮বছরেও সরকার পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের কোন আগ্রহ প্রকাশ করেনি। ভবিষ্যতে এ চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন এখন পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের মনে। সরকারের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সভা সমাবেশে বলেন ২০০৮সালের আওয়ামীলীগের নির্বাচনীয় সনদ হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা। কিন্তু কবে এ সনদ বাস্তবায় করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোন সুনিদিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তাই পার্বত্যাঞ্চলের মানুষ এখন হতাশ। পাহাড়ের জুম্মজাতিরা এখন আর সরকারের উপর বিশ্বাস রাখেনা।

তারা মনে করে সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন না করলে, আন্দোলনের মধ্যমে সরকারকে চুক্তি বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে আর কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে বলে হুমকি দেন ওই সংগঠনের নেতারা।

বান্দরবান

Bandarban pic-3, 18.1

পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও সমতলে ‘আদিবাসীদের’ জন্য আলাদা ভূমি কমিশনের দাবিতে বান্দরবানে গণ মানববন্ধন করেছে পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র ও নৃ-গোষ্ঠীরা। মানববন্ধনে সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উ নি হ্লা মানববন্ধন সফল করায় সকলকে ধন্যবাদ জানান।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রোয়াংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেএসএস জেলা সাধারণ সম্পাদক ক্যবামং মারমা, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়রম্যান ও জেলা হিলউম্যান্স ফেডারেশনের সভানেত্রী ওয়াইচিং প্রু, অনন্যা নারী কল্যাণ সংস্থার পরিচালক ডনাই প্রু নেলী, পাহাড়ী বম সম্প্রদায়ের নেতা জিরকুম সাহা, এনজিও সংস্থার কর্মী অংচ মং মারমাসহ সংগঠনের নেতৃবিন্দরা।

মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে জেএসএস জেলা সাধারণ সম্পাদক ক্যবামং মারমা বলেন, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের নামে কালক্ষেপন করছে সরকার। পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের বিকল্প কিছু নেই।

মানবন্ধন সফল হওয়ার দাবী তিন আয়োজক সংগঠনের

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ, দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং সমতল অঞ্চলে আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশনের দাবিতে আহুত গণ-মানববন্ধনে তিন পার্বত্য জেলার আপামর জনগণ শান্তিপূর্ণ, সুশৃংখল ও স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে মানববন্ধন সফল হওয়ার দাবী করে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (পার্বত্য চট্টগ্রাম শাখা) ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক গৌতম দেওয়ানের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, খাগড়াছড়ি জেলার জেলা প্রশাসন মানববন্ধন করার অনুমতি দেয়নি। ফলে প্রশাসন খাগড়াছড়ি সদরে মানববন্ধন আয়োজনে বাধা প্রদান করে এবং মানববন্ধনে আসা লোকদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এছাড়া মহালছড়ি উপজেলাধীন মাইসছড়ি ইউনিয়ন ও মহালছড়ি সদরে বাধা প্রদান করে। প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনীর এ ধরণের গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনী কর্তৃক বাধা প্রদান ও মানববন্ধনে আসা লোকজনের উপর নির্যাতন করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। 

তবে বাধার মুখেও খাগড়াছড়ি জেলার অন্যান্য জায়গায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে দাবী করে বিবৃতিতে তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতার জন্য তাদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে বাইশারীতে মানববন্ধন

dd

বাইশারী প্রতিনিধি:

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির যথাযথ, দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং সমতল অঞ্চলে আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশনের দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (পার্বত্য চট্টগ্রাম শাখা) ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক এর উদ্যোগে তিন পার্বত্য জেলার ন্যায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতেও আদিবাসী জনগনের পক্ষ থেকে গণ-মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাইশারী স্কুল সড়কে সোমবার সকাল ১০.৩০ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে জেএসএস নেতৃবৃন্দ ছাড়াও পাহাড়ী-বাঙ্গালী শতাধিক লোক অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন দাবিনামা সম্বলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে এক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিটি বাইশারী বাজার প্রদিক্ষণ শেষে উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

গণ-মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন জেএসএস বাইশারী সভাপতি নিউহ্লামং মার্মা, মুক্তিযোদ্ধা ধংছাই কারবারী, সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হাকিম, মংথোয়াইহ্লা হেডম্যান, মংক্যাহ্লা কারবারী, মংছাঅং চাক, হ্লাথোয়াইঙ্গা চাক, ক্যাচিমং, মংথোয়াই চাক, মাষ্টার মংহ্লাচিং, উমু চাক, হ্লাথোয়াইছা কারবারী, অংছাচিং কারবারী, মংওয়াই মার্মাসহ শত শত পাহাড়ী-বাঙ্গালী লোকজন।

মানববন্ধনত্তোর আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের ১৮ বছর পার হলেও চুক্তির মৌলিক বিষয় সমূহ অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়ে গেছে। তাই বক্তারা বাইশারীর মাটি থেকে সরকারের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন, বর্তমানে বাইশারীতে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় হাজার হাজার একর পাহাড়ী খাস ভূমি বহিরাগত ভূমিদস্যুরা দখল করে রেখেছে। সরকারের কাছে এসব পাহাড়ী খাস ভূমি বহিরাগতদের কাছ থেকে পূনরুদ্ধারের দাবি জানান।

শান্তিচুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবীতে ১৮ জানুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘতম মানববন্ধনের ডাক

 মানববন্ধন

সিনিয়র রিপোর্টার:

পার্বত্য শান্তিচুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ১৮ জানুয়ারি তিন পার্বত্য জেলায় পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসের সবচাইতে দীর্ঘ মানববন্ধন করবে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম-পার্বত্য অঞ্চল শাখা ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা পানছড়ির দুদুকছড়া থেকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুনধুম পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত একযোগে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে দীর্ঘতম ৪০০ কি.মি. ব্যাপী এই মানববন্ধনের রুট নির্ধারণ করা হয়েছে: ঘুনধুম-নাইক্ষ্যংছড়ি- বাইশারী- গয়ালমারা- লাইমঝিরি(লামা)- গজালিয়া-১৬ মাইল(চিম্বুক) ও বান্দরবান সদর হয়ে রাঙামাটির বাঙ্গালহালিয়া- বরইছড়ি- কাপ্তাই- হয়ে রাঙামাটি সদর এবং খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি-ঘিলাছড়ি ইউপি হয়ে মহালছড়ি ইউপি- মাচ্ছ্যছড়া ইউপি- বিজিতলা- খাগড়াছড়ি সদর- পেরাছড়া- ভাইবোনছড়া-লতিবান- পানছড়ি সদর- পুজগাং- হয়ে দুদুকছড়া পর্যন্ত।

সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা এই কর্মসূচির কথা নিশ্চিত করে পার্বত্যনিউজকে বলেন, শান্তিচুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নে রোডম্যাপ ঘোষণা করতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই মুলত এ কর্মসুচির মুল উদ্দ্যেশ্য।

মানববন্ধনের মাধ্যমে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের দাবী কতটা পুরণ হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করা বা তা কিভাবে বাস্তবায়ন হবে তা সরকারের ব্যাপার। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের তৃণমুল জনগনের ট্র্যাডিশনাল লিডার হিসেবে দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম-পার্বত্য অঞ্চল শাখা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি‘র সাথে এ কর্মসূচীতে একাত্ম হয়েছি।

দদদদদদ

পাহাড়ের প্রধান আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত জেএসএস বা ইউপিডিএফ এ কর্মসুচীতে অংশ নেবে কিনা জানতে চাইলে সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা আরো বলেন, শুধুমাত্র ইউপিডিএফ-জেএসএস নয়, এই মানববন্ধনে পার্বত্য চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারণ, বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক-সাংবাদিকসহ সকলে স্ব স্ব অবস্থান থেকে অংশ নেবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের ১৭ বছরের মাথায় পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের দাবীতে এটিই হবে পাহাড়ের সবচেয়ে বড় মানববন্ধন। এমনটাই অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

পার্বত্য চুক্তির শতভাগ বাস্তবায়ন করুন না হয় পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত বললেন জেএসএস নেতৃবৃন্দ

pic-02

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
‘পার্বত্য চুক্তির শতভাগ বাস্তবায়ন করুন না হয় পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত’। পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য জুম্ম জনগনের স্বার্থে জন-সংহতি সমিতি ও জুম্ম জনগনের নেতা সন্তুর লারমা ডাকে অসহযোগ আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যে চলতি মাস থেকে জুম্ম জনগণকে আন্দোলন অব্যাহত রাখার শপথ নিয়ে বলিপাড়া বাজার প্লাটফরম এর জন-সংহতি সমিতির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উপরোক্ত কথা বলেন বক্তারা ।

‘চুক্তি বিরোধী ও জুম্ম স্বার্থপন্থী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করুন’- এই শ্লোগানের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার এক বিক্ষোভ মিছিলে মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জন-সংহতি সমিতি ও পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ বলিপাড়া ইউপি শাখা ত্রিবার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন হয় । সম্মেলনে  থানচি উপজেলায় অবস্থানরত সকল জুম্ম জনগণকে প্রস্তুত থাকার জন্য আহবান জানান বক্তারা।

জন-সংহতি সমিতি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি সভাপতি হ্লাসিংঅং মারমা এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রুমা উপজেলা চেয়ারম্যান ও বান্দরবান জেলা জন-সংহতি সমিতি সহ-সভাপতি অংথোয়াইচিং মারমা প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

থানচি থানা শাখা পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক থুইমংপ্রু মারমা এর সঞ্চালনের বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন থানছি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও জন-সংহতি সমিতি সভাপতি চসাথোয়াই মারমা (পকশৈ), সহ-সভাপতি ম্যানুওয়েল ত্রিপুরা, সাধারণ সম্পাদক মেমংপ্রু মারমা, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জন ত্রিপুরা, বান্দরবান জেলা পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অজিত তংচংগ্যা, যুব সমিতি সভাপতি ও সদর ইউপি মেম্বার ক্রাপ্রুঅং মারমা, জন-সংহতি সমিতি থানছি ইউপি শাখা সভাপতি সম্পদ ম্রো, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ থানছি থানা শাখা সভাপতি নুশৈমং মারমা, বলিপাড়া মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী ও ইউপি সদস্যা ক্রানুচিং মারমা।

সম্মেলন শেষে হ্লাসিংঅং মারমা সভাপতি,অংচনু মারমা সাধারণ সম্পাদক,বাহাইমং মারমা সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট জন-সংহতি সমিতি ও উক্যনু মারমা সভাপতি,সুকিরণ চাক্মা (কিরণ) সাধারণ সম্পাদক, সুকল্প চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১৫ বিশিষ্ট পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ কমিটি গঠন করা হয়।