আজ লংগদু হত্যাকাণ্ডের ২৯ বর্ষপূর্তি: আজো বিচার হয়নি জনপ্রিয় রশিদ চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ডের

আবু উবায়দা:

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যায় অনেক কিছু। কিন্তু কখনোই হারিয়ে যায় না সত্য ঘটনা, সত্য ইতিহাস। সাময়িকভাবে মিথ্যে জয়ী হতে পারে, তবে তার স্থায়িত্ব খুব স্বল্প সময়ের জন্য। আপনি গুগলে অনুসন্ধান করুন “লংগদু গণহত্যা” লিখে, দেখবেন পেয়ে যাবেন আংশিক সত্যের ভীড়ে একরাশ মিথ্যের সজ্জিত ঝুড়ি। শুধু লংগদু গণহত্যা নয়, পাহাড়ে যে কোন গণহত্যা লিখে অনুসন্ধান করলে যে সমস্ত পুরনো লেখা পাবেন তার অধিকাংশই মিথ্যাচার।

পাহাড়ে গণহত্যা নিয়ে রচিত লেখাগুলোতে যে পরিমাণ উপজাতি হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার হিসেব করলে লক্ষাধিক হয়ে যাবে। প্রকৃতপক্ষে এতো পরিমাণ উপজাতি যদি হত্যা হতো তবে পাহাড় এতোদিনে উপজাতি নিঃচিহ্ন হয়ে যেতো। বর্তমানে উপজাতির সংখ্যা প্রায় ৮ লক্ষ থাকতো না। যাইহোক, আজ সেই বিষয়ে লিখছি না। চেষ্টা করবো অন্য কোন লেখায় এই বিষয়ে যৌক্তিক উপস্থাপনা আপনাদের উপহার দিতে। আজ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি ১৯৮৯ সালের ৪ মে সংগঠিত লংগদু গণহত্যা সম্পর্কে।

এই গণহত্যা সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে গিয়ে খুঁজে পেলাম নির্মম এক বাস্তব ইতিহাস। হয়তো পাহাড়ে আজ যার বয়স অন্তত ৩০ বছর তিনিও এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে অবগত নন। অনুসন্ধানে খুঁজে পেলাম, গেলো বছর লংগদু উপজেলায় মোটরসাইকেল চালক নুরুল ইসলাম নয়ন হত্যার মতোই উপজাতীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের নীল নকশা। সমগ্র দেশবাসী এমনকি আমাদের পার্বত্য নতুন প্রজন্ম যেটা সম্পর্কে আজও অবগত নন।

১৯৮৯ সালের ৪ মে রোজ বৃহস্পতিবারের ঘটনা। চলছিলো রমজান মাস। লংগদু উপজেলার প্রথম নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব আব্দুর রশিদ সরকার সফরে মাইনী বাজার গিয়েছিলেন। আছরের নামায শেষে আনুমানিক ৪.৩০ মিনিটের সময় মাইনী বাজার হতে লংগদু সদরে ফিরছিলেন তিনি। ফিরতি পথে মুসলিম ব্লকের কিছু লোক তাকে তাদের সাথে ইফতারের নিমন্ত্রণ করলেন। কিন্তু; চেয়ারম্যান সাহেব রাজি হলেন না। তিনি বললেন যে সে বাসায় গিয়ে পরিবারের সাথে ইফতার করবেন।

এদিকে ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসছে। যখন তিনি লংগদু কাঠালতলী অতিক্রম করে বর্তমান বনবিহার গেইটের কাছে উপস্থিত হলেন তখনই তার উপর অতর্কিত আক্রমণ চালায় শান্তি বাহিনীর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের পিস্তলের গুলি আব্দুর রশিদ সরকারের দেহ ভেদ করে চলে যায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি, সাথে সাথে দেহ হতে প্রাণ পাখি উড়ে যায়। হারিয়ে যায় লংগদু উপজেলা তথা ভবিষ্যত পার্বত্য বাঙ্গালীর একজন দক্ষ অভিবাবক।

উপজেলা চেয়ারম্যান শান্তিবাহিনী কর্তৃক হত্যার সংবাদ বাতাসে বাতাসে সমগ্র উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রিয় চেয়ারম্যানকে হত্যার সংবাদ শুনে জীবনের মায়া ত্যাগ করে শতশত বাঙ্গালী উপজেলা সদরে উপস্থিত হতে থাকে। ঠিক সেই মুহূর্তে আবারও ভীতি ছড়াতে পার্শ্ববর্তী বাঙ্গালী পাড়ায় শান্তি বাহিনী সশস্ত্র আক্রমণ শুরু করে। এই আক্রমণে অন্তত ৪০জন নিরীহ বাঙ্গালী পুরুষ, নারী, শিশু নিহত হয়। এদের মধ্যে অনেকের লাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

শান্তি বাহিনী কর্তৃক বাঙ্গালী পাড়ায় হামলা চলাকালে নিহত উপজেলা চেয়ারম্যানকে দেখতে আসা বাঙ্গালীরা উপায়ন্তু না পেয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লংগদু সদরে উপজেলার প্রভাবশালী উপজাতীয় নেতা, সাবেক লংগদু ইউপি চেয়ারম্যান এবং লংগদু মৌজার হেডম্যান অনীল বিহারী চাকমার বাসভবনে যান। কিন্তু প্রভাবশালী এই উপজাতীয় নেতা কোনরূপ সান্তনা না দিয়ে তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়। তখন নিরুপায় ঐক্যবদ্ধ বাঙ্গালী সশস্ত্র শান্তি বাহিনীদের প্রতিরোধ করতে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠে এবং উপজাতি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। যদিও তথ্য প্রমাণ নেই তবুও শোনা যায়, বাঙ্গালীদের অগ্নিসংযোগে অন্তত ৩৬ জন উপজাতির প্রাণহানী ঘটে। সংক্ষিপ্তভাবে এই হলো সেদিনের সৃষ্ট লংগদু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

খেয়াল করুন — আমরা মিডিয়ায় মাধ্যমে অনুসন্ধানপূর্বক যদি ১৯৮৯ সালের ৪ মে লংগদু হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করি তবে জানতে পারি ঘটনার শেষ ভাগ, প্রথম এবং মধ্যভাগ নয়। প্রকৃতপক্ষে ঘটনার শেষ ভাগ কেন তৈরী হলো আমরা তার অনুসন্ধান না করে একচেটিয়াভাবে এই ঘটনার দায় উপজেলার নিরীহ বাঙ্গালীদের উপর চাপিয়ে থাকি। এটা কি ঠিক?

অবশ্য দোষ আমাদের নয়, দোষ হলো আমাদের মিডিয়ার। তাছাড়া, ইতোপূর্বে কেউ এই ঘটনার সত্যতা এবং বাস্তব রহস্য জাতির সামনে তুলে ধরেনি। তাই আমরা এখনো ঐ মিডিয়ায় থাকা শেষ ভাগটাই বিশ্বাস করতে বাধ্য। কিন্তু ঐ যে প্রথমে বলেছি কালের বিবর্তনে লংগদু উপজেলা হতে রশিদ সরকার হারিয়ে যেতে পারে কিন্তু তার ইতিহাস হারায়নি। উপজেলার বয়োজোষ্ঠ্য ব্যক্তিরা এখনো এই ব্যক্তিকে স্মৃতিচারণ করেন, অশ্রুসিক্ত হয় তাদের স্বজন হারানোর আহাজারিতে।

এখন প্রশ্ন হলোঃ কেন শান্তিবাহিনী সেদিন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ সরকারকে হত্যা করেছিলো? এবং এর পরে আবার উপজেলায় কেন সাম্প্রদায়িক সংঘাত হয়েছিলো? আসুন এখন সেই বিষয়টা সম্পর্কে জানি।

লংগদু উপজেলার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান জবাব আব্দুর রশিদ সরকার উপজেলার আটারকছড়া ইউপির বাসিন্দা ছিলেন। তিনি তার অমায়িক ব্যবহার এবং সমসাময়িক দূর্দশাগ্রস্ত জনগনের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেকে সাধারণ জনতার একেবারে অন্তরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তাছাড়া তখন পার্বত্য বাঙ্গালী হতে এমন শিক্ষিত, বিচক্ষণ ব্যক্তি রাঙ্গামাটি জেলা তথা পাহাড়ে খুব দূর্লভ ছিলো। জনগনের ভালোবাসায় সিক্ত আব্দুর রশিদ সরকার আটারকছড়া ইউপি চেয়ারম্যান হতে জনগনের ভোটে উপজেলা নির্বাচনে বিপুল ভোটে হয়ে গেলে লংগদু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

এখানেও তিনি সফল। নেতৃত্বের গুণাবলী, দক্ষতা, অমায়িক ব্যবহারের মাধ্যমে তার জনগনের ভালোবাসার স্রোত ভেসে ভেসে উপজেলা হতে জেলা, জেলা হতে তিন পার্বত্য জেলায় পৌঁছাতে লাগলো। রশিদ সরকার হয়ে উঠছিলেন রাঙ্গামাটি তথা সমগ্র পাহাড়ে পূনর্বাসিত বাঙ্গালীদের অভিবাবক। এই জনপ্রিয়তায় যেন হয়ে গেলো তার জন্য কাল!

শান্তিবাহিনীর সশস্ত্র নেতারা এবং পার্বত্য কতিপয় কুচক্রী মহল চিন্তা করলেন যে এই রশিদ সরকার যদি বেঁচে থাকে তবে পার্বত্য বাঙ্গালীদের কোনভাবেই দমিয়ে রাখা যাবে না। রশিদ সরকারের নেতৃত্বে এই বাঙ্গালীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কোন একদিন পাহাড়ে রাজত্ব করবে। তৈরী হবে পাহাড়ে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক পরিবেশ। তাই তারা পার্বত্য বাঙ্গালীদের নেতৃত্ব শূন্য করে দমিয়ে রাখতে রশিদ সরকারে হত্যা করেছিলো। সম্ভবত এই জন্যই আজ অবধি পাহাড়ে পার্বত্য বাঙ্গালীরা একজন রশিদ সরকারের অভাবে সঠিক ঐক্য, নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পারেনি।

এবার আসি পরের প্রশ্নে— পার্বত্য বাঙ্গালী নেতৃত্ব ধ্বংস করতে রশিদ সরকারকে হত্যা করা হলো। হত্যা শেষে শান্তিবাহিনীর নেতা এবং পার্বত্য কুচক্রী মহল চিন্তা করলো এই হত্যার ঘটনা কিভাবে অন্যদিকে প্রবাহিত করা যায়? কেননা, প্রকাশ্যে দিবালকে রাস্তায় যেভাবে রশিদ সরকারকে হত্যা করা হয়েছে তার দায় হতে মুক্তি, ভিন্ন ইস্যু তৈরী ছাড়া সম্ভব নয়। ঠিক এই চিন্তা হতে সন্ত্রাসীরা উপজেলা চেয়ারম্যান হত্যার দায় ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সাজালো নতুন পরিকল্পনা। বাঙ্গালীদের উত্তেজিত করতে শান্তিবাহিনী শুরু করলো তাৎক্ষণিক বাঙ্গালী পাড়ায় আক্রমণ, হত্যা করা হলো বেশ কয়েকজন নিরীহ বাঙ্গালী।

এদিকে বাঙ্গালীদের একটি ঐক্যবদ্ধ দল আশ্রয় চাইতে গিয়ে উপজাতীয় নেতা এবং হেডম্যান অনীল বিহারী চাকমা কর্তৃক নিরাশ এবং কটুক্তির স্বীকার হন। এক পর্যায়ে নিরূপায় বাঙ্গালী জীবন বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শুরু হয় সাম্প্রদায়িক সংঘাত। সংঘাতে অন্তত ৩৬ জন উপজাতি এবং ৪০ জন বাঙ্গালী নিহত হয়। সহজেই পাল্টে গেলো দৃশ্যপট।

সাধারণ মানুষের রক্তের বিনিময়ে শান্তিবাহিনী সেদিন পার্বত্য বাঙ্গালী নেতা হত্যার দায় হতে মুক্তি পায়। সকল প্রকার সাম্প্রদায়িক মানবাধিকার সংগঠনের তদন্ত, মিডিয়ায় প্রতিবেদন ঘটনার শেষ ভাগটি উপস্থাপন করে লংগদু হত্যাকাণ্ডে উপজেলার বাঙ্গালীদের খুনী হিসেবে প্রমাণ করেন। উপজাতিদের ঘর পোড়ার দায়ে শতশত বাঙ্গালীর বিরুদ্ধে জুড়ে দেওয়া হয় মামলা। মামলার যাঁতাকলে পৃষ্ট হয়ে সেদিন বাঙ্গালী হত্যার বিচার ম্লান হয়ে যায়। ঘর পোড়ানোর দায়ে বাঙ্গালীদের জেলে পাঠানো হলেও উপজেলা চেয়ারম্যান রশিদ সরকার হত্যার দায়ে এখন পর্যন্ত খুনীদের বিচার হয়নি, হয়নি সঠিক তদন্ত।


এ ধরণের আরো লেখা:

 

লংগদু সেনা জোনের উদ্যোগে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সম্পর্কীত সমন্বয় সভা

DSC08168

লংগদু প্রতিনিধি:

লংগদু উপজেলা সেনা জোনের উদ্যোগে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সম্পর্কীত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সেনা জোনের মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে লংগদু জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল মো. মাহাবুবুর রহমান পিএসসি বলেছেন, লংগদু জোনের আওতাধীন এলাকায় আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে নয় মাস দায়িত্ব থাকা কালিন সময়ে প্রাণপন চেষ্টা করেছি শান্তি শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার। এখন পর্যন্ত আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আমি প্রশিক্ষণের জন্য যাচ্ছি। আপনাদের কাছে দোয়া কামনা করছি। আমাকে যেভাবে আপনারা সহয়োগিতা করেছেন অনুরূপ ভাবে নবাগত সিও সাহেবকেও আপনারা অনুরূপ ভাবে সহযোগিতা করবেন। এলাকার সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রেখে উন্নয়নে সকলকে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য তিনি আহবান জানান।

জোনের সমন্বয় সভায় উপজেলা বিভিন্ন বিভাগী কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান, হেডম্যান, কার্বারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিভিন্ন ক্যাম্প কমান্ডার, থানার প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিসহ জোনের বিভিন্ন সেনা কর্মকর্তা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অনু্ষ্ঠানে অন্যন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নবাগত জোন কমান্ডার মেজর আ. আলীম চৌধুরী জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. গোলাম আজম, লংগদু উপজেলা পরিষদের চেয়রম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দিন, লংগদু ইউপি চেয়ারম্যান সুখময় চাকমা, কালাপাকুজ্জা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক দেওয়ান, লংগদু প্রেস ক্লাবের সভাপতি এখলাস মিঞা খান, মাইনীমুখ মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক রোফিকুন্নেছা চৌধুরী, লংগদু থানার এসআই মো. জাকির হোসেন, কুলিন মিত্র চাকমা হেডম্যান, জেএসএস’র লংগদু সেক্রেটারী মনিশংকর চাকমা।

সভা শেষে জোনের পক্ষ থেকে বিদায়ী জোন কমান্ডারকে ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হয়।

লংগদু থেকে ট্রানজিট রোড সরিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন

DSC08025

লংগদু প্রতিনিধি:

রাঙামাটির লংগদুতে উপজেলা সদর থেকে ঠেকামুখ পর্যন্ত বরাদ্ধকৃত ট্রানজিট রোড অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার প্রতিবাদে পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ লংগদু উপজেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার, সকাল সাড়ে দশটায় উপজেলা সদরে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের উপজেলা সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন মেম্বারের সভাপত্বিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাব্বির আহম্মেদ।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, লংগদু উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দিন, বগাচতর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গাফফার ভূইয়া, ছাত্রপরিষদের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী মো. সরোয়ার জাহান খান, রাঙামাটি জেলা নাগরিক পরিষদের আহবায়ক বেগম নুরজাহান, মো. সাইফুল সওদাগর, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরজাহান বেগম, ভাসাইন্যাদম ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহির উদ্দিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, লংগদু উপজেলা সদর থেকে বগাচতর ইউনিয়ন হয়ে বরকল সীমান্ত কুকিছড়া থেকে ভারতের ঠেকামুখ পর্যন্ত বরাদ্ধকৃত ট্রানজিট রোডটি কোন অশুভ শক্তির বলে অন্যেত্র সরিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমরা এই অশুভ শক্তির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই ট্রানজিট রোডটি লংগদু উপজেলাবাসীর প্রাণের দাবি।

লংগদু উপজেলায় কার্বারীসহ জেএসএস’র দুই নেতা অপহৃত

অপহরণ

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

রাঙামাটিলংগদু থেকে এক গ্রামপ্রধান(কার্বারী)সহ দুই উপজাতিকে অপহরণ করার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

অপহূত ব্যক্তিরা হলেন বড় উল্টাছড়ির গ্রামপ্রধান/কার্বারী প্রিয়ময় চাকমা (৩৫) এবং তাঁর বড় ভাই সুসময় চাকমা (৪২)। তাঁরা সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির সমর্থক বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

লংগদুর স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত আটরকছড়া ইউনিয়নের বড় উল্টাছড়ি গ্রামে আসে। এ সময় তারা গ্রামপ্রধান প্রিয়ময় চাকমা ও তাঁর বড় ভাই সুসময় চাকমাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা অপহূত ব্যক্তিদের পরিবারের লোকজনকে বাঘাইছড়িতে যোগাযোগ করতে বলে।

লংগদু জেএসএস সাধারণ সম্পাদক মনিশংকর চাকমা এ ঘটনার জন্য জেএসএস সংস্কারপন্থীদের দায়ী করে বলেছেন, বাঘাইছড়ি সংস্কারপন্থী নেতা জুপিটার চাকমার নেতৃত্বে এ অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে অপহৃতদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেছে।

লংগদু উপজেলায় বন্য হাতির আক্রমণে একজনের অকাল মৃত্যু

10390422_1428025067462134_2104390461286751667_n

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

বন্যহাতির আক্রমণে রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলার রাঙ্গীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ফরিদ কবির (৪০) নামের এক লোকের অকাল মৃত্যু হয়েছে।

 

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে ,মোঃ ফরিদ রাঙ্গীপাড়া স্থানীয় বাজারে মুদি দোকান করত। গতকাল রাত আনুমানিক ১১.০০ টায় প্রয়োজনীয় কিছু সদাই ও লবন নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছিল, লোকালয়হীন জনশুন্য রাস্তায় একা একা বাড়িতে ফেরার পথিমধ্যে লবনের ঘ্রাণ পেয়ে আক্রমণ করে বন্যহাতি ।

স্থানীয়দের দাবী লবণই কাল হয়েছে তার জীবনের। বৈরি আবহাওযার তার আর্তচিৎকার শুনতে পায়নি। আজ সকাল ৬.০০ ঘটিকায় প্রতিবেশী হাফেজ মিয়া ও অন্যান্য লোকজন লাশ ও হাতির পায়ের ছাপ দেখে বাড়িতে খবর দেয়। জানতে পেরে রাঙ্গীপাড়া গ্রামের শত শত লোক তার লাশ দেখার জন্য ভীড় করে।

খবর পেয়ে পার্শ্বস্থ বিজিবি, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

লংগদু উপজেলা পরিষদে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব গ্রহণ ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

লংগদু প্রতিনিধি:

মঙ্গলবার লংগদু  উপজেলা পরিষদের মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ তফাজ্জল হোসেন এর সভাপতিত্বে সভায় আরও অংশগ্রহণ করেন নব নির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাসির উদ্দীন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নুর জাহান বেগম। আজ উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্যদের প্রথম কর্ম দিবস।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মফিজুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় কর্মকর্তা ,ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে নব নির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাসির উদ্দীন,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরজাহান বেগম কে অভিনন্দন জানানো হয়। সভায় ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব বন্টন করা হয়।

এছাড়াও সভায় বিগত মাসের প্রশাসনিক সম্পাদিত কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। সভায় লংগদু  উপজেলাকে একটি আদর্শ উপজেলা হিসাবে গড়ে তুলতে সকলকে একযোগে কাজ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করতে না পারায় লংগদুতে এক ছাত্রীর আত্নহত্যা

নিজস্ব প্রতিনিধি, লংগদু:

দাখিল পরীক্ষায় ভাল  ফলাফল অর্জন করতে না পারায় রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলায় এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। গতকাল দাখিল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর মাসুমা আক্তার জানতে পারে সে বি গ্রেড পেয়েছে। মাসুমা আক্তার উপজেলার মাইনীমুখ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে চলতি বছর দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।  উপজেলার কালাপাকুজ্জা ইউনিয়নের সালামপুরের মৃত বিলাল হোসেনের মেয়ে মাসুমা দাদীর সাথে বসবাস করত। পিতা-মাতা হারা মাসুমা নিজের মনের মত ফলাফল অর্জিত না হওয়ায় অভিমান করে গতকাল রাতে বাড়ির পাশেই আত্মহত্যা করে।

আজ পুলিশ লাশ উদ্ধার করে  ময়না তদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ব্যাপারে লংগদু থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর লংগদু জোনের উদ্যোগে খাবার পানি বিতরণ

লঙ্গদূতে সেনা বাহিনীর পানি বিতরণ

লংগদু সংবাদদাতা:
প্রচণ্ড গরমের কারণে রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় সেনাবাহিনীর লংগদু জোনের উদ্যোগে খাবার পানি বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলার পশ্চিম ভাইট্টাপাড়া, আলতাফ মার্কেট, কাঠালতলা, হাজাছড়া, ইসলামাবাদ এলাকায় সেনাবাহিনী প্রায় প্রতিদিন খাবার পানি বিতরণ করছে। এলাকার শত শত পরিবার তাদের প্রয়োজনীয় খাবার পানি সংগ্রহ করছে।

সেনাবাহিনীর উদ্যোগে খাবার পানি পেয়ে সবাই খুশি। প্রচণ্ড গরমের বিভিন্ন এলাকায় পানির উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ার কারণে খাবার পানি পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। সেনাবাহিনী প্রতিদিন প্রায় ৪০০০ লিটার পানি সরবরাহ করছে। জনসাধারণের পানীয় জলের  সমস্যার কথা জানতে পেরে লংগদু জোনের উদ্যোগে খাবার পানি বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা যায় ।

  সেনাবাহিনীর লংগদু জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল আজাহার উদ্দিন আহমদ পিএসসি জানান, পানির এ সমস্যা স্বাভাবকি না হওয়া র্পযন্ত আমরা পানি বিতরণ অব্যহত রাখবো।