৪০ হাজার পিস ‘নিষিদ্ধ’ সিগারেটসহ দুই রোহিঙ্গা আটক

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার:

উখিয়ার কুতুপালংয়ে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারের তৈরি ৪০ হাজার পিস ‘নিষিদ্ধ’ সিগারেটসহ মোহাম্মদ ফয়সাল (৩৩) ও মোহাম্মদ এহসান (২৪) নামে দুই রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছেন র‌্যাব সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) দুপুরে উখিয়া বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়। তারা দুজনই কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা। র‌্যাব-১৫, টেকনাফ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার এএসপি শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শাহ আলম বলেন, ‘কুতুপালং ক্যাম্পে নিষিদ্ধ বার্মিজ সিগারেট বিক্রি হচ্ছে এমন খবর পেয়ে তার নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালিয়ে ৪০ হাজার পিস সিগারেট উদ্ধার করে। এ সময় দুই রোহিঙ্গা যুবককে আটক করা হয়। আটক দুজনকে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দিয়ে উখিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।’

৩১৯ জন রোহিঙ্গা এইডসে আক্রান্ত

ডেস্ক রিপোর্ট

কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন শিবিরের রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভি এইডসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি।

এ পর্যন্ত এইচআইভি-এইডসে আক্রান্ত ৩১৯ জন রোহিঙ্গাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৭ জন চিকিৎসার আওতায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেই এইডসে আক্রান্ত অন্তত ৯ জন রোহিঙ্গার সন্ধান মিলেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের শিবিরগুলোয় প্রায় ৯ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

তাদের মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে এইডসে আক্রান্ত ৪ পুরুষ ও ৫ নারীকে চিহ্নিত করা হয়। একই সময়ে এ রোগে দুই নারী ও এক পুরুষ মারা যান। তবে ফেব্রুয়ারিতে কক্সবাজারের স্থানীয়দের মধ্যে এইডস আক্রান্ত কাউকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস-এসটিডি কর্মসূচির কর্মকর্তা এসএম আখতারুজ্জামান বলেন, ‘কক্সবাজার, উখিয়া ও টেকনাফ হাসপাতালে এইচআইভি-এইডস শনাক্তকরণ সংক্রান্ত কাউন্সিলিং ও টেস্ট করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

যাদের শরীরে এইচআইভি ভাইরাস পাওয়া যায় তাদের কক্সবাজার হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এইচআইভি-এইডসে আক্রান্ত ৪৪৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১৯ জন রোহিঙ্গা এবং ১২৯ বাংলাদেশি রয়েছে।’

আক্রান্তদের মধ্যে ২৭৭ জন রোহিঙ্গা এবং ৭২ বাংলাদেশিকে চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে। যারা এইডসে আক্রান্ত হয়েছে তাদের মধ্যে ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ জন রোহিঙ্গা এবং ৪৪ জন বাংলাদেশি। আক্রান্ত ও মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি।

আখতারুজ্জামান আরও বলেন, কক্সবাজারের এলাকার এইচআইভি-এইডসে আক্রান্তদের শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা দেওয়া হয় জেলা হাসপাতালের মাধ্যমে। তবে এ রোগে আক্রান্ত রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প থেকে হাসপাতালে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। এ কারণে উখিয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এইডসে আক্রান্ত রোহিঙ্গাদের শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

এরই মধ্যে কক্সবাজারে চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী ৮৪ রোহিঙ্গাকে উখিয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিদের পর্যায়ক্রমে স্থানান্তর করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিবি-ল্যাপ্রোসি এবং এইডস-এসটিডি প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম বলেন, ‘মিয়ানমারে অন্যান্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় রোহিঙ্গাদের এইচআইভি-এইডসে আক্রান্তের হার কম। যদিও তা আমাদের দেশের তুলনায় বেশি। সে জন্য শনাক্ত ও চিকিৎসা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে কাজ করছি। রোহিঙ্গা এইডস রোগীদের বেশিরভাগ মিয়ানমারে শনাক্ত হয়েছিল।

কিন্তু সেখানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার কারণে তারা চিকিৎসা পেত না। আমাদের দেশে আসার পর আমরা এইচআইভি আক্রান্তদের শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় এনেছি। যেন অন্যদের মধ্যে এ ভাইরাস সংক্রমিত না হয়। আমরা প্রিভেশন মাদার টু চাইল্ড নামে একটি প্রোগ্রাম চালু করেছি। যার আওতায় গর্ভবতী নারীদের এইচআইভি পরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কেউ শারীরিক নির্যাতনের শিকার এলে তখনও এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি।

এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কেউ কোনো কারণে চলে এলে তাদের পরীক্ষা করছি। বৈশ্বিক নিয়ম অনুযায়ী এইচআইভি শনাক্তের আগে কাউন্সিলিং করতে হয়। আমরা সেই আলোকে কাজ করছি।’

জানা গেছে, এশিয়ার মধ্যে যে কটি দেশ এইচআইভির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তার মধ্যে মিয়ানমার অন্যতম। জাতিসংঘের এইডসবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউএনএইডসের তথ্য মতে, দেশটিতে বর্তমানে ২ লাখ ৩০ হাজার থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার এইচআইভি-এইডস আক্রান্ত মানুষ রয়েছে। দেশটির প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দশমিক ৮ ভাগ এইডসে আক্রান্ত।

এ ছাড়া শিরায় ইনজেকশন গ্রহণকারীদের মধ্যে ২৩ শতাংশ, নারী যৌনকর্মীদের মধ্যে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সমকামীদের মধ্যে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ এই ভাইরাসে আক্রান্ত। সেই হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ২ থেকে আড়াই হাজার এইডস রোগী থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস-এসটিডি কর্মসূচির কর্মকর্তারা বলেছেন, রোহিঙ্গারা যদি আমাদের দেশের স্থানীয় লোকদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ পায়, তা হলে এ রোগ ছড়াতে পারে। তাই রোহিঙ্গারা যেন কক্সবাজারে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ক্যাম্পে রাখার ব্যবস্থা নিয়েছে।

যাদের এইচআইভি শনাক্ত হচ্ছে তাদের একা বা স্বজনের সঙ্গে কক্সবাজার হাসপাতালে আসতে দেওয়া হয় না। এই আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার হাসপাতালে নিয়ে যান আইএমও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সূত্র: bangladeshtoday.com

রোহিঙ্গাদের অনলাইনে ডাটাবেজের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

রোহিঙ্গা সংকটে এবার জরুরী সেবা দিতে কাজ করছে ফ্রেন্ডশিপ এমহেলথ। এ সংক্রান্ত এক সেমিনার রবিবার কক্সবাজার হোটেলে লং বীচে ফ্রেন্ডশিপের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এমহেলথ ডিজিটাল হেলথ কেয়ার সলিউশন আন্ডার চ্যালেঞ্জিং সেটিংস” শীর্ষক সেমিনার ও প্যানেল ডিসকাশন।

আয়োজনে বক্তারা তুলে ধরেন কীভাবে রোহিঙ্গা সংকটে এমহেলথ সল্যুশন মান সম্পন্ন এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে।

বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সেবার নানা উন্নয়নমূলক ইন্ডিকেটর সফলভাবে পূর্ণ করতে পারলেও মান সম্মত এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্য সেবার সার্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজের পক্ষে আমরা এখনো পৌঁছতে পারেনি। দেশের সমগ্র জনসংখ্যার ৭০% ই গ্রামীণ জনগোষ্ঠী যার জন্য মাত্র ২৫% স্বাস্থ্য কর্মী সেবা প্রদান করছেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মত সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিগুলোতে, যেখানে লাখ লাখ মানুষ এক ঘনবসতিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করছে, সেখানে গুনগত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং সময়মত ফলো-আপ করাটা খুবই কঠিন।

ডিজিটাল তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভূগোলিক এবং আর্থ-সামাজিক বাধা পার করে এমহেলথ সল্যুশন্স সাশ্রয়ী, যথাযথ এবং গুনগত মানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে সক্ষম হবে। উপকারীর তথ্যাদি এন্টিনেটাল ও পোস্ট নেটাল সেবা, টিকা, শিশু স্বাস্থ্য সেবা, পরিবার পরিকল্পনা, সীমিত চিকিৎসাগত সেবা, সার্জিক্যাল, ক্যান্সার স্ক্রিনিং, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সচেতনতা, জরুরী ব্যবস্থাপনা, ঔষধের তালিকা, রেফারেল, ফলোআপ, ড্যাশবোর্ড, রিপোটিং এবং ডিসিস সার্ভেইল্যান্স বিষয়সমূহ সংযুক্ত করা হয়েছে।

এসিএফ এর পার্টশিপের মাধ্যমে এবং ডিএফআইডির সার্বিক সহযোগিতায়, প্ল্যাটফর্মটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফ্রেন্ডশিপের ৩২ জন কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার বা সিএইচডব্লিউর হাতে পৌঁছে গেছে এবং এর মাধ্যমে সেখানকার-১০,০০০ এর থেকেও বেশি জনসংখ্যার মাঝে একলক্ষ বারের বেশি স্বাস্থ্যসেবা ইতিমধ্যে প্রদান করেছে। সেমিনারে রুনা খান প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক, ফ্রেন্ডশিপ। মার্ক-এল্ভিজ্ঞার, চেয়ার, ফ্রেন্ডশিপ লুক্সেমবার্গ, উসাইমং মার্মা, সিভিল সার্জন অফিস, কক্সবাজার। তৌফিকুর রহমান প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এসিএফ কাজী এমদাদুল হক, ডিরেক্টর অফ স্ট্রাটেজিক প্ল্যানিং, মিজান চৌধুরী প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, ফ্রেন্ডশিপ ও মোহাম্মদ এনামুল হক টিম লিডার এম হেলথ, ফ্রেন্ডশিপ এ অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্তমান স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে এম হেল্থ কতটা অপরিহার্য এই বিষয়ে একটি প্যানেল আলোচনা মডারেট করেন, ফ্রেন্ডশিপ স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ও প্রধান ডাক্তার গোলাম রসুল, ডাক্তার খাইড এলতাহির, ইন্সিডেন্ট ম্যানেজার, ডাব্লিউএইচও বাংলাদেশ, জেম্স আন্ডারহিল এমএইচপিএসএস উপদেষ্টা নরওয়েজিয়ান চার্চ এইচ, গিরাম টেশোম. আইওএম নয়েম উদ্দিন, ম্যানেজার হেল্থ (এমআইএস) সেভ দ্যা চিলড্রেন ও সুব্রত কুমার মন্ডল ফ্রেন্ডটেক বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গা মুসলিম শিশুদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছে: জাতিসংঘ

ডেস্ক রিপোর্ট

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম শিশুদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করার মত বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা এবং জাতিগত শুদ্ধি বা নির্মূল অভিযানসহ ভয়াবহ ও পৈশাচিক অপরাধযজ্ঞ ঘটার বিষয়ে জাতিসংঘের তদন্ত টিমের একজন সদস্য সম্প্রতি এসব তথ্য দিয়েছেন।

রাধিকা কুমারাস্বামী নামের জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা আনাতোলি বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন, মিয়ানমারের রাখাইনে প্রথমে রোহিঙ্গা যুবকদের হত্যা করা হয় এবং এরপর রোহিঙ্গা নারী ও কন্যাদের ওপর ভয়াবহ যৌন নির্যাতন চালানো হয়। বড় বড় ভবনে ও আটককেন্দ্রগুলোতে এইসব পরিকল্পিত অপরাধ চালানো হয়। রোহিঙ্গা শিশুদের ওপরও নির্যাতন চালানোর সাক্ষ্য পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। রোহিঙ্গা শিশুদেরকে বাবা-মা থেকে পৃথক করা হয় এবং এমনকি কখনও কখনও তাদেরকে আগুনে ছুঁড়ে ফেলা হয় বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা মিয়ানমারের ৬ জন জেনারেলকে চিহ্নিত করেছি যাদের যুদ্ধ-অপরাধ, গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সম্পর্কে অবশ্যই তদন্ত চালাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাখাইনে যা ঘটছে তা এক নতুন সামরিক অভিযান এবং এ নিয়ে আমরা তীব্র উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি, কারণ এক বছর পর দেখা যাচ্ছে যে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ।

রাধিকা কুমারাস্বামী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শিবিরগুলোর শোচনীয় অবস্থা ও তাদের চরমপন্থী হয়ে ওঠার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, তারা বেকার ও তাদের শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই এবং সারা দিন তারা এক জায়গায় থাকছে; এমন পরিণতি কে চাইতে পারে?

তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে যাতে রোহিঙ্গারা স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল অবস্থায় থাকতে পারে। আর তা সম্ভব না হলে রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে অপেক্ষাকৃত বেশি নিরাপদ অঞ্চলে পাঠানো অনিবার্য হয়ে পড়বে। জাতিসংঘ ২০১৮ সালের এক প্রতিবেদনেও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর ওপর গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধসহ ব্যাপক সহিংসতা ঘটার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল।

সূত্র: পার্সটুডে

তুমব্রু জিরো পয়েন্ট থেকে ইয়াবাসহ চার রোহিঙ্গা শরণার্থী আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি/বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের তুমব্রু কোণারপাড়া জিরো পয়েন্টে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীর কাছ থেকে ২৪৯পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আটক করা হয়েছে চার রোহিঙ্গা নাগরিককে।

বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ওই ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতারা তাদের আটক করে তুমব্রু বিওপিতে হস্তান্তর করেন। আটককৃতরা হলো- মামুনুর রশিদ (১৯), করিম (১৭), জহুর আলম (১৮) ও আলাউদ্দিন (১৬)।

তুমব্রু কোনার পাড়া শরনার্থী শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা মো. আরিফ হোসেন ও দীল মোহাম্মদ জানান- প্লাস্টিক মোড়ানো ১৪৯টি ইয়াবাসহ চার রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করা হয়। তারা সবাই মিয়ানমারের ঢেকিবনিয়া এলাকার বাসিন্দা। আটকের পর তাদের তুমব্রু বিওপি কমান্ডার মো. মজিবুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা গণহত্যায় ইসরাইলের ভূমিকা থাকার খবর দিল মার্কিন ওয়েবসাইট

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো গণহত্যা ও দমন অভিযানে ইহুদিবাদী ইসরাইলের ভূমিকা থাকার খবর দিয়েছে মার্কিন নিউজ পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট আল-মনিটর।

ওয়েবসাইটটি বুধবার এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ইসরাইল মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রেখে রোহিঙ্গা মুসলমান হত্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আল-মনিটর আরো লিখেছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ইহুদিবাদী ইসরাইলসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে সংগ্রহ করা অস্ত্র দিয়ে যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা করেছে তার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও দেশটির উগ্র বৌদ্ধরা রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটসহ ভয়াবহ মানবতা বিরোধী অপরাধ চালায়।

ওই দমন অভিযানে অন্তত ছয় হাজার নিরীহ মুসলমান নিহত ও অপর আট হাজারের বেশি রোহিঙ্গা আহত হন। এ ছাড়া, সহায়-সম্বল হারিয়ে প্রাণ ও সম্ভ্রম বাঁচাতে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেন ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান।

জাতিসংঘ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত শুদ্ধি অভিযান’ চালানোর জন্য দেশটির সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে। এ ছাড়া, এই সেনাবাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেনাবাহিনী হিসেবেও উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ।

 

সূত্র: পার্সটুডে

আরও ৪০ শরর্ণাথী রুমা সীমান্তের এপারে আশ্রয় নিলো

নিজস্ব প্রতিনিধি:

দুই দিনের ব্যবধানে বান্দরবানের সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের আরও ৪০ শরণার্থী বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। এর আগে গত সোমবার রাতে ১২৪ জন শরণার্থী বাংলাদেশে এসেছে। এই নিয়ে দুই দফায় মোট ২০৩জন মিয়ানমার নাগরিক বাংলাদেশে আশ্রয় নিলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- বুধবার বান্দরবানের রুমা উপজেলার সীমান্তবর্তী রেমাক্রী পাংসাং এলাকা দিয়ে ৪০ পরিবার বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তারা সেখানে প্লাস্টিক মুড়িয়ে তাবু তৈরি করে থাকছেন।

এদিকে রুমা সীমান্তে আশ্রিত মিয়ানমার নাগরিকদের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে সেনা ও বিজিবি’র একটি দল ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহেদুর রহমান জানান- সীমান্ত এলাকায় শরণার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, মিয়ানমারের সাথে আমরা (বাংলাদেশ) বর্ডার সিল করে দিয়েছি। এখন আর কাউকে (রোহিঙ্গা বা অন্যান্য মিয়ানমার নাগরিক) ঢুকতে দেয়া হবে না।

বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত ও হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন ও চীন রাজ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী দল আরাকান আর্মি (এএ) এর সাথে সে দেশের বিজিপি ও সেনাবাহিনীর সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে এরপর থেকে শরণার্থীরা বাংলাদেশে আসার প্রস্তুতি শুরু করে।

মিয়ানমারের শরণার্থী অনুপ্রবেশের চেষ্টায় রুমা সীমান্তে সর্তকতা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের রুমা উপজেলার ৭২নং সীমান্ত পিলার এলাকায় সর্তকতা জারি করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি মিয়ানমার অভ্যন্তরে প্রায় দুইশ’ খুমি, খেয়াং, বম শরণার্থী বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অপেক্ষমান শরণার্থীরা বর্তমানে রুমা উপজেলার রোমাক্রী পাংসা ইউনিয়নের চাইক্ষাং সীমান্তের ওপারে তিদং এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার ইউপি চেয়ারম্যান জিরা বম।

জানা গেছে, কিছু দিন যাবৎ মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠণ আরাকান আর্মি (এএ) এর সঙ্গে সে দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সূত্র ধরে নিরাপদ আশ্রয় খুজে মিয়ানমারের নাগরিকরা রুমা সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে।এদিকে এই ঘটনার শুরু থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিজিবি ও সেনাবাহিনী টহল জোরদার করা হয়েছে।

রাখাইনের বুথিডং রাথিডং এলাকার স্থানীয়রা নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে পারলেও চীন রাজ্যের প্লাতোয়া জেলার লোকজন সীমান্ত কাছে হওয়ায় বাংলাদেশের বান্দরবান সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে।

বিজিবির বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার কর্নেল জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শরণার্থীরা যাতে কোনো ভাবেই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সীমান্তে সতকর্তা জারি করা হয়েছে। সীমান্তের সম্ভাব্য স্থানগুলোতে টহল দল পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনী মুসলিম রোহিঙ্গাদের নিশ্চিহ্ন করে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ থেকে বাচতে প্রায় ৭ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়।

 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও’র চাকরিতে স্থানীয়দের নিয়োগসহ ১৪ দফা দাবীতে বিক্ষোভ

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

উখিয়া-টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওর চাকরিতে স্থানয়ীদের অধিকার আদায়ের ১৪ দফা দাবি নিয়ে আবারো বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় চাকরিচ্যুত ও চাকরি বঞ্চিতরা ।

শনিবার(২৬ জানুয়ারি)বিকাল ৩ টায় উখিয়ার কোটবাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করে তারা।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে পথসভায় অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়ার নেতারা বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও সংস্থা গুলোকে স্থানীয়রা গত দেড় বছর ধরে চাকরিতে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলে আসছিল। কিন্তু এনজিওগুলো স্থানীয়দের দাবি কোনো ধরনের কর্ণপাত না করে বরাবরই স্থানীয়দের বঞ্চিত করে আসছেন।

সম্প্রতি স্থানীয় ছেলে-মেয়েদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করে চরম অবমূল্যায়নের বার্তা দিয়েছেন এসব এনজিও। যা উখিয়ার সচেতন মানুষ কোনো ভাবেই মেনে নিবে না। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক, এএসপি, আরআরআরসি, এনজিও সংস্থা ডিআরসি, হ্যান্ডিক্যাপ, টিডিএইচ, ফ্রেন্ডশিপ, রিক, মুসলিম এইড, কোস্ট, ডিএসকে, প্লান, টিডিএইচ, কনসার্ন, ব্র্যাক ও অক্সফার্ম-সহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থার অফিসে স্মারকলিপি/অনুলিপি দিয়েছেন আন্দোলনরত অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি, উখিয়া।

আন্দোলনকারীরা স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদেশি এনজিও কর্মকর্তাদের পরিবর্তে বাংলাদেশি যোগ্যতা সম্পন্নদের আইএনজিওতে অগ্রাধিকার দেয়ার দাবি জানান।

২৭ তারিখের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তাদের সকল দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় আন্দোলনের মাধ্যমে সকল দাবি আদায়ে এনজিওদের বাধ্য করা হবে বলে ঘোষণা দেন।

এসময় পথসভায় বক্তব্য রাখেন- অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির অহ্ববায়ক শরীফ আজাদ, মনজুর আলম শাহীন, রাশেদুল ইসলাম, তাওচীপ চৌধুরী, রাসেল মাহমুদ, যোবায়েত হোসেন, হেলাল উদ্দিন, মফিদুল আলম প্রমুখ।

আন্দোলনকারীদের ১৪ দফা দাবিগুলো হলো:

১। সরকারের নির্দেশনা অনুসারে রোহিঙ্গা এনজিওর চাকরিতে স্থানীয়দের ৭০% কোটা দিতে হবে।

২। স্থানীয়দের পরিকল্পিত ছাঁটাইকারী এনজিওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩। এনজিও ও আইএনজিওতে প্রত্যেক বিভাগের উচ্চ পদে নুন্যতম ২ জন স্থানীয়কে চাকরি দিতে হবে।

৪। যে সকল এনজিও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ঐ সকল এনজিও তাদের পরবর্তী প্রকল্পে পূর্বের প্রকল্পের স্থানীয়দের চাকরিতে বহাল রাখতে হবে।

৫। নিয়োগের কার্যক্রমে সচ্ছতা আনতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের প্রতিনিধি একটি মনিটরিং সেল করতে হবে।

৬। এনজিওরা রোহিঙ্গাদের জন্য প্রাপ্ত অনুদানের ৭০ ভাগ অপারেটিং খরচ হিসেবে ব্যয় করে এতে রোহিঙ্গারা ও স্থানীয়রা তাদের ন্যায্য অনুদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই এনজিওদের এসকল দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত বিদেশি কর্মকর্তারা নূন্যতম ৫ লক্ষ টাকা বেতন পাচ্ছে সেক্ষেত্রে একজন স্থানীয় বেতন ১০-১৫ হাজার টাকা। এনজিওতে চাকরিতে বেতন বৈষম্য দূর করতে স্থানীয়দের নূন্যতম বেতন ৫০ হাজার টাকা করতে হবে।

৮। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত ১৩শ বিদেশি কর্মকর্তার বেতন ও আনুসাঙ্গিক খরচ মিলে ২শ কোটি টাকার বেশি অর্থ খরচ করছে। এ সকল বিদেশি কর্মকর্তার স্থলে দেশীয় যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের চাকরি দিতে হবে।

৯। বিদেশি এনজিওরা মোট বরাদ্দের ৯০ ভাগের বেশি অনুদান পাচ্ছে এবং এ সকল অনুদান বিভিন্ন কৌশলে আবার বিদেশে চলে যাচ্ছে। দেশ থেকে অর্থ পাচাররোধে টঘ সংস্থাগুলো ছাড়া সকল বিদেশি এনজিওদের ফেরত পাঠাতে হবে। বিদেশি এনজিওদের স্থলে দেশীয় এনজিওদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

১০। প্রতিমাসে সকল এনজিওকে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর স্থায়ী ঠিকানাসহ তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

১১। দক্ষতা অর্জনের জন্য স্থানীয়দের উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

১২। এনজিওতে চাকরির জন্য প্রতিটি অফিসে সরাসরি আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে।

১৩। মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের উৎসাহিত করতে এনজিওদের বিশেষ কর্মসূচি নিতে হবে।

১৪। প্রত্যাবাসন বিলম্ব হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো কাটাতারের বেষ্টনী দিয়ে রোহিঙ্গা সুনির্দিষ্ট গণ্ডির ভিতর রাখার প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওর চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণায় তৎপর কবির সিন্ডিকেট

ঘুমধুম প্রতিনিধি:

মিয়ানমার সেনা, জান্তা বাহিনীর নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করতে না পেরে প্রায় ১৩ লাখেরও অধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ সরকারের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদেরকে দেশের মাটিতে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের দরবারে একটি বিরল স্থাপন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানেও দেশি বিদেশি এনজিও সংস্থা ও দাতাগোষ্ঠীরাও রোহিঙ্গাদের সাহায্য সহযোগিতায় এগিয়ে এসে তাদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। তবে রোহিঙ্গাদের কেন্দ্র করে কিছু অসাধু মহল রয়েছে যথেষ্ট তৎপর।

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গা আগমনকে ঘিরে এলাকার এক শ্রেণীর প্রতারক চক্ররা বিভিন্ন এনজিও সংস্থায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলেও জানা গেছে।

ভুক্তভোগী নাছিমা জানান, কুতুপালং বাজার পাড়া গ্রামের মৃত ভেলায়ার ছেলে কবির আহম্মদ একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে টেকনাফ, চকরিয়া, কক্সবাজার, ঈদগাহ, উখিয়া, হোয়াইক্যংসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষিত নারী পুরুষদের সংগ্রহ করে এনজিও সংস্থা আরটি এম, ব্র্যাক, সেভ দ্যা সিলড্রেন, ইউএনএইচসি আরসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থায় অল্প দিনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি ১০/২০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহলরা বলেন, অচিরেই কবিরকে গ্রেফতার করে কঠিন শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা না হলে দেশের অনেক শিক্ষিত বেকার নারী পুরুষেরা সর্বশান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।