উপজেলা নির্বাচন: ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়পত্র নিয়েছেন বিএনপি নেতা জসীম

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাঙামাটি:

রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন রাঙামাটি জেলা বিএনপি’র স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক জসীম উদ্দীন।

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাঙামাটি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এসময় তার সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

জসীম জেলা বিএনপি’র রাজনীতির পাশাপাশি বর্তমানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া  বিএনপি’র এ নেতা সাবেক জাসাস এবং ছাত্রদলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি নিজের ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

পাহাড়ে বিদ্যুৎতায়নের জন্য ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে               

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাঙামাটি:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাহাড়ে বিদ্যুৎতায়নের জন্য ৭০০ কোটি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যাতে পাহাড়ের মানুষ অন্ধকারে না থাকে, বিদুৎ এর আলোয় আলোকিত হয়। তিনি পার্বত্য এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণের আবাসিক হিসেবে নির্মাণ করতে নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বুধবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানের সাথে রাঙামাটির ১৩২/৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কাপ্তাই লেকে মাছ বন্ধকালীন সময়ে যেন খাচায় মাছ চাষ করা হয় ও কৃষকরা যেন মাছের চাষের পাশাপাশি শাক সবজি চাষ করে এবিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের কাজ করার নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পাহাড়ের মানুষ আগে জমির ক্ষতি পুরণ পেত না এবার আমরা সমতলের সাথে মিলিয়ে ক্ষতিপূরনের পরিমান তিনগুন করে দিয়েছি।

ভিডিও কনফারেন্সে সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদসহ শিক্ষার্থী, মাছ ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তারা বক্তব্য রাখেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রিয়াদ মেহমুদ, সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবদুল খালেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন) মো. ছুফি উল্লাহসহ প্রশাসনের সকল দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।

রাঙামাটিতে বিদেশী অস্ত্রসহ পিসিপি নেতা কুনেন্টু গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাঙামাটি/ রাঙামাটি প্রতিনিধি:

রাঙামাটি সদরে গোয়েন্দা তথ্যর ভিত্তিতে ইউপিডিএফ সমর্থিত রাঙামাটি পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি কুনেন্টু  চাকমাকে (২৩) বিদেশী অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী। শনিবার (২ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে যৌথবাহিনীর পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

যৌথবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়- শনিবার দুপুরে রাঙামাটি সদরের কুতুকছড়ি এলাকায় পিসিপি নেতা কুনেন্টু, ইউপিডিএফ’র চীফ কালেক্টর রবি চন্দ্র চাকমা ওরফে অর্কিড চাকমা ওরফে অর্ণব বাবু, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের আহ্বায়ক ধর্মসিংহ চাকমা, ইউপিডিএফ কাউখালী উপজেলা শাখার সংগঠক সম্রাট চাকমা, সংগঠনটির সশস্ত্র গ্রুপের সদস্য রণজিৎ চাকমাসহ আরও কয়েকজন মিলে চাঁদা বন্টন সংক্রান্ত গোপন বৈঠক করছেন এমন গোয়েন্দা তথ্য’র ভিত্তিতে ওই এলাকায় যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে পিসিপি নেতা কুনেন্টুকে গ্রেফতার করতে পারলেও বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, ৫রাউন্ড এ্যামুনেশন, চাঁদা আদায়ের ৪লাখ ৫হাজার  ৮০০ টাকা, ৪টি মোবাইল এবং ইউপিডিএফ’র চাঁদা আদায়ের রশিদ উদ্ধার করা হয়।

পিসিপি নেতা কুনেন্টু নানিয়ারচর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান  অ্যাড. শক্তিমান চাকমা হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হোতা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

আটককৃত কুনেন্টু চাকমা চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করে বলেন, তিনি একজন ছাত্র। ইউপিডিএফ (প্রসীত) দলের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন সময় রাঙ্গামাটি জেলার জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের হুমকি প্রদান করে। এছাড়াও পার্বত্য এলাকার বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোর সংবাদ প্রকাশের কারণে ইউপিডিএফ (প্রসীত) দলের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের প্রাণের নাশের হুমকিও প্রদান করেছে কুনেন্টু চাকমা। এমনকি তার উপস্থিতিতে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট শক্তিমান চাকমার হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনায় জেএসএস(সন্তু) সমর্থিত সশস্ত্র দলের কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত ছিল বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য এলাকায় বসবাসকারীদের জুম্ম জনগোষ্ঠী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার নামে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা বলে তার মত কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের দলে যোগদানের জন্য নিয়মিত হুমকি প্রদান করে ইউপিডিএফ (প্রসীত) দল। দলে যোগদান না করলে প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে এবং তার মত অনেক ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করানো হলো ইউপিডিএফ (প্রসীত) দলে সন্ত্রাসীদের কাজ। তিনি জুম্ম জনগোষ্ঠী পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে করে বলছেন, তার মত কেউ এই ভুল না করে স্বাভাবিক জীবনযাপন করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার এস আই মো. আনোয়ার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃত কুনেন্টু চাকমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনের মামলা দায়ের করা হবে। তিসি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সংগঠনের নামে পার্বত্যাঞ্চলে খুন, গুম ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে রাজনীতির আড়ালে পার্বত্য এলাকার মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। এছাড়াও ফেসবুকে বিভিন্ন আইডি ব্যবহার করে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সদস্যরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম ও স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন উল্লেখ্যযোগ্য ব্যক্তিবর্গকে হুমকি প্রদান করছে। এদের হাত থেকে পাহাড়ি -বাঙ্গালি কেউ রেহায় পায় না। পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যৌথবাহিনীর এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রামের অপরাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান: লে. কর্নেল রিদওয়ান

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাঙামাটি:

রাঙামাটি জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল রিদওয়ানুল ইসলাম বলেন-পার্বত্য চট্টগ্রামে যে অপরাজনীতি চলছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমাজের উন্নয়নে, দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে।

শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে কাউখালীর ঘাগড়া আর্মি ক্যাম্প প্রাঙ্গণে রাঙামাটি রিজিয়ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিভিন্ন ব্যাচের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

লে. কর্নেল আরও বলেন-পার্বত্যঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের উন্নয়নে সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। সেনাবাহিনী ছাড়া আর কেউ করেও না। বাকীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।

সেনাবাহিনীর এ কর্মকর্তা জানান- সরকার আমাদের বেতন প্রদান করেন দেশের এবং দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করার জন্য। দেশের যে কোন সংকটময় মূহুর্তে আমরা প্রস্তুত থাকি এবং নিবেদিত হয়ে কাজ করি।

লে. কর্নেল আরও জানান- শিক্ষার্থীদের এতদিন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হতো তিনমাস। আগামীতে এ প্রশিক্ষণ ছয়মাস করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নি করার সুযোগ করে দেওয়া হবে।

যারা মেধা তালিকায় প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করবে তাদের পুরস্কার প্রদান করা হবে এবং মেধাবীদের চাকরীরও ব্যবস্থা করা হবে বলে লে.কর্নেল রিদওয়ান আশ্বাস প্রদান করেন।

জোনের ক্যাপ্টেন শাহমাদ বিন রাদ’র সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন- কাউখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুর রহমান, ঘাগড়া কলেজের অধ্যক্ষ শ্যামল মিত্র চাকমা, ঘাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান জগদীশ চাকমা এবং প্রশিক্ষক মেহেদি হাসান।

প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে অনুভূতি ব্যক্ত করেন-আব্দুল মালেক এবং জুঁই চাকমা।

আলোচনা শেষে ৫টি ব্যাচের মোট ১০০জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয় বলে প্রশিক্ষক মেহেদি হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সর্বক্ষেত্রে পার্বত্য বাঙালীদের সাংবিধানিক অধিকার দিতে হবে

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাঙামাটি:

পার্বত্য অধিকার ফোরাম ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম বাঙালি ছাত্র পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যাগে পাহাড়ের বাঙালি ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা চাকুরীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যথাযথ সুযোগ সুবিধা না দেওয়ায় ও অসচ্ছল ছাত্রছাত্রীদের জন্য তিন পার্বত্য জেলায় বাঙালি ছাত্রাবাস স্থাপনসহ জনসংখ্যা অনুপাতে পাহাড়ের বাঙালীদের সকল ক্ষেত্রে সাংবিধানিক অধিকারের দাবিতে রাঙামাটিতে অবস্থানরত বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্রদের নিয়ে

শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি)  সকালে  পার্বত্য অধিকার ফোরাম, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ রাঙামাটির জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় শহরের পৌরসভাস্থ জেলা কার্যালয়ে।

বক্তব্য রাখেন পার্বত্য অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাঈন উদ্দিন, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মো. ফারুক, বৃহত্তর বাঙালি ছাত্র পরিষদের রাঙামাটি জেলা আহ্বায়ক ও রাঙামাটি সরকারি কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র নাজিম আল হাসান, যুগ্ম আহ্বায়ক অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র মো. বাকী বিল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র আব্দুল্লাহ্ আল মোমিন। এছাড়া রাঙামাটি সরকারি কলেজ, পাবলিক কলেজ, ও কৃষি ডিপ্লোমা’র শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে পার্বত্য অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাঈন উদ্দিন বলেন- পাহাড়ে বাঙ্গালীরা আজ পদে পদে নির্যাতিত, নিপীড়িত হচ্ছে, মৌলিক অধিকার হারা ৩০,০০০ হাজার বাঙ্গালীকে গুচ্ছগ্রামে বন্দি রেখে মানবেতর জীবন-যাপন এবং ওদের ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। পিছিয়ে পড়া হিসেবে শুধু উপজাতিরা সুবিধা পাচ্ছে, কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালীরাও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে সর্বক্ষেত্রে আজ বৈষ্যমের শিকার হচ্ছে। তাই অধিকার আদায়ে পার্বত্য অধিকার ফোরামের বিকল্প নেই।

সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন- পাহাড়ে আজ বাঙ্গালীরা পদে পদে নির্যাতিত, নিপীড়িত, বঞ্চিত, মৌলিক অধিকার হারা। শান্তিচুক্তির পরও মুক্তি মেলেনি বাঙ্গালীর ভাগ্যে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উপজাতিরা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বলে সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে, অথচ পাহাড়ের বাঙালীরাও বর্তমানে উপজাতিদের থেকে আরো বেশি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। কিন্তু পাহাড়ের বাঙালি ছাত্রছাত্রীদের প্রতি কারো নজর নেই। তাই জনসংখ্যা অনুপাতে সর্বক্ষেত্রে পার্বত্য বাঙ্গালীদের সাংবিধানিক অধিকার আদায়ে ছাত্র সমাজকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

নতুন বিমানবন্দর হবার সম্ভাবনা রাঙামাটির কাউখালিতে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলাকে বিমান বন্দর নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই রাঙামাটিতে যে কোন সময় গড়ে উঠতে পারে বিমান বন্দর।

এ উপজেলায় বিমান বন্দর গড়ে তোলার অন্যতম কারণ হলো- এ উপজেলার সাথে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারি, রাউজান, রাঙুনিয়া এবং পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানের সাথে অক্ষুন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল রয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড’র (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম রাঙামাটিতে এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছেন।

গত ১৩ জানুয়ারি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীকে লেখা চিঠিতে বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেছেন- তিন পার্বত্য জেলায় কোনো বিমানবন্দর না থাকায় তাদের চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হয়, যা খুবই কষ্টকর ও সময়সাপেক্ষ।

তাছাড়া পার্বত্য জেলাগুলোতে রেলপথ নির্মাণ সম্ভব নয়, নৌ-পথের সুযোগও সীমিত। শুধু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো অঞ্চলের কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রায় সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হলে পার্বত্য অঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।


পর্যটন পরিকল্পনার লক্ষ্য হোক সাজেক থেকে সেন্টমার্টিন


এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা গত ৮ জানুয়ারি বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলামের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে রাঙামাটিতে বিমানবন্দর গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন।

চিঠিতে নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন- উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের একটি প্রধান শর্ত। তিন পার্বত্য জেলায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও এখানে কোনো রেলপথ ও বিমানবন্দর নেই। নৌ-পথেও অন্য জেলার সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা নেই।

এ অবস্থায় তিন পার্বত্য জেলার মধ্যবর্তী কোনো স্থানে ছোট একটি বিমানবন্দর নির্মিত হলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় প্রস্তাবিত এ বিমানবন্দর হতে পারে উল্লেখ করে নব বিক্রম বলেছেন- কাউখালীতে বিমানবন্দরটি হলে অন্য দুই পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান ছাড়াও চট্টগ্রাম জেলার রাউজান, হাটহাজারী, রাঙুনিয়া ও ফটিকছড়ির অধিবাসীরা সুবিধা পাবে। এতে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

দুই জেলা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিমানবন্দর থাকা সত্ত্বেও রাঙামাটিতে আরও একটি বিমানবন্দর হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন- তিন কোটি জনসংখ্যার দেশ নেপালের আয়তন বাংলাদেশের প্রায় সমান। দেশটির অভ্যন্তরে বিমান চলাচলের জন্য ৪৩টি বিমানবন্দর রয়েছে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও দেশে সচল অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর রয়েছে রাজশাহী, যশোর, সৈয়দপুর ও বরিশালে। এর বাইরে কুমিল্লা, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, মৌলভীবাজার ও নোয়াখালীতে স্টল বিমানবন্দর রয়েছে। এসব বন্দরে বিমান কেবল উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে।

এছাড়া চট্টগ্রামের সন্ধীপ, কক্সবাজারের চকরিয়া, ফেনী, গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর, চট্টগ্রামের রসুলপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইলের পাহাড় কাঞ্চনপুর, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর ও পটুয়াখালীতে অব্যবহৃত বিমানবন্দর রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা নির্বাচন: রাঙামাটি সদরে আ’লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী রোমান, জেএসএস’র অরুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোল শেষ হয়েছে। এবার নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে। এদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান পদে সারাদেশে প্রার্থীদের দৌড় ঝাঁপ শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিতায় পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী আমেজ।

গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসনে দীপংকর তালুকদার বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। আর এ বিজয়ের ফলে সংগঠনটির জেলার নেতা-কর্মীরা বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন।

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং স্থানীয় আঞ্চলিক সংগঠন পিসিজেএসএস’র কোনো প্রার্থীকে প্রচার-প্রচারণায় মাঠে দেখা না গেলেও আ’লীগের হয়ে শুরু থেকে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন রাঙামাটির পরিবহন নেতা শহীদুজ্জামান মহসিন রোমান। তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং এমবিএ পাস করা উচ্চ শিক্ষিত তরুণ রাজনীতিবিদ ।

স্থানীয়ভাবে রাঙামাটি আ’লীগ থেকে কোনো প্রার্থীর নাম এককভাবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করলেও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রোমানের নাম দল ও দলের বাইরে বেশ চাওর হয়েছে।

খোদ দলের ভিতর গুঞ্জন উঠেছে রোমানই এবার আ’লীগের হয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়াইয়ে সামিল হবেন। জেলা আ’লীগের প্রথম সারির কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। রোমান ছাড়া এখনো কোন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে না আ’লীগ থেকে।

আ’লীগের হয়ে রাঙামাটি সদরে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রোমান অতীতে রাঙামাটি শহর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

সাবেক এ ছাত্রলীগ নেতা গতবার পৌরসভা নির্বাচনে আ’লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দলের দিক-নির্দেশনা মেনে এবং দলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দলের প্রার্থীর স্বার্থে নিজেকে প্রত্যাহার করেন এবং দলের স্বার্থে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে কাজ করেছেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী যেই হোন, জেলা রাজনীতির দাদা খ্যাত দীপঙ্কর তালুকদার এমপির সমর্থন তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ নির্বাচন করবেন এ কথা ভাবা কঠিন। তবে কেন্দ্র থেকে তিনজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম চাওয়া কিছুটা শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। বাকি দুইজন কারা কারা হবেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি’র (পিসিজেএসএস) সমর্থিত প্রার্থী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে সাদা মনের মানুষ খ্যাত, উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি বর্তমান রাঙামাটির সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অরুণ কান্তি চাকমার।

তিনি এর আগে ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেএসএস’র সমর্থিত প্রার্থী হয়ে আ’লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে রাঙামাটি সদর চেয়ারম্যান পদটি দখল করেন।

এবারও জেএসএস’র হয়ে তার নাম বেশ চাওর হয়েছে। জেএসএস’র একটি সূত্র থেকে তার প্রার্থী হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়। কেননা এখনো জেএসএ তাদের অন্য কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। এছাড়া জেএসএস’র হয়ে অন্য কোনো প্রার্থীরা নাম এখনো শোনাও যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদুজ্জামান মহসিন রোমান পার্বত্যনিউজকে জানান, আমার প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে সমাজের পিছিয়ে পড়া অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করা। কেননা নিজের পকেটের টাকা দিয়ে কোনো বৃহত্তর উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব নয়। আর এ চিন্তা থেকে মানুষের জন্য বড় পরিসরে কল্যাণ করতে এবারের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

এছাড়া বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সাথে নিজেকে সামিল করতে এ নির্বাচনী ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছি।

যদি দল আমাকে নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য টিকেট প্রদান করে তাহলে আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে দলের স্থানীয় অভিভাবক এমপি দীপংকর তালুকদার এবং জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এ চেয়ারম্যান পদটি উপহার দিব।

রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেএসএস’র হয়ে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী অরুণ কান্তি চাকমা পার্বত্যনিউজকে জানান, গত পাঁচ বছর চেষ্টা করেছি এলাকার মানুষের উন্নয়নে। যতটুকু পেরেছি সহায়তা করার। এজন্য দিন-রাত কাজ করে গেছি।

তিনি আরও বলেন, মানুষ আমার প্রতি বিশ্বাস রেখেছিলো বলে ২০১৪ সালে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে। এবারও আশা করি এ এলাকার মানুষ আমার প্রতি আবারোও পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করে আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন রাঙামাটির বিশ্বজিত চাকমা

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

বৌদ্ধ ধর্ম থেকে চির শান্তির ধর্ম ইসলামে দীক্ষিত হলেন বিশ্বজিৎ চাকমা। তাঁর বর্তমান নাম আবু বকর। তিনি রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়াচর থানার ৪নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা।

গতকাল (২৩ জানুয়ারি) বুধবার, সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় বিশ্বজিৎ চাকমা আল জামিয়াতুল আরাবিয়া নছিরুল ইসলাম (নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার) অন্যতম মুহাদ্দিস মাওলানা হাফেজ জাফর আহমদের মাধ্যমে মাদ্রাসা মসজিদে বসে কালেমা পড়ে ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করেন।

এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা শহীদুল্লাহ, মাওলানা মুফতী ইবরাহীমসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মাওলানা শহীদুল্লাহ ও নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার ছাত্ররা নব দীক্ষিত নওমুসলিমদের হাদিয়া (নগদ টাকা) প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বজিৎ চাকমার সাথে তাঁর অন্য দুইজন বন্ধু আবদুর রহমান ও মাসউদুর রহমান এসেছিলেন। তাদের বাড়ি পার্বত্যজেলা খাগড়াছড়িতে। গত কিছুদিন পূর্বে আবদুর রহমান ফেনীতে ও মাসউদুর রহমান ঢাকায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন বলে জানিয়েছেন, আবদুর রহমান বর্তমানে তাবলীগে সময় লাগিয়ে বর্তমানে ইসলাম ধর্ম প্রচারে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সে বন্ধু বিশ্বজিৎ চাকমা দাওয়াত দেয়। বিশ্বজিৎ চাকমা ইসলামের সুমহান আদর্শ ও বিধি-বিধানে বিমোহিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন বলে জানান।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তাঁদের নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা মসজিদে বসিয়ে নামাজ, দোয়া, কালেমা ইত্যাদি শিখিয়ে দেয়া হয়। সাথে সাথে ইসলামের সুমহান আদর্শের উপর অটল অবিচল থাকার জন্য মাদ্রাসার হুজুররা নসিহত করেন। এবং নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে আসার দাওয়াত দেন।

(বিশ্বজিৎ চাকমা’র) বর্তমান নাম আবু বকর, আবদুর রহমান ও মাসউদুর রহমান ইসলামের উপর অটল অবিচল থাকার এবং ইসলামের প্রচার প্রসারে নিজেদের নিয়োজিত রাখার জন্য সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

সূত্র: কাজী শহিদুল্লাহ ওয়াহিদ, একুশে জার্নাল।

রাঙামাটিতে অস্ত্রসহ জেএসএস’র বাঙালি চাঁদা কালেক্টর আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি:

রাঙামাটি শহরে যৌথবাহিনী  অভিযান চালিয়ে জেএসএস’র সক্রিয় চাঁদা কালেক্টর আফজাল হোসেন (৫২) নামের এক চাঁদাবাজকে আটক করেছে।

মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের ক্ষেপ্পাপাড়া থেকে তাকে আটক করা হয়।

এসময় তাঁর কাছ থেকে একটি পিস্তল, ৩টি মোবাইল ফোন  এবং  নগদ ২হাজার ১২০টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

যৌথবাহিনী সূত্রে জানানো হয়, সোমবার দুপুরে যৌথবাহিনী শহরের আসামবস্তিস্থ ক্ষেপ্পাপাড়া নামক স্থানে আফজালকে ধরতে অভিযান পরিচালনা করে। আফজাল যৌথবাহিনীর অভিযান টের পেয়ে তার বাড়ির পাশে ঝোঁপে লাফ দেয়। যৌথবাহিনী ওই ঝোঁপ  থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি পিস্তল, ৩টি মোবাইল ফোন এবং  নগদ ২হাজার ১২০টাকা উদ্ধার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানানো হয়, আফজাল শহরের রিজার্ভবাজার, তবলছড়ি  এবং আসামবস্তি বাজার এলাকার স্থানীয় কাঠ, মাছ, বাঁশ ব্যবসায়ী, দোকানদার, সিএনজি এবং বিভিন্ন পণ্যবাহী গাড়ি থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি’র (পিসিজেএসএস)  হয়ে  চাঁদা আদায় করে আসছে বহুবছর ধরে।

আফজাল  ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এসব চাঁদার টাকা সংগ্রহ করে জেএসএস’র চীফ কালেক্টর জ্ঞান শংকর চাকমার কাছে হস্তান্তর করে। আর আফজালের অবর্তমানে তার স্ত্রী খোদেজা বেগম এবং তার সহযোগী ওই এলাকার বাসিন্দা ডেস্কী মিয়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে থাকে।  আদায়ের সেসব চাঁদা থেকে আফজাল ৩০% করে কমিশন পেয়ে থাকে বলে যৌথবাহিনীর কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তিনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙামাটি কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহিম জানান, আটক আফজালের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে দু’টি মামলা দায়ের করা হবে।

নানিয়ারচরে ইউপিডিএফ’র কালেক্টর আটক

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি:

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা থেকে ইউপিডিএফ’র দু’কালেক্টরকে আটক করেছে যৌথবাহিনী।

সোমবার (২১ জানুয়ারি)সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ঘিলাছড়ি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন-রাঙামাটির লংগদু উপজেলার  মধ্য খারিকাটা গ্রামের অশ্বহামা চাকমার ছেলে বোধিস্বত্ত চাকমা ওরফে পিপলু (৩৮) এবং একই উপজেলার বড়াদম গ্রামের সুমতি রঞ্জন চাকমার ছেলে শুশান্ত চাকমা ওরফে অটল চাকমা (৪০)।

এসময় তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল, নগদ ২১হাজার ৭৭৩টাকা, চাঁদা আদায়ের রশিদ, মোবাইল ফোন ৪টি, জাতীয় পরিচয় পত্র ২টি, ব্লেড ৪টি, ঘড়ি ২টি, চশমা ২টি এবং ওই এলাকায় বিভিন্ন দোকান থেকে চাঁদা আদায়ের টোকেন উদ্ধার করা হয়।

যৌথবাহিনী সূত্রে জানানো হয়- আটককৃত ব্যক্তিরা চাঁদা আদায় করে ঘিলাছড়ি এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের গতিবিধি সন্দেহ হলে যৌথবাহিনী তাদের আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা ইউপিডিএফ মূল সংগঠনের সক্রিয় কর্মী এবং ওই এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে বলে যৌথবাহিনী সূত্রে জানানো হয়।

নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান- এ ব্যাপারে আমি এখনো অবগত হতে পারিনি। জানতে পারলে  ঘটনার সম্পর্কে  বিস্তারিত বলা যাবে।