বিজিবি-বিজিপি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত : অস্ত্র গোলাবারুদ ফেরত

 pic-9999

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

মিয়ানমারের মংডুতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) এর মধ্যে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ের সফল পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে নিহত বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমানের লুট হওয়া এসএমজি, চারটি ম্যাগজিন ও ১২০ রাউন্ড গোলাবারুদ ফেরত দিয়েছে বিজিপি। ৫জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় পতাকা বৈঠক শেষে টেকনাফ ফিরে এসে বিজিবি কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল খন্দকার ফরিদ হাসান এ কথা জানান।

 

 পার্বত্যনিউজের কক্সবাজার, টেকনাফ, নাইক্ষ্যংছড়ি ও রামু প্রতিনধিগণ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ৫টি এজেন্ডা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে কথা বলেন। এজেন্ডাগুলো হল- (১) ১৯৪৭ সালের জেনেভা কনভেনশন মোতাবেক সীমান্তের জিরো পয়েন্টে সেনা মোতায়েন নিষিদ্ধ থাকলেও মিয়ানমার কেন তা বারবার করে যাচ্ছে? (২) মিয়ানমার বাহিনী বিজিপি কেনই বা ২৮ মে বিনা কারণে ৫২ পিলারের অদূরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে টহল দেয়া বিজিবি সদস্যের ওপর গুলিবর্ষণ করে। যাতে নায়েক মিজান মারা যান (৩) ৩০ মে গুলিতে নিহত নায়েকের লাশ ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও তা না করে লাশ গ্রহণকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ। এমনকি মর্টার শেলের মতো অস্ত্রের ব্যবহার করা। (৪) চোরাচালান, ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য পাচার (৫) উভয় দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে কর্মকৌশল প্রণয়ন ।

বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্ণেল খন্দকার ফরিদ হাসান জানিয়েছেন, বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিরা সীমান্তে সেনা মোতায়েন, ২৮ মে বিনা কারনে ৫২ পিলারের অদূরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে টহল দেয়া বিজিবি সদস্যের উপর গুলি বষর্ণ করে নায়েক মিজান নিহত হওয়ার জোর প্রতিবাদ জানান। এসময় বিজিবি সদস্যের গুলি ও অস্ত্র ফেরত চাওয়া হয়। মিয়ানমার অস্ত্র এবং গুলি ফেরত দেয়। বাংলাদেশ পক্ষ এসময় নিহতের জন্য ক্ষতিপুরণ দেয়ার দাবী করলে মিয়ানমার তা যথাসম্ভব দেয়া হবে বলে জানিয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষ চোরাচালান, ইয়াবাসহ মাদক দ্রব্য পাচার রোধ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা করেছে। জানা গেছে, পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘাঁটি থাকার অভিযোগ তুলে বিজিপি। বিজিবি মিয়ানমারের অভিযোগ নাকচ করে দেয়। বাংলাদেশ পক্ষ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচার বন্ধ করার দাবি জানায়। তিনি জানান, বৈঠকে সাম্প্রতিক ঘটনাকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে আখ্যা দেয় বিজিপি। ভবিষ্যতে যেকোনো সন্ত্রাসবাদ দমনে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।

SAM_0083

বৈঠকে মিয়ানমার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তার দেশের সন্ত্রাসীদের তৎপরতার কথা তুলে ধরে তা দমনে যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবী করে। কিন্তু বাংলাদেশ পক্ষ এ দাবী অস্বীকার করে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য থাকলে তা সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে বলে, বাংলাদেশ মিয়ানমারের দেয়া তথ্য মোতাবেক নিজেই অভিযান পরিচালনা করে অভিযোগ যাচাই করে দেখবে। বাংলাদেশের মাটিতে অন্য কোনো দেশের সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর কোনো সুযোগ নেই বলেও বৈঠকে জানানো হয়েছে। এর সঙ্গে আগামী ১০-১৩ জুন বিজিবি ও বিজিপি’র মহাপরিচালক পর্যায়ে বৈঠকের কথাও রয়েছে।

 সীমান্তের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপে সকাল ১১ টার দিকে শুরু হয় । এ বৈঠকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিধায় সীমান্তের লোকজনসহ দেশের মানুষের দৃষ্টি সারা দিন মিয়ানমারের মন্ডুর দিকে ছিল।

 এর আগে বৈঠকে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টা দিকে বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্ণেল খন্দকার ফরিদ হাসানের নেতৃতে¦ ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের মংডুতে যান। সেখানে বেলা ১১ টা থেকে টানা ৪ টা পর্যন্ত চলে বৈঠক। ২৩ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল খন্দকার ফরিদ হাসান এবং মিয়ানমারের পক্ষে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মিয়ানমারের মংডুস্থ ইমিগ্রেশন হেডকোয়ার্টাসের পরিচালক কর্নেল থিং কু কু। এছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল সফিকুর রহমান, রামু ৫০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল তইয়ুমুর কায়কোবাদ, কক্সবাজার ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম, টেকনাফ ৪২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ প্রমুখ।

 এদিকে দুই দেশের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো থমথমে রয়েছে। মিয়ানমার সীমান্তের কোনো কোনো পয়েন্টে নতুন করে আরো সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। বিজিবিও সীমান্তে সকল প্রস্তুতিসহ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল টিমকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে মিয়ানমারের বিজিপি। সেই সময় নিখোঁজ হন নায়েক মিজানুর রহমান। তাকে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী ধরে নিয়ে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ মায়ো মিন্টথানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। সীমান্ত থেকে বিজিবির সদস্যকে আটক করায় কঠোর ভাষায় রাষ্ট্রদূতকে তিরস্কার করা হয়। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষীদের কাছে আটক বিজিবির নায়েক মিজানুর রহমানকে অতি দ্রুত ছেড়ে দেওয়ারও দাবি জানানো হয়। এরপর শুক্রবার নিখোঁজ বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমানকে ফিরিয়ে দিতে বিজিবি ও মিয়ানমারের বিজিপির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় বৈঠক। এরপরই নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার বিকেলে বিজিবি সদস্য নায়েক মিজানুর রহমানের মরদেহ মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী ৫২ সিমান্ত পিলার পানছড়ি এলাকা দিয়ে ফেরত দেয়। তবে ফেরত দেয়নি নায়েক মিজানুর রহমানের সঙ্গে লুট হওয়া ১টি এসএমজি, ৪টি ম্যাগজিন ও ১২০ রাউন্ড গোলাবারুদ। মিয়ানমারের বিজিপি আজকের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ওই অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেরত দেবে বলে জানিয়েছিল।

মংডুতে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে বাংলাদেশ-মায়ানমার পতfকা বৈঠক আজ

 1

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে আজ ৫ জুন বৃহস্পতিবার মায়ানমারের মংডু টাউনশীপে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে । সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে এ পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন কক্সবাজারের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল খন্দকার ফরিদ হাসান ।

 

 

ওই পতাকা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন,নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল সফিকুর রহমান, রামুর ৫০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল তাইয়ুমুর কায়কোবাদ, কক্সবাজারের ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম, টেকনাফ ৪২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল আবু জার আল যাহিরসহ পদস্থ কর্মকর্তারা ।

ওই বৈঠকে গত ২৮ মে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দৌছড়ি সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমান নিহত হওয়ার বিষয় এবং তার সাথে লুট হওয়া ১টি এস.এমজি, ৪টি ম্যাগজিন ও ১২০ রাউন্ড গোলাবারুদের বিষয় মায়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সাথে আলাপ হবে বিজিবি সূত্রে জানা যায়।

এদিকে গতকাল ৪ জুন সন্ধ্যা ৬.০০ ঘটিকায়ও নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তের অবস্থা অস্থিতিশীল ছিল । এদিন সীমান্ত এলাকার বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করেন বান্দরবানের ৬৯ পদাতিক বিগ্রেডের বিগ্রেড কর্মান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নকিব আহমদ ।

গত ৩ জুন রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে বিজিবি সদস্য নায়েক মিজানুর রহমানের লাশ দাফনের রেশ কাটঁতে না কাটঁেতই নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়নের পর্দানঝিরি ও জামছড়ির মিয়ানমার সীমান্ত থেকে গোলাবর্ষণ হয়। ওই সময় মুহু মুহু গোলাবর্ষণে এলাকার জনগণ দিগিবিদিক হয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয় নেয়। ঘটনার পর পরই নাইক্ষংছড়ির জামছড়ির এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে।

এদিকে লেমুছড়ি সীমান্তে বসবাসকারী মোঃ আব্দুলসহ বেশ কয়েকজন জানান, গতকাল বুধবার ৫টা ৩০ মিনিটের সময় লেমুছড়ির বাহিরমাঠ এলাকার ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমারের বিজিপি একটি মর্টার সেল নিক্ষেপ করেন। মর্টার সেলের বিকট শব্দে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার লোকজন ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এদিক-ওদিকে ছোটাছুটি শুরু করে। তারা আরো জানান, মর্টার সেল নিক্ষেপের পর ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা বাঙ্কারের অবস্থান নিয়ে কড়া প্রহরায় রয়েছে। তবে বিষয়টি বিজিবি অস্বীকার করেন। এছাড়াও বুধবার সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমার অংশে বিজিপি কয়েক দফায় গুলিবর্ষণ ও ৪টি মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত সাড়ে ৮টার পর থেকেই গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার পর পর ৫০,৪২ ও ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় মিয়ানমারের অংশে বিজিপি গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপ করে যাচ্ছে। সীমান্তে লোকজন আরো জানান, নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়নের পর্দানঝিরি, জামছড়ি, বাহির মাঠ, লেমুছড়ি, বান্ডুলিয়া সীমান্তে মিয়ানমার অংশে ব্যাপক গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ তারা শুনতে পায়। তারা জানান, বিজিপি কর্তৃক প্রায় ১০টিরও বেশি মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান। এদিকে বিজিপি কর্তৃক এই গোলাবর্ষণের খবর বিজিবি বা স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্র সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেনি, কিম্বা কখনো স্বীকার করলেও বলেছে তা মিয়ানমার অংশে হয়েছে।

এদিকে মায়ানমার তাদের কাউয়ার বিল বিজিবি হেডকোয়ার্টার থেকে ওয়ালিদং বিজিপি ক্যাম্প, টাইগার পাস, ৪ নং সার্ব ক্যাম্প, বানডোলা ১সেক্টরের সার্ব ক্যাম্প, আমতলী, রাইবনিয়া, অংচা বেরে ক্যাম্পে ২০০ জন করে কমান্ডো (সেনা ) বাহিনী ও অতিরক্তি বিজিপি মোতায়েন করেছে । তারা মর্টার সেল ও অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছে । গতকাল ৪ জুন বিকাল ৪টায় ৪২ ও ৪৩ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় ও গুলাবর্ষণ হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায় । এছাড়া ৫০,৫১,৫২ সীমান্ত পিলারের বিপরীতে বিজিপি বাংকার খুঁড়েছে বলে জানা যায়। তবে বিজিবি সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে।

৪ জুন বুধবার দুপুর ২টায় ৪৫-৪৬ সীমান্ত পিলার এলাকা জামছড়ি ও পর্দানঝিরির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম । তিনি ওই এলাকা পরিদর্শনকালে বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক । সীমান্তে বিজিবি সর্তক অবস্থায় আছে । যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি প্রস্তুুত । এলাকার লোকজন ঘরে ফিরে গেছে এবং তিনি এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন এলাকাবাসীর পাশে আছেন বলে জানান ।

সকালে ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল সফিকুর রহমান পর্দানঝিরি ও জামছড়ি এলাকা পরিদর্শন করেন । তিনি স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানান । এদিকে ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি)’র আশারতলীর বিওপি’র ইনচার্জ মেজর আফজাল জানান,সীমান্তের টহল বাড়ানো হয়েছে । সীমান্তে বিজিবি এখন পূর্বের চেয়ে বেশি তৎপর । যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুুত । রুটিন ওয়ার্কের বাহিরে ও টহল জোরদার করা হয়েছে ।

  ’প্রসঙ্গত, গত ২৮ মে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দৌছড়ি সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল টিমকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে বিজিপি। সেই সময় নিখোঁজ হন নায়েক  মিজানুর রহমান। তাকে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী ধরে নিয়ে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনায় মায়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ মায়ো মিন্টথানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষীদের কাছে আটক বিজিবির নায়েক মিজানুর রহমানকে অতি দ্রুত ছেড়ে দেয়ারও দাবি জানানো হয়। এরপর শুক্রবার নিখোঁজ বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমানকে ফিরিয়ে দিতে বিজিবি ও মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় বৈঠক। এরপরই নাইক্ষ্যংছড়ির দোছাড়ি সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার বিকালে বিজিবি সদস্য নায়েক মিজানুর রহমানের মরদেহ মায়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী ৫২ সিমান্ত পিলার পাইনছড়ি এলাকা দিয়ে ফেরত দেয় । ফেরত দেয়নি নায়েক মিজানুর রহমানের সাথে লুট হওয়া ১টি এস.এমজি, ৪টি ম্যাগজিন ও ১২০ রাউন্ড গোলাবারুদ । ওইদিন মায়ানমার সীমান্ত রক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ৫জুন পতাকা বৈঠকে ওই অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেরত দেবে বলে জানায়।

 

লেমুছড়ি সীমান্তে বসবাসকারী মোঃ আব্দুলসহ বেশ কয়েকজন জানান, গতকাল বুধবার ৫টা ৩০ মিনিটের সময় লেমুছড়ির বাহিরমাঠ এলাকার ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমারের বিজিপি একটি মর্টার সেল নিক্ষেপ করেন। মর্টার সেলের বিকট শব্দে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার লোকজন ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এদিক-ওদিকে ছোটাছুটি শুরু করে। তারা আরো জানান, মর্টার সেল নিক্ষেপের পর ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা বাঙ্কারের অবস্থান নিয়ে কড়া প্রহরায় রয়েছে। তবে বিষয়টি বিজিবি অস্বীকার করেন। এছাড়াও বুধবার সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমার অংশে বিজিপি কয়েক দফায় গুলিবর্ষণ ও ৪টি মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত সাড়ে ৮টার পর থেকেই গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার পর পর ৫০,৪২ ও ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় মিয়ানমারের অংশে বিজিপি গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপ করে যাচ্ছে। সীমান্তে লোকজন আরো জানান, নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়নের পর্দানঝিরি, জামছড়ি, বাহির মাঠ, লেমুছড়ি, বান্ডুলিয়া সীমান্তে মিয়ানমার অংশে ব্যাপক গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ তারা শুনতে পায়। তারা জানান, বিজিপি কর্তৃক প্রায় ১০টিরও বেশি মর্টার সেন নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান। – See more at: http://www.dailyinqilab.com/2014/06/05/183847.php#sthash.9Pkb94uv.dpuf
লেমুছড়ি সীমান্তে বসবাসকারী মোঃ আব্দুলসহ বেশ কয়েকজন জানান, গতকাল বুধবার ৫টা ৩০ মিনিটের সময় লেমুছড়ির বাহিরমাঠ এলাকার ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমারের বিজিপি একটি মর্টার সেল নিক্ষেপ করেন। মর্টার সেলের বিকট শব্দে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার লোকজন ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এদিক-ওদিকে ছোটাছুটি শুরু করে। তারা আরো জানান, মর্টার সেল নিক্ষেপের পর ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা বাঙ্কারের অবস্থান নিয়ে কড়া প্রহরায় রয়েছে। তবে বিষয়টি বিজিবি অস্বীকার করেন। এছাড়াও বুধবার সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমার অংশে বিজিপি কয়েক দফায় গুলিবর্ষণ ও ৪টি মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত সাড়ে ৮টার পর থেকেই গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার পর পর ৫০,৪২ ও ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় মিয়ানমারের অংশে বিজিপি গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপ করে যাচ্ছে। সীমান্তে লোকজন আরো জানান, নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়নের পর্দানঝিরি, জামছড়ি, বাহির মাঠ, লেমুছড়ি, বান্ডুলিয়া সীমান্তে মিয়ানমার অংশে ব্যাপক গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ তারা শুনতে পায়। তারা জানান, বিজিপি কর্তৃক প্রায় ১০টিরও বেশি মর্টার সেন নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান। – See more at: http://www.dailyinqilab.com/2014/06/05/183847.php#sthash.9Pkb94uv.dpuf
গতকাল বুধবার ৫টা ৩০ মিনিটের সময় লেমুছড়ির বাহিরমাঠ এলাকার ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমারের বিজিপি একটি মর্টার সেল নিক্ষেপ করেন। মর্টার সেলের বিকট শব্দে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার লোকজন ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এদিক-ওদিকে ছোটাছুটি শুরু করে। তারা আরো জানান, মর্টার সেল নিক্ষেপের পর ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা বাঙ্কারের অবস্থান নিয়ে কড়া প্রহরায় রয়েছে। তবে বিষয়টি বিজিবি অস্বীকার করেন। এছাড়াও বুধবার সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমার অংশে বিজিপি কয়েক দফায় গুলিবর্ষণ ও ৪টি মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত সাড়ে ৮টার পর থেকেই গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার পর পর ৫০,৪২ ও ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় মিয়ানমারের অংশে বিজিপি গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপ করে যাচ্ছে। সীমান্তে লোকজন আরো জানান, নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়নের পর্দানঝিরি, জামছড়ি, বাহির মাঠ, লেমুছড়ি, বান্ডুলিয়া সীমান্তে মিয়ানমার অংশে ব্যাপক গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ তারা শুনতে পায়। তারা জানান, বিজিপি কর্তৃক প্রায় ১০টিরও বেশি মর্টার সেন নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান। মুহূর্তে মুহূর্তে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এলাকার জনগণ দিগি¦দিক হয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয় নেয়। ঘটনার পরপরই নাইক্ষংছড়ির জামছড়ির এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে। – See more at: http://www.dailyinqilab.com/2014/06/05/183847.php#sthash.9Pkb94uv.dpuf

সরে গেল মিয়ানমারের যুদ্ধ জাহাজ : তিনদিন পর পণ্যবাহী ট্রলার চলাচল শুরু

teknaf pic 3-6-14 (2)

টেকনাফ প্রতিনিধি:

বঙ্গোপসাগরে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পূর্বদিকে নিজেদের জলসীমায় মোতায়েন করা মিয়ানমারের যুদ্ধ জাহাজ গুলো সরে গেছে। সেন্টমার্টিনের আশেপাশের এলাকা থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশি জেলেরা এই তথ্য জানিয়েছেন।

 সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন জানান, গত শুক্রবার থেকে দ্বীপের পূর্বদিকে সে দেশের নৌবাহিনীর তিনটি যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করার খবর পেয়েছি। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে মিয়ানমারের যুদ্ধ জাহাজ গুলো দেখা যাচ্ছে না। তবে সোমবার সকাল থেকে সেন্টমার্টিনে বাংলাদেশের জলসীমায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৫টি যুদ্ধজাহাজ টহল দিতে দেখা গেছে। এ কারণে হয়তো মিয়ানমারের যুদ্ধ জাহাজ গুলো ফিরে গেছে।

সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ড স্টেশনের কমান্ডার লে. শহিদুল আল-আহসান জানান, সেন্টমার্টিনের পূর্বে মিয়ানমারের মংডু থানার হাসুরাতা ও কিলা দং এলাকায় সমুদ্রে মিয়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজ অবস্থান করছিল। সেগুলো সোমবার সকাল থেকে ওই এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। তাই টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক করা হয়েছে।

এদিকে টেকনাফ স্থল বন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা নুরে আলম জানান, রবিবার রাত নয়টা থেকে সোমবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে পণ্যবোঝাই ১৩টি  ট্রলার স্থলবন্দরে আসে। স্থলবন্দরের কাঠ ব্যবসায়ী মোঃ হাসেম বলেন, সকালে ৫০ টন কাঠবোঝাই তার একটি ট্রলার মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে আসে।

টেকনাফ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে উত্তেজনার পর সে দেশের সমুদ্র সীমানায় মিয়ানমারের যুদ্ধ জাহাজ টহলরত থাকায় গত দুইদিন মিয়ানমার থেকে পণ্যবাহী ট্রলার আসতে পারেনি। সীমান্তের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হয়ে আসায় রবিবার রাত নয়টা থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে পণ্যবাহী ট্রলার আসছে। সোমবার টেকনাফ থেকে চারটি ট্রলারে করে পণ্য সামগ্রী মিয়ানমারে রপ্তানি হয়েছে।

আরও খবর

পার্বত্য চট্টগ্রাম জাতীয় দৃষ্টির মধ্যে রাখতে হবে

নতুন রাষ্ট্র সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং কক্সবাজার নিয়ে

কি ঘটবে পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন সংশোধন প্রস্তাব কার্যকর হলে?

পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা-বাঙ্গালী প্রত্যাহার ও খ্রিস্টান অঞ্চল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন

মিয়ানমারের পার্বত্য চট্টগ্রাম দখল নেয়ার অঙ্গীকার

বার্মা টাইমস-এর খবর

 

10369134_626338567462006_4373980107619679697_n

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে সতর্ক বিজিবি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মর্টার শেলে মিয়ানমারের কমপক্ষে ৪ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তিনজন। ৩০ মে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির সময় বিজিবি ওই মর্টার ছোড়ে। ওদিকে, বাংলাদেশের মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বার্মিজ ইউনাইটেড আর্মড ইউনিট (বিইউএইউ)। তারা টেকনাফ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম দখল নিতে বদ্ধপরিকর। গোয়েন্দা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল এ খবর দিয়েছে অনলাইন বার্মা টাইমস।

এতে বলা হয়, ইয়াঙ্গনের এক মেজর বলেছেন, মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে পশ্চিম গেটে বাংলাদেশীদের গতিবিধি লক্ষ্য করছে সে দেশের সেনারা। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পেট্রল টিম (বিজিবিপিটি) সামনে অগ্রসর হলে তার কড়া জবাব দিতে প্রস্তুত বিইউএইউ। এতে আরও বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাদের তুলনায় বাংলাদেশে রয়েছে এক-চতুর্থাংশ সেনা সদস্য। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোন ব্যবস্থা নিলে মিয়ানমারের ‘তাতমাড’ (সেনারা) টেকনাফ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম দখল নিতে বদ্ধপরিকর। নেপিড’র সূত্রমতে, বার্মিজ ইউনাইটেড আর্মড ইউনিটে রয়েছে আধাসামরিক বাহিনী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড, নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা বিভাগ।

ইতিমধ্যে তারা বাংলাদেশী বিজিবির অগ্রগমন প্রতিরোধের জন্য মিয়ানমারের পশ্চিম গেট এলাকায় টহল দিচ্ছে। এ ঘটনায় পশ্চিমগেট (মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত) এলাকায় বসবাসকারী রোহিঙ্গারা ভয়াবহ এক পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। তাদের মিয়ানমারের বিইউএইউ-এর ভারি জিনিসপত্র বহন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা অধিবাসীরা আতঙ্কে রয়েছেন যে, তাদের ব্যাপক হারে গ্রেপ্তার করতে পারে বিইউএইউ। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, বেশ কিছু রোহিঙ্গাকে বিইউএইউ-এর জন্য নির্ধারিত পোশাক পরিয়ে পশ্চিমগেটে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বার্মিজ বর্ডার পুলিশ যে সব স্থানে তাদের তাঁবু পেতেছে ভয়ে সে সব স্থানের মানুষ পাহাড়ি জঙ্গল থেকে ফিরে আসছেন না। ওদিকে একই ওয়েবসাইট আরেক রিপোর্টে বলেছে, গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলেছে, বিজিবির মর্টারশেলের আঘাতে মিয়ানমারের কমপক্ষে ৪ সেনাসদস্য নিহত হয়েছে। সূত্র বলেছে, যখন বিজিবি নিহত নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের মৃতদেহ গত বুধবার আনার চেষ্টা করে তখন মিয়ানমারের বাহিনী তাদের ওপর প্রকাশ্যে তিন দিক থেকে গুলি করে বর্ডার পিলার ৫২ এলাকায়।

ওই সময় বিজিবি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আহমেদ আলী, আঞ্চলিক কমান্ডার (চট্টগ্রাম)। তার সঙ্গে ছিলেন বিজিবির অন্য সিনিয়র কর্মকর্তা। এর মধ্যে ছিলেন কর্নেল ফরিদ হাসান খন্দকার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল শফিকুর রহমান।

মিয়ানমারের আক্রমণের জবাবে বিজিবি পাল্টা হামলা চালায়। এতে পাঁচ ঘণ্টা লড়াই চলে। দু’পক্ষই ব্যবহার করে মর্টার, রকেট লঞ্চার ও ভারি মেশিন গান।

সূত্র: মানবজমিন

আরও খবর

নতুন রাষ্ট্র সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং কক্সবাজার নিয়ে

কি ঘটবে পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন সংশোধন প্রস্তাব কার্যকর হলে?

পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা-বাঙ্গালী প্রত্যাহার ও খ্রিস্টান অঞ্চল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন

সোমবার মিজানুরের লাশ বাড়ি যাবে

photo

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী পুলিশের গুলিতে নিহত বিজিবির নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের মরদেহ সোমবার তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। রোববার বেলা ১টায় বিজিবির নাইক্ষ্যংছড়ি সদর দপ্তরের মাঠে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল বিজিবির আঞ্চলিক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আহম্মেদ আলী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মিজানুর রহমানের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকার চেক দেয়া হবে। এছাড়াও বিজিবির নিয়মিত সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। তিনি জানান, সোমবার সকাল ৯টায় নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবির সদর দপ্তর মাঠে মিজানুরের নামাজের জানাজা হবে। পরে বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে কুমিল্লায় নিয়ে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

শনিবার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পিলার ৫২ নম্বর এলাকা থেকে নৌকা করে পাইনছড়ি খাল পাড়ি দিয়ে রাতে লেম্বুঝিড়ি ক্যাম্পে রাখা হয়। রবিবার সকালে আবারো পাইনছড়ি খাল পাড়ি দিয়ে পরে একটি মিনি ট্রাকে করে মিজানুর রহমানের মরদেহ নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে নেয়া হয়। সেখান থেকে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গের হিমাগারে রাখা হয়েছে।

বিজিবি কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল ফরিদ হাসান জানান, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুলতান আহমেদ সিরাজীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের চিকিৎসক দল মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। এর পর মৃতদেহটি হাসপাতাল মর্গের হিমাগারে রাখা হয়।

সোমবার সকালে মৃতদেহ নাইক্ষংছড়িতে বিজিবির ৩১ ব্যটলিয়ানের সদর দপ্তরে নেয়া হবে। ওখানে জানাজা শেষে হেলিকপ্টারে করে মিজানুর রহমানের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বারে নেওয়া হবে। মৃতদেহ বহনকারী হেলিকপ্টারটি অবতরনের জন্য তার বাড়ির পাশে খোলা মাঠে হেলিপ্যাড তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ছবি: মংডু হাসপাতালের ট্রলিতে ফেলে রাখা মিজানুরের লাশ।

ভবিষ্যতে মিয়ানমার এ ধরনের ঘটনা ঘটালে কঠোর প্রত্যুত্তর দেওয়া হবে- ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আহমেদ

মিজানুর রহমানের লাশ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে

naikoncori Bjb pic-1.6

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩১ ব্যাটালিয়নের রিজিওন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আহাম্মদ আলী মন্তব্য করেছেন, মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটাল তাদের কাছে এর জবাব চাওয়া হবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে মিয়ানমার এ ধরনের ঘটনার কঠোর প্রত্যুত্তর দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। রবিবার দুপুর বিজিবির ৩১ ব্যাটালিয়নের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মিয়ানমারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আহাম্মদ আলী বলেন, আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কোনো ক্ষতি না হবে। নিজেদের ক্ষতি করে আমরা বন্ধুত্ব পছন্দ করি না। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হলে কঠোর প্রত্যুত্তর দেয়া হবে মিয়ানমারকে।

তিনি বলেন, কেন তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটালো এ জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে। ৫ জুন দুই দেশের সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে তাদের কাছে এ বিষয়ে জবাব চাওয়া হবে। তিনি বলেন, এ ঘটনার পর তারা অনেক নাটক করেছে। অনেক প্রপাগান্ডা করেছে। কেন তারা এ রকম করলো তার জবাব চাইবো।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবির রিজিওন কমান্ডার বলেন, সীমান্তের নিরাপত্তায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। ইতিমধ্যে সীমান্তের চেকপোস্টগুলোতে শক্তি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমাদের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও প্রস্তুতি আছে। মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, শুক্রবার ও শনিবার আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল এর প্রত্যুত্তর (বিজিপি) তারা পেয়েছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আহাম্মদ বলেন, আপনারা ওদের (বিজিপি) সঙ্গে সে দেশের জনগণের সর্ম্পক বিবেচনা করুন, মানসিকতা পর্যালোচনা করুন, তাহলে জবাব পেয়ে যাবেন। আমি মনে করি এ ঘটনা তাদের মানসিকতার প্রতিফলন ও অভ্যন্তরীণ বিষয়। বিজিপি কাপুরুষোচিত কাজ করেছে বলেও মন্তব্য করে তিনি বলেন, যে দুর্গম এলাকায় ওরা (বিজিপি) আমাদের নিহত বিজিবি সদস্যের লাশ হস্তান্তর করেছে সেখান থেকে লাশটি ৩১ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আনতে ১২ ঘণ্টা সময় লেগেছে।

এ সময় নিহত বিজিবির নায়েক মো. মিজানুর রহমানের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিজিবির ৩১ ব্যাটালিয়ন কার্যালয় মাঠে নিহত মিজানুরের লাশ নিয়ে আসা হয়। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার সকাল ৯টার দিকে ফের নাইক্ষংছড়ি ৩১ ব্যাটালিয়ন মাঠে আনা হবে। সেখানে জানাজা শেষে হেলিকপ্টারে করে কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে মিজানের লাশ।

এদিকে এখনো বান্দারবান সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। সীমান্তে গোলাগুলি বন্ধ হলেও এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এর আগে শনিবার সকালে সীমান্তে গুলিবর্ষণ ও বিজিবি সদস্যের লাশ ফেরত না দেয়ায় ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিউ মিন্ট থানকে ফের তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। গত বৃহস্পতিবারও তাকে তলব করা হয়েছিল।

বিজিবির উপর মায়ানমারের সীমান্ত পুলিশ বাহিনীর গুলিবর্ষনের পর বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে উত্তেজনা ক্রমশই বাড়ছে। সীমান্তের তুমব্রু, ঘুনধুম, আশারতলি এলাকায় মায়ানমারের সেনাবাহিনী রণ সজ্জায় সজ্জিত হয়ে অবস্থান নিয়েছে। এতে সীমান্তে বসবাসকারী লোকজনদের মধ্যে আতংক উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইনফেন্টি বিভাগের একটি দল বিজিবিকে সহায়তা দিতে নাইক্ষংছড়িতে অবস্থান নিয়েছে। সীমান্তের একটি সূত্র জানায়, মিয়ানমার সীমান্তের তুমব্রু-ভেন্ডুলা (নাইক্ষ্যংছড়ির বিপরীতে),বলিবাজার থেকে মংডু শহর পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার সীমান্তে অস্ত্রশস্ত্র মজুদ করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সেখানে রোহিঙ্গা নাগরিকদের নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের  ১৮৮ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।

বিজিবি’র মর্টার গোলার আঘাতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ২ কর্মকর্তাসহ ৪ সেনাসদস্য নিহত: আহত ৩

08

মেহেদী হাসান পলাশ:

বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়িতে বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিজিবি ও মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিজিপি’র মধ্যে সংঘটিত গোলাগুলিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ২ কমকর্তাসহ ৪ জন নিহত এবং অপর ৩ জন আহত হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। গত ৩০ মে সংঘটিত গোলাগুলিতে বিজিবি’র ছোড়া মর্টার গোলার আঘাতে এ ঘটনা ঘটেছে।

 

সূত্র মতে, গত বুধবার মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিপি’র গুলিতে নিহত বিজিবি নায়েক সুবেদার মিজানুরের লাশ আনতে  ৩০ মে বিজিবি’র চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল আহমদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম মিয়ানমার সীমান্তে যায়। এই টিমে আরো ছিলেন বিজিবি’র কক্সবাজার সেক্টর কমাণ্ডার কর্নেল খন্দকার ফরিদ হাসান , নাইক্ষ্যংছড়ির ৩১ বিজিবি’র সিও লে. কর্নেল শফিকুর রহমানসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ। বিজিপি কর্তৃপক্ষ এসময় বাংলাদেশ টিমকে ৫২ পিলারের সন্নিকটে যাবার আহ্বান জানালে তারা লাশ গ্রহণের নিমিত্তে ৫২ পিলার এলাকায় গমন করে। এসময় মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী সকল আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করে বিজিবি’র উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের উপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করতে শুরু করলে আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও গুলি করতে বাধ্য হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধের মতো ব্যাপক গোলাগুলি চলতে থাকে। দুইপক্ষই মর্টার, রকেট লঞ্চার, মেশিনগানের মতো ভারী অস্ত্র ব্যবহার করতে শুরু করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি স্থানীয় সূত্র পার্বত্যনিউজকে নিশ্চিত করেছে, উভয়পক্ষের এই গোলাগুলির সময় বিজিবি’র ছোড়া একটি মর্টারের গোলা মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর অবস্থানের উপর গিয়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই দুই কর্মকর্তাসহ ৪ জন নিহত হয়। সূত্রটি আরো জানিয়েছে, পোস্টটি মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর হলে সেখানে অবস্থান নিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বাংলাদেশের দিকে গোলাবর্ষণ করছিল। ফলে নিহত ২ কর্মকর্তা ও ২ সদস্যের সকলেই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বলে জানা গেছে। এছাড়াও আহত অপর ৩জনও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্য বলে জানা গেছে। তবে নিহত কর্মকর্তাদের পদবী সম্পর্কে সূত্রটি নিশ্চিত করতে পারেনি। 

সূত্র আরো জানিয়েছে, আহত তিন সেনাসদস্যকে মংডু হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এসময় ঘটনাটি গোপন রাখতে মংডু হাসপাতালের নিরাপত্তা  ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়। তবে আহতদের শারিরীক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া গত রাতে তাদের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

তবে মিয়ানমারের কোন কর্তৃপক্ষ এ খবরের সত্যতা স্বীকার করেনি। কিন্তু বাংলাদেশের একটি শীর্ষ স্থানীয় গোযেন্দা সূত্র পার্বত্যনিউজকে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

 

আরও খবর

নতুন রাষ্ট্র সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং কক্সবাজার নিয়ে

 কি ঘটবে পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন সংশোধন প্রস্তাব কার্যকর হলে?

নাইক্ষ্যংছড়িতে নিহত বিজিবি সদস্যের লাশ ফেরত: নিখোঁজ ৪ জন ফিরে এসেছে: সতর্কাবস্থায় বিজিবি সেনাবাহিনী: সীমান্তের পরিস্থিতি এখনো থমথমে

ZZZ

নুরুল আলম সাঈদ, নাইক্ষ্যংছড়ি:

অবশেষে তিন দিন পর বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের দূর্গম পাইনছড়ির ৫২ সীমান্ত পিলার দিয়ে শনিবার বিকাল ৪ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে লেমুছড়ির পাইনছড়ি অস্থায়ী ক্যাম্পের নায়েক মিজানুর রহমানের মরদেহ হস্তান্তর করেছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) । এছাড়া গত শুক্রবার রাত ৮ টায় নিখোঁজ হওয়া ৪ বিজিবি সদস্য ফেরত এসেছে । চার বিজিবি সদস্য হলেন, বিজিবি ৩১ ব্যাটালিয়নের হাবিলদার মোতালেব, ল্যান্স নায়েক বাতেন, সিপাহী জাহাঙ্গীর ও আমিনুল।

 

এদিকে মিয়ানমারের ব্যাপক সমর সজ্জার বিপরীতে বাংলাদেশ  সীমান্তের ভিতর ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা বেষ্টিনী নতুন করে বিন্যাস করা হয়েছে । এছাড়া সীমান্তের ৩ কিলোমিটারের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে বাসিন্দারা সরে এসেছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে । সীমান্ত এলাকায় এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে । নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শফিকুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছে । তিনি শনাক্তকৃত লাশটি নিখোঁজ বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমানের বলে জানান ।

শনিবার বিকেলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের পাইনছড়ি ৫২ নম্বর পিলারে লাশ হস্তান্তর বিষয়ে বিজিবি ও মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) মধ্যে বৈঠক শেষে উক্ত বিজিবি সদস্য নায়েক মিজানের মরদেহ হস্তান্তর করা হয় । বেলা আড়াই দিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সাফায়াৎ মো. শাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘বিজিবি সূত্রে জেনেছি, মিজানুরের লাশ হস্তান্তরের কথামত পাইনছড়ি এলাকা থেকে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে ।

এদিকে ওই সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির জের ধরে বিজিবি অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন এবং সীমান্ত এলাকায় শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি টহল জোরদার করেছে। এছাড়া সীমান্তের বিভিন্ন দুরবর্তী এলাকায় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে । বাংলাদেশের পক্ষে ৫০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের উপ অধিনায়ক মেজর তারেক এর নেতৃত্বে এই মরদেহ গ্রহণ করে । এসময় উপস্থিত ছিলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের উপ -পরিচালক (এডি) মোশারফ হোসেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সাবের মিয়া, বিজিবির নায়েক সুবেদার জাহাঙ্গীরসহ ১৭ সদস্য বিশিষ্ট দল । মায়ানমারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, মায়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)’র ২ ব্যাটালিয়নের থিং খাংসহ ২০ সদস্যদল ।

এদিকে, বিজিবির নিখোঁজ নায়েক মিজানুর রহমানের লাশ ফেরত চেয়ে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিজিবির পক্ষ থেকে বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানো হয়। দীর্ঘ আলোচনা শেষে বিকাল চার টায় মিজানের লাশ ফেরত দেয় । প্রত্যক্ষদর্শী মায়ানমারের বাউন্ডোলা ১নং সেক্টরের সাব ক্যাম্প থেকে ওই মরদেহ নাইক্ষ্যংছড়ির মায়ানমার সীমান্তের তেছড়ি খাল দিয়ে নৌকা করে পাইনছড়ি ক্যাম্পে রাখে । এরপর দোভাষী দীন মোহাম্মদ, ,দৌছড়ি ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার মুজিবুর রহমান ও মৃত শহর আলীর পুত্র সাইফুল ঘটনাটি বিজিবির কর্মকর্তাদের জানায় । পরে বিজিবি কর্মকর্তাগণ সনাক্ত করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ওই মরদেহ গ্রহণ করে । এরপর সন্ধ্যা ৬ টায় ওই মরদেহ লেমুছড়ি বিওপি ক্যাম্পে নিয়ে যায় । নাইক্ষ্যংছড়ি থানার পুলিশ পরিদর্শক শাহিনুর রহমান শাহিন ওই লাশ বিজিবি থেকে গ্রহণ করে ওই স্থানে।

ii

 

অপরদিকে, শুক্রবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে ফের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ফলে বিজিবি সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। মায়ানমার ও তাদের কাউয়ার বিল বিজিবি হেডকোয়ার্টার থেকে ওয়ালিদং বিজিপি ক্যাম্প, টাইগার পোষ্ট ৪ নং সাব ক্যাম্প,বানডোলা ১ সেক্টরের সাব ক্যাম্প, আমতলী, রাইবনিয়া, অংচা বেরে ক্যাম্পে ২০০ জন করে সেনা কমান্ডো ও অতিরক্তি বিজিপি মোতায়েন করে । তারা মর্টারসেল ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছে ।

শনিবার সকাল ১১ টায় বিজিপি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ৩টি মর্টার সেল নিক্ষেপ করে । বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল লুৎফুর করিম বলেন, ভারি অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ বাড়ানোসহ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে বিজিবিও। সীমান্তের বাইশফাঁড়ি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্তরক্ষীর পোশাকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরাও দৌছড়ি, পাইনছড়ি, তুমরু সীমান্তে অবস্থান করছেন। এতে প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলো। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয় লাভে ইতিমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরে গিয়েছেন।

শনিবার সকাল ৯ টা থেকে লেমছড়ি ক্যাম্প ও পাইনছড়ি সীমান্ত এলাকায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহে দুল ইসলাম,বিজিবির কক্সবাজারের সেক্টর কমান্ডার খন্দকার ফরিদ হাসান, ৫০, ১৭ ও নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ৩১ বিজিবির অধিনায়ক লে.কর্ণেল সফিকুর রহমান বিগ্রেড কমান্ডারসহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন । নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহে দুল ইসলাম পাইন ছড়ি,বাহিরমাঠ ,কুলাচি,লেমুছড়ি,তুলাতলীসহ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের এই ঘটনার জন্য আতংকিত না হওয়ার জন্য আহবান জানান । তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই পরিস্থিতি সাবধানে মোকাবেলা করা হচ্ছে বলে জানান ।

উল্লেখ্য গত বুধবার সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি-মিয়ানমার সীমান্তের ৫২ নম্বর পিলারের কাছে ৩১ বিজিবির একটি টহল দলকে লক্ষ্য করে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা গুলিবর্ষণ করেন। পরে এ নিয়ে বিজিবির সঙ্গে তাদের গুলি বিনিময় হয়। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন বিজিবির নায়েক মিজানুর রহমান ।

 

নাইক্ষ্যংছড়িতে নিহত বিজিবি সদস্যের লাশ হস্তান্তর করলো মিয়ানমার

Chandina_324952850

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

নাইক্ষ্যংছড়িতে মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত বিজিবি’র নায়েক সুবেদার মিজানুরের লাশ হস্তান্তর করেছে বিজিপি। আজ বিকাল ৫.৪৫ মিনিটে সীমান্তের ৫২ নম্বর পিলারের কাছে এ লাশ হস্তান্তরের ঘটনা ঘটে। 

এর আগে বাংলাদেশের তরফ থেকে স্থানীয় ব্যাক্তি নিগোসিয়েশনের জন্য মিয়ানমার যায়। এদের দু’জন হলো মৌলভী রশিদ ও উলা মং মারমা। বাকি দুই জনের নাম জানা যায়নি। তারা ফিরে আসার পর বিজিবি’র মেজর তারেক ও এডি মোশাররফ ৫২ নম্বর পিলার এলাকায় গিয়ে লাশ সনাক্ত করে নিয়ে আসে। দোছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। 

সীমান্তের পরিস্থিতি এখনো থমথমে। দুই পক্ষই নিজ অবস্থানে সৈন্য সমাবেশ করে মুখোমুখি অবস্থান করছে। আজ বাংলাদেশ পক্ষ থেকে আরো বেশ কিছু সৈন্য নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মোতায়েন করা হয়। তাদেরকে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাাট থেকে এনে মোতায়েন করা হয়েছে।  

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলিতে আরো ৪ বিজিবি সদস্য নিখোঁজ (ভিডিওসহ)

মর্টার, রকেট লঞ্চারের মতো ভারী অস্ত্র ব্যবহার করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী: নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছে সীমান্তবাসী

মমম

মেহেদী হাসান পলাশ/ নুরুল আলম সাঈদ:

অপহৃত নায়েব সুবেদার মিজানের লাশ ফেরত নিতে আহ্বান জানিয়ে অপেক্ষমান বিজিবির কর্মকর্তা ও জওয়ানদের লক্ষ্য করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী,  কমান্ডো ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিবর্ষণ করে। এসময় বিজিবিও আত্মরক্ষার্থে গুলিবর্ষণ করে। ফলে উভয় পক্ষের পাল্টা গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনায় আরো চারজন বিজিবি সদস্য নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে নিখোঁজের ব্যাপারে বিজিবির কোন কর্মকর্তারা স্বীকার করেননি।

 

গতকাল ৩০ মে দুপুর ২.৩০ ঘটিকায় ৫২ পিলার এলাকায় কোন আলোচনা ছাড়াই এ ঘটনা ঘটে। এই খবর নিশ্চিত করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি। এদিকে গত বুধবার বিজিপির গুলিতে নিহত বিজিবি সদস্য নায়েক মিজানুর রহমানের মরদেহ মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ফেরত দেয়নি। উল্টো বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক গুলি ছুড়েছে মিয়ানমারের পুলিশ বাহিনী বিজিপি  ও তাদের সেনাবাহিনী  এবং স্পেশাল কমান্ডো বাহিনী। তবে এ ঘটনার পর থেকে সীমান্ত টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাইক্ষ্যংছড়ি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে: কর্নেল শফিকুর রহমান।

সীমান্তে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘঠনার কারনে পুরো সীমান্ত এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। মিয়ানমার পক্ষ থেকে মর্টারসেল, রকেট লঞ্চার প্রভৃতি ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে গোলা নিক্ষেপ করার পর ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের ৪জন বিজিবি সদস্য নিখোঁজ রয়েছে । এরা হলেন, হাবিলদার মোতালেব, ল্যান্স নায়েক বাতেন, সিপাহী আমিনূল এবং জাহাঙ্গীর। বিজিবি’র ৬০ জনের টহলদলের সাথে ৫৬ জন ফেরত আসলেও বাকী ৪জন ফেরত আসেনি ।

সীমান্তে রণসজ্জা

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ির দূর্গম পাহাড়ী জনপদ পাইনছড়ি ৫২নং পিলার এলাকায় বিজিবি নিয়মিত টহলদানকালে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ বিনা উস্কানিতে বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ৩ শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করার ঘটনায় মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে ব্যাপক সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়ে রণসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে বলে নিভর্রযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। মিয়ানমার মংডু শহরের বলি বাজার, ফকিরা বাজার, ওয়ালিদং, তুমরু ও ঢেকিবনিয়া সীমান্ত এলাকায় ১নং ও ২ নং সেনাবাহিনীর সেক্টরে তারা অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্ট এলাকায় অঘোষিত কারফিউ চলছে। এমনকি বিজিবি সদস্যরা এ মুহুর্তে ক্যাম্প ছেড়ে কোথাও যাচ্ছে না।

জানা গেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বিজিপি’র বাউন্ডুলা ক্যাম্প এলাকায় তাদের দেশের দুই শতিাধিক কমান্ডো বাহিনী মোতায়েন করেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, মিয়ানমান সেনাবাহিনীর অবস্থান পাহাড়ের উপর এবং বিজিবি’র অবস্থান পাহাড়ের নীচে হওয়ায় কৌশলগতভাবে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। সূত্রটি আরো জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের আশেপাশে বসবাসরত মিয়ানমারের জাতিগোষ্ঠীভূক্ত উপজাতি জনগোষ্ঠীর কারণে বিজিবি’র অবস্থান মিয়ানমারের সেনাসদস্যরা জেনে যাচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার সকালে মিয়ানমার নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু সীমান্তের ওপারে তিন শতাধিক সেনা সদস্য মোতায়েন করলে বাংলাদেশও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ঘন্টা দুয়েক পর তারা সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় একটি ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগ্রেড মোতায়েন করেছে।

বুধবারে পাইনছড়ি সীমান্ত এলাকায় বিজিপির গুলি বর্ষণে ওই ক্যাম্পের নায়েক মিজানুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে বলে সরকারী দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনী তার লাশ মংডু হাসপাতালে হস্তান্তর করেছে বলে জানা গেছে। তবে তারা স্থানীয় গণমাধ্যমে এ লাশের পরিচয় আরএসও সদস্য বলে প্রচার করছে।

বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) তার লাশ শুক্রবার সকালে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির হাতে হস্তান্তর করার কথা জানিয়ে পত্র পাঠালেও এ রিপোর্ট লেখাকালীন সময় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিজিবির কর্মকর্তার লাশ ফেরত দেয়নি মিয়ানমার। এ উদ্ভুট পরিস্থিতিতে উখিয়া-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী লোকজনের মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। যার ফলে উভয় সীমান্ত এলাকা জনমানব শূন্য হয়ে পড়েছে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদ্য স্থাপিত পাইনছড়ি বিওপি ক্যাম্প থেকে গত বুধবার একদল বিজিবি নিয়মিত টহলের উদ্দেশ্যে বের হয়ে দোছড়ি ও তেছড়ি খালের সংযোগস্থলে পৌছঁলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিয়ানমারের ওপার থেকে বিজিপি তাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা দিক-বেদিক ছুটাছুটি করে পালিয়ে গেলেও দায়িত্বরত নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়।

ঘটনাস্থল থেকে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ জাতিসংঘের কনভেনশন আইন অমান্য করে বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো পয়েন্ট এলাকায় অনুপ্রবেশ করে অস্ত্র ও গোলা বারুদসহ তাকে নিয়ে যায়। যে কারণে এখনো পর্যন্ত ওই বিজিবি কর্মকর্তা নিখোঁজ রয়েছে।  স্থানীয়রা জানান, যেহেতু ঘটনাস্থলে রক্তের আলামত দেখা গেছে তাই মনে করা হচ্ছে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

উল্লেখ্য যে, ১৯৯১ সালের শেষের দিকে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী তৎকালীন নাসাকা বাহিনী অর্তকিতভাবে ঘুমধুমের রেজু ফাত্রাঝিরি বিজিবি ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে এক বিজিবি সদস্যকে নিহত করে অস্ত্র ও গোলা বারুদ লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনাকে পুঁজি করে মিয়ানমার থেকে প্রায় আড়াই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ঘটে।

ধারণা করা হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের আবারো বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে মিয়ানমারের বিজিপি সদস্য সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বার বার গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটাচ্ছে। বর্তমানে ওই সময় চলে আসা বৈধ ও অবৈধ প্রায় ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অবস্থান করছে। এছাড়াও বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিনিয়ত সীমান্ত পেরিয়ে অহরহ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে আশ্রয় নিচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে সীমান্ত এলাকা সরজমিন ঘুরে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বাইশপারি ৪১ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায় মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের গুলি বর্ষনের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে আতংক বিরাজ করছে। ঘুমধুম বিজিবির সুবেদার সাহাব উদ্দিন জানান, সীমান্তের উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে লোকজন আতংকগ্রস্ত হয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছে না। যে কারণে সীমান্তের উভয়পাড়ে মানব শুন্য হয়ে পড়েছে। রেজু আমতলী ক্যাম্পের সুবেদার মোঃ সোহরাব হোসেন জানান, বিজিপির গুলি বর্ষনের ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি সদস্যদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কঠোর সর্তক রাখা হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল শুক্রবার পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিহত বিজিবির নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের লাশ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও বিকাল পর্যন্ত ফেরত দেয়নি। কক্সবাজার ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল খন্দকার সাইফুল আলম বলেন, বুধবারে পাইনছড়ি সীমান্ত এলাকায় গুলি বর্ষনের ঘটনার পর থেকে আমার নিয়ন্ত্রনাধীন ১৮ হতে ৪০ নং সীমান্ত পিলার পর্যন্ত সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং তাদেরকে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মিয়ানমার আগে থেকে সীমান্তে অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে। সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত দু’দেশের মধ্যে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে একটি বৈঠক আগামী ৩ জুন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ সাঈদুল ইসলামের নিকট বিজিবির উপর গুলি বর্ষনের ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুক্রবারও পাইনছড়ি সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার বিজিপি সদস্যরা আবারো দফায় দফায় গুলি বর্ষন অব্যাহত রেখেছে। যে কারণে বিজিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকায় যোগাযোগ করতে না পারায় বিস্তারতি জানানো সম্ভব হচ্ছে না। বিজিবি’র চট্টগ্রাম রিজিয়নের কমান্ডার ব্রি. জে. আহমদ হোসেন পার্বত্যনিউজকে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে টেলিফোনে কথা বলা সম্ভব হচ্ছে না। কক্সবাজার বিজিবির সেক্টর কমান্ডর খোন্দকার ফরিদ হাসানের মুঠোফোনে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

দৌছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ বলেন, পাইনছড়ি এলাকায় বিজিপি আবারো শুক্রবারে গুলিবর্ষণ করার ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় পূর্ব নির্ধারিত পতাকা বৈঠক হয়নি। ফলে লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়াও স্থগিত হয়ে যায়। উপরোন্ত সীমান্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নিহত নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের মরদেহ ফিরিয়ে আনতে দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের সঙ্কটকে দায়ী করেছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। লোক মারফত যোগাযোগের ফলে দু’দেশের ভুল বুঝাবুঝিতে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে বলে শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমকে বলেছেন। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনায় মায়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ মায়ো মিন্টথানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে কৈফিয়ত তলব করা হয়।