নাইক্ষ্যংছড়িতে আটক মিয়ানমারের বিজিপি সদস্যকে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি

DSC09540

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার আশারতলী সীমান্ত থেকে আটকের পর লাটুনা (২০) নামে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) সদস্যকে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই মিয়ানমারে ফেরত দিয়েছে বিজিবি।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮ টায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ৪৬-৪৭ নম্বর আর্ন্তজাতিক পিলার থেকে প্রায় দুই কি: মি: বাংলাদেশের অভ্যান্তরে আশারতলী বিদ্যালয় এলাকা থেকে সেই বিজিপি সদস্যকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কক্সবাজার সেক্টরে নেওয়ার হলে বুধবার সকালে ঘুমধুমে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, মিয়ানমারের সিকদারপাড়া ২নম্বর বিজিপি ব্যাটালিয়ানের সদস্য লাটুনা (২০) মঙ্গলবার সকালে সীমান্ত পিলার অতিক্রম করে বাংলাদেশের আশারতলী ভূ-খন্ডে চলে আসে। এ সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাকে আটক করে বিজিবি ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়। পরে সে নিজেকে মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার বাসিন্দা পরিচয় দেয় এবং মিয়ানমারের বিজিপির সদস্য হিসেবে কর্মরত রয়েছে বলে জানায়।

বহুল আলোচিত আরাকান আর্মি ‘নেতা’ ডা. রেনিন সোয়ের রহস্যময় জীবন

390781_242972929103146_1338977904_n

স্টাফ রিপোর্টার:

ডা. রেনিন সোয়ে তালুকদার। বাংলাদেশের মিডিয়ায় তিনি আরাকান আর্মির নেতা হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। কিন্তু আসলে কে এই রেনিন সোয়ে? কি তার আসল পরিচয়- এ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। তার পরিচয় বের করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও হতে হচ্ছে গলদঘর্ম। রাঙামাটি জেলার রাজস্থলীর প্রত্যন্ত এলাকায় সুরম্য অট্টালিকা, বাড়ির চারপাশে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাসহ বিশেষ ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, হাতে স্যাটেলাইট ফোন, দামী দামী গাড়ি, কখনো ডাক্তার, কখনো ব্যবসায়ী, কখনো খনিজ সম্পদ কোম্পানী কর্মকর্তা, কখনো এনজিও কর্মকর্তা নানা পেশাজীবী পরিচয় রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মন্ত্রী এমপি থেকে শুরু করে বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠী ও সমাজের নেতাদের সাথে তার একান্ত সমপর্ক রয়েছে। অনেকের কাছেই তিনি দানবীর।  বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের সাথে তার সম্পর্ক রয়েছে। তাদেরকে তিনি রাঙামাটিতে নিয়ে আসতেন। সম মিলিয়ে রাঙামাটির এক রহস্যময় পুরুষ তিনি। এই রহস্য ঘিরেই স্থানীয়দের মাঝে সৃষ্টি হয়েছিল আগ্রহ। সকলের সাথে এতোই অমায়িক ব্যবহার করতেন যে কারো মনে কখনো খারাপ কিছু আসেইনি।

তবে গত ২৭ আগস্ট বান্দরবানের থানচি উপজেলার বড় মোদকে বিজিবি’র উপর মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ আরাকান আর্মি আক্রমণ করলে সেনাবাহিনী এই ঘরটি ঘিরে ফেলে আটক করে রেনিন সোয়ে এক সহযোগীকে আটক করে। তার কাছ থেকে বাড়ির মালিক ডা. রেনিন সোয়ের নাম ও পরিচয় জানা গেলে রাতামাতি বিখ্যাত হয়ে ওঠেন তিনি। বহুল আলোচিত আরাকান আর্মির নেতা ডা. রেনিন সোয়ের রয়েছে এক বিশাল বর্ণাঢ্য ও রহস্যময়। পার্বত্যনিউজ অনুসন্ধান করে তার রহস্য ও বর্ণাঢ্যময় জীবনের কিছু তথ্য জানতে পেরেছে।

rennin soe

তার পুরো নাম ডা. রেনিন সোয়ে তালুকদার। জন্মসূত্রে রাখাইন ও বুদ্ধিস্ট। গণমাধ্যমে তাকে মিয়ানমারের নাগরিক হিসাবে উপস্থাপন করা হলেও তিনি নিজে বরাবরই সে সকল দাবী প্রত্যাখ্যান করে দাবী করেছেন তিনি মিয়ানমারের নয় বাংলাদেশের নাগরিক। প্রমাণ হিসাবে তিনি সামাজিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের জন্মসনদ উপস্থাপন করেন। জন্মসনদ ছাড়াও তার বাংলাদেশী পাসপোর্ট রয়েছে- যা ১৪ অক্টোবর আটক হওয়ার সময় জব্দ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার বাংলাদেশী পাসপোর্ট ও জন্মসনদের সত্যতা নিয়ে সন্দিহান।

জন্ম সনদ অনুয়ায়ী ১৯৬৯ সালের ৭ জানুয়ারী রাজস্থলীর কলেজ পাড়ায় তার জন্ম। তার পিতার নাম উ সান সোয়ে তালুকদার মিয়ানমারে মারা যান। মাতার নাম মা তুন সেইন তালুকদার। ১০-১২ বছর পূর্বে রাঙামাটির রাজস্থলীতে মারা যান। রেনিন সোয়ের শৈশবের কিছুকাল কাটে পটুয়াখালীর রাখাইন পল্লীতে। তবে তার পরিবার কিভাবে বা কেন পটুয়াখালীতে গিয়েছিলেন সে কারণ জানা যায়নি। ১৯৭০-৭১ সালের দিকে সোয়ের পরিবার পটুয়াখালী থেকে মিয়ানমারের স্যালুলে গমণ করেন। তার পূর্ব পুরুষেরা মিয়ানমারের নাগরিক। সেইসূত্রে সেখানে তাদের সম্পদ ও সম্পত্তিও ছিল। সোয়ে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে স্কুল পর্যায়ে পড়াশোনা করে ইয়াঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস পাস করেন। ১৯৯০ সালে অং  সাং সুকির দল এনডিপিকে বার্মিজ সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে সামরিক সরকার বিরোধী আন্দোলনের সাথে তিনি যোগদান করেন। এভাবেই  তিনি মিয়ানমারের গনতান্ত্রিক আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন।

রেনিন সোয়ে 1

ছাত্রাবস্থায় মায়ানমারের একাধিকবার তিনি রাজনৈতিক কারণে কারাবরণ করেন।  কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৯০ সালের দিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে রাঙামাটিতে বসবাস শুরু করেন ডা. রেনিন সোয়ে। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের পেট্রোবাংলার  ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার হিসেবে সিলেটে কর্মরত ছিলেন বলে তিনি দাবী করেছেন। জানা যায়, ১৯৯৭ সালে গ্যাসের খনির সন্ধানের কথা বলে তিনি রাজস্থলীতে আসেন।  ১৯৯৮ সালে তিনি রাঙামাটিতে অংসাই প্রু মারমার মেয়েকে বিয়ে করেন। তার স্ত্রীর নাম হাসি নু মারমা। তার দুইটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিবাহের পর থেকে তিনি রাজস্থলীতে আসতেন এবং লোকজনকে বলতেন, তিনি বিদেশের একজন চিকিৎসক। এভাবেই তিনি নানা পরিচয়ে আড়ালে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন রাঙামাটিতে অবস্থান করেন।

২০০৪ সালের দিকে রাজস্থলী তাইতং পাড়া কলেজ সংলগ্ন এলাকার পশ্চিম তাইতং পাড়া কার্বারি রেনেজু রাখাইন এর শালিকার জামাতা অনুমং মারমার নিকট থেকে ৫০ শতক জায়গা ক্রয় করে আনুমানিক তিন কোটি টাকা খরচ করে তিনতলা বিশিষ্ট বিলাসবহুল বাড়িটি নির্মাণ করেন। কিন্তু বর্তমান তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, জায়গাটি এখনো অনুমং মারমার নামেই রয়েছে। বাড়িটিতে ঢুকতে এবং গেস্টরুমে রয়েছে দুইটি অত্যাধুনিক আইপি সিস্টেম সিসি ক্যামেরা। গত কয়েকমাস আগে রাজস্থলী উপজেলার প্রায় ২০০ ভান্তে নিয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রবজ্জ্যা পালন করেন। যেটি একটি ব্যয়বহুল অনুষ্ঠান। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ২-৩ হাজার মানুষকে আপ্যায়ন করেন। অথচ উপজেলার অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি অনূষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন না। তিনি ২০০১ সালে বাংলাদেশ থেকে নেদারল্যান্ড গমন করেন। সেখানে নিউরো সার্জারি বিষয় পড়াশুনা করেন। এসময় তিনি নেদারল্যান্ডের নাগরিকত্ব লাভ করেন। ২০০৬ সালে তিনি স্ত্রী সন্তানদের নেদারল্যান্ড  নিয়ে যান। তার স্ত্রী নেদারল্যান্ডের একটি ব্যাংকে চাকরী করেন এবং সন্তানদের নিয়ে সেখানেই বসবাস করেন।

125624

আরাকান আর্মি নেতা হিসাবে তাকে বলা হলেও তিনি এ বাহিনীর কোনো নেতা নন। বরং ২০১৪ সালে রেনিন সোয়ে আরাকান আর্মির এডভাইজার নিযুক্ত হন। তার ইউরোপীয় কানেকশেনের জন্যই আরাকান আর্মি তাকে এ পদে নিয়োগ দেয়। বাংলাদেশে থাকলে বেশিরভাগ সময় তিনি ঢাকাতেই থাকতেন বলে তার দাবী। বাংলাদেশ বিজনেস সেন্টার বা বিবিসি নামে তার একটি ব্যবসা কোম্পানী রয়েছে। তবে এ বিষয়ে অধিক কিছু জানা যায়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন মন্ত্রী, এমপি. রাজা, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের প্রধানসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে তার দহরম মহরম ছিল। এ সম্পর্কের কিছু ছবি তিনি নিজেই তার ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কৌশলগত কোনো বিনিময় ও সহযোগিতা ছিল কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে রেনিন সোয়ে’র বাড়ি থেকে উদ্ধারকৃত ল্যাপটপ থেকে পাওয়া এক চিঠিতে দেখা গেছে, তিনি এম এন লারমা নামে পার্বত্য জন সংহতি সমিতির এক শীর্ষ নেতার কাছে নিজেকে আরাকান আর্মির নেতা পরিচয় দিয়ে লিখেছেন।

পডসস

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ২৪ জুলাই ২০১৫ তারিখে আরাকান আর্মির সদস্য আই থোয়াইকে শান্তি বাহিনীর সদস্য সাই থোয়াই আটক করে তার উপর নির্যাতন চালিয়েছে। তার উপর নির্যাতন না চালিয়ে তাকে ছেড়ে দিয়ে আরাকান আর্মির সাথে সহাবস্থান নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান করা হয়। অন্যথায় পিসিজেএসএসকে পরিণতি ভোগ করার হুমকিও দেয়া হয়েছে চিঠিতে। চিঠিটি এম এন লারমার কাছে পাঠানো হলেও এমএন লারমা অনেক আগেই মারা গেছে। তবে এমএন লারমা সাংকেতিক নাম দিয়ে পিসিজেএসএস’র কোনো শীর্ষ নেতার কাছে পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা। এতে প্রমাণিত হয় পিসিজেএসএসের কোনো কোনো নেতা রেনিন সোয়ের আরাকান আর্মির সম্পৃক্ততা জানতো।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট বান্দরবানের থানচির তিন্দু ও আন্দারমানিক এলাকায় আরাকান আর্মির জন্য ক্রয়কৃত দুই দফায় ১৩টি ঘোড়া আটক করে বিজিবি। এ ঘটনার জের ধরে ২৭ আগস্ট সকালে বড় মদকের দোলিয়ান পাড়া বিজিবি ক্যাম্পে মিয়ানমারের আরাকান আর্মি (এ, এ) সদস্যরা হামলা চালায়। এতে জাকির হোসেন ও আহম্মদ গনি আহত হন। বিজিবির সদস্যরাও পাল্টা গুলি এবং মর্টারশেল ছোঁড়েন। বিমান বাহিনীর ৫টি হেলিকপ্টার ও জঙ্গী বিমান এ হামলায় ব্যবহৃত হয়। পরে সেনাবাহিনী ও বিজিবির তীব্র প্রতিরোধের মুখে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে।

এ ঘটনার পর আলোচনায় আসেন ডা. রেনিন সোয়ে। জানা যায়, রেনিন সোয়ে আরাকান আর্মির জন্য এই ঘোড়াগুলো ক্রয় করে বান্দরবানে পাঠিয়েছিলেন। একই দিন অর্থাৎ ২৭ আগস্ট গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি দল রাজস্থলীর কলেজ পাড়া এলাকার স্থানীয় রেনিন সোয়ের বাসায় অভিযান চালায়। এসময় তাকে আটক করা না গেলেও মিয়ানমারের নাগরিক ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সহযোগী অং ইউ ইয়াং রাখাইনকে আটক করে সেনাবাহিনীর দলটি। বাড়ীতে তল্লাশী চালিয়ে তিনটি আরাকান আর্মির পোশাক, পোশাক তৈরির ৩০ গজ কাপড়, তিনটি ল্যাপটপ, মোডেম, দুইটি ডিজিটাল ক্যামেরা, একটি হেন্ডিক্যাম, দুইটি ঘোড়া, তিনটি মটরসাইকেল, মোবাইল ও পার্সপোট পাওয়া যায়।

ঐ দিন ডা রেনিন সোয়েসহ তার সহযোগি ও কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে রাজস্থলী থানায় সন্ত্রাস দমন আইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ঐ দুই মামলার পলাতক আসামী ছিলেন ডা. রেনিন সোয়ে।

rennin

জানা যায়, আটকের আগ মুহুর্তে রেনিন সোয়ে তার বাড়ি থেকে পালাতে সক্ষম হন। এর পর তিনি বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে বিবৃতি, ছবি, ডকুমেন্ট ও ভিডিওবার্তার মাধ্যমে তার কাজের সপক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করেন। ভাইবার ও স্কাইপি’র মাধ্যমে একাধিক বার্তা সংস্থার কাছে স্বাক্ষাৎকার দেন। তিনি পার্বত্যনিউজকেও একটি সাক্ষাৎকার দেন যা অনিবার্য কারণে প্রকাশ করা হয়নি।  একটি স্যাটেলাইট ফোন নম্বরের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে তিনি গণমাধ্যমকে নিজের অবস্থান সম্পর্কে জানান, তিনি চীনে অবস্থান করছেন। তার এই দাবী সংশ্লিষ্ট কেউই বিশ্বাস করেনি। তবে তিনি ঠিক কোথায় অবস্থান করছিলেন তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। কারো মতে, এই সময়ে তিনি ভারতের দিল্লীতে গিয়ে আবার ফিরে আসেন। আবার কারো মতে, বেনপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাবার চেষ্টা করেও তিনি সফল হননি।  চলমান রিমান্ডে তার সঠিক অবস্থান জানা যাবে। এভাবে দীর্ঘ দেড় মাস পলাতক থাকার পর মঙ্গলবার ভোর রাতে পুলিশ ও বিজিরি হাতে রাজস্থলীতে আটক হন তিনি।

১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার রাত প্রায় সাড়ে তিন টায় দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বর্ডার গাড বাংলাদেশ বিজিবির মেজর শাব্বির আহমেদ, মেজর কামাল পাশা ও রাজস্থলী থানার পুলিশসহ যৌথ অভিযান চালিয়ে ইসলামপুরের একটি নির্মানাধীন মসজিদ আত্মগোপন করে থাকা অভিযুক্ত মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মীর নেতা রেনিন সুয়ে মারমাকে আটক করা হয়েছে। এসময় তল্লাশী চালিয়ে তার কাছ থেকে ৫০টি ৫০০ টাকার নোটের ভারতীয় রুপি, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডের পার্সপোট, একটি ল্যাপটপ কম্পিউটার,  ২টি মোবাইল সেট, তিনটি ক্রেডিট কার্ড আর একটি ব্যাগে ব্যবহৃত পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। আটকের পর বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশ আরাকন আর্মির নেতা ডা. রেনিন সোয়েকে আদালতে হাজির করে তার বিরুদ্ধে ১০দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। তবে রাঙামাটি জজ আদালতের অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সাবরিনা আলী’র শুনানী শেষে ৫দিনে রিমান্ড আদেশ প্রদান করেন। বর্তমানে তিনি রিমান্ডাধীন।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত অস্থিরতার নেপথ্যে

images-ববব

সালিম অর্ণব

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সংঘাত ও সাম্প্রতিক উত্তেজনার মূল শিকড়টা খুঁজতে গেলে প্রথমে চোখ বুলাতে হয় ইতিহাসের পাতায়। স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উগ্রবাদী বৌদ্ধ আর স্থানীয় আদিবাসীদের মধ্যে ধর্মান্তরিত হওয়া মুসলিম গোষ্ঠীর সংঘাত চলতে থাকে যুগের পর যুগ।

অন্যদিকে সামরিক শাসনের কষাঘাতে জর্জরিত মিয়ানমারের মানুষ শান্তি বলতে সত্যিকার অর্থে কী বোঝায়, সেটা প্রত্যক্ষ করতে পারেনি দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে। একের পর এক সামরিক জান্তার দুর্বিষহ শোষণ আর গণনিপীড়নে অস্থির জনজীবনে আরেক বিভীষিকার নাম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। বিশ্বজুড়ে গণমানুষের মনে একটি ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে যে, বৌদ্ধমাত্রই শান্তিপ্রিয়, দাঙ্গা-ফ্যাসাদ থেকে দূরে থাকা মুণ্ডিত মস্তকের বিদ্বান ব্যক্তি; যা মিয়ানমারের মৌলবাদী বৌদ্ধদের সঙ্গে একটুও মেলানো যাবে না। বেসামরিক জনতার ওপর সামরিক সরকারের দলনের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মানুষের প্রাণ যেখানে ওষ্ঠাগত, সেখানে যুক্ত হয়েছে মাদকের কালো ছোবল। পক্ষান্তরে আনুষঙ্গিক নানা দুরবস্থায় মিয়ানমারের উগ্রবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সঙ্গে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সীমান্ত উত্তেজনার ওতপ্রোত সম্পর্ক রয়েছে।

বলতে গেলে বিগত এক দশকে মিয়ানমারের কোনো সংবাদপত্রের পাতায় এক দাঙ্গা-ফ্যাসাদ বাদে উল্লেখযোগ্য সংবাদ ছাপা হয়নি, যাতে মানুষ আশাবাদী হতে পারে। অং সাং সু চি নামমাত্র শান্তির বারতা নিয়ে মিডিয়া স্টান্ট হাজির করে নোবেল জিততে পেরেছেন ঠিকই। কিন্তু আমজনতার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরিয়ে দিতে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ— এটা এখন বলা যেতেই পারে।

সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবিরোধ, যার সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আর্থ-রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত রয়েছে। বলতে গেলে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের এ সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে অনেক নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায় নরেন্দ্র মোদির আগমন, দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে রুশ-মার্কিন-চৈনিক ভাবনার বিপ্রতীপে ভারতীয় বিদেশনীতি— সবই অবস্থাবিশেষে গুরুত্বের দাবি রাখে।

দৈনিক সংবাদপত্রগুলো থেকে জানা যায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ২৮ মে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে বিজিবির নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান নিহত হন। এ সময় দখল-সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলায় দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘসময় গুলি বিনিময় হয়। এ গুলি বিনিময়ে হতাহতের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। মিজানের মৃত্যুর পর সাময়িক বিরতি দিয়ে ৩ জুন ওই সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, আবার গোলাগুলির খবর শোনা যায় সংবাদ মাধ্যমগুলোয়। উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে ৫ জুন মিয়ানমারের মংডুতে বিজিবি ও বিজিপির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পতাকা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। এই বিশেষ বৈঠকে তারা সুবেদার মিজানের হত্যার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে। কিন্তু ঠিক তার পরদিনও সীমান্তে গুলিবর্ষণ অব্যাহত ছিল বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে।

হঠাৎ করে অভ্যন্তরীণ সংকটে জর্জরিত মিয়ানমারের অপেক্ষাকৃত দুর্বল সীমান্তরক্ষীদের বিজিবির ওপর চড়াও হওয়াটা কোনো আশার কথা বলে না। এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অনেক প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এ সীমান্তে হঠাৎ করে উত্তেজনা বাড়ল কেন? মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীইবা কোন দুঃসাহসে এবং কার ইন্ধনে কোনো হুঁশিয়ারি ছাড়া গুলি করে হত্যা করল বিজিবি সদস্যকে? অনেক বিশ্লেষক এটাকে নিছক দুর্ঘটনা কিংবা ভুল বোঝাবুঝির ফল হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইবেন, যেটা কোনো অংশেই ঠিক নয়; উপরন্তু এ-জাতীয় বিভ্রান্তিকর চিন্তা ওইসব বিশ্লেষকের রাজনৈতিক সচেতনতা, প্রজ্ঞা ও শিষ্টাচারকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে। একটু খেয়াল করলে সাধারণ্যেই স্পষ্ট হয়, এ গোলাগুলি কোনো ভুল বোঝাবুঝির ফল নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কারো উসকানির ফল। বিশেষ করে এই গুলি ছোড়া যদি ভুল বোঝাবুঝিই হবে, তাহলে দ্বিতীয়বার মিয়ানমারের বিজিপি বাংলাদেশী বিজিবির ওপর গুলি ছুড়ত না।

পররাষ্ট্রনীতির কিছু বিষয় ছাড়াও অর্থনৈতিক দিক থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা করাটা বাংলাদেশের জন্য খুব জরুরি। অন্যদিকে সে বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমারও বেশ ওয়াকিবহাল। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়েই বিমসটেকের সদস্য। পাশাপাশি বিসিআইএম নামক উপআঞ্চলিক জোটেও মিয়ানমার রয়েছে। এর থেকে ধরে নেয়াই যেতে পারে মিয়ানমারের পূর্ণ অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশ তার পূর্বমুখী নীতিতে সাফল্যের মুখ দেখবে না। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের চলমান সীমান্ত উত্তেজনা আর যা-ই হোক, দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বিশেষ টানাপড়েন সৃষ্টি করেছে; যা প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশেরই ক্ষতির কারণ। যেমন— কুনমিং-কক্সবাজার সড়কের ব্যাপারে বাংলাদেশের আগ্রহ থাকলেও সীমান্ত সংঘাতে সৃষ্ট শীতল সম্পর্ক মিয়ানমারের পক্ষে এ সড়কের অনুমতি প্রদানের অন্তরায় হিসেবে কাজ করবে। প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়কের মাধ্যমে কুনমিংয়ের সংযুক্তির কথা থাকলেও তা এখন ঝুলে পড়েছে।

মিয়ানমারের সাম্প্রতিক রাজনীতির পুরোটাই সেনাশাসকদের অধীনে পর্যুদস্ত। নোবেলজয়ী নেত্রী সু চি শুধু মুখে মুখে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বললেও পর্দার আড়ালে কাজ করে সেখানে একটি মৌলবাদী বৌদ্ধরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করেছেন। আর এজন্য সুকৌশলে কিংবা সরাসরি শক্তি প্রয়োগ করে আদিবাসী মুসলিমদের উত্খাত করাটা তাদের জন্য খুব জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে। জেনারেল নে উইনের আমলে আরাকানে জাতিগত আন্দোলন দমনের নামে ১৯৭৮ সালে যে নাগামিন ড্রাগন অপারেশন চালানো হয়েছিল, তার কালো থাবা আরো বেশি করে উসকে দেয় জাতিগত দাঙ্গাকে। তখনকার আরাকান ন্যাশনাল লিবারেশন পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে হত্যা করা হয় হাজার হাজার মুসলিম নারী-পুরুষ, শিশুকে। তাদের আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, নিপীড়ন ও ধর্ষণে বাধ্য হয়ে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আর মিয়ানমারের সামরিক শাসক থেকে শুরু করে গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী নেত্রী সু চি সবাই এটাকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন। তাদের মনে বদ্ধমূল ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয় যে, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যত বেশি অত্যাচার করা হবে, তারা প্রাণভয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে ছুটতে থাকবে, প্রকারান্তরে অনেক পরিষ্কার হয়ে যাবে মৌলবাদী বৌদ্ধরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ।

রোহিঙ্গাদের ক্রমাগত আগমন জনসংখ্যার ভারে বিধ্বস্ত বাংলাদেশের জন্য উটকো সমস্যা হয়ে দেখা দেয়। ধর্মীয় ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রথম প্রথম বাংলাদেশের কিছু মানুষ উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি দেখায়। কিন্তু ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে উপস্থিত হয়। বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কামনা করে এবং তার ফলও লাভ করে বেশ দ্রুত। ১৯৭৯ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি কিছু শরণার্থী রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফেরার পথ করে দেয়। এ সময় বাদ সাধে নাগরিকত্ব আইন। এর মাধ্যমে মিয়ানমার সরকার ১৯৮৩ সালের পর মিয়ানমারে আগত রোহিঙ্গাদের ভাসমান নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করে। বলতে গেলে এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের পক্ষে সম্পত্তি অর্জন, রাজনৈতিক অধিকার ও অবাধ চলাচল একরকম নিষিদ্ধই হয়ে যায়। পাশাপাশি এ আইনও করা হয় যে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অন্য প্রদেশে গিয়ে বাস করতে পারবে না। উচ্চশিক্ষার সুযোগ না থাকার পাশাপাশি দুই সন্তানের বেশি হলে পিতামাতার ওপর নির্যাতন চালায় সামরিক বাহিনী, অনেক ক্ষেত্রে শিশুসন্তানকে হত্যাও করে তারা। রোহিঙ্গাদের বিয়েতে পর্যন্ত আরোপ করা হয় বিশেষ নিয়ন্ত্রণ। ফলে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আবার দলে দলে পাড়ি জমাতে থাকে বাংলাদেশ সীমান্তে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা চাইছে না রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাক। উপরন্তু তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে। সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুটি মিয়ানমারেরই রাজনৈতিক সমস্যা, যার অংশ বাংলাদেশ নয়। কিন্তু তারা রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন, আরাকান রোহিঙ্গা ইসলামিক ফ্রন্ট, আরাকান ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন— এসব সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ সীমান্তে জোরপূর্বক পুশইন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা তত্পর থাকায় মিয়ানমারের মৌলবাদী বৌদ্ধ গোষ্ঠী ও সামরিক জান্তার কাজ অনেক কঠিন হয়ে গেছে। তাই বিশেষ গোষ্ঠীর নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থায়ী উত্তেজনা বজায় রাখার পথ সুগম করতেই বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালিয়েছে মিয়ানমারের লুন্থিন বাহিনী।

গত মার্চে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়ার পর থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বেশ ভালোই ছিল বলা যেতে পারে। বিশেষ করে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোয় তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন ও বিরোধীদলীয় নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠকও করেন। তখন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্ক বৃদ্ধি, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেয়া হয়। বলা বাহুল্য, তখন বাংলাদেশের সহযোগী হতে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছিল মিয়ানমার। তাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রচিন্তাবিদ সবার মনে এখন একটিই প্রশ্ন মাত্র দুটি মাসের ব্যবধানে এমন কী ঘটে গেছে, যা প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে রক্ত ঝরাচ্ছে? আমাদের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলতে চাইছেন নিছক ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটছে হত্যাকাণ্ড। তবে তার বাইরে আরো কিছু কারণ আছে, যেটা কোনো আশার কথা বলছে না।

বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত শান্ত আছে, এমনটি নয়। বিশেষত আদিবাসী রোহিঙ্গাদের জোর করে বাংলাদেশ পাঠানো, নাফ নদী থেকে বাংলাদেশী জেলেদের পাকড়াও করা, নাইক্ষ্যংছড়ির অরণ্যে কাঠুরিয়াদের নির্যাতন দুটি দেশের শীতল সম্পর্কের কথাই মনে করিয়ে দেয়। অন্যদিকে মাদকের ভয়াবহ ছোবলে বিধ্বস্ত মিয়ানমার গ্রাস করতে চাইছে বাংলাদেশকে। সম্প্রতি বাংলাদেশে আসা প্রাণঘাতী ইয়াবা ট্যাবলেটের মূল উৎস মিয়ানমার। মিয়ানমারের চোরাচালানিদের নিয়ে আসা ইয়াবা ও বিভিন্ন ধরনের ড্রাগস আটকে দিতে সদাতত্পর আমাদের সাহসী সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এগুলোর পাশাপাশি অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া পাঠানোর কাজে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারেও বাধা দেয় বিজিবি সদস্যরা। সম্প্রতি কোস্টগার্ডের সহায়তায় নৌকায় সাগর পাড়ি দেয়া বেশ কয়েকটি বহর আটকে দেয় তারা। বলতে গেলে নিছক দুর্ঘটনা তো নয়ই বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সীমান্তে ত্রাস সৃষ্টির জন্য বিজিবির মিজানুর রহমানকে গুলি করে হত্যা করে লুন্থিন বাহিনী। একে তাই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে গ্রহণ না করে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও উপযুক্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। মিয়ানমার বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশলগত দিক থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রক্ষার প্রয়োজনে অনর্থক সংঘাত ও উত্তেজনা কাম্য নয়।

নাইক্ষ্যংছড়িতে গুপ্তচর সন্দেহে ভারতীয় নাগরিক আটক

1402327323.

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

গুপ্তচর সন্দেহে বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয় ( বিজিবি) ।

গত ৮ জুন সন্ধ্যা ৭.০০ টায় সোমবার চাকঢালা সীমান্ত এলাকার আমতলা থেকে আটকের পর উক্ত ব্যাক্তিকে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সোপর্দ করা হয়। স্থানীয় চাকঢালা বিজিবি সদস্যরা গোপন সংবাদে ভিত্তিতে ওই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে ।

চাকঢালা বিওপির কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার আব্দু খালেক ওই ব্যক্তিকে আটকের পর বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় পাসপোর্ট আইনের অবৈধ নাগরিক অনুপ্রবেশ আইনে মামলা দায়ের করে । । মামলা নং ০৪(০৯/০৬/২০১৪ইং) ।

জানা গেছে, জগলু সিং (৫০) নামে এক ব্যাক্তি বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের চাকঢালা এলাকায় ঘুরাঘুরির সময় গোয়েন্দা সংস্থার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাকঢালা বিওপি টহলদল ঐ ব্যাক্তিকে আটক করে। সে নিজের নাম জগলু সিং প্রকাশ আরান্দা সিং ও তাঁর বাবার নাম মিটু সিং নাম উল্লেখ করলেও অন্য কোন তথ্য পাওয়া যায়নি । পুলিশের জিঞ্জাসাবাদে সে ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের নাগরিক বলে জানায়।

বিজিবি আটকের পর ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাবাদপূর্বক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান নাইক্ষ্যংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মো: রফিকুল ইসলাম ।

উল্লেখ যে,সম্প্রতি মায়ানমার সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ও বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি) সাথে সৃষ্ট সমস্যার পর মায়ানমার ও ভারত সীমান্ত এলাকায় গুপ্তচর নিয়োগ করে । গত সপ্তাহে নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা থেকে এক মায়ানমার গুপ্তচরক নাগরিককে বিজিবি আটক করে উখিয়া থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করে ।

বিজিবি-বিজিপি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত : অস্ত্র গোলাবারুদ ফেরত

 pic-9999

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

মিয়ানমারের মংডুতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) এর মধ্যে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ের সফল পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে নিহত বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমানের লুট হওয়া এসএমজি, চারটি ম্যাগজিন ও ১২০ রাউন্ড গোলাবারুদ ফেরত দিয়েছে বিজিপি। ৫জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় পতাকা বৈঠক শেষে টেকনাফ ফিরে এসে বিজিবি কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল খন্দকার ফরিদ হাসান এ কথা জানান।

 

 পার্বত্যনিউজের কক্সবাজার, টেকনাফ, নাইক্ষ্যংছড়ি ও রামু প্রতিনধিগণ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ৫টি এজেন্ডা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে কথা বলেন। এজেন্ডাগুলো হল- (১) ১৯৪৭ সালের জেনেভা কনভেনশন মোতাবেক সীমান্তের জিরো পয়েন্টে সেনা মোতায়েন নিষিদ্ধ থাকলেও মিয়ানমার কেন তা বারবার করে যাচ্ছে? (২) মিয়ানমার বাহিনী বিজিপি কেনই বা ২৮ মে বিনা কারণে ৫২ পিলারের অদূরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে টহল দেয়া বিজিবি সদস্যের ওপর গুলিবর্ষণ করে। যাতে নায়েক মিজান মারা যান (৩) ৩০ মে গুলিতে নিহত নায়েকের লাশ ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও তা না করে লাশ গ্রহণকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ। এমনকি মর্টার শেলের মতো অস্ত্রের ব্যবহার করা। (৪) চোরাচালান, ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য পাচার (৫) উভয় দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে কর্মকৌশল প্রণয়ন ।

বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্ণেল খন্দকার ফরিদ হাসান জানিয়েছেন, বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিরা সীমান্তে সেনা মোতায়েন, ২৮ মে বিনা কারনে ৫২ পিলারের অদূরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে টহল দেয়া বিজিবি সদস্যের উপর গুলি বষর্ণ করে নায়েক মিজান নিহত হওয়ার জোর প্রতিবাদ জানান। এসময় বিজিবি সদস্যের গুলি ও অস্ত্র ফেরত চাওয়া হয়। মিয়ানমার অস্ত্র এবং গুলি ফেরত দেয়। বাংলাদেশ পক্ষ এসময় নিহতের জন্য ক্ষতিপুরণ দেয়ার দাবী করলে মিয়ানমার তা যথাসম্ভব দেয়া হবে বলে জানিয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষ চোরাচালান, ইয়াবাসহ মাদক দ্রব্য পাচার রোধ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা করেছে। জানা গেছে, পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘাঁটি থাকার অভিযোগ তুলে বিজিপি। বিজিবি মিয়ানমারের অভিযোগ নাকচ করে দেয়। বাংলাদেশ পক্ষ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচার বন্ধ করার দাবি জানায়। তিনি জানান, বৈঠকে সাম্প্রতিক ঘটনাকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে আখ্যা দেয় বিজিপি। ভবিষ্যতে যেকোনো সন্ত্রাসবাদ দমনে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।

SAM_0083

বৈঠকে মিয়ানমার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তার দেশের সন্ত্রাসীদের তৎপরতার কথা তুলে ধরে তা দমনে যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবী করে। কিন্তু বাংলাদেশ পক্ষ এ দাবী অস্বীকার করে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য থাকলে তা সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে বলে, বাংলাদেশ মিয়ানমারের দেয়া তথ্য মোতাবেক নিজেই অভিযান পরিচালনা করে অভিযোগ যাচাই করে দেখবে। বাংলাদেশের মাটিতে অন্য কোনো দেশের সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর কোনো সুযোগ নেই বলেও বৈঠকে জানানো হয়েছে। এর সঙ্গে আগামী ১০-১৩ জুন বিজিবি ও বিজিপি’র মহাপরিচালক পর্যায়ে বৈঠকের কথাও রয়েছে।

 সীমান্তের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপে সকাল ১১ টার দিকে শুরু হয় । এ বৈঠকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিধায় সীমান্তের লোকজনসহ দেশের মানুষের দৃষ্টি সারা দিন মিয়ানমারের মন্ডুর দিকে ছিল।

 এর আগে বৈঠকে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টা দিকে বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্ণেল খন্দকার ফরিদ হাসানের নেতৃতে¦ ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের মংডুতে যান। সেখানে বেলা ১১ টা থেকে টানা ৪ টা পর্যন্ত চলে বৈঠক। ২৩ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল খন্দকার ফরিদ হাসান এবং মিয়ানমারের পক্ষে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মিয়ানমারের মংডুস্থ ইমিগ্রেশন হেডকোয়ার্টাসের পরিচালক কর্নেল থিং কু কু। এছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল সফিকুর রহমান, রামু ৫০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল তইয়ুমুর কায়কোবাদ, কক্সবাজার ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম, টেকনাফ ৪২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ প্রমুখ।

 এদিকে দুই দেশের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো থমথমে রয়েছে। মিয়ানমার সীমান্তের কোনো কোনো পয়েন্টে নতুন করে আরো সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। বিজিবিও সীমান্তে সকল প্রস্তুতিসহ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল টিমকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে মিয়ানমারের বিজিপি। সেই সময় নিখোঁজ হন নায়েক মিজানুর রহমান। তাকে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী ধরে নিয়ে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ মায়ো মিন্টথানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। সীমান্ত থেকে বিজিবির সদস্যকে আটক করায় কঠোর ভাষায় রাষ্ট্রদূতকে তিরস্কার করা হয়। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষীদের কাছে আটক বিজিবির নায়েক মিজানুর রহমানকে অতি দ্রুত ছেড়ে দেওয়ারও দাবি জানানো হয়। এরপর শুক্রবার নিখোঁজ বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমানকে ফিরিয়ে দিতে বিজিবি ও মিয়ানমারের বিজিপির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় বৈঠক। এরপরই নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার বিকেলে বিজিবি সদস্য নায়েক মিজানুর রহমানের মরদেহ মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী ৫২ সিমান্ত পিলার পানছড়ি এলাকা দিয়ে ফেরত দেয়। তবে ফেরত দেয়নি নায়েক মিজানুর রহমানের সঙ্গে লুট হওয়া ১টি এসএমজি, ৪টি ম্যাগজিন ও ১২০ রাউন্ড গোলাবারুদ। মিয়ানমারের বিজিপি আজকের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ওই অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেরত দেবে বলে জানিয়েছিল।

মংডুতে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে বাংলাদেশ-মায়ানমার পতfকা বৈঠক আজ

 1

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে আজ ৫ জুন বৃহস্পতিবার মায়ানমারের মংডু টাউনশীপে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে । সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে এ পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন কক্সবাজারের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল খন্দকার ফরিদ হাসান ।

 

 

ওই পতাকা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন,নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল সফিকুর রহমান, রামুর ৫০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল তাইয়ুমুর কায়কোবাদ, কক্সবাজারের ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম, টেকনাফ ৪২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল আবু জার আল যাহিরসহ পদস্থ কর্মকর্তারা ।

ওই বৈঠকে গত ২৮ মে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দৌছড়ি সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমান নিহত হওয়ার বিষয় এবং তার সাথে লুট হওয়া ১টি এস.এমজি, ৪টি ম্যাগজিন ও ১২০ রাউন্ড গোলাবারুদের বিষয় মায়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সাথে আলাপ হবে বিজিবি সূত্রে জানা যায়।

এদিকে গতকাল ৪ জুন সন্ধ্যা ৬.০০ ঘটিকায়ও নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তের অবস্থা অস্থিতিশীল ছিল । এদিন সীমান্ত এলাকার বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করেন বান্দরবানের ৬৯ পদাতিক বিগ্রেডের বিগ্রেড কর্মান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নকিব আহমদ ।

গত ৩ জুন রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে বিজিবি সদস্য নায়েক মিজানুর রহমানের লাশ দাফনের রেশ কাটঁতে না কাটঁেতই নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়নের পর্দানঝিরি ও জামছড়ির মিয়ানমার সীমান্ত থেকে গোলাবর্ষণ হয়। ওই সময় মুহু মুহু গোলাবর্ষণে এলাকার জনগণ দিগিবিদিক হয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয় নেয়। ঘটনার পর পরই নাইক্ষংছড়ির জামছড়ির এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে।

এদিকে লেমুছড়ি সীমান্তে বসবাসকারী মোঃ আব্দুলসহ বেশ কয়েকজন জানান, গতকাল বুধবার ৫টা ৩০ মিনিটের সময় লেমুছড়ির বাহিরমাঠ এলাকার ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমারের বিজিপি একটি মর্টার সেল নিক্ষেপ করেন। মর্টার সেলের বিকট শব্দে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার লোকজন ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এদিক-ওদিকে ছোটাছুটি শুরু করে। তারা আরো জানান, মর্টার সেল নিক্ষেপের পর ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা বাঙ্কারের অবস্থান নিয়ে কড়া প্রহরায় রয়েছে। তবে বিষয়টি বিজিবি অস্বীকার করেন। এছাড়াও বুধবার সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমার অংশে বিজিপি কয়েক দফায় গুলিবর্ষণ ও ৪টি মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত সাড়ে ৮টার পর থেকেই গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার পর পর ৫০,৪২ ও ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় মিয়ানমারের অংশে বিজিপি গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপ করে যাচ্ছে। সীমান্তে লোকজন আরো জানান, নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়নের পর্দানঝিরি, জামছড়ি, বাহির মাঠ, লেমুছড়ি, বান্ডুলিয়া সীমান্তে মিয়ানমার অংশে ব্যাপক গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ তারা শুনতে পায়। তারা জানান, বিজিপি কর্তৃক প্রায় ১০টিরও বেশি মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান। এদিকে বিজিপি কর্তৃক এই গোলাবর্ষণের খবর বিজিবি বা স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্র সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেনি, কিম্বা কখনো স্বীকার করলেও বলেছে তা মিয়ানমার অংশে হয়েছে।

এদিকে মায়ানমার তাদের কাউয়ার বিল বিজিবি হেডকোয়ার্টার থেকে ওয়ালিদং বিজিপি ক্যাম্প, টাইগার পাস, ৪ নং সার্ব ক্যাম্প, বানডোলা ১সেক্টরের সার্ব ক্যাম্প, আমতলী, রাইবনিয়া, অংচা বেরে ক্যাম্পে ২০০ জন করে কমান্ডো (সেনা ) বাহিনী ও অতিরক্তি বিজিপি মোতায়েন করেছে । তারা মর্টার সেল ও অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছে । গতকাল ৪ জুন বিকাল ৪টায় ৪২ ও ৪৩ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় ও গুলাবর্ষণ হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায় । এছাড়া ৫০,৫১,৫২ সীমান্ত পিলারের বিপরীতে বিজিপি বাংকার খুঁড়েছে বলে জানা যায়। তবে বিজিবি সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে।

৪ জুন বুধবার দুপুর ২টায় ৪৫-৪৬ সীমান্ত পিলার এলাকা জামছড়ি ও পর্দানঝিরির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম । তিনি ওই এলাকা পরিদর্শনকালে বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক । সীমান্তে বিজিবি সর্তক অবস্থায় আছে । যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি প্রস্তুুত । এলাকার লোকজন ঘরে ফিরে গেছে এবং তিনি এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন এলাকাবাসীর পাশে আছেন বলে জানান ।

সকালে ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল সফিকুর রহমান পর্দানঝিরি ও জামছড়ি এলাকা পরিদর্শন করেন । তিনি স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানান । এদিকে ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি)’র আশারতলীর বিওপি’র ইনচার্জ মেজর আফজাল জানান,সীমান্তের টহল বাড়ানো হয়েছে । সীমান্তে বিজিবি এখন পূর্বের চেয়ে বেশি তৎপর । যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুুত । রুটিন ওয়ার্কের বাহিরে ও টহল জোরদার করা হয়েছে ।

  ’প্রসঙ্গত, গত ২৮ মে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দৌছড়ি সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল টিমকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে বিজিপি। সেই সময় নিখোঁজ হন নায়েক  মিজানুর রহমান। তাকে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী ধরে নিয়ে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনায় মায়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ মায়ো মিন্টথানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষীদের কাছে আটক বিজিবির নায়েক মিজানুর রহমানকে অতি দ্রুত ছেড়ে দেয়ারও দাবি জানানো হয়। এরপর শুক্রবার নিখোঁজ বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমানকে ফিরিয়ে দিতে বিজিবি ও মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় বৈঠক। এরপরই নাইক্ষ্যংছড়ির দোছাড়ি সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার বিকালে বিজিবি সদস্য নায়েক মিজানুর রহমানের মরদেহ মায়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী ৫২ সিমান্ত পিলার পাইনছড়ি এলাকা দিয়ে ফেরত দেয় । ফেরত দেয়নি নায়েক মিজানুর রহমানের সাথে লুট হওয়া ১টি এস.এমজি, ৪টি ম্যাগজিন ও ১২০ রাউন্ড গোলাবারুদ । ওইদিন মায়ানমার সীমান্ত রক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ৫জুন পতাকা বৈঠকে ওই অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেরত দেবে বলে জানায়।

 

লেমুছড়ি সীমান্তে বসবাসকারী মোঃ আব্দুলসহ বেশ কয়েকজন জানান, গতকাল বুধবার ৫টা ৩০ মিনিটের সময় লেমুছড়ির বাহিরমাঠ এলাকার ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমারের বিজিপি একটি মর্টার সেল নিক্ষেপ করেন। মর্টার সেলের বিকট শব্দে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার লোকজন ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এদিক-ওদিকে ছোটাছুটি শুরু করে। তারা আরো জানান, মর্টার সেল নিক্ষেপের পর ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা বাঙ্কারের অবস্থান নিয়ে কড়া প্রহরায় রয়েছে। তবে বিষয়টি বিজিবি অস্বীকার করেন। এছাড়াও বুধবার সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমার অংশে বিজিপি কয়েক দফায় গুলিবর্ষণ ও ৪টি মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত সাড়ে ৮টার পর থেকেই গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার পর পর ৫০,৪২ ও ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় মিয়ানমারের অংশে বিজিপি গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপ করে যাচ্ছে। সীমান্তে লোকজন আরো জানান, নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়নের পর্দানঝিরি, জামছড়ি, বাহির মাঠ, লেমুছড়ি, বান্ডুলিয়া সীমান্তে মিয়ানমার অংশে ব্যাপক গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ তারা শুনতে পায়। তারা জানান, বিজিপি কর্তৃক প্রায় ১০টিরও বেশি মর্টার সেন নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান। – See more at: http://www.dailyinqilab.com/2014/06/05/183847.php#sthash.9Pkb94uv.dpuf
লেমুছড়ি সীমান্তে বসবাসকারী মোঃ আব্দুলসহ বেশ কয়েকজন জানান, গতকাল বুধবার ৫টা ৩০ মিনিটের সময় লেমুছড়ির বাহিরমাঠ এলাকার ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমারের বিজিপি একটি মর্টার সেল নিক্ষেপ করেন। মর্টার সেলের বিকট শব্দে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার লোকজন ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এদিক-ওদিকে ছোটাছুটি শুরু করে। তারা আরো জানান, মর্টার সেল নিক্ষেপের পর ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা বাঙ্কারের অবস্থান নিয়ে কড়া প্রহরায় রয়েছে। তবে বিষয়টি বিজিবি অস্বীকার করেন। এছাড়াও বুধবার সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমার অংশে বিজিপি কয়েক দফায় গুলিবর্ষণ ও ৪টি মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত সাড়ে ৮টার পর থেকেই গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার পর পর ৫০,৪২ ও ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় মিয়ানমারের অংশে বিজিপি গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপ করে যাচ্ছে। সীমান্তে লোকজন আরো জানান, নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়নের পর্দানঝিরি, জামছড়ি, বাহির মাঠ, লেমুছড়ি, বান্ডুলিয়া সীমান্তে মিয়ানমার অংশে ব্যাপক গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ তারা শুনতে পায়। তারা জানান, বিজিপি কর্তৃক প্রায় ১০টিরও বেশি মর্টার সেন নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান। – See more at: http://www.dailyinqilab.com/2014/06/05/183847.php#sthash.9Pkb94uv.dpuf
গতকাল বুধবার ৫টা ৩০ মিনিটের সময় লেমুছড়ির বাহিরমাঠ এলাকার ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমারের বিজিপি একটি মর্টার সেল নিক্ষেপ করেন। মর্টার সেলের বিকট শব্দে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার লোকজন ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এদিক-ওদিকে ছোটাছুটি শুরু করে। তারা আরো জানান, মর্টার সেল নিক্ষেপের পর ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা বাঙ্কারের অবস্থান নিয়ে কড়া প্রহরায় রয়েছে। তবে বিষয়টি বিজিবি অস্বীকার করেন। এছাড়াও বুধবার সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমার অংশে বিজিপি কয়েক দফায় গুলিবর্ষণ ও ৪টি মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত সাড়ে ৮টার পর থেকেই গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার পর পর ৫০,৪২ ও ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় মিয়ানমারের অংশে বিজিপি গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপ করে যাচ্ছে। সীমান্তে লোকজন আরো জানান, নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়নের পর্দানঝিরি, জামছড়ি, বাহির মাঠ, লেমুছড়ি, বান্ডুলিয়া সীমান্তে মিয়ানমার অংশে ব্যাপক গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ তারা শুনতে পায়। তারা জানান, বিজিপি কর্তৃক প্রায় ১০টিরও বেশি মর্টার সেন নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান। মুহূর্তে মুহূর্তে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এলাকার জনগণ দিগি¦দিক হয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয় নেয়। ঘটনার পরপরই নাইক্ষংছড়ির জামছড়ির এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে। – See more at: http://www.dailyinqilab.com/2014/06/05/183847.php#sthash.9Pkb94uv.dpuf

সরে গেল মিয়ানমারের যুদ্ধ জাহাজ : তিনদিন পর পণ্যবাহী ট্রলার চলাচল শুরু

teknaf pic 3-6-14 (2)

টেকনাফ প্রতিনিধি:

বঙ্গোপসাগরে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পূর্বদিকে নিজেদের জলসীমায় মোতায়েন করা মিয়ানমারের যুদ্ধ জাহাজ গুলো সরে গেছে। সেন্টমার্টিনের আশেপাশের এলাকা থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশি জেলেরা এই তথ্য জানিয়েছেন।

 সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন জানান, গত শুক্রবার থেকে দ্বীপের পূর্বদিকে সে দেশের নৌবাহিনীর তিনটি যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করার খবর পেয়েছি। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে মিয়ানমারের যুদ্ধ জাহাজ গুলো দেখা যাচ্ছে না। তবে সোমবার সকাল থেকে সেন্টমার্টিনে বাংলাদেশের জলসীমায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৫টি যুদ্ধজাহাজ টহল দিতে দেখা গেছে। এ কারণে হয়তো মিয়ানমারের যুদ্ধ জাহাজ গুলো ফিরে গেছে।

সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ড স্টেশনের কমান্ডার লে. শহিদুল আল-আহসান জানান, সেন্টমার্টিনের পূর্বে মিয়ানমারের মংডু থানার হাসুরাতা ও কিলা দং এলাকায় সমুদ্রে মিয়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজ অবস্থান করছিল। সেগুলো সোমবার সকাল থেকে ওই এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। তাই টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক করা হয়েছে।

এদিকে টেকনাফ স্থল বন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা নুরে আলম জানান, রবিবার রাত নয়টা থেকে সোমবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে পণ্যবোঝাই ১৩টি  ট্রলার স্থলবন্দরে আসে। স্থলবন্দরের কাঠ ব্যবসায়ী মোঃ হাসেম বলেন, সকালে ৫০ টন কাঠবোঝাই তার একটি ট্রলার মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে আসে।

টেকনাফ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে উত্তেজনার পর সে দেশের সমুদ্র সীমানায় মিয়ানমারের যুদ্ধ জাহাজ টহলরত থাকায় গত দুইদিন মিয়ানমার থেকে পণ্যবাহী ট্রলার আসতে পারেনি। সীমান্তের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হয়ে আসায় রবিবার রাত নয়টা থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে পণ্যবাহী ট্রলার আসছে। সোমবার টেকনাফ থেকে চারটি ট্রলারে করে পণ্য সামগ্রী মিয়ানমারে রপ্তানি হয়েছে।

আরও খবর

পার্বত্য চট্টগ্রাম জাতীয় দৃষ্টির মধ্যে রাখতে হবে

নতুন রাষ্ট্র সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং কক্সবাজার নিয়ে

কি ঘটবে পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন সংশোধন প্রস্তাব কার্যকর হলে?

পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা-বাঙ্গালী প্রত্যাহার ও খ্রিস্টান অঞ্চল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন

মিয়ানমারের পার্বত্য চট্টগ্রাম দখল নেয়ার অঙ্গীকার

বার্মা টাইমস-এর খবর

 

10369134_626338567462006_4373980107619679697_n

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে সতর্ক বিজিবি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মর্টার শেলে মিয়ানমারের কমপক্ষে ৪ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তিনজন। ৩০ মে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির সময় বিজিবি ওই মর্টার ছোড়ে। ওদিকে, বাংলাদেশের মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বার্মিজ ইউনাইটেড আর্মড ইউনিট (বিইউএইউ)। তারা টেকনাফ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম দখল নিতে বদ্ধপরিকর। গোয়েন্দা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল এ খবর দিয়েছে অনলাইন বার্মা টাইমস।

এতে বলা হয়, ইয়াঙ্গনের এক মেজর বলেছেন, মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে পশ্চিম গেটে বাংলাদেশীদের গতিবিধি লক্ষ্য করছে সে দেশের সেনারা। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পেট্রল টিম (বিজিবিপিটি) সামনে অগ্রসর হলে তার কড়া জবাব দিতে প্রস্তুত বিইউএইউ। এতে আরও বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাদের তুলনায় বাংলাদেশে রয়েছে এক-চতুর্থাংশ সেনা সদস্য। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোন ব্যবস্থা নিলে মিয়ানমারের ‘তাতমাড’ (সেনারা) টেকনাফ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম দখল নিতে বদ্ধপরিকর। নেপিড’র সূত্রমতে, বার্মিজ ইউনাইটেড আর্মড ইউনিটে রয়েছে আধাসামরিক বাহিনী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড, নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা বিভাগ।

ইতিমধ্যে তারা বাংলাদেশী বিজিবির অগ্রগমন প্রতিরোধের জন্য মিয়ানমারের পশ্চিম গেট এলাকায় টহল দিচ্ছে। এ ঘটনায় পশ্চিমগেট (মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত) এলাকায় বসবাসকারী রোহিঙ্গারা ভয়াবহ এক পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। তাদের মিয়ানমারের বিইউএইউ-এর ভারি জিনিসপত্র বহন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা অধিবাসীরা আতঙ্কে রয়েছেন যে, তাদের ব্যাপক হারে গ্রেপ্তার করতে পারে বিইউএইউ। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, বেশ কিছু রোহিঙ্গাকে বিইউএইউ-এর জন্য নির্ধারিত পোশাক পরিয়ে পশ্চিমগেটে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বার্মিজ বর্ডার পুলিশ যে সব স্থানে তাদের তাঁবু পেতেছে ভয়ে সে সব স্থানের মানুষ পাহাড়ি জঙ্গল থেকে ফিরে আসছেন না। ওদিকে একই ওয়েবসাইট আরেক রিপোর্টে বলেছে, গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলেছে, বিজিবির মর্টারশেলের আঘাতে মিয়ানমারের কমপক্ষে ৪ সেনাসদস্য নিহত হয়েছে। সূত্র বলেছে, যখন বিজিবি নিহত নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের মৃতদেহ গত বুধবার আনার চেষ্টা করে তখন মিয়ানমারের বাহিনী তাদের ওপর প্রকাশ্যে তিন দিক থেকে গুলি করে বর্ডার পিলার ৫২ এলাকায়।

ওই সময় বিজিবি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আহমেদ আলী, আঞ্চলিক কমান্ডার (চট্টগ্রাম)। তার সঙ্গে ছিলেন বিজিবির অন্য সিনিয়র কর্মকর্তা। এর মধ্যে ছিলেন কর্নেল ফরিদ হাসান খন্দকার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল শফিকুর রহমান।

মিয়ানমারের আক্রমণের জবাবে বিজিবি পাল্টা হামলা চালায়। এতে পাঁচ ঘণ্টা লড়াই চলে। দু’পক্ষই ব্যবহার করে মর্টার, রকেট লঞ্চার ও ভারি মেশিন গান।

সূত্র: মানবজমিন

আরও খবর

নতুন রাষ্ট্র সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং কক্সবাজার নিয়ে

কি ঘটবে পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন সংশোধন প্রস্তাব কার্যকর হলে?

পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা-বাঙ্গালী প্রত্যাহার ও খ্রিস্টান অঞ্চল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন

সোমবার মিজানুরের লাশ বাড়ি যাবে

photo

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী পুলিশের গুলিতে নিহত বিজিবির নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের মরদেহ সোমবার তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। রোববার বেলা ১টায় বিজিবির নাইক্ষ্যংছড়ি সদর দপ্তরের মাঠে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল বিজিবির আঞ্চলিক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আহম্মেদ আলী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মিজানুর রহমানের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকার চেক দেয়া হবে। এছাড়াও বিজিবির নিয়মিত সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। তিনি জানান, সোমবার সকাল ৯টায় নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবির সদর দপ্তর মাঠে মিজানুরের নামাজের জানাজা হবে। পরে বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে কুমিল্লায় নিয়ে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

শনিবার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পিলার ৫২ নম্বর এলাকা থেকে নৌকা করে পাইনছড়ি খাল পাড়ি দিয়ে রাতে লেম্বুঝিড়ি ক্যাম্পে রাখা হয়। রবিবার সকালে আবারো পাইনছড়ি খাল পাড়ি দিয়ে পরে একটি মিনি ট্রাকে করে মিজানুর রহমানের মরদেহ নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে নেয়া হয়। সেখান থেকে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গের হিমাগারে রাখা হয়েছে।

বিজিবি কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল ফরিদ হাসান জানান, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুলতান আহমেদ সিরাজীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের চিকিৎসক দল মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। এর পর মৃতদেহটি হাসপাতাল মর্গের হিমাগারে রাখা হয়।

সোমবার সকালে মৃতদেহ নাইক্ষংছড়িতে বিজিবির ৩১ ব্যটলিয়ানের সদর দপ্তরে নেয়া হবে। ওখানে জানাজা শেষে হেলিকপ্টারে করে মিজানুর রহমানের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বারে নেওয়া হবে। মৃতদেহ বহনকারী হেলিকপ্টারটি অবতরনের জন্য তার বাড়ির পাশে খোলা মাঠে হেলিপ্যাড তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ছবি: মংডু হাসপাতালের ট্রলিতে ফেলে রাখা মিজানুরের লাশ।

ভবিষ্যতে মিয়ানমার এ ধরনের ঘটনা ঘটালে কঠোর প্রত্যুত্তর দেওয়া হবে- ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আহমেদ

মিজানুর রহমানের লাশ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে

naikoncori Bjb pic-1.6

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩১ ব্যাটালিয়নের রিজিওন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আহাম্মদ আলী মন্তব্য করেছেন, মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটাল তাদের কাছে এর জবাব চাওয়া হবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে মিয়ানমার এ ধরনের ঘটনার কঠোর প্রত্যুত্তর দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। রবিবার দুপুর বিজিবির ৩১ ব্যাটালিয়নের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মিয়ানমারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আহাম্মদ আলী বলেন, আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কোনো ক্ষতি না হবে। নিজেদের ক্ষতি করে আমরা বন্ধুত্ব পছন্দ করি না। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হলে কঠোর প্রত্যুত্তর দেয়া হবে মিয়ানমারকে।

তিনি বলেন, কেন তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটালো এ জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে। ৫ জুন দুই দেশের সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে তাদের কাছে এ বিষয়ে জবাব চাওয়া হবে। তিনি বলেন, এ ঘটনার পর তারা অনেক নাটক করেছে। অনেক প্রপাগান্ডা করেছে। কেন তারা এ রকম করলো তার জবাব চাইবো।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবির রিজিওন কমান্ডার বলেন, সীমান্তের নিরাপত্তায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। ইতিমধ্যে সীমান্তের চেকপোস্টগুলোতে শক্তি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমাদের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও প্রস্তুতি আছে। মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, শুক্রবার ও শনিবার আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল এর প্রত্যুত্তর (বিজিপি) তারা পেয়েছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আহাম্মদ বলেন, আপনারা ওদের (বিজিপি) সঙ্গে সে দেশের জনগণের সর্ম্পক বিবেচনা করুন, মানসিকতা পর্যালোচনা করুন, তাহলে জবাব পেয়ে যাবেন। আমি মনে করি এ ঘটনা তাদের মানসিকতার প্রতিফলন ও অভ্যন্তরীণ বিষয়। বিজিপি কাপুরুষোচিত কাজ করেছে বলেও মন্তব্য করে তিনি বলেন, যে দুর্গম এলাকায় ওরা (বিজিপি) আমাদের নিহত বিজিবি সদস্যের লাশ হস্তান্তর করেছে সেখান থেকে লাশটি ৩১ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আনতে ১২ ঘণ্টা সময় লেগেছে।

এ সময় নিহত বিজিবির নায়েক মো. মিজানুর রহমানের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিজিবির ৩১ ব্যাটালিয়ন কার্যালয় মাঠে নিহত মিজানুরের লাশ নিয়ে আসা হয়। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার সকাল ৯টার দিকে ফের নাইক্ষংছড়ি ৩১ ব্যাটালিয়ন মাঠে আনা হবে। সেখানে জানাজা শেষে হেলিকপ্টারে করে কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে মিজানের লাশ।

এদিকে এখনো বান্দারবান সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। সীমান্তে গোলাগুলি বন্ধ হলেও এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এর আগে শনিবার সকালে সীমান্তে গুলিবর্ষণ ও বিজিবি সদস্যের লাশ ফেরত না দেয়ায় ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিউ মিন্ট থানকে ফের তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। গত বৃহস্পতিবারও তাকে তলব করা হয়েছিল।

বিজিবির উপর মায়ানমারের সীমান্ত পুলিশ বাহিনীর গুলিবর্ষনের পর বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে উত্তেজনা ক্রমশই বাড়ছে। সীমান্তের তুমব্রু, ঘুনধুম, আশারতলি এলাকায় মায়ানমারের সেনাবাহিনী রণ সজ্জায় সজ্জিত হয়ে অবস্থান নিয়েছে। এতে সীমান্তে বসবাসকারী লোকজনদের মধ্যে আতংক উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইনফেন্টি বিভাগের একটি দল বিজিবিকে সহায়তা দিতে নাইক্ষংছড়িতে অবস্থান নিয়েছে। সীমান্তের একটি সূত্র জানায়, মিয়ানমার সীমান্তের তুমব্রু-ভেন্ডুলা (নাইক্ষ্যংছড়ির বিপরীতে),বলিবাজার থেকে মংডু শহর পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার সীমান্তে অস্ত্রশস্ত্র মজুদ করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সেখানে রোহিঙ্গা নাগরিকদের নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের  ১৮৮ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।