বিতর্কিত ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন বাতিলের দাবীতে ৪৮ ঘণ্টা হরতাল ডেকেছে বাঙালী সংগঠনগুলো

হরতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিতর্কিত ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন-২০০১ সংশোধনী- ২০১৬ অবিলম্বে বাতিল এবং বান্দরবানের বাঙালী নেতা আতিকুর রহমানের মুক্তির দাবীতে ৪৮ ঘণ্টা হরতাল ডেকেছে ৫ বাঙালী সংগঠন। ১৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা এবং ১৬ অক্টোবর রবিবার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত মোট ৪৮ ঘন্টা হরতাল হরতাল ডেকেছে সংগঠন ৫ টি।

রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে-

‘পার্বত্য জনগণের আন্দোলনকে উপেক্ষা করে সরকার পার্বত্য চট্রগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন- ২০০১ ও তার সংশোধনী আইন-২০১৬ তড়িঘড়ি করে জাতীয় সংসদে পাস করার প্রতিবাদে এবং বান্দরবানের বাঙ্গালী নেতা আতিকুর রহমানের মুক্তির দাবিতে আগামী ১৩ অক্টোবর ও ১৬ অক্টোবর হরতাল ডেকেছে পাঁচ বাঙ্গালী সংগঠন ।

৯ অক্টোবর সকাল ১০টায় সংগঠনগুলোর ঢাকার অস্থায়ী কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয় । এতে সভাপতিত্ব করেন পাঁচ বাঙ্গালী সংগঠনের আহবায়ক, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ্ব আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া ।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য সমধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কামাল, পার্বত্য গণ পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, পার্বত্য গণ পরিষদের মহাসচিব এডভোকেট মোহাম্মদ আলম খান, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহম্মেদ রাজু, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাব্বির আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার জাহান খান,পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফছার হোসেন রনি, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মুন্না তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম খান।

সরকার গত ৬ অক্টোবর জাতীয় সংসদে পার্বত্য চট্রগ্রাম ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন-২০১৬ পাস করায় পাঁচ বাঙ্গালী সংগঠন নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, এই বিতর্কিত আইন পার্বত্য চট্রগ্রামে বাঙ্গালী এবং উপজাতীদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ইতোমধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের সমুহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে । তাই এই বিতর্কিত আইন শীঘ্রই বাতিল এবং বান্দরবানের পাঁচ সংগঠনের শীর্ষ নেতা, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সভাপতি আতিকুর রহমান মুক্তির দাবিতে তারা নিন্মোক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করে:

ক) ৯ অক্টোবর থেকে তিন পার্বত্য জেলায় বিক্ষোভ মিছিল, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ এবং সর্বত্র কালো পতাকা উত্তোলন।
খ) ১৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা এবং ১৬ অক্টোবর রবিবার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত মোট ৪৮ ঘন্টা হরতাল’ ।

বিচারপতি আনোয়ার উল হক পার্বত্য ভূমি কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান: রোববার খাগড়াছড়ি আসছেন

ima

পার্বত্যনিউজ প্রতিবেদক :

সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হক’কে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি নিস্পত্তি কমিশন‘র (ল্যান্ড কমিশন) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

তিনি ভূমি নিস্পত্তি কমিশন‘র ৬ষ্ট চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী‘র স্থলাভিষিক্ত হবেন।ভূমি মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব মুর্শিদা শারমিন স্বাক্ষরিত এক স্মারক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এদিকে দায়িত্বভার গ্রহনের পরপরই সদ্য নিযুক্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি নিস্পত্তি কমিশন‘র (ল্যান্ড কমিশন) চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হক আগামী রোববার তিন দিনের সফরে খাগড়াছড়ি আসছেন। তিনদিনের সফর শেষে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার উদ্দেশ্যে খাগড়াছড়ি ত্যাগ করবেন।

জানা গেছে, কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির আলোকে পার্বত্য চট্রগ্রামের দীর্ঘ দিনের ভুমি সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন।

তারও আগে ২০০৯ সালের ১৯ জুলাই পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি নিস্পত্তি কমিশন‘র (ল্যান্ড কমিশন) ৫ম চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রীম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো: খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি ২০১২ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, ‘সফরকালে কমিশনের অন্য সদস্য, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে স্বাক্ষাৎ করবেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি নিস্পত্তি কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালের ৩ জুন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ারুল হক চেীধুরীকে কমিশনের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু তিনি কার্যভার গ্রহনের আগে মৃত্যু বরণ করেন। অত:পর ২০০০ সালের ৫ এপ্রিল নিয়োগ দেয়া হয় বিচারপতি আব্দুল করিম-কে। তিনি ১২ জুন ২০০০ সালে দায়িত্বভার গ্রহন করে একবার খাগড়াছড়ি সফরে আসেন। তারপর তিনি শারিরীক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর প্রায় দেড় বছর চেয়ারম্যান পদ শূণ্য থাকার পর ২০০১ সালের ২৯ নভেম্বর চার দলীয় জোট সরকার বিচারপতি মাহমুদুর রহমানকে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে। টানা দুইবার দায়িত্ব থাকা অবস্থায় তিনিও ২০০৭ সালে নভেম্বর মাসে মারা যান। এরপর তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আর কোন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়নি।

আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর ২০০৯ সালের ১৯ জুলাই বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চেীধুরীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি নিস্পত্তি কমিশন’র চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে। তিনি ২০১২ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত তিনি দ্বায়িত্ব পালন করেন। এরপর প্রায় দুই বছর পরে বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়াউল হক’কে কমিশনের ৬ষ্ঠ চেয়ারম্যানের দ্বায়িত্ব দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির “ঘ” এর ৪ ধারা মোতাবেক জায়গা-জমি বিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে প্রধান করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি নিস্পত্তি কমিশন (ল্যান্ড কমিশন) গঠনের বিধান রয়েছে। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন সার্কেল চীপ, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা), পার্বত্য জেলা পরিষদ‘র চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার।

এ সংক্রান্ত আরো খবর: