বিজিবি ভারতের ভূমি ও সড়ক ব্যবহার করে বিওপি নির্মাণ করছে

bgb camp 3

মেহেদী হাসান পলাশ:

ভারতের ভূমি ও সড়ক ব্যবহার করে নতুন বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট(বিওপি) নির্মাণ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি)। বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব সুসম্পর্কের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজিবির দক্ষিণ পূর্ব রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার উত্তরাংশে খাগড়াছড়ি জেলার অন্তর্গত এবং ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত ৬ টি বিওপি নির্মাণে ভারতের ভুমি ও সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিজিবির পুণর্গঠন রূপরেখা-২০০৯ এর আওতায় এ নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। একই রূপরেখার আওতায় বিজিবির দক্ষিণ পূর্ব রিজিওনের আওতায় দুইটি নতুন সেক্টর ও ৫ ব্যাটালিয়ান স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও নতুন করে ১০৪টি বিওপির মধ্যে ৫২টি বিওপি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে করে বাংলাদেশ-ভারত ও বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের ৮১০ কি.মি. সীমান্তের মধ্যে ৪৭৯ কি.মি. অরক্ষিত সীমান্তের ২১৫ কি.মি. সীমান্ত সুরক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। শুরু হয়েছে বিজিবির এয়ার উইং। এর ফলে দূর্গম ও অরক্ষিত সীমান্তের অপরাধ এখন আগের থেকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে বলে বিজিবি সূত্রের দাবী।

জানা গেছে, সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বিজিবি বাংলাদেশের ৪,৪২৭ কিঃ মিঃ সীমানা দিবা-নিশি প্রহরার মাধ্যমে নিশ্চিত করছে নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব। ২০০৯ পিলখানার ভয়াবহ বিপর্যয়ের দুঃসহ স্মৃতি পেরিয়ে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিজিবি। ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসের ২০ তারিখে বিজিবির সদর দপ্তর পিলখানায় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিজিবি’র পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয় বিজিবি’র নব অভিযাত্রা। সে সাথে শুরু হয় এ বাহিনী ঢেলে সাজানোর মহাযজ্ঞ। এর অংশ হিসাবে ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখে শুরু হয় বিজিবি’র ৪ টি রিজিয়ন এর আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ড। এসময় খাগড়াছড়ি, রাংগামাটি, গুইমারা, বান্দরবান ও কক্সবাজার সেক্টর ও এর অধীনস্থ ইউনিটগুলো নিয়ে দক্ষিণ পূর্ব রিজিয়ন সদর দপ্তর চট্টগ্রাম শহরের হালিশহর থেকে কার্যক্রম শুরু করে।

bgb camp 1

দূর্গম পাহাড় ও অনিষ্পন্ন সীমান্তের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব রিজিওনের আওতাধীন ৮১০ কি.মি. সীমান্তের মধ্যে ৪৭৯ কি.মি সীমান্ত অরক্ষিত ছিলো। ফলে অরক্ষিত এই সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র, মানব ও মাদক পাচার, অপহরণ, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হতো। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর স্বর্গরাজ্য ছিলো অরক্ষিত সীমান্ত। এ সকল অপরাধ দমনে বাংলাদেশ ও সীমান্ত সংলগ্ন অন্যান্য দেশগুলোরও দাবী ছিলো বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত সুরক্ষিত করা।

সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিজিবি পূণর্গঠন রূপরেখা-২০০৯ এর আওতায় দক্ষিণ পূর্ব রিজিয়ন, চট্টগ্রাম এর দায়িত্বপূর্ণ পাহাড় ও নদী বেষ্টিত ৮১০ কিঃ মিঃ সীমান্ত এলাকায় অরক্ষিত সীমান্ত সুরক্ষাসহ সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু তদারকির লক্ষ্যে বর্তমান সীমান্ত চৌকির অতিরিক্ত সর্বমোট ১০৪টি নতুন বিওপি নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় সর্বমোট ৫২টি বিওপি’র নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ২৯ টি নতুন বিওপি নির্মাণ করে ২৮১ কিঃ মিঃ অরক্ষিত সীমান্তের মধ্যে আনুমানিক ১৩০ কিঃ মিঃ সীমান্ত সুরক্ষা করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ – মিয়ানমার সীমান্তে ২৩টি নতুন বিওপি নির্মাণ করে ১৯৮   কিঃ মিঃ অরক্ষিত সীমান্তের মধ্যে আনুমানিক ৮৫ কিঃ মিঃ সীমান্ত সুরক্ষা করা হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে সর্বমোট ৪৭৯ কিঃ মিঃ অরক্ষিত সীমান্তের মধ্যে আনুমানিক ২১৫ কিঃ মিঃ সীমান্ত সুরক্ষাসহ বিজিবি’র নজরদারী ও আধিপত্য বিস্তারের আওতায় আনা হয়েছে।

তবে বিজিবির এই নবযাত্রা কুসুমাস্তৃর্ণ ছিলো না। পদে পদে তাকে নানা প্রতিকুলতা ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে এগুতে হয়েছে। সূত্র মতে, পাহাড়ি এলাকায় বিওপি নির্মাণের জন্য সরকার কর্তৃক ৫ একর জমি অধিগ্রহণের নীতিমালা রয়েছে। দক্ষিণ পূর্ব রিজিয়নের বেশির ভাগ এলাকাই পাহাড়ি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই ৫ একর জমিতে বিওপি স্থাপন করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। কারণ পাহাড়ি ঢাল ও ভূমি বিন্যাসের ভিন্নতার কারণে জরুরী স্থাপনা সমূহও নির্মাণ করা সম্ভব হয় না। এছাড়াও পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কারণে সাধারণ জনগণ তাদের জমি অধিগ্রহণের জন্য বিজিবিকে হস্তান্তর করতে ভীত সন্ত্রস্ত থাকে। বিশেষ করে বিজিবির এই অগ্রসর ভূমিকার কারণে যেসমস্ত সীমান্ত অপরাধীদের তৎপরতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে তারা বিজিবি সম্প্রসারণের পথে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে। অস্ত্রের মুখে, হুমকি, ধামকি দিয়ে সাধারণ পাহাড়ীদের বাধ্য করেছে বিজিবিরি প্রতিপক্ষ হতে।

ফলে এখনো খাগড়াছড়ি ও রাংগামাটি জেলার অনেক অবস্থানে বিওপি নির্মাণের জন্য বিজিবি কর্তৃক জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভবপর হয়নি। ভূমি বিরোধের কারণে এখন পর্যন্ত বাঘাইছড়িতে অবস্থিত ৫৪ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের ব্যাটালিয়ন সদর স্থাপন করা সম্ভবপর হয়নি। এছাড়াও আলীকদমে ৫৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন তাদের ব্যাটালিয়ন সদর নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। অথচ দেখা গেছে, দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিওপি স্থাপিত হলে নিকটস্থ পাহাড়ি জনগোষ্ঠী দারুণভাবে উপকৃত হয়।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, খাগড়াছড়িস্থ উত্তর লক্কাছড়া বিওপি সংলগ্ন উপজাতীয় পাড়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপে বেশ কিছু লোক মৃত্যুবরণ করলে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বিওপিতে অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন করা হয়। হেলিকপ্টার যোগে ক্যাম্পে জরুরী ঔষধ ও চিকিৎসক প্রেরণ করা হয়। বিজিবি’র সদস্যরা দিনরাত পরিশ্রম করে রুগীদের শুশ্রষা করে এবং এলাকাবাসীকে এক ভয়াবহ মহামারী থেকে উদ্ধার সম্ভব হয়।

সূত্রে জানা গেছে, বিজিবির দক্ষিণ পূর্ব রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার উত্তরাংশে খাগড়াছড়ি জেলার অন্তর্গত অধিকাংশ অবস্থানই দূর্গম পার্বত্য এলাকায় হওয়ায় অরক্ষিত সীমান্তে কিছু কিছু স্থানে বাংলাদেশের নিজস্ব ভূমি ব্যবহার করে বিওপি নির্মাণ করা অত্যন্ত দুষ্কর। হেলিকপ্টার সহায়তা ব্যতীত সেসকল অবস্থানে নির্মাণ সামগ্রী কিংবা প্রাত্যহিক রশদ সামগ্রী প্রেরণ কষ্টকর।

অরক্ষিত সীমান্ত সুরক্ষাসহ সীমান্তে বিজিবি’র আধিপত্য বিস্তার ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নির্মূলের অংশ হিসেবে বিজিবি কর্তৃক ভারতীয় রাস্তা ব্যবহার করে দূর্গম পার্বত্য সীমান্ত এলাকায় নতুন বিওপি স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়; যা যুগোপযোগী ও আধুনিক চিন্তা চেতনারই বহিঃপ্রকাশ। বিজিবি’র অনুরোধে সরকার কর্তৃক প্রেরিত প্রস্তাবে ভারত সরকার উক্ত পরিকল্পনায় সম্মতি প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় দূর্গম পার্বত্য এলাকার অরক্ষিত সীমান্ত সুরক্ষার জন্য ভারতীয় রাস্তা ব্যবহার করে বিওপি নির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ এবং ভারত দু‘দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে গত ৬-৭ জুন ২০১৫ তারিখ পর্যন্ত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় “নতুন প্রজন্ম নয়া দিশা” নামে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

bgb camp 2

ইতিমধ্যে ৬টি নতুন বিওপি নির্মাণের লক্ষ্যে সকল পর্যায়ে রেকি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। অতিশীঘ্রই উক্ত বিওপি সমূহ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। বিওপিগুলো হচ্ছে, খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলার ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতায় লাক্কাছড়া বিওপি, দিপুছড়ি বিওপি ও ডুপশিল বিওপি এবং রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলাস্থ ৫৪ বিজিবি ব্যাটালিয়েনের আওতায় কাসালং-১ বিওপি, কাসালং-২ বিওপি এবং সাজচিলুই বিওপি।

জানা গেছে, ইতিমধ্যে বিজিবি’র দুটি রেকিদল নির্মাণ সামগ্রী ক্রয়, পরিবহন ও নির্মাণ কাজের প্রস্তুতির নিমিত্তে বাংলাদেশ সীমান্তের বিপরীতে ভারতের অংশে রেকি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।

বিজিবির এই অগ্রসর অবস্থানের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের উত্তর সীমান্তে বিশেষ করে খাগড়াছড়ি সীমান্তের বিপরীতে যে সকল অংশে বিভিন্ন ভারতীয় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ কর্তৃক বিভিন্ন প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অরক্ষিত সীমান্তের সুযোগ নিতো, বর্তমানে ঐ সকল সীমান্ত এলাকায় নতুন নতুন বিওপি নির্মাণের ফলে সীমান্তে নজরদারী বৃদ্ধি পাওয়ায় সকল প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। আশার কথা, সাম্প্রতিক সময়ে বিএসএফ কর্তৃকও কোন প্রকার প্রতিবাদ করা হয়নি।

একইভাবে দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ পার্বত্য এলাকার বান্দরবান জেলার সীমান্ত এলাকার দক্ষিণাংশে রয়েছে অত্যন্ত খাড়া পাহাড়  এবং দূর্গম এলাকা। উঁচু পাহাড়ের গা ঘেঁষেই রয়েছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত। ভুপ্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে বিগত ৪ মাসেরও কম সময়ে উক্ত দূর্গম এলাকায় বিজিবি কর্তৃক নতুন ৬টি বিওপি নির্মাণ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী সময়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রায়ই আরাকান আর্মি এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী দলের আস্তানা কিংবা তাদের অবাধ চলাচলের ব্যাপারে বিজিবি কর্তৃপক্ষের কাছে তারা প্রতিবাদ লিপি প্রেরণ করতো। কিন্তু বর্তমানে উক্ত এলাকার বেশির ভাগ অংশে বিজিবি’র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এখন এ ধরনের পত্রালাপ অনেকাংশেই হ্রাস পেয়েছে। সে সাথে অপেক্ষাকৃত সুরক্ষিত ও সূচিহ্নিত হয়েছে দু’দেশের সীমানা।

এদিকে বর্তমানে নতুনভাবে নির্মিত সকল বিওপিগুলোই হেলি সাপোর্টেড। পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনী সমূহের মধ্যে বিজিবিরই রয়েছে সর্বাধিক ৭৮ টি হেলি সাপোর্টেড ক্যাম্প। বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারগুলো স্বল্পতার মধ্যেও বিজিবির বিওপিগুলোতে হেলি সহায়তা প্রদানে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, হেলির প্রয়োজনীয়তা ও দ্রুত সাপোর্ট নিশ্চিতের বিষয়টি বিবেচনা করে সদর দপ্তর বিজিবি হেলি উইং এর সকল অবকাঠামো সাতকানিয়ায় বিজিবি’র একমাত্র প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বিজিটিসিএন্ডএস সংলগ্ন স্থানে ইতিমধ্যে স্থাপন করেছে। এরই প্রেক্ষিতে গত ৫ জুন ২০১৬ তারিখ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর হেলি উইং এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি। খুব শীঘ্রই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে নতুন হেলিকপ্টার সংযোজিত হবে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে বিজিবি হেলি উইং কাজ শুরু করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।এতে নতুন বিওপি নির্মাণ কার্যক্রমসহ অপারেশনাল দক্ষতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

বিজিবির দক্ষিণ পূর্ব রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ হাবিবুল করিম পার্বত্যনিউজকে জানান, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে আর কোন সীমান্ত অরক্ষিত থাকবে না। বিজিবি’র বর্তমান মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমদ এর সার্বিক দিক নির্দেশনা ও সহায়তার কারণেই সম্ভব হয়েছে।

ভূমি বিরোধের কারণে বিভিন্ন স্থানে বিজিবির বিওপির স্থাপনে প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, আশা করা যায় খুব শীঘ্রই এ সকল সমস্যা দূর করে ব্যাটালিয়নগুলো তাদের কার্যক্রম সঠিকভাবে পালন করতে পারবে।

নাইক্ষ্যংছড়িতে গুপ্তচর সন্দেহে ভারতীয় নাগরিক আটক

1402327323.

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

গুপ্তচর সন্দেহে বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয় ( বিজিবি) ।

গত ৮ জুন সন্ধ্যা ৭.০০ টায় সোমবার চাকঢালা সীমান্ত এলাকার আমতলা থেকে আটকের পর উক্ত ব্যাক্তিকে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সোপর্দ করা হয়। স্থানীয় চাকঢালা বিজিবি সদস্যরা গোপন সংবাদে ভিত্তিতে ওই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে ।

চাকঢালা বিওপির কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার আব্দু খালেক ওই ব্যক্তিকে আটকের পর বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় পাসপোর্ট আইনের অবৈধ নাগরিক অনুপ্রবেশ আইনে মামলা দায়ের করে । । মামলা নং ০৪(০৯/০৬/২০১৪ইং) ।

জানা গেছে, জগলু সিং (৫০) নামে এক ব্যাক্তি বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের চাকঢালা এলাকায় ঘুরাঘুরির সময় গোয়েন্দা সংস্থার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাকঢালা বিওপি টহলদল ঐ ব্যাক্তিকে আটক করে। সে নিজের নাম জগলু সিং প্রকাশ আরান্দা সিং ও তাঁর বাবার নাম মিটু সিং নাম উল্লেখ করলেও অন্য কোন তথ্য পাওয়া যায়নি । পুলিশের জিঞ্জাসাবাদে সে ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের নাগরিক বলে জানায়।

বিজিবি আটকের পর ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাবাদপূর্বক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান নাইক্ষ্যংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মো: রফিকুল ইসলাম ।

উল্লেখ যে,সম্প্রতি মায়ানমার সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ও বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি) সাথে সৃষ্ট সমস্যার পর মায়ানমার ও ভারত সীমান্ত এলাকায় গুপ্তচর নিয়োগ করে । গত সপ্তাহে নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা থেকে এক মায়ানমার গুপ্তচরক নাগরিককে বিজিবি আটক করে উখিয়া থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করে ।

জেএসএস-ইউপিডিএফ সন্ত্রাসের বলি: ভারতে আশ্রয় নিয়েছে ৩০ উপজাতীয় পরিবার

Indian-Paper-300x166

মো. আল আমিন:

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার বাবুছড়া ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী দূর্গম নাড়াইছড়ি এলাকা থেকে উপজাতীয় কয়েক পরিবার সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে চলে গেছে বলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)র নিকট দাবী করেছে বিএসএফ। এ ঘটনায় দুই পাহাড়ী সংগঠন জেএসএস-ইউপিডিএফ পরস্পর পরস্পকে দায়ী করেছে।

 

এদিকে বিষয়টি নিয়ে বুধবার বিকালে নাড়াইছড়ি সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়েছে। তবে বৈঠকে বিএসএফ ভারতে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর তালিকা দিতে পারেনি বলে দাবী করে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার পূনরায় বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের আধিপত্যের লড়াইয়ের বলি হচ্ছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ। দূর্গম এবং ভারত সীমান্তবর্তি হওয়ার কারণে নাড়াইছড়ি এলাকা নিয়ন্ত্রনে নিতে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রায়ই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ ৩ মে নাড়াইছড়ি বাজারটি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং পরে কিছু বাড়িও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। অগ্নিসংযোগের ঘটনার জন্য জেএসএস (সন্তু) এবং ইউপিডিএফ পরষ্পরকে দায়ী করে। দুই পক্ষই নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার বাসিন্দাদের চাল-চলনসহ সকল কর্মকান্ড বন্ধ করে দেয়। ফলে খাদ্য সংকট দেখা দেয় এলাকাবাসীর মধ্যে। ফলে বাধ্য হয়ে প্রাণ বাঁচাতে তারা ভারতে পালিয়ে গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় সূত্র দাবী করেছে উপজাতীয় জঙ্গী সংগঠনগুলোর সৃষ্ট অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে জীবন বাঁচাতেই তারা সীমান্ত অতিক্রম করেছে। সংশ্লিষ্ট বাবুছড়া ইউপি চেয়ারম্যান সুগতপ্রিয় চাকমা জানান, নাড়াইছড়িতে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে স্থানীয় মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না; আর বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হতে পারেন নি।

অপরদিকে বিজিবি সূত্র পতাকা বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, প্রায় ৩০ পরিবার সীমান্ত অতিক্রম করেছে বলে দাবী করলেও তাদের তালিকা দিতে পারেনি বিএসএফ। শুক্রবারের বৈঠকে তালিকা দিতে বলা হয়েছে এবং সরেজমিনে খোঁজ করে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা চলছে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলুল জাহিদ পাভেল পার্বত্যনিউজকে বিজিবি’র বরাত দিয়ে জানিয়েছেন শুক্রবার বিজিবি ও বিএসএফে’র পতাকা বৈঠকের কথা এবং তা সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন থেকে সকল ধরনের চেষ্টা চালিয়ে হচ্ছে।

এদিকে ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক প্রদীপন খীসা আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, জনসংহতি সমিতির সন্তু লারমা গ্রুপ দীঘিনালার নাড়েইছড়ি থেকে নিরীহ গ্রামবাসীদেরকে অস্ত্রের মুখে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে নিয়ে গিয়ে সেখানে তাদেরকে দিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি সন্তু গ্রুপের এই অপকর্মের নিন্দা জানিয়ে বলেন, সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ২১এপ্রিল ও ২৬ মে দুই দফায় নাড়েইছড়ির দেওয়ান পাড়া, থুলিছড়া, দজর-হোগেয়্যাতলি ও চোদ্দেংছড়া গ্রামের লোকজনকে জোর করে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে নিয়ে যায়।

বিবৃতিতে আরও বলাহয়, নাড়েইছড়ি বাজার চৌধুরী মাচ্য চাকমাকে ২৪এপ্রিল সন্তু গ্রুপের এক কমান্ডারের লেখা চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরো বলেন, “সন্তু গ্রুপ নাড়েইছড়ি এলাকার সাধারণ জনগণকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার ও দোকানপাট বন্ধ রাখার লিখিত নির্দেশ দেয় এবং নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে বলে হুমকী দেয়। এলাকার জনগণ তাদের সেই নির্দেশ অগ্রাহ্য করলে তারা ৩ মে নাড়েইছড়ি বাজার সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয়। এর ফলে সেখানে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিলে এক মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়, যা দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।”

প্রদীপন খীসা বলেন, সন্তু গ্রুপ পাহাড়ি গ্রামবাসীদেরকে ত্রিপুরায় নিয়ে গিয়ে তাদেরকে দিয়ে এই বলে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে যে, ইউপিডিএফ ও বিজিবির গুলি বর্ষণের কারণে তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি নাড়েইছড়ি এলাকার জনগণের এই দুর্দশার জন্য সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র জঙ্গীদের পোড়াবাড়ী নীতিকে দায়ী করে বলেন, ‘আন্দোলনের নামে তারা কেবল জনগণের হাড়ি পাতিল ভেঙে দিতে ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে ওস্তাদ। তারা জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম না করে বিনা কারণে নিজের ভাইকে গুলি করে হত্যা করছে। ইউপিডিএফ নেতা সন্তু লারমাকে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতের ভুল পথ পরিহার করে কৃত অপরাধের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনে শরীক হওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা পার্বত্যনিউজকে বলেন, খোঁজ নিয়ে জেনিছি ৩২ থেকে ৫০ পরিবার সীমান্ত অতিক্রম করেছে। গত ৩ মে নাইড়াছড়ি বাজার পুডে দেয় ইউপিডিএফ এই কারনেই তারা এলাকা ত্যাগ করেছে। ইউপিডিএফ নিজেদের দোষ চাপানোর জন্যই গণমাধ্যমে অন্য দলের নামে মিথ্যা-বানোয়াট বিবৃতি দেয়।
 
ত্রিপুরার পত্রিকায় সংবাদ
আগরতলা থেকে প্রকাশিত বিজনেস ষ্ট্যান্ডার্ড নামের ইংরেজী পত্রিকা বুধবার এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রচার করে। পত্রিকাটি দাবী করেছে, পার্বত্য খাগড়ছড়ি জেলার বৌদ্ধ এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বি চাকমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের উপজাতীয় ২৫০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু সোমবার ভারতে পারি জমিয়েছে। সোমবার পরিবারগুলো সীমান্ত অতিক্রম করে গান্দাছড়া এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। বিষয়টি সেখানকার স্থানীয় কতৃপক্ষ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে।

অপরদিকে, বাংলায় প্রকাশিত (ভারতীয়) দৈনিক সংবাদে, পার্বত্য চট্টগ্রামে জাতি দাঙ্গা: শরণাথী  স্রোত গগুছড়ায়! এমন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে। তবে একই সাথে পত্রিকাটির মূল ইস্যু আড়াল করে পুরো সমস্যাটি জাতিগত দাঙ্গা হিসেবে মন্তব্য করেছে।

মমতাকে বাংলাদেশিদের বন্ধু ভাবার কোনও কারণ নেই- তসলিমা নাসরিন

মমতাকে বাংলাদেশিদের বন্ধু ভাবার কোনও কারণ নেই- তসলিমা নাসরিন (মমতা, তসলিমা নাসরিন, বাংলাদেশ, ভারত)
 
ভারতের নির্বাচনী প্রচারে উঠে এলো বাংলাদেশি অবৈধ ‘অনুপ্রবেশকারী’ প্রসঙ্গ। বিজেপি নেতা মোদী বলেছেন, সব অনুপ্রবেশকারী যেন বাঙ্পেটরা গুছিয়ে ফেলে, কারণ ১৬ মে’র পর ওদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে। শুনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছেন, বাংলাদেশিদের স্পর্শ করার স্পর্ধা যেন কেউ না করে। না, এ কারণে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে বাংলাদেশিদের বন্ধু ভাবার কোনও কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন তসলিমা নাসরিন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বাঙালি মুসলমানদের জন্য তাঁর যে দরদ, তা সত্যিকারের দরদ নয়, নেহাত রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির দরদ।
মোদী বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে অত্যাচারিত হয়ে যারা আসছে, যারা ভারতে দুর্গাষ্টমি করছে, তাদের তাড়ানো হবে না। এর মানে তাড়ানো হবে না শুধু হিন্দুদের। হিন্দুরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসছে, কারণ হিন্দু হওয়ার কারণে বাংলাদেশে তারা অত্যাচারিত। মুসলমানরাও কি অত্যাচারিত হতে পারে না? তারাও কি রাজনৈতিক শরণার্থী হতে পারে না? তাদের তো জাতিসংঘের যে কোনও দেশেই ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশন অনুযায়ী রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া উচিত। যদি তারা অর্থনৈতিক শরণার্থীও হয়, তাদের তো ঘাড় ধাক্কা দেওয়া উচিত নয়, মানবতার কারণে পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশই অর্থনৈতিক শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়। ভারত কেন দেবে না? আর কয়েক দশক পর যখন বাংলাদেশ জলে ডুবে যেতে থাকবে, পৃথিবীকে তো শিখতে হবে আবহাওয়া পরিবর্তনের শরণার্থীদের বরণ করে নিতে।
 
মমতার কোনও দরদ মুসলমানদের প্রতি নেই। তিনি এই যে মুসলমান মৌলবাদীদের মাথায় তুলে নাচছেন, তা সবই ভোটের জন্য। মুসলমানদের ভোট পাওয়ার জন্য তিনি হেন কাজ নেই করছেন না। তিনি হিন্দু হয়েও, কালীভক্ত হয়েও, মুসলমানদের এলাকায় গিয়ে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ, আল্লাহ এক, এবং মুহম্মদ তার প্রেরিত রসুল, বলেন। এই বাক্যটি বিধর্মীরা উচ্চারণ করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার উদ্দেশে। মমতা কিন্তু তাঁর ধর্ম বদল করার উদ্দেশে কলমা বলেন না। তিনি বলেন মুসলমানদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য। মাথায় হিজাব পরে নামাজ পড়েন, মোনাজাত করেন, রোজা রাখেন, ইফতার করেন। এতই যদি ইসলাম ধর্মের প্রতি ভালোবাসা, ইসলাম ধর্মকে গ্রহণ করলেই পারেন। তাঁর সবই মুসলমান মৌলবাদীদের খুশি করার জন্য।
 
মৌলবাদীরা মুসলমানদের নেতা। মৌলবাদীরা যাকে ভোট দিতে বলবে, মুসলমানরা তাকে ভোট দেবে। সে কারণে মৌলবাদীদের পটানোয় ব্যস্ত রাজনীতিকরা। সবচেয়ে ব্যস্ত শ্রীমতী মমতা বন্দোপাধ্যায়। কিন্তু মুসলমানদের খুশি করার নামে মুসলমানদের সবচেয়ে বেশি অপমান করছেন তিনি। তিনি ভাবছেন মুসলমানরা এক একটা গাধা। তারা তাঁর ছলচাতুরী কিছুই ধরতে পারবে না। তিনি যে মুসলমান মৌলবাদীদের সব অন্যায় দাবি মেনে নিচ্ছেন, এবং মুসলমান সম্প্রদায়কে আরও অন্ধকারে রাখার ব্যবস্থা করছেন, ব্যবহার করছেন নিতান্তই ভোটব্যাংক হিসেবে, তা জগতের সব লোক বুঝতে পারলেও মুসলমানরা পারবে না। এরকমই তাঁর বিশ্বাস।
 
আমি জানিনা মুসলমানরা কেন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের এসব আদিখ্যেতার প্রতিবাদ করছে না। কেন বলছে না, ‘তুমি বাপু হিন্দু সে আমরা জানি। তোমার এত মুসলমানের সাজ পোশাক না পরলেও চলবে, অত কলমা না আওড়ালেও চলবে। দেশের নাগরিক হিসেবে মুসলমানদের যে সম্মান পাওনা, সেটুকুই আমরা চাই। আমাদের বোকা বানানোর চেষ্টা বন্ধ কর’।
 
মমতা বন্দোপাধ্যায়ের যদি বাংলাদেশের অহিন্দু শরণার্থীর প্রতি সামান্যও সহানুভূতি থাকতো তাহলে পশ্চিমবঙ্গে আমার উপস্থিতি তিনি নিষিদ্ধ করতেন না, আমার বই উদ্বোধনের অনুষ্ঠানও তিনি বাতিল করতেন না, আমার নতুন মেগাসিরিয়ালের প্রচারও তিনি বন্ধ করতেন না। আমাকে নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্য একটিই, মুসলমান মৌলবাদীদের তোষামোদ করা। মুসলমান মৌলবাদীরা আমার ওপর অত্যাচার হলে বেশ খুশি থাকে, আমার মাথার মূল্য তারা অনেক আগেই ধার্য করে ফেলেছে।
 
এখন প্রশ্ন হলো, সত্যিই কি মোদী ক্ষমতায় এলে বাঙালি মুসলমানদের ভারতছাড়া করবেন? আমার বিশ্বাস হয় না। এই কাজ করলে সারা বিশ্ব মোদীর নিন্দায় মুখর হবে। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোয় লক্ষ লক্ষ ভারতীয় হিন্দু বাণিজ্য করছে, চাকরি বাকরি করছে। মধ্যপ্রাচ্য মোদীবিরোধী হয়ে উঠলে ভারতের বিপদ। জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশন না মানলে মোদীকেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। মোদী এখন ভারতে বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বলছেন, রাম মন্দির গড়ার কথা বলছেন। ক্ষমতায় গেলে তিনি কি এসব বলবেন? ক্ষমতায় যাওয়ার আগে অনেক কিছুই বলা যায়, ক্ষমতায় যাওয়ার পর একটি বিশাল গণতান্ত্রিক দেশকে খুব ঠাণ্ডা মাথায় চারদিক সামলাতে হয়। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করলে ঠাণ্ডা মাথায় কিছুই সামলানো সম্ভব নয়। সুতরাং ক্ষমতায় দীর্ঘকাল থাকতে হলে ধর্মের রাজনীতি মোদীকে বর্জন করতেই হবে। তিনি এত বোকা নন যে তিনি তা করবেন না। ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের খুশি করার জন্য অল্প স্বল্প তিনি নিশ্চয়ই কিছু করবেন, সে করাটা নিশ্চয়ই কোনও মসজিদ ভেঙে বা মুসলমান খুন করে নয়।
 
শুনেছি খালেদা জিয়া মহাখুশি। এতকাল পর কংগ্রেস বিদেয় হচ্ছে। কংগ্রেস চিরকালই আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে। মোদী এলে হাসিনা সরকার আর ভারতের সহযোগিতা পাবে না। এই খুশিতে জামায়াতে ইসলামী আর বিএনপি এখন থেকেই বগল বাজাচ্ছে। কট্টর মুসলমান আর কট্টর হিন্দুর মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই। তারা যেহেতু সমাজকে পিছিয়ে নিয়ে যেতে চায়, অথবা এক জায়গায় থেমে থাকুক দেখতে চায়, তারা ভেতরে ভেতরে অনেকটাই ভাই ভাই। একে অপরের পরিপূরক। এ আছে বলেই ও আছে। বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘ, বজরং দল, শিবসেনাদের কোনও আদর্শগত পার্থক্য নেই। এই ধর্মভিত্তিক দলগুলো যতদিন ভারতীয় উপমহাদেশে বিরাজ করবে, ততদিন সত্যিকার প্রগতির পথে এরা বাধা হয়ে দাঁড়াবে। শিক্ষিত সচেতন প্রগতিশীল মানুষের কাজ এই নারীবিরোধী ধর্মান্ধ দলগুলোকে নির্মূল করা। তলোয়ার দিয়ে নয়, মানুষের মধ্যে যুক্তি বুদ্ধির বিকাশ ঘটিয়ে।
 
আরও খবর

মুসলিম নিধন শুরু হয়েছে আসামে: মৃত অসংখ্য

140502171145_assam_kokrajhar_killings_512x288_ap

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পার্বত্যনিউজ:

আসামে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাকসা জেলার নারায়ণগুড়ি গ্রামে হানা দিয়ে বেশ কয়েকজনকে হত্যা করেছে সন্দেহভাজন বোড়ো জঙ্গীরা। পুলিশ বলছে মাত্র ৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করা গেছে, তবে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে যা জানা যাচ্ছে, তাতে মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে। উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলির মধ্যে ৫জন মহিলা রয়েছেন। সকলেই মুসলমান। ৩৬টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিবিসি বাংলাকে এই তথ্য দিয়েছেন বাকসা জেলায় অবস্থানরত পুলিশের অতিরিক্ত মহানির্দেশক আর এম সিং। তিনি বলেন, ‘এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম। সন্ধ্যার পরে ওখানে পৌঁছন প্রায় অসম্ভব। কয়েকজন গ্রামবাসী পালিয়ে এসে পুলিশকে ঘটনার খবর দিয়েছে।“

এর আগে কাল রাত থেকে ওই বাকসা আর পার্শ্ববর্তী কোকড়াঝাড় জেলায় সন্দেহভাজন বোড়ো জঙ্গীদের হামলায় নিহত হয়েছিলেন দশজন। সকলেই বাংলাভাষী মুসলমান। পুলিশ বলছে বাকসা জেলার দুর্গম গ্রাম নারায়ণগুড়িতে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রায় চল্লিশটি বাড়িতে প্রথমে আগুন ধরিয়ে দেয় জঙ্গীরা আর তার ফলে মানুষজন যখন প্রাণভয়ে পালাচ্ছিলেন, তখন জঙ্গীরা শুরু করে গুলিবর্ষণ। প্রায় ৪০ জন সদস্য ছিল ওই জঙ্গীদলে।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় মুসিলম নেতা ইব্রাহিম আলি ওই গ্রামে গিয়েছিলেন, তিনি বিবিসিকে জানিয়েছেন, ”অনেকগুলি দেহ শনাক্ত করা যায় নি, আবার অনেক দেহ সম্ভবত নদীতে পড়ে ভেসে গেছে।” তিনি নিজেই ১২টি মৃতদেহ উদ্ধার হতে দেখেছেন। চারজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ আর সেনাবাহিনী পৌঁছেছে। বাকসা সহ বোড়োল্যান্ড এলাকার জেলাগুলিতে সান্ধ্য কার্ফু জারি করা হয়েছে।

140502163142_assam_kokrajhar_violence_624x351_afp

হামলা শুরু বৃহস্পতিবার

বোড়ো বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় দুজন শিশুসহ প্রাণ হারিয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের দশজন । উত্তরপূর্ব ভারতের রাজ্য আসামের পুলিশ বলছে গত ১২ ঘন্টায় সন্দেহভাজন বোড়ো জঙ্গীদের গুলিতে বাকসা আর কোকরাঝাড় জেলাগুলিতে অন্তত ১০জন নিহত হয়েছেন – যারা সকলেই মুসলমান। এদের মধ্যে দুটি শিশু আর ছয়জন মহিলা রয়েছেন। আহত হয়েছেন চারজন।

বোড়োল্যান্ড এলাকার পুলিশ আই জি এল আর বিশনোই বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, “কাল সন্ধ্যায় প্রথম ঘটনাটা বাকসা জেলার নরসিংগাঁওতে ঘটেছে। তিনজন মারা গেছেন আর তিনজন আহত হয়েছেন। এরপরে প্রায় মধ্যরাতে কোকড়াঝাড় জেলার বালাপাড়াতে দ্বিতীয় হামলা হয়, যাতে সাতজন মারা গেছেন।“ তিনি আরও জানিয়েছেন যে বোড়ো জঙ্গী গোষ্ঠী – ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট অফ বোড়োল্যান্ড বা এন ডি এফ বি-র সঙবিজিৎ গোষ্ঠীই এই হামলার জন্য দায়ী বলে পুলিশের সন্দেহ।

কোকড়াঝাড় জেলার তামুলপুরে এক বোড়ো যুবক আহত হয়েছেন, তবে এটা এখনও নিশ্চিত নয়, যে মুসলিমদের গ্রামগুলোর ওপরে হামলার প্রতিশোধ নিতেই ওই যুবকের ওপরে হামলা হয়েছে কী না। এছাড়াও কোকড়াঝাড় শহরের মধ্যেই রাতে এক স্থানীয় সাংবাদিককে পিস্তলের বাঁট দিয়ে মেরে আহত করেছে সন্দেহভাজন জঙ্গীরা। স্থানীয় সূত্রগুলি জানাচ্ছে হত্যার দুটি ঘটনাই প্রায় একই ভাবে ঘটানো হয়েছে। মুসলিমদের বাড়িগুলি ঘিরে ধরে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে।

কোকরাঝাড়ের যে বালাপাড়া গ্রামে সাতজন নিহত হয়েছেন, সেখানকার বাসিন্দা মুহম্মদ উকিল আলি টেলিফোনে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার রাতে কী হয়েছিল। “ভোটের পর থেকেই সেনা আর পুলিশ গ্রামের ছেলেদের আটক করে হেনস্থা করছে। তাই রাতে যুবকরা কেউ বাড়িতে থাকে না, জঙ্গলে থাকে। কালও কেউ বাড়িতে ছিল না। বারোটার একটু আগে হঠাৎই বোড়ো জঙ্গীরা আক্রমণ করে। তিন চারটি বাড়ির দরজা লাথি মেরে ভেঙ্গে ফেলে আর গুলি চালাতে শুরু করে। বেশীরভাগই বিছানায় ঘুমন্ত অবস্থাতেই মারা গেছেন – কেউ উঠতে পারেন নি। গুলি চালানোর পরে কোপানোও হয় দেহগুলির ওপরে,” বলছিলেন মি. আলি।

তিনি আরও জানান যে কাছেই একটা বিএসএফ ক্যাম্প আছে। সেখানকার রাত-পাহারাদার দল গ্রামে ঘুরছিল। কিন্তু তারা একদিক থেকে অন্যদিকে চলে যাওয়ার পরেই জঙ্গীরা আক্রমণ করে। একটা পরিবারে শুধু বছর পঁচিশেকের এক যুবক বেঁচে আছেন, বাকী সকলেই মারা গেছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়না তদন্তের পরে দেহগুলি গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জানাজার পরে সেগুলি কবর দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। মুসলিম নেতারা বলছেন, ২৪শে এপ্রিল ওই এলাকায় লোকসভার ভোট নেওয়া হয়, আর তারপর থেকেই ভীতিপ্রদর্শন চলছিল। অ-বোড়ো সংগঠনগুলি এবারই প্রথম জোটবদ্ধ হয়ে একজন প্রাক্তন আলফা কমান্ডার হীরা শরণিয়াকে প্রার্থী হিসাবে দাঁড় করিয়েছিলেন।

“এবারের ভোটে যেহেতু অ-বোড়ো সংগঠনগুলো এক হয়ে একজন প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিলাম, তাই বোড়ো জঙ্গীরা বদলা নিল। ভোটের পর থেকেই গ্রামে গ্রামে সন্ত্রাস চালাচ্ছিল। আর কাল রাতে এই দুটো ঘটনা হয়ে গেল,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন অল বোড়োল্যান্ড মুসলিম স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রকিবুল ইসলাম।

বাংলাভাষী মুসলিমদের ছাত্রসংগঠন এবিএমএসইউ-র কোকড়াঝাড়ের জেলা সম্পাদক জায়দুল ইসলাম বলছিলেন, “স্থানীয় বোড়ো বিধায়ক প্রমীলা রাণী ব্রহ্মর এরকম একটা বিবৃতি ছাপা হয় বৃহস্পতিবার সকালেই। আর রাতেই এই আক্রমণ হয়।“

অন্যদিকে, বোড়ো ছাত্র ইউনিয়ন আবসুর প্রেসিডেন্ট প্রমোদ বোড়ো বলছিলেন, “নির্বাচন নিয়ে কিছু নেতা নেত্রী উস্কানি তো দিচ্ছেনই। সেটাও এই ঘটনার পেছনে একটা কারণ হয়ে থাকতে পারে। তবে অন্যদিকে আসাম সরকার বা কেন্দ্রীয় সরকারও দায় এড়াতে পারে না। বোড়োল্যান্ড এলাকা এতটাই উত্তেজনা প্রবণ – সেখানে কেন গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক খবর জোগাড় করতে পারছে না যে আক্রমণ হতে পারে? কেন নিরাপত্তা দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে না?”

তবে আসাম পুলিশের মহানির্দেশক খগেন শর্মা বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন যে এনডিএফবি-র সঙবিজিৎ গোষ্ঠীর এই আক্রমণ আসলে তাদের নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। মি. শর্মার কথায়, “গত দু-তিন মাসে ওই গোষ্ঠীর যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে – ১৮জন মারা গেছেন, ৪০-এরও বেশী জঙ্গী আত্মসমর্পণ করেছেন। ওদের অস্তিত্বের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। সেনা বা পুলিশবাহিনীর ওপরে আক্রমণ করা কঠিন। অন্য জঙ্গীগোষ্ঠীগুলিকে আক্রমণ করলে তারা পাল্টা আঘাত হানবে। তাই সবথেকে সুবিধাজনক টার্গেট নিরীহ পরিবারগুলো। রাতের অন্ধকারে নিরস্ত্র মানুষের ওপরে হামলা করে জানান দিতে চাইল যে তারা এখনও অভিযান করার ক্ষমতা রাখে।“ বোড়োল্যান্ড স্বশাসিত এলাকায় ৭০% মানুষই অবোড়ো – যাঁদের একটা বড় অংশ বাংলাভাষী মুসলমান।

বোড়োল্যান্ড এলাকার জেলাগুলিতে ২০১২ সাল থেকেই বোড়ো আর মুসলিমদের মধ্যে জাতি দাঙ্গা চলেছে – যাতে একশোরও বেশি মানুষ মারা গেছেন আর গৃহহীন হয়েছেন কয়েক লক্ষ মানুষ। বোড়ো সংগঠনগুলির অভিযোগ, তাঁদের জমি, জঙ্গল দখল করে নিচ্ছে বাংলাদেশ থেকে আগত অনুপ্রবেশকারীরা। আর বাংলাভাষী মুসলমানদের কথায়, তাঁদের পূর্বপুরুষরা বহু দশক আগে থেকেই আসামে চলে এসেছিলেন কৃষিকাজ করতে।

ত্রাণ শিবির থেকে অনেকে সাহস করে গ্রামে ফিরে যেতে পারলেও এখনও বহু মানুষ অন্য এলাকায় বসবাস করছেন। ২০১২-র দাঙ্গার পরে সেনাবাহিনী ও আসাম পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে বে-আইনী অস্ত্র উদ্ধার করতে শুরু করেছিল। আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে বেশীরভাগ বে-আইনী অস্ত্রই ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে মুসলিম সংগঠনগুলির অভিযোগ, যেসব জঙ্গীগোষ্ঠী আত্মসমর্পণ করেছে অথবা সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে গেছে, তাদের অস্ত্রভান্ডার সরকারের কাছে জমা দেয় নি। যৌথ অভিযানের পরেও অনেক অস্ত্র রয়ে গেছে আর সেই সব অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়েই হামলা হচ্ছে মুসলিমদের ওপরে। সূত্র: বিবিসি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউএনডিপি’র ভয়াবহ গোপন মিশন ‘ভিশন-২০৩০’

jumma land plan

মো: আবুল কাসেম:
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসুচী (ইউএনডিপি) পাহাড়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করার পর থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ষড়যন্ত্রের একটি নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য ইউএনডিপির প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও বাস্তবে ঘটছে তার বিপরীত। অগ্রাধিকারের নামে ইউএনডিপির বিভিন্ন উচ্চ পদে বসে চাকমা সম্প্রদায়ের একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী চালিয়ে যাচ্ছে তাদের নানামুখী ভয়াবহ বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র। পাহাড়ের উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা সম্প্রদায়ের লোকরাই অন্যান্যদের চেয়ে অধিক সচেতন, শিক্ষিত ও স্বচ্ছল। অথচ দেখা গেছে উন্নয়ন বঞ্চিত বাঙ্গালীসহ অন্যান্য উপজাতীয় জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে ইউএনডিপি একচেটিয়া চাকমা সম্প্রদায়ের কিছু গোত্রের সার্বিক উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে কর্মরত ইউএনডিপির বড় থেকে ছোট সকল কর্তাই চাকমা সম্প্রদায়ের। ফলে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও নেয়া হয় বৈষম্যনীতি। পাহাড়ের অন্যান্য সম্প্রদায়, যেমন- ত্রিপুরা, মার্মাসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মানুষদের জীবন জীবিকার মান দেখলেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠে। উপজাতীয়দের অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ পুর্বে যেমন ছিলো বর্তমানে আরো অধিক দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করছে। বড়কর্তা চাকমা বাবুদের ইশারায় ইউএনডিপির বিভিন্ন প্রজেক্টে কর্মকর্তা কর্মচারীদের ৯০ ভাগই নিয়োগ পেয়ে থাকে চাকমা সম্প্রদায়ের লোকজন।

ইউএনডিপি পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেয়ার কথা প্রচার করলেও বাস্তবে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ইউএনডিপির প্রতিটি প্রজেক্টের অর্ধেক বরাদ্দ খরচ হয়ে থাকে জনবল, যোগাযোগ ও যানবাহন খাতে। অবকাঠামোগত দু চারটি প্রকল্পছাড়া অধিকাংশই সভা, সেমিনার, বিদেশ ভ্রমণ,কনসালটেন্সী, ওর্য়াকশপসহ অদৃশ্যখাতে। প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন হয়ে থাকে চাকমাদের নিয়ন্ত্রিত হাতেগোনা কয়েকটি স্থানীয় এনজিওর মাধ্যমে। এভাবেই ইউএনডিপি’র পরিকল্পিত সহযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে শুধু চাকমা সম্প্রদায় আর স্বপ্ন দেখছে জুম্ম ল্যান্ড নামে একটি স্বাধীন পৃথক রাষ্ট্রের। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী ভয়াবহ গোপন মিশন ‘ভিশন-২০৩০’।

images ববব

সুদুরপ্রসারী এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে ভারতের অরুনাচল থেকে দেড় লাখ উপজাতীয়কে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে পুশইন করার গোপন তৎপরতা চলছে। ইউএনডিপির বিভিন্ন প্রকল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জায়গা করে নেয়া পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা সম্প্রদায়ের এক শ্রেণীর উচ্চ শিক্ষিত স্বাধীনতা লোভী চাকমা বাবুদের অতীত বাসনারই নতুন ফসল পুশইন করার এই ষড়যন্ত্র। ইউএনডিপিতে কর্মরত উচ্চ ও নিম্ন পদস্থ নির্ভরযোগ্য অনেক সুত্রেই এই তথ্য পাওয়া গেছে।

এই কর্মকর্তারাই উপজাতীয়দের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সুযোগ সুবিধার কথা বলে ভারতের অরুণাচল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে আনার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা সম্প্রদায়ের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা, আধিপত্য এবং কোন এক সময় পৃথক রাষ্ট্রের স্বপ্নই তাদের ষড়যন্ত্রের এই পথে বেগবান করে তুলছে প্রতিদিন। এই স্বপ্ন দেখার পেছনে রয়েছে বহুমূখী উপাদান। নানামুখী সুযোগ সুবিধা আর সাহায্য সহযোগিতা পেয়ে সেই স্বপ্নের রাষ্ট্র দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে উপজাতীয়দের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম (বিশেষ করে চাকমা সম্প্রদায়ের একটি অংশ)।

সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে, ইউএনডিপির উঁচু পদে থাকা চাকমা কর্তারাই গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর থেকে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দিয়ে টেলিফোন সংলাপের মাধ্যমে বাংলাদেশী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে আসছে অরুণাচলে থাকা উপজাতীয়দের পার্বত্য চট্টগ্রামে ফিরিয়ে আনতে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আলোচনা করে এবং বাংলাদেশী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানান। এরপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে অবশেষে ইউএনডিপির চাকমা কর্তাদের যোগসাজসে সেখানকার উপজাতীয়দের অনেকটা স্বেচ্ছায় পুশইনের পরিকল্পনা করা হয়।

পাহাড়ের উপজাতীয় ছাত্রছাত্রীদের বিশেষ কোটার সুবাদে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়ে সহজ পরিশ্রমে উচ্চতর ডিগ্রী নিচ্ছে উপজাতীয় ছাত্ররা। এভাবে বিভিন্ন দেশে লেখাপড়ার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা সম্প্রদায়ের ‘অবহেলিত নির্যাতিত ও নিগৃহীত জীবনযাপনের’ কল্পকাহিনী ছড়িয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা ও সহানুভুতি‘ আদায় করছে। বাস্তবতা হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালীসহ অন্য সকল সম্প্রদায় চাকমা কর্তৃক শোষিত, নিগৃহীত, নির্যাতিত। চাকমা উপজাতীয়দের উচ্চশিক্ষিত এই অংশটিই একসময় ইউএনডিপিতে মোটা বেতনের চাকরী পাচ্ছে অনায়াসে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ভারতের উত্তর পশ্চিম অংশের চীনের সাথে বিরোধীয় সীমান্ত এলাকা অরুণাচল রাজ্যে বসবাসকারী প্রায় আড়াই লাখ উপজাতীয়দের মধ্য থেকে দেড়লাখ উপজাতীয়কে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে পুশব্যাক করতে জোর তৎপরতা শুরু করে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউএনডিপিতে কর্মরত কিছু উপজাতীয় ব্যক্তিত্ব এবং কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছে এমন কয়েকজন বিশিষ্ট উপজাতীয় ব্যক্তি ভারতীয় পররাষ্ট মন্ত্রণালয়কে একাজে সহযোগিতা করছে। ভারত সরকার এসকল নাগরিককে একসময় আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নিকোবরে পাঠাতে জোর চেষ্টা চালিয়েছিলো। কিন্তু সেখানকার বাসিন্দারা আন্দামানে না গিয়ে অরুণাচল রাজ্যেই বসবাস করছে। এসব উপজাতীয়দেরকেই পার্বত্য চট্টগ্রামে পুশইন করতে গোপন তৎপরতা শুরু করেছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বেশকিছু পরিবার ইতিমধ্যে ভারত বাংলাদেশের অরণ্যঘেরা সীমান্ত এলাকা খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার দুদুকছড়া এবং রাঙ্গামাটি জেলার সাজেক ইউনিয়নের সংরক্ষিত বনাঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এসকল পরিবার স্থানীয় উপজাতীয় বাসিন্দাদের সাথে মিশে যাচ্ছে নিকট আত্মীয় স্বজনের নাম দিয়ে।  

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ভারত দাবী করছে, ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের সময়, ১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধে উদ্বাস্তু হওয়া এবং ১৯৮৬ সালে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর এসকল নাগরিক বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে গোপন পথে কয়েক দফায় এসে অরুণাচল রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বসতি শুরু করে। ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেখানকার আইন শৃংখলা বাহিনী এসকল পরিবারকে চীনের সাথে সীমান্ত বিরোধ আছে এমনসব এলাকাতে বসতি স্থাপন করায়। এক পর্যায়ে এসকল পরিবারকে ভারত সরকার আন্দামান দ্বীপে নিতে চাইলে এসকল নাগরিক তাতে অস্বীকিৃত জানায়। এছাড়া এসকল পরিবার ভারতের নাগরিকত্ব পেতে আশির দশকে ভারতীয় আদালতে আবেদন করলে আদালত দীর্ঘ শুনানীর পর এসকল নাগরিকদের মধ্যে যারা ভারতে জন্ম নিয়েছেন তাদেরকে নাগরিকত্ব দিতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়। রাজ্য সরকার কিছু লোককে নাগরিকত্ব দিয়ে নামমাত্র আদালতের নির্দেশ পালন করেন।

অপরদিকে, আন্দামানে নিতে কয়েক দফায় ব্যর্থ হয়ে ভারত সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু উপজাতীয় ব্যক্তির পরামর্শে এসব পরিবারকে ভারতের নাগরিকত্ব না দিয়ে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে পুশব্যাক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এসকল উপজাতীয় পরিবার কয়েক যুগেও ভারতের নাগরিকত্ব না পাওয়া এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে আসলে ইউএনডিপির মাধ্যমে বিশেষ বিশেষ সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে এবং ভারতীয় বাহিনীর বিভিন্ন রকমের চাপে তারা নিজেরাই সংগঠিত হয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে আসতে বিভিন্ন গোপন কৌশলে কার্যক্রম শুরু করেছে। জনৈক মৃণাল ভিক্ষু এই কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন বলে জানা গেছে। তার পরিচালনায় “ওয়ার্ল্ড চাকমা নেটওয়ার্ক” নামে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন তথ্য আদান প্রদান, পরামর্শ ও সহযোগিতা চাওয়াসহ যাবতীয় কার্যক্রম চলছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও ভারতের বহুল প্রচারিত আনন্দবাজার পত্রিকায় এ সংক্রান্ত বিষয়ে বেশ কয়েকবার রিপোর্টও প্রকাশ করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে।

উল্লেখ্য, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবী, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাথে শান্তিচুক্তি সম্পাদনের পর ভারতে আশ্রিত শরণার্থীদের একটি অংশ অর্থাৎ সন্তু লারমার বিরোধী উপজাতি প্রীতি গ্রুপের সমর্থকরা চুক্তিকেও সমর্থন দেয়নি এবং বাংলাদেশেও প্রত্যাবর্তন করেনি। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, তৎকালীন সময়ে এবিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলোচনা করলে দ্বিতীয় দফায় এসকল পরিবারকে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নেবে মর্মে প্রতিশ্রুতি ছিলো। বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র  মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্যের কোন তথ্য প্রমাণ আদ্যাবধী খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো দাবী করছে, সে সময়ে জনসংহতি সমিতি কর্তৃক বাংলাদেশ সরকারকে দেয়া ভারতে আশ্রিত শরণার্থী পরিবারের সংখ্যাও সঠিক ছিল না। সরকারকে দেয়া শরণার্থী পরিবারের সংখ্যা প্রত্যাবর্তনকালীন ভারত ছেড়ে না আসায় জনসংহতি সমিতি পার্বত্য চট্টগ্রাম ছেড়ে যায়নি এমন অনেক পরিবারকে ভারতে আশ্রিত দেখিয়ে অভিনব কায়দায় শরণার্থী বানিয়ে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করিয়েছেন। এসকল পরিবারকে ভারত মানবিক কারণে আশ্রয়ের কথা বললেও মুলত ভারতের সাথে চীনের বিরোধীয় সীমান্ত এলাকা অরুণাচল রাজ্যে যুগ যুগ ধরে বসবাস করতে দিয়ে এসব উপজাতীয়দের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে মাত্র। তবে দীর্ঘ কয়েক যুগের ব্যবধানেও এসকল নাগরিকদের সে দেশের নাগরিকত্ব দেয়নি ভারত।

এছাড়াও সেখানে বসবাসকারীদের অধিকাংশরাই বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে বিভিন্নভাবে কর্মরত আছেন। আবার অনেকেই বছরের কোন কোন সময় বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে আবার কোন কোন সময় থাকেন অরুনাচল রাজ্যে। অনেকেই রয়েছেন এপার ওপারের চোরাচালানের ব্যবসার সাথে জড়িত। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুটি স্থানীয় রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফের অস্ত্র কেনা বেচা,চাঁদাবাজি, ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে প্রয়োজনীয় যোগাযোগসহ বিবিধ অনৈতিক কাজেও সম্পৃক্ত রয়েছেন এদের অনেকেই। আবার বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের কারনেও এদের অনেকের বাসভুমির পরিবর্তন ঘটে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসলে অনৈতিক কাজে জড়িত এসকল উপজাতি পাড়ি জমায় ভারতে, আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসলে আবার পাড়ি দেয় বাংলাদেশে। তাদের অনেকেরই রয়েছে দু’দেশেই বসতবাড়ী, জায়গা জমি।

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত উপজাতীয় পরিবারের অনেক ছেলেমেয়ে এসকল পরিবারের সহযোগিতা নিয়ে লেখাপড়া করছে ভারতের বিভিন্ন নামীদামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। কারো কারো নাগরিকত্বসহ নিজবাড়ীও রয়েছে ভারতে। 

এদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ( ইউপিডিএফ) দুটি স্থানীয় রাজনৈতিক দলই অরুনাচলের এসকল উপজাতিয়দের বাংলাদেশে আনতে গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইউপিডিএফ একাজে তাদের জোর তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে। একইভাবে জনসংহতি সমিতির সন্তু লারমার দলও তাদের সমর্থন বাড়াতে এসকল নাগরিকদের বাংলাদেশে আসতে বিভিন্ন রকমের সুযোগ সুবিধা আর প্রলোভনের কথা বলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে বসবাসকারী উপজাতীয়দের পার্বত্য চট্টগ্রামে পুশইন করার গোপন ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা, পার্বত্যাঞ্চলের সংরক্ষিত বনাঞ্চল এলাকার অরক্ষিত সীমান্ত নিয়ন্ত্রনে নেয়া এবং ইউএনডিপির উচ্চপদে কর্মরত চাকমা বাবুদের কার্যক্রম সরকারের শতভাগ নজরদারীতে না আনলে পাহাড়ের বিশাল অঞ্চল অরুনাচলবাসীদের সুযোগ সুবিধার নতুন ঠিকানা হবে। স্বাধীনতার লোভে বিদেশী ইশারায় এরাই বিভিন্ন সময়ে অশান্ত করে তুলবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে- যা পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান সমস্যাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলবে। কাজেই সরকারকে অতি গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি জরুরী ভিত্তিতে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ লক্ষ্যে সরকারকে যেসকল গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ জরুরী ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে তা হলো: ১. পার্বত্যচট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড আরো জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে কাপ্তাইসহ যেসকল গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে সেনাবাহিনীকে সরিয়ে আনা হয়েছে তা ফিরিয়ে নিতে হবে। ২. সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বন্ধে তিন পার্বত্য জেলা র‌্যাবের ব্যাটালিয়ান স্থাপন করতে হবে। ৩. দ্রুততার সাথে অচিহ্নিত সীমানা নির্ধারণ করতে হবে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করতে হবে। ৪. বিজিবি’র সংখ্যা ও সাপোর্ট বাড়াতে হবে এবং বিজিবি’র অবস্থান সীমান্তের কাছাকাছি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ৫. এক কেন্দ্রীক রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের সংবিধানে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের কোনো স্বীকৃতি নেই। কাজেই তাদের ব্যাপারে সংবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। ৬. কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাঙালীর অবস্থান ছড়িয়ে দিতে হবে।

লেখক: খাগড়াছড়ি জেলাসংবাদদাতা, পার্বত্যনিউজ ডটকম। 

 

‘বাংলাদেশ ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত মুখোমুখি’

1383677_10152388687373636_911016660_n
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা টাইমস অব ইণ্ডিয়া। ইন্দ্রানী বাগচীর লেখা প্রতিবেদনটি পত্রিকাটি প্রকাশ করেছে ৩০ অক্টোবর। বাংলাদেশস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজেনার দিল্লী সফরের উপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদনটি রচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি নিম্নরূপ:

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সঙ্কট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের মন মনকষাকষি – দরকষাকষি। “বাংলাদেশ ইন্ডিয়া এন অড ওভার বাংলাদেশ পলিসি” নামক এক প্রতিবেদনে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সঙ্কট নিয়ে প্রকাশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত দুই দেশকে সমানভাবেই উদ্বিগ্ন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সংকটাপন্ন অব্স্থায় যুক্তরাষ্ট্রের যে অবস্থান তাতে ভারত ক্রমেই অস্বস্তিতে পড়ছে। ভারতের বিশ্বাস, বাংলাদেশ ও এ অঞ্চল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নেতিবাচক। আর এসব কারণে বাংলাদেশ বিষয়ে দিল্লির মনোভাব মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গির সাথে ক্রমেই বেখাপ্পা হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক জটিল পরিস্থিতি সম্পর্কে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সাংঘর্ষিক মনোভাবের কথা তুলে ধরে প্রতিবেদনটিতে আরো জানানো হয়, গত সপ্তাহে দিল্লির সাউথ ব্লক ঘুরে গেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা। এ সময় তিনি যে লম্বা বৈঠক করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের সাথে। তবে তাদের এই বৈঠকে মতনৈক্য হবার বদলে বেড়েছে দূরত্ব। আর এনিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত দুই দেশের মধ্যে দেখা দি্যেছে মন কষাকষি আর এ নিয়ে চলছে দর কষাকষি।

তারা যখন সাউথ ব্লকে বসে ঢাকায় কার কী নীতি বাস্তাবায়ন হবে তা নিয়ে দুই পক্ষ বোঝাপড়া করছিলেন তখন রাজধানী ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের হরতাল চলছিল। সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া বলেছে, ‘ভারত মনে করছে বিএনপি সহিংসতা বন্ধ করার ব্যাপারে আগ্রহী নয়, তারা তত্ত্বাবধায়কের দাবিতেই অনড় থাকতে চায়।

 আর ভারতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ বিএনপি যে ধরনের রাজনীতি করছে তার ধরন নিয়ে। ঠিক এই জায়গাতেই যুক্তরাষ্ট্রের সথে ভারতের ‘বিরোধ’। ভারত মনে করে, প্রকাশ্যেই কট্টর হয়ে ওঠা রাজনৈতিক দল বিএনপি-জামায়াতের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। দিল্লির বিশ্বাস, তারা সফল হলে বাংলাদেশ জাতি হিসেবেই সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের হয়ে যাবে। কারণ গত দুই বছরে বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি অনেক বেশি কট্টর ও চরমপন্থী হয়ে উঠেছে। জামায়াত ও বিএনপি রীতিমত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ক্রমাগত প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। আর এবিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব সম্পূর্ণ বিপরীত মুখী।

 শুধু তাই নয়, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জামায়াত-বিএনপির ওপর আল-কায়েদা ও পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বার গুরুতর প্রভাব ও সম্পর্ক সম্পর্কে যে সন্দেহ প্রকাশ করেছে তা নিয়েও রয়েছে মতপার্থক্য। পাকিস্তান ও পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশের কাছ থেকে ব্যাপক আর্থিক তহবিলের যোগান পায় এই গ্রুপগুলো এমনটাই এখন ভারতের দাবি। এছাড়া বিএনপির সাথে ভারতের ভিন্ন অবস্থানের আরো বড় কারণের কথাও বলেছে পত্রিকাটি। পত্রিকাটি মনে করে, ২০০১ সালে পদুয়া-রৌমারি সীমান্তে বিডিআর গণহত্যা চালিয়ে বিএসএফের যে ১৫ জওয়ান নিহত হওয়ায় ঘটনা ঘটিয়েছে তার জন্য বিএনপিকে বিশ্বাস করতে পারে না ভারত। এই ঘটনা ভারত কোনোভাবেই ভুলতে পারছে না বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি। বিএনপিতে ভারতের স্বাচ্ছন্দ্য না পাওয়ার আরো কারণ হল, জামায়াতকে নিয়ে তাদের আন্দোলন ও সরকার গঠন। জামায়াতের সাথে বিএনপির সম্পর্ক ভারত মেনে নিতে পারছে না।

পত্রিকাটি বলছে, এছাড়া বিএনপির প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঝোঁকটা আরো নানা কারণেও হতে পারে। প্রথমত ইতোমধ্যে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এবং আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ড. মুহম্মদ ইউনূসের সাথে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে হাসিনার মারাত্মক বিরোধ ঘটে গেছে। হাসিনা-ইউনূসের এই বিরোধ পদ্মা সেতু পর্যন্তও গড়িয়েছিল। একই সাথে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে ক্যালেঙ্কারি এবং যুদ্ধাপররাধ ট্রাইবুনালসহ নানা কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি-জামায়াত জোটেই সম্পর্ক খুঁজে নিতে চায়।