নাইক্ষ্যংছড়ির বৌদ্ধ ভিক্ষু ধাম্মা ওয়াসা ধর্মীয় দ্বন্দ্বে খুন হতে পারেন

IMG_3215

গাজী ফিরোজ ও বুদ্ধজ্যোতি চাকমা, নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে:

কেন ও কী কারণে ভিক্ষু ধাম্মা ওয়াসারকে খুন করা হয়েছে, তা জানতে পারেনি পুলিশ। নিহত বৌদ্ধ ভিক্ষু ধাম্মা ওয়াসার (উ গাইন্দ্যা) ছোট ছেলে মামলার বাদী অং চা থোয়াই বলেন, ‘খুনের ঘটনায় আইএসকে সন্দেহ করতে পারছি না। সন্দেহ হওয়ায় এজাহারে তিনজনের নাম দিয়েছি। বাবার সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। তিনি শান্তপ্রিয় ছিলেন।’

কারা খুন করতে পারে বলে ধারণা করছেন এই প্রশ্নে বাদী বলেন, বাবার ভিক্ষু হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় দ্বন্দ্বে এ খুন হতে পারে। বাবা আগে উপরচাকপাড়া বৌদ্ধবিহারে ছিলেন। সেখান থেকে এসে দুই বছর আগে নিজের জায়গায় পাহাড়ের পাদদেশে বৌদ্ধবিহার গড়ে তোলেন। চাক সম্প্রদায় থেকে আগে কেউ কখনো ভিক্ষু হননি। বাবা ভিক্ষু হয়ে বৌদ্ধবিহার তৈরি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে কেউ এ কাজ করতে পারেন।

অন্যমিডিয়া

তিনি বলেন, ‘ডাকাতির ঘটনা হলে তারা কোনো জিনিসপত্র কেন নেয়নি? টাকা-পয়সাও তো নেয়নি। আর জঙ্গিগোষ্ঠী এ দুর্গম পাহাড়ে এসে কেন মারবে?’

এ বিষয়ে ভিক্ষু ধাম্মাতেজা ভান্তে প্রথম আলোকে বলেন, নিহত ধাম্মা ওয়াসার তাঁর শিষ্য ছিলেন। তাঁকে কেন তিনি মারতে যাবেন। আসল ঘটনা ধামাচাপা দিতে এসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ঘটনার দিন তিনি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ছিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাইশারী তদন্তকেন্দ্রের প্রধান উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, জঙ্গিগোষ্ঠী, জমি নিয়ে বিরোধ, বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে কি না, সব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি কে বা কারা এ খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, চারজনকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। খুনের দায় স্বীকার করে আইএসের বিবৃতি প্রসঙ্গে বলেন, সব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। ধর্মীয় দ্বন্দ্বে খুনের অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে। এটিকে পরিকল্পিত খুন উল্লেখ করে এসপি বলেন, খুনিরা ঘটনাস্থলে কোনো আলামত রেখে যায়নি।


সরেজমিন

কাঠের খুঁটির ওপর টিনের চালার ঘর। স্থানীয় লোকজন এই ঘরকে বলে ‘মাচান’। ঘরে ওঠার সিঁড়িতে বসে আছেন নিহত বৌদ্ধ ভিক্ষু ধাম্মা ওয়াসার (উ গাইন্দ্যা) ছোট ছেলে অং চা থোয়াই চাক। কেমন আছেন জিজ্ঞেস করতেই বলেন, ‘কখন কারা কী করে ফেলে আতঙ্কে থাকি। কাজ করতে যেতেও ভয় হয়। যেদিন বাবাকে খুন করা হয়েছে সেদিন থেকে ঘর থেকে বের হই না।’

খাবার কিনতে বাজারে যান না, এই প্রশ্নে অং চা থোয়াই চাক বলেন, ‘চাল আগে থেকে ছিল। কোনো রকমে আছি। খাওয়ার চাইতে প্রাণে বেঁচে থাকাটা জরুরি।’ গত মঙ্গলবার দুপুরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের দুর্গম উপরচাকপাড়া গ্রামের নিজ ঘরে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। গত ১৪ মে ভোরে তাঁর বাবা ভিক্ষু ধাম্মা ওয়াসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় ও ঘাড়ে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ বলছে, জঙ্গি হামলা, বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব বা জমিসংক্রান্ত বিরোধ এই হত্যার পেছনে কাজ করেছে কি না সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুবছর আগে ধাম্মা ওয়াসার নতুন ভিক্ষু হওয়ার কারণে এ নিয়ে তৈরি হওয়া ধর্মীয় দ্বন্দ্বকেও হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে কেউ কেউ মনে করছেন।

AT-15

ভিক্ষু খুনের পর থেকে আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামবাসী। তাঁরা রাত জেগে পালাক্রমে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন। দিনেও গ্রামে অপরিচিত কাউকে ঢুকতে দেখলে কয়েকজন মিলে তাঁর (আগন্তুকের) পরিচয় জানতে চান।
উপরচাকপাড়ার কার্বারি (গ্রামপ্রধান) মং কৈলা চাক বলেন, ধাম্মা ওয়াসার খুনের পর চাকপাড়াবাসীর মধ্যে ভয় কাজ করছে। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা উচিত। লোকজনের আতঙ্ক দূর করতে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রশাসনকে বলেছেন তাঁরা।

বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভিক্ষু খুনের ঘটনার পর থেকে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

হানাহানি ও খুনখারাবির ঘটনা উপরচাকপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা স্বাধীনতার ৪৫ বছরে কখনো দেখেনি বলে জানান চাক সম্প্রদায়ের নেতা চিং হ্লা মং চাক। তিনি বলেন, দেশে চাক সম্প্রদায়ের বাস কেবল নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়। এই সম্প্রদায়ের লোকসংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার। এর মধ্যে বাইশারী ইউনিয়নের চারটি চাক পাড়ায় একসঙ্গে প্রায় এক হাজার ব্যক্তি থাকে। অন্যরা উপজেলা সদর ও বিভিন্ন ইউনিয়নে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

ভিক্ষু হত্যার ২২ দিন পর ৫ জুন জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) হত্যার দায় স্বীকার করেছে। জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’ আইএসের সংবাদ সংস্থা আমাকের বরাত দিয়ে এক টুইটার বার্তায় এ খবর প্রচার করে। হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহত ব্যক্তির ছেলে অং চা থোয়াই চাক বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর রোহিঙ্গা আবদুর রহিম ও জিয়াউল হক এবং ছামং চাক ও সরোয়ার নামের চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ছামং চাকের খালু আলুমং দাবি করেন, ছামং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। প্রকৃত আসামিকে না ধরে পুলিশ নিরীহ লোকজনকে হয়রানি করছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের রামু উপজেলার ঈদগাহ এলাকা থেকে ২২ কিলোমিটার পূর্বে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের বাজার। এখান থেকে মোটরসাইকেল বা টমটমে চড়ে সাত কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে গেলে উপরচাকপাড়া গ্রাম। প্রবেশমুখে উপরচাকপাড়া বৌদ্ধবিহার। গ্রামের নামে এই বিহারের নাম। এখান থেকেই গ্রামের শুরু। সেখান থেকে উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ চলে গেছে গ্রামের ভেতরে।

পুরো গ্রামে হাঁটা ছাড়া যাতায়াতের আর কোনো উপায় নেই। গ্রামের একেবারে শেষ প্রান্তে একটি পাহাড়ের পাদদেশে দুই বছর আগে নতুন আরেকটি বিহার গড়ে তোলেন ধাম্মা ওয়াসার। নতুন বিহারটি গড়ে তোলার আগে ধাম্মা ওয়াসার উপরচাকপাড়া বিহারের ভিক্ষুর সঙ্গে থাকতেন।

মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, বৌদ্ধবিহারটির ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মোমবাতি, কাপড়, মশারিসহ নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র। বিহারের পাশে ইট দিয়ে ধ্যানের জন্য তৈরি করা হচ্ছিল চার হাত দৈর্ঘ্য ও দেড় হাত প্রস্থ একটি ছোট্ট ঘর। কিন্তু ঘরটি তৈরি হওয়ার আগেই দুর্বৃত্তরা খুন করে ধাম্মা ওয়াসারকে।

বিহারটির আশপাশে কোনো বসতি নেই। ৬০০ গজ পূর্বে বসতি (উপরচাকপাড়া) রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বৌদ্ধবিহার ও উপরচাকপাড়ায় কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়নি। স্থানীয় লোকজন জানান, ঘটনার দিন পুলিশ এসেছিল। এ ছাড়া কয়েকবার তদন্তের জন্য এসেছে। কিন্তু এলাকার নিরাপত্তায় কোনো টহল পুলিশ থাকে না।

উপরচাকপাড়ায় খুনের ঘটনা ঘটলেও বাকি তিনটি চাকপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় কাজ করছে বলে জানান হেডম্যান চাকপাড়ার বাসিন্দা রবিন চাক। তিনি বলেন, দিনে লোকজন প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলেও সন্ধ্যার আগেই ঘরে ঢুকে পড়ে।

উপরচাকপাড়া বৌদ্ধবিহারের ভিক্ষু ধাম্মাতেজা ভান্তে মঙ্গলবার দুপুরে বিহারের সামনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগে বিহারে একা থাকতাম। এখন বাইরে লোকজন থাকে। এলাকাবাসী রাত জেগে পালাক্রমে পাহারায় থাকেন।’ বিহার ও চাকপাড়াবাসীর নিরাপত্তা জোরদারেরও দাবি জানান তিনি।

উপরচাকপাড়া গ্রামের কৃষক ক্যাহ্লা অং চাক বলেন, ‘প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে থাকি। আমাদের নিরাপত্তা বাড়ানো উচিত।’

স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য থোয়াই ছালা চাক বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ও চাকপাড়ায় কোনো খুনাখুনি হয়নি। খুনের ঘটনায় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার পর পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। দিনে কোনো পাহারা না থাকলেও রাতে পালাক্রমে পুলিশি টহল থাকে এলাকায়।

– সূত্র: প্রথম আলো

পানছড়ি নালকাটা বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ আনন্দ পাল থের’র পরলোক গমন

শোক সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার:

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার নালকাটা আম্রকানন জনকল্যাণ বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ আনন্দ পাল থের বার্ধক্য জনিত কারণে সোমবার রাত ১২.৫২ টায় ইহলোক ত্যাগ করে পরলোকে গমন করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। ভিক্ষুত্ব জীবনে তিনি ১২বছর বর্ষাবাসে অতিবাহিত করেন। জেলার মহালছড়ি উপজেলার লিমুছড়ি গ্রামে তার জন্ম। গৃহ জীবনে তার নাম ছিল হৃদয় রঞ্জন চাকমা।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার বেলা ১টায় পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ কর্তৃক বিহার প্রাঙ্গনে এক শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ভান্তে সুমনা মহাথের। বিশেষ অতিথি ছিলেন উ. সুরিয়া মহাথের, শাসনা প্রিয় মহাথের, নন্দপ্রিয় থের ও জিতানন্দ থের।

এ সময় প্রধান আলোচক ছিলেন ড. দীপংকর থের, আদিরত্ন ভিক্ষু, নালাকাটা বিহারাধ্যক্ষ লোক জ্যোতি ভিক্ষু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পানছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সর্বোত্তম চাকমা, ৪নং লতিবান ইউপি চেয়ারম্যান শান্তিজীবন চাকমা, বিহার সভাপতি রসিক মোহন চাকমা।

এদিকে নালকাটা আ¤্রকানন জনকল্যাণ বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ আনন্দ পাল থের’র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পানছড়ি প্রেস ক্লাব সভাপতি এস চাঙমা সত্যজিৎ। আজ তাকে পেটিকাবদ্ধ করা হয় এবং আগামী ৪মার্চ প্রয়াতের অন্তোষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধাস্ত গ্রহণ করা হয়।

নাইক্ষ্যংছড়িতে বৌদ্ধ জাদি মন্দিরে হামলা ও মূর্তি ভাংচুরের ঘটনায় দুই খ্রিস্টান যুবক আটক

 

111 (1)

বাইশারী (নাইক্ষ্যংছড়ি) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের উত্তর চাক পাড়া (শিয়া পাড়া) বৌদ্ধ জাদি মন্দিরে হামলা ও মূর্তি ভাংচুরের ঘটনায় বৌদ্ধ ধর্ম থেকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃত দুই যুবক ইউনিয়নের মধ্যম চাক পাড়ার বাসিন্দা আথুই চাকের পুত্র অংচাই চাক (১৫) ও একই গ্রামের বাসিন্দা খিজারী চাকের পুত্র চক্রাঅং চাক (১৬)।

এদিকে সোমবার সকাল ১০টায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আনিছুর রহমান, বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক, মুক্তিযোদ্ধা মংশৈপ্রু চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা বাবু ধুংছাই মার্মা, হেডম্যান মংছানু চাক, জেএসএস নেতা মংনু হেডম্যান, বাবু নিউহ্লামং মার্মা, মংরি চাক, ওয়াইক্যং চাক, থোয়াইচাহ্লা চাক, হেডম্যান মংথোয়াইহ্লা মার্মাসহ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৌদ্ধ ধর্মীয় লোকজন।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, মূর্তি ভাংচুর ও হামলায় ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ২ যুবক এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

 উল্লেখ্য, গত ৮জানুয়ারি শুক্রবার মূর্তি ভাংচুরের ঘটনা নিয়ে ৯ জানুয়ারি ২ যুবককে সামাজিকভাবে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে ঘটনার নিষ্পত্তি করা হলেও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন এসব মানতে রাজি না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সোমবার মামলা দায়ের করা হয়।

নাইক্ষ্যংছড়িতে বৌদ্ধ জাদি মন্দিরে নব্য খ্রিস্টানদের হামলা: মূর্তি ভাংচুর

01

বাইশারী (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মধ্যম চাকপাড়া সংলগ্ন শিয়া পাড়া বৌদ্ধ জাদি মন্দিরে একদল নব্য খ্রিস্টান হামলা চালিয়ে একটি মূর্তি ভাংচুরসহ অনেক গুলো মূর্তি বেদী থেকে সরিয়ে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী চাক পাড়ার লোকজন জানান।

জানা যায়, সম্প্রতি বাইশারী ইউনিয়নের মিশনারী তৎপরতার ফলে উপজাতীয় পল্লী চাক পাড়ায় কিছু উঠতি বয়সী চাক যুবক বৌদ্ধ ধর্ম থেকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে। এ নিয়ে বিগত ২০১৫ সালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছিল স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে আঞ্চলিক পরিষদ থেকে তদন্তপূর্বক গণশুনানীও হয়েছিল।

এ সংক্রান্ত আরো খবর পড়ুন


  1. ♦এবার মিশনারীদের বিরুদ্ধে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ আনলেন বান্দরবানের চাক সম্প্রদায়ের বৌদ্ধরা

  2.  চাক সম্প্রদায়কে ধর্মান্তরকরণ: আঞ্চলিক পরিষদের তদন্ত টিম নাইক্ষ্যংছড়িতে

  3. আলীকদমে আর্থিক লোভ দেখিয়ে বৌদ্ধ থেকে ৩৩ জনকে খৃস্টান বানানোর অভিযোগে সেভেন্থ ডে এ্যাডভেন্টিস্ট মিশনারীর ৫ জন আটক

  4.  ধর্মান্তরকরণের অভিযোগে বান্দরবানে এনজিও কমপেশন-এর কার্যক্রম বন্ধ

  5.  খাগড়াছড়িতে পর্যটকের ছদ্মাবরণে চলছে ধর্মান্তরকরণ মিশন

  6.  পার্বত্য তিন জেলায় খৃষ্টীয়করণে বেপরোয়া মিশনারী চার্চগুলো

  7.  পার্বত্য এলাকায় এনজিওর নামে ধর্মান্তরকরণ

  8.  স্বার্থের প্ররোচনায় হারিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতি

  9.  পার্বত্য এলাকায় এনজিওর নামে ধর্মান্তরকরণ

  10.  পার্বত্য চট্টগ্রামে অপ্রতিরুদ্ধ খ্রিস্টান মিশনারিরা

  11.  পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা-বাঙ্গালী প্রত্যাহার ও খ্রিস্টান অঞ্চল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন


 

শুক্রবার নব্য খ্রিস্টান ও এলাকার বৌদ্ধ ধর্মীয় লোকজনের সাথে মন্দিরে উপাসনা নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে জাদি মন্দিরে অবস্থিত মূর্তিগুলো বেদী থেকে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে এবং একটি মূর্তি ভাংচুর করে তারা।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তসলিম ইকবাল চৌধুরী, ছাত্রলীগ সভাপতি চুচুমং মার্মা, বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক, আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আলম কোম্পানী, বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আনিসুর রহমান, বাইশারী বাজার সভাপতি ও যুবলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর, ছাত্রলীগ সভাপতি মো. শাহীনসহ অন্যান্যরা।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য থোয়াইচাহ্লা চাক বলেন, বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মিমাংসার চেষ্টা চলছে তাই কোন ধরনের অভিযোগ করা হয়নি।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত অস্থিরতার নেপথ্যে

images-ববব

সালিম অর্ণব

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সংঘাত ও সাম্প্রতিক উত্তেজনার মূল শিকড়টা খুঁজতে গেলে প্রথমে চোখ বুলাতে হয় ইতিহাসের পাতায়। স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উগ্রবাদী বৌদ্ধ আর স্থানীয় আদিবাসীদের মধ্যে ধর্মান্তরিত হওয়া মুসলিম গোষ্ঠীর সংঘাত চলতে থাকে যুগের পর যুগ।

অন্যদিকে সামরিক শাসনের কষাঘাতে জর্জরিত মিয়ানমারের মানুষ শান্তি বলতে সত্যিকার অর্থে কী বোঝায়, সেটা প্রত্যক্ষ করতে পারেনি দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে। একের পর এক সামরিক জান্তার দুর্বিষহ শোষণ আর গণনিপীড়নে অস্থির জনজীবনে আরেক বিভীষিকার নাম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। বিশ্বজুড়ে গণমানুষের মনে একটি ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে যে, বৌদ্ধমাত্রই শান্তিপ্রিয়, দাঙ্গা-ফ্যাসাদ থেকে দূরে থাকা মুণ্ডিত মস্তকের বিদ্বান ব্যক্তি; যা মিয়ানমারের মৌলবাদী বৌদ্ধদের সঙ্গে একটুও মেলানো যাবে না। বেসামরিক জনতার ওপর সামরিক সরকারের দলনের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মানুষের প্রাণ যেখানে ওষ্ঠাগত, সেখানে যুক্ত হয়েছে মাদকের কালো ছোবল। পক্ষান্তরে আনুষঙ্গিক নানা দুরবস্থায় মিয়ানমারের উগ্রবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সঙ্গে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সীমান্ত উত্তেজনার ওতপ্রোত সম্পর্ক রয়েছে।

বলতে গেলে বিগত এক দশকে মিয়ানমারের কোনো সংবাদপত্রের পাতায় এক দাঙ্গা-ফ্যাসাদ বাদে উল্লেখযোগ্য সংবাদ ছাপা হয়নি, যাতে মানুষ আশাবাদী হতে পারে। অং সাং সু চি নামমাত্র শান্তির বারতা নিয়ে মিডিয়া স্টান্ট হাজির করে নোবেল জিততে পেরেছেন ঠিকই। কিন্তু আমজনতার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরিয়ে দিতে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ— এটা এখন বলা যেতেই পারে।

সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবিরোধ, যার সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আর্থ-রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত রয়েছে। বলতে গেলে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের এ সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে অনেক নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায় নরেন্দ্র মোদির আগমন, দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে রুশ-মার্কিন-চৈনিক ভাবনার বিপ্রতীপে ভারতীয় বিদেশনীতি— সবই অবস্থাবিশেষে গুরুত্বের দাবি রাখে।

দৈনিক সংবাদপত্রগুলো থেকে জানা যায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ২৮ মে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে বিজিবির নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান নিহত হন। এ সময় দখল-সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলায় দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘসময় গুলি বিনিময় হয়। এ গুলি বিনিময়ে হতাহতের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। মিজানের মৃত্যুর পর সাময়িক বিরতি দিয়ে ৩ জুন ওই সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, আবার গোলাগুলির খবর শোনা যায় সংবাদ মাধ্যমগুলোয়। উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে ৫ জুন মিয়ানমারের মংডুতে বিজিবি ও বিজিপির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পতাকা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। এই বিশেষ বৈঠকে তারা সুবেদার মিজানের হত্যার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে। কিন্তু ঠিক তার পরদিনও সীমান্তে গুলিবর্ষণ অব্যাহত ছিল বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে।

হঠাৎ করে অভ্যন্তরীণ সংকটে জর্জরিত মিয়ানমারের অপেক্ষাকৃত দুর্বল সীমান্তরক্ষীদের বিজিবির ওপর চড়াও হওয়াটা কোনো আশার কথা বলে না। এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অনেক প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এ সীমান্তে হঠাৎ করে উত্তেজনা বাড়ল কেন? মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীইবা কোন দুঃসাহসে এবং কার ইন্ধনে কোনো হুঁশিয়ারি ছাড়া গুলি করে হত্যা করল বিজিবি সদস্যকে? অনেক বিশ্লেষক এটাকে নিছক দুর্ঘটনা কিংবা ভুল বোঝাবুঝির ফল হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইবেন, যেটা কোনো অংশেই ঠিক নয়; উপরন্তু এ-জাতীয় বিভ্রান্তিকর চিন্তা ওইসব বিশ্লেষকের রাজনৈতিক সচেতনতা, প্রজ্ঞা ও শিষ্টাচারকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে। একটু খেয়াল করলে সাধারণ্যেই স্পষ্ট হয়, এ গোলাগুলি কোনো ভুল বোঝাবুঝির ফল নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কারো উসকানির ফল। বিশেষ করে এই গুলি ছোড়া যদি ভুল বোঝাবুঝিই হবে, তাহলে দ্বিতীয়বার মিয়ানমারের বিজিপি বাংলাদেশী বিজিবির ওপর গুলি ছুড়ত না।

পররাষ্ট্রনীতির কিছু বিষয় ছাড়াও অর্থনৈতিক দিক থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা করাটা বাংলাদেশের জন্য খুব জরুরি। অন্যদিকে সে বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমারও বেশ ওয়াকিবহাল। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়েই বিমসটেকের সদস্য। পাশাপাশি বিসিআইএম নামক উপআঞ্চলিক জোটেও মিয়ানমার রয়েছে। এর থেকে ধরে নেয়াই যেতে পারে মিয়ানমারের পূর্ণ অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশ তার পূর্বমুখী নীতিতে সাফল্যের মুখ দেখবে না। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের চলমান সীমান্ত উত্তেজনা আর যা-ই হোক, দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বিশেষ টানাপড়েন সৃষ্টি করেছে; যা প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশেরই ক্ষতির কারণ। যেমন— কুনমিং-কক্সবাজার সড়কের ব্যাপারে বাংলাদেশের আগ্রহ থাকলেও সীমান্ত সংঘাতে সৃষ্ট শীতল সম্পর্ক মিয়ানমারের পক্ষে এ সড়কের অনুমতি প্রদানের অন্তরায় হিসেবে কাজ করবে। প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়কের মাধ্যমে কুনমিংয়ের সংযুক্তির কথা থাকলেও তা এখন ঝুলে পড়েছে।

মিয়ানমারের সাম্প্রতিক রাজনীতির পুরোটাই সেনাশাসকদের অধীনে পর্যুদস্ত। নোবেলজয়ী নেত্রী সু চি শুধু মুখে মুখে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বললেও পর্দার আড়ালে কাজ করে সেখানে একটি মৌলবাদী বৌদ্ধরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করেছেন। আর এজন্য সুকৌশলে কিংবা সরাসরি শক্তি প্রয়োগ করে আদিবাসী মুসলিমদের উত্খাত করাটা তাদের জন্য খুব জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে। জেনারেল নে উইনের আমলে আরাকানে জাতিগত আন্দোলন দমনের নামে ১৯৭৮ সালে যে নাগামিন ড্রাগন অপারেশন চালানো হয়েছিল, তার কালো থাবা আরো বেশি করে উসকে দেয় জাতিগত দাঙ্গাকে। তখনকার আরাকান ন্যাশনাল লিবারেশন পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে হত্যা করা হয় হাজার হাজার মুসলিম নারী-পুরুষ, শিশুকে। তাদের আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, নিপীড়ন ও ধর্ষণে বাধ্য হয়ে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আর মিয়ানমারের সামরিক শাসক থেকে শুরু করে গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী নেত্রী সু চি সবাই এটাকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন। তাদের মনে বদ্ধমূল ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয় যে, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যত বেশি অত্যাচার করা হবে, তারা প্রাণভয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে ছুটতে থাকবে, প্রকারান্তরে অনেক পরিষ্কার হয়ে যাবে মৌলবাদী বৌদ্ধরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ।

রোহিঙ্গাদের ক্রমাগত আগমন জনসংখ্যার ভারে বিধ্বস্ত বাংলাদেশের জন্য উটকো সমস্যা হয়ে দেখা দেয়। ধর্মীয় ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রথম প্রথম বাংলাদেশের কিছু মানুষ উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি দেখায়। কিন্তু ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে উপস্থিত হয়। বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কামনা করে এবং তার ফলও লাভ করে বেশ দ্রুত। ১৯৭৯ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি কিছু শরণার্থী রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফেরার পথ করে দেয়। এ সময় বাদ সাধে নাগরিকত্ব আইন। এর মাধ্যমে মিয়ানমার সরকার ১৯৮৩ সালের পর মিয়ানমারে আগত রোহিঙ্গাদের ভাসমান নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করে। বলতে গেলে এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের পক্ষে সম্পত্তি অর্জন, রাজনৈতিক অধিকার ও অবাধ চলাচল একরকম নিষিদ্ধই হয়ে যায়। পাশাপাশি এ আইনও করা হয় যে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অন্য প্রদেশে গিয়ে বাস করতে পারবে না। উচ্চশিক্ষার সুযোগ না থাকার পাশাপাশি দুই সন্তানের বেশি হলে পিতামাতার ওপর নির্যাতন চালায় সামরিক বাহিনী, অনেক ক্ষেত্রে শিশুসন্তানকে হত্যাও করে তারা। রোহিঙ্গাদের বিয়েতে পর্যন্ত আরোপ করা হয় বিশেষ নিয়ন্ত্রণ। ফলে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আবার দলে দলে পাড়ি জমাতে থাকে বাংলাদেশ সীমান্তে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা চাইছে না রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাক। উপরন্তু তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে। সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুটি মিয়ানমারেরই রাজনৈতিক সমস্যা, যার অংশ বাংলাদেশ নয়। কিন্তু তারা রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন, আরাকান রোহিঙ্গা ইসলামিক ফ্রন্ট, আরাকান ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন— এসব সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ সীমান্তে জোরপূর্বক পুশইন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা তত্পর থাকায় মিয়ানমারের মৌলবাদী বৌদ্ধ গোষ্ঠী ও সামরিক জান্তার কাজ অনেক কঠিন হয়ে গেছে। তাই বিশেষ গোষ্ঠীর নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থায়ী উত্তেজনা বজায় রাখার পথ সুগম করতেই বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালিয়েছে মিয়ানমারের লুন্থিন বাহিনী।

গত মার্চে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়ার পর থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বেশ ভালোই ছিল বলা যেতে পারে। বিশেষ করে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোয় তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন ও বিরোধীদলীয় নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠকও করেন। তখন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্ক বৃদ্ধি, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেয়া হয়। বলা বাহুল্য, তখন বাংলাদেশের সহযোগী হতে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছিল মিয়ানমার। তাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রচিন্তাবিদ সবার মনে এখন একটিই প্রশ্ন মাত্র দুটি মাসের ব্যবধানে এমন কী ঘটে গেছে, যা প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে রক্ত ঝরাচ্ছে? আমাদের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলতে চাইছেন নিছক ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটছে হত্যাকাণ্ড। তবে তার বাইরে আরো কিছু কারণ আছে, যেটা কোনো আশার কথা বলছে না।

বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত শান্ত আছে, এমনটি নয়। বিশেষত আদিবাসী রোহিঙ্গাদের জোর করে বাংলাদেশ পাঠানো, নাফ নদী থেকে বাংলাদেশী জেলেদের পাকড়াও করা, নাইক্ষ্যংছড়ির অরণ্যে কাঠুরিয়াদের নির্যাতন দুটি দেশের শীতল সম্পর্কের কথাই মনে করিয়ে দেয়। অন্যদিকে মাদকের ভয়াবহ ছোবলে বিধ্বস্ত মিয়ানমার গ্রাস করতে চাইছে বাংলাদেশকে। সম্প্রতি বাংলাদেশে আসা প্রাণঘাতী ইয়াবা ট্যাবলেটের মূল উৎস মিয়ানমার। মিয়ানমারের চোরাচালানিদের নিয়ে আসা ইয়াবা ও বিভিন্ন ধরনের ড্রাগস আটকে দিতে সদাতত্পর আমাদের সাহসী সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এগুলোর পাশাপাশি অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া পাঠানোর কাজে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারেও বাধা দেয় বিজিবি সদস্যরা। সম্প্রতি কোস্টগার্ডের সহায়তায় নৌকায় সাগর পাড়ি দেয়া বেশ কয়েকটি বহর আটকে দেয় তারা। বলতে গেলে নিছক দুর্ঘটনা তো নয়ই বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সীমান্তে ত্রাস সৃষ্টির জন্য বিজিবির মিজানুর রহমানকে গুলি করে হত্যা করে লুন্থিন বাহিনী। একে তাই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে গ্রহণ না করে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও উপযুক্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। মিয়ানমার বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশলগত দিক থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রক্ষার প্রয়োজনে অনর্থক সংঘাত ও উত্তেজনা কাম্য নয়।

বৌদ্ধদের হামলার আশঙ্কায় শ্রীলঙ্কায় স্বস্তিতে জুমার নামাজ পড়তে পারলেন না মুসল্লিরা

2bedaa629e1e4bb8fd628261

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

শ্রীলঙ্কার চরমপন্থি বৌদ্ধদের হামলার আশঙ্কায় মুসলমানেরা আজ পবিত্র জুমার নামাজ সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হয়েছেন। সাম্প্রতিক হামলায় চার মুসলমান নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। যে কোনো সময় আবারও হামলা হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

আজ জুমার দিন মুসলমানদের ওপর হামলা হতে পারে, এ আশঙ্কায় দেশটির মুসলিম কাউন্সিল-এমসিএসএল জুমার মূল নামাজের আগে ও পরের বিভিন্ন এবাদত সংক্ষেপ করতে মসজিদের ইমাম ও মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। নামাজ শেষে মুসল্লিরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে মসজিদ থেকে ঘরে ফিরে যান, সে আহ্বানও জানানো হয়েছিল। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে মসজিদের ইমামেরা আজ নামাজের সময় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের খুতবা শুরু করেন এবং দ্রুত নামাজ শেষ করে নিরাপদে মুসলমানদের বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন।

এমসিএসএল’র সভাপতি এন.এম. আমিন বলেছেন, তাদের আহ্বানের প্রতি আলেমরাও সমর্থন জানিয়েছিলেন। এসব সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কারণে শ্রীলঙ্কায় আজ কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- শ্রীলঙ্কার মুসলমানেরকে কি সব সময় আতঙ্কের মধ্যেই থাকতে হবে নাকি সরকার সংখ্যালঘু মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেবে?

গত ১৫ জুন শ্রীলঙ্কার আলুথগামা শহরের একটি মসজিদের কাছে চরমপন্থি বৌদ্ধদের হামলায় অন্তত চার মুসলমান নিহত হয়। এ সময় উগ্র বৌদ্ধদের দেয়া আগুনে পুড়ে যায় শত শত ঘর-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসন মুসলমানদের রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা পালন করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে গতকাল (বৃহস্পতিবার) দেশটির মুসলিম ব্যবসায়ীরা রাজধানী কাবুলে ধর্মঘট পালন করেছে। বৌদ্ধ অধ্যুষিত শ্রীলঙ্কার মোট জনসংখ্যার শতকরা ১০ ভাগ হচ্ছে মুসলমান। কয়েক জন বিশ্লেষক বলেছেন, তালেবান, আল-কায়েদা ও আইএসআইএলের মতো কিছু উগ্র গোষ্ঠীর ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন দেশে ইসলামভীতি ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে সব মুসলমানই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সূত্র: আইআরআইবি, ছবি- বৌদ্ধদের সাম্প্রতিক হামলার চিহ্ন

কঠিন চীবর দানোৎসব উপলক্ষে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের প্রস্তুতিমূলক সভা

RHDC Picture-22-10-13-01 copy

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি:
রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে অনুষ্ঠিতব্য আগামী ১৪-১৫ নভেম্বর ২০১৩ কঠিন চীবর দানোৎসব উপলক্ষে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমার সভাপতিত্বে এবং পরিষদের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহামন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ খোরশেদ আলম সরকার, রাজবন বিহারের যুগ্ন সম্পাদক অমিয় খীসা, নির্বাহী সদস্য রনেল চাকমা রিন্টু, বিজিবি’র প্রতিনিধ সিগ: রতন কান্তি বড়ুয়া, গোয়েন্দা বিভাগের এডি এম এমরুল কায়েস, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সহকারী পরিচালক মোঃ গোলাম মোস্তফা, পুলিশ বিভাগের ডিআইও-১ মোঃ ইসমাইল হোসেন, কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল আলম চৌধুরী, পৌর কাউন্সিলর কালায়ন চাকমা, ডিইজি’র ইয়াকুব, পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী দিলীপ কুমার চাকমা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শামসুদ্দোহা নূরুন্নবী, রাঙ্গামাটি সরকারী কলেজের প্রভাষক শান্তনু চাকমা, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহ-সভাপতি নূরুল আবছার ও জেলা সিভিল সার্জন এর সিনিয়র স্বাস্থ্য বিভাগ অফিসার সুপতি রঞ্জন চাকমা প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ এবং গুরুত্বপূর্র্ণ প্রস্তাবনা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দানোৎসব রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় সুচারুরূপে সম্পন্ন এবং এ অনুষ্ঠানকে  সাফল্যমন্ডিত করতে জেলা প্রশাসন,  পুলিশ বিভাগ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পৌর কর্তপক্ষ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, তথ্য অফিস, বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সিভিল সার্জন’সহ সরকারি অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা  প্রদানের জন্য আহ্বান জানান। 

বান্দরবানে আতশবাজির আলোর ঝলকানি, রং-বেরঙের ফানুস আর রথ টানার মধ্যদিয়ে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে পালন

Bandarban roth 21.10

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আতশবাজির আর আলোর ঝলকানি, রং-বেরংয়ের বর্ণিল ফানুস, মহারথ টানাসহ বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বান্দরবানের ৭টি উপজেলার বৌদ্ধ অনুসারী মারমাদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ উৎযাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবের মূল আয়োজন ছিল রোববার রাতে। সন্ধ্যার পর থেকে শহরের রাজার মাঠ ও মারমা পাড়াগুলোর আনাচে-কানাচে ফানুস উত্তোলনে মেতে উঠে মারমা’রা। শহরের প্রধান বৌদ্ধ ক্যায়াং (মন্দির) থেকে বিশাল আকৃতির রথ টেনে মধ্যম পাড়া এলাকার প্রধান সড়কে ঘুরানো হয়। রোববার মধ্যরতে শহরের সাঙ্গু নদীতে রথ বিসর্জন দেওয়ার মধ্যে দিয়ে ইতি টানা হয় মারমাদের বর্ণিল এই ধর্মীয় উৎসবের মূল আয়োজন। অন্যদিকে পাহাড়ের বৌদ্ধ অনুসারী বড়ুয়া’রা মারমাদের একদিন আগে এই উৎসব পালন করেন।

শহরের পুরাতন রাজবাড়ির মাঠ থেকে ‘ছংরাসিহ্ ওয়াগ্যোয়াই লাহ্ রাথা পোয়েঃ লাগাইমে’ (সবাই মিলে মিশে রথযাত্রায় যায়) মারমা’রা এই বিশেষ গানটি পরিবেশন করে মহারথ টানে মারমা তরুন-তরুনীরা। এ সময় পাংখো নৃত্য পরিবেশন আর রথ টানতে শত শত উপজাতিরা রাস্তায় নেমে আসে।
বৌদ্ধধর্মালম্বীরা রথে মোমবাতি জ্বালিয়ে ঈশ্বরের কাছে আর্শিবাদ কামনা করে। পার্বত্য জেলার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মারমা’রা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ নামে প্রবারণা পূর্ণিমা পালন করে থাকে। আর এই উৎসব আনন্দে ভাসার জন্য বছরের এই দিনটির আগমনের জন্য মুখিয়ে থাকে মারমা সম্প্রদায়।

উৎসব উৎযাপন কমিটির সূত্র জানায়, এর আগে স্থানীয় রাজার মাঠে শত শত ফানুস উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বীর বাহাদুর এমপি। উক্ত অনুষ্ঠানের অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় মন্ত্রনালয়ের সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহিদ খান, রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইফ সিদ্দিকি, পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, জেলা প্রশাসক কে এম তারিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার দেবদাস ভট্টাচার্য্, অতিরক্ত জেলা মেজিষ্ট্রট ঈসরাত জামান, জোন কমান্ডার কমান্ডার লে. কর্ণেল ইরফানুল ইসলাম, বিগ্রেড মেজর মশিউরসহ সরকারী-বেসরকারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী বিভিন্ন শ্রেণীর জনগন উপস্থিত ছিলেন।

ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ উৎযাপন কমিটির সভাপতি অংচ মং মারমা বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও নির্বিগ্নে ওয়াগ্যোয়াই পালন করছি। তবে অর্থের অভাবে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ের আগের জুলুস হারিয়ে যাচ্ছে।
রোববার সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত শহরের ধর্মীয় ক্যাং বা বিহারগুলোতে প্রার্থনা এবং ছোয়াইং দানের জন্য পূণ্যার্থীদের ভিড় লেগে থাকে। রাতে মন্দিরে হাজার প্রদীপ বাতি জ্বালিয়ে মারমারা আনন্দে মেতে উঠে। মারমা অধ্যুষিত পাড়ায় পাড়ায় তৈরি করা হয় বিভিন্ন ধরনের পিঠা-পুলি।

গত ৯ অক্টোবর হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ এর অনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়।  অনুষ্ঠানের শুভ উদ্ভোধন করেন বোমাং রাজা প্রকৌশলী উচ প্রু। গত শুক্রবার থেকে পাহাড়ের আকাশে বর্নিল ফানুসে ঢেকে যেতে শুরু করে। রোববার মধ্যরতে শহরের সাঙ্গু নদীতে রথ বিসর্জন দেওয়া হয় এবং এর মধ্যে দিয়ে ইতি টানা হয় মারমাদের বর্ণিল এই ধর্মীয় উৎসবের মূল আয়োজন।

বৌদ্ধ অনুসারীরা তিন মাসব্যাপী বর্ষাবাস শেষ করে এবং শীল পালনকারীরা পূর্ণিমার দিনে বৌদ্ধ বিহার থেকে নিজ সংসারে ফিরে যান আর এই কারণে বৌদ্ধধর্মালম্বীদের কাছে এই দিনটি বেশ তৎপর্যপূর্ণ।

টেকনাফে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব শুরু

 

মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান,টেকনাফ:

টেকনাফে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে টেকনাফের বৌদ্ধ ক্যাং গুলো সাজানো হয়েছে বিহারে সাজসজ্জা। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন আকাশে ফানুস উড়িয়ে সাম্প্রদায়িক অন্ধকার দূর করার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। সম্প্রীতি ফানুসের আলোয়, দূর হোক সাম্প্রদায়িক অন্ধকার’ এ স্লোগানে শনিবার সকাল থেকে দুইদিন ব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়।  বৌদ্ধ বিহারগুলো একযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধর্মীয় উৎসবের সূচনা হয়। রাখাইন-বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের টেকনাফের সভাপতি জজ চৌধুরী  জানান- মহান পূর্ণিমার দিনে ফানুস উড়ানো হবে।

এদিকে, পরিষদের অন্য সদস্য কিউ মং চিং জনি জানান- শনিবার ভোর প্রভাত ফেরী সহকারে বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধপূজার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সকাল ৮টায় বিহারে ধর্মীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সাড়ে ৮টায় অষ্ট শীল গ্রহণ, বিকেল ৪টায় বিহারে ধর্মীয় সভা, সন্ধ্যা ৬টায় হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ফানুস উত্তোলন, সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত প্রার্থনার কর্মসূচি পালন করেন।