৪ সেপ্টেম্বর পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনের বৈঠক

সংশোধিত কমিশন আইন বাতিলের দাবীতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খাগড়াছড়ি বাঙালি ছাত্র পরিষদের স্বারকলিপি

Khagrachari Picture(02) 28-08-2016

নিজস্ব প্রতিবেদক::

আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন বৈঠকে বসছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিশনের সচিব মো: রেজাউল করিম। তবে এখনো এ সংক্রান্ত চিঠি ইস্যু হয়নি।একইভাবে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান।

দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দুই বছর পর এটি হবে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনের ৫ম চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার-উল হকের প্রথম বৈঠক। ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের এই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে পার্বত্য ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই মাসে ১৩(সেপ্টেম্বর) তিনি খাগড়াছড়ি এসে যোগদান করেন। তবে আইন সংশোধনের পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদসহ পাহাড়ি সংগঠনগুলোর দাবীর মুখে তিনি এতোদিন কাজ শুরু করতে পারেন নি।


ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন সংক্রান্ত আরো খবর

  1. ♦  আদিবাসী প্রসঙ্গ এবং ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন
  2.  ভূমি কমিশন আইন: পার্বত্যাঞ্চল থেকে বাঙালী উচ্ছেদের হাতিয়ার
  3.  ভূমি কমিশন আইন-২০১৬ কার্যকর হলে জুম্ম ল্যান্ডের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে- মে. জে.(অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইব্রাহীম বীরপ্রতীক
  4.  ভূমি কমিশন আইন পাশের নামে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে- ওয়াদুদ ভুঁইয়া
  5.  ‘ভূমি কমিশন (সংশোধীত) আইনে অনিশ্চয়তার মুখে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও বাঙালীর ভবিষ্যৎ’
  6.  কি ঘটবে পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন সংশোধন প্রস্তাব কার্যকর হলে?
  7.  পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন এবং কিছু প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন?
  8.  পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন- ২০১৬ অধ্যাদেশ জারি
  9.  ভূমি কমিশন আইন সংস্কার: আদালতের কার্যপরিধি খর্ব হওয়ার আশংকা
  10.  ভূমি কমিশন সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদন: নীরব বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলো
  11.  ভূমি কমিশন আইন সংশোধনে প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার খর্ব
  12.  পার্বত্য ভূমি কমিশনের কার্যক্রম অচল!

অবশেষে গত ১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ভেটিং সাপেক্ষে ‘পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ৯ আগস্ট তা অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

Khagrachari Picture(01) 28-08-2016

এদিকে সংশোধিত পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন আইন বাতিলের দাবীতে আজ রবিবার সকালে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বারকলিপি দিয়েছেন। বেলা ১১টায় খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামানের মাধ্যমে এ স্বারকলিপি দেওয়া হয়।

এ সময় পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইন উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এস এম মাসুম রানা, যুগ্ম সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম,সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মোসতফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।

বাঙালী সংগঠনগুলোর দাবী সংশোধিত ভূমি কমিশন আইন বাস্তবায়ন হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, সরকারের কর্তৃৃত্ব খর্ব হবে। এই ভূমি কমিশনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালীর অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে ১৯৯৯ সালের ৩ জুন গঠিত ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনের প্রথম চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক চৌধুরী কার্যভার গ্রহণের আগেই মারা যান। ২০০০ সালের ৫ এপ্রিল পুনর্গঠিত কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি আবদুল করিম কার্যভার গ্রহনের কিছুদিন পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেন।

২০০১ সালের ২৯ নভেম্বর তৃতীয় দফায় পুনর্গঠিত কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মাহমুদুর রহমান ২০০৭ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির(জেএসএসের) বিরোধিতার কারণে কাজ শুরু করতে পারেননি। জেএসএসের দাবী ছিল আইন সংশোধন।

২০০৯ সালের ১৬ জুলাই বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীকে তিন বছরের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ছিলেন,কমিশনের ৪র্থ চেয়ারম্যান। তার মেয়াদ শেষ হয় ২০১২ সালের ১৮ জুলাই। এর টানা প্রায় দুই বছর কমিশন ছিল শুন্য।

বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহনের পর প্রথম দিকে পার্বত্য জেলায় ভূমি জরিপের জন্য উদ্যোগ নিলে সন্তু লারমাসহ কমিটির সদস্যও পাহাড়ি সংগঠনগুলোর আপত্তির মুখে পিছু হটেন। পরবর্তীতে তিনি বিরোধ নিস্পত্তির জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করলে প্রায় সাড়ে চার হাজার আবেদন জমা পড়ে। আবারও আপত্তির মুখে পড়েন।

কিন্তু চেয়ারম্যান তার অবস্থানে অনঢ় থাকলে কমিশনের আইন সংশোধন ও পাহাড়িদের প্রথাগত ভূমি অধিকার নিশ্চিত করার দাবীতে কমিটির অন্যতম সদস্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির(জেএসএস) একাংশের প্রধান ও আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ওরফে সন্তু লারমা কমিশনের আইন সংশোধনের দাবীতে বৈঠক বর্জন শুরু করে। এর পর থেকে অপরাপর পাহাড়ি সদস্যরাও ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনের বৈঠক বর্জন শুরু করলে কমিশন অকার্যকার হয়ে পড়ে।

পাশাপাশি ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’র (ইউপিডিএফ) ও জুম্ম প্রতিনিধি সংসদসহ পাহাড়ি সংগঠনগুলোও একই দাবীতে আন্দোলনে নামে। কিন্তু কমিশন চেয়ারম্যান বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী আইনের বিশেষ বিধান বলে শুনানী অব্যাহত রাখেন।