আল্টিমেটাম ও জুতা বৃষ্টির মুখে খাগড়াছড়ি ছাড়তে বাধ্য হলো সিএইচটি কমিশন


দিঘীনালা উপজেলার উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের সাথে প্রায় ১২৯ কিঃ অরিক্ষত সীমান্ত রক্ষায় বাধাঁ দিচ্ছে কতিপয় পাহাড়ি আর তাদের দোসর সিএইচটি কমিশন- অভিযোগ পিবিসিপি’র

রর

নিজস্ব প্রতিনিধি:

পার্বত্যঞ্চল নিয়ে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ এনে খাগড়াছড়িতে সিএইচটি কমিশনের গাড়ী বহরে জুতো নিক্ষেপ করেছে পার্বত্য বাঙালি ছাত্রপরিষদের বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা।

আজ শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে সিএইচটি কমিশনের কো-চেয়ারপারসন সুলতানা কামালের গাড়ী বহর ঢাকায় চলে যাওয়ার সময় এ জুতো নিক্ষেভের ঘটনা ঘটে।

সমপ্রতি খাগড়াছড়ি দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়ায় ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিজিবির ক্যাম্পে স্থানীয় পাহাড়ি ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠির সাথে সংঘর্ষের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের কো-চেয়ারপাসন ও তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামালের নেতৃত্বে পাচঁ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

সিএইচি কমিশনের এ প্রতিনিধি দলটি শুধু পাহাড়িদের পক্ষে কাজ করে,বাঙালিদের এখান থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করছে, বাবুছড়ায় বিজিবি ক্যাম্পে পাহাড়িরা হামলা করে উল্টো বিজিবিদের উপর দোষ চাপানোর ষড়যন্ত্র করছে এক তরফাভাবে তারা শুধু পাহাড়ীদের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিরোধী ষড়যন্ত্র করছে- এই মর্মে অভিযোগ করে পার্বত্যঞ্চলে সিএইচটি কমিশনের সদস্যদের বহিস্কারের দাবীতে শুক্রবার সকালে জেলা চেঙ্গী স্কোয়ারে বিশাল মানব-বন্ধন করে বাঙালি ছাত্রপরিষদ।

সিএইচটি কমিশনের প্রতিনিধিরা পর্যটন মোটেলে অবস্থান করছে জানতে পেরে বাঙালি ছাত্রপরিষদের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মোটেলের সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। এক পর্যায়ে ছাত্রপরিষদের নেতারা কমিশনের প্রতিনিধিদের খাগড়াছড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্যে আধা ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। আল্টিমেটামের দশ মিনিট অতিক্রম হওয়ার পরে নেতারা তাদের প্রতিরোধের হুমকি দিলে সাথে সাথেই পুলিশ পাহারায় সিএইচি কমিশনের প্রতিনিধি দল ঢাকা উদ্দেশে রওয়ানা হন। এর আগে কমিশনের টং রেস্টুরেন্টে সাংবাদিক সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাঙালী ছাত্র পরিষদের বিক্ষোভের কথা জানতে পেরে সাংবাদিক সম্মেলন পর্যটনেই করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং পর্যটন থেকে বিকাল ৩টায় রাঙামাটির উদ্দেশ্যে অবরোধ ভেঙেই যাত্রার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল।

কিন্তু বাঙালী ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার শক্ত অবস্থানের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পুলিশ পাহারায় পর্যটন মোটেল থেকে বের হয়ে মূল গেইটে গাড়ি পৌছালে বিক্ষুদ্ধ বাঙালি নেতাকর্মীরা তাদের গাড়ি বহরে এলোপাতারী জুতো নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় বেশ কিছু জুতা তাদের গাড়িতে এসে পড়ে।  খাগড়াছড়ি সফর করে তারা রাঙামাটি, বান্দরবান যাওয়ার কথা থাকলেও পরে তারা চট্টগ্রামের উদ্দ্যেশে খাগড়াছড়ি ছেড়ে চলে যান।

বিক্ষোভ সমাবেশে বাঙালি ছাত্রপরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বলেন, পার্বত্যঞ্চলে এ সিএইচটি কমিশনের প্রতিনিধিরা বার বার এসে শুধু পাহাড়িদের পক্ষে দালালি করে। আর পাহাড়ের স্থায়ী শান্তি বিনষ্ট করতে তাদেরকে কু-বুদ্ধি দিয়ে গন্ডগোল সৃষ্টি করে। অবৈধ এ সিএইচি কমিশনের সদস্যরা বিদেশীদের এজেন্ট।তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব চায়না। দিঘীনালা উপজেলার উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের সাথে প্রায় ১২৯ কিঃ অরিক্ষত সীমান্ত রয়েছে। এ দীর্ঘ আর্ন্তজাতিক সীমানা রক্ষার জন্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের তিনটি নতুন ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাবুছড়া সীমান্ত রক্ষায় বিজিবি ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। আর এতে বাধাঁ দিচ্ছে কতিপয় পাহাড়ি আর তাদের দোসর সিএইচটি কমিশন। সরকারের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে সিএইচটি কমিশন রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করেছে। তাই এদেরকে পাহাড়ে আর আসতে দেয়া হবেনা।

সিএইচটি কমিশনের প্রেসব্রিফিং

দুই দিনে সফর শেষে সিএইচটি কমিশনের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা খাগড়াছড়ি দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়ায় ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিজিবির ক্যাম্পে স্থানীয় পাহাড়ি ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠির সাথে সংঘর্ষের ঘটনাস্থল পরিদর্শন, বিজিবি কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় শেষে খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলে শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথেও মতবিনিময় করেন। মতবিনিময়ে কমিশনের কো-চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, সংঘর্ষের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেখানে ক্ষতিগ্রস্থ ২১পরিবারের সাথে কথা হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থলের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা সাংবাদিকদের কাছে বর্ণনা করেন। সিএইচটি কমিশন বিদেশীদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে বলে অভিযোগ আছে বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তারা কোন উত্তর দেননি।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের কো-চেয়ারপারসন সুলতানা কামালের নেতৃত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, কমিটির সদস্য ও টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, খুশী কবীর, কমিশনের সদস্য ড. স্বপন আদনান, ও কমিশনের বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েটের সমন্বয়কারী হানা শামস আহমেদ।

এদিকে বাবুছড়ায় ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপনকে কেন্দ্র করে একই সময়ে ও একই স্থান বিবদমান দুটি পক্ষের মানববন্ধনসহ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষনার করায় দুই দিন ধরে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় জারি করা ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকলেও এখন থেকে ১৪৪ ধারার প্রত্যাহার করে নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

সন্ত্রাস ও অপরাধ নির্বিঘ্ন রাখতেই দিঘীনালায় বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের বিরোধিতা করা হচ্ছে

khagrachari pic-(02), 11-06-2014 (khagrachari) pic-(01), 11-06-2014 111

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ১২৯ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্তের মধ্যে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা অংশে রয়েছে ৪৭ কিলোমিটার। এই সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে বিজিবি র কোনো নজরদারী না থাকায় দুই দেশের সন্ত্রাসী, পাচারকারীসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধীরা অপরাধের স্বর্গরাজ্য হিসেবে ব্যবহার করছে।

 

গহীন পাহাড় ও  বন সমৃদ্ধ অত্যন্ত দূর্গম এলাকা হওয়ায় দূর থেকে গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াও সম্ভব হয় না। ফলে রাষ্ট্রীয় ও নাগরিক নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক রক্ষা, সীমান্ত ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস দমন এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ অঞ্চলে নতুন বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের কোনো বিকল্প নেই। নিজ অফিসে পার্বত্যনিউজের নিজস্ব প্রতিনিধি আল আমিনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে দীঘিনালায় নবসৃষ্ট ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে এভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আবুল কালাম আজাদ।

তিনি আরো বলেন, বিজিবি’র ভারতীয় কাউন্টারপার্ট বিএসএফ’র তরফ থেকেও দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে বিজিবি মোতায়েনের অনুরোধ করা হয়েছে। সে কারণে নয়টি নতুন সীমান্ত পর্যবেক্ষণ চৌকি (বিওপি) করতে যাচ্ছে বিজিবি- যারা ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতায় কাজ করবে।

বিজিবি সূত্র মতে, সীমান্তবর্তী নাড়াইছড়ি, টেক্কাছড়া, শিলছড়ি, উত্তর শিলছড়ি, লালতারান, দিপুছড়ি, লক্কাছড়া, উত্তর লক্কাছড়া, ধূপশীল ও আড়ানীছড়া এলাকায় সীমান্ত নিরাপত্তা চৌকিগুলো বসানো হবে। দীঘিনালার বাবুছড়ায় ৪৭ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষায় ১৯৯৫ সালে ব্যটালিয়ন স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ১৮ মে ৫১, বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন-বিজিবি গঠন করা হয়।

পার্বত্যনিউজের দিঘীনালা প্রতিনিধি রাফি পাটোয়ারি জানিয়েছেন,  খাগড়াছড়ি সেক্টরের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মেইন পিলার ২২৭০/৩ এস হতে ২২৮৪/৩ এস পর্যন্ত ৪৭ কি.মি. অরক্ষিত সীমান্তের সুরক্ষা, আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণসহ চোরাচালান প্রতিরোধ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী তৎপরতা দমন কল্পে দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়ায় একটি স্থায়ী বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর স্থাপনের জন্য ২০০৪ সালে এল এ মামলা নং ০২ (ডি)/২০০৫ মূলে ব্যক্তি মালিকানাধীন ১৩.৯০ একর এবং খাস ৩১.১০ একরসহ সর্বমোট ৪৫.০০ একর ভূমি হুকুম দখল করা হয় এবং সে অনুযায়ী ২০০৪ সালে ৪৫ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব প্রেরণ করা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২৯ ডিসেম্বর ২০০৪ তারিখ প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করা হয়। কিন্তু, সরেজমিনে ভূমি পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় কতিপয় উপজাতি নারী-পুরুষ ঐ জমির মালিকানা দাবি করে। সর্বশেষ খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক ৪৫ একরের মধ্যে ব্যক্তি মালিকানা জমি বাদ দিয়ে ২৯.৮১ একর জমি বিজিবি‘র অনুকূলে অধিগ্রহণ করার জন্য ১৬ জুলাই ২০১৩ কার্যক্রম গ্রহণ করেন। ভূমি অফিসের রেকর্ড অনুযায়ী এর মধ্যে  ২.২০ একর ব্যক্তি মালিকানা জমি রয়েছে। মালিক তিন ব্যক্তি হচ্ছেন বীর সেন চাকমা (১.৫০ একর), পিদিয়া চাকমা (০.৭০ একর) ও রবিজর চাকমা (০.৭০ একর)।

সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে তাদের মালিকানাধীন জমির অধিগ্রহণ বাবদ ক্ষতিপূরণের টাকা বিজিবি থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর ছাড় কারানো হয়েছে। গত ১৬ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা (এলএ শাখা) বরাবর অধিগ্রহণকৃত ২৯.৮১ একর ভূমির ক্ষতিপূরণ বাবদ পনের লাখ আটত্রিশ হাজার দুই শ’ আটষট্টি টাকা সেক্টর সদর দফতর থেকে খাগড়াছড়িতে প্রেরণ করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন এই টাকা গ্রহণের জন্য উক্ত তিন ব্যক্তিকে নোটিশ দিলেও একটি বিশেষ মহলের চাপে তারা টাকা নিতে আসছেন না।

এদিকে প্রস্তাবিত ভূমির ২৭.৬১ একর জায়গার কিছু অংশের মধ্যে একটি পাহাড়ে সেনাবাহিনী ও আনসার ক্যাম্প, একটি পাহাড়ে সেনাবাহিনীর হেলিপ্যাড, একটি পাহাড় পতিত অবস্থায় রয়েছে। অবশিষ্ট কিছু অংশে ৯৩৪, ৯৩৫, ৯৩৬ দাগে অধিগ্রহণের পর রহস্যজনকভাবে ৭টি পরিবার টিনের চালযুক্ত বেড়ার ঘড় নির্মাণ করে বসবাস করছে। অধিগ্রহণের সময়ে বা আগে তাদের এখানে কোনো অবস্থান ছিল না। বসবাসকারী পরিবার প্রধানগণ হচ্ছেন নতুন চন্দ্র কার্বারী, প্রদীপ চাকমা, সুকুমার চাকমা, প্রিয় রঞ্জন চাকমা, বাবুল চাকমা, বিনয় চাকমা ও জ্ঞানেন্দ্র চাকমা। 

গত ১৫ মে ২০১৪ তারিখে বাবুছড়ায় অধিগ্রহণকৃত জমি গ্রহণ করে ৫১, বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন-বিজিবি তাদের কার্যক্রম শুরু করে। বিজিবি‘র কার্যক্রম শুরুর প্রথম থেকেই স্থানীয় পাহাড়িরা একটি বিশেষ আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের মদদে পার্বত্য খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়ায় ৫১, বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন-বিজিবি সদর দপ্তর স্থাপনের বিরোধিতা করে আসছে।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় বিজিবির জোন সদর সদপ্তর স্থাপনকে কেন্দ্র করে গত ১০ জুন বিজিবি-পুলিশ ও উপজাতিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ ও বিজিবির ৬ সদস্যসহ মোট ২২ জন আহত হয়। এ ঘটনাকে পুঁজি করে ভূমি রক্ষা কমিটিসহ ইউপিডিএফ সমর্থিত বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। এবার তারা নতুন কৌশলে নতুন আন্দোলনে যাবে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে

বিজিবি সদর দপ্তরে হামলা ও ভাঙ্গচুরের ঘটনায় বিজিবি›র নায়েক গোলাম রাসুল বাদী হয়ে ১১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৬ জন জেলা হাজতে ও ৪ জন জামিনে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: সাহাদাত হোসেন টিটো। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান দীঘিনালা পুলিশের এ কর্মকর্তা।

৫১ বিজিবি কমান্ডার লে. ক. আবুল কালাম আজাদ পার্বত্যনিউজকে বলেন, মূলত ৫টি কারণে এই নতুন ব্যাটালিয়ন সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রথমতঃ দীঘিনালা অংশের এই ৪৭ কি.মি. সীমান্ত সম্পূর্ণ অরক্ষিত। একটি রাষ্ট্রের সীমানা কখনো অরক্ষিত থাকতে পারে না। তাই এই সীমান্তের সুরক্ষা প্রদানে এই ব্যাটালিয়ন স্থাপন জরুরী, দ্বিতীয়ত: এই ৪৭ কি.মি সীমান্ত অত্যন্ত দূর্গম হওয়ায় বাংলাদেশ-ভারত আন্ত:সীমান্ত অপরাধীরা এই সীমান্ত দিয়ে তাদের নির্ভয়ে তাদের অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। অস্ত্র, মানব, মাদক পাচারসহ সব ধরনের পাচারকাজ এবং অবৈধ যেকোনো ধরনের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ এ ব্যাটালিয়নের কাজ। তৃতীয়ত: উত্তরপূর্ব ভারতীয়  বিচ্ছিন্নতাবাদীরা প্রায়শ: তাদের নানাবিধ অপরাধ কাজে এই মুক্ত সীমান্ত ব্যবহার করে বাংলাদেশের ভেতরে অনুপ্রবেশ করে থাকে। ফলে বিএসএফ’র তরফ থেকে তা নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েনের অনুরোধ আসতে থাকে। বাংলাদেশ অন্যদেশের অপরাধীদের নিজ সীমান্তে প্রশ্রয় না দিতে বদ্ধ পরিকর। চতুর্থত: বাংলাদেশের বিভিন্ন পাহাড়ী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এই দূর্গম সীমান্তে তাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প, আশ্রয়স্থল ও ঘাঁটি নিমার্ণ করেছে। তারা অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে এই অঞ্চলে আশ্রয়গ্রহণ করে থাকে। পঞ্চমত: দূর্গম এই সীমান্ত মূল্যবান বনজ ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। এই সম্পদের সুরক্ষা প্রদান এবং ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা করা। বিশেষ করে এখানে কোনো বাঙালী বসতি নেই। কিন্তু নিরীহ পাহাড়ী জনগণের উপর স্থানীয় সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া চাঁদাবাজিসহ নানাপ্রকার নির্যাতন চালায় তা বন্ধ করতে এই ব্যাটালিয়ন স্থাপন জরুরী।

এদিকে সরকার যখন খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়ায় বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের মাধ্যমে ৪৭ কি.মি. অরক্ষিত সীমান্ত সুরক্ষার মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণসহ চোরাচালান প্রতিরোধ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তখন পার্বত্য চট্টগ্রামের অনিবন্ধিত আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফ’র মদদে বাবুছড়ায় বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন-বিজিবি সদর দপ্তর স্থাপনের বিরোধিতাসহ বিজিবির নির্মাণাধীন সদর দপ্তরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা দেশের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন পাহাড়ের রাজনীতি সচেতন মহল। তারা এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলারও অভিমত প্রদান করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একটি সূত্র পার্বত্যনিউজকে বলেন, নতুন বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপন হলে জনগণের সুবিধা হলেও অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের অসুবিধা হবে। তাই স্থানীয়ভাবে যারা এই ক্যাম্প স্থাপনের বিরোধিতা করছে তারা ঐ সকল অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষক এবং প্রশ্রয়দাতা।

তারা স্থানীয় পাহাড়ী নিরীহ জনগণকে জিম্মি করে ইস্যুটিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে বিকৃতভাবে উপস্থাপনের পাঁয়তারা করছে। সূত্র আরো জানায়, একটি রাষ্ট্রের সীমান্তে কোথায় নিরাপত্তা ক্যাম্প বসবে এটা রাষ্ট্রিয় নিরাপত্তা সংস্থার ভাবনা। এনিয়ে নাগরিকের চাহিদা বাঁধা থাকতে পারে না।  কারণ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারমূলক বিষয়। সেখানে কারো ব্যক্তিগত জমি বা সম্পদ অধিগৃহীত হলে সে উপযুক্ত ক্ষতিপুরণ দাবী করতেই পারে, কিন্তু বাঁধা দিতে পারে না। যে কোনো ধরনের উন্নয়নমূলক কাজেই আমরা এ ধরনের অধিগ্রহণ সারা দেশেই দেখছি। পদ্মা সেতুর কথা উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়। কিন্তু পাহাড়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ  ভিন্ন। এখানে একটি চিহ্ণিত পাহাড়ী গ্রুপ সকল প্রকার উন্নয়নেই বাঁধা সৃষ্টি করে থাকে। সে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই হোক আর নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান হোক। কখনো আর্মি চাই না, কখনো বিজিবি চাই না, কখনো র‌্যাব চাই না বলে আসলে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় এ বিষয়টি জাতীয়ভাবে তুলে ধরা দরকার বলেও সূত্রটি অভিমত প্রকাশ করেন।

 

এ সংক্রান্ত আরও খবর

দীঘিনালার বাবুছড়ায় ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা ও উপজাতি কর্তৃক হামলার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করলেন ঢাকা থেকে আগত সাংবাদিকবৃন্দ

দীঘিনালার বাবুছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে ২১ পরিবার: ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের

দীঘিনালার বাবুছড়ায় বিজিবি জোন সদরে উপজাতিদের হামলা: আহত ২০

দীঘিনালা বিজিবি দফতরে হামলা ও ভাঙ্গচুরের ঘটনায় মামলা

দিঘীনালায় উপজাতি হামলাকারীরা বিজিবি’র স্থাপনা, তাঁবু ও দুটি অস্ত্র ভেঙে ফেলেছে

দীঘিনালায় জোন সদরদপ্তর স্থাপন নিয়ে বিরোধ মেটাতে পাহাড়ী প্রতিনিধিদের সাথে বিজিবি’র বৈঠক

দীঘিনালায় ভূমি রক্ষা কমিটির বিক্ষোভ: ১৫ জুন অর্ধ দিবস অবরোধ

দীঘিনালায় বিজিবি’র ৫১ ব্যাটালিয়নের কার্যক্রম শুরু

 

 

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করা হবে- মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ

Bjb satkania pic-24.6

স্টাফ রিপোর্টার:

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে সুরক্ষা ও চোরাচালান রোধে ১১৭ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি স্থলপথে পাকা সড়ক নির্মাণেরও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জত ট্রেনিং সেন্টারে বিজিবির ৮৪তম ব্যাচের সমাপনী কুজকাওয়াজ শেষে বিজিবির মহাপিরচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহম্মেদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

মঙ্গলবার সমাপনী কুচকাওয়াজে অনুষ্ঠানে এসময় বিজিবির চট্টগ্রাম দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহম্মদ আলী, বান্দরবান সেনা বাহিনীর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী, বিজিবির ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের কমান্ড্যান্ট কর্নেল মো. আশরাফুল আলম, কর্নেল একেএম সাইফুল ইসলামসহ সেনাবাহিনী ও বিজিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, মিয়ানমারের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে বিজিবি অত্যন্ত আন্তরিক। বাংলাদেশের সঙ্গে তারা চোরাচালান রোধে ভুমিকা রাখবে বলে দাবি করে তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় ইয়াবা চোরাচালান ঠেকাতে ইতোমধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের দেশে ইয়াবা তৈরির কোনো কারখানা নেই।

তিনি আরও জানান, সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জোরদার করার জন্য সারাদেশে আরও চারটি সেক্টর ও ছয়টি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার নির্মাণ করা হবে। এছাড়া সীমান্তে ৮৫টি নতুন বিওপি স্থাপন করা হচ্ছে। আরো ৬৫টি বিওপি স্থাপানের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার সীমান্তে ৯৩৫ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক ও ২৮৫ কিলোমিটার কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বিজিবির আধুনিকায়নের কথা উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, আধুনিক প্রক্ষিণের মাধ্যমে বিজিবিকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ১৪ হাজার ৯৩৮ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে এবং গত চার বছরে ১৬ হাজার ৯৮৬ নবীন সৈনিক নেয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন বিজিবির মহাপরিচালক। পরে ৮৪ তম ব্যাচের ১১৪৪ জন নবীন সৈনিকদের মধ্যে থেকে পাঁচজনকে শ্রেষ্ঠ সৈনিককে পুরস্কার দেয়া দেন মহাপরিচালক। এবার সর্ববিষয়ে সেরা সৈনিক নির্বাচিত হন এম আরাফাত হোসেন।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত অস্থিরতার নেপথ্যে

images-ববব

সালিম অর্ণব

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সংঘাত ও সাম্প্রতিক উত্তেজনার মূল শিকড়টা খুঁজতে গেলে প্রথমে চোখ বুলাতে হয় ইতিহাসের পাতায়। স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উগ্রবাদী বৌদ্ধ আর স্থানীয় আদিবাসীদের মধ্যে ধর্মান্তরিত হওয়া মুসলিম গোষ্ঠীর সংঘাত চলতে থাকে যুগের পর যুগ।

অন্যদিকে সামরিক শাসনের কষাঘাতে জর্জরিত মিয়ানমারের মানুষ শান্তি বলতে সত্যিকার অর্থে কী বোঝায়, সেটা প্রত্যক্ষ করতে পারেনি দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে। একের পর এক সামরিক জান্তার দুর্বিষহ শোষণ আর গণনিপীড়নে অস্থির জনজীবনে আরেক বিভীষিকার নাম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। বিশ্বজুড়ে গণমানুষের মনে একটি ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে যে, বৌদ্ধমাত্রই শান্তিপ্রিয়, দাঙ্গা-ফ্যাসাদ থেকে দূরে থাকা মুণ্ডিত মস্তকের বিদ্বান ব্যক্তি; যা মিয়ানমারের মৌলবাদী বৌদ্ধদের সঙ্গে একটুও মেলানো যাবে না। বেসামরিক জনতার ওপর সামরিক সরকারের দলনের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মানুষের প্রাণ যেখানে ওষ্ঠাগত, সেখানে যুক্ত হয়েছে মাদকের কালো ছোবল। পক্ষান্তরে আনুষঙ্গিক নানা দুরবস্থায় মিয়ানমারের উগ্রবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সঙ্গে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সীমান্ত উত্তেজনার ওতপ্রোত সম্পর্ক রয়েছে।

বলতে গেলে বিগত এক দশকে মিয়ানমারের কোনো সংবাদপত্রের পাতায় এক দাঙ্গা-ফ্যাসাদ বাদে উল্লেখযোগ্য সংবাদ ছাপা হয়নি, যাতে মানুষ আশাবাদী হতে পারে। অং সাং সু চি নামমাত্র শান্তির বারতা নিয়ে মিডিয়া স্টান্ট হাজির করে নোবেল জিততে পেরেছেন ঠিকই। কিন্তু আমজনতার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরিয়ে দিতে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ— এটা এখন বলা যেতেই পারে।

সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবিরোধ, যার সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আর্থ-রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত রয়েছে। বলতে গেলে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের এ সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে অনেক নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায় নরেন্দ্র মোদির আগমন, দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে রুশ-মার্কিন-চৈনিক ভাবনার বিপ্রতীপে ভারতীয় বিদেশনীতি— সবই অবস্থাবিশেষে গুরুত্বের দাবি রাখে।

দৈনিক সংবাদপত্রগুলো থেকে জানা যায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ২৮ মে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে বিজিবির নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান নিহত হন। এ সময় দখল-সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলায় দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘসময় গুলি বিনিময় হয়। এ গুলি বিনিময়ে হতাহতের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। মিজানের মৃত্যুর পর সাময়িক বিরতি দিয়ে ৩ জুন ওই সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, আবার গোলাগুলির খবর শোনা যায় সংবাদ মাধ্যমগুলোয়। উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে ৫ জুন মিয়ানমারের মংডুতে বিজিবি ও বিজিপির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পতাকা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। এই বিশেষ বৈঠকে তারা সুবেদার মিজানের হত্যার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে। কিন্তু ঠিক তার পরদিনও সীমান্তে গুলিবর্ষণ অব্যাহত ছিল বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে।

হঠাৎ করে অভ্যন্তরীণ সংকটে জর্জরিত মিয়ানমারের অপেক্ষাকৃত দুর্বল সীমান্তরক্ষীদের বিজিবির ওপর চড়াও হওয়াটা কোনো আশার কথা বলে না। এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অনেক প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এ সীমান্তে হঠাৎ করে উত্তেজনা বাড়ল কেন? মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীইবা কোন দুঃসাহসে এবং কার ইন্ধনে কোনো হুঁশিয়ারি ছাড়া গুলি করে হত্যা করল বিজিবি সদস্যকে? অনেক বিশ্লেষক এটাকে নিছক দুর্ঘটনা কিংবা ভুল বোঝাবুঝির ফল হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইবেন, যেটা কোনো অংশেই ঠিক নয়; উপরন্তু এ-জাতীয় বিভ্রান্তিকর চিন্তা ওইসব বিশ্লেষকের রাজনৈতিক সচেতনতা, প্রজ্ঞা ও শিষ্টাচারকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে। একটু খেয়াল করলে সাধারণ্যেই স্পষ্ট হয়, এ গোলাগুলি কোনো ভুল বোঝাবুঝির ফল নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কারো উসকানির ফল। বিশেষ করে এই গুলি ছোড়া যদি ভুল বোঝাবুঝিই হবে, তাহলে দ্বিতীয়বার মিয়ানমারের বিজিপি বাংলাদেশী বিজিবির ওপর গুলি ছুড়ত না।

পররাষ্ট্রনীতির কিছু বিষয় ছাড়াও অর্থনৈতিক দিক থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা করাটা বাংলাদেশের জন্য খুব জরুরি। অন্যদিকে সে বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমারও বেশ ওয়াকিবহাল। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়েই বিমসটেকের সদস্য। পাশাপাশি বিসিআইএম নামক উপআঞ্চলিক জোটেও মিয়ানমার রয়েছে। এর থেকে ধরে নেয়াই যেতে পারে মিয়ানমারের পূর্ণ অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশ তার পূর্বমুখী নীতিতে সাফল্যের মুখ দেখবে না। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের চলমান সীমান্ত উত্তেজনা আর যা-ই হোক, দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বিশেষ টানাপড়েন সৃষ্টি করেছে; যা প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশেরই ক্ষতির কারণ। যেমন— কুনমিং-কক্সবাজার সড়কের ব্যাপারে বাংলাদেশের আগ্রহ থাকলেও সীমান্ত সংঘাতে সৃষ্ট শীতল সম্পর্ক মিয়ানমারের পক্ষে এ সড়কের অনুমতি প্রদানের অন্তরায় হিসেবে কাজ করবে। প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়কের মাধ্যমে কুনমিংয়ের সংযুক্তির কথা থাকলেও তা এখন ঝুলে পড়েছে।

মিয়ানমারের সাম্প্রতিক রাজনীতির পুরোটাই সেনাশাসকদের অধীনে পর্যুদস্ত। নোবেলজয়ী নেত্রী সু চি শুধু মুখে মুখে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বললেও পর্দার আড়ালে কাজ করে সেখানে একটি মৌলবাদী বৌদ্ধরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করেছেন। আর এজন্য সুকৌশলে কিংবা সরাসরি শক্তি প্রয়োগ করে আদিবাসী মুসলিমদের উত্খাত করাটা তাদের জন্য খুব জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে। জেনারেল নে উইনের আমলে আরাকানে জাতিগত আন্দোলন দমনের নামে ১৯৭৮ সালে যে নাগামিন ড্রাগন অপারেশন চালানো হয়েছিল, তার কালো থাবা আরো বেশি করে উসকে দেয় জাতিগত দাঙ্গাকে। তখনকার আরাকান ন্যাশনাল লিবারেশন পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে হত্যা করা হয় হাজার হাজার মুসলিম নারী-পুরুষ, শিশুকে। তাদের আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, নিপীড়ন ও ধর্ষণে বাধ্য হয়ে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আর মিয়ানমারের সামরিক শাসক থেকে শুরু করে গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী নেত্রী সু চি সবাই এটাকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন। তাদের মনে বদ্ধমূল ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয় যে, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যত বেশি অত্যাচার করা হবে, তারা প্রাণভয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে ছুটতে থাকবে, প্রকারান্তরে অনেক পরিষ্কার হয়ে যাবে মৌলবাদী বৌদ্ধরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ।

রোহিঙ্গাদের ক্রমাগত আগমন জনসংখ্যার ভারে বিধ্বস্ত বাংলাদেশের জন্য উটকো সমস্যা হয়ে দেখা দেয়। ধর্মীয় ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রথম প্রথম বাংলাদেশের কিছু মানুষ উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি দেখায়। কিন্তু ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে উপস্থিত হয়। বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কামনা করে এবং তার ফলও লাভ করে বেশ দ্রুত। ১৯৭৯ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি কিছু শরণার্থী রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফেরার পথ করে দেয়। এ সময় বাদ সাধে নাগরিকত্ব আইন। এর মাধ্যমে মিয়ানমার সরকার ১৯৮৩ সালের পর মিয়ানমারে আগত রোহিঙ্গাদের ভাসমান নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করে। বলতে গেলে এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের পক্ষে সম্পত্তি অর্জন, রাজনৈতিক অধিকার ও অবাধ চলাচল একরকম নিষিদ্ধই হয়ে যায়। পাশাপাশি এ আইনও করা হয় যে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অন্য প্রদেশে গিয়ে বাস করতে পারবে না। উচ্চশিক্ষার সুযোগ না থাকার পাশাপাশি দুই সন্তানের বেশি হলে পিতামাতার ওপর নির্যাতন চালায় সামরিক বাহিনী, অনেক ক্ষেত্রে শিশুসন্তানকে হত্যাও করে তারা। রোহিঙ্গাদের বিয়েতে পর্যন্ত আরোপ করা হয় বিশেষ নিয়ন্ত্রণ। ফলে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আবার দলে দলে পাড়ি জমাতে থাকে বাংলাদেশ সীমান্তে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা চাইছে না রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাক। উপরন্তু তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে। সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুটি মিয়ানমারেরই রাজনৈতিক সমস্যা, যার অংশ বাংলাদেশ নয়। কিন্তু তারা রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন, আরাকান রোহিঙ্গা ইসলামিক ফ্রন্ট, আরাকান ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন— এসব সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ সীমান্তে জোরপূর্বক পুশইন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা তত্পর থাকায় মিয়ানমারের মৌলবাদী বৌদ্ধ গোষ্ঠী ও সামরিক জান্তার কাজ অনেক কঠিন হয়ে গেছে। তাই বিশেষ গোষ্ঠীর নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থায়ী উত্তেজনা বজায় রাখার পথ সুগম করতেই বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালিয়েছে মিয়ানমারের লুন্থিন বাহিনী।

গত মার্চে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়ার পর থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বেশ ভালোই ছিল বলা যেতে পারে। বিশেষ করে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোয় তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন ও বিরোধীদলীয় নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠকও করেন। তখন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্ক বৃদ্ধি, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেয়া হয়। বলা বাহুল্য, তখন বাংলাদেশের সহযোগী হতে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছিল মিয়ানমার। তাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রচিন্তাবিদ সবার মনে এখন একটিই প্রশ্ন মাত্র দুটি মাসের ব্যবধানে এমন কী ঘটে গেছে, যা প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে রক্ত ঝরাচ্ছে? আমাদের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলতে চাইছেন নিছক ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটছে হত্যাকাণ্ড। তবে তার বাইরে আরো কিছু কারণ আছে, যেটা কোনো আশার কথা বলছে না।

বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত শান্ত আছে, এমনটি নয়। বিশেষত আদিবাসী রোহিঙ্গাদের জোর করে বাংলাদেশ পাঠানো, নাফ নদী থেকে বাংলাদেশী জেলেদের পাকড়াও করা, নাইক্ষ্যংছড়ির অরণ্যে কাঠুরিয়াদের নির্যাতন দুটি দেশের শীতল সম্পর্কের কথাই মনে করিয়ে দেয়। অন্যদিকে মাদকের ভয়াবহ ছোবলে বিধ্বস্ত মিয়ানমার গ্রাস করতে চাইছে বাংলাদেশকে। সম্প্রতি বাংলাদেশে আসা প্রাণঘাতী ইয়াবা ট্যাবলেটের মূল উৎস মিয়ানমার। মিয়ানমারের চোরাচালানিদের নিয়ে আসা ইয়াবা ও বিভিন্ন ধরনের ড্রাগস আটকে দিতে সদাতত্পর আমাদের সাহসী সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এগুলোর পাশাপাশি অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া পাঠানোর কাজে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারেও বাধা দেয় বিজিবি সদস্যরা। সম্প্রতি কোস্টগার্ডের সহায়তায় নৌকায় সাগর পাড়ি দেয়া বেশ কয়েকটি বহর আটকে দেয় তারা। বলতে গেলে নিছক দুর্ঘটনা তো নয়ই বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সীমান্তে ত্রাস সৃষ্টির জন্য বিজিবির মিজানুর রহমানকে গুলি করে হত্যা করে লুন্থিন বাহিনী। একে তাই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে গ্রহণ না করে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও উপযুক্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। মিয়ানমার বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশলগত দিক থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রক্ষার প্রয়োজনে অনর্থক সংঘাত ও উত্তেজনা কাম্য নয়।

পার্বত্য এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরামর্শ সংসদীয় কমিটির

10393594_783185798379591_277003112317858855_n

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট :

পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সংগঠিত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, খুন ও অপহরণ এবং চাঁদাবাজির ঘটনা বন্ধে সেখানে উপজাতীয় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানোর পরামর্শ দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের প্রেক্ষিতে এই সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে ব্যাপক কর্মসৃজনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড জোরদার করার ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে সকল সরকারি অফিসে শূন্য পদগুলো অবিলম্বে পূরণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। কমিটির সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া, এম আবদুল লতিফ, উষাতন তালুকদার এবং ফিরোজা বেগম চিনু বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

পার্বত্যাঞ্চলের সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, অপহরণ ও বিদ্যমান উপজাতীয় গোষ্ঠীগুলোর কথা উল্লেখ করে বৈঠকে বলা হয়েছে, সেখানে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। সেগুলো উদ্ধার করা জরুরী হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনে পার্বত্যাঞ্চলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে এর মাধ্যমে যেন কোন নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হয় তাও খেয়াল রাখতে হবে।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য এম. আবদুল লতিফ বিজিবির সদর দফতর স্থাপনকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছে তা দু:খজনক উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বলেন, খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ৫১, বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়র-বিজিবি‘র ব্যাটালিয়ন সদর দফতর স্থাপনে উচ্ছেদ হওয়া পাহাড়ি পরিবারগুলোকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে অন্যত্র পুনর্বাসন এবং ভবিষ্যতে কোনো স্থাপনা তৈরির আগে পার্বত্য জেলা পরিষদের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। সংসদীয় কমিটি ভবিষ্যতে এ জাতীয় ঘটনা রোধে মন্ত্রণালয়কে আরও সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছে। পাহাড়ী-বাঙ্গালী সমস্যা মোকাবেলায় জনপ্রতিনিধিদেরও সম্পৃক্ত করারও পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি ।

বৈঠক সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কমিটি পার্বত্য জেলাসমূহের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের সমতলে বদলির পূর্বে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বদলির পরামর্শ দেওয়া হয়। তাছাড়া বদলিকৃত ব্যক্তির স্থলে অন্য কাউকে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত বদলিকৃত ব্যক্তিকে অবমুক্ত না করারও পরামর্শ প্রদান করা হয় বৈঠকে।

পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে পার্বত্য এলাকায় শূন্য পদগুলো পূরণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে। পার্বত্য এলাকার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে চিকিৎসকদের শূন্যপদ পূরণের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্য থেকে এমবিবিএস পাসকৃতদের বিসিএস অথবা এডহক ভিত্তিতে নিয়োগের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

দীঘিনালার বাবুছড়ায় বিজিবি জোন সদরে উপজাতিদের হামলা: আহত ২০

Today's pic(1)

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

খাগড়াছড়ি’রর দীঘিনালায় নবগঠিত ৫১ বিজিবি’র জোন সদরে উপজাতিরা হামলা করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিবষর্ণ ও টিয়ার শেল করেছে। এতে বিজিবি’র ৬ সদস্যসহ ২০ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বিকেলে বিজিবি সদস্যরা ক্যাম্প স্থাপনের কাজ করার সময় স্থানীয় উপজাতিরা বাধা দেয়। এসময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় আশপাশ থেকে উপজিাতিরা এসে বিজিবি সদস্যদের উপর হামলা করে। খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয়দের ছত্রভঙ্গ করতে কয়েক রাউন্ড গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র বাবুছড়া জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর কামাল হোসেন পার্বত্যনিউজকে বলেন, অনুমানি ছয়টার দিকে ১৫০-১৮০ জনের একদল উপজাতী বিজিবি’র সদস্যদের উপর হামলা করে। এতে পুলিশের এক সদস্যসহ ৬ জন বিজিবি’র সদস্য আহত হয়।

এ ঘটনায় আহত বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা হলো, কনস্টেবল মাহাবুব আলম, সিগনাল ম্যান অশুক, ল্যান্স নায়েক উত্তম কুমার, দর্জি আসলাম হোসেন, ভাভার মনির হোসেন ও পুলিশ সদস্য এ বি সিদ্দিক।

উপজাতি আহতরা হলেন- সংঘ দেবী চাকমা(৪৫), স্বামী সুরজয় চাকমা, গ্রাম- যত্নমোহন কার্বারী পাড়া, অপসরি চাকমা (১৬), পিতা সুখময় চাকমা, গ্রাম- মধ্য বাঘাইছড়ি, সুরভি চাকমা (৪০), স্বামী- শুক্রমোহন চাকমা, গ্রাম যত্ন মোহন কার্বারী পাড়া, ফুলরাণী চাকমা (৪৫) স্বামী- স্নেহ কুমার চাকমা, গ্রাম- ঐ, ৫. মধুরিকা চাকমা (৩০), পিতা-নোয়ারাম চামা, গ্রাম-মধ্য বাঘইছড়ি, আনন্দ বালা চাকমা (৫৫), স্বামী মৃত. কমল কুমার চাকমা, সন্তোষ কুমার কার্বারী (৭৫) পিতা মৃত শশী মোহন কার্বারী, গ্রাম শশী মোহন কার্বারী পাড়া, সোনা দেবী চাকমা(৪০), স্বামী- সুরজয় চাকমা, গ্রাম যত্ন মোহন কার্বারী পাড়া, কমলা রঞ্জন চাকমা (৩২), পিতা- সুরজয় চাকমা, গ্রাম-ঐ,  চাহেলী চাকমা (২৫) ,স্বামী- কমলা রঞ্জন চাকমা,  প্রদীপ চাকমা (৬৫), পিতা মৃত ভগবান চন্দ্র চাকমা, গ্রাম- ঐ,  মায়া রাণী চাকমা(৫৫), স্বামী- প্রদীপ চাকমা, সাধন দেবী চাকমা (৬০), স্বামী- মঙ্গল চাকমা,  সুরর্ণা চাকমা(২৬), স্বামী- শ্যামল চাকমা, গ্রাম যত্ন মোহন কার্বারী পাড়া, শ্যামলিকা চাকমা (৩৫), স্বামী- বিনি মোহন চাকমা, গ্রাম-ঐ ও  গোপা চাকমা(৪০), স্বামী- শুভময় চাকমা। আহতদের দিঘীনালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দিঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাদাত হোসেন এ ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সহকারী পুলিশ সুপার সরোয়ার হোসেন (সদর সার্কেল) জানান, বিকেলে ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা বাবুছড়িতে ক্যাম্প স্থাপনের কাজ করার সময় স্থানীয়রা বাধা দেয় এবং সীমানা ফ্লাগ তুলে নেয়। এরপর আরো বেশ কিছু স্থানীয় জনতা এসে বিজিবি সদস্যদের ওপর দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হামলা ও ভাঙচুর করে। তাদের দায়ের কোপে বিজিবির দুটি চাইনিজ রাইফেল কেটে যায়।

উল্লেখ্য, দীঘিনালার নাড়াইছড়ি এলাকায় ভারতের সাথে বাংলাদেশের ১২৯ কিঃমিঃ সীমান্ত অরক্ষিত রয়েছে। তা বিজিবি’র নিয়ন্ত্রণে পাহারায় আনতে নতুন ব্যাটালিয়ন সৃষ্টি করেছে সরকার। ৩টি বাটালিয়ন ১২৯ কিঃ মিঃ সীমান্ত চৌকি পাহারা দেবে। এর মধ্যে বাবুছড়া ৫১ ব্যাটালিয়ন সীমান্ত এলাকায় বিওপি করে চৌকি দেবে ৪৭ কিঃ মিঃ সীমান্ত। গত মাসের ১৫ তারিখে বিজিবি সদর দফতরটি স্থাপন করা হয়। শুরু থেকে পাহাড়িদের একটি অংশ বিজিবি সদর দফরের কার্যক্রম বন্ধে মিছিল সমাবেশসহ আন্দোলন করে আসছিল। গতকাল এ বিষয়টি নিয়ে পাহাড়ী প্রতিনিধিদের সাথে বিজিবি কর্মকর্তাদের একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।  বৈঠকে বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, অধিগ্রহনের জন্য প্রস্তাবিত জায়গার যে অংশ নিয়ে আদালতে রীট আবেদন করেছে সে জায়গা বাদ দিয়ে জেলা প্রশাসন বিজিবিকে জায়গা হস্তান্তর করেছে।

 

নাইক্ষ্যংছড়িতে গুপ্তচর সন্দেহে ভারতীয় নাগরিক আটক

1402327323.

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

গুপ্তচর সন্দেহে বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয় ( বিজিবি) ।

গত ৮ জুন সন্ধ্যা ৭.০০ টায় সোমবার চাকঢালা সীমান্ত এলাকার আমতলা থেকে আটকের পর উক্ত ব্যাক্তিকে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সোপর্দ করা হয়। স্থানীয় চাকঢালা বিজিবি সদস্যরা গোপন সংবাদে ভিত্তিতে ওই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে ।

চাকঢালা বিওপির কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার আব্দু খালেক ওই ব্যক্তিকে আটকের পর বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় পাসপোর্ট আইনের অবৈধ নাগরিক অনুপ্রবেশ আইনে মামলা দায়ের করে । । মামলা নং ০৪(০৯/০৬/২০১৪ইং) ।

জানা গেছে, জগলু সিং (৫০) নামে এক ব্যাক্তি বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের চাকঢালা এলাকায় ঘুরাঘুরির সময় গোয়েন্দা সংস্থার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাকঢালা বিওপি টহলদল ঐ ব্যাক্তিকে আটক করে। সে নিজের নাম জগলু সিং প্রকাশ আরান্দা সিং ও তাঁর বাবার নাম মিটু সিং নাম উল্লেখ করলেও অন্য কোন তথ্য পাওয়া যায়নি । পুলিশের জিঞ্জাসাবাদে সে ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের নাগরিক বলে জানায়।

বিজিবি আটকের পর ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাবাদপূর্বক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান নাইক্ষ্যংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মো: রফিকুল ইসলাম ।

উল্লেখ যে,সম্প্রতি মায়ানমার সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ও বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি) সাথে সৃষ্ট সমস্যার পর মায়ানমার ও ভারত সীমান্ত এলাকায় গুপ্তচর নিয়োগ করে । গত সপ্তাহে নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা থেকে এক মায়ানমার গুপ্তচরক নাগরিককে বিজিবি আটক করে উখিয়া থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করে ।

দীঘিনালায় জোন সদরদপ্তর স্থাপন নিয়ে বিরোধ মেটাতে পাহাড়ী প্রতিনিধিদের সাথে বিজিবি’র বৈঠক

?????????????????????????????

স্টাফ রিপোর্টার:

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫১ ব্যাটালিয়নের জোন সদর দপ্তর স্থাপন কার্যক্রমকে ঘিরে পাহাড়ীদের সাথে ভূল বুঝাবুঝি অবসানের লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেছে বিজিবি।

 

মঙ্গলবার সকালে বাবুছড়া বিজিবি’র জোন সদরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, হেডম্যান, কার্বারী এবং দীঘিনালা ভূমি রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে প্রতিনিধিরা জানান, বিজিবির অধিগ্রহণকৃত ভূমি খাস। কিন্তু পাহাড়িরা তাদের প্রথাগত অধিকার মতে পাহাড়ের সব জমি তাদের- দাবীতে দখল ছাড়তে রাজি হয়নি। তবে স্থানীয়দের বুঝিয়ে বিষয়টি সুরাহা করার দায়িত্ব নিয়েছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নবকমল চাকমা। তবু কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে মানবিক বিবেচনায় তাদের ক্ষতিপুরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বিজিবি’র পক্ষ থেকে।

গত ১৫ মে বাবুছড়া বিজিবি জোন সদর দপ্তর স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। এরপর থেকেই বিজিবি’র কার্যক্রম স্থগিতের দাবীতে দীঘিনালা ভূমি রক্ষা কমিটির ব্যানারে মানববন্ধন, স্বারকলিপি প্রদানসহ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে পাহাড়ীদের একটি অংশ।

সভায় স্থানীয়দের মতামত তুলে ধরে দেয়া বক্তব্যে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নবকমল চাকমা, দীঘিনালা ভূমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক পরিতোষ চাকমা, সংশ্লিষ্ট মৌজার হেডম্যান প্রান্তর চাকমা। তারা বিজিবি’র সদর দপ্তর স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে জানান, অধিগ্রহনকৃত ভূমি খাস হলেও পাহাড়িরা প্রথাগত অধিকারের দাবীতে ভূমি না ছাড়ার দাবীতে আন্দোলন করছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

বৈঠকে বিজিবি’র জোন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আবুল কালাম আজাদ জানান, দীঘিনালার নাড়াইছড়ি এলাকায় ভারতের সাথে বাংলাদেশের ১২৯ কিঃমিঃ সীমান্ত অরক্ষিত রয়েছে। তা বিজিবি’র নিয়ন্ত্রণে পাহারায় আনতে নতুন ব্যাটালিয়ন সৃষ্টি করেছে সরকার। ৩টি বাটালিয়ন ১২৯ কিঃ মিঃ সীমান্ত চৌকি পাহারা দেবে। এর মধ্যে বাবুছড়া ৫১ ব্যাটালিয়ন সীমান্ত এলাকায় বিওপি করে চৌকি দেবে ৪৭ কিঃ মিঃ সীমান্ত। সে লক্ষেই আইন-কানুন এবং নিয়ম নীতির মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে বিজিবি। কারো ক্ষতি সাধন করা বিজিবি’র কাজ নয়।

তিনি আরো জানান, অধিগ্রহনের জন্য প্রস্তাবিত জায়গার যে অংশ নিয়ে আদালতে রীট আবেদন করেছে সে জায়গা বাদ দিয়ে জেলা প্রশাসন বিজিবিকে জায়গা হস্তান্তর করেছে।

বিজিবি-বিজিপি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত : অস্ত্র গোলাবারুদ ফেরত

 pic-9999

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

মিয়ানমারের মংডুতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) এর মধ্যে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ের সফল পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে নিহত বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমানের লুট হওয়া এসএমজি, চারটি ম্যাগজিন ও ১২০ রাউন্ড গোলাবারুদ ফেরত দিয়েছে বিজিপি। ৫জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় পতাকা বৈঠক শেষে টেকনাফ ফিরে এসে বিজিবি কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল খন্দকার ফরিদ হাসান এ কথা জানান।

 

 পার্বত্যনিউজের কক্সবাজার, টেকনাফ, নাইক্ষ্যংছড়ি ও রামু প্রতিনধিগণ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ৫টি এজেন্ডা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে কথা বলেন। এজেন্ডাগুলো হল- (১) ১৯৪৭ সালের জেনেভা কনভেনশন মোতাবেক সীমান্তের জিরো পয়েন্টে সেনা মোতায়েন নিষিদ্ধ থাকলেও মিয়ানমার কেন তা বারবার করে যাচ্ছে? (২) মিয়ানমার বাহিনী বিজিপি কেনই বা ২৮ মে বিনা কারণে ৫২ পিলারের অদূরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে টহল দেয়া বিজিবি সদস্যের ওপর গুলিবর্ষণ করে। যাতে নায়েক মিজান মারা যান (৩) ৩০ মে গুলিতে নিহত নায়েকের লাশ ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও তা না করে লাশ গ্রহণকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ। এমনকি মর্টার শেলের মতো অস্ত্রের ব্যবহার করা। (৪) চোরাচালান, ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য পাচার (৫) উভয় দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে কর্মকৌশল প্রণয়ন ।

বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্ণেল খন্দকার ফরিদ হাসান জানিয়েছেন, বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিরা সীমান্তে সেনা মোতায়েন, ২৮ মে বিনা কারনে ৫২ পিলারের অদূরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে টহল দেয়া বিজিবি সদস্যের উপর গুলি বষর্ণ করে নায়েক মিজান নিহত হওয়ার জোর প্রতিবাদ জানান। এসময় বিজিবি সদস্যের গুলি ও অস্ত্র ফেরত চাওয়া হয়। মিয়ানমার অস্ত্র এবং গুলি ফেরত দেয়। বাংলাদেশ পক্ষ এসময় নিহতের জন্য ক্ষতিপুরণ দেয়ার দাবী করলে মিয়ানমার তা যথাসম্ভব দেয়া হবে বলে জানিয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষ চোরাচালান, ইয়াবাসহ মাদক দ্রব্য পাচার রোধ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা করেছে। জানা গেছে, পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘাঁটি থাকার অভিযোগ তুলে বিজিপি। বিজিবি মিয়ানমারের অভিযোগ নাকচ করে দেয়। বাংলাদেশ পক্ষ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচার বন্ধ করার দাবি জানায়। তিনি জানান, বৈঠকে সাম্প্রতিক ঘটনাকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে আখ্যা দেয় বিজিপি। ভবিষ্যতে যেকোনো সন্ত্রাসবাদ দমনে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।

SAM_0083

বৈঠকে মিয়ানমার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তার দেশের সন্ত্রাসীদের তৎপরতার কথা তুলে ধরে তা দমনে যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবী করে। কিন্তু বাংলাদেশ পক্ষ এ দাবী অস্বীকার করে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য থাকলে তা সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে বলে, বাংলাদেশ মিয়ানমারের দেয়া তথ্য মোতাবেক নিজেই অভিযান পরিচালনা করে অভিযোগ যাচাই করে দেখবে। বাংলাদেশের মাটিতে অন্য কোনো দেশের সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর কোনো সুযোগ নেই বলেও বৈঠকে জানানো হয়েছে। এর সঙ্গে আগামী ১০-১৩ জুন বিজিবি ও বিজিপি’র মহাপরিচালক পর্যায়ে বৈঠকের কথাও রয়েছে।

 সীমান্তের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপে সকাল ১১ টার দিকে শুরু হয় । এ বৈঠকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিধায় সীমান্তের লোকজনসহ দেশের মানুষের দৃষ্টি সারা দিন মিয়ানমারের মন্ডুর দিকে ছিল।

 এর আগে বৈঠকে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টা দিকে বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্ণেল খন্দকার ফরিদ হাসানের নেতৃতে¦ ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের মংডুতে যান। সেখানে বেলা ১১ টা থেকে টানা ৪ টা পর্যন্ত চলে বৈঠক। ২৩ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল খন্দকার ফরিদ হাসান এবং মিয়ানমারের পক্ষে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মিয়ানমারের মংডুস্থ ইমিগ্রেশন হেডকোয়ার্টাসের পরিচালক কর্নেল থিং কু কু। এছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল সফিকুর রহমান, রামু ৫০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল তইয়ুমুর কায়কোবাদ, কক্সবাজার ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম, টেকনাফ ৪২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ প্রমুখ।

 এদিকে দুই দেশের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো থমথমে রয়েছে। মিয়ানমার সীমান্তের কোনো কোনো পয়েন্টে নতুন করে আরো সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। বিজিবিও সীমান্তে সকল প্রস্তুতিসহ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল টিমকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে মিয়ানমারের বিজিপি। সেই সময় নিখোঁজ হন নায়েক মিজানুর রহমান। তাকে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী ধরে নিয়ে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ মায়ো মিন্টথানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। সীমান্ত থেকে বিজিবির সদস্যকে আটক করায় কঠোর ভাষায় রাষ্ট্রদূতকে তিরস্কার করা হয়। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষীদের কাছে আটক বিজিবির নায়েক মিজানুর রহমানকে অতি দ্রুত ছেড়ে দেওয়ারও দাবি জানানো হয়। এরপর শুক্রবার নিখোঁজ বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমানকে ফিরিয়ে দিতে বিজিবি ও মিয়ানমারের বিজিপির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় বৈঠক। এরপরই নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার বিকেলে বিজিবি সদস্য নায়েক মিজানুর রহমানের মরদেহ মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী ৫২ সিমান্ত পিলার পানছড়ি এলাকা দিয়ে ফেরত দেয়। তবে ফেরত দেয়নি নায়েক মিজানুর রহমানের সঙ্গে লুট হওয়া ১টি এসএমজি, ৪টি ম্যাগজিন ও ১২০ রাউন্ড গোলাবারুদ। মিয়ানমারের বিজিপি আজকের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ওই অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেরত দেবে বলে জানিয়েছিল।

বর্ণিল আয়োজনে পালিত হলো সেনাবাহিনীর গুইমারাস্থ ২৪ আর্টিলারী’র ৩২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

guimara reg

নিজস্ব প্রতিনিধি :

বর্ণিল আয়োজনে পালিত হলো ২৪আর্টিলারীর ৩২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। বৃহস্পতিবার দুপুরে 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর  গুইমারা রিজিয়ন সদর দপ্তরে জাকজমকপূর্ণ এ অনুষ্ঠান পালিত হয়। এ উপলক্ষ্যে পুরো রিজিয়নে ছিল সাজ সাজ রব। রং বেরং এর পতাকা দিয়ে সাজানো হয় রিজিয়ন সদর দপ্তর।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেক কাটেন ২৪আর্টিলারী ব্রিগেড গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনোয়ারুল ইসলাম। এসময় বিভিন্ন জোন অধিনায়কের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা উপহার গ্রহণ করেন প্রধান অতিথি। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর  খাগড়াছড়ি রিজিয়ন ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল কাজী শামসুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নব সৃজিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি’রগুইমারা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল শাহরিয়ার রাশেদ, ৪ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারী সিন্দুকছড়ি অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল রাব্বি আহসান, ১৬ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারী লক্ষীছড়ি অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন, ২৯ বিজিবি পলাশপুর জোন অধিনায়ক লে: কর্ণেল মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান, ২১বিজিবি অধিনায়ক লে: কর্ণেল মো: সিদ্দিকুর রহমান, ১৬ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ খালিদ বিন ইউসুফ, খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি কংজরী চৌধুরী, জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক ও মাটিরাঙ্গার পৌর মেয়র আবু ইউসুফ চৌধুরী, রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ফরহাদ, মাটিরাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম, লক্ষীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা, ৭নং গুইমারা ইউপি চেয়ারম্যান মেমং মারমা, হাফছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান উশ্যেপ্রু মারমা, এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, হেডম্যান-কার্বারী প্রমুখ।

পরে প্রীতিভোজ ও কেটে দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় আমন্ত্রিত অতিথিদের। সন্ধ্যায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।