তবলবাগে বিজিবি কর্তৃক নারী নির্যাতনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি- দাবী স্থানীয় উপজাতীয় নেতৃবৃন্দের

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:
রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার ছোট হরিণা ইউনিয়নে বিজিবি কর্তৃক নারী নির্যাতনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি বলে জানিয়েছে স্থানীয় উপজাতীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমান্য ব্যক্তিবর্গ। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের সাম্প্রদায়িক একটি গোষ্ঠী বিজিবির বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ অপপ্রচার হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। পার্বত্যনিউজের অনুসন্ধানে এ তথ্য জানা গেছে।

গত রবিবার পাহাড়ী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী পরিচালিত বিভিন্ন পেইজ ও গ্রুপে একটি নিউজ ভাইরাল করা হয়। সংবাদে বলা হয়,

‌‌”রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ইউনিয়নের তাগলগ বাগ গ্রামে বিজিবি সদস্য কর্তৃক গত ১৬ জানুয়ারি ২০১৯ বিকাল ৩ ঘটিকায় ১৭ বছরের এক আদিবাসী জুম্ম কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, ঘটনার সময়ে ওই কিশোরী ঘাটে পানি আনার জন্য যায়। এ সময়ে পথে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা বিজিবি সদস্য মো: আলমগীর (সিপাই) ওই কিশোরীর পথরোধ করে এবং ঝাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে কিশোরী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এ ঘটনার পর বিজিবির ছোট হরিণা জোনের ১২ ব্যাটালিয়নের তাগলগ বাগ বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার মো: হাবিবের নেতৃত্বে একটি বিজিবি টহল দল তাগলগ বাগ গ্রামে গিয়ে এ ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য ওই কিশোরী ও তার পরিবারকে প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে। এ সময়ে গ্রামবাসী কৃষ্ণবরণ চাকমাকেও বিজিবি সদস্যরা হুমকি প্রদান করে। বর্তমানে ওই কিশোরীর পরিবার চরম আতঙ্কে ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে জানা যায়।”

খবরটি প্রচারের সাথে সাথে পাহাড়ী উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী সত্যাসত্য যাচাই না করেই ব্যাপকভাবে নিউজটি লাইক, শেয়ার, কমেন্ট করে ভাইরাল করতে থাকে। খবরের সূত্র ধরে পার্বত্যনিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তাগলগ বাগের চন্দ্রালক্ষী কার্বারীর(৪৯) সাথে।

পার্বত্যনিউজকে এই মহিলা কার্বারী বলেন, ঘটনার সময় নদীর ঘাট থেকে বিজিবি সদস্য আলমগীর উপরে উঠছিল। এ সময় মেয়েটি পানি নিতে নিচে নামছিল। কিন্তু রাস্তাটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় বিজিবি সদস্যের হাতের সাথে মেয়েটির হাতে ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে মেয়েটি তার ভাইকে অভিযোগ করে। মেয়েটির ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে আমি ঘটনাস্থলে যাই। পরে আমি বিষয়টির সমাধান করে দিয়েছে। আপনি যে কথা বলছেন তা সত্য নয়। এখানে নারী নির্যাতন বা ধস্তাধস্তির কোনো ঘটনাই ঘটেনি।

একই কথা বলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি রদঙ্গ মোহন চাকমা(৫০)। পার্বত্যনিউজকে তিনি বলেন, বিজিবি সদস্যরা কর্ণফুলি নদী থেকে ক্যাম্পের ঘাট থেকে সাপ্তাহিক বাজার নিয়ে পাহাড়ের উপরে ক্যাম্পে উঠছিলো। এসময় মেয়েটি পানি নিতে নিচে নামছিলো। কিন্তু পাহাড়ে চলাচলের সরু পথ হওয়ায় ভারবাহী বিজিবি সদস্যের বাহু মেয়েটির বাহুতে লাগে। এতে মেয়েটি সেখানেই প্রতিবাদ করলে বিজিবি সদস্য আলমগীর তাকে সরি বলেন। কিন্তু মেয়েটি তাতে সন্তষ্ট না হয়ে তার ভাইকে জানায়। তার ভাইয়ের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে কার্বারীসহ আমরা মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে সব শুনি। বিজিবি সদস্যরা সেখানে ঘটনার জন্য সরি বলেন এবং এ ধরণের ঘটনা আর ঘটবে না জানালে আমরা সমস্যার সমাধান করে দিই।

কী সমাধান করেছেন জানতে চাইলে রদঙ্গ মোহন আরো বলেন, বিজিবি সদস্যরা তাদের সদস্য আলমগীরকে ক্যাম্প থেকে প্রত্যাহার করে নেবে বলে আমাদের জানান।

কথা হয় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হিসাবে সুপরিচিত কামিনী মোহন চাকমার সাথে। তিনি পার্বত্যনিউজকে বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। কিন্তু ঘটনাটি প্রচার হওয়ার পর স্থানীয়দের সাথে খোঁজ নিয়ে জেনেছি যে, বিজিবি সদস্যরা ঘাট থেকে উঠছিলো, এ সময় মেয়েটি গোছল করতে নামছিলো। কিন্তু পাহাড়ী ওঠানামার পথ অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ। তাই মেয়েটি শরীরে বিজিবি সদস্যের ছোঁয়া লাগে। বিজিবি সদস্য সরি বলে সাথে সাথে। কিন্তু মেয়েটি তাতে সন্তষ্ট না হয়ে ঘটনাস্থলেই চিৎকার ও চিল্লাচিল্লি শুরু করে লোকজন জড়ো করে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মেয়েটি একটু উগ্র স্বভাবের। তাই ঘটনাটি এতোদুর গড়িয়েছে। তা না হলে এটা তেমন কোনো ঘটনাই নয়।

স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের প্লাটুন কমাণ্ডার ক্যাপ্টেন এহসান পার্বত্যনিউজকে বলেন, অভিযোগটি সত্য না হলেও আমরা স্থানীয়দের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি সদস্য আলমগীরকে স্থানীয় ক্যাম্প থেকে জোন সদরে প্রত্যাহার করে নিয়েছি।

ছোট হরিণা বিজিবি জোনের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্ণেল আতিক পার্বত্যনিউজকে বলেন, বিজিবি অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করেও প্রচারিত অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ফেসবুক ব্লগার মো. রিগান ফেসবুকে তার পোস্টে লেখেন,

”তথাকথিত ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ তদন্ত হওয়ার আগে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে এভাবে ঢালাওভাবে মিথ্যাচার করা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত!! পার্বত্য চট্টগ্রামে পান থেকে চুন খসলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর দোষারোপ করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। বিগত দিনে পার্বত্য চট্টগ্রামের যতগুলা তথাকথিত ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, পরবর্তীতে তদন্তের পরে দেখা গেছে ধর্ষণের কোনই ঘটনায় ঘটেনি। সব ছিলো সাজানো নাটক। সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট প্রপাগণ্ডা চালিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য সফল করার ব্যর্থ চেষ্টায় করেছে। স্বার্থন্বেষী মহল নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্য হাছিল করতে বরাবরই পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার করে মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করে। …. পার্বত্য চট্টগ্রামের যারা বারবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিতর্কিত করতে তথাকথিত ধর্ষণের অভিযোগ তোলে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”

বিজিবি-বিজিপি পতাকা বৈঠক : সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধের আশ্বাস

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

মিয়ানমারে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) এর মধ্যে রিজিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধের আশ্বাসের পাশাপাশি উভয় দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফলপ্রসু আলোচনা করা হয়।

জানা যায়,সোমবার(২১ জানুয়ারি) দুপুরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মন্ডু টাউনশীপে বিজিবি ও বিজিপির মধ্যে রিজিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবি ১০সদস্য প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আইনুল মোর্শেদ খান পাঠান। উভয় প্রতিনিধি দলের মধ্যে দীর্ঘক্ষণের এই বৈঠকে উভয় দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ উভয় দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

বিজিবি প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এসএম বায়েজিদ খান, বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার কর্নেল জহিরুল হক খাঁন, নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবি ব্যাটলিয়ন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আসাদুজ্জামান, রামু ৩০ বিজিবি ব্যাটলিয়ন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. জাহিদুর রহমান, আলীকদম ৫৭বিজিবি ব্যাটলিয়ন কমান্ডার খন্দকার মিজানুর রহমান, কক্সবাজার রিজিয়ন পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল মোহাম্মদ খালিদ আহমেদ, মেজর মো. তারেক মাহমুদ সরকার, মেজর মোহাম্মদ বিন সাহিরুল ইবনে রিয়াজ, মেজর জিএম সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

পতাকা বৈঠক শেষে বিকাল পৌনে ৫টায় দেশে ফিরে রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আইনুল মোর্শেদ খান পাঠান সাংবাদিকদের জানান,বিজিপির সাথে ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে। তারা সীমান্ত সুরক্ষা এবং মাদক পাচার দমনে সহায়তার পাশাপাশি সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যা আলোচনার ভিত্তিতে আশ্বাস প্রদান করেন।

জনগণের সেবা ও শান্তি সুরক্ষা বিজিবির প্রধান দায়িত্ব: লে. কর্নেল হাবিবুর

থানচি প্রতিনিধি:

৩৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ান বলিপাড়া জোনাল কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মোহাম্মদ হাবিবুর হাসান পিএসসি বলেন, মানুষের সেবার মাধ্যমে শান্তি সুরক্ষা ও আইন শৃংঙ্খলা রক্ষা করা এবং জনগণের জানমালের রক্ষা করাই বিজিবির দায়িত্ব ও কর্তব্য।

তিনি বলেন, এলাকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকরণে বিজিবি সর্বদা বাংলাদেশ সরকারের অর্পিত দায়িত্ব পালনে অঙ্গিকারবদ্ধ।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ২৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  উপলক্ষে মঙ্গলবার  দিনব্যাপী ৩৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ান বলিপাড়া জোনের আয়োজিত প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে তিনি একথা বলেন। এসময় দরবারে কেক কেটে প্রতিষ্ঠার বার্ষিকী পালন করেন।

৩৮ ব্যাটালিয়ানের  অধিনায়ক জোন কমান্ডার লে. কর্নেল হাবিবুল হাসান (পিএসসি)এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের  উপস্থিত ছিলেন, ব্যাটালিয়ানে উপ-অধিনায়ক মেজর মো. জাহাঙ্গীর  আলম, এছাড়াও উপজেলা চেয়ারম্যান ক্যাহ্লাচিং মার্মা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল হক (মৃদুল) বান্দরবান জেলা সদস্য থোয়াইহ্লামং মার্মা , থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সাত্তার ভুইয়া , সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খামলাই ম্রো, প্রেসক্লাবের সভাপতি মংবোয়াচিং মার্মা (অনুপম), সম্পাদক লেখক শহিদুল ইসলাম ,রোটারিয়ান আনিসুর রাহমান (সুজন) বলিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান জিয়া অং মার্মা, মংপ্রুঅং মারমা, বলিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  আব্দুল গণি, জসিম উদ্দিনসহ হেডম্যান, কারবারী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।

দরবার শেষে দুপুরে মাধ্যহ্ন ভোজন ও সকল অতিথিদেরকে  বিজিবি লোগো সন্বলিত টি শার্ট উপহার দেয়া হয়। সন্ধ্যায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠার বার্ষিকী পালন শেষ হয়।

নাইক্ষ্যংছড়িতে ১১ বিজিবি’র ৬০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন ১১বিজিবির, ৬০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে।

রবিবার(১৩ই জানুয়ারি) রোববার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠান ও প্রীতি ভোজের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে।

দুপুরে ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে এক বিশাল কেক কেটে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিজিবি কক্সবাজার সদর দপ্তরের রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আইনুল মোর্শেদ খাঁন পাঠান।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো.আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিবি রামু সেক্টর সদর দপ্তরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম. বায়েজীদ খাঁন, কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খাঁন, টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আছাদুজ্জামান চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ.এন.ও) সাদিয়া আফরিন কচি, নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক মো.শফিউল্লাহ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী, প্রেসক্লাব সভাপতি শামীম ইকবাল চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টা সাংবাদিক মাইন উদ্দীন খালেদসহ সামরিক, বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আইনুল মোর্শেদ খান পাঠান বলেন, কঠিন মনোবল আর ধৈর্য নিয়ে সীমান্তের সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ১১ বিজিবি অতন্দ্র প্রহরীর দায়িত্ব পালন করে আসছে। চোরাচালান, মাদকদ্রব্য, অস্ত্র পাচার ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে কাজ করে যাবে বিজিবি। তিনি বক্তব্য প্রদানকালে ব্যাটালিয়নের প্রয়াত শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফসহ ৭৯ জন বিভিন্ন পদের সৈনিকদের স্মরণ করে আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

দীঘিনালায় বিজিবির উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

দীঘিনালায় বাবুছড়া ৭ বিজিবির উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বুধবার(৯ জানুয়ারি) বাবুছড়া বিজিবি মাঠে এ চিকিৎসা সেবা কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। বিনামূল্যের এ চিকিৎসা সেবা কর্মসূচি পরিচালনা করেন, ৭ বিজিবির চিকিৎসক ডা. ক্যাপ্টেন রুহুল আমিন।

এ ব্যাপারে চিকিৎসা নিতে আসা গোবিন্দ কার্বারী পাড়া গ্রামের সূচনা দেবী চাকমা(৭০) জনান, শ্বাস কষ্টে ভোগছি। খবর পেয়ে ওষুধ নিতে এসেছি। ওষুধ পেয়ে খুব ভালো লাগছে।

৭ বিজিবির চিকিৎসক, ডা. ক্যাপ্টেন রুহুল আমিন এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, চিকিৎসা ক্যাম্পে শ্বাস কষ্ট এবং ঠান্ডাজনিত রোগী বেশি। তাছাড়া শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠ রোগীও রয়েছে।

এ সময় বাবুছড়া ৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এলাকার পার্শ্ববর্তী এবং দুর্গম এলাকার গরিব ও দুস্থ তিন শতাধিক রোগীদের চিকিৎসা সেবা-সহ বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়।

কাপ্তাই বিজিবি জোনের কম্বল বিতরণ

কাপ্তাই প্রতিনিধি:

কাপ্তাই ৪১ বিজিবি ওয়াগ্গাছড়া জোনের অধীনে মঙ্গলবার(৮জানুয়ারি) অসহায়, দুস্থ ও গরিব শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

শীতবস্ত্র বিতরণ করেন ওয়াগ্গাছড়া জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল শহীদুল ইসলাম পিএসসি।

জোন অধিনায়ক  বলেন, ইতিপূর্বে জোনের পক্ষ হতে অনেক অসহায়, দুস্থদের মাঝে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা, আর্থিক অনুদান ও  চিত্তবিনোদনের জন্য খেলা সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।

এসময় তিনি শীতবস্ত্র নিতে আসা উপজাতি-বাঙালিদের বলেন, আপনারা নিজেদের মধ্যে কোনো সংঘাতে না জড়িয়ে মিলে মিশে বসবাস করবেন ।

বিজিবি ভারতের ভূমি ও সড়ক ব্যবহার করে বিওপি নির্মাণ করছে

bgb camp 3

মেহেদী হাসান পলাশ:

ভারতের ভূমি ও সড়ক ব্যবহার করে নতুন বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট(বিওপি) নির্মাণ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি)। বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব সুসম্পর্কের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজিবির দক্ষিণ পূর্ব রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার উত্তরাংশে খাগড়াছড়ি জেলার অন্তর্গত এবং ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত ৬ টি বিওপি নির্মাণে ভারতের ভুমি ও সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিজিবির পুণর্গঠন রূপরেখা-২০০৯ এর আওতায় এ নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। একই রূপরেখার আওতায় বিজিবির দক্ষিণ পূর্ব রিজিওনের আওতায় দুইটি নতুন সেক্টর ও ৫ ব্যাটালিয়ান স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও নতুন করে ১০৪টি বিওপির মধ্যে ৫২টি বিওপি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে করে বাংলাদেশ-ভারত ও বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের ৮১০ কি.মি. সীমান্তের মধ্যে ৪৭৯ কি.মি. অরক্ষিত সীমান্তের ২১৫ কি.মি. সীমান্ত সুরক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। শুরু হয়েছে বিজিবির এয়ার উইং। এর ফলে দূর্গম ও অরক্ষিত সীমান্তের অপরাধ এখন আগের থেকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে বলে বিজিবি সূত্রের দাবী।

জানা গেছে, সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বিজিবি বাংলাদেশের ৪,৪২৭ কিঃ মিঃ সীমানা দিবা-নিশি প্রহরার মাধ্যমে নিশ্চিত করছে নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব। ২০০৯ পিলখানার ভয়াবহ বিপর্যয়ের দুঃসহ স্মৃতি পেরিয়ে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিজিবি। ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসের ২০ তারিখে বিজিবির সদর দপ্তর পিলখানায় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিজিবি’র পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয় বিজিবি’র নব অভিযাত্রা। সে সাথে শুরু হয় এ বাহিনী ঢেলে সাজানোর মহাযজ্ঞ। এর অংশ হিসাবে ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখে শুরু হয় বিজিবি’র ৪ টি রিজিয়ন এর আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ড। এসময় খাগড়াছড়ি, রাংগামাটি, গুইমারা, বান্দরবান ও কক্সবাজার সেক্টর ও এর অধীনস্থ ইউনিটগুলো নিয়ে দক্ষিণ পূর্ব রিজিয়ন সদর দপ্তর চট্টগ্রাম শহরের হালিশহর থেকে কার্যক্রম শুরু করে।

bgb camp 1

দূর্গম পাহাড় ও অনিষ্পন্ন সীমান্তের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব রিজিওনের আওতাধীন ৮১০ কি.মি. সীমান্তের মধ্যে ৪৭৯ কি.মি সীমান্ত অরক্ষিত ছিলো। ফলে অরক্ষিত এই সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র, মানব ও মাদক পাচার, অপহরণ, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হতো। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর স্বর্গরাজ্য ছিলো অরক্ষিত সীমান্ত। এ সকল অপরাধ দমনে বাংলাদেশ ও সীমান্ত সংলগ্ন অন্যান্য দেশগুলোরও দাবী ছিলো বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত সুরক্ষিত করা।

সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিজিবি পূণর্গঠন রূপরেখা-২০০৯ এর আওতায় দক্ষিণ পূর্ব রিজিয়ন, চট্টগ্রাম এর দায়িত্বপূর্ণ পাহাড় ও নদী বেষ্টিত ৮১০ কিঃ মিঃ সীমান্ত এলাকায় অরক্ষিত সীমান্ত সুরক্ষাসহ সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু তদারকির লক্ষ্যে বর্তমান সীমান্ত চৌকির অতিরিক্ত সর্বমোট ১০৪টি নতুন বিওপি নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় সর্বমোট ৫২টি বিওপি’র নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ২৯ টি নতুন বিওপি নির্মাণ করে ২৮১ কিঃ মিঃ অরক্ষিত সীমান্তের মধ্যে আনুমানিক ১৩০ কিঃ মিঃ সীমান্ত সুরক্ষা করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ – মিয়ানমার সীমান্তে ২৩টি নতুন বিওপি নির্মাণ করে ১৯৮   কিঃ মিঃ অরক্ষিত সীমান্তের মধ্যে আনুমানিক ৮৫ কিঃ মিঃ সীমান্ত সুরক্ষা করা হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে সর্বমোট ৪৭৯ কিঃ মিঃ অরক্ষিত সীমান্তের মধ্যে আনুমানিক ২১৫ কিঃ মিঃ সীমান্ত সুরক্ষাসহ বিজিবি’র নজরদারী ও আধিপত্য বিস্তারের আওতায় আনা হয়েছে।

তবে বিজিবির এই নবযাত্রা কুসুমাস্তৃর্ণ ছিলো না। পদে পদে তাকে নানা প্রতিকুলতা ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে এগুতে হয়েছে। সূত্র মতে, পাহাড়ি এলাকায় বিওপি নির্মাণের জন্য সরকার কর্তৃক ৫ একর জমি অধিগ্রহণের নীতিমালা রয়েছে। দক্ষিণ পূর্ব রিজিয়নের বেশির ভাগ এলাকাই পাহাড়ি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই ৫ একর জমিতে বিওপি স্থাপন করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। কারণ পাহাড়ি ঢাল ও ভূমি বিন্যাসের ভিন্নতার কারণে জরুরী স্থাপনা সমূহও নির্মাণ করা সম্ভব হয় না। এছাড়াও পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কারণে সাধারণ জনগণ তাদের জমি অধিগ্রহণের জন্য বিজিবিকে হস্তান্তর করতে ভীত সন্ত্রস্ত থাকে। বিশেষ করে বিজিবির এই অগ্রসর ভূমিকার কারণে যেসমস্ত সীমান্ত অপরাধীদের তৎপরতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে তারা বিজিবি সম্প্রসারণের পথে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে। অস্ত্রের মুখে, হুমকি, ধামকি দিয়ে সাধারণ পাহাড়ীদের বাধ্য করেছে বিজিবিরি প্রতিপক্ষ হতে।

ফলে এখনো খাগড়াছড়ি ও রাংগামাটি জেলার অনেক অবস্থানে বিওপি নির্মাণের জন্য বিজিবি কর্তৃক জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভবপর হয়নি। ভূমি বিরোধের কারণে এখন পর্যন্ত বাঘাইছড়িতে অবস্থিত ৫৪ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের ব্যাটালিয়ন সদর স্থাপন করা সম্ভবপর হয়নি। এছাড়াও আলীকদমে ৫৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন তাদের ব্যাটালিয়ন সদর নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। অথচ দেখা গেছে, দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিওপি স্থাপিত হলে নিকটস্থ পাহাড়ি জনগোষ্ঠী দারুণভাবে উপকৃত হয়।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, খাগড়াছড়িস্থ উত্তর লক্কাছড়া বিওপি সংলগ্ন উপজাতীয় পাড়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপে বেশ কিছু লোক মৃত্যুবরণ করলে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বিওপিতে অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন করা হয়। হেলিকপ্টার যোগে ক্যাম্পে জরুরী ঔষধ ও চিকিৎসক প্রেরণ করা হয়। বিজিবি’র সদস্যরা দিনরাত পরিশ্রম করে রুগীদের শুশ্রষা করে এবং এলাকাবাসীকে এক ভয়াবহ মহামারী থেকে উদ্ধার সম্ভব হয়।

সূত্রে জানা গেছে, বিজিবির দক্ষিণ পূর্ব রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার উত্তরাংশে খাগড়াছড়ি জেলার অন্তর্গত অধিকাংশ অবস্থানই দূর্গম পার্বত্য এলাকায় হওয়ায় অরক্ষিত সীমান্তে কিছু কিছু স্থানে বাংলাদেশের নিজস্ব ভূমি ব্যবহার করে বিওপি নির্মাণ করা অত্যন্ত দুষ্কর। হেলিকপ্টার সহায়তা ব্যতীত সেসকল অবস্থানে নির্মাণ সামগ্রী কিংবা প্রাত্যহিক রশদ সামগ্রী প্রেরণ কষ্টকর।

অরক্ষিত সীমান্ত সুরক্ষাসহ সীমান্তে বিজিবি’র আধিপত্য বিস্তার ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নির্মূলের অংশ হিসেবে বিজিবি কর্তৃক ভারতীয় রাস্তা ব্যবহার করে দূর্গম পার্বত্য সীমান্ত এলাকায় নতুন বিওপি স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়; যা যুগোপযোগী ও আধুনিক চিন্তা চেতনারই বহিঃপ্রকাশ। বিজিবি’র অনুরোধে সরকার কর্তৃক প্রেরিত প্রস্তাবে ভারত সরকার উক্ত পরিকল্পনায় সম্মতি প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় দূর্গম পার্বত্য এলাকার অরক্ষিত সীমান্ত সুরক্ষার জন্য ভারতীয় রাস্তা ব্যবহার করে বিওপি নির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ এবং ভারত দু‘দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে গত ৬-৭ জুন ২০১৫ তারিখ পর্যন্ত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় “নতুন প্রজন্ম নয়া দিশা” নামে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

bgb camp 2

ইতিমধ্যে ৬টি নতুন বিওপি নির্মাণের লক্ষ্যে সকল পর্যায়ে রেকি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। অতিশীঘ্রই উক্ত বিওপি সমূহ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। বিওপিগুলো হচ্ছে, খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলার ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতায় লাক্কাছড়া বিওপি, দিপুছড়ি বিওপি ও ডুপশিল বিওপি এবং রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলাস্থ ৫৪ বিজিবি ব্যাটালিয়েনের আওতায় কাসালং-১ বিওপি, কাসালং-২ বিওপি এবং সাজচিলুই বিওপি।

জানা গেছে, ইতিমধ্যে বিজিবি’র দুটি রেকিদল নির্মাণ সামগ্রী ক্রয়, পরিবহন ও নির্মাণ কাজের প্রস্তুতির নিমিত্তে বাংলাদেশ সীমান্তের বিপরীতে ভারতের অংশে রেকি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।

বিজিবির এই অগ্রসর অবস্থানের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের উত্তর সীমান্তে বিশেষ করে খাগড়াছড়ি সীমান্তের বিপরীতে যে সকল অংশে বিভিন্ন ভারতীয় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ কর্তৃক বিভিন্ন প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অরক্ষিত সীমান্তের সুযোগ নিতো, বর্তমানে ঐ সকল সীমান্ত এলাকায় নতুন নতুন বিওপি নির্মাণের ফলে সীমান্তে নজরদারী বৃদ্ধি পাওয়ায় সকল প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। আশার কথা, সাম্প্রতিক সময়ে বিএসএফ কর্তৃকও কোন প্রকার প্রতিবাদ করা হয়নি।

একইভাবে দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ পার্বত্য এলাকার বান্দরবান জেলার সীমান্ত এলাকার দক্ষিণাংশে রয়েছে অত্যন্ত খাড়া পাহাড়  এবং দূর্গম এলাকা। উঁচু পাহাড়ের গা ঘেঁষেই রয়েছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত। ভুপ্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে বিগত ৪ মাসেরও কম সময়ে উক্ত দূর্গম এলাকায় বিজিবি কর্তৃক নতুন ৬টি বিওপি নির্মাণ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী সময়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রায়ই আরাকান আর্মি এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী দলের আস্তানা কিংবা তাদের অবাধ চলাচলের ব্যাপারে বিজিবি কর্তৃপক্ষের কাছে তারা প্রতিবাদ লিপি প্রেরণ করতো। কিন্তু বর্তমানে উক্ত এলাকার বেশির ভাগ অংশে বিজিবি’র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এখন এ ধরনের পত্রালাপ অনেকাংশেই হ্রাস পেয়েছে। সে সাথে অপেক্ষাকৃত সুরক্ষিত ও সূচিহ্নিত হয়েছে দু’দেশের সীমানা।

এদিকে বর্তমানে নতুনভাবে নির্মিত সকল বিওপিগুলোই হেলি সাপোর্টেড। পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনী সমূহের মধ্যে বিজিবিরই রয়েছে সর্বাধিক ৭৮ টি হেলি সাপোর্টেড ক্যাম্প। বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারগুলো স্বল্পতার মধ্যেও বিজিবির বিওপিগুলোতে হেলি সহায়তা প্রদানে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, হেলির প্রয়োজনীয়তা ও দ্রুত সাপোর্ট নিশ্চিতের বিষয়টি বিবেচনা করে সদর দপ্তর বিজিবি হেলি উইং এর সকল অবকাঠামো সাতকানিয়ায় বিজিবি’র একমাত্র প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বিজিটিসিএন্ডএস সংলগ্ন স্থানে ইতিমধ্যে স্থাপন করেছে। এরই প্রেক্ষিতে গত ৫ জুন ২০১৬ তারিখ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর হেলি উইং এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি। খুব শীঘ্রই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে নতুন হেলিকপ্টার সংযোজিত হবে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে বিজিবি হেলি উইং কাজ শুরু করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।এতে নতুন বিওপি নির্মাণ কার্যক্রমসহ অপারেশনাল দক্ষতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

বিজিবির দক্ষিণ পূর্ব রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ হাবিবুল করিম পার্বত্যনিউজকে জানান, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে আর কোন সীমান্ত অরক্ষিত থাকবে না। বিজিবি’র বর্তমান মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমদ এর সার্বিক দিক নির্দেশনা ও সহায়তার কারণেই সম্ভব হয়েছে।

ভূমি বিরোধের কারণে বিভিন্ন স্থানে বিজিবির বিওপির স্থাপনে প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, আশা করা যায় খুব শীঘ্রই এ সকল সমস্যা দূর করে ব্যাটালিয়নগুলো তাদের কার্যক্রম সঠিকভাবে পালন করতে পারবে।

বিজিবির অভিযানে নাইক্ষ্যংছড়িতে চোরাই কাঠসহ চাদেঁর গাড়ি আটক

kjyttr

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ৩১ ব্যাটালিয়ানের অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোরাই কাঠসহ চাদেঁর গাড়ি আটক করেছে।

সোমবার ৬জুন দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের বিছামারা এলাকা থেকে এসব কাঠ আটক করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি বিজিবি।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহল দল হাবিঃ মোঃ আবুল কালাম আজাদ এর নেতৃত্বে ব্যাটালিয়ন সদর হতে বিছামারা নামক স্থান হতে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিভিন্ন প্রকার ৫১.২২ সিএফটি অবৈধ কাঠ যার আনুমানিক মূল্য ১,৫৩,৬৬0/- টাকা এবং ১ টি চাঁন্দের গাড়ি আটক করতে সক্ষম হয় যার আনুমানিক মূল্য ১৪,০০,০০০/- টাকা। উদ্ধারকৃত কাঠ এবং গাড়ির আনুমানিক মূল্য ১৫,৫৩,৬৬০/- টাকা।

অভিযানের সময় বিজিবি টহলদলের উপস্থিতি টের পেয়ে কাঠ পাচারকারী দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি কতৃ্ক জব্দকৃত কাঠ ও গাড়ি  নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ,লামা বনবিভাগ অফিসে জমা করা হয়েছে।

 

পার্বত্য এলাকার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি- বিজিবি মহাপরিচালক

Dighinala 12-02-2016 pic (01)

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

আমরা কারো প্রতিপক্ষ নই, সীমান্ত সুরক্ষার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অনেক সন্ত্রাসী গহীন জঙ্গল দিয়ে আনাগোনা করছে, সীমান্ত সুরক্ষা না থাকায়, এক দেশের সন্ত্রাসী অন্য দেশে যাতায়াত করছে। কিন্তু সীমান্তে টহল থাকলে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। সারা দেশের ন্যায় পার্বত্য এলাকার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এক সময় সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার হয়ে থাকলেও বর্তমানে তা পুরো বন্ধ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ (বিজিবিএম, পিবিজিএম, পিএসসি, জি)।

এ সময় তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে মোট সীমান্ত এলাকা ৪৭৯ কিলোমিটার। তার মধ্যে ৩৫ টি বিওপি’র আওতায় ২২৮ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত এলাকা নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পার্বত্য এলাকার অরক্ষিত আরো ১৩২ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষার আওতায় আনা হবে।

গতকাল শুক্রবার দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর সদর দফতর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ (বিজিবিএম, পিবিজিএম, পিএসসি, জি) এসব কথা বলেন। এই উপলক্ষে দুপুরে বাবুছড়া বিজিবি সদর দফতরে পৌছলে ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে প্রথমে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে তিনি ব্যাটালিয়নের রেস্ট হাউজ, সৈনিক ডাইনিং হল, কুক হাউজ, চিত্তবিনোদন কক্ষ উদ্বোধন করেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল হাবিবুল করিম, খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল স ম মাহাবুব আলম, বিজিবি’র খাগড়ছড়ি সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল সাজ্জাদ, দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মহসিন রেজা ও বাবুছড়া ৫১ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল কামাল আহমেদ পিএসসি।

পরে তিনি চট্টগ্রাম ফেরার পথে ৫১ বিজিবি’র আওতায় শীলছড়ি বিওপি পরিদর্শন করেন।

টেকনাফে ৪৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বিজিবি

teknaf pic  (bgb) 11-2-16 (2)

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফস্থ ২ বিজিবির বিভিন্ন অভিযানে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে কক্সবাজাস্থ সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল এম এম আনিসুর রহমান বলেন, সীমান্তের মাদকদ্রব্য পাচারে এলাকার জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, অন্যথায় মাদক প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না। মাদকদ্রব্যের কুফল সম্পর্কে তুলে ধরতে সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফস্থ ২ বিজিবির সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ কার্যক্রমে তিনি এসব বলেন।

এ সময় ২৬ আগস্ট’১৫ থেকে জানুয়ারি ১৬ সনের বিভিন্ন বিওপি কর্তৃক আটককৃত ৪৯ কোটি ৬৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা মূল্যের ১৬ লাখ ১০ হাজার ৭’শ ৫৭ পিস ইয়াবা, ১৭ হাজার ৩’শ ৫৭ ক্যান আন্দামান গোল্ড বিয়ার, ৬’শ ৭১ ক্যান ডায়াব্লো বিয়ার ১২%, ২৭ ক্যান চেঞ্চ বিয়ার, ২ হাজার ৪’শ ৪ পিস কান্ট্রি ড্রাইজিন মদ, ২ হাজার ২’শ ৭৯ পিস ম্যান্ডেলা রাম মদ, ৪’শ ২৯ পিস গ্লান মাস্টার মদ, ৩’শ ৬৪ বোতল নন্দ মদ, ৪৮ বোতল হাইক্লাস মদ, ৩৬ মিয়ানমার মদ, ৩৬ বোতল ইয়াংগন মদ, ৩২ বোতল জামাইকা রাম মদ, ২১ বোতল লন্ডন রাম মদ, ১৬ বোতল জান্স ঈগল মদ, ১৬ বোতল গ্রীন রয়েল হুইকি মদ, ১৫ বোতল হিরো হুইসকি মদ, ১৩ বোতল কুইন হুইকি মদ, ১১ বোতল গ্লান রয়েল মদ, ৯ বোতল ডিং ডস মদ, ৪ বোতল ভিআইপি মদ, ৪ বোতল রেড লেবেল মদ, ২ বোতল সুপার এমপাইরাম রাম মদ, ১ বোতল হাই কমিশনার মদ, ১হাজার ৩’শ ৩০ লিটার চোলাই মদ, ৭৬ বোতল ফেন্সিডিল ও সাড়ে ৩২ কেজি গাঁজা ধ্বংস করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদ ইকবাল, উপ-অধিনায়ক আবু রাসেল ছিদ্দিকী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের টেকনাফ পরিদর্শক তপন কান্তি শর্ম্মা, শুল্ক বিভাগের পরিদর্শক সৈয়দ গোলাম রব্বানী, টেকনাফ মডেল থানার এসআই সুবীর পালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যামকর্মী।