আইনে প্রচলিত রীতি, পদ্ধতি যা ই থাক কমিশন বিচার করবে সংবিধানকে অক্ষুণ্ন রেখে- বিচারপতি আনোয়ার উল হক

land-comisiion

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সংশোধিত পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনে রীতি-নীতি, পদ্ধতি যা ই থাকুক না কেন, দেশের প্রচলিত সংবিধানকে অক্ষুন্ন রেখে কাজ করবে কমিশন। সংবিধান সর্বাগ্রে। শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউজের ভিআইপি লাউঞ্জে বাঙালী নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ার উল হক এসব কথা বলেন।

তিনি কমিশনের কার্যক্রমের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখার অনুরোধ রেখে বলেন, কমিশন দেশের প্রচলিত সংবিধানকে অক্ষুন্ন রেখে কাজ করবে। তাই কমিশনের কার্যক্রমের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখুন। রাতারাতি কমিশন বিরোধের নিষ্পত্তি করতে পারবে না। সময় ও অনুকুল পরিবেশ লাগবে কাজ করতে। তাই কমিশনকে কাজ করার সুযোগ দিন। তারপর মূল্যয়ন করবেন কমিশন কী কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, কমিশন চেয়ারম্যান সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন না, আইনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আপনাদের যদি কোন অভিযোগ থাকে তা লিখিত আকারে আমার মাধ্যমে সরকারকে জানাতে পারেন।

সংশোধিত কমিশন আইনে চেয়ারম্যানের ক্ষমতা খর্ব করা হয়নি উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, চেয়াম্যানসহ সংখ্যগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হবে। তাই চেয়ারম্যানের ক্ষমতা এখানে গৌণ।

বাঙালী নেতৃবৃন্দর কমিশনে বাঙালী প্রতিনিধিত্ব না থাকায় শঙ্কা প্রকাশ করে, সংশোধিত আইনটি বাতিল করে বাঙালীদের স্বার্থ রক্ষা করে আইন সংশোধনের অনুরোধ জানান।

মতবিনিময় সভায় খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র রফিকুল আলম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রইছ উদ্দিন, এডভোকেট মঞ্জুর মোর্শেদ, এ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন মজুমদার, বাঙালী ব্যবসায়ী হাজী রফিক উদ্দীন, বাঙালী ছাত্র পরিষদ নেতা মাঈন উদ্দিন ও এস এম মাসুম রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ ভূমি কমিশনের সচিব ও যুগ্ম জেলা ও জেলা দায়রা জজ মো: রেজাউল করিম ও রেজিস্টার মো: সোয়েক খান উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত,পাহাড়ে ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে চলতি বছরের ০৮ সেপ্টেম্বর ক্ষতিগ্রস্থদের ৪৫দিনের মধ্যে আবেদন চেয়ে জারি করা গণবিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে প্রায় ১৪ হাজার ৮শ ব্যক্তি আবেদনপত্র পড়ে। পাশাপাশি আগামী ৩০ অক্টোবর পার্বত্য ভূমি কমিশনের দ্বিতীয় বৈঠক আহবান করা হয়েছে।

গত কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি খাদেমুল ইসলামের মেয়াদেও আরো এক দফা গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সে সময় ৪৪০৮টি দআবেদন কমিশনে জমা পড়ে।

১৯৯৭ সালে সম্পাদিক পার্বত্য চুক্তির আলোকে গঠিত পার্বত্য ভ‚মি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন আইন-২০০১। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান সন্তু লারমা শুরু থেকে এ আইনের বিরোধিতা করে আসছিলেন।

অবশেষে চলতি বছরের ১ লা আগষ্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ভেটিং সাপেক্ষে ‘পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন- ২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগতভাবে অনুমোদন ও ৯ আগষ্ট তা অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে গেজেট আকারে প্রকাশের পর গত ৬ অক্টোবর জাতীয় সংসদের পাশ হয়। বাঙালি সংগঠনগুলো আইন সংশোধনের পর থেকে আইনটি বাতিলের দাবীতে আন্দোলন করে আসছে।

এদিকে সংশোধিত পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন বাতিল ও কমিশনের দ্বিতীয় বৈঠকের আহবানে আগামী ৩০ অক্টোবর(রবিবার) খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ ডেকেছে বাঙালি দেরে ৫টি সংগঠন।

কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না, ভূমি কমিশনের উপর আস্থা রাখুন- বিচারপতি আনোয়ারুল হক

khagrachari-picture-27-10-2016

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পার্বত্য ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ার-উল-হক সকল পক্ষকে শঙ্কিত ও আতংকিত না হয়ে কমিশনের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখার পাশাপাশি সহনশীল হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, কমিশন বিরোধ নিস্পত্তি করবে, কেউ উচ্ছেদ হবে না।

তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে খাগড়াছড়িতে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, কমিশন বিরোধ নিস্পত্তি করবে, বিচার করবে না। কমিশন প্রতিটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন মাঠে যাবে। একপক্ষীয় কোন রায় হবে না।

আইনের বিধিমালা প্রনয়ন প্রসঙ্গে কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, আইন প্রয়োগ করতে গেলে যদি প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয় তার উপর ভিত্তি করে বিধিমালা প্রনয়ন হবে। নতুন করে আবার আবেদনপত্র জমা নেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পার্বত্য ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ার-উল-হক বলেন, বৈঠকে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কাউকে বঞ্চিত করা হবে না। পূর্ব চেয়ারম্যানের মেয়াদে জমা পড়া ৪৪০৮টি আবেদনও আমলে নেওয়া হবে তিনি জানান।

পার্বত্য ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ার-উল-হকের খাগড়াছড়ি সফরকে কেন্দ্র করে শহরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের এক সমাবেশ থেকে খাগড়াছড়িতে পার্বত্য ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে চেয়ারম্যানকে অবাঞ্চিত ও সকল কার্যক্রম প্রতিহতের ঘোষনাসহ ভূমি কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ না হলে আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে লাগাতার কর্মসূচীর হুমকি দেওয়া হয়।

পাহাড়ে ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ক্ষতিগ্রস্তদের ৪৫দিনের মধ্যে আবেদন চেয়ে জারি করা গণবিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে প্রায় ১৪ হাজার ৮শ ব্যক্তি আবেদনপত্র পড়ে। পাশাপাশি আগামী ৩০ অক্টোবর পার্বত্য ভূমি কমিশনের দ্বিতীয় বৈঠক আহবান করা হয়েছে।

গত কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি খাদেমুল ইসলামের মেয়াদেও আরো এক দফা গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সে সময় ৪৪০৮টি দআবেদন কমিশনে জমা পড়ে।

১৯৯৭ সালে সম্পাদিক পার্বত্য চুক্তির আলোকে গঠিত পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন আইন-২০০১। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান সন্তু লারমা শুরু থেকে এ আইনের বিরোধিতা করে আসছিলেন।

অবশেষে চলতি বছরের ১ লা আগষ্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ভেটিং সাপেক্ষে ‘পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগতভাবে অনুমোদন ও ৯ আগষ্ট তা অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে গেজেট আকারে প্রকাশের পর গত ৬ অক্টোবর জাতীয় সংসদের পাশ হয়। বাঙালি সংগঠনগুলো আইন সংশোধনের পর থেকে আইনটি বাতিলের দাবীতে আন্দোলন করে আসছে।