image_pdfimage_print

পাহাড় ধসে দুর্গতদের দেখতে যাওয়ার পথে মির্জা ফখরুলের উপর হামলা

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

পাহাড় ধসে দুর্গতদের দেখতে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পাহাড়ধসে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণের জন্য রাঙামাটি যাওয়ার পথে হামলায় শিকার হয়েছেন বিএনপি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

হামলায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরীসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। হামলার কারণে রাঙামাটি যেতে না পেরে নগরীতে ফিরে আসছে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বের প্রতিনিধি দল। রোববার সকাল ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার গোছরা এলাকায় হামলা হয় বলে জানা গেছে।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ সরকার দলের ক্যাডাররা এ হামলা চালিয়েছে।  আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাঙামাটি যাওয়ার পথে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার গোছরা এলাকা পার হওয়ার পর আমাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে ৩০ থেকে ৪০ জন যুবক লোহার রড ও লাঠি নিয়ে আমাদের গাড়ি ভাংচুর করে। হামলায় দলের মহাসচিব, আমিসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছি।

হামলা এবং বাধার কারণে রাঙামাটি না গিয়ে নগরীতে ফিরে আসছেন জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, জীবনের নিরাপত্তা না থাকায় আমরা রাঙামাটি যাইনি।

রাজনৈতিক জীবনে এমন ন্যাক্কারজনক হামলা প্রত্যক্ষ করেননি মন্তব্য করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা কল্পনাও করতে পারিনি এমন হামলা হবে। দেশের রাজনীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে বিশ্বাস করতে পারছি না।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের নের্তৃত্বে প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিষয়ক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. ফাওয়াজ হোসেন শুভ, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে করে ঢাকা থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বের প্রতিনিধি দল।সকাল সাড়ে ৮টায় বিমানবন্দর থেকে সড়ক পথে রাঙা্মাটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন তারা।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পাজেরো গাড়িতে উঠেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রুহুল আলম চৌধুরী ও মাহবুবু রহমান শামীম। এছাড়া আরও অন্তত ১০টি পাজেরো জিপ গাড়িতে করে রওয়ানা দেন প্রতিনিধি দলের সদস্য, নগর ও উত্তর জেলা বিএনপির নেতারা। প্রতিনিধি দলের গাড়ি বহরের সামনে একটি গাড়িতে ছিলেন বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি এম এ আজিজ।

তিনি বলেন, আমরা একটি জিপ গাড়িতে বহররের সামনে ছিলাম। গোছরা বাজার অতিক্রমের পর দেখি ৩০ থেকে ৪০ জন যুবক লোহার রড ও লাঠি নিয়ে হামলা করতে আসছে। এসময় আমরা গাড়ি দ্রুত ঘুরিয়ে দলের মহাসচিবকে বহনকারী গাড়ির চালককে গাড়ি ঘুরানোর কথা বলি। কিন্তু ততক্ষণে হামলা শুরু হয়ে যায়।

দলের মহাসচিব গাড়ির সামনের সিটে ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, তারা দলের শীর্ষ নেতাদের দেখে গাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য, রুহুল আলম ও মাহবুবুর রহমান শামীম আহত হন। হামলাকারীরা বহরের অধিকাংশ গাড়িতে ভাংচুর চালিয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার বর্ণনায় বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘পাহাড় ধসে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশে আমরা ঢাকা থেকে চার জনের একটি দল চট্টগ্রামে এসেছি। চট্টগ্রাম বিমান বন্দর থেকে আমরা রাঙামাটির উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিলাম। রাস্তায় জানতে পারলাম রাঙামাটির যে রাস্তায় ভাঙন  শুরু হয়েছিল সেটি  ভেঙে গেছে। ওই রাস্তা হয়ে রাঙামাটি যাওয়া সম্ভব নয়।

তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম কাপ্তাই লেক হয়ে নদী পথে রাঙামাটি পৌঁছাবো। যে কারণে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কাপ্তাই যাওয়ার জন্য বের হয়েছি। ইছাখালী বাজারে যেতে না যেতেই মুশলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি ঠেলে কিছুদূর যেতেই হঠাৎ ৩০-৪০ যুবক লাঠিসোটা, হকস্টিক, রামদা ও বড় বড় পাথর নিয়ে আমাদের গাড়িতে আক্রমণ করলো।

প্রথমেই তারা গাড়ি সামনের গ্লাসে পাথর ছুঁড়ে মারে। এরপর অনবরত তারা হকস্টিক, লাঠিসোটা দিয়ে ভাঙচুর চালায়। এতে আমাদের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী রক্তাক্ত হয়েছেন, মেজর জেনারেল (অব) রহুল আলম চৌধুরী আহত হয়েছেন, আমি নিজেও আহত হয়েছি।’

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম আহত হন। গাড়ি বহরে থাকা একজনের মাথা ফেটে গেছে।

রবিবার সকাল সোয়া এগারোটার দিকে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের জীবন হুমকির মুখে। আমার হাতের আঙুল ফেটে গেছে, মহাসচিব হাতে ব্যাথা পেয়েছেন। আমাদের গাড়ি পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি এই হামলার জন্য আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের দায়ী করেছেন।

হামলার পর মির্জা ফখরুলের প্রতিক্রিয়া

পাহাড় ধসের দুর্গতদের দেখতে রাঙামাটি যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় হামলার শিকার হওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে রবিবার বেলা ১টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী রক্তাক্ত হয়েছেন।  আমি আঘাত পেয়েছি, আরও কয়েকজন আঘাত পেয়েছেন। কে কতটুকু আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন তা বড় কথা নয়।

আসল কথা হচ্ছে এই আঘাত গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত। জাতীয়বাদী রাজনীতির প্রতি আঘাত, মুক্তবুদ্ধি ও সুস্থ চিন্তার প্রতি আঘাত। এ আঘাত যারা সরকারের খারাপ কাজের প্রতিবাদ করেন তাদের প্রতিও আঘাত। এই আক্রমণের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের চরিত্র আরও বেশি করে উম্মোচিত হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সবসময় দাবি করে তারা গণতন্ত্র বিশ্বাস করে। আসলে তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, ভিন্নমতেও তাদের বিশ্বাস নেই। সহনশীলতা বলতে তাদের কিছুই নেই। এভাবে আক্রমণ আমাদের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো এবং অবিশ্বাস্য। আমাদের পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের ওপর যদি এ ধরনের হামলা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা তা সহজেই অনুমেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তো সেখানে জনসভা অথবা পার্টির মিটিং করতে যাচ্ছিলাম না। আমরা দুর্গত ও পাহাড় ধসে নিহতদের পরিবারকে পার্টির পক্ষ থেকে সমবেদনা জানাতে যাচ্ছিলাম। এই আক্রমণের একমাত্র প্রতিবাদ তখনই হবে যখন আমরা জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করে এই ফ্যাসিস্ট, অপশক্তিকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবো।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকের এ সুনির্দিষ্ট আক্রমণ কোথা থেকে আসতে পারে আপনারা তদন্ত করে দেখবেন। আওয়ামী লীগের লোকেরা এটা করেছে। এটা কোথা থেকে আসতে পারে আপনারা সেটা ভালো করে বলতে পারবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটি একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা। কোনও সভ্য দেশে এ ধরনের আক্রমণ হতে পারে না। আমাদের রাজনীতি করতে দেবেন, এখন ত্রাণও দিতে পারবো না।’

তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের মহাসচিব ও জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের ওপর যদি আক্রমণ হয় তাহলে আর বাকি থাকে কী? এর পরে কি আর রাজনীতি থাকে? রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে এ সরকার ক্ষমতায় টিকে রয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন  দলের ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব) রহুল আলম চৌধুরী, কেন্দ্রীয়  সাংগঠনিক সম্পাদক মাহববুর রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করসহ নেতাকর্মীরা।

ওবায়দুল কাদেরের প্রতিক্রিয়া

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর হামলা অন্যায় বলে মন্তব করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

রবিবার রাজধানীতে বিমানবন্দর সড়কে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যে বা যারাই মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা করুক না কেন, সেটা অন্যায়। আওয়ামী লীগ এটা খতিয়ে দেখছে, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। চট্টগ্রামের ডিসি-এডিশনাল এসপির সঙ্গে কথা বলেছি। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

সেতুমন্ত্রীর অভিযোগ, বিএনপি তার কর্মসূচি সম্পর্কে পুলিশকে আগে থেকে জানায়নি। তিনি বলেন, ‘বিএনপি পুলিশকে সঠিক তথ্য দেয় না। তাদের রাউজান হয়ে যাওয়ার তথ্য ছিল পুলিশের কাছে। পরে তারা বামুনিয়া হয়ে গেছে। পুলিশের কাছে এ তথ্য ছিল না। তথ্য থাকলে পুলিশ ওখানেই পাহারার ব্যবস্থা করত।’

বিএনপির গাড়ি বহরে হামলার পর বিএনপির প্রতিনিধি দল রাঙামাটিতে না গিয়ে চট্টগ্রাম ফিরে যায়।রবিবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার শান্তিরহাট এলাকায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।

তিনি রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে দুর্গতদের দেখতে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম আহত হন। গাড়ি বহরে থাকা একজনের মাথা ফেটে গেছে।

ওবায়দুল কাদের জানান, ঘটনার পর পুলিশ এসে তাদেরকে ত্রাণ বিতরণে অনুরোধ করেছিল। কিন্তু তারা সেটা করেনি।

ফখরুলের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলার প্রতিবাদে নয়া পল্টনে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। রবিবার দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তাৎক্ষণিক এই বিক্ষোভ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরুসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী।

নিন্দা ও প্রতিবাদ: এদিকে মির্জা ফখরুলের গাড়ি বহরে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, বাংলাদেশ ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি জেবেল রহমান গানি, মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়াসহ বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিকদল।

এদিকে মির্জা ফখরুলের ওপর হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার দেশের সব জেলা সদরে এবং ঢাকা মহানগরীতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

রোববার দুপুরে কুমিল্লা আদালতে একটি মামলার হাজিরা শেষে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ ঐতিহাসিক পার্বত্য লংমার্চ দিবস

32

মেহেদী হাসান পলাশ:

আজ ঐতিহাসিক পার্বত্য লংমার্চ দিবস। ১৯৯৮ সালের এই দিনে অর্থাৎ ৯ জুন পার্বত্য শান্তি চুক্তিকে দেশ বিক্রির কালো চুক্তি আখ্যা দিয়ে তৎকালীন ও আজকের বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট পার্বত্য চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর রাষ্টীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তি সম্পাদনের পরই তৎকালীন বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একে দেশ বিক্রির কালো চুক্তি আখ্যা দিয়ে এ চুক্তির বিরুদ্ধে প্রবল গণ- আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। বেশ কয়েকটি হরতালসহ নানা কর্মসূচী দেয়া হয়। এরই এক পার্যায়ে অনুষ্ঠিত হয় এই ঐতিহাসিক লংমার্চ।

34

১৯৯৮ সালের ৯জুন সংঘটিত ঐতিহাসিক সেই লংমার্চের আজ ১৬ বছর পূর্তি। যে শান্তিচুক্তিকে কালো চুক্তি আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবীতে সেই ঐতিহাসিক লংমার্চ হয়েছিল ১৬ বছর পর  পার্বত্য চুক্তির অধীন নানা বঞ্চনা ও বৈষম্য নিয়ে বাঙালীরা আজো আন্দোলন করে যাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামে।

l-2

যদিও এই লংমার্চের কথা লংমার্চ পালনকারী বিরোধী দলীয় জোট ও পার্বত্য বাঙালীদৈর অনেকেই ভুলে গেছে। বিরোধী দল সরে গেছে লংমার্চের চেতনা থেকে। কারণ, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট সেই লংমার্চে পরিস্কার ঘোষণা করেছিল তারা ক্ষমতায় গেলে দেশবিক্রির পার্বত্য কালো চুক্তি বাতিল করবে। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় গিয়ে সেই চুক্তি বাতিল তো দুরে থাক বাস্তবায়নে জোরালো ভূমিকা পালন করে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনাকারী এক সন্ত্রাসীকে(মেজর রাজেশ-মণি স্বপন দেওয়ান) নমিনেশন দিয়ে এমপি ও মন্ত্রী বানায়। আর এখন বিএনপি পার্বত্য বাঙালী বর্জিত দলে পরিণত হয়েছে।

40

প্রেক্ষাপট ও বিশালতা বিবেচনায় এই লংমার্চটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচাইতে বড় লংমার্চ। ৯ জুন ১৯৯৮ সাল সকাল ৮ টায় পল্টন ময়দান থেকে হাজার হাজার গাড়িতে শুরু হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম অভিমূখে ঐতিহাসিক সেই লংমার্চ যাত্রা। লংমার্চ শুরুর কিছু পর কাঁচপুরে বাধাগ্রস্ত হয় শাসক দলের সন্ত্রাসীদের দ্বারা। আগের রাতেই নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমান কাঁচপুর এলাকায় গুলি করে বেশকিছু গাড়ীর চাকা পাংচার করে রাস্তা আটকে দেয় ও রাস্তায় সশস্ত্র অবস্থান নেয়।। ফলে রাস্তায় সৃষ্টি হয় প্রবল যানজট। স্থানীয় সন্ত্রাসীরা আটকে পড়া গাড়িতে লুটপাট চালায়, তাদের হাতে বেশ কিছু মহিলা ধর্ষিত হয় বলে পত্রপত্রিকায় খবর বের হয়েছিল।  অনেক ট্রাক, বাস রাস্তার মাঝে আড়াআড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করা হয়। সশস্ত্র শামীম ওসমান বাহিনী রাস্তায় অবস্থান নেয়। ফলে আটকে যায় বিশাল লংমার্চ। এদিকে লংমার্চটি যখন কাঁচপুরে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল তখনও লংমার্চের গাড়ি বহরের শেষ প্রান্ত পল্টন ময়দানে অবস্থান করছিল। এই একটি ঘটনায় প্রমাণ করে কি বিশাল ছিল সেই লংমার্চের ব্যাপ্তি।

46

এদিকে বাধাগ্রস্ত হবার পর ৭ দলীয় জোটে অবস্থানকারী সরকারী দালালরা লংমার্চ সেখানেই সমাপ্তি ঘোষণা করে ফিরিয়ে নেবার ষড়যন্ত্র শুরু করে। কিন্তু ৭ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত সে ষড়যন্ত্র নস্যাত করে দেয়। বেগম খালেদা জিয়া ঘোষণা করেন, যতদিন না পর্যন্ত এই সরকার রাস্তার বাঁধা সরিয়ে নিয়ে লংমার্চ সচল করার উদ্যোগ না নেবে ততদিন পর্যন্ত তিনি রাস্তায় অবস্থান করবেন। জোট নেত্রীর এ ঘোষণায় মুহুর্তেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। লংমার্চকারীদের মধ্যে নতুন প্রণোদনা সৃষ্টি হয়।

39

লংমার্চ অবস্থানকারী রাস্তার আশেপাশের গ্রামবাসীরা খাবার সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে। মুহুর্তেই রাস্তার পাশে বড় বড় চুলা তৈরী হয়ে যায়। লক্ষ লক্ষ লংমার্চকারীদের জন্য কোথাও খিচুড়ি, কোথাও গরু জবাই করে রান্না শুরু হয়। শুকনা খাবার, খিচুড়ি ইত্যাদি খেয়ে লংমার্চকারীরা রাস্তায় অবস্থান করে। নেতৃবৃন্দ মাইকে জ্বালাময়ী বক্তব্য দিতে থাকেন।

বিভিন্ন স্থানে মাইকে জাতীয় পর্যাযের শিল্পীরা সংগ্রামী সঙ্গীত, ছড়া, কবিতা পাঠ করে লংমার্চকারীদের চাঙ্গা করে রাখেন। বর্তমান লেখক সেই লংমার্চেল আট সদস্য বিশিষ্ট প্রচার কমিটির সদস্য ছিলেন- যার নেতৃত্বে ছিলেন, রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী ও অভিনেতা ওয়াসীমুল বারী রাজিব(মৃত)। লেখকের রচিত বেশ কয়েকটি ছড়া, কবিতা ও প্যারোডি সঙ্গীত লংমার্চ জুড়ে গাওয়া হয়।

37

অবশেষে বার ঘন্টা পর সন্ধ্যায় সরকার অবরোধ সরিয়ে নেয়। নতুন করে যাত্রা শুরু করে লংমার্চ। লংমার্চকারীদের কাছে রাখা শুকনো খাবার এরই মধ্যে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু নতুন খাবার সংগ্রহের কোনো সুযোগ তাদের ছিলনা। গভীর রাতেও ঢাকা চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ রাস্তার পাশে দাড়িয়ে লংমার্চকে স্বাগত জানায়। জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কয়েকটি স্থানে গভীর রাতেরই পথসভায় ভাষণ দেন। রাস্তায় বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ লোক গাড়ী নিয়ে লংমার্চে শরীক হয়।

লংমার্চে শাসকদলীয় সন্ত্রাসীদের হামলা

সারারাত বিরামহীন সফরের পর ফরজরের নামাজের সময় লংমার্চ চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করে। সেই সকালেও হাজার হাজার চট্টগ্রামবাসী রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে লংমার্চ বহরকে স্বাগত জানায়। সেখানে চট্ট্রগ্রামের লালদিঘী ময়দানে বিশাল এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ৭ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে লংমার্চ তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন অংশ খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে , জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন অংশ রাঙামাটির উদ্দেশ্যে এবং জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন অংশ বান্দরবানের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। লংমার্চ পার্বত্য এলাকায় প্রবেশ করলে মোড়ে মোড়ে বাঙালীরা পাহাড়ী লেবুর শরবত, লেবু, কলা, কাঁচা আম দিয়ে লংমার্চকারীদের ক্ষুধা তৃষ্ণা মেটানোর জন্য আকুল আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। চোখে না দেখলে বর্ণণা করে বিশ্বাস করানো কঠিন।

৭ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে স্থানে পার্বত্য চুক্তির আওতায় শান্তিবাহিনী অস্ত্র সমর্পনের নাটক করেছিল সেই খাগড়ছড়ি স্টেডিয়ামে লাখো লাখো লোকের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে পার্বত্য শান্তি চুক্তিকে কালো চুক্তি আখ্যা দিয়ে বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে সরকার দেশের এক দশমাংশ ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব অন্যদেশের হাতে তুলে দিয়েছে। ৭ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেন, তাদের সরকার ক্ষমতায় এলে এই দেশবিরোধী পার্বত্য চুক্তি বাতিল করা হবে। কিন্তু দেুঃখের বিষয় চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এসে এই প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়।

আজকে যখন আবার সেই শান্তিচুক্তির অধীনে ভূমি কমিশন করে পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বভৌমত্ব ও বাঙালীদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে তখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮দলীয় জোট মুখে কুলুপ এটে বসে রয়েছে। তিন পার্বত্য জেলায় বিএনপির পাহাড়ি নেতারা বাঙালীদের আন্দোলনে যেতে বাধা দিচ্ছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিস্ময়কর নীরবতা দেখে প্রশ্ন জাগে, পার্বত্য চট্টগ্রাম কি বাংলাদেশ নয়?

 

বিএনপিতেও উপেক্ষিত পার্বত্য বাঙালী

বিএনপি

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

বিএনপি পার্বত্য বাঙালীদের দল বলে প্রচারণা থাকলেও সদস্য ঘোষিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে পার্বত্য বাঙালীরা উপেক্ষিত হয়েছে। গত ৬ আগস্ট ঘোষিত বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিন পার্বত্য জেলা থেকে ৭ জন স্থান পেয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর হলেও মাত্র ১ জন রয়েছে পার্বত্য বাঙালীর।

এই বৈষম্য নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বেশিরভাগ বিএনপির বাঙালী নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। ফলে বিষয়টি পার্বত্যনিউজ তিন পার্বত্য জেলার শীর্ষ বাঙালী তিন নেতার সাথে কথা বলে। তাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে হতাশা পরিলক্ষিত হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালীদের কেউ প্রয়োজন মনে করছে না- ওয়াদুদ ভুঁইয়া

বিএনপির নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া সহ. কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি এবং সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভুঁইয়া তার প্রতিক্রিয়ায় পার্বত্যনিউজকে বলেন, বিএনপির নতুন কমিটিতে অবশ্যই পার্বত্য বাঙালীদের উপেক্ষা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্য পদে রবীন্দ্র লাল নামে যে স্থান পেয়েছে, সে তো আমাদের খাগড়াছড়ির ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা হওয়ারও যোগ্য নয়, আমরা তাকে খাগড়াছড়ির কোনো ইউপি কমিটির সভাপতিও করবো না। অবশ্যই এখানে বাঙালীদের উপেক্ষা করা হয়েছে। আমাকেও তো বাদ দিতো, গতবার তো বাদ দিয়েছিলো। গতবার আপনারা লেখালেখি করেছেন, সেসব পেপার কাটিং লিফলেট হয়ে পার্টি অফিসে ও বিভিন্ন জায়গায় বিতরণ করা হয়েছে- যার কারণে একটা আওয়াজ উঠেছিলো।

পার্বত্য বাঙালীদের শীর্ষ এই নেতা বলেন, আমি নিজেও্ একাধিকবার ম্যাডামকে বলেছি, ম্যাডাম ওখানে তো বাঙালীদের বাদ দেয়া হলো। তিনি জানতে চাইলেন, কিভাবে? আমি বলেছিলাম, আমাকেও তো রাখা হয়নি। তিনি বললেন, এটা আর এমনকি, বাদ পড়ে গেছে কোনোভাবে, আছো তো তোমরা, তোমরা তো জেলাতে আছো তো, এখানে থাকতে হবে এমন কোনো কথা নেই।

নিজের পদ নিয়ে অসন্তষ্ট ওয়াদুদ ভুঁইয়া আরো বলেন, আমার বক্তব্য হলো বাঙালীদের উপেক্ষা করা হয়েছে। কেননা, রবীন্দ্র লাল যে নেতা হলো, তার চেয়ে যোগ্য অনেক বাঙালী নেতা পার্বত্য চট্টগ্রামে আছে। সেখানে শুধু রবীন্দ্র লাল না তো, সেখানে ৭ জনকে রাখা হয়েছে। কিন্তু আমি ৮০ সাল থেকে বিএনপির পলিটিক্স করি, সেই হিসাবেও তো আমাকে এদের চেয়ে এক গ্রেড উপরে রাখা উচিত ছিলো। কিন্তু আমাকে তো ওদের গ্রেডেই রাখলো। ৬ জনের সাথে ১ জন, সেই হিসাবেও আমাকে তো ওদের চেয়ে উপরে রাখা দরকার ছিলো, কিন্তু তাতে করলো না। আমার রাজনৈতিক বয়স, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী আমার পদ আরো উপরে যাওয়া উচিত ছিলো। কিন্তু আমার থেকে অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ লোক অনেক ভাল পদ পেয়েছে।

শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত দলে এমন অবস্থা কেন হলো এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কেউ পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালীদেরকে প্রয়োজন মনে করছে না, ভাবছে বাঙালীদের প্রয়োজন নেই। বিদেশীদের পছন্দ পাহাড়ীরা, বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলো পছন্দও পাহাড়ীরা। বিএনপি- আওয়ামী লীগ এখন আর সে ভিন্নতা নেই।

তিনি আরো বলেন, অবশ্য একটা ভিন্নতা আছে। বিএনপি তিন জেলার এক জেলায় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদে বাঙালী রাখে, আওয়ামী লীগ এক জেলাতেও রাখে না। গতবার সমান ছিলো, এবার অবশ্য দুইটাতে আছে, আওয়ামী লীগ একটাতেও রাখেনি। এবার্ ট্রাডিশন ভেঙে রাঙামাটির সভাপতি পদে বাঙালী আমি ফাইট করে নিয়ে এসেছি। আবার বিএনপি এক জেলায় বাঙালী নমিনেশন দেয়, আওয়ামী লীগ তিন জেলায় পাহাড়ী নমিনেশন দেয়। লাস্ট ইলেকশনে বিএনপিও তিন জেলায় পাহাড়ী নমিনেশন দিয়েছিল। কাজেই এখন সেই পার্থক্য খুব একটা নেই। আস্তে আস্তে বিএনপিও আওয়ামী লীগের দিকে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় কমিটিতে সমতার ভিত্তিতে পদ বন্টিত না হওয়ায় নেতাকর্মীরা হতাশ- শাহ আলম

রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম পার্বত্যনিউজকে বলেন, বারবার আমরা ম্যাডামকে বলে এসেছি বিএনপির কমিটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অধিকহারে বাঙালী নেতাদের নেয়ার জন্য। ম্যাডাম আমাদের কমিটমেন্টও দিয়েছিলেন যে এবার তিনি সমতা রক্ষা করবেন। বিষয়টি আমাদের ওয়াদুদ ভাইও জানেন। কিন্তু কেন করলেন না সেটা তো বুঝতে পারছি না।

তিনি বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে অংশ নেয়ার মতো অনেক বাঙালী নেতা পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় রয়েছে। কিন্তু তাদের কমিটিতে স্থান না দেয়ায় তারা হতাশ। এর প্রভাব স্থানীয় বিএনপির কার্যক্রমে পড়বে বলেও তিনি ধারণা করছেন।

এথনিক মাইনোরিটিদের অধিক হারে কমিটিতে নেয়ার জন্য বিদেশীদের চাপ রয়েছে- ওসমান গণি

বান্দরবান জেলা বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ওসমান গণি বলেন, আমাদের এখানে অর্ধেক পাহাড়ী, অর্ধেক বাঙালী। কাজেই আমি মনে করি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিও অর্ধেক পাহাড়ী ও অর্ধেক বাঙালী নিশ্চিত হওয়া উচিত। সে হিসাবে আরো অধিক বাঙালী বিএনপির কমিটিতে থাকা উচিত ছিলো।

তিনি বলেন, নিজেদের কে আমরা অভিভাবক শূন্য মনে করছি। পার্বত্য চট্টগ্রাম জিয়াউর রহমান ভূমিকা না রাখলে এতোদিন পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তো। তাই এখানকার বাঙালীরা বিএনপির অধিক সহানুভুতি সম্পন্ন। সেটা আমরা যখন উপরের লেভেলে আলাপ করি, তখন তারা বলে, এথনিক মাইনোরিটিদের অধিক হারে কমিটিতে নেয়ার জন্য বিদেশীদের চাপ রয়েছে।

ওসমান গণি বলেন, সর্বত্র প্রতিনিধি অর্ধেক পাহাড়ী, অর্ধেক বাঙালী নিশ্চিত হওয়া উচিত। আমরা চাই সকল রাজনৈতিক দলে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ী-বাঙালী জনসংখ্যার অনুপাত অর্ধেক নিশ্চিত হওয়া উচিত। এই জনসংখ্যার অনুপাতকে অস্বীকার করা মানে, পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অস্বীকার করা।
উল্লেখ্য, সদ্য ঘোষিত বিএনপির ৫০২ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে তিন পার্বত্য জেলা থেকে মাত্র ৭ জনের ঠাঁই হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঘোষিত দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি এই তিন পার্বত্য জেলা থেকে ৭ জন মনোনীত হয়েছেন। এর মধ্যে বান্দরবানের ম্য ম্যাচিংকে উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক, খাগড়াছড়ির আবদুল ওয়াদুদ ভুঁইয়াকে সহ কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক, রাঙ্গামাটির কর্ণেল (অব.) মনিষ দেওয়ানকে সহ উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক, দীপেন দেওয়ানকে সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে কমিটিতে রাখা হয়েছে।

এছাড়াও পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বান্দরবানের সা চিং প্রু জেরী, খাগড়াছড়ির সমিরণ দেওয়ান, রাঙ্গামাটির রবীন্দ্র লাল চাকমাকে সদস্য করা হয়েছে। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

খাগড়াছড়ি পৌর নির্বাচনের ঝড় বিএনপি-আ.লীগে অস্থিরতা আর বহিস্কার আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে

আওয়ামী লীগ বিএনপি

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

খাগড়াছড়ি পৌর নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে নাগরিক কমিটি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মো: রফিকুল আলম বিজয়ী হবার পর বড় দু‘দলেই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

বিএনপি-আওয়ামী লীগ এবং এ দুই দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেয়ায় দল দুটির শীর্ষ নেতারা বেছে বেছে ত্যাগী ও ইমেজ সম্পন্ন নেতাদের বহিস্কারের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে দুই দলের ভেতর থেকেই। এমন পরিস্থিতিতে দু‘দলেই বহিস্কার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

খাগড়াছড়ি শহরে বিএনপি শক্তিশালী বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা এতদিন ধারণা করে এসেছেন। তারপরও খাগড়াছড়ি বিএনপির অভিভাবক হিসেবে পরিচিত সাবেক এমপি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াদুদ ভূইয়া দীর্ঘদিন পর খাগড়াছড়িতে অবস্থান নিয়ে নিজেই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠ চষে ভোট চাওয়ার পরও ‘ধানের শীষ’ প্রতীক হিসাবে থাকার পরও ভোটের হিসেবে তৃতীয়স্থান লাভ করার পর দলটির তৃণমুল নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ নিয়ে সামাজিক গণমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকে মনে করছেন দলে ভুল প্রার্থি, বিভক্তিসহ অতীত সব ভুলেরই খেসারত দিতে হয়েছে এবারের পৌর নির্বাচনে। ফলে সৃষ্টি হয়েছে বহিস্কার আতঙ্ক।

খাগড়াড়াছড়ি জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আমিন শরীফ সওদাগর, যুগ্ম-সম্পাদক তাজুল ইসলাম বাদল, কোষাধ্যক্ষ বাদশা মিয়া সওদাগর, সাবেক মেয়র ও জেলা ছাত্রদলের সাবে সভাপতি মো: জয়নাল আবেদীন, খাগড়াছড়ি জেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুস সালামের নাম বহিস্কারের তালিকায় রয়েছে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভুঁইয়া পার্বত্যনিউজকে বলেন, খাগড়াছড়ি বিএনপিতে কোনো বহিস্কার আতঙ্ক নেই এবং এরকম কোনো তালিকাও করা হয়নি। প্রার্থি নির্বাচনের ভুলের বিষয় সম্পের্কে তিনি বলেন, প্রার্থি নির্বাচন করেছেন আমাদের তৃণমূলের ১৩৫ জন নেতা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে। এখানে তৃণমূল নেতৃবৃন্দ যদি প্রার্থি নির্বাচনে ভুল করে তাহলে আমাদের কি করার থাকতে পারে।

খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-সম্পাদক মো: তাজুল ইসলাম বাদল বলেন, যাঁরা ব্যক্তি স্বার্থে দলকে বিকিয়ে ফায়দা হাসিল করেছেন, বিএনপি’র সাধারণ নেতাকর্মীরা তাঁদেরকে চিহ্নিত করতে পেরেছে। তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী সৈনিকরা নীতির প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধভাবে জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের সময়োপযোগী জবাব দেয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অন্যদিকে শাসকদল আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের একটি বড় অংশও দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে নাগরিক কমিটি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রফিকুল আলম‘র পক্ষে কাজ করায় এরই মধ্যে দলটিতে বহিস্কারের হিড়িক পড়েছে। আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী মো. শানে আলম পরাজিত হওয়ায় দলটির দু:সময়ে জেল-জুলুম আর নির্যাতনের শিকার এমন কিছু নেতার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এনে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো: জাহেদুল আলম, যুগ্ম-সম্পাদক এস.এম. শফি, শিক্ষা ও মানবকল্যাণ সম্পাদক মো: দিদারুল আলম এবং জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ফিরোজসহ অনেককে বহিস্কারের গুঞ্জন উঠেছে। এ্ররই মধ্যে দলীয় জেলা কার্যালয়ে তালা দেয়া ও তার প্রতিবাদে মানববন্ধন নিয়ে বিভক্তি প্রকাশ হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগ‘র সিনিয়র সহ-সভাপতি রন বিক্রম ত্রিপুরা বলেন, আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে যাঁরা দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেছে তাঁরা অটোমেটিকেলি দল থেকে বহিস্কার হয়ে গেছেন। এছাড়াও তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাসহ বহিস্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জেলা কমিটি থেকে প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়েছে বলেও দাবী করেন তিনি।

এদিকে নির্বাচন চলাকালীন সময়ে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মো: শানে আলম‘র বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা আ.লীগ ও পৌর আ.লীগের ১৭ নেতাকর্মীকে আগেই বহিস্কার করা হয়েছে।

দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে কেন্দ্রের নির্দেশনা মানা হয়নি দাবী করে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম বলেন, এ জেলায় আওয়ামীলীগের রাজনীতিকে শক্তিশালী করেছেন এমন নেতারা মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: জাহেদুল আলম বলেন, আমি নিজে, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক এস.এম. শফি ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: জহির উদ্দিন ফিরোজ বিএনপি’র দূর্গ হিসেবে পরিচিত মাটিরাঙ্গায় অবস্থান করে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে দলীয় প্রার্থীকে নির্বাচিত করেছি। একটি চক্র অহেতুক তার বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি পৌরসভার নির্বাচনে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ষড়যন্ত্র করছেন বলেও দাবী তার।

এদিকে যারা দল করে দলের শৃংখলা ভঙ্গ করবে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়াটাই স্বাভাবিক বলে দাবী করেন খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি।

রাঙামাটিতে যুবদল, ছাত্রদলসহ আট নেতাকে বহিষ্কার

বহিস্কার

নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাঙামাটি জেলা যুবদলের সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জেলা যুবদলের চার নেতা এবং জেলা ছাত্রদলের চার নেতাসহ আট নেতাকে বহিষ্কার করেছে রাঙামাটি যুবদল,ছাত্রদল। মঙ্গলবার বিকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

জেলা যুবদলের বহিস্কৃত নেতারা হলেন, জেলা যুবদলের ত্রাণ ও পূর্ণবাসন সম্পাদক মোঃ আজিজ, সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, সদস্য মোঃ ইউনুচ, সদস্য মোঃ মহসিন এবং জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়র হোসেন,পৌর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক জয়নাল উদ্দীন, সদর থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বায়োজিদ রণি,রাঙামাটি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য ও ২নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন ফয়সাল।

তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তথা ধানের শীষ প্রতীক মেয়র প্রার্থী মেয়র ভূট্টোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তথ্য প্রমাণাদি সাপেক্ষে যুবদল এবং ছাত্রদল এবং দলের সাধারণ সদস্য পদ থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

জেলা যুবদল এবং ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দলীয় জৈষ্ঠ নেতাদের নির্দেশে এবং জেলা যুবদল এবং ছাত্রদলের সম্পাদক মন্ডলীর সভার সিন্ধান্ত মোতাবেক বিকালে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার মাধ্যমে তাদের বহিষ্কার করা হয়।

রাঙামাটিতে রিটার্নিং অফিসারের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রের তালিকা দিল বিএনপি

বিএনপি অফিস রাঙামাটি

নিজস্ব প্রতিনিধি:

৩০ ডিসেম্বর রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাঙামাটি জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টোর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোঃ শাহ আলম রাঙামাটি জেলা রিটানিং কর্মকর্তা বরাবরে মঙ্গলবার সকালে একটি অভিযোগ পত্র দায়ের করেন।

বিএনপি’র দেওয়া এই অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, রাঙামাটির পৌর এলাকার কয়েকটি ভোট কেন্দ্র খুবুই ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র সমুহ হলো,শহরের ইসলামপুর, পুরান পাড়া, নিউ রাঙ্গামটি, শহীদ আব্দুল আলী একাডেমী, সিনিয়র মাদ্রাসা, শিশু একাডেমী, শাহ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়, গোধূলী আমানত বাগ, ভেদভেদী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাঠালতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ওয়াপদা রেষ্ট হাউজ।

এসব কেন্দ্রে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা রিটানিং অফিসার বরাবরে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।

রাঙামাটিতে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী রবি’র উপর হামলা

robi

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী ও বহিস্কৃত জেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি রবিউল আলম রবি’র উপর একদল দুষ্কৃতকারী অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।

সোমবার রাত দশটায় শহরের আসামবস্তীর নারকেল ফার্ম এলাকায় প্রচারণা শেষে ফেরার পথে আনুমানিক ১০-১২ অজ্ঞাত যুবক রবি’র গাড়ি বহরে হামলা করে। এসময় রবি আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

দুস্কৃতকারীর হামলায় মেয়র প্রার্থী রবি বুকে ও পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন। হামলার ব্যাপারে রবি পার্বত্যনিউকে জানান, আমি শেষ দিনে আসামবস্তির নারকেল ফার্ম এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে আসার সময় রাতের অন্ধকারে একদল অজ্ঞাত যুবক নারকেল ফার্ম এলাকা থেকে পাথর ও ইট ছুঁড়তে থাকে। অতর্কিত হামলায় কয়েকটি ইট আমার বুক এবং পায়ে এসে লাগে।

এসময় আমার সাথে থাকা কর্মীরা ভয়ে দিশেহারা হয়ে উঠে। তাদের হামলায় আমার প্রচারণার গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে যায় এবং গাড়ির পিছনের কভার ফেটে যায়। এ ঘটানার পর আমি রাতে অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।

রাঙামাটি কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রশিদ পার্বত্যনিউজকে জানান, মেয়র প্রার্থী রবি গতকাল রাতে থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেছে। আমি সর্বাত্বক চেষ্টা চালাচ্ছি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, পায়ে এবং বুকে আঘাতজনিত কারণে রাতের বেলায় হাসপাতালে আসেন রবিউল আলম রবি। পরে তার অবস্থা বিবেচনায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি দেওয়া হয়েছে।

দীঘিনালা বিএনপিতে সক্রিয় হচ্ছে সমীরণ গ্রুপ

‘যারা আওয়ামী লীগ কিংবা সমীরণ গ্রুপে যোগ দিচ্ছে তারা কেউ বহিস্কৃত, কেউ নিষ্ক্রিয়, কেউবা নির্দলীয়’

Al amin (news) Dighinaia

মো. আল আমিনঃ

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সমীরণ দেওয়ানের গ্রুপ সক্রিয় হচ্ছেন ধীরে ধীরে। জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভুইয়া পন্থী বিএনপি নেতাকর্মীরা ছুটছেন সমীরণ গ্রুপ ও আওয়ামী লীগে। চলছে একের পর এক যোগদান অনুষ্ঠান।

একসময় ওয়াদুদপন্থী নেতাকর্মীরা দীঘিনালায় বিএনপি’র রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করলেও বর্তমানে তারা অনেকটাই কোণঠাসা বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গত ১৩ জুন (শুক্রবার) বিকালে ওয়াদুদ পন্থী বিএনপি’র দূর্গ ভেঙ্গে সভা করে সমীরণপন্থী বিএনপি নেতাকর্মীরা। বোয়ালখালী আবাসিক হোটেল শাহজাহানে অনুষ্ঠিত সভায় ওয়াদুদ পন্থী উপজেলা বিএনপি’রসহ দপ্তর সম্পাদক মিলন ফরাজীকে আহ্বাবায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এন ইসলাম বাচাকে যুগ্ন আহবায়ক করে সমীরণপন্থী উপজেলা বিএনপি’র ৭১ সদস্য আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সহসভাপতি সোনা মিয়া চেয়ারম্যান। এই সময় উপস্থিত ছিলেন, মোঃ শামসুল হক, মাসুম ফরাজী, আঃ মান্নান, ফজর আলী, ছগির ফরাজী, মানিক চাকমা, ডা: আবু বক্কর সিদ্দিক, মাহাবুব আলম প্রমুখ। মূল কারণ; গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর থেকে বিএনপি কিংবা সহযোগী সংগঠনের কোনো নেতাকর্মীকে রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি। পালিত হয়নি কেন্দ্র ঘোষিত সরকার বিরোধী কোনো কর্মসূচী।

শুধু তাই নয় গত ৩ জুন ওয়াদুদ ভূইয়াসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে পুরো জেলায় সকাল সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ ঘোষনা করা হলেও অবরোধ সফল করতে উপজেলার কোথাও ওয়াদুদ পন্থী কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। দুইদুই বার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সরকার বিরোধী আন্দোলন পালনের ক্ষেত্রে জেলার অন্যান্য উপজেলার তুলনায় দীঘিনালা বিএনপি ছিল সবার শীর্ষে। জেলা সদরে ওয়াদুদ গ্রুপ ও সমীরণ গ্রুপ নামে বিএনপি দু’ভাগে বিভক্ত হলেও দীঘিনালায় সমীরণ গ্রুপের ছিল না তেমন কোনো অবস্থান।

গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে যোগ্য প্রার্থীকে মনোয়ন না দিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের মনোয়ন দেয়ায় ওয়াদুদপন্থী বিএনপি’র দূর্গতে বেজে উঠে ভাংগনের সুর। কাঙ্ক্ষিত প্রার্থী মনোনীত না হওয়ায় ওয়াদুদপন্থী বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বেশীরভাগ নেতাকর্মী অবস্থান নিয়েছিল আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে। যোগ্য প্রার্থীকে মনোয়ন না দেয়ায় বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জামানত হারিছেন বলে দাবী করেছেন সমীরণ গ্রুপে যোগদানকারী বিএনপি নেতারা।

নির্বাচনে ওয়াদুদ মনোনীত প্রার্থীদের ভরাডুবি এবং প্রার্থীর পক্ষে যেসব নেতাকর্মী কাজ করেনি তাদেরকে নানাভাবে হুমকি ধামকি দেয়ার কারনে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াদুদ পন্থী বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অশংখ্য নেতাকর্মী। এই সুযোগে দীঘিনালায় দল ভারি করার কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ ও সমীরণ পন্থী বিএনপি নেতারা। চলছে একের পর এক যোগদান অনুষ্ঠান।

দীঘিনালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি মোঃ কাশেম জানান, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও উন্নয়নের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে এ পর্যন্ত সহস্্রাধিক বিএনপি নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। আরও অনেকেই যোগ দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

অপরদিকে উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এন ইসলাম বাচা ও সহকারী দপ্তর সম্পাদক মিলন ফরাজির নেতৃত্বে ওয়াদুদ পন্থী তিন শতাধিক নেতাকর্মী সমীরণ গ্রুপে যোগ দিয়েছেন বলে সমীরণপন্থী বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন। সমীরণ গ্রুপের দায়িত্ব গ্রহনের পর মিলন ফরাজী স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ম্যাডাম খালেদা জিয়া খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে সমীরণ দেওয়ানকে বিএনপি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। তখন ওয়াদুদ ভূইয়ার অনুসারীরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রার্থীর বিরোধিতা করে আনারস প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। স্বার্থের প্রয়োজনে তারা কখনো ধানের শীষ, কখনো আনারস। তাই ধানের শীষকে রক্ষা করার জন্য দলবল নিয়ে আমরা সমীরণ গ্রুপে যোগ দিয়েছি। আরও অনেক নেতাকর্মী যোগদানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াদুদ পন্থী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মোসলেম উদ্দীন জানান, যারা আওয়ামী লীগ কিংবা সমীরণ গ্রুপে যোগ দিচ্ছে তারা কেউ বহিস্কৃত, কেউ নিষ্ক্রিয়, কেউবা নির্দলীয়। আমাদের সক্রিয় কোনো নেতাকর্মী আওয়ামী লীগ কিংবা সমীরণ গ্রুপে যাওয়ার প্রশ্নই আসেনা। ওয়াদুদ ভূইয়াকে খাগড়াছড়ি বিএনপি’র অভিভাবক দাবী করে তিনি জানান, ওয়াদুদ ভূইয়াকে ঘিরে খাগড়াছড়িতে বিএনপি’র যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল তা এখনো অটুট রয়েছে। দু’একজন নেতাকর্মী এদিক ওদিক চলে গেলেও ওয়াদুদ ভূইয়ার কিছুই হবে না। বিএনপি ওয়াদুদ ভূইয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ছিল ঐক্যবদ্ধ আছে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকবে দাবী করে তিনি আরও জানান, এন ইসলাম বাচাকে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে ।

এ সংক্রান্ত আরেকটি নিউজ:

দিঘীনালায় বিএনপি ত্যাগের হিড়িক: একমাসে ৫ দফায় হাজার খানেক নেতাকর্মীর আওয়ামী লীগে যোগদান

খাগড়াছড়িতে সাংবাদিকসহ ৯ বিএনপি কর্মীকে জেল হাজতে প্রেরণ

Asad Pic-1

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়িতে দৈনিক ভোরের ডাক জেলা প্রতিনিধি শরীফুল ইসলাম আসাদসহ ৯ বিএনপিকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে বিজ্ঞ আদালত।

মঙ্গলবার সকালে রামগড় উপজেলার আওয়ামীলীগ কর্মী মো. ফারুক আহমেদের ১যুগ আগের ঘটনা দেখিয়ে দায়েরকৃত মামলায় জামিন লাভে দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি আসাদ সহ ৯ বিএনপি নেতাকর্মী খাগড়াছড়ি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল আলম চৌধুরীর আমলি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেয়।

জেল হাজতে প্রেরণকৃত অন্যান্যরা হল-জেলা যুবদলের সহ: কোষাধ্যক্ষ ওয়াহিদুল ইসলাম মুরাদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, জেলা যুবদলের সদস্য রিয়াদ, রামগড় পৌরসভার সাবেক কমিশনার জসিম উদ্দিন, রামগড় বিএনপি কর্মী সুজাত আলী, মো: মিলন মিয়া, মোজাম্মেল হোসেন বাবলু। উল্লেখ্য, দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি শরীফুল ইসলাম আসাদ জেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভূইয়ার আপন ভাতিজা।

জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল-১১টায় আদালত সড়কস্থ খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব চত্বরে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি’র সাবেক সাংসদ ওয়াদুদ ভূইয়া সহ বিএনপি’র ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে আয়োজিত মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন শেষে আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করে।
 
এদিকে, ১যুগ আগের ঘটনা দেখিয়ে রামগড় থানায় জিআর নং-১৪৪, ১৪৫ মামলায় ওয়াদুদ ভূইয়াসহ ২১নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও মঙ্গলবার ৯ বিএনপি নেতাকর্মীর জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করায় খাগড়াছড়ি জেলার রাজপথ আবারও উত্তপ্ত হয়ে পড়ছে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে ৩জুন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি পুরো জেলায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ কর্মসূচী পালনের কর্মসূচী হাতে নিয়েছে।

রাঙামাটিতে জেলা বিএনপি’র বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

স্টাফ রিপোর্টার, রাঙামাটি:

সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচীর অংশ হিসাবে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল ও  প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে, জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রোববার বেলা ১১টায় শহরের জেলা বিএনপির প্রধান কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সামনে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে জেলা বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, নগর ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করে।

পরে এক বিক্ষোভ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. জহির আহাম্মদ সওদাগর, জেলা বিএনপি নেতা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের হাতে গণতন্ত্রের কোন স্বাধীনতা নেই। এই সরকার প্রশাসনের জোর খাটিয়ে সভা সমাবেশে বাধা সৃষ্টি করে এক নায়কতন্ত্র কায়েম করে যাচ্ছে।
বক্তারা অবিলম্বে সরকারকে মধ্যমবর্তী নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।