বিএনপি থেকে পদত্যাগ করলেন লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি 

মানিকছড়ি প্রতিনিধি:

জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান(উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান) অংগ্য প্রু মারমা দলীয় পদ থকে অব্যাহতি নিয়েছেন। শনিবার এ পদত্যাগ পত্র জামা দেন।

পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন লক্ষীছড়ি বিএনপির সভাপতি মো. ফোরকান হাওলাদার।

পদত্যাগ পত্রে ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করলেও মূলত তিনি আসন্ন ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান অংগ্য প্রু মারমা জানান, আমি দীর্ঘ দিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। বিগত উপজেলা নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করেছেন। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সবসময় কাজ করেছি। এলাকার সকল সম্প্রায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সৃষ্টির জন্য সাধ্যমত কাজ করেছি। তিনি পদত্যাগ করার কারণ সরাসরি ব্যাখা না দিয়ে তিনি বলেন জনগণ চাইছে, তাই এলাকার মানুষের সেবা করার জন্য সকল মানুষের ভালোবাসা নিয়ে আমি উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ৪র্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন অংগ্য প্রু মারমা। উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা অস্ত্র মামলা এবং একাধিক খুনের মামলায় জড়িয়ে পরলে ২৯ অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ অংগ্য প্রু মারমা আর্থিক ক্ষমতাসহ ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

খাগড়াছড়িতে নির্বাচন পরবর্তী বিএনপির মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

‘পাতানো নির্বাচনের’ ফলাফল বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির নেতৃবন্দ। সভা থেকে ‘ভোট ডাকাতির মাধ্যমে গঠিত সরকারের’ পতনের আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।

খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রবীন চন্দ্র চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভ্ইূয়া।

বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহীদুল ইসলাম ভূইয়া ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ চৌধুরীসহ তৃণমূলের বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

বুধবার সকালে খাগড়াছড়িতে আয়োজিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী বিএনপির মনবিনিময় সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনের আগের দিন রাতে ও নির্বাচনের সকাল থেকে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা প্রশাসনের সহযোগিতায় খাগড়াছড়ি আসনের সকল ভোট কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্সভর্তি করে কোথাও কোথাও ৯৯ ভাগ পর্যন্ত ভোট গ্রহণ দেখিয়ে জনগণের বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে’।

সভায় বক্তারা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নেতাকর্মীদের উপর চলমান হামলা, মামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

কুতুবদিয়া উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১০ বিএনপি নেতা-কর্মী কারাগারে

বিশেষ প্রতিনিধ, কক্সবাজার:

কুতুবদিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নুরুল বশর চৌধুরী ও কৈয়ারবিল ইউপি চেয়ারম্যান জালাল আহমদসহ ১০ বিএনপি নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

রবিবার(৬ জানুয়ারি) কক্সবাজার জেলা জজ আদালত এ আদেশ দেন।

জানাগেছে, নাশকতার অভিযোগ-সহ কয়েকটি মামলায় উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষে কক্সবাজার জেলা জজ আদালতে জামিন চাইতে গেলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে পাঠাবার নির্দেশ দেন

কক্সবাজারে বিএনপি-জামায়াতের ৪৬ নেতাকর্মীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে

বিশেষ প্রতিনিধি ও কক্সবাজার প্রতিনিধি:

উচ্চ আদালতের দেয়া জামিনের মেয়াদ শেষে নিম্ন আদালতে গেলে কক্সবাজারে বিএনপি-জামায়াতের ৪৬ নেতাকর্মীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার(২ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজার শহরে ফায়ার সার্ভিসের কাছে টমটম পুড়ানোর মামলায় ১৪ জন ও টেকনাফের ৩২জন বিএনপি-জামায়াত-ছাত্রনেতার জামিন না মনঞ্জুর করে জেলা ও দায়রা জজ খোন্দকার হাসান মো. ফিরোজ জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার জি.আর ৮৯০/২০১৮ নম্বর মামলায় জেলহাজতে পাঠানোর আদেশপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ হাইকোর্ট থেকে আগাম জমিন নিয়েছিলেন। আগাম জামিনের মেয়াদ শেষে ২ ডিসেম্বর বুধবার তাঁরা জেলা ও দায়রা জজ খোন্দকার হাসান মো. ফিরোজের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়ে ১৬ জন আসামি আবেদন করলে আদালত শুনানী শেষে আইনজীবী বিবেচনায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মনির উদ্দিন ও শিক্ষানবীস আইনজীবী মিনারুল কবির মো. আল আমিনকে জামিন প্রদান করেন। বাকি ১৪ জনের জামিন নামন্ঞ্জুর করে আদালত তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন।

জামিন না মনঞ্জুর হওয়া নেতৃবৃন্দ হলেন-কক্সবাজার পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মোহাম্মদ আলী, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা শহীদুল ইসলাম বাহাদুর, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদত হোসেন রিপন, সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান ফাহিম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মিজানুল আলম মিজান, জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সরওয়ার রোমন, শহর ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হক এনাম, ছাত্রনেতা রাশেদুল হক রাশেদ, তারেক বিন মোকতার, এম.ইউ বাহাদুর, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহাবুদ্দিন সিকদারের ছোট ভাই মহিউদ্দিন সিকদার।

অপরদিকে টেকনাফের একটি নাশকতা মামলায় অনূরুপভাবে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নিদের্শ দেন।

পানছড়িতে মাঠ দখলে নৌকা : এলাকা ছাড়া বিএনপি

সাজাহান কবির সাজু, প্রতিনিধি, পানছড়ি (খাগড়াছড়ি) :

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ির মাঠ দখলে নিয়েছে নৌকার সমর্থকরা। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ বেলাতে বৃহষ্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে হাজারো নেতা-কর্মী জড়ো হয়ে নৌকার সমর্থনে বিশাল মিছিল বের করে। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। আ’লীগের প্রবীন নেতা-কর্মীদের দাবী, এবারের মতো সু-সংগঠিত দল আগে আর কখনো চোখে পড়েনি। পুরুষ-মহিলাদের স্বত:ষ্ফুর্ত উপস্থিতি দলের নেতা-কর্মীরা আরো চাঙ্গা হয়েছে।

আ’লীগের মিছিল ও গণসংযোগে এসে নেতা-কর্মীদের সাথে নৌকার পক্ষে ভোট চাইলেন আ’লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ভবেশ্বর রোয়াজা নিকি ও কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার একান্ত সহকারী খগেন ত্রিপুরা।

এদিকে প্রতিদিন বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের আ’লীগে যোগ দেয়া অব্যাহত রয়েছে। জাকের পার্টি নৌকা প্রতীকের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে ইতিমধ্যে কাজ করতে মাঠে নেমেছে। আ’লীগ সভাপতি মো: বাহার মিয়া, সম্পাদক জয়নাথ দেব, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আবু তাহের, যুবলীগ সম্পাদক মো: নাজির হোসেন, ছাত্রলীগ সভাপতি শ্রীকান্ত দেব মানিক, সম্পাদক জহিরুল আমিন রুবেল জানান, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে পানছড়ির নেতা-কর্মীরা অনেক সু-সংগঠিত।

এদিকে আ’লীগ দলীয় কার্যালয়ও ইসলামপুর যুবলীগ কার্যালয় ভাংচুরের ঘটনায় পর পর দুই মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা এলাকা ছাড়া। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শহীদুল ইসলাম ভূইয়ার পক্ষে গণসংযোগ, প্রচারণা বা কোন ধরণের মাইকিং এর মধ্যে শোনা যায়নি।

উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মো: বেলাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো: সিরাজুল ইসলাম জেল হাজতে থাকায় উপজেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক যুবদলের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন জানান, বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো আসলে সাজানো নাটক। আ’লীগ নিজেরাই এ ঘটনা ঘটিয়ে মামলা করে বিএনপিকে মাঠ ছাড়া করেছে। এ ধরণের ঘটনা ঘটতে পারে সন্দেহে সহকারী রির্টানিং অফিসার বরাবরে বিএনপির পক্ষ থেকে একখানা অবগতিপত্রও দেয়া হয়েছে বলে জানান।

গুইমারায় প্রচারণা ও ভোটের মাঠে ত্রিমুখী লড়াই : এগিয়ে নৌকা

দিদারুল আলম, গুইমারা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলার নবসৃষ্ট গুইমারার উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ী পল্লীগুলোতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের মাধ্যমে বেশ জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। প্রার্থীর পক্ষে পথসভা, উঠান বৈঠক, জনসমাবেশ, গণসংযোগ আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়ার মধ্য দিয়ে রীতিমত ব্যস্ত সময় পার করছে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা। পোস্টার, ব্যানারে নববধুর সাজে সেজেছে গ্রামগুলো। উপজেলার ভোটের মাঠে আত্মবিশ্বাসী আ’লীগ। বিএনপিও ছুটছে, নীরবে কাজ করে যাচ্ছে (ইউপিডিএফ) সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী নতুন কুমার চাকমার কর্মীরা। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী নৌকা, সিংহ ও ধানের শীষের পক্ষের নেতারা।

গত কয়েকদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মেমং মারমার নেতৃত্বে তিনটি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরার পক্ষে উপজেলা আ’লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা একযোগে ১৫টি টিম ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। সর্বত্র ঝুলছে নৌকার ব্যানার ও পোস্টার।সুন্দর ডায়লগে সিএনজিতে মাইকিং করছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, সামাজিক গণমাধ্যমে প্রচারণা, মিছিল, উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ, মতবিনিময় সভা, জনসমাবেশ করছেন তারা।

উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বাজার ছাড়াও পাড়ায় পাড়ায় নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি মিছিল-মিটিংয়ে বেশ সরগরম আ’লীগ নেতাকর্মীরা। বিভেদ ভুলে নৌকাকে জয়ের লক্ষে জেলা আ.লীগের সকল নেতাকে বর্তমান প্রার্থীর পক্ষে একমঞ্চে প্রচার প্রচারণায় দেখা গেছে।

বর্তমান সরকারের গত ১০ বছরে উন্নয়নের চিত্র হিসেবে গুইমারাকে উপজেলা ঘোষণা, সিন্দুকছড়ির দৃশ্যমান সড়ক উন্নয়ন, বিজিবি হাসপাতাল, নতুন ইউপি ভবন, মহাসড়কের বড়বড় ব্রিজগুলো, ১৩৯ প্রকারের ভাতা প্রদান, স্কুল কলেজ জাতীয়করণসহ উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরেন আ’লীগ নেতারা। এসময় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করতে তৃতীয় বারের মত ভোটারদের কাছে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন তারা।

হাফছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান চাইথোয়াই চৌধুরী, ছাত্রলীগ সভাপতি আনন্দ সোম, যুবলীগ সভাপতি বিপ্লব কুমার শীল, সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ চৌধুরী জানান, তারা পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে মা-বোনদের কাছে আ’লীগ সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। এতে পাহাড়ী বাঙ্গালী ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখেছেন। তারা আশা করছেন এবার নৌকা প্রতীকে অতীতের ছেয়েও বেশী ভোট পাবেন।

উপজেলা আ’লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ডা. নুরুন্নবী নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা বসে নেই। জনসমাবেশে প্রার্থী কুজেন্দ্রলালকে গোল্ডেন কালারের ১০১টি নৌকা দিয়ে সম্বর্ধনা দেওয়ায় গুইমারার ভোটারদের মাঝে আলোচনার ঢল নেমেছে।

উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ঝর্ণা ত্রিপুরা ও সিন্দুকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রেদাক মারমার নেতৃত্বে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মাঝে প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। সেখানে নৌকা আর সিংহের দাপটে জব্দ ধানের শীষ। ধানের ভোট নৌকা ও সিংহের ঘরে উঠার সম্ভাবনা।

আ’লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সম্পাদক মেমং মারমা জানান, গুইমারা উপজেলায় বিশাল ভোটে জয়লাভ করবে নৌকা। এটি গত ২৩ তারিখ গুইমারার বেশ কয়েকটি জনসমাবেশে প্রমাণ করেছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আ.লীগের তুলনায় কম সহযোগিতা পাচ্ছেন অভিযোগ বিএনপির। ইতোমধ্যে সাবেক সাংসদ ও জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভুঁইয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ ও পথসভা করে গেছেন। জনপ্রিয়তা দিয়েই প্রার্থী শহিদুল ইসলাম রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছেন। তিনি আশা করছেন শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটাররা ভোট দিতে পারলে গুইমারায় ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত।

উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাধারন সম্পাদক আইয়ুব আলী ডালিম বলেন, হুমকি ধামকির কারণে এবং লেভেল প্লেয়িং না থাকায় গুইমারায় প্রচার প্রচারণায় আওয়ামীলীগ এগিয়ে, তবে ভোটে বিএনপি এগিয়ে থাকবে।

উপজেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ভয়ভীতির কারণে বিএনপি প্রচারণা করতে পারছে না। সেক্ষেত্রে প্রচার প্রচারণায় আওয়ামীলীগ এগিয়ে। তবে ভোটাররা যদি ভোট দিতে পারে তাহলে বিএনপি এগিয়ে থাকবে।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক নবী হোসেন বলেন, হাজার ও বাঁধার মাঝেও বিএনপি এগিয়ে ছিলো। ভোটের মাঠেও ধানের শীষ এগিয়ে থাকবে। হুমকি ধামকির বিষয়েও তিনি সত্যতা স্বীকার করেন।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠ গুইমারায় এসে লাঙলে ভোট চেয়ে গণসংযোগ করেছেন। প্রতিদিন সন্ধ্যায় লাঙলের মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। এদিকে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল জব্বার গাজীর সমর্থনে বিভিন্ন এলাকায় ভোট খুঁজে বেড়াচ্ছেন তার সমর্থকরা।

অন্যদিকে গুইমারার ভোটের মাঠে সিংহ প্রতীকে আঞ্চলিক সংগঠন (ইউপিডিএফ)সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী নতুন কুমার চাকমার পক্ষে প্রকাশ্য কোনো প্রচারণায় এখনো দেখা যায়নি।দৃশ্যমান প্রচারণা ও মাইকিং শোনা না গেলেও প্রত্যন্ত এলাকায় গোপনে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক করে সিংহ মার্কা প্রতীকের পক্ষে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছে তার সমর্থকরা।উপজেলায় মোট ২৯১২৯ ভোটারের মাঝে উপজাতীয় ২০ হাজার ভোট নিয়ে সমীকরণ কষতে চাইছেন তারা। উপজেলায় মোট ভোটার ২৯১২৯। বাঙ্গালী ৯১০০, উপজাতি ২০০২৯। তাদের কিছু রিজার্ভ ভোট কেন্দ্র রয়েছে- যা তাদের মূল শক্তি। মোট ভোট কেন্দ্র ১১ ‍টি। তিনটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে।

সিংহ প্রতীকের গুইমারা উপজেলা সমন্বয়ক ক্যাহ্লাচিং মারমা জানান, উপজেলা সদরে বাধা বিপত্তির কারণে প্রচার প্রচারণা করতে না পারলেও সদরের বাইরে প্রচার প্রচারণায় তারা এগিয়ে। ভোটের মাঠে সবার চেয়ে তারা এগিয়ে থাকবে। তবে এখন পর্যন্ত সিংহ মার্কার প্রার্থী গুইমারায় আসেননি।

সার্বিক সব দিক থেকে বিবেচনা করে উপজেলার নির্বাচনী চিত্রে দেখা যায়, এবারের নির্বাচনে গুইমারায় ভোটের মাঠে সবার চেয়ে এগিয়ে নৌকা।

নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি

মেহেদী হাসান পলাশ

আমরা সকলেই জানি আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই হিসেবে নির্বাচনের আর মাত্র ৭ দিন বাকি।  এরই মধ্যে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলদগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে।  সবার আগে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট- ১২ ডিসেম্বর। সবার পরে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে ইসলামী ঐক্য আন্দোলন- ২১ ডিসেম্বর। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে ৭টি রাজনৈতিক দল বা জোট।  এরা হলো, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট, জাতীয় পার্টি, বাম গণতান্ত্রিক জোট, জাসদ ও ইসলামী ঐক্য আন্দোলন। এরপর আর কোনো জাতীয় রাজনৈতিক দল বা জোট নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করবে কিনা আমাদের জানা নেই।

নির্বাচনী ইশতেহার দেখে বা পড়ে এদেশের জনগণ বা ভোটাররা ভোট দেয় কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে।  তবুও নির্বাচন এলে অনেকটা প্রথাসিদ্ধ উপায়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের উদ্দেশ্যে একটি করে ইশতেহার প্রকাশ করে আসছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়। বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজ কথা বলেন।  নির্বাচনের পরেও ক্ষমতাসীন সরকারের দায়িত্ব পালনকালে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে এ বিষয়ে সরকারকে মনে করিয়ে দেয়া হয়, জবাবদিহি চাওয়া হয়।  সে কারণেই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো, ইস্যুগুলোতে সুনির্দষ্টভাবে তাদের বক্তব্য তুলে ধরে থাকে নির্বাচনী ইশতেহারে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলো প্রদত্ত ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রাম আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।  ইশতেহার দেয়ার প্রায় সকল রাজনৈতিক দলই তাদের ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব এসেছে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ইশতেহারে।  অন্যদিকে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি।  ইসলামী ঐক্য আন্দোলন ও জাতীয় পার্টি বাদে সকল রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রাম বা পাহাড় শব্দটি এসেছে।  আলাদা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের কথা বলেছে আওয়ামী লীগ, জাসদ ও বাম গণতান্ত্রিক জোট।  বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের ইশতেহারে এ বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি।

একইভাব ভূমি কমিশন কার্যকর করা বা ভূমি সমস্যার সমাধানের বিষয়টিও এসেছে আওয়ামী লীগ, জাসদ ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের ইশতেহারে।  কিন্তু বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের ইশতেহারে এ বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি।  বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ধর্মীয় সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছে।  আওয়ামী লীগ সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছে। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে এ বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি।

ইশতেহারে আদিবাসী শব্দটি ব্যবহার করেছে দুইটি রাজনৈতিক দল। জাসদ ও বাম গণতান্ত্রিক জোট।  অন্যকোনো রাজনৈতিক দল তাদের ইশতেহারে আদিবাসী শব্দটি ব্যবহার করেনি। বিশেষ করে অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইশতেহারে আদিবাসী শব্দটি থাকলেও এবারে তারা এ শব্দটি পরিহার করেছে।  বিএনপি এতোদিন বাংলাদেশে সংখ্যালঘু শব্দটি অস্বীকার করে বলেছে, বাংলাদেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়।  সকলেই সমান।  সাংবিধানিকভাবে সকলের সমান অধিকার দেয়া হয়েছে।  কিন্তু এবারে তারা সরাসরি সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে।

জাসদের ইশতেহারে একইসাথে আদিবাসী ও ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।  জাসদ(ইনু) সভাপতি হাসানুল হক ইনু বাংলাদেশে আদিবাসী স্বীকৃতির দাবীতে সোচ্চার হলেও নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি বলেছেন, “ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করার প্রচেষ্টা” চালাবে তার দল।  বাম গণতান্ত্রিক জোটের ইশতেহারে আদিবাসী ও বিভিন্ন জাতিসত্ত্বা শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।  একমাত্র তারাই ‘আদিবাসী হিসেবে বিভিন্ন জাতিসত্তার স্বকীয়তার পূর্ণাঙ্গ সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান, জাতিসংঘের আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর প্রদান এবং সেই অনুসারে দেরি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করেছে।  অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে এ বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের ইশতেহারে পর্যায়ক্রমে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার এবং পাহাড়ে রাজা হেডম্যান ও কার্বারীদের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করার কথাও বলা হয়েছে।  কয়েকটি রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে জাতিগত বা ধর্মীয় ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।  এর সুবিধাও পাবে পাহাড়ে বসবাসকারী জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।

মোটামুটি সকল রাজনৈতিক দলের ইশতেহারেই ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি, শিক্ষা, চাকুরী ও জীবনমানের উন্নয়নে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়েছে।  তবে আলাদা করে পার্বত্য বাঙালীদের বিষয়টি বলা হয়নি কোনো রাজনৈতিক দলের ইশতেহারেই।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কোন রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম ও এর অধিবাসীদের উন্নয়নে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা নিম্নে তুলে ধরা হলো:

আওয়ামী লীগ

শাসক দল আওয়ামী লীগ তাদের ইশতেহার প্রকাশ করেছে গত ১৮ ডিসেম্বর। এ ইশতেহারে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও অনুন্নত সম্প্রদায় শিরোনামে তারা বলেছে, “পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির যেসব ধারা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি, সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমিতে প্রকৃত স্বত্বাধিকারীদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা হবে। সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-জাতিগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যমূলক সকল প্রকার আইন ও ব্যবস্থার অবসান করা হবে।”

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল

গত ১৮ ডিসেম্বর প্রদত্ত ইশতেহারে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়’ শিরোনামে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলেছে, “পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবন, সম্পদ, সম্ভ্রম ও মর্যাদা সুরক্ষা করা হবে। অনগ্রসর পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর চাকুরী ও শিক্ষাক্ষেত্রে সকল সুবিধা এবং পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।  দল, মত, জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে ক্ষুদ্র-বৃহৎ সকল জাতি গোষ্ঠির সংবিধান প্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মকর্মের অধিকার এবং জীবন, সম্ভ্রম ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করা হবে। এই লক্ষ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। “

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

গত ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রদত্ত ইশতেহারে এ সংক্রান্ত শিরোনাম ছিলো ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’। এ ইশতেহারে তারা জানিয়েছে, “সংখ্যালঘুদের মানবিক মর্যাদা অধিকার নিরাপত্তা এবং সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় ন্যূনতম ঘাটতি খুব গুরুত্বের সাথে নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সংখ্যালঘুদের ওপর যে কোনো রকম হামলার বিচার হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে।  পাহাড় এবং সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সংস্কৃতি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা হবে।”

জাতীয় পার্টি

গত ১৪ ডিসেম্বর প্রদত্ত জাতীয় পার্টির নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে সরাসরি কোন  কথা না বলা হলেও বাংলাদেশকে ৮ টি প্রদেশে বিভক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে অষ্টম প্রদেশের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে চট্টলা প্রদেশ। পার্বত্য চট্টগ্রামকে এই চট্টলা প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাম গণতান্ত্রিক জোট

গত ১২ ডিসেম্বর বাম গণতান্ত্রিক জোটের ইশতেহারের শিরোনাম ‘বিভিন্ন জাতি সত্তা আদিবাসী  সমাজ ও দলিতদের যথাযথ স্বীকৃতি ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করা’। এ ইশতেহারে তারা বলেছে, “আদিবাসী হিসেবে বিভিন্ন জাতিসত্তার স্বকীয়তার পূর্ণাঙ্গ সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে জাতিসংঘের আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর প্রদান এবং সেই অনুসারে দেরি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য গঠিত ভূমি কমিশন সঠিকভাবে কার্যকর করার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের জমি ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করা, চুক্তির সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করা, পর্যায়ক্রমে সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করা, পাহাড়ি-বাঙালি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পাহাড়ে রাজা, হেডম্যান, কার্বারীদের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা।

জাসদ

‘ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের অধিকার’ শিরোনামে গত ১৯ ডিসেম্বর প্রদত্ত জাসদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, “ধর্মীয় ও জাতিগত কারণে নাগরিকদের মধ্যে সকল ধরণের বৈষম্যের অবসান করা, শত্রু সম্পত্তি আইন বাতিল করা, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি পূর্ণ পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করা, সমতলের আদিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ভূমির ওপর ঐতিহ্যবাহী অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ভূমি কমিশন গঠন করা, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করার প্রচেষ্টা চালাবে।” দলটি।

ইসলামী ঐক্য আন্দোলন

গত ২১ ডিসেম্বর প্রদত্ত ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের ইশতেহারে বলা হয়েছে, “সকল উপজাতীয় অধিবাসীর স্বতন্ত্র জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি দেয়া হবে এবং তাদের শিক্ষা সংস্কৃতি ও নিজস্ব ঐতিহ্যকে সুরক্ষা করা হবে। সকল অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীকে শিক্ষা, চাকুরি ও যাবতীয় নাগরিক সুবিধা প্রদানের বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।”

বাংলাদেশে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের স্বীকৃতির সাংবিধানিক সুযোগ না থাকায় পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় দুইটি আঞ্চলিক অনিবন্ধিত সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) সতন্ত্র হিসাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে এখনো পর্যন্ত তারা কোনো নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে বলে জানা যায়নি।

 লেখক: সম্পাদক, পার্বত্যনিউজ ডটকম, পাক্ষিক পার্বত্যনিউজ ও চেয়ারম্যান, সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশন


পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিষয়ে লেখকের অন্যান্য লেখা

মণি স্বপন বিএনপির টিকেট পাওয়ায় রাঙামাটি বিএনপি উচ্ছসিত একাট্টা

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাঙামাটি ॥
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে রাঙামাটি ২৯৯নং আসনে  নির্বাচন করার জন্য মণি স্বপন দেওয়ান বিএনপি থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ায় উচ্ছ্বাসিত রাঙামাটি জেলঅ বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা। এ আসনে বিএনপি একবারই বিজয়ী হয়েছিল এবং তা মণি স্বপনের হাত ধরে। আর এ বিজয়ের কারণে মণিস্বপনও পেয়ে যান পার্বত্য উপ-মন্ত্রীর পদ। এছাড়া এর আগে পরে এ আসন থেকে বিএনপি কোনদিন জয়ী হতে পারেনি।
 ‘৯০পরবর্তী আ’লীগ তিনবার, বিএনপি একবার সর্বশেষ জেএসএস একবার আসনটিতে জয়ী হয়েছে। আর সেই একবারই বিএনপি জয়ী হয়েছিলো মণি স্বপনের হাত ধরে। তাই কেন্দ্রীয় বিএনপি আর কোন ঝুঁকি নিতে চাননি এ আসনটি নিয়ে। পুরনো, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে ভোটের লড়াইয়ে মাঠে নামিয়েছে বিএনপি। আর এতে তৃণমূল বিএনপি থেকে শুরু করে জেলার শীর্ষস্থানীয় বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। এবার তাদের টার্গেট এ আসনটি জয়ী করে বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়া।
২০০১ সালে মণিস্বপন দেওয়ান যখন বিএনপির ব্যানারে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছিল তখন জনসংহতি সমিতি তাকে সমর্থন দিয়েছিল। অতীতে জনসংসতি সমিতির সাথে সম্পৃক্ততা এবং জেএসএসের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্কের সূত্রে অতীতের মতো এবারও মণি স্বপন দেওয়ান জেএসএসের সমর্থন পাবেন বলে বিএনপি নেতৃবৃন্দের আশা। তবে এবার জেএসএসের নিজস্ব প্রার্থি রয়েছে এ আসনে। কিন্তু রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছুই নেই।
স্থানীয় বিএনপি’র একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি’র হেভিওয়েট নেতাদের আবিস্কার হচ্ছে মণি স্বপন।  আর এ সিন্ডিকেটে যুক্ত আছেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক দীপেন তালুকদার দীপু, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পনির, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিল, সাধারণ সম্পাদক আবু সাদাৎ সায়েম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম তালুকদারের মতো শক্তিশালীরা নেতারা।  তাই আগামী নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী মণি স্বপন শক্ত প্রার্থি হিসাবে লড়াই করবেন বলে ধারণা।
মণিস্বপন মনোনয়ন পাওয়ায় জেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. শাহ আলম জানান, আমরা বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। আগামী নির্বাচনে এ আসনটি জয়ী করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে চাই। দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তার পক্ষে সকলে মিলে-মিশে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ ব্যাপারে রাঙামাটি সদর থানা ছাত্রদলের সভাপতি তারেক আহম্মেদ জানান, আমাদের একটি মাত্র লক্ষ্য দলের প্রার্থীকে যে কোন উপায়ে বিজয়ী করতে হবে। তাই দলের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছি।
রাঙামাটি সদর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল ইসলাম জানান, দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তার জন্য দলের নির্দেশ মোতাবেক ছাত্রদলের সকল নেতা-কর্মীরা কাজ করে যাবে।
চূড়ান্ত পর্যায়ে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত দীপেন দেওয়ানের অভিব্যক্তি জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনটি তার এক সহকারী ধরে জানিয়ে দেয় তিনি এখন ব্যস্ত আছেন। কথা বলতে পারবেন না।
প্রসঙ্গত: জেলা বিএনপি থেকে এ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ৯জন। এদের মধ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি যাচাই-বাছাই করে এ আসনের জন্য  কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক দীপেন দেওয়ান এবং সাবেক বিএনপি’র পার্বত্য উপ-মন্ত্রী মণি স্বপন দেওয়ানকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন প্রদান করে।
এরপর সর্বশেষ শুক্রবার (৭নভেম্বর) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় বিএনপি তাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে জানিয়ে দিলো ২৯৯ আসনে এবারের একাদশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন সাবেক  পার্বত্য উপ-মন্ত্রী মণি স্বপন দেওয়ান।
এরআগে মণিস্বপন দেওয়ান পার্বত্য উপমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করলেও মন্ত্রীর মেয়াদ শেষে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে বিকল্প ধারা ও পরে এলডিপিতে যোগদান করেন। ফলে বিএনপি থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়। পরে দীর্ঘদিন স্থানীয় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকলেও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তিনি বিএনপি মহাসচিবের সাথে দেখা করেন এবং তার বহিস্কারাদেশ তুলে নেয়া হয়।

পাহাড় ধসে দুর্গতদের দেখতে যাওয়ার পথে মির্জা ফখরুলের উপর হামলা

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

পাহাড় ধসে দুর্গতদের দেখতে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পাহাড়ধসে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণের জন্য রাঙামাটি যাওয়ার পথে হামলায় শিকার হয়েছেন বিএনপি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

হামলায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরীসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। হামলার কারণে রাঙামাটি যেতে না পেরে নগরীতে ফিরে আসছে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বের প্রতিনিধি দল। রোববার সকাল ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার গোছরা এলাকায় হামলা হয় বলে জানা গেছে।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ সরকার দলের ক্যাডাররা এ হামলা চালিয়েছে।  আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাঙামাটি যাওয়ার পথে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার গোছরা এলাকা পার হওয়ার পর আমাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে ৩০ থেকে ৪০ জন যুবক লোহার রড ও লাঠি নিয়ে আমাদের গাড়ি ভাংচুর করে। হামলায় দলের মহাসচিব, আমিসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছি।

হামলা এবং বাধার কারণে রাঙামাটি না গিয়ে নগরীতে ফিরে আসছেন জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, জীবনের নিরাপত্তা না থাকায় আমরা রাঙামাটি যাইনি।

রাজনৈতিক জীবনে এমন ন্যাক্কারজনক হামলা প্রত্যক্ষ করেননি মন্তব্য করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা কল্পনাও করতে পারিনি এমন হামলা হবে। দেশের রাজনীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে বিশ্বাস করতে পারছি না।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের নের্তৃত্বে প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিষয়ক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. ফাওয়াজ হোসেন শুভ, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে করে ঢাকা থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বের প্রতিনিধি দল।সকাল সাড়ে ৮টায় বিমানবন্দর থেকে সড়ক পথে রাঙা্মাটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন তারা।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পাজেরো গাড়িতে উঠেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রুহুল আলম চৌধুরী ও মাহবুবু রহমান শামীম। এছাড়া আরও অন্তত ১০টি পাজেরো জিপ গাড়িতে করে রওয়ানা দেন প্রতিনিধি দলের সদস্য, নগর ও উত্তর জেলা বিএনপির নেতারা। প্রতিনিধি দলের গাড়ি বহরের সামনে একটি গাড়িতে ছিলেন বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি এম এ আজিজ।

তিনি বলেন, আমরা একটি জিপ গাড়িতে বহররের সামনে ছিলাম। গোছরা বাজার অতিক্রমের পর দেখি ৩০ থেকে ৪০ জন যুবক লোহার রড ও লাঠি নিয়ে হামলা করতে আসছে। এসময় আমরা গাড়ি দ্রুত ঘুরিয়ে দলের মহাসচিবকে বহনকারী গাড়ির চালককে গাড়ি ঘুরানোর কথা বলি। কিন্তু ততক্ষণে হামলা শুরু হয়ে যায়।

দলের মহাসচিব গাড়ির সামনের সিটে ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, তারা দলের শীর্ষ নেতাদের দেখে গাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য, রুহুল আলম ও মাহবুবুর রহমান শামীম আহত হন। হামলাকারীরা বহরের অধিকাংশ গাড়িতে ভাংচুর চালিয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার বর্ণনায় বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘পাহাড় ধসে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশে আমরা ঢাকা থেকে চার জনের একটি দল চট্টগ্রামে এসেছি। চট্টগ্রাম বিমান বন্দর থেকে আমরা রাঙামাটির উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিলাম। রাস্তায় জানতে পারলাম রাঙামাটির যে রাস্তায় ভাঙন  শুরু হয়েছিল সেটি  ভেঙে গেছে। ওই রাস্তা হয়ে রাঙামাটি যাওয়া সম্ভব নয়।

তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম কাপ্তাই লেক হয়ে নদী পথে রাঙামাটি পৌঁছাবো। যে কারণে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কাপ্তাই যাওয়ার জন্য বের হয়েছি। ইছাখালী বাজারে যেতে না যেতেই মুশলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি ঠেলে কিছুদূর যেতেই হঠাৎ ৩০-৪০ যুবক লাঠিসোটা, হকস্টিক, রামদা ও বড় বড় পাথর নিয়ে আমাদের গাড়িতে আক্রমণ করলো।

প্রথমেই তারা গাড়ি সামনের গ্লাসে পাথর ছুঁড়ে মারে। এরপর অনবরত তারা হকস্টিক, লাঠিসোটা দিয়ে ভাঙচুর চালায়। এতে আমাদের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী রক্তাক্ত হয়েছেন, মেজর জেনারেল (অব) রহুল আলম চৌধুরী আহত হয়েছেন, আমি নিজেও আহত হয়েছি।’

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম আহত হন। গাড়ি বহরে থাকা একজনের মাথা ফেটে গেছে।

রবিবার সকাল সোয়া এগারোটার দিকে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের জীবন হুমকির মুখে। আমার হাতের আঙুল ফেটে গেছে, মহাসচিব হাতে ব্যাথা পেয়েছেন। আমাদের গাড়ি পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি এই হামলার জন্য আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের দায়ী করেছেন।

হামলার পর মির্জা ফখরুলের প্রতিক্রিয়া

পাহাড় ধসের দুর্গতদের দেখতে রাঙামাটি যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় হামলার শিকার হওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে রবিবার বেলা ১টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী রক্তাক্ত হয়েছেন।  আমি আঘাত পেয়েছি, আরও কয়েকজন আঘাত পেয়েছেন। কে কতটুকু আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন তা বড় কথা নয়।

আসল কথা হচ্ছে এই আঘাত গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত। জাতীয়বাদী রাজনীতির প্রতি আঘাত, মুক্তবুদ্ধি ও সুস্থ চিন্তার প্রতি আঘাত। এ আঘাত যারা সরকারের খারাপ কাজের প্রতিবাদ করেন তাদের প্রতিও আঘাত। এই আক্রমণের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের চরিত্র আরও বেশি করে উম্মোচিত হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সবসময় দাবি করে তারা গণতন্ত্র বিশ্বাস করে। আসলে তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, ভিন্নমতেও তাদের বিশ্বাস নেই। সহনশীলতা বলতে তাদের কিছুই নেই। এভাবে আক্রমণ আমাদের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো এবং অবিশ্বাস্য। আমাদের পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের ওপর যদি এ ধরনের হামলা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা তা সহজেই অনুমেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তো সেখানে জনসভা অথবা পার্টির মিটিং করতে যাচ্ছিলাম না। আমরা দুর্গত ও পাহাড় ধসে নিহতদের পরিবারকে পার্টির পক্ষ থেকে সমবেদনা জানাতে যাচ্ছিলাম। এই আক্রমণের একমাত্র প্রতিবাদ তখনই হবে যখন আমরা জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করে এই ফ্যাসিস্ট, অপশক্তিকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবো।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকের এ সুনির্দিষ্ট আক্রমণ কোথা থেকে আসতে পারে আপনারা তদন্ত করে দেখবেন। আওয়ামী লীগের লোকেরা এটা করেছে। এটা কোথা থেকে আসতে পারে আপনারা সেটা ভালো করে বলতে পারবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটি একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা। কোনও সভ্য দেশে এ ধরনের আক্রমণ হতে পারে না। আমাদের রাজনীতি করতে দেবেন, এখন ত্রাণও দিতে পারবো না।’

তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের মহাসচিব ও জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের ওপর যদি আক্রমণ হয় তাহলে আর বাকি থাকে কী? এর পরে কি আর রাজনীতি থাকে? রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে এ সরকার ক্ষমতায় টিকে রয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন  দলের ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব) রহুল আলম চৌধুরী, কেন্দ্রীয়  সাংগঠনিক সম্পাদক মাহববুর রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করসহ নেতাকর্মীরা।

ওবায়দুল কাদেরের প্রতিক্রিয়া

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর হামলা অন্যায় বলে মন্তব করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

রবিবার রাজধানীতে বিমানবন্দর সড়কে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যে বা যারাই মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা করুক না কেন, সেটা অন্যায়। আওয়ামী লীগ এটা খতিয়ে দেখছে, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। চট্টগ্রামের ডিসি-এডিশনাল এসপির সঙ্গে কথা বলেছি। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

সেতুমন্ত্রীর অভিযোগ, বিএনপি তার কর্মসূচি সম্পর্কে পুলিশকে আগে থেকে জানায়নি। তিনি বলেন, ‘বিএনপি পুলিশকে সঠিক তথ্য দেয় না। তাদের রাউজান হয়ে যাওয়ার তথ্য ছিল পুলিশের কাছে। পরে তারা বামুনিয়া হয়ে গেছে। পুলিশের কাছে এ তথ্য ছিল না। তথ্য থাকলে পুলিশ ওখানেই পাহারার ব্যবস্থা করত।’

বিএনপির গাড়ি বহরে হামলার পর বিএনপির প্রতিনিধি দল রাঙামাটিতে না গিয়ে চট্টগ্রাম ফিরে যায়।রবিবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার শান্তিরহাট এলাকায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।

তিনি রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে দুর্গতদের দেখতে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম আহত হন। গাড়ি বহরে থাকা একজনের মাথা ফেটে গেছে।

ওবায়দুল কাদের জানান, ঘটনার পর পুলিশ এসে তাদেরকে ত্রাণ বিতরণে অনুরোধ করেছিল। কিন্তু তারা সেটা করেনি।

ফখরুলের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলার প্রতিবাদে নয়া পল্টনে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। রবিবার দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তাৎক্ষণিক এই বিক্ষোভ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরুসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী।

নিন্দা ও প্রতিবাদ: এদিকে মির্জা ফখরুলের গাড়ি বহরে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, বাংলাদেশ ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি জেবেল রহমান গানি, মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়াসহ বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিকদল।

এদিকে মির্জা ফখরুলের ওপর হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার দেশের সব জেলা সদরে এবং ঢাকা মহানগরীতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

রোববার দুপুরে কুমিল্লা আদালতে একটি মামলার হাজিরা শেষে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ ঐতিহাসিক পার্বত্য লংমার্চ দিবস

32

মেহেদী হাসান পলাশ:

আজ ঐতিহাসিক পার্বত্য লংমার্চ দিবস। ১৯৯৮ সালের এই দিনে অর্থাৎ ৯ জুন পার্বত্য শান্তি চুক্তিকে দেশ বিক্রির কালো চুক্তি আখ্যা দিয়ে তৎকালীন ও আজকের বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট পার্বত্য চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর রাষ্টীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তি সম্পাদনের পরই তৎকালীন বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একে দেশ বিক্রির কালো চুক্তি আখ্যা দিয়ে এ চুক্তির বিরুদ্ধে প্রবল গণ- আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। বেশ কয়েকটি হরতালসহ নানা কর্মসূচী দেয়া হয়। এরই এক পার্যায়ে অনুষ্ঠিত হয় এই ঐতিহাসিক লংমার্চ।

34

১৯৯৮ সালের ৯জুন সংঘটিত ঐতিহাসিক সেই লংমার্চের আজ ১৬ বছর পূর্তি। যে শান্তিচুক্তিকে কালো চুক্তি আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবীতে সেই ঐতিহাসিক লংমার্চ হয়েছিল ১৬ বছর পর  পার্বত্য চুক্তির অধীন নানা বঞ্চনা ও বৈষম্য নিয়ে বাঙালীরা আজো আন্দোলন করে যাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামে।

l-2

যদিও এই লংমার্চের কথা লংমার্চ পালনকারী বিরোধী দলীয় জোট ও পার্বত্য বাঙালীদৈর অনেকেই ভুলে গেছে। বিরোধী দল সরে গেছে লংমার্চের চেতনা থেকে। কারণ, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট সেই লংমার্চে পরিস্কার ঘোষণা করেছিল তারা ক্ষমতায় গেলে দেশবিক্রির পার্বত্য কালো চুক্তি বাতিল করবে। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় গিয়ে সেই চুক্তি বাতিল তো দুরে থাক বাস্তবায়নে জোরালো ভূমিকা পালন করে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনাকারী এক সন্ত্রাসীকে(মেজর রাজেশ-মণি স্বপন দেওয়ান) নমিনেশন দিয়ে এমপি ও মন্ত্রী বানায়। আর এখন বিএনপি পার্বত্য বাঙালী বর্জিত দলে পরিণত হয়েছে।

40

প্রেক্ষাপট ও বিশালতা বিবেচনায় এই লংমার্চটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচাইতে বড় লংমার্চ। ৯ জুন ১৯৯৮ সাল সকাল ৮ টায় পল্টন ময়দান থেকে হাজার হাজার গাড়িতে শুরু হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম অভিমূখে ঐতিহাসিক সেই লংমার্চ যাত্রা। লংমার্চ শুরুর কিছু পর কাঁচপুরে বাধাগ্রস্ত হয় শাসক দলের সন্ত্রাসীদের দ্বারা। আগের রাতেই নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমান কাঁচপুর এলাকায় গুলি করে বেশকিছু গাড়ীর চাকা পাংচার করে রাস্তা আটকে দেয় ও রাস্তায় সশস্ত্র অবস্থান নেয়।। ফলে রাস্তায় সৃষ্টি হয় প্রবল যানজট। স্থানীয় সন্ত্রাসীরা আটকে পড়া গাড়িতে লুটপাট চালায়, তাদের হাতে বেশ কিছু মহিলা ধর্ষিত হয় বলে পত্রপত্রিকায় খবর বের হয়েছিল।  অনেক ট্রাক, বাস রাস্তার মাঝে আড়াআড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করা হয়। সশস্ত্র শামীম ওসমান বাহিনী রাস্তায় অবস্থান নেয়। ফলে আটকে যায় বিশাল লংমার্চ। এদিকে লংমার্চটি যখন কাঁচপুরে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল তখনও লংমার্চের গাড়ি বহরের শেষ প্রান্ত পল্টন ময়দানে অবস্থান করছিল। এই একটি ঘটনায় প্রমাণ করে কি বিশাল ছিল সেই লংমার্চের ব্যাপ্তি।

46

এদিকে বাধাগ্রস্ত হবার পর ৭ দলীয় জোটে অবস্থানকারী সরকারী দালালরা লংমার্চ সেখানেই সমাপ্তি ঘোষণা করে ফিরিয়ে নেবার ষড়যন্ত্র শুরু করে। কিন্তু ৭ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত সে ষড়যন্ত্র নস্যাত করে দেয়। বেগম খালেদা জিয়া ঘোষণা করেন, যতদিন না পর্যন্ত এই সরকার রাস্তার বাঁধা সরিয়ে নিয়ে লংমার্চ সচল করার উদ্যোগ না নেবে ততদিন পর্যন্ত তিনি রাস্তায় অবস্থান করবেন। জোট নেত্রীর এ ঘোষণায় মুহুর্তেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। লংমার্চকারীদের মধ্যে নতুন প্রণোদনা সৃষ্টি হয়।

39

লংমার্চ অবস্থানকারী রাস্তার আশেপাশের গ্রামবাসীরা খাবার সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে। মুহুর্তেই রাস্তার পাশে বড় বড় চুলা তৈরী হয়ে যায়। লক্ষ লক্ষ লংমার্চকারীদের জন্য কোথাও খিচুড়ি, কোথাও গরু জবাই করে রান্না শুরু হয়। শুকনা খাবার, খিচুড়ি ইত্যাদি খেয়ে লংমার্চকারীরা রাস্তায় অবস্থান করে। নেতৃবৃন্দ মাইকে জ্বালাময়ী বক্তব্য দিতে থাকেন।

বিভিন্ন স্থানে মাইকে জাতীয় পর্যাযের শিল্পীরা সংগ্রামী সঙ্গীত, ছড়া, কবিতা পাঠ করে লংমার্চকারীদের চাঙ্গা করে রাখেন। বর্তমান লেখক সেই লংমার্চেল আট সদস্য বিশিষ্ট প্রচার কমিটির সদস্য ছিলেন- যার নেতৃত্বে ছিলেন, রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী ও অভিনেতা ওয়াসীমুল বারী রাজিব(মৃত)। লেখকের রচিত বেশ কয়েকটি ছড়া, কবিতা ও প্যারোডি সঙ্গীত লংমার্চ জুড়ে গাওয়া হয়।

37

অবশেষে বার ঘন্টা পর সন্ধ্যায় সরকার অবরোধ সরিয়ে নেয়। নতুন করে যাত্রা শুরু করে লংমার্চ। লংমার্চকারীদের কাছে রাখা শুকনো খাবার এরই মধ্যে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু নতুন খাবার সংগ্রহের কোনো সুযোগ তাদের ছিলনা। গভীর রাতেও ঢাকা চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ রাস্তার পাশে দাড়িয়ে লংমার্চকে স্বাগত জানায়। জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কয়েকটি স্থানে গভীর রাতেরই পথসভায় ভাষণ দেন। রাস্তায় বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ লোক গাড়ী নিয়ে লংমার্চে শরীক হয়।

লংমার্চে শাসকদলীয় সন্ত্রাসীদের হামলা

সারারাত বিরামহীন সফরের পর ফরজরের নামাজের সময় লংমার্চ চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করে। সেই সকালেও হাজার হাজার চট্টগ্রামবাসী রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে লংমার্চ বহরকে স্বাগত জানায়। সেখানে চট্ট্রগ্রামের লালদিঘী ময়দানে বিশাল এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ৭ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে লংমার্চ তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন অংশ খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে , জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন অংশ রাঙামাটির উদ্দেশ্যে এবং জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন অংশ বান্দরবানের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। লংমার্চ পার্বত্য এলাকায় প্রবেশ করলে মোড়ে মোড়ে বাঙালীরা পাহাড়ী লেবুর শরবত, লেবু, কলা, কাঁচা আম দিয়ে লংমার্চকারীদের ক্ষুধা তৃষ্ণা মেটানোর জন্য আকুল আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। চোখে না দেখলে বর্ণণা করে বিশ্বাস করানো কঠিন।

৭ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে স্থানে পার্বত্য চুক্তির আওতায় শান্তিবাহিনী অস্ত্র সমর্পনের নাটক করেছিল সেই খাগড়ছড়ি স্টেডিয়ামে লাখো লাখো লোকের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে পার্বত্য শান্তি চুক্তিকে কালো চুক্তি আখ্যা দিয়ে বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে সরকার দেশের এক দশমাংশ ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব অন্যদেশের হাতে তুলে দিয়েছে। ৭ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেন, তাদের সরকার ক্ষমতায় এলে এই দেশবিরোধী পার্বত্য চুক্তি বাতিল করা হবে। কিন্তু দেুঃখের বিষয় চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এসে এই প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়।

আজকে যখন আবার সেই শান্তিচুক্তির অধীনে ভূমি কমিশন করে পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বভৌমত্ব ও বাঙালীদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে তখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮দলীয় জোট মুখে কুলুপ এটে বসে রয়েছে। তিন পার্বত্য জেলায় বিএনপির পাহাড়ি নেতারা বাঙালীদের আন্দোলনে যেতে বাধা দিচ্ছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিস্ময়কর নীরবতা দেখে প্রশ্ন জাগে, পার্বত্য চট্টগ্রাম কি বাংলাদেশ নয়?