ক্রীড়া শারীরিক প্রশান্তি ও মানসিক উন্নয়নে ভুমিকা পালন করে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

লেখা পড়ার পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতার জন্য ক্রীড়ার কোন বিকল্প নেই। শারীরিক প্রশান্তি ও মানসিক উন্নয়নে ক্রীড়া অগ্রনী ভুমিকা পালন করে। এছাড়াও খেলাধুলার মাধ্যমে একটি শিশুকে একজন সুশৃঙ্খল জাতিতে পরিনত করা যায়। খেলাধুলা মানুষকে শৃঙ্খলা ও সহানুভুতিশীল শেখায়।

বুধবার সকালে বান্দরবান সরকারি শিশু পরিবারে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণ  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য কাঞ্চনজয় তঞ্চঙ্গ্যা এসব কথা বলেন।

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মিলটন মুহুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ফিলিপ ত্রিপুরা, পৌর কাউন্সিলর অজিত কান্তি দাশ, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বিশ্বজীত চাকমা, সরকারি শিশু পরিবারের উপ তত্ত্বাবধায়ক সফিকুল ইসলাম, সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রমের রিসোর্স শিক্ষক সত্যজিত মজুমদার, সরকারি শিশু পরিবারের প্রধান শিক্ষক রহিম ত্রিপুরাসহ সকল শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্ররা উপস্থিত ছিলেন।

বান্দরবানে শুরু হচ্ছে নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য মেলা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

মহিলা বিষয়ক  অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত নিবন্ধকৃত মহিলা সমিতিভিত্তিক ব্যতিক্রমী ব্যবসায়ী উদ্যোগ (জয়িতা-বান্দরবান) শীর্ষক কর্মসূচির  আওতায় বান্দরবানে চারদিনব্যাপী নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য মেলা শুরু হচ্ছে ।

বান্দরবান জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে এই মেলা উদ্বোধন হবে।

বান্দরবান জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আতিয়া চৌধুরী জানান, (জয়িতা-বান্দরবান) শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য মেলা বান্দরবানে শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার থেকে। ২৪ জানুয়ারি শুরু হয়ে চার দিনব্যাপী এই মেলা চলবে ও ২৭ জানুয়ারি মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ করা হবে। মেলায় নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হবে আর এতে উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে নারী উদ্যোক্তাদের।

জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আতিয়া চৌধুরী আরও জানান, মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম আর মেলার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবুল কালাম। এছাড়া ও বান্দরবানের বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রধানগণ মেলায় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

বান্দরবানে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সম্পর্কিত সাংবাদিকদের ওরিয়েন্টশন কর্মশালা

বান্দরবান প্রতিনিধি:

অপুষ্টিজনিত, অন্ধত্ব নির্মূল এবং অপুষ্টিজনিত মৃত্যু প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন ২০১৯ উপলক্ষে বান্দরবানে সাংবাদিকদের নিয়ে এক ওরিয়েন্টশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার(১৬ জানুয়ারি) সকালে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, জাতীয় পুষ্টি সেবার বাস্তবায়নে ও স্বাস্থ্য বিভাগ বান্দরবানের আয়োজনে বান্দরবান সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে এই ওরিয়েন্টশন কর্মশালা অনুষ্টিত হয়।

সিভিল সার্জন ডা. অংসুই প্রু মারমার সভাপতিত্বে কর্মশালায় অন্যান্যদের মধ্যে ডেপুটি সিভিল সার্জন  ডা. তাহমিনা শবনম সোবহান, ডা. বেলাল হোসেন, সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিবুল হাসান, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাসুইচিং মার্মাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সিভিল সার্জন ডা. অংসুই প্রু জানান, আগামী ১৯ জানুয়ারি শনিবার বান্দরবানে ৬২ হাজার ৫শত ৮১ জন শিশুকে ভিটামিন “এ” ক্যাম্পেইনের আওতায় ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

এ সময় বক্তারা আরও জানান, এবারে বান্দরবান জেলায় ৬-১১ মাস বয়সী ৮ হাজার ৩শত ১১জন শিশুকে ১টি করে নীল রঙ্গের ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাপসুল ও ১২-৫৯ মাস বয়সী ৫৪ হাজার ২শত ৭০জন শিশুকে ১টি করে লাল রংয়ের ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

বান্দরবানে ট্রাকচাপায় যুবক নিহত

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় উজ্জল তংচঙ্গা (২২) নামে এক যুবক  নিহত হয়েছে।

রবিবার(১৩ জানুয়ারি) দুপুরে রোয়াংছড়ি উপজেলার বাঘমারা লক্ষীমোহন পাড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ, হাসপাতাল ও আহত সূত্রে জানা যায়, সে লক্ষীমোহন পাড়ার মতি লাল তংচঙ্গার ছেলে। সকালে বাসা থেকে বের হয়ে বন্ধুর সাথে বাজারে  যাওয়ার পথে দূর থেকে প্রচণ্ড গতিতে আসা চট্টমেট্রো ১৯০৭  টিএস ট্রাক তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে উজ্জল তংচঙ্গা নিহত হণ।

নিহতের বন্ধু জানান, তারা দুই জন রাস্থার এক পাশে হেটে যাচ্ছিল, গাড়ির চালক নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে গাড়ি চালিয়ে এসে তাকে ধাক্কা দিলে সে ঘটনাস্থলে নিহত হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে তদন্তরত পুলিশ কর্মকর্তা প্রিয়াল জানান, তারা ঘটনার সত্যতা যাচাই করছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে একটা সমাধানের চেষ্টা করছে। আশা করছে তারা সত্যতা উৎঘাটন করে চালকের বিরুদ্ধে আইনগত  প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিবে ।

বীর বাহাদুরকে শুভেচ্ছা জানালেন দীপঙ্কর-কুজেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার এবং খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও পুনর্বাসন বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ায় বীর বাহাদুর উশৈ সিংকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

সোমবার (৭ জানুয়ারি) বান্দরবান ৩০০নং আসন থেকে ডাবল হ্যাট্রিক নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে নতুন মন্ত্রীসভার ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন উপমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর নতুন মন্ত্রীসভার সদস্যদেরকে দায়িত্ব গ্রহণের শপথ এবং গোপনীয়তার শপথ পাঠ করান। শপথ গ্রহণের পর তারা দায়িত্ব গ্রহণ ও গোপনীয়তার শপথে স্বাক্ষর করেন।

শপথ শেষে বীর বাহাদুর বলেন, প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী করায় আমি কৃতজ্ঞ। এর ফলে আমার দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। তিন পার্বত্য জেলার উন্নয়ন ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সর্বদা আরও সচেষ্ট থাকব। এছাড়া পাহাড়ের উন্নয়ন ও শিক্ষা এবং কৃষিতে বৈল্পবিক পরিবর্তন আনতে চেষ্টা করবো।

বান্দরবানে শীতার্তদের মাঝে সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবান সদর সেনা জোন গরীব অসহায় শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান, চিকিৎসা সহায়তা ও শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার(৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর সেনা জোনের আয়োজনে জোন কমান্ডারের কার্যালয়ে শিক্ষা-চিকিৎসা সহায়তা ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এসময় গরীব অসহায় শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা, উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান ও বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকার শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

২৬ বীরের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল এসএম আব্দুল্লাহ আল-আমিন, জোন উপ-অধিনায়ক মেজর জাহিদুল ইসলাম, জোনাল স্টাফ অফিসার মেজর, মো. আল-জাবির আসিফসহ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় জোন কমান্ডার বলেন, সেনাবাহিনী পাহাড়ে বসবাসকারীদের শান্তির লক্ষে দুষ্কৃতি ও সন্ত্রাসীদের দমনের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে। পাহাড় শান্ত থাকলে আগামীতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি আরও বেগমান করা সম্ভব বলে মনে করেন সেনাবাহিনী।

ব্যান্ড ফেস্টিভালে বান্দরবান মাতাবে ১০টি ব্যান্ড গ্রুপ

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বর্ণাঢ্য আয়োজন নিয়ে একই সাথে একই মঞ্চে হাজির হচ্ছে বান্দরবানের ১০টি ব্যান্ড গ্রুপ।

প্রয়াত সংগীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু এবং বান্দরবানের শিল্পী শৈক্যপ্রু স্মরনে হবে এই ব্যান্ড ফেস্টিভাল।

১০ জানুয়ারি বিকাল ৩টায় অরুন সারকী টাউন হলে অনুষ্ঠিত হবে  এই ব্যান্ড ফেস্টিভাল । জেলার ঝিমিয়ে পরা ব্যান্ড সঙ্গীতাঙ্গণকে উজ্জীবিত করতে এবং প্রয়াত দুই শিল্পীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই আয়োজন করছে বলে জানিয়েছে উদ্যোক্তারা ।

বোরবার(৬ জানুয়ারি) সাকলে বান্দরবান প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয় ব্যান্ড দলগুলো ।

ব্যান্ড ফেস্ট ২০১৯ এর আহ্বায়ক কেীশিক দত্ত ও সদস্য সচীব  গাজী সোহেল  জানান, যে দি ব্যান্ড মিউজিক কমিউনিটি অব বান্দরবান জেলার সব গুলো ব্যান্ড দলের সমন্বয়ে গঠিত একটি সংগঠন। জেলার নতুন পুরানো সব দলকে একত্রিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে এই প্লাটফর্ম গঠন করা হয়েছে। তরুণদেরও সাংস্কৃতিক কাজে সম্পৃক্ত করা এবং জেলার প্রতিভাবান শিল্পীদেরকে সংগীত চর্চার বৃহত্তর  সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার লক্ষ্যে এই গ্রুপটি কাজ করে যাবে ।

বীর বাহাদুর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হলেন

বান্দরবান প্রতিনিধি:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবান আসনে বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ থেকে জয়লাভ করার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি এবার মন্ত্রণালয়টির পূর্ণমন্ত্রী হলেন।

রবিবার বিকেলে মন্ত্রীপরিষদ সচিব শফিউল আলম সাংবাদিক সম্মেলন করে নতুন মন্ত্রীসভার নাম ঘোষণা করেন। এতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে বাহাদুরের নাম ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমেই তিন পার্বত্য জেলার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসনে কে বসছেন সে বিতর্কের অবসান ঘটে।

এর আগেই রবিবার সকালে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ থেকে ফোন করে  বীর বাহাদুরকে পূর্ণ মন্ত্রী পদমর্যাদায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করা হয়। সোমবার তিনি নতুন সরকারের অন্য মন্ত্রীদের মতো বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করবেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীকে ৮৫ হাজার ২শত ৪৭ ভোটে পরাজিত করে বান্দরবান ৩০০ নং আসনে থেকে ৬ষ্ঠ বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় পাহাড়ের ক্লিন ইমেজের নেতা বীর বাহাদুর উশৈসিং। গত ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বীর বাহাদুর উশৈসিং মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯শত ৬৬ ভোট। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত সাচিং প্রু জেরী মোট ভোট পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৭শত ১৯ ভোট। এর পর পরই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বান্দরবানের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বীর বাহাদুর উশৈসিং। বীর বাহাদুরের জয়ে উচ্ছাসিত পার্বত্য জেলাসহ বান্দরবানবাসী।

এ ব্যাপারে  জেলা  বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মোজাম্মেল হক বাহাদুর ও  জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি এস বাসু দাস জানিয়েছিলেন,  আমরা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে নিশ্চিত হয়েছি কাল সোমবার পূর্ণ মন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণের জন্য ফোন পেয়েছেন বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। এছাড়াও বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মোজাম্মেল হক বাহাদুরও জানান, তিনি মন্ত্রী হওয়ায় আমরা বান্দরবানবাসী অনেক খুশি।

বীর বাহাদুর পূর্ণ মন্ত্রী হওয়াকে পার্বত্যবাসী মনে করছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর ও গুরুত্বের প্রতিদান হিসেবে।  একই সাথে সৎ, অসাম্প্রদায়িক ও সফল মন্ত্রী হিসেবে বীর বাহাদুরের কৃতীত্বের ফলেও তিনি এই মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হলেন বলে মনে করছেন পার্বত্যবাসী।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে তিন শতাধিক বাংলাদেশী পাহাড়ী যুবককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

বান্দরবান জেলার মিয়ানমার সংলগ্ন দূর্গম উপজেলা থানচি ও রুমা থেকে পাহাড়ী যুবকদের নিয়ে গিয়ে খোদ মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দানের চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে।  বান্দরবান জেলার বিভিন্ন স্থানের উপজাতীয় বাসিন্দাদের প্রলোভন দেখিয়ে মিয়ানমার নিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা ভূমিতে পুনর্বাসন ও পাহাড়ী যুবকদের সেদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মিতে নিয়োগদানের জন্য চিঠির ইস্যু খবর ইতোমধ্যে জাতীয় মিডিয়াগুলোতে আলোচিত হয়েছে।

কিন্তু এবারে পাওয়া গেলো আরো গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য।  অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইতোমধ্যে এই তিন শতাধিক পাহাড়ী যুবককে মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং তারা কর্মরত রয়েছে।

এলাকার বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বান্দরবানের মার্মা সম্প্রদায়ের বেশকিছু যুবক মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে কর্মরত রয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে।  সম্প্রতি মিয়ানমারের সেনা বাহিনীর জন্য সীমান্ত এলাকা থেকে আরো যুবক সংগ্রহের পাঁয়তারা শুরু করলে এখবর প্রকাশ্যে আসে।

জানা গেছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়া যুবকরা ছুটি পেলে বাংলাদেশে আসে।  যা এলাকার চেয়ারম্যান, হেডম্যান ও কার্বারীরা জানেন।  স্থানীয়দের আশঙ্কা, দু দেশের নাগরিক এসব সশস্ত্র প্রশিক্ষিত যুবকরা বাংলাদেশের রাস্তাঘাট চেনে, স্থানীয় ভাষা ও জনগনের সাথে তাদের রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ এবং এরা স্থানীয় পাহাড়ী সশস্ত্র বাহিনীর সাথে মিলে যে কোন সময় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাতে পারে।  বিষয়টি স্থানীয় ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিরাট ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে।


এ সংক্রান্ত আরো খবর


বাংলাদেশের ভোটার থানছি উপজেলার বাসিন্দা অথচ দীর্ঘদিন থেকে মিয়ানমার সেনা বাহিনীতে কর্মরত রয়েছে এমন কয়েকজন যুবকের নাম পাওয়া গেছে অনুসন্ধানে।  একধিক জনপ্রতিনিধি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৩ শতের বেশী বাংলাদেশী মার্মা ও চাকমা সম্প্রদায়ের যুবক মিয়ানমারে নিয়মিত সেনা বাহিনীতে যোগ দিয়েছে ও কর্মরত রয়েছে।

থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের ফো-সু পাড়ার বাসিন্দা মং মং ছেন এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার পর গত ২০১৩ সালে  মিয়ানমারে চলে যায়।  বর্তমানে মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে মংডু জেলায় কর্মরত আছেন।

থানচি উপজেলার রেমাক্রি বাজার এলাকায় ঙা নু মে মার্মার পুত্র ক্য ই হ্লা মং ৪/৫ বছর যাবৎ মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে বুচিডং এ অপারেশনে কর্মরত রয়েছে বলে জানা যায়।

থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড পাই মং পাড়ার (বড় মদক বাজার পাড়া) চিং সা নু মার্মার ছেলে মং হ্লা খই ৩ বছর আগে মিয়ানমারে যায়। বর্তমানে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিয়মিত সৈনিক হিসেবে মংডুতে কর্মরত রয়েছে।  তার বাংলাদেশী ভোটার আইডি নং- ০৩০১৫২১৮১২৪৮।

থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নের খু সা অং পাড়া (তং পাড়া), বড় মদক বিজিবি ক্যম্পের পাশে চ নু প্রায় ১১ বছর যাবৎ মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে কর্মরত।  বর্তমানে সেনাবাহিনীতে হাবিলদার পদে কর্মরত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।

স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের দাবী, বান্দরবান জেলার সাথে মিয়ানমারের প্রায় ১৭৬.৪২ কি. মি. সীমানা রয়েছে।  অধিকাংশ দুর্গম ও যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় সীমান্তের পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।  এসব সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় জেএসএস এর সশস্ত্র বাহিনী ও মিয়ানমারের একধিক বিদ্রোহী বাহিনী রয়েছে।  স্থানীয়দের জীবনের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এসব সন্ত্রাসীদের মন যুগিয়ে চলতে হয়।

রেমাক্রী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা (রনি) উল্লিখিত ব্যক্তিদের চিনেন বলে প্রতিনিধির কাছে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, রুমা ও থানছি থেকে প্রায় ৩০০ বেশী মার্মা সম্প্রদায়ের যুবক মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে কর্মরত আছেন।  এসব ব্যক্তিরা পরিবার পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে মিয়ানমারে বসবাস করছে।  এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় বসবাস ও যাতায়াত করতে হলে সব বাহিনীকে ম্যানেজ করে চলতে হয়। ২০০৮ ড্যানিডা কর্মকর্তা সুমন অপহণের ঘটনার জের ধরে আমার বড় ভাই হেডম্যানসহ আরো ২জন কার্বারীকে এএলপি হত্যা করে বলে তিনি জানান।

উপজেলা চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং বলেন, দূর্গমতা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে থানছি উপজেলাকে একসময় মনে হত এটি বার্মার রাজ্য।  বার্মার স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র বাহিনীর আনাগোনা ছিল প্রকাশ্য।  কয়েক বছর ধরে পরিবেশ পরিস্থিতি পাল্টেছে। এখানে বিজিবির তিনটি ব্যাটালিয়ন কাজ করছে। নতুন নতুন বিওপি করা হচ্ছে। সীমান্ত সড়ক হয়ে গেলে যোগাযোগ যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি সন্ত্রাসীদের আনাগোনা কমে যাবে।

তিনি আরো বলেন, তিন পার্বত্য জেলা থেকে মার্মা, চাকমা, ত্রিপুরা জাতির কয়েক হাজার পরিবার মিয়ানমারে বসবাস করছেন। তাদের মধ্য অনেকে আবার বাংলাদেশেও যাতায়ত করেন।  বাংলাদেশী প্রায় তিনশত জন মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে রয়েছে।

থানছি ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাংলাদেশের কোন নাগরিক যদি বিনা অনুমতিতে অন্যদেশের নাগরিক হয়ে সেনা বাহিনীতে কর্মরত থাকেন সেটি অপরাধ।  এবিষয়ে তথ্য নিয়ে মিয়ানমারে নাগরিক হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা সরকারের কাছে পাঠানো হবে।

বলিপাড়া বিজিবি কমান্ডার হাবিবুর রহমান বলেন, সীমান্ত এলাকার পাহাড়ী জনগণ গরীব। তারা কৃষিকাজের জন্য মিয়ানমারে গিয়ে থাকে, আবার ফিরেও আসে।  সম্প্রতি কোন যুবক মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছে এমন তথ্য জানা নেই। দিনদিন আমাদের নতুন নতুন বিওপি হচ্ছে এবং সীমান্ত সুরক্ষিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় একটি গোয়েন্দা সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে পার্বত্যনিউজকে জানায়, বিষয়টি তারাও জেনেছেন এবং এ বিষয় নিয়ে তারা কাজ করছেন।

সূত্র মতে, বান্দরবানের রুমা, থানচি ও আলীকদম উপজেলা মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় মার্মা, ম্রো, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকজনের বসবাস।  চেহারা, ধর্ম ও ভাষার মিল থাকায় সীমান্তের অপর পাড়ে মিয়ানমারের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাথে তাদের সম্প্রদায়গত ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মার্মা সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে রাখাইন/মগ নামে অভিহিত করা হয়।

ফলে এ সমস্ত সম্প্রদায়ের লোকজন বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারে চলে যায়। কেউ কেউ আবার ফিরেও আসে। আবার অনেকে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।  তাদের অনেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে থাকতে পারে। তাদের সাথে এ দেশে থাকা তাদের আত্মীয় স্বজনের যোগাযোগ রয়েছে। সেই সূত্রে আসা যাওয়াও রয়েছে।  তাদের সাথে স্থানীয় পাহাড়ী সন্ত্রাসী সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে।  তাই বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি।

পাহাড় ধসে রাঙামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রামে নিহত ৮৬ : সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যহত

স্টাফ রিপোর্টার: 

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে ৮৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাঙামাটিতে ২ সেনা কর্মকর্তাসহ ৫৪ জন, বান্দরবানে ৯ জন এবং চট্টগ্রামে ২৩ জন মারা গেছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ এখনও মাটির নিচে অনেকে চাপা পড়ে আছেন। সোমবার মধ্য রাতে থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট:

রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে মৃত ৪৫

রাঙামাটি শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় প্রবল বর্ষণের ফলে পাহাড় ধসে কমপক্ষে ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাঙামাটি সদরে দুই সেনা কর্মকর্তা ও দুই সেনা সদস্যসহ ২০ জন, কাপ্তাইয়ে ১১ জন ও কাউখালীতে ২১ জন, বিলাইছড়িতে ২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাঙামাটি সদর হাসপাতালে আহত ৫৬ জন ভর্তি রয়েছেন।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. শহীদ তালুকদার জানান, চার সেনা সদস্যসহ সদর হাসপাতালে ২০টি মৃতদেহ আছে। এই সংখ্যা বাড়তে পারে।

সকালে শহরের যুব উন্নয়ন, ভেদভেদী, শিমুলতলি, রাঙাপানিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাহাড় ধসের খবর আসতে থাকে। দুপুর ১টা পর্যন্ত রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে ১১ জনের মৃতদেহ এসেছে। এরা সবাই বিভিন্নস্থানে বাড়ীর উপর পাহাড়ধসের ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

নিহতরা হলেন- রুমা আক্তার,নুরিয়া আক্তার,হাজেরা বেগম,সোনালি চাকমা,অমিত চাকমা, আইয়ুশ মল্লিক,লিটন মল্লিক, চুমকি দাশ এবং আরো তিনজনের নাম তাৎক্ষনিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে কাপ্তাই উপজেলায় ১১ জন, কাউখালী উপজেলায় ২১ জন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত কারো নাম জানা যায়নি ।

সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি শহর থেকে ২ কি. মি দুরে শহরের প্রবেশমুখে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের পাহাড় ধ্বসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে আছে এমন খবরের ভিত্তিতে রাঙামাটি সদর জোনের সেনাবাহিনীর ১৬ সদস্যের একটি দল উদ্ধার কাজ চালাতে যায়। দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। এসময় অকষ্মাৎ নতুন করে পাহাড় ধস শুরু হলে সেনা সদস্যরা ৩০ ফুট নিচে পড়ে মাটি চাপা পড়ে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

 রাঙামাটি সেনাবাহিনীর আঞ্চলিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সকালে রাঙামাটি মানিকছড়ি সেনা ক্যাম্পের সামনে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়ক যান চলাচল স্বাভাবিক করতে গিয়ে ক্যাম্পের পাহাড় ধসে চার সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম জানিয়েছেন, রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের ঘটনায় কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এখনও তাদের উদ্ধার কাজ চলছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

নিহত সেনা কর্মকর্তাগণ হলেন, মেজর মাহফুজ (৪৪ লং কোর্স), ক্যাপ্টেন তানভির (৬৪ লং কোর্স)। এবং আহত অপর দুই সেনা সদস্য হলেন কর্পোরাল আজিজ ও সৈনিক শাহীন। মেজর মাহফুজের ৫ বছরের একটি সন্তান রয়েছে এবং ক্যাপ্টেন তানভির সালমান নববিবাহিত।

এ ঘটনায় আরো ১০-১২ জন সেনা সদস্য আহত ও ১ জন নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ সৈনিকের নাম আজিজ। আশঙ্কাজনক পাঁচ সেনা সদস্য হচ্ছেন সৈনিক আজমল, মামুন, ফিরোজ, মোজাম্মেল ও সেলিম। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার সিএমএইচে নেয়া হয়েছে। বাকিরা মানিকছড়ি রিজিয়ন সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালি ইউনিয়নের কারিগরপাড়া এলাকায় মাটিচাপা পড়ে উনু চিং মারমা এবং নিকি মারমা মারমা নামের দুইজন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন রাইখালি ইউপি চেয়ারম্যান ছায়ামং মারমা।

কাপ্তাই উপজেলার নতুন বাজার এলাকায় গাছ চাপা পড়ে আবুল হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন এবং ইকবাল নামের এক ব্যক্তি কর্ণফুলি নদীতে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন।

এদিকে প্রবল বর্ষণে রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন স্থানে মাটিচাপা পড়েছে অসংখ্য মানুষ। ফায়ার সার্ভিসের রাঙামাটি টিমকে সহযোগিতা করতে চট্টগ্রামের হাটহাজারি থেকেও বাড়তি ইউনিট আসছে বলে জানিয়েছেন ফায়ারসার্ভিস কর্মকর্তারা। রাঙামাটি শহরে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

রাঙামাটির কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মুহম্মদ রশীদ জানিয়েছেন, এটা একটা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। মৃতের সংখ্যা আরো অনেক বাড়বে। অনেক স্থানেই এখনো মানুষ মাটি চাপা পড়ে আছে।

বান্দরবানে পাহাড় ধ্বসে শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু

আমাদের বান্দরবান প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় মোরা’র ক্ষত শুকাতে না শুকাতে নিম্নচাপে টানা তিন দিনের বর্ষণে ও পাহাড়ী ঢলে বান্দরবানে পাহাড় ধ্বসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের তিন শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়েছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বান্দরবানের সাথে সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

দমকল বাহিনী ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাতে প্রবল বর্ষণে ৩টার দিকে কালাঘাটার কবরস্থানের পাশে, জেলেপাড়া ও লেমুঝিরি আগাপাড়া পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে। এসময় ঘুমন্ত অবস্থায় তিন শিশুসহ ৬জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ৪জন। আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কালাঘাটার কবরস্থানের পাশে পাহাড় ধ্বসে রেবা ত্রিপুরা (১৮) নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী মাটি চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। জেলে পাড়ায় মা-মেয়ে কামুরন নাহার ও সুফিয়া বেগম মাটি চাপায় নিখোঁজ রয়েছেন এবং লেমুঝিরি আগাপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের তিন শিশু শুভ বড়ুয়া (৮), মিঠু বড়ুয়া (৬), লতা বড়ুয়া (৫) নিহত হয়েছেন। আহতরা হলেন পসান ত্রিপুরা (২২), বীর বাহাদুর ত্রিপুরা (১৬) ও দুজাকিন ত্রিপুরাসহ (২৬) আরও দু’জন।

এছাড়া মঙ্গলবার সকালে কুহালং ইউনিয়নের পূর্ব ধোপাছড়ি এলাকার সম্বুনিয়া পাড়ায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের ঘুমন্ত অবস্থায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, মংকাউ খেয়াং (৫৫) মেম্রউ খেয়াং (১৩) ও ক্যসা খিয়াং (৭) বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এসময় চাইহ্লাউ (৩৫) ও সানু খেয়াং (১৮) নামে দু’জন আহত হয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. তারেক জানান, পাহাড় ধ্বসে এ পর্যন্ত ৪জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গভীর মাটির নিচে মা ও মেয়ের লাশ পড়ে থাকায় এবং প্রবল বর্ষণের কারণে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এ দু’জনের লাশ উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কুহালং ইউনিয়নের পূর্ব ধোপাছড়ি এলাকার সম্বুনিয়া পাড়ায় পাহাড় ধ্বসে ঘটনা তার জানা নেই।

জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। এছাড়া জেলা সদর ও ছয় উপজেলায় পাহাড় ধ্বসে প্রায় একশ’র উপরে পাহাড় ধ্বসে ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পাহাড় ধসে একটি শিশুসহ ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন একজন।

টানা বর্ষণে বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

রাঙামাটিতে সোমবার থেকে শুরু হওয়া বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ে। ধসে পড়া মাটির নিচে এখনও অনেকে চাপা পড়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে বৃষ্টি কারণে উদ্ধার কাজ চালাতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়ক যান চলাচল স্বাভাবিক করতে গিয়ে ক্যাম্পের পাহাড় ধসে চার সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। তারা হলেন, মেজর মাহফুজ, ক্যাপ্টেন তানভীর, করপোরাল আজিজ, সৈনিক শাহীন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি সেনাবাহিনীর আঞ্চলিক মুখপাত্র। এছাড়া আহত ৫ সেনা সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। তারা হচ্ছেন, এরা হচ্ছেন, সৈনিক আজমল, মামুন, ফিরোজ, মোজাম্মেল ও সেলিম।

এদিকে, টানা বর্ষণে বান্দরবানের কালাঘাটা এলাকায় তিনটি স্থানে পাহাড় ধসে পড়েছে। এতে তিন শিশুসহ ৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২ জন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। সোমবার রাত ৩টার দিকে প্রবল বর্ষণের সময় কালাঘাটা এলাকার কবরস্থানের পাশে, জেলেপাড়া ও লেমুঝিরি আগাপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

পাহাড় ধসের কারণে বিভিন্ন স্থানে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যহত

টানা বর্ষণ ও ভয়াবহ পাহাড় ধসে তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যহত হয়েছে।নানান স্থানে নতুন করে পাহাড় ধসের ও সড়ক বন্ধের সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় বেসামরিক ব্যক্তিবর্গকে যথাসাধ্য সাহায্য করছে। অতিবৃষ্টিপাত উদ্ধার কার্যক্রম ব্যহত করছে। বিশেষ করে খারাপ মোবাইল নেটওয়ার্কের কারণে সর্বত্র যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে পাহাড় ধসের কারণে নানান স্থানে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়ক ভূমিধ্বসে বন্ধ রয়েছে। বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ সড়ক চালুর চেষ্টা করছে, কিন্তু বৃষ্টির কারণে ব্যহত হচ্ছে।

খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসের ঘটনা বা হতাহতের কোনো খবর না পাওয়া গেলেও তবে গুইমারাতে রাস্তা বন্ধের কারণে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম-গুইমারা সড়ক গাড়িটানা পয়েন্টে (মানিকছড়ি ক্যাম্প থেকে ৭ কিমি দূরে) বন্ধ রয়েছে। ৩টি গাছ হাই-টেনশন তার আছড়ে পড়ে রাস্তার উপরে পড়ে রয়েছে। পিডিবি ও স্থানীয় প্রশাসন কার্যক্রম শুরু করেছে।

বান্দরবানে বান্দরবান-রুমা সড়ক পাহাড় ধসে কাটা পাহাড় এলাকায় (Y-জংশনের কাছে) বন্ধ রয়েছে।বান্দরবান-রুয়াংছড়ি সড়কে রামজাদি মন্দিরের কাছে ব্রিজ ডুবে যাওয়ায় চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে তিন পার্বত্য জেলার বেশির ভাগ স্থানে গত ৪৮-৭২ ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অনেকাংশে অচল হয়ে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পেতে ও উদ্ধার তৎপরতা চালাতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সাংবাদিকরা খবর পাঠাতেও নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে অব্যহত পাহাড় ধসে মৃতের ঘটনায় শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা