উজাড় হচ্ছে পাহাড়ী বনাঞ্চল ॥ সন্ত্রাসীদের কাছে বন রক্ষকও জিম্মি

ন্যাড়া পাহাড়

মিয়া হোসেন, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম থেকে ফিরে :

পাবর্ত্য চট্টগ্রামের পাহাড়জুড়ে রয়েছে হাজার হাজার একর সংরক্ষিত বনাঞ্চল। চুরি করে গাছ পালা কেটে বিক্রি করা হচ্ছে, আর জুম চাষের জন্য পাহাড়ের গাছপালা কেটে আগুন লাগিয়ে গোটা পাহাড় জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে করে উজাড় হয়ে যাচ্ছে পাহাড়ী বনাঞ্চল। সেই সাথে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। পরিবেশের উপর পড়ছে মারাত্মক আঘাত। কিন্তু এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। যারা সেখানে বনরক্ষণ করবেন তারাই সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি। গাছকাটা বা পাহাড় জ্বালিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ালে অপহরণ ও গুম খুনের আশংকা রয়েছে তাদের। আর এ জন্যই পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের সাথে সমঝোতা করে দিন পাড় করছে পাহাড়ের বনরক্ষকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি থেকে বাঘাইহাট হয়ে সাজেক যেতে দীর্ঘ পথ পাহাড় আর পাহাড়। এর বেশির ভাগই সরকারের সংরক্ষিত বন। অথচ এই বনে কোনো গাছ নেই। দূর থেকে দেখলে পাহাড়গুলোকে ন্যাড়া মনে হয়। আবার এই সংরক্ষিত বনেরই কোনো কোনো এলাকায় বসতি গড়েছে পাহাড়িরা। গড়ে তুলেছে পাকা বাড়ি এবং দোকানপাটও। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে, সংরক্ষিত বনের গাছ হয়তো চুরি হয়ে গেছে; নয়তো পাহাড়ে জুম চাষের জন্য তা কেটে ফেলেছে পাহাড়িরা। আর এগুলো যাদের দেখার দায়িত্ব সেই বন বিভাগ একেবারেই চুপ। তবে বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘তারা অসহায়। এগুলো নিয়ন্ত্রণে তাদের কিছুই করার নেই।’ বন বিভাগের কর্তারা বলেন, সংরক্ষিত যেসব বন রয়েছে তার সবটুকুতে ঘুরে দেখারও সুযোগ নেই তাদের। ওখানে আরেক প্রশাসন কাজ করে।

স্থানীয় বনবিভাগের অফিস থেকে জানা যায়, বাঘাইহাট রেঞ্জের আওতায় রিজার্ভ ফরেস্ট রয়েছে ৪৬ হাজার ৪৭৬ একর। এই এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে অনেক এলাকা এখন গাছপালা শূন্য। প্রধান সড়ক এবং বাজারঘাট এলাকা ছাড়া বেশির ভাগ এলাকা গাছপালাহীন। কোনো কোনো এলাকায় ছোট ছোট কিছু গাছ চোখে পড়েছে। আর বেশির ভাগ পাহাড়ই গাছশূন্য। স্থানীয় সূত্র বলেছে, এসব বনের গাছ অনেক আগেই চোরাকারবারীরা বিক্রি করে সাবাড় করে দিয়েছে। যে দু-চারটা গাছ আছে তা-ও রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভালের অভাবে এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো সময় ওই গাছগুলোও হাওয়া হয়ে যাবে। অথচ এই এলাকায় আইন রয়েছে ব্যক্তিগত বনের গাছও কাটা যাবে না।

অথচ সরক্ষিত অনেক বনের গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। এই চুরির কাজে জড়িত পাহাড়ের সশস্ত্র দলগুলো। তাদের রোধ করার যেন কেউ নেই। তারা যখন খুশি পাহাড়ের গাছ-বাঁশ কেটে নিয়ে চোরাকারবারীদের কাছে বিক্রি করে দেয়। কাছালং রিজার্ভ ফরেস্টের অনেক বনে দেখা গেছে এভাবে গাছের মুড়োগুলো পড়ে আছে। বাঘাইহাট রেঞ্জের এক কর্মকর্তা বলেন, এখানে ১২-১৩ জন বনকর্মী রয়েছেন। তাদের হাতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই। অথচ যারা বন থেকে গাছ চুরি করে তাদের হাতে রয়েছে আধুনিক অস্ত্র।

ওই কর্মকর্তা বলেন, নিরস্ত্র বনকর্মীরা তাদের সামনে গিয়ে কিভাবে বাধা দেবে? বাধা দিতে গেলে উল্টো অপহরণসহ নানা নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

বাঘাইহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ গোলাম সাহিদ বলেন, ‘এখানে আমাদের কিছু সমস্যা আছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছি।’। তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের সরকার ছাড়াও আরেকটি সরকার কাজ করে।’ সৈয়দ গোলাম সাহিদ বলেন, ‘এখানে কিছুটা নিয়ম মেনে চলতে হয়। বনে যেতে অনেক সময় আমাদের অনুমতি নিতে হয়।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গাছ চুরি থেকে নিবৃত করতে গিয়ে বনবিভাগের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ২০১৪ সালে শুভলং রেঞ্জের অফিসার রবিউল ইসলাম অপহৃত হয়েছিলেন। পরে ১৭-১৮ দিন নানা কাঠখড় পুড়িয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ডেরা থেকে। বাঘাইহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা গোলাম সাহিদ বলেন, যতটুকু পারি বাধা দেয়ার চেষ্টা করি। অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এখানে থাকতে হলে সমঝোতা করে থাকতে হয়। যেসব কর্মকর্তা এখানে চাকরি করেন সবাই সমঝোতা করেই করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঘাইহাট বাজার থেকে সাজেক যাওয়ার পথে দেখা যায় আশপাশের অনেক পাহাড়ে আগুন জ্বলছে। স্থানীয়রা বললেন, ওই পাহাড়গুলোতে আগুন লাগিয়ে গাছপালা পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে জুম চাষের জন্য। জুম চাষের সাথে পাহাড়িরাই জড়িত। ওসব পাহাড়ে গাছ লাগানো হলেও কোনো লাভ হয় না। কোনো এক সময় তা পুড়িয়ে সেখানে জুম চাষ করে পাহাড়িরা। এভাবেই ন্যাড়া হয়ে গেছে অসংখ্য পাহাড়। একই সাথে লাইন দিয়ে গড়ে উঠেছে বসতি। পাহাড়িরা এসব বসতি গড়ে তুলেছে।

কাছালং এলাকার বাসিন্দা সুকুমার চাকমা এ ব্যাপারে বলেন, তারা বছরের পর বছর এভাবেই জুম চাষ করে আসছেন। অপরদিকে, সংরক্ষিত এলাকায় বসতি স্থাপনের ব্যাপারে তিনি বলেন, মানুষ থাকবে কোথায়? বাধ্য হয়ে বনবিভাগের জায়গায় বসতি স্থাপন করছে। অনেক মানুষ এখন আর দুর্গম পাহাড়ে থাকতে পারে না। সেখানে অনেক ঝামেলা আছে। তাই বাধ্য হয়ে তারা রাস্তার আশপাশে সংরক্ষিত বনে বসতি স্থাপন করে থাকেন।

নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির অভিযানে বিপুল চোরাই কাঠ আটক

Bgb Kat atok-05-02-16
নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি : 
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বন বিভাগ অলস সময় পার করলেও কাঠ পাচার বিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে বর্ডার গার্ড ব্যটালিয়ন। সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন অবৈধ মালামাল আটকের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ৪ ফেব্রুয়ারী দোছড়ি ইউনিয়নের কোলাচিঘাট ও পক্ষিঝিরি নামক এলাকা থেকে এসব চোরাই কাঠ আটক করা হয়।

৩১ বিজিবি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ৩১ বিজিবির নিয়ন্ত্রণাধীন লেম্বুছড়ি বিওপির নায়েব সুবেদার মো. শাহ আলম এর নেতৃত্বে বিজিবি’র একটি টহল দল কোলাচিঘাট ও পক্ষিঝিরি এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় চোরাই কাঠ পাচারকারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ৬০৮.৯ ঘনফুট এবং জ্বালানী কাঠ ১ হাজার ২শত ঘনফুট কাঠ আটক করতে সক্ষম হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৪ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা। আটককৃত কাঠ মামলা নং ইউডিওআর-২১ এবং ২২ রুজু করে ৪ ফেব্রুয়ারি তুলাতুলী বনবিট অফিসে জমা করছে বিজিবি।

অভিযানে কাঠ আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বেআইনী সব ধরনের কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি তৎপর রয়েছে বলে জানান, ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের জোন কমান্ডার লে.কর্ণেল হাসান মোরশেদ চৌধুরী।

পার্বত্য অঞ্চলে গাছ লুটের জন্য বন বিভাগ দায়ী

 কাঠ পাচার

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ ও অন্যান্য সম্পদ লুটপাটে স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছে সশস্ত্র বাহিনী বোর্ড। সম্প্রতি সচিবালয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ওই অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুছ আলী বলেন, সভায় উত্থাপিত প্রতিবেদনটি সঠিক নয়। কারণ, পুরো পার্বত্য এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে পার্বত্য প্রশাসন। তা ছাড়া জোত পারমিটের গাছ, জোত থেকে কাটা গাছ পরিবহন, ডিপোতে স্থানান্তর ও চলাচলের জন্য বন বিভাগের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার ক্যাম্প এবং জেলা-উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদন নিতে হয়। এসব ক্যাম্পকে ফাঁকি দিয়ে কাঠ পাচারের সুযোগ নেই। এ পরিস্থিতিতে বন কর্মকর্তারা কীভাবে কাঠ চুরি করবেন? তিনি আরও বলেন, কাঠ পাচারে ঢালাওভাবে বন বিভাগের ওপর দোষ চাপানো ঠিক হচ্ছে না।
ইউনুছ আলী জানান, আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় উত্থাপিত প্রতিবেদন সম্পর্কে আপত্তি জানানো হয়েছে। বন বিভাগের নামে আনা অভিযোগের বিপক্ষে যুক্তিও উপস্থাপন করা হয়েছে।
অন্যমিডিয়া
জানা গেছে, বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনী বোর্ড অভিযোগ করে, বন কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা ও স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অবৈধ অর্থলিপ্সার কারণে প্রতিদিন বিভিন্নভাবে সংরক্ষিত এই বনাঞ্চল থেকে হাজার হাজার ঘনফুট কাঠ পাচার হচ্ছে। এ ছাড়া স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগসাজশে বড় বড় গাছ কেটে বিক্রি করছে পাচারকারী চক্র। এসব কারণে এবং বনাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ছোট ছোট সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
জবাবে বন অধিদপ্তর থেকে ব্যাখ্যায় বলা হয়, পার্বত্য এলাকার পাহাড়ি জনগোষ্ঠী বনের ওপর নির্ভরশীল। তাদের জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে তারা বিভিন্ন অজুহাতে বনজ সম্পদ/বনভূমি জবরদখল করেছে। ২০১৪ সালের ২৯ জুলাই ঈদুল ফিতরের নামাজের সুযোগে তিনটি সশস্ত্র গ্রুপের ছত্রছায়ায় রাঙামাটি উত্তর বন বিভাগের গঙ্গারামকুল এলাকায় বনভূমি জবরদখল করে বুদ্ধমূর্তি স্থাপন করা হয়। বাধা দেওয়ায় বিরাজমান উত্তেজনায় বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম উৎকণ্ঠা, জান ও মালের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। এ পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহায়তা চাওয়া হয়। প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সভায় বন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, অবৈধভাবে কাটা গাছ পরিবহন, ডিপোতে স্থানান্তর ও চলাচলের জন্য বন বিভাগের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর বিদ্যমান ক্যাম্প ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে কাঠ পাচার করা সম্ভব নয়। তবে প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক অস্ত্রের অভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার সংরক্ষিত বনভূমিতে সঠিকভাবে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বন অধিদপ্তর জানায়, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য এলাকায় রাঙামাটি অঞ্চলাধীন রাঙামাটি উত্তর, দক্ষিণ, জুম নিয়ন্ত্রণ, অশ্রেণীভুক্ত বনাঞ্চল, পাল্পউড বাগান বিভাগ, কাপ্তাই ও খাগড়াছড়ি বন বিভাগসহ ছয়টি বন বিভাগের ছয় লাখ ৮৭ হাজার ৭৬৮ দশমিক ৪৪ একর বনভূমি রয়েছে। বান্দরবান পার্বত্য এলাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলাধীন বান্দরবান বন বিভাগ, লামা বন বিভাগ ও পাল্পউড বাগান বিভাগ, বান্দরবানসহ তিনটি বন বিভাগের দুই লাখ ৭৮ হাজার ১১৬ দশমিক ৫৬ একর বনভূমি রয়েছে। এসব পার্বত্য এলাকায় রয়েছে অশান্ত পরিবেশ ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপতৎপরতা। প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল না থাকায় দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে বৃহৎ পাহাড়ি বনাঞ্চলে নিয়মিত টহল নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
বন বিভাগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৪৩২টি পদের বিপরীতে শতকরা ২০ ভাগ এবং রাঙামাটি অঞ্চলের এক হাজার ৩০২টি পদের বিপরীতে শতকরা ৩৫ ভাগ শূন্য রয়েছে। এ কারণে বনজ সম্পদ ও বনভূমির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তা ছাড়া বন বিভাগের ব্যবহার করা যানবাহন ও আগ্নেয়াস্ত্র পুরাতন ও অপ্রতুল। ফলে অপ্রতুল জনবল, অপর্যাপ্ত অকেজো যানবাহন ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে বনভূমি ও বনজ সম্পদ রক্ষা করা অসম্ভব বলে জানায় বন বিভাগ।
বন বিভাগ আরও জানায়, পার্বত্য এলাকায় জুমচাষিদের কাছ থেকে হেডম্যান ও কারবারিদের মাধ্যমে খাজনা আদায়ের ঐতিহ্যগত রীতি রয়েছে। এটি বন বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে না। যুগ যুগ ধরে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী পার্বত্য এলাকায় জুম চাষ করে আসছে। যে জায়গায় জুম চাষ হয়, সেখানে গাছপালাসহ আগাছা কেটে রোদে শুকানোর পর আগুনে পোড়ানো হয়। জুম চাষের নির্ধারিত স্থানে আগুন লাগানোর কারণে গাছপালা ধ্বংসসহ মাটির উপকারী পোকামাকড়ও ধ্বংস হচ্ছে। ফলে বন বিভাগ জুম চাষে নিরুৎসাহিত করে আসছে।
– সূত্র: দৈনিক সমকাল