রোহিঙ্গা নিধনে ফেসবুকের অপব্যবহার এবং পার্বত্যাঞ্চলে বাঙ্গালী বিদ্বেষী অপপ্রচার

মাহের ইসলাম:

সম্প্রতি ফেসবুকের উদ্যোক্তা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ স্বীকার করেছেন যে, মায়ানমারের চলমান রোহিঙ্গা নিধনে ফেসবুকের ভূমিকা রয়েছে। এই স্বীকারোক্তি এসেছে তখনই, যখন রাখাইনে নিধনযজ্ঞ পরিচালনার প্রেক্ষাপট তৈরিতে রোহিঙ্গাবিদ্বেষী কাজে ফেসবুকই প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে বিভিন্ন সংস্থা অভিযোগ করছে।

উল্লেখ্য, গত ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ তারিখে লন্ডনে ১৫৯টি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর প্রকাশিত ‘দ্য স্টেস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’স হিউম্যান রাইটস’- শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে যে, বিশ্বনেতাদের ছড়িয়ে দেয়া ঘৃণা ও রাজনৈতিক মতাদর্শ সিরিয়া ও মিয়ানমারে সংখ্যালঘু নির্যাতন উস্কে দিয়েছে। মিয়ানমারের পাশাপাশি ইরাক, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনেও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হয়েছে। (দি গার্ডিয়ান, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮)

মায়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘের “ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন” এর চেয়ারম্যান মারজুকি দারুসমান একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাবের জন্য বহুলাংশে অবদান রাখছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “মায়ানমারে সামাজিক মাধ্যম মানেই ফেসবুক, এবং বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্য সেখানে বর্তমান”।

অন্যদিকে, মিয়ানমার মানবাধিকার পরিস্থিতির একজন দূত বলেন, “আমরা জানি জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধদের নিজস্ব ফেসবুক একাউন্ট রয়েছে এবং তারা রোহিঙ্গা বা অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অনেক সহিংসতা এবং ঘৃণা ছড়াচ্ছে”।(আল জাজিরা, ১৪ মার্চ, ২০১৮)

ইতোমধ্যেই এটা সবারই জানা হয়ে গেছে যে, খবরের নামে গুজব ছড়ানোর মধ্য দিয়ে মায়ানমারে মুসলিম ও রোহিঙ্গাবিদ্বেষী মনোভাবে উসকানি ও প্রণোদনা জোগানোর কাজে ফেসবুককে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই, মিয়ানমার সেনা ও উগ্রবৌদ্ধদের বর্বরতার খবর মুছে দিয়ে এবং রোহিঙ্গাদের উপর ভয়াবহ নির্যাতনের সত্য খবরও আড়াল করেছে ফেসবুক। এর পাশাপাশি রোহিঙ্গাবিদ্বেষী প্রচারণায় প্রচণ্ড বর্ণবাদী রাজনৈতিক কার্টুন, মিথ্যা ছবি এবং বানোয়াট সংবাদ সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। পরবর্তীতে, এগুলো প্রায়ই ভাইরাল করে ছড়িয়ে দেয়া হয় সাধারন মানুষের মাঝে।

ফলে, মায়ানমারের বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর মধ্যে তৈরি হয়েছে রোহিঙ্গা বিদ্বেষ এবং অনেকেই আরাকান রাজ্যের এই সংখ্যালঘু মুসলিম মানুষদের দেখতে শুরু করেছে ঘৃণার চোখে। অবশ্যম্ভাবী ফলাফল হিসেবে, মায়ানমারের অনলাইন জগতে রোহিঙ্গাবিদ্বেষী মনোভাব প্রকাশ, উসকানি, সহিংসতা এবং ঘৃণা প্রচারণা অনেকটা উৎসবে পরিণত হয়।

চূড়ান্ত পরিণতিতে, অত্যন্ত সুপরিকল্পিত জাতিগত নিধনের শিকার হওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে, ১২ এপ্রিল ২০১৮ পর্যন্ত শুধুমাত্র বাংলাদেশেই আশ্রয়প্রার্থী নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১,০২,৬৩২ জন; জাতিগত নিধন, হত্যা, ধর্ষণ, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা শিকার হওয়া দুর্ভাগাদের প্রকৃত সংখ্যা হয়ত কোনদিনও জানা যাবে না।

বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলেও প্রায় অনুরূপ ক্ষেত্র সৃস্টির অপচেষ্টার আশংকা দেখা দিয়েছে, কিছু কিছু পাহাড়ির ফেসবুক পোস্ট দেখে। যেখানে, প্রতিনিয়তই বাঙ্গালী বিদ্বেষী অপপ্রচার চালিয়ে ঘৃণা, অবিশ্বাস আর সন্দেহের বীজ বপনের কাজে ফেসবুক ক্রমেই প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে, বেছে বেছে শুধুমাত্র বাঙ্গালীদেরকে টার্গেট করা হচ্ছে, তাই নয়। বরং, অনেক ক্ষেত্রেই সাম্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পাশাপাশি এসব পোস্টে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন এমনকি সরকার এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারী উপাদানও থাকে।

পাহাড়ে সংঘটিত হলেতো কথাই নেই, এমনকি সমতলে সংঘটিত ঘটনাকে পুঁজি করেও এমন অপপ্রচেষ্টা অহরহ দেখা যায়। এক্ষেত্রে, বেশীরভাগ সময়ই যে কোন বাস্তব ঘটনাকে ব্যবহার করা হয়; তবে প্রকৃত ঘটনা গোপন করে, কিছুটা মিথ্যে মিশ্রণ করে বা আংশিক সত্য প্রকাশ করে এবং ছবি এডিট করে প্রকাশ করা হয়। এছাড়াও অতীতে ঘটে যাওয়া ভিন্ন কোন ঘটনার ছবি ব্যবহার করে, সাম্প্রতিক বা আলোচ্য ঘটনার ছবি হিসেবে চালিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টাও লক্ষ্য করা যায়। এ ধরণের প্রচেষ্টার নিয়মিত শিকার হলো পাহাড়ে বসবাসরত বাঙ্গালীরা। ইচ্ছে করেই পজিটিভ সংবাদগুলো আড়াল করে শুধুমাত্র নেগেটিভ সংবাদগুলোই সামনে এনে এবং অবশ্যই কিছুটা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়; বাঙ্গালীর প্রতি ঘৃণা আর পাহাড়ীর প্রতি সহানুভূতি অর্জনের উদ্দেশ্যে।

উপরের ছবিটি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে কিশোরী বিউটি আক্তারের, যাকে হত্যা করা হয় গত মার্চের ১৬ তারিখে। ঘটনার পরপরই, বাঙ্গালী বিদ্বেষী পোস্ট চলে আসে ফেসবুকে। ২০১২ সালের সবিতা চাকমার ঘটনা উল্লেখ করে এক উস্কানিমূলক পোস্ট আপলোড করা হয়, যেখানে ব্যবহার করা হয় ২০১৮ সালের বিউটি আক্তারের মৃতদেহের ছবি। প্রকৃতপক্ষে, ২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী সবিতা চাকমার লাশ নিজ বাড়ির পাশে পাওয়ার পর বিভিন্ন পাহাড়ী সংগঠনগুলো থেকে সবিতা চাকমা বাঙালী ট্রাক ড্রাইভার ও হেলপার কর্তৃক গণধর্ষিতা হয়ে মারা গেছে বালে দাবী করে ব্যাপক প্রচারণা, প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। এমনকি শাহবাগেও সবিতা চাকমা ‘ধর্ষণ’ ও খুনের ঘটনায় মানবন্ধন হয়েছে। কিন্তু পরে ময়না তদন্তে প্রমাণ হয় যে, তাকে ধর্ষণ করা হয়নি।

‘পার্বত্য চট্টগ্রামে ধর্ষণ : বিচার কামনার চেয়েও বাঙালিকে ধর্ষক প্রমাণ করাটা যখন অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ শিরোনামের নাজমুল আহসান এর ব্লগ থেকে জানতে পারি যে, “বাংলাদেশে মিডিয়া ক্যু’র সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছে পার্বত্য বাঙালিরা।” তিনি আরো জানিয়েছেন, “অনেক অপরাধের বোঝা বইতে হয়েছে পার্বত্য বাঙালিদের, যেটার জন্য আদৌ তারা কোনোকালেই দায়ী ছিল না।” পার্বত্য চট্টগ্রামে ধর্ষণ ও তার প্রতিবাদের শুধুমাত্র ২০১৪ সালের ৫টি ঘটনাকে কেস স্টাডি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দেখিয়েছেন যে, “কেউ কেউ আসলে ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের বিচার চায় না, কিন্তু বাঙালিই ধর্ষক সেটাই প্রমাণ করতে চায়। বিচার এখানে মূখ্য নয়, ধর্ষণকে কেন্দ্র করে আমি কতোটুকু রাজনীতি করতে পারলাম, সেটাই মূখ্য বিষয়।” (https://www.istishon.com/?q=node/19537)

দেবী ত্রিপুরা, বিশাখা চাকমা, উ প্রু মারমা, আয়না চাকমা, দিপা ত্রিপুরা, ফাতেমা বেগম, এবং সবিতা চাকমা এর মতো অনেক ঘটনা আছে যেখানে ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বাঙ্গালী বিদ্বেষী প্রচারণা ও ঘৃণা সৃষ্টিতে।

অনেক পাহাড়ী মেয়ের জন্যে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ফেসবুক। বাঙ্গালী ছেলের সাথে মেলামেশা করলে বা এক সাথে ছবি তুললেই পাহাড়ী মেয়েরা পাহাড়ী আঞ্চলিক সংগঠনের সাথে জড়িত যুবকদের দ্বারা হেনস্তার শিকার হচ্ছে ফেসবুকের মাধ্যমে এবং সরাসরি।

অনেক ক্ষেত্রেই, মেয়ের বিস্তারিত পরিচয় উল্লেখ করে এসব ছবি ফেসবুকে চলে আসছে; বিভিন্ন ধরনের হুমকি, এমন কি নিলামে তোলা বা প্রাণনাশের হুমকিসহ। পাহাড়ী মেয়েদের ছবি, নাম, পিতার নামে এমনকি ঠিকানা পর্যন্ত ফেসবুকে পোস্ট করে, তাদেরকে সর্বত্র হেয় করার পাশাপাশি তাদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে। বাঙ্গালী বিদ্বেষী মনোভাব এমনই প্রকট যে, এখানে ‘পতিতাবৃত্তি’ কেও গ্রহণযোগ্য বলা হচ্ছে, কিন্তু বাংগালী ছেলের সাথে পাহাড়ি মেয়ের ‘প্রেম, ভালোবাসা এবং বিয়ে’ গ্রহণযোগ্য নয়।

পার্বত্য অঞ্চলে বাঙ্গালিদের প্রতি ঘৃণার প্রকটতা এমনই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মৃতকে পর্যন্ত রেহাই দেয়া হয়নি। রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধ্বসের অব্যবহিত পরেই সেনাসদস্যরা জীবন বাজি রেখে উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পরে। অথচ, এই উদ্ধার কাজে নিয়োজিত সেনাসদস্যদের মৃত্যতে ও কিছু পাহাড়িকে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তারচেয়েও বেদনাদায়ক হলো এই যে, তারা তাদের এই ঘৃণা ও উল্লাস প্রকাশে কোন রাখ ঢাকের ধার ধারেনি, বরং প্রকাশ্যেই জানান দিয়েছে ফেসবুকের মাধ্যমে। 

২০১৭ সালের জুন মাসে রাঙ্গামাটিতে সংঘটিত হয় স্মরণ কালের অন্যতম ভয়াবহ পাহাড় ধস। তাৎক্ষণিক উদ্ধারকাজে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় একজন মেজর ও একজন ক্যাপ্টেনসহ ৫ জন সেনাসদস্য শাহাদাত বরণ করার পরেও ঘৃণা প্রকাশ করতে দেখা যায়। তাদের মৃত্যুর ঘটনা পর্যন্ত মিথ্যামিশ্রিতভাবে উপস্থাপন করতে দেখা যায়।মৃত সেনাসদস্যদের ‘অত্যাচারি এবং নরপিশাচ’ বলে উপস্থাপন করা হয়। অথচ, উক্ত পাহাড় ধসের ঘটনা পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলায় রাঙ্গামাটিতে সেনা সদস্যরা জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ৮ টি আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, যেখানে দুই মাসের বেশি সময় ধরে সর্বমোট ৯৩,৩৮১ জনের খাবারের ব্যবস্থা করে এবং ২২৫৭ জনকে বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা প্রেদান করে। আর, বাঙ্গালিদের প্রতি ঘৃণা এমনই তীব্র যে, শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত সহানুভূতি অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে !

২ জুন ২০১৭, সকালে রাঙ্গামাটির লংগদুতে পাহাড়িদের প্রায় শতাধিক বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। অনুমান করা হচ্ছে, পাহড়ি দুই যুবকের হাতে নিহত বাঙ্গালী মটর সাইকেল চালক নয়নের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ মিছিল হতে কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল তরুণ এই অগ্নিকান্ডের জন্য দায়ী। ফলে, কয়েকশত নিরীহ পাহাড়ি পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে রাতারাতি সহায় সম্বলহীন হয়ে মানবেতর দিনযাপনে বাধ্য হয়েছে। পরবর্তীতে, স্থানীয় রাজনীতির জটিলতায়, নারী ও শিশুসহ এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই সরকারী ত্রাণ এমনকি চিকিৎসা সহায়তা পর্যন্ত নিতে বাধার সম্মুখীন হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ফেসবুকের কল্যাণে ঘটনাটি অতি দ্রুত লংগদুর বাইরে ছড়িয়ে দেয়া হয়, দেশে এবং বিদেশে; তবে একটু ভিন্ন ভাবে। জ্ঞাতসারেই হোক আর অজ্ঞাতসারেই হোক, এই ভয়াবহ সংবাদটি কয়েকটি দেশি এবং বিদেশী পত্রিকাতেও খানিকটা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

যে তিনটি ছবিকে লংগদুর অগিকান্ডের ছবি বলে চালানো হলো, দেশবাসি এবং বিশ্ববাসীর সমবেদনা প্রাপ্তি এবং বাঙ্গালীদের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টির লক্ষ্যে, সেগুলো আসলে এদেশেই ঘটে যাওয়া টঙ্গীতে বয়লার বিস্ফোরণ (১০/৯/১৬), গাইবান্ধায় সাঁওতাল পল্লি (৭/২/১৭) এবং বরিশালে বিস্কুটের গোডাউন (৪/২/১৭) এর আগুনের ছবি। অনলাইনে গিয়ে ‘লংগদুতে আদিবাসীদের উপর হামলা: কিছু ভুল ছবি’ (https://www.jaachai.com/posts/post-807) শিরোনামের এক পেজ থেকে জানা যায় যে, লংগদুতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা সত্য হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় যে সকল ছবি এসেছে তার সব ছবিই এই ঘটনা সংশ্লিষ্ট নয়।ভিন্ন ঘটনার ছবি ব্যবহার করে বাঙ্গালীদের দোষারোপ করা হয়েছে অত্যন্ত সুচারুভাবে।

একদিকে বাঙ্গালিদের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি আর অন্যদিকে পাহাড়িদের প্রতি সমবেদনা আদায় করার এই পন্থা শুধুই পুরাতনই নয় বরং কিছু পাহাড়ির কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বাংলাদেশ সংক্রান্ত যে কোন সংবাদের মধ্যে দেশ বিরোধী বা দেশের জন্যে অবমাননাকর উপাদান যোগ করে ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। যে কোন কিছুর সাথে কিছুটা মিথ্যে যোগ করে বা কোন নেতিবাচক সংবাদ এর সাথে বাঙ্গালী বিদ্বেষী মতামত যোগ করে পোস্ট আপলোড করা নৈমিত্তিক ব্যাপার।

একটু খেয়াল করলেই এ ধরনের হাজার হাজার পোস্ট চোখে পড়বে যার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত পাহাড়ের সরল মনের মানুষদের বাঙ্গালী বিদ্বেষী মনোভাব গড়ে তোলার চেস্টা চলছে। সরকার যখন পাহাড়ে পাহাড়ি- বাঙ্গালীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং শান্তি আর উন্নতির চেস্টায় আন্তরিকভাবে নিবেদিত, তখন এ ধরনের ফেসবুক পোস্ট সরকারের সমস্ত প্রচেস্টার বিরুদ্ধে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের চোখের আড়ালে ঘটছে বলে, অনেকেই এর ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে হয়ত কিছুটা সময় নিতে পারে।

কিন্তু, চরম বাস্তবতা হলো, ফেসবুকের এই ঘৃণা ছড়ানো এবং বাঙ্গালী বিদ্বেষী প্রচারণা পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পাশাপাশি অশান্তি এবং অসাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্প পাহাড়ের বাতাসে বাতাসে ছড়িয়ে দিচ্ছে। নিরীহ এবং সরল মানুষগুলো প্রকৃত সত্যের পরিবর্তে মিথ্যের জালে ক্রমাগত আষ্টপৃষ্টে বাঁধা পড়ছে; না বুঝেই পরস্পরের শত্রু হয়ে মুখোমুখি হয়ে পড়ছে একই সমাজের মানুষগুলো। ষড়যন্ত্রকারীদের কুটচালে ব্যহত হচ্ছে উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধি; অকার্যকর হয়ে পড়ছে রাষ্ট্রীয় আন্তরিকতা, দেশবাসীর উদারতা আর জাতির ধর্মীয় সহিষ্ণুতা। দেশের বাইরে ভুলন্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের সম্মান ও মর্যাদা।

রামনবমী পালনকে কেন্দ্র করে, মার্চের শেষ সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ আর বিহার রাজ্যে মোট দশটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঘটেছিল। বিবিসির হিন্দি বিভাগ তাদের সংবাদ দাতাদের প্রেরিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই মতামত ব্যক্ত করছে যে, “এ অশান্তি, হিংসা বা অগ্নিসংযোগ কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই, অনিয়ন্ত্রিতভাবে, হঠাৎ ঘটে গেছে – ঘটনাক্রম বিশ্লেষণ করে এরকমটা মনে করা কঠিন।”

এ নিয়ে ১২ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত, ‘ভারতে মুসলিম-বিরোধী দাঙ্গা ‘পরিকল্পিত’ মনে করার ৯টি কারণ’ সংবাদে বিস্তারিত আলোচনা করার সময়, ‘সামাজিক মাধ্যমে গুজব’ ছড়ানোকে একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই, মায়ানমারের রোহিঙ্গা নিধনে ফেসবুকের অপব্যবহার আর ভারতে মুসলিম বিরোধি দাঙ্গায় সামাজিক মাধ্যমের গুজব ছড়ানোকে মাথায় রেখে পার্বত্য চট্ট্রগ্রামে ফেসবুকে ধর্মীয় উস্কানিমূলক ও বাঙ্গালী বিরোধী প্রচারণা ও ঘৃণা ছড়ানো বন্ধের পদক্ষেপ এক্ষুণি নিতে হবে। এ নিয়ে কালক্ষেপণের সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। বরং এ বিষয়ে লাগাম টানতে যত দেরি হবে, তত বেশি জ্যামিতিক হারে এর ক্ষতির শিকার হতে পারে আমাদের সকলকে।

• লেখক: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক ও লেখক।

maherislm@gmail.com


মাহের ইসলামের আরো লেখা পড়ুন

  1. পার্বত্য চট্টগ্রামে অপপ্রচার: মুদ্রার অন্য দিক
  2. মারমা দুই বোন, অপপ্রচার এবং ডিজিটাল যুগের দুর্বলতা
  3. পাহাড়িদের সরলতা কি গুটিকয়েকজনের ক্রীড়নক: প্রেক্ষিত বিলাইছড়ি ইস্যু
  4. পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীঃ নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত দোষী
  5. মিথুন চাকমার প্রতি সহানুভুতি কি অবিচার ?
  6. দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় চেতনা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে অপপ্রচার বন্ধে কোনো ছাড় নয়
  7. ইমতিয়াজ মাহমুদ- মিথ্যা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি না করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শেখান(ভিডিও)
  8. অপহরণের প্রতিবাদ: মানবিক, বাণিজ্যিক, না রাজনৈতিক?

 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রেগামের আওতায় রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত হলো সোসাল মিডিয়া আড্ডা

নিজস্ব প্রতিনিধি;

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগামের আওতায় রাঙামাটিতে শনিবার অনুষ্ঠিত হলো সোসাল মিডিয়া আড্ডা। নাগরিক সেবার উদ্ভাবন হিসেবে এ আড্ডার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রাম।

 

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ আড্ডায় সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের উপ সচিব সানাউল্লাহ, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের সমন্বয়ক মানিক মাহমুদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ডঃ মুস্তাফিজুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফ উদ্দিন আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা রহমান শম্পা, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি সুনীল কান্তি দেসহ জেলা বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তা, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, এনজিও কর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ফেইসবুক ইউজার ও জেলায় কর্মরত বিভিন্ন মিডিয়াকর্মী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সোসাল মিডিয়া আড্ডার গুরুত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের সমন্বয়ক মানিক মাহমুদ ও রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের ফেইসবুকের কার্যক্রম এবং পরিকল্পনা নিয়ে উপস্থাপনা করেন সহকারী কমিশনার নাজমুল ইসলাম।

আড্ডায় বক্তারা বলেন, সরকারের সাথে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। সেবা প্রদানে জনগণের মতামত নিয়ে নাগরিক সেবা আরো উন্নত করতে সোসাল মিডিয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যেমে সহজে সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের আওতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগে সরকারী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জনগণও অধিক হারে সম্পৃক্ত হচ্ছে বলে সোসাল মিডিয়া আড্ডায় জানানো হয়।

আড্ডায় আরো জানানো হয় বর্তমানে ২৫ হাজার সরকারী কর্মকর্তা সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে সেবা দানে নিয়োজিত এবং ১০/১২ জেলায় ফেসবুকের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম চালাচ্ছে।

বক্তারা রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের ফেইসবুকের মাধ্যমে সেবা প্রদানের প্রশংসা করে করে বলেন এটি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। সোসাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে জনগণের দোরগোরায় সেবা পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে রাঙামাটি জেলা মডেল হিসেবে কাজ কববে বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।  

আড্ডায় মুক্ত আলোচনায় বক্তারার জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজের বিভিন্ন কার্যক্রম ও দিক নিয়ে পরামর্শমূলক বক্তব্য তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসনে কর্মকর্তারা ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সেবার মান বৃদ্ধি ও আরো প্রসারিত করা প্রত্যয় ব্যক্ত করে জেলার সর্বস্তরের নাগরিকদের সহাযোগিতা কামনা করেন।

যেভাবে উদ্ধার করবেন হ্যাকড হওয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট

b04b694978d1f06db46cebc6996444b8-facebook-logo-hacked
 
অনলাইন ডেস্ক:
ফেসবুক বিশ্বের বৃহত্তম সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট এ কথা সবাই জানেন। সাইবার দুর্বৃত্তরাও এই সাইট ব্যবহারকারীদের দুর্বলতার খোঁজে ওঁত্ পেতে থাকে। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তাঁরা অবৈধ পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখানো, সম্ভাব্য গ্রাহক বা ক্রেতার তথ্য চুরি, স্পাইওয়্যার, ম্যালওয়্যার ছড়ানোর মতো কাজ করে থাকে। এ ছাড়াও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঘটিয়ে ফেলতে পারে অঘটন।

হ্যাক হয়েছে কিনা বুঝবেন যেভাবে

আপনার ফেসবুক হ্যাক হয়েছে কিনা তা বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে ফেসবুকে আপনার বন্ধু তালিকায় অপরিচিতদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি টের পাওয়া। হ্যাক হলে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আপনার বন্ধুদের কাছে স্প্যাম ছড়ানোর পাশাপাশি ওই অ্যাকাউন্টে ভায়াগ্রা, অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। আপনি যখন আপনার দেওয়া পাসওয়ার্ড দিয়ে নিজের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবেন না তখনই বুঝবেন সর্বনাশ হয়ে গেছে। অনেক সময় ফেসবুক হ্যাক হয়ে গেলেও হ্যাকার চুপচাপ থাকে, নজরে পড়ার মতো কোনো কার্যক্রম দেখা যায় না। তখন ফেসবুক হ্যাক হয়েছে কিনা বোঝা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এ ক্ষেত্রে হ্যাকার চুপচাপ অপেক্ষা করতে থাকে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পোস্টের অপেক্ষায় থাকে। এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর অজান্তেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি হয়ে যায় এবং দুর্বৃত্তদের প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।

ফেসবুক হ্যাক হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করতে আপনি প্রথমে স্ক্রিনের ডান দিকের ওপরে ‘ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সেটিংস’ অপশনে যান। সেখান থেকে ‘সিকিউরিটি’ অপশনে যান এবং তারপর যান ‘অ্যাকটিভ সেশন’। এই পেজে আপনি আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সর্বশেষ তথ্য জানতে পারবেন। এখানে যদি আপনার অগোচরে ফেসবুক ব্যবহারের কোনো তথ্য পান তবে মনে রাখবেন আপনার অ্যাকাউন্ট আর নিরাপদ নেই।

যেভাবে উদ্ধার করবেন

যদি হ্যাকার আপনার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে না ফেলে তবে মনে করবেন যে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার নিয়ন্ত্রণেই আছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে আপনি দ্রুত অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করে নিতে পারবেন। এজন্য প্রথমে আপনার কম্পিউটারে কোনো স্পাইওয়্যার বা কী লগার রয়েছে কিনা সেটি নিশ্চিত হন। স্পাইওয়্যার হচ্ছে একধরনের সফটওয়্যার যা আপনার অজান্তেই আপনার কম্পিউটারে ডাউনলোড হয়ে ইনস্টল হয় এবং আপনার কম্পিউটার থেকে বিভিন্ন ধরণের তথ্য ইন্টারনেটে অন্য কারো কাছে পাচার করে। এগুলো অনেক সময় আপনার কম্পিউটারের গতি কমিয়ে দেয়, আপনার বিরক্তি বাড়িয়ে তোলে আর গুপ্তচরবৃত্তি করে। স্পাইওয়্যার থাকলে তা কম্পিউটার স্ক্যান করে দূর করুন। এরপর পুরোনো পাসওয়ার্ডটি বদলে নতুন জটিল একটি পাসওয়ার্ড দিন। পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের পাশাপাশি আপনার গোপন নিরাপত্তা প্রশ্নটি ও এর উত্তর বদল করে ফেলুন।

আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে যদি বন্ধুদের কাছে স্প্যাম মেসেজ যেতে থাকে, তবে দ্রুত ‘ফেসবুক হ্যাকড’ পেজে গিয়ে ফেসবুকের কাছে একটি অনুরোধ পাঠান। আপনি যদি ফেসবুককে এ বিষয়টি অবহিত না করেন তবে ফেসবুক আপনার অ্যাকাউন্টটির ব্যবহার সীমাবদ্ধ করে দিতে পারে। এমনকি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেও দিতে পারে।

হ্যাকার যদি আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার পর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে থাকে তবে আপনাকে তা উদ্ধারে একটু বেশি কষ্ট করতে হবে। আপনি আপনার অ্যাকাউন্টে ঢোকার চেষ্টা করলেও যখন তা পারবেন না তখন ‘ফরগট পাসওয়ার্ড’ অপশনে যান। এখানে যে তথ্যগুলো চাওয়া হয় তা সঠিকভাবে পূরণ করলে আপনি ফেসবুকের অ্যাকাউন্টটি ফেরত পাবেন। যে ই-মেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে ফেসবুকের অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল তা ব্যবহার করেন তবে দ্রুত অ্যাকাউন্টটি উদ্ধার করতে পারবেন। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট উদ্ধারে আপনার নাম ও বন্ধুদের নাম ও তথ্য চাওয়া হয়। আপনি যদি ইমেইল অ্যাড্রেস বা ফোন নম্বর দিয়েও আপনার অ্যাকাউন্টে যেতে না পারেন, তখন আপনার বর্তমান ই-মেইল অ্যাকাউন্ট দিয়েও তা উদ্ধার করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার তিনজন বিশ্বস্ত বন্ধুকে আপনার সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে। তারা ফেসবুকের কাছ থেকে সিকিউরিটি কোড পাবেন এবং সেই কোড ব্যবহার করে আপনার অ্যাকাউন্ট ফেরত পেতে পারেন। ফেসবুক হেল্প সেন্টার থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিতে পারেন।

কীভাবে করবেন?

১. প্রথম ধাপ: এই লিংকে যান https://www.facebook.com/hacked এবং ‘ইওর অ্যাকাউন্ট হ্যাজ বিন কমপ্রোমাইজড’ বাটনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিন।ফেসবুক

২. পুরোনো পাসওয়ার্ড দিন। ফেসবুক

৩. পুরোনো পাসওয়ার্ড দিলে নতুন একটি পেজ আসবে। সেখানে রিসেট মাই পাসওয়ার্ড বাটনে ক্লিক করুন। ফেসবুক

৪. ‘নো লংগার অ্যাকসেস টু দিজ’ লিংকে যান। ফেসবুক

৫. নতুন ইমেইল অ্যাড্রেস দিন। ফেসবুক

অনিরাপদ অ্যাপ্লিকেশন

ফেসবুকে আপনি হয়তো অনেকগুলো অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করছেন। এগুলোর মধ্যে কোন কোনটি হয়তো অনিরাপদও থাকতে পারে। অ্যাকাউন্ট সেটিংস পেজ থেকে অ্যাপ্লিকেশনে যান। আপনি যে অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করেন না এবং অনিরাপদ মনে করেন তা বাতিল করে দিন। নতুন অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করার সময় আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে কী ধরনের তথ্য চাচ্ছে সে বিষয়টি খেয়াল করুন। অ্যাপ্লিকেশনে যদি অপ্রয়োজনীয় তথ্যও চাওয়া হয় তবে সে অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন।  সেটিংসের অ্যাপ পেজে কোন অ্যাপ্লিকেশন কী করেছে সে তথ্যও জানতে পারবেন। এখান থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশনগুলো বেছে তা বন্ধ করে দিন।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

১. যদি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বলে মনে সন্দেহও জাগে তবে দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে দিতে পারেন।

২. পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের আগে বিশ্বাসযোগ্য অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করে কম্পিউটার স্ক্যান করুন।

৩.মোবাইল ফোন ও ওয়েবের সবখানে এক রকম পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না।

৪. প্রতি মাসে একবার অন্তত পাসওয়ার্ডে পরিবর্তন আনুন।

৫. আপনি কতক্ষণ ফেসবুক ব্যবহার করেছেন তা পরীক্ষা করে দেখুন।

৬. লগইন নোটিফিকেশন ফিচারটি ব্যবহার করুন এতে কেউ আপনার ফেসবুক হ্যাক করলে মোবাইল ফোনে বার্তা পাবেন।

৭. অনিরাপদ অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করার আগে আরেকবার চিন্তা করুন।

৮. অপরিচিতের কম্পিউটারে লগ ইন করার সময় সতর্ক থাকুন।