খাগড়াছড়িতে শুরু হচ্ছে পুলিশের কমান্ডো প্রশিক্ষণ

1468365225

বিশেষ প্রতিনিধি:

আগামী ৯ ফের্রুয়ারি থেকে খাগড়াছড়িতে শুরু হচ্ছে পুলিশের কমান্ডো প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল(আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক ঐদিন বেলা সাড়ে ১১টায় খাগড়াছড়ি এপিবিএন ষ্পেশালাইজড ট্রেনিং সেন্টারে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। আর এটাই হবে বাংলাদেশ পুলিশে কমান্ডো ফোর্স তৈরির প্রথম কার্যক্রম। এর আগে কঠোর প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের মাধ্যমে সাধারণত সশস্ত্র বাহিনীতে কমান্ডো বা প্যারাকমান্ডো তৈরি করা হয়েছিল।

পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দেশে বড় ধরনের জঙ্গি-সন্ত্রাসী হামলা কিংবা আপদকালীন যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নিয়মিতভাবে কমান্ডো প্রশিক্ষনের (ট্রেনিং) অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। এখানে কমান্ডো প্রশিক্ষনের ‘স্ট্যান্ডার্ড’ বজায় রাখা হবে।

সূত্রটি জানায়, সাম্প্রতিক গুলশানের হলি আর্টিজান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া হামলাসহ সশস্ত্র জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে পুলিশ বাহিনীর সামর্থ বৃদ্ধির জন্যে অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামসহ সব ধরনের ‘লজিস্টিক সাপোর্ট’ দিয়ে পুলিশের কমান্ডো ফোর্সকে সুসজ্জিত করা হবে। যাতে তারা যে কোনো সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে।

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রেনিং অ্যান্ড স্পোর্টস) ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, কমান্ডো প্রশিক্ষণের মৌলিকত্ব বা ‘স্ট্যান্ডার্ড’ বজায় রেখে ফেব্রুয়ারিতে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। খাগড়াছড়িতে পুলিশের বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে হবে এ কমান্ডো প্রশিক্ষণ। নিয়মিতভাবেই চলবে এ কমান্ডো প্রশিক্ষণ।

এজন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পুলিশ সদর দফতর। অত্যাধুনিক ও সুসজ্জিত এ কমান্ডো ফোর্সের কাজ হলো বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলাসহ দেশের যে কোনো স্থানে যে কোনো আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। এজন্য তাদের শারীরিক প্রশিক্ষণ, অস্ত্র প্রশিক্ষণ ও পরিস্থিতি মোকাবিলার সব ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

সূত্র মতে, গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি ভারতে গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ৪০ সদস্য কমান্ডো প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে এক নারী সহকারী পুলিশ সুপারসহ পাঁচ নারী পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। এখন প্রশিক্ষিত ঐ সদস্যরা অন্যদের প্রশিক্ষণ দেবেন।

এছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা কমান্ডো ট্রেনিংয়ে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত এফবিআইসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডিএমপি’র বিশেষায়িত কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, সোয়াতসহ বিভিন্ন টিমের অভিজ্ঞ চৌকস অফিসাররা এ কমান্ডো প্রশিক্ষণ দেবেন।

পুলিশ সদর দফতরের প্রশিক্ষণ শাখার কর্মকর্তারা জানান, কমান্ডো অপারেশন মূলত বড় ধরনের সশস্ত্র সন্ত্রাস বা সংকটকালীন মুহূর্তে পরিচালনা করা হয়ে থাকে। যেমন গুলশানের হলি আর্টিজানে ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ নামে কমান্ডো অপারেশন পরিচালিত হয়। সাধারণত কমান্ডো অপারেশন চারটি ভাগে হয়ে থাকে। কমান্ডো টিমের চারটি দল পৃথক দায়িত্ব পালন করে।

সাধারণত একদল মধ্যস্থতা (হোস্টেজ নেগোসিয়েশন) করে; আরেক দল প্রতিরক্ষার (ডিফেন্স) দায়িত্বে থাকে; আরেক দল সরাসরি অ্যাকশন পয়েন্টে এবং আরেক দল তাদের রিজার্ভ হিসেবে থাকে। এর বাইরেও স্থান-কালভেদে নতুন কৌশলে অপারেশন পরিচালনা করে থাকেন কমান্ডোরা। জানা যায়, কমান্ডো প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন মেট্রোপলিটন শহরে পদায়ন করা হবে। এতে স্থানীয়ভাবে তারা যে কোনো সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারবেন।

খাগড়াছড়িতে চোলাই মদে আগুন দিল পুলিশ

27.02

সিনিয়র রিপোর্টার:

খাগড়াছড়িতে আদালতের নির্দেশে চোলাই মদে আগুন দিল পুলিশ। শনিবার দুপুরে সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. রইছ উদ্দিনের নেতৃত্বে বোতল ভর্তি ২৬৪ লিটার চোলাই মদ ধ্বংস করা হয়। এ সময় খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সামসুদ্দীন ভূইঁয়া উপস্থিত ছিলেন।

খাগড়াছড়ির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান মো. নোমান গেল ৩ ফেব্রুয়ারি জব্দকৃত চোলাই মদগুলো ধ্বংসের আদেশ দেন।

জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. রইছ উদ্দিন পার্বত্যনিউজকে বলেন, গেল ২৭ জানুয়ারি খাগড়াছড়ি জেলা শহরের শাপলা চত্বর এলাকা থেকে সবজি বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে ১৩২টি বোতলে ২৬৪ লিটার চোলাই মদসহ দু’জনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

মাটিরাঙ্গায় ৩ দিনব্যাপী গ্রাম পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

11.02

সিনিয়র রিপোর্টার:

দায়িত্ব পালনে প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান বলেছেন, গ্রাম পুলিশকে প্রশাসনের চোখ হিসেবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে হবে। সরকারি বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় গ্রাম পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা শীর্ষক ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সনদ বিতরনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি) এর আয়োজনে ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাটিরাঙ্গা জলপাহাড় অডিটোরিয়ামে ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সনদপত্র বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মনিকা বড়ুয়া, মাটিরাঙ্গা ইউনিয়ণ পরিষদের চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা ও বেলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রহমত উল্যাহ প্রমূখ।

গ্রাম পুলিশ বাহিনীকে গতিশীল ও আধুনিকায়ন করতে গ্রাম পুলিশের দায়িত্ব, ভূমিকা, গ্রাম আদালত কার্যক্রম পরিচালনা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তাদের ভূমিকাসহ তথ্য প্রাপ্তির অধিকার, নাগরিক সনদ ও ইউডিসি’র কার্যক্রমে গ্রাম পুলিশ বাহিনীর ভূমিকাসহ অন্যান্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। মাটিরাঙ্গা উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৭০ জন গ্রাম পুলিশ সদস্য তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদপত্র প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণকালীন সময়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় উপজেলার বেলচড়ি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ মো. আমির হোসেনকে শ্রেষ্ঠ গ্রাম পুলিশ হিসেবে ক্রেস্ট তুলে দেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান। সনদ বিতরণ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত থেকে শতভাগ নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান তিনি।

বাইশারীতে বোমা বিষ্ফোরণে পুলিশ সদস্য আহতর ঘটনায় পুলিশ সুপারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন

01 (1)

বাইশারী (নাইক্ষ্যংছড়ি) প্রতিনিধি:

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে পুঁতে রাখা বোমার বিষ্ফোরনে পুলিশ সদস্য আহতর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৩০মিনিটের সময় বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা জব্দকৃত আলমত গুলো পরীক্ষা করে দেখেন।

এছাড়া সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ তথ্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে কাউকে আটক করা যায়নি।

এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক বলেন, বাইশারী বাজার একটি জনগুরুত্ব এলাকা এবং বাইশারী এলাকায় অবস্থিত পাহাড়ী-বাঙ্গালী সকলে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছেন।

অন্যদিকে, আহত পুলিশ সদস্য বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের কনস্টেবল মাকসুদুর রহমান (২৪) বলে জানা গেছে। আহত পুলিশ সদস্যকে বাইশারী বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি ঘটায় রাত ১২টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কা মুক্ত বলে পুলিশ জানায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এএসআই সোলাইমান ভূঁইয়া জানান, বুধবার রাত আনুমানিক ৮.৪০ মিনিটের সময় তিনি সহ আরো ৩ পুলিশ সদস্য সড়কের পাশের দোকানে রাস্তার উপর লাগানো চেয়ারে বসে চা পান করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরক্ষণে এক পুলিশ সদস্যকে নিচে পড়ে থাকতে দেখে তাকে মাটি থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় ক্নিনিকে নিয়ে যান। তার ডান পায়ের তালুর উপরি ভাগ ক্ষত হয়ে মাংস ছিড়ে যায় বলে জানান।

ফলোআপ

সে সময় বাজারের লোকজন আতংকিত অবস্থায় দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করছিল। এরপর পরই স্থানীয় জনতা ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে একখানা বিদ্যুৎতের তার দেখতে পেয়ে অনুসন্ধানে আরো লম্বা ৩০ ফুট তারের সাথে ব্যাটারী সংযোগ স্থাপন করা দুইটি তারের সন্ধান পায়। এতে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে ধারণা করেছেন কোন সন্ত্রাসী গ্রুপ এ ঘটনা ঘটাতে পারে।

উক্ত ঘটনার পরপরই নাইক্ষ্যংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে বোমার আঘাতে ভাংচুর হওয়া চেয়ার, ধংস হওয়া বিস্ফোরকের আলামত জব্দ করেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের জানান, পুতে রাখা বস্তুটি বিস্ফোরক দ্রব্য। অবশ্যই তদন্ত করে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের খুজে বের করা হবে।

এই রিপোর্ট পাঠানো পর্যন্ত ঘটনাস্থল পুলিশ বিজিবির নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে রয়েছে।

কাভার্ড ভ্যান ছিনতাই ও চালককে মারধরের অভিযোগে সেই উপজাতী দুই পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত

POLIC20160126144103

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

বাইশারী-ঈদগড় সড়কের করলিয়ামুরা নামক স্থানে রাবার ভর্তি কাভার্ড ভ্যান ছিনতাই ও চালককে মারধরের অভিযোগে অবশেষে সেই উপজাতী দুই পুলিশ সদস্য নায়েক শান্তি লাল চাকমা ও কনস্টেবল অনুপম চাকমাকে ঈদগড় ক্যাম্প থেকে প্রত্যাহার এবং সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে রামু থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মজিদ জানান, তদন্তপুর্বক উক্ত দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ক্যাম্প থেকে প্রত্যাহার ও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ আবুল হাসেম জানান, দুই পুলিশ সদস্য বিনা অনুমতিতে উক্ত স্থানে গিয়ে এধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে তিনি ছিনতাইয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তারা মদ পান করে চালককে মারধর করছিলো। ইতিমধ্যে তাদের প্রত্যাহার ও চট্রগ্রাম রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আর আর এফ) এ ক্লোজড করা হয়েছে।

ফলোআপ

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি বাইশারী ঈদগড় সড়কে রাবার ভর্তি কাভার্ড ভ্যান নিয়ে যাওয়ার সময় রাত আনুমানিক ৮ টা ৩০ মিনিটের সময় সাদা পোশাকে দুই পুলিশ সদস্য কাভার্ড ভ্যান চালক মো. হানিফ ও হেলপারকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর এবং ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

সে সময় চালক ও হেলপারের আর্তচিৎকারে লোকজন এগিয়ে এসে দুই পুলিশ সদস্য শান্তি লাল চাকমা ও অনুপম চাকমাকে আটক করে এবং ৪ লিটার বাংলা চোলাই মদ ও উদ্ধার করে জনতা।

ঘটনাটি পার্শ্ববর্তী বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আনিছুর রহমানকে মোবাইল ফোনে জানালে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ সদস্যদ্বয়কে তাদের হেফাজতে নিয়ে ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ আবুল হাসেমকে হস্তান্তর করার সময় পুলিশ সদস্য অনুপম চাকমা বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আনিছুর রহমানের উপর চড়াও হলে জনতা গণধোলাই দিয়ে ঈদগড় পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে।

কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে ছিনতাইকালে দুই উপজাতীয় পুলিশ সদস্যকে জনতা কর্তৃক গণধোলাই

ছিনতাই

আব্দুল হামিদ, বাইশারী প্রতিনিধি:

বাইশারী-ঈদগড় সড়কে রাবার ভর্তি কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে ছিনতাইকালে দুই পুলিশ সদস্যকে জনতা কর্তৃক গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ২৮ জানুয়ারী রাত আনুমানিক ৮টা ৩০মিনিটের সময় রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের করলিয়ামুরা রাস্তার মাথা নামক স্থানে।

স্থানীয় লোকজন জানান,বাইশারী থেকে সন্ধা ৭টার দিকে রাবার ভর্তি একটি কাভার্ড ভ্যান সড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পের দুই সদস্য নায়েক শান্তি লাল চাকমা ও অপরজন কনেষ্টবল অনুপম চাকমা যার নং (১০৪), লাঠি হাতে কাভার্ড ভ্যান নাম্বার চট্র মেট্রো-ড-১৬৯১ থামিয়ে ছিনতাই ও ড্রাইভারকে মারধর করার সময় শোরগোল চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধারের সময় তারা জনতাকে উল্টো লাঠি দিয়ে আঘাত করলে জনতা কর্তৃক গণধোলাই দিয়ে আটক করে।

কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার মো:রফিক জানান, সড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে হঠাৎ মটর সাইকেল নিয়ে দুই ব্যক্তি তার গাড়ির গতিরোধ করে একজন গাড়ির ভিতরে উঠে আমাকে নিচে নামিয়ে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার পর মারধর শুরু করে।

ঐসময় পার্শ¦বর্তী এলাকার লোকজন বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আনিছুর রহমানকে খবর দিলে দ্রুত সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে এবং তাদের হাতে থাকা লাঠি ও কোমরে থাকা ৪ লিটার বাংলা চোলাই মদ জব্দ করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা উভয়ে নিজেকে পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেয়।

ঐমুহুর্তে ঘটনাটি ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আবুল হাসেমকে মোবাইল ফোনে জানালে তাদেরকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

এবিষয়ে ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ আবুল হাসেম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আইনে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন,উক্ত দুই পুলিশ সদস্য অনুমতিবিহীন উক্ত স্থানে গিয়ে এঘটনা ঘটিয়েছে।

এবিষয়ে বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের আনিছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তাদের তিনি ঘটনাস্থল থেকে লাঠি ও মদের বোতলসহ উদ্ধার করে।

এবিষয়ে রামু থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মজিদের নিকট মুটোফোনে জানতে চাইলে তিনি ঘটনাটি শুনেছেন বলে নিশ্চিত করেন এবং সরেজমিনে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।

বিষয়টি মুঠোফোনে চট্রগ্রাম রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স কমান্ন্টডেন্ট এর নিকট জানতে চাইলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

মাটিরাঙ্গার শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ালো পুলিশ

22.01

সিনিয়র রিপোর্টার:

মাটিরাঙ্গা উপজেলার আইন-শঙ্খলার রক্ষার পাশাপাশি এবার মানবিক দায়িত্ব থেকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ। সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের পর মাটিরাঙ্গা পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে বসবাসরত ১৬৫ জন শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণের উদ্যোগ নিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো।

শুক্রবার সকালে মাটিরাঙ্গা থানা চত্বরে কম্বল বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অসহায় ও শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী (বিপিএম)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী (বিপিএম) উপজেলার পুলিশ সদস্যদেরকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত থাকার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যে কোন মূল্যে পুলিশকে তৃণমূল মানুষের আস্থা অর্জনে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, একজন মানুষ হয়ে একজন অসহায় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শীতকাল অনেকের জন্য আনন্দের হলেও পাহাড়ের অসহায় আর গরীব শীতার্ত মানুষেরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। আসুন আমরা সবাই যার যার সার্মথ্য অনুযায়ী শীতার্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই।

শীতবস্ত্র বিতরণকালে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. এনায়েত হোসেন মান্নান, সহকারী পুলিশ সুপার (রামগড় সার্কেল) মো. হুমায়ুন কবীর, মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাদাত হোসেন টিটো, ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকো খাগড়াছড়ির এরিয়া ম্যানেজার কাজী মো. রিপন, খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. নুরুল আজম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজারে সড়ক দূর্ঘটনায় ২ পুলিশ সদস্য আহত

সড়ক দুর্ঘটনা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের ইনানী সড়কে মোটরসাইকেল ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুত্বর আহত হয়েছে মোটরসাইকেল আরোহী ২ পুলিশ সদস্য। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে ইনানী সড়কের সোনারপাড়া রিসোর্টের সম্মুখে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, ইয়াজ উদ্দিন (২২) ও মোহাম্মদ ছাবের (২৫)। ইয়াজ উদ্দিন স্থানীয় নুর নবীর ছেলে। আর মোহাম্মদ ছাবের চট্টগ্রামের মনির আহম্মদের ছেলে। আহত ২জনই ইনানী পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্বরত। তারা আইডি কার্ডে’র (পরিচয় পত্র) জন্য কক্সবাজার পুলিশ লাইনে আসার পথে এ দূর্ঘটনায় পতিত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, শহরমুখি মোটরসাইকেলটির সাথে টেকনাফের শাপলাপুরমুীখ যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কা লাগে। এতে রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে মোটরসাইকেল। পরে আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আর যাত্রীবাহী বাসটি (কক্স-ট-১১-০০৩৭) জব্দ করা হয়।

সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক মো. নোবেল জানান, আহতদের অবস্থা আশঙ্কা জনক। বিশেষ করে ইয়াজ উদ্দিনের মাথা, হাত ও পায়ে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেকে প্রেরণ করা হয়েছে।

আহতদের হাসপাতালে দেখতে আসা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফেরদৌস আলী জানান, ২ পুলিশ সদস্যের সড়ক দূর্ঘটনার খবর শুনে হাসপাতালে আসেন। তাদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেকে পাটানো হচ্ছে বলে জানার তিনি।

কক্সবাজারে পুলিশ-অপহরণকারী বন্দুকযুদ্ধ : ওসিসহ আহত ৪ : আটক ৪ : অস্ত্র উদ্ধার

27461
স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার:
কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলীতে পুলিশ-অপহরণকারীদের সাথে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় আহতাবস্থায় এক অপহরণকারী ও ২মহিলাসহ ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র ও গুলি। ঘটনায় আহত হয়েছে মডেল থানার ওসি মাহফুজুর রহমানসহ আরো ৩ জন। ওই সময় পাহাড়ে পুঁতে রাখা অবস্থায় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, পাহাড়তলীর সত্তর ঘোনার একটি পাহাড়ে অপহরণকারীরা অবস্থান করছে মর্মে খবর পেয়ে আজ রোববার ভোর ৪টার দিকে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযান টের পেয়ে অপহরণকারীরা পুলিশকে চারিদিক থেকে ঘিরে পেলে। ওই সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে অপহরণকারীরা পিছু হটলে পুলিশ আহতাবস্থায় অপহরণকারী মোবিন ও দুই মহিলাসহ ৪ জনকে আটক করে।

ওই সময় পাহাড় থেকে আজু এক ব্যক্তির লাশও উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি অপহরণকারীদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানান “আজু নামে যে ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে-সেও একজন দুষ্কৃতিকারী বলে স্থানীয়রা তথ্য দিয়েছে। তবে এখনো নিশ্চিত নন তারা।

খাগড়াছড়ি পুলিশী বাধার মুখে বিএনপি’র বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

10318640_612931605467797_313573626_n

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট :

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং গুম-খুন ও অপহরণ বন্ধের দাবীতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বিক্ষোভ পালন করে। সোমবার সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি’র কার্যালয় থেকে বের হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি পুলিশের বাঁধার মুখে পড়ে। পুলিশি ব্যারিকেডে মধ্য দিয়ে দলীয় কার্যালয় সম্মুখে জেলা বিএনপি’র জেষ্ঠ্য সহ-সভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমার সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশী আচরনের বিরোধীতা করে বক্তারা বলেন, সরকার অবৈধ ভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম, হত্যা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। গণতান্ত্রিক মিছিলে পুলিশ দিয়ে রাজপথে নামতে দিচ্ছে না বিএনপি ও জনগণকে। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, জেলা বিএনপি সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়ার নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা শান্তিপ্রিয় ভাবে কর্মসূচী পালনে করতে প্রস্তুত থাকলেও পুলিশ তা করতে দেয়নি। অবিলম্বে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে খাগড়াছড়ি হতে সরকার পতনে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক মাহবুবুল আলম সবুজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শাহ আলম ও জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল প্রমূখ বক্তব্য রাখেন ।