পাহাড়ে শিক্ষার আলো ছড়াতে কাজ করছে সেনাবাহিনী- ব্রি. জে. মো. কামরুজ্জামান

11.02.2016_GokulPara ARMy NEWS Pic (1)

সিনিয়র রিপোর্টার:

গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুজ্জামান এনডিসি, পিএসসি-জি বলেছেন, শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন এ মূলমন্ত্রের ভিত্তিতে অপারেশন উত্তোরণের আওতায় পাহাড়ে শিক্ষার আলো ছড়াতে কাজ করছে সেনাবাহিনী। পাহাড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ী জনপদে স্কুল বিহীন গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠাসহ শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রেখে চলেছে সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে মাটিরাঙ্গার দুর্গম পাহাড়ী জনপদ গকুলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ের শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণ কাজ পরিদর্শন ও অনুদান বিতরণকালে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. জিল্লুর রহমান পিএসসি-জি, মেজর মোহাম্মদ সাফায়েত মাহমুদ, মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান ও মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

সেনাবাহিনী পাহাড়ের মানুষের কল্যাণ্যে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে ব্রিগ্রে. জেনারেল মো. কামরুজ্জামান এনডিসি, পিএসসি-জি বলেন, দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে সেনাবাহিনী মানুষের পাশে আগেও ছিল আগামী দিনেও থাকবে। আপনারা যে কোন প্রয়োজনে হাত বাড়ালেই আমি আমার হাত প্রসারিত করবো। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈরী পরিবেশ থেকে উত্তোরণ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে শিক্ষার্থীদের স্বশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলেই এখানে আর জাতিগত বিভেদ-বৈষম্য থাকবেনা।

এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গকুলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বীরলাল ত্রিপুরা ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিবেন্দ্র ত্রিপুরার হাতে ১০ বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ ৩০ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করেন।

এর আগে তিনি বিদ্যালয়ে পৌছলে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উত্তরীয় পড়িয়ে স্বাগত জানানো হয়। এর পর স্থানীয়দের পরিবেশনায় সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন অতিথিবৃন্দ।

এরপর তিনি সিসকবাড়ী সেনা ক্যাম্পে দিনব্যাপী ওয়ান স্টপ সার্ভিস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ওয়ান স্টপ সাভিস কার্যক্রমের আওতায় সেখানে হত-দরিদ্র মানুষের মাঝে চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান, গবাদি-পশুর চিকিৎসা ও কৃষি ও মৎস্য চাষ বিষয়ক সেবা প্রদান করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সিসকবাড়ী ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ সাফায়েত মাহমুদ।

এ সময় মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. জিল্লুর রহমান পিএসসি-জি, মেজর মোহাম্মদ সাফায়েত মাহমুদ, মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান ও মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিরনজয় ত্রিপুরা প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

পাহাড়ে সাদা ভূট্টা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা

Bandarban pic-6.2

স্টাফ রিপোর্টার:

বর্তমানে বাংলাদেশে খাদ্যে অপ্রতুলতা নেই। খাদ্যের দিক থেকে স্বয়ং সম্পূর্ণ। তবে দেশে জনসংখ্যার হার দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ত্রিশ বছরেি এই সংখ্যা দ্বিগুন হতে পারে। এদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছেনা চাষের জায়গা। তাই ক্রমবর্ধমান মানুষের খাবার হিসেবে চাহিদা পূরণে সাদা ভূট্টা চাষ বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। আর সাদা ভূট্টা চাষ বিপ্লব ঘটাতে পারে পার্বত্য অঞ্চলে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার এআরএফের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে বান্দরবান শহরের বালাঘাটা তুলা গবেষণা কেন্দ্রের হল রুমে মানুষের খাবার হিসেবে সাদা ভূট্টা প্রবর্তন সম্পর্কিত মাঠ দিবস ও ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) অর্থায়নে ও এগ্রেরিয়ান রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (এআরএফ) বাস্তবায়নে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোমাং রাজা চ প্রু।

বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. কাজী মো. কমরুদ্দীন, এআরএফের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ড. মো. জাফর উল্লাহ, ভাইস চেয়ারম্যান ড. মো. আলী আকবর, কৃষি গবেষক ড. আশরাফ প্রমূখ।

অনুষ্ঠানের আগে ড. আব্দুল হামিদ, ড. কাজী মো. কমরুদ্দীন, প্রফেসার ড. মো. জাফর উল্লাহ, ড. মো. আলীসহ অন্যান্যরা সদর উপজেলার চড়ুই পাড়া, জয়মোন পাড়া, থোয়াইংগ্য পাড়া, বাকীছড়াসহ বেশ কয়েকটি সাদা ভূট্টা চাষের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে কেজিএফের নির্বাহী পরিচালক ড. কাজী মো. কমরুদ্দীন বলেন, মানুষের খাবার হিসেবে সাদা ভূট্টা বাংলাদেশে বিশেষ অবদান রাখতে পারে। পরীক্ষামূলকভাবে বান্দরবানের সদর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় চাষ করা হয়েছে। এতে ফলনও ভালো হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলায় এর চাষ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা গেলে মানুষের খাদ্যের পাশাপাশি পোলট্রির ফিটের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

এআরএফের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল হামিদ বলেন, পরীক্ষামূলক গবেষণায় দেখা গেছে বিদেশি জাতের ভূট্টা পার্বত্য অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া বেশ উপযোগী। এ জাতের ভূট্টা চাষে সারের তেমন বেশি প্রয়োজন পড়ে না। এই অঞ্চলে ভূট্টা চাষ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা গেলে সমতলের মানুষের চাহিদাও পূরণে সক্ষম হবে।

তারা আরো বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে হলুদ ভূট্টার চাষ হয়। হলুদ ভূট্টার চাহিদা মানুষের কাছে তেমন একটা নেই। উৎপাদনও তেমন একটা ভালো নয়। হলুদের তুলনায় সাদা ভূট্টা দেশের ও দেশের বাইরের মানুষের কাছে চাহিদা রয়েছে।

রাজা উ চ প্রু বলেন, এ এলাকার মানুষ অনেক পরিশ্রমি। চাষীদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে, সার, বীজ দিয়ে সহযোগিতা করলে তারাও যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হবে, তেমনি দেশের মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণে অবদান রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠানে আগত সদর উপজেলার চড়ুই পাড়ার সাদা ভূট্টা চাষী এনু মারমা জানান, তিনি এআরএফের সহযোগিতায় ৫৮শতক জায়গাতে সাদা ভূট্টা চাষ করেছেন। এই প্রথম তিনি বিদেশি কেএস ও পিএসসি জাতের এই ভূট্টা চাষ করেছেন। এতে তার ফলন বেশ ভালো হয়েছে এবং আর্থিকভাবে লাভবানও হবেন বলে জানান।

এদিকে স্থানীয়ভাবে ভোক্তাদের কাছে চাহিদা কম হওয়ায় চাষীদের মধ্য বাজার ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কা কাজ করছে। উৎপাদন ভালো হলে কি হবে বাজার ব্যবস্থা আগে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন চাষীরা। বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত হলে চাষীরা আরো আগ্রহী হয়ে চাষের পরিমাণ বাড়াবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে আগত গবেষক ও কর্মকতাবৃন্দদের কাছে। বাজার ব্যবস্থার নিশ্চিত করার বিষয়ে পরিকল্পনা আছে এমনটাই জানিয়েছেন কেজিএফ ও এআরএফের উর্ধতন কর্মকতা ও গবেষকরা।

পাহাড়ে শিক্ষার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু মানসম্মত শিক্ষা বাড়েনি- কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি

pic k 01 (1)

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেছেন, শিক্ষকরাই এদেশের মানুষ গড়ার প্রধান কারিগর। শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকাই পারে এ দেশকে মানসম্মত শিক্ষা ও সু-শিক্ষিত জাতি উপহার দিতে।

‘মানসম্মত শিক্ষা জাতির প্রতিজ্ঞা’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৬ উপলক্ষে র‌্যালি শেষে সকালে খাগড়াছড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পাহাড়ে শিক্ষার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু মানসম্মত শিক্ষা বাড়েনি উল্লেখ করে এ সময় কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা আরো বলেন, শিক্ষকরাই জাতির মেরুদন্ড। বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে এ দেশকে নিয়ে মধ্যম আয়ের যে স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছে তার অংশিদার শিক্ষকরাও। শিক্ষকদের বেতন ও বিভিন্ন সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার কাজ করছেন বলেও জানান তিনি ।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের আহবায়ক মংক্যচিং চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী বিপিএম সেবা, খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আ ন ম নাজিম উদ্দিন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মামুন কবির ও খাগড়াছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা প্রমূখ।

আলোচনা সভা চলাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরকারের উদ্যোগ ও অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরা হয় সভায়।

অন্যদিকে, আলোচনা সভার পূর্বে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৬ উপলক্ষে র‌্যালিটি পৌর টাউন হল প্রাঙ্গন থেকে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে খাগড়াছড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত না হলে পাহাড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে- সন্তু লারমা

Rangamati Larma pic001

স্টাফ রিপোর্টার:

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন না হলে পাহাড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে হুমকি দিয়েছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা।

তিনি বলেন, সরকার পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না করে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো পূনর্গঠনের নামে দলীয়করণ করেছে। সরকারের একতরফাভাবে পরিষদ পূনর্গঠন চুক্তি বিরোধী কাজেরই পরিচয়। তাই পার্বত্যাঞ্চলে জুম্মজাতিগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ হয়ে চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের গণ-আন্দোলনে নেমেছে। আগামীতে পার্বত্যাঞ্চলের যে কোন পরিস্থিতির জন্য সরকার দায়ী থাকবেন বলে হুঁশিয়ারী দেন তিনি।

শনিবার রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক মিলনায়তনে ২দিন ব্যাপী পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সন্তু লারমা এসব কথা বলেন।

এ আগে সকাল ১০টায় চাকমা সার্কেল চীফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ হেডম্যান সম্মেলন উদ্বোধন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সিএইচটি হেডম্যান নেটওর্য়াকের সভাপতি খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরি চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি চাকমা সার্কেল চীফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ বৃষ কেতৃ চাকমা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এলএলআরডি উপ-পরিচালক রওশন জাহান মনি, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা আরও বলেন, ১৯৯৭ সালে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর হয়ে ছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৮বছর অতিবাহীত হলেও সরকার পার্বত্য চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো এখনো বাস্তবায়ন করেনি।

তিনি বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে পাহাড়ের ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা অস্থিত্বহীনতায় পরেছে। অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ পাহাড়ের মানুষ। অসযোগ আন্দোলনের পরও পার্বত্য চুক্তি পূর্ণঙ্গ বাস্তবায়নে এখনো পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোন কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছেনা। ভবিষ্যতেও সরকার চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করবে কিনা তা বুঝা মুশকিল। তাই আজ বাধ্য হয়ে পাহাড়ের জুম্মজাতিগোষ্ঠী অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ঐক্য গড়ে তুলেছে। আর এ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে।

এ সময় সন্মেলনে রাঙামাটির চাকমা, খাগড়াছড়ির মং, বান্দরবানের বোমাং সার্কেলের ৩০০ হেডম্যান উপস্থিত ছিলেন।

পাহাড়ে সকল কষ্ট নিরসনে কাজ করছে সেনাবাহিনী- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুজ্জামান

20160127_102053

মানিকছড়ি প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাহাড়ের জনগনের সকল কষ্ট নিরসনে নিরলশভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও করবে বলে মন্তব্য করেছেন, গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুজ্জামান, এনডিসি, পিএসসি-জি

বুধবার সকাল ১০টায় মানিকছড়ি রানী নীহা দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সিন্দুকছড়ি জোনের আয়োজনে অসহায় দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ কালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিতরণ অনুষ্ঠানে ব্যাপক আয়োজনের মধ্যদিয়ে সকাল থেকে জোনের আওতাধীন গুইমারা, রামগড় ও মানিকছড়ির প্রতিটি গ্রাম থেকে সহস্রাধিক অসহায় দুস্থদের বাছাই করে সেনাবাহিনীর নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে নিয়ে আসা হয় মানিকছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে।

কম্বল বিতরণ পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুজ্জামান, এনডিসি, পিএসসি-জি আরো বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। শীতে কষ্ট পাওয়া দরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ সেবামূলক কাজের একটি অংশ। কম্বল বিতরণকালে তিনি সকলের সুস্থতা কামনা করেন ও নিজের জন্য দোয়া চান।

এরপর অত্যন্ত সৃশৃংখলভাবে অপেক্ষমান সহস্রাধিক অসহায় দুস্থদের মাঝে একটি কম্বল ও একটি শীতের টুপি বিতরণ করেন।

এ সময় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, সিন্দুকছড়ি জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল গোলাম ফজরে রাব্বি, মানিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ম্রাগ্য মারমা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার যুথিকা সরকার, মানিকছড়ি থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম, মানিকছড়ি সাব জোন কমান্ডার মেজর ইশতিয়াক, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীসহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ।

নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ে প্রচন্ড শীতে জনজীবন বিপন্ন

IMG_1444 copy

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পাহাড়ী বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীদের প্রচন্ড শীতে জনজীবন বিপন্ন হয়ে উঠেছে। সরকারি-বেসরকারি তেমন কোন সাহায্য না পাওয়ায় চরম কষ্টে দিন কাটছে এসব মানুষের।

সরজমিনে দেখা যায়, শীতের তীব্রতা, ঘনকুয়াশা এবং ঠান্ডা বাতাসে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বৃদ্ধা ও শিশুদের মধ্যে অনেকে এখন অনেকে হাসপাতালে। এছাড়া পাহাড়ে বসবাসরত মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে আগুন জ্বালিয়ে রাত ভর শীতের সাথে যুদ্ধ করে চলছে।

বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুল হক বলেন, তার ইউনিয়নের ২০ হাজার মানুষের জন্য শীতের কম্বল পেয়েছেন মাত্র ৮৮ টি।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামাল উদ্দীন বলেন, পুরো উপজেলার জন্য সরকারি ভাবে প্রথম দফায় ৫শত কম্বল এবং দ্বিতীয় দফায় ৯শত কম্বল পেয়েছেন তিনি। এই শীতে অসহায় মানুষের সাহায্যে সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে পাহাড়ী বাঙ্গালী মিলে লক্ষাধিক জনসাধারণ বসবাস করছেন। এ পর্যন্ত উপজেলা কোন এনজিও সংস্থা ও দাতা সংস্থার শীতবস্ত্র বিতরণ করেননি বলে জানা গেছে। তবে গত রবিবার নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ৩১ বিজিবির পক্ষ থেকে কয়েকশত মানুষের মাঝে শীতের কম্বল বিতরণ করা হয়েছে বলে বিজিবি সুত্রে জানা যায়।

শীতের তীব্রতায় গত ১সপ্তাহ যাবৎ শুধু পাহাড়ের মানুষ নয় পশু পাখিদেরও নাজুক অবস্থা। হাঁস, মুরগী, গরু, ছাগল এবং বনের পাখিও মারা যাচ্ছে।

পাহাড়ে শান্তিচুক্তি ও সমতলে ভূমি কমিশনের দাবিতে বান্দরবানে গণ মানববন্ধন

Bandarban pic-3, 18.1

স্টাফ রিপোর্টার:

পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও সমতলে আদিবাসীদের জন্য আলাদা ভূমি কমিশনের দাবিতে বান্দরবানে গণ মানববন্ধন করেছে পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র ও নৃ-গোষ্ঠীরা। সোমবার সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাখা এবং সিএইচটি (পার্বত্য চট্টগ্রাম) হেডম্যান নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এই কর্মসূচি পালন করে।

মানববন্ধনে সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উ নি হ্লা বলেন, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুনধুম থেকে শুরু হয়ে বাইশারি এবং গয়ালমারা হয়ে লামা উপজেলার লাইনঝিরি থেকে গজালিয়া হয়ে বান্দরবান সদর উপজেলার চিম্বুক ১৬ মাইল পয়েণ্ট থেকে বান্দরবান জেলা সদর থেকে ডুলু পাড়া পর্যন্ত রাস্তার একপাশে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে পাহাড়ী নারী, পুরষ এবং শিশুরা।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রোয়াংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেএসএস জেলা সাধারণ সম্পাদক ক্যবামং মারমা, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়রম্যান ও জেলা হিলউম্যান্স ফেডারেশনের সভানেত্রী ওয়াইচিং প্রু, অনন্যা নারী কল্যাণ সংস্থার পরিচালক ডনাই প্রু নেলী, পাহাড়ী বম সম্প্রদায়ের নেতা জিরকুম সাহা, এনজিও সংস্থার কর্মী অংচ মং মারমাসহ সংগঠনের নেতৃবিন্দরা।

মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে জেএসএস জেলা সাধারণ সম্পাদক ক্যবামং মারমা বলেন, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের নামে কালক্ষেপন করছে সরকার। পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের বিকল্প কিছু নেই। পাহাড়ীদের অধিকার রক্ষায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন ও সমতলে আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশনের দাবি জানান তিনি।

খালেদা জিয়া, জঙ্গীগোষ্ঠী ও বিদেশি উষ্কানীদাতাদের কারণে পাহাড়ে সহিংসতা সৃষ্টি হচ্ছে- হাসানুল হক ইনু

খাগড়াছড়িতে রেডিও স্টেশন ও টেলিভিশন রিলে স্টেশন নির্মাণের দাবী জানালেন বীর বাহাদুর

Rangamati enu pic3

স্টাফ রিপোর্টার:

অনেকে বলেন পার্বত্যাঞ্চলে চুক্তির কারণে পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু কথাটি সত্যি নয়। স্বজাতির মধ্যেও বিরোধ থাকতে পারে। পার্বত্যাঞ্চলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙ্গালীদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিরোধ লাগাতে জঙ্গী গোষ্ঠীর মদদ রয়েছে। চুক্তি বিরুদ্ধে আছে বেগম খালেদা জিয়া, সাম্প্রদায়িক জঙ্গীবাদী গোষ্ঠী, বিদেশি উষ্কানীদাতা। তাদের কারণে পাহাড়ে সহিংসতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তিকে আরও কার্যকর করতে হলে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী,ক্ষুদ্র জাতিসত্বাদের অধিকারের জন্য একটি আইন এবং তার অধীনে একটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জাতীয় কমিশন গঠন করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন। এই আইন ও কমিশন গঠিত হলে এ অঞ্চলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। পাশাপাশি ওই কমিশন পাহাড়ী জনগনের অংশ গ্রহন নিশ্চিত এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্যকে রক্ষা ও এ আইন দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনা সরকার পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে শান্তি চুক্তি করেছিলেন। আর এ চুক্তির মধ্যদিয়ে পাহাড়ের মানুষের মাথার উপর শান্তির ছাতা তুলে ধরেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আপনি কি সেই শান্তি ছাতা খোলা রাখবেন, নাকি সেই শান্তি ছাতা গুটিয়ে ফেলবেন? পার্বত্যাঞ্চলের সাধারণ মানুষদের কথা ভেবে পাহাড়ে শান্তির ছাতা খোলা রাখতে হবে। আর সংলাপের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির সকল বিরোধ নিষ্পত্তি করতে জনসংহতি সমিতির নেতার প্রতি আহবান জানান তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি, পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী এমপি, খাগড়াছড়ি সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, রাঙামাটি মহিলা সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, রাঙামাটি ব্রিগেডের রিজিয়ন কমান্ডার মো. সানাউল হক পিএসসি, রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধূরী প্রমূখ।

তবে এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আর্ন্তজাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান সন্তু লারমা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া রাঙামাটি আসনের নির্বাচিত সাংসদ উষাতন তালুকদারের নাম অনুষ্ঠান মঞ্চে ঘোষণা করা হলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু আরও বলেন, শেখ হাসিনা সরকার শান্তি চুক্তির মধ্যদিয়ে শান্তির ছাতা পার্বত্য চট্টগ্রামের উপর তৈরী করে দিয়েছেন। আর সেই শান্তির ছাতার ছায়াতলে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। যে কোন উন্নয়নের জন্য শান্তি দরকার। শান্তি না হলে উন্নয়ন সম্ভব না।

তথ্য মন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, চেঙ্গীস খানের নাতি বলেছেন ঘোড়ায় চড়ে দেশ দখল করা যায়। কিন্তু শাসন করা যায় না। এলাকা দখল করা যায় কিন্তু এলাকা শাসন করা যায় না। ঠিক তেমনি গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করা যায়। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা যায় না। গণতন্ত্র কখনো একের উপর আর একের হস্তক্ষেপ নয়। গণতন্ত্র হচ্ছে নিজেকে নিজে শাসন করার স্বপ্ন। আর সেই গণতন্ত্রের অধিকার বাঙ্গালী ও পাহাড়ীদের রয়েছে। একটি রাষ্ট্রে বিভিন্ন রকম ভাষাভাষী মানুষ থাকে। যার কারণে রাষ্ট্রকে সে মানুষদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে হয়। চুক্তির নাম হচ্ছে সংবিধান। সেই সংবিধান হচ্ছে আইন। যে আইনের মাধ্যমে চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়। মানুষ যে ভাষার, যে জাতিসত্তার হোক না কেন, তাদের সংবিধানের আইন মানতে হবে। বাংলাদেশে একটি সংবিধান আছে যেখানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির অধিকার ২৩ নং এর (ক) ধারায় সংরক্ষিত আছে।

তিনি আরো বলেন, এই চুক্তিটা কিন্তু রাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি। মাঝখানে যখন শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় ছিলেন না, তখন খালেদা জিয়া ক্ষমতায় ছিলেন। তখন তিনি বলেছেন পার্বত্য চুক্তি বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দিবে। এই চুক্তি কিন্তু বাংলাদেশকে ধ্বংস করেনি। খালেদা জিয়ার পরে মঈনুদ্দিন ও ফখরুদ্দিন ক্ষমতায় ছিলেন। তারা কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিকতা দেখায় নাই। এই চুক্তিতে কেউ হাত দিতে পারবেনা। এই চুক্তি থাকবে। এ চুক্তির ছাতা তলে পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়নের ধারা এগিয়ে যাবে।

বিশেষ অতিথি বক্তব্যে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেন, অভিমান অভিযোগ করে আমরা অনেক সময় নষ্ট করেছি, আর নয় আসুন সবাই মিলে কাজ করে দেশকে এগিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন গ্রামে এখনো অনেক মানুষ রেডিও টেলিভিশনের মাধ্যমে খবর শুনে। তাই খাগড়াছড়িতে রেডিও ষ্টেশন ও টেলিভিশনের সম্প্রসারণ কেন্দ্র স্থাপনের দাবী জানান ।

বিশেষ অতিথি বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চোধুরী এমপি বলেন, শান্তি চুক্তি একেবারে বিফলে যায়নি, কেউ যদি বলে থাকে কোন কাজ হয়নি, তাহলে আমি দ্বিমত পোষণ করবো। এ সরকারের সময়ে শান্তি চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 এর আগে তথ্যমন্ত্রী ৪০ পাউন্ড ওজনের কেক কেটে, বেলুন ও সাদা পায়রা উড়য়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ৪০বছর পূর্তির উদ্বোধন করেন। এছাড়া সকালের দিকে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের নেতৃত্বে রাঙামাটি শহরের নিউমার্কেট এলাকা একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এছাড়াও এ উপলক্ষে মাউন্ডেন্ট বাইক প্রতিযোগিতা, আতজবাজি ও ফানুস বাতি উড্ডয়ন এবং মনোজ্ঞ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।