রাষ্ট্র, নাগরিক ও ‘সেটলার’

কাকন রেজা :

অনেকের অনেক লেখাতেই দেখি ‘সেটেলার’ শব্দটি। বিশেষ করে দেশের পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী বাংলাভাষীদের বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়। অনেকে ‘সেটেলার’ এর পরিভাষা হিসাবে বোঝান ‘শরণার্থী’ শব্দটিকে, অর্থাৎ অন্য দেশ বা স্থান হতে আসা ‘আশ্রয়প্রার্থী’। ‘শরণার্থী’ বা ‘আশ্রয়প্রার্থী’ দুটিরই ইংরেজি `Refugee’, যার আরেকটি বাংলা প্রতিশব্দ ‘উদ্বাস্তু’। কিন্তু মজার বিষয় অভিধান খুঁজলে কিন্তু আলোচিত ‘সেটেলার’ শব্দটির দেখা মেলে না। যে শব্দটির দেখা মেলে সেটি হলো ‘সেটলার’। শব্দটি ভাঙলে দেখায় অনেকটা “সেট্ল(র)” এরূপ আর কী। যার অর্থ হলো, ‘ঔপনিবেশিক’। ব্যাখ্যা হলো, ‘নতুন উন্নয়নশীল দেশে বাস করতে আসা বিদেশী বসতকার’। ইংরেজিতে ‘সেটলার’ বিষয়টি বোঝানোর জন্য `The settlers had come to America to look for land’ এই বাক্যটিই সাধারণত ব্যবহার করা হয়। ক্যামব্রিজ অভিধান ‘সেটলার’ শব্দটিকে সুনির্দিষ্টি করতে বলেছে, ‘a person who arrivesespecially from another country’। আমাদের দেশে  ‘সেটলার’ কে ‘সেটেলার’ বানাতে গিয়ে শব্দটির মতো পুরো বিষয়টিতেই বিভ্রান্তি ঘটানো হয়েছে।

বিষদ বলার আগে রাষ্ট্র বিষয়ে বলি। সোজা ভাষায়, ‘একটি সুনির্দিষ্ট ভূখন্ডকে ঘিরে, রাষ্ট্রিক পরিচয়ে পরিচিত মানবগোষ্ঠীর স্বাধীন সত্ত্বাই হলো রাষ্ট্র’। যা আমরা ১৯৭১-এ একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করেছিলাম। এই মানবগোষ্ঠীর বিপরীতে ‘সেটলার’ শব্দটি কী যায়? যদি যায় তাহলে রাষ্ট্র মানে কী? এ পর্যায়ে নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব সাথে নাগরিক অধিকারের কথায় আসি এবং যথারীতি সহজ ভাষায়। যে অধিকার প্রশ্নে মাঝেমধ্যেই অনেকের ঘুম হারাম হয়ে যায় তারমধ্যে প্রধানতম হলো খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান। একজন নাগরিকের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের সংস্থান করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। আমাদের স্বাধীন সীমানার যে কোন স্থানে যে কোন নাগরিককে পুনর্বাসন করার ক্ষমতা রাষ্ট্রের। একজন ভূমিহীন নাগরিকের বাসস্থান এবং খাদ্যের যোগানদানের অধিকার রাষ্ট্র সংরক্ষণ করে, যেহেতু এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এর বিরোধিতা করা নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের কমিটমেন্টের বিরোধিতা করা। মানবাধিকারের প্রশ্নে যা সবচেয়ে বড় মানবাধিকার বিরোধী কাজ।

সবাই মিলে যদি আমরা দেশটা স্বাধীন করে থাকি, তাহলে পুরো দেশটাই আমাদের। এখানে সম্প্রদায়, গোত্র বা ধর্মের প্রশ্নে আলাদা করে কিছু থাকার কথা নয়। থাকার কথা নয় সংখ্যাধিক্যেও। সুতরাং কোন যুক্তিতেই দেশের কোন অঞ্চল বা জায়গা সম্প্রদায়, ধর্ম বা অন্যকোন ভিত্তিতেই আলাদা করে বন্টনের প্রশ্ন উঠতে পারে না। দেশের একটি অঞ্চলকে কারো জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়ার প্রচেষ্টা মানেই দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে দ্বৈততার সৃষ্টি করা, বিরোধ সৃষ্টি করা। এমন হলে আঞ্চলিকতার ভিত্তিতে, সম্প্রদায়গত কারণে সারাদেশ বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে পড়বে। উদাহরণ হিসাবে সিলেটের কথাই বলি। সিলেটের ভাষাকে অনেকেই বাংলার চেয়ে আলাদা বলেন। সিলেটের আলাদা বর্ণমালার কথাও ওঠে। তাহলে কী সিলেটকে শুধু সিলেটের মানুষের জন্য আলাদা করা দেয়ার কথা তুলতে হবে? বলতে হবে এখানে অন্যরা ‘সেটলার’, ‘ঔপনিবেশিক’? এমন কথা তোলা কী অন্যায়, রাষ্ট্র পরিপন্থী সর্বোপরি ৭১’এর অর্জন বিরোধী নয়?

অনেকেই পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে মেতেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী বাংলাভাষীদের ‘সেটেলার’ তথা ‘সেটলার’ বলে আখ্যায়িত করছেন তারা। খুব ‘সহজিয়া’ প্রশ্ন করা যায়, তবে কী বাংলাভাষীরা ‘ঔপনিবেশিক’? তারা কী?

‘a person who arrivesespecially from another country’? তাদের ক্ষেত্রে কী `The Bangladeshi settlers had come to Hill to look for land’ এই উদাহরণ ব্যবহার করা হবে? এর কী জবাব আমি জানি না। তবে একটা বিষয় জানি, আবেগ দিয়ে কোন কিছু ব্যাখ্যার আগে বাস্তবতাটা চিন্তা করে নেয়া দরকার। চিন্তা করা দরকার যে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা এই স্বাধীন ভূখন্ড অর্জন করেছিলাম, তা সম্প্রদায়, গোত্র, ভাষা, ধর্ম বা অন্যকোনে পরিচয়ে বিভক্ত করা জন্য নয়। এই দেশ অর্জিত হয়েছিল পুরো ভূখন্ডটিই নিজের ‘মাটি’ ভাবার জন্য, ‘মা’ ভাবার জন্য; খালা বা মাসি ভাবার জন্য নয়।

অন্যের জমি যদি কেড়ে নেয়া হয় তাহলে অন্যায়, কিন্তু একজন ভূমিহীনকে রাষ্ট্র যদি তার জায়গা বসবাসের জন্য দেয় তা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটাও কী উচিত? সেক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায়গত পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ‍তোলা তো আরো বেশী অনুচিতের মধ্যে পড়ে। অসাম্প্রদায়িকতার কথা যারা বলেন, তারা বলুন তো এরচেয়ে বড় সাম্প্রদায়িকতা আর কী আছে? এটা রাষ্ট্রের কোন দয়ার দান নয়, একজন নাগরিকের প্রতি দেয়া রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি। একজন নাগরিক যিনি ভূমিহীন, তিনি সেই রাষ্ট্রেরই অংশ। জানি এর বিপরীতে অনেক কথা আসবে। আসবে রাষ্ট্র ও ‘সেটলার’ কর্তৃক নিপীড়নের কথা। আসবে ‘বাহিনী’ বিষয়ক কথকতা। এর বিপরীতেও যুক্তি আছে যা খন্ডন করা খুব আয়াসসাধ্য নয়। তবে যুক্তি যখন মার খায় তখন কৌশলীরা আবেগের আশ্রয় নেন, মানুষের সহানুভূতির জায়গায় খোঁচা দেন। যুক্তি ও বাস্তবতার বিপরীতে আবেগ একটি অপকৌশল, এটা যারা নেন তারাও বোঝেন।

সম্প্রতি রোমেল বা রমেল চাকমা নামে একজন পাহাড়ের অধিবাসী যুবকের প্রশ্নবোধক মৃত্যু নিয়ে কথা হচ্ছে। বিনা বিচারে একজন মানুষের মৃত্যু বিনা প্রশ্নে মেনে নেয় যারা তাদের মধ্যে ন্যায়বোধ সঠিক ভাবে বিকশিত হয়নি। কিন্তু এখানেও কথা আছে, এক যাত্রায় দুই ফল বিষয়ে। আমি যখন একটি বিচারবিহীন মৃত্যু নিয়ে সোচ্চার হবো, আরেকটির বিষয়ে চোখ বুঝে থাকবো তখন বুঝতে হবে আমার এই চাওয়ার মধ্যে ‘ইনটেনশন’ আছে। যে কোন বিচার বহির্ভূত মৃত্যুই সমর্থনযোগ্য নয়।

সুতরাং ‘ন্যায়বোধে’র বিষয়টি প্রমাণ করতে হলে সব বিচার বহির্ভূত মৃত্যুর ব্যাপারেই বলতে হবে, সেটি যদি শত্রুপক্ষেরও হয়। এটাই ‘ন্যায়বোধ’। আর মানুষের সাধারণ ‘ন্যায়বোধ’ থেকেই কিন্তু সৃষ্টি আইনের। জানি, এরপরেও এ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, ব্যাখ্যা আসবে, আসবে ‘কী’ ও ‘কেনো’ সহযোগে প্রশ্নমালা। তবে এসব ‘কী’ ও ‘কেনো’র উত্তর খুঁজতে হলে যেতে হবে ইতিহাসের পথে অনেকদূর। ইতিহাস আর যুক্তির পথে অত দূরভ্রমন সবার জন্য আনন্দময় নাও হতে পারে।

ফুটনোট : আমি সাধারণত খুব সহজভাবে সব কিছু বলতে পছন্দ করি। কারণ অহেতুক তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে যারা যান তাদের সেই পথেও হেটে দেখেছি, মঞ্জিল কিন্তু একটাই। তাই সহজ করে বলাটাই সবচেয়ে ভালো। পান করাই যখন লক্ষ্য কী দরকার পানি ঘোলা করে। তাতে শুধু পানির বিশুদ্ধতাই নষ্ট হবে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট

বিএনপিতেও উপেক্ষিত পার্বত্য বাঙালী

বিএনপি

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

বিএনপি পার্বত্য বাঙালীদের দল বলে প্রচারণা থাকলেও সদস্য ঘোষিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে পার্বত্য বাঙালীরা উপেক্ষিত হয়েছে। গত ৬ আগস্ট ঘোষিত বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিন পার্বত্য জেলা থেকে ৭ জন স্থান পেয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর হলেও মাত্র ১ জন রয়েছে পার্বত্য বাঙালীর।

এই বৈষম্য নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বেশিরভাগ বিএনপির বাঙালী নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। ফলে বিষয়টি পার্বত্যনিউজ তিন পার্বত্য জেলার শীর্ষ বাঙালী তিন নেতার সাথে কথা বলে। তাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে হতাশা পরিলক্ষিত হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালীদের কেউ প্রয়োজন মনে করছে না- ওয়াদুদ ভুঁইয়া

বিএনপির নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া সহ. কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি এবং সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভুঁইয়া তার প্রতিক্রিয়ায় পার্বত্যনিউজকে বলেন, বিএনপির নতুন কমিটিতে অবশ্যই পার্বত্য বাঙালীদের উপেক্ষা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্য পদে রবীন্দ্র লাল নামে যে স্থান পেয়েছে, সে তো আমাদের খাগড়াছড়ির ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা হওয়ারও যোগ্য নয়, আমরা তাকে খাগড়াছড়ির কোনো ইউপি কমিটির সভাপতিও করবো না। অবশ্যই এখানে বাঙালীদের উপেক্ষা করা হয়েছে। আমাকেও তো বাদ দিতো, গতবার তো বাদ দিয়েছিলো। গতবার আপনারা লেখালেখি করেছেন, সেসব পেপার কাটিং লিফলেট হয়ে পার্টি অফিসে ও বিভিন্ন জায়গায় বিতরণ করা হয়েছে- যার কারণে একটা আওয়াজ উঠেছিলো।

পার্বত্য বাঙালীদের শীর্ষ এই নেতা বলেন, আমি নিজেও্ একাধিকবার ম্যাডামকে বলেছি, ম্যাডাম ওখানে তো বাঙালীদের বাদ দেয়া হলো। তিনি জানতে চাইলেন, কিভাবে? আমি বলেছিলাম, আমাকেও তো রাখা হয়নি। তিনি বললেন, এটা আর এমনকি, বাদ পড়ে গেছে কোনোভাবে, আছো তো তোমরা, তোমরা তো জেলাতে আছো তো, এখানে থাকতে হবে এমন কোনো কথা নেই।

নিজের পদ নিয়ে অসন্তষ্ট ওয়াদুদ ভুঁইয়া আরো বলেন, আমার বক্তব্য হলো বাঙালীদের উপেক্ষা করা হয়েছে। কেননা, রবীন্দ্র লাল যে নেতা হলো, তার চেয়ে যোগ্য অনেক বাঙালী নেতা পার্বত্য চট্টগ্রামে আছে। সেখানে শুধু রবীন্দ্র লাল না তো, সেখানে ৭ জনকে রাখা হয়েছে। কিন্তু আমি ৮০ সাল থেকে বিএনপির পলিটিক্স করি, সেই হিসাবেও তো আমাকে এদের চেয়ে এক গ্রেড উপরে রাখা উচিত ছিলো। কিন্তু আমাকে তো ওদের গ্রেডেই রাখলো। ৬ জনের সাথে ১ জন, সেই হিসাবেও আমাকে তো ওদের চেয়ে উপরে রাখা দরকার ছিলো, কিন্তু তাতে করলো না। আমার রাজনৈতিক বয়স, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী আমার পদ আরো উপরে যাওয়া উচিত ছিলো। কিন্তু আমার থেকে অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ লোক অনেক ভাল পদ পেয়েছে।

শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত দলে এমন অবস্থা কেন হলো এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কেউ পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালীদেরকে প্রয়োজন মনে করছে না, ভাবছে বাঙালীদের প্রয়োজন নেই। বিদেশীদের পছন্দ পাহাড়ীরা, বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলো পছন্দও পাহাড়ীরা। বিএনপি- আওয়ামী লীগ এখন আর সে ভিন্নতা নেই।

তিনি আরো বলেন, অবশ্য একটা ভিন্নতা আছে। বিএনপি তিন জেলার এক জেলায় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদে বাঙালী রাখে, আওয়ামী লীগ এক জেলাতেও রাখে না। গতবার সমান ছিলো, এবার অবশ্য দুইটাতে আছে, আওয়ামী লীগ একটাতেও রাখেনি। এবার্ ট্রাডিশন ভেঙে রাঙামাটির সভাপতি পদে বাঙালী আমি ফাইট করে নিয়ে এসেছি। আবার বিএনপি এক জেলায় বাঙালী নমিনেশন দেয়, আওয়ামী লীগ তিন জেলায় পাহাড়ী নমিনেশন দেয়। লাস্ট ইলেকশনে বিএনপিও তিন জেলায় পাহাড়ী নমিনেশন দিয়েছিল। কাজেই এখন সেই পার্থক্য খুব একটা নেই। আস্তে আস্তে বিএনপিও আওয়ামী লীগের দিকে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় কমিটিতে সমতার ভিত্তিতে পদ বন্টিত না হওয়ায় নেতাকর্মীরা হতাশ- শাহ আলম

রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম পার্বত্যনিউজকে বলেন, বারবার আমরা ম্যাডামকে বলে এসেছি বিএনপির কমিটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অধিকহারে বাঙালী নেতাদের নেয়ার জন্য। ম্যাডাম আমাদের কমিটমেন্টও দিয়েছিলেন যে এবার তিনি সমতা রক্ষা করবেন। বিষয়টি আমাদের ওয়াদুদ ভাইও জানেন। কিন্তু কেন করলেন না সেটা তো বুঝতে পারছি না।

তিনি বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে অংশ নেয়ার মতো অনেক বাঙালী নেতা পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় রয়েছে। কিন্তু তাদের কমিটিতে স্থান না দেয়ায় তারা হতাশ। এর প্রভাব স্থানীয় বিএনপির কার্যক্রমে পড়বে বলেও তিনি ধারণা করছেন।

এথনিক মাইনোরিটিদের অধিক হারে কমিটিতে নেয়ার জন্য বিদেশীদের চাপ রয়েছে- ওসমান গণি

বান্দরবান জেলা বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ওসমান গণি বলেন, আমাদের এখানে অর্ধেক পাহাড়ী, অর্ধেক বাঙালী। কাজেই আমি মনে করি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিও অর্ধেক পাহাড়ী ও অর্ধেক বাঙালী নিশ্চিত হওয়া উচিত। সে হিসাবে আরো অধিক বাঙালী বিএনপির কমিটিতে থাকা উচিত ছিলো।

তিনি বলেন, নিজেদের কে আমরা অভিভাবক শূন্য মনে করছি। পার্বত্য চট্টগ্রাম জিয়াউর রহমান ভূমিকা না রাখলে এতোদিন পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তো। তাই এখানকার বাঙালীরা বিএনপির অধিক সহানুভুতি সম্পন্ন। সেটা আমরা যখন উপরের লেভেলে আলাপ করি, তখন তারা বলে, এথনিক মাইনোরিটিদের অধিক হারে কমিটিতে নেয়ার জন্য বিদেশীদের চাপ রয়েছে।

ওসমান গণি বলেন, সর্বত্র প্রতিনিধি অর্ধেক পাহাড়ী, অর্ধেক বাঙালী নিশ্চিত হওয়া উচিত। আমরা চাই সকল রাজনৈতিক দলে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ী-বাঙালী জনসংখ্যার অনুপাত অর্ধেক নিশ্চিত হওয়া উচিত। এই জনসংখ্যার অনুপাতকে অস্বীকার করা মানে, পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অস্বীকার করা।
উল্লেখ্য, সদ্য ঘোষিত বিএনপির ৫০২ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে তিন পার্বত্য জেলা থেকে মাত্র ৭ জনের ঠাঁই হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঘোষিত দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি এই তিন পার্বত্য জেলা থেকে ৭ জন মনোনীত হয়েছেন। এর মধ্যে বান্দরবানের ম্য ম্যাচিংকে উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক, খাগড়াছড়ির আবদুল ওয়াদুদ ভুঁইয়াকে সহ কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক, রাঙ্গামাটির কর্ণেল (অব.) মনিষ দেওয়ানকে সহ উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক, দীপেন দেওয়ানকে সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে কমিটিতে রাখা হয়েছে।

এছাড়াও পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বান্দরবানের সা চিং প্রু জেরী, খাগড়াছড়ির সমিরণ দেওয়ান, রাঙ্গামাটির রবীন্দ্র লাল চাকমাকে সদস্য করা হয়েছে। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

পার্বত্য অঞ্চলে জঙ্গিদের নাশকতার পরিকল্পনা

জঙ্গি

স্টাফ রিপোর্টার:

দেশের পার্বত্য জেলাগুলোতে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে জঙ্গিরা এমন তথ্য পেয়ে এরইমধ্যে ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এসব অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে। জঙ্গিদের ফেসবুক ও টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নজরদারি করেই এমন তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। ফেসবুক, টুইটার, ভাইবারসহ জঙ্গিদের তথ্য আদান-প্রদানের ৩২টি সাইট চিহ্নিত করতে পেরেছেন তারা। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় এরইমধ্যে বেশ কিছু জঙ্গি ও নাশকতাকারীকে গোয়েন্দা জালে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে বলেও গোয়েন্দাদের দাবি।

নিজস্ব পদ্ধতি ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, পুলিশ ও বিদেশি হত্যা, হোসনি দালান ও শিয়া মসজিদে বোমা হামলার মাধ্যমে নাশকতা চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে ব্যর্থ হয়ে নতুন করে পরিকল্পনা শুরু করেছেন জঙ্গিরা। এরই অংশ হিসেবে তারা পার্বত্য অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনায় নাশকতার পরিকল্পনা করেন। গত বছর চট্টগ্রাম এলাকায় র‌্যাবের হাতে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক দিয়েই জঙ্গিরা কয়েক হাজার বোমা বানাতে সক্ষম ছিল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত বছরের শুরুতে র‌্যাবের হাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নতুন জঙ্গি সংগঠন হামজা ব্রিগেডের ১২ জঙ্গি গ্রেফতারের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ও গোয়েন্দারা তৎপর হয়ে ওঠেন। ওই সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে র‌্যাব। গত বছরের অক্টোবরে চট্টগ্রাম শহরের খোয়াজনগরের আজিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার ও নয়টি হ্যান্ড গ্রেনেডসহ বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ।

সর্বশেষ গত ২৬ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে এলাকা থেকে নাঈমুর রহমান, নালাপাড়া থেকে ফয়সাল মাহমুদ ও কসমোপলিটন এলাকা থেকে মো. শওকত রাসেলকে গ্রেফতার করে সেখানকার গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পরদিন ২৭ ডিসেম্বর হাটহাজারীর আমানবাজারে জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার ফারদিনের বাসায় অভিযান চালান তারা। সেখান থেকে এমকে-১১ স্নাইপার রাইফেল, ১৫০ রাউন্ড গুলি ও সেনাবাহিনীর ১২টি পোশাকসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। তবে জঙ্গি নেতা ফারদিনকে ধরতে পারেননি তারা।

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করতে গিয়ে গোয়েন্দারা আরও বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার আভাস পান। দেশের সবগুলো গোয়েন্দা সংস্থাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানান দায়িত্বশীল একটি সূত্র। এরইমধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা তোফায়েল আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া, আরও কয়েকজন রাজনীতিককে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

গত ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকায় কথিত ফকির লেংটা মামা ও তার খাদেম আবদুল কাদেরকে গলা কেটে হত্যা করেন জঙ্গি সুজন ওরফে বাবু। একইমাসে ২৪ সেপ্টেম্বর সদরঘাট থানার মাঝিরঘাটে ছিনতাই করতে গিয়ে হ্যান্ডগ্রেনেড বিস্ফোরণে রবিউল ও রফিক নামের দুই জঙ্গি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। জঙ্গিদের গুলিতে গুরুতর আহত হন সাহা করপোরশেনের ম্যানেজার সত্য গোপাল। পরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুটি একে-২২ রাইফেল উদ্ধার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে তথ্য সহায়তা দিয়ে থাকে ইনসাইট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির পরিচালক ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সাইবার নিরাপত্তা কর্মসূচির ফোকাল পয়েন্ট তানভীর হাসান জোহা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তারা জঙ্গিদের পরিকল্পনার অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন। জঙ্গিরা যেসব সাইট ব্যবহার করে তথ্য আদান করেছে সেগুলো থেকে তারা নাশকতার অনেক তথ্য পেয়েছেন। এমন ৩২টি সাইট চিহ্নিত করে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে অবহিত করেছেন।

এরইমধ্যে গোয়েন্দারা বেশ কিছু জঙ্গিকে তাদের জালে আটকাতে পেরেছেন বলেও জানান জোহা। আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও  জেএমবিসহ আরও কিছু জঙ্গি সংগঠন একত্রিত হয়ে এসব নাশকতার পরিকল্পনা করছে বলেও তথ্য রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে।

নতুন করে জঙ্গিদের নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এমন কিছু তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। তবে, আগেও পুলিশ ও বিদেশি হত্যাসহ বিভিন্ন নাশকতা চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চেয়েছিলেন জঙ্গিরা। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। এবারও হবে না।

পার্বত্য এলাকার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি- বিজিবি মহাপরিচালক

Dighinala 12-02-2016 pic (01)

দীঘিনালা প্রতিনিধি:

আমরা কারো প্রতিপক্ষ নই, সীমান্ত সুরক্ষার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অনেক সন্ত্রাসী গহীন জঙ্গল দিয়ে আনাগোনা করছে, সীমান্ত সুরক্ষা না থাকায়, এক দেশের সন্ত্রাসী অন্য দেশে যাতায়াত করছে। কিন্তু সীমান্তে টহল থাকলে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। সারা দেশের ন্যায় পার্বত্য এলাকার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এক সময় সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার হয়ে থাকলেও বর্তমানে তা পুরো বন্ধ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ (বিজিবিএম, পিবিজিএম, পিএসসি, জি)।

এ সময় তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে মোট সীমান্ত এলাকা ৪৭৯ কিলোমিটার। তার মধ্যে ৩৫ টি বিওপি’র আওতায় ২২৮ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত এলাকা নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পার্বত্য এলাকার অরক্ষিত আরো ১৩২ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষার আওতায় আনা হবে।

গতকাল শুক্রবার দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর সদর দফতর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ (বিজিবিএম, পিবিজিএম, পিএসসি, জি) এসব কথা বলেন। এই উপলক্ষে দুপুরে বাবুছড়া বিজিবি সদর দফতরে পৌছলে ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে প্রথমে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে তিনি ব্যাটালিয়নের রেস্ট হাউজ, সৈনিক ডাইনিং হল, কুক হাউজ, চিত্তবিনোদন কক্ষ উদ্বোধন করেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল হাবিবুল করিম, খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল স ম মাহাবুব আলম, বিজিবি’র খাগড়ছড়ি সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল সাজ্জাদ, দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মহসিন রেজা ও বাবুছড়া ৫১ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল কামাল আহমেদ পিএসসি।

পরে তিনি চট্টগ্রাম ফেরার পথে ৫১ বিজিবি’র আওতায় শীলছড়ি বিওপি পরিদর্শন করেন।

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত না হলে পাহাড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে- সন্তু লারমা

Rangamati Larma pic001

স্টাফ রিপোর্টার:

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন না হলে পাহাড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে হুমকি দিয়েছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা।

তিনি বলেন, সরকার পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না করে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো পূনর্গঠনের নামে দলীয়করণ করেছে। সরকারের একতরফাভাবে পরিষদ পূনর্গঠন চুক্তি বিরোধী কাজেরই পরিচয়। তাই পার্বত্যাঞ্চলে জুম্মজাতিগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ হয়ে চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের গণ-আন্দোলনে নেমেছে। আগামীতে পার্বত্যাঞ্চলের যে কোন পরিস্থিতির জন্য সরকার দায়ী থাকবেন বলে হুঁশিয়ারী দেন তিনি।

শনিবার রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক মিলনায়তনে ২দিন ব্যাপী পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সন্তু লারমা এসব কথা বলেন।

এ আগে সকাল ১০টায় চাকমা সার্কেল চীফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ হেডম্যান সম্মেলন উদ্বোধন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সিএইচটি হেডম্যান নেটওর্য়াকের সভাপতি খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরি চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি চাকমা সার্কেল চীফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ বৃষ কেতৃ চাকমা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এলএলআরডি উপ-পরিচালক রওশন জাহান মনি, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা আরও বলেন, ১৯৯৭ সালে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর হয়ে ছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৮বছর অতিবাহীত হলেও সরকার পার্বত্য চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো এখনো বাস্তবায়ন করেনি।

তিনি বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে পাহাড়ের ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা অস্থিত্বহীনতায় পরেছে। অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ পাহাড়ের মানুষ। অসযোগ আন্দোলনের পরও পার্বত্য চুক্তি পূর্ণঙ্গ বাস্তবায়নে এখনো পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোন কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছেনা। ভবিষ্যতেও সরকার চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করবে কিনা তা বুঝা মুশকিল। তাই আজ বাধ্য হয়ে পাহাড়ের জুম্মজাতিগোষ্ঠী অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ঐক্য গড়ে তুলেছে। আর এ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে।

এ সময় সন্মেলনে রাঙামাটির চাকমা, খাগড়াছড়ির মং, বান্দরবানের বোমাং সার্কেলের ৩০০ হেডম্যান উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের ‘আদিবাসি’ সঙ্কট

মোস্তফা জব্বার

মোস্তাফা জব্বার

বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলসহ পাহাড় ও সমতলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসমূহের প্রতি আমার নিজের দারুণ রকমের সহানুভূতি ও সমর্থন রয়েছে। যেহেতু তারা পশ্চাপদ জনগোষ্ঠী সেহেতু তাদের অধিকার ও অগ্রগতি এই রাষ্ট্রের প্রাধান্য তালিকায় থাকা উচিত। সেজন্যই নিজের ক্ষমতায় যা সম্ভব তার সবই আমি এদের জন্য করে যাচ্ছি। বহু বছর আগেই আমি স্বেচ্ছায় ও বিনা পারিশ্রমিকে চাকমাদের বর্ণমালাকে কম্পিউটারে প্রয়োগ করেছি। সন্তু লারমা নিজে আমার সেই সফটওয়্যারের উদ্বোধন করেন। দীপঙ্কর তালুকদারও ছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। যদিও পরে আমি কম্পিউটারে চাকমা বর্ণের ব্যবহার নিয়ে হতাশ হয়েছি তবুও আমি এখনও সুযোগ পেলে আমাদের উপজাতীয় সকল ভাষাকে আধুনিক যন্ত্রে ব্যবহার উপযোগী করতে সচেষ্ট থাকবো। তবে আমার শঙ্কা হলো, আমাদের উপজাতীয়রা নিজেরাই তাদের ভাষার প্রতি দরদী নন। নিজের বাড়িতে তারা হয়তো তাদের ভাষা ব্যবহার করেন। কিন্তু নিজের ভাষার লিপি তারা চেনেননা। আমি চাকমা বর্ণ চেনে এমন তরুণ খোজে পাইনি। আমার ধারনা, আমাদের উপজাতীয়রা ভাষার লিপি প্রশ্নে লাতিন হরফের আগ্রাসনের শিকার হয়ে পড়েছে। একদিন তারা নিজেদের হরফের বদলে লাতিন লিপি ব্যবহার করবে। অথচ প্রযুক্তিগতভাবে এখন তার প্রয়োজন নাই।

যাহোক, আমাদের উপজাতীয়দের ভাষাসহ সকল নৃতাত্ত্বিক সম্পদ রক্ষা করা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের একটি পবিত্র দায়িত্ব বলে আমি মনে করি। এমনকি তাদেরকে অন্তত প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ দেয়া উচিত বলেও আমি মনে করি। সেই চেষ্টাও আমি করেছি। উপজাতীয় শিশুরা যাতে তাদের মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে তার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও আনন্দ মাল্টিমিডিয়ার রাঙ্গামাটি শাখার সহায়তায় প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত সকল পাঠ্যপুস্তককে চাকমা, মারমা ও ম্রো ভাষায় সফটওয়্যারে রূপান্তর করেছি আমি। আমি দৃঢ়তার সাথে এই জনগোষ্ঠীর ভাষা-সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়ন, বিকাশ ও সংরক্ষণে বিশ্বাস করি। এদের জীবনধারাকে রক্ষা করার জন্য আমাদের সকলেরই উচিত সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা। রাষ্ট্রের উচিত তাদেরকে আমানতের মতো রক্ষা করা।

কিন্তু সাম্প্রতিককালে এটি ধারণা করার কারণ ঘটছে যে, এই ক্ষুদ্র জাতিগুলোকে নিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বিষয়টি আপাতদৃষ্টে খুব নিরীহ মনে হলেও ছোট একটি শব্দের মধ্য দিয়ে আঙ্গুল ওঠছে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে। দেশের কিছু বুদ্ধিজীবি এবং রাজনৈতিক নেতাও জেনে বা না জেনে সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হচ্ছেন। যে শব্দটি নিয়ে এই অপকর্মের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে সেই শব্দটি ‘আদিবাসি’।

৯ আগস্ট সারা দুনিয়াতে ‘আদিবাসি’ দিবস পালিত হয়ে থাকে। আমাদের শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পত্রিকায় নিবন্ধ ও টেলিভিশনে টকশো’র আয়োজন করে দিনটি বাংলাদেশে পালিত হয়। ২০১৪ সালে এর ব্যতিক্রম হয়নি। ১৫ সালেও হয়তো তাই হবে। তবে আদিবাসীদের কথা বলতে গিয়ে কেউ কেউ একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেন যেটি একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য হুঁমকি হয়ে দাঁড়ায়। আমরা কারও কারও মুখে শুনে আসছি যে, আদিবাসীদের জন্য প্রয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের মতো আন্দোলন করা হবে। সন্তু লারমা একথা বলেছেন ২০১৪ সালে।

২০১২ সালেও সন্তু লারমা হুঙ্কার দিয়েছিলেন। তিনি যুদ্ধ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। কার বিরুদ্ধে সে যুদ্ধ সেটি তিনি না বললেও অতীতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধের কথা স্মরণ করলে তার বক্তব্যে আমরা শঙ্কিত না হয়ে পারিনা। তবে সুখবর হলো যে, গত তিন বছরে তিনি তেমন কিছু করেননি।

বাঙ্গালি বুদ্ধিজীবিদের একটি অংশ জোরেশোরে বলার চেষ্টা করছে যে, বাংলাদেশের যাদেরকে আমরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতি বা উপজাতি বা ছোট ছোট নৃগোষ্ঠী বলি তারা ‘আদিবাসি’। সংবিধানে তাদেরকে ‘আদিবাসি’ হিসেবে স্বীকৃতি না দেবার জন্য তারা দারুণভাবে নাখোশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার দল আওয়ামী লীগ ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বাণী উদ্ধৃত করে এটি দেখানো হচ্ছে যে, এই রাজনৈতিক শক্তিটি অতীতে এদেরকে ‘আদিবাসি’ বলে চিহ্নিত করলেও, না সংশোধিত সংবিধানে, না তাদের এখনকার বক্তব্যে ‘আদিবাসি’ শব্দটি ব্যবহার করছেন। ক্ষোভটা তাদের ওখানেই।

বিষয়টি এতোদিন আমাদের দৃষ্টি তেমনভাবে আকর্ষণ করেনি। প্রকৃতার্থে ‘আদিবাসি’ শব্দটি নিয়ে আমরা তেমন সিরিয়াসলি চিন্তাও করিনি। বিশেষ করে কথায় কথায় আমরা আমাদের দেশের উপজাতি বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতি স্বত্ত্বাসমূহকে ‘আদিবাসি’ বলে আখ্যায়িত করতে দ্বিধা করিনি। কিন্তু যখনই আমরা লক্ষ্য করলাম যে, সংবিধানে তাদেরকে ‘আদিবাসি’ হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় তারা নাখোশ হয়েছে তখনই ‘আদিবাসি’ শব্দের অর্থ সন্ধান করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সংজ্ঞা অনুসারে আদিবাসি হলো তারা; peoples in independent countries who are regarded as indigenous on account of their descent from populations which inhabited the country, or a geographical region to which the country belongs, at the time of conquest or colonization or the establishment of present states boundaries and who, irrespective of their legal status, retain some or all of their own social, economic, cultural and political institutions.”

আমরা যদি এই ইংরেজি বাক্যটির বাংলা মর্মার্থ করি তবে এটি এমন দাড়াবে; আদিবাসি হলো তারা যারা দেশের ঔপনিবেশিকতা সৃষ্টির সময়ে দখলদারদের চাইতে গোষ্ঠিগত কারণে আলাদা ছিলো।

আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ানরা সেই অর্থে আদিবাসি। কারণ যখন আমেরিকায় ঔপনিবেশ স্থাপন করা হয় তখন রেড ইন্ডিয়ানরা কেবল স্বতন্ত্র ছিলোনা এখনও স্বতন্ত্র। শুধু তাই নয়, ওরা আগ্রাসনকারীদের চাইতে জীবনধারার দারুনভাবে পশ্চাদপদ। লক্ষ্যনীয় যে, দেশটিকে রেড ইন্ডিয়ানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। খুব সঙ্গত কারণেই তাদেরকে আদিবাসির সংজ্ঞায় ফেলা যেতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে যারা নিজেদেরকে এই সংজ্ঞায় ফেলতে চাইছে তাদের অবস্থা কি রেড ইন্ডিয়ানদের মতো?

প্রথমত বাংলাদেশের উপজাতিসমূহ কি আদিবাসি? বাস্তবতা হচ্ছে হিমালয়ের পাদদেশের নিচু, সমতল বা জলাভূমির এই অঞ্চলে বাঙ্গালিরা বসবাস করে ৪ হাজার বছরেরও আগে থেকে। বিক্রমপুর, ওয়ারি বটেশ্বর বা সোনারগা কিংবা মহাস্থানগড় থেকে প্রাপ্ত প্রমাণাদি এসব বিষয় নিশ্চিত করে।

এখানকার উঁচু ভূমি বা পাহাড় অঞ্চলে হয়তো তারও আগে সামান্য সংখ্যক কোচ, হাজং, গারো ইত্যাদি জনগোষ্ঠীরও বসবাস ছিলো। তবে এসব জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগ বসবাস করতো গারো পাহাড়ে যে পাহাড়টি এখন ভারতের অংশ। গারো পাহাড় থেকে যেসব উপজাতি সমতল ভূমিতে নেমে আসে তাদের কেউ কেউ মধুপুর ও বরেন্দ্র অঞ্চলের বাংলাদেশ অংশে বা ময়মনসিংহের গারো পাহাড় অঞ্চলে বাস করে। তবে এই নিম্নভূমিটি, যার নাম বাংলাদেশ, তাতে বাঙ্গালিরা বসবাস করার আগে কোচ-হাজং-গারো-সাওতালরা বসবাস শুরু করে তেমন কোন প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। বরং বাঙ্গালিরা বসবাস করার পরে এইসব উপজাতিরা হয়তো সমতল ভূমিতে বসবাস করা শুরু করে থাকতে পারে। সমতল ভূমি বিবেচনায় এছাড়াও কক্সবাজার ও পটুয়াখালিতে রাখাইন সম্প্রদায় রয়েছে। তারা তাদের জীবনাচারে প্রায় বাঙ্গালিতে পরিণত হয়েছে। নিজের বাড়িতে নিজেদের ভাষায় কথা বলা ছাড়া এদের অন্য ক্ষেত্রে খুব একটা পশ্চাদপদতা নেই। ওদের মাঝে যারা দেশের প্রধান জনগোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে তারা বাংলাও চমৎকারভাবে বলতে পারে। ছোট একটি দেশ হিসেবে এদের শিক্ষার, অর্থনীতির বা রাজনীতির সুযোগ দেশের প্রধান জনগোষ্ঠী বাঙ্গালীদের চাইতে মোটেই কম নয়।

অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান উপজাতি চাকমাদের আদি বাসস্থান আরাকান। ত্রিপুরাদের আদি বসবাস ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। সেই অর্থে ওরা কেউ বাংলাদেশের আদিবাসি নয়। এর মানে এসব জনগোষ্ঠীর আবাস দখল করে আমরা বাঙালীরা বাংলাদেশ গড়িনি। তবুও বাংলাদেশে ওরা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী। উপজাতিদের জন্য বাংলাদেশে শিক্ষা ও চাকুরিতে নানা কোটা আছে। প্রধানত চাকমারা সেই কোটা ব্যাপকভাবে ব্যবহারও করে। ফলে তাদের সম্পর্কে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিস্বত্ত্বা বা নৃগোষ্ঠী অভিধাটি মোটেই বিভ্রান্তিকর নয়। বরং এদেরকে আইএলওর সংজ্ঞা অনুসারে আদিবাসি বলাটা কোনভাবেই সঠিক নয়।

২০১২ সালের ৯ আগস্ট ৭১ টেলিভিশনে প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে মেজর জেনারেল (অব) ইব্রাহিম স্পষ্ট করে বলেছেন যে, আইএলও কনভেনশন অনুসারে আদিবাসি হিসেবে স্বীকৃতি দেবার পর তাদেরকে আত্ম নিয়ন্ত্রণ অধিকার দিতে হবে। এর মানে তারা দাবি করতে পারবে যে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা স্বায়ত্বশাসন পেতে পারে। এমনকি যদি তারা মনে করে যে, তারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রে থাকবে না বা ভারতেও যোগ দেবে না তবে স্বাধীন রাষ্ট্র গড়তে পারবে। যদি তারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রে থাকেও তবে তারা যে অঞ্চলে বাস করে সেই অঞ্চলের ভুমির মালিকানা রাষ্ট্রের হবেনা।

আমরা জানি যে, আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে দেশের যে কোন অঞ্চলে ভূমির মালিক হতে পারবো। কিন্তু বাস্তবতা হলো আমি পার্বত্য তিন জেলায় জমির মালিক হতে পারবোনা। ওখানে আমাকে জমি কিনতে দেয়া হবেনা। অন্যদিকে একজন উপজাতি দেশের যে কোন স্থানে ভূমির মালিক হতে পারবে। এটি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমার প্রতি বৈষম্য। আমি মনে করি পাহাড়ে বা সমতলে যেসব ক্ষুদ্র জাতি আছে তাদের ভূমি সংক্রান্ত যেসব জটিলতা আছে সেটির মীমাংসা হওয়া উচিত ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে যেসব ক্ষুদ্র জাতিগুলো জমির মালিকানা নিশ্চিত করেননি তাদের ভূমির মালিকানার বিষয়টি মীমাংসা করার পর পার্বত্য জেলাসমূহে বাঙ্গালীদের জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে কোন নিষেধাজ্ঞা বা নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত নয়। এটি সংবিধান পরিপন্থী।

আমি মনে করি যে, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিস্বত্ত্বাসমূহকে নামে আদিবাসি বলাতে আমাদের তেমন আপত্তি করার বিষয় নাও হতে পারে। ক্ষুদ্র জাতি বা আদিবাসি হিসেবে ডাকডাকি করাতে তেমন কোন পার্থক্য নেই। কিন্তু যদি এই প্রশ্নটি ওঠে যে তাদেরকে আত্ম নিয়ন্ত্রণাধিকার বা স্বায়ত্ত্ব শাসন বা স্বাধীনতা দিতে হবে তবে সেটি হবে রাষ্ট্রদ্রোহিতা। যদি এই দাবি ওঠে যে এদের জমির ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা থাকবেনা তবে সেটিও হবে রাষ্ট্রের অধিকারের বিরোধিতা।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে সকল নাগরিকের সমানাধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের নাগরিকদের মাঝে কোন ধরনের বৈষম্য যাতে না থাকে সেটিও দেখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে পারে। কিন্তু এজন্য কোন জনগোষ্ঠীকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারেনা কিংবা কোন জনগোষ্ঠীকে এমন কোন সুযোগ দিতে পারেনা যা রাষ্ট্রের অন্য জনগোষ্ঠী পায়না। সকল নাগরিকের সমানাধিকার নিশ্চিত করাটাই রাষ্ট্রের মুল দায়িত্ব। এক দেশে দুই আইন কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। আবার পশ্চাদপদ জাতি বলে তাদের নিজেদের সম্পদ রক্ষার অধিকার থেকেও তাদেরকে বঞ্চিত করা যায়না।

আমি ধারনা করি যে, আমাদের উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর সাধারণ মনোভাব হলো বাংলাদেশের মুল জনগোষ্ঠী বাঙ্গালীদের সাথে সহযোগিতামুলকভাবে বসবাস করা। তবে তারা অবশ্যই চাইবেন যে, তাদের ভাষা, সাহিত্য সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র ও মর্যাদা অক্ষুন্ন থাকবে। তাদের পিছিয়ে পড়ার জন্য রাষ্ট্র তাদেরকে বিশেষ সুবিধা যেমন কোটা বা অগ্রাধিকার দেবে। কিন্তু আদিবাসি নামে আখ্যায়িত হয়ে তারা নিশ্চয়ই একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের দাবি জানাতে চায় না। আমরা কামনা করবো দেশের সাধারণ নাগরিকদেরকে আদিবাসি শব্দের বেড়াজালে বিভ্রান্ত করা থেকে বিরত থাকা হবে। আমি এটাও আশা করি যে, কেউ এদেরকে জিম্মি করে তথাকথিত বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করবে না। আমি তাদেরকে সাংবিধানিকভাবে আদিবাসি বলতেও রাজী-কিন্তু তাদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের আন্দালন হলে সেটি কঠোরভাবে দমন করার পক্ষে-কারণ কোন রাষ্ট্রই রাষ্ট্রদ্রোহিতাকে মেনে নিতে পারে না। (ঢাকা, আগস্ট ২০১৫)

♦ লেখক: তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ-এর প্রণেতা ॥  ই-মেইল: mustafajabbar@gmail.com ওয়েবপেজ: www.bijoyekushe.net  

বাঙ্গালী বসতি স্থাপন ও প্রতিরক্ষা

gussagram 1
আ তি কু র  র হ মা ন:

বাংলাদেশ রাষ্ট্র বাঙ্গালী সংখ্যাগরিষ্ঠতার ফসল। পার্বত্য চট্টগ্রাম তারই ভৌগোলিক অঞ্চল। পার্বত্য চট্টগ্রামের অমুসলিম প্রধান অঞ্চল হওয়া মৌলিক নয়, কৃত্রিম। এ কারণেই ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগকালে এটি ভারতের প্রাপ্য বা স্বতন্ত্র অঞ্চলরূপে স্বীকৃতি লাভ করেনি।

ভারত বিভাগকালে সীমান্তবর্তী অঞ্চলসমূহের ভাগ্যে অনেক ওলট-পালট হয়েছে। পূর্ব পাঞ্জাবের অধীন গুরুদাসপুর জেলা সীমান্তবর্তী মুসলিম প্রধান অঞ্চলরূপে পাকিস্তানের প্রাপ্য ছিলো। কিন্তু কাশ্মীরের পক্ষে ভারতের সাথে যোগদানের সুযোগ বজায় রাখার প্রয়োজনে ভূমি সংযোগরূপে গুরুদাসপুরকে ভারতভুক্ত করে দেয়া হয়। ঠিক একই কারণে আসাম ও ত্রিপুরার সাথে ভারতের ভূমি সংযোগ রক্ষার প্রয়োজনে, পশ্চিম দিনাজপুর ও করিমগঞ্জ অঞ্চলকে ভারতের সাথে জুড়ে দেয়া হয়েছে। এই দুই সংযোগ ঘটান না হলে কাশ্মীর হতো পাকিস্তানের বাধ্য অঞ্চল, এবং আসাম ও ত্রিপুরা হতো বাংলাদেশের দ্বারা বিচ্ছিন্ন বাধ্য এলাকা। পার্বত্য চট্টগ্রামের পক্ষে অনুরূপ ভূমি সংযোগ হওয়ার কোনরূপ ভৌগোলিক ও জাতিগত আনুকুল্য ছিলো না। এর উত্তরে অবস্থিত ত্রিপুরা ও পূর্বে অবস্থিত মিজোরাম দুর্গম পর্বতসংকুল সীমান্ত। এ পথে আসামের সাথে সংযোগ সাধন দুরুহ। জাতিগতভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামবাসী উপজাতীয়রা হলো বিভিন্ন সম্প্রদায়ে বিভক্ত ও স্বতন্ত্র। স্থল যোগাযোগের দুরুহতা ও জাতিগত ভিন্নতা হেতু, এতদাঞ্চলের ভারতভুক্তি বিচ্ছিন্নতারই সহায়ক হবে বলে বিবেচিত হয়। সুতরাং চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অখন্ডতা, অর্থনৈতিক অভিন্নতা ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে রক্ষার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামকে সঠিকভাবেই বাংলাদেশভুক্ত রাখা হয়, যার কোন বিকল্প ছিলো না।

ভৌগোলিকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম, মুল চট্টগ্রামেরই অংশ এবং লোক হিসেবে স্থানীয় উপজাতীয়রা জেলা ভাগের সুযোগে আকস্মিকভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মাত্র। তারা আদি চট্টগ্রামী মূলের লোক নয়। অভিবাসনের মাধ্যমে তারা হালে স্থানীয় অধিবাসী রূপে স্বীকৃত। মাত্র শত বছর আগে পার্বত্য অঞ্চল শাসন আইন ধারা নং ৫২ তথা পর্বতে অভিবাসন নামক আইন বলে তারা স্থানীয় অধিবাসী। তারা চট্টগ্রামী মৌলিকত্ব সম্পন্ন স্থানীয় আদি ও স্থায়ী অধিবাসীর মর্যাদা সম্পন্ন লোক নয়। এই বিচারে তাদের অগ্রাধিকার, বিশেষাধিকার, স্বায়ত্তশাসন বা আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের দাবী অযৌক্তিক। তদুপরি এই প্রশ্নে তাদের সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটন, একটি অমার্জনীয় রাজনৈতিক বাড়াবাড়ি।

সুতরাং তাদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী বিবেচিত হয়। এই ব্যবস্থারই অংশ হলো এতদাঞ্চলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারকরণ ও রাষ্ট্রের স্বপক্ষ জনশক্তি বাঙ্গালীদের সংখ্যাগত প্রাধান্য রচনা। বাঙ্গালী বসতি স্থাপনকে তাই অবাঙ্গালী বিদ্রোহের বিকল্প ভাবাই সঙ্গত। এতে কারো বিরোধিতা ও আপত্তি উত্থাপন যৌক্তিক নয়। স্থানীয়ভাবে সেনাবাহিনীর অবস্থান প্রতিরক্ষামূলক। স্বাভাবিক দৈনন্দিন জীবনযাপন তাদের হস্তক্ষেপের বিষয়বস্তু নয়। তাদের হস্তক্ষেপকে ঠেকাতে, সশস্ত্র উপজাতি বিদ্রোহের বিপক্ষে শান্তিস্থাপক সপক্ষীয় জনশক্তির উপস্থিতি প্রয়োজন। বাঙ্গালী বসতি সেই প্রয়োজনেরই সম্পূরক। এটা উপজাতীয় বৈরীতা নয়।

সেনাবাহিনীর দায়িত্বপালন সংক্রান্ত কঠোরতা তাতে হালকা হয়েছে। উপজাতীয় বিদ্রোহ দমাতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক বাঙ্গালী জনশক্তি মোতায়েন নমনীয় ব্যবস্থা। যখন বাঙ্গালী বসতি স্থাপনের সূচনা হয়নি, বাংলাদেশের সেই শিশুকালে, উপজাতীয় বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়েছে। তখন দেশের অখন্ডতা রক্ষার প্রয়োজনে এতদাঞ্চলে সেনা মোতায়েন ছাড়া উপায় ছিলো না। তৎপর বিদ্রোহী পক্ষের সাথে আপোষ-রফামূলক আলোচনা ও বৈঠক হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। তাই সরকারী পর্যায়েই সিদ্ধান্ত হয় যে, সেনাবাহিনী কেবল সশস্ত্র দুষ্কর্মই ঠেকাবে। বিদ্রোহী জনশক্তির মোকাবেলায় স্বপক্ষ বাঙ্গালী জনশক্তিকে সংখ্যা ও সামর্থে জোরদার করে তুলতে হবে। সুতরাং উপজাতীয় বিদ্রোহেরই ফল সেনা মোতায়েন ও বাঙ্গারী বসতি স্থাপন। এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে উপজাতীয় পক্ষের আপত্তি ও আন্দোলন এই প্রেক্ষাপটে যৌক্তিক নয়।

এখনো উপজাতীয় পক্ষ উগ্রতা, হিংসা, অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি আর অরাজকতা ত্যাগ করে স্বাভাবিক শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের ধারায় ফিরে এলে সেনাবাহিনীর পক্ষে তার ক্যাম্পে ফিরে যাবার পরিবেশ সৃষ্টি হবে এবং বাঙ্গালী জনস্রোতও থেমে যাবে। বাঙ্গালী পাহাড়ী শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সমঅধিকার নীতি প্রতিষ্ঠিত হলে, এতদাঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়নের ধারা অবশ্যই জোরদার হবে। কেবল স্বপক্ষীয় সুযোগ-সুবিধা আর বিপক্ষ বৈরীতা, পার্বত্য অঞ্চলকে সংঘাতমুখর ও বিক্ষুব্ধ করে রেখেছে। বাঙ্গালীরা মুহুর্তে সব উপজাতীয় বৈরীতা ভুলে যেতে প্রস্তুত, যদি উপজাতীয় পক্ষ সকলের সমঅধিকার ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিকে তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য-উদ্দেশ্য রূপে গ্রহণ করে। সুতরাং পার্বত্য রাজনীতি খেলার ট্রাম কার্ড তাদের হাতেই নিহিত। অযথা সেনাবাহিনী আর বাঙ্গালী পক্ষকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।

অরাজক ও বিক্ষুব্ধ পার্বত্য অঞ্চল থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহৃত হলে, এতদাঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা আর অখন্ডতা রক্ষার দায়িত্ব কে পালন করবে? উপজাতীয় কোন জনসংগঠন সে দায়িত্ব পালনের উপযোগী আস্থা এখনো অর্জন করতে পারেনি। তারা নিজেরাও ঐক্যবদ্ধ নয়। বরং পরস্পর সংঘাত ও বৈরীতায় লিপ্ত। এটা ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের ধারক নয়। উপজাতীয়রা পরস্পর রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত ও সংঘাতে লিপ্ত। তারা গঠনমূলক রাজনীতির কোন উদাহরণ স্থাপন করতে পারেনি। দেশ ও জাতি তাদের প্রতি আস্থাশীল নয়। জাতীয় সন্দেহপ্রবণতাকে কাটাতে তাদের কোন রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মসূচী নেই।

উপজাতীয় দাবিও সংখ্যালঘু স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতেই বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ গৃহীত হয়েছে। এখন তারা তাতে স্থির নেই, বিকল্প জুম্ম জাতীয়তাবাদেই অনড়। তাদের আগ্রহেই উপজাতীয় সুবিধাবাদ গৃহীত হয়েছিলো। কিন্তু এখন তাদের লক্ষ্য জাতিসংঘ ঘোষিত আদিবাসী পরিচয় গ্রহণ। দেশ ও জাতি থেকে তারা কেবল গ্রহণেই অভ্যস্ত, কিছু দিতে নয়। তারা দেশ ও জাতির বিপক্ষে বৈরী শক্তিরূপে প্রতিভাত। এই বৈরী ভাবমূর্তি কাটাবার দায়িত্ব তাদের নিজেদেরই। এমনটা ঘটলেই তাদের পক্ষে জাতীয় আস্থা গড়ে ওঠা সম্ভব। কেবল উত্যক্ত করা, দাবী-দাওয়ার বহর বৃদ্ধি, আর নিজেদের স্বার্থকেই বড় করে দেখা, এই প্রবণতা, জাতীয় আস্থা ও সহানুভুতি গড়ে ওঠার অনুকূল নয়।

পার্বত্য বাঙ্গালীরা ঐ বাঙ্গালীদেরই অংশ, যারা গোটা দেশের শাসক শক্তি এবং তারা সংখ্যায় বাংলাদেশী জাতি সত্তার ৯৯%। সুতরাং পার্বত্য বাঙ্গালীদের সাথে সদ্ভাব সৃষ্টি, গোটা জাতিকে প্রভাবিত করারই সূত্র। এই বোধোদয় না ঘটা, উপজাতীয়দের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। বাঙ্গালীপ্রেমী সাধারণ উপজাতীয় লোক অবশ্যই আছেন, এবং এমন উদার মনোভাব সম্পন্ন সাধারণ উপজাতীয় লোকেরও অভাব নেই, যারা পাহাড়ী বাঙ্গালীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সম্প্রীতিকে গুরুত্ব দেন। কিন্তু এরা সংখ্যালঘু ও দুর্বল। এরা উপজাতীয় রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেন না। সমাজে এদের অবস্থান নিরীহ।

দেশ ও জাতি অনির্দিষ্ট দীর্ঘকাল অনুকূল উপজাতীয় বোধোদয়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারে না। ধ্বংসাত্মক উপজাতীয় শক্তিকে নিস্ক্রিয় ও নির্মূল করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। তজ্জন্য গৃহীত রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপকে শিথিল বা পরিত্যাগ করা যথার্থ নয়। সেনাশক্তি ও জনশক্তি মোতায়েনের অতীত নীতিকে পরিহারের কোন অবকাশ নেই। ইতিমধ্যে গৃহীত কোন শৈথিল্য ফলপ্রসু প্রমাণিত হয়নি। নতুবা এতোদিনে উপজাতীয় বিদ্রোহী শক্তি এক ক্ষুদ্র অপশক্তিতে পরিণত হতো, এবং পর্বতাঞ্চলে বাঙ্গালীরাই হয়ে উঠতো সংখ্যাগরিষ্ঠ। এমনটি ঘটানো ছাড়া এতদাঞ্চলে বাংলাদেশ নিরাপদ হবে সে আশা করা যায় না, আর একমাত্র তখনই উপজাতীয়রা হবে দেশ ও জাতির পক্ষে বাধ্য অনুগত। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রয়োজনে এমনটি ঘটান অন্যায় নয়। এমন শক্ত মনোভাব জাতীয় রাজনীতিতে থাকা আবশ্যক। তাই পার্বত্য নীতিতে বাঙ্গালী বসতি স্থাপন ও পূনর্বাসন পুনঃবিবেচিত হওয়া দরকার।

বাঙ্গালী বসতি স্থাপন ও পুনর্বাসন কাজ অসম্পন্ন আছে। তা বাস্তবায়ন না করা ক্ষতিকর। সরকারের এই দায় অপরিত্যজ্য। লক্ষ লক্ষ বাঙ্গালী সরকারী দায়িত্বহীনতার ফলে পর্বতের আনাচে-কানাচে ভূমিহীন, আশ্রয়হীন, বেকার। ভূমি দান ও পুনর্বাসনের অঙ্গীকারে তারা সরকারীভাবে এতদাঞ্চলে আনিত। এই অঙ্গীকার পালন করা সরকারের একটি দায়। নিরূপায় হয়ে ভূমি বঞ্চিত বাঙ্গালীদের অনেকেই সর্বোচ্চ আদালতে মামলা করেছে। কিন্তু ঐ মামলাগুলোর অগ্রগতি নেই। এমনি একটি মামলা হলো রীট নং-৬৩২৯/২০০১, যার শুনানীর দিন ধার্য্য ছিলো ২৫ আগস্ট ২০০৪ সে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়নি। এছাড়াও আরো কয়েকটি রীট দায়ের করা আছে যেগুলোর মীমাংসা হচ্ছে না। তবে এই পথ ধরে একদিন বিষয়টির সুরাহা অবশ্যই হবে, সে আশায় নিঃস্ব পার্বত্য বাঙ্গালীরা আশান্বিত দিন যাপন করছে।

রাষ্ট্র কর্তৃক বাঙ্গালী পুনর্বাসন মানে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশী চরিত্র দান, উন্নয়নের অর্থ পশ্চাদপদতার অবসান ঘটান, সেনা নিয়ন্ত্রণের অর্থ অরাজকতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ, আর পার্বত্য চুক্তি হলো বিদ্রোহীদের গৃহবন্দি করার কৌশল। এগুলো রাষ্ট্র প্রবর্তিত কর্মসূচী। উপজাতীয়দের আনুগত্য প্রদর্শন ছাড়া এই কার্যক্রমের কোন ব্যতিক্রম হতে পারে না।

গত ১৬ জুন ২০০৪ তারিখে গৃহীত সরকারী সিদ্ধান্তটি পার্বত্য বাঙ্গালীদের অবশ্যই বিক্ষুব্ধ করবে। তারা সরকার কর্তৃক পুনর্বাসনের অঙ্গীকারে পার্বত্য চট্টগ্রামে আনিত, এবং নিরাপত্তার প্রয়োজনে আবাসত্যাগী ও গুচ্ছগ্রাম সমূহে পুনর্বাসিত। এই আনয়ন ও বসতি বন্ধকরণ ভুল হয়ে থাকলে, তার খেসারত ঐ বাঙ্গালীদের প্রাপ্য নয়। সরকারই নিজ ভুলের দায়িত্ব নিতে ও খেসারত দিতে বাধ্য। গুচ্ছগ্রামবাসী ও ভাসমান অন্যান্য পার্বত্য বাঙ্গালীরা স্বউদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসে বসতি গড়েনি। তাদের কিছু সরকারীভাবে প্রেসিডেন্ট জিয়ার আমলে, কিছু প্রেসিডেন্ট এরশাদের আমলে এবং বাদ বাকিরা বেসরকারীভাবে পাকিস্তান আমলে ও শেখ মুজিবের উৎসাহে বাংলাদেশ আমলের শুরুতে, এতদাঞ্চলে আনিত ও স্বউদ্যোগে বসতি স্থাপন করেছে। এরা রাষ্ট্রের স্বপক্ষীয় জনশক্তি। বিদ্রোহী উপজাতীয়দের বিপক্ষে এই সপক্ষীয় জনশক্তির প্রতিষ্ঠা রাষ্ট্রীয়ভাবে কাম্য।

১৯৮৬ সাল আমলে বিদ্রোহী শান্তিবাহিনীর মদদে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ব্যাপক আকার ধারণ করে। তাতে উপদ্রুত বাঙ্গালীরা মারমুখী হয়ে ওঠে এবং দাঙ্গা উপদ্রুত উপজাতীয়রাও বিপুল সংখ্যায় শরণার্থীরূপে ভারতমুখী হতে শুরু করে। এই বিরূপ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বাঙ্গালীদের তাদের বাড়ি-ঘর ও জায়গা-জমি থেকে উঠিয়ে এনে সেনাক্যাম্প সমূহের আশপাশে গুচ্ছগ্রাম গড়ে বসবাস করতে দেন। বাড়ি-ঘর, জায়গা-জমি, ফল-ফসল ও রুজি-রোজগারচ্যুত এই গুচ্ছগ্রামবাসী বাঙ্গালীরা হয়ে পড়ে সরকারী ত্রাণ নির্ভর। ঐ ২৬ হাজার গুচ্ছগ্রামবাসী বাঙ্গালী পরিবারের দাবী হলো, তাদের পুরাতন বাড়ি-ঘর ও জায়গা-জমি ফেরত লাভ, নতুনভাবে পুনর্বাসন নয়। সরকারের দ্বারা প্রকৃত অবস্থার মূল্যায়ন হয়নি। তারা বাস্তবে আবাসিত ও পুনর্বাসিত পার্বত্য চট্টগ্রামবাসী লোক। তাদের স্থানীয় নাগরিকত্ব প্রশ্নাতীত। এদের প্রবীনরা এখানকার অর্ধ শতাব্দী ও তার আরো বেশি সময়ের বাসিন্দা এবং সন্তান-সন্ততিরা জন্মসূত্রে স্থানীয় অধিবাসী।

পর্বতবাসী এই বাঙ্গালীরা সরকার কর্তৃক বার বার বিভ্রান্ত হচ্ছে। এই বিভ্রান্তি সত্ত্বেও তারা স্বপক্ষীয় ভোট ব্যাংক বলে অনুমিত। তবে হালে তাদের ভুল ভাঙছে। একা বিএনপি নয় আওয়ামী লীগকেও তারা উপযুক্ত মূল্য দিতে এখন প্রস্তুত। তারা ভাবছে আওয়ামী লীগ তাদের চির শত্রু নয়। বহু সংখ্যক বাঙ্গালী মরহুম শেখ মুজিবের উৎসাহে এতদাঞ্চলে এসেছে ও বসতি গড়েছে। বিদ্রোহের বিরুদ্ধে প্রথম সেনা ছাউনীর প্রতিষ্ঠাতা হলেন শেখ মুজিব নিজে। আওয়ামী লীগ সরকার প্রধান শেখ হাসিনা, পার্বত্য চুক্তির বিরুদ্ধে বাঙ্গালীদের হরতাল পালনের দিন ঘোষণা করেছিলেন; একজন বাঙ্গালীকেও পার্বত্য অঞ্চল থেকে বিতাড়ন করা হবে না। তার সরকার সন্ত্রাস উপদ্রুত উদ্বাস্তু পাহাড়ী ও বাঙ্গালীদের সবাইকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

পুনর্বাসন তালিকায় গুচ্ছগ্রামবাসী বাঙ্গালীরা অন্তর্ভুক্ত আছে। সরকার কর্তৃক সম্পাদিত পার্বত্য চুক্তিতে সাংবিধানিক ব্যবস্থার পক্ষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ায়, বাঙ্গালীদের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়েছে। সুতরাং পার্বত্য বাঙ্গালীদের একমাত্র মিত্র সংগঠন বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগও তাদের মিত্রের মর্যাদা প্রাপ্ত দল।
এটা কৃতজ্ঞতার বিষয় যে, প্রেসিডেন্ট জিয়া, শেখ মুজিব ও এরশাদ বাঙ্গালীদের সরকারীভাবে পার্বত্য অঞ্চলে আবাস দান করেছেন। তবে এটাও প্রশংসনীয় কাজ নয় যে, ঐ সরকারগুলো জায়গা-জমি বন্দোবস্তি ও হস্তান্তর বন্ধ করে দিয়েছেন। তারা পার্বত্য চুক্তির আপত্তিজনক দফাগুলো বাস্তবায়নে আগ্রহী, গুচ্ছগ্রামবাসী বাঙ্গালীদের সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার দানে নিষ্ক্রিয়, এবং বিদ্রোহী উপজাতীয় পক্ষের তোষামোদে লিপ্ত। এই পরিস্থিতিতে পার্বত্য বাঙ্গালীরা নতুন মিত্র খুঁজতে বাধ্য।

আবার বলি, বাংলাদেশ রাষ্ট্র বাঙ্গালী সংখ্যাগরিষ্ঠতার ফসল। পার্বত্য চট্টগ্রাম তারই ভৌগোলিক অঞ্চল। পার্বত্য চট্টগ্রামের অমুসলিম প্রধান অঞ্চল হওয়া মৌলিক নয়, কৃত্রিম। এ কারণেই ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগকালে এটি ভারতের প্রাপ্য বা স্বতন্ত্র অঞ্চলরূপে স্বীকৃতি লাভ করেনি।

♦ আতিকুর রহমান পার্বত্য বিষয়ক গবেষক ও গ্রন্থপ্রণেতা এবং উপদেষ্টা, পার্বত্যনিউজ ডটকম।

পার্বত্য এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরামর্শ সংসদীয় কমিটির

10393594_783185798379591_277003112317858855_n

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট :

পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সংগঠিত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, খুন ও অপহরণ এবং চাঁদাবাজির ঘটনা বন্ধে সেখানে উপজাতীয় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানোর পরামর্শ দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের প্রেক্ষিতে এই সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে ব্যাপক কর্মসৃজনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড জোরদার করার ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে সকল সরকারি অফিসে শূন্য পদগুলো অবিলম্বে পূরণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। কমিটির সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া, এম আবদুল লতিফ, উষাতন তালুকদার এবং ফিরোজা বেগম চিনু বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

পার্বত্যাঞ্চলের সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, অপহরণ ও বিদ্যমান উপজাতীয় গোষ্ঠীগুলোর কথা উল্লেখ করে বৈঠকে বলা হয়েছে, সেখানে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। সেগুলো উদ্ধার করা জরুরী হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনে পার্বত্যাঞ্চলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে এর মাধ্যমে যেন কোন নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হয় তাও খেয়াল রাখতে হবে।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য এম. আবদুল লতিফ বিজিবির সদর দফতর স্থাপনকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছে তা দু:খজনক উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বলেন, খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ৫১, বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়র-বিজিবি‘র ব্যাটালিয়ন সদর দফতর স্থাপনে উচ্ছেদ হওয়া পাহাড়ি পরিবারগুলোকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে অন্যত্র পুনর্বাসন এবং ভবিষ্যতে কোনো স্থাপনা তৈরির আগে পার্বত্য জেলা পরিষদের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। সংসদীয় কমিটি ভবিষ্যতে এ জাতীয় ঘটনা রোধে মন্ত্রণালয়কে আরও সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছে। পাহাড়ী-বাঙ্গালী সমস্যা মোকাবেলায় জনপ্রতিনিধিদেরও সম্পৃক্ত করারও পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি ।

বৈঠক সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কমিটি পার্বত্য জেলাসমূহের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের সমতলে বদলির পূর্বে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বদলির পরামর্শ দেওয়া হয়। তাছাড়া বদলিকৃত ব্যক্তির স্থলে অন্য কাউকে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত বদলিকৃত ব্যক্তিকে অবমুক্ত না করারও পরামর্শ প্রদান করা হয় বৈঠকে।

পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে পার্বত্য এলাকায় শূন্য পদগুলো পূরণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে। পার্বত্য এলাকার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে চিকিৎসকদের শূন্যপদ পূরণের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্য থেকে এমবিবিএস পাসকৃতদের বিসিএস অথবা এডহক ভিত্তিতে নিয়োগের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

পার্বত্য জেলার মাধ্যমিক স্কুল হস্তান্তর চুক্তি সোমবার

maushi

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির (শান্তি চুক্তি) আলোকে তিন পার্বত্য জেলার মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছে স্থানীয় জেলা পরিষদ। এজন্য তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

তিন পার্বত্য জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তির পর রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম নিজ নিজ জেলা পরিষদের আওতায় পরিচালিত হবে।

বিগত মহাজোট সরকারের আমলে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ তিন পার্বত্য জেলার কাছে হস্তান্তর করা শুরু হয়। শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সরকারি বিভিন্ন দফতরের আলাদা বিভাগ হস্তান্তর অব্যাহত রয়েছে।

শেখ হাসিনার সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর পার্বত্য চুক্তির বিষয়গুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। বীর বাহাদুর সম্প্রতি বলেন, পিছিয়ে থাকা পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষার এ চুক্তি শিক্ষাক্ষেত্রে আম‍ূল পরিবর্তন আনবে। পার্বত্য জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় দেওয়া হলে সেখানকার শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে মনে করেন বীর বাহাদুর।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটির সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির চুক্তি, পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনসমূহের ২২ ও ২৩ নম্বর ধারা এবং প্রথম তফসিল অনুযায়ী মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম হস্তান্তর হচ্ছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) তথ্যমতে, তিন পার্বত্য জেলায় বর্তমানে ২৭৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে। এর মধ্যে ১৮টি সরকারি এবং ২৬১টি বেসরকারি। বেসরকারিগুলোর মধ্যে ১৫৪টি এমপিওভুক্ত।

রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সহিদুল ইসলাম বলেন, চুক্তির ফলে মাধ্যমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, তিন জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় আসলে এখানকার শিক্ষকরাই নিজ নিজ জেলায় চাকরির সুযোগ পাবেন। তবে স্কুলের বই বিতরণ, পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ, শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনেই পরিচালিত হবে।

রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমাবার বেলা তিনটায় সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং উপস্থিত থাকবেন।

সূত্র: বাংলানিউজ২৪.কম, ক্যাটাগরি: অন্যমিডিয়া

চট্টগ্রাম মহানগর আমীরসহ ২১ নেতাকর্মী গ্রেফতারের প্রতিবাদে আগামীকাল তিন পার্বত্য জেলায় জামায়াতে ইসলামীর সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

1006241_445746502188557_739347754_n

জেলা প্রতিনিধি, রাঙামাটি:
জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরের আমীর ও সাতকানিয়ার সাবেক এমপি আ,ন,ম অধ্যাপক শামশুল ইসলাসহ ২১ নেতাকর্র্মী গ্রেফতারের দাবীতে আগামীকাল তিন পার্বত্য জেলায় সকাল সন্ধ্যা হরতাল আহব্বান করেছে দলটি।

জেলা জামায়াত অফিস সূত্রে জানাযায়, গত সোমবার কেন্দ্রীয় নেতা ও চট্টগ্রাম মহানগরের আমীর আ,ন,ম অধ্যাপক শামশুল ইসলামসহ ২১ নেতাকর্মী গ্রেফতারের প্রতিবাদে আগামীকাল বুধবার তিন পার্বত্য জেলায় সকাল সন্ধ্যা হরতাল আহব্বান করে সংগঠনটি।

জামায়াতের রাঙামাটি জেলার আমীর অধ্যাপক আবদুল আলীম মুঠো ফোনে জানান, চট্টগ্রাম মহানগরের আমীর শামশুল ইসলামসহ ২১নেতাকর্মী গ্রেফতারের প্রতিবাদে তিন পার্বত্য জেলায় জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনগুলো একসাথে কাল-সকাল সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন করবে।

রাঙামাটি পৌর জামায়াতের সহ সেক্রেটারী এডভোকেট হারুন অর রশীদ জানান, সরকার অন্যায়ভাবে অধ্যাপক শামশুল ইসলাম আলমসহ ২১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আগামীকাল রাঙামাটিখাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সকাল সন্ধ্যা হরতাল চলবে। তবে জামায়াত একটি আদর্শিক সংগঠন হিসেবে শান্তিপূর্ণ হরতালের প্রতিশ্রুতি দিতে পারি। তাই এ হরতাল পালনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করছি।

পুলিশ সুপার আমেনা বেগম জানান, জামায়াতের গতকাল হরতালের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যদি কেউ অশান্তি সৃষ্টি করে তা হলে পুলিশ প্রশাসন ছাড় দেবে না।