এগুলো দেখার জন্য কি পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেছিলাম?

পিবিসিপি

প্রকৌশলী আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া

আমি প্রতিনিয়ত উদ্বেগ উৎকন্ঠার সাথে লক্ষ্য করছি, যে সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিদের মানবাত্মায় স্নিগ্ধ হাসি ও প্রশান্তির উদ্ভাবক ছিল, সেই সংগঠন এখন কি করে এত হিংসাশ্রয়ী, হটকারী ও বেত্তমিজি আচরণ করছে এবং বীভৎস চেহারা নিয়ে জাতির সামনে উপস্থাপিত হচ্ছে! একজন আরেক জনকে অবাঞ্ছিত করছে।

ব্যক্তি আক্রোশের কারণে নেতৃবৃন্দকে আক্রমণের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। দায়িত্বের মেয়াদকাল শেষ হলেও; দায়িত্ব ছাড়তে বা অন্যকে সুযোগ দিতে নারাজ। আমাদের কী দুর্ভাগ্য! এগুলো দেখার জন্য কি ১৯৯১ সালের ১ নভেম্বর এ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলাম এবং এখনও নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছি এরকম পরিণতি অবলোকন করার জন্য?

ছাত্র পরিষদের নেতা/কর্মী ভাইদের একটু চিন্তা করার জন্য এবং একটু ভাবনার জন্য আমার এ নিবেদন। সকলকে বুঝতে হবে, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের অগ্রযাত্রাকে রুখতে চায় যারা, তাদের গোড়া নিঃসন্দেহে সুদৃঢ়, তারা সাম্রাজ্যবাদীদের ক্রীড়নক, তারা পার্বত্য চট্টগ্রামকে পূর্ব তিমুর বা দক্ষিণ সুদানের ন্যায় পৃথক রাষ্ট্র এর স্বরূপ দানে ব্যাতি ব্যাস্ত।

মুক্তমত

সেই লক্ষ্যে পাহাড়কে যারা অনিদ্র সৈনিকের ন্যায় পাহারারত সেই পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদকে বিভিন্ন মোহে আক্রান্ত করে, তাদের পারষ্পারিক অর্ন্তঃদ্বন্দ্বের প্রতি সুদৃষ্টি নিবন্ধন সাপেক্ষে, ছাত্র পরিষদকে নিজেদের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টির মাধ্যমে সংগঠনের মধ্যে অস্বাভাবিক ও ক্রমাগত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।

আসলে আমরা জানি হিংসার রাজনৈতিক ফল সুখকর নয়।যারা এগুলোতে সহায়তা করছে তাদের পিছনের শক্তির উৎসগুলোর মূল শিকড় কোথায়? কারা এবং কেন এ উস্কানি দিচ্ছে? নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী কারা?

কারা ঠান্ডা মাথায় আমাদের তরুণদেরকে অস্বাভাবিক ভ্রান্ত বানিয়ে সহোদরদের মুখোমুখী দাঁড় করাচ্ছে?
আমরা দেখছি তারা প্রতিনিয়ত হিংস্র ও জিঘাংসা পূর্ণ হয়ে উঠছে। আসলে প্রত্যেকের বোঝা উচিত ছিল- হিংসা এবং অহংকারের রাজনীতির ফল সুখকর হয় না ।

আমাদের কী দুর্ভাগ্য! পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ এর বতর্মান নেতৃবৃন্দকে দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টির মাধ্যমে সংগঠনের মধ্যে ক্রমাগত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। লোভী, ছাত্র নামধারী ব্যবসায়ী এবং মোহআক্রান্ত ষড়যন্ত্রকারী, ভাতৃঘাতি দ্বন্দ্বে লিপ্ত যারা এগুলো করছে, তাদের খুজেঁ বের করার এবং ষড়যন্ত্র নির্মূল করার জন্য চিন্তাশীল, দেশপ্রেমিক, নির্লোভ নেতৃত্ব ও বাঙালি ভাইদের প্রতি আহব্বান জানাচ্ছি।

ষড়যন্ত্রকারী অবশ্যই নোংরা রাজনৈতিক প্রভাব পুষ্ট, তারপরও আমি আশা করি ইতোপূর্বে পার্বত্যবাসীর দূর্যোগ-দুর্বিপাকে পার্বত্য বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঐ সব অপশক্তিকে রুখে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা বিভিন্ন সময়ে প্রমাণ করেছে,পার্বত্য বাঙালিরা ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস-বাঙালি জাতি পারষ্পারিক অর্ন্তদ্বন্দ্বের কথা ভুলে গিয়ে,প্রতিহিংসামূলক আচরণ ছেড়ে দিয়ে জাতির এ ক্রান্তিকালের কথা চিন্তা করে দেশপ্রেমে অবিচল থেকে পার্বত্যবাসির জন্য ভাবুক। কবিমন নিয়ে বাংলাদেশের এক দশমাংশ রক্ষায় দীপ্ত শপথে এগিয়ে আসবে। ভুলে যাবে সব ভাই/বন্ধুদের দেওয়া যতকষ্ট, ভুলে যাবে সব না পাওয়ার বেদনা, মুছে ফেলবে হৃদয়ের প্রাপ্ত সব গ্লানি। প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে এ আমার বিনীত মিনতি।

♦ প্রকৌশলী আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া: প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি, চেয়ারম্যান,পার্বত্য নাগরিক পরিষদ।

৪ সেপ্টেম্বর পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনের বৈঠক

সংশোধিত কমিশন আইন বাতিলের দাবীতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খাগড়াছড়ি বাঙালি ছাত্র পরিষদের স্বারকলিপি

Khagrachari Picture(02) 28-08-2016

নিজস্ব প্রতিবেদক::

আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন বৈঠকে বসছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিশনের সচিব মো: রেজাউল করিম। তবে এখনো এ সংক্রান্ত চিঠি ইস্যু হয়নি।একইভাবে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান।

দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দুই বছর পর এটি হবে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনের ৫ম চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার-উল হকের প্রথম বৈঠক। ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের এই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে পার্বত্য ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই মাসে ১৩(সেপ্টেম্বর) তিনি খাগড়াছড়ি এসে যোগদান করেন। তবে আইন সংশোধনের পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদসহ পাহাড়ি সংগঠনগুলোর দাবীর মুখে তিনি এতোদিন কাজ শুরু করতে পারেন নি।


ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন সংক্রান্ত আরো খবর

  1. ♦  আদিবাসী প্রসঙ্গ এবং ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন
  2.  ভূমি কমিশন আইন: পার্বত্যাঞ্চল থেকে বাঙালী উচ্ছেদের হাতিয়ার
  3.  ভূমি কমিশন আইন-২০১৬ কার্যকর হলে জুম্ম ল্যান্ডের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে- মে. জে.(অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইব্রাহীম বীরপ্রতীক
  4.  ভূমি কমিশন আইন পাশের নামে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে- ওয়াদুদ ভুঁইয়া
  5.  ‘ভূমি কমিশন (সংশোধীত) আইনে অনিশ্চয়তার মুখে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও বাঙালীর ভবিষ্যৎ’
  6.  কি ঘটবে পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন সংশোধন প্রস্তাব কার্যকর হলে?
  7.  পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন এবং কিছু প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন?
  8.  পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন- ২০১৬ অধ্যাদেশ জারি
  9.  ভূমি কমিশন আইন সংস্কার: আদালতের কার্যপরিধি খর্ব হওয়ার আশংকা
  10.  ভূমি কমিশন সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদন: নীরব বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলো
  11.  ভূমি কমিশন আইন সংশোধনে প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার খর্ব
  12.  পার্বত্য ভূমি কমিশনের কার্যক্রম অচল!

অবশেষে গত ১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ভেটিং সাপেক্ষে ‘পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ৯ আগস্ট তা অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

Khagrachari Picture(01) 28-08-2016

এদিকে সংশোধিত পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন আইন বাতিলের দাবীতে আজ রবিবার সকালে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বারকলিপি দিয়েছেন। বেলা ১১টায় খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামানের মাধ্যমে এ স্বারকলিপি দেওয়া হয়।

এ সময় পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইন উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এস এম মাসুম রানা, যুগ্ম সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম,সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মোসতফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।

বাঙালী সংগঠনগুলোর দাবী সংশোধিত ভূমি কমিশন আইন বাস্তবায়ন হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, সরকারের কর্তৃৃত্ব খর্ব হবে। এই ভূমি কমিশনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালীর অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে ১৯৯৯ সালের ৩ জুন গঠিত ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনের প্রথম চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক চৌধুরী কার্যভার গ্রহণের আগেই মারা যান। ২০০০ সালের ৫ এপ্রিল পুনর্গঠিত কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি আবদুল করিম কার্যভার গ্রহনের কিছুদিন পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেন।

২০০১ সালের ২৯ নভেম্বর তৃতীয় দফায় পুনর্গঠিত কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মাহমুদুর রহমান ২০০৭ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির(জেএসএসের) বিরোধিতার কারণে কাজ শুরু করতে পারেননি। জেএসএসের দাবী ছিল আইন সংশোধন।

২০০৯ সালের ১৬ জুলাই বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীকে তিন বছরের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ছিলেন,কমিশনের ৪র্থ চেয়ারম্যান। তার মেয়াদ শেষ হয় ২০১২ সালের ১৮ জুলাই। এর টানা প্রায় দুই বছর কমিশন ছিল শুন্য।

বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহনের পর প্রথম দিকে পার্বত্য জেলায় ভূমি জরিপের জন্য উদ্যোগ নিলে সন্তু লারমাসহ কমিটির সদস্যও পাহাড়ি সংগঠনগুলোর আপত্তির মুখে পিছু হটেন। পরবর্তীতে তিনি বিরোধ নিস্পত্তির জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করলে প্রায় সাড়ে চার হাজার আবেদন জমা পড়ে। আবারও আপত্তির মুখে পড়েন।

কিন্তু চেয়ারম্যান তার অবস্থানে অনঢ় থাকলে কমিশনের আইন সংশোধন ও পাহাড়িদের প্রথাগত ভূমি অধিকার নিশ্চিত করার দাবীতে কমিটির অন্যতম সদস্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির(জেএসএস) একাংশের প্রধান ও আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ওরফে সন্তু লারমা কমিশনের আইন সংশোধনের দাবীতে বৈঠক বর্জন শুরু করে। এর পর থেকে অপরাপর পাহাড়ি সদস্যরাও ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনের বৈঠক বর্জন শুরু করলে কমিশন অকার্যকার হয়ে পড়ে।

পাশাপাশি ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’র (ইউপিডিএফ) ও জুম্ম প্রতিনিধি সংসদসহ পাহাড়ি সংগঠনগুলোও একই দাবীতে আন্দোলনে নামে। কিন্তু কমিশন চেয়ারম্যান বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী আইনের বিশেষ বিধান বলে শুনানী অব্যাহত রাখেন।

আবারো ভাঙনের মুখে পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ!

পিবিসিপি

মুজিবুর রহমান ভুইয়া :

বিবাহিত, সন্তানের পিতা, অছাত্র, ব্যবসায়ী, অপার্বত্যবাসী, অগণতান্ত্রিক পকেট কমিটি, টাকা নিয়ে কমিটি করা প্রভৃতি অভিযোগে আবারো ভাঙনের মুখে পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বাঙালী সংগঠন পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত হবার সাথে সাথে এই ভাঙনের সুর বাজতে শুরু করেছে। তবে ভাঙনের রেখা দেখা গিয়েছিল গত ২৫ এপ্রিল কাউন্সিলের দিনেই।

নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে। এ নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিতে শুরু করেছেন সংগঠনটির তৃনমুল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলের কেন্দ্র থেকে তৃনমুল পর্যন্ত চলছে টানাপোড়েন- যার রেশ পৌঁছেছে উপদেষ্টাদের মধ্যেও।  এনিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ভাঙ্গনের মুখে পড়তে যাচ্ছে পাহাড়ের বাঙ্গালীদের পক্ষে সোচ্চার সংগঠন হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ-পিবিসিপি। এর আগেও ২০১৩ সালের শেষদিকে তৎকালীন সভাপতি ইসমাইল নবী শাওনকে অব্যাহতি ও খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করার কারণে একবার ভাঙ্গনের মুখে পড়েছিল এ সংগঠনটি। সে যাত্রায় নানা ঘ্টনার পর কোনোমতে রক্ষা পেলেও এবার পাল্টা সংগঠন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন সংগঠনটির বিক্ষুব্ধ নেতারা। আর এ নিয়ে প্রকাশ্য মুখ খুলেছেন খাগড়াছড়ি জেলা পিবিসিপি‘র সাবেক সভাপতি ও সদ্য ঘোষিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো: আবদুল মজিদ। নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদককে ময়মনসিংহের বাসিন্দা বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগ সভাপতির বিরুদ্ধেও। তিনি বিবাহিত ও সন্তানের পিতা বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সদস্য পার্বত্যনিউজের কাছে অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের পর গেল বৃহস্পতিবার পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের পুর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে রাঙ্গামাটির সাব্বির আহমেদকে সভাপতি, খাগড়াছড়ির পানছড়ির সারওয়ার জাহান খানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেয় পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের উপদেষ্টা সংগঠন পার্বত্য নাগরিক পরিষদ। সংগঠনটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা কমিটি এ অনুমোদন প্রদান করে।

এ নিয়ে সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো: আবদুল মজিদ পিবিসিপি‘র এ কমিটিকে ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভুইয়া ও শেখ আহাম্মেদ রাজুর পকেট কমিটি দাবী করে এ প্রতিনিধিকে বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে টাকা নিয়ে কমিটি দেয়ার যে প্রবণতা রয়েছে তা এখন পিবিসিপিতেও ভর করেছে। সংগঠনের সদ্য ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদককে ময়মনসিংহের বাসিন্দা দাবী করে বলেন, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য ময়মনসিংহ থেকে লোক আনতে হবে সে পরিস্থিতি এখনো তৈরী হয়নি। পাহাড়ের মানুষ বহিরাগত কারো নেতৃত্ব মানবে না বলেও দাবী করেন তিনি। উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি আলকাস আল মামুনকে জামায়াতের রোকন, আতিকুর রহমানকে বান্দরবানের জামায়াত নেতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত নেতাদের পকেট কমিটির বিরোধিতা করে চলে এসেছিলাম রাঙামাটি থেকে। জামায়াত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জামায়াতের মধ্যে বন্দী থাকা যাবে না। পিবিসিপি আগেও তো জামায়াত ডমিনেটেড ছিলো তখন প্রতিবাদ করেন নি কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল মজিদ বলেন, তারা বলেছিল জামায়াতিকরণ করবে না, এখন দেখতে পাচ্ছি তারা জামায়াতিকরণ করে ফেলেছে। সারোয়ার দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ছিল তখন বিরোধিতা করেননি কেন জানতে চাইলে আবদুল মজিদ বলেন, তখনো বিরোধিতা ছিল। এ কমিটির সাথে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ এখন নতুন কিছু করতে চায়।

খুব শীঘ্রই বাঙ্গালীদের স্বার্থ রক্ষায় নতুন সংগঠন করার কথা জানিয়ে পিবিসিপি নেতা মো. আবদুল মজিদ বলেন, রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে শুধুমাত্র বাঙ্গালীদের পক্ষে কথা বলাই হবে সেই সংগঠনের কাজ। যেখানে কোন ভাড়াটিয়া নেতৃত্ব নয়, পাহাড়ের নেতৃত্বই প্রতিষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে সংগঠনের প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করলেও এর বেশী কিছু তিনি জানাতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য গঠিত কমিটির সভাপতি মো: সাব্বির আহমেদ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পার্বত্যনিউজকে বলেন, সারওয়ার জাহান খান দীর্ঘদিন ধরেই এ সংগঠনের জন্য কাজ করে আসছে। তবে তিনি উপদেষ্টা কমিটির সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে এর বেশী কিছু বলতে রাজি হননি।

যোগাযোগ করা হলো পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ-পিবিসিপি‘র সদ্য নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার জাহান খান নিজেকে খাগড়াছড়ি বাসিন্দা এবং পাহাড়ের ভোটার দাবী করে পার্বত্যনিউজকে বলেন, আমার বেড়ে ওঠা, লেখাপড়া সবকিছুই পাহাড়ে। যাদের ছাত্রত্ব নেই বা স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে তারাই আমাকে ময়মনসিংহের বাসিন্দা বলে প্রচার করছে। তিনি নিজেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা দাবী করে বলেন, আমার বাবা দীর্ঘদিন পানছড়ি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলেন। তবে কেন তার বাবা স্ব-পরিবারে ময়মনসিংহ ফিরে গেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সারওয়ার জাহান খান বলেন, আমার বাবা চিকিৎসার জন্য অন্যদের সাথে নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি তার বিরুদ্ধে দেয়া সব বক্তব্যকে স্রেফ অপ-প্রচার বলেও দাবী করেন।

এদিকে পকেট কমিটি দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভুইয়া পার্বত্যনিউজ‘র এ প্রতিনিধিকে বলেন, তৃণমুলের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে গঠনতন্ত্র মেনেই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখানে আমার নয় পাহাড়ের অধিকারহারা মানুষের স্বার্থের কথা ভেবেই সব করা হয়েছে। ছাত্র পরিষদে অছাত্র নেতৃত্ব কেউই সমর্থন করে না। অতীতের যেকোন সময়ে চেয়ে এবারের কমিটিকে অনেক বেশী শক্তিশালী দাবী করে বলেন, এ কমিটি আমি এককভাবে অনুমোদন দিইনি, উপদেষ্টা পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমেই অনুমোদন দিয়েছে।

শান্তিচুক্তি নিয়ে পাহাড়ে অশান্তি করলে চুক্তি করা বাতিল হবে- মে. জেনারেল ইব্রাহিম বীরপ্রতীক

বান্দরবানে বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের প্রতিনিধি সম্মেলন: নতুন কমিটি গঠন

Bandarban Bangali porisod pic- 23.5

স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান:
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মু. ইব্রাহিম বীর প্রতীক বলেছেন, সরকার শান্তিচুক্তি করেছে পাহাড়ের সাধারণ জনগন শান্তিতে বসবাসের জন্য। চুক্তির পরও পাহাড় অশান্ত রয়েছে। পাহাড়ে চলছে হত্যা, গুম, খুন ও চাঁদাবাজি। তিনি বলেন, শান্তিচুক্তির পরও কতিপয় সন্ত্রাসীরা অধিকারের নামে পাহাড়কে অশান্ত করে  রেখেছে। সন্ত্রাসীরা যদি পাহাড়কে অশান্ত করে রাখে সরকার যে কোন সময় চুক্তি বাতিলও করার ক্ষমতা রাখে। শুক্রবার বঙ্গবন্ধু মঞ্চে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ বান্দরবান জেলা শাখার প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় অন্যন্যদের মাঝে বান্দরবান প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যাপক মো. ওসমান গনি, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আলকাস আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. ইয়াকুব আলী চৌধুরী, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোমিনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সওরয়ার জামান, বান্দরবান নাগরিক পরিষদের সভাপতি আতিকুর রহমান, বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের বিদায়ী জেলা সভাপতি কামরান ফারুক প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথি বলেন, চুক্তি শান্তিচুক্তি কে অপব্যাখ্যার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করতে লিপ্ত রয়েছে একটি গোষ্ঠী। পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গেরিলা নেতাদের সাথে অনেক আলোচনা ও বৈঠক করেছি। তার ধারা বাহিকতায় ১৯৯৭সালে ২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গেরিলা নেতা সন্তু লারমা সাথে শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়। কিন্তু এই শান্তিচুক্তি সস্পাদনের পর একটি গোষ্ঠী চুক্তির অপব্যাখ্যা করে পার্বত্য এলাকা আবার অশান্ত করে ফায়দা লোটার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যুগ যুগ ধরে ভূমি জরিপ বন্ধ রয়েছে। যতদ্রুত সম্ভব পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি জরিপ কার্যক্রম চালু করা হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকাংশই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন,দীর্ঘ ২৫বছর যাবৎ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচন বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রতিটি পার্বত্য জেলা পরিষদে ভাইস চেয়ারম্যানের পদ সৃষ্টি করে এবং এই পদে বাঙ্গালীদের অগ্রাধিকার দিয়ে জেলা পরিষদগুলোর নির্বাচনের দাবী জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের বান্দরবান জেলা কমিটি ঘোষনা করা হয়। আব্দুল কাইয়ূমকে সভাপতি, মো. রিদুয়ানুল হককে সাধারণ সম্পাদক এবং মো. হাসানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।