রাঙামাটিতে পাচারকালে ১৭ গাড়ি জ্বালানী কাঠ আটক করেছে যৌথবাহিনী

কাঠ পাচার

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি শহরের মানিকছড়িতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানী কাঠসহ ১৭টি চাঁদের গাড়ি নামে পরিচিত খোলা জীপ আটক করেছে সেনাবাহিনী নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী। আজ শনিবার সকালে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ হাজার ঘনফুট জ্বালানী কাঠ আটক করা হয়।

রাঙ্গামাটি বনবিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, আটককৃত জ্বালানী কাঠ ও খোলা জীবগুলো বন বিভাগে কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করা হয়েছে। বন আইনে মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার সকালে শহরের মানিকছড়িস্থ আমছড়ির মুখে সেনাবাহিনীর রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডারের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে সেনাবাহিনী, বনবিভাগ ও পুলিশের একটি যৌথ টিম।

এসময় সেখানে পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ১৭টি চাঁদের গাড়িসহ বিপুল পরিমান জ্বালানী কাঠ জব্দ করে যৌথবাহিনীর টিম। এসময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। জব্দকৃত জ্বালানী কাঠের বাজার মূল্য আনুমানিক ৫০ লাখ টাকা বলে বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

কক্সবাজারে সমুদ্র পথে ইয়াবা পাচার, এক সপ্তাহে জব্দ প্রায় ১১ লক্ষ আটক- ৮

ইয়াবা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

মাদক ব্যবসায়ীরা নানা কৌশল অবলম্বন করছেন ইয়াবা পাচারে। প্রশাসনও বসে নেই। তারা প্রতিনিয়ত আটক করছেন পাচারকারীদের আর সেই সাথে জব্দ করছেন ইয়াবা। সপ্তাহে কয়েকবার অথবা পুরো সপ্তাহ জুড়ে এ আটক ও জব্দের ঘটনা ঘটছে। এর পরেও বন্ধ হচ্ছে না ইয়াবা পাচার। সাম্প্রতিক সময়ে মাদক ব্যবসায়ীরা সড়ক পথে সুবিধা করতে না পেরে বেছে নিয়েছে আকাশ ও সমুদ্র পথ।

বিশেষ করে সমুদ্র পথে ইয়াবা পাচারের ঘটনা ঘটছে বেশি। এক সপ্তাহের মধ্যে সমুদ্র পথে পাচার হওয়া বড় ২ টি ইয়াবা চালান জব্দ করেছে র‌্যাব-৭ ও কোস্টগার্ড এর সদস্যরা। আর এ সময় আটক করেছে ৮ জনকে এবং জব্দ করেছে পাচার কাজে ব্যবহৃত ফিশিং বোট।

খবর নিয়ে জানা যায়, মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচারে সবচেয়ে সুবিধা জনক মাধ্যম হল সমুদ্র পথ। এ পথদিয়ে মাছ ধরার নৌকা দিয়ে ইয়াবা পাচার হচ্ছে। বোটে মাছ ধরার জালসহ সবধরনের সরঞ্জাম থাকলেও মাছ ধরার পরিবর্তে চলছে ইয়াবা পাচার। অসাধু বোট ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় ফিশিং বোট ব্যবহার করছে মাদক পাচারে। আর মাদক ব্যবসায়ীরাও সেই পথকে উপযুক্ত মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে।

মিয়ানমার থেকে আসা এসব ইয়াবা সমুদ্র পথ হয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এদিকে সমুদ্র পথে মাদক পাচারের খবর জানতে পেরে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। তারা একের পর এক অভিযান চালাচ্ছে পাচারকারীদের আটক ও জব্দ করতে ইয়াবা।

ফলোআপএরই ধারাবাহিকতায় বুধবার ভোর থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত শহরের কলাতলী পয়েন্টস্থ সমুদ্র সৈকতে কোস্টগার্ড অভিযান চালিয়ে ৭৫ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেছে। এ সময় জব্দ করা হয় এফবি ফোরস্টার নামে ইয়াবা পাচার কাজে ব্যবহৃত একটি ফিশিং বোট। তবে এ সময় কাউকে আটক করা যায়নি।

কোস্টগার্ডের সাব-লেফটেন্যান্ট এমএ হাসেম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিকে ইয়াবা পাচারের কাজে ব্যবহৃত ফিশিং বোট এফবি ফোরস্টারটি ধাওয়া করা হয়। এ সময় পাচারকারীরা বস্তাভর্তি ইয়াবা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে সেসব ইয়াবা জব্দ করা হয়। তবে কাউকে আটক করা যায়নি।
এছাড়া গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত র‌্যাব অভিযান চালিয়ে বঙ্গোপসাগরের একটি মাছ ধরার ট্রলার থেকে ১০ লাখ ইয়াবা জব্দ করে। এ ঘটনায় কক্সবাজার ও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রলারের মালিকসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরার হলেন, ট্রলারের মাঝি আব্দুস সালাম (৫৫), মো. শফিক (৩৫), আব্দুর রহিম বার্মা (৩০), মিয়ানমারের নাগরিক মো. কামাল (৪২), ট্রলার মালিক সৈয়দ আলম (২৫), জয়নাল আবেদীন (২৫), রবিউল আলম (২৬) ও মো. ইসলাম মামুন (২৭)।

র‌্যাব ৭ এর অধিনায়ক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতা উদ্দিন জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দুরে গভীর সমুদ্র থেকে এফবি ইমন নামের ট্রলারটিকে ধাওয়া করে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে কোল্ড স্টোরেজের ভেতরে ছয়টি বস্তায় ভরে রাখা ইয়াবাগুলো পাওয়া যায়। আর তখনই মাঝি সালাম, শফিক, রহিম ও কামালকে আটক করা হয় পরে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের আটক করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কক্সবাজার শুবোধ কুমার বিশ্বাস জানান, প্রশাসন বরাবরেই সক্রিয় রয়েছে মাদকদ্রব্য পাচার রোধে। এরপরেও মাদক ব্যবসায়ীরা নানা কৌশল অবলম্বন করছেন ইয়াবা পাচারে।

বিজিবি’র সাথে সম্পর্ক ছিন্নের হুমকি দিল মায়ানমারের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী

Bandarban-Bjb-Bjp boitok 21.5

স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান:

বিজিবি’র সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিলেন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি। মিয়ানমারের সন্ত্রাসীরা যদি বাংলাদেশের সীমান্ত ব্যবহারের সুযোগ পায় তাহলে বিজিপি বিজিবি’র সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দেয়।

সন্ত্রাসী তৎপরতা দমন নিয়ে গতকাল  বুধবার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির লেম্বুছড়ি সীমান্তে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিজিবি ও মায়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর বিজিপির (বর্ডার গার্ড পুলিশ) মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত এই পতাকা বৈঠকটি গতকাল দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে আড়াইটায় শেষ হয়।

লেম্বুছড়ি সীমান্তের ৫০নং পিলারের কাছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাহির মাঠ এলাকায় এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন কক্সবাজারের বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল খন্দকার ফরিদ হোসেন। মায়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিপির পক্ষে নেতৃত্ব দেন মংডু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল টিং কোকো। বৈঠকে নাইক্ষ্যংছড়ি কক্সবাজার ও টেকনাফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডারগণসহ বিজিবি ও বিজিপির স্থানীয় উর্ধতন কর্মকর্তারা উপন্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী বাহিনীর তৎপরতা ও মায়ানমারের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর সাথে সংঘর্ষের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সীমান্তে সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে মায়ানমারের বিজিপি ও বাংলাদেশের বিজিবি উভয়ই একে অপরের সহযোগিতা চেয়েছে। এছাড়া সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ মাদক পাচার নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে।

তবে মায়ানমারের বিজিপির পক্ষ হতে বৈঠকে জানানো হয়, সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশের ভূখন্ড ব্যবহার করে তাদের উপর হামলা করছে। সন্ত্রাসীদের কোনভাবেই যাতে সীমান্ত এলাকা ব্যবহারের প্রশ্রয় দেয়া না হয় তার জন্য বিজিবির কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করে মায়ানমারের বিজিপির কর্মকর্তা। তারা জানায়, এর পর থেকে কোন ঘটনা ঘটলে তারা বিজিবি’র সাথে সম্পর্ক রাখবে না।

উল্লেখ্য, এ সপ্তাহের শুরুতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের আশারতলি ও বাশিফাঁড়ি এলাকায় জিরো পয়েন্টের কাছে একদল সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে মায়ানমারর বিজিপির সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার পর উভয় দেশই সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে।

টেকনাফে ৫৪ যাত্রী ৮ ক্রু ও ৪ দালাল আটক

teknaf mal.20.05

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার/ টেকনাফ প্রতিনিধি
সেন্টমার্টিনের অদূরে ৫কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ২টি ট্রলার সহ ৫৪ মালয়েশিয়া যাত্রী, ৮ ক্রু ও ৪ দালাল আটক করেছে কোস্টগার্ড। আজ মঙ্গলবার ভোর ৫টায় অভিযান চালিয়ে এ ৬৬ জনকে আটক করে কোস্টগার্ডের একটি টহল দল। কোস্টগার্ডের ভাষ্য, আটক হওয়া ব্যক্তিরা সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় তাঁদের বহনকারী দুটি ট্রলারও আটক করা হয়। কোস্টগার্ডের দাবি, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে  আটক ব্যক্তিরা অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন দালাল ও আটজন মাঝিমাল্লা।

কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল ২ মে ভোরে কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশনের লেফটেন্যান্ট কাজী হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে দুটি স্পিডবোটে সেন্ট মার্টিনের পাঁচ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বঙ্গোপসাগরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ট্রলার দুটি থেকে আটজন মাঝিমাল্লা ও চারজন দালাল এবং ডেকের ভেতর থেকে ৫৪ জন যাত্রীকে আটক করা হয়। আটক হওয়া মাঝিমাল্লা ও যাত্রীদের মধ্যে দুজন মিয়ানমারের নাগরিক। চারজন দালাল ও অন্যরা বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ, সাভার, নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ, যশোর ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লে. হারুনুর রশিদ জানান, কোস্টগার্ডের একটি টহল ওই ট্রলার দুটি সন্দেহজনক মনে হলে তাদেরকে চার্জ করে। পরে ট্রলারের যাত্রীরা স্বীকার করে তারা মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে। তাদেরকে উপকূলে এনে মামলা করার পর টেকনাফ থানায় সোপর্দ করা হবে।

 

 

নাইক্ষ্যংছড়ির ৯টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে আসছে ইয়াবা : প্রকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ধরাছোয়ার বাইরে

pic-19,05.14

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:
বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৯টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মায়ানমার থেকে আসছে ইয়াবা । বর্তমানে ওই পয়েন্ট গুলিতে ১২টি চোরাচালানী সিন্ডিকেট সক্রিয় । জানা যায়,সীমান্তরক্ষী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে আড়াল করে ইয়াবা পাচারকারীরা নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্ত পয়েন্ট গুলোকে নতুন পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে । বর্তমানে  নাইক্ষ্যংছড়ির  ৯টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বানের স্রোতের মত আসছে ইয়াবা, অস্ত্র ও হরেক রকম বিদেশী মাদক । ফলে বাংলাদেশ- মিয়ানমার- থাইল্যান্ড- লাউস ভিত্তিক আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃত মাদক ও অস্ত্র পাচারের অন্যতম রুট ফের চাঙ্গা হয়ে উঠেছে ।

অনেক দিন ঝিমিয়ে থাকার পর এই রুট দিয়ে ব্যাপক হারে অস্ত্র,ইয়াবা ও মাদক পাচার শুরু হয়েছে । অন্যদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি, টেকনাফ,উখিয়ার মধ্য বয়সী ও টিনেজ ছেলেরা কাচাঁ টাকার লোভে এসব মাদক পাচারের কাজে ব্যবহ্নত হচ্ছে বলে জানা গেছে ।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মায়ানমার সীমান্ত ৯টি সীমান্ত পয়েন্টে বর্তমানে ১২টি চোরাচালানী চক্র সক্রিয়ভাবে ইয়াবাসহ মাদক পাচারে জড়িত রয়েছে । সিন্ডিকেটগুলো হচ্ছে, দেলোয়ার -কামাল সিন্ডিকেট , সাইফুল-লাইতুচিং সিন্ডিকেট , উজ্জ্বল -আলী হোসেন সিন্ডিকেট, বিষ্ণ কুমার দাশ – জয়নাল সিন্ডিকেট, মৌলভী সালেহ- ফয়েজ উল্লাহ সিন্ডিকেট, ইউনুছ-নুর হোসেন মেম্বার সিন্ডিকেট ,ক্যারালা অং- সেলিম সিন্ডিকেট, মেকানিক নুরুল আলম-সালেহ আহমদ সিন্ডিকেট, ফরিদ উল্লাহ-মৌলভী শাহজাহান সিন্ডিকেট , সুমন-মো. নুর সিন্ডিকেট, শামসুল আলম- ইকবাল সিন্ডিকেট, রফিক-লিটন সিন্ডিকেট। প্রত্যেক সিন্ডিকেটের সদস্য সংখ্যা ১০-১২ জন ।

জানা যায়, এসব পাচারকারীরা আশারতলীর (৪৭ নং পিলার) পর্দান ঝিরি থেকে এই ইয়াবা সংগ্রহ করে । পরে বাইক যোগে উপজেলা সদরের মসজিদ ঘোনা মজুদপূর্বক সুযোাগ বুঝে সিন্ডিকেটের অপর সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পাচার করে দেয় । উল্লেখিত ব্যক্তিরা প্রতিরাতে বাইকের সিট কভারের ভিতর ,পাজারো, মাইক্রো, জিপ বাস যোগে ইয়াবা পাচার করে আসছে ।

পয়েন্টগুলো হচ্ছে, চাকঢালার ৪৩ নং সীমান্ত পিলার, দ : চাকঢালার কাসিম এর বাড়ী এলাকা, আশারতলীর ৪৪ নং, চেরারকূলের ৪৫ নং , কম্বনিয়ার ৪৬ নং, ৪৭ নং পর্দান ঝিরি , ৪৮ নং ফুলতলী , ৪৯ নং ভাল্লুখ খাইয়া , দৌছড়ির পাইন ছড়ি ৫২ নং, ৫১ নং কোলাচি , ঘুমধুমের বাইশ ফাড়ি,তুমরু । জানা যায়, সোনাইছড়ির লাইতুছিং মার্মা ও ওই এলাকার ফখরুল আলমের পুত্র সাইফুল ইসলাম চাকঢালার ৪৩ নং পিলার দিয়ে ফরিদের মাধ্যমে সিএনজি যোগে প্রথমে জারুলিয়াছড়ি পরে সোনাইছড়ির মারিগ্যা পাড়া দিয়ে থোয়াইঙ্গা কাটাঁ দিয়ে কক্সবাজার পাচার করে দেয় ।

সোনাইছড়ির বাসিন্দা ও বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যানিং মার্মা বলেন, সোনাইছড়ির মারিগ্যা পাড়া দিয়ে থোয়াইগ্যা কাটাঁ ইয়াবা পাচারের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে । গুটিকয়েক ব্যক্তি এই ব্যবসা করে সুন্দর এই উপজাতীয় এলাকাটির পরিবেশ নষ্ট করছে ।  প্রধান সড়কে তল্লশি জোরদার করা হলে ,ইয়াবা ব্যবসীরা দৌছড়ির পাইন ছড়ি,কোলাচির সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা সংগ্রহ করে কৌশলে কক্সবাজার, চট্রগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের প্রভৃতি জায়গায় পাচার করে দেয় ।

সম্প্রতি ওই এলাকা থেকে ইয়াবা পাচার কালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের ফজল কবিরের পুত্র ইকবালকে চট্রগ্রাম ডিবি পুলিশ আটক করে । ইয়াবা পাচারে মায়ানমার সীমান্তবর্তী বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার শতাধিক অল্প বয়সী যুবক, ছাত্র, বিবাহিত-অবিবাহিত নারী, সরকার দলীয় শতাধিক নেতা-কর্মী, টেকনাফ-উখিয়ার ৫জন সাংবাদিক, কিছু সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত বলে সরকারী ৪/৫টি প্রতিবেদন থেকে জানা যায় ।

গত ৬ মে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার ইয়াবা পাচার ও ইয়াবা পাচারে সহযোগিতাকারীদের একটি প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদন নিয়ে খোদ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা দ্বিমত পোষণ করেন । ওই প্রতিবেদনে প্রকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ী ও পাচারে সহযোগিতাকারীগণ ধরাছোয়ার বাইরে থেকে গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায় । এই প্রতিবেদন নিয়ে পুলিশ বাহিনীতেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে ।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার দেবদাশ ভট্রাচার্য বলেন, কক্সবাজার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ইয়াবা পাচারে সহযোগিতাকারীদের তালিকা থেকে রেহায় দিতে এই বিভান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করে । প্রতিবেদনে নাইক্ষ্যংছড়ির ওসিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে । মূলত: নাইক্ষ্যংছড়ির ওসি রফিকুল ইসলাম গত ২০১২ সালের বৌদ্ধ মন্দির হামলার পরবর্তী ওই উপজেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ওই মামলা গুলির আসামীদের ধরতে চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে তাকে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় পাঠানো হয় । পুলিশ বাহিনীতে ওসি রফিকুল ইসলামের দীর্ঘ সুনাম রয়েছে ।

এছাড়া ২০১০ সালে কক্সবাজার জেলার উখিয়ার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ’র দায়িত্বপালনকালে উখিয়া এলাকায় ৩টি অস্ত্রসহ ৯জন দুর্ধষ ডাকাতকে হাতে নাতে আটক করার পুরস্কার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পুলিশের সর্বোচ্চ  পিপিএম পদক প্রদান করেন । পুলিশ বাহিনীতে দক্ষ ,সৎ ও নিষ্ঠাবান পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে । অপরাধী ও মাদক পাচারকারীকে তিনি কখনও প্রশ্রয় দিতেন না । প্রতিবেদনে বান্দরবান জেলার প্রধান ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে নাইক্ষ্যংছড়ির সোলাইমান সওদাগরের পুত্র কামাল উদ্দিন ও বহিরাগত মোশারফ হোসেনের ছত্রছায়ায় আশারতলি, লেমুছড়ি ও ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা চালান আসে এবং বিভিন্ন স্থানে মাইক্রোবাস ও মোটর সাইকেলযোগে সরবরাহ করা হয়।

বান্দরবান জেলা শহরে পাচারকারী দলের সদস্য হিসেবে আবু তাহের, রুস্তম, নাইক্ষ্যংছড়ির ব্যবসায়ী পাড়ার কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ফরিদ উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক নজিব উল্লাহ,মসজিদ ঘোনার পরিমল দাশের পুত্র উজ্বজল দাশসহ ৩০ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে । ওই প্রতিবেদনে নাম এসেছে কক্সবাজারের ৫ জন সাংবাদিকের।

বান্দরবান সদর সার্কেলের এএসপি শিবলি কায়সার বলেছেন, আইন প্রয়োগে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচারকারী ও তাঁদের সহযোগিরা ষড়যন্ত্র করছেন। তাকে অন্যত্র বদলি করানোর জন্য একটি মহল সুকৌশলে ঐ প্রতিবেদনে নাম উঠেয়েছেন বলে তিনি দাবী করেন । মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হুমায়ুন কবীর খন্দকার বলেছেন, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, মূলত পদস্থ কর্তাদের ক্ষোভ ও সরকারী দলের নেতাদের বিরাজভাজন হওয়ায় এসব পুলিশ কর্মকর্তাদের তালিকাভূক্ত করা হয়েছে ।

অন্যদিকে আলীকদম থানার ওসি মো.হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের হ-য-ব-র-ল প্রতিবেদন কখনই দেখিনি । সঠিক তদন্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়নি । প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে তিনি উল্লেখ করেন । প্রতিবেদনে তাঁকে লামা থানার ওসি বলা হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১  বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্ণেল সফিকুর রহমান বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায়  মিয়ানমারের বিভিন্ন সীমান্তে  রোহিঙ্গা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে । এদের মাধ্যমে স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতারা ইয়াবা পাচার ও পাচারে সহযোগিতা করে আসছে । ইয়াবা পাচারকারীকে আটকের পর তাদের ছাড়িয়ে নিতে কিছু নেতা তদবির করে । বিজিবি থেকে ছাড়তে না পেরে পুলিশের কাছে গিয়েও তদবির করতে যায় বলে জানা যায় । ইয়াবা পাচার ও চোরাকারবারী যে কেউ হোক না কেন,  সে যত বড় নেতা বা ক্ষমতাধর হোক না কেন, কোন ভাবে ছাড় দেয়া হবে না ।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইয়াবা  ও মাদক পাচারকারীগণ প্রতিনিয়ত পুলিশ-বিজিবি থেকে শক্ত বাধা পায় । এই বাধাঁ অতিক্রম করতে না পেরে বর্তমান থানার অফিসার ইনচার্জসহ কয়েকজন এসআই কে যে কোন ভাবে অনত্র বদলীর জন্য তদবির ও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে । প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত । ইয়াবা পাচারকারী বা চালান আটকের পর থানায় কিছু স্থানীয় নেতা তদবির চালায় । তাদের সিন্ডিকেট অনেক শক্তিশালী । এরা ইয়াবা সহজ উপায়ে ও নির্বিঘ্নে পাচার করতে দায়িত্ব প্রাপ্ত বিজিবি ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং সদস্যদের বদলীর জন্য নানা প্রচেষ্টা চালাচ্ছে । তালিকায় পাচারে সহযোগিতাকারী হিসাবে আমার নাম আসার পরে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা হাসছে। আমি ইয়াবা ব্যবসায়ীদের শত্রু। আর নাম এসেছে ইয়াবা পাচারে সহযোগিতাকারী হিসাবে । এটা দু:খজনক’। এছাড়া তিনি সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংবাদিকদের পুণরায় তদন্ত করার জন্য দাবী জানান ।

 গত (১২ এপ্রিল ২০১৩ ইং) কিশোরগঞ্জ সদর এলাকা থেকে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ নাইক্ষ্যংছড়ির ব্যবসায়ী পাড়ার মৃত মোস্তাফিজুর রহমানের পুত্র জিয়া উদ্দিনকে ৪০,৩৫০ টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করে । গত (২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ইং ) চট্রগ্রাম ডিবি পুলিশ আগ্রাবাদ এলাক থেকে কচ্ছপিয়ার হাজীর পাড়ার জামসেদ নামের আরেক যুবক ইয়াবা পাচার কালে পুলিশের হাতে আটক হন । গত (৭ মে) নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের হাবিলদার মোঃ শওকত আলীর নেতৃত্বে চেরারমাঠ এলাকা থেকে মায়ানমার আকিয়াব জেলার ওয়ালিডং এলাকার মো. সৈয়দ হোসনের পুত্র মোঃ আব্দুল আজিজ(৩২) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে । এসময় পাচারকারী থেকে ১৮৮২ টি ইয়াবা উদ্ধার করে। গত (৭ এপ্রিল) নাইক্ষ্যংছড়ির ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের নায়েক সুবেদার মোঃ শাহ আলম এর নেত্বত্বে আশারতলী বিওপি থেকে ৩০,০৩৫ টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। গত (১৭ এপ্রিল ) নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের সুবেদার আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে চাকঢালা মডেল স্কুলের সামনে থেকে ১৩,৯৫৪ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করে ।

এ সময় কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার হাজি নুরুল আমিনের পুত্র মো. ইসমাইল হোসেন (৩৬),নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালার কালু কাটাঁর আলী আহমদের পুত্র মো. আনোয়ার হোসেন (১৮) নামের দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ইয়াবাসহ হাতে নাতে আটক করে । গত (১৬ মে) চট্রগ্রাম ডিবি পুলিশ কোতয়ালীর মোড় থেকে ৩৬,৫৫০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ নাইক্ষ্যংছড়ির সিনামহল এলাকার ফজল কবিরের পুত্র মো. ইকবাল (৩৬)কে আটক করে । জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল ওই ইয়াবার চালান নাইক্ষ্যংছড়ির দৌছড়ী থেকে নিয়ে যাচ্ছিল বলে জানান ।

টেকনাফ উপকূল দিয়ে কৌশলে মানব পাচার অব্যাহত: ধরা ছোঁয়ার বাইরে পাচারকারীরা

DSC03141

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার:
টেকনাফ উপজেলায় সম্প্রতি মাদক ও মানব পাচার কাজে জড়িত গডফাদারদের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকায় কতিপয় গডফাদার আড়াল হয়ে গেলেও অপকর্ম বন্ধ হয়নি বলে জানা গেছে। এসব কারণে চোরাই পথে বিদেশীগামী লোকদের অনেকে নিখোঁজ আবার অনেকে কারাগারে জিম্মি দশায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারপরও এখন নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট আবারো অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

বিভিন্ন সুত্র ও অভিযোগে জানাযায়-এদিকে গত ৩ মার্চ টেকনাফে পর্যটকবাহী জাহাজ বে-ক্রজে চাকরীতে এসে আদম পাচারকারী চক্র ভোলা জেলার চরচন্দ্র প্রসাদের রাজ্জাক সিকদারের ছেলে শাহীন নামক এক যুবককে অপহরন করে সাবরাং কচুবনিয়ার শফিকের নেতৃত্বে পাচার চক্রের সদস্যরা সাগরে বড় ট্রলারে তুলে দিতে সাগরে নিয়ে যায়। কিন্তু এই অপহরনের বিষয়টি থানায় জানানোর পর পুলিশের তৎপরতায় সাগর থেকে ফিরিয়ে এনে শাহীনকে ছেড়ে দিতে দেওয়া হলেও আদম পাচার চক্রের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না থাকায় চক্রটি দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। যারা এখনো সক্রিয় বলে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ।

বিগত ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় শাহপরীরদ্বীপ ডাঙ্গরপাড়ার হাশেম আলীর ছেলে রফিকের কোন হদিস পাওয়া যায়নি। মা রেহেনা ও বাবা হাশেম মালয়েশিয়া পাড়ি দিতে গিয়ে ছেলেকে আজীবনের জন্য হারিয়ে ফেলে। তাছাড়া গত ২০১২ সালের ২৭ অক্টোবর ঈদের দিন রাতে মালয়শিয়াগামী ১৩৫ যাত্রী নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ পাচার চক্রের নায়ক সাবরাং কচুবনিয়া এলাকার ছিদ্দিকের নেতৃত্বে এক বিশাল সিন্ডিকেট। এ ঘটনায় মৃত্যুর মূখ থেকে সাবরাং ডেইল পাড়ার আবু বক্কর ফিরে আসলেও হাফেজ উল্লাহ, কামাল হোসন ও আমির হোসনসহ অনেকেই এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে। এ মানব পাচারের ঘটনাটি বড় ট্রাজেডি হিসাবে উলে¬খ রয়েছে। বর্তমানে এ চক্র আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতি বছর মানব পাচার চক্র সাগর পথে মালয়েশিয়ার পাচারের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লোকজনকে সাগরে মৃত্যুর মূখে টেলে দিচেছ। এ পথে পাচার হতে গিয়ে অনেক মা, বাবা ও সন্তান হারিয়ে এখনো অশ্রু ফেলছে।

সাগর পথে চোরাইভাবে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারকারী গডফাদারেরা সাবেক মিয়ানমার নাগরিক মৌঃ আব্দু রহিম, শাহপরীরদ্বীপ বাজার পাড়ার ধলু হোছন, ডাঙ্গর পাড়ার মোঃ ফিরোজ, কাটাবনিয়ার বাদ কোম্পানী, কচুবনিয়ার ছিদ্দিক আহমদ, আব্দুল হামিদ, বাগু, নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের আমান উল্লাহর সহযোগী হিসেবে আদম পাচারে জড়িত শাহপরীরদ্বীপ হাজী পাড়ার মুজিব উল্লাহ, মাঝর পাড়ার সৈয়দ উল্লাহ, মোঃ শফিক বাইন্যা, ডাঙ্গর পাড়ার হোসন আলী, রাবেয়া, মোঃ কাশিম প্রঃ পুয়া মাঝি, মোঃ তারেক, ইলিয়াছ, দক্ষিণ পাড়ার কাছিম, নূর হাকিম মাঝি, সাহাব মিয়া, বাজার পাড়ার মোঃ ইউনুচ, উত্তর পাড়ার জিয়াবুল, পশ্চিম পাড়ার কালা, সাবরাং কচুবনিয়ার শফিক ও রফিক, মোঃ হোসন প্রঃ কর মাছন, শাহজাহান, ইউনুচ, নজির, আসিফ, আবুল কালাম, হারিয়াখালীর হেলাল, হারুন, হাসন, হামিদ, জাহেদ হোসন, কাটাবনিয়ার শওকত ও জাহাঙ্গীর, জিয়া, কামাল, ওমর, জাফর, কোয়াইনছড়ি পাড়ার জহির, সাবরাং মুন্ডার ডেইলের সাকের মাঝি, দানু, জাফরসহ সদর ইউনিয়ন, বাহারছড়া, হ্নীলার ২ রোহিঙ্গা বস্তি, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের শত শত দালাল মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত।

তবে অনেকের বিরুদ্ধে মানব পাচারের একাধিক মামলাও রয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে মাদক বিরোধী অভিযানের পাশাপাশি মানব পাচার বিরোধী অভিযান পরিচালনার দাবী সচেতনমহলের।

 

আরও খবর

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলেই পাহাড়ের কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়ন হবে- বীর বাহাদুর

বান্দরবানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সুরের মুর্ছনায় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের ২৫ বছর পূর্তি

টেকনাফ উপকূল দিয়ে মানব পাচার অব্যাহত

পর্যটন শিল্প ত্বরান্বিত করতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরী- মেনন

 

 

টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে ১ লাখ ৮ হাজার ২’শ ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট আটক

IMG_6995

মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, টেকনাফ:
টেকনাফ ৪২বিজিবি জওয়ানেরা ইয়াবার চালান অনুপ্রবেশের সময় পৃথক অভিযান চালিয়ে লক্ষাধিক পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে। সূত্র জানায়, ২০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৭টারদিকে টেকনাফের ৪২বিজিবির সদর বিওপি জওয়ানেরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ পৌর এলাকার জালিয়াপাড়ার পূর্বপাশে ১নং স্লুইচ গেইট থেকে কতিপয় সন্দেহভাজন যুবককে চ্যালেঞ্জ করলে একটি পোটলা ফেলে পালিয়ে যায়। পোটলাটি উদ্ধার করে ৪৮ হাজার ৬শ ৯৪পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য ১কোটি ৪৬ লক্ষ ৮ হাজার ২শত টাকা।

অপরদিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নাজিরপাড়া-মৌলভীপাড়া সীমান্ত সংলগ্ন আড়াই নম্বর স্লুইচ গেইট এলাকায় মিয়ানমার থেকে আরো একটি ইয়াবার চালান আনার সংবাদে বিজিবি জওয়ানেরা সর্তক অবস্থানে থাকলে ইয়াবা পাচারকারীরা টের পেয়ে মিয়ানমারে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিজিবি স্পীডবোট নিয়ে ধাওয়া করলে নাফনদীতে মিয়ানমার হতে আসা মাঝি-মাল্লারা দ্রুত লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়। বিজিবি জওয়ানেরা নৌকাসহ ইয়াবার চালানটি জব্দ করে। যা গণনা করে ৫৯ হাজার ৫শ ৬৬ পিস ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়।  যার বাজার মূল্য ১ কোটি ৭৮ লক্ষ ৫৯হাজার ৮শ টাকা। সর্বমোট আটককৃত ১ লক্ষ ৮ হাজার ২শ ৬০পিস ইয়াবার চালানের মূল্য ৩ কোটি ২৫ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।

টেকনাফ ৪২বিজিবির অধিনায়ক আবুজার আল জাহিদ অভিযানের সত্যতা স্বীকার করেন।

আলীকদমে ‘অবৈধ’ সার আটক দেখিয়ে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত

Follow Up

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় ট্যোবাকো কোম্পানীর ‘অবৈধ’ মজুদকৃত ৪১ মেট্রিক টন ডিএপি সার ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি। অবৈধ মজুদের অভিযোগে সারগুলি গত রবিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কর্তৃক ‘আটক’ করেন। বুধবার ইউএনও কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত একটি সভায় ইউএনও বলেন, সারগুলি জব্দ নয়, আটক করা হয়েছিল। ঢাকা ট্যোবাকো ইন্ডাস্ট্রিজ ও নাছির ট্যোবাকো থেকে ‘মুছলেকা’ নিয়ে অবৈধ সারগুলি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ দু’কোম্পানী সারগুলি তামাক চাষের ব্যবহার করবে। তামাক চাষকে সরকারীভাবে নিরূৎসাহিত করা হয়। প্রশাসন থেকে এ খাতে ভর্তুকীকৃত সার বরাদ্দ দেয়া হয় না। এ কারণে কোম্পানীগুলো প্রতিবছর অবৈধ উপারে সার সংগ্রহ করে আসছে। আজ থেকেই টোবাকো কোম্পানীগুলো অবৈধ সারগুলি বিতরণ শুরু করেছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের সার বিধিমালা লঙ্ঘন করে ঢাকা ট্যোবাকো ইণ্ডাস্ট্রিজ ৩৭ মেট্রিক টন ও নাছির ট্যোবাকো ৪ মেট্রিক টন ডিএপি সার আলীকদম উপজেলার পান বাজারে মজুদ করেন। এ অভিযোগে গত রবিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোতাকাব্বীর আহমেদ সার জব্দ করেছেন বলে জানিয়েছিলেন সাংবাদিকদের। তবে আজ বুধবার উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় তিনি জব্দ নয় সারগুলি আটক করা হয়েছিল বলে জানান। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরো বলেন, ‘প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এ দু’ট্যোবাকো কোম্পানীর সারগুলি আলীকদমে অবৈধভাবে এনেছেন’।

index

উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আলী আহমেদ বলেন, ‘অবৈধ এ সার আটকের বিষয় নিয়ে সাংবাদিকরা প্যাঁচাচ্ছে’। এর প্রতিবাদ করে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য ও প্রেসক্লাব সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবাদিকরা অবৈধ সারের বিষয়ে লিখেছেন। ট্যোবাকো কোম্পানীগুলো প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সার মজুদ করছে। এ সময় সারগুলির বিষয়ে বিধিমতে ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর তিনি মত ব্যক্তি করেন। বৈঠক উপস্থিত উপজেলা পরিষদের দু’ভাইস চেয়ারম্যান আইনগতভাবে নয়, স্থানীয় সিদ্ধান্তেই ‘অবৈধ’ সারগুলি ছেড়ে দেয়ার পক্ষে জোরালো সুপারিশ করেন।

ইউএনও কার্যালয়ে বুধবার অনুষ্ঠিত সার ও বীজ মনিটির কমিটির সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন, ঢাকা ট্যোবাকোর চকরিয়া রিজিওনাল ম্যানেজার (আরএম) মোঃ কাউসার খান, শাখা ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম, মৎস্য কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন, ঢাকা ট্যোবাকোর ম্যানেজার মোঃ রাব্বী, নাছির ট্যোবাকোর প্রতিনিধি মোঃ আওয়াল, আবুল খায়ের ট্যোবাকোর ম্যানেজার কিবিরিয়া।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, পার্শ্ববর্তী লামা উপজেলায়ও কয়েকদিন পূর্বে অবৈধ সার আটকের পর ‘মুছলেকা’ নিয়েছে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্তের আলোকে আলীকদমেও একই প্রক্রিয়ায় ট্যোবাকোর কোম্পানী থেকে ‘মুছলেকা’ নিয়ে আটক সারসগুলি ছেড়ে হবে।

আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, আলীকদমে অবৈধ সার মজুদের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে সার আটক কিংবা জব্দের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন থেকে তাকে কিছুই জানানো হয়নি। 

আলীকদমে অবৈধ মজুদের দায়ে ৭৪০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ

index

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের আলীকদমে ঢাকা ট্যোবাকো ইন্ডাট্রিজের অবৈধভাবে মজুদকৃত ৭৪০ বস্তা ডিএপি সার জব্দের খবরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোতাকাব্বীর আহমেদ সার জব্দের কথা স্বীকার করেছেন। তবে এ ধরণের কোন জব্দের ঘটনা জানা নেই বলে জানিয়েছেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হোসাইন।

সরেজমিন জানা গেছে, তামাক চাষীদের মাঝে বিতরণের জন্য ঢাকা ট্যোবাকোর আলীকদম শাখা কর্তৃক ৭৪০ বস্তা ডিএপি সার পানবাজারে আলী ট্যোবাকোর গুদামে মজুদ করেছে ঢাকা ট্যোবাকো ইন্ডাট্রিজ। গত ১৫ অক্টোবর নাফকো (প্রাঃ) লিমিটেড হেমায়তপুর, সাভার, ঢাকার ফ্যাক্টরীর ডেলিভারী চালান নম্বর ৪৪৪৬৩ মূলে ৩৭০ বস্তা ও ৪৪৪৬৭ মূলে ৩৭০ বস্তা- সর্বমোট ৭৪০ বস্তা ডিএপি সার ঢাকা ট্যোবাকোর আলীকদম শাখা ম্যানেজার শহিদুল ইসলামের নামে ইস্যু করা হয়। সারগুলি গত শনিবার দু’টি ট্রাকযোগে স্থানীয় প্রশাসনের পুর্বানুমতি ছাড়া আলীকদমে এনে পানবাজারস্থ আলী ট্যোবাকোর গুদামে মজুদ করা হয়।

অবৈধ সার মজুদের বিষয়ের কথা স্বীকার করে ঢাকা ট্যোবাকোর আলীকদম শাখা ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের জ্ঞাতসারে সারগুলি আনা হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি কৃষকের স্বার্থে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

তবে জব্দকৃত ডিএপি সার আনার বিষয়ে কোনরূপ অনুমতির দেয়ার কথা অস্বীকার করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির পূর্বানুমতি এবং সংশ্লিষ্ট আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সারগুলি আনা হয়েছে।

আলী ট্যোবাকোর কোম্পানীর স্বত্ত্বাধিকারী আবুল হাসেম বলেন, তাদের মালিকানাধীন গুদামটি সার মজুদের জন্য সম্প্রতি ঢাকা ট্যোবাকোর আলীকদম ব্র্যাঞ্চ ভাড়া নিয়েছে। সেখানে গত সপ্তাহ থেকে এসওপি ও ডিএপি সার মজুদ করা হচ্ছে।  

জানতে চাইলে আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, অবৈধ সার মজুদের বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তবে এ পর্যন্ত প্রশাসনিক পর্যায়ে সারগুলি জব্দ করা হয়নি। রবিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোতাকাব্বীর আহমেদ বলেন, অবৈধ মজুদের দায়ে সারগুলি জব্দ করা হয়েছে। রবিবার জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আলীকদমে ‘বৈধ’ ডিপোতে জোতের বাইরের কাঠ মজুদের অভিযোগ

BagerhatNews29.07.2013

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের আলীকদমে তৈন রেঞ্জের আওতাধীন ১১১নং অস্থায়ী কাঠের ‘বৈধ’ ডিপোতে জোতের বাইরের কাঠ মজুদের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণাধীন আলীকদম-থানচি সড়কের ১৬ কিলোমিটার এলাকার অশ্রেণীভূক্ত বনাঞ্চল থেকে এসব কাঠ কাটা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অভিযোগ বিচারাধীন থাকাবস্থায় সাড়ে চারশ’ ঘনফুট জোতের বাইরের কাঠ ডিপোতে মজুদ করা হয়েছে।

লামা বন বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও)’র নিকট লিখিত এক অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার বটতলী পাড়ার ওসমান আলীকদম-থানচি রোডের ১৭ কিলোমিটার এলাকায় স্থানীয় কমপ্লেক মুরুংয়ের ভোগদখল থেকে ২৫টি গোদা গাছ ক্রয় করেন। সম্প্রতি ওসমান এ গাছগুলি কর্তন করলে পরিমাণ দাড়ায় ৪৫০ ঘনফুট। তৈন রেঞ্জের ১১১ নং অস্থায়ী কাঠের ডিপোর মালিক ছেনোয়রা বেগম ওসমানের কাটা কাঠগুলি গোপনে এনে আমতলীর চাকলাম কার্বারী পাড়ায় অবৈধ মজুদ করেন। এ নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গাছের মালিকানা নিয়ে ওসমান অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি বিচারাধীন আছে।

ক্রয়সূত্রে গাছের মালিক ওসমান দাবী করেন, তার কর্তিত গাছের মালিক স্থানীয় আদু কার্বারীর ছেলে কমপ্লেক মুরুং। যেখান থেকে গাছ কাটা হয়েছে সেখানে কোন সরকালী হোল্ডিং কিংবা খতিয়ান নেই। তাই গাছ কাটার জন্য সরকারী জোত পারমিট ইস্যু হওয়ারও সুযোগ নেই। অথচ ছেনোয়রা বেগম গাছের মালিকনা দাবী করে বন বিভাগের অনুমোদিত ১১১ নং কাঠের ডিপোতে জোতের বাইরের কাঠগুলি অবৈধ মজুদ করেছেন। ছেনোয়রা বেগম বলেন, গাছগুলি তার মালিকানাধীন। যে জায়গা থেকে গাছ কাটা হয়েছে সে জায়গাটি তার ভোগদলখীয়।

উল্লেখ্য, জোত পারমিটের অজুহাতে স্থানীয় ছেনুয়ারা বেগম আলীকদম-থানচি সড়কে অবৈধভাবে গাছ কেটে চলেছেন মর্মে গত ১৮ আগস্ট স্থানীয় পাড়া প্রধান আদু মুরুং কার্বারীসহ ১৫ জন উপজাতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত দেন। এ নিয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর ইউএনও অফিসের সার্ভেয়ারের [পত্র নং- কানুন/২০১৩-৫৪(১৬) (ভূমি)] তদন্তকালে অভিযুক্ত ছেনোয়ারা উপস্থিত হননি। তদন্তকালে মুরুংদের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়।

আদু মুরুং কার্বারী অভিযোগ করেন, ছেনুয়ারা বেগম নিজেকে ‘ফরেস্টের মহিলা, মুন্সির বউ’ ইত্যাদি পরিচয়ে স্থানীয় উপজাতিদের ভোগ দখলীয় বাগানের গাছ কেটে নিচ্ছেন। অবৈধভাবে কর্তিত কাঠ জোত পারমিটের আড়ালে তার বাড়ির আঙিনায় স্থাপিত ১১১নং ডিপোতে মজুদ করে থাকেন।

উপজেলা জনসংহতি সমিতি-জেএসএস এর সাধারণ সম্পাদক চাহ্লা মং মার্মা বলেন, পাহাড়ের অশ্রেণীভূক্ত বনাঞ্চলের অধিকন্ত গাছপালা স্থানীয় উপজাতি বাসিন্দারা ভোগ দখল করছেন। কিন্তু সম্প্রতিক সময়ে ছেনোয়ারাসহ কতিপয় ব্যক্তি জোর করেই এসব কাঠ কেটে বন বিভাগ অনুমোদিত কাঠের ডিপোতে মজুত করছেন। এ নিয়ে স্থানীয়রা অভিযোগ করেও সুষ্ঠু প্রতিকার পাচ্ছেন না।

এ ব্যাপারে তৈন রেঞ্জে নবনিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কর্মস্থলে নতুন। জোতের বাইরের কাঠ ডিপোতে রাখার অনুমতি নেই। এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে আইনগত পদক্ষেপ নেবো’।
জানতে চাইলে লামা বন বিভাগীয় কর্মর্কা মুহাম্মদ সাঈদ বলেন, এ বিষয়ে আমার দপ্তরে একটি অভিযোগ এসেছে। যদি অভিযুক্ত ছেনোয়ারা তার ডিপোতে অবৈধ কাঠ মজুদ করে থাকেন, তবে তদন্ত করা হবে। জোতের বাইরের কাঠ প্রমাণিত হলে টিপি সরবরাহ করা হবে না’।