পাহাড়ে পর্যটনবিরোধী প্রচারণা

%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a7%9c-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9f%e0%a6%a8

ফজলুল হক, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম থেকে ফিরে:

পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। পাহাড় নদী আর ঝর্ণার আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার মানুষ ছুটে যান পাবর্ত্য অঞ্চলের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে।

জানা গেছে, দেশের এক-দশমাংশ ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত পার্বত্য তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। পাহাড়, নদী-নালা ও গাছপালাবেষ্টিত অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ ভূমিতে রয়েছে বাঙালি ও ১৩টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। পর্যটন শিল্পের জন্য রয়েছে বিশাল সম্ভাবনা। কিন্তু কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্য তা আজ ভূলুণ্ঠিত হতে বসেছে।

তিন জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান:
বান্দরবানে নীলাচল, নীলগিরি, বগালেক, মেঘলা, স্বর্ণমন্দির, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক পাহাড় ও ঝুলন্ত ব্রিজ, খাগড়াছড়িতে কলাংপাড়া, দীঘিনালা বনবিহার, রিছাং ঝর্না, আলুটিলা রহস্যাময় গুহা, সাংকসর নগর বৌদ্ধা মন্দির এবং রাঙ্গামাটিতে সাজেক ভ্যালি, কর্ণফুলী হ্রদ, পর্যটন মোটেল ও ঝুলন্ত সেতু, সুবলং ঝর্ণা, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, ফুরমোন পাহাড়, রাজবণ বিহার, তিনটিলা বণবিহার ও উপজাতীয় যাদুঘর প্রভৃতি রয়েছে।

%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9f%e0%a6%a8

সম্ভাবনাময় পর্যটন:
রিছাং বর্ণার কাছে বসবাসকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকমা অধিবাসী জানান, বাপু আমার পাঁচটি মেয়ে, তিন মেয়ের বিয়া দিয়েছি। ১০জন নাতি নাতনি রয়েছে।এখানে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসে। মানুষের চা বিড়ি খাওয়ানোর জন্য প্রথমে একটি দোকান করেছি। এখন আমার চারটি দোকান। দোকানগুলো আমার স্ত্রী, মেয়ে এবং নাতি নাতনিরা চালায়।

পর্যটন শিল্পবিরোধী প্রচারণা:
পর্যটন আকৃষ্ট এসব অঞ্চলকে অশান্ত করতে দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা নানাভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।পাবর্ত্য এলাকায় বেশকিছু পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এসব পর্যটন কেন্দ্রে মানুষের আগমনে সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তারে বাধার সৃষ্টি হওয়ায় পার্বত্য এলাকায় পর্যটন শিল্পের বিরুদ্ধে পাহাড়ি সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলো নানাভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করছে।

তাদের এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন।তারা কঠোর হস্তে সন্ত্রাসীদের দমন করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, সাজেক, কাপ্তাই ও পাবর্ত্য এলাকায় যাতে পর্যটকরা না আসে এ জন্য পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।পর্যটকদের ভয়ভীতি দেখানো হয়, বিভিন্ন হোস্টেল ও রিসোর্টের মালিকদের কাছ থেকে উচ্চহারে চাঁদা আদায় করা হয়। এমন কি বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়।

২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বান্দবানের অন্যতম দর্শনীয় স্থান স্বর্ণ মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।পরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হস্তক্ষেপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়।

%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a7%9c-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9f%e0%a6%a8-%e0%a7%a8

রাঙামাটির অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেক। এ পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ করার জন্য নানামুখী চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা।২০১৪ সালের পর্যটন মওসুমে ৩১ ডিসেম্বর রাঙামাটির সাজেকে সাবেক এক সেনা কর্মকর্তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে তার গাড়িতে আগুন দেয় উপজাতি সন্ত্রাসীরা।

এ ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পর্যটকরা যাতে সাজেকে পরিদর্শন করতে না আসে এ কারণে এসব ঘটানো হয়।সাজেক এলাকার বাসিন্দারা জানান, আমরা এই পর্যটন কেন্দ্রের কারণে অনেকভাবে উপকৃত হচ্ছি।কিন্তু কিছু সন্ত্রাসী নানাভাবে এই পর্যটন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

কয়েক মাস আগে ‘বৃহত্তর সাজেক ইউনিয়নবাসী’ব্যানারে পর্যটনের বিরুদ্ধে একটি লিফলেট প্রচার করেছে সন্ত্রাসীরা।তারা ওই লিফলেটে বেশকিছু মিথ্যা তথ্য তুলে ধরে ‘পর্যটন তুলে নাও- নিতে হবে’ এই শ্লোগান দেয়ার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।কিন্তু সন্ত্রাসীদের লিফলেট প্রচারণার বিরুদ্ধে ‘রুইলুই ও কংলাকপাড়ার দরিদ্র এলাকাবাসী’ পাল্টা লিফলেট প্রচার করেছে।

‘সাজেক ইউনিয়নবাসীর কাছে রুইলুই ও কংলাকপাড়াবাসীর আকুল আবেদন, সাজেকের রুইলুইপাড়া পর্যটন কেন্দ্র বন্ধের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ান’ শিরোনামের লিফলেটে বলা হয়েছে, সাজেক পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে এই দুই পাড়ার দরিদ্র জনগণের ব্যাপক আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটেছে। এখন আমরা স্ত্রী পরিবার নিয়ে সুখে বসবাস করতে পারছি।

এই পর্যটনকে কেন্দ্র করে ৩৫জন দরিদ্র ত্রিপুরা, মিজো ও পাংখু জনগোষ্ঠীর সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে স্থানীয় ব্যক্তি উদ্যোগে ছোট বড় ১২টি রিসোর্ট ও হোস্টেল গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে আরও অনেক পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটছে।

pahar-ctg

প্রচারে বলা হয়, ‘আমরা এলাকাবাসী আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর।কাজেই অসামাজিক কার্যক্রমের অভিযোগ ভিত্তিহীন। পর্যটনের জন্য আমাদের কোন পরিবার ও ব্যক্তিকে উচ্ছেদ হতে হয়নি বরং হেডম্যানের সহায়তায় নতুন স্থানে পরিকল্পিত ও আধুনিক বাসস্থান তৈরি করে দেয়া হয়েছে যার মাধ্যমে আমরা উপকৃত হয়েছি।

এই এলাকায় পর্যটনের উন্নয়ন হলে সকলেই উপকৃত হবে। কাজেই অন্যের কথায় এবং গুজবে কান দিয়ে আমাদের নিজেদের পেটে লাথি মারবেন না। চাঁদাবাজিতে ব্যর্থ হয়ে এবং নিজেদের হীনস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সাজেক এলাকাবাসীর নামে যে উসকানিমূলক কথাবার্তা ও আন্দোলনের পায়তারা চলছে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।

এই পর্যটনকে কেন্দ্র করে পরিবহন খাতে অনেক লোকের কর্মস্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিদিন এই এলাকায় নতুন নতুন দোকানপাট গড়ে উঠেছে, যা এ অঞ্চলের জনগণের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাবে।

মনে রাখবেন, অতিথিরা দেবতা সমান, এদের নিরাপত্তা প্রদান সকলের দায়িত্ব। তবে বর্তমানে সন্ত্রাসীদের পক্ষ থেকে লিফলেট বিতরণ বন্ধ থাকলেও তাদের হুমকি এবং দেয়ালে সাঁটানো পোষ্টার দিয়ে পর্যটকবিরোধী প্রচারণা বন্ধ নেই’।

সাজেক এলাকার পর্যটন এসোসিয়েশনের প্রশাসক সিয়াতা লুসাই বলেন, এখানকার পর্যটন শিল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা চাঁদা দাবি করে, এলাকায় ভয়ভীতি দেখায়। ২০১৪ সালে একটি গাড়ি পুড়িয়ে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করেছিল।তারপর থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রহরায় সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণ করানো হয়।

সাজেক এলাকার এক হোটেলের মালিক ও ধর্ম প্রচারক মইতে লুসাই জানান, আমরা এ পর্যটন কেন্দ্রের মাধ্যমে অনেক আয় রোজগার করতে পারছি। কিন্তু সন্ত্রাসীরা আমাদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। ফলে আমাদের এখানে ব্যবসা করা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। এখানকার পর্যটন শিল্পের বিরুদ্ধে লিফলেট ছেড়ে নানাভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানান।

– সূত্র: জাগো নিউজ

সাজেক- বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বৈপ্লবিক সংযোজন

সাজেক১

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে বিশেষ প্রবন্ধ

শাহজাহান কবির সাজু সাজেক থেকে ফিরে:

খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে সাজেকের দূরত্ব প্রায় ৬৯ কিলোমিটার। পথিমধ্যে নজরে আসবে দৃষ্টিনন্দন পাহাড়ী নদী কাচালং-মাচালং ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার দৃশ্য। সাজেক প্রবেশের দরজায় রয়েছে রুইলুই পাড়া। রুইলুইতে পাংখো ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বসতি। সড়কগুলো উন্নত কাঠামোর আদলে গড়া হলেও কোথাও কোথাও ভাঙ্গন ধরেছে।

রুইলুই পাড়ায় সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতায় পর্যটকদের জন্য বেশকিছু বিনোদনের মাধ্যম রাখা হয়েছে। এরমধ্যে হ্যারিজন গার্ডেন, ছায়াবীথি, রংধনু ব্রীজ, পাথরের বাগান উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য একাধিক বিশ্রামাঘার ও ক্লাবঘরও রয়েছে রুইলুই পাড়ায়। সাজেকের সবশেষ সীমানা কংলাক। কংলাক রুইলুই থেকে আরও দেড়ঘন্টার পায়ে হাঁটার পথ। কংলাকে পাংখোয়াদের নিবাস। পাংখোয়ারা সবসময় সবার উপরে থাকতে বিশ্বাসী তাই তারা সর্বোচ্চ চূড়ায় বসবাস করে। কংলাকের পরেই ভারতের মিজোরাম।

“সাজেক” রাঙামাটি জেলায় হলেও সড়ক পথে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম খাগড়াছড়ি বুক চিরে। এই সাজেকের কারণেই অনেকটা পাল্টে গেছে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যবস্থা। বিশেষ করে পরিবহন ও হোটেল ব্যবসা জমে উঠেছে বেশ। সাজেকের পর্যটকরা খাগড়াছড়ি জেলা সদরে অবস্থানের ফলে হোটেলগুলোতে ভীড় লেগেই আছে। এছাড়াও হস্তশিল্প ও তাঁতশিল্পে বোনা কাপড়-চোপড়ের দোকানেও নতুন নতুন অতিথিরা এসে করছে কেনাকাটা।

সাজেক পর্যটন স্পট শুধু স্থানীয় পর্যটনের উন্নতি ঘটায়নি বরং পুরো খাগড়াছড়ি জেলার পর্যটন সেক্টরকে বদলে দিয়েছে। সাজেক ভ্রমণের আগে বা পরে দুর দুরান্তের দর্শনার্থীরা দেখে যাচ্ছে খাগড়াছড়ি আলুটিলার রহস্যময় সুড়ঙ্গপথ, রিসাং ঝর্ণা, হাজাছড়া ঝর্ণা, আলুটিলা তারেং, পানছড়ির শান্তিপুর অরণ্য কুটির বৌদ্ধ বিহার, শান্তিপুর রাবার ড্যাম, মানিকছড়ির রাজবাড়ি, রামগড়ের সীমান্তবর্তী চা-বাগান, মাইসছড়ির দেবতাপুকুর, মহালছড়ির এপিবিএন লেক, জেলা সদরের পানখাইয়াপাড়ার নিউজিল্যান্ড র্পাক ও জেলাপরিষদের হর্টিকালচার পার্ক ইত্যাদি।

সাজেক ২

খাগড়াছড়ি জেলা ছাড়াও রাঙামাটি ও বান্দরবানে রয়েছে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র। কিন্তু এইসব পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে পেছনে ফেলে বর্তমানে দেশ সেরা পর্যটন স্পটের স্থান দখলে এগিয়ে চলছে সবুজের বুকে মেঘের রাজত্ব করা “সাজেক”।

চাঁন্দের গাড়ী চালক মো: আ: শুক্কুর জানান, সাজেকের ভাড়া এখন প্রতিনয়িত হচ্ছে। সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে কমপক্ষে শতাধিক গাড়ি গাড়ী সাজেক যাচ্ছে এ ছাড়াও প্রতিদিন ২০-৫০ গাড়ীতে ৩০০- ৫০০ পর্যটক আসা-যাওয়া করছে। সিজনে এটা অনেক বৃদ্ধি পায়। এই সাজেক চাঁন্দের গাড়ী মালিক ও চালকদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছেন বলেও মুচকি হেসে জানান। এই সাজেক জমজমাট রেখেছে খাগড়াছড়ির আবাসিক হোটেল, খাবার হোটেল ও টেক্সটাইল দোকানগুলোর বানিজ্যেকে।

খাগড়াছড়ি গেষ্ট হাউস, হোটেল গাইরিংসহ কয়েকটি আবাসিকে গিয়ে জানা যায়, সাজেক রিসোর্টের কারণে অগ্রিম বুকিং করা শুরু হয়েছে দুর-দুরান্ত থেকে। খাবার হোটেল মনটানা, হোটেল ফেনী, হোটেল চিটাগাং, হোটেল ভতঘর সহ কয়েকটিতে গিয়ে জানা যায়, আমুল পরিবর্তনের খবর। সাজেকের পর্যটকরা খাগড়াছড়ি জেলা সদরে অবস্থানের ফলেই হোটেলগুলোতে ভীড় লেগেই আছে বলে সূত্রে জানা যায়।

কুরবানীর ঈদের পর একসাথে বিপুল পরিমাণ পর্যটক আসায় খাগড়াছড়ি শহরের হোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাউজে সঙ্কুলান না হওয়ায় অনেককে মুক্তস্থানে রাত কাটাতে হয়েছে। এছাড়াও হস্তশিল্প ও তাঁতশিল্পে বুনা কাপড়-চোপড়ের দোকানেও নতুন নতুন অতিথিরা এসে কেনা কাটা করছে বলে দোকানীরা জানায়।

স্থানীয়দের মতে, খাগড়াছড়ির অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলো সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা গেলে সাজেক বেড়াতে আসা পর্যটকদের যদি আরো ১/২ দিন খাগড়াছড়িতে রাখা যায় তবে এই জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে।

ঈদ পরবর্তী সাজেকে যে পর্যটকের বান ডেকেছিল তার রেশ এখনো রয়েছে। গাড়ী চালকদের যেন বসে থাকার সময় নেই। চাঁন্দের গাড়ীর চালক খোরশেদ, অজয় ত্রিপুরা, তাজুল ইসলাম জানায় বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক গাড়ী খাগড়াছড়ি থেকে ছুটে চলে সাজেকে। এই সাজেক চাঁন্দের গাড়ী মালিক ও চালকদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে বলে তাদের মুচকি হাঁসি।

গহীন অরণ্যয় সবুজের বুক চিরে আঁকা বাঁকা সড়কে গাড়ীর হর্ণের শব্দে বাঘাইহাট থেকে সাজেক পর্যন্ত মুখরিত করছে প্রতিটি মুহুর্তে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছোট ছোট কোমলমতিরা দু’হাত তুলে অভিনন্দন জানাচ্ছে অচেনা অতিথিদের। অতিথিতারাও ফিরতি অভিনন্দন দিয়ে বলে দিচ্ছে- আমরা আবার আসিব।

সাজেক রিসোর্টে

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীর ভীড়ে তিল পরিমাণ ঠাঁই নেই। বেশীর ভাগই পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগে এসেছে পাহড়ের ঐতিহ্যবাহী বাহন চাঁন্দের গাড়ী চড়ে। হ্যাপি টং রিসোর্ট, য়ারুং রিসোর্ট, সজেক লুসাই কটেজ, সাজেক রিসোর্ট, মনিং ষ্টার হোটেল, মারতি অর্ডার হোটেল ম্যানেজারদের সাথে আলাপকালে জানায়, সিট খালি নেই আগামী ১০/১৫ দিন ইতিমধ্যে অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। হ্যালিপ্যাডের পাশে অবস্থিত ঝাড় ভোজ মিরিংজার “চিংলক, কংলাক, ও রুইলুই”তে বসার জায়গা নেই। সাজেকের বুকের মাঝ বরাবর রয়েছে প্রাক্তন মেম্বার “থাংগো লুসাই” এর লাল সবুজে ঘেরা বাঁশের তৈরী বাসভবন।

সাজেক প্রবেশের মাইল দু’য়েক আগে হাউসপাড়ার ঝর্ণাটিও বেশ মনোমুগ্ধকর। হাউস পাড়ার গড়ে উঠেছে চায়ের দোকান। দোকানে বসা জুমিতা চাকমা, কুলসেন ত্রিপুরা, শুভ চাকমা জানায়, দীর্ঘ বছর পর এই সাজেকে মানুষের আগমন। তাই তারাও বেশ উপভোগ করে। তাছাড়া সাজেকের ছেলে-মেয়েরা এখন বিদ্যালয়মুখী হওয়াতেও খুশী অভিভাবক মহল। কয়েকজন অভিভাবক জানায়, ছেলে-মেয়েরা বিদ্যালয়ে পড়বে তা তারা কখনো ভাবেননি। কিন্তু সরকারের যুগোপযোগী একটি পদক্ষেপে আমাদের শিশুরা ভবিষ্যতে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে তা ভাবতেই ভালো লাগে।

তবে সাজেকের নৈসর্গিক সুন্দরের মাঝেও কিছু কিছু চিত্র দর্শনার্থীর মন খারাপ করে দেয়। যার মাঝে রয়েছে সাজেক রিসোর্টের বিপরীতে কয়েকটি ঝুপড়ির ঘর। এই জরাজীর্ণ ঘরগুলোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে কয়েকটি পরিবার। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাও বেশ নাজুক। ঝুপড়ির ঘরের আশপাশ এলাকায় অনেকেই রিসোর্ট বানিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তারা ঝুপড়ির ঘরে থাকলেও তাদের মন অনেক বড় বলে ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলায় জানান দিয়ে বলল “দেকনা বাবু আমি সোলার লাগাইয়ে, ঘরে অকন বাত্তি জ্বলে”।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তৈরি সাজেক পর্যটন কেন্দ্র ও যাতায়াত সড়ক স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান পাল্টে দিয়েছে। গত জুনে প্রাপ্ত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সাজেকে মোট ৮ টি আবাসিক হোটেল আছে। এর মধ্যে ৬ টি বেসামরিক। বেসামরিক হোটেলগুলো হলো: হেপতং রিসোর্ট, আলো রিসোর্ট, মারতি রিসোর্ট, শাহারা রিসোর্ট, মাখুম রিসোর্ট, লুসাই লজিং। বর্তমানে আরো কয়েকটি রিসোর্ট চালু হয়েছে। এইসবগুলো রিসোর্ট বা আবাসিক হোটেলের মালিক স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাসিন্দাগণ। এসব হোটেলের কর্মচারীরাও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর।

এসব হোটেলে প্রতিদিন গড়ে ১২০-১৫০ জন পর্যটক রাত্রিযাপন করে থাকে। পর্যটক প্রতি ৫০০ টাকা করে ধরলে প্রতিরাতে আবাসিক পর্যটকদের নিকট থেকে আয় হয় অর্ধ লক্ষাধিক টাকা। আবার এসকল রিসোর্ট বা আবাসিক হোটেলের নিজস্ব রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এসব রেস্টুরেন্টে আবাসিক ও অনাবাসিক পর্যটকদের খাবার সরবরাহ করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজন জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।

সাজেকের পর্যটন খাতে ৫০ জন লোক সরাসরি জড়িত। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর রুইলুই প্রজেক্টে ২৪ জন কর্মরত। এদের গড় আয় প্রতিদিন ২০০ টাকা। এসকল লোক আগে বেকার ছিলো বা জুম চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতো। এ ছাড়াও পরোক্ষভাবে সাজেকের পর্যটন খাতে শতাধিক লোক জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।

সাজেকে সেনাবাহিনী পরিচালিত দুইটি রিসোর্ট রয়েছে। একটি সাজেক রিসোর্ট, অন্যটি রুন্ময় রিসোর্ট। সাজেক রিসোর্টে ৪ টি রুম রয়েছে। যেগুলোর ভাড়া ১০ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে। রুন্ময় রিসোর্টে ৫ টি রুম রয়েছে। যেগুলোর ভাড়া  সাড়ে ৪ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের উত্তর-পূর্ব কূল ঘেঁষে রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালির পাশেই ভারতের মিজোরাম। বর্ষা মৌসুমে চিরসবুজ সাজেক সাদা মেঘে আচ্ছাদিত থাকে। এক কথায় সাজেককে মেঘের বাড়ি বললেও ভুল হবে না। অনেকে আবার সাজেককে বাংলার দার্জিলিং হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে। সবমিলিয়ে সাজেক এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমির নাম।

বর্তমান সরকারের আন্তরিকতা ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অক্লান্ত প্রচেষ্ঠার ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্যন্ত স্থান করেছে নিয়েছে বর্তমানের সাজেক। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, আধুনিক পর্যটনের আদলে সাজেককে সৃজন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা ও সৌর বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা হয়েছে সাজেকে। এতে করে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে সেখানে।

সাজেকের অপরূপ সৌন্দর্যের বাহারী দৃশ্য উপভোগে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সেনাপ্রধানসহ একাধিক সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তা পরিদর্শন করেছেন। সাজেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সাজেককে জনসাধারণের সুবিধার্থে আরও বেশী দৃষ্টিনন্দন করতে কাজ করছে সেনাবাহিনী। পাশাপাশি উন্নত জীবনযাত্রার সাথে সংযুক্ত হচ্ছে সেখানে বসবাসরত পাংখোয়া, লুসাই ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মানুষেরা। পর্যটন সংশ্লিষ্ট নানা কর্মসংস্থান ও আর্থিক কর্মে জড়িত থেকে তাদের জীবনমানের ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে।

কিন্তু এই ভূস্বর্গ নিয়ে দিন দিন বিতর্কের ঝড় বেড়েই চলছে। সম্প্রতি পর্যটক দম্পত্তির গাড়ী পোড়ানোর ঘটনায় পর্যটকরা ভূগছে নিরাপত্তাহীনতায়। বিশেষ করে রিজার্ভ ফরেষ্টের দু’পাশে অবৈধ বসতি ও স্থাপনা গড়ে ওঠায় নিরাপত্তা নিয়ে কানা-ঘুষা চলছে সব মহলে। এইসব অবৈধ বসতি ও স্থাপনা তুলে রাস্তার দু’ধার যদি পরিষ্কার রাখা যায় তাহলে নিরাপত্তা বাহিনীও বহু দুর থেকে আঁচ করতে পারবে সন্ত্রাসীদের অবস্থান। স্থানীয়দের দাবী সাজেকে বিদ্যুৎ, মোবাইল টাওয়ার ও সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্পটে পরিণত হতে পারবে। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সাজেক রিসোর্টের প্রচারণা প্রয়োজন বলে তাদের অভিমত।

যেভাবে যাবেন

ঢাকার আরামবাগ, ফকিরাপুল থেকে এসি/নন এসি বাসে খাগড়াছড়ি গিয়ে সেখান থেকে চাঁন্দের গাড়ি বা জিপে সাজেক যাওয়া যায়। সাজেকে সেনাবাহিনী পরিচালিত রিসোর্টগুলোতে থাকতে চাইলে আগে থেকে বুকিং করতে হয়। অনলাইন বুকিং করতে পারেন নিম্নের লিংক থেকে: http://rock-sajek.com/Accomodation-Sajek-Resort, http://rock-sajek.com/Accomodation-Runmoy

চকরিয়া বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড়

chakaria-pic-park-15-09
চকরিয়া প্রতিনিধি::
দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ঈদের একটানা ছুটিতে দর্শনার্থীরা উপচেপড়া ভিড় করছে। ঈদের দিন মঙ্গলবার ও পরদিন বুধবার দর্শনার্থীদের তেমন উপস্থিতি চোখে না পড়লেও বৃহস্পতিবার থেকে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে পার্কে।

এতে পার্ক কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, আজ এবং আগামীকালও একইভাবে দর্শনার্থী ও পর্যটকের ভিড় থাকবে পার্কে। সবমিলিয়ে লক্ষাধিক দর্শনার্থী ও বিভিন্ন জেলার পর্যটক পার্ক ভ্রমণ করবেন। এজন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি আগে থেকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে পুরো পার্ককে।

সরেজমিন পার্ক ঘুরে দেখা গেছে, আগত দর্শনার্থী ও পর্যটকেরা পার্কে থাকা বাঘ, বানর, লাম চিতা, হনুমান, উল্লুক, কালো শিয়াল, জলহস্তি, চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, প্যারা হরিণ, মিঠা পানির কুমির, মঁয়ূর, বনমোরগ, বন্য শুকর, তারকা কচ্ছপ, বানর ও বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখিসহ অসংখ্য বন্যপ্রাণির বেষ্টনীতে ঢু মারছে। আবার অনেক দর্শনার্থী সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মনের আনন্দে ঘুরে-বেড়ানোর পাশাপাশি গগণচুম্বি মাদার ট্রির (গর্জন) ছায়াতলের সুশীতল হাওয়ার পরশ নিচ্ছেন। বড়দের সঙ্গে যাওয়া কিশোর-কিশোরী ও শিশুরা হাতির পিঠে চড়ে খায়েশ মেটাচ্ছে।

পার্ক সূত্র জানায়, আগত দর্শনার্থী পার্কের প্রধান ফটকের বাইরে স্থাপিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, নির্মিত লেক ও বাগানের দিকেই ঝোঁক ছিল বেশি।

পার্কের গেইট ইজারাদার মো. নাছির উদ্দিন জানান, এবার ঈদের দুইদিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই দর্শনার্থী আসতে শুরু করে। একদিনেই অন্তত ২০ হাজার পর্যটক পার্কে ভিড় করে। তবে আগামী শনিবার পর্যন্ত একইভাবে দর্শনার্থী সমাগম হবে বলে তিনি আশা করছেন।

পার্কের কর্মকর্তা মো. মাজহার“ল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থী ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে আগে থেকেই পুরো পার্ককে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এতে এখনো পর্যন্ত কোন ধরণের দুর্ঘটনা ঘটেনি।’

পার্বত্য এলাকায় পর্যটন শিল্প বিকাশে বাধা সশস্ত্র গ্রুপ

অস্থির পাহাড় দিশেহারা মানুষ- (শেষ)

সাজেক১

আবু সালেহ আকন, পার্বত্য অঞ্চল থেকে ফিরে:

সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো এখন পাহাড়ের বিষফোঁড়া। শুধু খুন, জখম, অপহরণ, গুম ও চাঁদাবাজির মধ্যেই তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ নেই। দেশের পর্যটন শিল্প বিকাশের জন্যও তারা এখন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পর্যটকদের প্রশ্ন, এভাবে ঘুরে বেড়াতে কার ভালো লাগে? অপর দিকে এই এলাকায় যাতে পর্যটকরা না আসেন সে জন্য আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বছরজুড়ে চালানো হয় অপপ্রচার।

সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ের সাথে জড়িত মৈতে লুসাই বলেন,

পর্যটন ব্যবসায় এখন ভয়াবহ ধস নেমেছে। তিনি বলেন, এই সময়ে অতীতের বছরগুলোতে মাসে ৭০-৮০ হাজার টাকার ওপরে ব্যবসায় করতেন। এখন তা নেমে এসেছে ১০ হাজারে। পর্যটকরা কেউ আর এই এলাকায় রাত কাটান না। দিনে এসে দিনেই তারা চলে যান।


আরো দেখুন:
  1. আবারও বাঘাইছড়িতে মালভর্তি ট্রাকে উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের আগুন

  2. রাঙামাটির সাজেকে মালভর্তি ট্রাকে উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের আগুন

  3. সাজেকে পর্যটকবাহী মাইক্রোবাস আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা

  4. পণ্যবোঝাই ট্রাকে উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের আগুন দেয়ার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন

  5. রাঙামাটির সাজেকে গাড়ি চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা

  6. পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন খাত অচল করতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে


সাজেকে গিয়ে দেখা যায়, এই এলাকায় সরকারি ব্যবস্থাপনার সাথে সাথে বেসরকারি ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প বিকাশে বেশ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বেশ কিছু কাঠের দোতলা বাড়ি উঠছে পর্যটকদের থাকার জন্য। স্থানীয় বাসিন্দারাই এই ঘরগুলো তৈরি করছেন।

দানিয়েল লুসাই বলেন,

এক সময় সারা বছর পর্যটকের এতটাই ভিড় লেগে থাকত যে মাঝেমধ্যে থাকার স্থান না পেয়ে তারা রাস্তার ওপর রাত কাটাতেন। স্থানীয়দের বাসা-বাড়িতেও রুম ভাড়া করে পর্যটকরা অবস্থান করতেন। এখন আর সেই অবস্থা নেই। আস্তে আস্তে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ছে এই এলাকা।

bght

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরে পর্যটকবাহী একটি গাড়ি পোড়ানো হয় সাজেকের রাস্তায়। এরপরই এ এলাকার পর্যটক শিল্পে অনেকটা স্থবিরতা নেমে আসে। ওই ঘটনার পর থেকে এখনো সাজেকে যারা যান তাদের পাহারা দিয়ে নেয়া হয়। যেসব পর্যটক সাজেকের উদ্দেশে যান তারা বাঘাইহাট সেনা চৌকি এলাকায় গিয়ে জড়ো হন। পরে তাদের সেখান থেকে সেনাবাহিনীর স্কর্ট দিয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাজেকের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। আবার বিকেলে সেনা পাহারায় তাদের শহরে ফিরতে হয়। যে কেউ ইচ্ছে করলেই এখন আর সাজেকে যেতে পারেন না, আবার সেখান থেকে ফিরেও আসতে পারেন না। নিরাপত্তা নিয়ে তাদের চলতে হয়। ৩৪ কিলোমিটারের এই দুর্গম পথটুকু পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তার অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

সাজেকের পর্যটন অ্যাসোসিয়েশনের প্রশাসক সিয়াতা লুসাই বলেন,

পাহাড়ে পর্যটন শিল্প বিকাশ রোধ করতে চাচ্ছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। তারা চায় না এই এলাকায় কোনো পর্যটক আসুক। তাতে তাদের অসুবিধা হয়। যত বেশি লোকসমাগম হবে ততই তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সঙ্কুচিত হয়ে আসবে। এ আশঙ্কায় তারা চাচ্ছে না পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটুক।

সিয়াতা লুসাই বলেন,

এলাকার পর্যটন শিল্প বিকাশে সেনাবাহিনী অনেক কাজ করেছে। সুন্দর রাস্তাঘাট করে দিয়েছে। পানির ব্যবস্থা করেছে। চিকিৎসাকেন্দ্রের ব্যবস্থা করেছে। মসজিদ-উপাসনালয় গড়ে তুলেছে। এলাকার শিশুদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে দিয়েছে। আর এই শিল্পের কারণে এখন এই এলাকার মানুষ দুই বেলা খেয়ে-পড়ে ভালো আছেন। আগে তারা পাহাড়ে জুম চাষ করতেন, গাছ কাটতেন, শিকার করতেন। তাতে দিন চলত না। না খেয়ে থাকতে হতো। পর্যটন শিল্পের বিকাশের পরই তারা কিছু উপার্জন করছেন। পর্যটকদের সেবা দিয়ে তাদের ভালোই উপার্জন হয়। এতে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের সমস্যা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর একজন বলেন, দুর্বৃত্তরা এখনো চাঁদা দাবি করে। প্রতিটি কটেজের মালিকের কাছে সন্ত্রাসীরা এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে।

সিয়েতা লুসাই বলেন,

এক সময় সাজেকে দিনে গড়ে ৩০০ পর্যটকবাহী গাড়ি আসত। এখন আসে ২০-২৫টা। রুইলুই জুনিয়র হাইস্কুলের শিক্ষক বোবিন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ি জনপদে পর্যটন শিল্পের যত বিকাশ ঘটবে ততই এলাকা উন্নত হবে। তিনি বলেন, রুইলুই এলাকায় পর্যটন শিল্পকেন্দ্রিক অনেক কিছ্ইু গড়ে উঠছে। তিনি যে স্কুলে চাকরি করেন সেখানে এখন ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ৮৫। অথচ এখানে এক সময় কোনো স্কুল ছিল না। পর্যটন শিল্প বিকাশের সাথে সাথে এখানে আরো অনেক কিছুই গড়ে উঠেছে।

নীলাচলে গিয়ে দেখা যায় সেখানেও পর্যটকদের তেমন ভিড় নেই। দু-একজন যারা এসেছেন তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পর্যটকরা এসে সব এলাকায় নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে না। এখানে রয়েছে অপহরণ আতঙ্ক। অনেকেই অপহরণের শিকার হয়েছেন ইতঃপূর্বে। কেউ কেউ মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন। ফলে যারা এখানে ঘুরতে আসেন তারাও কেবল শহর ও লোকালয়কেন্দ্রিক ঘোরাঘুরি করেন।

এ দিকে পাহাড়ে যাতে পর্যটকরা না যান সে কারণে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নানা অপপ্রচারও চালানো হয়। এমনকি কোনো কোনো দর্শনীয় স্থান বন্ধ করে রাখা হয়েছে। যেমন স্বর্ণমন্দির গত ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে শিগগিরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। পর্যটকরা যাতে এই এলাকায় এসে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তা নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন খাত অচল করতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে

bght

মিয়া হোসেন,পাবর্ত্য চট্টগ্রাম থেকে ফিরে:

পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এ অঞ্চলকে অশান্ত করতে দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা নানাভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পাবর্ত্য এলাকায় বেশকিছু পর্যটন কেন্দ্র তৈরী করা হয়েছে। এসব পর্যটন কেন্দ্রে মানুষের আগমন সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তারে বিঘ্ন ঘটায়। এ জন্য পার্বত্য এলাকায় পর্যটন শিল্পের বিরুদ্ধে পাহাড়ী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছে স্থানীয়রা। সেই সাথে সরকারকে কঠোর হস্তে সন্ত্রাসী দমন করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ করার জন্য স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, পাবর্ত্য এলাকায় যাতে পর্যটকরা না আসে এ জন্য পাহাড়ী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। পর্যটকদের ভয়ভীতি দেখানো হয়, বিভিন্ন হোস্টেল ও রিসোর্টের মালিকদের কাছ থেকে উচ্চহারে চাঁদা আদায় করা হয়। এমন কী বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়।


আরো দেখুন:
  1. আবারও বাঘাইছড়িতে মালভর্তি ট্রাকে উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের আগুন
  2. রাঙামাটির সাজেকে মালভর্তি ট্রাকে উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের আগুন
  3. সাজেকে পর্যটকবাহী মাইক্রোবাস আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা
  4. পণ্যবোঝাই ট্রাকে উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের আগুন দেয়ার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন
  5. রাঙামাটির সাজেকে গাড়ি চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা

গত বছর ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বান্দবানের অন্যতম দর্শনীয় স্থান স্বর্ণ মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশে অনির্দিষ্ট কালের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। রাঙামাটির অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সাজেক। এ পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ করার জন্য নানামুখী চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। গত বছর পর্যটন মওসুমে ৩১ ডিসেম্বর রাঙামাটির সাজেকে সাবেক এক সেনা কর্মকর্তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে তার গাড়িতে আগুন দেয় উপজাতি সন্ত্রাসীরা। গাড়ীতে আগুন দেয়ার ঘটনা গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া হয়। যাতে করে পর্যটকরা সাজেকে পরিদর্শন করতে না আসে।

স্থানীয় সাজেক এলাকার বাসিন্দারা জানান, আমরা এই পর্যটন কেন্দ্রের কারণে অনেক উপকৃত হচ্ছি। কিন্তু কিছু সংখ্যক সন্ত্রাসীরা নানাভাবে এই পর্যটন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। গত কয়েক মাস আগে ‘বৃহত্তর সাজেক ইউনিয়নবাসী’ ব্যানারে পর্যটনের বিরুদ্ধে একটি লিফলেট প্রচার করেছে সন্ত্রাসীরা। তারা ওই লিফলেটে বেশকিছু মিথ্যা তথ্য তুলে ধরে ‘পর্যটন তুলে নাও- নিতে হবে’ এই শ্লোগান দেয়ার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছে। কিন্তু এলাকাবাসী তাদের ওই লিফলেটের বিরুদ্ধে আরেকটি লিফলেট এলাকাবাসীর কাছে তুলে ধরেছে।

“প্রচারে: রুইলুই ও কংলাকপাড়ার দরিদ্র এলাকাবাসী” ব্যানারে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পাল্টা লিফলেট প্রচার করেছে। “সাজেক ইউনিয়নবাসীর কাছে রুইলুই ও কংলাকপাড়াবাসীর আকুল আবেদন, সাজেক এর রুইলুইপাড়া পর্যটন কেন্দ্র বন্ধের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান” শিরোনামের এ লিফলেটে বলা হয়েছে, সাজেক পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে এই দুই পাড়ার দরিদ্র জনগণের ব্যাপক আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটেছে। এখন আমরা স্ত্রী পরিবার নিয়ে খেয়ে পড়ে সুখে বাস করতে পারছি।

সাজেক ২

এই পর্যটনকে কেন্দ্র করে ৩৫জন দরিদ্র ত্রিপুরা ও মিজো, পাংখু ব্যক্তিবর্গের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে। সেই সাথে স্থানীয় ব্যক্তি উদ্যোগে ছোট বড় ১২টি রিসোর্ট, হোস্টেল গড়ে উঠেছে, যার দ্বারা আরো অনেক পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন হয়েছে। আমরা এলাকাবাসী আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সমুন্নত রাখতে বদ্ধ পরিকর, কাজেই অসামাজিক কার্যক্রমের অভিযোগ ভিত্তিহীন। পর্যটনের জন্য আমাদের কোন পরিবার ও ব্যক্তিকে উচ্ছেদ হতে হয়নি বরং হেডম্যানের সহায়তায় নতুন স্থানে পরিকল্পিত ও আধুনিক বাসস্থান তৈরী করে দেওয়া হয়েছে, যা আমাদের উপকৃত করেছে।

এই এলাকায় পর্যটনের উন্নয়ন হলে সকলেই উপকৃত হবো, কাজেই অন্যের কথায় এবং গুজবে কান দিয়ে আমাদের তথা নিজেদের পেটে লাথি মারবেন না। চাঁদাবাজীতে ব্যর্থ হয়ে এবং নিজেদের হীনস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সাজেক এলাকাবাসীর নামে যে উসকানী মূল কথাবার্তা ও আন্দোলনের পাঁয়তারা চলছে তার বিরুদ্ধে রুখে দাড়ান। এই পর্যটনকে কেন্দ্র করে পরিবহন খাতে অনেক লোকের কর্মস্থান হয়েছে। সেই সাথে প্রতিদিন অত্র এলাকায় নতুন নতুন দোকানপাট গড়ে উঠেছে, যা এ অঞ্চলের জনগণের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাবে। মনে রাখবেন, অতিথিরা দেবতা সমান, এদের নিরাপত্তা প্রদান আপনার আমার সকলের দায়িত্ব।

সাজেক এলাকার পর্যটন এসোসিয়েশনের প্রশাসক সিয়াতা লুসাই এ প্রতিবেদকে বলেন,

এখানকার পর্যটন শিল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা চাঁদা দাবি করে, এলাকায় ভয় ভীতি দেখায়। গত বছর একটি গাড়ি পুড়িয়ে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করেছে।

সাজেক এলাকার এক হোটেলের মালিক ও ধর্ম প্রচারক মইতে লুসাই বলেন,

আমরা এ পর্যটন কেন্দ্রের মাধ্যমে অনেক আয় রোজগার করতে পারছি। কিন্তু সন্ত্রাসীরা আমাদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। ফলে আমাদের এখানে ব্যবসা করাই কষ্ট করে হয়ে যাচ্ছে। এখানকার পর্যটন শিল্পের বিরুদ্ধে লিফলেট ছেড়ে নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান।

পার্বত্যাঞ্চল মডেল পর্যটন জোনে পরিণত হবে- নব বিক্রম কিশোর

Rangamati Pic-16-01-16-03

স্টাফ রিপোর্টার:

শীঘ্রই পার্বত্যাঞ্চল মডেল পর্যটন জোনে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, এনডিসি। অপার সম্ভাবনাময় এ অঞ্চলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি সৈন্দর্য্যের দিকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে ইতিমধ্যে নানা উদযোগ গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। আর তা খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যটন সেক্টরগুলোতে নতুন পরিকল্পনা যোগ করা হচ্ছে। নতুন নতুন জায়গায় পর্যটন স্পট গড়ে তোলা হবে। তার জন্য প্রয়োজন পর্যটন সেক্টরে সম্পক্তি সকলে সহযোগিতা। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি মডেল পর্যটন জোন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জানান তিনি।

শনিবার সকাল ১০টায় রাঙামাটি জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যটন সমস্যা ও সম্ভাবনা শীর্ষক পর্যালোচনা সভা নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা এসব কথা বলেন।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমার সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসু জামান, রাঙামাটি অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক মো. মুস্তাফা জামান, জেলা পুলিশ সুপার মো. সাঈদ তরিকুল হাসান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সংসদীয় কমিটির সদস্য মো. শাহাজাহান মোল্লা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জাকির হোসেন চৌধূরী প্রমূখ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা আরও বলেন, পার্বত্যাঞ্চলে বিপুল সম্ভাবনা সুযোগ থাকলেও পর্যটন শিল্প কাঙ্খিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। এ অঞ্চলে পর্যটন শিল্প এখনো আলোর মুখ দেখতে পারেনি। কিন্তু পর্যটন সম্ভাবনাকে পরিকল্পীতভাবে কাজে লাগানো গেলে পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের জন্য বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন বৃদ্ধি পাবে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ মধ্যেমে পর্যটন উন্নয়নে যেসব সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। এসব সমস্যগুলো থেকে কিভাবে উত্তোরণ হওয়া যায় তার উপায় ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পার্বত্যাঞ্চলের পর্যটন সেক্টরকে মাস্টার প্লানে মধ্যেমে উন্নয়নের করা হবে বলে তিনি জানান।

সাজেক সড়কের দু’পাশে রিজার্ভ ফরেস্টের জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি পর্যটকদের নিরাপত্তা সঙ্কট সৃষ্টি করেছে- ওয়াদুদ ভুঁইয়া

ওয়াদুদ

মো. জুয়েল, সাজেক প্রতিনিধি:

পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের পর বর্তমানে সাজেকের স্থানীয় জনগনের জীবনমানের অকল্পনীয় উন্নয়ন হয়েছে বলে অভিমত প্রকাশ করেন সাবেক এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি’র সভাপতি ওয়াদুদ ভুঁইয়া।

তিনি আরো বলেন, ২০০৬ সালে প্রথমবার যখন আমি সাজেক আসি তখন তেন রাস্তাও ছিল না।  বর্তমানে রাস্তা হয়েছে এবং এই রাস্তার দুইপাশ দিয়ে রিজার্ভ ফরেস্টের জায়গায় প্রচুর অবৈধ বসতি হয়েছে।  এসকল বসতি পর্যটকদের যাতাযাতের পথে নিরাপত্তার সঙ্কট সৃষ্টি করেছে বলে তিনি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

দীর্ঘ একযুগ পর সাজেক ভ্রমণে পার্বত্যনিউজের এ প্রতিনিধির কাছে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণণা করতে গিয়ে উপরোক্ত কথা বলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের জনপ্রিয় এই নেতা। উল্লেখ্য, সংসদ সদস্য ও উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসাবে ১২ মার্চ ২০০৬ সালের প্রথমবার সাজেক ভ্রমণে এসেছিলেন তিনি। এর একযুগ পর গত ১১ জানুয়ারী দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দীর্ঘ ১ যুগ পর দুই দিনের জন্য সাজেক ভ্রমণে যান তিনি।  সাজেক ভ্রমণকালে তিনি স্থানীয় পর্যটন রিসোর্টে রাত্রি যাপন করেন।  প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের উল্লসিত হতে দেখা যায়।

ওয়াদুদ ১

 একযুগের ব্যবধানে সাজেক ভ্রমণে তার অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর আগে ১২ মার্চ ২০০৬ সালের প্রথমবার গিয়েছিলাম, তখন কিন্তু কোন রাস্তা ছিলোনা, দুর্গম, বন্ধুর সে যেন এক অরণ্যবাস। সেখানে যাওয়া আর যুদ্ধে যাওয়া যেন এক।  অনেকে সেদিন আমাকে বারণ করেছিল, আমি সেই বাধা শুনি নাই, আমি শুধু বোঝাতে চেয়েছিলাম সাজেক আমাদেরই, সাজেক বাংলাদেশেরই।  সাজেক হতে পারে একটি পৃথিবী বিখ্যাত পর্যটন স্থান।

যদিও সেই সময় সাজেকের মানুষ খাগড়াছড়ি শহরে আসতে সাতদিন লাগতো পায়ে হেঁটে।  তাই তারা বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগ না রেখে রাখতো মিজোরামের সাথে, সেখানে সাজেকের ছেলে মেয়েরা সেখানকার ইংরেজি মিডিয়ামে খ্রিষ্টান মিশনারির স্কুল কলেজগুলোতে পড়ালেখা করতো, মানুষজন মিজোরামে  হাটবাজারসহ যাবতীয় কাজ সম্পাদন করতো, বিয়েসাদী সম্পর্কও তাদের সাথে ছিল।

আমরা ২০০৬ সালে গেলে তারা আমাদেরকে অনেক আদর আপ্যায়নের সহিত তাদের বাসা বাড়িতে রাখে, যদিও আমরা প্রায় একশতজন থাকার ও খাওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েই গিয়েছিলাম।  তারা আমাদেরকে অভ্যর্থনা জানায় ইংরেজিতে গান গেয়ে ও পাংখোয়াদের ঐতিহ্যগত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।  সেখানে মূলত লুসাই, পাংখোয়া ও ত্রিপুরারা বসত করে।

আজকের সাজেক মাথায় রেখেই আমরা সেই সময় সজেকের কংলাক পাড়ায় একটি রেষ্টহাউজ নির্মাণ করি, বিদ্যুৎ এর বিকল্প হিসাবে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন জেনারেটর, পানির অভাব পুরনের জন্য একটি পানির প্রকল্প হাতে নেই এবং সাময়িকভাবে গভীরতর স্থান থেকে ঝর্নার পানি তুলে আনার জন্য পাঁচটি গাধা প্রদান করি।  কমলার চাষসহ ইত্যাদি উপায়ে সাজেকবাসীর উন্নয়নের জন্য নানা আয়বর্ধনমূলক প্রকল্প হাতে নেই এবং আজকের সাজেকের রাস্তাটি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করি ২০০২ সালেই।  কিন্তু রাস্তাটি সমাপ্ত হয় ২০০৭ সালে।

ওয়াদুদ ২

ওয়াদুদ ভুঁইয়া বলেন, সাজেকে আমি যাওয়ার আগে রাষ্ট্রের একটি মানুষ ছাড়া সেখানে কোন ইউএনও ও ওসিও যাননি, অন্যদের কথাতো বাদই দিলাম।  স্বাধীনতার পর সাজেকে প্রথম জাতীয় নেতা হিসেবে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান সাজেকের মাটিতে পদার্পন করেন। তার এই আগমণের ফলে এ দেশের মানুষ প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীন ভুখণ্ড হিসাবে সাজেকের সাথে পরিচিত হয়।

তিনি এসে সাজেকের জনগনের অবহেলিত ও করুণ অবস্থা দেখে  জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে সাজেকবাসীর মালামাল বহনের জন্য ৩০০ গাধা ও সাজেককে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করতে রুইলুই পাড়া থেকে কংলাক পর্যন্ত বিদ্যুতের তার ও জেনেরেটর এর মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যবস্থা এবং প্রতি মাসে একবার হেলিকপ্টারে করে বাজার সদায় করার জন্য রুইলুই থেকে বাঘাইছড়ি উপজেলায় নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন এবং এই সব কিছু একমাসের মধ্যে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

তিনি আরো বলেন, এই ঘোষণা দিয়ে যাওয়ার একমাস পর ঘাতকেরা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। জিয়াউর রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী সকল কিছু বাস্তবায়ন করা হলেও পরবর্তীতে সামরিক সরকার এরশাদ ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুতের তার ও জেনারেটর বিলাইছড়ি নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা যায়। জিয়ার মৃত্যুর পর থেকে আর কোন নেতা সাজেকের দুঃখ দূর্দশা ও অবহেলিত জীবন দেখার জন্য আসেনি।

সাজেকের সৌন্দর্য কেমন লাগলো এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভুঁইয়া কবিতা আবৃত্তি করে বলেন, ‘বাড়ির কাছে আরশি নগর সেথায় এক পড়শি বসত করে, আমি একদিনও না দেখিলাম তারে”।    বাংলাদেশের সেই পড়শি হল সাজেক ভ্যালি- যা খাগড়াছড়ির অতি নিকটে এবং খাগড়াছড়ি হয়ে সাজেক যেতে হয়।  আমরা সেই খাগড়াছড়িরই বাসিন্দা।  কিন্তু আমাদের অনেকেরই সেই আরশি নগর দেখা হয়নি।  অবশ্য আরেকটু নজর দিলেই সাজেক ভ্যালিকে পৃথিবী বিখ্যাত একটি পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা সম্ভব।  যদিও এখন সাজেক বিখ্যাত একটি পর্যটন কেন্দ্র, যেখানে প্রতিদিন শত শত পর্যটক আসে সাজেকের প্রকৃত রূপ, প্রাকৃতিক মনোরম দৃশ্য ও মেঘ ছুঁতে।  যারা আজকের এই সাজেককে প্রস্তুত করেছে তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।

পর্যটকদের জন্য এখানে কোনো অসুবিধা আপনার চোখে পড়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা বলেন, আমি যখন ২০০৬ সালে সাজেক আসি তখন রাস্তার দুই পাশে কোন বসতি ছিল না।  কিন্তু এবার আসার সময় দেখলাম রাস্তার দু পাশে রিজার্ভ ফরেস্টের জায়গা দখল করে প্রচুর পরিমাণে নতুন অবৈধ স্থাপনা ও বসতি গড়ে উঠেছে। এইসব অবৈধ বসতি ও স্থাপনার কারণে পর্যটকদের আসা যাওয়ার পথে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। সম্প্রতি এরকম কিছু বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটে গেছে। তাছাড়া এরা রিজার্ভ ফরেস্টের গাছপালা, জীববৈচিত্র ধ্বংস করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখা দরকার। তবে এবারে রাস্তায় নিরাপত্তা বাহিনীর নিরাপত্তা প্রদান চোখে পরার মত ছিল।

সাজেকের এই পর্যটন কেন্দ্র আরো আকর্ষণীয় করতে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কিনা প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই এমপি বলেন, বর্তমানে সাজেকের যে উন্নয়নের জোয়ার সূচিত হয়েছে আমি সকল মহল, সকল সংগঠনকে অনুরোধ করব; কেউ যেন এই উন্নয়নের বাধা সৃষ্টি না করে। এখানে অনেক অবহেলিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবন জীবিকা, রুটি রোজগারের ব্যবস্থা হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব খাগড়াছড়ি জেলার পর্যটন, পরিবহন, রেস্টুরেন্ট ও অন্যান্য খাতেও পড়েছে। আর এখানে প্রকৃতির সাথে মানুষের বন্ধুত্ব হয়েছে এবং প্রকৃতি ও জীবন কি জিনিস এখানে আসলে বোঝা যায়। তাই এর যেন কোনো ক্ষতি না হয় সে ব্যাপারে যত্নবান হবার জন্য সকল মহলকে অনুরোধ করছি।

দূর্গম সাজেক ভ্যালিতে ‘রুম্ময়’ ও থ্রি স্টার হোটেল হাতছানি দিয়ে ডাকছে রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকদের

সাজেক রিসোর্টে

মো: সানাউল্যাহ , সাজেক থেকে ফিরে:

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালির খাড়া পাহাড়ি রাস্তা ধরে উঠতে উঠতে হঠাৎই ঢালের শুরু। জিপ কিংবা মোটরবাইকে চড়ে সাজেকে পৌঁছাতে পথে পড়বে বুকে হিম ধরানো উঁচু-নিচু সড়ক। ক্ষণে ক্ষণে মনে হতেই পারে রোলার কোস্টারে চড়ছেন। তবু চার পাশের সবুজ পাহাড় ডিঙিয়ে রুইলুই উপত্যকায় (ভ্যালি) পৌঁছে মনে হবে স্বর্গে আসার জন্য এটুকু ঝক্কিতো পোহানো যেতেই পারে।

সাজেক ভ্যালিতে উঠেই আকাশপানে তাকালে মনে হয় কালো মেঘগুলোকে যেন সরিয়ে দিয়ে সাদা মেঘের আনা গোনা শুরু হয়। এমন সাদা মেঘ আকাশে এসে জমে, মনে হয় শিমুল তুলার খন্ড আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে। পায়ের নিচে মেঘের দল। মাথার উপরেও মেঘ। মেঘের এ দৃশ্য সবার মনকে উতাল উদাস করে তোলে, মনের গভীরে সুখময় আনন্দের কোমল পরশ ছুঁয়ে যায়। সমতল থেকে তিন হাজার ফুট ওপরে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের রুইলুই ভ্যালি।

এখানে দাঁড়ালে নিচে ভাসমান মেঘ দেখা যাবে। কখনো মেঘ এসে ভিজিয়ে দেবে শরীর। প্রাকৃতিক
সৌন্দর্যের টানে বহু পর্যটক এখন সাজেক আসছেন। প্রকৃতির সাথে মিতালি করতে এসে পর্যটকরা যাতে আরো স্বাচ্ছন্দ্যে কাটাতে পারে তার জন্য সেনাবাহিনী গত কয়েক বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে গত বছরের নভেম্বর মাসে সেনাবাহিনী পর্যটনের নানা অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু করে। সুদৃশ্য সড়ক, কটেজ, বিশ্রামাগার, সড়কবাতি, ক্লাবঘর, শিব মন্দির, পাবলিক টয়লেট, বিদেশি ঘরের স্টাইলে তৈরি রিসোর্ট “রুম্ময়”ও থ্রি স্টার মানের হোটেলও এ পাহাড়ে তৈরি করা হয়েছে।

আগে পর্যটকরা দিনে এসে রাতযাপনের ব্যবস্থা না থাকায় আবার দিনেই ফিরে যেতে হতো। এখন পরিবার নিয়েও রাতযাপন করা যাবে। নতুন বিবাহিত দম্পতিরা তাদের হানিমুনের জন্য পাহাড়ের ওপর এই স্থানটিও পছন্দ করতে পারেন। লুসাই ও পাংখোয়া উপজাতিদের বাস এখানে। রুইলুই এলাকার বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর পাল্টে গেছে রুইলুই ভ্যালির চেহারা।
এলাকাবাসীদের শিক্ষার উন্নয়নে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানির জন্য উন্নতমানের ট্যাংক তৈরি করা হয়েছে। ফুটপাথে টাইলস বিছানো হয়েছে। ফুটপাথে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে সড়ক বাতি নির্মাণ করা হয়েছে। এলাকার অধিবাসীরা তাদের ধর্মীয় চর্চা করার জন্য সেনাবাহিনী বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরি করে দিয়েছেন। সংস্কৃতি চর্চার জন্য ক্লাবঘরও তৈরি করা হয়েছে। প্রকৃতির সাথে মিল
রেখে এলাকাবাসীদের ঘর তৈরি করা হয়েছে। যারা আগে ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো। এখন তারা ঐ এলাকায় তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পাচ্ছে। এজন্য সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছেন।

খাগড়াছড়ি থেকে দিঘিনালা, কাচালং হয়ে সড়ক পথে তিন থেকে চার ঘন্টার মধ্যে পৌঁছানো যায় সাজেকের রুইলুই ভ্যালিতে। অপর দিকে রাঙামাটি থেকে প্রথমে নৌযানে কাপ্তাই হ্রদ পাড়ি দিয়ে ছয়-সাত ঘন্টায় বাঘাইছড়ি, সেখান থেকে দেড় থেকে দুই ঘন্টার মধ্যে পৌঁছানো যায় রুইলুইয়ে। উপত্যকার প্রথম পাড়া রুইলুইয়ে দিগন্ত বিস্তৃত পাহাড় সারি ও সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের মোহনীয় দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। পথে যেতে রিজার্ভ ফরেস্টের গভীর ঘনবন, সুউচ্চ পাহাড়ী বৃক্ষ আপনার মনে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেবে। এরপর লুসাই জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত কংলাকপাড়া পর্যন্ত যাওয়া যাবে। হেঁটে যেতে সময় লাগবে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘন্টা। পথে পড়বে বিজিবি ও সেনাবাহিনীর ক্যাম্প, হ্যালিপ্যাড, ঘন বনে আচ্ছাদিত নির্জন পাহাড়, কমলালেবু বাগান। উপত্যকা জুড়ে কংলাকের পর আরও বহু পাহাড়ি পাড়া পর্যন্ত হেঁটে যেতে সময় লাগবে দেড় থেকে দুইদিন। তবে দুর্গম হওয়ায় এখনো পর্যটকেরা সে পথে খুব একটা পা মাড়ান না। পাঙ্খো ও লুসাই উপজাতির প্রাকৃতিক জীবনপ্রণালী ও সৌন্দর্যবোধ, সংস্কৃতি মুহুর্তেই মুগ্ধ  করবে যেকোনো পর্যটককে।

সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রুইলুই ভ্যালিতে পর্যটকদের ভিড়। রুইলুই পাড়া থেকে কংলাক পাড়া পর্যন্ত দল বেঁধে ঘুরছিলেন অনেকে।

কথা হয় ঢাকা থেকে আসা মোঃ আমজাদের সাথে। তিনি বলেন, আমরা ৩০ বন্ধু মিলে সাজেকের উইন্ড মিলসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। এতো সুন্দর জায়গা বাংলাদেশের আর কোথাও দেখিনি। ভবিষ্যতে সময়-সুযোগ মিললেই আবার ছুটে আসব এখানে।

খাগড়াছড়ি সদর থেকে প্রতিদিন ছেড়ে যাওয়া শান্তি পরিবহনে সাজেকের মাচালং পর্যন্ত যাওয়া যাবে। সেখান থেকে জিপ, মোটর সাইকেল, সিএনজি ভাড়া করে সাজেক ভ্যালিতে যাওয়া যাবে। রুইলুই মৌজার হেডম্যান লাল থাঙ্গা লুসাই বলেন, সাজেকের সৌন্দর্যের টানে দেশের নানা স্থান থেকে প্রতিদিনই পর্যটকেরা আসছেন। রুইলুই ভ্যালিতে প্রতি দিন শত শত পর্যটক আসছেন। সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের পর আসার হার বাড়ছে।
তবে সকল অবকাঠামো নির্মাণ সমাপ্ত হলে পর্যটকদের পদচারণা আরও বাড়বে বলে তিনি জানান।

মারিশ্যা জোন কমান্ডার লে.কর্নেল মো: রবিউল ইসলাম বলেন, সাজেকের রুইলুই ভ্যালিতে এখন বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসা শুরু করেছেন। পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে এখানে ‘রুম্ময়’ নামে একটি মনোমুগ্ধকর রিসোর্ট ও থ্রি স্টার মানের একটি হোটেল নির্মাণ করা হয়েছে।

নির্মিত রিসোর্ট ও হোটেল দু’টি আগামী ৪ সেপ্টেম্বর সেনাপ্রধান সাজেক সফরকালে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। তবে তারিখটি এখন চুড়ান্ত হয়নি। সেই সাথে হোটেলের রুম ভাড়া, বুকিং সিস্টেম এখনো চুড়ান্ত করা হয়নি।

৪৩ বছরেও পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে ওঠেনি টেকনাফ সেন্টমার্টিন

teknaf sanmatiom

টেকনাফ প্রতিনিধি:

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ও সম্ভাবনায় ভরপুর সাগর-নদী-পাহাড় ঘেরা সীমান্ত শহর টেকনাফ এবং দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন স্বাধীনতার পর ৪৩ বছরেও আধুনিক ও পরিকল্পিত পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে ওঠেনি। অথচ পরিকল্পিত উপায়ে আধুনিক পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তোলা হলে তা শুধু দেশে নয়, গোটা দুনিয়া জুড়ে খ্যাতি পেতে পারতো।

 

 

কারণ সাগর-নদী-পাহাড়-সমুদ্র সৈকত- প্রবালদ্বীপ ও অপার সম্ভাবনা আর প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর সব কিছুর সমন্বয়ে এমন পর্যটন অঞ্চল বিশ্বে কমই আছে। তবে দেরিতে হলেও সরকার পরিকল্পিত পর্যটন নগরী হিসাবে গড়ে তুলতে সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার একর জমি নিয়ে মাস্টারপ্ল্যানের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

জানা গেছে,প্রস্তাবিত মাস্টারপ্ল্যান কিছুটা কাটছাঁট করে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সরকার। এদিকে মাস্টারপ্ল্যানের কাজ শুরুর পর থেকেই দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা কক্সবাজারে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ধীরে চলো নীতিগ্রহণ করেছিলেন। যতদিন পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদিত হবে না, ততদিন তারা ঝুঁকি নিতে চাননি। মাস্টারপ্ল্যানে কোথায় কী হবে, কী করা যাবে, আর কী করা যাবে না- এমন সব বাধ্যবাধকতার কারণেই মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এসব বিনিয়োগকারীরা রাজধানীর ‘ড্যাব’-এর মতো জটিলতায় পড়তে চাননি। কিন্তু এখন মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে স্থানীয় প্রশাসন এবং দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তারা।

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজার ও দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটন শিল্পের প্রসার শুরু হয় মূলত কয়েক যুগ আগে থেকেই। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে দেখা দেয় আবাসন, বিনোদনসহ নানা সংকট। আর এই সুযোগে পর্যটকদের সুবিধা দিতে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত গড়ে উঠেছে শত শত বহুতল ভবন।

গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে কক্সবাজারের সাগরকে হোটেল-মোটেল জোন ঘোষণা করে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। সেখানে এখন গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক অট্টালিকা। হোটেল-মোটেল জোনের পূর্ব পাশে এখন শতাধিক গেস্ট হাউস বাণিজ্যিকভাবে হোটেল ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আর এর পরিধি বেড়ে কক্সবাজার শহর ছেড়ে বিস্তীর্ণ সৈকত হয়ে ঠেকেছে দেশের শেষ সীমানা সেন্টমার্টিন পর্যন্ত। পর্যটন শিল্পের অংশ হিসেবে গড়ে উঠেছে শত শত অট্টালিকা।

রাজধানী ঢাকায় যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাঁচ তারকামানের হোটেল নেই, সেখানে কক্সবাজারেই গড়ে উঠেছে প্রায় এক ডজন পাঁচ তারকামানের হোটেল। নির্মিত হচ্ছে আরো বেশ কয়েকটি। এছাড়া স্টুডিও টাইপ তিন তারকা ও পাঁচ তারকামানের অ্যাপার্টমেন্টও রয়েছে অর্ধশতাধিক। এসব নির্মাণে কক্সবাজারে বর্তমানে অর্ধশতাধিক ডেভেলপার কোম্পানি কাজ করছে বলে জানা গেছে। এসব প্রকল্পে দেশ-বিদেশের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করেছেন হাজার হাজার কোটি টাকা। ফলে কক্সবাজার একটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপ নিতে যাচ্ছে।

কিন্তু সরকারিভাবে কোন ধরনের মাস্টারপ্ল্যান না থাকায় পুরো কক্সবাজারই অপরিকল্পিত নগরায়নে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে কক্সবাজারবাসী ও বিনিয়োগকারীদের দাবী ছিল পুরো কক্সবাজারকে একটি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আনা। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারের পক্ষে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর ও বেসরকারি সংস্থা শেলটেক কনসালট্যান্ট যৌথভাবে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর কাজ করার পর ২০১১ সালের ১১ মে নগর উন্নয়ন অধিদফতর মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া প্রকাশ করে। ‘প্রিপারেশন অব ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান অব কক্সবাজার টাউন অ্যান্ড সি-বিচ আপ টু টেকনাফ’ নামক প্রকল্পের আওতায় এই খসড়া পরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) তৈরী করা হয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালী পৌরসভা ও আদিনাথ মন্দির এলাকা থেকে শুরু করে কক্সবাজার পৌরসভা, কক্সবাজার সদর উপজেলার একাংশ, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে টেকনাফ সৈকত পর্যন্ত এলাকা, রামু ও উখিয়া উপজেলার একাংশ, টেকনাফ পৌরসভা, সাবরাং ইউনিয়নের একাংশ এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ প্রায় ৮০ হাজার একর জমি নিয়ে মাস্টারপ্ল্যানটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভা ও সদর উপজেলার একাংশে হোটেল-মোটেল জোন, খেলার মাঠ, সরকারি অফিস-আদালত, আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা, পিকনিক স্পট, এডুকেশন জোন, বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক জোন, সিটি পার্ক, ন্যাচারাল পার্ক, প্রাকৃতিক বনসহ ইকোট্যুরিজম, রেল স্টেশন, চাইন্দায় শিল্প এলাকা, ময়লা-আবর্জনার ডাম্পিং জোন, খুরুশকুলে প্রাকৃতিক বন, পার্ক, মৎস্য জোন, ন্যাশনাল পার্ক, মহেশখালীতে পার্ক, ইকোট্যুরিজম, আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা, টেকনাফে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন, সেন্টমার্টিনে ইকোট্যুরিজম সহ নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া প্রকাশের দীর্ঘ দুই বছর পর সম্প্রতি তা চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সরকার।

দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের সাগরের তলদেশে রয়েছে মনোমুগ্ধকর বিচিত্র্য প্রাণী ও হরেক রকম জীব। রয়েছে নানান আকারের পাথরের স্তুপ, দুর্লভ প্রবাল, পাথরের ফুল। সাগরের জলরাশি ও সৌন্দর্যে ভরা বিচিত্র জীব-প্রাণী যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের। সাগরের তলদেশে এসব বিচিত্র জীব অবাক হওয়ার মত, দেখলে মনে হবে সাগরের তলদেশে রয়েছে  শ্রষ্টার সৃষ্টির রহস্যময় এক জগত।

গবেষকদের মতে- সেন্টমার্টিনের উপরের অংশে যে সৌন্দর্য্য রয়েছে তার বহুগুণ মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য্য পড়ে রয়েছে সাগর তলদেশে। উপরে সাগরের সুনীল জলরাশি আর নারিকেল গাছের ছায়ায় ঢাকা বিস্তীর্ণ সাদা বালুকাবেলার চেয়েও সুন্দর এক জগত পড়ে আছে পানির নিচে। এখানে রয়েছে কোরালের পাশাপাশি ছোট ছোট জীব, যা সাগরের তলদেশে তৈরি করে বিচিত্র ধরনের বাসা। কোমর পানির নিচে ডুব দিলে দেখা মেলে বিচিত্র কোরাল ও নানা ধরনের মাছ ও শৈবালের। এছাড়া সাগরের গভীরে রয়েছে বিশাল বিশাল বিচিত্র পাথর ও প্রবালের স্তুপ।

সেন্টমার্টিনের ছেড়াদ্বিয়া (স্থানীয় ভাষায়-চিরাদিয়া) ভ্রমণ করে এসব সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারেন যে কোন পর্যটক। দেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রতি বছর ভ্রমনে আসেন দেশী-বিদেশী কয়েক লাখ পর্যটক। কিন্তু পর্যটকরা নানান কারণে দ্বীপের এই সৌন্দর্য না দেখে ফিরে যান। সেন্টমার্টিনের এসব সাগর রতœ না দেখে ফিরে যাওয়াকে দুর্ভাগ্য বলেই অনেকে মনে করেন।এসব সাগর রতœ দেখতে হলে অবশ্যই সেন্টমার্টিনে থাকতে হবে। এখানে পর্যটকদের থাকার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে অনেক।

বর্তমানে মানসম্মত হোটেল-মোটেল আর কটেজের সংখ্যাও বাড়ছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হোটেল এবং কটেজ হচ্ছে- প্রিন্স হেভেন, আল বাহার, প্রাসাদ প্যারাডাইজ, কক্স বাংলা, রোজ মেরি, ব্লু মেরিন রিসোর্ট, ডলফিন, সি আইল্যান্ড, সি ব্লু, ব্লু সি,  ব্লু মুন, সীমানা পেরিয়ে, অবকাশ, ড্রীম নাইট, সিটিবি, ডায়মন্ড, আইল্যান্ড প্রাসাদ, প্রিন্স আলবাহার, ঊশান ভিউ, সমুদ্র বিলাস, স্বপ্নপুরী, স্বপ্ন বিলাশ, সাগর বিলাস, জলপরী, নীল দিগন্ত, নাবিবা বিলাস, পান্না রিসোর্ট, কোরাল ভিউ, সেন্ট রিসোর্ট, রেহানা কর্টেজ, ময়নামতি, দেওয়ান কটেজ, গ্রিনল্যান্ড, মুজিব কটেজ, শাহজালাল কটেজ, রেজা কটেজ, রিয়াদ রেস্ট হাউস, বে অব বেঙ্গল ইত্যাদি। পর্যটকদের সেবা দিতে টেকনাফ পৌর শহরেও গড়ে উঠেছে বেশ কিছু আবাসিক-অনাবাসিক হোটেল- দ্বীপপ্লাজা, স্কাইভিউ, নাফ, নিরিবিলি, সম্রাট, রাজমহল, আল-আব্বাছ, নাফ কুইন, নাফ সীমান্ত, আল-করম, গ্রীন গার্ডেন, মিল্কি রিসোর্ট, বড়হাজী হোটেল, প্লেজার-ইন্, হিলটপ ইত্যাদি।

তাছাড়া রয়েছে পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল নেটং, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিদ্যুৎ, সড়ক ও জনপথ, গণপূর্ত, বনবিভাগ ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের রেস্টহাউস সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দা তাহেরা বেগম জানান, দ্বীপের মানুষ পর্যটকদের বরণ করতে সদাপ্রস্তুত।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল আমিন জানান, দ্বীপের মানুষ সবসময় পর্যটকবান্ধব। পর্যটন মৌসুমে যাতে দেশী-বিদেশী পর্যটক শিক্ষার্থীরা নিরাপদে দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারেন সেজন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সবপ্রস্তুতি নেয়া হয়। পর্যটক আগমনকে ঘিরে অপরূপ সাজে সাজানো হয় সমুদ্র সৈকত, জেটি ও দ্বীপের বিভিন্ন প্রাকৃতিক স্পটগুলো। তিনি আরো বলেন, “অপূর্ব সুন্দর স্থান সেন্টমার্টিন দ্বীপ, স্বচ্ছ নীল পানিতে ঘেরা এই দ্বীপের মানুষও অসম্ভব ভালো। চুরি ডাকাতির রেকর্ড নেই। সারারাত ঘুরতে পারা যায় নির্ভয়ে-নির্জনে। বিশেষত চাঁদনী রাতে দ্বীপের অপরূপ সৌন্দর্য কেবল উপভোগ, অবলোকন ও হৃদয়াঙ্গম করা যায় যা লিখে বা বলে বোঝানো সম্ভব নয়।

বান্দরবান জেলায় ক্যাবল কার নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার- মেনন

Bandarban crman news 11.5.2014

স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান:

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, পর্যটন শিল্পের বিকাশে বান্দরবান জেলায় কেবল কার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। শহরবাসী ও পর্যটকদের সুবিধার্থে সড়কগুলোর উন্নয়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। শনিবার রাতে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বান্দরবানকে পর্যটকদের আর্কষনীয় করতে ক্যবল কার স্থাপনে পৌর মেয়র জাবেদ রেজা মন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ করলে মন্ত্রী বলেন, বান্দরবান শহরে ক্যাবল কার স্থাপনে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে দেশীয় উদ্যোক্তা পেলে চলতি বা আগামী বছর ক্যাবল কার স্থাপনের কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, বান্দরবান জেলায় প্রাকৃতিক ভাবে যে সব পর্যটন স্পট রয়েছে এগুলোকে উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে অর্থনীতির আমূল পরির্বতন আসবে। তবে পার্বত্য এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা পর্যটন শিল্পের বিকাশের বড় বাঁধা বলে দাবী করেন তিনি।

বান্দরবানে পর্যটন সম্ভাবনা শীর্ষক মতবিনিময় সভা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লার সভাপতিত্বে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মাকসুদুল হাসান খান, ব্রিগ্রেড কমাণ্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক কেএম তারিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার দেবদাস ভট্টাচার্য্য, জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোমিনুর রশিদ আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মেনন বলেন, প্রচারটি বড় কাজ। যতবেশি প্রচার হবে ততবেশি এখানকার পর্যটন শিল্পের বিকাশ হবে। তিনি সকলকে বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যকে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানান।

পার্বত্য জেলা পরিষদের আইন সংষোধনী ও শান্তি চুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগ হস্তান্তরের ব্যাপারে জেলা পরিষদ চেয়াম্যান ক্যশৈহ্লার বক্তব্যর জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ ব্যপারে তিনি উদ্যোগ নিয়ে জটিলতা অবসান জেলা পরিষদকে আরো গতিশীলতা করার আশ্বাস দেন।

এসময় জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য কাজি মজিবর রহমান, থানছি উপজেলা চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং, রুমা উপজেলা চেয়ারম্যন, রোয়াংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ক্যবাঅং, বান্দরবান পৌর চেয়ারম্যান জাবেদ রেজা ও বান্দরবান প্রেস ক্লাব সভাপতি অধ্যাপক ওসমান গনি বক্তব্য রাখেন।

শনিবার সকালে সড়ক যোগে তিনি বান্দরবান শহরে দু’দিনের সফরে আসেন। প্রথমে তিনি বান্দরবানের পর্যটন স্পট মেঘলা, নীলাচল, শৈল প্রপাত ও বৌদ্ধ স্বর্ণ জাদি মন্দির পরির্দশন করেন। রবিবার দুপুরে সড়ক যোগে বান্দরবান ত্যাগ করেন।

আরও খবর পড়ুন

বান্দরবানে জনসেবা তিন কর্মীর বিরুদ্ধে ঋণের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

মাটিরাঙ্গার গোমতি বাজারে ইউপিডিএফের প্রকাশ্য চাদাঁবাজি

খাগড়াছড়িতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য

খাগড়াছড়িতে অর্ধসমাপ্ত মসজিদ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিলেন জেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা

বান্দরবানে রাজ পরিবারের বাঁধায় পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ