পার্বত্য অঞ্চলে জঙ্গিদের নাশকতার পরিকল্পনা

জঙ্গি

স্টাফ রিপোর্টার:

দেশের পার্বত্য জেলাগুলোতে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে জঙ্গিরা এমন তথ্য পেয়ে এরইমধ্যে ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এসব অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে। জঙ্গিদের ফেসবুক ও টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নজরদারি করেই এমন তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। ফেসবুক, টুইটার, ভাইবারসহ জঙ্গিদের তথ্য আদান-প্রদানের ৩২টি সাইট চিহ্নিত করতে পেরেছেন তারা। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় এরইমধ্যে বেশ কিছু জঙ্গি ও নাশকতাকারীকে গোয়েন্দা জালে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে বলেও গোয়েন্দাদের দাবি।

নিজস্ব পদ্ধতি ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, পুলিশ ও বিদেশি হত্যা, হোসনি দালান ও শিয়া মসজিদে বোমা হামলার মাধ্যমে নাশকতা চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে ব্যর্থ হয়ে নতুন করে পরিকল্পনা শুরু করেছেন জঙ্গিরা। এরই অংশ হিসেবে তারা পার্বত্য অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনায় নাশকতার পরিকল্পনা করেন। গত বছর চট্টগ্রাম এলাকায় র‌্যাবের হাতে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক দিয়েই জঙ্গিরা কয়েক হাজার বোমা বানাতে সক্ষম ছিল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত বছরের শুরুতে র‌্যাবের হাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নতুন জঙ্গি সংগঠন হামজা ব্রিগেডের ১২ জঙ্গি গ্রেফতারের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ও গোয়েন্দারা তৎপর হয়ে ওঠেন। ওই সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে র‌্যাব। গত বছরের অক্টোবরে চট্টগ্রাম শহরের খোয়াজনগরের আজিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার ও নয়টি হ্যান্ড গ্রেনেডসহ বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ।

সর্বশেষ গত ২৬ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে এলাকা থেকে নাঈমুর রহমান, নালাপাড়া থেকে ফয়সাল মাহমুদ ও কসমোপলিটন এলাকা থেকে মো. শওকত রাসেলকে গ্রেফতার করে সেখানকার গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পরদিন ২৭ ডিসেম্বর হাটহাজারীর আমানবাজারে জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার ফারদিনের বাসায় অভিযান চালান তারা। সেখান থেকে এমকে-১১ স্নাইপার রাইফেল, ১৫০ রাউন্ড গুলি ও সেনাবাহিনীর ১২টি পোশাকসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। তবে জঙ্গি নেতা ফারদিনকে ধরতে পারেননি তারা।

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করতে গিয়ে গোয়েন্দারা আরও বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার আভাস পান। দেশের সবগুলো গোয়েন্দা সংস্থাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানান দায়িত্বশীল একটি সূত্র। এরইমধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা তোফায়েল আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া, আরও কয়েকজন রাজনীতিককে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

গত ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকায় কথিত ফকির লেংটা মামা ও তার খাদেম আবদুল কাদেরকে গলা কেটে হত্যা করেন জঙ্গি সুজন ওরফে বাবু। একইমাসে ২৪ সেপ্টেম্বর সদরঘাট থানার মাঝিরঘাটে ছিনতাই করতে গিয়ে হ্যান্ডগ্রেনেড বিস্ফোরণে রবিউল ও রফিক নামের দুই জঙ্গি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। জঙ্গিদের গুলিতে গুরুতর আহত হন সাহা করপোরশেনের ম্যানেজার সত্য গোপাল। পরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুটি একে-২২ রাইফেল উদ্ধার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে তথ্য সহায়তা দিয়ে থাকে ইনসাইট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির পরিচালক ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সাইবার নিরাপত্তা কর্মসূচির ফোকাল পয়েন্ট তানভীর হাসান জোহা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তারা জঙ্গিদের পরিকল্পনার অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন। জঙ্গিরা যেসব সাইট ব্যবহার করে তথ্য আদান করেছে সেগুলো থেকে তারা নাশকতার অনেক তথ্য পেয়েছেন। এমন ৩২টি সাইট চিহ্নিত করে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে অবহিত করেছেন।

এরইমধ্যে গোয়েন্দারা বেশ কিছু জঙ্গিকে তাদের জালে আটকাতে পেরেছেন বলেও জানান জোহা। আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও  জেএমবিসহ আরও কিছু জঙ্গি সংগঠন একত্রিত হয়ে এসব নাশকতার পরিকল্পনা করছে বলেও তথ্য রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে।

নতুন করে জঙ্গিদের নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এমন কিছু তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। তবে, আগেও পুলিশ ও বিদেশি হত্যাসহ বিভিন্ন নাশকতা চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চেয়েছিলেন জঙ্গিরা। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। এবারও হবে না।