খাগড়াছড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ৪৫টি সিলিং, সামরিক পোশাকসহ ৩ উপজাতীয় যুবক আটক

kkc

স্টাফ রিপোর্টার:

খাগড়াছড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ৪৫টি সিল, সামরিক পোশাকসহ ৩ উপজাতীয় যুবক আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে জেলার বিজিতলা চেকপোস্টে নিরাপত্তা তল্লাসীকালে তাদের আটক করা হয়ে।

সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওঁত পেতে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিজিতলা নিরাপত্তা বাহিনীর চেক পোস্টে তল্লাশী করে সন্দেহভাজন তিন উপজাতীয় যুবকের শরীর তল্লাশীকালে তাদের নিকট থেকে সামরিক আগ্নেয়াস্ত্র বহনকারী ৪৫টি সিলিং, আরাকান আর্মির ব্যবহৃত ১ সেট শীতের পোশাক ও একটি মোটর সাইকেল আটক করা হয়।

সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ বা ভারতে এ ধরনের সিলিং ব্যবহার করা হয় না। এগুলো মূলত আরাকান আর্মি বা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন অস্ত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার এসআই আরেফিন পার্বত্যনিউজকে বলেন, আটককৃত যুবকরা হলেন, বিবৃতি চাকমা(৩৪), পিতা উখিল প্রিয় চাকমা, ধনমনি চাকমা(৩৬) পিতা মহারুম চাকমা, কিরণ ত্রিপুরা(২৩), পিতা কৃষ্ণমোহন ত্রিপুরা। আটককৃতদের মধ্যে বিবৃতি চাকমার বাড়ি সদরের চম্পাঘাট এলাকায় এবং বাকি দুইজনের বাড়ি পানছড়ি।

সূত্রমতে, আটক সন্ত্রাসীরা স্থানীয় উপজাতীয় সংগঠনের নিযুক্ত চাঁদা আদায়কারী। এদের মধ্যে বিবৃতি চাকমা পেশায় হোন্ডা চালক হলেও মহালছড়িতে চাঁদা আদায়ের দায়িত্ব, কিরণ ত্রিপুরার চাঁদা আদায় এলাকা পানছড়ি হলেও সম্প্রতি তাকে রাঙামাটির ১৮ মাইল এলাকায় পোস্টিং দেয়া হযেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে বিবৃতি চাকমা জানিয়েছে, রাঙামাটির নানিয়ার চরের ১৮ মাইলে জনি চাকমা নামের এক সন্ত্রাসীর কাছে এই সামরিক সরঞ্জামগুলো সরবরাহ করার জন্য রমেশ চাকমা নামে এক ব্যক্তি তাকে এই সরঞ্জামগুলো দিয়েছে। তিনি আরো জানান, আরো একটি কালো পালসার মটর সাইকেলে ৪৫ টি ম্যাগজিন ও বিপুল পরিমাণ গুলি নিয়ে আসছিলো আরেকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ। যাদের সাথে কথা ছিলো তাদের মটর সাইকেল বিজিতলা নিরাপত্তা চৌকি বিনা বাধায় পার হতে পারলে তারা সংকেত দিলে সেটিও আসবে। কিন্তু তারা আটক হয়ে যাওয়ায় সংকেত না পেয়ে অপর মটরসাইকেলটি পালিয়ে যায়।

আটককৃতদের সদর থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুদ্দীন ভুঁইয়া আটকের সত্যতা পার্বত্যনিউজকে নিশ্চিত করেছেন।