মিয়ানমারে নারী পাচারের অভিযোগে বান্দরবানে বৌদ্ধ ভিক্ষু আটক

ততততত

স্টাফ রিপোর্টার:

বিনা খরচে উপজাতীয় দরিদ্র মেযেদের শিক্ষার নামে বৌদ্ধ মন্দিরে নিয়ে এসে মিয়ানমারে পাচার করার অভিযোগে  বান্দরবানে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি বৌদ্ধ মন্দির থেকে উঃ স্বীরি ভিক্ষু(৩৬) নামের এই বৌদ্ধ ভিক্ষুকে আটক করেছে যৌথ বাহিনীর একটি দল।বর্তমানে তিনি বান্দরবান সদর থানায় আটক রয়েছেন।

উঃ স্বীরি ভিক্ষুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ১৪/১৫ জন উপজাতীয় দরিদ্র তরুণী মেয়েকে বিনা মূল্যে শিক্ষার কথা বলে মন্দিরে নিয়ে এসে পরে তাদের মিয়ানমারে পাচার করেছে।

পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, শুক্রবার জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার তালুকদার পাড়া গ্রামের মংপ্রু হ্লা মারমা(৪২) থানায় অভিযোগ করেন যে, তার মেয়ে নুচিং মারমা(১৫) কে উঃ স্বীরি ভিক্ষু নামের এক ব্যক্তি বিনা খরচে লেখাপড়া করার কথা বলে গত ১০ জানুয়ারি কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়ি বৌদ্ধ মন্দিরে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন উক্ত বৌদ্ধ ভিক্ষু রোয়াংছড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে আরো ১৪/১৫ জন উপজাতীয় তরুনীকে বিনা মূল্যে শিক্ষার কথা বলে মিয়ানমারে পাচার করে দিয়েছে। খবর শুনে তিনি উক্ত বৌদ্ধ মন্দিরে মেয়েকে দেখতে গেলে সেখানে তার মেয়েকে পাননি। ফলে তিনি মেয়েকে উদ্ধারের জন্য থানায় মামলা করেন। মামলা নং- ১/ ১১-৩-২০১৬।

vante

মামলা হওয়ার পর গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে উঃ স্বীরি ভিক্ষুর অবস্থান সনাক্ত করে বান্দরবান জেলা পুলিশের নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর একটি দল কাপ্তাই থানা পুলিশের সহায়তায় মিটিঙ্গাছড়ি বৌদ্ধ মন্দিরে অভিযান চালিয়ে আটক করে। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উক্ত ভিক্ষুর বসতবাড়ির চারদিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা দ্বারা সুরক্ষিত দেখতে পেয়ে বিস্মিত হয়।

সূত্র জানিয়েছে, উঃ স্বীরি ভিক্ষুর বাড়ি মিয়ানমার। তিনি সেদেশের পটুক জেলার ছাইংদাম থানার সিত্তিয়া পাড়া গ্রামের অং সুই উ মারমার সন্তান। তার মাতার নাম সাই আ প্রু মারমা। ২০০৪ সালে তিনি প্রথম মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারের রামুতে এসে বসবাস শুরু করেন। এরপর ২০০৭ সালে বর্তমান স্থানে এসে বসবাস করেন। তিনি এখন এই মন্দিরের প্রধান ভিক্ষু। বাংলাদেশে অবস্থানে তার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। নিজেকে স্থানীয় নাগরিক দাবী করলেও তার কাছে কোনো পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয় পত্র পাওয়া যায়নি।

পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঃ স্বীরি ভিক্ষু জানান, মায়ানমারের মংন্ডু শহরতলীর কাছে নেজাদো মন্দিরে রোয়াংছড়ির ১১ জন মেয়েকে ধর্মীয় একটি অনুষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়ার হুয়াইক্ষ্যং দিয়ে ওপারে মেয়েদের পাঠান। তবে তিনি পাচার করেননি বলে জানিয়েছেন। তারা ফিরে আসবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বান্দরবান সদর থানায় শুক্রবার রাতে অভিযুক্ত ঐ বৌদ্ধ ভিক্ষুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: রফিক উল্লাহ জানান, রোয়াংছড়ির তারাছাসহ বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে ১৩/১৪ জন মারমা যুবতী মেয়েকে বিনা পয়সায় পড়ালেখা করানোর প্রলোভন দেখিয়ে কাপ্তাই এর মিতিঙ্গাছড়ি বৌদ্ধ মন্দিরে নিয়ে যায় বৌদ্ধ ভান্তে।

রোয়াংছড়ি থানার এসআই এবং উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মোস্তফা পার্বত্যনিউজকে জানান, আত্মরক্ষার জন্য উঃ স্বীরি ভিক্ষু একেক সময় একেক কথা বলছেন। ভিক্ষুটি এ পর্যন্ত ১৪/১৫ জন উপজাতীয় মেয়েকে মিয়ানমারে পাচার করেছে। তবে সে একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে এমনটা মনে করছেন না তিনি। তার মতে, উঃ স্বীরি ভিক্ষুর সাথে একটি বড় ধরণের চক্র কাজ করছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুরো নেটওয়ার্কের খোঁজ পাওয়া যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

বোয়াংছড়ির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হ্লাথোয়াইহ্রী মারমা জানান, নিখোঁজ মেয়েদের অভিভাবকরা নিরূপায় হয়ে মানবপাচারের মামলা করেছে। একই সাথে ১৩ জন মেয়ে নিখোঁজ হওয়া রহস্যজনক বলে তিনি জানান।