নাইক্ষ্যংছড়ির উন্নয়ন পরিকল্পনায় অংশীদার হতে চায় ওজিফা খাতুন রুবি

নিজস্ব প্রতিনিধি:

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক ওজিফা খাতুন রুবি। যার চিন্তা চেতনা জুড়ে এলাকার উন্নয়ন আর মানুষের সেবা। রাজনীতির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে ছিলেন কোন স্বার্থছাড়া। আসন্ন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হচ্ছেন। সকল স্তরের মানুষের জন্য একজন নিবেদিত প্রাণ হিসেবে ইতোমধ্যেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) নিজ বাসভবন রুবি স্বপ্ন বিলাসে এক মতবিনিময় সভায় বলেছেন, ছোট বেলা থেকেই এলাকার উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় বুকে লালন করে আসছি। আর সেই পথ পাড়ি দিতে গিয়ে বিগত সময়ে নানা ঘাত প্রতিঘাত মোকাবেলা করতে হয়েছে। সে ক্ষেত্রে গণমাধ্যম আমার পাশে ছিল। আর একজন পেশাজীবী শ্রেণীর মানুষ হিসেবে সেই গণমাধ্যমকর্মীদের সিঁড়ি বেয়েই তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন।

তাঁর স্বপ্ন: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িকে পর্যটন শিল্পে সমৃদ্ধি করতে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে। পাশাপাশি পানীয় জলের সংকট দূর, গ্রামীণ রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন এবং শিক্ষিত ও বেকার যুবক যুবতীদের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে।

তিনি আরও বলেন, তাঁর নেত্রী শেখ হাসিনা আর বান্দরবানে তার অভিভাবক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। তিনি তাঁদের জন্যে কাজ করছেন এ পাহাড়ি জনপদে।

এসময় তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, তিনি দলীয় মনোয়ন পেলে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।

নাইক্ষ্যংছড়িতে নারী শিক্ষার্থীদের কারাত প্রশিক্ষণ

বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে নারী শিক্ষার্থীদের কারাতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও বিনামূল্যে পোষাক বিতরণ করা হয়েছে।

৩১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিকালে উপজেলার মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়।

অলাভজনক প্রতিষ্ঠান “অন্যন্যা কল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগে” ইভটিজিং, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধকল্পে বিনামূল্যে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নাইক্ষ্যংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেয়েদের আত্মরক্ষামূলক কারাতে প্রশিক্ষণ প্রদান কর্মসূচীর আওতায় আনা হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে গত ৩১শে জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিকালে সদর উপজেলার মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে কারাত ফেডারেশনের স্বীকৃত প্রশিক্ষক দ্বারা ৫০ জন তরুণীকে ২৫দিনব্যাপী আত্মরক্ষামূলক কারাতের বিভিন্ন কলা কৌশল শেখানো হবে। এই প্রশিক্ষণার্থীদেরকে সংগঠনের উদ্যোগে কারাতের ড্রেস প্রদানসহ উক্ত ওয়ার্কশপ উদ্বোধন করেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা অন্যন্যা কল্যাণ সংগঠনের ভলান্টিয়ার্স কমিটির সভাপতি ও সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী।

উদ্বোধনী অনষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলেন, এই অন্যন্যা কল্যাণ সংগঠনের প্রতিষ্ঠানটি পর্যায়ক্রমে পার্বত্য এলাকায় দশ হাজার মেয়েদেরকে ফ্রী কারাতে প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন।

এসময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা দূর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দীন খালেদ, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাব সভাপতি ও অন্যন্যা কল্যাণ সংগঠনের উপদেষ্টা শামীম ইকবাল চৌধুরী, প্রোগ্রামার ডিরেক্টর দীনেন্দ্র ত্রিপুরা, প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটার শৈতিংয়ী, লরেন্স গাব্রিয়েল ত্রিপুরা, মং হ্লা থোয়াই চাক, মেকি প্রু মার্মা,ফিল্ড ফেসিলেটর মো, আবু বাক্কার সিদ্দিক, প্রেসক্লাব ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম কাজল, বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার প্রমুখ।

নাইক্ষ্যংছড়িতে ছাত্রীদের জন্যে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

সীমান্ত জনপদ নাইক্ষ্যংছড়িতে ছাত্রীদের জন্যে প্রথমবারের মতো মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ চালু করেছে বান্দরবানের একটি এনজিও। নিরাপদে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করাসহ ভবিষ্যতে সর্বক্ষেত্রে আত্মরক্ষার জন্যেই নারীদের পাশে দাড়ালো সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে প্রশিক্ষণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী ক্লাস শুরু হয় নাইক্ষ্যংছড়ি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের হল রুমে।

এ কোর্সের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর দীনেন্দ্র ত্রিপুরা জানান,ইউএনডিপির অর্থায়নে বান্দরবানের অনন্যা কল্যাণ সংগঠন এ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাপনায় আছেন। প্রতি শিফটে ২৫ জন করে দু’শিফটে ৫০ জন ছাত্রী এতে রেজিস্ট্রেশন করেছে।

আগের দিন বুধবার টেস্ট ক্লাস শুরু হয়। আগামী শুক্রবার থেকে পুরোদমে এ প্রশিক্ষণের তৎপরতা চলবে।

প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করা নাইক্ষ্যংছড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ফাতেমা বেগম জানান, তার বাড়ি স্কুল থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে। যাতায়াত পথে তার স্কুলের অনেক ছাত্রী বিভিন্ন সময় অনেক বখাটের রোষানলে পরে। হয়তো নিজ এলাকায় বলে কোন রকম ক্ষতি করতে পারে নি তাদেরকে।

এ জাতীয় আরও ক্ষতির আশঙ্কা থেকে আত্মরক্ষার জন্য তারা সব বান্ধবি মিলে এ কোর্সে অংশ নেয়।

সে আরও জানায় এ ধরনের আয়োজনে তারা খুশি। আর তার স্কুলের ছাত্রীদের পক্ষে সে সাধুবাদও দেন আয়োজকদেরকে।

এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অনন্যা কল্যাণ সংগঠনের উপজেলা সমম্বয়কারী গাবিয়েল লরেন্স ত্রিপুরা, নাইক্ষ্যংছড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার, অনন্যার বান্দরবানের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শৈয়ে টিং, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা মাঈনুদ্দিন খালেদ, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি শামিম ইকবাল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গির আলম কাজল, সদস্য মো. ইউনুছ, অনন্যা সংগঠনের নাইক্ষ্যংছড়ির সুপাভাইজার আবু বকর।

নাইক্ষ্যংছড়িতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন এর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন।

এছাড়াও সভায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হামিদা চৌধুরী, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী তফাজ্জল হোসেন ভুঁইঞা, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী, দোছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিব উল্লাহ, বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলম, ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আজিজ, সোনাইছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান বাহান মার্মাসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সোনাইছড়ি ও ঘুমধুম স্কুল পরিদর্শণ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বান্দরবান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. আবু হাসান সিদ্দিক উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ও ঘুমধুম ইউনিয়ন পরির্দশণ করেন তিনি।

সোনাইছড়ি জুনিয়র হাই স্কুল, সোনাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়ইতলী জুনিয়র হাই স্কুল পরিদর্শণকালে তিনি মাদকদ্রব্য, বাল্য বিবাহ, ইভটিজিং প্রতিরোধের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে শিক্ষা বিষয়ক গঠণমূলক এবং দিক নির্দেশণামূলক আলোচনা করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় ব্যয় না করে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করার পরামর্শ দেন তিনি।

এসময় কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমস্যার কথা তুলে ধরেন শিক্ষকবৃন্দ। এসময় উন্নয়নকর্মী এ্যানিং মার্মা, প্রধান শিক্ষক এএসএম আলমগীর, হামিদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘ সাত বছরেও জাতীয়করণ হয়নি থিমছড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি জনপদের একমাত্র জ্ঞানের আলো ছড়ানোর মাধ্যম থিমছড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয়টি দীর্ঘ সাত বছরেও জাতীয়করণের আওতায় আসেনি। সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ বিদ্যালয়টি। বিনা বেতনে পাঠদান দিয়ে যাচ্ছে শিক্ষক শিক্ষিকারা।

উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড পাহাড়ি এলাকায় জন-বিচ্ছিন্ন একটি গ্রামে বিদ্যালয়টির অবস্থান। বিদ্যালয় থেকে দুই পাশের ৪ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। পায়ে হেঁটে যাওয়া ছাড়াও বিকল্প আর কোনো উপায় নেই। বর্ষা মৌসুমে কাঁদা মাটির উপর দিয়ে এবং পাহাড়ি ছড়া ও পাহাড় বেঁয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। তবে বিচ্ছিন্ন এলাকায় পাহাড়ি বাঙালি মিলে এবং রাবার বাগানের শ্রমিকদের নিয়ে কয়েকটি গ্রামের শতাধিক বাড়ি ঘর রয়েছে। এ বিদ্যালয়টিই এলাকায় বসবাসরত লোকজনের ছেলে মেয়েদের শিক্ষার আলো ছড়ানোর একমাত্র প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়টি ছাড়া অবহেলিত জনপদের লোকজনের সন্তানদের শিক্ষা দেওয়ার আর কোনো বিকল্প উপায় নেই।

সরেজমিনে এই প্রতিবেদক বিদ্যালয়টিতে গেলে শিক্ষক- শিক্ষিকা, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানায়, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টি গাছের খুঁটি ও টিন দিয়ে তৈরী যা বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থা। যেকোনো সময় ধ্বসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া বিদ্যালয়টি মাত্র একটি টিনসেড ভবন রয়েছে যা শিক্ষার্থীদের শ্রেণী কক্ষের সমস্যা, বসার জন্য বেঞ্চ, বাথরুম ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ মাঠ নেই। তারপরও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম শিক্ষক, শিক্ষিকাদের মানসম্মত পাঠদানে প্রতি বছরই ভাল ফলাফল অর্জন করে আসছে বিদ্যালয়টি।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জন্নাতুল ফেরদাউস জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঁচজন শিক্ষক রয়েছে। তাদের মধ্যে চার জন নারী ও একজন পুরুষ শিক্ষক। সকলেই বিনা বেতনে পাঠদান দিয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়টির সভাপতি মো. জসিম উদ্দীন জানান, এ জনপদে জ্ঞানের আলো ছড়ানোর একমাত্র মাধ্যম থিমছড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি দীর্ঘ সাত বছরেও জাতীয়করণের আওতায় আসেনি। সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ বিদ্যালয়টি। শিক্ষক শিক্ষিকারা বিনা বেতনে পাঠদান দিয়ে যাচ্ছে ।

২০১৩ সালে দুর্গম জনপদে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে তাৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মো. মুনিরুল হক (মনু), স্থানীয়দের সাথে পরামর্শ করে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন বলে জানান বিদ্যালটির সাবেক সভাপতি মো. আবদুর রশিদ।

তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাত্র এক বছর ইউএনডিপি ও গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন (গ্রাউস) দু’জন শিক্ষককে এক বছর দুই হাজার টাকা করে সম্মানী প্রদান করেছিলেন। সেটাও এখন বন্ধ হয়ে গেছে। পাঁচজন শিক্ষক বিনা বেতনেই দীর্ঘ সাত বছর যাবৎ পাঠদান দিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম জানান, তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়টির বিষয়ে খোঁজ খবর রাখছেন। দুর্গম জন-বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি এলাকার ছেলে মেয়েদের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচির মাধ্যমে বর্তমানে একটি কাঁচা রাস্তাও তৈরী করেছেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়টির নানা সমস্যার ব্যাপারে তিনি ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলম কোম্পানী জানান, থিমছড়ী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। শিক্ষক, শিক্ষিকারা কোনো ধরনের বেতন ভাতা না পাওয়ায় তিনি বিগত ঈদের সময় সকল শিক্ষকদের ঈদ বোনাস হিসাবে কিছু নগদ অর্থ প্রদান করেছেন। আগামীতেও সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়া গেলে বরাদ্দ দিয়ে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিদ্যালয়টির এসব সমস্যা সমাধান করে দুর্গম এ গ্রামের শিক্ষার মান উন্নয়নে পার্বত্যমন্ত্রী বাবু বীর বাহাদুরের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় জনগণ।

নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিপির পোশাক পরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্য আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ভাল্লুকখাইয়া সীমান্ত থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এক সদস্যকে জনতার সহায়তায় আটক করেছে বিজিবি। আটককৃত ওই সেনা সদস্যের নাম অং বো থিন(৩০)। তার বাড়ি মিয়ানমারের ইয়াংগুনে। তার বাবার নাম ইউ মাই থিং।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ভাল্লুখ খাইয়া বিজিবি ক্যাম্পের প্রায় সাত’শ গজ পূর্ব-দক্ষিণে ৪৯নং সীমান্ত পিলারের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে আনুমানিক ৩.৫ কি. মি. অভ্যন্তরে বাম হাতির ছড়া নামক স্থান থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত মিয়ানমার সেনা সদস্যের পরনে বিজিপির ইউনিফর্ম ছিল।

প্রাথমিক জিঙ্গাসাবাদে সে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এল.আই.বি- ২৮৭ ব্যাটালিয়নের সদস্য এবং সে গত এক বছর পূর্বে কাচিন প্রদেশ থেকে বান্ডুলাতে বদলি হয়ে আসেন বলে স্বীকার করেন। বর্তমান তিনি বান্ডুলা ৫০ ক্যাম্পে দায়িত্বরত। তাকে বিজিপিতে প্রেষণে নিয়োগ করা হয়েছে।

গত ২২/০১/১৯ তারিখ আনুমানিক ১৭.৪৫ ঘটিকার সময় বাংলাদেশ সীমান্ত পিলার ৪৯ লেম্বুছড়ি এলাকা দিয়ে কালর্ভাট এর নিচ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, গত ২২/১/১৯ তারিখে বান্ডুলা ক্যাম্পে তাকে কাজ করার জন্য বলেন এবং সে কাজ করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন, আর এই জন্য সে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। গত দুইদিন যাবৎ পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরাফেরা করেন এবং আজকে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে ফেলেন। ধরার সময় সে অসুস্থ ও মদ্যপ অবস্থায় ছিলো। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে। বর্তমানে আটকৃত ব্যক্তি ১১ বিজিবি জোন সদরে অবস্হান করছে।

এ বিষয়ে বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল বায়েজিদ খান পার্বত্যনিউজকে জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তি নিজেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্য বলে জানিয়েছে। বেন্ডুলা ক্যাম্পে কাজ ভাল না লাগায় সে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে বলে জানিয়েছে। তবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমরা এতোদিন জানতাম মিয়ানমার সীমান্তে বিজিপি সদস্যরা থাকে। তাদের পেছনে সেনাবাহিনী থাকে। কিন্তু এই সদস্য ধরা পড়ার পর দেখছি, সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং তারা বিজিপির পোশাক পরে দায়িত্ব পালন করছে।

এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। রাখাইনেই কিয়াকতাও এলাকা ও বাংলাদেশে সীমান্তের ৪১-৪২ নং পিলারের উল্টোদিক থেকে থেমে থেমে গুলি বিনিময়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে থেমে থেমে সারাদিন ধরেই।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওর চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণায় তৎপর কবির সিন্ডিকেট

ঘুমধুম প্রতিনিধি:

মিয়ানমার সেনা, জান্তা বাহিনীর নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করতে না পেরে প্রায় ১৩ লাখেরও অধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ সরকারের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদেরকে দেশের মাটিতে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের দরবারে একটি বিরল স্থাপন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানেও দেশি বিদেশি এনজিও সংস্থা ও দাতাগোষ্ঠীরাও রোহিঙ্গাদের সাহায্য সহযোগিতায় এগিয়ে এসে তাদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। তবে রোহিঙ্গাদের কেন্দ্র করে কিছু অসাধু মহল রয়েছে যথেষ্ট তৎপর।

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গা আগমনকে ঘিরে এলাকার এক শ্রেণীর প্রতারক চক্ররা বিভিন্ন এনজিও সংস্থায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলেও জানা গেছে।

ভুক্তভোগী নাছিমা জানান, কুতুপালং বাজার পাড়া গ্রামের মৃত ভেলায়ার ছেলে কবির আহম্মদ একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে টেকনাফ, চকরিয়া, কক্সবাজার, ঈদগাহ, উখিয়া, হোয়াইক্যংসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষিত নারী পুরুষদের সংগ্রহ করে এনজিও সংস্থা আরটি এম, ব্র্যাক, সেভ দ্যা সিলড্রেন, ইউএনএইচসি আরসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থায় অল্প দিনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি ১০/২০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহলরা বলেন, অচিরেই কবিরকে গ্রেফতার করে কঠিন শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা না হলে দেশের অনেক শিক্ষিত বেকার নারী পুরুষেরা সর্বশান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইয়াবা কারবারীর ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

বিশেষ প্রতিনিধি কক্সবাজার:

উখিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমে ছুরিকাঘাতে এক যুবক নিহত হওয়ার খবর পাওয়াগেছে।পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ইয়াবা কারবারীর ছুরিকাঘাতে তুমব্রু ভাজাঁবনিয়া গ্রামের জমির হোছেনের ছেলে ফরিদ আলম (৩০) ওই যুবক ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছে।

সোমবার(২১ জানুয়ারি) সকাল ১০ টার দিকে তুমব্রু উত্তর পাড়া জাগির হোছেনের দোকানের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। উখিয়া হাসপাতাল থেকে ঘাতক তুমব্রু উত্তরপাড়া গ্রামের জাফর আলমের ছেলে আবুল কালাম (৩২) কে আটক করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ।

ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমন চৌধুরী জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আবুল কালাম তার কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করলে ফরিদ আলম ঘটনাস্থলে মারা যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন ঘটনার কথা স্বীকার করে তিনি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংবাদিকদের জানান।

নাইক্ষ্যংছড়িতে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান মংলা মার্মা

বাইশারী প্রতিনিধি:

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মানুষের কল্যাণে বহুমুখী সেবা নিয়ে বর্তমান সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দিতে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান বাবু মংলা মার্মা।

ছাত্র জীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে তিনি জড়িত। মংলা মার্মা পারিবারিকভাবেই আওয়ামী লীগ পরিবার হিসেবে এলাকার সকলের কাছে পরিচিত।

পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ধাবন খালী মার্মা পাড়ার বাসিন্দা প্রয়াত মাস্টার থোয়াই ম্রা উ মার্মার একমাত্র পুত্র মংলা মার্মা। বর্তমানে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োজিত ও দায়িত্ব পালন করে আসছেন। রাজনীতির পাশাপাশি এলাকার আত্বসামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখেন। শতাধিক অনাথ শিশুদের জন্য খুলেছেন একটি অনাথ আশ্রম। এসব শিশুদের ভরণ, পোষণ, পড়া, লেখার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সেবার কাজও করে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের নাম ট্রাবেল গার্লস অরফেন্স হোম।

এছাড়াও বাইশারী ইউনিয়নের ৩০ হাজার মানুষের মানব সেবায় বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ ভবণ নির্মাণের জন্য প্রায় কোটি টাকার সম্পদ (পঞ্চাশ শতক ১ম শ্রেণির) জমি দান করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

সরজমিনে গিয়ে পাহাড়ি বাঙালি শতাধিক লোকজনের সাথে মংলা মার্মা প্রসঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক।

এলাকার প্রবীণ জুলফিকার আলী, ও প্রবীণ কারবারী ক্যথোয়াচিং মার্মাসহ অনেকে বলেন, পাহাড়ি বাঙালি সকলের প্রিয় মুখ তরুণ যুবক মংলা মার্মা।

বাইশারীর অনেক তরুণ ছাত্র নেতারাও জানান, সরকার যেহেতু বর্তমানে তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়ে দেশ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চিন্তায় রয়েছে। তাহলে এই তরুণ সমাজসেবক মংলা মার্মাকেও আমরা এলাকার উন্নয়নের জন্য আগামী দিনে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে আশা প্রকাশ করছি।

তাছাড়া এলাকাবাসীর দাবি, বাইশারী ইউনিয়নে এই পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে কোনো প্রার্থী বিগত দিনে ছিল না তাই আগামী নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে বাইশারীবাসী মংলা মার্মাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায় এবং বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর বলেন, মংলা মার্মা ছাত্র জীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। দলের সকল কাজে তিনি সহযোগিতা দিয়ে আসছে। তাই সকল বিষয় বিবেচনা করে তিনি বিষয়টি দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্ধদের কাছে অবশ্যই বিবেচনার জন্য জানাবেন এবং দলের সিদ্বান্ত অনুযায়ী কাজ করে যাবেন।

তবে মংলা মার্মার সাথে আলাপ কালে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি যেহেতু আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছি, প্রথমে আমি দলের সিনিয়র নেতাদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনা করে ভাইস চেয়ারম্যান পদে যদি দল আমাকে নমিনেশন দেয় তাহলে গরিব দুঃখী মেহনতী মানুষের পাশে থেকে আজীবন কাজ করে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। পাশাপাশি দলের মান অক্ষুন্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বাবু বীর বাহাদুরের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ও সহযোগী হিসেবে ডিজিটাল উপজেলা বিনির্মাণে কাজ করে যাব। আর দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেন মানুষের আস্থা ও ভালবাসার কথা মনে রেখে সরকারের দেওয়া দায়িত্ব পালন করে যাব।