image_pdfimage_print

নাইক্ষ্যংছড়ির বৌদ্ধ ভিক্ষু ধাম্মা ওয়াসা ধর্মীয় দ্বন্দ্বে খুন হতে পারেন

IMG_3215

গাজী ফিরোজ ও বুদ্ধজ্যোতি চাকমা, নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে:

কেন ও কী কারণে ভিক্ষু ধাম্মা ওয়াসারকে খুন করা হয়েছে, তা জানতে পারেনি পুলিশ। নিহত বৌদ্ধ ভিক্ষু ধাম্মা ওয়াসার (উ গাইন্দ্যা) ছোট ছেলে মামলার বাদী অং চা থোয়াই বলেন, ‘খুনের ঘটনায় আইএসকে সন্দেহ করতে পারছি না। সন্দেহ হওয়ায় এজাহারে তিনজনের নাম দিয়েছি। বাবার সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। তিনি শান্তপ্রিয় ছিলেন।’

কারা খুন করতে পারে বলে ধারণা করছেন এই প্রশ্নে বাদী বলেন, বাবার ভিক্ষু হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় দ্বন্দ্বে এ খুন হতে পারে। বাবা আগে উপরচাকপাড়া বৌদ্ধবিহারে ছিলেন। সেখান থেকে এসে দুই বছর আগে নিজের জায়গায় পাহাড়ের পাদদেশে বৌদ্ধবিহার গড়ে তোলেন। চাক সম্প্রদায় থেকে আগে কেউ কখনো ভিক্ষু হননি। বাবা ভিক্ষু হয়ে বৌদ্ধবিহার তৈরি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে কেউ এ কাজ করতে পারেন।

অন্যমিডিয়া

তিনি বলেন, ‘ডাকাতির ঘটনা হলে তারা কোনো জিনিসপত্র কেন নেয়নি? টাকা-পয়সাও তো নেয়নি। আর জঙ্গিগোষ্ঠী এ দুর্গম পাহাড়ে এসে কেন মারবে?’

এ বিষয়ে ভিক্ষু ধাম্মাতেজা ভান্তে প্রথম আলোকে বলেন, নিহত ধাম্মা ওয়াসার তাঁর শিষ্য ছিলেন। তাঁকে কেন তিনি মারতে যাবেন। আসল ঘটনা ধামাচাপা দিতে এসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ঘটনার দিন তিনি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ছিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাইশারী তদন্তকেন্দ্রের প্রধান উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, জঙ্গিগোষ্ঠী, জমি নিয়ে বিরোধ, বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে কি না, সব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি কে বা কারা এ খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, চারজনকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। খুনের দায় স্বীকার করে আইএসের বিবৃতি প্রসঙ্গে বলেন, সব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। ধর্মীয় দ্বন্দ্বে খুনের অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে। এটিকে পরিকল্পিত খুন উল্লেখ করে এসপি বলেন, খুনিরা ঘটনাস্থলে কোনো আলামত রেখে যায়নি।


সরেজমিন

কাঠের খুঁটির ওপর টিনের চালার ঘর। স্থানীয় লোকজন এই ঘরকে বলে ‘মাচান’। ঘরে ওঠার সিঁড়িতে বসে আছেন নিহত বৌদ্ধ ভিক্ষু ধাম্মা ওয়াসার (উ গাইন্দ্যা) ছোট ছেলে অং চা থোয়াই চাক। কেমন আছেন জিজ্ঞেস করতেই বলেন, ‘কখন কারা কী করে ফেলে আতঙ্কে থাকি। কাজ করতে যেতেও ভয় হয়। যেদিন বাবাকে খুন করা হয়েছে সেদিন থেকে ঘর থেকে বের হই না।’

খাবার কিনতে বাজারে যান না, এই প্রশ্নে অং চা থোয়াই চাক বলেন, ‘চাল আগে থেকে ছিল। কোনো রকমে আছি। খাওয়ার চাইতে প্রাণে বেঁচে থাকাটা জরুরি।’ গত মঙ্গলবার দুপুরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের দুর্গম উপরচাকপাড়া গ্রামের নিজ ঘরে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। গত ১৪ মে ভোরে তাঁর বাবা ভিক্ষু ধাম্মা ওয়াসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় ও ঘাড়ে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ বলছে, জঙ্গি হামলা, বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব বা জমিসংক্রান্ত বিরোধ এই হত্যার পেছনে কাজ করেছে কি না সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুবছর আগে ধাম্মা ওয়াসার নতুন ভিক্ষু হওয়ার কারণে এ নিয়ে তৈরি হওয়া ধর্মীয় দ্বন্দ্বকেও হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে কেউ কেউ মনে করছেন।

AT-15

ভিক্ষু খুনের পর থেকে আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামবাসী। তাঁরা রাত জেগে পালাক্রমে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন। দিনেও গ্রামে অপরিচিত কাউকে ঢুকতে দেখলে কয়েকজন মিলে তাঁর (আগন্তুকের) পরিচয় জানতে চান।
উপরচাকপাড়ার কার্বারি (গ্রামপ্রধান) মং কৈলা চাক বলেন, ধাম্মা ওয়াসার খুনের পর চাকপাড়াবাসীর মধ্যে ভয় কাজ করছে। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা উচিত। লোকজনের আতঙ্ক দূর করতে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রশাসনকে বলেছেন তাঁরা।

বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভিক্ষু খুনের ঘটনার পর থেকে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

হানাহানি ও খুনখারাবির ঘটনা উপরচাকপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা স্বাধীনতার ৪৫ বছরে কখনো দেখেনি বলে জানান চাক সম্প্রদায়ের নেতা চিং হ্লা মং চাক। তিনি বলেন, দেশে চাক সম্প্রদায়ের বাস কেবল নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়। এই সম্প্রদায়ের লোকসংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার। এর মধ্যে বাইশারী ইউনিয়নের চারটি চাক পাড়ায় একসঙ্গে প্রায় এক হাজার ব্যক্তি থাকে। অন্যরা উপজেলা সদর ও বিভিন্ন ইউনিয়নে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

ভিক্ষু হত্যার ২২ দিন পর ৫ জুন জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) হত্যার দায় স্বীকার করেছে। জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’ আইএসের সংবাদ সংস্থা আমাকের বরাত দিয়ে এক টুইটার বার্তায় এ খবর প্রচার করে। হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহত ব্যক্তির ছেলে অং চা থোয়াই চাক বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর রোহিঙ্গা আবদুর রহিম ও জিয়াউল হক এবং ছামং চাক ও সরোয়ার নামের চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ছামং চাকের খালু আলুমং দাবি করেন, ছামং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। প্রকৃত আসামিকে না ধরে পুলিশ নিরীহ লোকজনকে হয়রানি করছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের রামু উপজেলার ঈদগাহ এলাকা থেকে ২২ কিলোমিটার পূর্বে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের বাজার। এখান থেকে মোটরসাইকেল বা টমটমে চড়ে সাত কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে গেলে উপরচাকপাড়া গ্রাম। প্রবেশমুখে উপরচাকপাড়া বৌদ্ধবিহার। গ্রামের নামে এই বিহারের নাম। এখান থেকেই গ্রামের শুরু। সেখান থেকে উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ চলে গেছে গ্রামের ভেতরে।

পুরো গ্রামে হাঁটা ছাড়া যাতায়াতের আর কোনো উপায় নেই। গ্রামের একেবারে শেষ প্রান্তে একটি পাহাড়ের পাদদেশে দুই বছর আগে নতুন আরেকটি বিহার গড়ে তোলেন ধাম্মা ওয়াসার। নতুন বিহারটি গড়ে তোলার আগে ধাম্মা ওয়াসার উপরচাকপাড়া বিহারের ভিক্ষুর সঙ্গে থাকতেন।

মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, বৌদ্ধবিহারটির ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মোমবাতি, কাপড়, মশারিসহ নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র। বিহারের পাশে ইট দিয়ে ধ্যানের জন্য তৈরি করা হচ্ছিল চার হাত দৈর্ঘ্য ও দেড় হাত প্রস্থ একটি ছোট্ট ঘর। কিন্তু ঘরটি তৈরি হওয়ার আগেই দুর্বৃত্তরা খুন করে ধাম্মা ওয়াসারকে।

বিহারটির আশপাশে কোনো বসতি নেই। ৬০০ গজ পূর্বে বসতি (উপরচাকপাড়া) রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বৌদ্ধবিহার ও উপরচাকপাড়ায় কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়নি। স্থানীয় লোকজন জানান, ঘটনার দিন পুলিশ এসেছিল। এ ছাড়া কয়েকবার তদন্তের জন্য এসেছে। কিন্তু এলাকার নিরাপত্তায় কোনো টহল পুলিশ থাকে না।

উপরচাকপাড়ায় খুনের ঘটনা ঘটলেও বাকি তিনটি চাকপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় কাজ করছে বলে জানান হেডম্যান চাকপাড়ার বাসিন্দা রবিন চাক। তিনি বলেন, দিনে লোকজন প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলেও সন্ধ্যার আগেই ঘরে ঢুকে পড়ে।

উপরচাকপাড়া বৌদ্ধবিহারের ভিক্ষু ধাম্মাতেজা ভান্তে মঙ্গলবার দুপুরে বিহারের সামনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগে বিহারে একা থাকতাম। এখন বাইরে লোকজন থাকে। এলাকাবাসী রাত জেগে পালাক্রমে পাহারায় থাকেন।’ বিহার ও চাকপাড়াবাসীর নিরাপত্তা জোরদারেরও দাবি জানান তিনি।

উপরচাকপাড়া গ্রামের কৃষক ক্যাহ্লা অং চাক বলেন, ‘প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে থাকি। আমাদের নিরাপত্তা বাড়ানো উচিত।’

স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য থোয়াই ছালা চাক বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ও চাকপাড়ায় কোনো খুনাখুনি হয়নি। খুনের ঘটনায় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার পর পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। দিনে কোনো পাহারা না থাকলেও রাতে পালাক্রমে পুলিশি টহল থাকে এলাকায়।

– সূত্র: প্রথম আলো

বিজিবির অভিযানে নাইক্ষ্যংছড়িতে চোরাই কাঠসহ চাদেঁর গাড়ি আটক

kjyttr

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ৩১ ব্যাটালিয়ানের অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোরাই কাঠসহ চাদেঁর গাড়ি আটক করেছে।

সোমবার ৬জুন দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের বিছামারা এলাকা থেকে এসব কাঠ আটক করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি বিজিবি।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহল দল হাবিঃ মোঃ আবুল কালাম আজাদ এর নেতৃত্বে ব্যাটালিয়ন সদর হতে বিছামারা নামক স্থান হতে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিভিন্ন প্রকার ৫১.২২ সিএফটি অবৈধ কাঠ যার আনুমানিক মূল্য ১,৫৩,৬৬0/- টাকা এবং ১ টি চাঁন্দের গাড়ি আটক করতে সক্ষম হয় যার আনুমানিক মূল্য ১৪,০০,০০০/- টাকা। উদ্ধারকৃত কাঠ এবং গাড়ির আনুমানিক মূল্য ১৫,৫৩,৬৬০/- টাকা।

অভিযানের সময় বিজিবি টহলদলের উপস্থিতি টের পেয়ে কাঠ পাচারকারী দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি কতৃ্ক জব্দকৃত কাঠ ও গাড়ি  নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ,লামা বনবিভাগ অফিসে জমা করা হয়েছে।

 

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

Sassa sebok Lig

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা শাখার বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবদুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এমপি প্রতিনিধি ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব খায়রুল বাশার।

এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তসলিম ইকবাল চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা ডা. ইসমাইল হোসেন, সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি তারেক রহমান, কৃষকলীগ সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মামুন শিমুলসহ সভায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিটি ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নাইক্ষ্যংছড়িতে বৌদ্ধ জাদি মন্দিরে নব্য খ্রিস্টানদের হামলা: মূর্তি ভাংচুর

01

বাইশারী (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মধ্যম চাকপাড়া সংলগ্ন শিয়া পাড়া বৌদ্ধ জাদি মন্দিরে একদল নব্য খ্রিস্টান হামলা চালিয়ে একটি মূর্তি ভাংচুরসহ অনেক গুলো মূর্তি বেদী থেকে সরিয়ে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী চাক পাড়ার লোকজন জানান।

জানা যায়, সম্প্রতি বাইশারী ইউনিয়নের মিশনারী তৎপরতার ফলে উপজাতীয় পল্লী চাক পাড়ায় কিছু উঠতি বয়সী চাক যুবক বৌদ্ধ ধর্ম থেকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে। এ নিয়ে বিগত ২০১৫ সালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছিল স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে আঞ্চলিক পরিষদ থেকে তদন্তপূর্বক গণশুনানীও হয়েছিল।

এ সংক্রান্ত আরো খবর পড়ুন


  1. ♦এবার মিশনারীদের বিরুদ্ধে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ আনলেন বান্দরবানের চাক সম্প্রদায়ের বৌদ্ধরা

  2.  চাক সম্প্রদায়কে ধর্মান্তরকরণ: আঞ্চলিক পরিষদের তদন্ত টিম নাইক্ষ্যংছড়িতে

  3. আলীকদমে আর্থিক লোভ দেখিয়ে বৌদ্ধ থেকে ৩৩ জনকে খৃস্টান বানানোর অভিযোগে সেভেন্থ ডে এ্যাডভেন্টিস্ট মিশনারীর ৫ জন আটক

  4.  ধর্মান্তরকরণের অভিযোগে বান্দরবানে এনজিও কমপেশন-এর কার্যক্রম বন্ধ

  5.  খাগড়াছড়িতে পর্যটকের ছদ্মাবরণে চলছে ধর্মান্তরকরণ মিশন

  6.  পার্বত্য তিন জেলায় খৃষ্টীয়করণে বেপরোয়া মিশনারী চার্চগুলো

  7.  পার্বত্য এলাকায় এনজিওর নামে ধর্মান্তরকরণ

  8.  স্বার্থের প্ররোচনায় হারিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতি

  9.  পার্বত্য এলাকায় এনজিওর নামে ধর্মান্তরকরণ

  10.  পার্বত্য চট্টগ্রামে অপ্রতিরুদ্ধ খ্রিস্টান মিশনারিরা

  11.  পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা-বাঙ্গালী প্রত্যাহার ও খ্রিস্টান অঞ্চল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন


 

শুক্রবার নব্য খ্রিস্টান ও এলাকার বৌদ্ধ ধর্মীয় লোকজনের সাথে মন্দিরে উপাসনা নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে জাদি মন্দিরে অবস্থিত মূর্তিগুলো বেদী থেকে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে এবং একটি মূর্তি ভাংচুর করে তারা।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তসলিম ইকবাল চৌধুরী, ছাত্রলীগ সভাপতি চুচুমং মার্মা, বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক, আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আলম কোম্পানী, বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আনিসুর রহমান, বাইশারী বাজার সভাপতি ও যুবলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর, ছাত্রলীগ সভাপতি মো. শাহীনসহ অন্যান্যরা।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য থোয়াইচাহ্লা চাক বলেন, বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মিমাংসার চেষ্টা চলছে তাই কোন ধরনের অভিযোগ করা হয়নি।

নাইক্ষ্যংছড়িতে আটক মিয়ানমারের বিজিপি সদস্যকে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি

DSC09540

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার আশারতলী সীমান্ত থেকে আটকের পর লাটুনা (২০) নামে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) সদস্যকে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই মিয়ানমারে ফেরত দিয়েছে বিজিবি।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮ টায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ৪৬-৪৭ নম্বর আর্ন্তজাতিক পিলার থেকে প্রায় দুই কি: মি: বাংলাদেশের অভ্যান্তরে আশারতলী বিদ্যালয় এলাকা থেকে সেই বিজিপি সদস্যকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কক্সবাজার সেক্টরে নেওয়ার হলে বুধবার সকালে ঘুমধুমে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, মিয়ানমারের সিকদারপাড়া ২নম্বর বিজিপি ব্যাটালিয়ানের সদস্য লাটুনা (২০) মঙ্গলবার সকালে সীমান্ত পিলার অতিক্রম করে বাংলাদেশের আশারতলী ভূ-খন্ডে চলে আসে। এ সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাকে আটক করে বিজিবি ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়। পরে সে নিজেকে মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার বাসিন্দা পরিচয় দেয় এবং মিয়ানমারের বিজিপির সদস্য হিসেবে কর্মরত রয়েছে বলে জানায়।

নাইক্ষ্যংছড়িতে ইভটিজিং এর দায়ে এক যুবককে ৬ মাসের কারাদন্ড

 014

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম তার আদালতে মোবাইল কোর্ট আইনে অজিত নামের এক যুবককে ৬  মাসের কারাদন্ড দিয়েছে ।

 মঙ্গলবার দুপুর ২.০০ টায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলামের আমলী আদালতে মোবাইল কোর্ট আইনের ৫০৯ ধারায় ইভটিজিং এর অপরাধে অনিলের হবিগঞ্জ এর বোনাই নগরের অনিলের পুত্র অজিত (২৫)কে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে ।

জানা যায়,নাইক্ষ্যংছড়ি স্কুল পাড়ার আবু সিদ্দিক ঠিকাদারের কলোনীতে শিক্ষিকা নিলিদাশের বাসায় তার ভাইঝি চট্রগ্রামের বোয়ালখালীর ধলহাটের স্বপন দাশের মেয়ে টুম্পা দাশ (২২) বেড়াতে আসে । গতকাল সকাল ৯টায় প্রতিদিনের মত বাসার টয়লেটে গোসল সারছিল টুম্পা । ওই সময় তার পার্শ্বের বাসায় ভাড়াটে অনিলের পুত্র অজিত কুমতলবে টুম্পার টয়লেটের জানালা দিয়ে উকিঁ দেয় এবং তাকে ধর্ষণের জন্য উত্যক্ত করে । এ সময় টুম্পা চিৎকার করলে তার ফুফু ও পার্শ্ববর্তী বাসার লোকজন এগিয়ে এসে টুম্পাকে উদ্ধার করে । অজিত নাইক্ষ্যংছড়ি বাজার এলাকায় জুতা সেলাইয়ের কাজ করত ।

এরপর টুম্পা দাশ থানায় অভিযোগ দায়ের করলে থানার ডিউটি অফিসার ফরিদ হোসেন জিডি দায়ের পূর্বক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম কাছে পাঠালে তিনি টুম্পার দায়ের করা ৪১৩ জিডি নং এর অভিযোগের ভিত্তিতে বাদী-বিবাদী ও স্বাক্ষীগণের বক্তব্য শোনার পর মোবাইল কোর্ট আইনের ৫০৯ ধারায় অজিতকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের রায় প্রদান করেন ।

এসময় টুম্পার ফুফু নিলিদাশ উপস্থিত ছিলেন । তিনি রায় শুনে খুশি হয়ে বিচারকে ধন্যবাদ জানান । এ ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম বলেন, অজিত যে ঘটনা ঘটিয়েছে তা খুবই জঘন্য কাজ । ভবিষতে এমন অপরাধে কেউ যাতে না জড়ায় এবং ইভটিজিং করলে যে কাউকে এমন বা তার চেয়ে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে বলে তিনি জানান ।

বিজিবি-বিজিপি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত : অস্ত্র গোলাবারুদ ফেরত

 pic-9999

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

মিয়ানমারের মংডুতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) এর মধ্যে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ের সফল পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে নিহত বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমানের লুট হওয়া এসএমজি, চারটি ম্যাগজিন ও ১২০ রাউন্ড গোলাবারুদ ফেরত দিয়েছে বিজিপি। ৫জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় পতাকা বৈঠক শেষে টেকনাফ ফিরে এসে বিজিবি কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল খন্দকার ফরিদ হাসান এ কথা জানান।

 

 পার্বত্যনিউজের কক্সবাজার, টেকনাফ, নাইক্ষ্যংছড়ি ও রামু প্রতিনধিগণ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ৫টি এজেন্ডা নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে কথা বলেন। এজেন্ডাগুলো হল- (১) ১৯৪৭ সালের জেনেভা কনভেনশন মোতাবেক সীমান্তের জিরো পয়েন্টে সেনা মোতায়েন নিষিদ্ধ থাকলেও মিয়ানমার কেন তা বারবার করে যাচ্ছে? (২) মিয়ানমার বাহিনী বিজিপি কেনই বা ২৮ মে বিনা কারণে ৫২ পিলারের অদূরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে টহল দেয়া বিজিবি সদস্যের ওপর গুলিবর্ষণ করে। যাতে নায়েক মিজান মারা যান (৩) ৩০ মে গুলিতে নিহত নায়েকের লাশ ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও তা না করে লাশ গ্রহণকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ। এমনকি মর্টার শেলের মতো অস্ত্রের ব্যবহার করা। (৪) চোরাচালান, ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য পাচার (৫) উভয় দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে কর্মকৌশল প্রণয়ন ।

বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্ণেল খন্দকার ফরিদ হাসান জানিয়েছেন, বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিরা সীমান্তে সেনা মোতায়েন, ২৮ মে বিনা কারনে ৫২ পিলারের অদূরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে টহল দেয়া বিজিবি সদস্যের উপর গুলি বষর্ণ করে নায়েক মিজান নিহত হওয়ার জোর প্রতিবাদ জানান। এসময় বিজিবি সদস্যের গুলি ও অস্ত্র ফেরত চাওয়া হয়। মিয়ানমার অস্ত্র এবং গুলি ফেরত দেয়। বাংলাদেশ পক্ষ এসময় নিহতের জন্য ক্ষতিপুরণ দেয়ার দাবী করলে মিয়ানমার তা যথাসম্ভব দেয়া হবে বলে জানিয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষ চোরাচালান, ইয়াবাসহ মাদক দ্রব্য পাচার রোধ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা করেছে। জানা গেছে, পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘাঁটি থাকার অভিযোগ তুলে বিজিপি। বিজিবি মিয়ানমারের অভিযোগ নাকচ করে দেয়। বাংলাদেশ পক্ষ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচার বন্ধ করার দাবি জানায়। তিনি জানান, বৈঠকে সাম্প্রতিক ঘটনাকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে আখ্যা দেয় বিজিপি। ভবিষ্যতে যেকোনো সন্ত্রাসবাদ দমনে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।

SAM_0083

বৈঠকে মিয়ানমার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তার দেশের সন্ত্রাসীদের তৎপরতার কথা তুলে ধরে তা দমনে যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবী করে। কিন্তু বাংলাদেশ পক্ষ এ দাবী অস্বীকার করে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য থাকলে তা সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে বলে, বাংলাদেশ মিয়ানমারের দেয়া তথ্য মোতাবেক নিজেই অভিযান পরিচালনা করে অভিযোগ যাচাই করে দেখবে। বাংলাদেশের মাটিতে অন্য কোনো দেশের সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর কোনো সুযোগ নেই বলেও বৈঠকে জানানো হয়েছে। এর সঙ্গে আগামী ১০-১৩ জুন বিজিবি ও বিজিপি’র মহাপরিচালক পর্যায়ে বৈঠকের কথাও রয়েছে।

 সীমান্তের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপে সকাল ১১ টার দিকে শুরু হয় । এ বৈঠকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিধায় সীমান্তের লোকজনসহ দেশের মানুষের দৃষ্টি সারা দিন মিয়ানমারের মন্ডুর দিকে ছিল।

 এর আগে বৈঠকে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টা দিকে বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্ণেল খন্দকার ফরিদ হাসানের নেতৃতে¦ ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের মংডুতে যান। সেখানে বেলা ১১ টা থেকে টানা ৪ টা পর্যন্ত চলে বৈঠক। ২৩ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল খন্দকার ফরিদ হাসান এবং মিয়ানমারের পক্ষে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মিয়ানমারের মংডুস্থ ইমিগ্রেশন হেডকোয়ার্টাসের পরিচালক কর্নেল থিং কু কু। এছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল সফিকুর রহমান, রামু ৫০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল তইয়ুমুর কায়কোবাদ, কক্সবাজার ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম, টেকনাফ ৪২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ প্রমুখ।

 এদিকে দুই দেশের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো থমথমে রয়েছে। মিয়ানমার সীমান্তের কোনো কোনো পয়েন্টে নতুন করে আরো সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। বিজিবিও সীমান্তে সকল প্রস্তুতিসহ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল টিমকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে মিয়ানমারের বিজিপি। সেই সময় নিখোঁজ হন নায়েক মিজানুর রহমান। তাকে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী ধরে নিয়ে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ মায়ো মিন্টথানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। সীমান্ত থেকে বিজিবির সদস্যকে আটক করায় কঠোর ভাষায় রাষ্ট্রদূতকে তিরস্কার করা হয়। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষীদের কাছে আটক বিজিবির নায়েক মিজানুর রহমানকে অতি দ্রুত ছেড়ে দেওয়ারও দাবি জানানো হয়। এরপর শুক্রবার নিখোঁজ বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমানকে ফিরিয়ে দিতে বিজিবি ও মিয়ানমারের বিজিপির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় বৈঠক। এরপরই নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার বিকেলে বিজিবি সদস্য নায়েক মিজানুর রহমানের মরদেহ মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী ৫২ সিমান্ত পিলার পানছড়ি এলাকা দিয়ে ফেরত দেয়। তবে ফেরত দেয়নি নায়েক মিজানুর রহমানের সঙ্গে লুট হওয়া ১টি এসএমজি, ৪টি ম্যাগজিন ও ১২০ রাউন্ড গোলাবারুদ। মিয়ানমারের বিজিপি আজকের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ওই অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেরত দেবে বলে জানিয়েছিল।

মংডুতে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে বাংলাদেশ-মায়ানমার পতfকা বৈঠক আজ

 1

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে আজ ৫ জুন বৃহস্পতিবার মায়ানমারের মংডু টাউনশীপে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে । সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে এ পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন কক্সবাজারের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল খন্দকার ফরিদ হাসান ।

 

 

ওই পতাকা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন,নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল সফিকুর রহমান, রামুর ৫০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল তাইয়ুমুর কায়কোবাদ, কক্সবাজারের ১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম, টেকনাফ ৪২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল আবু জার আল যাহিরসহ পদস্থ কর্মকর্তারা ।

ওই বৈঠকে গত ২৮ মে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দৌছড়ি সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমান নিহত হওয়ার বিষয় এবং তার সাথে লুট হওয়া ১টি এস.এমজি, ৪টি ম্যাগজিন ও ১২০ রাউন্ড গোলাবারুদের বিষয় মায়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সাথে আলাপ হবে বিজিবি সূত্রে জানা যায়।

এদিকে গতকাল ৪ জুন সন্ধ্যা ৬.০০ ঘটিকায়ও নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তের অবস্থা অস্থিতিশীল ছিল । এদিন সীমান্ত এলাকার বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করেন বান্দরবানের ৬৯ পদাতিক বিগ্রেডের বিগ্রেড কর্মান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নকিব আহমদ ।

গত ৩ জুন রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে বিজিবি সদস্য নায়েক মিজানুর রহমানের লাশ দাফনের রেশ কাটঁতে না কাটঁেতই নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়নের পর্দানঝিরি ও জামছড়ির মিয়ানমার সীমান্ত থেকে গোলাবর্ষণ হয়। ওই সময় মুহু মুহু গোলাবর্ষণে এলাকার জনগণ দিগিবিদিক হয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয় নেয়। ঘটনার পর পরই নাইক্ষংছড়ির জামছড়ির এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে।

এদিকে লেমুছড়ি সীমান্তে বসবাসকারী মোঃ আব্দুলসহ বেশ কয়েকজন জানান, গতকাল বুধবার ৫টা ৩০ মিনিটের সময় লেমুছড়ির বাহিরমাঠ এলাকার ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমারের বিজিপি একটি মর্টার সেল নিক্ষেপ করেন। মর্টার সেলের বিকট শব্দে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার লোকজন ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এদিক-ওদিকে ছোটাছুটি শুরু করে। তারা আরো জানান, মর্টার সেল নিক্ষেপের পর ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা বাঙ্কারের অবস্থান নিয়ে কড়া প্রহরায় রয়েছে। তবে বিষয়টি বিজিবি অস্বীকার করেন। এছাড়াও বুধবার সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমার অংশে বিজিপি কয়েক দফায় গুলিবর্ষণ ও ৪টি মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত সাড়ে ৮টার পর থেকেই গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার পর পর ৫০,৪২ ও ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় মিয়ানমারের অংশে বিজিপি গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপ করে যাচ্ছে। সীমান্তে লোকজন আরো জানান, নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়নের পর্দানঝিরি, জামছড়ি, বাহির মাঠ, লেমুছড়ি, বান্ডুলিয়া সীমান্তে মিয়ানমার অংশে ব্যাপক গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ তারা শুনতে পায়। তারা জানান, বিজিপি কর্তৃক প্রায় ১০টিরও বেশি মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান। এদিকে বিজিপি কর্তৃক এই গোলাবর্ষণের খবর বিজিবি বা স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্র সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেনি, কিম্বা কখনো স্বীকার করলেও বলেছে তা মিয়ানমার অংশে হয়েছে।

এদিকে মায়ানমার তাদের কাউয়ার বিল বিজিবি হেডকোয়ার্টার থেকে ওয়ালিদং বিজিপি ক্যাম্প, টাইগার পাস, ৪ নং সার্ব ক্যাম্প, বানডোলা ১সেক্টরের সার্ব ক্যাম্প, আমতলী, রাইবনিয়া, অংচা বেরে ক্যাম্পে ২০০ জন করে কমান্ডো (সেনা ) বাহিনী ও অতিরক্তি বিজিপি মোতায়েন করেছে । তারা মর্টার সেল ও অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছে । গতকাল ৪ জুন বিকাল ৪টায় ৪২ ও ৪৩ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় ও গুলাবর্ষণ হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায় । এছাড়া ৫০,৫১,৫২ সীমান্ত পিলারের বিপরীতে বিজিপি বাংকার খুঁড়েছে বলে জানা যায়। তবে বিজিবি সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে।

৪ জুন বুধবার দুপুর ২টায় ৪৫-৪৬ সীমান্ত পিলার এলাকা জামছড়ি ও পর্দানঝিরির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম । তিনি ওই এলাকা পরিদর্শনকালে বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক । সীমান্তে বিজিবি সর্তক অবস্থায় আছে । যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি প্রস্তুুত । এলাকার লোকজন ঘরে ফিরে গেছে এবং তিনি এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন এলাকাবাসীর পাশে আছেন বলে জানান ।

সকালে ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল সফিকুর রহমান পর্দানঝিরি ও জামছড়ি এলাকা পরিদর্শন করেন । তিনি স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানান । এদিকে ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি)’র আশারতলীর বিওপি’র ইনচার্জ মেজর আফজাল জানান,সীমান্তের টহল বাড়ানো হয়েছে । সীমান্তে বিজিবি এখন পূর্বের চেয়ে বেশি তৎপর । যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুুত । রুটিন ওয়ার্কের বাহিরে ও টহল জোরদার করা হয়েছে ।

  ’প্রসঙ্গত, গত ২৮ মে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দৌছড়ি সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল টিমকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে বিজিপি। সেই সময় নিখোঁজ হন নায়েক  মিজানুর রহমান। তাকে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী ধরে নিয়ে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনায় মায়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ মায়ো মিন্টথানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষীদের কাছে আটক বিজিবির নায়েক মিজানুর রহমানকে অতি দ্রুত ছেড়ে দেয়ারও দাবি জানানো হয়। এরপর শুক্রবার নিখোঁজ বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমানকে ফিরিয়ে দিতে বিজিবি ও মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় বৈঠক। এরপরই নাইক্ষ্যংছড়ির দোছাড়ি সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার বিকালে বিজিবি সদস্য নায়েক মিজানুর রহমানের মরদেহ মায়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী ৫২ সিমান্ত পিলার পাইনছড়ি এলাকা দিয়ে ফেরত দেয় । ফেরত দেয়নি নায়েক মিজানুর রহমানের সাথে লুট হওয়া ১টি এস.এমজি, ৪টি ম্যাগজিন ও ১২০ রাউন্ড গোলাবারুদ । ওইদিন মায়ানমার সীমান্ত রক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ৫জুন পতাকা বৈঠকে ওই অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেরত দেবে বলে জানায়।

 

লেমুছড়ি সীমান্তে বসবাসকারী মোঃ আব্দুলসহ বেশ কয়েকজন জানান, গতকাল বুধবার ৫টা ৩০ মিনিটের সময় লেমুছড়ির বাহিরমাঠ এলাকার ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমারের বিজিপি একটি মর্টার সেল নিক্ষেপ করেন। মর্টার সেলের বিকট শব্দে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার লোকজন ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এদিক-ওদিকে ছোটাছুটি শুরু করে। তারা আরো জানান, মর্টার সেল নিক্ষেপের পর ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা বাঙ্কারের অবস্থান নিয়ে কড়া প্রহরায় রয়েছে। তবে বিষয়টি বিজিবি অস্বীকার করেন। এছাড়াও বুধবার সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমার অংশে বিজিপি কয়েক দফায় গুলিবর্ষণ ও ৪টি মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত সাড়ে ৮টার পর থেকেই গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার পর পর ৫০,৪২ ও ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় মিয়ানমারের অংশে বিজিপি গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপ করে যাচ্ছে। সীমান্তে লোকজন আরো জানান, নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়নের পর্দানঝিরি, জামছড়ি, বাহির মাঠ, লেমুছড়ি, বান্ডুলিয়া সীমান্তে মিয়ানমার অংশে ব্যাপক গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ তারা শুনতে পায়। তারা জানান, বিজিপি কর্তৃক প্রায় ১০টিরও বেশি মর্টার সেন নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান। – See more at: http://www.dailyinqilab.com/2014/06/05/183847.php#sthash.9Pkb94uv.dpuf
লেমুছড়ি সীমান্তে বসবাসকারী মোঃ আব্দুলসহ বেশ কয়েকজন জানান, গতকাল বুধবার ৫টা ৩০ মিনিটের সময় লেমুছড়ির বাহিরমাঠ এলাকার ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমারের বিজিপি একটি মর্টার সেল নিক্ষেপ করেন। মর্টার সেলের বিকট শব্দে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার লোকজন ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এদিক-ওদিকে ছোটাছুটি শুরু করে। তারা আরো জানান, মর্টার সেল নিক্ষেপের পর ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা বাঙ্কারের অবস্থান নিয়ে কড়া প্রহরায় রয়েছে। তবে বিষয়টি বিজিবি অস্বীকার করেন। এছাড়াও বুধবার সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমার অংশে বিজিপি কয়েক দফায় গুলিবর্ষণ ও ৪টি মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত সাড়ে ৮টার পর থেকেই গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার পর পর ৫০,৪২ ও ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় মিয়ানমারের অংশে বিজিপি গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপ করে যাচ্ছে। সীমান্তে লোকজন আরো জানান, নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়নের পর্দানঝিরি, জামছড়ি, বাহির মাঠ, লেমুছড়ি, বান্ডুলিয়া সীমান্তে মিয়ানমার অংশে ব্যাপক গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ তারা শুনতে পায়। তারা জানান, বিজিপি কর্তৃক প্রায় ১০টিরও বেশি মর্টার সেন নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান। – See more at: http://www.dailyinqilab.com/2014/06/05/183847.php#sthash.9Pkb94uv.dpuf
গতকাল বুধবার ৫টা ৩০ মিনিটের সময় লেমুছড়ির বাহিরমাঠ এলাকার ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমারের বিজিপি একটি মর্টার সেল নিক্ষেপ করেন। মর্টার সেলের বিকট শব্দে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার লোকজন ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এদিক-ওদিকে ছোটাছুটি শুরু করে। তারা আরো জানান, মর্টার সেল নিক্ষেপের পর ৫০ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা বাঙ্কারের অবস্থান নিয়ে কড়া প্রহরায় রয়েছে। তবে বিষয়টি বিজিবি অস্বীকার করেন। এছাড়াও বুধবার সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকার ওপারে মিয়ানমার অংশে বিজিপি কয়েক দফায় গুলিবর্ষণ ও ৪টি মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত সাড়ে ৮টার পর থেকেই গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার পর পর ৫০,৪২ ও ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকায় মিয়ানমারের অংশে বিজিপি গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপ করে যাচ্ছে। সীমান্তে লোকজন আরো জানান, নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়নের পর্দানঝিরি, জামছড়ি, বাহির মাঠ, লেমুছড়ি, বান্ডুলিয়া সীমান্তে মিয়ানমার অংশে ব্যাপক গুলিবর্ষণ ও মর্টার সেল নিক্ষেপের শব্দ তারা শুনতে পায়। তারা জানান, বিজিপি কর্তৃক প্রায় ১০টিরও বেশি মর্টার সেন নিক্ষেপের শব্দ শুনতে পান। মুহূর্তে মুহূর্তে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এলাকার জনগণ দিগি¦দিক হয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয় নেয়। ঘটনার পরপরই নাইক্ষংছড়ির জামছড়ির এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে। – See more at: http://www.dailyinqilab.com/2014/06/05/183847.php#sthash.9Pkb94uv.dpuf

বন্ধ হয়ে গেল বহুল আলোচিত বার্মা টাইমস

Burma times

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

বন্ধ হয়ে গেছে বহুল আলোচিত অন লাইন নিউজ পোর্টাল বার্মা টাইমস। নাইক্ষ্যংছড়ি বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির উপর এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট করে আলোচনায় আসা এই অনলাইন নিউজ পোর্টালটি হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেছে। অনলাইনে পত্রিকাটি খুললে তার সাইটে লেখা দেখা যায় একাউন্ট সাসপেন্ডেড লেখা দেখা যায়। এর পরে লেখা রয়েছে, This Account Has Been Suspended Due To Violation Of terms & Condition.

উল্লেখ্য, নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবি- বিজিপি গোলাগুলিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ২ কর্মকর্তাসহ ৪ জন নিহত ও ৩ জন আহত এই খবর প্রকাশ করে বার্মা টাইমস প্রথম আলোচনায় আসে। তবে বার্মা টাইমসে এই খবরটি প্রকাশের একদিন আগেই পার্বত্যনিউজে খবরটি প্রকাশিত হয়।

কিন্তু তখন বড় বড় গণমাধ্যমের অনেকেই এ খবরের সত্যতা সন্দিহান ছিলো। তবে বার্মা টাইমস এ খবরটি প্রকাশের পর অনেকেই বার্মা টাইমস কে উদ্ধৃত করে সংবাদটি প্রকাশ করে। 

এই অনলাইনে প্রকাশিত বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর খবর অনুবাদ করে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে থাক। এগুলোর মধ্যে, ‘বাংলাদেশে আক্রমণ করতে প্রস্তুত মিয়ানমার সেনাবাহিনী’, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম দখল করে নেবার হুমকি’ শীর্ষক খবরগুলো ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। 

তবে বার্মা টাইমস অনলাইনটি কারা প্রকাশ করে, কোথা থেকে প্রকাশিত হয় এ নিয়ে দেশের সামাজিক গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়। একইভাবে কারা কী কারণে এই সাইট বন্ধ করে দিয়েছে তাও জানা যায়নি। 

মিয়ানমারের পার্বত্য চট্টগ্রাম দখল নেয়ার অঙ্গীকার

বার্মা টাইমস-এর খবর

 

10369134_626338567462006_4373980107619679697_n

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে সতর্ক বিজিবি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মর্টার শেলে মিয়ানমারের কমপক্ষে ৪ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তিনজন। ৩০ মে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির সময় বিজিবি ওই মর্টার ছোড়ে। ওদিকে, বাংলাদেশের মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বার্মিজ ইউনাইটেড আর্মড ইউনিট (বিইউএইউ)। তারা টেকনাফ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম দখল নিতে বদ্ধপরিকর। গোয়েন্দা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল এ খবর দিয়েছে অনলাইন বার্মা টাইমস।

এতে বলা হয়, ইয়াঙ্গনের এক মেজর বলেছেন, মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে পশ্চিম গেটে বাংলাদেশীদের গতিবিধি লক্ষ্য করছে সে দেশের সেনারা। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পেট্রল টিম (বিজিবিপিটি) সামনে অগ্রসর হলে তার কড়া জবাব দিতে প্রস্তুত বিইউএইউ। এতে আরও বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাদের তুলনায় বাংলাদেশে রয়েছে এক-চতুর্থাংশ সেনা সদস্য। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোন ব্যবস্থা নিলে মিয়ানমারের ‘তাতমাড’ (সেনারা) টেকনাফ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম দখল নিতে বদ্ধপরিকর। নেপিড’র সূত্রমতে, বার্মিজ ইউনাইটেড আর্মড ইউনিটে রয়েছে আধাসামরিক বাহিনী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড, নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা বিভাগ।

ইতিমধ্যে তারা বাংলাদেশী বিজিবির অগ্রগমন প্রতিরোধের জন্য মিয়ানমারের পশ্চিম গেট এলাকায় টহল দিচ্ছে। এ ঘটনায় পশ্চিমগেট (মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত) এলাকায় বসবাসকারী রোহিঙ্গারা ভয়াবহ এক পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। তাদের মিয়ানমারের বিইউএইউ-এর ভারি জিনিসপত্র বহন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা অধিবাসীরা আতঙ্কে রয়েছেন যে, তাদের ব্যাপক হারে গ্রেপ্তার করতে পারে বিইউএইউ। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, বেশ কিছু রোহিঙ্গাকে বিইউএইউ-এর জন্য নির্ধারিত পোশাক পরিয়ে পশ্চিমগেটে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বার্মিজ বর্ডার পুলিশ যে সব স্থানে তাদের তাঁবু পেতেছে ভয়ে সে সব স্থানের মানুষ পাহাড়ি জঙ্গল থেকে ফিরে আসছেন না। ওদিকে একই ওয়েবসাইট আরেক রিপোর্টে বলেছে, গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলেছে, বিজিবির মর্টারশেলের আঘাতে মিয়ানমারের কমপক্ষে ৪ সেনাসদস্য নিহত হয়েছে। সূত্র বলেছে, যখন বিজিবি নিহত নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের মৃতদেহ গত বুধবার আনার চেষ্টা করে তখন মিয়ানমারের বাহিনী তাদের ওপর প্রকাশ্যে তিন দিক থেকে গুলি করে বর্ডার পিলার ৫২ এলাকায়।

ওই সময় বিজিবি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আহমেদ আলী, আঞ্চলিক কমান্ডার (চট্টগ্রাম)। তার সঙ্গে ছিলেন বিজিবির অন্য সিনিয়র কর্মকর্তা। এর মধ্যে ছিলেন কর্নেল ফরিদ হাসান খন্দকার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল শফিকুর রহমান।

মিয়ানমারের আক্রমণের জবাবে বিজিবি পাল্টা হামলা চালায়। এতে পাঁচ ঘণ্টা লড়াই চলে। দু’পক্ষই ব্যবহার করে মর্টার, রকেট লঞ্চার ও ভারি মেশিন গান।

সূত্র: মানবজমিন

আরও খবর

নতুন রাষ্ট্র সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং কক্সবাজার নিয়ে

কি ঘটবে পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন সংশোধন প্রস্তাব কার্যকর হলে?

পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা-বাঙ্গালী প্রত্যাহার ও খ্রিস্টান অঞ্চল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন