বান্দরবানে দুই ত্রিপুরা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে তিন বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

বান্দরবান ও লামা প্রতিনিধি:
লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বনফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর দুই ত্রিপুরা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে তিন বিজিবি সদস্যসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে লামা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঈদ-উল-আযহার দিন দিবাগত রাতে বনফুর রামগতি ত্রিপুরা পাড়ার পাশের একটি জঙ্গলে এই ২ শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে ধর্ষণের শিকার দুই ছাত্রীকে ডাক্তার পরীক্ষার জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আপ্পেলা রাজু নাহা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় কাউকে এখন পর্যন্ত আটক করা হয়নি।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের একটি বিজিবি ক্যাম্পের তিন সদস্য বুধবার রাত ১০টার দিকে অস্ত্রসহ ত্রিপুরা পাড়ায় যান। তারা পাড়ার এক গৃহিণীর মাধ্যমে দুই কিশোরীকে পাড়া থেকে কিছু দুরে জঙ্গলে ডেকে নেন। সেখানে তিন বিজিবি সদস্যের একজন পাহারায় থাকেন। আর দুজন অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দুই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন।

ধর্ষণের শিকার কিশোরীরা অভিযোগ করেছে, বিজিবি সদস্যরা দিদি সম্পর্কীয় এক প্রতিবেশীর মুঠোফোনে ফোন দিয়ে তাদের দু’জনকে পাড়ার বাইরে ডেকে নেন। তারা যেতে চাইছিল না। তখন দিদি তাদের বলেন যে, না গেলে অসুবিধা হবে। এ কথায় ভয় পেয়ে তারা সেখানে গেছে।

কিশোরীরা জানায়, সেখানে গেলে বিজিবির সদস্যরা প্রথমে তাদের টাকা দিতে চান। রাজি না হলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দুজন বিজিবি সদস্য দুজনকে ধর্ষণ করেন। একজন তখন পাহারায় ছিলেন। পাড়ার লোকজন এগিয়ে এলে বিজিবি সদস্যরা পালিয়ে যান। বিজিবি সদস্যরা আবার চলে আসতে পারেন, এই ভয়ে সারা রাত তারা দুজনও জঙ্গলে লুকিয়ে থেকে ভোরে পাড়ায় আসে।

২ শিশুর পিতা-মাতা ও তাদের আত্মীয় স্বজন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে লামা থানায় হাজির হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দায়ের করে। লামা থানার মামলা নং ০৫ ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১)/৩০। এজাহারে বর্ণিত অভিযুক্তরা হল: ত্রিশডেবা বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক রবিউল ইসলাম, বিজিবি সৈনিক সুমন, মারুফ এবং স্থানীয় জনেরুং ত্রিপুরা (২৭)। বিজিবি নায়েক রবিউল ইসলাম ও জনেরুং ত্রিপুরার সহায়তায় সৈনিক সুমন ও মারুফ কথিত দুই শিশুকে ধর্ষণ করেছে মর্মে এজাহারে দাবী করা হয়েছে।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার (এসপি) জাকির হোসেন মজুমদার পার্বত্যনিউজকে বলেছেন, বিজিবি কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দুই কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা সুনির্দিষ্টভাবে তিন বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। তারা বলেছে, একজন পাহারায় ছিলেন। অন্য দুজন ধর্ষণের করেছেন। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিমল ত্রিপুরা সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর মেয়েদের খোঁজ করতে এগিয়ে যাই। এ সময় একজন বিজিবি সদস্যদের একজন আমাদের বাধা দেন। তবে লোকজন আসায় সদস্যরা সরে যান।’

বিমল বলেন, তিন বিজিবি সদস্যকে স্থানীয় লোকজন চেনেন। বনফুর বাজারের ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান ও ডা. রিংকু দাশ বলেছেন, বিজিবির এই সদস্যরা স্থানীয় লোকজনের কাছে পরিচিত। তাঁরা বাজারে ডিউটি করেন এবং পাড়ায় গিয়ে মোরগমুরগি, কাঁচা শাকসবজি ও বাজার থেকে ক্যাম্পের জন্য মালামাল কেনেন।

বিজিবি বান্দরবান সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল ইকবাল হোসেন পার্বত্যনিউজকে বলেন, অভিযোগটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। মামলা হয়েছে, পুলিশ তদন্ত করে তাদের মতো করে ব্যবস্থা নেবে। তবে আমরাও বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। এ পর্যন্ত আমরা বিষয়টি তদন্তে অনেক অসংলগ্ন ও পরস্পর বিরোধী তথ্য পেয়েছি। আমরা এখনো বলতে পারছি না ঘটনাটি ঘটেছে, অথবা আমরা অভিযোগটি এখনই উড়িয়ে দিচ্ছি না। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয়, ঘটনা সত্য, তবে অভিযুক্তেদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু যদি প্রমাণিত হয়, অভিযোগ সত্য নয়, তাহলে সে বিষয়টিও দেখা হবে।

বিজিবি নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আসাদুজ্জামান পার্বত্যনিউজকে বলেছেন, রাতে বিজিবির একটি টহল দল স্থানীয় বনফুর বাজার এলাকায় ছিল। ত্রিপুরাপাড়ার দিকে তাঁদের যাওয়ার কথা ছিল না। যে তিনজনের নাম বলা হচ্ছে, সেই নামে বনফুর ক্যাম্পে কোনো বিজিবি সদস্যও নেই। তারপরও ছদ্মনামে কোনো বিজিবি সদস্য সেখানে গেছেন কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ত্রিশডেবা ক্যাম্প সরানোর জন্য অনেক ষড়যন্ত্র চলে আসছে। ক্যাম্প না থাকলে পাহাড়ী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনায় কোন বাধা থাকবে না। সে কারণে সন্ত্রাসী একটি গোষ্ঠী ত্রিশডেবা বিজিবি ক্যাম্পের বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালিয়ে আসছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। যদি তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর সাজানো ঘটনা হলে এটি নিন্দনীয় ঘটনা।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার আপ্রুচিং মার্মা পার্বত্যনিউজকে জানিয়েছেন, কথিত ঘটনাস্থল থেকে ত্রিশডেবা বিজিবি ক্যাম্পের অবস্থান দেড় কিলোমিটার দূরে এবং রামগতি পাড়ার ৫ শত গজের মধ্যে। পোশাক পরিহিত লোকজন এত দুরে গিয়ে এ জাতীয় একটি ঘটনা ঘটাবে তা বিশ্বাস হচ্ছে না। ঘটনাটি আমার কাছে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র মনে হচ্ছে।

স্থানীয় অধিবাসী লুৎফুর রহমান, মনির উদ্দিন ও আবুল কালাম পার্বত্যনিউজকে জানান, একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন থেকে বনফুর বিজিবি ক্যাম্প প্রত্যাহার করার জন্য ষড়যন্ত্র করে আসছে। পাহাড়ী উক্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বনফুর ক্যাম্প প্রত্যাহার হলে হত্যা, খুন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজি নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারবে। তাদের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রেই এই ঘটনার জন্ম দিয়েছে। হতে পারে তারাই বিজিবির পোশাক পরে তার নাম ধরে বিজিবিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে।

ফাঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার জানান, বনফুর ত্রিশডেবা বিজিবি ক্যাম্প হইতে এক থেকে দেড় কিলোমিটার দুরে জন সম্মুখ দিয়ে গিয়ে পোশাক পরিহিত লোকজন ধর্ষণ করার বিষয়টি আমার বোধগম্য হচ্ছে না। বনফুর বাজারে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের ওদিকে যাওয়ার কথা নয়। এখানে যে কোন ধরণের ষড়যন্ত্র রয়েছে।

বান্দরবান পুলিশ সুপার জাকের হোসেন মজুমদার জানিয়েছেন, পুলিশ মামলার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, দুই কিশোরীর জবানবন্দির ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে করে যা যা করার প্রয়োজন, তা করা হবে। দুই কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিরূপা চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমা শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে গত বুধবার রাতে বান্দরবানের লামায় বিজিবি’র ত্রিশডেবা ক্যাম্পের তিন সদস্য কর্তৃক দুই ত্রিপুরা কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

কাউখালীতে উপজাতীয় নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ: থানায় মামলা

আসামী পক্ষের দাবী জমি সংক্রান্ত বিরোধ: মামলার এজহারের উল্লেখিত বাদীর নাম ঠিকানা ভূয়া


কাউখালী প্রতিনিধি:
রাঙামাটির কাউখালীতে এক উপজাতীয় নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৯ জুলাই উপজেলার কলমপতি ইউনিয়নের মাগরামাছড়া নামক স্থানে এঘটনা ঘটে বলে মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে। এ ব্যাপারে ঐ মহিলা বাদী হয়ে কাউখালী থানায় মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ আসামীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখে বলে জানিয়েছেন কাউখালী থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ সাখাওয়াত হোসেন।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ৯ জুলাই সকাল সাড়ে ন’টায় উপজেলার কলমপতি ইউনিয়নের বড়ইছড়ি গ্রামের সাচিংউ মারমার স্ত্রী ২ সন্তানের জননী (২৫) কাউখালী বাজার থেকে বাড়ী যাওয়ার সময় মাগরামা ছড়া নামক স্থানে পৌঁছলে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের কাশখালী এলাকার মোঃ আব্দুল বারেকের ছেলে মোঃ সাকিব (১৯) তাকে জড়িয়ে ধরে শরীরের কাপড় খুলে ফেলে এবং পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে ফেলে দেয়। পরে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

এসময় ঐ মহিলা চিৎকার শুরু করলে পাশ্ববর্তী মংচিং মারমা শামীম (৪৪) ও চাইহ্লা প্রু মারমা (৩২) ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে কাউখালী থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে মামলার এজহারে উল্লেখিত বাদীর যে নাম, ও স্বামীর নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে তাতে যথেষ্ট গড়মিল দেখা গেছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা বাদীর বয়স নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় ভোটার তালিকা খুঁজে দেখা গেছে এ নামের কেউ কলমপতি ৩নং ওয়ার্ডে বসবাস করে না এবং এলাকার ভোটারও না।

এবিষয়ে কলমপতি ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার পাইচামং মারমার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তারা দীর্ঘ ১০-১৫ বৎসর যাবৎ ঐ এলাকায় বসবাস করে। ৩নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা এবং এ এলাকার ভোটার। প্রতিটি নির্বাচনেই তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও কিভাবে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করে এমন প্রশ্নের জবাবে মেম্বার জানান, হয়তো তারা অন্য জায়গার ভোটার এতদিন প্রক্সি ভোট দিয়েছে।

এদিকে এজহারে বাদী বিবাদীর বয়স ১৯ বৎসর উল্লেখ করলেও জন্ম নিবন্ধন খুঁজে দেখা যায় তার ১৬ বছর ৮ মাস। তাছাড়া বাদী মামলায় তার বয়স ২৫ বৎসর উল্লেখ করলেও তা নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ করছে আসামী পক্ষ। প্রকৃত কাগজপত্র হাতে আসলে তাও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে অভিযুক্ত আসামী সাকিবের বাবা মোঃ আব্দুল বারেক জানান, এটি সম্পূর্ণ ষড়ন্ত্রমূলক মামলা। তিনি জানান, এজহারে বাদীর পক্ষে মংচিং মারমা (শামীম) নামে যে নাম ব্যাবহার করা হয়েছে তার সাথে আমার দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে।

তিনি জানান, উল্লেখিত মংচিং এর কাছ থেকে ৫ বৎসর পূর্বে আমি এক একর জমি ক্রয় করেছি। কিন্তু পাঁচ বৎসর পার হলেও উক্ত জমি আমাকে রেজেষ্ট্রি করে দেয়নি। তাছাড়া আমার মেঝো ছেলের সাথে দোকানের বকেয়া টাকা নিয়ে বাদীর সাথে কয়েক দফা বাকবিতন্ডাও হয়।

বারেক জানান, বাদী ও মংচিং মারমা মিলে আমাকে জমি এবং দোকানের বকেয়া টাকা না দিতেই মূলত এ মামলা সাজানো হয়েছে। নাহলে ১৬ বছরের কিশোর তার মায়ের সমতুল্য ৩৫ উর্ধ এবং শারিরীক গঠনে তার চেয়ে শতগুণ শক্তিশালী একজন মহিলাকে কিভাবে ধর্ষণ করে। মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট আসলেই আপনারা প্রকৃত সত্য জানতে পারবেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে অপপ্রচার: মুদ্রার অন্য দিক

মাহের ইসলাম:

মশাল মিছিল ঠিক কবে, কোথায় এবং কি পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হয়েছিল, আমার জানা নেই। জানার জন্যে অল্প-স্বল্প চেষ্টা যে করিনি তা নয়, কিন্তু জানতে পারিনি। তবে উৎপত্তি যেভাবেই হোক না কেন, মশাল মিছিলকে আমার অন্য মিছিলের তুলনায় বেশি জীবন্ত মনে হয়। তাই আল জাজিরার মত একটা বিখ্যাত মিডিয়াতে যখন বাংলাদেশের একটা সংবাদের সাথে মশাল মিছিলের ছবি থাকে তখন আমার মনোযোগ আকর্ষণ না করে পারে না। আর যখন দেখলাম যে, সংবাদটি পার্বত্য চট্রগ্রামের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে, তখন একটু বাড়তি কৌতূহল নিয়েই সংবাদটি পড়তে শুরু করি।

২৮ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত আল জাজিরার যে সংবাদটি আমার এক বন্ধু আমার সাথে শেয়ার করেছেন, সেটি সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়াতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী দুই মারমা বোনের কথিত ধর্ষণের ব্যাপারে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে, সংবাদটিতে বলা হয়েছে কিভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্রগ্রামে ধর্ষণ করে ঘটনাটি আড়ালের চেষ্টা করছে। মশাল মিছিলের ছবি দেখিয়ে দাবী করা হয়েছে যে সাধারন মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে।

সংবাদটি পড়ে আমি উপলব্ধি করলাম, পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠনগুলো অপপ্রচার চালানোতে অভাবনীয় দক্ষতা অর্জন করেছে। শুধু তাই নয়, অপপ্রচারের মাধ্যমে দেশে এবং বিদেশে  মানুষের হৃদয় জয়ের পথে আমাদের দেশের কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে তারা সাথী হিসেবে পেয়েছে, যারা নিজেদেরকে সংবেদনশীল, ধর্মনিরপেক্ষ এবং নারীর অধিকার আদায়ের জন্যে নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে পরিচিত হতে পছন্দ করেন।


  1. এ সংক্রান্ত আরো খবর ও লেখা পড়ুন
  2. পাহাড়িদের সরলতা কি গুটিকয়েকজনের ক্রীড়নক: প্রেক্ষিত বিলাইছড়ি ইস্যু
  3. মারমা দুই বোন, অপপ্রচার এবং ডিজিটাল যুগের দুর্বলতা
  4. পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীঃ নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত দোষী
  5. মানবতার পাহাড়ি রঙ: প্রেক্ষিত নারী নির্যাতন
  6. বিলাইছড়িতে নির্যাতিতা দুই কিশোরীর শরীরে শুক্রানুর আলামত পাওয়া যায়নি
  7. আমরা ভাল আছি, শান্তিতে আছি: দু’মারমা কিশোরী
  8. বিলাইছড়িতে কথিত নির্যাতিত দুই কিশোরীর নাম ভাঙিয়ে ফায়দা লুটতে ব্যস্ত বিশেষ মহল

এই সংবাদটিতে  চাকমা জনগোষ্ঠীকে “দেশের অত্যাচারিত জনসংখ্যা” হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছে। পার্বত্য চট্রগ্রামকে পরিচিত করা হয়েছে এই বলে যে, কয়েক দশক ধরে এ অঞ্চলের ১৩ টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সাথে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর হালকা সংঘাত (Low Intensity Conflict) চলছে।  পুলিশ কর্তৃক আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দুই মারমা কিশোরীকে তাদের পিতা-মাতার কাছে হস্তান্তর করাকে ‘জোরপূর্বক অপহরণ’ এর তকমা লাগানো হয়েছে; এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের  উদ্ধৃতি দিয়েই অবশ্য এটি করা হয়েছে।এই খবরে মিসেস ইয়ান ইয়ানকে উপস্থাপন করা হয়েছে চাকমা জনগোষ্ঠীর একজন সদস্যা হিসেবে যিনি “ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকারের জন্য লড়াই করছেন”।

আমি অবাক হবো না যদি ইতোমধ্যেই ভাবতে শুরু করে থাকেন যে, কারা চাকমাদেরকে অত্যাচারিত জনগোষ্ঠী মনে করে, কারা বলতে পারে যে পার্বত্য চট্রগ্রামে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সাথে ১৩টি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর সংঘাত (Low Intensity Conflict) চলছে, এবং আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করাকে ‘জোরপূর্বক অপহরণ’ এর তকমা কারা দিতে পারে! সঙ্গত কারণেই আমি মনে করি যে, আল জাজিরার সংবাদটিতে যে শুধুমাত্র মুদ্রার একপাশকে বিকৃত করে দেখানো হয়েছে– তা বোঝার জন্যে একজন পাঠকের স্বাভাবিক বুদ্ধিমত্তাই যথেষ্ট।

তেমনি একজন স্বাভাবিক পাঠকের দৃস্টিতেই এই নির্দিষ্ট সংবাদের কিছু কিছু অসংগতি তুলে ধরার প্রয়োজন বোধ করছি। এক্ষেত্রে, আমি যেসব সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদ মাধ্যমের তথ্য ব্যবহার করছি তার বেশিরভাগই পাহাড়ী ঘরানার বা ইতোমধ্যে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে পরিচিত। ইচ্ছে করেই আমি এটি করছি, অন্যথায় বাঙ্গালীর প্রতি সহানুভূতি দেখায় এমন মিডিয়া উল্লেখ করলে আমার দাবিকে অনেকে দুর্বল ভাবতে পারেন। শুরুতেই বলে নেয়া ভাল যে, ২২ জানুয়ারি প্রকৃতপক্ষে কি ঘটেছিলো তা প্রমাণ করার ইচ্ছা আমার নেই। সেই ভার যেহেতু মামলা হয়েছে তাই তা আদালতের বিচার্য অথবা সচেতন পাঠকের হাতেই রইল।

যৌন হয়রানির কোন ঘটনা ঘটলে, যে কোন বাবা-মা তাদের সন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ করবে, এই স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড, কিন্তু মারমা দুই বোনের ক্ষেত্রে তা হয়নি। কেন হয়নি, সেটির কোন উত্তর এই সংবাদে নেই। পাঠকদের কি জানানো উচিত নয় যে, কেন বাবা-মা তাদের হাসপাতালে ভর্তি করেনি বা কেন তারা পুলিশে যায়নি? মেয়ে দুইজনকে ২২ জানুয়ারি সকালে গ্রাম থেকে ‘কে বা কারা’ নিয়ে যাওয়ার পর ২৩ জানুয়ারী দুপুরের পরে রাঙ্গামাটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বাবা-মাকে ছাড়াই দুইজন নাবালিকাকে গ্রাম থেকে তুলে নেয়া এবং হাসপাতালে ভর্তি করার মধ্যবর্তী ৩০ ঘণ্টায় কী ঘটেছে,  তা প্রকাশ করা হয়নি। কারা তাদেরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়েছিল, কোথায় তারা ছিল, এসময় তাদের সাথে কী আচরণ করা হয়েছে- অতি গুরুত্বপূর্ণ এ প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো অজানা। চিকিৎসা করাই যদি উদ্দেশ্য হবে, তাহলে ভর্তির পরদিনই মেয়ে দুইজনকে নিজেদের জিম্মায় নেয়ার জন্যে কিছু স্থানীয় নেতা-নেত্রী ও মানবাধিকার কর্মী এতটা উঠে পড়ে লেগেছিলো কেন– সেটি আজো অজানা রয়ে গেছে। প্রশ্ন থেকেই যায়, এই মেয়েদের হাসপাতালে ভর্তি করার পিছনে তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল?

অতএব, এটা সুস্পষ্ট যে, অনিচ্ছাকৃত হোক বা ইচ্ছাকৃতভাবেই  সম্পূর্ণ সত্যের পরিবর্তে এখানে আংশিক সত্য প্রকাশ করা হয়েছে।

খেয়াল করে দেখুন, ২২ তারিখেই এটা পোস্ট করা হয়েছে। এই পোষ্টের অন্যান্য দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই করার ভার পাঠকের উপরই রইল; বিশেষ করে, ঘরে কয়জন ঢুকেছিল এবং বাবা-মায়ের উপস্থিতির বিষয়টি।  এমন অনেক মনগড়া পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়া এবং কিছু জাতীয় দৈনিকে দেখা গেছে।

এখানে আরো লুকানো হয়েছে যে, মেয়ে দুটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগেই সোশ্যাল মিডিয়াতে ইচ্ছেমতো কাহিনী প্রচার শুরু হয়ে যায়; একই সাথে হাসপাতালের সামনেও অনেকে জড়ো হয়।

বাবা-মায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে, উচ্চ আদালত মেয়ে দু’জনকে তাদের  পিতামাতার কাছে হস্তান্তর ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আদেশ দেয়। পুলিশ কর্তৃক আদালতের এই আদেশ বাস্তবায়নকে এই সংবাদে বলা হয়েছে, ‘জোরপূর্বক অপহরণ’ (forced abduction) যা কিনা সশস্ত্র বাহিনী করেছে। অবশ্য এমন উদ্ভট দাবিকে জায়েজ করার জন্যে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীর সুত্র উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি আদালতের এই আদেশের বৈধতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে; কারণ অন্য আদালতে মেয়ে দু’জনকে চাকমা সার্কেল চিফের এখতিয়ারে নেয়ার জন্যে আগেই রীট করা হয়েছিল।

তবে দুইজন নাবালিকাকে পিতা-মাতার পরিবর্তে তার নিজের জিম্মায় নিতে চাইলেও  মিসেস ইয়ান ইয়ান ও তার দোসরদের পদক্ষেপগুলির কোন সমালোচনা করা হয় নি। এমনকি, আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে বাঁধা দেয়া, এমনকি রীতিমত শারীরিক প্রতিরোধের পরেও প্রশ্ন উঠে নি যে, এখানে আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করা হয়েছে কিনা? এমনটি এই কারণেই সম্ভব যে, আল জাজিরার ঐ প্রতিনিধি শুধুমাত্র ইয়ান ইয়ান এবং তার প্রতি সহানুভূতিশীল সমর্থকদের কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শুনেছেন। তাই অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় উপেক্ষা করে এমন একতরফা ঘটনার ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। আর এটা করতে গিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় উল্লেখ করতে ব্যর্থ হয়েছেন; যেমন, ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট, যেখানে ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য যে, মেডিক্যাল বোর্ডের ৩ সদস্যার মধ্যে একজন বড়ুয়া ও একজন পাহাড়ি ডাক্তারও ছিলেন।

পুরো সংবাদটি পড়তে পড়তে বারবার মনে হচ্ছিল যে, এই সাংবাদিক অন্ধের মতো মিসেস ইয়ান ইয়ান এবং তার সমর্থক ও সহানুভূতিশীলদের বিশ্বাস করেছেন।এমনও মনে হয়েছে যে, তিনি প্রকৃত সত্য উপস্থাপন না করে, মিথ্যার সাথে  কিছু সত্য ও পর্যবেক্ষণ মিশ্রিত করার এবং মিথ্যা উপসংহার উপস্থাপনের জন্যে কোন ধরনের বাধ্যবাধকতার শিকার হয়ে  থাকতে পারেন। এই কারণেই হয়তবা বাবা-মায়ের দাবী এবং তাদের কথা কিছুটা কমই উল্লেখ করা হয়েছে। আমার অদ্ভুত লেগেছে যে, একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে খোলাখুলিভাবে বাবা-মা দাবি করেন যে, মেয়েদের ধর্ষণ করা হয়নি– সেটি পর্যন্ত এই সংবাদে উল্লেখ করা হয়নি।

প্রকৃতপক্ষে, পুরো সংবাদ জুড়ে পিতামাতার দাবি কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ এমনকি মেয়ে দুইজনের পিতা-মাতার পরিবর্তে,  স্থানীয় কিছু নেতা-নেত্রী ও মানবাধিকার  কর্মীদেরকে কথা অনেক বেশি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়ছে। তাই আমি অনুভব করছিলাম যে, এই প্রতিনিধি ও ঐসব স্থানীয় নেতা-নেত্রী ও মানবাধিকার  কর্মীদের মাঝে এক ধরনের বোঝাপড়া থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। পাশাপাশি, প্রকৃত গল্পটি খোঁজার পরিবর্তে হয়তো তিনি কোন বিশেষ ব্যক্তির বীরত্বপূর্ণ ইমেজ সৃষ্টির লক্ষ্যেই নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।

আমি সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছি যখন মেয়ে দুইজনের ছোট ভাইয়ের কথা বলা হয়েছে। সংবাদদাতা দাবি করেছেন যে, “প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছোট ভাই মার্মা ভাষায় বলেন যে, ‘এক নয়, তবে দুইজন লোক রুমটিতে প্রবেশ করেছে’।” অথচ, পাহাড়িদের ভিডিও ক্লিপে কিন্তু ‘একজন’ এর কথাই বলা হয়েছে। যেহেতু সাবটাইটেল সহ এই ভিডিওটি এমন একটি Facebook পেইজে  আপলোড করা হয়েছিল যা তার সেনাবাহিনী বিরোধী বক্তব্যের জন্য সুপরিচিত, সেহেতু এই ক্লিপের সাবটাইটেল অবিশ্বাস করার কোন কারণ থাকতে পারে না। তাহলে, এই প্রতিবেদক ছোট ভাইয়ের কথার এমন মিথ্যে অনুবাদ কেন প্রচার করবেন? নাকি তিনি নিজেই পাহাড়িদের অপপ্রচারে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন এবং মিথ্যে প্রচারে সর্বতোভাবে চেষ্টা করছেন?

যেকোনো নির্যাতিতার জন্যেই হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া আতি প্রয়োজনীয়। কিন্তু শুরু থেকেই কিছু নেতা-নেত্রী মেয়েদেরকে হাসপাতাল থেকে ছাড়িয়ে নিজেদের হেফাজতে নিতে চেষ্টা ছিল। অজ্ঞাত কারণে, এই সত্যটি, প্রতিবেদকের মনে কোন ধরনের সন্দেহ উত্থাপনে ব্যর্থ হয়েছে। অপরদিকে, প্রতিবেদক এটিকে সত্য বলে প্রমাণ করেছেন যে, “সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা পুরো হাসপাতালটিকে নজরদারির আওতায় রাখে এবং বহিরাগতদের প্রবেশের অনুমতি দেয় না।” বাস্তবতা হলো, এই সংবাদেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, বড় মেয়েটির স্বাক্ষর করা একটি চিঠি এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হস্তগত হয়েছে। আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিছু ভলান্টিয়ারসহ ইয়ান ইয়ান হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন।

এমন কি, মিসেস ইয়ান ইয়ানের ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক শুরু থেকে হাসপাতালের মধ্যে মেয়েদের সাথে ছিল। সংবাদদাতা আরো লিখেছেন, “আল জাজিরার সাথে কথা বলার সময় ইয়্যান ইয়ান বলেন, ২২ জানুয়ারি ভোর বেলা নিরাপত্তা বাহিনীর চারজন সদস্য মারমা পরিবারের ঘরে প্রবেশ করেন”। সংবাদদাতা হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন যে, তিনি ইতিমধ্যেই উল্লেখ করেছেন যে ‘দুইজন পুরুষ’ বাড়িতে প্রবেশ করেছিল।

শুরুতেই বলে নিয়েছি যে, উরাছড়িতে ২২ তারিখে কি ঘটেছিল, আমি তা প্রমাণ করতে চেষ্টা করছি না। তাই, এই ঘটনাটি নিয়ে অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে কি প্রকাশিত হয়েছে- তা এখানে উল্লেখ করতে চাই না। উৎসুক যে কোন ব্যক্তিই সেগুলো দেখে নিতে পারবেন। যা নিশ্চিত, তা হলো এই যে, আল জাজিরার এই সংবাদে বেছে বেছে কিছু নির্বাচিত ঘটনা বিকৃত বা আংশিক রূপে প্রকাশ করা হয়েছে। এটা দিবালোকের মতো পরিস্কার যে, এই সংবাদে প্রদত্ত বেশিরভাগ তথ্যই পক্ষপাতদুষ্ট, কারণ একটি বিশেষ ঘরনার কাছে থেকেই সকল তথ্য সংগ্রহ করা হয়ে থাকতে পারে; প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হয়নি বলে দৃশ্যমান। মূলত কিছু বিশেষ লক্ষ্যের দিকে নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায় বা জনগণের মনোভাবকে প্রভাবিত করাই এই সংবাদের লক্ষ্য হয়ে থাকতে পারে।

– লেখক: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক।

খুন-গুম, ধর্ষণ, অপহরণ পাহাড়ের নিত্যদিনের ঘটনা

paharer pothe pothe

মানিক মুনতাসির, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফিরে:

ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে পাহাড়ের জনপদ। শান্তিচুক্তির ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ফেরেনি। খুন-গুম, ধর্ষণ, অপহরণ যেন এ অঞ্চলের নিত্যদিনের ঘটনা। পুলিশ বলছে, থানায় মামলা করতে আসে না সাধারণ মানুষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট এলাকায় এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রত্যেকের তো প্রাণের ভয় রয়েছে। কেউ কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে প্রতিপক্ষ গ্রুপ তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। কিন্তু মানুষকে সার্বক্ষণিক পাহারা দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল পুলিশের নেই।

রাঙামাটি জেলার সবচেয়ে দুর্গম এলাকা বিলাইছড়ি। সেখানকার থানায় গত ৬ মাসে মাত্র তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মারামারি আর একটি চাকমা মেয়েকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের মামলা। অথচ ওই অঞ্চলে মাস তিনেক আগে বিলাইছড়ি থানার কাছাকাছি এক জঙ্গলে নাম পরিচয়হীন এক হতভাগ্যের লাশ পাওয়া যায়।

কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে না হয়েছে মামলা, না পাওয়া গেছে ওই লাশের পরিচয়। ওই থানার রেকর্ড অনুযায়ী ২০১৩ সালে মামলা হয়েছে ৫টি। ২০১৪ সালে মামলা হয়েছে ৮টি, ২০১৫ সালে ৬টি। আর চলতি বছর ২৩ জুন পর্যন্ত ৩টি মামলা হয়েছে।

অন্যমিডিয়া

অথচ স্থানীয় বাসিন্দারা (পাহাড়ি কিংবা বাঙালি) বলেছেন, এ অঞ্চলে কৃষিকাজ, ব্যবসা, দোকান বা যে কোনো ধরনের লাভজনক কাজের কমিশন দিতে হয় জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সন্ত্রাসীদের। অন্যথায় ফোন করে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

শুধু তাই নয়, বাজারে কোনো কৃষিপণ্য বিক্রি করতে নিলে সেখান থেকেও কমিশন দিতে হয় জেএসএসকে। সরেজমিনে জানা গেছে, এ অঞ্চলে চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হচ্ছে চাকমা মেয়েটিকে ধর্ষণ ও নির্যাতন। তার অপরাধ ছিল একজন পাহাড়ি (উপজাতি) হয়ে একজন বাঙালি ছেলের দোকান থেকে জিনিসপত্র কেনা।

গত ২৯ মে মেয়েটি শিহাব নামের এক বাঙালি দোকানদারের (মা টেলিকম) দোকান থেকে নিজের এসএসসি পাসের ট্রান্সক্রিপ্ট ওঠাতে যায় অনলাইনের মাধ্যমে। ওই সময় ৮ থেকে ১০ জন উপজাতি যুবক তাকে অস্ত্রের মুখে মা টেলিকম থেকে তুলে নিয়ে যায় পাশের এক জঙ্গলে। সেখানে প্রথমে শ্লীলতাহানি ও মারধর করা হয়। পরে তরুণীর চোখ বেঁধে উলঙ্গ অবস্থায় তার ছবি তোলা হয় এবং ধর্ষণ করা হয়। ওই ঘটনার কথা কাউকে বললে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরে ভুক্তভোগীর মা গাছকাটাছড়া আর্মি ক্যাম্পে গিয়ে ঘটনার জন্য নালিশ করে ধর্ষকদের বিচার দাবি করেন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী তাকে বিলাইছড়ি থানায় পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় উপজাতি যুবক পুলক চাকমা, নেলসন চাকমা, মানিক চাকমা, সুনিতিময় চাকমা, সৃজয় চাকমাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার ওই তরুণী। এ ঘটনায় চারজনকে পুলিশ গ্রেফতারও করে। এরপর মামলার আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। আসামিরা একদিকে জামিনের জন্য চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে বলে ওই তরুণীর বাবা অভিযোগ করেছেন।

সূত্র জানায়, রাঙামাটি, বান্দরবান আর খাগড়াছড়ির সাধারণ মানুষ এখন ইউপিডিএফ আর জেএসএসের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাদের ভয়ে ওই সব এলাকায় প্রতিনিয়ত পর্যটকের সংখ্যা কমছে। দিনের বেলায় তারা অস্ত্রের মহড়া প্রদর্শন করছে। প্রাণের ভয়ে থানায় অভিযোগও দেন না পাহাড়িরা। খুন, গুম, অপহরণ আর চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এসব অঞ্চলের মানুষ। পার্বত্য শান্তিচুক্তির ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা।

সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল বান্দরবানের লামায় উপজাতি সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন তিন বাঙালি গরু ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় তিন ত্রিপুরা এক সন্ত্রাসীকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়। ১৩ জুন বোয়াংছড়ি উপজেলায় আক্তার (২০) নামে এক বাঙালি গৃহবধূকে প্রকাশ্যে দিবালোকে অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে এক উপজাতি সন্ত্রাসী। একই দিন অস্ত্রের মুখে অপহরণ হন বান্দরবানের আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক ইউপি সদস্য মংপ্রু মারমা। তিনি এখনো নিখোঁজ। তার পরিবারকেও নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ ঘটনায় জেএসএসের ৩৬ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পরিবার। ৩০ মে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে জেএসএস কর্মীরা মুকুল কান্তি চাকমা নামে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সার্জেন্টকে ডেকে নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। তার পরিবার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, প্রভাবশালী গ্রুপের কাছে নানাভাবে ধরনা দিলেও মুকুল কান্তি চাকমার খোঁজ মেলেনি আজও।

জানা গেছে, এর আগে গত বছর ৩১ ডিসেম্বর রাঙামাটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা সাজেকে এক সেনা কর্মকর্তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে তার গাড়িতে আগুন দেয় উপজাতি সন্ত্রাসীরা। ওই সময় গাড়িতে তার পরিবারসহ ভ্রমণে ছিলেন সেই সেনা কর্মকর্তা। ২০১৫ সালের ১৫ আগস্ট রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ৫ জেএসএস (সংস্কার) সন্ত্রাসী। উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র। একই বছরের ২৬ জুলাই রাঙামাটিতে জেএসএস-ইউপিডিএফ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ৩ জন এবং ২৬ জানুয়ারি খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে জেএসএস-ইউপিডিএফের আরেকটি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এর বাইরে বিভিন্ন সময় উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি ভারী আগ্নেয়াস্ত্র।

রাঙামাটির বিলাইছড়ি এলাকার কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা অংচাখই কারবারি বলেন, তাদের সব সময় প্রাণের ভয় নিয়ে দিন কাটাতে হয়। ইউপিডিএফ আর জেএসএসের সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে দিবালোকে মানুষ খুন করছে। আর প্রতিটি বাড়ি থেকে চাঁদাবাজি করছে। সাধারণ মানুষ এসব সন্ত্রাসীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ।

বিলাইছড়ি থানার ওসি মো. মঞ্জুরুল আল মোল্লা বলেন, পুলিশ সাধ্যমতো চেষ্টা করছে সন্ত্রাসীদের দমনে।

এদিকে গত ২২ জুন রাঙামাটি শহরের নিজ বাসভবনে পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র মহিলা এমপি ফিরোজা বেগম চিনু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, উপজাতীয় নেতারা সব সময়ই সরকারবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। প্রথমত, ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাজনের সময় ও পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তারা মূল স্রোতের বিরোধিতা করেছে। এখন তারা বাংলাদেশ সরকারের বিরোধিতা করছে। অর্থাৎ মূল স্রোতের বিপরীতে থাকাই তাদের স্বভাবগত অভ্যাস। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই এমপি বলেন, সন্ত্রাসীরা এতটাই শক্তিশালী যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সঙ্গে পেরে উঠে না। এ জন্য দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে জেএসএসের সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমার রাঙামাটি শহর কল্যাণপুরস্থ বাসায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি তখন ঢাকায় ছিলেন। পরবর্তীতে তার ব্যবহূত টেলিফোন নম্বরে ফোন করা হলে তার অফিস স্টাফ চিংকি চাকমা নামের এক তরুণী বলেন, স্যার এখন বাসায় নেই। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

– সূত্র- বাংলাদেশ প্রতিদিন

পাহাড়ী পুরুষদের ধর্ষণ নিয়ে উপন্যাস লেখায় লেখক রোকেয়া লিটাকে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে পাহাড়ীরা

rokeya lita

স্টাফ রিপোর্টার:

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ীদের জীবনধারা ও রাজনীতি নিয়ে উপন্যাস লেখায় লেখক রোকেয়া লিটাকে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে পাহাড়ীরা। লেখিকা নিজেই তার ফেসবুকের টাইমলাইনে হুমকির স্ক্রীনশট দিয়ে লিখেছেন, “তথাকথিত সহজ সরল কতিপয় পাহাড়ির আসল চেহারা!! ইহারা এখন আমারেই ধর্ষণ করিতে চায়।”

ধর্ষণ করলে প্রথাগত বিচারে তার শাস্তি শূকর জরিমানা। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের প্রথাগত ও পরম্পরাগত নিয়ম এটি।সাংবাদিক রোকেয়া লিটার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘ডুমুরের ফুল’-এ এমনই কিছু অসামঞ্জস্য বিচার ব্যবস্থার বর্ণনা পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, কখনও কখনও বিচারের নামে ধর্ষকের সাথেই ধর্ষিতাকে বিয়ে দেয়া এবং রক্ষক যে ভক্ষক হয়ে যায়, সেই ধরণের ঘটনারও উল্লেখ রয়েছে বইটিতে। এ কারণেই লেখকের উপর চটেছেন পাহাড়ীরা।

দীর্ঘ আট মাস পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে, কখনও বা সীমান্তবর্তী দূর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে গিয়ে, পাহাড়িদের সাথে কথা বলে জানার চেষ্টা করেছেন লেখক। লেখকের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন পার্বত্যাঞ্চলে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাহাড়ীদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতার অনেক ছবি রয়েছে সেখানে।

এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে উপন্যাস লেখা প্রসঙ্গে রোকেয়া লিটা বলেন, ‘আমরা যারা ঢাকায় থাকি, প্রায়ই পাহাড়ে ধর্ষণের খবর পাই। এসব খবর পড়লে মনে হয় পার্বত্য চট্টগ্রামে যেসব ধর্ষণ হয়, তার সবই ঘটান বাঙালিরা। বিষয়টি আসলে তেমন নয়। কেবল বাঙালি কর্তৃক ধর্ষণের অভিযোগই আসে খবরে। পাহাড়ি পুরুষদের বিরুদ্ধেও ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে অনেক। কিন্তু সেসব বিষয় প্রকাশ্যে আনেন না সেখানকার পাহাড়ি নেতারা। তাই, ঢাকায় বসে বা ২/৩ দিনের জন্য পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে আসলে পাহাড়ের প্রকৃত অবস্থা বোঝা সম্ভব নয়।’

শুধু ধর্ষণ বা প্রথাগত বিচার নয়, বইটিতে উঠে এসেছে পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজনৈতিক অস্থিরতার পেছনের অনেক অজানা তথ্য। আর এজন্যই বইটির নাম রাখা হয়েছে ‘ডুমুরের ফুল।’

লেখক জানান, উপন্যাসটির চরিত্রগুলো বাস্তব, তবে তাদের ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।

তমসবনচ

বইটির নামকরণ সম্পর্কে লেখক জানিয়েছেন, অনেকেই আমার দ্বিতীয় উপন্যাসের নামকরণের স্বার্থকতা জানতে চাইছেন। অনেকেই বলছেন, ডুমুরের ফুল বলতে তো কিছুই নেই, তাহলে আমার উপন্যাসের এই নাম রাখলাম! ডুমুরের ফুল আসলে ফলের ভেতরে থাকে, বাইরে থেকে দেখা যায় না। এই উপন্যাসে মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতি ও জীবনাচরণকে ভেতর থেকে উন্মোচন করা হয়েছে যা সচরাচর ঢাকায় বসে বা দুই/তিন দিনের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামে বেড়াতে গিয়ে বোঝা যায় না। এজন্যই উপন্যাসটির নাম রাখা হয়েছে ডুমুরের ফুল (The unseen object).

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতি ও জীবনাচরণ নিয়ে রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে সময় প্রকাশন। একুশে বই মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে তিন নম্বর স্টলে আজ শুক্রবার থেকে পাওয়া যাচ্ছে উপন্যাসটি।

পাহাড়ীদের দাবী তাদের প্রতিবাদের মুখে বইটির উপর প্রকাশিত বুক রিভিউ দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকা তাদের অনলাইন ভার্সন থেকে তুলে নিয়েছে। কালের কণ্ঠের অনলাইন ভার্সন পরীক্ষা করে দেখা গেছে সেখানে এ সংক্রান্ত কোনো বুক রিভিউ নেই। তবে প্রত্যাহার সংক্রান্ত কোনো ঘোষণাও দেয়নি তারা।

বইটি সম্পর্কে লেখক বিভিন্ন সময় তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিযেছেন, প্রতিবছর শান্তি চুক্তি দিবস এলে ঢাকা থেকে সাংবাদিকরা পাহাড়ে যায় রিপোর্ট করতে। বেশিভাগ প্রতিবেদনই বিগত বছরের পুনরাবৃত্তি। আর সারা বছর প্রতিবেদন পাঠায় স্থানীয় প্রতিনিধি। স্থাণীয় প্রতিনিধিদের বেশিভাগই পাহাড়ি, আর নিউজ করার জন্য এদের প্রিয় বিষয় হলো, “বাঙালী কর্তৃক পাহাড়ি নারী ধর্ষণ”। আমি বলবো পাহাড় রাজনীতির সবচে বড় হাতিয়ার হলো “পাহাড়ি নারী ধর্ষণ”। ধর্ষণ আর শান্তি চুক্তি ছাড়াও যে আরও হাজারটা বিতর্কিত ইস্যু আছে পাহাড়ে, তা হয়তো কখনও বুঝতেই পারতাম না “ডুমুরের ফুল” লেখা শুরু না করলে!! আমি বলবো, পাহাড়ের আজকের এই অবস্থার জন্য অনেক বেশি দায়ী আমাদের সংবাদমাধ্যমগুলো এবং কিছু এনজিও। ক্ষেত্র বিশেষে, এসব সংবাদপত্র ও এনজিও কাজ করেছে পাহাড় রাজনীতির ফুয়েল হিসেবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, আমার মনে হয় এতোকিছু করতে হবে না, থানায় গিয়ে খোঁজ নিলেও কিছু তথ্য পাওয়া যাবে। তবে, সমস্যা হলো, পাহাড়ি মেয়েদের খুব একটা দেখা যায় না যে, তারা ধর্ষণ নিয়ে বাঙালীর ওপর দোষারোপ করছে। বেশিভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় পাহাড়ি পুরুষরা এই বিষয়টির রাজনীতিকরণ করছে এবং সেভাবেই প্রচার চালাচ্ছে..

পাহাড়ী নারী ধর্ষণ সম্পর্কে লেখিকা আরো বলেছেন, আজকে একজনের লেখা পড়লাম। তিনি লিখেছেন, “বাঙালী সেটেলারদের কাছে পাহাড়ি মেয়েরা ভোগ্যপণ্য”। এই কথাটি শুনলে প্রথমেই মনে হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালী সেটেলারদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে বোধ হয় শুধুই ধর্ষণ করার জন্য। তাদের আর কোনো কাজ নেই সারাদিন তারা শুধু মদ খায় আর পাহাড়ি মেয়েদের ধরে এনে ধর্ষণ করে। এমনকি এসব লেখা পড়লে মনে হয়, এই যে শীতকাল এলেই দলে দলে বাঙালীরা পাহাড়ে বেড়াতে যায়, তারাও বোধ হয় শুধু পাহাড়ি মেয়েদের ধর্ষণ করতেই যায়। বলি, পাহাড়ি মেয়েরা কি এতই রুপবতী আর এতই অাকর্ষনীয় হয়ে গেছে যে, বাঙালীরা সারাক্ষণ তাদের ধর্ষণ করার জন্য ওঁত পেতে বসে আছে!!

তবে, পাহাড়ে ধর্ষণের ঘটনা যে ঘটছে না, তা কিন্তু নয়। হয়ত, এসব ঘটনার সাথে বাঙালীরাও জড়িত। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা একেবারেই ভিন্ন। প্রায় আট মাস পার্বত্যচট্টগ্রামে ছিলাম, দুজন পাহাড়ি মেয়ে ধর্ষণের ঘটনা আমার কানে এসেছে। আশ্চর্য্যজনক হলেও সত্যি যে, দুটি ঘটনাতেই অভিযোগ পাহাড়ি পুরুষের বিরুদ্ধে। আরও অবাক হয়েছিলাম যে বিষয়টি দেখে, দুটি ঘটনাই ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল, ধর্ষকের বিচার চেয়ে কোনো আন্দোলন নেই, নেই কোনো মিছিল, পত্রিকার পাতায়ও কোনো খবর নেই!! অথচ, ঢাকায় বসে আমরা শুধু খবর পাই, বাঙালীরা পাহাড়ি মেয়েদের ধরে এনে ধর্ষণের উৎসব পালন করছে। বুঝতে সমস্যা হয় না, এগুলোই হলো পাহাড়ের আসল রাজনীতি, এই রাজনীতির অনেকটা জুড়েই রয়েছে আমার উপন্যাস ” ডুমুরের ফুল (সময় প্রকাশন)”।

দীঘিনালায় তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা

ধর্ষণ

দিঘীনালা প্রতিনিধি:

দীঘিনালায় এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। নিহত তরুণীর নাম ফেরদৌসী আক্তার। তার বয়স ২৬ বছর।

তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। তার বাড়ি উপজেলার সুধীর মেম্বার পাড়া গ্রামে। লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে উপজেলার লারমা স্কোয়ারে বাজারের পাশে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পরে সেখান থেকে পুলিশ বিবস্ত্র অবস্থায় নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের বাবা আবদুল কাদের জানান, গত রাতে মেয়েকে ঘরে না পেয়ে অনেক খোঁজাখুজি করি। পরে সকালে খবর পাই লারমা স্কোয়ারের পাশে বাজারে একটি লাশ পড়ে আছে। পরে মেয়েকে চিনতে পারি।

দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো.মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতীয় কর্তৃক বাঙালী নারী ধর্ষণ নির্যাতন আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে চলেছে

ধর্ষণ

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

বাঙালী কর্তৃক উপজাতীয় নারী নির্যাতনের বিষয়ে উপজাতীয়দের প্রচার- প্রপাগাণ্ডা, প্রতিবাদ মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশের আড়ালে পাহাড়ের দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে উপজাতি কর্তৃক বাঙ্গালী নারী ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনা। উপজাতি কর্তৃক বাঙ্গালী নারী ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনাগুলো বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। কিন্তু কোন ঘটনারই সুষ্ঠু বিচার হয়নি। কোন এক অদৃশ্য ক্ষমতাবলে এসব অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এনিয়ে নিরীহ বাঙ্গালীদের মাঝে দিনের পর বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। ক্ষীণ হয়ে আসছে ন্যায় বিচার পাওয়ার আশাও। অন্যদিকে একের পর এক ঘটনা করে পার পেয়ে যাওয়া উপজাতীয় যুবকদের দৌরাত্ম বেড়েই চলছে। পরিস্থিতি বর্তমানে এতোটাই খারাপ হয়েছে যে, বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে পাহাড়ী যুবকেরা বাঙালী নারীদের সুপার ইম্পোজ ছবি পোস্ট করছে, তাদেরকে ধর্ষণের জন্য পাহাড়ী যুবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।

পার্বত্যনিউজের তথ্যানুসন্ধান ও ঘটনার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১২ সালের ১৩জুন মাটিরাঙ্গা উপজেলার পলাশপুর জোন সদরের কাছাকাছি দক্ষিণ কুমিল্লা টিলা এলাকায় মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা মো: আব্দুল মান্নানের মেয়ে কুলসুম আকতার (১২) নামে এক কিশোরী ধর্ষনের শিকার হয়। ঘটনার সূত্রে জানা যায়, নিজেদের বাড়ি হতে মাটিরাঙ্গা বাজারে কেনাকাটার জন্য যাবার পথে এক পাহাড়ি যুবকসহ চার যুবক তাকে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে মোহন ত্রিপুরা নামক এক ব্যক্তিকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে। এসময় অন্য তিনজন পালিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন তার পরিবারের পক্ষ থেকে মাটিরাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ কর্তৃক অভিযান চালিয়ে অপর ব্যক্তিদের আটক করে।

এক্সক্লুসিভ লোগো

এ ঘটনার এক মাসের মাথায় ২৩ জুলাই মহালছড়ির মাইসছড়ি এলাকায় শাহদা বেগম (৫৫) নামে এক বাঙ্গালী গৃহবধুকে পাহাড়ী যুবক কর্তৃক ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে। সে মাইসছড়ির মো: সয়ন উদ্দীনের স্ত্রী। জানা গেছে, ঐ মহিলা তার গরু খোজার জন্য নিকটবর্তী নীলাৎপল খীসার সবজি ক্ষেতে গেলে চার পাহাড়ী যুবক তাকে মারধর ও ধর্ষণ করে। পরে মহালছড়ি জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে সেনা সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ ও জোনের পক্ষ থেকে চিকিৎসা বাবদ পাঁচ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এ ব্যাপারে ধর্ষিতার ছেলে মো: গুলজার হোসেন মহালছড়ি থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযুক্ত লাব্রেচাই মারমা ও মাউশিং মারমা নামে দুই যুবককে আটক করে।

এ ঘটনার কয়েক মাসের মাথায় ৯ অক্টোবর মহালছড়ির শ্মশানখোলা এলাকার বাসিন্দা শামছুন্নাহার (৩০) নামে একজনকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠে। এসময় উপজাতি যুবকের দা‘র আঘাতে শামছুন্নাহারের মাথায় মারাত্বক জখম হয়। পরবর্তীতে তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতলে ভর্তি করা হয়। এঘটনায় পুলিশী কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

এদিকে ২০১৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী খাগড়াছড়ির আলুটিলাস্থ ইমাং রেস্টুরেন্টে গণ-ধর্ষণের শিকার হয় জান্নাতুল ফেরদৌস (১৫) নামে এক বাঙ্গালী কিশোরী। সে জেলার রামগড় উপজেলার বাসিন্দা। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ঘটনার দিন জান্নাতুল ফেরদৌস বান্ধবীর বাড়ীতে যাওয়ার পথে অজ্ঞাত পরিচয়ধারী উপজাতীয় দুষ্কৃতিকারীরা তাকে অপহরণপূর্বক এই ঘটনা ঘটায়। ধর্ষণের শিকার এই কিশোরী ঘটনার পরদিন ০৫ ফেব্রুয়ারি হোটেলর ২য় তলা থেকে জানালা দিয়ে নীচে লাফ দিয়ে ধর্ষণকারীদের কবল হতে পালানোর চেষ্টা করলে গুরুতর আহত হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর প্রথমে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এসময় সন্দেহভাজন হোটেল কর্মচারি রাহুল ত্রিপুরাকে (২৮) আটক করে পুলিশ।

এ ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় ১৩ ফেব্রুয়ারী মহালছড়ি জোনের আওতাধীন থলিপাড়া এলাকায় মহালছড়ি ডিগ্রী কলেজের ছাত্রী মিতা সরকারের সাথে অসদাচরনসহ তাকে উত্যক্ত করে রামপ্রু মারমা নামে উপজাতি স্কুল ছাত্র। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি ও বাঙ্গালি যুবকদের মাঝে হাতাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা জানাজানি হলে মহালছড়ি জোন ও এপি ব্যাটালিয়নের পৃথক দুটি টহলদল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে জোন কমান্ডার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান, কলেজের অধ্যক্ষ, অভিযুক্ত ছাত্র রামপ্রু মারমা‘র পিতা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ভবিষ্যতে আর কখনো এ ধরণের কার্যকলাপে লিপ্ত হবে না মর্মে মুচলেকা দিয়ে সেবারের মতো রেহাই পায় বখাটে উপজাতি যুবক রামপ্রু মারমা।

এর পরপরই স্বাধীনতার মাসে (১৮ মার্চ) গুইমারার রামসু বাজারে মিসেস ফেরদৌসি বেগম (৩৫) এর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে উপজাতিয় মোটরসাইকেল চালক অংচল মারমা (৩২)। প্রাপ্ত সূত্রমতে, ফেরদৌসি বেগম ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলযোগে মানিকছড়ি হতে গুইমারা বাজারে যাওয়ার পথে তার শ্ললতাহানির চেষ্টা চালালো হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এ ঘটনা জানার সাথে সাথে গুইমারা সেনা ক্যাম্পের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিএমএইচ-এ ভর্তি করে। পরবর্তীতে, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযুক্ত মোরসাইকের চালককে আটকপূর্বক গুইমারা থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। এ ব্যাপারে গুইমারা থানায় মোটরসাইকেল চালকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে একটি মামল করা হয়।

এরপর ৩০ এপ্রিল আলীকদম জোনের আওতাধীন গুড়রঝিরি এলাকার একটি তামাক ক্ষেতে মোছাম্মদ হুরাইরা (২৬) নামের এক বাঙ্গালি নারী উপজাতিয় যুবক মংচিং আই মারমা (৩০) কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়। জানা গেছে হুরাইরা ও তার স্বামী উক্ত তামাক ক্ষেতের শ্রমিক। তার স্বামীর অনুপুস্থিতিতে একই তামাক ক্ষেতের অপর শ্রমিক মং চিং আই মারমা উক্ত ঘটনা ঘটায়। সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে। এ ঘটনার ব্যাপারে লামা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর থেকে ধর্ষক মং চিং আই মারমা পলাতক রয়েছে।

২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল পুর্বপ্রণয়ের জের ধরে মাটিরাঙ্গার গাজীনগর বটতলী এলাকার বাঙ্গালি কিশোরী সবিলা আক্তর (২৪)-কে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্ঠা করে উপজাতিয় যুবক কৃঞ্চমাহন ত্রিপুরা (২৭)। স্থানীয়রা বিষয়টি জানলে পলায়নকৃত কৃঞ্চমাহন ত্রিপুরা ও সবিলা আক্তরকে আটক করে মাটিরাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করে।

এর কয়েকদিনের মাথায় ৮ এপ্রিল আলকদম জোনের আওতাধীন সেলতিপাড়া এলাকায় পাখী আক্তার (৩৫) নামে বাঙ্গালী গৃহবধুর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে উপজাতি যুবক সামারি মারমা (৩৬)। উক্ত ঘটনায় স্থানীয় বাঙ্গালীরা উত্তেজিত হয়ে সামারি মারমাকে মারধর করে। পরবর্তীতে, এই ঘটনা উক্ত এলাকায় পাহাড়ি-বাঙ্গালিদের মাঝে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এ ঘটনা জানার পর সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়োজিত রাখে।

একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর সদরখিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী রুনা আক্তার (৭)-কে ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে একই বিদ্যালয়ের উপজাতি ছাত্রের বিরুদ্ধে। ধর্ষণের শিকার মেয়ে শিশুটির ভাষ্যমতে জানা যায়, বিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার পথে উপজাতীয় ছাত্র তাকে বিদ্যালয় ভবনের পিছনে নিয়ে উক্ত ঘটনা ঘটায়। পরবর্তীতে, শিশুটির মা ও নেপচুন টি স্টেট‘র শ্রমিক কাঞ্চন মালা তাকে চিকিৎসার জন্য মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতলে প্ররণ করে। এ ব্যাপারে কাঞ্চন মালা বাদী হয়ে মানিকছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

পরবর্তীতে, মানিকছড়ি উপজেলার ইউএনও, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, স্থানীয় বাটনাতলী ইউপি চেয়াম্যান এবং বিদ্যালয়ের পরিচালক কমিটির সদস্যবৃন্দ ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ০১ অক্টোবর সদরখিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্ষণের শিকার শিশুটি কর্তৃক অভিযুক্ত প্রথম শ্রেণির ছাত্র রাজ কুমার চাকমাকে (১২) সনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ কর্তৃক রাজ কুমার চাকমাকে আটক পূর্বক খাগড়াছড়ি জেলে প্রেরণ করা হয়।

সমঅধিকার আন্দোলন একাংশের মহাসচিব মনিরুজ্জামান মনির পার্বত্যনিউজকে বলেন, বাঙালী কর্তৃক কোনো উপজাতি নারী নির্যাতিত হলে উপজাতি সমর্থিত বিপুল মিডিয়ার প্রচার প্রপাগাণ্ডা, প্রতিবাদ, বুদ্ধিজীবীদের বিবৃতি ও আন্তর্জাতিক মহলের চাপে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু উপজাতি কর্তৃক বাঙালী নারী ধর্ষিত বা নির্যাতিত হলে সরকারের তরফ থেকে সেই তাগিদ লক্ষ্য করা যায় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুই একজন নামেমাত্র গ্রেফতার হলেও অল্পদিন পরই তারা জামিনে বেরিয়ে আসে। আর এই বিচার বছরের পর বছর ধরে ফাইলবন্দী থেকে একসময় তামাদি হয়ে যায়। বাঙালী নারীদের ক্ষেত্রে জাতীয় গণমাধ্যম, বুদ্ধিজীবী আন্তর্জাতিক মহল কারোরই আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় না। বাঙালী নারীদের ক্ষেত্রে বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদে। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে বিচার না হওয়ায়,, সম্মান কিম্বা নিরাপত্তার কারণে বাঙালীরা বিচার প্রার্থিও হয় না। ঘটনার আসল সংখ্যা কখনোই জানা যায় না।

এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচারের প্রত্যাশা করে পাহাড়ের সচেতন মহল বলেন, এভাবে চলতে দেয়া যায় না। বাঙ্গালী যুবকের দ্বারা কোন পাহাড়ী নারী ধর্ষিত হলে কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবীমহল মাঠ গরমের চেষ্টা করলেও এতোগুলো ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় তাদের কোন বক্তব্য-বিবৃতি জাতি দেখেনি। পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও বাঙালীর অবস্থান নিশ্চিত করতে এ ধরণের ঘটনা রোধ করা ও সুবিচার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

দীঘিনালায় ছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারণ: ১ যুবক গ্রেপ্তার

56

নিজস্ব প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার এক নম্বর মেরুং ইউনিয়নের এক মাদ্রাসা ছাত্রী (১৫)কে জোরপূর্বক রাস্তা থেকে তিন বখাটে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে তার ভিডিও চিত্রধারণ করেছে।

 

এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসী ইমন হোসেন(২০)নামে এক যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য দুই যুবক পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্ণগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার(১৮ জুন)উপজেলার বড় মেরুং এলাকায়। আটককৃত যুবকের কাছ থেকে পুলিশ ভিডিওচিত্রসহ মুঠোফোন জব্দ করেছে।

পুলিশ জানায়,বুধবার(১৮ জুন)উপজেলার এক নম্বর মেরুং ইউনিয়নের বড় মেরুং এলাকার মাদ্রাসায় পড়–য়া এক ছাত্রী(১৫)আরবি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে নির্জনতার সুযোগ নিয়ে আগে থেকে ওঁতপেতে থাকা ইমন হোসেন(২০),ইসমাইল হোসেন(২২) ও ফারুক হোসেন(২২) ছাত্রীটিকে জোরপূর্বক ধরে জঙ্গলে নিয়ে হাত পা বেঁধে ধর্ষণ করে এবং মোবাইলে ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারন করে। পরে ছাত্রীটি আহত অবস্থায় কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে এসে ঘটনাটি মাকে জানালে তাঁর মা মেরুং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনকে ঘটনাটি জানালে তিনি পুলিশে খবর দেন।

এসময় এলাকাবাসী ইমন হোসেন(২০)আটক করে। এসময় অন্য দুই যুবক পালিয়ে যায়। পরে আটককৃত যুবক পুলিশের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। পুলিশ তার কাছ থেকে ভিডিওচিত্র ধারণকৃত মুঠোফোনটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ছাত্রীটির বড় বোন বাদী হয়ে ইমন হোসেন(২০) ইসমাইল হোসেন(২২) ও ফারুক হোসেন(২২)কে আসামী করে থানায় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছে।

দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ সাহাদাত হোসেন টিটো জানান, আটকৃত যুবককে জেলা হাজতে পাঠানো হয়েছে। ছাত্রীটির ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য দুই যুবককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মাটিরাঙ্গায় ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা শ্রীঘরে

ra-pe.thumbnail

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট :

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় নারী নির্যাতনের অভিযোগে এক ছাত্রলীগ নেতা এখন শ্রীঘরে। নারী নির্যাতনের অভিযোগে আটক ছাত্রলীগ নেতাকে আজ সকালে খাগড়াছড়ি আদালতে পাঠালে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে শ্রীঘরে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে তাকে ভুইয়া পাড়াস্থ একটি পোল্ট্রি ফার্মের অফিস কক্ষ থেকে মাটিরাঙ্গা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো: নয়ন (২৬) কে আটক করে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ। আটক ছাত্রলীগ নেতা মাটিরাঙ্গা পৌরসভার চক্রপাড়া এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো: আবুল কালাম‘র ছেলে।

জানা গেছে, মাটিরাঙ্গা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো: নয়ন দীর্ঘদিন ধরে বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার নতুনপাড়া গ্রামের মো: আবদুল মান্নানের মেয়ে স্কুল ছাত্রী মুন্নী আকতার বুলবুলী (১৮) এর সাথে বিগত তিন বছর ধরে প্রেম করে আসছে। ঘটনার দিন গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে তাকে বিয়ের কথা বলে মোবাইল ফোন করে তাদের মালিকানাধীন পোল্ট্রি ফার্মে আসতে বলে। প্রেমিকের সরল প্রস্তাবে আশ্বস্ত হয়ে মুন্নী আকতার বুলবুলী পোল্ট্রি ফার্মে আসলে ছাত্রলীগ নেতা মো: নয়ন তাকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাটিরাঙ্গা থানার সাব ইনসপেক্টর কাজী মো: নাজমুল হক ও কাজী মো: মাহফুজ হাসান সিদ্ধিকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ নেতা মো: নয়নকে আটক করে। এসময় পুলিশ ছাত্রলীগ নেতার ধর্শনের শিকার মুন্নী আকতার বুলবুলীকে উদ্দার করে থানায় নিয়ে আসে।

বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ভাবে মীমাংসার নিষ্পল চেষ্ঠা করেন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। কিন্তু ধর্ষিত মুন্নী আকতার বুলবুলী ও তার পরিবার মীমাংসা প্রস্তাবে রাজি না হয়ে মুন্নী আকতার নিজে বাদী হয়ে সোমবার বিকালের দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন-২০০০ (সংশোধনী/০৩) এর ০৭/৯(১) ধারা মতে ছাত্রলীগ নেতা মো: নয়নকে আসামী করে মাটিরাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করে। মাটিরাঙ্গা থানার মামলা নং-০৬।

মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মাইন উদ্দিন খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আটক ছাত্রলীগ নেতা মো: নয়নকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ধর্ষণের অভিযোগে রোয়াংছড়িতে বাঙালীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা (ভিডিওসহ)

      বব            

স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান:

গত ৭ জুন রোয়াংছড়ি-বেঙছড়ি সড়কে মারমা এনজিওকর্মীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ মুসলেম মিয়া (৩৫) নামে এক কাঠুরিয়াকে তঞ্চগ্যা সম্প্রদায়ের ইন্ধনে মারমা সম্প্রদায়ের শতশত নারী-পুরুষ নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।

 

মুসলিম মিয়াকে হত্যার আগে ধর্ষক হিসেবে দেবাং প্রকাশ বিজয় তঞ্চঙ্গ্যা (৩২)কে পুলিশ আটক করে। দেবাং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে স্বীকার করে সে ধর্ষণের সাথে জড়িত ছিল। মুসলেম মিয়া হত্যার পর সে আবার কৌশলে পুলিশের কাছে অস্বীকার করে। দেবাং সু কৌশলে জনপ্রতিনিধিদের তথ্য দেয় তার সাথে আরো দু’জন রোহিঙ্গা কাঠুরিয়া ধর্ষনের কাজে জড়িত ছিল।

দেবাংকে থানায় আনার পরে আইন শৃংখলা অবনতি ঘটতে পারে তার জন্য সেনাবাহিনী থানার আশেপাশে অবস্থান নেয়। কিন্তু স্থানীয় মারমা ও তঞ্চগ্যা সম্প্রদায়ের লোকজন একজন কাঠুরিয়াকে বেঙছড়ি এলাকা থেকে দীর্ঘ ৬ কিলোমিটার পথ ধরে পিটিয়ে পিটিয়ে রোয়াংছড়িতে আনে। রোয়াংছড়ি খালে পৌঁছলে পুলিশ প্রশাসনের টনক নড়ে। তখন থানার ওসি আবদুস সাত্তার কয়েকজন পুলিশ নিয়ে কাঠুরিয়াকে উদ্ধারের আইওয়াশ চেষ্টা চালায়। পুলিশের দাবী, শতশত নারী-পুরুষের বাঁধার মুখে নাকি পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে পারেনি।

এ ব্যাপরে ওসি আবদুস সাত্তার জানান, ঘটনা শোনার পর পর তাকে উদ্ধারে রোয়াংছড়ি নদীর পাড়ে যাই। অনেক চেষ্টা করে মুসলিম উদ্দিনকে মুমর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করি। তাকে উদ্দার করতে গিয়ে ক্ষুদ্ধ নারী-পুরুষের হামলায় কয়েকজন পুলিশ আহত হয়। সেনাবাহিনীর ভুমিকা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সেনাবাহিনী নদীর পাড়ে সিড়ির কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। তারা আমাদের কোন সহায়তা করেনি।

মুসলেম মিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করার একটি ভিডিও গত রবিবার সকালে পার্বত্যনিউজের হাতে আসে। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর সোমবার পার্বত্যনিউজে ভিডিওটি প্রকাশিত হলে সামাজিক গণমাধ্যমে আলোচনা সমালোচনার ঝড় ওঠে। তিন পার্বত্য জেলার বাঙালীরা এই ভিডিও দেখে পুলিশের দূর্বল ভূমিকার সমালোচনা করতে থাকে। কারণ ভিডিওটিতে দেখা গেছে, পুলিশ মুসলেম মিয়াকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে গেলে পাহাড়ীরা তাদের গলাধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। এবং পুলিশও সরে আসে। একটি জীবন বাঁচাতে এসময় লাঠিচার্জ কিম্বা ফাঁকা গুলিবর্ষণের সাহায্য নিলে মুসলেম মিয়াকে বাঁচানো যেত। 

এদিকে ভিডিওটিতে যে নির্মমভাবে মুসলেম মিয়াকে পিটিয়ে হত্যা করতে দেখা গেছে তা দেখে মানুষ শিউরে উঠছে। হত্যার আগে তাকে নগ্ন করে তার দুই হাত বেঁধে ফেলা হয়। তারপর তাড়িয়ে তাড়িয়ে দীর্ঘপথে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এ সময় উপজাতি মহিলাদের সবচেয়ে বেশী আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা গেছে। সাধারণত মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর বৌদ্ধদের হামলার যে চিত্র এতদিন ইউটিউবে দেখা গেছে এই ভিডিটিও তার অনুরূপ নৃসংশ বলে সামাজিক গণমাধ্যমে মন্তব্য করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, দেবাং আগে থেকেই ধর্ষণ, ডাকাতির মত ঘটনার ঘটিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা না থাকায় তাকে আটক করা হয়নি। তিনি জানান, রোয়াংছড়ি থানায় এব্যাপরে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে মুসলেম মিয়াকে হত্যার ঘটনায় ফুঁসে উঠছে জেলার বাঙালী জনসাধারণ। তারা ইতোমধ্যেই এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল সমাবেশ করেছে।

উল্লেখ্য, বান্দরবান শহরের সবচেয়ে কাছের উপজেলা রোয়াংছড়ি। সড়ক পথে মাত্র ২০ কিলোমিটার দুরে রোয়াংছড়ি উপজেলা। শন্তুু লারমা বাহিনী (শান্তি বাহিনী) থাকা সময়ে বান্দরবান জেলাকে নিয়ন্ত্রন করত রোয়াংছড়ি থেকে। এলাকা ছিল সন্ত্রাসীদের অভারণ্য। যার কারণে রোয়াংছড়িতে বাঙালীদের বসবাস গড়ে উঠেনি। রোয়াংছড়িতে কিছু ভাসমান ব্যবসায়ী আর দিন মজুররা অস্থায়ী ভাবে বসবাস করে। ফলে এমন একটা উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে কোনো বাঙালীর পক্ষে উপজাতি মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যার অভিযোগ মানতে রাজি নয় বাঙালী সম্প্রদায়।