৩০০ কি.মি. মানববন্ধন নেটওয়ার্ক জেলা উপজেলা সদরে সীমাবদ্ধ

প্রথমবারের মতো তিন পার্বত্য জেলা জুড়ে জেএসএস ও ইউপিডিএফ’র অঘোষিত ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচী পালন

12485993_787861114693615_5916404005061567791_o

স্টাফ রিপোর্টার:

আয়োজক তিন সংগঠন থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবীতে তিন পার্বত্য জেলা জুড়ে ৩০০ কি. মি. ব্যাপী গণ-মানববন্ধন সফল হওয়ার দাবী করা হলেও কিন্তু অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, প্রধানত: জেলা ও উপজেলা সদরেই সীমাবদ্ধ ছিলো এ মানববন্ধন। এর বাইরে বিপুল এলাকায় মানববন্ধনকারীদের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় খাগড়াছড়িতে মানববন্ধনের চেষ্টা করা হলেও পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (পার্বত্য চট্টগ্রাম শাখা) ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক এ মানববন্ধনের ডাক দিলেও এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস(মূল ও সংস্কার) ইউপিডিএফ নেতারা এ মানববন্ধনে অংশ নিয়েছে। এর বাইরেও বিভিন্ন উপজাতীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এ মানববন্ধনে অংশ নেয়। তবে এ মানববন্ধনের উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিলো, প্রথমবারের মতো তিন পার্বত্য জেলা জুড়ে জেএসএস ও ইউপিডিএফ’র অঘোষিত ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচী পালন করা।

খাগড়াছড়ি

18.01

খাগড়াছড়ি থেকে পার্বত্যনিউজের জেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ, দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং সমতল অঞ্চলে আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশনের দাবীতে পাহাড়ি তিনটি সংগঠনের ডাকা মানববন্ধন কর্মসূচীটি খাগড়াছড়িতে পুলিশি বাঁধায় পন্ড হয়ে যায়।

 শহরের চেঙ্গী স্কোয়ার মাইনী ভ্যালী এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সদস্য ইউ কে জেন’র নেতৃত্বে মানববন্ধন কর্মসূচীতে দাঁড়ালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্না প্রশাসনিক অনুমতি না থাকায় তাদের বাধাঁ দিয়ে সরিয়ে দেন। পরে তাৎক্ষনিক জেলা শহরের মহাজন পাড়াস্থ একটি কনভেনশন সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দেলনরতরা।

এতে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি,বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সদস্য খাগড়াছড়ি সরকারি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর বোধিসত্ত্ব দেওয়ান। এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সদস্য ফেসর (অব) ড. সুধীন কুমার চাকমা, মধুমঙ্গল চাকমা, শেফালিকা ত্রিপুরা এসময় উপস্থিতি ছিলেন।

সংগঠনগুলো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে বাঁধা প্রদানের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে, অবিলম্বের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও সমতলের আদিবাসীদের জন্য স্বতন্ত্র ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি প্রদানের দাবী জানান নেতৃবৃন্দরা।

এদিকে মহালছড়ি সদর ও মাইচছড়িতে পুলিশী বাধার কারণে মানববন্ধন পণ্ড হয়ে যায়। এসময় পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।

রাঙামাটি

দতকব

পূর্বঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসাবে রাঙামাটির বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন পালিত হয়েছে বিনা বাধায়। শহরের কল্যাণপুর এলাকায় এ মানববন্ধনের নেতৃত্ব দেন জেএসএস সভাপতি সন্তু লারমা এবং জেলা প্রশাসন অফিস প্রাঙ্গনে মানবন্ধনের আহ্বায়ক ও নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান এবং লংগদুতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় ও তার স্ত্রী য়েন য়েন।

রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (পার্বত্য চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি আহবায়ক গৌতম দেওয়ান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে সদস্য নিরূপা দেওয়ান, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধরাণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা প্রমুখ।

মানববন্ধনে ওই সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ ১৮বছরেও সরকার পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের কোন আগ্রহ প্রকাশ করেনি। ভবিষ্যতে এ চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন এখন পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের মনে। সরকারের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সভা সমাবেশে বলেন ২০০৮সালের আওয়ামীলীগের নির্বাচনীয় সনদ হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা। কিন্তু কবে এ সনদ বাস্তবায় করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোন সুনিদিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তাই পার্বত্যাঞ্চলের মানুষ এখন হতাশ। পাহাড়ের জুম্মজাতিরা এখন আর সরকারের উপর বিশ্বাস রাখেনা।

তারা মনে করে সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন না করলে, আন্দোলনের মধ্যমে সরকারকে চুক্তি বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে আর কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে বলে হুমকি দেন ওই সংগঠনের নেতারা।

বান্দরবান

Bandarban pic-3, 18.1

পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও সমতলে ‘আদিবাসীদের’ জন্য আলাদা ভূমি কমিশনের দাবিতে বান্দরবানে গণ মানববন্ধন করেছে পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র ও নৃ-গোষ্ঠীরা। মানববন্ধনে সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উ নি হ্লা মানববন্ধন সফল করায় সকলকে ধন্যবাদ জানান।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রোয়াংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেএসএস জেলা সাধারণ সম্পাদক ক্যবামং মারমা, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়রম্যান ও জেলা হিলউম্যান্স ফেডারেশনের সভানেত্রী ওয়াইচিং প্রু, অনন্যা নারী কল্যাণ সংস্থার পরিচালক ডনাই প্রু নেলী, পাহাড়ী বম সম্প্রদায়ের নেতা জিরকুম সাহা, এনজিও সংস্থার কর্মী অংচ মং মারমাসহ সংগঠনের নেতৃবিন্দরা।

মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে জেএসএস জেলা সাধারণ সম্পাদক ক্যবামং মারমা বলেন, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের নামে কালক্ষেপন করছে সরকার। পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের বিকল্প কিছু নেই।

মানবন্ধন সফল হওয়ার দাবী তিন আয়োজক সংগঠনের

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ, দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং সমতল অঞ্চলে আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশনের দাবিতে আহুত গণ-মানববন্ধনে তিন পার্বত্য জেলার আপামর জনগণ শান্তিপূর্ণ, সুশৃংখল ও স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে মানববন্ধন সফল হওয়ার দাবী করে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (পার্বত্য চট্টগ্রাম শাখা) ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক গৌতম দেওয়ানের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, খাগড়াছড়ি জেলার জেলা প্রশাসন মানববন্ধন করার অনুমতি দেয়নি। ফলে প্রশাসন খাগড়াছড়ি সদরে মানববন্ধন আয়োজনে বাধা প্রদান করে এবং মানববন্ধনে আসা লোকদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এছাড়া মহালছড়ি উপজেলাধীন মাইসছড়ি ইউনিয়ন ও মহালছড়ি সদরে বাধা প্রদান করে। প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনীর এ ধরণের গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনী কর্তৃক বাধা প্রদান ও মানববন্ধনে আসা লোকজনের উপর নির্যাতন করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। 

তবে বাধার মুখেও খাগড়াছড়ি জেলার অন্যান্য জায়গায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে দাবী করে বিবৃতিতে তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতার জন্য তাদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।

তিন পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা সনদ জেলা প্রশাসক ও সার্কেল চিফ উভয়ই দিতে পারবেন

আইন মন্ত্রণালয় আহুত আন্তঃমন্তণালয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত

দগহজচটপ

স্টাফ রিপোর্টার:

তিন পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা সনদ জেলা প্রশাসক ও সার্কেল চিফ উভয়ই দিতে পারবেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার স্থায়ী বাসিন্দা সনদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ নির্ধারণে আইন মন্ত্রণালয়ের ডাকা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও পার্লামেন্ট বিষয়ক সচিব মো. শহিদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন সচিব, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী মারমা, রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের এডিসি রেভিনিউ, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের প্রতিনিধি কে এস মং প্রমুখ।

সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ প্রতিনিধি তিন পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা সনদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ হিসাবে একমাত্র সার্কেল চীফদের দায়িত্ব দেয়ার জন্য প্রস্তাব করে। কিন্তু কেউ কেউ ভূমি কমিশন আইন বাস্তবায়ন না হওযা পর্যন্ত চলমান ব্যবস্থা চালু রাখার পক্ষে মত দেন। আবার কেউ কেউ নতুন বিধান চালু করে পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির বিরোধিতা করেন বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে।

বৈঠকের অধিকাংশ সদস্য তিন পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা সনদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ হিসাবে বর্তমানের মতো জেলা প্রশাসকের পাশাপাশি সার্কেল চিফদের রাখার ব্যাপারে পরামর্শ দেন।

যদিও আইন অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা সনদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ একমাত্র জেলা প্রশাসকগণ। শুধুমাত্র জেলা পরিষদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ডিসিদের পাশাপাশি সার্কেল চীফগণ স্থায়ী বাসিন্দা সনদ প্রদান করতে পারেন। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুসারে বর্তমানে ডিসিদের পাশাপাশি সার্কেল চিফগণ তিন পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা সনদ দিয়ে থাকেন। আইন মন্ত্রণালয় আহুত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সেটাকেই বহাল রাখা হলো।

উল্লেখ্য আইন মন্ত্রণালয় থেকে ২০০২ সালের ২১ অক্টোবর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের দ্বিতীয় প্যারাগ্রাফে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে,‘তিন পার্বত্য জেলার অধিবাসীদের স্থায়ী বাসিন্দার সনদ কোন কর্তৃপক্ষ প্রদান করবেন সে বিষয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ১৯৮৯ ও উহার সংশোধনীতে (১৯৯৮ সালে জারীকৃত) কোন বিধান করা হয়নি। পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯ এর ধারা ৪ এর উপধারা (৫) ও (৬) এ পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নির্বাচনে প্রার্থীতার ক্ষেত্রে কোন প্রার্থী উপজাতি বা অ-উপজাতি কিনা সে বিষয়ে প্রত্যয়নের ক্ষমতা সার্কেল চীফগণকে প্রদান করা হয়েছে। আলোচ্য আইনে বা আইনের ৪ ধারার (৫) ও (৬) উপধারায় চাকুরীক্ষেত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনে সার্কেল চীফগণ স্থায়ী বাসিন্দার সনদপত্র প্রদান করতে পারবেন মর্মে কোন বিধান দেয়া হয়নি। এ উপধারা দুটির বিধাান এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পষ্ট। এছাড়াও বর্ণিত আইনে নির্বাচন ব্যতীত অন্যান্য প্রয়োজনে স্থায়ী বাসিন্দার সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের ক্ষমতা রদ করা হয়নি।’

তিন পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা সনদ প্রদানকারী কর্তৃৃপক্ষ নির্ধারণে বৃহস্পতিবার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক

দগহজচটপ

স্টাফ রিপোর্টার:

তিন পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা নির্ধারণী সার্টিফিকেট কে দেবেন তা নির্ধারণে বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়ের আহ্বানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আহবান করা হয়েছে।

গত ২০ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ে এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে ১৭ ডিসেম্বর বৈঠকটি স্থগিত করা হয়। গত ২৭ ডিসেম্বর বৈঠকটি পুণরায় আহ্বান করা হয়।

 জানা গেছে, গত ২৭ ডিসেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ের লিজিসলেটিভ বিভাগ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা সনদপত্র প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ বিষয়ক একটি মতবিনিময় সভা ৭ জানুয়ারী তারিখ দিয়ে আহ্বান করে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নুর স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা সনদপত্র প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ কে হবেন তা সে বিষয়ে মতামত প্রদানের জন্য লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগকে অনুরোধ করেছে। উক্ত বিষয়ে Chittagong Hill Tracts Mannual- 1900, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯ এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯-সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনে বর্ণিত আইনগত অবস্থা পর্যালোচনাক্রমেপার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা সনদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ নির্ধারণের নিমিত বৃহস্পতিবার এই বৈঠক আহ্বান করা হয়।

সংসদ ও লেজিসলেটিভ বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার জন্য মন্ত্রী পরিষদ সচিব, আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান, জন প্রশাসন সচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, তিন পার্বত্য জেলা প্রশাসক প্রমুখদের পত্র পাঠানো হয়।

মিটিং এ অংশগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে তিন পার্বত্য জেলা থেকে অংশগ্রহণকারীরা রাজধানীতে এসে অবস্থান করছেন।

এদিকে আইনে মিমংসিত একটি বিষয় নিয়ে হঠাৎ করে রিভিউয়ের মিটিং ডাকার বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নড়ে চড়ে বসে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংশ্লিষ্ট মহল ও সরকারী গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উর্দ্ধতন পর্যায়ে বিষয়টি আলোচিত হয়। এই বিষয়টি নিয়ে তিন পার্বত্য জেলার বাঙালিদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক। স্থায়ী বাসিন্দা সনদ দেয়ার একমাত্র কর্তৃত্ব সার্কেল চীফদের হাতে দেয়ার জন্য এ তৎপরতা শুরু হয়েছে মনে করাই- এই আতঙ্কের কারণ।

পার্বত্যনিউজে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

উল্লেখ্য আইন মন্ত্রণালয় থেকে ২০০২ সালের ২১ অক্টোবর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের দ্বিতীয় প্যারাগ্রাফে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে,‘তিন পার্বত্য জেলার অধিবাসীদের স্থায়ী বাসিন্দার সনদ কোন কর্তৃপক্ষ প্রদান করবেন সে বিষয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ১৯৮৯ ও উহার সংশোধনীতে (১৯৯৮ সালে জারীকৃত) কোন বিধান করা হয়নি। পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯ এর ধারা ৪ এর উপধারা (৫) ও (৬) এ পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নির্বাচনে প্রার্থীতার ক্ষেত্রে কোন প্রার্থী উপজাতি বা অ-উপজাতি কিনা সে বিষয়ে প্রত্যয়নের ক্ষমতা সার্কেল চীফগণকে প্রদান করা হয়েছে। আলোচ্য আইনে বা আইনের ৪ ধারার (৫) ও (৬) উপধারায় চাকুরীক্ষেত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনে সার্কেল চীফগণ স্থায়ী বাসিন্দার সনদপত্র প্রদান করতে পারবেন মর্মে কোন বিধান দেয়া হয়নি। এ উপধারা দুটির বিধাান এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পষ্ট। এছাড়াও বর্ণিত আইনে নির্বাচন ব্যতীত অন্যান্য প্রয়োজনে স্থায়ী বাসিন্দার সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের ক্ষমতা রদ করা হয়নি।’

অন্যদিকে ব্রিটিশ আমলে প্রণীত চিটাগাং হিল ট্রাক্টস রেগুলেশন ১৯০০ কে বাংলাদেশের সংবিধানে আত্মীকরণ করা হয়নি। পার্বত্য জেলা পরিষদ সমূহ আইন ১৯৮৯ এ চিটাগাং হিল ট্রাক্টস রেগুলেশন ১৯০০ কে রহিত করা হয়েছে। তাছাড়া হাইকোর্টের এক রায়েও এই রেগুলেশনকে ডেড ল’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। সেই ঘোষণা আপিলেট ডিভিশনে স্থগিতাবস্থায় বিচারাধীন রয়েছে। সাব জুডিস একটি আইনকে বিবেচনায় কেন আনা হলো তা সংশ্লিষ্টদের বোধগম্য নয়।

অন্যদিকে রেওয়াজ অনুয়ায়ী আইনী মতামত চেয়ে কোনো আবেদন আইন মন্ত্রণালয়ে আসলে আইন মন্ত্রণালয় তা দিয়ে থাকে। প্রয়োজনে তারা সলিসিটরের মতামত নেন। তিনিও যথেষ্ট মতামত দিতে না পারলে এটর্নি জেনারেলের মতামত নেয়া হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয় রেওয়াজ ভেঙ্গে কেন আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ডাকলেন তা এক বিরাট প্রশ্ন?

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতামত নেয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগের সচিব মো, শহিদুল হকের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি।