সপরিবারে ইসলাম গ্রহণ করলেন ঢাবি হলের কর্মচারী

image_84968_0

ডেস্ক নিউজ:

স্ত্রী, দুই সন্তান, ভাই এবং শ্বশুর-শাশুড়িসহ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের কর্মচারী রাজু লাল। সম্প্রতি তিনি স্বেচ্ছায় হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্মান্তরিত হয়ে তিনি রাফাত হোসেন নাম গ্রহণ করেছেন।

এ উপলক্ষে শনিবার দুপুরে হলের ভেতরে ‘কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ উদ্যোগে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে এ তথ্য জানানো হয়।

মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন- ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু, হল ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক দিদার মো. নিজামুল ইসলাম, হলের সাবেক ছাত্র রুবেল ও ফাহাদ, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন দুলাল, সাধারণ সম্পাদক মো. রোস্তম আলম সরকার।

রাফাত হোসেন বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে সপরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি প্রখ্যাত ভারতীয় ইসলাম প্রচারক ডা. জাকির নায়েকের ভক্ত। তার বক্তব্যের অনেকগুলো সিডির সংগ্রহ তার কাছে রয়েছে এবং তিনি নিয়মিত সেগুলো শোনেন। এসব শুনতে শুনতেই তার মধ্যে এ ভাবান্তর হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
 
হলের অন্য কর্মাচারীরা জানান, তিনি বিভিন্ন ইসলামি বিষয়ে জানতে জানতে এ ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

চাকমা, মারমা, ত্রিপুরারা ভারতীয় বংশোদ্ভূত!

kk

ডেস্ক নিউজ:

মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা নৃ-গোষ্ঠী ভারতীয় বংশোদ্ভূত। ভারতের উত্তরপূর্বাংশ বা দক্ষিণপূর্ব এশীয় তিব্বতি-বার্মা ভাষীদের চেয়ে তিব্বতি-বার্মা ভাষাভাষী এসব বাংলাদেশিদের মধ্যে ভারতের মূল ভূখণ্ডের উচ্চভূমিতে বসবাসকারী ভারতীয়দের পূর্বপুরুষদের যথেষ্ট উপাদান বিদ্যমান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর) ও সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি (সিসিএমবি) এর একটি যৌথ গবেষণায় এ তথ্য  বেরিয়ে এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নুরুন নাহার গাজী সুলতানা ও   সিএসআইআরের কুমারাস্বামী থাঙ্গারাজের নেতৃত্বাধীন এ গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘পিএলওএস ওয়ান’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

সিএসআইআর-সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলেকিউলার বায়োলজি (সিসিএমবি)-এর কুমারাস্বামী থাঙ্গারাজ বলেন, আমরা বাংলাদেশের প্রধান তিনটি নৃ-গোষ্ঠীর (চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা) বংশগতি নিয়ে বিস্তর বিশ্লেষণ চালিয়েছি যারা তিব্বতি-বার্মা ভাষা বর্গের একটি  শাখা ভাষা কথা বলেন। ভারত ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় বসবাসকারী তিব্বতি-বার্মাভাষীদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে তাদের তথ্যের তুলনা করেছি। আমরা দেখতে পেয়েছি যে, ভারতের উত্তরপূর্বাংশ বা দক্ষিণপূর্ব এশীয় তিব্বতি-বার্মা ভাষীদের চেয়ে তিব্বতি-বার্মা ভাষাভাষী এসব বাংলাদেশিদের মধ্যে ভারতের মূল ভূখণ্ডের উচ্চভূমিতে বসবাসকারী ভারতীয়দের পূর্বপুরুষদের যথেষ্ট উপাদান তাদের মধ্যে বিদ্যমান।

উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, সিনো-তিব্বতীয় ভাষা পরিবারের একটি ভাষা হচ্ছে তিব্বতো-বার্মা ভাষা। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার উচুভূমিতে ও মায়ানমারের (পূর্বে বার্মা নামে পরিচিত ছিল) নিম্নভূমিতে তিব্বতো-বার্মা বর্গের ৪০০টি ভাষা প্রচলিত। প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ বার্মিজ ভাষায় ও ৮০ লাখ মানুষ তিব্বতি ভাষা কথা বলে।

নুরুন নাহার ‍গাজী সুলতানা ও থাঙ্গারাজের নেতৃত্বে বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো বংশগতির সকল উপাদান (মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ, ওয়াই ক্রোমোজোম ও অটোজম) ব্যবহার করে বাংলাদেশের নৃ-গোষ্ঠীগুলোর উদ্ভব ও সাদৃশ্যে নিয়ে গবেষণা চালালেন।

বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল পূর্ব ভারত, উত্তর ও পূর্বাঞ্চল উত্তরপূর্ব ভারত দিয়ে ঘেরা। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল কিছুটা মায়ানমারের সীমান্তের সঙ্গে লাগোয়া। কুমারাস্বামী থাঙ্গারাজ বলেন, বাংলাদেশের ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থানই তুলে ধরে যে, এটি (বাংলাদেশ) ভাষা সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল।

তিনি জানান, বাংলাদেশের চতুর্দিকে বাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের ওপর পুরোপুরিভাবে গবেষণা চালানো হলেও উপকূল ও চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী নৃ-গোষ্ঠীগুলোর উদ্ভব ও সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা চালানো হয়নি। ভারত ও মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসব নৃ-গোষ্ঠীর স্থানান্তর সম্পর্কেও বলা হয়েছে তাদের গবেষণায়।

দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশীয় জনগণের ওপর চালানো বংশগতি গবেষণাটিতে দেখা গেছে, দক্ষিণপূর্ব এশিয়া থেকে ভারতে খুব সম্প্রতি তিব্বতো-বার্মাভাষীদের বিস্তরণ হয়েছে।

সূত্র: বাংলানিউজ