টেকনাফে তিন লাশ উদ্ধার

টেকনাফ প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের টেকনাফে একদিনে তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়-১০ মার্চ রাত ১টা ৫০ মিনিটে  উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সাতঘরিয়া পাড়া শিয়াইল্ল্যা পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মহেশখালীয়া পাড়া এলাকার শাহ আলমের পুত্র আব্দুর রহমান(২৩)  নামে এক মাদক পাচারকারী নিহত হয়েছে।

এসময় ঘটনাস্থল তল্লাশী করে ৩ হাজার ইয়াবা, ১টি দেশীয় তৈরি এলজি,৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ,৬ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে একইদিন সকালে হ্নীলা নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইসি কবির হোসেনের নেতৃত্বে খোলা মাঠে পরিত্যক্ত অবস্থায় ই-ব্লকের এমআরসি নং-৭০৩০, শেড নং-৯৪১-এর ২নং রুমের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের পুত্র নুর কবির (৫০) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে।

উদ্ধারকারী কর্মকর্তা জানান- নিহত ব্যক্তির চোখের পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, নিহত ব্যক্তি মাদক কারবারী।

অপরদিকে ১১ মার্চ সকালে সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ সিকান্দার আলীর নেতৃত্বে সমুদ্র সৈকত এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির  মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করেছে। তিনি জানান- লাশের গায়ে পচন ধরেছে ।

এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান- ইয়াবা পাচারের গোপন সংবাদ পেয়ে পুলিশ সদস্যরা অভিযানে গেলে মাদক কারবারী পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষন করে পুলিশ সদস্যরাও আত্বরক্ষার্থে পাল্টা গুলি করে এতে এক মাদক পাচারকারী গুলিবিদ্ধ হয়।

এরপর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। ঘটনাস্থল তল্লাশী করে ৩ হাজার ইয়াবা, ১টি দেশীয় তৈরি এলজি, ৩রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৬ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন নিহত হওয়া লাশ গুলো উদ্ধার করে কক্সবাজার মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।

বন্দুকযুদ্ধে টেকনাফে এক মাদক কারবারী নিহত

বিশেষ  প্রতিনিধি, কক্সবাজার:

বন্দুকযুদ্ধে টেকনাফে এক মাদক কারবারী নিহত হয়েছে। ১০ মার্চ গভীর রাতে পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ওই মাদক পাচারকারী আব্দুর রহমান নিহত হয়েছে বলে জানাগেছে।

নিহত মাদক পাচারকারী টেকনাফ উপজেলা হোয়াইক্যং ইউনিয়ন মহেশখালীয়া পাড়া এলাকার শাহ আলমের পুত্র আব্দুর রহমান(২৩)।

জানা যায়, রবিবার (১০ মার্চ) গভীর রাতে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন সাতঘরিয়া পাড়া শিয়াইল্লা পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় মাদক পাচারে জড়িত অপরাধী চক্রের সাথে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল তল্লাশী করে ওইএলাকার শাহ আলমের পুত্র আব্দুর রহমান(২৩), ৩ হাজার ইয়াবা, ১টি দেশীয় তৈরি এলজি, ৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৬ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

টেকনাফে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় বাবা-মেয়ে গুরুতর আহত

নিজস্ব প্রতিনিধি

টেকনাফে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় পিতা ও মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।

টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড উত্তর আলিখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় ২ জনকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩১ জানুয়ারী দুপুরে আব্দুস শুক্কুরের ছেলে নুর আলম প্রকাশ ওরফে ইয়াবা আলম ও তার ছেলে নুর মোহাম্মদের নেতৃত্বে মৃত আব্দুর রহমান ও মৃত আয়েশা খাতুনের পুত্র মকবুল আহমদ (৬০) এবং তার মেয়ে রাশেদা বেগম (১৮) এর উপর হামলা চালায়। হামলায় দু’জন গুরুতর আহত হয়।

স্থানীয়রা ঘটনাটি প্রশাসনকে অবহিত করলে টেকনাফ মডেল থানার ওসি (অপারেশন) শরিফুলের নেতৃত্বে এসআই মসিউর রহমান, বোরহান উদ্দিন, আমির ফোর্সসহ এবং সেনাবাহিনীর টীম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহতদেরকে উদ্ধার করে টেকনাফ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

আহতদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে টেকনাফ হাসপাতাল থেকে কক্সবাজার প্রেরণ করা হয়। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। হামলায় বৃদ্ধ মকবুল আহমদের (৬০) বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানা যায়।

এদিকে যৌথ অভিযান চালিয়ে পুলিশ নুর আলম প্রকাশ ওরফে ইয়াবা আলমকে আটক করতে না পারলেও তার ছেলে নুর মোহাম্মদ (১৯) এবং স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমকে (৪২) আটক করে।

এলাকাবাসী জানান, গুরুতর আহত মকবুল আহমদ এর পরিবারকে তারা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছে। এমনকি তাদের এক ছেলেকে প্রকাশ্যে উল্লাস করে হত্যা করেছে। এলাকায় তারা কারও বিচার মানে না। সম্প্রতি এ ঘটনায় থানা, পুলিশ ও সেনাবাহিনী অনেক চেষ্টা করেছে মিমাংসা করার জন্য। কিন্তু ইয়াবা আলম বাহিনী সেই বিচার মানে না।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট দিনদুপুরে আহত মকবুল আহমদের পুত্র নুরুল ইসলাম কে পিটিয়ে হত্যা করে এই চিহ্নিত ইয়াবা সিন্ডিকেট ও সন্ত্রাসী ইয়াবা আলম বাহিনী। ইয়াবা ব্যবসায়ী আলম সেই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী এবং তারা একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় নুরুল আলম প্রকাশ গুটি আলম ও শামশুল আলম প্রকাশ আটা ভাই এজাহারভুক্ত আসামি।

টেকনাফে পর্যটকবাহী বাস থেকে ৮ হাজার ইয়াবাসহ আটক-৩

টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফ উপজেলার মেরিনড্রাইভ এলাকা থেকে পর্যটকবাহী (জে.বি.ডিলাক্স) নামে একটি বাস তল্লাশী চালিয়ে ৮ হাজার ইয়াবাসহ ৩ পাচারকারীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা।

আটককৃতরা হলেন-বগুড়া জেলার ধুনট থানার কলাপাড়া আরকাটিয়া গ্রামের আবুল কাশেম মন্ডলের ছেলে গাড়ি চালক মো. মনজিল আলম, বগুড়া পৌরসভার মধ্যম পাড়ার বকড়োপুর এলাকার মৃত মনির উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে বাসের হেলপার মো. বকুল প্রামানিক, টেকনাফ সদরের মহেষখালীয়া পাড়ার নবী হোসেনের ছেলে মো. আব্দুর রহিম। এসময় মহেষখালীয়া পাড়া এলাকার লাল মিয়ার ছেলে মো. ইসমাইল পালিয়ে গেছে বলে জানান অভিযানকারীরা।

বৃহস্পতিবার(৩১ জানুয়ারি) বিকাল ৪টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কের শীলখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ তাদেরকে আটক করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয় সহকারী পরিচালক সোমেন মন্ডল জানান, পর্যটকবাহী গাড়িতে করে ইয়াবা পাচারের গোপন সংবাদে  অভিযান  চালিয়ে ৮ হাজার ইয়াবাসহ ৩ পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। এসময় ইসমাইল নামে এক পাচারকারী পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টেকনাফ সার্কেল উপপরিদর্শক আবদুস সালাম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ ধারায় টেকনাফ মডেল থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও’র চাকরিতে স্থানীয়দের নিয়োগসহ ১৪ দফা দাবীতে বিক্ষোভ

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

উখিয়া-টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওর চাকরিতে স্থানয়ীদের অধিকার আদায়ের ১৪ দফা দাবি নিয়ে আবারো বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় চাকরিচ্যুত ও চাকরি বঞ্চিতরা ।

শনিবার(২৬ জানুয়ারি)বিকাল ৩ টায় উখিয়ার কোটবাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করে তারা।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে পথসভায় অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়ার নেতারা বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও সংস্থা গুলোকে স্থানীয়রা গত দেড় বছর ধরে চাকরিতে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলে আসছিল। কিন্তু এনজিওগুলো স্থানীয়দের দাবি কোনো ধরনের কর্ণপাত না করে বরাবরই স্থানীয়দের বঞ্চিত করে আসছেন।

সম্প্রতি স্থানীয় ছেলে-মেয়েদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করে চরম অবমূল্যায়নের বার্তা দিয়েছেন এসব এনজিও। যা উখিয়ার সচেতন মানুষ কোনো ভাবেই মেনে নিবে না। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক, এএসপি, আরআরআরসি, এনজিও সংস্থা ডিআরসি, হ্যান্ডিক্যাপ, টিডিএইচ, ফ্রেন্ডশিপ, রিক, মুসলিম এইড, কোস্ট, ডিএসকে, প্লান, টিডিএইচ, কনসার্ন, ব্র্যাক ও অক্সফার্ম-সহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থার অফিসে স্মারকলিপি/অনুলিপি দিয়েছেন আন্দোলনরত অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি, উখিয়া।

আন্দোলনকারীরা স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদেশি এনজিও কর্মকর্তাদের পরিবর্তে বাংলাদেশি যোগ্যতা সম্পন্নদের আইএনজিওতে অগ্রাধিকার দেয়ার দাবি জানান।

২৭ তারিখের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তাদের সকল দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় আন্দোলনের মাধ্যমে সকল দাবি আদায়ে এনজিওদের বাধ্য করা হবে বলে ঘোষণা দেন।

এসময় পথসভায় বক্তব্য রাখেন- অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির অহ্ববায়ক শরীফ আজাদ, মনজুর আলম শাহীন, রাশেদুল ইসলাম, তাওচীপ চৌধুরী, রাসেল মাহমুদ, যোবায়েত হোসেন, হেলাল উদ্দিন, মফিদুল আলম প্রমুখ।

আন্দোলনকারীদের ১৪ দফা দাবিগুলো হলো:

১। সরকারের নির্দেশনা অনুসারে রোহিঙ্গা এনজিওর চাকরিতে স্থানীয়দের ৭০% কোটা দিতে হবে।

২। স্থানীয়দের পরিকল্পিত ছাঁটাইকারী এনজিওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩। এনজিও ও আইএনজিওতে প্রত্যেক বিভাগের উচ্চ পদে নুন্যতম ২ জন স্থানীয়কে চাকরি দিতে হবে।

৪। যে সকল এনজিও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ঐ সকল এনজিও তাদের পরবর্তী প্রকল্পে পূর্বের প্রকল্পের স্থানীয়দের চাকরিতে বহাল রাখতে হবে।

৫। নিয়োগের কার্যক্রমে সচ্ছতা আনতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের প্রতিনিধি একটি মনিটরিং সেল করতে হবে।

৬। এনজিওরা রোহিঙ্গাদের জন্য প্রাপ্ত অনুদানের ৭০ ভাগ অপারেটিং খরচ হিসেবে ব্যয় করে এতে রোহিঙ্গারা ও স্থানীয়রা তাদের ন্যায্য অনুদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই এনজিওদের এসকল দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত বিদেশি কর্মকর্তারা নূন্যতম ৫ লক্ষ টাকা বেতন পাচ্ছে সেক্ষেত্রে একজন স্থানীয় বেতন ১০-১৫ হাজার টাকা। এনজিওতে চাকরিতে বেতন বৈষম্য দূর করতে স্থানীয়দের নূন্যতম বেতন ৫০ হাজার টাকা করতে হবে।

৮। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত ১৩শ বিদেশি কর্মকর্তার বেতন ও আনুসাঙ্গিক খরচ মিলে ২শ কোটি টাকার বেশি অর্থ খরচ করছে। এ সকল বিদেশি কর্মকর্তার স্থলে দেশীয় যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের চাকরি দিতে হবে।

৯। বিদেশি এনজিওরা মোট বরাদ্দের ৯০ ভাগের বেশি অনুদান পাচ্ছে এবং এ সকল অনুদান বিভিন্ন কৌশলে আবার বিদেশে চলে যাচ্ছে। দেশ থেকে অর্থ পাচাররোধে টঘ সংস্থাগুলো ছাড়া সকল বিদেশি এনজিওদের ফেরত পাঠাতে হবে। বিদেশি এনজিওদের স্থলে দেশীয় এনজিওদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

১০। প্রতিমাসে সকল এনজিওকে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর স্থায়ী ঠিকানাসহ তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

১১। দক্ষতা অর্জনের জন্য স্থানীয়দের উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

১২। এনজিওতে চাকরির জন্য প্রতিটি অফিসে সরাসরি আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে।

১৩। মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের উৎসাহিত করতে এনজিওদের বিশেষ কর্মসূচি নিতে হবে।

১৪। প্রত্যাবাসন বিলম্ব হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো কাটাতারের বেষ্টনী দিয়ে রোহিঙ্গা সুনির্দিষ্ট গণ্ডির ভিতর রাখার প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

টেকনাফে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ইয়াবা কারবারী নিহত, অস্ত্র উদ্ধার

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার:

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ২ জন নিহত হয়েছে। এদের দু-জনই মাদক কারবারী বলে জানাগেছে।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বিদেশি অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার(২৪ জানুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে সাবরাং ইউনিয়নের উপকূলীয় বাহারছড়া মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন বীচ এলাকায় মাদক কারবারী ও র‌্যাবের সাথে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিচয় অজ্ঞাত দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। পরে হাসপাতালে তারা মারা যায়।

র‌্যাব টেকনাফ ক্যাম্প কমান্ডার লে. মির্জা শাহেদ মাহতাবের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল থেকে আহত দুই মাদক কারবারী ও বিদেশি পিস্তল ২টি, ম্যাগজিন-২, দেশীয় এলজি-১, গুলি ৪ রাউন্ড, খালি খোসা ৬ রাউন্ড, ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে।

এদের টেকনাফ উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত আহতদের পরিচয় উদঘাটন হয়নি।

টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ মাদক কারবারী নিহত

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ এক মাদক কারবারী নিহত হয়েছে। নিহতের নাম মো.শামশুল প্রকাশ বার্মায়া শামশু।

সোমবার(২১ জানুয়ারি)ভোরে টেকনাফ হ্নীলা ইউয়নের দমদমিয়া এলাকায় তাকে নিয়ে ইয়াবা উদ্ধারের জন্য গেলে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

২১ জানুয়ারি সকালে এ তথ্য জানিয়েছেন টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস।

শামশুল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা মাদক কারবারী এবং তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রসহ ১০টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। শামশু  হ্নীলা পূর্ব সিকদার পাড়া এলাকার মো.হোসেনর ছেলে। তার পূর্ব পুরুষ মিয়ানমারে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, রবিবার শামশুকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তাঁর কাছে ইয়াবা মজুদ আছে। পরে রাতে তাকে নিয়ে পুলিশের  একটি টিম টেকনাফের দমদমিয়া চেকপোস্ট সংলঘ্ন কাছাকাছি এলাকায় ইয়াবা উদ্ধারে গেলে শামশুর দলের লোকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এসময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশও ৪০ রাউন্ড গুলি চালায়। পরে তারা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শামশুকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।  এরা হলেন, এসআই রাসেল, এএসআই মো. ফয়েজ ও মো. আমির। তাদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি জানান, ইয়াবা অভিযানে গোলাগুলিতে এক শীর্ষ ইয়াবা কারবারী নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ২০ হাজার ইয়াবা, ২টি দেশীয় তৈরী বন্দুক ও ১২ রাউন্ড গুলি এবং গুলির খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ কক্সবাজার মর্গে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে তালিকাভুক্ত মাদক কারবারী নিহত

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

টেকনাফে বিজিবির মাদক বিরোধী অভিযানে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় আহত মাদক ব্যবসায়ী মুছু(৩৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এ অভিযানে ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার করেছে বিজিবি।

টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আছাদুদ-জামান চৌধুরী জানান, রবিবার (২০ জানুয়ারি) ভোররাত ২টায় টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নে কর্মরত নায়েক হাবিল উদ্দিনের নেতৃত্বে বিজিবি-পুলিশের পৃথক দু’টি টহল দল ইয়াবাসহ আটক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ী পৌর এলাকার উত্তর জালিয়া পাড়ার মৃত জাকির হোসেনের পুত্র মোস্তাক আহমদ মুছুকে নিয়ে তাঁর আস্তানায় অভিযানে গেলে তাঁর গ্রুপের লোকজন পুলিশ-বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এতে বিজিবির সদস্য সিপাহী আব্দুল আউয়াল (২৪), ল্যান্সনায়েক আব্দুল আলিম (২৮) ও পুলিশ সদস্য আল আমিন (২১) আহত হলে পুলিশ-বিজিবি পাল্টা গুলিবর্ষণ করে।

কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি শান্ত হলে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুছুসহ ১০ হাজার ইয়াবা, ১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও খোসা উদ্ধার করে। মুছুকে টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। পরে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক, এই মাদক বিরোধী অভিযান ও বন্দুকযুদ্ধ এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

টেকনাফে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

টেকনাফে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুইজন নিহত হয়েছে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি দেশীয় বন্দুক ও ২২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার(১০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ২টায় টেকনাফের সাবরাং খুরের মুখ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, সাবরাং কচুবনিয়ার এলাকার মৃত এনাম শরীফের পুত্র আবদুর রশিদ প্রকাশ ধলাইয়া (৪৭) ও কাটাবনিয়ার আবদুর রহমানের পুত্র আবুল কালাম (৩৫)। নিহত দুজনই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ বলছে, বন্দুকযুদ্ধে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এসময় টেকনাফ থানার এসআই বোরহান উদ্দীন, এএসআই ফরহাদ ও কনস্টেবল হৃদয় আহত হয়েছেন। তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, নিহত দু’জন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। নিহত আবুল কালামের বিরুদ্ধে মাদক ও মানবপাচারসহ ১০টি এবং আবদুর রশিদের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

টেকনাফের শুক্কুর স্যার আর নেই

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার:

টেকনাফর প্রবীণ শিক্ষাবিদ মাস্টার আব্দুশ শুক্কুর আর নেই।

বুধবার(৯ জানুয়ারি) সকালে তিনি টেকনাফের নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি……..রাজিউন)।

আজ বাদ এশা টেকনাফ বাজার সংলগ্ন ঈদগাহ ময়দানে মরহুমের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে।

মরহুম মাস্টার আবদুশ শুক্কুর টেকনাফ উচ্চবিদ্যালয় ও উখিয়া উচ্চবিদ্যালয়সহ নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ছোট বড় সকলের কাছে শুক্কুর স্যার বলে পরিচিত। অত্যন্ত বিনয়ী ও মিষ্টভাষী ছিলেন শুক্কুর স্যার।

চট্টগ্রাম মেডিকেলের প্রখ্যাত শিশু চিকিৎসক প্রফেসর ডাক্তার রেজাউল করিম মরহুমের বড় ছেলে।

অপর ছেলে সোহাগ ও রাসেল। তাঁরা এলাকায় থাকেন।