বাঘাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বড়ঋষি চাকমা গ্রেফতার

%e0%a6%ac%e0%a7%9c-%e0%a6%8b%e0%a6%b7%e0%a6%bf-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%ae%e0%a6%be

নিজস্ব প্রতিবেদক:

একাধিক হত্যা মামলার আসামী রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বড় ঋষি চাকমাসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এর চার নেতাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার রাঙামাটি জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রোকন উদ্দিন কবির এর আদালতে বাঘাইছড়ি থানায় দায়ের করা অবসর প্রাপ্ত সার্জেন্ট মুকুল চাকমা হত্যা মামলায় আত্মসমর্পন করে জামিন চাইলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে আসামীদের জেল হাজতে প্রেরণ করে।

বাকি আসামীরা হলেন উপজাতীয় আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি প্রভাত কুমার চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক ত্রিদিপ কুমার চাকমা (প্রকাশ দীপ) এবং সার্বাতলী ইউপি মেম্বার অজয় চাকমা।

উল্লেখ্য গত ৩০ মে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মুকুল চাকমা অপহৃত হয়। তার বাড়ি রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির মারিস্যায়। সাবেক সেনা সার্জেন্ট হওয়ার কারণে স্থানীয় জেএসএস’র তার প্রতি অভিযোগ ছিলো, ‘তিনি সেনাবাহিনীর পক্ষে কাজ করেন। সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেন’।

গত ২৩ জুন সরেজমিন পরিদর্শনে মুকুল কান্তির মেয়ে নমিসা চাকমার সাথে কথা বলেছিলেন পার্বত্যনিউজের প্রতিনিধিসহ ঢাকা থেকে যাওয়া একটি সাংবাদিক টিম। নমিসা চাকমা মিডিয়া টিমকে বলেন, ‘জেএসএস’র লোকজন বাবাকে সন্দেহ করতো। তারা ভাবতো তাদের অপকর্মের সব তথ্য বাবা সেনাবাহিনীকে দিয়ে দেয়।’ আর একারণেই গত ৬ মে বাড়ির কাছেই বসেই মুকুল কান্তিকে মারধর করে স্থানীয় জেএসএস নেতা বিস্তার চাকমা। এই ঘটনার পর মুকুলবাড়ি ছেড়ে খাগড়াছড়ি গিয়ে থাকতেন।

risi-chakma-rangamati-bagha-copy

মুকুল কান্তির স্ত্রী সাধনা চাকমা মিডিয়া টিমকে বলেন, গত ৩০ মে বিকেলে মোবাইলে ফোন করে তার স্বামীকে ডেকে নেয় প্রভাত কুমার চাকমা ওরফে কাকলি বাবু। সে জেএসএস উপজেলা কমিটির সভাপতি বলে জানান সাধনা। তিনি বলেন, ৬ মেযে মারধর করা হয়েছিলো তার একটি মিট মিমাংসার কথা বলে তার স্বামীকে ডাকা হয়। তাকে ডেকে উগছড়ির লাইল্যেঘোনার বক্কা চাকমার দোকানে নেয়া হয়। সেখান থেকে মুকুল একবার তার স্ত্রীকে ফোন করে বলেন, সেখানে প্রভাত চাকমা, আবিস্কার চাকমা, ত্রিদিব চাকমা এবং বিস্তার চাকমা আছে। তাদের সাথে তিনি কথা বলছেন।

৩০ মে রাত সাড়ে ৮ টার দিকে এই কথা হয়। ফিরতে দেরী হওয়ায় সাধনা রাত ৯ টার দিকে আবারো তার স্বামীকে ফোন দেন। কিন্তু এবার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। রাতে আরো কয়েকবার ফোন দিয়েছেন, কিন্তু মোবাইল বন্ধ। সেই থেকেই নিখোঁজ মুকুল। তিন/চারদিন পরে একবার ফোনটি খোলা পাওয়া গিয়েছিলো, কেউ ফোন ধরেনি। তারপর থেকে আর কোন সংযোগ মেলেনি। এদিকে, ঘটনার পর বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। থানা পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করতে থাকে।

নমিসা চাকমা বলেন, ওসি সরাসরি বলে দেন, ‘ওরা হলো সম্রাট। ওদের সাথে পারবা না। ওদের সাথে ঝামেলা করো না। মামলা করো না। মামলা করার যখন সময় হবে তখন বলবো।’ থানায় গেলে এই বলে প্রতিবারই বিদায় করে দেয়া হয় সাধনা চাকমা এবং তার মেয়েকে। শেষ পর্যন্ত এই পরিবার ২০ জুন একটি সাধারণ ডায়েরী করতে সক্ষম হন। এরপরও তারা অসংখ্যা বার মামলা করতে গেলে পুলিশ তাদেরকে নানা কথা বলে বিদায় করে দেয়। সাধারণ ডায়েরী করার পরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকেও হুমকী দেয়া হয়।৪/৫ জন মুখোশধারী লোক তাদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসে। এরপর পরিবারের সদস্যরা অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নেন।

নাসিরাবাদ মহিলা কলেজের অনার্সের ছাত্রী নমিসা চাকমা গত ২৩ জুন মিডিয়া টিমকে আরো বলেন, তার মা এবং তারা দুই বোন এখন আর বাড়িতে যেতে পারছেন না। তাদের কোনই নিরাপত্তা নেই। এদিকে, গত ৩ জুুলাই বিকেলেও সার্জেন্ট মুকুলের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় এই ঘটনায় পুলিশ মামলা নেয় নি। তবে ১ মাস পর পুলিশ নমিসা চাকমার দায়ের করা পুরাতন মামলা এজহার হিসাবে গ্রহণ করে পূর্বের তারিখে।

মুকুল কান্তি চাকমার মেয়ে নমিসা চাকমা বাদি হয়ে দায়ের করা এই মামলার তারিখ ৪/৭/২০১৬। মামলার নং- জি আর ২৩৭/১৬। মামলায় বড়ঋষি চাকমাসহ ৮ জনকে আসামী করা হয় যার ১ নম্বর আসামী ছিলেন বড় ঋষি চাকমা। উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তী জামিনে ছিলেন তিনি। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার রাঙামাটির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকন উদ্দীন কবিরের আদালতে আত্মসমর্পন করেন বড় ঋষি চাকমাসহ ৪ জন।  আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর না করে ৪ জনকেই জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বড়ঋষি চাকমার নামে আরো একটি হত্যা রয়েছে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা থানায়। এই মামলাটি একটি হত্যা মামলা। যার নাম্বর হলো-৫, তারিখ ২০/০৯/২০১২ । ধারা-৩০২/৩৪ জিআর ২৮৩/২০১২।

দীঘিনালা উপজেলার ইউপিডিএফ এর তৎকালীন সমন্বয়ক কিশোর চাকমা বাদী হয়ে মোট ১১জনকে আসামী করে এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

বান্দরবানে চলছে জেএসএসের চাঁদাবাজির মহোৎসব(ভিডিও)

চাঁদাবাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বান্দরবানে সন্তু লারমার নেতৃতাধীন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) নীরবে চলছে চাঁদাবাজির মহোৎসব। জেলার সাত উপজেলার শহরের বাইরে মুদি দোকান, কাট ব্যবসায়ী, ঠিকাদার,কৃষক, শ্রমিক, যানবাহন মালিক, সবাইকে চাঁদা দিয়ে নিজ নিজ পেশায় টিকে থাকতে হয়। শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যই নয়, স্থানীয় উৎপাদিত কৃষিপণ্য এলাকার বাহিরে নিতে গেলেই জেএসএস সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে হয়।

এর আগে ব্যবসায়ীদের প্রকার ভেদে চাহিদা মত টাকা দিয়ে বাৎসরিক টোকেন নিতে হয়। অন্যথায় তাদের উপর নেমে আসে অপহরণের হুমকি ও শারীরিক নির্যাতন। ব্যবসা চালানো ও নিরাপত্তার কথা ভেবে নীরবে চাঁদা দিয়ে আসছে পাহাড়ের ব্যবসায়ীরা। জেএসএস’র চাঁদা যেন বৈধতা পেয়ে গেছে পাহাড়ে। প্রশাসন যেন সন্ত্রাসীদের বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয়দের অভিমত।

স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও এলাকাবাসীর সূত্র জানায়, গত অর্থ বছরে সাত উপজেলার ব্রীক ফিল্ড, কাঠ ব্যাবসায়ী থেকে প্রতি ঘন ফুটে ৩৫ টাকা, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান থেকে ১০%, লাকড়ি ব্যবসায়ী, বাঁশ ব্যবসায়ী, তামাক চাষীদের থেকে প্রতি কানি (৪০শতক) ১৪ হাজার টাকা, বাস, জীপ, ট্রাক প্রকার ভেদে ৮ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

আর কাঠ কাঁটা মাঝি, কাঠের চালির মাঝি, মাছ ধরার জেলে, বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী থেকে বাৎসরিক টোকেন নিতে হয়। এছাড়া কলা, আদা, মরিচ, ধান, , হলুদ, আনারস, লেবু, কমলা, কুমড়াসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য বাজার জাত করা কালে গরিব পাহাড়ী কৃষকদের চাঁদা দিতে হয়। এমনকি গবাদিপশু-পাখি বেচাকেনা করতে গিয়েও চাঁদা পরিশোধ করতে হয় স্থানয়িদের। অন্যথায় কোন কিছুই নয়। তবে এক্ষেত্রে পাহাড়ীদের থেকে বাঙ্গালীদের চাঁদার পরিমান একটু বেশী। আর চাঁদা আদায়ের দায়ীত্ব থাকে সশস্ত্র গ্রুপগুলো।

গোয়েন্দা সূত্র মতে, তিন পার্বত্য জেলায় জেএসএস’র পাঁচ হাজার সশস্ত্র বাহিনী রয়েছে। আর এ সশস্ত্র বাহিনী দেশের সেনা বাহিনীর আদলে গড়ে তোলা হয়েছে। এদের মধ্য সিপাহী থেকে শুরু করে মেজর জেনারেল পর্যন্ত রয়েছে। তাদের মাসিক বেতন, রেশন ও নিরাপত্তা ঝুঁকিও দেয়া হয় আদায়কৃত চাঁদার টাকা থেকে।

গোয়েন্দা সূত্র মতে আরো জানা যায়, জেএসএস চাঁদাবাজির মাধ্যমে গত অর্থ বছরে বান্দরবান জেলা থেকে ৩০ কোটি টাকা আদায় করেছে। চলতি অর্থ বছরে এর পরিমান ৫০ কোটি টাকা আদায়ের নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এসব টাকায় তাদের সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ দিতে মিয়ানমার বিদ্রোহী বাহিনী, চীন ও ভারত থেকে অবৈধ অস্ত্র গোলা বারুদ আনা হয়। জেএসএস’র সশস্ত্র বাহিনীর আদায় কারা চাঁদার টাকা দিয়ে অধিকার আদায়ের নামে দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আর বছরের পর বছর নীরবে চাঁদা দিয়ে যাচ্ছেন তিন পার্বত্য জেলার অসহায় মানুষ।

তিন পার্বত্য জেলায় দুর্গম ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পাহাড়ি এলাকা সন্ত্রাসীদের আস্তানা পর্যন্ত পৌঁছা কঠিন। এছাড়া পার্বত্য এলাকায় মোবাইল নেটওর্য়াক থাকায় নিরাপত্তা বাহিনী পৌছাঁর আগেই খবর পেয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নিরাপদস্থলে চলে যায়।

গত মাসে বান্দরবান আইনশৃঙ্খলা সভায় জেএসএস’র সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা থাকায় পুলিশ সুপার আওয়ামীলীগের নেতাদের তোপের মুখে পড়তে হয়। পরে পুলিশ তৎপর হয়ে আ’লীগ নেতা অপহৃরত মংপু মার্মার অপহরণকারী এজাহারভূক্ত কয়েকজন আসামীকে আটক করে। প্রায় দু-মাস হলেও অপহৃরত আ’লীগ নেতাকে উদ্ধার করতে পারেনি।

চাঁদা আদায়ের বিষয়ে বান্দরবান প্রেস ক্লাবে আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং বলেন, দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোও চাঁদা করে। পাহাড়ে সংগঠন চালাতে হলে শুভাকাঙ্ক্ষীদের থেকে চাঁদা নিতে হয়।

১০ হাজারের বেশি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পার্বত্য অঞ্চল

অস্থির পাহাড় দিশেহারা মানুষ (২)

ততততত

আবু সালেহ আকন, পার্বত্যাঞ্চল থেকে ফিরে:

জেএসএস ও ইউপিডিএফের ১০ হাজারের বেশি সন্ত্রাসী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তিন পার্বত্য জেলা। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র বলেছে, এরা সবাই নিজ নিজ সংগঠনের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী। একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীতে যেরূপ পদ-পদবি রয়েছে এই সংগঠন দুটোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও তেমনি পদ-পদবি রয়েছে। তাদের বেতন স্কেলও রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের রয়েছে ঝুঁকি ভাতা।

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ যদি নিহত বা আহত হয় তবে তাদের জন্য রয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ। শুধু পাহাড়ি সন্ত্রাসীরাই নয়, প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে আগত কিছু সন্ত্রাসীও জেএসএস ও ইউপিডিএফের হয়ে কাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্য মতে তিন পার্বত্য জেলায় ১০ হাজারের ওপরে সশস্ত্র সন্ত্রাসী রয়েছে। এদের হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। এদের মধ্যে বান্দরবান উপজেলাতেই রয়েছে পাঁচ হাজারের মতো সন্ত্রাসী। এদের মধ্যে কয়েকজন হলো এস মং ওরফে মেজর আশিষ, মনি চিং মার্মা, কে চিং মার্মা, সিলিপ ত্রিপুরা, ধং চং মার্মা, রাজেন্দ্র ত্রিপুরা, চায়নু মার্মা, হাচিং মার্মা, অঙ্গ মার্মা, কৃষ্ট, রাংকুনু ত্রিপুরা, নিমন্দ্র ত্রিপুরা, ছলেমুল ত্রিপুরা, অতিরাম, র‌্যাংকনো, বিক্রম, জন বাহাদুর, মারুং, সুমন দাস, নিমন্ত্র ত্রিপুরা, হামাজন ত্রিপুরা, লেনছন মেন্ডেলা, অংশৈপ্রু, সরেন্দ্র, নকুল, উইলিয়াম, মনিচিং, চাকনাই মুরং, অং কে জ, জেরী ত্রিপুরা।

কিছু বাঙালি নামের সশস্ত্র সন্ত্রাসীও রয়েছে। নামে বাঙালি হলেও তারা প্রতিবেশী মিয়ানমারের নাগরিক বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে অন্যতম হলো মনছুর রহমান, জাকির হোসেন, শাহ আলম ও আব্বাস উদ্দিন।

চাঁদাবাজী

স্থানীয় সূত্র জানায়, কোথাও কোথাও জেএসএস আবার কোথাও ইউপিডিএফের আধিপত্য পুরো পাহাড়ে। তবে জেএসএস আর ইউপিডিএফ যে-ই হোক তাদের কর্মকাণ্ড সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে চরম আতঙ্কের। বাঙালিদের চেয়েও পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকেরা তাদের কাছে বেশি পণবন্দী।

এর কারণ হিসেবে জানা যায়, বাঙালিরা সাধারণত লোকালয়ে বসবাস করে। শহর কিংবা বাজারের আশপাশে দলবদ্ধ হয়ে এদের বসবাস। আর পাহাড়িরা গহিন অরণ্যে বসবাস করে। অনেক সময় দেখা যায় পাহাড়ের চূড়ায় হয়তো একাকী একটি বাড়িতে বসবাস করছে কোনো পাহাড়ি উপজাতি পরিবার। যে কারণে তাদের সন্ত্রাসীরা সহজেই টার্গেট করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এদের মূল কাজ হচ্ছে চাঁদাবাজি। বিভিন্ন সেক্টর থেকে এরা চাঁদা আদায় করে থাকে। নিবন্ধিত কোনো দল না হলেও পাহাড়ের জেলা উপজেলায় এই দু’টি সংগঠনের দলীয় কার্যালয় রয়েছে। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বছর শুধু বান্দরবান থেকেই জেএসএস ৩০ কোটি টাকার চাঁদা তুলেছে। এ বছর তাদের টার্গেট হলো ৫০ কোটি টাকা। এই দিয়েই দলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, রেশন, অবসরকালীন ভাতা, ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি দেয়া হয়। এ ছাড়া পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো চাঁদার এ অর্থ দিয়ে দেশ-বিদেশে বাঙালি বিদ্বেষী প্রচারণা ও তাদের অস্ত্র ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করার কাজ করে থাকে বলে একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি কর বা ভ্যাটের ন্যায় এখানে প্রকাশ্যে চলে চাঁদাবাজি। সামান্য কলার ব্যবসা থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসা-বাণিজ্য, জেলে, খামার, ঠিকাদারি, উন্নয়নমূলক কাজ সব কিছু থেকে আদায় করা হয় চাঁদা। আর তা না দিলে নির্যাতন, নিপীড়ন থেকে শুরু করে অপহরণ, খুন, ধর্ষণ হওয়ার শঙ্কা ভুক্তভোগীদের। প্রাণভয়ে মুখও খুলতে চান না তারা। স্বয়ং পুলিশ প্রশাসনও তাদের কাছে পণবন্দী বলে অভিযোগ।

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম মোল্লা বলেন, গোপনেও কেউ চাঁদা দেয় কি না তা স্বীকার করে না। শুনি চাঁদা নেয়। কিন্তু কারা দেয় তার খোঁজ পাওয়া যায় না। ভুক্তভোগী কয়েকজন বলেন, চাঁদা যে দিচ্ছে তার হদিস পাওয়া যায় না।

সম্প্রতি পাহাড়ে বিভিন্ন পণ্যের ওপর ‘শান্তি চুক্তি’ সমর্থক জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফের আরোপ করা চাঁদার তালিকা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

চাঁদাবাজি

ওই তালিকা অনুযায়ী, গাছে প্রতি ঘনফুট ও বাঁশে প্রতি শ’ হিসেবে চাঁদা আদায় করা হয়। বর্তমানে প্রতি ঘনফুট সেগুন গোল গাছে জেএসএসকে চাঁদা দিতে হয় বছরে ৪০ টাকা, ইউপিডিএফকে দিতে হয় ৫০ টাকা। এভাবে সেগুন রদ্দা, গামারী গোল-রদ্দা, লালি গোল-রদ্দার ওপর আলাদা আলাদা হারে চাঁদা ধার্য করা হয়েছে।

বর্তমানে প্রতি শ’ বাঁশে বছরে জেএসএস-ইউপিডিএফ উভয়েই চাঁদা আদায় করে ৫০০ টাকা করে। এভাবে বাইজ্জা বাঁশের জন্য রয়েছে আলাদা রেট। প্রথম শ্রেণীর মাছ ব্যবসায়ীদের জেএসএসকে বছরে চাঁদা দিতে হয় ৪০ হাজার, ইউপিডিএফকে ৫০ হাজার। এভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর ব্যবসায়ীদের পৃথক হারে গুনতে হয় চাঁদা।

তালিকা থেকে আরো জানা যায়, বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরার জালের ওপর আলাদা আলাদা হারে বাৎসরিক (নয় মাসে বছর) চাঁদা আদায় করা হয়। কেসকি জাল থেকে জেএসএস আদায় করে ছয় হাজার টাকা, ইউপিডিএফ সাত হাজার। এভাবে ধর্ম জাল, টেংরা জাল, কুত্তা জাল, ভাসা জাল, টেইনা জাল, লুই জাল, নাইট জাল, বড়শির ওপর আলাদা হারে চাঁদা আদায় করে তারা। এ ছাড়া সব ধরনের জেলেদের বছরে চাঁদা দিতে হয় জেএসএসকে ৭০০, ইউপিডিএফকে ৫০০।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত উপজাতি বাসিন্দাদেরও দিতে হয় বাৎসরিক চাঁদা। প্রতি উচ্চবিত্ত পরিবারের জন্য জেএসএস- ইউপিডিএফের ধার্যকৃত চাঁদা ৮০০ টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবার প্রতি জেএসএস আদায় করে ৫০০ এবং ইউপিডিএফ ৬০০। নি¤œবিত্ত পরিবার প্রতি জেএসএস ৩০০, ইউপিডিএফ ৪০০ টাকা চাঁদা আদায় করে।

এ চাঁদার আওতায় বাদ পড়েনি কলার কাঁদিও। প্রতি কাঁদি কলার জন্য বর্তমানে জেএসএসকে ছয় টাকা ও ইউপিডিএফকে দিতে হয় ১০ টাকা। এ ছাড়া গরু ও ছাগল বিক্রির ওপর যথাক্রমে জেএসএস ১২ ও ৬ শতাংশ এবং ইউপিডিএফ ২০০ ও ১০০ হারে চাঁদা আদায় করে। দু’টি মুরগি বিক্রি করলে দুই টাকা, চার টাকা চাঁদা দিতে হয়।

বিলাইছড়ির আওয়ামী লীগ নেতা প্রহরকান্তি চাকমা বলেন, চাঁদাবাজি আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে ওই এলাকায় ইউপিডিএফ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। বান্দরবানের কিউচিং মারমা বলেন, দুর্বৃত্তদের চাঁদাবাজিতে পুরো পাহাড়ি অঞ্চল এখন অস্থির। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই এলাকার বনবিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, চাঁদা না দিয়ে এখানে কারো বাস করা সম্ভব নয়। সাজেকের খ্রিষ্টান ধর্মীয় নেতা ময়তে লুসাই বলেন, অনেকবার তার কাছে চাঁদা চেয়েছে। কিন্তু তিনি দেননি। তিনি বলেন, একবার দিলেই ওরা সুযোগ পেয়ে যাবে। তখন বারবার চাইবে।

বাৎসরিক এ চাঁদা আদায় ছাড়াও বিভিন্ন দিবসকে সামনে রেখে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে ইউপিডিএফ-জেএসএসসহ আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে চাঁদাবাজির শীর্ষে রয়েছে শান্তিচুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। এর পরের অবস্থানে রয়েছে চুক্তির সমর্থক পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। এদের অঙ্গ সংগঠন যেমন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইম্যান ফেডারেশন বিভিন্নভাবে পাহাড়ে চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ আছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত মহিলা এমপি ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তি চুক্তি করে পাহাড়ে অনেক উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু কিছু সশস্ত্র গ্রুপ চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ করে পাহাড়কে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। তিনি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

– সূত্র: নয়াদিগন্ত

জেএসএসের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে রাঙামাটির স্থানীয় প্রশাসন- ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভায় অভিমত

দতকহজ

স্টাফ রিপোর্টার:

জেএসএসের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে রাঙামাটির স্থানীয় প্রশাসন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভায় জোরালে ভাষায় অভিযোগ করেন রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল জব্বার সুমন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএস’র এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে রাঙামাটির স্থানীয় প্রশাসন। এমনই মনে হচ্ছে আমাদের। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ৬ষ্ঠ পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যে ধরনের নূন্যতম সহযোগিতা আইনানুগ ভাবেও পাওয়ার কথা ছিলো সেই ধরনের সহযোগিতা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হয়নি বলে অভিযোগ করে ছাত্রলীগ সভাপতি জানান, আঞ্চলিকদলীয় সন্ত্রাসীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের অসহযোগিতা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত দুইদিনব্যাপী কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভায় অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিজের বক্তব্যে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এই দাবি জানান।

সারাদেশের ১২০টি সাংগঠনিক ইউনিটের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক আয়োজিত উক্ত বর্ধিত সভায় ছাত্রলীগ সভাপতি সুজন আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি জেএসএস, ইউপিডিএফ ও সংস্কারপন্থী এমএন লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিক সম্মেলন, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচীর মাধ্যমে দলীয় হাই কমান্ড ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পার্বত্য এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান পরিচালনার জন্য আমরা কর্মসূচী পালন করেছি। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের অসহযোগিতার কারনে তৃণমুল নেতাকর্মীরদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে না, বারবারই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমার উপস্থিতিতে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন সিনেটের বক্তব্যে আরো বলেন, এখনই যদি আঞ্চলিক দলীয় সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে রাঙামাটি তথা পার্বত্য চট্টগ্রামে ছাত্রলীগসহ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের কেউই সুষ্ঠুভাবে রাজনীতি করাতো দূরের কথা নিরাপদে চলাফেরাও করতে পারবে না।

রোববার সকাল ১০ থেকে শুরু হওয়া এই বর্ধিত সভার উদ্বোধন করেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। দুইদিন ব্যাপী চলা এই বর্ধিত সভা আজ বিকেল পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে।

জেএসএসের কারণে পাহাড়ী ছাত্ররা ছাত্রলীগ করতে পারছে না- দীপংকর তালুকদার

12606762_978611458879143_1481615760_n

স্টাফ রিপোর্টার:

রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব করতে পারে না। ছাত্রলীগ মেধাবী ছাত্রদের সংগঠন। আমার রাজনীতিও ছাত্রলীগ দিয়ে শুরু হয়েছিল। এরপর আমি এমপি হয়েছি মন্ত্রী হয়েছি। আজকের ছাত্রলীগের মেধাবী নেতা কর্মীরাই ভবিষ্যতে দেশকে নেতৃত্ব দেবে।

শনিবার লংগদু উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ছাত্রলীগের ৬৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপংকর তালুকদার এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা যখন ছাত্রলীগ করতাম তখনও পার্বত্য অঞ্চলে জাতীয় রাজনীতির প্রভাব পড়েনি। পাহাড়ী শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ করার কারণে অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বর্তমানেও জেএসএসের কারণে পাহাড়ী ছাত্ররা ছাত্রলীগ করতে পারছে না। পাহাড়ীরা জাতীয় রাজনীতি করতে চাইলে তাদের হত্যা ও গুম করার হুমকি দেয়।

তিনি বলেন, নিজেদের টাকায় পদ্মাসেতু হবে এটা কোনদিন এদেশের মানুষ কল্পনাই করতে পারেনি। জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে বেশ এগিয়েছে বাংলাদেশ, এমনকি তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে অগ্রগতি অর্জন করেছে দেশ।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ লংগদু উপজেলা শাখার সভাপতি জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর, সাংগঠনিক সম্পাদক ক্যারল চাকমা, প্রচার সম্পাদক মমতাজ উদ্দীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল বারেক সরকার, সাধারণ সম্পাদক জানে আলম।

ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হাসানের সঞ্চালনায় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক মীর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ঝান্টু, জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নজরুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবেল চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. হানিফ রেজা, রাবেতা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ হৃদয়।

আলোচনা সভার পূর্বে সকাল দশটায় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। এপর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দীপংকর তালুকদার কেক কাটার মধ্যদিয়ে ৬৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। বিকেল পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

রাঙামাটিতে জেএসএস’র সমাবেশে যোগ দিচ্ছে ইউপিডিএফ : পাল্টে যাচ্ছে পার্বত্য রাজনীতি

পার্বত্য অঞ্চলে চলা নব্বই দিনের যুদ্ধ বিরতি শেষ: চুক্তির মেয়াদ বাড়তে পারে আরো তিন মাস: ঐক্যের প্রচেষ্টা চলছে জোরেসোরে

জেএসএস ইউপিডিএফ

আরিফুল হক মাহবুব, কাউখালী (রাঙ্গামাটি):

অভিন্ন দাবীতে আন্দোলনরত পার্বত্য অঞ্চলের আঞ্চলিক দু’টি প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএস’র মধ্যকার অনানুষ্ঠানিক নব্বই দিনের যুদ্ধ বিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩০ নভেম্বর। নতুন করে এ যুদ্ধ বিরতির মেয়াদ আরো তিন মাস বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংগঠন দু’টির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যরা। তবে আপাতত সংঘাতের পথ পরিহার করে যুগপত আন্দোলনের ক্ষেত্র তৈরী করতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দু’দলের নেতারা। বিশেষ করে আগামী পৌরসভা নির্বাচনে এই সমঝোতা কাজে লাগাতে চায় দুই দলই।

কিন্তু এখনও পর্যন্ত এক পক্ষ অন্য পক্ষকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারতে পারছে না। বিশেষ করে দখলাধীন এলাকা ও চাঁদার স্পট ভাগাভাগি নিয়ে দুই দলের মধ্যে সমঝোতায় পোঁছাতে না পারা এর প্রধান কারণ করে জানা গেছে। তবে দুই পক্ষের একত্রীকরণের বিষয়টি যে জোরালোভাবেই চলছে এই প্রথম পার্বত্যনিউজের মাধ্যমে মিডিয়ার কাছে স্বীকার করলেন জনসংহতি সমিতি কাউখালী উপজেলা শাখার সভাপতি সুভাস চাকমা।

এই বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচলের মধ্যেই বুধবার  ২ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটিতে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)’র ডাকা শান্তি চুক্তির ১৮তম বর্ষপূর্তি সমাবেশে বিপুলভাবে যোগ দিতে যাচ্ছে দীর্ঘ সময় ধরে জেএসএস’র সাথে সংঘাত হানাহানিতে লিপ্ত থাকা প্রসিত বিকাশ খিসার ইউপিডিএফ। এমন খবর পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।

এ বিষয়ে সংগঠন দু’টির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা মুখ খুলতে না চাইলেও তাদের কথাবার্তায় ঐক্যের সুর পরিলক্ষিত হচ্ছে। সংগঠন দু’টির ঐক্যে পাল্টে যেতে পারে পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক মেরুকরণ। তবে পর্দার আড়ালে চলা রহস্যে ঘেরা তাদের এমন গোপন চুক্তিতে আশ্বস্ত হতে পারছে না সাধারণ মানুষ। ফলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা পিছু ছাড়ছে না তাদের।

সম্প্রতি পার্বত্য অঞ্চল জুড়ে যৌথবাহিনীর কম্বিং অপারেশনের দরুণ কোনঠাসা হয়ে পড়া দু’টি আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ-জেএসএস’র ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত নিরসনে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নব্বই দিনের গোপন শান্তিচুক্তিতে উপনীত হয়। আগষ্টের শেষ দিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে সংগঠন দু’টির উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র প্রতিবেদককে নিশ্চিত করে। যার মেয়াদ শেষ হয় ৩০ নভেম্বর।

অস্ত্র বিরতির মেয়াদ নতুন করে বৃদ্ধি করা না হলেও ইস্যু ভিত্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ব্যপারে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয় বলে জানা যায়। তার সূত্র ধরে সন্তু লারমার অসহযোগ আন্দোলনে ইউপিডিএফ’র সমর্থন প্রত্যাশা করা হয়।

 তারই অংশ হিসাবে প্রাথমিক ধাপ উত্তীর্ণ করতে ২ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটিতে অনুষ্ঠিত শান্তিচুক্তির ১৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে ডাকা জনসংহতির সামাবেশে সর্বাত্মক অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে প্রসিত বিকাশ খিসার ইউপিডিএফ। দু’দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন তথ্য পার্বত্যনিউজ প্রতিনিধিকে নিশ্চিত করেছে। অপরদিকে একই দিনে রাঙ্গামাটিতে শান্তিচুক্তির ১৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে পূর্ব ঘোষিত সামাবেশের আয়োজন করেছে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগ। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভীর যোগ দানের কথা রয়েছে। 

রাঙ্গামাটির সমাবেশ সফল করতে কাউখালী জুড়ে জনসংহতি সমিতির নেতা কর্মীদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত। গত আঠারো বছরে উপজেলা সদরে জনসংহতি সমিতি প্রকাশ্যে কোন কার্যক্রম চালাতে পারেনি। এবারই প্রথম জেএসএস প্রকাশ্যে কাউখালী সদরে প্রচার প্রচারণা চালায়। পুরো কার্যক্রমে ইউপিডিএফ’র মৌন সমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সমাবেশে কাউখালী থেকে বিশ হাজার লোকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জেএসএস নেতারা। রাঙামাটির অন্যান্য উপজেলা ও তিন পার্বত্য জেলা থেকেও একইভাবে লোক আনার প্রস্তুতি নিয়েছে জেএসএস। ফলে একই দিনে দু’টি বড় সমাবেশ ঘিরে পুরো পার্বত্য অঞ্চল জুড়ে আতঙ্ক ও এক ধরণের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সংগঠন দু’টির একত্রীকরণের বিষয়ে কাজ চলছে বলে স্বীকার করেছেন জনসংহতি সমিতি কাউখালী উপজেলা শাখার সভাপতি সুভাস চাকমা। তিনি জানান, বড় ধরণের বিপদ থেকে রক্ষা পেতে হলে সংগঠন দু’টিকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া গতি নেই। তিনি জানান, সংঘাত নিরসনে চলা বৈঠক শুধু দেশের মাটিতে নই, প্রয়োজনে আমিরাকা ও লন্ডনে বসেও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

সূত্রে জানা গেছে, সমঝোতার আলোচনায় জেএসএস থেকে ইউপিডিএফকে প্রতীকিভাবে হলেও কিছু অস্ত্র জমা দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। এ নিয়ে ইউপিডিএফ’র মধ্যে মতভিন্নতা সৃষ্টি হয়। ইউপিডিএফ’র একটি গ্রুপ এতে রাজী হলেও তারা জেএসএস’র মতো সরকারের হাতে প্রতীকি  অস্ত্র সমর্পনের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু জেএসএস তাতে রাজী নয়। জেএসএস দাবী করে অস্ত্র তাদের কাছে সমর্পন করতে হবে। কিন্তু এ প্রস্তাবে ইউপিডিএফ’র কেউ রাজী হয়নি।

সুভাস জানান, এক্ষেত্রে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ব্যাপারটা মূখ্য বিষয়। এখনো কেউ কাউকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না। তিনি জানান, ঐক্যের ক্ষেত্রে এই মূহুর্তে সবচেয়ে বড় বাঁধা হচ্ছে ইউপিডিএফ’র অস্ত্র জমা দেবে কিনা? যদি দেয় তাহলে কার কাছে জমা দেবে। সরকারের কাছে, না কি জনসংহতি সমিতির কাছে। এ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

তাছাড়া জনসংহতি সমিতি কর্তৃক পার্বত্য অঞ্চলে ১৩টি ভাষার লোকদেরকে দেশে বিদেশে একটি ভাষার (চাকমা) ভাষী হিসেবে উল্লেখ করার কারণেও ঐক্যের ক্ষেত্রে বড় বাঁধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকরা।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে ইউপিডিএফ’কে কোন ক্রমেই অস্ত্র-শস্ত্র জমা দেয়ার বিষয়ে রাজি করানো যাচ্ছে না। ফলে ঐক্যের বিষয়ে সব দিক থেকে অগ্রসর হওয়া গেলেও বড় একটি জায়গায় এসে ভেস্তে যেতে পারে সব উদ্যোগ এমনটাই আশংকা করছেন পাহাড়ের সাধারণ মানুষ।

ইউপিডিএফ’র প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক কেন্দ্রীয় মূখপত্র নিরন চাকমা সংগঠন দু’টির ঐক্যের বিষয়টি অস্বীকার করলেও শান্তি চুক্তি উপলক্ষে তারই স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রসিত বিকাশ খীসা বিবৃতি দিয়েছেন। ‘পার্বত্য চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন, শান্তি প্রতিষ্ঠা নয় হিসেবে উল্লেখ করে খীসা বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া সময়ের দাবি। বুধবার রাঙ্গামাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া শান্তিচুক্তির বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে সর্বসাধরনের অংশগ্রহণে ইউপিডিএফ’র পক্ষ থেকে কোন বিধিনিষেধ নেই বলেও জানিয়েছে নিরন চাকমা।

ইউপিডিএফ-জেএসএস’র ঐক্যের গুঞ্জনে পার্বত্যনিউজের কাছে মিস্ত্র প্রতিক্রিয় ব্যক্ত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক এমপি ও উন্নয়নের বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। তিনি জানান, ইউপিডিএফ-জেএসএস’র ঐক্যে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসবে এমনটি ভাবার কোন কারণে নেই। নতুন করে নতুন উদ্যমে অস্থিরতা বেড়ে যাবে। এটা সরকারের উপর, রাষ্ট্রের উপর এবং ভূখন্ডের জন্য হুমকি হয়ে দাড়াতে পারে। কোনঠাসা হয়ে পড়তে পারে জাতীয় রাজনীতি।

তিনি জানান, আওয়ামীলীগ-বিএনপির রাজনৈতিক ইস্যুতে এক হতে পারবে না ঠিক, কিন্তু পার্বত্য অঞ্চলে জাতীয় ইস্যুতে নুন্যতম কতগুলি বিষয়ে এক হতে না পারলে বড়ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীকে। সরকারের উচিৎ দেশের অন্যান্য স্থানের মত যৌথ বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলকে অস্ত্রমুক্ত করা। সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা।

এদিকে কাউখালী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা কালা মিয়া জানান তাদের ঐক্যে পার্বত্য অঞ্চলে কোনক্রমেই শান্তি ফিরে আসবেনা। তিনি জানান, শান্তি তখনই ফিরে আসবে, যখন তারা অস্ত্র-শস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সশস্ত্র থেকে যাবে, আর আমরা নিরস্ত্র হয়ে তাদের সাথে লড়াই করে যাবো এমনটা হলে শান্তি ফিরে আসার কোন সুযোগ নেই। তারা যদি স্বেচ্ছায় নিরস্ত্র না হয়, সরকারের উচিৎ হবে সারা দেশের মত যৌথবাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চল থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ব্যবস্থা করা।

দীঘিনালায় সেনাবাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে ৫টি অস্ত্র ও ৪৫০ রাউন্ড গুলিসহ একজন আটক

Arms recover pic (02) 07-09-2015

নিজস্ব প্রতিনিধি, দীঘিনালা:

সেনাবাহিনীর অপারেশনে  পার্বত্য চট্টগ্রামে আবারো বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। এবারে ঘটনাস্থল খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা থানা। গত রাত থেকে চলা এ অপারেশনে এখন পর্যন্ত ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি ভারী মেশিনগান, একটি গ্রেনেড,  দুইটি এসএলআর, একটি ৫.৫৬ এমএম এসএমজি, একটি ৭.৬২ ফোল্ডেড এসএমজি মতো ভয়ানক মারণাস্ত্র রয়েছে। এছাড়াও একটি মেশিনগানের ম্যাগজিন, তিনটি এসএলআরের ম্যাগজিন, তিনটি এসএমজি’র ম্যাগজিন, একটি রাইফেল ম্যাগজিন, একটি স্থানীয় তৈরী ম্যাগাজিন, ৬২ রাউন্ড মেশিনগানের গুলি, ১০৬ রাউণ্ড ৭.৬২ বোরের গুলি, ১২৫ রাউণ্ড ৫.৫৬ বোরের গুলি, তিনটি পাউচ, ৮ টি মোবাইল ফোন, ৬ টি সামরিক পোশাক ইত্যাদি। এঘটনায় সেনবাহিনী একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। আটক সন্ত্রাসীর নাম বর্ষসভা চাকমা(৩৫)। অভিযানে নেতৃত্ব দেন, দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লে.কর্ণেল মহসিন রেজা।

viber image 2

জানা যায়, উপজেলার দূর্গম ছাদকছড়া গ্রামে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলা-বারুদ মজুদ আছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার সন্ধ্যা থেকে সেনাবাহিনী ওই এলাকায় অভিযান শুরু করে। রাতভর অভিযানের পর ভোর ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌছামাত্র সন্ত্রাসীরা প্রথমে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। পরে সেনাবাহিনীও পাল্ট গুলি ছুড়ে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ঘন্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধ হয়। এসময় বন্দুকযুদ্ধে উভয়পক্ষের প্রায় একশত আশি রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে থাকা প্রায় ২৫/৩০ জন সন্ত্রাসী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এসময় উলঙ্গ হয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় বর্ষসভা চাকমা নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে বর্ষসভা চাকমাকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুটি এসএমজি, একটি মেশিনগান, দুটি এসএলআর, একটি গ্রেনেড, বিভিন্ন অস্ত্রের ম্যাগজিন নয়টি, সাড়ে চারশত গুলি এবং ছয় সেট সেনাবাহিনীর পোষাক, একটি ডিভিডি সেট এবং আটটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

Arms recover pic (03) 07-09-2015

এসময় অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি রিজিয়নের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স.ম মাহবুব আলম, দীঘিনালা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর ইমতিয়াজ, এ্যাডজুটেন্ট তৌহিদুল ইসলাম মান্নান।

এ ব্যাপারে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স.ম মাহবুব আলম পিএসসি জানান, ছাদকছড়া এলাকায় স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ২৫/৩০জনের একটি দল অবস্থান করছেন, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যা থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়।

দীঘিনালা জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল মহসীন রেজা বলেন, “তারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার জন্যই সেখানে জড়ো হয়েছিল। সাধারণ জনগণের যেন জানমালে ক্ষতি না হয় সে দিক বিবেচনা করে আমরা আরও বড় ধরনের সশস্ত্র অভিযানে যাইনি। খাগড়াছড়ি রিজিয়নের স্টাফ অফিসার মেজর মো: নাসির-উল-হাসান খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত ১০টা থেকে দীঘিনালা জোনের সেনাবাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করে। এ সময় বাচ্ছুক্কা চাকমা নামে এক সন্ত্রাসীকে আটক করে। এসময় একটি এসএমজি, তিনটি এসএলআর, তিনটি এসএলআরের ম্যাগাজিন, তিনটি এসএমজির ম্যাগাজিন ও সাড়ে ৩০০ রাউন্ড তাজা গুলিসহ সেনাবাহিনীর ৬ সেট পোশাক উদ্ধার করা হয়।

আটক বর্ষসভা চাকমা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-এমএন লারমা) সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। সে আরো জানায় প্রথমে রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন, পরে কয়েকদিন আগে দীঘিনালায় এসে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

এব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-এমএন লারমা) কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত কুমার চাকমা জানান, আমাদের সস্বস্ত্র কোন সংগঠন নেই। অস্ত্র ও গুলিসহ আটক হওয়া ব্যক্তির সাথেও আমাদের কোন প্রকার সর্ম্পৃক্ত নেই।

উল্লেখ্য গত ১৫ আগস্ট একই রিজিয়নের আওতাধীন রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বরাদম এলাকায় সেনাবাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে ৫ জন নিহত হয়।

বাঘাইছড়ি

নিহত সন্ত্রাসীরা সকলে জেএসএস সংস্কারপন্থী গ্রুপের সদস্য। এসময় একটি সাবমেশিনগান, দুইটি চাইনিজ রাইফেল, তিনটি এসএলআর, একটি আমেরিকান পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার হয়। সন্ত্রাসীদের আটকের সময় হাতাহাতি লড়াইয়ে সেনাবাহিনীর একজন কর্পোরাল মারাত্মকভাবে আহত হয়। এসময় যৌথবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ গুলি ও সামরিক পোশাক ও সামরিক সরঞ্জাম আটক করে। আটক গুলির মধ্যে ছিল ১২০ রাউণ্ড রাইফেলের গুলি, ৮৪ রাউণ্ড এসএমজি’র গুলি ১৪৫ রাউণ্ড এসএলআরের গুলি, ৯৪ রাউণ্ড পয়েন্ট টু টু বোর রাইফেলের গুলি, ৭ রাউণ্ড পিস্তলের গুলি। এছাড়াও এসময় বিপুল পরিমাণ সামরিক পোশাক ও সামরিক সরঞ্জামাদি আটক করা হয়।

এদিকে গত ৬ সেপ্টেম্বর বান্দরবানে একটি একে টুটু বোর রাইফেল, একটি বিদেশী পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ গুলিসহ পার্বত্য জনসংহতি সমিতির দুই চাঁদাবাজ আটক করে যৌথবাহিনী।

vb 060915 1 copy

গত রবিবার ভোর রাতে জেলার রুমা উপজেলার রুমার চর পাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককালে তাদের কাছ থেকে একটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরী একে-২২ বোর রাইফেল, পয়েন্ট ৩২ বোরের যুক্তরাষ্ট্রের তৈরী একটি পিস্তল, ২০ রাউন্ড একে-২২ বোর রাইফেলের গুলি, ৪৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, একটি চাকু, ৪ টি চাঁদা আদায়ের রশিদ বই, ৫ টি মোবাইল, অতিরিক্ত ৭ টি সিম, ৪ টি ডাইরি, ৩ টি নোটবুক ও নগদ ২ লাখ ৯১ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এভাবে একের পর এক ভয়ানক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগনের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসতে শুরু করেছে। তারা এজন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

হঠাৎ উত্তপ্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম: খতিয়ে দেখতে হবে এখনই

মেহেদী হাসান পলাশ

মেহেদী হাসান পলাশ 

হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। গত ১০-১২ দিনে একের পর এক সহিংস ঘটনায় তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড়ি-বাঙালিদের মাঝে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সেনা, বিজিবি ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির উপর আপাতত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হলেও সেখানে বিরাজ করছে চাপা উত্তেজনা ও বিষ্ফোরনোন্মুখ পরিস্থিতি।

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে গত ৬ ডিসেম্বর প্রায় একই সময়ে পৃথক তিন উপজেলায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে দু’জন নিহত ও চারজন আহত হয়েছে। এর মধ্যে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে চিংসামং চৌধুরী (৪২) নামের এক স্কুল শিক্ষক নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন মংসাজাই মারমা ওরফে জাপান নামের মানিকছড়ি উপজেলা জেএসএস সভাপতি। তাকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বেশ কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৬ ডিসেম্বর মংসাজাই মারমা ওরফে জাপান মারা যান। পৃথক এক ঘটনায়, জেলার পানছড়ি উপজেলার মগপাড়া (হলধর পাড়া) এলাকায় অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের গুলিতে রমজান আলী (৫৫) ও তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪০) গুরুতর আহত হয়েছেন। অপর এক ঘটনায় মাটিরাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন চুক্তি স্বাক্ষরকারী সন্তু লারমা সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা আশুতোষ ত্রিপুরা (২৬)। চিংসামং চৌধুরীর খুনের ঘটনায় খাগড়াছড়ি জেলার মারমা সম্প্রদায় প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ ও মারমা সম্প্রদায়ের উপর পরিচালিত আরেকটি উপজাতীয় সংগঠনের শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে খাগড়াছড়িতে মিছিল মিটিং ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। সেখান থেকে চাকমাদের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনাও ঘটে। মারমাদের এই শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে আঙুল তোলা কার্যত তিন পার্বত্য জেলার প্রভাবশালী চাকমা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ছিল। এরই মধ্যে ১৫ ডিসেম্বর কাপ্তাইয়ের ব্যাঙছড়িতে সুউচ্চ পাহাড়ের উপর ছবি মারমা (১৫) নামে এক উপজাতীয় তরুণীকে ধর্ষণের পর জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। কাপ্তাই থানা ওইদিন বিকেলে জবাই করা লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত তরুণী চিৎমরম স্কুলের জেএসসি ফলপ্রার্থী। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১২টার দিকে বাসার জন্য গসিয়া নামক এক প্রকার খাদ্য আনার জন্য সুউচ্চ পাহাড়ের উপর জুম এলাকায় যায় সে। দুপুরে পরিবারের লোকজন খবর পায়, তাকে কে বা কারা জবাই করে জঙ্গলের মধ্যে ফেলে গেছে। এদিকে ৯ ডিসেম্বর বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ডলু ঝিরি এলাকায় উপজাতীয় সন্ত্রাসী সংগঠন ম্রো ন্যাশনাল পার্টির (এমএনপি) সন্ত্রাসীরা দুই বাঙালি নারীকে গণধর্ষণ ও দুইজনকে অপহরণ করে। একই সাথে ৭-৮টি বাঙালি পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে স্বর্বস্ব লুট করে।
এদিকে রাঙামাটিতে ছবি মারমা নিহত হওয়ার একদিন পরই অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর জেলার নানিয়ারচর উপজেলার তরুণীপাড়া এলাকায় মধ্যরাতে বাঙালিদের প্রায় পনের একর আনারস বাগানের সাড়ে ৪ লাখ ফলন্ত আনারসের গাছ এবং একটি নতুন সেগুন বাগানের ২২ হাজার সেগুন গাছের চারা কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। ভোরে আনারস বাগানের মালিক নুরুল ইসলাম, মো. আসাদ, কামাল হোসেন, জামাল হোসেন এবং সেগুন বাগানের মালিক আবছার মাস্টার বাগানে গিয়ে নিজেদের বাগানের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পান। তাদের অভিযোগ, পাশের গ্রামের পাহাড়িরাই রাতের আঁধারে তাদের বাগানের গাছগুলো কেটে ধ্বংস করে দিয়েছে। পার্বত্য জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে দাবি করেছে, প্রতিপক্ষ পাহাড়ি সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রাটিক ফ্রন্টের সদস্যরা এই বর্বরতা চালিয়েছে। ওই আনারস ও সেগুন বাগান কেটে ফেলার ঘটনাকে ঘিরে কুতুকছড়ি ইউনিয়নের বগাছড়ি এলাকার বাঙালিদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর এক পর্যায়ে মঙ্গলবার সকাল পৌনে আটটার দিকে দলবদ্ধভাবে ক্ষুব্ধ বাঙালিরা বিক্ষোভ শুরু করে। অন্যদিকে দুর্বৃত্তরা পাশের তিনটি পাহাড়ি গ্রাম বগাছড়ি, ছড়িদাশ পাড়া ও নবীন তালুকদার পাড়ায় দোকানপাট ও বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। অগ্নিসংযোগে পাহাড়িদের বাড়িঘর ও দোকানপাট পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এসময় বাঙালিদেরও কয়েকটি ঘর পুড়তে দেখা গেছে। পাহাড়িদের অভিযোগ, এ সময় বুড়িঘাট ইউনিয়নের সুরিদাসপাড়া এলাকার ‘করুণা বিহার’ নামের একটি বৌদ্ধ বিহারে হামলা চালায় হামলাকারীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার থেকেই রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইউপিডিএফ সমর্থিত সংগঠন ভূমি রক্ষা কমিটি। নানিয়ারচরের ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ১৭ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদককে অপহরণ করে অজ্ঞাতনামারা। অপহৃত ব্যক্তির নাম অমল কুমার ত্রিপুরা (২৩)। সে পানছড়ি উপজেলার ৫নং উল্টাছড়ি ইউপির মরাটিলা এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য শান্তি কুমার ত্রিপুরার ছেলে। একই দিন খাগড়াছড়ির দীঘিনালার বাবুছড়া এলাকায় মন্টু বিকাশ চাকমা নামে এক ইউপিডিএফ সদস্যের বাসায় গুলি ও গ্রেনেড ছুড়ে মেরেছে দুর্বৃত্তরা। গ্রেনেডটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে দীঘিনালা থানা পুলিশ।
উপরের সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার কোনো উপায় নেই। কারণ, শান্তিচুক্তির ১৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র ব্যোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা সরকারকে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে এর মধ্যে শান্তিচুক্তির দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে সরকারের বিরুদ্ধে শান্তিপ্রিয় ও অশান্তিপ্রিয় পন্থায় অসহযোগ আন্দোলন করার হুমকি দেন। ২৯ নভেম্বর রাজধানীর হোটেল সুন্দরবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সন্তু লারমা এ হুমকি দিয়ে বলেন, ১ মে ২০১৫ থেকে এই অসহযোগ আন্দোলন শুরু হবে। সন্তু লারমা অকষ্মাৎ এমন উক্তি করেছেন, বিষয়টি এমন নয়। গত কয়েক বছর ধরেই তিনি শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে পুরাতন সশস্ত্র সংগ্রামের হুমকি দিয়ে আসছেন। শান্তিচুক্তির দেড় দশকপূর্তির অনুষ্ঠানে প্রথম তিনি এই সশস্ত্র সংগ্রামের হুমকি দেন। তবে এবারে তার হুমকি দেয়ার পর থেকেই পাহাড়ে যে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে তা সচেতন দেশবাসীকে চিন্তিত করে তুলেছে।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর জেএসএস সভাপতি সন্তু লারমা ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চুক্তি অনুযায়ী খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে শান্তিবাহিনীর ৭৩৯ সদস্যের প্রথম দলটি সন্তু লারমার নেতৃত্বে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট অস্ত্রসমর্পণ করেছিল। পরবর্তীতে ১৬ ও ২২ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে ৪ দফায় শান্তিবাহিনীর মোট ১৯৪৭ জন অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। অস্ত্র সমর্পণ অনুষ্ঠানেই শান্তিবাহিনীর একাংশ শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়াম কালো পতাকায় ঢেকে ফেলে। সৃষ্টি হয় প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বে চুক্তিবিরোধী নতুন সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট বা ইউপিডিএফ। সে সময় থেকেই তারা প্রতিবছর ২ ডিসেম্বরকে ‘বেঈমান দিবস’ হিসাবে পালন করে আসছে। বলা হয়ে থাকে, শান্তিবাহিনীর সকল সদস্য আত্মসমর্পণ করেনি ও তাদের সব অস্ত্র জমা পড়েনি বরং পুরাতন ও ভাঙাচোরা কিছু অস্ত্র জমা দিয়ে তারা সরকারকে ধোঁকা দিয়েছিল।
২০১৪ সালের পরিসংখ্যান পুরোপুরি পাওয়া না গেলেও নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র মতে, শান্তিচুক্তির পর থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলায় সন্ত্রাসী কর্তৃক নিহতের সংখ্যা ৭৫৩ জন। আহত হয়েছে ৯৩২ জন। অপহৃত হয়েছে ১৩৬৫ জন। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রেফতার হয়েছে ৩৮৬৫ জন, গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে ১২৫১টি। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে ২০টি। নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সন্ত্রাসীদের সম্মুখ যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে ৬৭ বার। জেএসএস-ইউপিডিএফ’র মধ্যে সম্মুখ যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে ১৭৫ বার। পার্বত্য চট্টগ্রাম সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এটি পূর্ণাঙ্গ তথ্য নয়। প্রকৃত পরিসংখ্যান আরো বেশি। পার্বত্যাঞ্চলের আঞ্চলিক দলগুলো পারস্পরিক দ্বন্দ্বে শান্তিচুক্তির ১৬ বছরে ৩৪৪ নেতাকর্মী নিহত ও সহ¯্রাধিক আহত হয়েছে। ইউপিডিএফের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের তথ্য মতে, পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর থেকে ২০১৩ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত তাদের ২৫৪ জন নেতাকর্মী প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছে। অন্যদিকে জেএসএসের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য মোতাবেক, শান্তিচুক্তির পর থেকে একই সময় পর্যন্ত তাদের ৯০ জন নেতাকর্মী প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হয়েছে। এদিকে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৮ জন নিহত হয়েছে। ১২৬ জন আহত হয়েছে। ৮৭ জন অপহৃত হয়েছে। ৪৪টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, যে শান্তির অন্বেষণে শান্তিচুক্তি করা হয়েছিল তা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি আনতে সফল হয়নি। উল্টো সেখানকার প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী বাঙালি সম্প্রদায়কে এই চুক্তির মাধ্যমে তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে নিজ দেশে পরবাসী করে ফেলা হয়েছে।
সন্তু লারমা কথায় কথায় সরকারের বিরুদ্ধে শান্তিচুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে থাকেন। বস্তুত ১৯৯৮ সালের ৬ ডিসেম্বর আঞ্চলিক পরিষদ গঠনের পর থেকেই তিনি এ অভিযোগ তুলে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান পদ গ্রহণে গড়িমসি করছিলেন। কিন্তু সে সময় সরকার সন্তু লারমাকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো জেএসএস নেতা এ পদে বসানোর হুমকি দিলে তিনি তড়িঘড়ি করে ১৯৯৯ সালের ১২ মে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান পদে যোগ দেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তিনি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় এই পদে অবস্থান করে সকল রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন এবং মাঝে মাঝেই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হুমকি দিচ্ছেন। এ পদে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ উপজাতি নেতারাই করেছেন বিভিন্ন সময়। শান্তিচুক্তি অনুযায়ী এই পদের মেয়াদ ৫ বছর। অথচ ১৬ বছর ধরে তিনি এই পদটি দখল করে ক্রমাগত শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছেন। যদিও হাইকোর্ট আঞ্চলিক পরিষদকে রাষ্ট্রের মধ্যে রাষ্ট্র বলে তাকে সংবিধান ও রাষ্ট্রবিরোধী আখ্যা দিয়ে বাতিল করে দিয়েছেন। তবে রায়টি উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্টে অবস্থায় রয়েছে।
শান্তিচুক্তির কোথাও সন্তু লারমাকে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি চিরস্থায়ী বন্দোবস্তি হিসাবে দেয়া হয়নি। তিন পার্বত্য জেলায় বিভিন্ন উপজাতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শিক্ষাদীক্ষা, জনপ্রিয়তা, প্রশাসনিক দক্ষতায় তার চেয়ে অনেক বেশি যোগ্য উপজাতীয় নেতা রয়েছেন। এই পদে বসলে আরো যোগ্যতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন বলেই পাহাড়িরা বিশ্বাস করে। এমনকি তার নিজের দল জেএসএসের মধ্যেও অনেক যোগ্য নেতা রয়েছেন। ত্যাগ, তিতীক্ষা, জনপ্রিয়তা ও দক্ষতায় যারা এ পদের যোগ্য দাবিদার। সন্তু লারমা তাদের কোনো সুযোগ দেননি। সন্তু লারমার ক্ষমতালিপ্সার প্রতিবাদেই আরেক দফা জেএসএসে ভাঙন সৃষ্টি হয়। জন্ম নেয় জেএসএস (সংস্কার) পার্টির। কাজেই শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের স্বার্থে সংশোধিত আইনে জেলা পরিষদসমূহের পুনর্গঠন শেষ হলে শান্তিচুক্তির গ খণ্ডের ১২ ধারা অনুযায়ী সরকারকে নতুন করে অন্তবর্তীকালীন আঞ্চলিক পরিষদ গঠনের বিষয়টি সক্রিয় ভাবে বিবেচনা করে দেখতে হবে। অন্য যোগ্য উপজাতীয় নেতাকে সুযোগ দিতে হবে।
বাস্তবতা হচ্ছে, শান্তিচুক্তি অনুযায়ী সেসব স্থান থেকে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে সেসব স্থান পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। শান্তিচুক্তির সুযোগ নিয়ে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। বাৎসরিক প্রায় ৪শ’ কোটি টাকা সেখানে চাঁদাবাজির মাধ্যমে পাহাড়ি সংগঠনগুলো আয় করে থাকে বলে ধারণা করা হয়। এর সাথে রয়েছে আর্মস, ড্রাগস ও মানব পাচার। অপহৃতদের লুকিয়ে রাখার জন্যও এসব স্থান নিরাপদ জোন হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ কারণে বিগত কয়েক বছরে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা যেসব অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে মুক্তিপণ ছাড়া তাদের উদ্ধার সম্ভব হয়নি। এখন যখন সরকার ঐসব স্থানে জনগণের নিরাপত্তা বিধানে বিজিবি ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা উচ্ছেদ ও ভূমি দখলের অভিযোগ তুলে তা থামাতে চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে তারা জাতীয় পর্যায়ের বামপন্থী রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যমের অকুণ্ঠ সহায়তা পাচ্ছে। পাহাড়িদের প্রতি বামপন্থীদের এই আত্মঘাতী সমর্থন নতুন নয়। সম্প্রতি প্রকাশিত মহিউদ্দীন আহমদ লিখিত ‘জাসদের উত্থান পতন : অস্থির সময়ের রাজনীতি’ গ্রন্থে দেখা যায়, জনসংহতি সমিতির স্বায়ত্তশাসন দাবি জোরালো করবার আগেই ১৯৭৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জাসদের নির্বাচনী ইশতেহারে উপজাতীয়দের স্বায়ত্তশাসন দেবার দাবি উত্থাপন করা হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে, একই বছরের ২৯ ডিসেম্বর জাসদের ২৯ দফায় উপজাতীয়দের স্বায়ত্তশাসন এমনকি স্বাধীনতা দেবার দাবিও করা হয়। (প্রাগুক্ত, ৯৬ ও ১০৮ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)। বর্তমানেও একই গোষ্ঠী পাহাড় থেকে নিরাপত্তাবাহিনী ও বাঙালি প্রত্যাহারের দাবিতে উপজাতীয়দের সাথে কোরাস করছে। মূলত একটি রাষ্ট্রের কোথায় সেনাবাহিনী বা বিজিবি ক্যাম্প থাকবে এটি নির্ধারণ করবেন রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা আর কোনো কিছুর সঙ্গে তুল্য হতে পারে না।
স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শান্তিচুক্তির বেশিরভাগ বিষয়ই বাস্তবায়ন হয়েছে। চুক্তিতে ৭২টি শর্ত আছে, তার মধ্যে ৪৮টি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। আর ১৫টি আংশিকভাবে হয়েছে এবং ৯টি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, বাকি ধারাগুলোও শীঘ্রই বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু সন্তু লারমা একে অসত্য, বিভ্রান্তিমূলক ও মনগড়া বক্তব্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অথচ সাবেক সিএইচটি প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদারের মতে, ২০১৩ সালে চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির সভায় ৪৮টি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়েছে বলে মতৈক্যপত্রে সন্তু লারমা স্বয়ং স্বাক্ষর করেছেন। অর্থাৎ সন্তু লারমা তার নিজের জনগণের সাথেও ধোঁকাবাজির খেলা খেলছেন। এদিকে জেএসএসের সাথে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নকারী দল হিসাবে আওয়ামী লীগ কৃতিত্ব দাবি করলেও সন্তু লারমা তা মানতে রাজি নন। শান্তিচুক্তির ১৬ বছর পূর্তিতে রাঙামাটিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলে দেন, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি নিয়ে মিথ্যাচার ও প্রতারণা করে চলেছে। শান্তিচুক্তি কোনো একক ব্যক্তি বা একক সরকারের কৃতিত্ব নয়। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম পার্বত্য অঞ্চলের বিরাজমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিরসনে জনসংহতি সমিতির সঙ্গে সংলাপের সূচনা করেছিলেন। তার সময়ের সিনিয়র মন্ত্রী মশিউর রহমানসহ আরো কয়েকজনের সাথে সফল আলোচনা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে এরশাদ আমলে ৬টি, বেগম খালেদা জিয়া সরকারের প্রথম আমলে ১৩টি ও শেখ হাসিনা সরকারের সাথে ৭টি মিলে মোট ২৬টি সংলাপের মাধ্যমে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এমনকি সেই অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর রক্ষাকবচ বলেও উল্লেখ করেন সন্তু লারমা। অথচ এ বছর তিনি শান্তিচুক্তিকে প্রতারণা বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বস্তুত তিন পার্বত্য জেলায় জেএসএসের সাথে শাসকদল আওয়ামী লীগের ব্যাপক দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। বিগত জাতীয় সংসদ, উপজেলা ও বিভিন্ন আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচনে জেএসএসকে দেখা গেছে বিরোধী দল বিএনপির সাথে অঘোষিত সমঝোতা করতে। জাতীয়ভাবে সংসদ নির্বাচন বয়কট করলেও রাঙামাটিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জেএসএস প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে। খাগড়াছড়িতে জেএসএস না থাকলেও অপর আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফের সাথে বিএনপির সম্পর্কের প্রচার রয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে এসে এই সমঝোতা আরো ব্যাপক আকার ধারণ করে। অর্থাৎ কখনো নৌকায় পা দিয়ে, কখনো ধানের শীষ মাথায় নিয়ে সন্তু লারমা তার নিজস্ব লক্ষ্য জুম্মল্যান্ড প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার এই লক্ষ্য বাংলাদেশের অখন্ডতার প্রতি চরম হুমকি স্বরূপ। দেশি-বিদেশি দাতাসংস্থা, এনজিও ও মিশনারিদের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা পাবার ফলে সন্তু লারমা এখন বাংলাদেশের সরকার ও সার্বভৌমত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়তেও দ্বিধা করছেন না।
আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের জাতীয় আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে সক্রিয় যেকোনো দেশি-বিদেশি এনজিও ও দাতাসংস্থা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে চলতে বাধ্য। বিগত কয়েক বছর যাবত বেশকিছু এনজিও ও দাতাসংস্থা বাংলাদেশের সংবিধান বিরোধী ও রাষ্ট্রীয় নীতির পরিপন্থী ‘আদিবাসী’ ধারণাকে প্রচার, প্রসার, জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠা করতে নানা কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এটি সম্পূর্ণ আইনবিরোধী এবং তাদের এখতিয়ার ও অধিকারের লঙ্ঘন। রাষ্ট্রীয় অখ-তার স্বার্থে সরকারকে অতিদ্রুত এই সকল দাতাসংস্থা ও এনজিওর আদিবাসী বিষয়ক প্রোগ্রামসমূহ বন্ধ করতে বাধ্য করতে হবে এবং যারা বাংলাদেশে আইন ও সংবিধান মানতে অস্বীকার করবে তাদের কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করতে হবে। জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক চার্টার অনুযায়ী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী তাদের জাতীয়তা, রাজনৈতিক অধিকার, নাগরিক স্ট্যাটাস ও আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অধিকার সংরক্ষণ করে। তাই সন্তু লারমা তার জুম্মল্যান্ড প্রতিষ্ঠার অন্যতম উপায় হিসাবে নিজেদের আদিবাসী স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
Email : palash74@gmail.com

প্রবন্ধটি গত ২১ ডিসেম্বর ২০১৪ তারি্খে দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত হয়েছিল

লেখকের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আরো কিছু লেখা

 

বিজয় দিবস পালন করেনি পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো: কটুক্তি ফেসবুকে

বিজয় দিবস

মুজিবুর রহমান ভুইয়া :

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত, ২ লাখ নারীর সম্ভ্রমহানীর বিনিময়ে এই বিজয় অর্জিত হয়েছে। আর এর মাধ্যমেই বিশ্বের বুকে জন্ম নিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ। সেকারণে ৪৩ বছর ধরে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ বিপুল গাম্ভীর্য,  আনন্দ ও উৎসবের মাধ্যমে এই দিন পালন করে আসছে। সরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্বশাসিত, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন যথাসাধ্য ভাবমর্যাদার সাথে এ দিন পালন করে থাকে। তবে এর ব্যতিক্রম হচ্ছে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো ও তাদের নেতৃবৃন্দ। বিজয় দিবস পালিত হয় না সেখানে।

গত ১৬ ডিসেম্বরের প্রথম প্রহরে রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচরে পাহাড়ী কর্তৃক বাঙালীদের ফলন্ত ও কাঠের বাগান ধ্বংস এবং প্রতিবাদে পাহাড়ীদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পাহাড়ী সংগঠনগুলো বাঙালীদের বিরুদ্ধে বিজয় দিবসের প্রাক্কালে এহেন সাম্প্রদায়িক হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই পাহাড়ী সংগঠনগুলো নিজেরা কখনোই বাংলাদেশের বিজয় দিবস পালন করে না। এ বছরও তার অন্যথা হয়নি।

যদিও সারাদেশের ন্যায় পাহাড়ে ব্যাপক আয়োজন ও যথাযোগ্য মর্যাদার মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। এজন্য দিনব্যাপী নানাকর্মসুচী পালন করা হয় সরকারীভাবে। পাহাড়ে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গসংগঠনগুলোও ব্যাপক উদ্দীপনার সাথে জাতীয় বিজয় দিবস পালন করেছে। এসব উৎসবে বাঙালীদের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির সাথে জড়িত বিপুল সংখ্যক উপজাতীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ উপজাতীয় জনতা অংশগ্রহণ করেছে। তবে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর জাতীয় বিজয় দিবস উপলক্ষে কোনো কর্মসূচী ছিল না।

অব্যাহত চাঁদাবাজি, অপহরণ, হত্যা ও গুমসহনানা সহিংস রাজনৈতিক কর্মসুচী নিয়ে পাহাড়ের বিভিন্ন জনপদে নানা কর্মসূচী দেখা গেলেও মহান বিজয় দিবসের কোন কর্মসুচীতে দেখা যায়নি পাহাড়ের অনিবন্ধিত আঞ্চলিক সংগঠন চুক্তিবিরোধী ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ, চুক্তির পক্ষের শক্তি হিসেবে পরিচিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি-জেএসএস (সন্তু লারমা) এবং পুর্ণ স্বায়ত্বশাসনের দাবীতে আন্দোলনরত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএস (এমএন লারমা) সহ বিভিন্ন উপ-গ্রুপগুলোকে। এমনকি বিজয় দিবসের কোনো অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি ১৬ বছর ধরে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ভোগকারী জেএসএস সভাপতি সন্তু লারমাকে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের বিজয় দিবসে পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের স্বতন্ত্র কর্মসূচী ছিল না। এমনকি এসব কোনো সংগঠনই তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো নেতা বিজয় দিবসে শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পন করেনি।

yyyy

শুধু বিজয় দিবস পালন না করাই নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থকদের ফেসবুক আইডি ও তাদের পরিচালিত বিভিন্ন পেইজে বাংলাদেশের জাতীয় বিজয় দিবস নিয়ে কটুক্তি ও অশ্লীল গালিগালাজ করা হয় যা বর্ণণার অযোগ্য। এমনকি বিজয় দিবস বয়কট করার আহ্বান জানানো হয় এসব পেইজ ও আইডিগুলোতে।

মহান বিজয় দিবসের মতো একটি জাতীয় দিবসের কোন কর্মসুচী নিয়ে মাঠে না থাকায় এসব সংগঠনের দেশপ্রেম, দেশাত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পাহাড়ের সচেতনমহল। তাদের মতে, যাদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য, দেশপ্রেম, দেশাত্ববোধ নেই তাদের বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই। তাদেরকে দেশের স্বাধীনতা বিরোধী দাবী করে সচেতন মহলটি জানতে চায় আসলে এ সংগঠনগুলো কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পাহাড়ে রাজনীতির নামে একের পর এক সহিংসতা করছে।

এ বিষয়ে নিজের নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক উপজাতীয় জনপ্রনিধি বলেন, আঞ্চলিক দলগুলো দেশের বা জনগণের স্বার্থে নয়, তারা তাদের নিজেদের স্বার্থেই বিভিন্ন সহিংস কর্মসুচী পালন করে থাকে। দেশ বা জনগনের প্রতি তাদের কোন ‘কমিটমেন্ট’ নেই। তাই বিজয় দিবসের মতো কোন কর্মসুচীতেও তারা শহীদ মিনার বা মাঠে নেই। তিনি আইন করে তাদের সহিংস রাজনীতি নিষিদ্ধ করারও দাবী জানান।

পানছড়ি

বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে কোন কর্মসুচীতে নেই কেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে পার্বত্য চট্গ্রাম জনসংহতি সমিতি-জেএসএস’র (সন্তু লারমা) সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা যেকোন জাতীয় দিবসে জনসংহতি সমিতিরি অংশগ্রহণ থাকে দাবী করে পার্বত্যনিউজকে বলেন, আমরা অনেক ভোরে শহীদ মিনারে যাই বলে আমাদেরকে কেউ দেখেনা। তবে বিজয় দিবসসহ সকল জাতীয় দিবসের প্রতি আমাদের সমান শ্রদ্ধা আছে। বিভিন্ন জাতীয় দিবস সরকারীভাবেই পালন করা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আমাদের সেরকম ভুমিকা রাখার সুযোগ সীমিত বলে দাবী করেন জেএসএস’র এ নেতা। তবে তিনি বারবারই দাবী করে বলেন, লিডিং ভুমিকা না থাকলেও বিভিন্ন জাতীয় দিবসে জনসংহতি সমিতির অংশগ্রহণ থাকে।

এদিকে এ বিষয়ে জানার জন্য পাহাড়ের অনিবন্ধিত আঞ্চলিক সংগঠন চুক্তিবিরোধী ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ‘র কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান নিরণ চাকমা’র মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও সংযোগ না পাওয়ায় তার কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

বিজয় দিবস কোন দলীয় দিবস নয় এটা একটা জাতীয় দিবস, তাই বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসকে দলীয় কর্মসুচীতে নিয়ে আসা ঠিক হবেনা দাবী করে পুর্ণ স্বায়ত্বশাসনের দাবীতে আন্দোলনরত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি-জেএসএস‘র (এমএন লারমা) খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কিরণ চাকমা বলেন, বিজয় দিবস সকলের আনন্দের দিন। আমরা সকলেই দিবসটিকে যথাযোগ্যভাবে পালন করে থাকি।

বিভিন্ন জাতীয় দিবসে সরকারী কর্মসুচীর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দিবসটি নানা কর্মসুচীর মধ্য দিয়ে পালন করলেও জেএসএস (এমএন লারমা)সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনকে এরকম কোন কর্মসুচী পালন করেনি কেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা সরকারী সকল কর্মসুচীতে ছিলাম। জনসংহতি সমিতিকে আলাদা করে বিজয় দিবস পালন করতে হবে এমনটা ঠিক নয় বলেও দাবী করেন তিনি।

এসব দল বিজয় দিবসের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসের প্রাক্কালে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বগাছড়ির তরুনীপাড়া এলাকায় বাঙ্গালিদের প্রায় পনের একর আনারস বাগানের সাড়ে ৪ লাখ ফলন্ত আনারসের গাছ এবং একটি নতুন সেগুন বাগানের কয়েক হাজার সেগুন চারা কেটে ফেলে দেয় পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা। আনারস বাগানের মালিক নুরুল ইসলাম, মো. আসাদ, কামাল হোসেন, জামাল হোসেন এবং সেগুন বাগানের মালিক আবছার মাস্টার বাগানে গিয়ে দেখতে পান নিজেদের বাগানের ধ্বংসাবশেষ। তাদের অভিযোগ পাশের গ্রাামের পাহাড়িরাই রাতের আঁধারে তাদের বাগানের গাছগুলো কেটে ফেলে ধ্বংস করে দিয়েছে। ওই আনারস ও সেগুন বাগান কেটে ফেলার ঘটনাকে ঘিরে কুতুকছড়ি ইউনিয়নের বগাছড়ি এলাকার বাঙালিদের মাঝে ব্যাপক আকারে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে পাহাড়ী সংগঠনগুলোর জাতীয় দিবস পালন না করা নিয়ে পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলকাস আল মামুন ভুইয়া টেলিফোনে পার্বত্যনিউজকে জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পাহাড়ী সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো ১৯৭১ সালের মতো এখনো বাঙালীদের স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস মেনে নিতে পারেনি। তাই বিজয় দিবসের প্রাক্কালে জাতির দৃষ্টি অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতে, বিজয় দিবসকে কলঙ্কিত করতে পরিকল্পিতভাবেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সমতলে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পতাকা না তুললে, জাতীয় সঙ্গীত না গাইলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিন্তু পাহাড়ী সংগঠনগুলো এবং তাদের নেতারা বছরের পর বছর জাতীয় বিজয় দবিসকে অবজ্ঞা করে যাচ্ছে কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

সমঅধিকার আন্দোলনের মহাসচিব মনিরুজ্জামান মনির পার্বত্যনিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা নানিয়ারচর থেকে বাঙালী উচ্ছেদে পরিকল্পিতভাবে নানা অত্যাচার ও নিপীড়ন চালিয়ে আসছে। অতীতের একাধিকবার এখানে বাঙালী ফসল, সম্পদের উপর আঘাত হেনেছে পাহাড়ীরা। এ ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা মাত্র। এবারে তারা এরসাথে বিজয় দিবসের গৌরব মলিন করতে চেয়েছে। তারা নিজেরা কোথাও বিজয় দিবস পালন করে না। তাই বাঙালীর বিজয় দিবসকে বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, তারা বাঙালীর স্বাধীনতা মেনে না নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাকিস্তানী, ভারতীয় ও মিয়ানমারের পতাকা উড়িয়েছিল। এখনো তারা জুম্মরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী বলেই বাঙালীর জাতীয় বিজয় দিবস পালন করে না। নেতৃবৃন্দ এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালীদের চিকিৎসাসহ পুনর্বাসন সহায়তা দেয়ার দাবী জানিয়েছে।

মাটিরাঙ্গায় ইতালিয়ান পিস্তলসহ জেএসএস সন্ত্রাসী আটক : ৪ পুলিশ আহত(ভিডিওসহ)

Arms Recover 19.10 (1)

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ইতালির তৈরী ৭.৬৫ বোরের পিস্তলসহ এক উপজাতি সন্ত্রাসীকে মাটিরাঙ্গা ও গুইমারা থানা পুলিশ এক যৌথ অভিযানের মাধ্যমে আটক করেছে।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ন‘টার দিকে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার শেখ মো: মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল বাইল্যাছড়ির কামাল কোম্পানীর ব্রিক ফিল্ড থেকে এ সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃত সন্ত্রাসীর নাম কিশোর কুমার ত্রিপুরা (৩০) প্রকাশ বীতেন ত্রিপুরা। সে বাই্ল্যাছড়ির ৩ নং রাবার বাগান এলাকার ধীরেন্দ্র কুমার ত্রিপুরার ছেলে। সে জনসংহতি সমিতি‘র (এমএন লারমা) স্থানীয় নেতা ও চাঁদা আদায়কারী বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

অভিযানকালে সন্ত্রাসী কিশোর ত্রিপুরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করলে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান মাটিরাঙ্গা থানার এস আই মো: কবির হোসেন। এসময় পুলিশের সাথে সন্ত্রাসী কিশোর ত্রিপুরা‘র ধস্তাস্তির ঘটনাও ঘটে। এ সময় পুলিশ তাকে জাপটে ধরে। তবে ধস্তাধস্তিতে পুলিশের এস.আই কবির, এ.এস.আই মহসিন, কনষ্টবল আল মামুন ও ডিএসবি লাইজু আহত হয়। আটককালে পুলিশ তার কাছ থেকে ৫ রাউন্ড গুলিসহ একটি ইতালিয়ান ব্যারেটা পিস্তল, নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার শেখ মো: মিজানুর রহমান বলেন, কিছুদিন যাবত এই সন্ত্রাসী আমাদের অব্যাহত নজরদারীতে ছিল। অবশেষে আজ তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেফতার করা হলো। এটা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের একটা বড় সাফল্য বলেও মনে করেন তিনি। তিনি বলেন আপনারা জানেন, এসকল সন্ত্রাসীরা চাঁদাবজি ও হত্যা থেকে সব অপরাধমুলক কর্মকান্ড করে থাকে। তারা বিভিন্ন ভাবে এখানকার মানুষকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। তিনি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করে সকলের সহযোগিতা নিয়ে সুন্দর আইন-শৃঙ্খলা পরিবেশ উপহার দিতে পারবো। তিনি বলেন স্থানীয় আঞ্চলিক সংগঠনের ব্যানারে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা এখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ সার্বিক উন্নয়ন ব্যহত করার চেষ্টা করছে।

পানছড়িতে পুলিশের অস্ত্র হারানোর ঘটনার সাথে এসব সন্ত্রাসীদের কোন ধরনের যোগসুত্র আছে কিনা স্থানীয় সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবিষয়ে একটি মামলা চলমান রয়েছে তাই তদন্তের স্বার্থে এবিষয়ে বেশী কিছু বলা যাবেনা। তবে অস্ত্রটি উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং অস্ত্রটি উদ্ধারে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সন্ত্রাসীরা আটকের পর খুব অল্প সময়ে জামিনে বেরিয়ে আসে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উপযুক্ত স্বাক্ষীর অভাবেই সন্ত্রাসীরা বেরিয় আসে।

পুলিশের হাতে আটক সন্ত্রাসী কিশোর কুমার ত্রিপুরা (৩০) প্রকাশ বীতেন ত্রিপুরা‘র বিরুদ্ধে গুইমারা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার শেখ মো: মিজানুর রহমান।

এদিকে ইতালির তৈরী ৭.৬৫ বোরের পিস্তলসহ জনসংহতি সমিতি‘র (এমএন লারমা) সন্ত্রাসী কিশোর কুমার ত্রিপুরা (৩০) প্রকাশ বীতেন ত্রিপুরা আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে মাটিরাঙ্গার সাধারণ মানুষ স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলে দেশীয় আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে তার শাস্তি দাবী করেন।