image_pdfimage_print

শান্তিচুক্তির ১৯ বছর পূর্তিকে ঘিরে কাউখালীতে জেএসএস’র কোটি টাকার চাঁদাবাজী

%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a6%b9%e0%a6%ac

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তির ১৯ বছর পূর্তিকে ঘিরে কাউখালীতে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও অংগসংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক কোটি টাকা টার্গেট নির্ধারণ করে গত এক মাস যাবৎ ম্যারাথন কর্মসূচীর মাধ্যমে এ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তিচুক্তির ১৯ বছর পূর্তি। প্রতি বছর এ দিনে রাঙ্গামাটিতে ব্যাপক শো’ডাউন করে থাকে সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতি। এ বছরও দিবসটি পালনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও তাদের ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ।

এ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে শুধু কাউখালীতেই টার্গেট করা হয়েছে এক কোটি টাকা। এ টার্গেট পূরণ করতে চাঁদা আদায়ের ম্যারাথন কর্মসূচী হাতে নেয় তারা। এ লক্ষ্যে গত এক মাস যাবৎ কাউখালী ও এর আশেপাশের এলাকাগুলো চষে বেড়াচ্ছেন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও তাদের ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

কোটি টাকা আদায়ে সংগঠনটি যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো টার্গেট করেছে এর মধ্যে রয়েছে গাছ, বাঁশ, সরকারী চাকুরীজীবী, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্রিকফিল্ড। ইতোমধ্যেই উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছ থেকে মাথাপিছু এক হাজার টাকা নির্ধারণ করে তা যথাসময়ে পাঠিয়ে দিতে মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

যথা সময়ে নির্ধারিত টাকা পাঠিয়ে দেয়া না হলে সেসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকিও দেয়া হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন দূর্গম অঞ্চলে কর্মরত স্কুল শিক্ষকরা। জীবনের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বেশীরভাগ শিক্ষকই টাকা পৌঁছে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এসব শিক্ষকদের মতে পানিতে বাস করে কুমিরের সাথে লড়াই করা ঠিক হবেনা। আবার আতঙ্কিত অনেক শিক্ষক কাউখালী সেনা ক্যাম্পে মৌখিক অভিযোগও করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলমপতি, ঘাগড়া, বেতবুনিয়া ও ফটিকছড়ি ইউনিয়নের অসংখ্য শিক্ষক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিষয়টি স্থানীয় সেনা ক্যাম্পকে অবগত করায় দাদারা ক্ষিপ্ত হয়েছেন।

উপজেলার সরকারী অফিসগুলো ঘুরে জানা গেছে, বেশীরভাগ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে পদ ও পদবী হারে টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এসব সরকারী চাকুরীজিবীরা চাঁদা দেয়ার কথা স্বীকার করলেও নির্ধারিত চাঁদার পরিমাণ কত তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

কোটি টাকার লক্ষ পূরণের প্রধান টার্গেট হচ্ছে গাছ ও বাঁশ ব্যবসা। মৌসুমটি গাছ ও বাঁশ ব্যবসার হওয়ায় এসব ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা হবে অন্তত অর্ধ কোটি টাকা। এমন তথ্য পাওয়া গেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে।

এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন ঠিকাদার, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সড়কে চলাচলরত গাড়ীগুলো। তবে যেসব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও সড়কে চলাচলরত গাড়ীগুলো জেএসএস থেকে বছর ব্যাপী টোকেন সংগ্রহ করেছেন তাদের কাছ থেকে চাঁদার পরিমাণ কম রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রধানের বক্তব্য বা নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় জেএসএস’র কেন্দ্রীয় তথ্য ও সহ প্রচার সম্পাদ সজীব চাকমার সাথে। তিনি জানান, সারাদেশে যেভাবে চলছে আমাদের নেতা কর্মীরাও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সেভাবে সহযোগিতা নিচ্ছে। এটাকে কোন ক্রমেই চাঁদাবাজি বলা যাবেনা।

তিনি আরো জানান, সবার সাথে আলোচনা স্বাপেক্ষে কর্মসূচী পালনের জন্য টাকা আদায় করা হচ্ছে। কাউকে জোর করে টাকা নেয়া হচ্ছেনা।

এ বিষয়ে জেএসএস কাউখালী উপজেলা সভাপতি সুবাষ চাকমার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে জেএসএস’র লাগামহীন চাঁদাবাজীর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ কাউখালী উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ তুহিন। তিনি জানান, জেএসএস’র চাঁদাবাজীর পরিধি আগের তুলনায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কোটি টাকা চাঁদার লক্ষ্য পূরণ করতে তারা এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও টার্গেট করে অসহায় শিক্ষকদের হয়রানি করছে। তিনি জেএসএস’র চাঁদাবাজী বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কাউখালী থানার ওসি আব্দুল করিম জানান, বিষয়টি আমি অনেকের মুখে শুনেছি। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ না করলে সেক্ষেত্রে আমাদের করার কিছু থাকে না।

সন্তু লারমার সফরের প্রতিবাদে বান্দরবানে বাঙালী সংগঠনগুলোর কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি

সন্তু লারমা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পার্বত্য জন সংহতি সমিতির সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান  সন্তু লারমার আগমনের প্রতিবাদে রবিবার বান্দরবানে বাঙ্গালী সংগঠনগুলো কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।


সফরসূচিতে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও শুধুমাত্র বোমাং সার্কেল চিফ উচ প্রু চৌধুরীর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্য বান্দরবানে তিন দিনের সফরে আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ওরফে সন্তু লারমা।

সূত্র জানায়, রবিবার বান্দরবান-চন্দ্রঘোনা সড়ক পথ হয়ে বিকালে সন্তুু লারমার বান্দরবান এসে উন্নয়ন বোর্ড রেষ্ট হাউজে রাত্রি যাপন করার কথা রয়েছে। এসময় তার সফরসঙ্গী হিসাবে জেএসএস নেতাদের থাকার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার সকাল ১০ টায় বোমাং সার্কেল চিফ উচ প্রু চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে সন্তুু লারমার। ঐ বৈঠকে জেএসএস’র সতস্ত্র বাহিনীর সাথেও বৈঠক করবেন বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় সড়কপথে রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে বান্দরবান ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার। এসময় বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।

এদিকে পার্বত্য নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী আলকাছ আল মামুন ভুঁইয়া জানান, ‘পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীদের গড ফাদার সন্তু লারমার সফরকে কেন্দ্র করে আমরা কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচির ঘোষণা করেছি।’

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর স্থানীয় সূত্রগুলো, সন্তু লারমার বান্দরবান আগমনের হেতু অনুসন্ধান করছে। শুধু বোমাং সার্কেল চিফের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্য তিনি বান্দরবানে তিনদিনের সফরে আসছেন- একথা স্থানীয় সচেতন নাগরিকরাও মানতে নারাজ।

সচেতন নাগরিকরা জানান, আওয়ামীলীগ নেতা মংপুকে অপহরণের পর থেকে সরকারী দল পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আর্কষণ করলে বান্দরবানে বেকাদায় রয়েছে সন্তুু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। জেএসএস’র শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যা মামলা হওয়ায় গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছে সবাই।

এরপর থেকে বান্দরবানে জেএসএস’র কোন কর্মসূচি কয়েক মাস যাবৎ নেই বললে চলে। এরই মধ্যে জেএসএসের অফিসগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী অপারেশন চালিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য নথিপত্র পরীক্ষার জন্য নিয়ে গেছে। পরীক্ষার পর নিরাপত্তা বাহিনী এগুলো ফেরত দিতে চাইলেও ফেরত নেয়ার জন্য জেএসএসের কোনো নেতাকর্মীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, জেএসএস’র নেতা কর্মীদের চাঙ্গা ও তাদের শহরে প্রতিস্থাপন করতেই সন্তুু লারমা বান্দরবানে সফরে আসছেন। সফরকালীন সময়ে তার বান্দরবানে জেএসএস নেতাদের সাথে বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য বান্দরবান জেএসএসের একাধিক নেতার টেলিফোনে কল করা হলেও কারো সংযোগ পাওয়া যায়নি।

বাঘাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বড়ঋষি চাকমা গ্রেফতার

%e0%a6%ac%e0%a7%9c-%e0%a6%8b%e0%a6%b7%e0%a6%bf-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%ae%e0%a6%be

নিজস্ব প্রতিবেদক:

একাধিক হত্যা মামলার আসামী রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বড় ঋষি চাকমাসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এর চার নেতাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার রাঙামাটি জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রোকন উদ্দিন কবির এর আদালতে বাঘাইছড়ি থানায় দায়ের করা অবসর প্রাপ্ত সার্জেন্ট মুকুল চাকমা হত্যা মামলায় আত্মসমর্পন করে জামিন চাইলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে আসামীদের জেল হাজতে প্রেরণ করে।

বাকি আসামীরা হলেন উপজাতীয় আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি প্রভাত কুমার চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক ত্রিদিপ কুমার চাকমা (প্রকাশ দীপ) এবং সার্বাতলী ইউপি মেম্বার অজয় চাকমা।

উল্লেখ্য গত ৩০ মে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মুকুল চাকমা অপহৃত হয়। তার বাড়ি রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির মারিস্যায়। সাবেক সেনা সার্জেন্ট হওয়ার কারণে স্থানীয় জেএসএস’র তার প্রতি অভিযোগ ছিলো, ‘তিনি সেনাবাহিনীর পক্ষে কাজ করেন। সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেন’।

গত ২৩ জুন সরেজমিন পরিদর্শনে মুকুল কান্তির মেয়ে নমিসা চাকমার সাথে কথা বলেছিলেন পার্বত্যনিউজের প্রতিনিধিসহ ঢাকা থেকে যাওয়া একটি সাংবাদিক টিম। নমিসা চাকমা মিডিয়া টিমকে বলেন, ‘জেএসএস’র লোকজন বাবাকে সন্দেহ করতো। তারা ভাবতো তাদের অপকর্মের সব তথ্য বাবা সেনাবাহিনীকে দিয়ে দেয়।’ আর একারণেই গত ৬ মে বাড়ির কাছেই বসেই মুকুল কান্তিকে মারধর করে স্থানীয় জেএসএস নেতা বিস্তার চাকমা। এই ঘটনার পর মুকুলবাড়ি ছেড়ে খাগড়াছড়ি গিয়ে থাকতেন।

risi-chakma-rangamati-bagha-copy

মুকুল কান্তির স্ত্রী সাধনা চাকমা মিডিয়া টিমকে বলেন, গত ৩০ মে বিকেলে মোবাইলে ফোন করে তার স্বামীকে ডেকে নেয় প্রভাত কুমার চাকমা ওরফে কাকলি বাবু। সে জেএসএস উপজেলা কমিটির সভাপতি বলে জানান সাধনা। তিনি বলেন, ৬ মেযে মারধর করা হয়েছিলো তার একটি মিট মিমাংসার কথা বলে তার স্বামীকে ডাকা হয়। তাকে ডেকে উগছড়ির লাইল্যেঘোনার বক্কা চাকমার দোকানে নেয়া হয়। সেখান থেকে মুকুল একবার তার স্ত্রীকে ফোন করে বলেন, সেখানে প্রভাত চাকমা, আবিস্কার চাকমা, ত্রিদিব চাকমা এবং বিস্তার চাকমা আছে। তাদের সাথে তিনি কথা বলছেন।

৩০ মে রাত সাড়ে ৮ টার দিকে এই কথা হয়। ফিরতে দেরী হওয়ায় সাধনা রাত ৯ টার দিকে আবারো তার স্বামীকে ফোন দেন। কিন্তু এবার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। রাতে আরো কয়েকবার ফোন দিয়েছেন, কিন্তু মোবাইল বন্ধ। সেই থেকেই নিখোঁজ মুকুল। তিন/চারদিন পরে একবার ফোনটি খোলা পাওয়া গিয়েছিলো, কেউ ফোন ধরেনি। তারপর থেকে আর কোন সংযোগ মেলেনি। এদিকে, ঘটনার পর বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। থানা পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করতে থাকে।

নমিসা চাকমা বলেন, ওসি সরাসরি বলে দেন, ‘ওরা হলো সম্রাট। ওদের সাথে পারবা না। ওদের সাথে ঝামেলা করো না। মামলা করো না। মামলা করার যখন সময় হবে তখন বলবো।’ থানায় গেলে এই বলে প্রতিবারই বিদায় করে দেয়া হয় সাধনা চাকমা এবং তার মেয়েকে। শেষ পর্যন্ত এই পরিবার ২০ জুন একটি সাধারণ ডায়েরী করতে সক্ষম হন। এরপরও তারা অসংখ্যা বার মামলা করতে গেলে পুলিশ তাদেরকে নানা কথা বলে বিদায় করে দেয়। সাধারণ ডায়েরী করার পরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকেও হুমকী দেয়া হয়।৪/৫ জন মুখোশধারী লোক তাদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসে। এরপর পরিবারের সদস্যরা অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নেন।

নাসিরাবাদ মহিলা কলেজের অনার্সের ছাত্রী নমিসা চাকমা গত ২৩ জুন মিডিয়া টিমকে আরো বলেন, তার মা এবং তারা দুই বোন এখন আর বাড়িতে যেতে পারছেন না। তাদের কোনই নিরাপত্তা নেই। এদিকে, গত ৩ জুুলাই বিকেলেও সার্জেন্ট মুকুলের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় এই ঘটনায় পুলিশ মামলা নেয় নি। তবে ১ মাস পর পুলিশ নমিসা চাকমার দায়ের করা পুরাতন মামলা এজহার হিসাবে গ্রহণ করে পূর্বের তারিখে।

মুকুল কান্তি চাকমার মেয়ে নমিসা চাকমা বাদি হয়ে দায়ের করা এই মামলার তারিখ ৪/৭/২০১৬। মামলার নং- জি আর ২৩৭/১৬। মামলায় বড়ঋষি চাকমাসহ ৮ জনকে আসামী করা হয় যার ১ নম্বর আসামী ছিলেন বড় ঋষি চাকমা। উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তী জামিনে ছিলেন তিনি। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার রাঙামাটির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকন উদ্দীন কবিরের আদালতে আত্মসমর্পন করেন বড় ঋষি চাকমাসহ ৪ জন।  আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর না করে ৪ জনকেই জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বড়ঋষি চাকমার নামে আরো একটি হত্যা রয়েছে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা থানায়। এই মামলাটি একটি হত্যা মামলা। যার নাম্বর হলো-৫, তারিখ ২০/০৯/২০১২ । ধারা-৩০২/৩৪ জিআর ২৮৩/২০১২।

দীঘিনালা উপজেলার ইউপিডিএফ এর তৎকালীন সমন্বয়ক কিশোর চাকমা বাদী হয়ে মোট ১১জনকে আসামী করে এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

চাকমারা মানুষ মারলে এই দেশে বিচার অয় না, বিচার অয় চাকমাদেরকে কেউ গালি দিলে- পাকুয়াখালী গণহত্যা থেকে একমাত্র জীবিত বেঁচে আসা ইউনুস মিয়া

Yunus

বাংলাদেশের পার্বত্যচট্টগ্রামে শান্তিবাহিনী ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর চুক্তি সাক্ষরের পূর্ব পর্যন্ত অজস্র হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। এগুলোর মধ্যে কোন কোন হত্যাকান্ডের নৃসংশতা ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যাগুলোকেও হারমানায়। পাকুয়াখালী ট্রাজেডি এই নৃসংশ গণহত্যাগুলোরই একটি। ১৯৯৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে ঘটে বর্বরতম এই ঘটনা। এই দিন পাকুয়াখালীতে শান্তিবাহিনী ঘটিয়েছিল পার্বত্য ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকান্ড। ৩৫ জন নিরীহ বাঙালি কাঠুরিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করে বিকৃত করেছিল তাদের প্রতিটি লাশ। সেদিন ঘটনাস্থল থেকে সৃষ্টিকর্তার অসীম করুণায় পালিয়ে আসতে পেরেছিল মুহাম্মদ ইউনুছ মিয়া নামের এক ভাগ্যবান। সেদিনের সেই মৃত্যুকূপ থেকে ফিরে আসা ইউনুছ মিয়ার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- সৈয়দ ইবনে রহমত।

প্রঃ কি করছিলেন?
উঃ গায়ে জ্বর, শুইয়া আছিলাম।

প্রঃ কতদিন যাবৎ জ্বর? ওষুধপত্র খাচ্ছেন না?
উঃ দুইদিন ধইরা জ্বর। ভাই, ওষুধপাতি খাইয়া কি অইব। জ্বরের লাগি ওষুধ খাইলেই কি আর না খাইলেই কি। এই বাড়ে-এই কমে, ওষুধ খাওন লাগব না, দুই দিন পরে এমনেই সাইরা যাইব।

প্রঃ আপনার কাছে আসার উদ্দেশ্য হলো পাকুয়াখালী হত্যাকান্ড সম্পর্কে কিছু কথা জানা।
উঃ এইসব কইয়া লাভ কি? কতই তো কইলাম। আর্মি, পুলিশ, সিআইডির অফিসার, সাংবাদিক, আরো কতজনের লগে কইছি। কই, কিছুইতো অইল না। এইসব কইয়া আর মনের জ্বালাটা বাড়াইয়া লাভ কি?

প্রঃ আপনারা তো জানতেন যে, পাহাড়ে শান্তিবাহিনী আছে, তারা বাঙালির দেখা মাত্রই গুলি করে। তারপরও পাহাড়ে যাওয়ার সাহস পেলেন কিভাবে?
উঃ ভাই, শখ কইরা কেউ কী আর মরণের সামনে যায়? পেটের দায়ে যাওন লাগে। পাহাড়ে যাওন ছাড়া আর তো বাঁচনের পথ নাই। সামান্য জমি-জমা যা আছে এইডাও তো কোন বছর চাষ কইরা ঘরে তোলা যায় না। কাপ্তাই বান্ধের পানি আইসা ডুবাইয়া দেয়। তাই বাধ্য অইয়াই পাহাড়ে যাওন লাগে। আর পাকুয়াখালীর ঘটনার সময়তো কোন ভয় আছিল না। তখন শান্তিবাহিনীর লগে আমাদের চুক্তি আছিল। আমরা তাদেরকে ১ ফুট (এক ঘনফুট) গাছের বিনিময়ে ৪০/৫০ টাকা কইরা চান্দা দিতাম।

প্রঃ শান্তিবাহিনীর সাথে কখন থেকে টাকার বিনিময়ে গাছ কাটার চুক্তি হয়েছিল?
উঃ পাকুয়াখালীর ঘটনার ৫/৬ বছর আগে একদিন বড় মাহিল্যার তক্তা নজরুল (লম্বা এবং হালকা পাতলা গড়নের কারণে তাকে লোকজন তক্তা নজরুল নামে চিনত) আমাদের কইল, পাহাড়ে গাছ কাটতে গেলে শান্তিবাহিনীরা আর বাঙালিরে গুলি করব না। কিন্তু তাদেরকে চান্দা দিতে অইব। তারপর থাইক্যা শুরু অইল গাছ কাটা। আগের থাইক্যাই চাকমাদের লগে নজরুল ভাইয়ের বালা সম্পর্ক আছিল। চাকমাদের বাড়ীতে মাঝে মধ্যে হে যাইত, আবার চাকমারাও হের বাড়ীতে আসা যাওয়া করত। এদের মধ্যে কেউ কেউ শান্তিবাহিনীও আছিল। তারাই তক্তা নজরুলরে দিয়া চান্দার মাধ্যমে গাছ কাটার খবর দিছিল।

প্রঃ চাঁদা দিয়া যখন গাছ কাটতেন, তখন আপনাদের সাথে শান্তিবাহিনী কেমন আচরণ করত?
উঃ এমনিতে তারা কোন খারাপ আচরণ করত না। তবে তাদের আইন কানুন আছিল খুব কড়া। যেই দিন যা কইতো, তাই করতে অইতো। কেউ কথা না হুনলে মাইর-ধোর করতো, পাহাড়ে যাওন বন্ধ কইরা দিত।

প্রঃ আপনারা যেখানে গাছ কাটতে যেতেন, সেখানকার চাকমাদের সাথে আপনাদের সম্পর্ক কেমন ছিল?
উঃ আমরা যেখানে গাছ কাটতে যাইতাম সেখানে অনেক চাকমা বসবাস করত। এদের কেউ কেউ শান্তিবাহিনীও আছিল। তবে বেশির ভাগই ছিল আমাদের মতই সাধারণ মানুষ। তারাও আমাদের সাথে গাছ কাটত। স্থানীয় এইসব চাকমাদের লগে আমাদের বালা সম্পর্ক আছিল। তারা আমাদের ঈদ-পরবের সময় বেড়াইতে আইত। আমরাও বিজুর (চাকমাদের বাৎসরিক উৎসব) সময় তাদের বাড়ীতে বেড়াইতে যাইতাম। অনেক সময় পাহাড়ে কোন গন্ডগোলের ভাব থাকলে তারা আমাদেরকে আগেই জানাইয়া দিত।

প্রঃ শান্তিবাহিনীর সাথে স্থানীয় চাকমাদের সম্পর্ক কেমন ছিল?
উঃ শান্তিবাহিনীরা স্থানীয় চাকমাদের উপরেও অত্যাচার করতো, ওদের কাছ থাইকয়াও চান্দা নিত। সামান্য ভুল-ত্রুটি অইলে বা তাদের কথামতো না চললে মাইর-ধোর করতো। কতজনরে তো গুলি কইরা মাইরাও ফালাইছে। শান্তিবাহিনীর খাওন-খোরাক অনেক সময় বাজার থাইক্যা কিইন্যা পাহাড়ে গিয়া দিয় আইতে অইতো। তাই স্থানীয় চাকমারা কৌশলে শান্তিবাহিনীর কালেক্টরদেরকে বিপদে ফালাইয়া তাড়ানোর চেষ্টা করতো। কোন কোন সময় মদ-টদ খাওয়াইয়া মাইয়া সংক্রান্ত ঝামেলায় ফালাইতো, আবার কোন কোন সময় টাকা-পয়সার হিসাবে গোলমাল লাগাইয়া শান্তিবাহিনীর বড় অফিসারের কাছে নালিশ করতো। এমনও সময় গেছে যখন এক মাসের মধ্যে তিন-চারজন কালেক্টর বদল হইছে।

প্রঃ দুই মাসের চাঁদা বাকি পড়ায় শান্তিবাহিনী ব্যবসায়ীদেরকে একটা মিটিংয়ে ডেকেছিল। কিন্তু ব্যবসায়ীরা না যাওয়ায় তারা ক্ষেপে গিয়ে এই হত্যাকান্ড চালিয়ে ছিল বলে অনেকে মনে করে। আপনারও কি তাই মনে হয়?
উঃ এইডা একটা ফালতু কথা। ব্যবসায়ীরা পাহাড়েও যায় না। পাহাড়ে গিয়া কখনো চান্দা দেয় না। পাহাড়ে যাই আমরা। কাঠ বলেন, বাঁশ বলেন, তার চান্দা প্রত্যেক দিন সন্ধ্যার সময় দিয়াই আনতে হইত। কোন দিনের চান্দাই বাকি থাকত না।

প্রঃ ব্যবসায়ীদের কথা বলছি-
উঃ ব্যবসায়ীরা তাদের মাল (কাঠ, বাঁশ) নেওনের সময় রাস্তায় রাস্তায় চান্দা দেয়। চান্দা ছাড়া ১ ফুট গাছ নেওনের ক্ষেমতাও ব্যবসায়ীদে নাই। চান্দা বাকী রাইখ্যা শান্তিবাহিনী গাছ নিতে দিছে এই কথা জীবনেও শুনি নাই। ব্যবসা করতে চাইলে তাদেরকে চান্দা দেওনই লাগবো। আর হেগোর লাইগ্যা আমাদের মতন গরীব মানুষেরে মারব ক্যান্?

প্রঃ এতগুলো মানুষকে নির্মমভাবে মেরে ফেলার পিছনে কি কারণ আছে বলে আপনার মনে হয়?
উঃ জানি না ভাই। কি জন্য যে মারল, হেইডাই তো কইতে পারি না। ওরা ভাই বিশ্বাসঘাতক, মীরজাফর, তক্তা নজরুলরে পর্যন্ত মাইরা ফালাইল। যে নিজে না খাইয়াও হেগোরে খাওয়াইছে, কত বিপদ থাইক্যা উদ্ধার করছে।

প্রঃ ঘটনার দিন পাহাড়ে গিয়ে সন্দেহজনক কিছু দেখেছিলেন?
উঃ ঐদিন আমার পোলাগো মোসলমানির (খৎনা করার) কথা আছিল। তাছাড়া শরীরটাও বেশি বালা আছিলনা। কিন্তু আলাল ভাই (স্ত্রীর বড় ভাই) কইল, পাহাড়ে যাওনের লাগি। একরকম জোরের মধ্যেই আমি আলাল ভাইয়ের লগে রওনা হইলাম। অফিস ছড়া দিয়া পাহাড়ে ঢুকলাম। কেচিং (একটা জায়গার নাম) থাইক্যা সামান্য উপরে একটা দোকান। দোকানে দেখলাম তিনজন শান্তিবাহিনী অস্ত্র নিয়া বইসা আছে। এইডাতে অবশ্য সন্দেহ করি নাই। এই রকমতো মাঝে মধ্যেই দেখতাম। আলাল ভাইয়ের সাথে গ্যানো চাকমার ছোটখাট ব্যবসা আছিল। আলাল ভাই তার জন্য কিছু টাকা নিয়া গেছিল। টাকা দেওনের লাগি আলাল ভাই যখন গ্যানো চাকমার সাথে কথা কইতেছিল তখন কালু চাকমা এবং তার সাথের কয়েকজন আইসা কইল, মিটিং আছে, ভিতরে যাইতে অইব। তখন আলাল ভাই কইল, গ্যানো বদ্দা, তোমার টাকা মিটিং থাইক্যা আসার সময় দিব। কিন্তু গ্যানো চাকমা, টাকাটা তখনই লইতে চাইছিল। কালু চাকমা আলাল ভাইরে কইল, যাওনের সময় দিয়া যাওনের লাইগ্যা।

প্রঃ প্রথম কখন বুঝতে পারলেন যে, কোন দুর্ঘটনার সম্ভাবনা আছে?
উঃ কালু চাকমার সাথে কিছুদূর যাইতেই দেখি রাস্তার দুই পাশে চার জন করে মোট আট জন এসএম জি নিয়া বইসা আছে। আমরা কাছে যাওন মাত্রই আমাদেরকে ঘিরে ফালাইল। এই অবস্থা দেইখ্যাই আমার প্রথম মনে অইল যে, আজকে আমাদেরকে মাইরা ফালাইব। পকেট থাইক্যা টাকা পয়সা সব রাইখ্যা কালু চাকমা আর তার লগের একজন আমাদের হাত পিছ-মোড়া কইরা গাছের লতা দিয়া বানল। বান্ধার সময় কইল মিটিংয়ের জায়গা নিয়া বান ছাইড়া দিব। তখন আমি কইলাম ছাইড়াই যখন দিবা, তখন অত শক্ত কইরা বান্ধনের দরকার কী, আমরাতো পালাইতেছি না। আমিও হাত এমন ভাবে রাখলাম যাতে বান বেশি শক্ত না হয়।

প্রঃ আপনাদের বেঁধে যেখানে নিয়ে গেল সেখানে গিয়ে কি দেখলেন?
উঃ ১৫/২০ মিনিট হাইট্টা ভিতরে যাওনের পর দেখলাম একাটা মেড়া গাছের লগে তক্তা নজরুলসহ ৪ জন বান্ধা। সামনেই অন্যান্য গাছের লগে আরো মানুষ বান্ধা। গুনে দেখলাম আমিসহ ২৯ জন। এলএমজি ও এসএমজি হাতে পাহাড়া দিতেছে ১৯ জন শান্তিবাহিনী। আর লাঠি, দা, কুইচ্যা মারা শিক হাতে আরো ১২ জন চাকমা আছে, এদের মধ্যে কয়েকজনরে আমি চিনি। তারা হল- লাম্পায়া চাকমা, ছিক্কা কারবারী, বলি চাকমা, শান্তিময় চাকমা, বাবুল চাকমা, গুলুক্যা চাকমা, তরুন চাকমা(কালেক্টর), কবির চাকমা, বাশি চাকমা, বিমল চাকমা এবং সমিতি রঞ্জন চাকমা। এক সময় শান্তিবাহিনীর একজন একটা খাতা ও কলম নিয়া আমাদের সবার নাম লিখল এবং কার কাছ থাইক্যা রাস্তায় কত টাকা এবং কি কি জিনিস পত্র রাখা হইছে তা লিখল।

প্রঃ বাঁধা অবস্থা থেকে আপনি পালালেন কিভাবে?
উঃ কিছুক্ষণ পর কালাপাকুইজ্যার ৫ জনরে গাছের থাইক্যা দড়ি খুইল্লা আরো সামনের দিকে লইয়া গেল। তাদের সাথে গেল ২ জন অস্ত্রধারী আর ৩ জন গেল দা, লাঠি, কুইচ্যা মারার শিক নিয়া। ১০/১২ মিনিট পর নজরুল ভাইসহ আরো ৫ জনরে নিয়া গেল। কিছুদূর যাওয়ার পর দেখলাম নজরুল ভাই আর যাইতে চাইতেছে না। তখন একজন তারে ঘাড়ে ধাক্কা দিয়া নিয়া গেল। তখনই বুঝলাম যে, লোকজনেরে সামনে নিয়া মাইরা ফালাইতেছে। কারণ নজরুল ভাইরে ঘাড়ে ধরা দূরের কথা. তার লগে গরম অইয়াও চাকমাদেরকে কথা কইতে কোন দিন দেহি নাই। তখন আমি একজনরে কইলাম, দাদা আমি একটু পেশাব করব। উনি এবং আরেক জন আমাকে একটু দূরে নিয়া গেল। পেশাবের ছল কইরা কিছুক্ষণ বইসা থাইক্যা মনে মনে ঠিক করছিলাম খাড়াইয়াই দৌড় দিমু। কিন্তু যখন খাড়াইলাম, তখন ঠাস কইরা বাঁকা একটা বাঁশের লগে মাথাটা বাড়ি লাগল। তখন আমার সাথের শান্তিবাহিনী দুইজন সর্তক হইয়া গেল। আমি মাথা হাতাইতে হাতাইতে আবার আগের জায়গায় আইলাম। আমারে আবার অন্যদের লগে বানল। তখন খুব লুকাইয়া লুকাইয়া আমি আমার হাতের বান খুইলা ফালাইলাম এবং কেউ যাতে বুঝতে না পারে সেই জন্য হাতের নিচে চাইপ্যা রাখলাম। তারপর আল্লাহর নাম লইয়া দিলাম এক দৌড়।

কিন্তু সামনেই দেখি এলএমজি নিয়া একজন খাড়াইয়া রইছে। আমারে কইল, দৌড় দিবিনা, ব্রাশ কইরা দিমু, তখন আমি ডান পাশের ছড়ার দিকে লাফ দিলাম। লাফ দেয়ার সাথে সাথে ব্রাশ ফায়ারের শব্দ শুনলাম, আর শব্দ শুনতে শুনতেই গড়ায়ে পড়লাম নিচের দিকে। কিছুদূর যাওয়ার পর একটা গাছের গুড়ির দিকে গর্তমতো জাগা পাইলাম। সেইখানে বইসা মাথার উপরে জঙ্গল টাইন্যা ধইরা রাখলাম। ভয়ে তখন আমার বুকের মধ্যে এমন জোরে আওয়াজ অইতেছিল যে, মনে হইছিল এই শব্দ না জানি শান্তিবাহিনী শুইনা ফালায়। রাত হওয়ার পর ছড়া দিয়াই বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। ছড়ার মধ্যে কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও গলা পানি, আবার কোথাও সাঁতার। ঘন জঙ্গলে ভরা ছড়া দিয়ে চলবার মত কোন পথ নাই। তার উপর আবার নিশি অন্ধকার। ছড়ার মধ্যে ঠান্ডা পানি, বেতের কাঁটা, বিষাক্ত সাপ, হিংস্র প্রাণীর ভয়ও ছিল। কিন্তু তখন এক শান্তিবাহিনী ছাড়া আর কিছুকেই ভয় হচ্ছিল না। সারা রাত হেঁটে হেঁটে অবশেষে ভোরের দিকে পাহাড় থেকে বের হই।

প্রঃ ১১ তারিখ সেনাবাহিনীর লাশ উদ্ধারের কথা কিছু বলুন।
উঃ বাড়িতে আসার পর আর্মিরা যহন জানল যে আমাকেও শান্তিবাহিনী ধরে নিয়া গেছিল। তহন তারা আমাকে সাথে নিয়া গেল পথ দেখানোর জন্য। আমি তাদের পাহাড়ে নিয়া গেলাম। তক্তা নজরুলরে যেইখানে ঘাড়ে ধাক্কা দিছিল, সেইখান থাইকা আরেকটু সামনে গিয়া দেখলাম, বাম দিকে প্রায় এক-দেড়’শ গজ পাহাড়ের নিচে একটা বেড়া। নিচে নাইমা সেই বেড়া পার হইলাম। কিন্তু তারপর আর রাস্তার কোন চিহ্ন নাই। একটু দূরে দেখলাম, একটা কাঁচা বাঁশের কঞ্চি আধা ভাঙ্গা অবস্থায় ঝুইলা রইছে। কঞ্চিটা সরানোর পর একটা ছোট পথ পাইলাম। এই পথ দিয়া সামনে গিয়া দেখি সরাফদ্দি ভাইয়ের টুপিটা একটা কঞ্চির লগে বাইজ্যা রইছে। এরপর সেন্ডেল, মদের টেংকি, বেশ কয়ডা লাঠিও দেখলাম। তারপর দেখলাম আলাল ভাইয়ের লাশ। আরেকটু সামনে গিয়া দেখি বিশাল জায়গা জুইড়া লাশ আর লাশ। কেউরে চিনা যায় না। বন্দুকের সামনে যে চাকুটা (বেয়নেট) থাকে এইডা দিয়া খোঁচাইয়া খোঁচাইয়া মারছে। লাঠি দিয়া পিটাইয়া, দা দিয়া কুবাইয়া, কুইচ্যা মারার শিক দিয়া পারাইয়া, চোখ তুইলা, আরো কতভাবে যে কষ্ট দিয়া মারছে তা কইয়া শেষ করুন যাইব না। ঐকথা মনে অইলে আইজো শরীরের পশম খাড়াইয়া যায়। ঐখানে লাশ পাওয়া যায় ২৮ জনের।

Pakuakhali-4

Pakuakhali-2

Pakuakhali-

pakuakhali-00

ছবি: পাকুয়াখালিতে নিহত কয়েকজন কাঠুরিয়ার লাশ

প্রঃ মানুষ মারা গিয়েছিল ৩৫ জন,  আপনি বলছেন লাশ পাওয়া যায় ২৮ জনের। বাকিদের সম্পর্কে আপনার ধারণা কি?
উঃ ঘটনার দিন আমি যাদেরকে বান্ধা অবস্থায় দেখছিলাম তাদের মধ্যে আমার পরিচিত আলী, দুলু দুই ভাইসহ ৪ জনের লাশ ঐখানে ছিল না। আর এমন তিনজনের লাশ পাইছি যারা ঐ দিন ঐখানে বান্ধা ছিল না। আমার মনে হয়, আমি পালানোর পরে আরো সাত জনরে শান্তিবাহিনীরা ধইরা নিয়া গেছিল। সাত জনরে মনে হয় অন্য কোন খানে নিয়া মারছে, আমরা তাদের লাশ খুইজ্জা বাইর করতে পারি নাই। আর বালা কইরা খুজবার মতো পরিস্থিতি তখন ছিল না।

প্রঃ শান্তিবাহিনী এতগুলো মানুষকে একসাথে হত্যা করল, অথচ তাদের কোন বিচার হল না। আপনারা কি সরকারের কাছে এর বিচার চান নাই?
উঃ আমরাতো বিচারের দাবী করছিই, আমি নিজে বাদী অইয়া মামলাও করছিলাম। তখন সরকারের মন্ত্রীরাও কইছিল বিচার করব। তদন্তও করছিল। হুনছি তদন্তের রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা দিছে। কিন্তু সেই রিপোর্ট সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। দেখতে দেখতে আজ ১৪ বছর পার অইয়া গেল। কই, কিছুই তো অইল না। শুধু এইডাই না, শান্তিবাহিনী তো আরো অনেক বাঙালিরে মারছে। কোনডারই তো বিচা অয় নাই। চাকমারা মানুষ মারলে তো এই দেশে বিচার অয় না। বিচার অয় চাকমাদেরকে কেউ গালি দিলে, তার। আর অহন তো চুক্তি কইরা শান্তিবাহিনীরাই সরকার (সাবেক শান্তিবাহিনীর প্রধান সন্তু লারমা চুক্তির পর থেকে পার্বত্যচট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন) অইছে। তাইলে আর বিচার করব কেডা?

তারপরেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার দাবী, আপনার বাবাকেও মাইরা ফালাইছিল। বাবা হারানোর ব্যথা আপনি বুঝেন। আর আপনি সেই হত্যাকারীদের বিচার করেছেন। এই জন্য আপনাকেই বলি- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পাকুয়াখালীতে যেসব সন্তান তাদের বাবাকে হারিয়েছে তারাও তাদের বাবা হত্যার বিচার চায়, যারা সেখানে ভাই হারিয়েছে তারা তাদের ভাই হত্যার বিচার চায়, যেসব মা-বাবা তাদের সন্তান হারিয়েছে তারা সন্তান হত্যাকারীর বিচার চায়, যেসব মহিলা স্বামী হারিয়েছে তারা স্বামী হত্যার বিচার চায়। কিন্তু তারা তো আর প্রধানমন্ত্রী হইয়া আত্বীয়-স্বজনদের হত্যাকারীর বিচার করতে পারব না। তাই এই হত্যাকান্ডের বিচার আপনাকেই করতে হইব।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশে আদিবাসী বিষয়ে আরো পড়ুন:

পার্বত্য চট্টগ্রাম জাতীয় দৃষ্টির মধ্যে রাখতে হবে

একটি স্থায়ী পার্বত্যনীতি সময়ের দাবী

বাংলাদেশে আদিবাসী বিতর্ক

আদিবাসী বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনের ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রয়োগ

পার্বত্য চট্টগ্রাম কি বাংলাদেশ নয়, বাঙালীরা কি মানুষ নন- ১

পার্বত্য চট্টগ্রাম কি বাংলাদেশ নয়, বাঙালীরা কি মানুষ নন- ২

পার্বত্য চট্টগ্রাম কি বাংলাদেশ নয়, বাঙালীরা কি মানুষ নন- ৩

চাকমা রাজপরিবারের গোপন ইতিহাস

পার্বত্য চট্টগ্রাম, খ্রিস্টান মিশনারি ও বৌদ্ধ ধর্মের ভবিষ্যৎ-৩

বাংলাদেশে তথাকথিত ‘আদিবাসী’ প্রচারণা রাষ্ট্রীয় স্বার্থ প্রশ্নসাপেক্ষ

বান্দরবানে চলছে জেএসএসের চাঁদাবাজির মহোৎসব(ভিডিও)

চাঁদাবাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বান্দরবানে সন্তু লারমার নেতৃতাধীন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) নীরবে চলছে চাঁদাবাজির মহোৎসব। জেলার সাত উপজেলার শহরের বাইরে মুদি দোকান, কাট ব্যবসায়ী, ঠিকাদার,কৃষক, শ্রমিক, যানবাহন মালিক, সবাইকে চাঁদা দিয়ে নিজ নিজ পেশায় টিকে থাকতে হয়। শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যই নয়, স্থানীয় উৎপাদিত কৃষিপণ্য এলাকার বাহিরে নিতে গেলেই জেএসএস সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে হয়।

এর আগে ব্যবসায়ীদের প্রকার ভেদে চাহিদা মত টাকা দিয়ে বাৎসরিক টোকেন নিতে হয়। অন্যথায় তাদের উপর নেমে আসে অপহরণের হুমকি ও শারীরিক নির্যাতন। ব্যবসা চালানো ও নিরাপত্তার কথা ভেবে নীরবে চাঁদা দিয়ে আসছে পাহাড়ের ব্যবসায়ীরা। জেএসএস’র চাঁদা যেন বৈধতা পেয়ে গেছে পাহাড়ে। প্রশাসন যেন সন্ত্রাসীদের বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয়দের অভিমত।

স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও এলাকাবাসীর সূত্র জানায়, গত অর্থ বছরে সাত উপজেলার ব্রীক ফিল্ড, কাঠ ব্যাবসায়ী থেকে প্রতি ঘন ফুটে ৩৫ টাকা, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান থেকে ১০%, লাকড়ি ব্যবসায়ী, বাঁশ ব্যবসায়ী, তামাক চাষীদের থেকে প্রতি কানি (৪০শতক) ১৪ হাজার টাকা, বাস, জীপ, ট্রাক প্রকার ভেদে ৮ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

আর কাঠ কাঁটা মাঝি, কাঠের চালির মাঝি, মাছ ধরার জেলে, বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী থেকে বাৎসরিক টোকেন নিতে হয়। এছাড়া কলা, আদা, মরিচ, ধান, , হলুদ, আনারস, লেবু, কমলা, কুমড়াসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য বাজার জাত করা কালে গরিব পাহাড়ী কৃষকদের চাঁদা দিতে হয়। এমনকি গবাদিপশু-পাখি বেচাকেনা করতে গিয়েও চাঁদা পরিশোধ করতে হয় স্থানয়িদের। অন্যথায় কোন কিছুই নয়। তবে এক্ষেত্রে পাহাড়ীদের থেকে বাঙ্গালীদের চাঁদার পরিমান একটু বেশী। আর চাঁদা আদায়ের দায়ীত্ব থাকে সশস্ত্র গ্রুপগুলো।

গোয়েন্দা সূত্র মতে, তিন পার্বত্য জেলায় জেএসএস’র পাঁচ হাজার সশস্ত্র বাহিনী রয়েছে। আর এ সশস্ত্র বাহিনী দেশের সেনা বাহিনীর আদলে গড়ে তোলা হয়েছে। এদের মধ্য সিপাহী থেকে শুরু করে মেজর জেনারেল পর্যন্ত রয়েছে। তাদের মাসিক বেতন, রেশন ও নিরাপত্তা ঝুঁকিও দেয়া হয় আদায়কৃত চাঁদার টাকা থেকে।

গোয়েন্দা সূত্র মতে আরো জানা যায়, জেএসএস চাঁদাবাজির মাধ্যমে গত অর্থ বছরে বান্দরবান জেলা থেকে ৩০ কোটি টাকা আদায় করেছে। চলতি অর্থ বছরে এর পরিমান ৫০ কোটি টাকা আদায়ের নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এসব টাকায় তাদের সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ দিতে মিয়ানমার বিদ্রোহী বাহিনী, চীন ও ভারত থেকে অবৈধ অস্ত্র গোলা বারুদ আনা হয়। জেএসএস’র সশস্ত্র বাহিনীর আদায় কারা চাঁদার টাকা দিয়ে অধিকার আদায়ের নামে দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আর বছরের পর বছর নীরবে চাঁদা দিয়ে যাচ্ছেন তিন পার্বত্য জেলার অসহায় মানুষ।

তিন পার্বত্য জেলায় দুর্গম ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পাহাড়ি এলাকা সন্ত্রাসীদের আস্তানা পর্যন্ত পৌঁছা কঠিন। এছাড়া পার্বত্য এলাকায় মোবাইল নেটওর্য়াক থাকায় নিরাপত্তা বাহিনী পৌছাঁর আগেই খবর পেয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নিরাপদস্থলে চলে যায়।

গত মাসে বান্দরবান আইনশৃঙ্খলা সভায় জেএসএস’র সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা থাকায় পুলিশ সুপার আওয়ামীলীগের নেতাদের তোপের মুখে পড়তে হয়। পরে পুলিশ তৎপর হয়ে আ’লীগ নেতা অপহৃরত মংপু মার্মার অপহরণকারী এজাহারভূক্ত কয়েকজন আসামীকে আটক করে। প্রায় দু-মাস হলেও অপহৃরত আ’লীগ নেতাকে উদ্ধার করতে পারেনি।

চাঁদা আদায়ের বিষয়ে বান্দরবান প্রেস ক্লাবে আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং বলেন, দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোও চাঁদা করে। পাহাড়ে সংগঠন চালাতে হলে শুভাকাঙ্ক্ষীদের থেকে চাঁদা নিতে হয়।

১০ হাজারের বেশি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পার্বত্য অঞ্চল

অস্থির পাহাড় দিশেহারা মানুষ (২)

ততততত

আবু সালেহ আকন, পার্বত্যাঞ্চল থেকে ফিরে:

জেএসএস ও ইউপিডিএফের ১০ হাজারের বেশি সন্ত্রাসী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তিন পার্বত্য জেলা। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র বলেছে, এরা সবাই নিজ নিজ সংগঠনের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী। একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীতে যেরূপ পদ-পদবি রয়েছে এই সংগঠন দুটোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও তেমনি পদ-পদবি রয়েছে। তাদের বেতন স্কেলও রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের রয়েছে ঝুঁকি ভাতা।

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ যদি নিহত বা আহত হয় তবে তাদের জন্য রয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ। শুধু পাহাড়ি সন্ত্রাসীরাই নয়, প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে আগত কিছু সন্ত্রাসীও জেএসএস ও ইউপিডিএফের হয়ে কাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্য মতে তিন পার্বত্য জেলায় ১০ হাজারের ওপরে সশস্ত্র সন্ত্রাসী রয়েছে। এদের হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। এদের মধ্যে বান্দরবান উপজেলাতেই রয়েছে পাঁচ হাজারের মতো সন্ত্রাসী। এদের মধ্যে কয়েকজন হলো এস মং ওরফে মেজর আশিষ, মনি চিং মার্মা, কে চিং মার্মা, সিলিপ ত্রিপুরা, ধং চং মার্মা, রাজেন্দ্র ত্রিপুরা, চায়নু মার্মা, হাচিং মার্মা, অঙ্গ মার্মা, কৃষ্ট, রাংকুনু ত্রিপুরা, নিমন্দ্র ত্রিপুরা, ছলেমুল ত্রিপুরা, অতিরাম, র‌্যাংকনো, বিক্রম, জন বাহাদুর, মারুং, সুমন দাস, নিমন্ত্র ত্রিপুরা, হামাজন ত্রিপুরা, লেনছন মেন্ডেলা, অংশৈপ্রু, সরেন্দ্র, নকুল, উইলিয়াম, মনিচিং, চাকনাই মুরং, অং কে জ, জেরী ত্রিপুরা।

কিছু বাঙালি নামের সশস্ত্র সন্ত্রাসীও রয়েছে। নামে বাঙালি হলেও তারা প্রতিবেশী মিয়ানমারের নাগরিক বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে অন্যতম হলো মনছুর রহমান, জাকির হোসেন, শাহ আলম ও আব্বাস উদ্দিন।

চাঁদাবাজী

স্থানীয় সূত্র জানায়, কোথাও কোথাও জেএসএস আবার কোথাও ইউপিডিএফের আধিপত্য পুরো পাহাড়ে। তবে জেএসএস আর ইউপিডিএফ যে-ই হোক তাদের কর্মকাণ্ড সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে চরম আতঙ্কের। বাঙালিদের চেয়েও পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকেরা তাদের কাছে বেশি পণবন্দী।

এর কারণ হিসেবে জানা যায়, বাঙালিরা সাধারণত লোকালয়ে বসবাস করে। শহর কিংবা বাজারের আশপাশে দলবদ্ধ হয়ে এদের বসবাস। আর পাহাড়িরা গহিন অরণ্যে বসবাস করে। অনেক সময় দেখা যায় পাহাড়ের চূড়ায় হয়তো একাকী একটি বাড়িতে বসবাস করছে কোনো পাহাড়ি উপজাতি পরিবার। যে কারণে তাদের সন্ত্রাসীরা সহজেই টার্গেট করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এদের মূল কাজ হচ্ছে চাঁদাবাজি। বিভিন্ন সেক্টর থেকে এরা চাঁদা আদায় করে থাকে। নিবন্ধিত কোনো দল না হলেও পাহাড়ের জেলা উপজেলায় এই দু’টি সংগঠনের দলীয় কার্যালয় রয়েছে। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বছর শুধু বান্দরবান থেকেই জেএসএস ৩০ কোটি টাকার চাঁদা তুলেছে। এ বছর তাদের টার্গেট হলো ৫০ কোটি টাকা। এই দিয়েই দলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, রেশন, অবসরকালীন ভাতা, ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি দেয়া হয়। এ ছাড়া পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো চাঁদার এ অর্থ দিয়ে দেশ-বিদেশে বাঙালি বিদ্বেষী প্রচারণা ও তাদের অস্ত্র ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করার কাজ করে থাকে বলে একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি কর বা ভ্যাটের ন্যায় এখানে প্রকাশ্যে চলে চাঁদাবাজি। সামান্য কলার ব্যবসা থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসা-বাণিজ্য, জেলে, খামার, ঠিকাদারি, উন্নয়নমূলক কাজ সব কিছু থেকে আদায় করা হয় চাঁদা। আর তা না দিলে নির্যাতন, নিপীড়ন থেকে শুরু করে অপহরণ, খুন, ধর্ষণ হওয়ার শঙ্কা ভুক্তভোগীদের। প্রাণভয়ে মুখও খুলতে চান না তারা। স্বয়ং পুলিশ প্রশাসনও তাদের কাছে পণবন্দী বলে অভিযোগ।

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম মোল্লা বলেন, গোপনেও কেউ চাঁদা দেয় কি না তা স্বীকার করে না। শুনি চাঁদা নেয়। কিন্তু কারা দেয় তার খোঁজ পাওয়া যায় না। ভুক্তভোগী কয়েকজন বলেন, চাঁদা যে দিচ্ছে তার হদিস পাওয়া যায় না।

সম্প্রতি পাহাড়ে বিভিন্ন পণ্যের ওপর ‘শান্তি চুক্তি’ সমর্থক জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফের আরোপ করা চাঁদার তালিকা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

চাঁদাবাজি

ওই তালিকা অনুযায়ী, গাছে প্রতি ঘনফুট ও বাঁশে প্রতি শ’ হিসেবে চাঁদা আদায় করা হয়। বর্তমানে প্রতি ঘনফুট সেগুন গোল গাছে জেএসএসকে চাঁদা দিতে হয় বছরে ৪০ টাকা, ইউপিডিএফকে দিতে হয় ৫০ টাকা। এভাবে সেগুন রদ্দা, গামারী গোল-রদ্দা, লালি গোল-রদ্দার ওপর আলাদা আলাদা হারে চাঁদা ধার্য করা হয়েছে।

বর্তমানে প্রতি শ’ বাঁশে বছরে জেএসএস-ইউপিডিএফ উভয়েই চাঁদা আদায় করে ৫০০ টাকা করে। এভাবে বাইজ্জা বাঁশের জন্য রয়েছে আলাদা রেট। প্রথম শ্রেণীর মাছ ব্যবসায়ীদের জেএসএসকে বছরে চাঁদা দিতে হয় ৪০ হাজার, ইউপিডিএফকে ৫০ হাজার। এভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর ব্যবসায়ীদের পৃথক হারে গুনতে হয় চাঁদা।

তালিকা থেকে আরো জানা যায়, বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরার জালের ওপর আলাদা আলাদা হারে বাৎসরিক (নয় মাসে বছর) চাঁদা আদায় করা হয়। কেসকি জাল থেকে জেএসএস আদায় করে ছয় হাজার টাকা, ইউপিডিএফ সাত হাজার। এভাবে ধর্ম জাল, টেংরা জাল, কুত্তা জাল, ভাসা জাল, টেইনা জাল, লুই জাল, নাইট জাল, বড়শির ওপর আলাদা হারে চাঁদা আদায় করে তারা। এ ছাড়া সব ধরনের জেলেদের বছরে চাঁদা দিতে হয় জেএসএসকে ৭০০, ইউপিডিএফকে ৫০০।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত উপজাতি বাসিন্দাদেরও দিতে হয় বাৎসরিক চাঁদা। প্রতি উচ্চবিত্ত পরিবারের জন্য জেএসএস- ইউপিডিএফের ধার্যকৃত চাঁদা ৮০০ টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবার প্রতি জেএসএস আদায় করে ৫০০ এবং ইউপিডিএফ ৬০০। নি¤œবিত্ত পরিবার প্রতি জেএসএস ৩০০, ইউপিডিএফ ৪০০ টাকা চাঁদা আদায় করে।

এ চাঁদার আওতায় বাদ পড়েনি কলার কাঁদিও। প্রতি কাঁদি কলার জন্য বর্তমানে জেএসএসকে ছয় টাকা ও ইউপিডিএফকে দিতে হয় ১০ টাকা। এ ছাড়া গরু ও ছাগল বিক্রির ওপর যথাক্রমে জেএসএস ১২ ও ৬ শতাংশ এবং ইউপিডিএফ ২০০ ও ১০০ হারে চাঁদা আদায় করে। দু’টি মুরগি বিক্রি করলে দুই টাকা, চার টাকা চাঁদা দিতে হয়।

বিলাইছড়ির আওয়ামী লীগ নেতা প্রহরকান্তি চাকমা বলেন, চাঁদাবাজি আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে ওই এলাকায় ইউপিডিএফ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। বান্দরবানের কিউচিং মারমা বলেন, দুর্বৃত্তদের চাঁদাবাজিতে পুরো পাহাড়ি অঞ্চল এখন অস্থির। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই এলাকার বনবিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, চাঁদা না দিয়ে এখানে কারো বাস করা সম্ভব নয়। সাজেকের খ্রিষ্টান ধর্মীয় নেতা ময়তে লুসাই বলেন, অনেকবার তার কাছে চাঁদা চেয়েছে। কিন্তু তিনি দেননি। তিনি বলেন, একবার দিলেই ওরা সুযোগ পেয়ে যাবে। তখন বারবার চাইবে।

বাৎসরিক এ চাঁদা আদায় ছাড়াও বিভিন্ন দিবসকে সামনে রেখে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে ইউপিডিএফ-জেএসএসসহ আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে চাঁদাবাজির শীর্ষে রয়েছে শান্তিচুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। এর পরের অবস্থানে রয়েছে চুক্তির সমর্থক পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। এদের অঙ্গ সংগঠন যেমন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইম্যান ফেডারেশন বিভিন্নভাবে পাহাড়ে চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ আছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত মহিলা এমপি ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তি চুক্তি করে পাহাড়ে অনেক উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু কিছু সশস্ত্র গ্রুপ চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ করে পাহাড়কে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। তিনি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

– সূত্র: নয়াদিগন্ত

জেএসএসের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে রাঙামাটির স্থানীয় প্রশাসন- ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভায় অভিমত

দতকহজ

স্টাফ রিপোর্টার:

জেএসএসের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে রাঙামাটির স্থানীয় প্রশাসন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভায় জোরালে ভাষায় অভিযোগ করেন রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল জব্বার সুমন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএস’র এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে রাঙামাটির স্থানীয় প্রশাসন। এমনই মনে হচ্ছে আমাদের। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ৬ষ্ঠ পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যে ধরনের নূন্যতম সহযোগিতা আইনানুগ ভাবেও পাওয়ার কথা ছিলো সেই ধরনের সহযোগিতা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হয়নি বলে অভিযোগ করে ছাত্রলীগ সভাপতি জানান, আঞ্চলিকদলীয় সন্ত্রাসীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের অসহযোগিতা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত দুইদিনব্যাপী কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভায় অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিজের বক্তব্যে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এই দাবি জানান।

সারাদেশের ১২০টি সাংগঠনিক ইউনিটের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক আয়োজিত উক্ত বর্ধিত সভায় ছাত্রলীগ সভাপতি সুজন আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি জেএসএস, ইউপিডিএফ ও সংস্কারপন্থী এমএন লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিক সম্মেলন, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচীর মাধ্যমে দলীয় হাই কমান্ড ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পার্বত্য এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান পরিচালনার জন্য আমরা কর্মসূচী পালন করেছি। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের অসহযোগিতার কারনে তৃণমুল নেতাকর্মীরদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে না, বারবারই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমার উপস্থিতিতে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন সিনেটের বক্তব্যে আরো বলেন, এখনই যদি আঞ্চলিক দলীয় সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে রাঙামাটি তথা পার্বত্য চট্টগ্রামে ছাত্রলীগসহ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের কেউই সুষ্ঠুভাবে রাজনীতি করাতো দূরের কথা নিরাপদে চলাফেরাও করতে পারবে না।

রোববার সকাল ১০ থেকে শুরু হওয়া এই বর্ধিত সভার উদ্বোধন করেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। দুইদিন ব্যাপী চলা এই বর্ধিত সভা আজ বিকেল পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে।

ঐতিহাসিক ভূষণছড়া গণহত্যা দিবস আজ

 

926vvvvvvvvvvvvvvvvvvv

ভূষণছড়া গণহত্যা পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহত্তম হত্যাকাণ্ড

সৈয়দ ইবনে রহমত

৩১ মে, ভূষণছড়া গণহত্যা দিবস। পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ এবং  ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডটি হচ্ছে ভূষণছড়া গণহত্যা। ১৯৮৪ সালের এই দিনে রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার
ভূষণছড়া ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার বাঙ্গালীরা এই নির্মম গণহত্যার শিকার হন। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) -এর অঙ্গ সংগঠন শান্তিবাহিনীর হাতে অসংখ্যবার পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিরা গণহত্যার শিকার হয়েছে। শান্তিবাহিনীর হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে রাজনগর গণহত্যা, পাকুয়াখালী ট্রাজেডি, মাটিরাঙ্গা গণহত্যা, ভূষণছড়া গণহত্যা উল্লেখযোগ্য। আর পার্বত্য চট্টগ্রামের কয়েক শত বছরের ইতিহাস ঘাটলেও ভূষণছড়া গণহত্যার মতো এত বড় ধ্বংসযজ্ঞের আর কোন নজির খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমনকি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানী পাষণ্ডরাও এখানে এমন জঘন্যতম ঘটনার জন্ম দেয়নি। যে ঘটনার মাধ্যমে মাত্র কয়েক ঘন্টা সময়ে হত্যা করা হয়েছে চার শতাধিক নিরস্ত্র নিরীহ মানুষ । এবং আহত করা হয়েছে আরও সহস্রাধিক মানুষ। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে একটি জনপদ।

১৯৮৪ সালের ৩০ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা ৩০মিনিট পর্যন্ত সময়ে অর্থাৎ ৩১ মে সংঘটিত পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায় ভূষণছড়া গণহত্যা। এর সাথে সম্পর্কযুক্ত কয়েকটি রিপোর্টের পর্যালোচনা সচেতন দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে চাই । এই পর্যালোচনার জন্য যে  সব
রির্পোটগুলোর সাহায্য  নেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো: BANGLADESH TODAY, 16-30 JUNE 1984-এ প্রকাশিত  Moinuddin Nasser-এর ‘Massacre at Bhushanchara’ শীর্ষক নিবন্ধ, BANGLADESH ECONOMIST, 1 July 1984: Vol-2 -এ প্রকাশিত জনাব Ali Murtaza -এর ‘Massacre at dawn’ শীর্ষক নিবন্ধ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ১০টি বইয়ের প্রণেতা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে অভিজ্ঞ এবং গবেষক জনাব আতিকুর রহমান এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন “বিলম্বিত পার্বত্য ঘটনা: ভূষণছড়া গণহত্যা – ১ ও ২”।

সেদিন আসলে কি ঘটেছিল আমরা তার আভাস পেতে পারি জনাব Ali Murtaza  এর রিপোর্টের ভূমিকা থেকেই। তিনি শুরুতেই একটি দৃশ্য বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে-

The beheaded body of a young  woman Rizia Khatun was found lying at proabari para of Bhushanchara settlement with her dead body in the position of suckling her bosom. Both hands of yet another baby were found severed. Yet another infant was see cut by half. A seven day old boy was bayoneted to death in front of his parents.

এবার ভূষণছড়া গণহত্যা সম্পর্কে একটা সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা যাক জনাব, Moinuddin Nasser এর লেখা থেকে-

A group of about 150 members of the shanti Bahinin headed by one Major Moni Shawpan Dewan , Launched the attack on the BDR camp and Bangali Settlers at the Bhusnanchara union of Barkal upojela in the early hours of May 31.

The insurgents, including their female cadres, in two groups launched the armed attack at 4 a. m. which continued till 8.30 a. m. They abruptly opened fire and killed the youth, women, children, elderly people and even the livestock. From three rehabilitation zones at Bhusnachra union under Barkal uppojela about 186 dead bodies of men, women, youths and babies were recovered till the writing of this report. It is learnt that a large number of corpses which could not be recovered were getting decomposed in the area. It is recorded that a total of about 500 people including BDR personnel, were injured in the raid, According to a reliable source, several BDR personnel were also killed.

ভূষণছড়া গণহত্যায় শাহাদাত বরণকারীদের মাজারের একাংশ

ভূষণছড়া গণহত্যায় শাহাদাত বরণকারীদের মাজারের একাংশ

আতিকুর রহমান সাহেবের লেখায় ফুটে উঠেছে ঘটনার ভয়ঙ্কররূপ। তিনি লিখেছেন-

‘‘কলা বন্যা, গোরস্থান, ভূষণছড়া, হরিণা হয়ে ঠেকামুখ সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এই বিরাট এলাকা জুড়ে সন্ধ্যা থেকে আপতিত হয় ভয়াল নিস্তদ্ধতা। কুকুর শিয়ালেরও সাড়া শব্দ নেই। আর্মি, বিডিআর, ভিডিপি সদস্যরাও ক্যাম্পে বন্দি। অতর্কিত পূর্ব দিক থেকে প্রথম ধ্বনিত হয়ে উঠল একটি গুলির শব্দ। তৎপরই ঘটনাবলীর শুরু। চুতর্দিকে ঘর-বাড়ীতে আগুন লেলিহান হয়ে উঠতে লাগল। উত্থিত হতে লাগল আহত নিহত অনেক লোকের ভয়াল চিৎকার এবং তৎসঙ্গে গুলির আওয়াজ , জ্বলন্ত গৃহের বাঁশ ফোটার শব্দ, আর আক্রমণকারীদের উল্লাস মূখর হ্রেসা ধ্বনি। এভাবে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, আর্তচিৎকার ও উল্লাসের ভিতর এক দীর্ঘ গজবি রাতের আগমন ও যাপনের শুরু। চিৎকার, আহাজারী ও মাতমের ভিতর  সুর্যোদয়ে জেগে উঠলো পর্য্যুদস্তজনপদ। হতভাগা জীবিতরা আর্তনাদে ভরিয়ে তুললো গোটা পরিবেশ। অসংখ্য আহত ঘরে ও বাহিরে লাশে লাশে ভরে আছে পোড়া ভিটা। এতো লাশ, এতো রক্ত আর এতো ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এক অর্ধরাতের ভিতর এলাকাটি বিরান। অদৃষ্ট পূর্ব নৃশংসতা। অভাবিত নিষ্ঠুরতা। ওয়ারলেসের মাধ্যমে এই ধবংসাত্মাক দুর্ঘটনার কথা স্থানীয় বিডিআর ও আর্মি কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বমহলে অবহিত করে। শুরু হয় কর্তৃপক্ষীয় দৌড় ঝাপ আগমন ও পরিদর্শন । চললো লাশ কবরস্থ  করার পালা ও ঘটনা লুকানোর প্রক্রিয়া। ঘটনাটি যে কত ভয়াবহ, মর্মন্তুদ আর অমানবিক এবং শান্তিবাহিনী যে কত হিংস্র পাশবিক চরিত্র সম্পন্ন মানবতা বিরোধী সাপ্রদায়িক সংগঠন তা প্রচারের সুযোগটাও পরিহার করা হলো। খবর প্রচারের উপর জারি করা হলো নিষেধাজ্ঞা। ভাবা হলো: জাতীয়ভাবে ঘটনাটি বিক্ষোভ ও উৎপাতের সূচনা ঘটাবে। দেশ জুড়ে উপজাতীয়রা হবে বিপন্ন।

ঘটনার ভয়াবহতা আর সরকারী নিস্ক্রিয়তায় ভীত সস্ত্রস্ত অনেক সেটালারই স্থান ত্যাগ করে পালালো। পলাতকদের ঠেকাতে পথে ঘাটে, লঞ্চে, গাড়িতে, নৌকা ও সাম্পানে চললো তল্লাশী ও আটকের প্রক্রিয়া। তবু নিহত আর পলাতকরা মিলে সংখ্যার প্রায় অর্ধেকই হলো ঐ জনপদ থেকে লাপাত্তা। শুরু হলো জীবিতদের মাধ্যমে লাশ টানা ও কবরস্থ করার তোড়জোড়। খাবার নেই, মাথা গোঁজার ঠাই নেই্ চারিদিকে কেবল পঁচা লাশের দুর্গন্ধ, পালাবারও পথ নেই। নিরূপায় জীবিতরা, লাশ গোজানো ছাড়া আর কোন কাজ নেই ।  দয়া পরবশ কর্তৃপক্ষ, কিছু আর্থিক সহযোগীতায় এগিয়ে এলেন । এটাকে দয়া বলা ছাড়া উপায় কি?”

বরকল ভূষণছড়া এবং প্রিতিছড়ায় সেদিন কোন মানুষকেই জীবিত পাওয়া যায়নি। জীবিত পাওয়া যায়নি  কোন পোষা প্রাণীকেও। Nasser সাহেবের রিপোর্টের সাথে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায় অগ্নিদগ্ধ বিরান ভূমিতে দাঁড়িয়ে আছে একটি মাত্র কুকুর। আর ছবির ক্যাপশন এ লেখা আছে-

Bhushanchara: Only the Dog was left Alive.

শান্তিবাহিনীর পাশবিক আক্রমণে সেদিন, নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা আজো পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের সংখ্যা এবং তাদের পরবর্তী অবস্থা জানা যায়নি। তা ছাড়া ঘটনার ভয়াবহতায় যে সব বাঙ্গালী পার্বত্য এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে তাদের কি পরিমাণ আত্মীয় স্বজন নিহত হয়েছে তারও সঠিক হিসাব পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবু প্রতিবেদকদের প্রতিবেদন থেকে নিহতদের সংখ্যার একটা ধারণা পাওয়া যায়। যা আৎকে উঠার মতোই বিরাট এক সংখ্যা।

Nasser  সাহের তার রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৮৬ জনের লাশ পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। আবার তিনি আশঙ্কা করেন যে মৃতের সংখ্যা কোনভাবেই  ৪ শতকের কম হবে না। কেননা বরকলের ১৬০০ পরিবারের মধ্যে তিন শতাধিক পরিবার সেদিন আক্রান্ত হয়েছে। আর আক্রান্তদের মধ্যে ১০০টি পরিবার সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

এই পরিসংখ্যানের সত্যতার সমর্থন মিলে আতিক সাহেবের লেখা থেকেও। তিনি দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান শেষে নিহতদের নাম ঠিকানা সম্বলিত যে তালিকা প্রস্তুত করেছেন তাতে ৩৭০ জনের পরিচিতি তুলে ধরেছেন। Murtaza সাহেবও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা বিভিন্ন স্থানে পাওয়া লাশের সংখ্যার চাইতে অনেক বেশি। তাঁর এই আশঙ্কার কারণ হিসাবে তিনি লিখেছেন-\

During my visit prittisara river even after five days of the incident, I found five bodies on the bank. The settlers told me that several other bodies still in the forest around that area.

ভূষণছড়া গণহত্যার কুখ্যাত নায়কের পরিচিত তুলে ধরতে গিয়ে Moinuddin Nasser  সাহেব লিখেছেন-

Major Moni Shawpan Dewan of the Priti group who was supposed to be the leader of the insurgents in this attack was student of Rangamati Govt. High school After liberation he went to continue his studies at Luthiana University of India/ Securing a Scholarship from the India Government, but he joined the Shanti Bahini without completing studies.

দুঃখজনক হলেও নির্মম সত্য এই যে, ভূষণছড়া গণহত্যা সহ অসংখ্য বর্বরোচিত ঘটনার শিকার হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলে বাঙ্গালীরা। কিন্তু বাঙ্গালীদের উপর সন্ত্রাসী কর্তৃক সংঘটিত এসব নির্যাতনের চিত্র আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমতো দূরের কথা দেশীয় প্রচার মাধ্যমেও স্থান পায়নি। দেশে তখন সামরিক শাসন ও সংবাদ প্রচারের উপর সেন্সরর ব্যবস্থা আরোপিত থাকায় এবং পাহাড়ের অভ্যন্তরে যাতায়াত ও অবস্থান নিরাপদ না হওয়ায় অধিকাংশ গণহত্যা ও নিপীড়ন খবর হয়ে পত্র পত্রিকায় স্থান পায়নি। আর এই সুযোগে নির্যাতনকারী উপজাতীয়রা নিজেদের নৃশংসতার স্বরূপকে ঢেকে তিলকে তাল করে নিজেদের পক্ষে প্রচার চালিয়েছে বিশ্বব্যাপী। এতে দুনিয়াব্যাপী ধারণা জন্মেছে যে, পার্বত্যাঞ্চলের উপজাতীয়রাই নির্যাতনের শিকার। যার ফলে দেশ এবং সরকারের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম অর্জনকারী সেনাবাহিনীর চরিত্রেও কলঙ্ক আরোপিত হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের বাঙ্গালীরা একদিকে নির্মম হত্যাকন্ডের শিকার হবে অন্যদিকে উপজাতীয়দের অপপ্রচারে নির্যাতনকারী হিসেবে পরিচিত হবে আর সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে এমন ব্যবস্থা চিরদিন চলতে পারে না । তাই সরকারের আশু কর্তব্য হচ্ছে মেজর মনি স্বপনদের বিচারের কাঠ গড়ায় দাঁড় করানো। উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে ভূষণছড়া গণহত্যাসহ পার্বত্য অঞ্চলের সকল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের প্রকৃত বিচারের মাধ্যমেই পার্বত্য অঞ্চলের সঠিক চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা সম্ভব। এর মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা সম্ভব দেশের সরকার ও সেনাবাহিনীর হারানো ভাবমূর্তি।

তাছাড়া ১৯৯৭ সালে তথাকথিত শান্তিুচুক্তি করে জেএসএস তথা শান্তিবাহিনীর সদস্যদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হলেও আজও পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি আসেনি। বন্ধ হয়নি হত্যাকাণ্ডও। কাগজে-কলমে শান্তিবাহিনী না থাকলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর দৌড়াত্ম্য কমেনি, বরং তাদের হাতে বাঙালিরা যেমন হত্যার শিকার হচ্ছে, তেমনি নিহত হচ্ছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলোর মানুষজনও।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে জাতিসংঘের নিজস্ব বিচার ব্যবস্থাও। আমেরিকার মত প্রবল শক্তিধর সেনাবাহিনীও যখন ইরাকে বন্দী নির্যাতন করে পার পায়নি। আমাদের দেশেও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা বিরোধীদের মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডের বিচার চলছে। তা হলে, স্বাধীন দেশে পার্বত্য অঞ্চলে যারা হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে তাদের কেন বিচার হবে না? ভূষণছড়া গণহত্যা কি
মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ নয়?

পার্বত্যাঞ্চলের এসব অপরাধীর বিচারের ব্যাপারে কোন প্রকার বাধা থাকতে পারে না। আর থাকলেও তাকে ন্যায় সঙ্গত বাধা হিসাবে আখ্যায়িত করার কোন সুযোগ নেই। সর্বোপরি পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা উন্নয়ন করতে হলে যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে প্রশ্রয় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। কেননা সন্ত্রাসীরা ক্ষমার দৃষ্টিকে কখনই সরকারের উদার দৃষ্টি ভঙ্গি হিসাবে দেখে না। তারা একে সরকারে দুর্বলতা হিসাবেই গ্রহণ করে থাকে। এবং সঠিক পথে ফিরে আসার পরিবর্তে  তারা  বরং  আরো বেশি করে অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার  উৎসাহ বোধ করে। সব শেষে আতিক সাহেবের ভাষাতেই বলতে চাই-

‘‘এই নৃশংসতা বিনা বিচারে পার পেয়ে গেলে, এটি অপরাধ ও দন্ডনীয় কুকর্ম বলে নজির  স্থাপিত হবে না। এটা হবে আরেক নিন্দনীয় ইতিহাস।’’

 

(কৈফিয়ত: ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহত্তম হত্যাকান্ড: ভূষণছড়া গণহত্যা’ শিরোনামে লেখাটি অতীতে কয়েকটি গণমাধ্যমে মোহাম্মদ ইউছুফ নামে প্রকাশিত হয়েছে। পার্বত্য নিউজ ডটকম কেন একই লেখা সৈয়দ ইবনে রহমতের নামে প্রকাশ করলো-প্রশ্নটি ওঠা অত্যন্ত ন্যায্য। ২০০৫ সালে বাঙালী অন্তপ্রাণ এক তরুণ রচনায় উল্লিখিত বিভিন্ন সোর্সের সাহায্য নিয়ে ভূষণছড়া হত্যাকাণ্ডের উপর একটি প্রবন্ধ তৈরী করে ফেলে। জীবনের প্রথম জাতীয় পত্রিকায় লেখা পাঠানোর আগে সংশয়াবদ্ধ তরুণটি নিজের নামের স্থানে মোহম্মদ ইউছুফ লিখে পাঠায় দৈনিক ইনকিলাবে। ইনকিলাবে লেখাটি আমারই সম্পাদনায় প্রকাশ হয়। পরে আরো অন্যান্য কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। লেখাটি যে এতো বিপুল গ্রহণযোগ্যতা পাবে তরুণটির পক্ষে তৎকালে জানা সম্ভব ছিলনা। ফলে নিজের নামটি দেবার কোনো আগ্রহ ছিলনা অন্তঃমূখী এই মেধাবী তরুণের। এখনো নেই। আমি নিজে থেকে যখন তার কাছে লেখকের আসল পরিচয় জানতে চাইলাম তখন বেরিয়ে এলো প্রকৃত সত্য ঘটনা। এখন আমার দায়িত্ব পড়লো সেই তরুণকে তার প্রাপ্য কৃতিৃত্বটুকু ফিরিয়ে দেয়া। সেই তরুণই আজকের লেখক সৈয়দ ইবনে রহমত। এ লেখার মধ্যদিয়েই তার সাথে আমার পরিচয় আর আজকে ইনকিলাবে ও পার্বত্য নিউজডটকমে আমার সহকর্মী, সহমর্মী ও সহযোদ্ধা।)

জেএসএসের কারণে পাহাড়ী ছাত্ররা ছাত্রলীগ করতে পারছে না- দীপংকর তালুকদার

12606762_978611458879143_1481615760_n

স্টাফ রিপোর্টার:

রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব করতে পারে না। ছাত্রলীগ মেধাবী ছাত্রদের সংগঠন। আমার রাজনীতিও ছাত্রলীগ দিয়ে শুরু হয়েছিল। এরপর আমি এমপি হয়েছি মন্ত্রী হয়েছি। আজকের ছাত্রলীগের মেধাবী নেতা কর্মীরাই ভবিষ্যতে দেশকে নেতৃত্ব দেবে।

শনিবার লংগদু উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ছাত্রলীগের ৬৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপংকর তালুকদার এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা যখন ছাত্রলীগ করতাম তখনও পার্বত্য অঞ্চলে জাতীয় রাজনীতির প্রভাব পড়েনি। পাহাড়ী শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ করার কারণে অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বর্তমানেও জেএসএসের কারণে পাহাড়ী ছাত্ররা ছাত্রলীগ করতে পারছে না। পাহাড়ীরা জাতীয় রাজনীতি করতে চাইলে তাদের হত্যা ও গুম করার হুমকি দেয়।

তিনি বলেন, নিজেদের টাকায় পদ্মাসেতু হবে এটা কোনদিন এদেশের মানুষ কল্পনাই করতে পারেনি। জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে বেশ এগিয়েছে বাংলাদেশ, এমনকি তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে অগ্রগতি অর্জন করেছে দেশ।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ লংগদু উপজেলা শাখার সভাপতি জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর, সাংগঠনিক সম্পাদক ক্যারল চাকমা, প্রচার সম্পাদক মমতাজ উদ্দীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল বারেক সরকার, সাধারণ সম্পাদক জানে আলম।

ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হাসানের সঞ্চালনায় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক মীর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ঝান্টু, জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নজরুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবেল চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. হানিফ রেজা, রাবেতা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ হৃদয়।

আলোচনা সভার পূর্বে সকাল দশটায় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। এপর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দীপংকর তালুকদার কেক কাটার মধ্যদিয়ে ৬৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। বিকেল পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

রাঙামাটিতে জেএসএস’র সমাবেশে যোগ দিচ্ছে ইউপিডিএফ : পাল্টে যাচ্ছে পার্বত্য রাজনীতি

পার্বত্য অঞ্চলে চলা নব্বই দিনের যুদ্ধ বিরতি শেষ: চুক্তির মেয়াদ বাড়তে পারে আরো তিন মাস: ঐক্যের প্রচেষ্টা চলছে জোরেসোরে

জেএসএস ইউপিডিএফ

আরিফুল হক মাহবুব, কাউখালী (রাঙ্গামাটি):

অভিন্ন দাবীতে আন্দোলনরত পার্বত্য অঞ্চলের আঞ্চলিক দু’টি প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএস’র মধ্যকার অনানুষ্ঠানিক নব্বই দিনের যুদ্ধ বিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩০ নভেম্বর। নতুন করে এ যুদ্ধ বিরতির মেয়াদ আরো তিন মাস বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংগঠন দু’টির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যরা। তবে আপাতত সংঘাতের পথ পরিহার করে যুগপত আন্দোলনের ক্ষেত্র তৈরী করতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দু’দলের নেতারা। বিশেষ করে আগামী পৌরসভা নির্বাচনে এই সমঝোতা কাজে লাগাতে চায় দুই দলই।

কিন্তু এখনও পর্যন্ত এক পক্ষ অন্য পক্ষকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারতে পারছে না। বিশেষ করে দখলাধীন এলাকা ও চাঁদার স্পট ভাগাভাগি নিয়ে দুই দলের মধ্যে সমঝোতায় পোঁছাতে না পারা এর প্রধান কারণ করে জানা গেছে। তবে দুই পক্ষের একত্রীকরণের বিষয়টি যে জোরালোভাবেই চলছে এই প্রথম পার্বত্যনিউজের মাধ্যমে মিডিয়ার কাছে স্বীকার করলেন জনসংহতি সমিতি কাউখালী উপজেলা শাখার সভাপতি সুভাস চাকমা।

এই বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচলের মধ্যেই বুধবার  ২ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটিতে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)’র ডাকা শান্তি চুক্তির ১৮তম বর্ষপূর্তি সমাবেশে বিপুলভাবে যোগ দিতে যাচ্ছে দীর্ঘ সময় ধরে জেএসএস’র সাথে সংঘাত হানাহানিতে লিপ্ত থাকা প্রসিত বিকাশ খিসার ইউপিডিএফ। এমন খবর পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।

এ বিষয়ে সংগঠন দু’টির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা মুখ খুলতে না চাইলেও তাদের কথাবার্তায় ঐক্যের সুর পরিলক্ষিত হচ্ছে। সংগঠন দু’টির ঐক্যে পাল্টে যেতে পারে পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক মেরুকরণ। তবে পর্দার আড়ালে চলা রহস্যে ঘেরা তাদের এমন গোপন চুক্তিতে আশ্বস্ত হতে পারছে না সাধারণ মানুষ। ফলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা পিছু ছাড়ছে না তাদের।

সম্প্রতি পার্বত্য অঞ্চল জুড়ে যৌথবাহিনীর কম্বিং অপারেশনের দরুণ কোনঠাসা হয়ে পড়া দু’টি আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ-জেএসএস’র ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত নিরসনে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নব্বই দিনের গোপন শান্তিচুক্তিতে উপনীত হয়। আগষ্টের শেষ দিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে সংগঠন দু’টির উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র প্রতিবেদককে নিশ্চিত করে। যার মেয়াদ শেষ হয় ৩০ নভেম্বর।

অস্ত্র বিরতির মেয়াদ নতুন করে বৃদ্ধি করা না হলেও ইস্যু ভিত্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ব্যপারে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয় বলে জানা যায়। তার সূত্র ধরে সন্তু লারমার অসহযোগ আন্দোলনে ইউপিডিএফ’র সমর্থন প্রত্যাশা করা হয়।

 তারই অংশ হিসাবে প্রাথমিক ধাপ উত্তীর্ণ করতে ২ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটিতে অনুষ্ঠিত শান্তিচুক্তির ১৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে ডাকা জনসংহতির সামাবেশে সর্বাত্মক অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে প্রসিত বিকাশ খিসার ইউপিডিএফ। দু’দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন তথ্য পার্বত্যনিউজ প্রতিনিধিকে নিশ্চিত করেছে। অপরদিকে একই দিনে রাঙ্গামাটিতে শান্তিচুক্তির ১৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে পূর্ব ঘোষিত সামাবেশের আয়োজন করেছে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগ। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভীর যোগ দানের কথা রয়েছে। 

রাঙ্গামাটির সমাবেশ সফল করতে কাউখালী জুড়ে জনসংহতি সমিতির নেতা কর্মীদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত। গত আঠারো বছরে উপজেলা সদরে জনসংহতি সমিতি প্রকাশ্যে কোন কার্যক্রম চালাতে পারেনি। এবারই প্রথম জেএসএস প্রকাশ্যে কাউখালী সদরে প্রচার প্রচারণা চালায়। পুরো কার্যক্রমে ইউপিডিএফ’র মৌন সমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সমাবেশে কাউখালী থেকে বিশ হাজার লোকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জেএসএস নেতারা। রাঙামাটির অন্যান্য উপজেলা ও তিন পার্বত্য জেলা থেকেও একইভাবে লোক আনার প্রস্তুতি নিয়েছে জেএসএস। ফলে একই দিনে দু’টি বড় সমাবেশ ঘিরে পুরো পার্বত্য অঞ্চল জুড়ে আতঙ্ক ও এক ধরণের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সংগঠন দু’টির একত্রীকরণের বিষয়ে কাজ চলছে বলে স্বীকার করেছেন জনসংহতি সমিতি কাউখালী উপজেলা শাখার সভাপতি সুভাস চাকমা। তিনি জানান, বড় ধরণের বিপদ থেকে রক্ষা পেতে হলে সংগঠন দু’টিকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া গতি নেই। তিনি জানান, সংঘাত নিরসনে চলা বৈঠক শুধু দেশের মাটিতে নই, প্রয়োজনে আমিরাকা ও লন্ডনে বসেও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

সূত্রে জানা গেছে, সমঝোতার আলোচনায় জেএসএস থেকে ইউপিডিএফকে প্রতীকিভাবে হলেও কিছু অস্ত্র জমা দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। এ নিয়ে ইউপিডিএফ’র মধ্যে মতভিন্নতা সৃষ্টি হয়। ইউপিডিএফ’র একটি গ্রুপ এতে রাজী হলেও তারা জেএসএস’র মতো সরকারের হাতে প্রতীকি  অস্ত্র সমর্পনের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু জেএসএস তাতে রাজী নয়। জেএসএস দাবী করে অস্ত্র তাদের কাছে সমর্পন করতে হবে। কিন্তু এ প্রস্তাবে ইউপিডিএফ’র কেউ রাজী হয়নি।

সুভাস জানান, এক্ষেত্রে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ব্যাপারটা মূখ্য বিষয়। এখনো কেউ কাউকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না। তিনি জানান, ঐক্যের ক্ষেত্রে এই মূহুর্তে সবচেয়ে বড় বাঁধা হচ্ছে ইউপিডিএফ’র অস্ত্র জমা দেবে কিনা? যদি দেয় তাহলে কার কাছে জমা দেবে। সরকারের কাছে, না কি জনসংহতি সমিতির কাছে। এ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

তাছাড়া জনসংহতি সমিতি কর্তৃক পার্বত্য অঞ্চলে ১৩টি ভাষার লোকদেরকে দেশে বিদেশে একটি ভাষার (চাকমা) ভাষী হিসেবে উল্লেখ করার কারণেও ঐক্যের ক্ষেত্রে বড় বাঁধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকরা।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে ইউপিডিএফ’কে কোন ক্রমেই অস্ত্র-শস্ত্র জমা দেয়ার বিষয়ে রাজি করানো যাচ্ছে না। ফলে ঐক্যের বিষয়ে সব দিক থেকে অগ্রসর হওয়া গেলেও বড় একটি জায়গায় এসে ভেস্তে যেতে পারে সব উদ্যোগ এমনটাই আশংকা করছেন পাহাড়ের সাধারণ মানুষ।

ইউপিডিএফ’র প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক কেন্দ্রীয় মূখপত্র নিরন চাকমা সংগঠন দু’টির ঐক্যের বিষয়টি অস্বীকার করলেও শান্তি চুক্তি উপলক্ষে তারই স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রসিত বিকাশ খীসা বিবৃতি দিয়েছেন। ‘পার্বত্য চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন, শান্তি প্রতিষ্ঠা নয় হিসেবে উল্লেখ করে খীসা বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া সময়ের দাবি। বুধবার রাঙ্গামাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া শান্তিচুক্তির বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে সর্বসাধরনের অংশগ্রহণে ইউপিডিএফ’র পক্ষ থেকে কোন বিধিনিষেধ নেই বলেও জানিয়েছে নিরন চাকমা।

ইউপিডিএফ-জেএসএস’র ঐক্যের গুঞ্জনে পার্বত্যনিউজের কাছে মিস্ত্র প্রতিক্রিয় ব্যক্ত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক এমপি ও উন্নয়নের বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। তিনি জানান, ইউপিডিএফ-জেএসএস’র ঐক্যে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসবে এমনটি ভাবার কোন কারণে নেই। নতুন করে নতুন উদ্যমে অস্থিরতা বেড়ে যাবে। এটা সরকারের উপর, রাষ্ট্রের উপর এবং ভূখন্ডের জন্য হুমকি হয়ে দাড়াতে পারে। কোনঠাসা হয়ে পড়তে পারে জাতীয় রাজনীতি।

তিনি জানান, আওয়ামীলীগ-বিএনপির রাজনৈতিক ইস্যুতে এক হতে পারবে না ঠিক, কিন্তু পার্বত্য অঞ্চলে জাতীয় ইস্যুতে নুন্যতম কতগুলি বিষয়ে এক হতে না পারলে বড়ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীকে। সরকারের উচিৎ দেশের অন্যান্য স্থানের মত যৌথ বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলকে অস্ত্রমুক্ত করা। সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা।

এদিকে কাউখালী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা কালা মিয়া জানান তাদের ঐক্যে পার্বত্য অঞ্চলে কোনক্রমেই শান্তি ফিরে আসবেনা। তিনি জানান, শান্তি তখনই ফিরে আসবে, যখন তারা অস্ত্র-শস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সশস্ত্র থেকে যাবে, আর আমরা নিরস্ত্র হয়ে তাদের সাথে লড়াই করে যাবো এমনটা হলে শান্তি ফিরে আসার কোন সুযোগ নেই। তারা যদি স্বেচ্ছায় নিরস্ত্র না হয়, সরকারের উচিৎ হবে সারা দেশের মত যৌথবাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চল থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ব্যবস্থা করা।