পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সংরক্ষিত এমপি হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিলেন ৯ নেত্রী

খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি ব্যুরো:

নির্বাচন কমিশন আগামী ১৭ ফ্রেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের ৫০ সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচেনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে। মঙ্গলবার থেকে আওয়ামী লীগ সংরক্ষিত আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন বিক্রি শুরু করেছে। ১৮ জানুয়ারি মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ তারিখ। ইতোমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের ৯ নারী নেত্রী সংরক্ষিত আসন থেকে এমপি হতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন কিনেছেন। তাদের মধ্যে খাগড়াছড়ির ৫ জন এবং রাঙামাটির ৪ জন।

যারা মনোনয়ন কিনেছেন এবং জমা দিয়েছেন তারা ইতোমধ্যেই এ আসনগুলোতে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য জোর তদ্বির, লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। সারাদেশের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামেও আওয়ামী লীগের মহিলা নেত্রীরা সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রার্থি হওয়ার জন্য লবিং শুরু করেছে।

রাঙামাটি দলীয় মনোনয়ন নিয়েছেন ৪ নেত্রী

মহিলা সংরক্ষিত আসনের লড়াইয়ে নেমেছেন রাঙামাটির চার নারী। বৃহস্পতিবার (১৭জানুয়ারী) এসব প্রার্থীদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

রাঙামাটি থেকে যেসব নারীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের মধ্যে বর্তমান মহিলা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, রাঙামাটি জেলা মহিলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিতা দেওয়ান, জেলা আওয়ামী মহিলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক শিক্ষিকা রোকেয়া আক্তার, দলটির সাধারণ সম্পাদিকা লেখিকা চাকমা।

ফিরোজা বেগম চিনু বর্তমানে জেলা মহিলা আ’লীগের সভনেত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি বর্তমান জেলা আ’লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করছেন।

খুব অল্প বয়স থেকে বঙ্গবন্ধু আদর্শকে ভালবেসে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সেই আ’লীগের রাজনীতের সাথে তার পথচলা। ১৯৮১ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে তার পথ চলা শুরু। তিন যুগের অধিক সময় আ’লীগের সাথে কাটিয়েছেন। বর্তমানে তিনি আবারো প্রার্থী হয়েছেন- মহিলা সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে। এজন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

মহিলা সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে চান রাঙামাটির মেয়ে মোহিতা দেওয়ান। এজন্য তিনিও মনোনয়ন পেতে ফরম তুলেছেন এমপি হওয়ার আশায়। বর্তমানে জেলা মহিলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন মোহিতা দেওয়ান।

মহিলা সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে চান রাঙামাটির অবসর প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষিকা রোকেয়া আক্তার। এজন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। আ’লীগের রাজনীতির সাথে জড়ানোর আগে তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করেছেন। রোকেয়ো আক্তার বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আব্দুর রব ফরাজীর স্ত্রী। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব ফরাজী রাঙামাটির তৎকালীন স্থানীয় সরকার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

মহিলা সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে চান রাঙামাটির মেয়ে লেখিকা চাকমা। এজন্য তিনি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। বর্তমানে তিনি জেলা মহিলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

খাগড়াছড়ি থেকে মনোনয়নপত্র কিনলেন পাঁচ নারী
পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবন নিয়ে মহিলা সংরক্ষিত আসনে খাগড়াছড়ি থেকে পাঁচ মনোনয়ন প্রত্যাশী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারীরা হচ্ছেন, খাগড়াছড়ি জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ক্রইসাউ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও খাগড়াছড়ি জেলা মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদিকা শাহিনা আক্তার , কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামীলীগের সদস্য বাসন্তি চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নিগার সুলতানা, খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা শতরূপা চাকমা।

মনোনয়ন প্রত্যাশী বাসন্তি চাকমা নিজের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার কথা নিশ্চিত করে নিজের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে পার্বত্যনিউজকে বলেন, বিগত দিনে খাগড়াছড়িকে নারী আসন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ কারণে খাগড়াছড়ির নারীরা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সংরক্ষিত নির্বাচিত হলে পাহাড়ে নারী শিক্ষায়নে বিশেষ ভূমিকা পালনের পাশাপাশি অবহেলিত ও বঞ্চিত নারীদের কর্মসংস্থানে উদ্যোগ নিবেন বলে জানান তিনি।

অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহিনা আক্তার পার্বত্যনিউজকে বলেন, আমি মনোনয়ন পেলে খাগড়াছড়িতে শিক্ষা-কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক অধিকার, নেতৃত্বের যোগ্যতা সৃষ্টিসহ সকল জনগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের নারীদের সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং সহাবস্থান নিশ্চিতের কাজ করবো।

পানছড়িতে মাঠ দখলে নৌকা : এলাকা ছাড়া বিএনপি

সাজাহান কবির সাজু, প্রতিনিধি, পানছড়ি (খাগড়াছড়ি) :

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ির মাঠ দখলে নিয়েছে নৌকার সমর্থকরা। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ বেলাতে বৃহষ্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে হাজারো নেতা-কর্মী জড়ো হয়ে নৌকার সমর্থনে বিশাল মিছিল বের করে। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। আ’লীগের প্রবীন নেতা-কর্মীদের দাবী, এবারের মতো সু-সংগঠিত দল আগে আর কখনো চোখে পড়েনি। পুরুষ-মহিলাদের স্বত:ষ্ফুর্ত উপস্থিতি দলের নেতা-কর্মীরা আরো চাঙ্গা হয়েছে।

আ’লীগের মিছিল ও গণসংযোগে এসে নেতা-কর্মীদের সাথে নৌকার পক্ষে ভোট চাইলেন আ’লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ভবেশ্বর রোয়াজা নিকি ও কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার একান্ত সহকারী খগেন ত্রিপুরা।

এদিকে প্রতিদিন বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের আ’লীগে যোগ দেয়া অব্যাহত রয়েছে। জাকের পার্টি নৌকা প্রতীকের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে ইতিমধ্যে কাজ করতে মাঠে নেমেছে। আ’লীগ সভাপতি মো: বাহার মিয়া, সম্পাদক জয়নাথ দেব, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আবু তাহের, যুবলীগ সম্পাদক মো: নাজির হোসেন, ছাত্রলীগ সভাপতি শ্রীকান্ত দেব মানিক, সম্পাদক জহিরুল আমিন রুবেল জানান, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে পানছড়ির নেতা-কর্মীরা অনেক সু-সংগঠিত।

এদিকে আ’লীগ দলীয় কার্যালয়ও ইসলামপুর যুবলীগ কার্যালয় ভাংচুরের ঘটনায় পর পর দুই মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা এলাকা ছাড়া। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শহীদুল ইসলাম ভূইয়ার পক্ষে গণসংযোগ, প্রচারণা বা কোন ধরণের মাইকিং এর মধ্যে শোনা যায়নি।

উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মো: বেলাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো: সিরাজুল ইসলাম জেল হাজতে থাকায় উপজেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক যুবদলের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন জানান, বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো আসলে সাজানো নাটক। আ’লীগ নিজেরাই এ ঘটনা ঘটিয়ে মামলা করে বিএনপিকে মাঠ ছাড়া করেছে। এ ধরণের ঘটনা ঘটতে পারে সন্দেহে সহকারী রির্টানিং অফিসার বরাবরে বিএনপির পক্ষ থেকে একখানা অবগতিপত্রও দেয়া হয়েছে বলে জানান।

কক্সবাজারে ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়িতে আগুন

আবদুল্লাহ নয়ন, কক্সবাজার : শনিবার রাত ৮টার দিকে কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কার্যালয়কে লক্ষ্য করে ৩টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। একই সময় শহরের প্রধান সড়কের ফায়ার সার্ভিস এলাকায় একটি টমটমে (ইজি বাইক) অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা ও টেকপাড়াস্থ বামির্জ মাকেটের সামনে থেকে প্রধান সড়কে ঝটিকা মিছিল বের করে ২০টি যানবাহন ভাংচুর করেছে নির্বাচন বিরোধীরা।

ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় দোকান-পাট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এসব এলকায় এখন ভুতুরে পরিবেশ বিরাজ করছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন জানিয়েছেন, রাত ৮টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ৩ তলায় অব¯িথত জেলা নিবার্চন কার্যালয়ে পর পর ৩টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।তবে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তিনজন যুবক এসব ককটেল নিক্ষেপ করে দৌড়ে পালিয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা ও টেকপাড়াস্থ বামির্জ মাকের্ট এলাকায় ১৮ দলীয় জোট পৃথক ২টি দল মিছিল বের করে প্রধান সড়কে। মিছিল থেকে লোকজন বের হয়ে মুহুর্তের মধ্যে প্রধান সড়কে চলাচলকারি টমটম (ইজি বাইক), সিএনজি ট্যাক্সী ভাংচুর করে। এতে ১৫টি টমটম (ইজি বাইক), ৫টি সিএনজি ট্যাক্সী ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলকার দোকান বন্ধ করে দেয় ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে প্রধান সড়কের বিদ্যুৎ বাল্ব ভেঙে দেয়ার কারণে ওই এলাকা অন্ধকার হয়ে যায়।
কক্সবাজার থানার ওসি জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়িতে আগুন এবং ভাংচুরের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। দুষ্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে।

বান্দরবানে প্রশাসন প্রস্তুত হলেও অপ্রস্তুত ভোটাররা

vote-

স্টাফ রিপোর্টার :
রাত পোহালে রোববার দশম সংসদ নির্বাচন। দেশের অন্যান্য স্থানের মত পাহাড়ি জেলা বান্দরবানেও নির্বাচন শুরু হয়েছে। ৭ উপজেলা ও ২ পৌরসভা নিয়ে গঠিত বান্দরবান জেলায় মাত্র একটি সংসদীয় আসন। দেশের সর্বশেষ ৩০০ নম্বর আসন বান্দরবান। এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীসহ চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলার ১৬৩টি ভোট কেন্দ্রের নির্বাচনী সরঞ্জামাদি প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে হস্তান্তার করেছে জেলা নির্বাচন অফিস।

বিরোধী দল বিএনপিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করায় অধিকাংশ জনগণের কাছে ভোটদানে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনে কারা অংশ গ্রহণ করেছে তা-ও জানেন না অনেক ভোটার। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষের কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। প্রার্থীদের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার-প্রচরণা বন্ধ হয়ে গেলও ভোট দিতে কর্মী সমর্থকদের মাঝে ব্যপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

সারাদেশে দশম নির্বাচন নিয়ে সহিংসতা ঘটলেও বান্দরবান জেলার কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর এখনও পাওয়া যায়নি। এছাড়া জেলায় বিরোধী জোটের নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা না থাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক কে এম তারিকুল ইসলাম নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত আইন শৃঙ্খলা বাহীনি ও স্ট্রাইকিং ফোর্সকে সহযোগিতা ও নির্দেশ প্রদানের জন্য সাত উপজেলায় ১৪ জন কর্মকর্তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়ে এক পরিপত্র জারি করেছেন। সাত উপজেলার সাত জন নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং জেলার সাতজন সহকারী কমিশনারকে নির্বাচনী কাজে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটে ক্ষমতা দিয়েছে জেলা রিটার্নিং অফিসার। এছাড়া অতিরিক্ত জেলা ম্যজিস্ট্রেট ইশরাত জামান ও নেজারত শাখার ডেপুটি কালেক্টর মো. শামীম হোসেন জেলা সদরে অবস্থান করে পুরো জেলার ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল দায়িত্ব পালন করবেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহম্মদ নাইক্ষ্যংছড়ি ও এম নাজিম উদ্দিন লামা ও আলীকদম উপজেলার আইন শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করবেন।

অন্যদিকে জেলা নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন ও নির্বাচনী সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে প্রেরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবানে মোট ১৬৩টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১২৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত হয়েছে। তবে প্রশাসন একে ঝুঁকিপূর্ণ না বলে অধিক গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে জেলার দুর্গম ১৩টি ভোট কেন্দ্র নির্বাচনী কর্মকর্তা ও সরঞ্জাম বহনে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ৩৭টি কেন্দ্র অধিকগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় সেগুলোতে নির্বিঘেœ ভোট গ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি ও সর্তকতা গ্রহণ করা হয়েছে।

নির্বাচনী কাজে ১৯৪৫ জন কর্মকর্তা ও কয়েক হাজার আইনশৃংখলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে বলেও নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে।

বান্দরবান জেলায় ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার ৪০ জন অধিবাসীর মধ্য পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ১৪ হাজার ২৪৭ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫৬৩ জন মিলিয়ে সর্বমোট ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৯০ জন। ১৬৩টি কেন্দ্রে ১৬৩জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৫৯৪টি বুথের জন্য সমসংখ্যক সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১১৪৪ জন পোলিং অফিসার নির্বাচনী কাজে অংশ গ্রহণ করবে। এছাড়া আরো কয়েক হাজার আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য নির্বাচনী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

লক্ষ্মীছড়িতে ৩টি কেন্দ্র ঝুকিঁপূর্ণ : হেলিকপ্টার ব্যবহার হবে ২টিতে

মোবারক হোসেন, লক্ষ্মীছড়ি: খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ১১টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি  ঝুকিঁপূর্ণ বলে জানা গেছে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় মোট ভোটার ১৫ হাজার ৯’শ ৭ জন। তার মধ্যে পুরুষ ৮হাজার ২’শ ৭৭জন এবং মহিলা ৭ হাজার ৬’শ ৩০। লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়নে ৬হাজার ৪’শ ৭৪জন, দুল্যাতলী ইউনিয়নে ৩হাজার ৯’শ ৫৫জন ও বর্মাছড়ি ইউনিয়নে ৩হাজার ৮’শ ৭১জন ভোটার রয়েছে। ৩৮টি কক্ষ নিয়ে মোট ভোট কেন্দ্র ১১টি।

লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়নে ৪টি দুল্যাতলী ইউনিয়নে ৩টি ও বর্মাছড়ি ইউনিয়নে ৪ টি কেন্দ্র রয়েছে। কেন্দ্র গুলো হলো লক্ষ্মীছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২,৭৪৪ জন), মংহলা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১,৯৯৯ জন), শুকনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৮২৪ জন), যতিন্দ্র কার্বারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১,৬০১ জন), দুল্যাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১,০৭২ জন), জারুলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১,৩২৩ জন), দেওয়ান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২,০৮৪জন), বর্মাছড়ি জুনিয়র হাইস্কুল (৫৯৫ জন), কুতুপছড়ি বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১,৬৮৭ জন), মুক্তাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১,০৯৭ জন) ও ফুত্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৯৯১ জন)।

এর মধ্যে ঝুকিপূর্ণ ৩টি কেন্দ্র হলো লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়নের শুকনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বর্মাছড়ি ইউনিয়নের কুতুপছড়ি বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফুত্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্র গুলোর সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। পাঁয়ে হেঁটে যাওয়া ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। ভোট গ্রহণের সাথে জড়িত প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার সহ নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লি¬ষ্ট সকলেই ঝোঁপ-জঙ্গল, উচুঁ-নিচু, পাহাড়-পর্বত পাড়ি দিয়ে সেখানে যেতে হবে।

তবে হেলিকপ্টার ব্যবহার হলে শুকনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বর্মাছড়ি ইউনিয়নে ফুত্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচনের সাথে জড়িত সীমিত আকারে কিছু কর্মকর্তা কম কষ্টে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এই ২টি কেন্দ্রে অধিক ঝুকিঁপূর্ণ চিহ্নিত হওয়ায় হেলিকপ্টার ব্যবহার হবে বলে জানা গেছে।

সদর থেকে শুকনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের দূরুত্ব প্রায় ১২ কি. মি.। ছড়া দিয়ে হেঁটে যেতে ৪-৫ঘন্টা সময় লাগে। এছাড়াও অপর দু’টি কেন্দ্রের দূরুত্ব প্রায় ১২-১৫ কি. মি.।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা  কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল জানান, নির্বাচনের  প্রস্তুতি প্রায় শেষ।

উল্লেখ্য, বর্মাছড়ি ইউনিয়নে মোট ভোটার ৪ হাজার ৩’শ ১৭জন ভোটারের মধ্যে মাত্র ৫জন ভোটার রয়েছে বাঙ্গালি। এদিকে লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়নের শুকনাছড়ি, যতিন্দ্র কার্বারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুল্যাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দেওয়ান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়  ৫ হাজার ৫’শ ৮১জন উপজাতীয় ভোটার রয়েছে। অপর ৩টি ভোট কেন্দ্র লক্ষ্মীছড়ি সরকারি প্রাথমিক  বিদ্যালয়, মংহলা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জারুলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাহাড়ি-বাঙ্গালি মিলে মোট ভোটার রয়েছে ৬ হাজার ৬’শ জন।