পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত না হলে পাহাড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে- সন্তু লারমা

Rangamati Larma pic001

স্টাফ রিপোর্টার:

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন না হলে পাহাড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে হুমকি দিয়েছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা।

তিনি বলেন, সরকার পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না করে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো পূনর্গঠনের নামে দলীয়করণ করেছে। সরকারের একতরফাভাবে পরিষদ পূনর্গঠন চুক্তি বিরোধী কাজেরই পরিচয়। তাই পার্বত্যাঞ্চলে জুম্মজাতিগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ হয়ে চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের গণ-আন্দোলনে নেমেছে। আগামীতে পার্বত্যাঞ্চলের যে কোন পরিস্থিতির জন্য সরকার দায়ী থাকবেন বলে হুঁশিয়ারী দেন তিনি।

শনিবার রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক মিলনায়তনে ২দিন ব্যাপী পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সন্তু লারমা এসব কথা বলেন।

এ আগে সকাল ১০টায় চাকমা সার্কেল চীফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ হেডম্যান সম্মেলন উদ্বোধন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সিএইচটি হেডম্যান নেটওর্য়াকের সভাপতি খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরি চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি চাকমা সার্কেল চীফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ বৃষ কেতৃ চাকমা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এলএলআরডি উপ-পরিচালক রওশন জাহান মনি, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা আরও বলেন, ১৯৯৭ সালে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর হয়ে ছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৮বছর অতিবাহীত হলেও সরকার পার্বত্য চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো এখনো বাস্তবায়ন করেনি।

তিনি বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে পাহাড়ের ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা অস্থিত্বহীনতায় পরেছে। অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ পাহাড়ের মানুষ। অসযোগ আন্দোলনের পরও পার্বত্য চুক্তি পূর্ণঙ্গ বাস্তবায়নে এখনো পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোন কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছেনা। ভবিষ্যতেও সরকার চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করবে কিনা তা বুঝা মুশকিল। তাই আজ বাধ্য হয়ে পাহাড়ের জুম্মজাতিগোষ্ঠী অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ঐক্য গড়ে তুলেছে। আর এ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে।

এ সময় সন্মেলনে রাঙামাটির চাকমা, খাগড়াছড়ির মং, বান্দরবানের বোমাং সার্কেলের ৩০০ হেডম্যান উপস্থিত ছিলেন।

পাহাড়ে শান্তিচুক্তি ও সমতলে ভূমি কমিশনের দাবিতে বান্দরবানে গণ মানববন্ধন

Bandarban pic-3, 18.1

স্টাফ রিপোর্টার:

পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও সমতলে আদিবাসীদের জন্য আলাদা ভূমি কমিশনের দাবিতে বান্দরবানে গণ মানববন্ধন করেছে পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র ও নৃ-গোষ্ঠীরা। সোমবার সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাখা এবং সিএইচটি (পার্বত্য চট্টগ্রাম) হেডম্যান নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এই কর্মসূচি পালন করে।

মানববন্ধনে সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উ নি হ্লা বলেন, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুনধুম থেকে শুরু হয়ে বাইশারি এবং গয়ালমারা হয়ে লামা উপজেলার লাইনঝিরি থেকে গজালিয়া হয়ে বান্দরবান সদর উপজেলার চিম্বুক ১৬ মাইল পয়েণ্ট থেকে বান্দরবান জেলা সদর থেকে ডুলু পাড়া পর্যন্ত রাস্তার একপাশে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে পাহাড়ী নারী, পুরষ এবং শিশুরা।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রোয়াংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেএসএস জেলা সাধারণ সম্পাদক ক্যবামং মারমা, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়রম্যান ও জেলা হিলউম্যান্স ফেডারেশনের সভানেত্রী ওয়াইচিং প্রু, অনন্যা নারী কল্যাণ সংস্থার পরিচালক ডনাই প্রু নেলী, পাহাড়ী বম সম্প্রদায়ের নেতা জিরকুম সাহা, এনজিও সংস্থার কর্মী অংচ মং মারমাসহ সংগঠনের নেতৃবিন্দরা।

মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে জেএসএস জেলা সাধারণ সম্পাদক ক্যবামং মারমা বলেন, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের নামে কালক্ষেপন করছে সরকার। পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের বিকল্প কিছু নেই। পাহাড়ীদের অধিকার রক্ষায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন ও সমতলে আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশনের দাবি জানান তিনি।